Brand logo light

নলছিটি

অবশেষে কাটলো অচলাবস্থা, নলছিটিতে ইউএনও’র দায়িত্ব নিলেন রিজভী আহমেদ
নলছিটিতে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব নিলেন সহকারী কমিশনার রিজভী আহমেদ সবুজ

ঝালকাঠি: ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় প্রশাসনিক স্থবিরতার অবসান হয়েছে। অবশেষে  দ্বায়িত্ব হস্তান্তর করলেন ঝালকাঠি সদর উপজেলার ইউএনও এবং নলছিটির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সেগুফতা মেহনাজ। নলছিটি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজ ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় স্থবির হয়ে পড়া সরকারি সেবাগুলো আবার সচল হতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিয়মিত ইউএনও না থাকায় জন্ম নিবন্ধন সংশোধন, পৌরসভার নাগরিক সনদ প্রদান এবং ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সেবা ব্যাহত হচ্ছিল। এতে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। দায়িত্ব হস্তান্তর জটিলতার কারণে এই অচলাবস্থা তৈরি হলেও, নতুন করে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি ফিরতে শুরু করেছে। ভারপ্রাপ্ত ইউএনও হিসেবে রিজভী আহমেদ সবুজ দায়িত্ব নেওয়ায় এসব সেবা এখন আবার উন্মুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রমে ইউএনও দপ্তর গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কারী ভূমিকা পালন করে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনার নানা কার্যক্রম এই দপ্তরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে এই পদটি দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়েছিল। আরও পড়ুন:  নলছিটিতে ইউএনও’র দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে অচলাবস্থা: প্রশাসনিক আদেশ অমান্যের অভিযোগ   নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর ঝুলে থাকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসনিক এই শূন্যতা পূরণ হওয়ায় নলছিটির সেবাব্যবস্থা আরও গতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, বরিশাল এর ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের ০৫.১০.০০০০.০০০.০০১.০৫.০০০২.২৬.১১৪ নং স্মারক ও ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক কার্যালয় ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের জারি করা০৫.১০,৪২০০,০০০.০০৬.০৫.০০০৪.২৫.১২৮ নম্বর স্মারকে এক অফিস আদেশে নলছিটি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ইউএনও’র দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঝালকাঠি সদর উপজেলার ইউএনও এবং নলছিটির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সেগুফতা মেহনাজকে নির্দেশ দেওয়া হয় নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে দায়িত্বভার বুঝিয়ে দিতে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৭, ২০২৬ 0
সেগুফতা মেহনাজ
নলছিটিতে ইউএনও’র দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে অচলাবস্থা: প্রশাসনিক আদেশ অমান্যের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দায়িত্ব হস্তান্তর ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক অচলাবস্থা। বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকার পরও বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের আদেশ বাস্তবায়ন হয়নি। সাত দিন পেরিয়ে গেলেও দায়িত্ব হস্তান্তর না হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি। এদিকে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের অফিস আদেশও উপেক্ষিত। ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, বরিশাল এর ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের ০৫.১০.০০০০.০০০.০০১.০৫.০০০২.২৬.১১৪ নং স্মারক ও ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক কার্যালয় ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের জারি করা ০৫.১০,৪২০০,০০০.০০৬.০৫.০০০৪.২৫.১২৮ নম্বর স্মারকে এক অফিস আদেশে নলছিটি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ইউএনও’র দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঝালকাঠি সদর উপজেলার ইউএনও এবং নলছিটির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সেগুফতা মেহনাজকে নির্দেশ দেওয়া হয় নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে দায়িত্বভার বুঝিয়ে দিতে। এই আদেশটি জারি করা হয় বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের ১৯ এপ্রিলের নির্দেশনা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নীতিমালার আলোকে।   সমস্যা কোথায়? নির্দেশনা পরিষ্কার থাকার পরও ৭ দিন পার হয়ে গেছে, কিন্তু দায়িত্ব হস্তান্তর হয়নি। ফলে: প্রশাসনিক কাজকর্মে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, স্থানীয় পর্যায়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে, জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় কমিশনারের আদেশ কার্যত উপেক্ষিত হচ্ছে।   এটা কেন গুরুত্বপূর্ণ? ইউএনও (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) একটি উপজেলার প্রশাসনের প্রধান। দায়িত্ব হস্তান্তর না হলে: উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হতে পারে, সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়, আইন-শৃঙ্খলা ও দৈনন্দিন প্রশাসনেও প্রভাব পড়ে।  কী হতে পারে? অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব, ঊর্ধ্বতন নির্দেশনা বাস্তবায়নে অনীহা ।   আদেশ বাস্তবায়নে বিলম্ব তবে অভিযোগ উঠেছে, নির্দেশনা পাওয়ার পরও সেগুফতা মেহনাজ দায়িত্ব হস্তান্তরে অনীহা দেখাচ্ছেন। ফলে ২৫ এপ্রিল পর্যন্তও আদেশ কার্যকর হয়নি। এ অবস্থায় প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সেবা কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে, যা নিয়ে বাড়ছে জনদুর্ভোগ। একাধিক সূত্র বলছে, দায়িত্ব হস্তান্তর না হওয়ায় প্রশাসনের ভেতরে “চেইন অব কমান্ড” নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—আদেশ জারির পরও তা বাস্তবায়ন না হওয়া প্রশাসনিক কাঠামোর জন্য কতটা স্বাভাবিক? মাঠপর্যায়ে প্রভাব নলছিটির বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী ইউএনও না থাকায় তারা নিয়মিত সেবা পাচ্ছেন না। পৌর এলাকার বাসিন্দা আসলাম বলেন, জমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে তিনি ইউএনওকে খুঁজে পাননি। “অফিসে গিয়ে শুনি ইউএনও জেলায় আছেন, কবে আসবেন কেউ বলতে পারে না,” বলেন তিনি। তালতলা গ্রামের বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম জানান, জন্মনিবন্ধনের কাজ করতে গিয়ে তিনিও একই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। “ইউএনও না থাকায় কাজ এগোয় না,” বলেন তিনি। একজন সরকারি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “স্থায়ী ইউএনও না থাকলে বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।” দীর্ঘদিন ধরে পদ শূন্য নলছিটি উপজেলায় গত কয়েক মাস ধরে ইউএনও পদে স্থায়ী নিয়োগ নেই। এর আগে কয়েকজন কর্মকর্তা স্বল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ ইউএনও প্রশিক্ষণে চলে যাওয়ার পর থেকে পদটি কার্যত শূন্য রয়েছে এবং অতিরিক্ত দায়িত্বের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের অবস্থান ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে আপাতত অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থায়ী ইউএনও নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। প্রশ্ন ও উদ্বেগ তবে মূল প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কেন দায়িত্ব হস্তান্তর বিলম্বিত হচ্ছে? প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি শুধু স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকারিতা নয়, বরং সরকারি নির্দেশনার বাস্তবায়ন ক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। নলছিটির মতো একটি উপজেলায় যেখানে ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে, সেখানে প্রশাসনিক নেতৃত্বে অনিশ্চয়তা দীর্ঘস্থায়ী হলে জনসেবা আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত দায়িত্ব হস্তান্তর ও স্থায়ী ইউএনও নিয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0
শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
নলছিটি হদুয়া আইডিয়াল একাডেমিতে ইবতেদায়ী বৃত্তিপ্রাপ্ত ৮ শিক্ষার্থীর সংবর্ধনা

