Brand logo light

দুদক

পিরোজপুর এলজিইডির সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জিত দে'র বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার ভুয়া বিল ও দুর্নীতির অভিযোগ

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পিরোজপুরের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জিত দে-এর বিরুদ্ধে কাজ সম্পন্ন না করেই ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার বিল অনুমোদন, ঠিকাদার সিন্ডিকেট গঠন, ঘুষ-বাণিজ্য এবং প্রশাসনিক আদেশ উপেক্ষা করে দীর্ঘ সময় একই পদে বহাল থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব অনিয়মের কারণে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও তিনি এখনও আইনের আওতার বাইরে রয়েছেন। একই সঙ্গে পুনর্বহালের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে তৎপরতাও চালিয়ে যাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে। যোগদানের পরই অভিযোগের সূত্রপাত অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩০ জুন রঞ্জিত দে পিরোজপুরে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন এবং তার পূর্বসূরি আব্দুস সাত্তারের সময়কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় নির্বাচিত কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না হলেও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ ছাড় করেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, এসব বিলের একটি বড় অংশ বাস্তব কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। প্রধান প্রকৌশলী, মন্ত্রণালয় ও দুদকে লিখিত অভিযোগ মঠবাড়িয়া উপজেলার শিংগা গ্রামের বাসিন্দা হরিদাশ হাওলাদার শিপন রঞ্জিত দে'র বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগপত্র অনুযায়ী— ৬ জানুয়ারি প্রধান প্রকৌশলীর কাছে, ২৬ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিবের কাছে, এবং ৫ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়, কাজ বাস্তবে সম্পন্ন না হলেও পছন্দের কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় শত কোটি টাকার বিল প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ইফতি ইটিসিএল নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কোনো কাজ সম্পন্ন না করেই ৮৯ কোটি টাকা বিল দেওয়ার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়। বদলির আদেশ, স্থগিতাদেশ এবং পুনর্বহাল নিয়ে প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১৪ নভেম্বর রঞ্জিত দে-কে কুড়িগ্রামে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। তবে মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই, ২৮ নভেম্বর তিনি বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওই আদেশ স্থগিত করাতে সক্ষম হন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ৪ ফেব্রুয়ারি পুনরায় তার বদলির নির্দেশ জারি হলেও তিনি দীর্ঘ সময় স্বপদে বহাল ছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলজিইডির ভেতরে ও বাইরে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সাময়িক বরখাস্তের পর নিঃশব্দে পিরোজপুর ত্যাগ একাধিক সূত্র জানায়, দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগ বিভিন্ন দপ্তরে পৌঁছানোর পর রঞ্জিত দে-কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তের পর তিনি অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর না করেই রাতের আঁধারে পিরোজপুর ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার অভিযোগ অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, পিরোজপুর ছাড়ার পর রঞ্জিত দে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান করেছিলেন বলে একটি সূত্র দাবি করেছে। পরে তিনি আবার বাংলাদেশে ফিরে এসে নিজেকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে দলটির কয়েকজন নেতার মাধ্যমে চাকরিতে পুনর্বহালের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।   পুনর্বহালের চেষ্টার অভিযোগ বর্তমানে রঞ্জিত দে ঢাকায় এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পুনর্বহালের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে।   ঠিকাদারদের অভিযোগ পিরোজপুরের একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন, রঞ্জিত দে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ বণ্টন করতেন। স্থানীয় ঠিকাদার মো. মামুন মিয়া বলেন, "নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জিত দে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন। বদলির আদেশ হলেও অদৃশ্য শক্তির কারণে তিনি বহাল ছিলেন। এতে সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।" পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ঠিকাদার বলেন, "তার পছন্দের প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ না করলেও শত কোটি টাকার বিল পেয়েছে। আমার বৈধ বিলও দীর্ঘদিন আটকে ছিল। প্রকাশ্যে কিছু বললে সমস্যা হতে পারে।" ১২২ কোটি টাকার বিলের অভিযোগ আরেকটি সূত্রের দাবি, নেছারাবাদ উপজেলার ঠিকাদার শফিক সুমন-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো কাজ সম্পন্ন না হলেও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ১২২ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।   স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল্লাহ বলেন, "কাজ না হলেও ঠিকাদার টাকা পেয়েছেন—এমন অভিযোগ আমরা শুনছি। এসব প্রকল্প শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হবে কি না, তা নিয়েও মানুষের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে।" স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে সরকারি অর্থের অপব্যবহার রোধ করা যায়। বক্তব্য পাওয়া যায়নি এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রঞ্জিত দে'র সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৩০, ২০২৬ 0
সিলেট গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইলিয়াস আহম্মেদকে ঘিরে ঘুষ, অবৈধ সম্পদ ও অর্থপাচারের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সিলেট গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইলিয়াস আহম্মেদের বিরুদ্ধে ঘুষ, কমিশন বাণিজ্য, অবৈধ সম্পদ অর্জন, সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম এবং বিদেশে অর্থ পাচারের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে বলে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি। চলমান ফৌজদারি মামলা অভিযোগকারী সূত্রের দাবি, ইলিয়াস আহম্মেদ একটি ফৌজদারি মামলার (সি.আর. নং-১১৮/২০২৫) ১১০ নম্বর আসামি। মামলাটি দণ্ডবিধির ১৪৭, ১৪৮, ৩২৬, ৩০৭, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় বিচারাধীন। সরকারি চাকরিতে বিচারাধীন কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক দায়িত্বে রাখার বিষয়ে বিভিন্ন বিধান থাকলেও, এই মামলার প্রেক্ষাপটে তার দায়িত্বে বহাল থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। দীর্ঘ সময় ঢাকায় দায়িত্ব প্রশাসনিক নথি অনুযায়ী, তিনি ২০১৫ সাল থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গণপূর্ত বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে রয়েছে— ২২ এপ্রিল ২০১৫: ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৬: নড়াইল গণপূর্ত বিভাগ ১৮ জানুয়ারি ২০১৭: ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২ ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭: আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩: গণপূর্ত সার্কেল-১ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩: সিলেট গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ঠিকাদারি প্রভাব ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ একাধিক বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকায় দায়িত্ব পালনকালে ইলিয়াস আহম্মেদের বিরুদ্ধে প্রভাবশালী ঠিকাদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে সরকারি কাজ বণ্টন, বিল অনুমোদন এবং কমিশন গ্রহণের অভিযোগ ছিল। কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, প্রকল্প অনুমোদন এবং বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে কমিশন দাবি করা হতো। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সরকারি তদন্তের ফলাফল প্রকাশ হয়নি। আজিমপুর প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগের অধীনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, পছন্দের ঠিকাদার নির্বাচন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং কমিশনের বিনিময়ে বিল অনুমোদনের অভিযোগ রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প নিয়ে সরকারের কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় বিতর্ক আজিমপুর এলাকায় একটি নির্মাণকাজ চলাকালে শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, নিহত শিশুর পরিবারকে আর্থিক সহায়তা এবং তার ভাইকে চাকরি দেওয়ার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়।   সিলেট গণপূর্তে টেন্ডার সিন্ডিকেটের অভিযোগ সিলেট গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ইলিয়াস আহমেদের বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য, পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলো সরকারি ক্রয়বিধি অনুসরণ, দরপত্র ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এলটিএমের পরিবর্তে ওটিএম ব্যবহারের অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশনা উপেক্ষা করে সিলেট গণপূর্ত সার্কেলের একাধিক এপিপিভুক্ত প্রকল্পে এলটিএম (LTM) পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম (OTM) পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এভাবে দরপত্র আহ্বান করে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং কমিশনের বিনিময়ে কাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে যেসব দরপত্র আইডির উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো হলো— ১০৯৯১০৪, ১০৮৭৩৪৩, ১০৫৫৫৯৮, ১০৩৮৬৬৫, ১০৩৮২৯৮, ১০৩৭৪৭৯, ১০২৯৯৯০, ১০২৯১৬৭, ১০২৮০৮৫, ১০২৭৬৯৯, ১০২৭৫৮৯, ১০২৫৩২২, ১০১৩০৭৬ এবং ১০১১৬৬৩।   'সিন্ডিকেট' গঠনের অভিযোগ অভিযোগে বলা হয়েছে, সিলেটে যোগদানের পর ইলিয়াস আহমেদ কয়েকজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে নিয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এতে সিলেট বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু জাফর, হবিগঞ্জের সাকিবুর রহমান, মৌলভীবাজারের মাহামুদুল হাসান এবং সুনামগঞ্জের নাজমুল হাসান হিরার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এই সিন্ডিকেট বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র অনুমোদনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিচ্ছে। ডিপিপির বাইরে দরপত্রের অভিযোগ সিলেট ক্যান্সার, হার্ট ও কিডনি হাসপাতাল প্রকল্পে প্রায় ১৮ কোটি টাকার একটি দরপত্র (আইডি: ১০৯০৬৬১) ডিপিপির বাইরে আহ্বান করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাঁচ প্যাকেজ একত্র করে সীমিত প্রতিযোগিতার অভিযোগ বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের রিজিওনাল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি পৃথক প্যাকেজ একত্রিত করে একটি বড় দরপত্র (আইডি: ১০৮৯০২১) আহ্বান করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দরপত্রে সাব-স্টেশন, জেনারেটর, এসি, বৈদ্যুতিক কেবল, ইন্টারনেট, টেলিফোন নেটওয়ার্ক এবং সিসিটিভিসহ এমন শর্ত যুক্ত করা হয়েছে, যা অল্প কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই পূরণ করা সম্ভব। এতে প্রতিযোগিতা সীমিত হয়েছে কি না—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। অবৈধ সম্পদের অভিযোগ একাধিক সূত্রের দাবি, ইলিয়াস আহম্মেদ তার সরকারি চাকরির সময় অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ গড়ে তুলেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তার রয়েছে— ঢাকার ধানমন্ডিতে দুটি ফ্ল্যাট বরিশালে ব্যয়বহুল একটি মসজিদ বিদেশে একটি বাড়ি আত্মীয়দের নামে ব্যাংক হিসাব বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ তবে এসব সম্পদের বিষয়ে দুদক বা অন্য কোনো সংস্থার তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ সূত্রগুলোর দাবি, মালয়েশিয়া ও দুবাইয়ে ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এই অভিযোগেরও স্বাধীন সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। সিলেটেও একই অভিযোগ? স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, সিলেটে দায়িত্ব নেওয়ার পরও প্রকল্প অনুমোদন ও কাজ বণ্টনে কমিশন ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। দুদকের তদন্তের দাবি অভিযোগে বলা হয়েছে, আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালে টেন্ডার বাণিজ্য এবং অগ্রিম বিল পরিশোধের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত চলছে।   প্রতিক্রিয়া মেলেনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইলিয়াস আহম্মেদের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। প্রশ্ন রয়ে যায় ইলিয়াস আহম্মেদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বেশিরভাগই গুরুতর। তবে এগুলোর অনেকগুলোই এখনও তদন্ত বা বিচারিক প্রক্রিয়াধীন, অথবা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ—বিশেষ করে গণপূর্ত অধিদপ্তর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বচ্ছ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সুশাসন বিশ্লেষকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৯, ২০২৬ 0
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘নীরব সিন্ডিকেট’? আবুল কাশেমকে ঘিরে দুর্নীতি, পাসপোর্ট জালিয়াতি ও প্রভাব খাটানোর গুরুতর অভিযোগ

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল কাশেমকে ঘিরে আবারও সামনে এসেছে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিদেশে কর্মরত অবস্থায় সংঘটিত অনিয়মের একাধিক গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দাবি, বছরের পর বছর ধরে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে একাধিক দপ্তরকে অবহিত করা হলেও কার্যকর তদন্ত বা দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রাপ্ত নথি, অভিযোগপত্র এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের পাসপোর্ট ও ভিসা উইংয়ে দায়িত্ব পালনকালে আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, রাজস্ব ফাঁকি, ভুয়া পরিচয়ে পাসপোর্ট ইস্যু এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে তিনি নিজেকে বিএনপিপন্থি হিসেবে পরিচয় দিয়ে অতীতের অভিযোগ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অভিযোগের কেন্দ্রে রিয়াদ দূতাবাস রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসে দায়িত্ব পালনকালে আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে পাসপোর্ট প্রক্রিয়াকরণে রাজস্ব ফাঁকি এবং অবৈধ অর্থ লেনদেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, দূতাবাসের স্থানীয় কর্মীদের আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিপুলসংখ্যক পাসপোর্ট প্রক্রিয়াকরণ করা হতো। বিনিময়ে আদায় করা হতো নগদ অর্থ, যার একটি অংশ কথিত সিন্ডিকেটের সদস্যদের মধ্যে ভাগাভাগি করা হতো। অভিযোগকারী সূত্র দাবি করেছে, ২০১৯ সালের মে, জুন ও জুলাই—এই তিন মাসেই শত শত পাসপোর্টে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগপত্রে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ‘ভুয়া আইডি’ ব্যবহার করে পাসপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ অভিযোগের আরও বিস্ফোরক অংশে বলা হয়েছে, ২০১৭-১৮ সালে দূতাবাসের ভেতরে অস্তিত্বহীন কর্মচারীর নামে ভুয়া আইডি খুলে তা ব্যবহার করে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, ‘সাইফুর’ নামে একটি আইডির মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং সফটওয়্যার লগ বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি সহজেই যাচাই করা সম্ভব। তবে এই অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। তদন্ত চেয়ে একাধিক সরকারি চিঠি, কিন্তু ব্যবস্থা কোথায়? নথিপত্র অনুযায়ী, আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও মতামত চেয়ে ২০২০ সাল থেকে ২০২২ সালের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শাখা থেকে একাধিক চিঠি দেওয়া হয়। সুরক্ষা সেবা বিভাগ, প্রশাসন-১ শাখা এবং মিশন শাখা পৃথকভাবে রিয়াদ দূতাবাসকে অভিযোগ যাচাই করে প্রতিবেদন পাঠানোর অনুরোধ জানায়। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, একাধিক স্মারক জারি হলেও অভিযোগের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং তদন্ত প্রতিবেদনও যথাসময়ে জমা পড়েনি। এ পরিস্থিতি প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। বিদেশে পোস্টিং নিয়ে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ আবুল কাশেমের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সোহাগ হোসেনের বিরুদ্ধেও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে বিদেশে পোস্টিং নিশ্চিত করার চেষ্টা, বদলি বাণিজ্য এবং প্রশাসনে তদবিরের সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের নাম জড়িয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন প্রকাশের আগে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আবুল কাশেম ও সোহাগ হোসেনের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ নিজ এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আবুল কাশেম ও তার পরিবারের প্রভাব বৃদ্ধি পায় এবং ওই সময়েই তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হন। তাদের অভিযোগ, দেশে-বিদেশে তার নামে ও বেনামে সম্পদ রয়েছে। তবে এসব সম্পদের পরিমাণ বা মালিকানার বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। কী বলছেন দুর্নীতি বিরোধী বিশ্লেষকরা? দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে বসে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ বা অবৈধ সুবিধা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। তার ভাষায়, “দুর্নীতি ছোট বা বড় হয় না। দুর্নীতি মানেই দুর্নীতি। প্রতিটি অভিযোগের গভীর অনুসন্ধান হওয়া প্রয়োজন।” অন্যদিকে দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশ্নের মুখে জবাবদিহি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ওঠা অভিযোগ, তদন্তের জন্য বারবার সরকারি চিঠি দেওয়া, কিন্তু দৃশ্যমান কোনো নিষ্পত্তি না হওয়া—এসব বিষয় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0
এ্যাংকর সিমেন্টের চেয়ারম্যান-এমডি ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন'র অভিযোগ, তদন্তে দুদক

