ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সরকারি অফিসে ঘুস নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর। তিনি বলেছেন, কোনো অফিসে টাকা/ঘুস দেবেন না। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী টাকা/ঘুস চাইলে তার জায়গা এখানে হবে না। শুক্রবার (৮ মে) বেলা ১১টায় পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় উপজেলার নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দাখিল ও আলিম মাদ্রাসা এবং কলেজের প্রধানরা অংশ নেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডিসি সম্মেলনে আমি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ওসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বলেছি, শিক্ষকরা জাতি গঠনের কারিগর। মন্ত্রী-এমপিরাও কোনো না কোনো শিক্ষকের ছাত্র। তাই শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদার বিষয়ে প্রশাসনকে আরও সচেতন হতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমার স্ত্রীর অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, ছুটির আবেদন কিংবা বেতন উত্তোলনের মতো সাধারণ কাজেও অনেক সময় কেরানিদের টাকা দিতে হয়। এখন থেকে কোনো অফিসে টাকা দেবেন না। কেউ টাকা চাইলে অভিযোগ করবেন। যে কর্মকর্তা ঘুস চাইবে, তার জায়গা এখানে হবে না। সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন- গলাচিপা সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফোরকান কবির, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাফর রানা, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মো. হাফিজুর রহমান এবং জেলা যুব অধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি মহিবুল্লাহ এনিম।
বরিশাল অফিস : বরিশাল গণপূর্ত বিভাগ দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ, অনিয়ম এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে আলোচনায় ছিল। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ধীরগতি, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন, এবং কমিশন-ভিত্তিক সংস্কৃতির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই চিত্রে পরিবর্তনের দাবি উঠেছে—আর সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটি নাম: নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ফয়সাল আলম। তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি এসেছে, কাজের মান উন্নত হয়েছে এবং দুর্নীতি কমেছে—এমন দাবি করছেন সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ। একই সঙ্গে, তার কার্যক্রম ঘিরে অপপ্রচার, স্বার্থসংঘাত এবং চাপের কথাও উঠে আসছে বিভিন্ন মহল থেকে। এই প্রতিবেদনটি মাঠপর্যায়ের তথ্য, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিবর্তনের দাবি বরিশালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মোঃ ফয়সাল আলমের কর্মকাণ্ডে একটি দৃশ্যমান পরিবর্তনের কথা বলছেন স্থানীয় ঠিকাদার, প্রকৌশলী এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের একটি অংশ। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি গতিশীলতা এসেছে। একজন জ্যেষ্ঠ ঠিকাদার বলেন, “আগে অনেক প্রকল্প বছরের পর বছর ঝুলে থাকত। এখন কাজের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় এবং সেটি বাস্তবায়নের জন্য নিয়মিত চাপ থাকে।” এই পরিবর্তনের অন্যতম দিক হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে নিয়মিত তদারকি এবং কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ। সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে প্রকল্পগুলোর ওপর সরাসরি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং বিলম্বের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে। একজন বিভাগীয় কর্মকর্তা বলেন, “প্রতিটি প্রকল্পের অগ্রগতি এখন নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। কাজের মান এবং সময়—দুটিকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।” গুণগত মান নিশ্চিতে কঠোরতা গণপূর্ত বিভাগের কাজের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে যে অভিযোগটি সবচেয়ে বেশি ছিল, তা হলো নিম্নমানের নির্মাণ। অনেক ক্ষেত্রে অল্প সময়ের মধ্যেই ভবন বা অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি দেখা যেত, যা সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি জনস্বার্থের জন্যও ক্ষতিকর। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন বলে দাবি করছেন কয়েকজন প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার। তাদের ভাষ্যমতে, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে এখন কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। একজন ঠিকাদার বলেন, “বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলীর অধীনে কাজের গুণগত মান তদারকি করা হয় নিয়মিত। কোনো ধরনের নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।” আরেকজন যোগ করেন, “আগে অনেক সময় কাজ শেষ হলেই বিল পাওয়া যেত। এখন কাজের মান যাচাই না করে বিল ছাড় হয় না।” এই কঠোরতার ফলে কিছু ক্ষেত্রে কাজের খরচ ও সময় বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিল উত্তোলনে স্বচ্ছতা: নতুন বার্তা? গণপূর্ত বিভাগের কাজের সঙ্গে জড়িত একটি বড় অভিযোগ ছিল বিল উত্তোলনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ বা কমিশন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা। অনেক ঠিকাদারই অভিযোগ করতেন, নির্ধারিত বিল পেতে হলে “অফ দ্য রেকর্ড” অর্থ লেনদেন করতে হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা বলছেন কয়েকজন ঠিকাদার। তাদের ভাষ্যমতে, “বিল উত্তোলনের ক্ষেত্রে কোনো অতিরিক্ত অর্থ বা কমিশনের প্রয়োজন হয় না। কাগজপত্র ঠিক থাকলে বিল সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে।” এই পরিবর্তনকে তারা একটি বড় ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন। তবে কিছু ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সব ক্ষেত্রে একরকম নয়। তবে আগের তুলনায় পরিস্থিতি অনেক ভালো।” অতীতের ছায়া: অনিয়ম ও কমিশন সংস্কৃতি বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের অতীত ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিভিন্ন সময়ে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি প্রকল্পের বাজেট বৃদ্ধি, নিম্নমানের কাজ, এবং কাজের বিনিময়ে ঘুষ নেওয়ার মতো অভিযোগ নতুন নয়। একজন সাবেক কর্মকর্তা বলেন, “এই বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে একটি অনানুষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, যেখানে কাজের প্রতিটি ধাপে কমিশনের বিষয়টি জড়িয়ে ছিল।” এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান পরিবর্তন হয়েছে।বর্তমানে সেই ঘুষ ও কমিশন সংস্কৃতি নেই। দুর্নীতি দমনের দাবি ও বাস্তবতা স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, মোঃ ফয়সাল আলম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই অনিয়মের প্রবণতা কমেছে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ হয়েছে। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “আগে শুনতাম কাজ পেতে হলে অনেক কিছু করতে হয়। এখন অন্তত সেই ধরনের কথা কম শোনা যায়।” সংশ্লিষ্ট মহলে তার সততা নিয়ে ইতিবাচক ধারণা থাকার কথাও উঠে এসেছে। অনেকেই মনে করছেন, তিনি প্রশাসনিকভাবে একটি বার্তা দিতে পেরেছেন—অনিয়মের ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা।তবে এই অবস্থান তাকে কিছু বিরোধিতার মুখেও ফেলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একজন কর্মকর্তা বলেন, “যখন অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তখনই একটি মহল অপপ্রচারে লিপ্ত হয়। এটি নতুন কিছু নয়।” অপপ্রচার ও সমালোচনা ফয়সাল আলমকে ঘিরে একটি বিতর্কও তৈরি হয়েছে—তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ এবং সমালোচনা ছড়ানো হচ্ছে বিভিন্ন মহলে। তবে এই অভিযোগগুলোর অনেকটাই অস্পষ্ট বা প্রমাণবিহীন বলে দাবি করছেন ঠিকাদাররা। একজন ঠিকাদার বলেন, “যারা আগে সুবিধা পেত, তারা এখন অসুবিধায় পড়ছে। তাই তারা বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।” তবে নিরপেক্ষ বিশ্লেষকরা বলছেন, যেকোনো প্রশাসনিক পরিবর্তনের সময়ই দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়—সমর্থন ও বিরোধিতা। জবাবদিহির প্রশ্ন গণপূর্ত বিভাগের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর থেকেও এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, “কোনো কর্মকর্তা ভালো কাজ করলে যেমন স্বীকৃতি পাবেন, তেমনি অনিয়ম করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বিশেষজ্ঞদের মতে, “ব্যক্তিনির্ভর পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হয় না। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারই টেকসই সমাধান।” প্রশাসনিক চাপ ও বাস্তব চ্যালেঞ্জ একজন নির্বাহী প্রকৌশলীর জন্য কাজ করা শুধুমাত্র প্রকল্প বাস্তবায়ন নয়—এর সঙ্গে জড়িত থাকে রাজনৈতিক চাপ, প্রশাসনিক জটিলতা এবং বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠীর প্রভাব। এই বাস্তবতা স্বীকার করে নিজেই কথা বলেছেন মোঃ ফয়সাল আলম। তিনি বলেন, “রাষ্ট্র আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছি। কাজের ক্ষেত্রে বাধা আসে, বিশেষ করে যখন অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।” এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, তিনি নিজেও চাপ ও প্রতিরোধের বিষয়টি অস্বীকার করছেন না। নেতৃত্বের ধরন: কড়াকড়ি নাকি সংস্কার? ফয়সাল আলমের নেতৃত্বের ধরন নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ তাকে কঠোর এবং নীতিনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন তার কড়াকড়ি কিছু ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করছে। একজন কর্মকর্তা বলেন, “তিনি নিয়ম মেনে কাজ করতে বলেন, যা অনেকের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা।” অন্যদিকে একজন ঠিকাদার বলেন, “কখনো কখনো অতিরিক্ত কঠোরতার কারণে কাজের গতি কমে যায়।” এই দুই ধরনের মতামতই একটি পরিবর্তনশীল প্রশাসনিক বাস্তবতার প্রতিফলন। জনমত: আশা ও সংশয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ফয়সাল আলমকে নিয়ে একটি মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ তাকে পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এখনো অপেক্ষা করছেন দৃশ্যমান ফলাফলের জন্য। একজন শিক্ষার্থী বলেন, “যদি সত্যিই দুর্নীতি কমে থাকে, তাহলে এটি খুবই ভালো উদ্যোগ।” একজন প্রবীণ নাগরিকের মন্তব্য, “অনেকেই ভালো শুরু করেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ধারাবাহিকতা থাকে না। দেখার বিষয় হলো, এটি কতদিন টিকে।” ভবিষ্যতের পথ: টেকসই সংস্কারের প্রয়োজন বিশ্লেষকদের মতে, একজন কর্মকর্তার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটি টেকসই করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তারা কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন: * স্বচ্ছ টেন্ডার প্রক্রিয়া * ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা * স্বাধীন অডিট * জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে গণপূর্ত বিভাগের কাজের মান আরও উন্নত হতে পারে। বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের বর্তমান চিত্রে মোঃ ফয়সাল আলম একটি আলোচিত নাম। তার নেতৃত্বে উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি এসেছে—এমন দাবি যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে অপপ্রচার ও স্বার্থসংঘাতের অভিযোগ। বাস্তবতা সম্ভবত এই দুইয়ের মাঝামাঝি কোথাও অবস্থান করছে। একদিকে, কাজের গতি ও গুণগত মান নিয়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে, এই পরিবর্তন কতটা গভীর এবং দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা এখনো সময়ই বলে দেবে। শেষ পর্যন্ত, ফয়সাল আলমের নিজের কথাতেই বিষয়টি সবচেয়ে ভালোভাবে প্রতিফলিত হয়: “আমি কাজ করে যেতে চাই—মূল্যায়ন জনগণই করবে।” বরিশালের মানুষ এখন সেই মূল্যায়নের অপেক্ষায়।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন নিয়ে অনিয়ম ও বিতর্কের বিষয়টি সামনে এনেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। মঙ্গলবার সম্মেলনের তৃতীয় দিনের কার্যক্রমে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। একইসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্মিত ‘বীর নিবাস’ প্রকল্পেও দলীয়করণের অভিযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে জেলা প্রশাসকদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। “অনিয়ম ও দুর্নীতিমুক্তভাবে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করতে প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি,” বলেন তিনি। এর আগে একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম বলেন, দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে সশস্ত্র বাহিনী যে সহায়তা দিয়ে আসছে, তাতে জেলা প্রশাসকেরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও বলেন, সরকার সামরিক বাহিনীকে জনমুখী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ভবিষ্যতেও দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী সিভিল প্রশাসন ও সামরিক বাহিনী একসঙ্গে কাজ করবে। জেলা প্রশাসক সম্মেলনকে সরকারের নীতিনির্ধারণী ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা হয়, যেখানে মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বরিশাল অফিস : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বরিশাল জেলায় নির্বাচন ব্যয়ের অর্থ ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জেলার রিটার্নিং অফিসার এবং বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন। একাধিক সূত্রের দাবি, প্রকৃত বাস্তবতার তুলনায় দুর্গম