Brand logo light

তদন্ত

মতিঝিলে ফের চাঁদাবাজির অভিযোগ: নতুন পরিচয়ে সক্রিয় পুরোনো সিন্ডিকেট? অনুসন্ধানে যা জানা গেল

এবি সিদ্দীক ভূইঁয়া :  রাজধানীর মতিঝিল, গুলিস্তান ও পল্টন এলাকাজুড়ে আবারও একটি পুরোনো চাঁদাবাজ চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে—এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও একাধিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। স্থানীয় ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।    ব্যবসায়ীদের অভিযোগ: 'চাঁদা না দিলে হুমকি' মতিঝিলের কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, ফুটপাত থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি অফিসকে কেন্দ্র করে আবারও চাঁদা আদায়ের চেষ্টা চলছে। একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যিনি নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ করতে চাননি, বলেন, "আমরা ভেবেছিলাম রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা করতে পারব। কিন্তু এখন আবারও আগের মতো চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি ও উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।" আরেক ব্যবসায়ীর ভাষ্য, অতীতেও একই ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। তাঁর দাবি, এখন আবার একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কী অভিযোগ উঠেছে? অনুসন্ধানে পাওয়া বিভিন্ন অভিযোগ অনুযায়ী— মতিঝিল বিমান অফিস গলি এলাকায় নতুন করে অবস্থান নিয়েছেন আবুল হাসান। মতিঝিল, গুলিস্তান ও পুরানা পল্টন এলাকায় পুরোনো সহযোগীদের নিয়ে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ। ফুটপাত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরেও অর্থ দাবি করার অভিযোগ রয়েছে।   অতীতের অভিযোগ স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, গত প্রায় দেড় দশক ধরে মতিঝিল এলাকায় আবুল হাসানের প্রভাব ছিল। তাদের অভিযোগ, সে সময় ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব ব্যবহার করে ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হতো। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক মামলা হয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কী ঘটেছে? স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি কিছুদিন এলাকা ছেড়ে ছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি একটি নতুন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এবং স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার সহায়তায় আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।   আইন বিশেষজ্ঞ যা বলছেন সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে কেউ যদি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়, তবে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তার মতে, চাঁদাবাজির মতো অভিযোগে ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ দেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযুক্তের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আবুল হাসান ওরফে হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।   স্থানীয়দের দাবি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, মতিঝিল, গুলিস্তান ও পল্টন এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ব্যবসায়ীরা নিরাপদ পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৪, ২০২৬ 0
কাশিমপুর ভূমি অফিসে দালালচক্র ও অনিয়মের অভিযোগ: চার কর্মকর্তা-কর্মচারী সাময়িক বরখাস্ত, তদন্তে নতুন তথ্যের অপেক্ষা

গাজীপুর: দীর্ঘদিনের অভিযোগ, সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি এবং সরকারি কাজে বহিরাগতদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ—সবকিছুর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার দাবি করে গাজীপুরের কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা প্রশাসন। সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে আকস্মিক পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেন। তবে প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি চূড়ান্ত শাস্তি নয়; পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্টরা সরকারি বিধি অনুযায়ী অব্যাহতি পাবেন। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—কাশিমপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ওয়াজেদ আলী খান, অফিস সহকারী শফিকুল ইসলাম, মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল এবং আব্দুল হালিম খান। অভিযোগের কেন্দ্রে কী? জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বে অবহেলা, সেবায় অনিয়ম, দালালনির্ভর কার্যক্রম এবং সরকারি নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ জমা হচ্ছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই জেলা প্রশাসক বিভিন্ন ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শন শুরু করেন। কাশিমপুর ভূমি অফিসে গিয়ে তিনি দেখতে পান— সরকারি দাফতরিক কাজ বাইরের লোকজনের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ; সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগের যথাযথ নিষ্পত্তি না হওয়া; বিপুলসংখ্যক আবেদন দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা; দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য না পাওয়া; নামজারি সফটওয়্যারের কার্যক্রম প্রদর্শনে ব্যর্থতা। প্রশাসনের দাবি, এসব বিষয় সরকারি সেবা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। জেলা প্রশাসক যা বললেন জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, কাশিমপুর ভূমি অফিসে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিয়ম অনুযায়ী কাজ করছেন—এমন প্রমাণ তারা দিতে পারেননি। তার ভাষায়, অভিযোগের ভিত্তিতে নথিপত্র ও বিভিন্ন মামলা পরীক্ষা করে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও তারা সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হন। এমনকি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও দেখাতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রশাসনের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, অনলাইনে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও নামজারির কাজ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিজে না করে বাইরের লোকজন দিয়ে করানো হচ্ছিল। ভূমি সংক্রান্ত সরকারি কার্যক্রমে বহিরাগতদের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুতর অনিয়ম বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অনুপস্থিত কর্মকর্তা, ঝুলে থাকা আবেদন পরিদর্শনের সময় দুই কর্মকর্তা কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না বলেও জানান জেলা প্রশাসক। তার দাবি, উপস্থিত কর্মকর্তারাও চলমান কাজের সঠিক হিসাব দিতে পারেননি। বিপুলসংখ্যক আবেদন দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তিহীন অবস্থায় পড়ে আছে এবং প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। এসব কারণেই তাৎক্ষণিকভাবে চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্তে কী হবে? জেলা প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, এখন পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সরকারি বিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তারা বিধি অনুযায়ী দায়িত্বে ফিরে আসার সুযোগ পাবেন। অন্য ভূমি অফিসে কী পাওয়া গেল? কাশিমপুর পরিদর্শনের পর জেলা প্রশাসক সফিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসও পরিদর্শন করেন। সেখানে বড় ধরনের অনিয়ম না পেলেও কিছু প্রশাসনিক ত্রুটি চিহ্নিত করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এসব নির্দেশনার বাস্তবায়ন নিয়মিত তদারকি করা হবে। ভূমি সেবায় প্রশাসনের বার্তা জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমানে ভূমি সেবাকেন্দ্রের মাধ্যমে আবেদন করলে তা সরাসরি সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং সংশ্লিষ্ট তহসিল অফিসে পৌঁছে যায়। তহসিলদার আবেদন যাচাই-বাছাই করে যোগ্য হলে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করবেন, আর অনুপযুক্ত হলে কারণ উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যানের প্রস্তাব দেবেন। তিনি বলেন, ভূমি সংক্রান্ত সরকারি সেবা কোনোভাবেই দালাল বা বহিরাগতদের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার সুযোগ নেই। পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ছিলেন— অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সোহেল রানা গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসিবুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৩, ২০২৬ 0
বিস্ফোরণের খবর পেয়ে র‍্যাব, পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্য ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা
বরিশালের বাকেরগঞ্জে বালুর বস্তায় রহস্যময় বিস্ফোরণ: দগ্ধ মা-মেয়েসহ ৩, তদন্তে বোমা নাকি পরিত্যক্ত বিস্ফোরক?

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার একটি বাড়ির পাশে নির্মাণকাজের জন্য রাখা বালুভর্তি বস্তায় হঠাৎ বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হওয়ার পর স্থানীয়দের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনেও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—বালুর বস্তার ভেতরে বিস্ফোরকটি এলো কীভাবে? সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামে শাহ আলম হাওলাদারের বাড়িতে ঘটে এ ঘটনা। এতে দগ্ধ হন শাহ আলমের স্ত্রী হনুফা বেগম (৫০), মেয়ে ইতি আক্তার (২০) এবং নাতি ফাহিম হাওলাদার (১৪)। প্রথমে তাদের বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখনও নিশ্চিত নন, এটি ককটেল, হাতবোমা নাকি অন্য কোনো বিস্ফোরক ছিল। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ঢাকার বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে তদন্তে যুক্ত করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে কী ঘটেছিল? স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল ৭টার দিকে হনুফা বেগম নাতি ফাহিমকে স্থানীয় বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন মেয়ে ইতি আক্তারও। ঠিক সেই সময় ঘরের পাশে রাখা বালুভর্তি একটি বস্তা থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে আগুন ছড়িয়ে পড়ে তিনজনের শরীরে। প্রাণ বাঁচাতে তারা বাড়ির পাশের তুলাতলা নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং আশপাশের লোকজনের বক্তব্য সংগ্রহ শুরু করে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: বালুর বস্তায় বিস্ফোরক এলো কোথা থেকে? ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, বিস্ফোরকটি কীভাবে নির্মাণকাজের জন্য রাখা বালুর বস্তার ভেতরে গেল। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বিস্ফোরকটি আগে থেকেই বালুর সঙ্গে ছিল অথবা কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে সেখানে লুকিয়ে রেখেছিল। তদন্তকারীরা কয়েকটি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন— নির্মাণকাজে আনা বালুর সঙ্গে পরিত্যক্ত বিস্ফোরক চলে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে কেউ বালুর মধ্যে বিস্ফোরক লুকিয়ে রেখেছিল। ব্যক্তিগত শত্রুতা বা নাশকতার উদ্দেশ্যে কেউ বস্তার মধ্যে বিস্ফোরক রেখে যেতে পারে। এটি দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত ককটেল বা হাতবোমা হতে পারে, যা নড়াচড়ার সময় বিস্ফোরিত হয়েছে। তবে এসবই এখন পর্যন্ত প্রাথমিক অনুমান। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সম্ভাবনাকেই নিশ্চিত বলে বিবেচনা করছে না পুলিশ। পরিবারের দাবি শাহ আলম হাওলাদারের ছেলে জামাল হোসেন বলেন, পরিবারের কেউ জানেন না বালুর বস্তার ভেতরে কীভাবে বিস্ফোরক গেল। তার ভাষায়, সকালে বিস্ফোরণের পর মুহূর্তেই আগুন ধরে যায়। পরিবারের সদস্যরা প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তিনি বলেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসুক—এটাই তাদের প্রত্যাশা। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, আহতদের শরীরের বিভিন্ন অংশ, বিশেষ করে হাত, পা ও মুখ মারাত্মকভাবে ঝলসে গেছে। দুই নারীকে মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনজনকেই ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তদন্তে যেসব সংস্থা ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে যায়— জেলা পুলিশ গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) র‍্যাব পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আশপাশে থাকা অন্যান্য বালুর বস্তাও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেন বলেছেন, বিস্ফোরকটির ধরন এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। থানার এসআই হাবিবুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে এটি পরিত্যক্ত ককটেল বা হাতবোমা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি এটি কী ধরনের বিস্ফোরক ছিল। বোম ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থল পরীক্ষা করার পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটির পেছনে নাশকতা, ব্যক্তিগত শত্রুতা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কিনা, সেটিও তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যেসব প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি বিস্ফোরকটি আসলে কী ধরনের ছিল? এটি বালুর সঙ্গে এসেছিল, নাকি পরে সেখানে রাখা হয়েছিল? বিস্ফোরকটি কতদিন ধরে সেখানে ছিল? এটি দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত নাশকতা? অন্য বালুর বস্তাগুলোতেও কোনো বিস্ফোরক রয়েছে কি? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর মিলবে বোম ডিসপোজাল ইউনিটের পরীক্ষা, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং পুলিশের তদন্ত শেষে।   একটি সাধারণ নির্মাণসামগ্রীর বস্তা থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি তদন্তকারী সংস্থাগুলো। ফলে বিস্ফোরকটির উৎস, উদ্দেশ্য এবং দায়ী ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৩, ২০২৬ 0