বরিশাল অফিস :    অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচার, ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং করপোরেট তহবিল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্তের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সিরাজী আমিন সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। অভিযোগের প্রাথমিক পর্যালোচনার পর দুদক বিষয়টি তদন্তের আওতায় নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। একাধিক সূত্রের দাবি, তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযোগে নাম থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে ইতোমধ্যে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি দুদক। অভিযোগের কেন্দ্রে যারা দুদকে জমা দেওয়া আবেদনে অলিম্পিক সিমেন্ট ও এ্যাংকর সিমেন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী পরিবারটির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান খানের মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ তার স্ত্রী জুলিয়া রহমান, মেয়ে আনিকা রহমান এবং জামাতা রিফাতের হাতে চলে যায়। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থ বিদেশে পাচার, ব্যাংক ঋণ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং বিভিন্ন দেশে সম্পদ গঠনের মাধ্যমে একটি সংঘবদ্ধ আর্থিক অপরাধচক্র সক্রিয় হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।  অবৈধ আর্থিক লেনদেনের সহাযতাকারী হলেন অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের  পিএস জুয়েল ইসলাম, পিএস নীলুফা। বিদেশে সম্পদ ও নাগরিকত্বের অভিযোগ লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, হুন্ডির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, এসব অর্থ ব্যবহার করে বিদেশে আবাসিক সম্পত্তি, ব্যবসা ও অন্যান্য বিনিয়োগ গড়ে তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে জুলিয়া রহমানের বিরুদ্ধে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার নাগরিকত্ব গ্রহণের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, বিদেশে সম্পদ গঠন ও নাগরিকত্ব গ্রহণের পেছনে বাংলাদেশ থেকে পাচার করা অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে।   ব্যাংক ঋণ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আবেদনে আরও বলা হয়েছে, অলিম্পিক সিমেন্ট দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করলেও কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ক্রমাগত অবনতির দিকে গেছে। ইসলামী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংকসহ একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য, কোম্পানির তহবিল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ফলে কাঁচামাল আমদানি, এলসি খোলা এবং নিয়মিত উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। নতুন ঋণ পেতে জাল দলিল তৈরির অভিযোগ দুদকে দেওয়া আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, নতুন ঋণ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কিছু জমির কাগজপত্র জাল বা বিতর্কিতভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, নতুন ঋণ অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্টরা দেশত্যাগের পরিকল্পনা করছেন।   শেয়ার দখল ও মামলা ব্যবহারের অভিযোগ আবেদনে প্রবাসী ব্যবসায়ী এনায়েত হোসেনের শেয়ার মালিকানা দখলের চেষ্টার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে ঘিরে একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যেগুলোকে অভিযোগকারী ‘ভুয়া ও হয়রানিমূলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   শ্রমিক অসন্তোষ ও কারখানা বন্ধের ঘোষণা অর্থপাচার ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি অলিম্পিক সিমেন্টের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি কারখানাটি বিক্রি বা হস্তান্তরের গুঞ্জনের মধ্যে বরিশালের রূপাতলীতে অবস্থিত কারখানার সামনে শ্রমিক-কর্মচারীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। শ্রমিক নেতাদের দাবি, দুই মাসের বকেয়া বেতন, ওভারটাইম এবং চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। বিক্ষোভ শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপিও জমা দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ যা বলছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের লোকসান, কাঁচামাল সংকট, ডলার সংকট এবং এলসি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে উৎপাদন অলাভজনক হয়ে পড়েছে। ১০ জুন জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ২৬ ও ২৮ ধারার আওতায় শ্রমিক ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আইন অনুযায়ী সকল পাওনা ও ক্ষতিপূরণ পরিশোধের আশ্বাসও দেওয়া হয়। এছাড়া ১১ জুন থেকে উৎপাদন কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। দুদকের তদন্ত কোথায় দাঁড়িয়েছে? দুদকের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলো প্রাথমিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা বিদেশে সম্পদ অর্জন, ব্যাংক ঋণের ব্যবহার, করপোরেট আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য অর্থপাচারের তথ্য সংগ্রহ করছেন বলে জানা গেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৭, ২০২৬ 0
বেনজীর আহমেদ।
বেনজীর আহমেদ: ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে আবুধাবিতে গ্রেফতার—দুর্নীতি, অর্থপাচার ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের পূর্ণ অনুসন্ধান

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একজন ছিলেন বেনজীর আহমেদ। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র‌্যাবের মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তা একসময় দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। কিন্তু কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ব্যক্তিই এখন দুর্নীতি, অর্থপাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন, জমি অধিগ্রহণে অনিয়ম এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে একাধিক মামলার আসামি। দুবাইয়ে তার গ্রেফতারের খবর প্রকাশের পর নতুন করে সামনে এসেছে প্রশ্ন—কীভাবে রাষ্ট্রের অন্যতম শক্তিশালী কর্মকর্তা এমন অবস্থায় পৌঁছালেন, এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করা কতটা সম্ভব? অভিযোগ থেকে অনুসন্ধান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বেনজীর আহমেদের বিপুল সম্পদ, পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পদ সঞ্চয় এবং প্রভাব খাটিয়ে জমি অধিগ্রহণের অভিযোগ প্রকাশিত হচ্ছিল। তবে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এসব অভিযোগ কখনও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মুখ দেখেনি। পরিস্থিতির মোড় ঘুরতে শুরু করে ২০২৪ সালের ১৮ এপ্রিল। সেদিন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার সম্পদ অনুসন্ধানে একটি বিশেষ অনুসন্ধান দল গঠন করে। এরপর ঘটনাপ্রবাহ দ্রুত বদলাতে থাকে। দেশত্যাগের সেই রাত দুদকের অনুসন্ধান শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায়, ২০২৪ সালের ৪ মে রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দুবাইয়ের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন বেনজীর আহমেদ। বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সহায়তায় তিনি দ্রুত ইমিগ্রেশনসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। রাত ১১টা ৪০ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। এরপর প্রায় দুই বছর তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করেন। দুবাইয়ে গ্রেফতার: নতুন অধ্যায়ের সূচনা দুদকের মামলার ভিত্তিতে আদালতের নির্দেশে ইন্টারপোলের সহায়তায় আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি প্রক্রিয়া শুরু হয়। চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার আদালত তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। অবশেষে ১২ জুন দুবাইয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিষয়টি অবহিত করেন। বাংলাদেশ পুলিশের একাধিক সূত্র এবং দুদক কর্মকর্তারাও গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে গ্রেফতার হওয়া মানেই দ্রুত দেশে ফেরত আসা নয়। এখন শুরু হতে পারে দীর্ঘ আইনি, কূটনৈতিক ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া। সম্পদের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন দুদকের মামলার নথি অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মোট প্রায় ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী— বেনজীর আহমেদ ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন এবং ২ কোটি ৬২ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। তার স্ত্রী জীশান মীর্জার বিরুদ্ধে ৩১ কোটি ৬৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ১৬ কোটি ১ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। বড় মেয়ে ফারিহা রিশতা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে ৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ আনা হয়েছে। ছোট মেয়ে তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে আরও উঠে আসে, তার নামে গুলশানে চারটি ফ্ল্যাট, ৩৩টি ব্যাংক হিসাব, ১৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার, তিনটি বিও হিসাব এবং ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে। আদালতের নির্দেশে এসব সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। অর্থপাচারের সন্দেহ তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে। দুদকের তথ্যমতে, বেনজীর আহমেদ প্রায় ১১ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করলেও সেই অর্থ কোথায় বিনিয়োগ করা হয়েছে, তার গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার হয়ে থাকতে পারে। যদিও এই অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। কতগুলো মামলার মুখোমুখি? বর্তমানে বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দুদকের একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় অভিযোগের মধ্যে রয়েছে— অবৈধ সম্পদ অর্জন সম্পদের তথ্য গোপন অর্থপাচার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের হওয়া কয়েকটি মামলাতেও তাকে আসামি করা হয়েছে। শাপলা চত্বর থেকে টিএফআই সেল ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বেনজীর আহমেদ অভিযুক্ত। সেই সময়ে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার ছিলেন। এছাড়া র‌্যাবের টিএফআই সেলে গুম ও গোপন আটকের অভিযোগসংক্রান্ত মামলাতেও তার নাম রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। বিতর্কিত পাসপোর্ট ইস্যু বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আরেকটি আলোচিত অভিযোগ সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় নিজেকে বেসরকারি চাকরিজীবী হিসেবে দেখিয়ে পাসপোর্ট গ্রহণ। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে র‌্যাবের মহাপরিচালক থাকা অবস্থায় পাসপোর্ট নবায়নের আবেদনে আপত্তি জানিয়েছিল পাসপোর্ট অধিদপ্তর। পরে র‌্যাব সদর দপ্তরের বিশেষ অনুরোধে দ্রুত তার পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। এমনকি তার বাসভবনে গিয়ে ছবি ও বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। জমি, রিসোর্ট এবং স্থানীয়দের অভিযোগ বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার প্রভাবের কারণে অনেক ভূমির মালিক—বিশেষত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা—জমি বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৈরাগীটোল এলাকায় ৬০০ বিঘার বেশি জমির ওপর গড়ে ওঠা সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্কও তদন্তের আওতায় আসে। আদালতের নির্দেশে রিসোর্টসহ বিভিন্ন স্থাপনা জব্দ করে জেলা প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তার পরিবারের মালিকানাধীন একটি বিলাসবহুল স্থাপনা নিয়েও তদন্ত চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‌্যাব এবং এর কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্তদের তালিকায় ছিলেন বেনজীর আহমেদও। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ছিল, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় র‌্যাবের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। দেশে ফিরিয়ে আনা কতটা সহজ? সাধারণভাবে অনেকেই মনে করেন, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি হলেই কোনো আসামিকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। বাস্তবে বিষয়টি অনেক বেশি জটিল। ইন্টারপোলের নিজস্ব কোনো গ্রেফতারকারী বাহিনী নেই। তারা মূলত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান এবং সমন্বয় করে। কোনো ব্যক্তিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন হয়— সংশ্লিষ্ট দেশের আদালতের অনুমোদন স্থানীয় আইনি প্রক্রিয়া প্রত্যর্পণ চুক্তির শর্ত কূটনৈতিক সমন্বয় বাংলাদেশ অতীতে কয়েকজন আলোচিত আসামিকে বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনতে সফল হয়েছে। তবে পি কে হালদার কিংবা আরাভ খানের মতো মামলাগুলো দেখিয়েছে, আন্তর্জাতিক প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া অনেক সময় দীর্ঘ ও জটিল হতে পারে। একটি ক্ষমতার পতন বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিচারিক সত্যতা এখনও আদালতেই নির্ধারিত হবে। তবে একটি বিষয় ইতোমধ্যে স্পষ্ট—একসময় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা একজন কর্মকর্তা আজ আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি। দুবাইয়ে তার গ্রেফতার শুধু একটি ব্যক্তিগত বা আইনি ঘটনা নয়; এটি রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি, ক্ষমতার ব্যবহার এবং প্রতিষ্ঠানগত দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে ক্ষমতার শীর্ষে থাকা একজন সাবেক পুলিশ প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থপাচার ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক গ্রেফতার নিঃসন্দেহে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৫, ২০২৬ 0
দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ: ইন্টারপোল, দুদকের মামলা ও প্রত্যর্পণ প্রশ্নে নতুন অধ্যায়

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ: তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে সম্পদের উৎস, সামনে প্রত্যর্পণ প্রশ্ন ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলার প্রেক্ষাপটে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এআইজি শাহাদাত হোসেন রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুদকের মামলায় আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তায় বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে ১২ জুন বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। তবে কোন নির্দিষ্ট মামলার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বর্তমানে তিনি কী ধরনের আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি, কিংবা তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ উদ্যোগ নিয়েছে কি না—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ তদন্তের পর গ্রেপ্তার বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গত কয়েক বছরে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে একাধিক অনুসন্ধান ও মামলা শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন। দুদকের তদন্তে অভিযোগ ওঠে, সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে, যার বৈধ উৎস নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। আদালতের নির্দেশে তাদের নামে থাকা জমি, ফ্ল্যাট, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব এবং বিভিন্ন আর্থিক সম্পদ ক্রোক (জব্দ) করা হয়। একইসঙ্গে একাধিক ব্যাংক হিসাব ও সঞ্চয়পত্রও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। ইন্টারপোলের রেড নোটিশ কীভাবে এলো? দুদকের আবেদনের পর ঢাকার একটি আদালত ২০২৫ সালের শুরুতে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। এরপর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাকে শনাক্ত ও আটক করতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা চাওয়া হয়। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের ‘রেড নোটিশ’ জারি হয়। যদিও রেড নোটিশ নিজেই কোনো আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নয়, এটি সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত, অবস্থান নির্ণয় এবং স্থানীয় আইনের আওতায় আটক করার অনুরোধ হিসেবে কাজ করে। দুবাইয়ে তার গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশের পর এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—বাংলাদেশ কি তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারবে? সামনে কী আইনি প্রক্রিয়া? আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যক্তিকে বিদেশে গ্রেপ্তারের পর সরাসরি দেশে ফেরত আনা যায় না। সাধারণত প্রত্যর্পণ চুক্তি, স্থানীয় আদালতের অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। ফলে বেনজীর আহমেদের ক্ষেত্রে দুবাইয়ের আদালত, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন এবং বাংলাদেশের অনুরোধ—সবকিছু মিলিয়ে একটি জটিল আইনি প্রক্রিয়া সামনে আসতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন করে, তাহলে অভিযোগের প্রকৃতি, মামলার অবস্থা এবং দুই দেশের আইনি কাঠামোর ভিত্তিতে বিষয়টি বিবেচিত হবে। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই গ্রেপ্তার? বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে বেনজীর আহমেদ ছিলেন অন্যতম আলোচিত কর্মকর্তা। র‌্যাবের মহাপরিচালক এবং পরে পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দুবাইয়ে তার গ্রেপ্তার শুধু একটি ব্যক্তিগত মামলার অগ্রগতি নয়; বরং এটি বাংলাদেশের দুর্নীতি তদন্ত, আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা এবং সীমান্ত-পেরোনো আর্থিক অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত হলেও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। ফলে আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তি হিসেবেই বিবেচিত হবেন। এখন নজর থাকবে দুবাই কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ, বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রত্যর্পণ আবেদন এবং বহুল আলোচিত এই মামলার ভবিষ্যৎ আইনি গতিপথের দিকে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৪, ২০২৬ 0
এ্যাংকর সিমেন্ট ও অলিম্পিক ফাইবার
এ্যাংকর সিমেন্ট ও অলিম্পিক ফাইবার প্রতিষ্ঠান স্থায়ী ভাবে বন্ধ ঘোষনা,পরিশোধ করা হয়নি শ্রমিকদের দেনা পাওনা

