Brand logo light
বাংলাদেশ

ঝালকাঠির নলছিটিতে কুপিয়ে হত্যা: মানসিক ভারসাম্যহীন ইকবাল হোসেনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
মানসিক ভারসাম্যহীন ইকবালের ছবি
মানসিক ভারসাম্যহীন ইকবালের ছবি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝালকাঠির নলছিটিতে দুর্বৃত্তদের হামলায় ইকবাল হোসেন (৪৫) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (১২ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার খাগড়াখানা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তার মৃত্যু হয়।

নিহত ইকবাল হোসেন উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়নের খাগড়াখানা গ্রামের বাসিন্দা এবং আজহার আলী হাওলাদারের ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইকবাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় জীবনযাপন করছিলেন। ঘটনার রাতে কে বা কারা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে ফেলে রেখে যায়।

এ বিষয়ে নলছিটি থানার ওসি (তদন্ত) আশরাফ আলী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ

View more
মাত্র ৮ মাসে ৬১১ পৃষ্ঠায় সম্পূর্ণ ৩০ পারা কুরআন হাতে লিখে নজির গড়লেন লাকসামের সুরাইয়া জান্নাত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রাম বিভাগের লাকসাম উপজেলার এক মাদ্রাসাছাত্রী—সুরাইয়া জান্নাত (১৮)—মাত্র ৮ মাসে হাতে লিখে সম্পূর্ণ ৩০ পারার পবিত্র কুরআন মাজিদ লিপিবদ্ধ করে আলোচনায় এসেছেন। তাঁর হাতের লেখা এতটাই নিখুঁত যে তা ছাপানো বইয়ের সঙ্গে পার্থক্য করা কঠিন বলে দাবি স্থানীয়দের। লাকসাম উপজেলার মুদাফরগঞ্জ এ.ইউ ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের এই শিক্ষার্থী ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শুরু করে আগস্টের শেষ দিকে তাঁর কাজ শেষ করেন। পুরো কুরআন লিখতে তাঁর সময় লেগেছে প্রায় ৮ মাস। স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী, সুরাইয়া জান্নাত তাঁর লেখালেখির কাজে মোট প্রায় ৫৫টি কলম ব্যবহার করেন এবং ৬১১ পৃষ্ঠায় পুরো কুরআন মাজিদ সম্পন্ন করেন। “ফেসবুক নয়, বেছে নিয়েছি কুরআনের সান্নিধ্য” সুরাইয়া জান্নাত জানান, সমবয়সীরা যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় ব্যয় করে, তিনি তখন বেছে নিয়েছেন পবিত্র কুরআন লেখার মতো কঠিন ও সময়সাপেক্ষ কাজ। তিনি বলেন, ধর্মীয় অনুপ্রেরণা, আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং ব্যক্তিগত আত্মশুদ্ধির লক্ষ্য থেকেই এই উদ্যোগ নেন তিনি। প্রতিবার লেখার আগে তিনি অজু করতেন এবং দরূদ শরীফ পাঠ করে শুরু করতেন বলেও জানান। শিক্ষার ফাঁকে নিরবচ্ছিন্ন সাধনা মাদ্রাসার ক্লাস ও পড়াশোনার ফাঁকে নিয়মিত লিখতেন তিনি। এতে তাঁর একাডেমিক পড়াশোনায় কোনো ব্যাঘাত না ঘটানোর চেষ্টা ছিল বলে জানান। পরিবারের ভূমিকা ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া সুরাইয়ার মা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, ছোটবেলা থেকেই আরবি লেখা ও ক্যালিগ্রাফির প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। মেয়ের এই অর্জনে পরিবার তাকে ১ লাখ টাকা পুরস্কার প্রদান করে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, সুরাইয়া ছোটবেলা থেকেই ব্যতিক্রমী ও সৃজনশীল। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা বলেন, “এ বয়সে এমন একটি কাজ সত্যিই অনন্য নজির। তাঁর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হোক।” ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সুরাইয়া জানান, ভবিষ্যতে তিনি সহিহ বুখারিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি গ্রন্থও হাতে লেখার ইচ্ছা পোষণ করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৩, ২০২৬ 0

বরিশালের মুলাদীতে হাতকড়াসহ আসামি ছিনতাই: পুলিশের ওপর হামলা ও বাধা দেওয়ার অভিযোগে ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নান্দাইল কলেজে পিয়নের প্রতারণার অভিযোগে দুই শিক্ষার্থীর এইচএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত, গেটে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ভুক্তভোগীরা