ঝালকাঠি:  নলছিটি উপজেলার হদুয়া বৈশাখিয়া কামিল মাদ্রাসার অধীনস্থ হদুয়া আইডিয়াল একাডেমিতে ২০২৫ সালের ইবতেদায়ী পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৮ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে একাডেমির সেমিনার কক্ষে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন হদুয়া দরবার শরীফের পীর সাহেব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ মোহাম্মদ হোসাইন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা শাহ মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, নির্ধারিত পাঠ্যক্রমের যথাযথ বাস্তবায়ন, শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা, বিশেষ ক্লাস কার্যক্রম এবং আল্লাহর রহমতেই এ সফলতা অর্জিত হয়েছে। এ সময় অভিভাবকরাও তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তারা বলেন, শিক্ষকদের নিবেদিতপ্রাণ প্রচেষ্টা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি যত্নশীল দিকনির্দেশনার ফলেই এই সাফল্য এসেছে। ভবিষ্যতে এ প্রতিষ্ঠান থেকে আদর্শ ও সুশিক্ষিত নাগরিক গড়ে উঠবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠান শেষে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ফখরুল মজিদ কিরণ
ঝালকাঠিতে আমুর ছত্রছায়ায় অঢেল অবৈধ সম্পদ সাবেক এপিএস কিরণের