বরিশাল অফিস :  ক্রমাগত ব্যবসায়িক লোকসান, কাঁচামাল ও এলসি সংকটের কারণে বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমানের স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এমন সিদ্ধান্ত জানানো হয়। নোটিশে বলা হয়, উৎপাদন বন্ধের কারণে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত সব শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। একই সঙ্গে সব শ্রমিক তাদের প্রাপ্য পাওনা যথাযথ সময় পেয়ে যাবেন। আরো উল্লেখ করা হয়,১১ জুন থেকে বন্ধ ঘোষনা করা হচ্ছে। এদিকে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা এবং ২৮ এর বিধান অনুসরনপুর্বক অলিম্পিক সিমেন্ট ও অলিম্পিক ফাইবার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সকল স্তরের শ্রমিক এবং কর্মকর্তা -কর্মচারীদের চাকরি থেকে ছাটাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। নোটিশে আরো উল্লেখ করা হয় কোম্পানি কর্তৃপক্ষ আইন মোতাবেক সকল শ্রমিক,কর্মকর্তা -কর্মচারীদের বিধি মোতাবেক প্রাপ্য পাওনাদি ও ক্ষতিপুরন সম্পুর্ন পরিশোধ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।     আরও পড়ুন:   অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানা বিক্রির গুঞ্জন এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ এ্যাংকর সিমেন্টে ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ : বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বরিশালে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ হতে যাচ্ছে : বাড়ছে পাওনাদারদের ভিড়,গা ঢাকা দিয়েছে  এ্যাংকর সিমেন্টের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, আর্থিক সংকট,উৎপাদন বন্ধ        কি আছে শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা এবং ২৮ এর বিধানে :  বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২৮ ও ২৮(ক)-তে শ্রমিকদের অবসর গ্রহণ এবং প্রাকৃতিক বা নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত বিপর্যয়ের কারণে চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রে মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের আইনি বিধান রয়েছে。 শ্রম আইন কী বলছে? কোম্পানি কর্তৃপক্ষ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২৮-এর উল্লেখ করলেও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ধারা ২৮ মূলত শ্রমিকের অবসর গ্রহণের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে, শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেলে শ্রমিকদের পাওনা, ক্ষতিপূরণ এবং মালিকের দায়বদ্ধতা শ্রম আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। ফলে ছাঁটাই কার্যক্রম আইনসঙ্গত হয়েছে কি না, তা নির্ভর করবে শ্রমিকদের পাওনা যথাযথভাবে পরিশোধ করা হয়েছে কি না এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না তার ওপর। পাওনাদি পরিশোধ: প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব চাকরির বিধি বা শ্রম আইনের অন্যান্য ধারা অনুযায়ী অবসর গ্রহণকারী শ্রমিকের সব পাওনাদি (যেমন: প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ইত্যাদি) পরিশোধ করতে হবে। ধারা ২৮(ক): নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত বিপর্যয়ের কারণে মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক ২০১৩ সালের সংশোধনীতে যুক্ত হওয়া এই ধারার বিধানাবলি হলো: জরুরি পরিস্থিতি: আকস্মিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়, মহামারি বা মানুষের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কোনো জরুরি কারণে যদি কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর করতে হয় বা উৎপাদন কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়, তবে মালিক ও শ্রমিকের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী হবে তা সরকার বিধি দ্বারা নির্ধারণ করবে। এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে শ্রমিকের অধিকার, ক্ষতিপূরণ এবং মালিকের দায়িত্ব শ্রম বিধিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হয়। শ্রম আইনের পূর্ণাঙ্গ গেজেট ও ধারাগুলো দেখতে বাংলাদেশ লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ-এর ওয়েবসাইটটি দেখতে পারেন। যে কারনে বন্ধ হল এ্যাংকর সিমেন্ট ও এ্যাংকর সিমেন্ট এর ব্যাগ ফ্যাক্টরী: অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান ও পরিচালক রিফাত যোগসাজসে দুবাই,আমেরিকা ও লন্ডনে টাকা পাচারের কারনে লোকসানের মুখে পড়ে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী। কোম্পানীর মালিক কর্তৃপক্ষ বিদেশে টাকা পাচারের তথ্য  পিএস নিলুফা,পিএস জুয়েল,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট অফিসার মোস্তফা, সিওও শাহিদ উদ্তিন জেনে যাওয়ায় তারা কোম্পানী থেকে একেকজন শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। ফলে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে এ্যাংকর সিমেন্ট। ২০২৩ সাল থেকে ঋনের কিস্তি দিতে না পেরে এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ মার্কেট থেকে ডিলার,রিটেইলার ও ক্রেতাদের অতিরিক্ত কমিশন দেয়ার লোভ দেখিয়ে অর্থ নিয়ে লোকাল মার্কেট থেকে ক্লিংকার,স্লাগ,জিপসাম,লাইমস্টোন ও ফ্লাই এ্যাশ সংগ্রহ করে সিমেন্ট উৎপাদন করে বাজারে সরবরাহ করতো।ফলে লাভের চেয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এ্যাংকর সিমেন্ট কোম্পানী। ফলে একদিকে ব্যাংকের ঋন শোধ না করায় খেলাপীর লাইনে দাড়ায় অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড। তেমনি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধে ব্যর্থ হয়।কোন ব্যাংক এলপি না খোলায় বিপাকে পরে তারা।কারন কোন ব্যাংকের ঋনের কিস্তি পরিশোধ করতে পারেনি অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড।ইসলামী ব্যাংক পিএলসিসহ অন্যান্য ব্যাংকে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের হাজার কোটি টাকা ঋন রয়েছে। কর্তৃপক্ষ ব্যাংকের ঋন পরিশোধ না করে মনোযোগী হয় বিদেশে কোম্পানী খোলা ও অর্থ পাচারে। অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড দুবাইতে স্বর্নের দোকান,ভিটা বাড়ি ক্রয়,ফুড় ডেলিভারির কোম্পানীসহ একাধিক কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করে। এসব প্রতিষ্ঠান দুবাইতে  অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড কর্তৃপক্ষ লাভের মুখ দেখেনি।তবে তাদের জমি ও মার্কেট রয়েছে।   যেভাবে টাকা পাচার করে দুবাইতে : অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান ও পরিচালক রিফাত দুবাইতে  একই নামে কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশে অবস্থিত অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডকে পিআই দিত দুবাই থেকে।এদিকে বাংলাদেশে অবস্থিত অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এলসি ওপেন করতো।অতিরিক্ত টাকা এলসির মাধ্যমে পাচার করতো।এছাড়া হুন্ডির মাধ্যমেও তারা শত শত কোটি টাকা পাচার করেছে।অন্য সিমেন্ট কোম্পানীর মালামাল ও অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর মালামাল এ্যাসেসমেন্ট করলেই বেড়িয়ে আসবে প্রতিটি এলসিতে কত ডলার পাচার করেছে।এসব বিষয়ে দুদক অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে একটি বিশস্ত সুত্র নিশ্চিত করেছে।   ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ,তদন্তে ভ্যাট গোয়েন্দা:   ৪০ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি ও অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়ায় কাগজপত্রসহ অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর কর্তৃপক্ষকে তলব করেছে কাস্টমস,ও ভ্যাট বিভাগ। ইতিমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিষয়টি আমলে নিয়ে এ্যাংকর সিমেন্টের  শুল্ক ফাঁকি, ভ্যাট জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের বিষয়ে নজরধারী ও তদন্ত শুরু করেছে।  বিদেশে নাগরিত্ব গ্রহন, বাংলাদেশের অর্থ বিদেশে পাচার এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভুত অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলাসহ অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান শুরু করেছে।সম্প্রতি অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডকে দুদক নোটিশ প্রদান করেছে।   বিদেশে সম্পদ গড়ার অভিযোগ, পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা:   অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর অর্থ বিদেশে পাচার এবং বিদেশে অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলা,দুদকের অনুসন্ধান,ভ্যাট ফাঁকি ও সরকার থেকে অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়ার ফলে ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিষয়টি আমলে নেয়ায়,ব্যাংক ঋন বকেয়া, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া,কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা বকেয়া, ডিলার, রিটেইলারদের থেকে অতিরিক্ত কমিশন দেয়ার নামে অগ্রীম টাকা নিয়ে সিমেন্ট না দেয়া,পাওনাদারদের পাওনা টাকা না দেয়ার চাপ বাড়তে থাকায় অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান ,ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান ও পরিচালক রিফাত বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর একটি বিশ্বস্ত সুত্র নিশ্চিত করেছে। দুবাই,আমেরিকা ও লন্ডনে তাদের বাড়ি ও গাড়ি রয়েছে।তারা এই তিন দেশের কোন এক দেশে যাবেন বলে সুত্র জানায়।   পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে লিখিত অভিযোগ :   সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে এক প্রবাসী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মরহুম মজিবুর রহমান খানের মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নেন তার স্ত্রী জুলিয়া রহমান, মেয়ে আনিকা রহমান এবং জামাতা রিফাত। এরপর থেকেই কোম্পানির অর্থ বিদেশে পাচার এবং অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার কার্যক্রম শুরু  করেন। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, জুলিয়া রহমান হুন্ডির মাধ্যমে ও আন্ডার ইন ভয়েসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে একাধিক ডুপ্লেক্স বাড়ি ও ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব অর্থ এসেছে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের তহবিল ও ব্যাংক ঋণ থেকে। একইসঙ্গে জুলিয়া রহমান অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। তার বিদেশি ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—৫১ চার্চ স্ট্রিট, সেন্ট জন’স, অ্যান্টিগুয়া। কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ: অন্যদিকে আনিকা রহমান ও তার স্বামী রিফাতের বিরুদ্ধে দুবাই, শারজাহ এবং নিউইয়র্কে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তরে সহায়তা করেছেন প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী, যাদের মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,সিওও শাহেদ উদ্দিন,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ আরো অনেকে। সহায়তা করার জন্য এসব কর্মকর্তারা হয়েছেন ক্রোড়পতি।গড়েছেন নামে বেনামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সহায় সম্পদ।   ব্যাংক ঋণ  সংকটে ও উৎপাদন বন্ধ:   জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার সময় বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেয়। এর মধ্যে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি এবং ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব ঋণের অর্থ উৎপাদনে ব্যবহার না করে বিদেশে সরিয়ে নেওয়ায় বর্তমানে কোম্পানিটি মারাত্মক ঋণ সংকটে পড়েছে। বর্তমানে কারখানায় উৎপাদন বন্ধ। কাঁচামালের সংকট, এলসি খুলতে অক্ষমতা এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে তাদের মধ্যে অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে।   বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা,আটকের দাবি:   সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান এবং পরিচালক রিফাত এর বিদেশ গমনের পথ বন্ধ করে  তাদের আটক করে এবং অভিযোগগুলো সঠিকভাবে দুদক ও ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর তদন্ত করলে বড় ধরনের অর্থপাচার ও ব্যাংক জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। অভিযুক্তদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা এবং আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, দুদক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা ।   শ্রমিকদের সাথে প্রতারনা :   বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের বরিশালের সমন্বয়ক ড. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, ‘মূলত প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা পরিবর্তন হচ্ছে। এ কারণে উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের কর্মচারীদের আন্দোলনের এই নেতা আরো বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩০০ শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। তাই আমাদের দাবি, মালিকানা পরিবর্তন হলে পরবর্তী মালিককে ওই সব শ্রমিককে কাজে নিযুক্ত করার নিশ্চয়তা দিতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের পাওনা কতদিনের মধ্যে পরিশোধ করা হবে সে বিষয়েও নিশ্চয়তাও দিতে হবে। এদিকে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের এ্যাংকর সিমেন্টে কর্মরত এক কর্মকর্তা জানান,কর্তৃপক্ষ নোটিশ দিয়ে শ্রমিকদের সাথে প্রতারনা করছে।শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন না করলে কর্তৃপক্ষ দেনা পাওনা পরিশোধ করবেনা। উল্লেখ্য,এ্যাংকর সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার,করপোরেট,  ঢাকা অফিস ও মার্কেটিং বিভাগে প্রায় ৬০০ কর্মকর্তা,কর্মচারী ও শ্রমিক কর্মরত রয়েছে।করোনার সময়ে অসংখ্য শ্রমিক ছাটাই করে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ধাপে ধাপে আরো শত শত শ্রমিক ছাটাই করে দেনা পাওনা পরিশোধ না করেই।   সামনে যেসব প্রশ্ন: অলিম্পিক সিমেন্ট  বন্ধ শুধু একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের বন্ধ নয়; এটি দেশের শিল্পখাত, ব্যাংকিং খাত এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। মূল প্রশ্নগুলো হলো— অলিম্পিক সিমেন্ট বন্ধের প্রকৃত কারণ কি শুধুই ব্যবসায়িক লোকসান? ব্যাংক ঋণের অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে? এলসি লেনদেনে কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি? ভ্যাট ও শুল্ক সংক্রান্ত অভিযোগ? শ্রমিকদের পাওনা ও ক্ষতিপূরণ আদৌ সময়মতো পরিশোধ করা হবে কি? অর্থ পাচারের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সংস্থাগুলো কী তথ্য পেয়েছে? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে।   তদন্তের দাবি:    অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত দাবি করেছেন।  অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের শিল্প ও ব্যাংক খাতকে রক্ষা করতে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি বলছেন, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে এটি দেশের শিল্পখাত ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। এ্যাংকর সিমেন্টের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট নয়; বরং এটি করপোরেট সুশাসন, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রীয় নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্নও সামনে আনছে। এক কথায় এই অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের গল্প শুধুমাত্র একটি ব্যবসার পতনের নয়, বরং নৈতিকতার, প্রজ্ঞার, এবং দেশপ্রেমের চূড়ান্ত পরীক্ষা।   এ্যাংকর সিমেন্টে ভয়াবহ কেলেঙ্কারি! বিদেশে সম্পদের পাহাড়, তদন্তে দুদক বরিশালের সিমেন্ট সাম্রাজ্যে ধস: ব্যাংক ঋণ থেকে বিদেশে বিলাসবহুল বাড়ি! ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি? এ্যাংকর সিমেন্ট নিয়ে তোলপাড় বেতন নেই, উৎপাদন বন্ধ, বিদেশে সম্পদ—সংকটে এ্যাংকর সিমেন্ট হুন্ডিতে অর্থপাচারের অভিযোগ, বিদেশে পালানোর শঙ্কা কোম্পানি কর্তাদের সিমেন্ট কোম্পানি নাকি অর্থপাচারের নেটওয়ার্ক? তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য দুবাই-লন্ডন-নিউইয়র্কে সম্পদ, দেশে বন্ধ কারখানা! প্রশ্নের মুখে এ্যাংকর সিমেন্ট ডিলারদের কোটি টাকা আটকে, তদন্তে ভ্যাট গোয়েন্দা ও দুদক     আগামী পর্বে থাকছে ------ ▪️অযোগ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ নেপথ্যে করপোরেটে নিলা ও ফ্যক্টরীতে শাহেদ উদ্দিন।  ▪️ধ্বংস অলিম্পিক সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার,অলিম্পিক শিপিং লাইনস লিমিটেড।  ▪️সহায় -সম্পত্তি জামানতের চেয়ে ব্যাংক ঋন পরিমান কত?।  ▪️কোম্পানী ধ্বংসের কারিগর  এমডি,ডিরেক্টর,এমডির পিস,ডিরেক্টরের পিএস,সিওও,সিএমও,ভ্যাট কর্মকর্তাসহ একাধিক কর্মকর্তা। ▪️অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড থেকে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ টাকার পাহাড় গড়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ একাধিক কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে  ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অর্থ আত্মসাতে সহায়তাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১২, ২০২৬ 0
আব্দুর রশিদ বুলু
বাজাজ সিএনজি আমদানিতে ৭ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ, তদন্তের মুখে আব্দুর রশিদ বুলু