গুমের ফলে মৃত্যু বা ৫ বছরেও সন্ধান না মিললে মৃত্যুদণ্ড: ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন'র খসড়ায় মন্ত্রিসভার অনুমোদন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  গুমের ফলে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে, মরদেহ উদ্ধার হলে কিংবা নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ বছর পরও তার জীবিত বা মৃত অবস্থার কোনো সন্ধান না মিললে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান রেখে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন আইনের খসড়ায় গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপস অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুম প্রতিরোধ, অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা, ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের জন্য একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সাপেক্ষে এই খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গুমের ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি খসড়া আইনে বলা হয়েছে, গুমের অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে। তবে গুমের ঘটনায়— ভুক্তভোগীর মৃত্যু হলে, মরদেহ উদ্ধার হলে, অথবা পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও নিখোঁজ ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে, অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে। তদন্ত ও বিচার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে আইনে তদন্ত ও বিচার উভয়ের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী— তদন্ত শেষ করতে হবে সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে। বিচারকার্যও শেষ করতে হবে সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে। আদালতের মাধ্যমে অনুসন্ধান নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারের লক্ষ্যে আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারির বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া আইনে আরও যুক্ত হয়েছে— অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার পরিচালনার সুযোগ, ডিজিটাল সাক্ষ্য গ্রহণের বিধান, সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্য প্রকাশকারী ও ভুক্তভোগীর পরিচয় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা। ভুক্তভোগী পরিবারের অধিকার আইনটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো গুম হওয়া ব্যক্তির পরিবারকে আইনি অধিকার দেওয়া। খসড়া অনুযায়ী ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার— তদন্তের অগ্রগতি জানার অধিকার পাবেন, ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানার সুযোগ পাবেন, গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার অধিকার পাবেন। একই সঙ্গে সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের বিধান রাখা হয়েছে। ক্ষতিপূরণ কীভাবে দেওয়া হবে আইনে বলা হয়েছে, ক্ষতিপূরণ আদায়ের ক্ষেত্রে প্রথমে দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহার করা হবে। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে রাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে। এছাড়া গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাঁচ বছর পর সম্পত্তি বণ্টনের বিধান খসড়া আইনে আরও বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ বছর পরও তার সন্ধান না মিললে গুম সনদ প্রদান করা হবে। সেই সনদের ভিত্তিতে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের আইনি সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি গুমসংক্রান্ত একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আইন বাংলাদেশে গুমের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক, মানবাধিকার ও বিচারিক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নতুন আইনের মাধ্যমে গুমকে পৃথক ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, কঠোর শাস্তির বিধান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত ও বিচার, ভুক্তভোগী পরিবারের অধিকার নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ—সব মিলিয়ে এটি দেশের মানবাধিকার ও বিচারব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৩, ২০২৬ 0
র‍্যাবের টিএফআই সেল ‘আয়নাঘর’: ট্রাইব্যুনালের পরিদর্শনে উঠে এলো গুম, গোপন বন্দিশালা ও আলামত নষ্টের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  ঢাকার উত্তরার বিমানবন্দরসংলগ্ন র‍্যাব-১ ব্যাটালিয়নের কম্পাউন্ডে অবস্থিত টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল—যা দীর্ঘদিন ধরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত—পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন বিচারপতি। তাদের সঙ্গে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর ও প্রসিকিউশন টিমের সদস্যরা। পরিদর্শনের সময় স্থাপনাটির কাঠামো, বিভিন্ন সেল, জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ এবং অভিযোগ অনুযায়ী গুম ও নির্যাতনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এই স্থাপনাটি বলপূর্বক গুম ও নির্যাতনের একটি গুরুত্বপূর্ণ গোপন বন্দিশালা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। আওয়ামী লীগ এ ধরনের অভিযোগ অতীতে অস্বীকার করে এসেছে। কোথায় অবস্থিত টিএফআই সেল? র‍্যাব-১ ব্যাটালিয়নের কম্পাউন্ডের অস্ত্রাগারের পাশে অবস্থিত একটি পুরোনো দ্বিতল ভবনে টিএফআই সেলটি নির্মিত হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে এটি জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হলেও তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের দাবি, সময়ের সঙ্গে এটি গোপন আটককেন্দ্রে রূপ নেয়। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো স্থাপনাটি র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখা (ইন্ট উইং)-এর পরিচালকের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হতো এবং সাধারণ প্রশাসনিক কাঠামোর বাইরে বিশেষ গোপনীয়তায় পরিচালিত হওয়ার কারণে এর কোডনেম ছিল ‘হাসপাতাল’। কীভাবে পরিচালিত হতো বলে অভিযোগ? প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বলপূর্বক গুমের ঘটনাগুলো একটি সমন্বিত কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হতো। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে অপহরণ, গোপনে আটক, জিজ্ঞাসাবাদ, নির্যাতন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে হত্যার মতো কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। কখনও র‍্যাব এককভাবে, আবার কখনও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এসব অভিযান চালানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, টিএফআই সেলে রাখা অনেক ব্যক্তিকে পরবর্তীতে অন্য গোপন বন্দিশালাতেও স্থানান্তর করা হয়েছিল। ২৯টি স্থায়ী সেল: কী পাওয়া গেছে? পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনাল দেখতে পায়, পুরো ভবনে মোট ২৯টি স্থায়ী সেল রয়েছে। নিচতলায় রয়েছে— খোলা টয়লেটসহ ১০টি ছোট সেল প্রতিটি সেলের গড় আয়তন প্রায় ৫ ফুট × ৮ ফুট একই তলায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা র‍্যাব সদস্যদের ব্যারাক দ্বিতীয় তলায় রয়েছে— আরও ১০টি সেল দুটি বড় আকারের তথাকথিত 'ভিআইপি সেল' ছোট দুটি সংযুক্ত টয়লেট গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কয়েকটি অফিস কক্ষ 'ডেথ সেল' নামে পরিচিত সাতটি সংকীর্ণ কক্ষ প্রবেশমুখের সিঁড়ির পাশে খোলা টয়লেটসংবলিত সাতটি অতিক্ষুদ্র সেলের সন্ধান পাওয়া যায়। প্রতিটি সেলের আয়তন গড়ে মাত্র ২ ফুট × ৪ ফুট। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এগুলোকে নিরাপত্তা সদস্যদের মধ্যে 'ডেথ সেল' বা 'যম সেল' নামে ডাকা হতো। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, আটক ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে গেলে ভবনের করিডোরে কাপড় বা ক্যানভাসের পার্টিশন দিয়ে অস্থায়ী সেলও তৈরি করা হতো। সাউন্ডপ্রুফ নির্যাতন কক্ষের অভিযোগ পরিদর্শনে তিনটি সাউন্ডপ্রুফ জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, এসব কক্ষে ছিল— বৈদ্যুতিক মোটরে ঘোরানো স্টিলের চেয়ার বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার ব্যবস্থা ছাদ থেকে ঝুলিয়ে নির্যাতনের সরঞ্জাম লোহার মই-আকৃতির নির্যাতন বেড তদন্তকারীদের দাবি, আটক ব্যক্তিদের এসব যন্ত্রের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হতো। এছাড়া কক্ষগুলোর দেয়ালে কাটা হাত, উপড়ে ফেলা চোখসহ নির্যাতনের বিভৎস ছবি টাঙিয়ে রাখা হয়েছিল বলেও প্রসিকিউশন জানিয়েছে। আলামত নষ্টের অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের পরিদর্শনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে আসে স্থাপনাটির কাঠামোগত পরিবর্তনের অভিযোগ। চিফ প্রসিকিউটরের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভবনের দেয়াল, দরজা ও জানালার বিভিন্ন অংশ পরিবর্তন করে গুম-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আলামত আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানান, ভুক্তভোগীদের বর্ণনার সঙ্গে স্থাপনার মিল না পাওয়ায় বিস্তারিত অনুসন্ধানে কয়েকটি নতুন দেয়াল শনাক্ত করা হয়। পরে সেগুলো অপসারণ করলে আড়ালে থাকা ২২টি কক্ষের সন্ধান পাওয়া যায়। চিফ প্রসিকিউটর যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, তদন্ত শুরুর সময় পুরো স্থাপনাটিকে এমনভাবে পরিবর্তন করা হয়েছিল, যাতে ভুক্তভোগীদের দেওয়া বর্ণনার সঙ্গে মিল না পাওয়া যায়। তার ভাষ্য, দেয়াল অপসারণের পর লুকিয়ে রাখা কক্ষ এবং একটি ডেথ সেলের সন্ধান পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, যারা অতীতে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, তাদের যেমন জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে, তেমনি পরে আলামত নষ্ট বা স্থাপনা পরিবর্তনের অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিচারাধীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চিফ প্রসিকিউটর জানান, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উদ্ধার হওয়া কয়েকজন ভুক্তভোগী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেন। তাদের মধ্যে ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমানের অভিযোগের ভিত্তিতে টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন। তিনি আরও দাবি করেন, এখন পর্যন্ত গুম ও হত্যার শিকার ২৫০ জনেরও বেশি ব্যক্তির সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজদের তালিকায় বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী এবং সুমনের নামও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তদন্তের সামনে যেসব প্রশ্ন এই পরিদর্শনের পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— টিএফআই সেলের প্রকৃত ব্যবহার কী ছিল? গুমের অভিযোগের সঙ্গে কারা সরাসরি জড়িত ছিলেন? স্থাপনাটির কাঠামো পরিবর্তনের নির্দেশ কে দিয়েছিল? আলামত নষ্টের অভিযোগ কতটা প্রমাণ করা সম্ভব হবে? বিচারিক প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য ও ফরেনসিক প্রমাণ কতটা ভূমিকা রাখবে? এসব প্রশ্নের উত্তর এখন বিচারিক তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ১, ২০২৬ 0