ভোট কেন্দ্র ও ভোট কক্ষের সংখ্যা অতিরিক্ত দেখিয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে বরাদ্দকৃত অর্থের একটি অংশ আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে—এমন আলোচনা প্রশাসনের অভ্যন্তরে রয়েছে। তবে এ অভিযোগের আর্থিক পরিমাণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। একটি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, সম্ভাব্য অনিয়মের পরিমাণ প্রায় ৬২ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ১৩ কোটি টাকার বরাদ্দ ও ব্যয়ের কাঠামো চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি উপসচিব (নির্বাচন পরিচালনা–১) রাশেদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি স্মারকের মাধ্যমে বরিশাল জেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পরিচালনার জন্য মোট ১৩ কোটি ১১ লাখ ২২ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দপত্র অনুযায়ী, সাধারণ ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পরিবহন ও ফেরত আনার জন্য কেন্দ্রপ্রতি ৫ হাজার টাকা এবং দুর্গম কেন্দ্রের ক্ষেত্রে ৭ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। দুর্গম কেন্দ্র ও কক্ষের সংখ্যায় ভিন্নতা বরিশাল জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসারের একটি স্মারক অনুযায়ী, জেলায় দুর্গম ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৯৫টি এবং দুর্গম ভোট কক্ষ ১,৮৯৩টি। তবে বিভিন্ন উপজেলা নির্বাচন অফিসের নথিতে এই সংখ্যায় অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে। নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়— মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় দুর্গম কেন্দ্র প্রথমে ১০০টি উল্লেখ থাকলেও পরে তা সংশোধন করে ৫৫টি করা হয়। মুলাদীতে ৭২টি কেন্দ্রের সংখ্যা পরে কমিয়ে ৩৯টি করা হয়। হিজলায় ৪৯টি কেন্দ্র কমিয়ে ২৩টি করা হয়। বানারীপাড়া, উজিরপুর, বাবুগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ ও বরিশাল সদরে দুর্গম কেন্দ্র ও কক্ষের সংখ্যা ভিন্ন ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। গৌরনদী উপজেলায় দুর্গম কেন্দ্র ও কক্ষ শূন্য দেখানো হয়েছে। নথিগুলোতে একাধিকবার কাটাছেঁড়া ও সংশোধনের বিষয়টি দেখা গেলেও এসব পরিবর্তনের অনুমোদন কে দিয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। অর্থ না পেয়েও বিল-ভাউচার জমার অভিযোগ একাধিক সূত্রের দাবি, কিছু উপজেলা পর্যায়ে এখনো নির্বাচনী ব্যয়ের অর্থ পৌঁছায়নি, যদিও সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ ইতোমধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, “জেলা অফিসে ডেকে বিল-ভাউচার জমা দিতে বলা হয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো অর্থ হাতে পাইনি।” তবে এই বক্তব্যও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনিক বদলি নিয়ে প্রশ্ন সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, নির্বাচনকালীন সময়ে কিছু কর্মকর্তার পদায়ন ও বদলিকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থসংক্রান্ত তথ্য বা অনিয়ম নিয়ে জানতেন—এমন কয়েকজন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন শাখা বা জেলায় বদলি করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় অনীহা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একাধিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অনেকেই ফোন রিসিভ করেননি বা মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম সরওয়ার বলেন, “নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্যের জন্য উপজেলা নির্বাচন অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।” এরপর তিনি কল কেটে দেন। অন্যদিকে জেলা প্রশাসন বা রিটার্নিং কর্মকর্তার পক্ষ থেকেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যা এখনো স্পষ্ট নয় বর্তমানে যেসব প্রশ্নের উত্তর অনিশ্চিত রয়ে গেছে— দুর্গম কেন্দ্র ও কক্ষের সংখ্যা কেন একাধিক নথিতে ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হলো সংশোধিত নথির অনুমোদন কে দিয়েছে বরাদ্দকৃত অর্থ মাঠপর্যায়ে পৌঁছেছে কি না এবং অভিযোগ অনুযায়ী অর্থ ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না বরিশালে নির্বাচন ব্যবস্থাপনার অর্থ বরাদ্দ ও ব্যয় সংক্রান্ত এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন ও অসমর্থিত। প্রশাসনের অভ্যন্তরে আলোচনা ও নথিগত ভিন্নতার বিষয়টি সামনে এলেও, এর সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। এই মুহূর্তে সব অভিযোগই প্রাথমিক পর্যায়ের দাবি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, এবং চূড়ান্ত সত্য নির্ধারণের জন্য সরকারি ও স্বাধীন তদন্তের অপেক্ষা রয়েছে।