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে অননুমোদিত উচ্চক্ষমতার বাজাজ সিএনজি অটোরিকশা আমদানি, আন্ডার-ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি এবং অবৈধ রেজিস্ট্রেশন বাণিজ্যের অভিযোগে আলোচনায় এসেছেন ব্যবসায়ী হাজী আব্দুর রশিদ বুলু। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দেওয়া অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে বাজাজ ব্র্যান্ডের অনুমোদিত সিএনজি থ্রি-হুইলারের ইঞ্জিন ক্ষমতা ১৯৮.৮৮ সিসি। অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে রানার অটোমোবাইলস পিএলসি এবং উত্তরা মোটরস বৈধভাবে এসব যানবাহন সংযোজন ও বাজারজাত করে আসছে। রানার গ্রুপের ময়মনসিংহের ভালুকিয়ায় অবস্থিত কারখানায় ভারত থেকে যন্ত্রাংশ এনে স্থানীয়ভাবে সিএনজি সংযোজন করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, ‘হালিমা রশিদ ট্রেডিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে ২৩৬.২ সিসির উচ্চক্ষমতার বাজাজ সিএনজি অটোরিকশা আমদানি করছে, যা বাংলাদেশের অনুমোদিত মডেলের বাইরে। একই সঙ্গে পণ্যের প্রকৃত মূল্য ও ইঞ্জিন ক্ষমতা কম দেখিয়ে শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। দুদক ও এনবিআরে লিখিত অভিযোগ গত ২১ মে মো. আল আমীন নামের এক ব্যক্তি দুদকের চেয়ারম্যান ও এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে বলা হয়, মগবাজারভিত্তিক ‘দ্বীন ইসলাম মোটরস’-এর স্বত্বাধিকারী হাজী আব্দুর রশিদ বুলু এবং তার সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘হালিমা রশিদ ট্রেডিং’ আন্ডার-ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে গত দুই বছরে প্রায় ৭ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৯ মার্চ আমদানি করা একটি চালানে প্রতি ইউনিট সিএনজির মূল্য মাত্র ১,৫০০ মার্কিন ডলার দেখানো হয়। অভিযোগকারীর দাবি, প্রকৃত মূল্য গোপন করার মাধ্যমে ওই চালানেই প্রায় ৭৪ লাখ টাকার শুল্ক ফাঁকি এবং অর্থ পাচার সংঘটিত হয়েছে। ১৭ চালানে ৭২৫ ইউনিট আমদানির তথ্য কাস্টমস ও এনবিআর সূত্রের দাবি, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত মোট ১৭টি চালানে ৭২৫ ইউনিট সিএনজি অটোরিকশা আমদানি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব আমদানির ফলে সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭ কোটি টাকা। বছরভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী— ২০২৪ সালে ২২ ইউনিট আমদানিতে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি প্রায় ২১ লাখ টাকা। ২০২৫ সালে ২৩৪ ইউনিট আমদানিতে সম্ভাব্য ক্ষতি প্রায় ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ৪৫১ ইউনিট আমদানিতে সম্ভাব্য ক্ষতি প্রায় ৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, আমদানিকৃত পণ্যের ঘোষিত মূল্য এবং বাজারদরের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে, যা আন্ডার-ইনভয়েসিংয়ের সন্দেহকে আরও জোরালো করেছে। বৈধ আমদানির সঙ্গে পার্থক্য কোথায়? খাতসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, ১০০টি বৈধ বাজাজ সিএনজি উৎপাদনের জন্য রানারকে প্রায় ছয় কনটেইনার যন্ত্রাংশ আমদানি করতে হয়। এসব যন্ত্রাংশের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। বর্তমানে দেশে বৈধভাবে সংযোজিত একটি বাজাজ সিএনজির বিক্রয়মূল্য, কর ও ভ্যাটসহ প্রায় ৫ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, ২৩৬ সিসির যেসব সিএনজি আমদানি করা হচ্ছে সেগুলো মূলত ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য প্রস্তুতকৃত মডেল এবং বাংলাদেশে অনুমোদিত নয়। রানার অটোমোবাইলস যা বলছে রানার অটোমোবাইলসের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) সনদ দত্ত বলেন, “২৩৬ সিসির ইঞ্জিন মূলত ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য। বাংলাদেশে এই মডেল অনুমোদিত নয়। অননুমোদিত উৎস থেকে এসব গাড়ি আমদানির ফলে বাজারে বাজাজ ব্র্যান্ডের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।” কোম্পানিটির দাবি, অনুমোদনহীন উৎস থেকে পণ্য আমদানির কারণে বাজারে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং ব্র্যান্ডের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতির মুখে পড়ছে। অবৈধ রেজিস্ট্রেশন বাণিজ্যের অভিযোগ হাজী আব্দুর রশিদ বুলুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ রেজিস্ট্রেশন বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে বিপুলসংখ্যক সিএনজি অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন করানো হয়েছে। প্রতিটি রেজিস্ট্রেশনের বিপরীতে ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত অবৈধ অর্থ লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন এখনও প্রকাশিত হয়নি। বিআরটিএ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে বিআরটিএর ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১, মিরপুর কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ এবং অযোগ্য আবেদনকারীদের লাইসেন্স প্রদানের মাধ্যমে একটি দুর্নীতির চক্র গড়ে উঠেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে নামে-বেনামে সম্পদ অর্জনের অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্তের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ‘হালিমা রশিদ ট্রেডিং’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাজী আব্দুর রশিদ বুলুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি প্রতিবেদককে ফোন করে বলেন, “আমি ইনভেস্টর না, আমদানিও করি না। ইনভেস্টর হচ্ছে আমার ছেলে দ্বীন ইসলাম। সেই বিষয়টি সম্পর্কে সে জানতে পারবে।” তবে অভিযোগে উত্থাপিত শুল্ক ফাঁকি, আন্ডার-ইনভয়েসিং ও অবৈধ রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত প্রশ্নের বিস্তারিত জবাব তিনি দেননি। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই অভিযোগ? বাংলাদেশে মোটরযান বিক্রি ও সড়কে পরিচালনার ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। মোটরযান আইন অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোনো যানবাহন বিক্রি বা সড়কে পরিচালনা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। বিশেষজ্ঞদের মতে, অননুমোদিত যানবাহন আমদানি, শুল্ক ফাঁকি এবং অবৈধ রেজিস্ট্রেশন শুধু সরকারের রাজস্ব ক্ষতিই করে না; একই সঙ্গে বাজারে বৈধ ব্যবসাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সড়ক নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করে। তদন্তের দাবি সচেতন মহল বলছে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে এনবিআর, বিআরটিএ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত তদন্ত প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে শুল্ক ফাঁকি, অবৈধ আমদানি এবং রেজিস্ট্রেশন সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বানও জানানো হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৪, ২০২৬ 0
এনবিআরের কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম
৫৩ ফ্ল্যাট থেকে শতকোটি টাকার জমি: এনবিআরের কর্মকর্তা সহিদুল ইসলামের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের আয়-ব্যয়ের সীমাবদ্ধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জনপরিসরে আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে রাজস্ব, শুল্ক, কাস্টমস এবং ভ্যাট প্রশাসনের মতো সংবেদনশীল খাতগুলোতে কর্মরত কর্মকর্তাদের সম্পদ বৃদ্ধির ঘটনা প্রায়ই জনমনে প্রশ্নের জন্ম দেয়। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তা সহিদুল ইসলামের সম্পদ নিয়ে এমনই এক বিস্তৃত অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য, যার বাজারমূল্য কয়েকশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে পাওয়া নথি, জমির খতিয়ান, ফ্ল্যাট মালিকানার তথ্য, ব্যবসায়িক বিনিয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সহিদুল ইসলাম, তার স্ত্রী ফাহমিদা রাব্বি এবং কয়েকজন নিকট আত্মীয়ের নামে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় বিপুল সম্পদের অস্তিত্ব রয়েছে। বসুন্ধরায় বহুতল ভবন: সম্পদের কেন্দ্রবিন্দু রাজধানীর অভিজাত আবাসিক এলাকা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার জি ব্লকে অবস্থিত একটি ১০তলা ভবন অনুসন্ধানের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। ‘শেল কবিতা’ নামের এই ভবনটি সহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর মালিকানাধীন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। প্রতি তলায় দুটি করে প্রায় আড়াই হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট নিয়ে গড়ে ওঠা ভবনটিতে মোট ২০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। স্থানীয় রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ও সম্পত্তি মূল্যায়ন সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিটি ফ্ল্যাটের সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। সেই হিসাবে কেবল ভবনের ফ্ল্যাটগুলোর মূল্যই প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছায়। তবে জমির বর্তমান বাজারমূল্য, নির্মাণ ব্যয় এবং এলাকার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিবেচনায় পুরো ভবনের মূল্য আরও বেশি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। রাজধানীজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ফ্ল্যাট সাম্রাজ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বসুন্ধরার বাইরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সহিদুল ইসলাম, তার স্ত্রী এবং আত্মীয়স্বজনদের নামে আরও অন্তত ৩৩টি ফ্ল্যাট রয়েছে। বাংলামোটরের স্বজন টাওয়ারে সহিদুল ইসলামের নিজ নামে দুটি ফ্ল্যাটের তথ্য পাওয়া গেছে। একইভাবে ইস্কাটন গার্ডেন রোডের গার্ডেনিয়া টাওয়ারে তার স্ত্রীর নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার মূল্য প্রায় চার কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিরপুরের রূপনগর আরামবাগ আবাসিক এলাকায় ফাহমিদা রাব্বির নামে থাকা একটি ছয়তলা ভবনে ১০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। স্থানীয় সম্পত্তি বাজারের হিসাবে ভবনটির মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। মিরপুর ইস্টার্ন হাউজিংয়ে সম্পদের বিস্তার মিরপুর ইস্টার্ন হাউজিং দ্বিতীয় প্রকল্পে আরও একটি ছয়তলা ভবনের তথ্য পাওয়া গেছে, যা প্রথমে সহিদুল ইসলামের স্ত্রীর নামে ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। পরে ভবনটি চার শ্যালকের নামে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে মালিকানা কাগজপত্রে কাজী মুক্তাদীর ইবনু মিনান, কাজী মুতামিদ ইবনে মিনান, কাজী মুত্তাকী ইবনে মিনান এবং কাজী মুস্তাকীম ইবনে মিনানের নাম রয়েছে। উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, সহিদুল ইসলাম, তার স্ত্রী এবং এই চার আত্মীয়ের নামে থাকা ৫৩টি ফ্ল্যাট ও দুটি দোকানের সম্মিলিত বাজারমূল্য অন্তত ১৬২ কোটি টাকা হতে পারে। জমি ও শিল্পকারখানার বিনিয়োগ শুধু আবাসিক সম্পত্তিই নয়, শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের জমিতেও বড় ধরনের বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। মিরপুরের আগুন্দা এলাকায় প্রায় ১৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত স্থাপনায় প্লাস্টিক কারখানা ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। এর সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা। অন্যদিকে গড়ানচটবাড়ি মৌজায় ৩৩ শতাংশ জমির মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা বলে স্থানীয় সম্পত্তি সংশ্লিষ্টরা ধারণা দিয়েছেন। নিউমার্কেট ও আজিজ সুপার মার্কেটে দোকান রাজধানীর দুই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রেও সহিদুল ইসলামের সম্পদের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের একটি দোকান এবং নিউমার্কেটের আরেকটি দোকানের মালিকানা তার নামে রয়েছে বলে নথিতে দেখা যায়। দুটি দোকানের সম্মিলিত বাজারমূল্য চার কোটি টাকারও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাভারে বাংলোবাড়ি সাভারের মধুমতি মডেল টাউনে ‘সেঁজুতি’ নামের একটি বাংলোবাড়ি স্থানীয়ভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ৩৫ কাঠা জমির ওপর নির্মিত এই বাড়িটি সহিদুল ইসলামের নামে রয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ আছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়িটি অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে এবং সেখানে প্রবেশাধিকার সীমিত। বর্তমান বাজারদরে কেবল জমির মূল্যই প্রায় ১০ কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে। মধুমতিতে আরও বিস্তৃত জমি মালিকানা অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, মধুমতি মডেল টাউন এলাকায় সহিদুল ইসলামের মালিকানায় একাধিক প্লট রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্যারেজ হিসেবে ব্যবহৃত জমি, পশু খামার হিসেবে ব্যবহৃত বড় প্লট এবং ভারী যন্ত্রপাতি সংরক্ষণের জন্য ভাড়া দেওয়া জমি। সব মিলিয়ে প্রায় ৩২০ কাঠা জমির বাজারমূল্য ৯০ কোটি টাকার কাছাকাছি বলে বিভিন্ন সূত্রের মূল্যায়নে উঠে এসেছে। পূর্বাচলে জমির পর জমি পূর্বাচল ও আশপাশের এলাকায় সহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর নামে অন্তত ছয়টি প্লটের তথ্য পাওয়া গেছে। ডুমনি, পিতলগঞ্জ, দিঘলিয়া, বাড়িয়াছনি, মুশুরীগ্রাম এবং কামতা মৌজায় অবস্থিত এসব জমির সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৬২ কোটির বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া গাজীপুরের কালীগঞ্জেও তার নামে জমির মালিকানার নথি পাওয়া গেছে। শেয়ারবাজারে বিপুল বিনিয়োগ স্থাবর সম্পদের পাশাপাশি অস্থাবর সম্পদের দিক থেকেও সহিদুল পরিবারের অবস্থান উল্লেখযোগ্য। তথ্য অনুযায়ী, তার স্ত্রী ফাহমিদা রাব্বির নামে একটি বিও অ্যাকাউন্টে প্রায় ৮০ কোটি টাকার শেয়ার বিনিয়োগ রয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংক হিসাবেও উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ জমা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। সন্তানের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহিদুল ইসলামের ছেলে হাসিন ফারহানের নামেও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে। বসুন্ধরার একটি বাণিজ্যিক ভবনে অফিস নিয়ে তিনি আর্কিটেকচার, ইন্টেরিয়র ডিজাইন ও মার্কেটিং খাতে একাধিক ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে। অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করতে কয়েক কোটি টাকার প্রাথমিক বিনিয়োগ পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল। সরকারি চাকরি বনাম সম্পদের হিসাব একাধিক অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত রাজস্ব কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একজন কাস্টমস বা এনবিআর কর্মকর্তার পুরো চাকরিজীবনের বৈধ আয়—বেতন, ভাতা, পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং অন্যান্য সুবিধাসহ—মোটামুটি কয়েক কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যয় বাদ দিলে সঞ্চয়ের পরিমাণ খুব বেশি হলে তিন কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে। এই হিসাবের সঙ্গে অনুসন্ধানে উঠে আসা কয়েকশ কোটি টাকার সম্পদের অঙ্কের ব্যাপক পার্থক্য প্রশ্ন তৈরি করেছে। সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন সহিদুল ইসলাম কর্মজীবনে এনবিআরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে শুল্ক ও আবগারি বিভাগের সদস্য, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ অন্তর্ভুক্ত। নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তার নামে থাকা অধিকাংশ সম্পদ ২০১০ সালের পর অর্জিত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই সম্পদগুলোর উৎস কী এবং সেগুলো আয়কর নথিতে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে কি না—সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা অভিযোগ ও সম্পদের উৎস সম্পর্কে বক্তব্য জানার জন্য সহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে হয়েছে।সহিদুল ইসলাম ফোনকল কিংবা বার্তার জবাব দেননি। তার স্ত্রীও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। জবাবদিহির দাবি সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা বলছেন, সম্পদের উৎস সম্পর্কে সন্দেহ তৈরি হলে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধান পরিচালনা করা। তাদের মতে, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আর অভিযোগ অসত্য হলে সেটিও স্পষ্টভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরা উচিত। কারণ জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তদন্তের নতুন পর্যায়? সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে এবং ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা, সম্পদের উৎস যাচাই ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে প্রাথমিক প্রস্তুতি চলছে। এখন নজর থাকবে—উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো কী ধরনের তদন্ত চালায়, সম্পদের উৎস সম্পর্কে কী ব্যাখ্যা পাওয়া যায় এবং শেষ পর্যন্ত আইনগত প্রক্রিয়া কোন দিকে এগোয়। কারণ কয়েকশ কোটি টাকার সম্পদের এই প্রশ্ন কেবল একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব নয়; এটি রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি, সুশাসন এবং দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থার কার্যকারিতারও একটি বড় পরীক্ষা। দুর্নীতি প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন ১৩তম ব্যাচের কর্মকর্তার এই পরিমাণ সম্পত্তি অর্জনের ঘটনা প্রমাণ করে যে কাস্টমস বিভাগের ভেতরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কতটা অভাব রয়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে এবং অবৈধ সম্পত্তি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বাজেয়াপ্ত করা না হলে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে দুর্নীতির এই মরণব্যাধি থামানো অসম্ভব হয়ে পড়বে ।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১, ২০২৬ 0
প্রকৌশলী মো. মঞ্জুর আলী
এলজিইডির আরইউটিডিপি প্রকল্প: দুর্নীতির তদন্তের মধ্যেই সাবেক পিডির পুনর্নিয়োগ চেষ্টার অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পরিচালিত এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন সহনশীল নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্প (RUTDP)-এর সাবেক প্রকল্প পরিচালক (পিডি) প্রকৌশলী মো. মঞ্জুর আলীর বিরুদ্ধে নিয়োগ, কনসালটেন্সি এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই অবসর-উত্তর ছুটিতে (পিআরএল) থাকা এই কর্মকর্তাকে পুনরায় একই পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। বিষয়টি ঘিরে এলজিইডির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পিআরএলের পরও একই পদে ফেরার চেষ্টা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রকৌশলী মঞ্জুর আলীর পিআরএল শুরু হয় গত বছরের ১০ অক্টোবর। এরপর থেকেই তিনি পূর্বের দায়িত্বে ফেরার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে চেষ্টা চালিয়ে আসছেন বলে দাবি করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ সংক্রান্ত একটি ফাইল বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কী এই আরইউটিডিপি প্রকল্প? বিশ্বব্যাংকের প্রকল্প অগ্রগতি প্রতিবেদন এবং এলজিইডির ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) অনুযায়ী, আরইউটিডিপি বা "সহনশীল নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্প" দেশের বিভিন্ন পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে অবকাঠামো উন্নয়নকে কেন্দ্র করে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০২৪ সালে প্রকল্পের চুক্তি ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে রাস্তা, ড্রেনেজ, স্ট্রিট লাইটসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণকাজ এবং টেন্ডার কার্যক্রম শুরু হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রকল্পের দায়িত্বে ছিলেন প্রকৌশলী মঞ্জুর আলী। ২৫০ জনের নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, পিআরএলে যাওয়ার আগে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ২৫০ জন কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ঘটে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সহকারী প্রকৌশলী, উপসহকারী প্রকৌশলী, কার্যসহকারী, সোসিওলজিস্ট এবং হিসাব সহকারীসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের কাছ থেকে পদভেদে কয়েক লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প পরিচালক থাকাকালে তার ভাই মো. রাজুর মাধ্যমে এই অর্থ সংগ্রহ করা হতো এবং অর্থ দেওয়ার পরও অনেকে চাকরি পাননি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রকৌশলী মঞ্জুর আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কনসালটেন্সি খাতে ৩৭০ কোটি টাকার বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন প্রকল্পের ডিপিপি অনুযায়ী কনসালটেন্সি খাতে প্রায় ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর অভিযোগ, বড় অঙ্কের কমিশন বা আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে ইফতিশা, অ্যাকুয়া কনসালটেন্সি, ডেপকো এবং ডিপিএম নামের চারটি প্রতিষ্ঠানকে কনসালটেন্ট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া কয়েক লাখ টাকা মাসিক বেতনের স্বতন্ত্র কনসালটেন্ট পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া হাজিরা ও প্রকল্পবহির্ভূত ব্যক্তিকে বেতন দেওয়ার অভিযোগ অভিযোগের তালিকায় রয়েছে আরও কয়েকটি গুরুতর বিষয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে অনুমোদিত পদে লোকবল নিয়োগ না দিয়েও হাজিরা দেখিয়ে নিয়মিত বেতন উত্তোলন করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন—এমন ব্যক্তিদেরও প্রকল্পভুক্ত কর্মচারী দেখিয়ে বেতন পরিশোধের অভিযোগ রয়েছে। সম্পদ অর্জনের অভিযোগ দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের বিষয়ও। অভিযোগ অনুযায়ী, অনিয়ম ও আর্থিক জালিয়াতির মাধ্যমে রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় চারটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, মধুমতি মডেল টাউনে একটি প্লট এবং ঢাকার বিরুলিয়া এলাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি ক্রয় করা হয়েছে। এ ছাড়া তার ভাই প্রকৌশলী রাজুর নামেও একাধিক ফ্ল্যাট থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। দুদকের অনুসন্ধান কোথায় দাঁড়িয়েছে? দুর্নীতি দমন কমিশন ইতোমধ্যে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে। দুদকের উপপরিচালক আজিজুল হক জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়ে একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, আউটসোর্সিং ও কনসালটেন্সি নিয়োগের শুরু থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞাপন, নিয়োগবিধি এবং সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র এলজিইডির কাছে চাওয়া হয়েছে। পুরোনো প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ শুধু আরইউটিডিপি নয়, এর আগে এমজিএসপি প্রকল্পে উপ-প্রকল্প পরিচালক (ডিপিডি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালের সময়ও প্রকল্প সমাপ্তির পর উদ্বৃত্ত অর্থ ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে প্রকৌশলী মঞ্জুর আলীর বিরুদ্ধে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্বেগ অভিযোগ তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় তাকে পুনরায় একই পদে নিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে এলজিইডির অভ্যন্তরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, যে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের তদন্ত চলছে, তাকে পুনরায় দায়িত্বে আনা হলে অধীনস্থদের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা যাবে এবং প্রকল্পের কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বক্তব্য মেলেনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রকৌশলী মো. মঞ্জুর আলীর বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি কোনো কল রিসিভ করেননি।  