তজুমদ্দিনে চাঁদার দাবীতে নারী-পুরুষকে হেনস্থার ঘটনায় ৪ জন আটক
ভোলায় নারী-পুরুষকে জুতার মালা পরিয়ে জনসম্মুখে হেনস্তার অভিযোগ, গ্রেফতার ৪

ভোলা: ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় এক নারী ও এক পুরুষকে জনসম্মুখে জুতার মালা পরিয়ে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনাটি উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের আনন্দ বাজার এলাকায় ঘটেছে। হেনস্তার শিকার মাহে আলম মাঝি ও তাসনুর বেগম—দুজনই একই ইউনিয়নের বাসিন্দা। চাঁদা দাবির অভিযোগ থেকে ঘটনার সূত্রপাত মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দা মো. সজিব মাহে আলম মাঝির কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে মাহে আলম চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সজিব ও তাঁর সহযোগীরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন বলে অভিযোগ। ভুক্তভোগীর দাবি, পরবর্তী সময়ে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করতে তাঁর বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অপবাদ ছড়ানো হয়। কী ঘটেছিল সেদিন অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার সকালে মাহে আলম মাঝি স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বাড়িতে যান। একই সময়ে সেখানে তাসনুর বেগমও উপস্থিত হন। এ সময় সজিবের নেতৃত্বে তাঁর ভাই রাকিবসহ কয়েকজন মাহে আলম ও তাসনুর বেগমকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে আনন্দ বাজার এলাকায় নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে তাঁদের বিরুদ্ধে অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ তুলে জনসম্মুখে গলায় জুতার মালা পরিয়ে অপমান করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের সামনেই তাঁদের হেনস্তা করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। মামলা ও পুলিশের পদক্ষেপ ঘটনার পর মঙ্গলবার মাহে আলম মাঝি থানায় মামলা দায়ের করেন। তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ, অভিযোগের সত্যতা এবং জড়িতদের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৮, ২০২৬ 0
দিনাজপুরে অপহরণ ও মুক্তিপণ চেষ্টার মামলায় যুবশক্তি নেতা আরিফ মুনসহ ৫ জন গ্রেফতার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দিনাজপুরে এক ব্যক্তিকে অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অঙ্গসংগঠন জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় নেতা আরিফ মুনসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার পেছনে জমি সংক্রান্ত আর্থিক বিরোধ ছিল বলে দাবি করেছেন জেলার কয়েকজন এনসিপি নেতা। ফলে ঘটনাটি এখন ফৌজদারি অভিযোগ এবং পাল্টা দাবির দুই ভিন্ন বয়ানের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে গ্রেফতার পাঁচজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ নূরনবী। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া আরিফ মুন জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। তার সঙ্গে গ্রেফতার হয়েছেন— হাসিন ইসরাক মিম (২২) আজমীর হোসেন ওরফে প্রেম (২২) সাজিদুল মিনহাজ (২৯) মো. হৃদয় (২২) মামলায় কী অভিযোগ? মামলার এজাহার অনুযায়ী, দিনাজপুর সদর উপজেলার খোশালপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সামাদের ছেলে মো. মামুন অভিযোগ করেন, শনিবার (৫ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে তার বাবা সদর উপজেলার পাঁচমাইল এলাকায় দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় নাম উল্লেখিত আসামিদের সঙ্গে আরও ১০ থেকে ১২ জন সেখানে প্রবেশ করে আব্দুস সামাদকে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে তার মুক্তির জন্য ১২ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। কীভাবে উদ্ধার করা হয়? পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগ পাওয়ার একদিন পর সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে দিনাজপুর শহরের গোর-এ-শহীদ বড় মাঠ এলাকা থেকে আব্দুস সামাদকে উদ্ধার করা হয়। একই সময় আরিফ মুনসহ তিনজনকে আটক করা হয়। পরে আটক ব্যক্তিদের থানায় নেওয়ার সময় এনসিপির কিছু নেতাকর্মী তাদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে পুলিশের দাবি। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। পরে ওই ঘটনায় আরও দুইজনকে আটক করা হয়। রাতে ভুক্তভোগীর ছেলে কোতোয়ালি থানায় অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টার মামলা দায়ের করলে আটক পাঁচজনকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এনসিপি নেতাদের দাবি কী? ঘটনার বিষয়ে জেলার কয়েকজন এনসিপি নেতার সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন একটি দাবি উঠে এসেছে। তাদের দাবি, আব্দুস সামাদ জমি কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত। কিছুদিন আগে আজমীর হোসেন প্রেমের এক আত্মীয় মজিবর রহমানের কাছ থেকে একটি জমির মালিকানা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে জমির মালিকানা বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। বরং জমির দখলসংক্রান্ত বিরোধে মজিবর রহমানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এনসিপির নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই আর্থিক বিরোধের জেরেই রোববার রাতে আব্দুস সামাদকে ডেকে এনে টাকা ফেরতের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। তাদের দাবি, সোমবার বিকেলে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই আব্দুস সামাদের ছেলে অপহরণের অভিযোগ নিয়ে পুলিশের কাছে যান।   পুলিশের বক্তব্য দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মাদ নূরনবী বলেন, ভুক্তভোগীর ছেলে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় আটক পাঁচজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে। তদন্তের সামনে যেসব প্রশ্ন ঘটনাটিকে ঘিরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখন তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে— এটি কি পরিকল্পিত অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা ছিল? নাকি জমি লেনদেন ও আর্থিক বিরোধ থেকেই সংঘাতের সূত্রপাত? ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণের অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে? উদ্ধার অভিযানের সময় ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শী বা ডিজিটাল প্রমাণ কী বলছে? পুলিশের হাতে থাকা আলামত ও সাক্ষ্য আদালতে অভিযোগকে কতটা সমর্থন করতে পারে? এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে পুলিশি তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৮, ২০২৬ 0
বরগুনায় গ্রিড সাবস্টেশনে আগুন
বরগুনা গ্রিডে আগুন, ৬৭ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : একটি বিকট শব্দ, তারপর মাত্র এক থেকে দুই মিনিটের আগুন। সময় খুব কম হলেও এর প্রভাব পড়েছে পুরো বরগুনা সদর উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায়। গ্রিড সাবস্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ৬৭ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। সোমবার (৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার ২ নম্বর গৌরীচন্না ইউনিয়নের খেজুরতলা এলাকায় অবস্থিত গ্রিড সাবস্টেশনে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। যদিও আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এরই মধ্যে সাবস্টেশনের একাধিক ফিডার, বৈদ্যুতিক তার এবং গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে পুরো পল্লী বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। একটি সাবস্টেশন, পুরো উপজেলার বিদ্যুৎ স্থানীয় সূত্র এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, এই গ্রিড সাবস্টেশন থেকেই বরগুনা সদর উপজেলার সম্পূর্ণ পল্লী বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। ফলে একটি ফিডারে বিস্ফোরণ এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাই ১০টি ইউনিয়নের হাজারো পরিবার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সেবাখাতকে বিদ্যুৎবিহীন করে ফেলে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কী ঘটেছিল? পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বরগুনা জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, ঘটনার সময় তারা অফিসেই ছিলেন। বিকট শব্দ শোনার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ১১ কেভি এসিআর (ACR) বিস্ফোরণের কারণে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পাশাপাশি কয়েকটি বৈদ্যুতিক তার এবং গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশও আগুনে পুড়ে যায়, যা দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। মেরামত চলছে, তবে বদলাতে হবে প্রধান যন্ত্রাংশ বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোর মেরামত শুরু হয়েছে এবং প্রতিটি যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করা হচ্ছে। ডিজিএম মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, পুড়ে যাওয়া প্রধান যন্ত্রাংশটি পটুয়াখালী থেকে এনে প্রতিস্থাপন করতে হবে। এজন্য রাতের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে পরদিন সকালের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। কারিগরি ত্রুটি, নাকি আরও গভীর সমস্যা? প্রাথমিকভাবে বিদ্যুৎ বিভাগের ধারণা, অভ্যন্তরীণ কারিগরি ত্রুটির কারণেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, এটি এখনো প্রাথমিক মূল্যায়ন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিড সাবস্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় একটি যন্ত্রাংশের বিকল হওয়া যদি পুরো বিতরণ ব্যবস্থাকে অচল করে দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে একই ধরনের ঝুঁকি এড়াতে অবকাঠামোর নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা (ব্যাকআপ) কতটা কার্যকর—সেই প্রশ্নও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তবে এই ঘটনার ক্ষেত্রে এমন কোনো নির্দিষ্ট ঘাটতির প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। এখন কী? বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলীরা ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তদন্ত শেষ হলে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা যাবে। এদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন বরগুনা সদর উপজেলার প্রায় ৬৭ হাজার গ্রাহক।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৭, ২০২৬ 0
মেহের আফরোজ শাওন ও চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহিসহ ছয় জনের নামে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় অভিযোগ