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: পটুয়াখালী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এস.এম. দেলোয়ার হোসেন।তিনি পটুয়াখালীতে যোগদানের পুর্বে ভোলা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ভোলায় থাকাকালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সরকারি তহবিল অপব্যবহার করে একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পটুয়াখালীতে যোগদান করে আবারো শুরু করেছেন ভোলার কর্মরত থাকাকালীন সময়ের মত ঘুষ,অনিয়ম ও দুর্নীতি। রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা ও প্রভাবের অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে তোফায়েল আহমেদ-এর পালকপুত্র বিপ্লবের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। স্থানীয় কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, এই সম্পর্কের ভিত্তিতে তিনি বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ সূত্র অভিযোগ করেছে, সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তিনি ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, যার মধ্যে ব্যক্তিবিশেষের জন্য অবৈধ সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ও রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দেলোয়ার হোসেন তোফায়েল আহমেদের পালকপুত্র বিপ্লবকে নারী ও মদ সরবরাহের মূল দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘদিন। সরকারি পদে থেকে এমন অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ার কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ জনগণের মাঝে দীর্ঘদিন ধরেই চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছিল। বিশেষ করে বিপ্লবের বিভিন্ন নৈশ আসরে নারী সরবরাহ ও মদের ব্যবস্থা করা ছিল তার নিয়মিত দায়িত্ব। ত্রাণ তহবিল অপব্যবহারের দাবি স্থানীয়ভাবে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, দুর্যোগ ও ত্রাণ খাতের অর্থ বরাদ্দ থেকে নিয়মিত কমিশন নেওয়া হতো এবং সেই অর্থ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাদের পেছনে ব্যয় করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ত্রাণের জিআর (Gratuitous Relief) বরাদ্দের প্রতি টন থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ কেটে নেওয়া হতো।দেলোয়ার হোসেন দুর্যোগ ও ত্রাণ খাতের অর্থ অপব্যবহার করে তা ব্যয় করতেন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন নেতার পেছনে। অভিযোগ রয়েছে, ভোলা জেলা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতিকে আন্দোলন দমনে সহযোগিতার বিনিময়ে কয়েক দফায় দিয়েছেন কয়েক লক্ষ টাকা। এই অর্থ তিনি জিআর ফাইলের প্রতিটি টনের বরাদ্দ থেকে ১০ হাজার টাকা কমিশন হিসেবে পেতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন গত বছরের আগস্টের পর তার বদলি ভোলা থেকে পটুয়াখালীতে হওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, এই বদলির পেছনে আর্থিক লেনদেন এবং প্রভাবশালী মহলের ভূমিকা রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে ছাত্র-সমন্বয়কের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ভোলা থেকে পটুয়াখালী বদলি হন। স্থানীয় সূত্র দাবি করছে, এই বদলির পেছনে আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি প্রভাবশালী মহলের চাপও কাজ করেছে। সম্পদ অর্জনের অভিযোগ দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি তার আত্মীয়দের সঙ্গে মিলে পরিবহন ব্যবসা গড়ে তুলেছেন এবং বরিশাল ও নিজের এলাকায় বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, এসব সম্পদের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকার বেশি হতে পারে। সরকারি চাকরির আড়ালে তিনি নিজের ভায়রা ভাইকে নিয়ে গড়ে তুলেছেন পরিবহন ব্যবসা। জমি, বাড়ি, যানবাহনসহ নগদ টাকা ও সম্পদের পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে ধারণা স্থানীয়দের। প্রতিক্রিয়া জানতে ব্যর্থতা এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে তার নিজস্ব ও সরকারি নম্বরে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি। গলাচিপায় ঘুষ কেলেঙ্কারি : ঘুষ দাবির অভিযোগ পুরোনো এস এম দেলোয়ার পটুয়াখালীর গলাচিপায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে ২০২০ সালের জুন মাসে এক ঠিকাদারের কাছে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগের পর আলোচনায় আসেন। সুত্র জানায়, পটুয়াখালীর গলাচিপায় একটি