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১, ২০২৬ 0
গণপূর্তে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ,চাকরি না করেই অর্থ উত্তোলন
গণপূর্ত অধিদপ্তরে অবৈধ পদোন্নতি ও ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশও উপেক্ষিত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গণপূর্ত অধিদপ্তরে নজিরবিহীন প্রশাসনিক অনিয়ম, অবৈধ পদোন্নতি এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক অপব্যবহারের মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ১১ জন প্রকৌশলী নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করেই প্রায় সোয়া তিন কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে, আদালতের স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকা অবস্থাতেই এসব কর্মকর্তা বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন, যা সরকারি চাকরিবিধি ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিধি ভেঙে পদোন্নতির অভিযোগ সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী নবম গ্রেডে যোগদানকারী কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় পদোন্নতির সুযোগ পেলেও ষষ্ঠ গ্রেডে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ সীমিত। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় সংশ্লিষ্ট ১১ কর্মকর্তা নিয়ম বহির্ভূতভাবে নির্বাহী প্রকৌশলী (পঞ্চম গ্রেড) পদে উন্নীত হন। বিধি অনুযায়ী তাদের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাদের উচ্চপদে বসানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় সাবেক পূর্ত সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকার, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কবির আহমেদ ভূঁইয়া এবং রফিকুল ইসলামের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ সেলিম এবং শেখ হেলালের রাজনৈতিক প্রভাবও ব্যবহৃত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ অভিযুক্তদের কয়েকজন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনিক সূত্রগুলো দাবি করছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কার্যক্রমে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রি ও জাহাঙ্গীর আলমের নাম বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। আদালতের নির্দেশ নিয়েও প্রশ্ন অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রিটকারী ১৭ কর্মকর্তার পদ সংরক্ষণ করা হয়নি। বরং অবৈধভাবে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের বিসিএস কর্মকর্তাদের ওপরে জ্যেষ্ঠতা দেওয়া হয়। সরকার পরিবর্তনের পর বঞ্চিত কর্মকর্তারা গ্রেডেশন তালিকা সংশোধনের দাবি জানালেও বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মো. শামীম আখতারের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জনপ্রশাসনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এ ধরনের পদোন্নতি বিধিসম্মত নয়। শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া এমন অনিয়ম সম্ভব নয়।” ‘চাকরি না করেই’ সরকারি অর্থ উত্তোলন দুর্নীতিবিরোধী বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের স্থগিতাদেশ বহাল থাকা অবস্থায় চাকরিতে নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করেও সরকারি অর্থ উত্তোলন অত্যন্ত গুরুতর অনিয়ম। একজন দুর্নীতিবিরোধী বিশেষজ্ঞ বলেন, “আদালতের নির্দেশ অমান্য করে অর্থ উত্তোলন প্রশাসনিক ও ফৌজদারি—দুই দিক থেকেই তদন্তযোগ্য বিষয়। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।” জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে নতুন অভিযোগ অভিযুক্ত প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরেও উঠেছে একাধিক গুরুতর অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিপুল অর্থের বিনিময়ে তিনি বিভিন্ন প্রশাসনিক সুবিধা নিয়েছেন। কর্মস্থল রাজশাহীতে হলেও অধিকাংশ সময় তিনি ঢাকায় অবস্থান করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আরও অভিযোগ উঠেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমানের আত্মীয় পরিচয় ব্যবহারকারী এক প্রভাবশালী ব্যক্তির মাধ্যমে বড় অঙ্কের আর্থিক চুক্তির বিনিময়ে ঢাকায় সুবিধাজনক পোস্টিং নিশ্চিত করেন তিনি। বর্তমানে তিনি গণপূর্ত ই/এম কাঠের কারখানা বিভাগ, ঢাকায় সংযুক্ত হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। দ্বৈত বেতন উত্তোলনের অভিযোগ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে একই সময়ে গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) থেকে দ্বৈত বেতন উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে। এই অভিযোগ প্রশাসনিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে—কীভাবে একই ব্যক্তি একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানে একযোগে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন এবং সেই প্রক্রিয়ায় কারা সহযোগিতা করেছেন। তদন্তের দাবি ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা, অবৈধ পদোন্নতি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের স্বাধীন তদন্ত ছাড়া এই অভিযোগের প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৮, ২০২৬ 0
বরিশাল এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ নুরুল ইসলাম
সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ বরিশাল এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে ভয়াবহ অনিয়ম, ভুয়া স্কিম এবং কাগুজে কাজ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে বাস্তব কাজের তুলনায় কাগজে-কলমে ব্যয়ের পরিমাণ দেখানো হয়েছে কয়েকগুণ বেশি। অনেক ক্ষেত্রে কোনো কাজই না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এলজিইডি বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান, দাপ্তরিক নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তার প্রশাসনিক ছত্রছায়ায় পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া, ভান্ডারিয়া, নাজিরপুর ও সদর উপজেলায় একাধিক প্রকল্পে সংঘবদ্ধভাবে আর্থিক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। ‘ভূতুড়ে স্কিম’ দেখিয়ে টাকা উত্তোলন তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, IBRP, CAFDARID, PDRIDP এবং BDIRWSP প্রকল্পের আওতায় শত শত ভুয়া ও কল্পিত স্কিম দেখিয়ে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি যাচাই ছাড়াই বিল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ ছাড় করা হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত ১২৮টি ভুয়া বা অস্তিত্বহীন স্কিম দেখিয়ে প্রায় ২৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এর মধ্যে ভ্যাট ও আয়কর বাদ দিয়ে প্রায় ২০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ সড়ক পুনর্বাসন প্রকল্প—CAFDARID-এর আওতায় আরও ৬৯টি ভুয়া স্কিম দেখিয়ে প্রায় ২০ কোটি ৬৩ লাখ টাকার বিল উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব প্রকল্পের বড় অংশের কাজ বাস্তবে সম্পন্ন হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে কোনো কাজের অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি, অথচ কাগজে প্রকল্প শতভাগ বাস্তবায়িত দেখানো হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে যে সিন্ডিকেট দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই অর্থ লোপাটের সঙ্গে এলজিইডির একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের প্রত্যক্ষ মদদে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুস সাত্তার হাওলাদার, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম এবং হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষা বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা সরকারি অর্থ আত্মসাতে অংশ নেন। তদন্ত সূত্র জানায়, কর্মকর্তাদের আত্মীয়-স্বজন কিংবা বেনামি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ ভাগিয়ে দেওয়া হতো। নিয়ম অনুযায়ী কাজের পরিমাপ বই (Measurement Book বা এমবি) প্রস্তুত ছাড়াই বিল অনুমোদনের অভিযোগও পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কাজ বাস্তবে সম্পন্ন হয়েছে কি না তা যাচাই না করেই কোটি কোটি টাকার বিল ছাড়ের অনুমোদন দেন শেখ নুরুল ইসলাম। অনুসন্ধানে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আত্মসাৎ করা অর্থের একটি অংশ তার কাছেও পৌঁছাত। দুদকের পৃথক অনুসন্ধান এদিকে, এলজিইডির জলবায়ু প্রকল্পে দায়িত্ব পালনকালেও শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক স্বাক্ষরিত ২৪ এপ্রিল ২০২৫ তারিখের এক অফিস আদেশে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর কাছে শেখ নুরুল ইসলামের সামগ্রিক তথ্য চাওয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, জলবায়ু প্রকল্পে জনবল নিয়োগে অনিয়ম, কেনাকাটায় স্বচ্ছতার অভাব এবং আর্থিক লেনদেনে অসঙ্গতির অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক পৃথক অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। রাজনৈতিক প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ বিতর্ক এলজিইডির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বিগত সরকারের দীর্ঘ সময়জুড়ে শেখ নুরুল ইসলাম প্রভাবশালী অবস্থানে ছিলেন। বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সক্রিয় নেতৃত্বে থাকার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে অবস্থান বজায় রেখেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এলজিইডির ভেতরের কয়েকজন প্রকৌশলী অভিযোগ করেন, কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে আর্থিক অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা ছিল। তবে প্রশাসনিক প্রভাবের কারণে সেসব অভিযোগ দৃশ্যমান তদন্তে রূপ পায়নি। মামলা, কিন্তু পদে বহাল দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পিরোজপুর ইতোমধ্যে শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলামসহ ২১ জন কর্মকর্তাকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ১০৯ ও ২০১ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে গুরুতর এসব অভিযোগ ও মামলার পরও শেখ নুরুল ইসলাম এখনও স্বপদে বহাল থাকায় এলজিইডির অভ্যন্তরে এবং স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উন্নয়নের নামে সাধারণ মানুষের করের টাকা লুটপাটের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রতি জনগণের আস্থা আরও দুর্বল হবে। এখন নজর দুদকের তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার দিকে—এই অভিযোগগুলো শেষ পর্যন্ত কতদূর গড়ায় এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদৌ দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না।   আস্থার সংকটে উন্নয়ন ব্যবস্থা বিশ্লেষকরা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে এ ধরনের অনিয়ম শুধু সরকারি অর্থের অপচয় নয়, বরং রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও জনআস্থার জন্যও বড় হুমকি। কারণ, যেসব প্রকল্প গ্রামীণ সড়ক, অবকাঠামো ও দুর্যোগ পুনর্বাসনের জন্য নেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর অর্থ আত্মসাৎ হলে ভুক্তভোগী হয় সাধারণ মানুষই। এখন নজর আইনি প্রক্রিয়ার দিকে—দুদকের অনুসন্ধান ও মামলার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদৌ কার্যকর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, সেটিই দেখার অপেক্ষা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৭, ২০২৬ 0
বিপিসির সাবেক পিএস আহম্মদুল্লাহর শত কোটি টাকার সম্পদ, বদলি-বাণিজ্য ও নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা মো. আহম্মদুল্লাহকে চলতি মাসের ১৩ তারিখে বদলি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ঢাকা লিয়াজোঁ অফিসে কর্মরত। তবে তার বদলিকে ঘিরে নতুন করে সামনে এসেছে বিপিসিজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার এবং দুর্নীতির বিস্তৃত অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, মাত্র সাত বছরের চাকরি জীবনে মো. আহম্মদুল্লাহ এবং তার পরিবারের সদস্যরা শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। যদিও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিপিসি বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করেনি। কেবল বদলির আদেশ দিয়েই বিষয়টি থামিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। বিতর্কিত নিয়োগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও ক্ষমতার উত্থান ২০১৯ সালে বিপিসিতে উপ-ব্যবস্থাপক পদে যোগ দেন মো. আহম্মদুল্লাহ। তবে তার নিয়োগ নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিপিসির তৎকালীন চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমানের ব্যক্তিগত আশীর্বাদেই তিনি চাকরি পান। আহম্মদুল্লাহ একসময় সামছুর রহমানের মেয়ের গৃহশিক্ষক ছিলেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক যোগাযোগও তাকে এগিয়ে দেয়। ঝালকাঠি জেলার সদর উপজেলার দিবাকরকাঠি গ্রামের বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও তিনি চাকরিতে যোগ দেন ঢাকা জেলার কোটা ব্যবহার করে। অভিযোগ রয়েছে, এ জন্য তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় পরিচয়পত্রও ব্যবহার করেন। একটি প্রত্যয়নপত্রে তাকে ঝালকাঠির নথুল্লাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সেখানে তার পরিবারের সদস্যদেরও আওয়ামী লীগের আদর্শে বিশ্বাসী বলা হয়। অভিযোগকারীরা বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয় এবং ক্ষমতাসীন মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়েই বিপিসিতে দ্রুত প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন আহম্মদুল্লাহ। নিয়ম ভেঙে পিএস পদে বহাল বিপিসির চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব পদটি সহকারী ব্যবস্থাপক (৯ম গ্রেড) সমমানের হলেও, উপ-ব্যবস্থাপক (৬ষ্ঠ গ্রেড) পদে থেকেও দীর্ঘদিন ওই দায়িত্ব পালন করেছেন আহম্মদুল্লাহ। এমনকি বদলির আগের দিন পর্যন্তও তিনি একই পদে বহাল ছিলেন। ২০২১ সালের ৩ অক্টোবর তাকে চেয়ারম্যানের পিএস পদ থেকে সরিয়ে চট্টগ্রাম কার্যালয়ের হিসাব বিভাগে বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, মাত্র একদিনের ব্যবধানে সেই আদেশ বাতিল করিয়ে তিনি পুনরায় আগের পদে ফিরে আসেন। বিপিসির নীতিমালা অনুযায়ী তিন বছর পরপর বদলির বাধ্যবাধকতা থাকলেও তিনি সাত বছরের বেশি সময় একই পদে দায়িত্ব পালন করেন। সম্পদের পাহাড় ও কেরানীগঞ্জের ‘রহস্যময়’ প্লট মো. আহম্মদুল্লাহর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ অবৈধ সম্পদ অর্জন। তার স্ত্রী নুসরাত জেবিন সিনথীর নামে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রকল্পে সাড়ে তিন কাঠার একটি প্লট কেনার তথ্য মিলেছে। ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর সম্পাদিত একটি সাফ কবলা দলিল অনুযায়ী, প্লটটি বিক্রি করেন চট্টগ্রামভিত্তিক বাশার গ্রুপ অব কোম্পানির মালিক আবুল বশর আবু। দলিলে জমির মূল্য দেখানো হয় ৩০ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই প্লটে ইতোমধ্যে আটতলা ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ভবনে ঝুলানো সাইনবোর্ডে এখনো লেখা রয়েছে—“বাশার গ্রুপ অব কোম্পানি, আলহাজ আবুল বশর (আবু)”। এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি নথিতে মালিকানা নুসরাত জেবিন সিনথীর হলেও বাস্তবে ভবনটির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে? স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ওই এলাকায় প্রতি কাঠা জমির বাজারমূল্য ৪২ থেকে ৪৭ লাখ টাকা। সে হিসেবে শুধু জমির বর্তমান মূল্যই দেড় কোটি টাকার বেশি। টেন্ডার, বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ বিপিসির বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আহম্মদুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে বিপিসির টেন্ডার, বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্যের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যানের নাম ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন কোম্পানি ও ডিপো থেকে অর্থ আদায় করতেন। বিপিসির ঢাকা রেস্ট হাউসে ভুয়া বিল তৈরি করে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীকে বিটুমিন, ক্রুড অয়েল ও ডিজেল আমদানির অনুমোদন পাইয়ে দিতে মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া বিপিসির অধীন কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, বদলির ভয় দেখিয়ে ডিপো ইনচার্জদের কাছ থেকেও অর্থ আদায় করা হতো। ব্যাংক হিসাব ও এফডিআর ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, বিপিসির এফডিআর ও এসএনডি হিসাব পরিচালনায়ও প্রভাব খাটিয়েছেন আহম্মদুল্লাহ। তার পছন্দের ব্যাংকগুলোতে বিপিসির বিপুল অঙ্কের অর্থ জমা রাখা হতো বলে অভিযোগ। এমনকি এস আলম গ্রুপ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতেও বিপিসির হাজার হাজার কোটি টাকা জমা রাখার অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এসব হিসাবের মধ্যে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা এখনো উদ্ধার করা যায়নি। ব্যাংকিং সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে আত্মীয়-স্বজনদের চাকরি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ‘নিজস্ব বলয়’ গঠনের অভিযোগ বিপিসির বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে, আহম্মদুল্লাহ নিজের জেলা বরিশালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করতেন। চেয়ারম্যান, পরিচালক ও রেস্ট হাউস সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তার ঘনিষ্ঠদের বসানোর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের বিপিসির বিভিন্ন ডিপো ও অফিসে চাকরি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত উপ-ব্যবস্থাপক (ডিএলও) মো. আশিক শাহরিয়ারকেও নিয়োগ ও পদোন্নতিতে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, আশিক শাহরিয়ারকে ব্যবহার করে বিভিন্ন ডিপো ও পার্টির কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হতো। দুদকের অনুসন্ধান ও সম্পদ বিবরণী অভিযোগ রয়েছে, মো. আহম্মদুল্লাহর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে। যদিও সেই অনুসন্ধানের অগ্রগতি প্রকাশ্যে আসেনি। তবে চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি দুদকে সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে মো. আহম্মদুল্লাহর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে বিপিসির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব, ভয়ভীতি এবং রাজনৈতিক যোগাযোগের কারণে তার বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাননি। এখন প্রশ্ন উঠেছে—শুধু বদলি করেই কি শেষ হবে অভিযোগের পর্ব, নাকি রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নামবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0
ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো
ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বহুজাতিক তামাক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো -এর বিরুদ্ধে গত ৫৫ বছরে প্রায় ২০ থেকে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি বিরোধী সংস্থাটির অনুসন্ধান টিম ইতোমধ্যে জয়েন্ট-স্টক কোম্পানিসহ একাধিক সরকারি ও নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠিয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে পুরোনো মালিকানা, সম্পদ হস্তান্তর, আর্থিক লেনদেন এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “প্রাথমিক অভিযোগ যাচাই-বাছাই চলছে। বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে নথিপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ বিষয়ে দুদকের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, “প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে জয়েন্ট-স্টক কোম্পানিসহ বিভিন্ন দফতরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথি যাচাই শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” দেশভাগ, পরিত্যক্ত সম্পত্তি ও মালিকানা বিতর্ক দুদকে জমা হওয়া অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর করাচিভিত্তিক ‘পাকিস্তান টোব্যাকো কোম্পানি’ (পিটিসি) কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রাম ও ঢাকায় বড় দুটি কারখানা স্থাপন করে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পাকিস্তানভিত্তিক মালিকানাধীন এসব সম্পদ আইন অনুযায়ী ‘পরিত্যক্ত সম্পত্তি’ হিসেবে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার কথা ছিল। একই সঙ্গে পিটিসি পাকিস্তান সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণও আদায় করে নেয়। কিন্তু অভিযোগকারীদের দাবি, স্বাধীনতার পর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র রাষ্ট্রীয় এই সম্পদের নিয়ন্ত্রণ ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেডের  হাতে যাওয়ার পথ তৈরি করে। অভিযোগের কেন্দ্রে সাবেক আমলা ও কর্পোরেট সিন্ডিকেট দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে সাবেক সরকারি কর্মকর্তা জামালুদ্দিন আহমেদের নামও উঠে এসেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান টোব্যাকো কোম্পানির সাবেক এক ফাইন্যান্স কর্মকর্তাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেট রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে মালিকানা ও সম্পদ হস্তান্তরের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি, তবে দুদক বলছে—পুরোনো প্রশাসনিক নথি, কোম্পানির রেকর্ড ও সম্পদ হস্তান্তরের আইনগত ভিত্তি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ৫৫ বছরের আর্থিক ক্ষতির হিসাব কীভাবে? অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও মালিকানা নিয়ে অনিয়মের কারণে গত ৫৫ বছরে বাংলাদেশ সম্ভাব্য রাজস্ব, মুনাফা ও সম্পদমূল্য মিলিয়ে ২০ থেকে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে এই ক্ষতির হিসাব কী ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি দুদক। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কোম্পানির মালিকানা কাঠামো, লভ্যাংশ স্থানান্তর, কর পরিশোধ এবং বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের বিষয়গুলোও তদন্তের আওতায় আনা হতে পারে। কর্পোরেট জবাবদিহি নিয়ে নতুন প্রশ্ন বাংলাদেশে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর সম্পদ অধিগ্রহণ, কর কাঠামো এবং মুনাফা স্থানান্তর নিয়ে অতীতেও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রীয় সম্পদ দখল ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ক্ষতির অভিযোগে এত বড় পরিসরে অনুসন্ধান বিরল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। দুদকের এই অনুসন্ধান শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক মামলায় রূপ নেয় কি না, সেটিই এখন পর্যবেক্ষকদের প্রধান আগ্রহের বিষয়।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0
শওকত হাচানুর রহমান রিমন
বরগুনার সাবেক এমপি রিমনের সম্পদ জব্দের নির্দেশ, ব্যাংক হিসাবও অবরুদ্ধ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সহ-সভাপতি এবং বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন-এর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার ব্যাংক হিসাব, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, যানবাহনসহ বিভিন্ন আর্থিক সম্পদও অবিলম্বে অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন। শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার বরগুনা জেলা জজ আদালতের সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাইফুর রহমান এ আদেশ দেন। আদালত সূত্র জানিয়েছে, সাবেক সংসদ সদস্য রিমনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমিদখল, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান অবস্থায় অভিযুক্ত ব্যক্তি তার ও পরিবারের নামে থাকা সম্পদ গোপনে হস্তান্তর বা সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকে আদালতের কাছে আবেদন করে দুর্নীতি দমন কমিশন। দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা ২০০৭-এর বিধি ১৮ অনুযায়ী তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোকের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তদন্তের স্বার্থে রিমনের সম্পদ সাময়িকভাবে জব্দের আবেদন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে আবেদনে উল্লেখ থাকা পরিবারের সদস্যদের নামীয় সম্পদও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে ক্রোক করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের আদেশে আরও বলা হয়েছে, তফসিলভুক্ত অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, যানবাহন এবং অন্যান্য আর্থিক সম্পদ দ্রুত অবরুদ্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আয়কর কর্তৃপক্ষকে রিমনের আয়কর রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জব্দ করে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন বলেন, তদন্তের প্রয়োজনে আদালত সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত শেষে সম্পদের বৈধতা প্রমাণিত না হলে আদালত সেগুলো বাজেয়াপ্ত করতে পারেন। তবে বৈধ প্রমাণিত হলে সম্পদ ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৩, ২০২৬ 0
অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড
এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ : তদন্তে দুদক ও ভ্যাট গোয়েন্দা

বরিশাল অফিস : একসময় দেশের শিল্পখাতে সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল বরিশাল ভিত্তিক অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড। খান সন্স ভবন, ৫১ কাঠপট্টি রোডে করপোরেট অফিস এবং রূপাতলীতে কারখানা নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি বিদশে অর্থ পাচারের কারনে এখন ভয়াবহ আর্থিক সংকট, শ্রমিক অসন্তোষ এবং ব্যাংক ঋন খেলাপী,বিদ্যুৎ বিল বকেয়ায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন,কর্মকর্তাদের বেতন বকেয়ায় কর্ম বিরতি, ৩ দেশে অর্থপাচার করে সম্পদের পাহাড় বানানো,৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি,সরকার থেকে অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়া,ঈদুল আজহার পরে স্থায়ী ভাবে বন্ধ করে দেয়ার পায়তারা,ডিলার, রিটেইলারদের থেকে অতিরিক্ত কমিশন দেয়ার নামে অগ্রীম টাকা নিয়ে সিমেন্ট না দেয়া,পাওনাদারদের পাওনা টাকা না দেয়াসহ গুরুতর অভিযোগে আলোচনায় এসেছে।   ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ,তদন্তে ভ্যাট গোয়েন্দা   ৪০ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি ও অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়ায় কাগজপত্রসহ অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর কর্তৃপক্ষকে তলব করেছে কাস্টমস,ও ভ্যাট বিভাগ। ইতিমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিষয়টি আমলে নিয়ে এ্যাংকর সিমেন্টের  শুল্ক ফাঁকি, ভ্যাট জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের বিষয়ে নজরধারী ও তদন্ত শুরু করেছে।  বিদেশে নাগরিত্ব গ্রহন, বাংলাদেশের অর্থ বিদেশে পাচার এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভুত অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলাসহ অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান শুরু করেছে।সম্প্রতি অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডকে দুদক নোটিশ প্রদান করেছে। বিদেশে সম্পদ গড়ার অভিযোগ, পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা   অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর অর্থ বিদেশে পাচার এবং বিদেশে অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলা,দুদকের অনুসন্ধান,ভ্যাট ফাঁকি ও সরকার থেকে অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়ার ফলে ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিষয়টি আমলে নেয়ায়,ব্যাংক ঋন বকেয়া, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া,কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা বকেয়া, ডিলার, রিটেইলারদের থেকে অতিরিক্ত কমিশন দেয়ার নামে অগ্রীম টাকা নিয়ে সিমেন্ট না দেয়া,পাওনাদারদের পাওনা টাকা না দেয়ার চাপ বাড়তে থাকায় অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান ,ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান ও পরিচালক রিফাত বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর একটি বিশ্বস্ত সুত্র নিশ্চিত করেছে। দুবাই,আমেরিকা ও লন্ডনে তাদের বাড়ি ও গাড়ি রয়েছে।তারা এই তিন দেশের কোন এক দেশে যাবেন বলে সুত্র জানায়।   জুলিয়া রহমান-আনিকা রহমান - রিফাত                                                                                                                                                        ছবি- ইত্তেহাদ নিউজ   পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে লিখিত অভিযোগ   সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে এক প্রবাসী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মরহুম মজিবুর রহমান খানের মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নেন তার স্ত্রী জুলিয়া রহমান, মেয়ে আনিকা রহমান এবং জামাতা রিফাত। এরপর থেকেই কোম্পানির অর্থ বিদেশে পাচার এবং অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার কার্যক্রম শুরু  করেন। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, জুলিয়া রহমান হুন্ডির মাধ্যমে ও আন্ডার ইন ভয়েসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে একাধিক ডুপ্লেক্স বাড়ি ও ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব অর্থ এসেছে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের তহবিল ও ব্যাংক ঋণ থেকে। একইসঙ্গে জুলিয়া রহমান অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। তার বিদেশি ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—৫১ চার্চ স্ট্রিট, সেন্ট জন’স, অ্যান্টিগুয়া।   কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ অন্যদিকে আনিকা রহমান ও তার স্বামী রিফাতের বিরুদ্ধে দুবাই, শারজাহ এবং নিউইয়র্কে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তরে সহায়তা করেছেন প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী, যাদের মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,সিওও শাহেদ উদ্দিন,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ আরো অনেকে। সহায়তা করার জন্য এসব কর্মকর্তারা হয়েছেন ক্রোড়পতি।গড়েছেন নামে বেনামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সহায় সম্পদ। বন্ধ রয়েছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী ও ব্যাগ ফ্যাক্টরী                                                                                                                            ছবি- ইত্তেহাদ নিউজ              ব্যাংক ঋণ  সংকটে ও উৎপাদন বন্ধ   জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার সময় বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেয়। এর মধ্যে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি এবং ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব ঋণের অর্থ উৎপাদনে ব্যবহার না করে বিদেশে সরিয়ে নেওয়ায় বর্তমানে কোম্পানিটি মারাত্মক ঋণ সংকটে পড়েছে। বর্তমানে কারখানায় উৎপাদন বন্ধ। কাঁচামালের সংকট, এলসি খুলতে অক্ষমতা এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে তাদের মধ্যে অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে। একাধিক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বেতন বকেয়া থাকায় এখন কর্ম বিরতি চলছে।   নতুন ঋণের জন্য জাল কাগজ তৈরির অভিযোগ   এদিকে অভিযোগ রয়েছে, নতুন করে ব্যাংক ঋণ নেওয়ার উদ্দেশ্যে কিছু জমির জাল কাগজপত্র প্রস্তুতের কাজও চলছে। এ কাজে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।   বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা,আটকের দাবি   সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান এবং পরিচালক রিফাত এর বিদেশ গমনের পথ বন্ধ করে  তাদের আটক করে এবং অভিযোগগুলো সঠিকভাবে দুদক ও ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর তদন্ত করলে বড় ধরনের অর্থপাচার ও ব্যাংক জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। অভিযুক্তদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা এবং আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, দুদক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা ।   আরও পড়ুন: এ্যাংকর সিমেন্টে ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ : বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বরিশালে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ হতে যাচ্ছে : বাড়ছে পাওনাদারদের ভিড়,গা ঢাকা দিয়েছে  এ্যাংকর সিমেন্টের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, আর্থিক সংকট,উৎপাদন বন্ধ , তদন্তের দাবি   তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত দাবি করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের শিল্প ও ব্যাংক খাতকে রক্ষা করতে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি বলছেন, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে এটি দেশের শিল্পখাত ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। এ্যাংকর সিমেন্টের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট নয়; বরং এটি করপোরেট সুশাসন, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রীয় নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্নও সামনে আনছে। এক কথায় এই অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের গল্প শুধুমাত্র একটি ব্যবসার পতনের নয়, বরং নৈতিকতার, প্রজ্ঞার, এবং দেশপ্রেমের চূড়ান্ত পরীক্ষা।   এ্যাংকর সিমেন্টে ভয়াবহ কেলেঙ্কারি! বিদেশে সম্পদের পাহাড়, তদন্তে দুদক বরিশালের সিমেন্ট সাম্রাজ্যে ধস: ব্যাংক ঋণ থেকে বিদেশে বিলাসবহুল বাড়ি! ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি? এ্যাংকর সিমেন্ট নিয়ে তোলপাড় বেতন নেই, উৎপাদন বন্ধ, বিদেশে সম্পদ—সংকটে এ্যাংকর সিমেন্ট হুন্ডিতে অর্থপাচারের অভিযোগ, বিদেশে পালানোর শঙ্কা কোম্পানি কর্তাদের সিমেন্ট কোম্পানি নাকি অর্থপাচারের নেটওয়ার্ক? তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য দুবাই-লন্ডন-নিউইয়র্কে সম্পদ, দেশে বন্ধ কারখানা! প্রশ্নের মুখে এ্যাংকর সিমেন্ট ডিলারদের কোটি টাকা আটকে, তদন্তে ভ্যাট গোয়েন্দা ও দুদক     আগামী পর্বে থাকছে ------ ▪️অযোগ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ নেপথ্যে করপোরেটে নিলা ও ফ্যক্টরীতে শাহেদ উদ্দিন।  ▪️ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে অলিম্পিক সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার,অলিম্পিক শিপিং লাইনস লিমিটেড।  ▪️সহায় -সম্পত্তি জামানতের চেয়ে ব্যাংক ঋন পরিমান কত?।  ▪️কোম্পানী ধ্বংসের কারিগর  এমডি,ডিরেক্টর,এমডির পিস,ডিরেক্টরের পিএস,সিওও,সিএমও,ভ্যাট কর্মকর্তাসহ একাধিক কর্মকর্তা। ▪️অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড থেকে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ টাকার পাহাড় গড়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ একাধিক কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে  ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অর্থ আত্মসাতে সহায়তাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২১, ২০২৬ 0
জুলিয়া রহমান-আনিকা রহমান - রিফাত
এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ : তদন্তে দুদক ও ভ্যাট গোয়েন্দা