হানি ট্র্যাপ চক্রের সদস্য সাব্বির ও তার স্ত্রী মুমু

সোনারগাঁয়ে কলেজছাত্রীকে খালি বাসায় ডেকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের অভিযোগ, চাঁদা দাবি ৫০ হাজার টাকা

এইচএসসি প্রথম দিনে ২৪,৭৮৪ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত, বহিষ্কার ৭ জন: পরীক্ষার কঠোর নজরদারির চিত্র

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রথম দিনেই বড় ধরনের অনুপস্থিতির চিত্র উঠে এসেছে। দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ২৪ হাজার ৭৮৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন। একই দিনে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে সাত জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের স্বাক্ষরিত পরিসংখ্যানে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। অনুপস্থিতির বিভাজন: কোন বোর্ডে কতজন সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুপস্থিতি দেখা গেছে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে। সাধারণ শিক্ষা বোর্ড: ১৭,২৩৩ জন অনুপস্থিত মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড: ৪,৪৭৮ জন অনুপস্থিত কারিগরি শিক্ষা বোর্ড: ৩,০৭৩ জন অনুপস্থিত অন্যদিকে, বহিষ্কারের ঘটনাতেও সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে সংখ্যাটি সর্বোচ্চ। মোট সাত জন বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাঁচ জন সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের, একজন মাদ্রাসা বোর্ডের এবং একজন কারিগরি বোর্ডের। দেশের ১১ বোর্ডে একযোগে পরীক্ষা শুরু বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সারা দেশে একযোগে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়, যা শেষ হয় দুপুর ১টায়। প্রথম দিনে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নেয়। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে অনুষ্ঠিত হয় আলিম পর্যায়ের কোরআন মাজিদ পরীক্ষা এবং কারিগরি বোর্ডে বাংলা-২ (HSC BMT) পরীক্ষা নেওয়া হয়। এবার মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (ভোকেশনাল), এইচএসসি (বিএম/বিএমটি) এবং ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবার নজরদারি জোরদার করেছে। সব বোর্ডে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেল থেকে তা পর্যবেক্ষণ করা হয়। এছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ—যা পরীক্ষার সময় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, পরীক্ষার প্রথম দিনের এই অনুপস্থিতির হার ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, চাপ এবং উপস্থিতি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৩, ২০২৬ 0
গ্রেফতার বাকী বিল্লাহ

শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুণী ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় মাদ্রাসা সুপার বাকী বিল্লাহ গ্রেফতার

এইচআরএসএস

জুনে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৯ নিহত, আহত ৩৪৬; মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ:এইচআরএসএস

নিহত মোতালেব

ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ী হত্যা: পাঁচ লাখ টাকার বিরোধ, তোশকে মোড়ানো মরদেহ ও পলাতক অংশীদার

সরকারি বরাদ্দের ১০ মসজিদের আটটি গেছে জামায়াত এমপি ড. মু. মিজানুর রহমানের নিজ উপজেলায়
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে ১০ মসজিদের বরাদ্দের ৮টি গোমস্তাপুরে: বৈষম্যের অভিযোগ, ভুলের ইঙ্গিত জামায়াত নেতাদের