কালভার্ট নির্মাণের চূড়ান্ত বিলের জন্য ঠিকাদারের কাছে চার লাখ টাকা ঘুষ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এস এম দেলোয়ারের বিরুদ্ধে। পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ২১ জুন'২০২০ তারিখ পিআইও এস এম দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে চার লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগ করেছেন ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সাইফুল ইসলাম ঠিকাদারি কাজের পাশাপাশি ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তিনি ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের কালিকাপুর মাদ্রাসা সংলগ্ন রাস্তায় প্রায় ৩১ লাখ টাকায় ৩৬ ফুট দীর্ঘ একটি কালভার্ট নির্মাণের কাজ পান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার সময়সীমা দিয়ে ২০১৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেন পিআইও এস এম দেলোয়ার হোসেন। প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজটি সম্পন্ন করে ঠিকাদার ৮ জুন গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চূড়ান্ত বিলের জন্য আবেদন করেন। ওই দিনই পিআইও দেলোয়ার হোসেন ঠিকাদার সাইফুলের বাবা আব্দুস সালামকে ডেকে নিয়ে বিলের জন্য চার লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।এই ঘুষের ঘটনা জানাজানি হলে বেকায়দায় পরেন এস এম দেলোয়ার। উপায় না দেখে তখন বিনা ঘুষে ঐ ঠিকাদারের বিল দিয়ে দেন। তদন্তের প্রয়োজনীয়তা জনপ্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে বিশ্লেষকদের মত। তবে এখনই নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্পষ্ট হতে পারে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিদ্যুৎ লাইসেন্স প্রদানকে কেন্দ্র করে ঘুষের অভিযোগে করা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট দফতর নড়েচড়ে বসেছে। তবে এখন পর্যন্ত গৃহীত পদক্ষেপ সীমাবদ্ধ রয়েছে দুই নিম্নপদস্থ কর্মচারীর বদলিতে—যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি শুধুই ‘লোক দেখানো ব্যবস্থা’। শনিবার (২৫ এপ্রিল) উপপ্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শক ও কল্যাণ বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী আতাউর রহমান মোল্লা জানান, অফিস সহায়ক সাখাওয়াত হোসেন বাবু এবং অফিস সহকারী উইলিয়াম হোসেনকে শিগগিরই বদলি করা হবে। এ বিষয়ে আদেশ এক-দু’দিনের মধ্যেই জারি হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিভাগীয় তদন্ত, সাময়িক বরখাস্ত কিংবা ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো অবস্থান জানাননি। এতে করে জবাবদিহি নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। দফতরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গণমাধ্যমে তথ্য প্রকাশের পর চাপের মুখে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে তাদের দাবি, প্রকৃত দায়ীদের আড়াল করতেই এই পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এমন একটি ঘুষ-বাণিজ্যে কেবল দুই নিম্নপদস্থ কর্মচারীর সম্পৃক্ততা বিশ্বাসযোগ্য নয়। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, লাইসেন্স বাণিজ্যের আড়ালে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল, যার নেতৃত্বে রয়েছেন প্রকৌশলী আতাউর রহমান মোল্লা। অভিযোগ রয়েছে, ঘুষের অর্থের একটি অংশ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও পৌঁছাতো। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এদিকে, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “এই খাতে দুর্নীতি দীর্ঘদিনের। শুধুমাত্র বদলি দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত, পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনের সরাসরি হস্তক্ষেপ।” তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্টদের সম্পদের হিসাব যাচাই জরুরি। “যদি নিম্নপদস্থ কর্মচারীর এত সম্পদ থাকে, তাহলে উচ্চপদস্থদের আয় কত—সে প্রশ্নও ওঠে,” যোগ করেন তিনি। ৬৬৪ কোটি টাকার ঘুষের অভিযোগ সামনে আসার পর ঘটনাটি এখন বড় ধরনের জনআলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, এই অভিযোগ কি শুধুই প্রশাসনিক বদলির মাধ্যমে চাপা পড়ে যাবে, নাকি প্রকৃত অর্থেই জবাবদিহির প্রক্রিয়া শুরু হবে।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: এসএসসি পরীক্ষা চলমান।বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারনে জ্বালানী ও বিদ্যুত সংকটের মাঝে বরিশালের জিলা স্কুলের পশ্চিম পাশ্বের মাঠে বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের মেলা পরিপত্র উপেক্ষা করে অবৈধভাবে শুরু হতে যাচ্ছে এ বানিজ্য মেলা। বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের রপ্তানী -৭ শাখা থেকে ২০২৪ সালের ২৩ জুন "মেলা পরিপত্র " জারি করে। মেলা পরিপত্রের ৫ নম্বরে মেলা আয়োজনের শর্তাবলীর অন্যতম হল - কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজন করা যাবেনা। অথচ এস এস সি পরীক্ষার মাঝেই স্কুল মাঠে অবৈধ ভাবে বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের মেলা পরিপত্র উপেক্ষা করে শুরু হতে যাচ্ছে বানিজ্য মেলা। সমাজ সচেতন ও ছাত্র -জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে অবৈধ মেলার আয়োজন দেখে। বরিশালে বানিজ্য মেলার আয়োজক কমিটির নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলাকারী তাদের বিতর্কিত ও সহিংস ভূমিকা রাখা ও জুলাই বিপ্লবের সময় মিরপুরে ছাত্র-জনতার ওপর বর্বরোচিত হামলা পরিচালনাকারী সবুজ হোসেন। মেলার আয়োজক কমিটির অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য সবুজ হোসেন ঢাকা-১৪ আসনের সাবেক বিতর্কিত এমপি এবং যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন নিখিলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী। জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনে মিরপুর-১০ এলাকায় মাইনুল হোসেন নিখিলের প্রত্যক্ষ নির্দেশে সবুজের নেতৃত্বেই ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, শুধু মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় থাকাই নয়, আন্দোলনকারীদের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের নিয়মিত অস্ত্র, খাবার ও অর্থের জোগানদাতা হিসেবে সবুজের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা বরিশালে চলমান এসএসসি পরীক্ষার মধ্যে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে বাণিজ্য মেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের একাংশ অভিযোগ করছেন—সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে এই আয়োজন করা হচ্ছে, যা পরীক্ষার্থীদের জন্য বিরূপ পরিবেশ তৈরি করতে পারে। মাঠ নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক মেলার জন্য নির্ধারিত স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বরিশাল জিলা স্কুলের পশ্চিম পাশের মাঠ। কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ২৩ জুন জারি করা ‘মেলা পরিপত্র’-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে—কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে বাণিজ্য মেলা আয়োজন করা যাবে না। স্থানীয়দের প্রশ্ন, এই নির্দেশনা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও কীভাবে স্কুল প্রাঙ্গণে মেলার প্রস্তুতি শুরু হলো, বিশেষ করে যখন একই সময়ে এসএসসি পরীক্ষা চলছে। একজন অভিভাবক বলেন, “পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের জন্য শান্ত পরিবেশ সবচেয়ে জরুরি। সেখানে মেলা হলে শব্দ, ভিড়—সবকিছুই তাদের ক্ষতির কারণ হতে পারে।” অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন পরিপত্র অনুযায়ী, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ছাড়া দেশের অন্য কোনো স্থানে মেলা আয়োজন করতে হলে অন্তত দুই মাস আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হয়। জেলা পর্যায়ে আয়োজনের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের অনাপত্তিপত্রও বাধ্যতামূলক। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এই প্রক্রিয়াগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। ফলে অনুমোদনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আয়োজকদের পরিচয় ও অতীত নিয়ে অভিযোগ মেলার আয়োজক কমিটির পেছনে থাকা সবুজ হোসেন'র ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে মেলার আয়োজক কমিটির অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য সবুজ হোসেন ঢাকা-১৪ আসনের সাবেক বিতর্কিত এমপি এবং যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন নিখিলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী। জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনে মিরপুর-১০ এলাকায় মাইনুল হোসেন নিখিলের প্রত্যক্ষ নির্দেশে সবুজের নেতৃত্বেই ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, শুধু মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় থাকাই নয়, আন্দোলনকারীদের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের নিয়মিত অস্ত্র, খাবার ও অর্থের জোগানদাতা হিসেবে সবুজের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন—এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। চেম্বার অব কমার্সের নাম ব্যবহারের