বরিশাল অফিস :    ঝালকাঠি জেলায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অভিযোগে আলোচিত হয়ে উঠেছেন ফখরুল মজিদ কিরণ—যিনি কর্মকাণ্ড  নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু-এর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, আত্মীয়তার সম্পর্ক ও রাজনৈতিক প্রভাবকে পুঁজি করে গত দেড় দশকে তিনি ঝালকাঠি-নলছিটি অঞ্চলে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন। ক্ষমতার ছায়ায় ‘অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ’ স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, আমুর ভায়রা পরিচয়ে কিরণ কার্যত প্রশাসন, রাজনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উপর অনানুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার বণ্টন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ, দলীয় কমিটি গঠন এমনকি নির্বাচনী মনোনয়ন—সব ক্ষেত্রেই তার ‘কমিশন নির্ভর’ প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকের ভাষ্য অনুযায়ী, আমুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেও কিরণের অনুমতি প্রয়োজন হতো, যা তাকে “বেনামি মন্ত্রী” হিসেবে পরিচিতি দেয়। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রভাব খাটিয়ে তিনি অবৈধভাবে অন্তত ৫০০ কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন। ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে নরসিংদীতে তার বিপুল সম্পদের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা। প্রশাসনের ওপর প্রভাব ও রাজনৈতিক দমন-পীড়ন বিগত সরকারের শেষ সময়ে কিরণের প্রভাব এতটাই বৃদ্ধি পায় যে, অনেকেই তাকে নলছিটির “অঘোষিত এমপি” হিসেবে উল্লেখ করেন। স্থানীয় প্রশাসন তার নির্দেশনা অনুযায়ী চলতে বাধ্য হতো—এমন অভিযোগও রয়েছে। একইসঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, পুলিশি হয়রানি ও এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দলের নেতারা দাবি করেছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে কিরণ সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। সহিংসতা ও নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ঝালকাঠি শহরে বিএনপির এক শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা, ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই বছর পর, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দায়ের হওয়া একটি মামলায় কিরণকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়। মামলায় মোট ৯৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে আমুর দুই এপিএসও রয়েছেন। এছাড়া ২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান হোসেন খান অভিযোগ করেন, আমু ও তার এপিএস কিরণ প্রকাশ্যে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছেন এবং আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করতে চাপ প্রয়োগ করেছেন। পারিবারিক প্রভাব ও রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক কিরণের পারিবারিক পটভূমিও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। তার বড় ভাই নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন সাবেক শিল্পমন্ত্রী ছিলেন। আরেক ভাই খায়রুল মজিদ মাহমুদ চন্দন ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।  পলাতক অবস্থান ও প্রশাসনের ভূমিকা আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও আমুর গ্রেপ্তারের পর থেকেই কিরণ পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই—কেউ বলছেন তিনি দেশ ছেড়েছেন, আবার কেউ দাবি করছেন তিনি ঢাকাতেই আত্মগোপনে আছেন। যদিও তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে, তবে দীর্ঘ সময়েও তাকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. শাহাদাত হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মামলা ও এফআইআর থাকার পরও কেন অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, তা বোধগম্য নয়।” তদন্তের অগ্রগতি ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  জানিয়েছেন, কিরণের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   ফখরুল মজিদ কিরণের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো শুধু ব্যক্তিগত দুর্নীতির নয়, বরং একটি বৃহত্তর ক্ষমতার কাঠামোর অপব্যবহারের প্রতিফলন—যেখানে রাজনৈতিক ছত্রছায়া, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং জবাবদিহিতার অভাব মিলিত হয়ে একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। এখন দেখার বিষয়, চলমান তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া এই অভিযোগগুলোর কতটা সত্য উদঘাটন করতে পারে এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে সক্ষম হয় কিনা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
মানসিক ভারসাম্যহীন ইকবালের ছবি
ঝালকাঠির নলছিটিতে কুপিয়ে হত্যা: মানসিক ভারসাম্যহীন ইকবাল হোসেনের মৃত্যু

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝালকাঠির নলছিটিতে দুর্বৃত্তদের হামলায় ইকবাল হোসেন (৪৫) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার খাগড়াখানা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তার মৃত্যু হয়। নিহত ইকবাল হোসেন উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়নের খাগড়াখানা গ্রামের বাসিন্দা এবং আজহার আলী হাওলাদারের ছেলে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইকবাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় জীবনযাপন করছিলেন। ঘটনার রাতে কে বা কারা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে ফেলে রেখে যায়। এ বিষয়ে নলছিটি থানার ওসি (তদন্ত) আশরাফ আলী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ
১৯ বছরেও সংস্কার হয়নি সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত নলছিটির ভেরনবাড়িয়া ব্রিজ, চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