জুলাই আন্দোলন নিয়ে কটাক্ষ ও অবমাননার অভিযোগে শাওন–মাহিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় ‘জুলাই আন্দোলন’ নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য ও কটাক্ষের অভিযোগে ছয়জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রকাশ্য বক্তব্যে তারা আন্দোলন ও এর স্মৃতিচিহ্নকে অবমাননা করেছেন। রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য এস এম সুইট এই অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন—অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি, শান্তা ফারজানা, সাংবাদিক আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম ও মোমিন মেহেদী। অভিযোগে কী বলা হয়েছে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘জুলাই আন্দোলন’ চলাকালে ১৪০০ জন নিহত এবং ৩০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন—যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। অভিযোগ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন বক্তব্যে এই আন্দোলনকে নিয়ে কটাক্ষ করেছেন এবং অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, শান্তা ফারজানা নামের একজন ব্যক্তি ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ’ করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। অভিনেত্রী শাওনের বিরুদ্ধে ফেসবুকে আন্দোলনকে ‘সাজানো ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ এবং অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে সাংবাদিক আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম ও মোমিন মেহেদীর বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময়ে কটাক্ষের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর বক্তব্য এস এম সুইট বলেন, “সম্প্রতি জুলাই বিপ্লবের বিরুদ্ধে কটূক্তি এবং স্মৃতিস্তম্ভ অবমাননার মতো ঘটনা ঘটেছে। যারা এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে এবং তাদের পক্ষে বয়ান তৈরি করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি।” পুলিশের অবস্থান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা জানান, ছয়জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৬, ২০২৬ 0
বরিশালের অগ্রণী হাউজিং বিতর্ক : লিটুর স্ত্রীর দাবি বিনিয়োগের পাওনা আদায়ের চেষ্টা

বরিশাল অফিস :    বরিশালের অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডকে ঘিরে আলোচিত ঘটনাটি এখন কেবল একটি ফৌজদারি মামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও, ব্যবসায়িক অংশীদারদের পারস্পরিক অভিযোগ, আদালতে মামলা এবং বিনিয়োগকারীদের আর্থিক ক্ষতির দাবি—সব মিলিয়ে ঘটনাটি নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। একদিকে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদার অভিযোগ করছেন, তাকে মারধর করে জোরপূর্বক চেক ও সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুর পরিবারের দাবি, এটি কোনো চাঁদাবাজির ঘটনা নয়; বরং বছরের পর বছর আটকে থাকা বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাওয়ার ব্যর্থ প্রচেষ্টার বহিঃপ্রকাশ। লিটুর স্ত্রীর দাবি: রাজনৈতিক নয়, ব্যবসায়িক বিরোধ রোববার সন্ধ্যায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিটুর স্ত্রী মৌসুমি আক্তার লুবনা বলেন, তার স্বামী কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তার দাবি, ঘটনাটিকে রাজনৈতিক বা চাঁদাবাজির রূপ দিয়ে প্রকৃত বিরোধকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, লিটু দীর্ঘদিন অগ্রণী হাউজিংয়ের পরিচালক ছিলেন এবং প্রতিষ্ঠানটিতে ২৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। এর মধ্যে মাত্র ১২ লাখ টাকা ফেরত পেলেও বাকি প্রায় ১৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং লভ্যাংশের হিসাব দীর্ঘদিনেও পাননি।তার ভাষ্য, বহুবার অর্থ ফেরতের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ক্ষোভ থেকেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আরও বিনিয়োগকারীর অভিযোগ একই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গ্রেপ্তার আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী এবং অগ্রণী হাউজিংয়ের পরিচালক মাহাবুবুর রহমান। তিনি দাবি করেন, ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলেও এক যুগ পেরিয়ে গেলেও মূলধন কিংবা লভ্যাংশের কোনো অর্থ ফেরত পাননি। মাহাবুবুর রহমানের অভিযোগ, শুধু তিনি নন, আরও অনেক বিনিয়োগকারী একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এমনকি প্রতিষ্ঠানের এমডির বড় ভাইও প্রতারণার অভিযোগ এনে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনের নিরপেক্ষ তদন্ত, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের অনুসন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের পাওনা অর্থ উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান। যে ভিডিও দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয় ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ জুন সন্ধ্যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি অগ্রণী হাউজিংয়ের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। ভিডিওতে মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে আব্দুল আজিজের সঙ্গে শারীরিকভাবে সংঘর্ষে জড়াতে দেখা যায়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তাকে মারধর করা হয় এবং জোর করে দুটি চেক, একটি সাদা চেক ও কয়েকটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শারীরিক নির্যাতনের অংশ হিসেবে তার অণ্ডকোষ চেপে ধরা হয়েছিল। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পুলিশ ও মামলার অগ্রগতি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর আদালতে মামলা করেন আব্দুল আজিজ হাওলাদার। আদালতের নির্দেশে মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করা হয়। এরপর রোববার দুপুরে নগরীর সদর রোড এলাকা থেকে মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এমডির অভিযোগ কী? আব্দুল আজিজ হাওলাদারের দাবি, মোস্তাফিজুর রহমান লিটু একসময় প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ছিলেন। পরে বিনিয়োগের বিপরীতে জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে উভয় পক্ষের আর্থিক হিসাব চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা হয় এবং এ-সংক্রান্ত লিখিত অঙ্গীকারনামাও দেওয়া হয়েছিল। তার অভিযোগ, এরপরও লিটু দীর্ঘদিন ধরে এক কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন। তিনি বলেন, ২৭ জুন সন্ধ্যায় লিটুসহ কয়েকজন তার কার্যালয়ে প্রবেশ করে মারধর করেন এবং প্রায় ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক ও দুটি সাদা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেন। পরে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বিষয়টি জানালে ওই চেক থেকে কোনো অর্থ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। লিটুর অবস্থান কী ছিল? গ্রেপ্তারের আগে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।তার দাবি ছিল, ঘটনার সময় উপস্থিত সবাই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন এবং তারা প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের ব্যাখ্যা চাইতেই সেখানে গিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানের এমডি পরিচালকদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং সেই পাওনা অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যেই তারা চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। যেসব প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি ঘটনাটি এখন তদন্তাধীন। তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়— লিটুর দাবি অনুযায়ী, বিনিয়োগের অর্থ ও লভ্যাংশ সত্যিই বকেয়া ছিল কি না। এমডির দাবি অনুযায়ী, জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি হয়েছিল কি না। ভাইরাল ভিডিওতে যা দেখা গেছে, তার সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট কী। অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বাস্তবতা কতটা। জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগের সঙ্গে আর্থিক বিরোধের সম্পর্ক কী। তদন্তেই নির্ভর করছে পরবর্তী দিক এ মুহূর্তে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলছে। একদিকে রয়েছে জোরপূর্বক চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ, অন্যদিকে রয়েছে দীর্ঘদিনের বিনিয়োগের অর্থ ও লভ্যাংশ আত্মসাতের দাবি। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত এবং আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষের দাবিকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৬, ২০২৬ 0
তুরাগে নিখোঁজের পর উদ্ধার নিহত সুমন
তুরাগে মিছিল, গ্রেপ্তার, নিখোঁজ ও মরদেহ উদ্ধার: ২২ জুন আশুলিয়ায় আসলে কী ঘটেছিল? অনুসন্ধানে যা জানা গেল

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ২২ জুন আশুলিয়ার তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি মিছিল, সাতজন নেতাকর্মীর গ্রেপ্তার, নদীতে ধাওয়া খেয়ে কয়েকজনের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ এবং পরবর্তী চার দিনে তুরাগ থেকে একাধিক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা, প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ঘিরে নানা ধরনের দাবি, গুজব ও সন্দেহ ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত ঘটনার বিষয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সামনে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শী, মিছিলে অংশ নেওয়া এক আওয়ামী লীগ কর্মী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের আইনজীবী, নিহতদের পরিবার এবং পুলিশের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়—ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্নের এখনও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। কী ঘটেছিল ২২ জুন? মিছিলে অংশ নেওয়া পরিচয় গোপন রাখা এক আওয়ামী লীগ কর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, দলের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ জন নেতাকর্মী তুরাগের বেড়িবাঁধ এলাকায় কর্মসূচি শেষ করে ট্রলারে করে নিরাপদে এলাকা ত্যাগের পরিকল্পনা করেন। তার দাবি, সড়কপথে পুলিশি নজরদারি ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলার আশঙ্কা থাকায় তারা নদীপথ বেছে নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, প্রথমে কয়েকটি ঘাটে ভিড়তে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত আশুলিয়া ঘাটে ট্রলার ভেড়ানো হয়। তার অভিযোগ, ট্রলার ঘাটে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও সাদা পোশাকধারী কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ধাওয়া দেয়। এ সময় কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কেউ নদীতে ঝাঁপ দেন, কেউ বিভিন্ন দিকে ছুটে যান এবং সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দাবি, প্রাথমিকভাবে সাতজন নিখোঁজ হন। পরে তাদের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। বাকি চারজন জীবিত আছেন বলে তারা তথ্য পেয়েছেন। আইনজীবীর বক্তব্যে কী উঠে এসেছে? গ্রেপ্তার হওয়া সাতজনের আইনজীবী আরিফ সরকার পাভেল জানান, রিমান্ড শুনানির সময় তার মক্কেলরা অভিযোগ করেন যে, মিছিলের তথ্য আগে থেকেই ফাঁস হয়ে যায়। তাদের দাবি অনুযায়ী, আশুলিয়া ঘাটে পৌঁছানোর পর পুলিশ ও সাদা পোশাকধারী কয়েকজন ব্যক্তি ধাওয়া দিলে ট্রলারে থাকা অনেকে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। আসামিদের আরও অভিযোগ, নদীতে ঝাঁপ দেওয়া ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেলও নিক্ষেপ করা হয়েছিল। আশুলিয়া এলাকার পরিচয় গোপন রাখা এক প্রত্যক্ষদর্শীও বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, সেদিন ঘাট এলাকায় কিছু মানুষের দিকে ইট-পাটকেল ছোড়ার ঘটনা তিনি দেখেছেন। তবে আতঙ্কে দ্রুত স্থান ত্যাগ করায় পরবর্তী পরিস্থিতি তিনি দেখেননি। বিএনপির স্থানীয় নেতারা কী বলছেন? আশুলিয়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুর দাবি করেন, ঘটনাস্থলে বিএনপির কোনো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন না। একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নূরু সরকারও। তার দাবি, এ ধরনের ঘটনায় দলের কোনো কর্মী জড়িত থাকার তথ্য তিনি পাননি। পুলিশের বক্তব্য আশুলিয়া থানা পুলিশ সাতজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও নদীতে ধাওয়া খেয়ে কেউ নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রাশেদুদ জামানের ভাষ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযানে গিয়ে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে আশুলিয়া ট্রলার ঘাট থেকে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অন্যরা পালিয়ে যায়। কেউ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন—এমন কোনো তথ্য পুলিশের কাছে নেই। তিনি আরও বলেন, পরে তুরাগ নদ থেকে যেসব মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, তাদের সঙ্গে ওই অভিযানের কোনো সম্পর্ক নেই। যদিও মামলার এজাহারে ২২ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি ৪০ থেকে ৪৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের পর নতুন প্রশ্ন ২২ জুনের পরবর্তী চার দিনে তুরাগ নদ থেকে অন্তত তিনটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগ কর্মীর দাবি, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে আরিফ ও সুমন ২২ জুনের মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন এবং সেদিন থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। তবে পুলিশ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। সুমনের পরিবারের বক্তব্য নিহত সুমনের পরিবারের পক্ষ থেকে তার খালু জুয়েল বাবু জানান, পরিবার আগে জানত না সুমন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২২ জুন নিখোঁজ হওয়ার খবর তারা মিছিলের অন্য অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকেই জানতে পারেন। পরে আশুলিয়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকা থেকে সুমনের মরদেহ উদ্ধারের খবর পুলিশ তাদের জানায়। পরিবারের দাবি, মরদেহে কয়েকটি লালচে দাগ ছিল, যা আঘাতের চিহ্ন হতে পারে বলে তাদের সন্দেহ হয়েছিল। এছাড়া মরদেহ উদ্ধারের সময় চোখও ছিল না। তবে পরিবার শেষ পর্যন্ত অপমৃত্যুর মামলা করে। জুয়েল বাবুর ভাষ্য, পুলিশ জানতে চেয়েছিল কার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকায় অপমৃত্যুর মামলাই করা হয়। তিনি বলেন, সুমন মিছিলে গিয়েছিলেন—এটি সত্য। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কাউকে দায়ী করা হচ্ছে না। তাদের ধারণা, তিনি পানিতে ডুবে মারা গেছেন। মোবাইল ফোন নিয়ে নতুন তথ্য সুমনের মরদেহ উদ্ধারের সময় তার পকেট থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগ কর্মীর দাবি, এর মধ্যে তিনটি ফোন অন্য কর্মীদের ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মিছিলের ভিডিও ধারণ কিংবা ভিডিও সংগ্রহের জন্য ফোনগুলো সুমনের কাছে দেওয়া হয়েছিল।   যে প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনও মেলেনি ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখনও অনুত্তরিত রয়ে গেছে— নদীতে ঝাঁপ দিয়ে কেউ নিখোঁজ হয়েছিল কি না; উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর সঙ্গে ২২ জুনের ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না; ঘটনাস্থলে পুলিশের বাইরে অন্য কোনো পক্ষ উপস্থিত ছিল কি না; ইট-পাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ সত্য কি না; মৃত্যুগুলো নিছক দুর্ঘটনা, নাকি অন্য কোনো ঘটনার ফল। মানবাধিকারকর্মীর মত মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটনের মতে, ঘটনাটি ঘিরে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং একাধিক মরদেহ উদ্ধারের কারণে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তার ভাষায়, কয়েকটি সম্ভাবনাই তদন্তের আওতায় আনা উচিত। তার মতে, নদীতে ধাওয়া খেয়ে ডুবে মৃত্যু যেমন সম্ভব, তেমনি পানিতে হামলা, আটক করে নির্যাতন কিংবা পরে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, "কোনটি সত্য, তা কেবল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হতে পারে।" এখনও যেসব বিষয়ে মতভেদ এই ঘটনায় চারটি বড় বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য একেবারেই ভিন্ন— আওয়ামী লীগ কর্মীদের দাবি, ধাওয়া খেয়ে কয়েকজন নদীতে ঝাঁপ দেন; পুলিশ তা অস্বীকার করছে। পরিবার ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের দাবি, উদ্ধার হওয়া অন্তত দুজন মিছিলে ছিলেন; পুলিশ তা মানছে না। ইট-পাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ উঠলেও বিএনপির স্থানীয় নেতারা সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে পৃথক ঘটনা বলছে; অন্যদিকে মানবাধিকারকর্মীরা পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছেন। এ কারণে ২২ জুন আশুলিয়ার তুরাগ নদে আসলে কী ঘটেছিল—সে প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য ও চূড়ান্ত উত্তর এখনও সামনে আসেনি। ঘটনাটি ঘিরে বিরোধপূর্ণ বক্তব্য ও উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর প্রেক্ষাপটে একটি স্বাধীন, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৪, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) উপব্যবস্থাপক মো. আহম্মদুল্লাহ
বিপিসির এক কর্মকর্তাকে ঘিরে শতকোটি টাকার সম্পদ, নিয়োগ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) উপব্যবস্থাপক এবং একসময় চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মো. আহম্মদুল্লাহকে ঘিরে সম্পদ অর্জন, প্রভাব খাটানো, নিয়োগে অনিয়ম এবং আর্থিক সুবিধা গ্রহণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—নিজের বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ গঠন, পরিবারের সদস্যদের নামে স্থাবর সম্পত্তি নিবন্ধন, সরকারি সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার, বিভিন্ন ফাইল আটকে আর্থিক সুবিধা আদায় এবং ব্যাংক আমানত ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিপিসি কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, তাদের কাছে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ বা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তপত্র পৌঁছেনি। সম্পদের বিস্তার নিয়ে প্রশ্ন অনুসন্ধানে প্রাপ্ত দলিল, ভূমি রেকর্ড এবং স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় ফ্ল্যাট ও প্লটসহ একাধিক স্থাবর সম্পদের সঙ্গে আহম্মদুল্লাহ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম জড়িয়ে আছে। এর মধ্যে কেরানীগঞ্জের বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রকল্পে স্ত্রী নুসরাত জেবিন সিনথীর নামে সাড়ে তিন কাঠার একটি প্লটে আটতলা ভবনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। দলিল অনুযায়ী জমিটির মূল্য দেখানো হয়েছে ৩০ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। তবে স্থানীয়ভাবে জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য দলিলে উল্লেখিত মূল্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। এই মূল্যায়ন স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে নুসরাত জেবিন সিনথী বলেন, জমিটি তাঁর নামে রয়েছে এবং ভবন নির্মাণে ব্যাংকঋণ নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পত্তি অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, আদাবরের একটি প্লট প্রথমে আহম্মদুল্লাহর শ্বশুরের নামে নিবন্ধিত হলেও পরে সেটি তাঁর স্ত্রীর নামে হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া বরিশালের ঝালকাঠী জেলার গ্রামের বাড়িতে একটি ডুপ্লেক্স ভবন, উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কৃষিজমি এবং বরিশাল শহরেও একটি ফ্ল্যাট থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। সরকারি দায়িত্ব ও অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, বিপিসি চেয়ারম্যানের পিএস থাকাকালে বিভিন্ন ক্রয়সংক্রান্ত অনুমোদনের ফাইল তাঁর মাধ্যমে চেয়ারম্যানের দপ্তরে যেত। একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, কিছু ক্ষেত্রে অনুমোদনের ফাইল আটকে রেখে আর্থিক সুবিধা আদায় করা হতো।   বাংকার, রিফাইনারি ও বিল অনুমোদন একাধিক সূত্র দাবি করেছে, চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি সরবরাহকারী বাংকার ডিলার এবং কয়েকটি বেসরকারি রিফাইনারির বিল দ্রুত অনুমোদনের বিনিময়ে নিয়মিত আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।   নিয়োগে প্রভাবের অভিযোগ বিপিসির কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার দাবি, ২০১৯ সালের পর নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।   বদলি এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ২০২১ সালে তৎকালীন চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ আহম্মদুল্লাহকে চট্টগ্রামে বদলির আদেশ দেন। তবে সেই আদেশ অল্প সময়ের মধ্যেই প্রত্যাহার করা হয় এবং তিনি পুনরায় পিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি বর্তমান চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান তাঁকে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডে সংযুক্ত করেন। ব্যাংক আমানত নিয়ে অভিযোগ চেয়ারম্যানের সাবেক পিএস কে এম রিয়াজ রহমান গত ১ মার্চ জ্বালানি উপদেষ্টার কাছে দেওয়া এক আবেদনে অভিযোগ করেন, আহম্মদুল্লাহর দায়িত্বকালে বিপিসির উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এফডিআর ও এসএনডি হিসাব তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকে রাখা হয়েছিল। আবেদনে আরও দাবি করা হয়, এসব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান আর্থিক ঝুঁকিতে পড়লেও ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।   বিপিসির বক্তব্য বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা বলেন, "আমি এখানে যোগদানের পর থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাইনি। দুদকেরও কোনো চিঠি আসেনি।" তিনি আরও বলেন, কোন ব্যাংকে কত এফডিআর বা এসএনডি রাখা হয়েছে, সে তথ্য জানতে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করতে হবে। বর্তমান চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে আহম্মদুল্লাহর বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ থাকায় প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৩, ২০২৬ 0
নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র
এইচএসসি ২০২৬: নরসিংদীর কেন্দ্রে ভুলে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র বিতরণ, দুই শিক্ষক প্রত্যাহার, তদন্তে জেলা প্রশাসন

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই নরসিংদীর একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে গুরুতর প্রশাসনিক ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে। বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় একাধিক পরীক্ষার্থীর হাতে চলতি বছরের পরিবর্তে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়। প্রায় ১৫ মিনিট পর ভুলটি ধরা পড়লে নতুন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হলেও পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, হারিয়ে যাওয়া সময়ের কোনো ক্ষতিপূরণ তারা পাননি। ঘটনার পর কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা দুই শিক্ষককে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসন বিষয়টি তদন্তে একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের অধীন নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের সাব-সেন্টারের ২০১ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ১৫ মিনিট পর ধরা পড়ে ভুল কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর কিছু শিক্ষার্থী প্রশ্নপত্রে অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, তাদের হাতে চলতি বছরের পরিবর্তে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে। এরপর নতুন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে পরীক্ষা অব্যাহত রাখা হলেও পরীক্ষার্থীদের দাবি, ভুলের কারণে নষ্ট হওয়া সময়ের জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়নি। তবে কোনো শিক্ষার্থীই পরিচয় প্রকাশে রাজি হননি। ওই কক্ষে মোট কতজন পরীক্ষার্থী ছিলেন, তাও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। 'বিষয়টি আমাদের জন্য বিব্রতকর' কেন্দ্রসচিব ও নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ নাছিমা আক্তার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,     "২০১ নম্বর কক্ষে ভুলবশত পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছিল। কিছুক্ষণ পর বিষয়টি জানতে পেরে ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। বিষয়টি আমাদের জন্য বিব্রতকর।" তিনি জানান, ঘটনার প্রাথমিক দায়ে প্রশ্নপত্র আনা-নেওয়া ও কেন্দ্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অলক কুমার পাল এবং হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুব্রত কুমার সাহাকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অধ্যক্ষের ভাষ্য, তদন্ত শেষে লিখিত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের তদন্ত এইচএসসি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে এসেছে। জেলা প্রশাসক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মু. রাসেদুজ্জামানকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি নিজেই কেন্দ্রে গিয়ে ঘটনাটি যাচাই করেছেন। তার ভাষায়,     "ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" কত শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন? জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এস এম আব্দুল খালেক জানান, মূল কেন্দ্রের প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী সরকারি মহিলা কলেজের সাব-সেন্টারে পরীক্ষায় অংশ নেন। এদিকে জেলা শিক্ষা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর নরসিংদী জেলায় মাধ্যমিক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা মিলিয়ে ৩১টি কেন্দ্রে ১৫ হাজার ১৬৮ জন পরীক্ষার্থী প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশ নেন। প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিলেন ২১৪ জন। তদন্তে যেসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে ঘটনাটি শুধু মানবিক ভুল, নাকি প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনায় আরও বড় ধরনের ত্রুটির ইঙ্গিত—তা এখন তদন্তের বিষয়। তদন্তে যেসব বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে—     কেন ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র পরীক্ষাকক্ষে পৌঁছালো?     প্রশ্নপত্র গ্রহণ, সংরক্ষণ ও বিতরণের দায়িত্বে কারা ছিলেন?     ভুল শনাক্ত হওয়ার পর পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় না দেওয়ার সিদ্ধান্ত কে নিয়েছিলেন?     এ ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়নে কোনো প্রভাব পড়বে কি না?     শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পরিচালনা নির্দেশিকা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না? প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই এসব প্রশ্নের আনুষ্ঠানিক উত্তর মিলতে পারে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ২, ২০২৬ 0