বরিশাল অফিস : একসময় দেশের শিল্পখাতে সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল বরিশাল ভিত্তিক অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড। খান সন্স ভবন, ৫১ কাঠপট্টি রোডে করপোরেট অফিস এবং রূপাতলীতে কারখানা নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি বিদশে অর্থ পাচারের কারনে এখন ভয়াবহ আর্থিক সংকট, শ্রমিক অসন্তোষ এবং ব্যাংক ঋন খেলাপী,বিদ্যুৎ বিল বকেয়ায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন,কর্মকর্তাদের বেতন বকেয়ায় কর্ম বিরতি, ৩ দেশে অর্থপাচার করে সম্পদের পাহাড় বানানো,৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি,সরকার থেকে অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়া,ঈদুল আজহার পরে স্থায়ী ভাবে বন্ধ করে দেয়ার পায়তারা,ডিলার, রিটেইলারদের থেকে অতিরিক্ত কমিশন দেয়ার নামে অগ্রীম টাকা নিয়ে সিমেন্ট না দেয়া,পাওনাদারদের পাওনা টাকা না দেয়াসহ গুরুতর অভিযোগে আলোচনায় এসেছে।   ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ,তদন্তে ভ্যাট গোয়েন্দা   ৪০ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি ও অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়ায় কাগজপত্রসহ অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর কর্তৃপক্ষকে তলব করেছে কাস্টমস,ও ভ্যাট বিভাগ। ইতিমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিষয়টি আমলে নিয়ে এ্যাংকর সিমেন্টের  শুল্ক ফাঁকি, ভ্যাট জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের বিষয়ে নজরধারী ও তদন্ত শুরু করেছে।  বিদেশে নাগরিত্ব গ্রহন, বাংলাদেশের অর্থ বিদেশে পাচার এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভুত অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলাসহ অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান শুরু করেছে।সম্প্রতি অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডকে দুদক নোটিশ প্রদান করেছে। বিদেশে সম্পদ গড়ার অভিযোগ, পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা   অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর অর্থ বিদেশে পাচার এবং বিদেশে অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলা,দুদকের অনুসন্ধান,ভ্যাট ফাঁকি ও সরকার থেকে অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়ার ফলে ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিষয়টি আমলে নেয়ায়,ব্যাংক ঋন বকেয়া, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া,কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা বকেয়া, ডিলার, রিটেইলারদের থেকে অতিরিক্ত কমিশন দেয়ার নামে অগ্রীম টাকা নিয়ে সিমেন্ট না দেয়া,পাওনাদারদের পাওনা টাকা না দেয়ার চাপ বাড়তে থাকায় অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান ,ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান ও পরিচালক রিফাত বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর একটি বিশ্বস্ত সুত্র নিশ্চিত করেছে। দুবাই,আমেরিকা ও লন্ডনে তাদের বাড়ি ও গাড়ি রয়েছে।তারা এই তিন দেশের কোন এক দেশে যাবেন বলে সুত্র জানায়।   জুলিয়া রহমান-আনিকা রহমান - রিফাত                                                                                                                                                        ছবি- ইত্তেহাদ নিউজ   পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে লিখিত অভিযোগ   সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে এক প্রবাসী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মরহুম মজিবুর রহমান খানের মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নেন তার স্ত্রী জুলিয়া রহমান, মেয়ে আনিকা রহমান এবং জামাতা রিফাত। এরপর থেকেই কোম্পানির অর্থ বিদেশে পাচার এবং অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার কার্যক্রম শুরু  করেন। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, জুলিয়া রহমান হুন্ডির মাধ্যমে ও আন্ডার ইন ভয়েসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে একাধিক ডুপ্লেক্স বাড়ি ও ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব অর্থ এসেছে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের তহবিল ও ব্যাংক ঋণ থেকে। একইসঙ্গে জুলিয়া রহমান অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। তার বিদেশি ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—৫১ চার্চ স্ট্রিট, সেন্ট জন’স, অ্যান্টিগুয়া।   কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ অন্যদিকে আনিকা রহমান ও তার স্বামী রিফাতের বিরুদ্ধে দুবাই, শারজাহ এবং নিউইয়র্কে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তরে সহায়তা করেছেন প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী, যাদের মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,সিওও শাহেদ উদ্দিন,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ আরো অনেকে। সহায়তা করার জন্য এসব কর্মকর্তারা হয়েছেন ক্রোড়পতি।গড়েছেন নামে বেনামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সহায় সম্পদ। বন্ধ রয়েছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী ও ব্যাগ ফ্যাক্টরী                                                                                                                            ছবি- ইত্তেহাদ নিউজ              ব্যাংক ঋণ  সংকটে ও উৎপাদন বন্ধ   জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার সময় বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেয়। এর মধ্যে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি এবং ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব ঋণের অর্থ উৎপাদনে ব্যবহার না করে বিদেশে সরিয়ে নেওয়ায় বর্তমানে কোম্পানিটি মারাত্মক ঋণ সংকটে পড়েছে। বর্তমানে কারখানায় উৎপাদন বন্ধ। কাঁচামালের সংকট, এলসি খুলতে অক্ষমতা এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে তাদের মধ্যে অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে। একাধিক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বেতন বকেয়া থাকায় এখন কর্ম বিরতি চলছে।   নতুন ঋণের জন্য জাল কাগজ তৈরির অভিযোগ   এদিকে অভিযোগ রয়েছে, নতুন করে ব্যাংক ঋণ নেওয়ার উদ্দেশ্যে কিছু জমির জাল কাগজপত্র প্রস্তুতের কাজও চলছে। এ কাজে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।   বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা,আটকের দাবি   সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান এবং পরিচালক রিফাত এর বিদেশ গমনের পথ বন্ধ করে  তাদের আটক করে এবং অভিযোগগুলো সঠিকভাবে দুদক ও ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর তদন্ত করলে বড় ধরনের অর্থপাচার ও ব্যাংক জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। অভিযুক্তদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা এবং আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, দুদক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা ।   আরও পড়ুন: এ্যাংকর সিমেন্টে ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ : বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বরিশালে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ হতে যাচ্ছে : বাড়ছে পাওনাদারদের ভিড়,গা ঢাকা দিয়েছে  এ্যাংকর সিমেন্টের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, আর্থিক সংকট,উৎপাদন বন্ধ , তদন্তের দাবি   তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত দাবি করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের শিল্প ও ব্যাংক খাতকে রক্ষা করতে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি বলছেন, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে এটি দেশের শিল্পখাত ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। এ্যাংকর সিমেন্টের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট নয়; বরং এটি করপোরেট সুশাসন, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রীয় নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্নও সামনে আনছে। এক কথায় এই অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের গল্প শুধুমাত্র একটি ব্যবসার পতনের নয়, বরং নৈতিকতার, প্রজ্ঞার, এবং দেশপ্রেমের চূড়ান্ত পরীক্ষা।   এ্যাংকর সিমেন্টে ভয়াবহ কেলেঙ্কারি! বিদেশে সম্পদের পাহাড়, তদন্তে দুদক বরিশালের সিমেন্ট সাম্রাজ্যে ধস: ব্যাংক ঋণ থেকে বিদেশে বিলাসবহুল বাড়ি! ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি? এ্যাংকর সিমেন্ট নিয়ে তোলপাড় বেতন নেই, উৎপাদন বন্ধ, বিদেশে সম্পদ—সংকটে এ্যাংকর সিমেন্ট হুন্ডিতে অর্থপাচারের অভিযোগ, বিদেশে পালানোর শঙ্কা কোম্পানি কর্তাদের সিমেন্ট কোম্পানি নাকি অর্থপাচারের নেটওয়ার্ক? তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য দুবাই-লন্ডন-নিউইয়র্কে সম্পদ, দেশে বন্ধ কারখানা! প্রশ্নের মুখে এ্যাংকর সিমেন্ট ডিলারদের কোটি টাকা আটকে, তদন্তে ভ্যাট গোয়েন্দা ও দুদক     আগামী পর্বে থাকছে ------ ▪️অযোগ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ নেপথ্যে করপোরেটে নিলা ও ফ্যক্টরীতে শাহেদ উদ্দিন।  ▪️ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে অলিম্পিক সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার,অলিম্পিক শিপিং লাইনস লিমিটেড।  ▪️সহায় -সম্পত্তি জামানতের চেয়ে ব্যাংক ঋন পরিমান কত?।  ▪️কোম্পানী ধ্বংসের কারিগর  এমডি,ডিরেক্টর,এমডির পিস,ডিরেক্টরের পিএস,সিওও,সিএমও,ভ্যাট কর্মকর্তাসহ একাধিক কর্মকর্তা। ▪️অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড থেকে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ টাকার পাহাড় গড়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ একাধিক কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে  ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অর্থ আত্মসাতে সহায়তাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২১, ২০২৬ 0
মনিরের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ
ঢাকা কলেজের কর্মচারী মনিরের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ

ঢাকা কলেজের কর্মচারী মনিরের বিরুদ্ধে কোটি টাকার সম্পদ ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকা কলেজের একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়েও বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে মনিরুজ্জামান মনিরের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র, অভিযোগকারী এবং এলাকাবাসীর দাবি—দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব-প্রতিপত্তি ব্যবহার করে তিনি নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি এবং মনিরুজ্জামান মনিরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। পরিচয়ের আড়ালে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে ঢাকা কলেজে কর্মরত থাকলেও বিভিন্ন সময়ে মনির নিজেকে সাংবাদিক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী কর্মকর্তা কিংবা শিক্ষা অফিসের উচ্চপদস্থ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পরিচয় ব্যবহার করে তিনি প্রশাসনিক সুবিধা নেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করতেন। শিক্ষা বিভাগের ভেতরেও তাকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। রাজধানীতে একাধিক ফ্ল্যাট ও সম্পদের অভিযোগ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর কালশী এলাকায় একটি বহুতল ভবনে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে মনিরের। এছাড়া মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১,৭৮০ বর্গফুট আয়তনের একটি অভিজাত ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর সরকারি বেতনের সঙ্গে এসব সম্পদের সামঞ্জস্য পাওয়া যায় না। এছাড়া ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তার নামে-বেনামে আরও সম্পদ থাকার অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে এসব সম্পদের প্রকৃত উৎস ও বৈধতা যাচাইয়ে সরকারি তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ব্যাংকে কোটি টাকার আমানতের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন ব্যাংকে মনিরের প্রথম স্ত্রী রিমান নামে কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র, এফডিআর এবং ব্যাংক আমানত রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, প্রভাব খাটানো এবং অস্বচ্ছ লেনদেনের মাধ্যমে এসব অর্থের উৎস তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কিংবা মনিরের পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। চুয়াডাঙ্গায় ‘সম্পদের সাম্রাজ্য’ নিজ জেলা চুয়াডাঙ্গাতেও মনিরের বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। শহরের মুসলিমপাড়ায় প্রায় ১৪ কাঠা জমির ওপর নির্মিত একটি বাগানবাড়ি নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। এছাড়া শহরের লিনার মোড় এলাকায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার সম্পত্তির মালিকানা থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, চুয়াডাঙ্গা শহরে দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে একটি চারতলা ভবনও নির্মাণ করেছেন তিনি। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—সরকারি চাকরিজীবীর সীমিত আয়ে এত বিপুল সম্পদ অর্জন কীভাবে সম্ভব? ভয়ভীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ মনিরের বিরুদ্ধে শুধু সম্পদ অর্জনের অভিযোগই নয়, রয়েছে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষা বিভাগের ভেতরে তিনি একটি প্রভাবশালী চক্রের সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ব্যক্তিগত বিরোধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মারধরের মতো ঘটনাতেও তার নাম এসেছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, এক ভ্যানচালকের স্ত্রীকে জোরপূর্বক নিজের কাছে রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানালে ওই ভ্যানচালককে মারধরের অভিযোগও ওঠে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আদালতের রায় বা আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। এছাড়াও নারী কেলেঙ্কারি, অনৈতিক সম্পর্ক এবং বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ স্থানীয়দের মুখে মুখে ঘুরছে। তদন্ত দাবি এলাকাবাসীর মনিরুজ্জামান মনিরের সম্পদের উৎস, ব্যাংক হিসাব, জমি, ফ্ল্যাটের মালিকানা এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল। তাদের মতে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মাধ্যমে তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “একজন সাধারণ কর্মচারীর পক্ষে এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া অস্বাভাবিক। তাই তার সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখা জরুরি।” তবে প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত মনিরুজ্জামান মনিরের ব্যক্তিগত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৮, ২০২৬ 0
এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী
এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যক্টরী বন্ধ,ভ্যাট ফাঁকি ও অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়ায় তোলপাড় বরিশাল কাস্টমস- ভ্যাট অফিস

এ্যাংকর সিমেন্ট: ভ্যাট ফাঁকি, অর্থ পাচার ও অব্যবস্থাপনায় ধ্বংসের মুখে এক শিল্পপ্রতিষ্ঠান । ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ, উৎপাদন বন্ধে বেতনহীন কর্মচারীদের আহাজারি। অর্থ পাচার ও বেতন বকেয়া: ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে বরিশালের এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী। ইত্তেহাদ নিউজ অনলাইন: একটি সফল প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।বিদ্যুৎ বিল বকেয়ার কারনে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন।কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন বকেয়া।কর্ম বিরতি। ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি,শুধু ভ্যাট ফাকিঁই নয় নিয়েছে অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা।বিদেশে অর্থ পাচারের ঘটনা তদন্ত করছে দুদক।অগ্রীম টাকা দেয়া ডিলার,রিটেইলার সিমেন্ট না পেয়ে ক্ষুব্ধ।এখন তারা তাদের পাওনা ফেরৎ পেতে ভিড় জমাচ্ছেন।অন্যান্য পাওনাদাররাও একই পথে। বলছি বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের এ্যাংকর সিমেন্ট এর কথা।   গভীর সংকটের মুখে  ‘এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী’ :   বরিশালের অন্যতম পরিচিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের ব্র্যান্ড ‘এ্যাংকর সিমেন্ট’ এখন গভীর সংকটের মুখে। ভ্যাট ফাঁকি, অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা গ্রহণ, বিদেশে অর্থ পাচার, ব্যাংক ঋণ খেলাপি, বকেয়া বেতন এবং উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বহুমাত্রিক বিতর্ক। কারখানায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। তিন মাস ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বন্ধ। উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির। অন্যদিকে অগ্রিম অর্থ দিয়েও সিমেন্ট না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন ডিলার, রিটেইলার ও করপোরেট ক্রেতারা। পাওনাদারদের চাপ বাড়তে থাকায় প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীতে নেই বিদ্যুৎ, নেই পানি।হাহাকার অবস্থা।বেতন -ভাতা বকেয়ার কারনে চলছে কর্ম বিরতি।বন্ধ উৎপাদন।অচলাবস্থায় মালিক পক্ষ ভাড়ায় ও বিক্রির জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করছেন।তবে কেউ দ্বায়িত্ব নিতে আগ্রহী হয়নি।কারন পাশে বৃহৎ ঔষধ কোম্পানীর ফ্যাক্টরী রয়েছে। এ্যাংকর সিমেন্টের ধুলাবালিতে ওখানের পরিবেশ দুষনের রেট অনেক উচ্চ।পরিবেশ অধিদপ্তরকে ঘুষ দিয়ে প্রতি বছর অলিম্পিক সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়ন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির ঘটনায় বরিশাল কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিসে তোলপাড় :    সম্প্রতি এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যক্টরীতে স্টক রেজিষ্টারে ৮০ হাজার মেট্রিক টন ক্লিংকার জমা থাকলেও বাস্তবে কোথাও নেই এই ক্লিংকারের হিসেব।এ্যাংকর সিমেন্ট লিমিটেডের ভ্যাট কর্মকর্তা মোস্তফা জানান,ক্লিংকার যা ছিল তা দিয়ে সিমেন্ট তৈরী করা হয়েছে। এ্যাংকর সিমেন্ট এর কপোরেট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,৮০ হাজার মেট্রিক টন ক্লিংকার দিয়ে প্রায় ২৬ লাখ ৬৫ হাজার ৬৬৭ ব্যাগ সিমেন্ট তৈরী করে ডুপ্লিকেট মুসক চালানের মাধ্যমে বিক্রি করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে শুধু ক্লিংকার থেকে প্রায় ২০ কোটি টাকা এছাড়া লাইমস্টোন, জিপসাম, স্লাগ ও ফ্লাই এ্যাশ থেকে আরো ২০ কোটি টাকাসহ মোট ৪০ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার সংবাদ প্রকাশিত হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়  জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিয়ন্ত্রণাধীন বরিশাল কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিসে। ইতিমধ্যে তারা খোজ খবর নিতে শুরু করেছেন ভ্যাট ফাঁকি ও অতিরিক্ত রেয়াতের বিষয়ে।   