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: সরকারের সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২-এর আওতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) আসনের ১০টি মসজিদে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া ১০টি মসজিদের মধ্যে আটটিই সংসদ সদস্য ড. মু. মিজানুর রহমানের নিজ উপজেলা গোমস্তাপুরে হওয়ায় স্থানীয়দের একাংশ বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন। বরাদ্দ তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাকি দুটি মসজিদের মধ্যে একটি নাচোল এবং অন্যটি ভোলাহাট উপজেলায়। নাচোলে বরাদ্দ পাওয়া মসজিদটি আবার পৌর জামায়াতের আমির মুনিরুল ইসলামের নিজ গ্রামের বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, একই সংসদীয় এলাকার তিনটি উপজেলার মধ্যে বরাদ্দ বণ্টনে কী নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে এবং কেন একটি উপজেলায় মোট বরাদ্দের ৮০ শতাংশ চলে গেছে। বরাদ্দের চিত্র খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২-এর আওতায় নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলার ১০টি মসজিদের জন্য মোট ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে রয়েছে মোট ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা। এর মধ্যে গোমস্তাপুর উপজেলায় রয়েছে আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা, যা পুরো আসনের প্রায় অর্ধেক প্রশাসনিক ইউনিট। তবে বরাদ্দের তালিকায় দেখা যায়— গোমস্তাপুর উপজেলায় আটটি মসজিদ রহনপুর পৌরসভার পুরাতন প্রসাদপুর দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদ রহনপুর রেলস্টেশন বাজার শাহী জামে মসজিদ নুনগোলা জামে মসজিদ সন্তোষপুর জামে মসজিদ দাঁড়াবাজ গাবতলা জামে মসজিদ দিঘা বাজার জামে মসজিদ পলাশডাঙ্গা জামে মসজিদ কাশিয়াবাড়ি পূর্বপাড়া জামে মসজিদ নাচোল উপজেলায় একটি মুরাদপুর পশ্চিমপাড়া পুরাতন জামে মসজিদ ভোলাহাট উপজেলায় একটি মধ্য খড়কপুর জামে মসজিদ 'সমতার ভিত্তিতে হলে চিত্র ভিন্ন হতো' স্থানীয় বাসিন্দা ওবায়দুল্লাহর দাবি, প্রশাসনিক ইউনিটের অনুপাতে বরাদ্দ দেওয়া হলে নাচোল ও ভোলাহাটে তিনটি করে এবং গোমস্তাপুরে চারটি মসজিদ বরাদ্দ পাওয়ার কথা ছিল। তিনি বলেন, "সমতার ভিত্তিতে বরাদ্দ হলে দুটি পৌরসভার জন্য দুটি এবং প্রতি দুটি ইউনিয়নের জন্য একটি করে মসজিদ বরাদ্দ দেওয়া যেত। সেই হিসাবে নাচোল তিনটি, ভোলাহাট তিনটি এবং গোমস্তাপুর চারটি মসজিদ পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে গোমস্তাপুর পেয়েছে আটটি।" রাজনৈতিক মহলেও প্রশ্ন নাচোল উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মাজিদুল ইসলাম বলেন, "নাচোলে যে মসজিদে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেটি জামায়াতের পৌর আমিরের এলাকায়। এটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।" ভোলাহাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইয়াজদানি জর্জের ভাষ্য, "উপজেলাভিত্তিক আনুপাতিক বরাদ্দ হওয়া উচিত ছিল। বর্তমান বণ্টন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।" জামায়াত নেতাদের বক্তব্য: 'ভুল হয়েছে' সমালোচনার মুখে স্থানীয় জামায়াত নেতারাও বরাদ্দ বণ্টনে ভারসাম্যের ঘাটতির কথা স্বীকার করেছেন। নাচোল উপজেলা জামায়াতের আমির ইয়াকুব আলী বলেন, "আগের বরাদ্দগুলো সমতার ভিত্তিতে হয়েছিল। এবার একটু ভুল হয়েছে। সংসদ সদস্যের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। পরবর্তী বরাদ্দে সমন্বয় করা হবে।" সংসদ সদস্য যা বলছেন সংসদ সদস্য ড. মু. মিজানুর রহমান বলেন, শুরুতে বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তার ভাষ্য, "তাৎক্ষণিকভাবে একটি তালিকা চাওয়া হয়েছিল। আমার ফাইলে যেসব আবেদন ছিল, সেখান থেকেই তালিকা অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে দেখি গোমস্তাপুর উপজেলায় সংখ্যাটা বেশি হয়ে গেছে। পরবর্তী বরাদ্দে উপজেলাভিত্তিক সমতা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে।" যে প্রশ্নগুলো সামনে এসেছে এই বরাদ্দকে ঘিরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— মসজিদ নির্বাচন ও বরাদ্দের ক্ষেত্রে কী নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে? আবেদনকারীর সংখ্যা, প্রয়োজন নাকি রাজনৈতিক বিবেচনা—কোনটি প্রাধান্য পেয়েছে? একই সংসদীয় এলাকার তিন উপজেলার মধ্যে বরাদ্দ বণ্টনে ভারসাম্য নিশ্চিত করার কোনো প্রশাসনিক যাচাই ছিল কি? ভবিষ্যতে এ ধরনের সরকারি বরাদ্দে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? সরকারি অর্থে ধর্মীয় অবকাঠামো উন্নয়নের বরাদ্দে এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই এখন স্থানীয়দের প্রধান প্রত্যাশা।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ২, ২০২৬ 0
স্বাস্থ্য অধিদফতর

বেসরকারি হাসপাতাল নজরদারিতে নতুন নির্দেশনা: চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ৫ দফা পদক্ষেপ

টেকনাফ সীমান্তের ওপারে রাখাইনে ফের বিস্ফোরণ, সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক; সতর্ক অবস্থানে বিজিবি

নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র

এইচএসসি ২০২৬: নরসিংদীর কেন্দ্রে ভুলে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র বিতরণ, দুই শিক্ষক প্রত্যাহার, তদন্তে জেলা প্রশাসন

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0