পিরোজপুর এলজিইডির সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জিত দে'র বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার ভুয়া বিল ও দুর্নীতির অভিযোগ

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পিরোজপুরের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জিত দে-এর বিরুদ্ধে কাজ সম্পন্ন না করেই ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার বিল অনুমোদন, ঠিকাদার সিন্ডিকেট গঠন, ঘুষ-বাণিজ্য এবং প্রশাসনিক আদেশ উপেক্ষা করে দীর্ঘ সময় একই পদে বহাল থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব অনিয়মের কারণে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও তিনি এখনও আইনের আওতার বাইরে রয়েছেন। একই সঙ্গে পুনর্বহালের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে তৎপরতাও চালিয়ে যাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে। যোগদানের পরই অভিযোগের সূত্রপাত অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩০ জুন রঞ্জিত দে পিরোজপুরে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন এবং তার পূর্বসূরি আব্দুস সাত্তারের সময়কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় নির্বাচিত কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না হলেও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ ছাড় করেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, এসব বিলের একটি বড় অংশ বাস্তব কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। প্রধান প্রকৌশলী, মন্ত্রণালয় ও দুদকে লিখিত অভিযোগ মঠবাড়িয়া উপজেলার শিংগা গ্রামের বাসিন্দা হরিদাশ হাওলাদার শিপন রঞ্জিত দে'র বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগপত্র অনুযায়ী— ৬ জানুয়ারি প্রধান প্রকৌশলীর কাছে, ২৬ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিবের কাছে, এবং ৫ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়, কাজ বাস্তবে সম্পন্ন না হলেও পছন্দের কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় শত কোটি টাকার বিল প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ইফতি ইটিসিএল নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কোনো কাজ সম্পন্ন না করেই ৮৯ কোটি টাকা বিল দেওয়ার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়। বদলির আদেশ, স্থগিতাদেশ এবং পুনর্বহাল নিয়ে প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১৪ নভেম্বর রঞ্জিত দে-কে কুড়িগ্রামে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। তবে মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই, ২৮ নভেম্বর তিনি বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওই আদেশ স্থগিত করাতে সক্ষম হন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ৪ ফেব্রুয়ারি পুনরায় তার বদলির নির্দেশ জারি হলেও তিনি দীর্ঘ সময় স্বপদে বহাল ছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলজিইডির ভেতরে ও বাইরে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সাময়িক বরখাস্তের পর নিঃশব্দে পিরোজপুর ত্যাগ একাধিক সূত্র জানায়, দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগ বিভিন্ন দপ্তরে পৌঁছানোর পর রঞ্জিত দে-কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তের পর তিনি অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর না করেই রাতের আঁধারে পিরোজপুর ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার অভিযোগ অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, পিরোজপুর ছাড়ার পর রঞ্জিত দে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান করেছিলেন বলে একটি সূত্র দাবি করেছে। পরে তিনি আবার বাংলাদেশে ফিরে এসে নিজেকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে দলটির কয়েকজন নেতার মাধ্যমে চাকরিতে পুনর্বহালের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।   পুনর্বহালের চেষ্টার অভিযোগ বর্তমানে রঞ্জিত দে ঢাকায় এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পুনর্বহালের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে।   ঠিকাদারদের অভিযোগ পিরোজপুরের একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন, রঞ্জিত দে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ বণ্টন করতেন। স্থানীয় ঠিকাদার মো. মামুন মিয়া বলেন, "নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জিত দে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন। বদলির আদেশ হলেও অদৃশ্য শক্তির কারণে তিনি বহাল ছিলেন। এতে সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।" পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ঠিকাদার বলেন, "তার পছন্দের প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ না করলেও শত কোটি টাকার বিল পেয়েছে। আমার বৈধ বিলও দীর্ঘদিন আটকে ছিল। প্রকাশ্যে কিছু বললে সমস্যা হতে পারে।" ১২২ কোটি টাকার বিলের অভিযোগ আরেকটি সূত্রের দাবি, নেছারাবাদ উপজেলার ঠিকাদার শফিক সুমন-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো কাজ সম্পন্ন না হলেও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ১২২ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।   স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল্লাহ বলেন, "কাজ না হলেও ঠিকাদার টাকা পেয়েছেন—এমন অভিযোগ আমরা শুনছি। এসব প্রকল্প শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হবে কি না, তা নিয়েও মানুষের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে।" স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে সরকারি অর্থের অপব্যবহার রোধ করা যায়। বক্তব্য পাওয়া যায়নি এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রঞ্জিত দে'র সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৩০, ২০২৬ 0
গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খায়রুজ্জামান
ফরিদপুর গণপূর্তে নির্বাহী প্রকৌশলীর অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগ, প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিলম্বের দাবি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খায়রুজ্জামানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থাকা, দাপ্তরিক কার্যক্রমে বিলম্ব সৃষ্টি এবং উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকিতে ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার, সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং কার্যালয়ের কিছু কর্মচারী এমন অভিযোগ করলেও, এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অফিসে গিয়ে যা দেখা গেল সম্প্রতি ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয়ে গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর উপস্থিতি যাচাইয়ের চেষ্টা করা হয়। সোমবার (২২ জুন) সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে তাঁর দপ্তরে গিয়ে দেখা যায়, কক্ষটি তালাবদ্ধ। দায়িত্বরত এক কর্মচারী জানান, ওই সময় পর্যন্ত নির্বাহী প্রকৌশলী অফিসে আসেননি। কার্যালয়ের অন্যান্য কক্ষে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত থাকলেও নির্বাহী প্রকৌশলীর অবস্থান সম্পর্কে তারা নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি। কয়েকজন বলেন, তিনি কখন অফিসে আসবেন—সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। যোগাযোগের চেষ্টা, সাড়া মেলেনি অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খায়রুজ্জামানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। ঠিকাদারদের অভিযোগ কী? নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ঠিকাদার দাবি করেন, নির্বাহী প্রকৌশলীর অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হচ্ছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ফাইল অনুমোদন, কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা, মাপজোক সংক্রান্ত নথি যাচাই এবং বিল অনুমোদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিয়মিত উপস্থিত না থাকায় এসব কাজ আটকে যাচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন। একজন ঠিকাদার বলেন, "আমরা কাজ শেষ করার পরও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়। অফিসে এসে প্রধান কর্মকর্তাকে না পেলে স্বাভাবিকভাবেই কাজের গতি কমে যায়। এতে শুধু ঠিকাদার নয়, সরকারের প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।" আরেকজনের দাবি, জরুরি ফাইল নিষ্পত্তিতে বিলম্বের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সূচিও প্রভাবিত হচ্ছে। বিল পরিশোধেও বিলম্বের অভিযোগ কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, কাজ শেষ করার পর বিল অনুমোদন ও পরিশোধে বিলম্ব হওয়ায় তারা আর্থিক চাপে পড়ছেন। তাদের ভাষ্য, নির্মাণসামগ্রী কেনা, শ্রমিকের মজুরি এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় নির্বাহে নিয়মিত অর্থপ্রবাহ প্রয়োজন হয়। বিল আটকে গেলে পুরো আর্থিক ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হয়।   কর্মচারীদের সতর্ক অবস্থান কার্যালয়ের কয়েকজন অধস্তন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উপস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। একজন কর্মচারী বলেন, "তিনি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি কখন অফিসে আসবেন বা যাবেন, সে বিষয়ে মন্তব্য করার এখতিয়ার আমাদের নেই।" আরেকজন বলেন, "এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাই না।"   তদারকি নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয় কয়েকজন পর্যবেক্ষক মনে করেন, জেলার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পদটি সরকারি ভবন নির্মাণ, সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগকারীদের দাবি, কর্মকর্তার অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে অনেক সময় মাঠপর্যায়ের কাজের নিয়মিত তদারকি ব্যাহত হয়। তবে কোনো প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ হয়েছে বা নির্দিষ্ট অনিয়ম ঘটেছে—এমন প্রমাণ অভিযোগকারীরা উপস্থাপন করতে পারেননি। তারা মূলত নিয়মিত তদারকির অভাবের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছেন। যোগাযোগ নিয়েও অভিযোগ কয়েকজন ঠিকাদারের দাবি, প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও অনেক সময় নির্বাহী প্রকৌশলীকে ফোনে পাওয়া যায় না।   বিধিমালা কী বলছে? সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের নির্ধারিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন এবং কর্মস্থলে উপস্থিত থাকা প্রত্যাশিত। তবে কোনো কর্মকর্তা নির্দিষ্ট দিনে অফিসে অনুপস্থিত থাকলে তার পেছনে সরকারি দায়িত্ব, দাপ্তরিক সফর, অনুমোদিত ছুটি বা অন্য প্রশাসনিক কারণ থাকতে পারে।   চলমান প্রকল্পের অবস্থা ফরিদপুরে বর্তমানে সরকারি ভবন নির্মাণ, সংস্কার ও অবকাঠামো উন্নয়নের একাধিক প্রকল্প চলমান রয়েছে। তবে এসব প্রকল্প নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, কিংবা নির্বাহী প্রকৌশলীর উপস্থিতির সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না—সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের দাবি অভিযোগকারীদের মতে, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা প্রয়োজন। তাদের বক্তব্য, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যদিকে অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন, যাতে বিভ্রান্তির অবসান ঘটে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৯, ২০২৬ 0