হতাশ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা   ঈদুল ফিতরের বোনাসসহ বেতন বাকি তিন মাসের।ঈদুল আজহা আসন্ন।এখনো বকেয়া বেতন ভাতা না পেযে হতাশ ও ক্ষুব্ধ। সম্প্রতি কর্মকর্তারাও কর্ম বিরতি পালন করে আসছেন।কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, বছরের পর বছর কাজ করেও এখন বেতন ও পাওনা বুঝে পাচ্ছেন না। এতে কয়েক হাজার মানুষের জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত অনেক শ্রমিক-কর্মচারী ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় মানবেতর পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছেন।  ব্যাগ উৎপাদন ইউনিট অলিম্পিক ফাইবার লিমিটেডও এপ্রিলের শেষ দিক থেকে বন্ধ রয়েছে। শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানিয়েছেন, কয়েক দফা ছুটি বাড়ানোর পরও এখন পর্যন্ত উৎপাদন শুরু হয়নি।   দুদকের নজরে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে এলসি ভ্যালু বাড়িয়ে এবং আন্ডার-ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে, দুবাই, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি, ফ্ল্যাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কেনার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অবৈধ অর্থ পাচারের ইঙ্গিত পাওয়ায় ইতোমধ্যে নোটিশও দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।   বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, বন্ধ উৎপাদন   গত ১৪ মে তিন কোটির বেশি টাকার বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের কারণে এ্যাংকর সিমেন্ট কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বিদ্যুৎ বিভাগ। ওজোপাডিকোর বরিশাল বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পুরো কারখানা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। কাঁচামালের সংকট, শ্রমিক অসন্তোষ এবং আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।   ব্যাংক ঋণের চাপ ও আর্থিক সংকট অলিম্পিক সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার এবং অলিম্পিক শিপিং লাইন্সে অর্থায়নকারী একাধিক ব্যাংক ঋণ আদায়ে চাপ বাড়িয়েছে। ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক এবং উত্তরা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা হচ্ছে না। এমনকি ব্যাংক প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করতেও অনীহা দেখাচ্ছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।   আরও পড়ুন: এ্যাংকর সিমেন্টে ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ : বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বরিশালে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ হতে যাচ্ছে : বাড়ছে পাওনাদারদের ভিড়,গা ঢাকা দিয়েছে  এ্যাংকর সিমেন্টের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, আর্থিক সংকট,উৎপাদন বন্ধ ,       ডিলার-রিটেইলারদের ক্ষোভ   অগ্রিম অর্থ নিয়েও সিমেন্ট সরবরাহ না করায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ডিলার ও রিটেইলারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, রাজশাহী, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরসহ বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকার পাওনা আদায়ে এখন প্রতিষ্ঠানটির অফিস ও কারখানার সামনে ভিড় করছেন। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, কমিশনের লোভ দেখিয়ে বিপুল অগ্রিম অর্থ নেয়া হলেও এখন না মিলছে সিমেন্ট, না ফেরত দেয়া হচ্ছে টাকা।   গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন   প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, উৎপাদন ব্যয় কমাতে সিমেন্টে ক্লিংকারের ব্যবহার কমিয়ে লাইমস্টোন ও ফ্লাই অ্যাশের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। তাদের দাবি, এতে এ্যাংকর সিমেন্টের গুণগত মান আগের তুলনায় কমে গেছে এবং বাজারে ক্রেতাদের আস্থাও নষ্ট হয়েছে।   পরিবেশ দূষণের অভিযোগ কারখানাটির বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সিমেন্ট কারখানার ধুলাবালির কারণে আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবছর পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়নের ক্ষেত্রেও অনিয়ম হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ৬ মাস আগে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীতে অভিযান পরিচালনা করে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।   নীরব প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ   অভিযোগের বিষয়ে জানতে এ্যাংকর সিমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “যেখানে বিদ্যুৎ বিলই পরিশোধ করা যাচ্ছে না, সেখানে ডিলারদের অগ্রিম টাকা ফেরত দেয়া বা নতুন করে সিমেন্ট সরবরাহ করা এখন প্রায় অসম্ভব।”   ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে একসময়কার সফল ব্র্যান্ড একসময় গুণগত মান, সঠিক ওজন, দ্রুত সরবরাহ এবং বিক্রয়োত্তর সেবার কারণে বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিল এ্যাংকর সিমেন্ট। তবে অনিয়ম, আর্থিক দুর্বলতা এবং ব্যবস্থাপনার সংকটের কারণে এখন প্রতিষ্ঠানটি কার্যত অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। ব্যাংক ঋণ, পাওনাদারদের চাপ, উৎপাদন বন্ধ এবং তদন্ত সংস্থাগুলোর নজরদারির মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সংশ্লিষ্ট মহলে।   ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত   এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীটি ভাড়া বা বিক্রির জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলেও একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে পরিবেশগত ঝুঁকি ও আর্থিক দায়ের কারণে কেউ দায়িত্ব নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের অবস্থান নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদের বিদেশে থাকার কথা বলা হলেও একাধিক সূত্র দাবি করছে, তারা দেশেই অবস্থান করছেন। সব মিলিয়ে, একসময় সফল শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত এ্যাংকর সিমেন্ট এখন টিকে থাকার কঠিন সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।     আগামী পর্বে থাকছে ------ ▪️অযোগ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ নেপথ্যে করপোরেটে নিলা ও ফ্যক্টরীতে শাহেদ উদ্দিন।  ▪️ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে অলিম্পিক সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার,অলিম্পিক শিপিং লাইনস লিমিটেড।  ▪️সহায় -সম্পত্তি জামানতের চেয়ে ব্যাংক ঋন পরিমান কত?।  ▪️কোম্পানী ধ্বংসের কারিগর  এমডি,ডিরেক্টর,এমডির পিস,ডিরেক্টরের পিএস,সিওও,সিএমও,ভ্যাট কর্মকর্তাসহ একাধিক কর্মকর্তা। ▪️অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড থেকে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ টাকার পাহাড় গড়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ একাধিক কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে  ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অর্থ আত্মসাতে সহায়তাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৮, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিজি আফজাল হোসেন
বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিজি আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য, অনিয়ম ও অর্থপাচারের অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত আবেদন দিয়েছেন রেলওয়ের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রমজান আলী। গত ৫ এপ্রিল জমা দেওয়া ওই অভিযোগপত্রে আফজাল হোসেনকে “দুর্নীতির সিন্ডিকেটের প্রধান”, “ঘুষখোর” এবং সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের “পোষ্যপুত্র” বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, পদ্মা সেতু রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প এবং খুলনা-মোংলা রেললাইন প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আফজাল হোসেন ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম করেছেন। একই সঙ্গে রেলওয়ের শীর্ষ পদে নিয়োগ পেতেও তিনি ঘুষ দিয়েছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়। রমজান আলী অভিযোগ করেন, “রেলওয়েকে একটি দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করা হয়েছে”, যেখানে ঠিকাদার, আমলা ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী চক্র কাজ করেছে। পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পে ‘সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম’ অভিযোগপত্রে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে পদ্মা সেতু রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প ঘিরে। সাবেক প্রধান প্রকৌশলীর দাবি, প্রকল্পের মূল চুক্তিপত্রের বিভিন্ন কাজ বাতিল করে সম্পূরক চুক্তির মাধ্যমে ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়। এতে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রেললাইনের এমব্যাংকমেন্ট নির্মাণে নির্ধারিত পাথরের পরিবর্তে কম খরচের ইটের খোয়া ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়, এতে ঠিকাদারদের শত শত কোটি টাকার আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয় এবং বিনিময়ে মোটা অঙ্কের ঘুষ নেওয়া হয়। রমজান আলীর দাবি, এই প্রকল্পে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার অডিট আপত্তিও রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঠিকাদারদের কাছ থেকে নেওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে এবং এর একটি অংশ অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো হয়েছে, যেখানে আফজাল হোসেনের সন্তানরা বসবাস করেন। খুলনা-মোংলা রেললাইন প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ খুলনা-মোংলা পোর্ট রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে নিয়মিত ঘুষ গ্রহণের বিনিময়ে নিম্নমানের কাজ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রূপসা সেতু প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমেও অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ‘১০ কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে ডিজি পদ’ রমজান আলীর অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়, রেলওয়ের মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পেতে আফজাল হোসেন প্রায় ১০ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, মেধা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অন্য কর্মকর্তারা এগিয়ে থাকলেও প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে আফজাল হোসেন গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো পেয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়, “দুদকের ছাড়পত্র ছাড়াই” তাকে মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়, যা সরকারি বিধিবিধানের পরিপন্থী। ‘দুর্নীতির সিন্ডিকেট’ পরিচালনার অভিযোগ অভিযোগপত্রে রেলওয়ের অভ্যন্তরে একটি প্রভাবশালী দুর্নীতির চক্রের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। রমজান আলীর ভাষ্য, গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প, টেন্ডার ও সরবরাহ কাজ নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের দেওয়া হতো এবং বিনিময়ে কমিশন আদায় করা হতো। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন প্রকল্পে ঠিকাদারদের কাছ থেকে চুক্তিমূল্যের ১০ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও নিম্নমানের কাজ করে পুরো বিল তুলে নেওয়ারও অভিযোগ আনা হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় বদলের অভিযোগ অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আফজাল হোসেন সরকার পরিবর্তনের পর দ্রুত রাজনৈতিক অবস্থান বদলে বিএনপিপন্থী পরিচয়ে সক্রিয় হন। রমজান আলীর অভিযোগ, “ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজের অবস্থান বদলে প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন” আফজাল হোসেন। তদন্ত ও সম্পদ জব্দের দাবি দুদকের কাছে দেওয়া আবেদনে আফজাল হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের অনুসন্ধান, ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়ে অভিযোগকারী বলেন, “রেলওয়েকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।” এই অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে বা আফজাল হোসেনের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।অভিযোগপত্রে উত্থাপিত দাবিগুলোর বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত ও প্রমাণ উপস্থাপনই চূড়ান্তভাবে বিষয়টির সত্যতা নির্ধারণ করবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৭, ২০২৬ 0
এলজিইডি কুমিল্লা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী একরামুল হক
৪৯ হাজার টাকা বেতনের এলজিইডি কর্মকর্তার ৫০ কোটি টাকার সম্পদ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কুমিল্লা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী একরামুল হকের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। মাসিক সর্বমোট ৪৯ হাজার টাকা বেতন পাওয়া দশম গ্রেডের এই কর্মকর্তা নিজের ও স্ত্রী শাম্মী আক্তারের নামে অন্তত ৫০ কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। রাজধানীতে প্লট, কুষ্টিয়ায় বহুতল ভবন, ফ্ল্যাট, কৃষিজমি, ব্যাংকে বিপুল অর্থসহ নানা সম্পদের তথ্য পেয়েছে অনুসন্ধানকারীরা। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানে জানা গেছে, একরামুল হকের বাড়ি কুষ্টিয়ায় হলেও তিনি আয়কর নথি জমা দিয়েছেন যশোরে। অন্যদিকে তার স্ত্রী শাম্মী আক্তারের আয়কর ফাইল কুষ্টিয়ায়। আয়কর নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঘোষিত আয়ের সঙ্গে বাস্তব সম্পদের বিশাল অসংগতি রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অন্তত ৫০ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য আয়কর নথিতে গোপন রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে একরামুল হক দাবি করেন, অধিকাংশ সম্পদের মালিক তার ভাই। তবে কী কারণে সেই সম্পদ নিজের নামে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি। অন্যদিকে শাম্মী আক্তারের ট্যাক্স ফাইলে পেশা হিসেবে “ব্যবসায়ী” উল্লেখ করা হলেও স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি মূলত গৃহিণী। এত বিপুল সম্পদের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে একরামুল বলেন, “আমি বাসায় গিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানার চেষ্টা করব।” বসুন্ধরায় ৩০ কোটি টাকার প্লট: একরামুল দম্পতির সম্পদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ডুমনি মৌজায় ৯ দশমিক ৯০ শতাংশ জমির একটি প্লট। খতিয়ান নম্বর ১১৬৭৮-এর এই প্লটের বর্তমান বাজারমূল্য অন্তত ৩০ কোটি টাকা বলে জানা গেছে। গত জানুয়ারিতে শাম্মী আক্তার ওই প্লটের নামজারির আবেদন করেছেন। সেই আবেদনপত্রের কপিও অনুসন্ধানকারীদের হাতে এসেছে। তবে একরামুল ও তার স্ত্রী দাবি করেছেন, বসুন্ধরায় তাদের কোনো সম্পত্তি নেই। শাম্মী আক্তারের নামে নামজারির আবেদন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে একরামুল বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমাদের এমন কোনো সম্পত্তি নেই।” কুষ্টিয়ায় বহুতল ভবন ও জমির পর জমি: একরামুল দম্পতির সম্পদের বড় অংশ কুষ্টিয়া জেলায়। নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, কুষ্টিয়া সদরে নিজের ও স্ত্রীর নামে মোট পাঁচটি জমি কিনেছেন একরামুল হক। চৌড়াহাস-২২ মৌজার ৬০০৩ খতিয়ানে মুক্তির পুকুরপাড় এলাকায় প্রায় ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ জমি কিনে সেখানে ছয়তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন তিনি। জমি ও ভবনটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া কুষ্টিয়া সদরের ঢাকা ঝালুপাড়া-২৭ মৌজার ৪০৮/১ খতিয়ানে প্রায় ৬৬ শতাংশ জমির মালিকানা রয়েছে একরামুলের। এই জমির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। একই এলাকায় নিজের নামে একটি ফ্ল্যাট ও ১ দশমিক ১২৩ শতাংশ জমিও কিনেছেন তিনি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭০ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামেও কোটি টাকার সম্পদ: স্ত্রী শাম্মী আক্তারের নামেও একাধিক সম্পত্তির তথ্য পাওয়া গেছে। কুষ্টিয়া সদরের হাটশ হরিপুর-১৮ মৌজায় ১৮ দশমিক ৯৭৫ শতাংশ জমি এবং হাজরাহাটি-৫৩ মৌজার পাঁচটি খতিয়ানে ৪৪ দশমিক ১৬ শতাংশ জমি রয়েছে তার নামে। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, জমি দুটির বর্তমান বাজারমূল্য যথাক্রমে প্রায় ৬০ লাখ ও ৫০ লাখ টাকা। পান বরজ, বাগান ও তামাক ক্ষেত: কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায়ও বিপুল জমির মালিক একরামুল হক। বারুইপাড়া ইউনিয়নের কেউপুর-৫২ মৌজার ১৯০ নম্বর খতিয়ানে প্রায় ৫৫ শতাংশ জমি কিনে সেখানে পান বরজ করেছেন তিনি। এর বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। একই মৌজার ১১৬৭ খতিয়ানে প্রায় ৫৮ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি কিনে সেখানে বাগান গড়ে তুলেছেন। এই জমির মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা। এ ছাড়া পোড়াদহ হাজরাহাটি বাজারে তার একটি দোতলা বাড়ি ও চারটি দোকান রয়েছে। একই এলাকায় বিপুল কৃষিজমিও রয়েছে তার নামে। হাজরাহাটি-৫৩ মৌজার ৬৯৫ খতিয়ানে প্রায় ১২৫ দশমিক ১৭ শতাংশ জমি কিনে সেখানে তামাক ক্ষেত করেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। একই মৌজা ও খতিয়ানে আরও ২২৫ দশমিক ১৭ শতাংশ জমি কিনেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা। এছাড়া একই মৌজার ২৫-৮৫০ খতিয়ানে ২৯৭ শতাংশ বা প্রায় ৯ বিঘা জমির মালিক একরামুল, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লাখ লাখ টাকা: স্থাবর সম্পদের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংকেও রয়েছে একরামুল দম্পতির বিপুল অর্থ। অনুসন্ধানে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকে একরামুলের একাধিক হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে শাম্মী আক্তারের নামে রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট। এসব হিসাবে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে প্রায় ৩ লাখ টাকা, সোনালী ব্যাংকে প্রায় ২০ লাখ টাকা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে প্রায় ৪৩ লাখ টাকা, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে প্রায় ২১ লাখ টাকা এবং অগ্রণী ব্যাংকে প্রায় ৪ লাখ টাকা জমা রয়েছে বলে জানা গেছে। দুদকের নজরদারিতে একরামুল দম্পতি: দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে, আয়কর নথিতে ঘোষিত আয়ের সঙ্গে বাস্তব সম্পদের অসামঞ্জস্য পাওয়ায় একরামুল দম্পতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। বিশেষ করে স্বল্প বেতনের একজন সরকারি কর্মচারীর নামে ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে একরামুল হক বলেন, “আমার সামান্য কিছু সম্পত্তি আছে। বাকি যা আছে, তা আসলে আমার ভাইয়ের। ভুলক্রমে অনলাইন ডকুমেন্টে আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৭, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0