ইত্তেহাদ নিউজ  : ঘূর্ণিঝড় সিডর-এর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রায় দুই দশক পেরিয়ে গেলেও ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু এখনো সংস্কার করা হয়নি। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রানাপাশা ইউনিয়নের ভেরনবাড়িয়া এলাকায় খালের ওপর নির্মিত প্রায় ২২ মিটার দীর্ঘ লোহার ব্রিজটি সিডরের সময় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর আগে ব্রিজটি দিয়ে ভেরনবাড়িয়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করতেন। ব্রিজটি ভেঙে পড়ার পর যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই একটি অস্থায়ী সাকো নির্মাণ করেন। তবে সেটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা আনিচুর রহমান ও মিরাজুল ইসলাম বলেন, ভেরনবাড়িয়া রানাপাশা ইউনিয়নের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হলেও ব্রিজটি বছরের পর বছর অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। “নিজেদের উদ্যোগে সাকো বানালেও সেখানে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। প্রতি বছরই এটি নষ্ট হয়ে যায়, আবার নতুন করে তৈরি করতে হয়,” জানান তারা। আরেক বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম রনি বলেন, এলাকার শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কাছেই অবস্থিত উত্তর ভেরনবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এর ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন সাকো পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার মুখে পড়ছে। “অভিভাবকেরা সবসময় উদ্বেগে থাকেন,” বলেন তিনি। স্থানীয় বাজারগুলোর ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আগে সহজেই মালামাল পরিবহন করা গেলেও এখন বিকল্প দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে, যা সময় ও খরচ—দুটোই বাড়িয়ে দিয়েছে। এ বিষয়ে নলছিটি উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা আজিজুল হক জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে ব্রিজটির বিষয়ে অবহিত হয়েছেন তারা। “খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” বলেন তিনি। তবে দীর্ঘদিন ধরে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
নলছিটি পৌরসভার সরকারি কবরস্থানের জন্য মাটি বরাদ্দ প্রকল্পে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ
নলছিটিতে পিআইওর বিরুদ্ধে কবরস্থানের মাটি বরাদ্দে ঘুষের অভিযোগ, তদন্ত শুরু

ঝালকাঠি: ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভার একটি সরকারি কবরস্থানের জন্য মাটি ভরাট প্রকল্পে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন নলছিটি পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ অলিউল ইসলাম। অভিযোগে বলা হয়েছে, নলছিটি পৌরসভার মল্লিকপুর সরকারি কবরস্থানে মাটি ভরাটের জন্য একটি টিআর (টেস্ট রিলিফ) প্রকল্পে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার টাকার কাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে ওই প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওলাদ হোসেন অতিরিক্ত খরচের কথা বলে মোট ৯ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারী অলিউল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা এবং বিভিন্ন চাপের কারণে তারা বাধ্য হয়ে ওই অর্থ প্রদান করেছেন। তিনি অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি কর্মকর্তার কার্যালয়ে এভাবে ঘুষ নেওয়া অনৈতিক এবং সরকারি সেবার নীতিমালার পরিপন্থী। তিনি আরও জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে জেলা প্রশাসনের কাছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওলাদ হোসেনকে ফোন করলে সাংবাদিক পরিচয় জানার পর তিনি ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, অভিযোগটি তদন্তের জন্য জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের ডিডি এলজিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে। এরপর বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে এবং প্রশাসনের তদন্তে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।   ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় দুপুর ১২টা পর্যন্ত তালাবদ্ধ থাকার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।  সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নলছিটি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের দরজায় তালা ঝুলছে। অথচ এ সময় সরকারি অফিস খোলা থাকার কথা এবং সেবাগ্রহীতাদের জন্য দায়িত্ব পালনের সময়ও এটি। এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আওলাদ হোসেনকে ফোন করা হলে তিনি কল রিসিভ করেন। কিন্তু সাংবাদিক পরিচয় জানার পর কোনো মন্তব্য না করে ফোন কেটে দেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন সেবাগ্রহীতা ও দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওলাদ হোসেন নিয়মিত অফিসে আসেন না। কখনো খেয়ালখুশিমতো অফিসে এলেও বেশিক্ষণ থাকেন না। ফলে সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, বিল উত্তোলন কিংবা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের ক্ষেত্রে নিয়মমাফিক কমিশন না দিলে বিভিন্নভাবে জটিলতা সৃষ্টি করা হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশেষ করে ছোট ছোট উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদার ও জনপ্রতিনিধিদের বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। একজন জনপ্রতিনিধি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যয় হওয়ার কথা। কিন্তু কমিশনের কারণে অনেক সময় প্রকল্প বাস্তবায়নই জটিল হয়ে পড়ে। বিল তুলতে গেলেই সবচেয়ে বেশি হয়রানি হয়।” স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন দায়িত্বহীনতা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করছে। এতে প্রকল্পের অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে এবং তৃণমূলের মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে কর্মকর্তার নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের মতে, সরকারি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার এমন আচরণ শুধু উন্নয়ন কার্যক্রমকেই বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং প্রশাসনের ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১০, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0