বরিশালে কলেজছাত্রীর ওপর কিশোরী গ্যাংয়ের হামলা, টাকা ও মোবাইল লুটের অভিযোগ : কিশোরী গ্যাং নিয়ে নতুন প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  ‘কিশোর গ্যাং’ নিয়ে আলোচনা চললেও এবার বরিশালে সামনে এসেছে ভিন্ন এক অভিযোগ। এক কলেজছাত্রী দাবি করেছেন, পূর্ববিরোধের জেরে একদল কিশোরী গ্যাং  তার ওপর হামলা চালিয়েছে, পরে তার বাসায় গিয়ে তাকে ও তার মাকে মারধর করেছে। একই সঙ্গে নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রাবেয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২২ জুন দুপুর দেড়টার দিকে বরিশাল সিটি কলেজ মাঠে প্রথম দফায় রাবেয়ার ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়। কলেজের অন্য শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যায়। রাবেয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, একই দিন পরে ফকিরবাড়ি রোডে তার ভাড়া বাসায় গিয়ে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। এ সময় তাকে ও তার মাকে মারধর করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা একটি মোবাইল ফোন ও নগদ সাড়ে চার হাজার টাকা নিয়ে যায়।     কি ঘটেছিল সেই দিন : থানায় দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তদের একজন একই কলেজের শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে আগে থেকেই ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী। রাবেয়ার অভিযোগ, হামলার সময় ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করা হয় এবং পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে তিনি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও দাবি করেন। তিনি জানিয়েছেন, ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রযোজ্য আইনের আওতায় পৃথক আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। লিখিত অভিযোগে জানা গেছে,ঝালকাঠির বহুল আলোচিত জেসলি জান্নাত,অন্তি ও কলির নেতৃত্বে একদল কিশোরী গ্যাং ২২ জুন দুপুর দেড় টায় প্রথম দফায় বরিশাল সিটি কলেজ মাঠে সিটি কলেজের ছাত্রী রাবেয়ার ওপর পরিকল্পিত ভাবে হামলা করে।কলেজের শিক্ষার্থীদের বাঁধায় পালিয়ে যায় এই কিশোরী গ্যাংয় গ্রুপটি। পরে দ্বিতীয় দফায় কলেজ ছাত্রী রাবেয়ার ফকিরবাড়ি রোডস্থ ভাড়া বাসায় হামলা করে। এ সময় রাবেয়া ও তার মাকে মারধর করে।লুটপাট করে মালামাল। কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,অন্তির সাথে রাবেয়া একই কলেজের শিক্ষার্থী।টুকটাক ঝামেলা চলে আসছিলো দু জনের মাঝে।সেই ঝামেলার সুত্রধরে বাসায় রাবেয়া ও তার মাকে মারধর করে মোবাইল ফোন ও নগদ সাড়ে চার হাজার টাকা নিয়ে যায়।এ ছাড়া রাবেয়াকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে তারা। আরও গুরুতর অভিযোগ লিখিত অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, তারা ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্ল্যাকমেইল এবং তথাকথিত "হানিট্র্যাপ" কৌশলের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত।এ ছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অতীতে ব্ল্যাকমেইল সংক্রান্ত একটি ঘটনায় এক যুবক থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।   কিশোরী গ্যাং তারা তাদের গ্যাংয়ে মেয়েদের হায়ার করার জন্য হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্লাকমেইলিং করে গ্রুপ বড় করছে। এই গ্রুপ সরকারি চাকুরীজীবি, বিত্তশালী ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে হানিট্রাপের টোপ ফেলে ব্লাকমেইলিং করে অর্থ হাতিয়ে নেয়।এছাড়া আবাসিক হোটেল ডেটের জন্য দেশ ও বিদেশের পর্যটন এলাকার বিলাসবহুল হোটেল আমোদফুর্তির অভিযোগ রয়েছে।সম্প্রতি এক যুবককে ব্লাকমেইলিংয়ের কারনে সেই যুবক থানায় সাধারন ডায়েরী করার পরে মুচলেকা দিয়ে রেহাই পেয়ে যায় হানিট্রাপ গ্রুপের সেই বহুল আলোচিত কিশোরী গ্যাং প্রধান। ভুক্তভোগীর বক্তব্য এ ব্যাপারে হামলার শিকার শিক্ষার্থী রাবেয়া জানান,আমাকে ও আমার মায়ের ওপর হামলা করেছে। পরিকল্পিত ভাবে হামলা করে তারা তাদের মোবাইলে ভিডিও করে তারা তাদের ফেসবুক আইডিতে এবং তাদের লোকজনদের মাধ্যমে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। রাবেয়া আরো জানান,আমাদের ওপর হামলা, মারধর, মোবাইল ও টাকা নেয়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছি। ফেসবুকে ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দিবো। তিনি বিতর্কিত কিশোরী গ্যাং গ্রুপের হাত থেকে বাচাঁর জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।   পুলিশের অবস্থান বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৬, ২০২৬ 0
লঞ্চঘাট প্রকল্প উদ্বোধনের ৪ মাসের মাথায় সড়ক ও জেটিতে ধস
উদ্বোধনের চার মাসেই ধস: হিজলার মৌলভীরহাট লঞ্চঘাটে অনিয়মের অভিযোগ, ঝুঁকিতে যাত্রী চলাচল

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : উদ্বোধনের মাত্র চার মাসের মাথায় বরিশালের হিজলা উপজেলার মৌলভীরহাট লঞ্চঘাটের সড়কে বড় ধরনের ধস এবং জেটির একটি অংশ দেবে যাওয়ার ঘটনায় নির্মাণকাজের মান, তদারকি এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথ পাইলিং ছাড়াই তড়িঘড়ি করে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণেই নতুন করে সংস্কার করা ঘাটটি অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) দাবি করছে, নদীর তলদেশ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় এই ধসের ঘটনা ঘটেছে। দ্বিতীয় দফার সংস্কারেও একই পরিণতি বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, এর আগে একবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর মৌলভীরহাট লঞ্চঘাট ও সংযোগ সড়ক সংস্কারের জন্য দ্বিতীয় দফায় ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পটির ঠিকাদারি কাজ করেন নজরুল ইসলাম রাজু ঢালী। সংস্কার শেষে চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘাটটির উদ্বোধন করেন। কিন্তু উদ্বোধনের তিন মাসের মধ্যেই গত এপ্রিল মাসে জেটির একটি অংশ দেবে যেতে শুরু করে। এরপর কয়েকদিন আগে সংযোগ সড়কের বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পুরো ঘাটই নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে। ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী চলাচল সরেজমিনে দেখা গেছে, লঞ্চঘাটের সংযোগ সড়কের একটি অংশ ধসে পড়েছে। পন্টুনে ওঠার জেটির একপাশও দেবে গেছে। তবুও প্রতিদিন শত শত যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেই জেটি ব্যবহার করে লঞ্চে উঠছেন। কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে ছোট নৌকার সাহায্য নিচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই ঘাটটি এলাকার মানুষের নদীপথে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ফলে অবকাঠামো ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বাধ্য হয়েই যাত্রীদের এটি ব্যবহার করতে হচ্ছে। ‘প্রথমবারের ভুলের পুনরাবৃত্তি’ মৌলভীরহাট এলাকার ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ পান তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান প্রয়াত বেলায়েত হোসেন ঢালীর ছেলে রাজু ঢালী। তার ভাষায়, প্রথম দফার কাজেও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও নানা অনিয়ম হয়েছিল। কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই ঘাটটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সরকারের প্রায় কোটি টাকার বিনিয়োগ কার্যত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রথমবার ধসের পর জনগণের দুর্ভোগ বিবেচনায় নতুন করে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ হওয়ায় আগের সমস্যাগুলো থেকেই গেছে। ফলে উদ্বোধনের মাত্র চার মাসের মধ্যেই আবারও সড়ক ও জেটি ভেঙে পড়েছে। দায় কার—নির্মাণ ত্রুটি নাকি নদীর চরিত্র? ঘটনার বিষয়ে ঠিকাদার নজরুল ইসলাম রাজু ঢালী সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় সরকারি শিডিউল অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে।” অন্যদিকে বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমজাদ হোসেন ধসের কারণ হিসেবে নদীর তলদেশের মাটি সরে যাওয়াকে দায়ী করেছেন। তার দাবি, “নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় মৌলভীরহাট লঞ্চঘাটের জেটি ও সড়ক ধসে পড়েছে। শিগগিরই ঘাটটি পরিদর্শন করে নতুনভাবে সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” একই ঠিকাদার কেন? স্থানীয়দের একটি বড় প্রশ্ন—প্রথম দফার কাজ নিয়ে অভিযোগ থাকার পরও দ্বিতীয়বার একই ঠিকাদার কীভাবে কাজ পেলেন? এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন বলেন, সরকারি ক্রয়বিধি অনুযায়ী অনলাইন দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়। সেখানে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে কাজ দেওয়ার সুযোগ নেই। তার ভাষায়, “এক টাকার কাজের ক্ষেত্রেও অনলাইনে দরপত্র আহ্বান করা হয়। যেকেউ যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পেতে পারেন। ঠিকাদার নজরুল ইসলাম রাজু ঢালীর সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নেই।” তদন্তে যে প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রয়োজন মৌলভীরহাট লঞ্চঘাটের ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— প্রকল্পে অনুমোদিত নকশা ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি? নদীতীরবর্তী অবকাঠামোর জন্য প্রয়োজনীয় পাইলিং ও সুরক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হয়েছিল কি? নির্মাণকাজের সময় তদারকি কতটা কার্যকর ছিল? প্রথমবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও একই ঠিকাদারকে পুনরায় কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া কী ছিল? ধসের পেছনে প্রকৃত কারণ নির্মাণ ত্রুটি, নাকি নদীর ভূপ্রকৃতিগত পরিবর্তন? সরকারি অর্থে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক অবকাঠামো উদ্বোধনের কয়েক মাসের মধ্যেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি তুলছেন স্থানীয়রা।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১২, ২০২৬ 0
বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলো
বরগুনায় মা ও দুই মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় ৭ দিন পর হত্যা মামলা, তদন্তে নতুন মোড়

ইত্তেহাদনিউজ,অনলাইন : বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর দুটি পৃথক কক্ষ থেকে মা ও তার দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সাত দিন পর হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত পরিচ্ছন্নতাকর্মী ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বরগুনা সদর থানায় মামলাটি করেছেন। বুধবার (১০ জুন) দুপুরে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার (৯ জুন) গভীর রাতে মামলাটি দায়ের করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ জুন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার পাশাপাশি দুটি কক্ষ থেকে ইতি রানী (৩৪), তার বড় মেয়ে আরাধা বিশ্বাস (১২) এবং ছোট মেয়ে অনুরাধা বিশ্বাসের (৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিল, দুই মেয়েকে হত্যার পর ইতি রানী আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করা হয়। তবে ঘটনার শুরু থেকেই নিহতদের স্বজনরা এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসছিলেন। তাদের অভিযোগ, ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। ঘটনার পরদিন, ৪ জুন বিকেলে বরগুনা পৌরশহরে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন এবং সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার সময়ও বিচার দাবিতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। নিহত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, মঙ্গলবার রাতে তিনি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। তার দাবি, এর আগে থানায় মামলা করতে গেলে অন্য একজনকে বাদী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি আদালতের দ্বারস্থ হলেও মামলা গ্রহণে জটিলতার মুখে পড়তে হয়েছিল। এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, “নিহত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১১, ২০২৬ 0
বিদ্যালয়ে না গিয়েও ২৩ বছর ধরে বেতন নিচ্ছেন বিএনপি নেতা
বিদ্যালয়ে না গিয়েও ২৩ বছর ধরে বেতন নিচ্ছেন টাঙ্গাইলে বিএনপি নেতা ও প্রধান শিক্ষক সেলু

ইত্তেহাদনিউজ,অনলাইন : টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার তালুকদার সিরাজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জান সেলুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও বেতন গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিত না থেকেও প্রায় ২৩ বছর ধরে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নিজ বাসা থেকেই বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়ের ইতিহাস ও নিয়োগ স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত হয় তালুকদার সিরাজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার সময় প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান সেলিমুজ্জান সেলু। ২০০৩ সালের জানুয়ারিতে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয়। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে যান না বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি নিয়মিত বেতন গ্রহণ করতেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দীর্ঘদিন ধরে পালন করছেন তার বড় ভাই শাহ আলম তালুকদার। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ভূমিকা সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, সেলিমুজ্জান সেলু ২০০৩ সালে উপজেলা বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। পরে ২০০৯ সালে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৪ সালের পর থেকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করেন এবং ছয় মাসের জন্য সভাপতি নির্বাচিত হন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের কথা থাকলেও তা হয়নি। পরে কমিটির মেয়াদ বাড়ানো হয় এবং নির্বাচন ছাড়াই তিনি দীর্ঘ সময় ধরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি একসঙ্গে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, তালুকদার সিরাজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। আচরণবিধি নিয়ে প্রশ্ন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রণীত খসড়া আচরণবিধিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, রাজনৈতিক পদ গ্রহণ কিংবা রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণের বিষয়ে বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রধান শিক্ষক সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলে বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিলে তা অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারেন। এ অবস্থায় একজন সক্রিয় রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সেলিমুজ্জান সেলুর দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। শিক্ষকদের অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, বিশেষ অনুষ্ঠান বা আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ছাড়া সেলিমুজ্জান সেলুকে বিদ্যালয়ে খুব কমই দেখা যায়। তাদের একজন বলেন, “বিশেষ প্রোগ্রাম ছাড়া তিনি বিদ্যালয়ে আসেন না। অধিকাংশ দাপ্তরিক কাজ বাসা থেকেই পরিচালনা করেন।” প্রশাসনের বক্তব্য ভূঞাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শহিদুল ইসলাম বলেন, “সেলিমুজ্জান সেলু বিগত সরকার এবং বর্তমান সরকার—উভয় সময়েই প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঈদের ছুটির পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সম্প্রতি খুলেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একাডেমিক সুপারভাইজারকে পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বিএনপির অবস্থান ভূঞাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, “কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান যদি রাজনৈতিক দলের নেতাও হন, তবু তাকে নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা করলে তার দায় দল নেবে না।” শিক্ষক সমিতির বক্তব্য মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির জেলা শাখার একাংশের সভাপতি আব্দুল কাদের বলেন, “ভূঞাপুরের অ্যাডহক কমিটি গঠনের বিষয়ে আমাদের কাছ থেকে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।” অন্যদিকে জেলা শাখার আরেক অংশের সভাপতি শামিম আল মামুন জুয়েল বলেন, “প্রথমে ছয় মাসের জন্য অ্যাডহক কমিটি করা হয়েছিল। পরে মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে নির্বাচন কেন অনুষ্ঠিত হয়নি, সেটি প্রশ্নসাপেক্ষ।” অভিযোগ অস্বীকার অভিযোগের বিষয়ে সেলিমুজ্জান সেলু বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।” মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির কমিটি সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি সাক্ষাৎ করে কথা বলার অনুরোধ জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১১, ২০২৬ 0
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
ইসলামী ব্যাংকে চাকরিচ্যুতি, নিয়োগ বিতর্ক ও শেয়ার মালিকানা: পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্ক নতুন করে জাতীয় সংসদে আলোচনায় এসেছে। চাকরিচ্যুতি, রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ, শেয়ার মালিকানা পরিবর্তন এবং বিতর্কিত ঋণ বিতরণের অভিযোগের মধ্যে এবার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ব্যাংকটিতে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাদের চাকরি পুনর্বহালের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা উচিত। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া নিয়োগগুলো কতটা নিয়মসঙ্গত ছিল, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি। ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে কী প্রশ্ন উঠছে? সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা, পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন, ঋণ বিতরণে অনিয়ম এবং আমানতকারীদের উদ্বেগ দেশের ব্যাংকিং খাতে আস্থার সংকট নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়কে একীভূত করে দেখার প্রবণতা বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণে বাধা সৃষ্টি করছে। তার ভাষায়, “ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামও ইসলাম নয়। সবকিছুতে ইসলামের দোহাই দেওয়া ঠিক নয়।” বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ব্যাংকটির কার্যক্রমকে ধর্মীয় আবেগের বাইরে এনে আর্থিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর আলোকে মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতা ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তন নিয়ে সমালোচনার জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষমতা বাংলাদেশ ব্যাংকের রয়েছে। তিনি বলেন, এ নিয়ে আপত্তি থাকলে আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে হবে। বিদ্যমান আইনের আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে। এ বক্তব্য ব্যাংক খাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ক্ষমতা ও স্বাধীনতা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। ‘গ্রাহক’ সেজে আন্দোলনের অভিযোগ সংসদে দেওয়া বক্তব্যে সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেন, ইসলামী ব্যাংকে অস্থিরতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একটি মহল পর্দার আড়াল থেকে ‘গ্রাহক’ পরিচয়ে আন্দোলন পরিচালনা করছে। তার দাবি, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি গণতান্ত্রিকভাবে তাদের ভূমিকা পালন করতে পারে, তবে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার মাধ্যমে আমানতকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা উচিত নয়। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে তিনি সংসদে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। শেয়ার মালিকানা ও ঋণ বিতরণ নিয়ে তদন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, ইসলামী ব্যাংকের বৈধ শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার যথাযথ প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি নাবিল গ্রুপসহ যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের অর্থ নিয়ে তা ফেরত দেয়নি, তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা দেন তিনি। ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে সেটি শুধু ইসলামী ব্যাংক নয়, পুরো আর্থিক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হতে পারে। ৯ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের অভিযোগ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ইসলামী ব্যাংকে অতীতে প্রায় ৯ হাজার কর্মীকে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ নিয়ে। তিনি জানান, এসব চাকরিচ্যুতি নিয়ম মেনে হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করা হবে। যদি অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এ ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে ইসলামী ব্যাংকের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং অতীত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো নতুন করে পর্যালোচনার মুখে পড়তে পারে। কেন গুরুত্বপূর্ণ? ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় আমানতভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা, মালিকানা বা আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে যেকোনো প্রশ্ন সরাসরি লাখো গ্রাহক ও দেশের আর্থিক ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে চাকরিচ্যুতি, নিয়োগ, শেয়ার মালিকানা এবং ঋণ বিতরণের মতো চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে তদন্তের আওতায় আনার ইঙ্গিত মিলেছে। এখন নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কত দ্রুত শুরু হয় এবং তার ফলাফল কতটা স্বচ্ছভাবে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৯, ২০২৬ 0
পাবনায় ছেলের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যা
পাবনায় সন্তানের সামনে গুলি করে হত্যা মাদ্রাসা কর্মী আলী হোসেনকে, আতঙ্কে এলাকাবাসী

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পাবনা শহরে সন্তানের সামনেই আলী হোসেন (৫৩) নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শহরের জামেয়া আশরাফিয়া মাদরাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলী হোসেন পাবনা সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের জাফরাবাদ এলাকার বাসিন্দা। তিনি জামেয়া আশরাফিয়া মাদরাসার একজন স্টাফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে সন্তানকে মাদরাসায় রাখতে যান আলী হোসেন। এ সময় আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। হামলার পরপরই তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান আলী হোসেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, হামলাটি ছিল অত্যন্ত দ্রুত এবং লক্ষ্যভেদী। এতে ধারণা করা হচ্ছে, হামলাকারীরা আলী হোসেনের গতিবিধি সম্পর্কে পূর্ব থেকেই অবগত ছিল। তবে হত্যার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ব্যক্তিগত বিরোধ, পূর্বশত্রুতা নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে—তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে এবং শিশুর উপস্থিতিতে সংঘটিত এমন হত্যাকাণ্ড এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। ঘটনার পর মাদরাসা ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঘটনাস্থলের আশপাশের সম্ভাব্য সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং নিহতের সাম্প্রতিক যোগাযোগের তথ্য পর্যালোচনা করে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের পরিচয় উদঘাটনে তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৯, ২০২৬ 0
Popular post
সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0