অভিযোগ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সবুজ হোসেন দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে ছিলেন। বর্তমানে তিনি ভোল পাল্টে বরিশালে এসে ঘাঁটি গেড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, বরিশাল চেম্বার অব কমার্স এর শীর্ষ কর্তাদের কাছে নিজের পরিচয় গোপন করে সবুজ কৌশল করে বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের নাম ব্যবহার করে বানিজ্য মেলা আয়োজন করতে যাচ্ছে। বরিশালের জিলা স্কুলের মাঠে এই মেলার আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি, একটি শিক্ষাবান্ধব এলাকায় ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনের এই চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।। সংশ্লিষ্ট সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা না আসায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রতিবাদ মেলার প্রস্তুতি শুরু হওয়ার পর থেকেই এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। কিছু ছাত্র সংগঠন ও স্থানীয় নাগরিক মেলার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। একজন ছাত্র প্রতিনিধি বলেন, “যদি নিয়ম ভেঙে এই আয়োজন চালানো হয়, তাহলে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে এর প্রতিবাদ করব।” সরকারি নির্দেশনায় কী আছে ‘মেলা পরিপত্র ২০২৪’-এ আরও যেসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজন নিষিদ্ধ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া বিদেশি শিল্পী অংশ নিতে পারবেন না অবৈধ বা আমদানিনিষিদ্ধ পণ্য বিক্রি করা যাবে না অশালীন বা অসামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা নিষিদ্ধ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে এমন কিছু প্রচার করা যাবে না এছাড়া মেলার ধরন ও সময় অনুযায়ী নির্ধারিত ফি সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই প্রশাসনের উচিত বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা। বিশেষ করে— অনুমোদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না স্থান নির্বাচন নিয়মসম্মত কি না আয়োজকদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এসব বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত না এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। একদিকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, অন্যদিকে সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ—এই দুইয়ের মাঝে পড়ে বরিশালের পরিস্থিতি এখন স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। প্রশ্ন এখন একটাই: নিয়ম ভেঙে মেলা আয়োজনের অভিযোগ কতটা সত্য, আর প্রশাসন কীভাবে এ পরিস্থিতি সামাল দেয়—সেটিই নির্ধারণ করবে পরবর্তী পরিস্থিতির গতিপথ। বাণিজ্য মেলা করা যাবে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে বাণিজ্য মেলা নিষিদ্ধ ১ জুলাই ২০২৪ থেকে কার্যকর 'মেলা পরিপত্র ২০২৪' অনুযায়ী, দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে বাণিজ্য মেলা বা কোনো ধরনের বাণিজ্যিক প্রদর্শনী আয়োজন করা যাবে না । শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, পড়াশোনা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে । তবে, স্থানীয় কৃষ্টি ও সংস্কৃতিভিত্তিক মেলা (যেমন: বইমেলা, বৈশাখী মেলা) এর আওতামুক্ত । মূল নির্দেশনাসমূহ: নিষিদ্ধ স্থান: স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ । সাংস্কৃতিক অনুমতি: কোনো মেলায় বিদেশি শিল্পী বা মডেলের অংশগ্রহণ করতে হলে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগবে । পণ্য ও পরিবেশ: মেলায় কোনো ধরনের অবৈধ, আমদানিনিষিদ্ধ পণ্য বিক্রি বা অসামাজিক, অশালীন কার্যক্রম চালানো যাবে না । মাশুল (ফি): স্থানীয় পর্যায়ে মেলা আয়োজনের মাশুল দিনভেদে ৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত ।
বরিশাল অফিস : বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ পরিদর্শক জসীম উদ্দীন (পরিচিতি নং-৩১১১৪) এর বিরুদ্ধে মাদক উদ্ধারের নামে সাধারন মানুষদের হয়রানী।বাসা বাড়িতে প্রবেশ করে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি ,অর্থ আদায়, অর্থ না পেলে মাদকদ্রব্য দিয়ে আটকসহ ঘুষ বনিজ্য রমরমার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে জসীম উদ্দীনকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর একটি বিভাগীয় মামলার আদেশে একজন অভ্যাসগত অপরাধী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়। তিন তিনটে বিভাগীয় মামলা হলেও বার বার ঘুষের বিনিময়ে ও ক্ষমতার প্রভাবে পার পেয়ে যান জসীম উদ্দিন। বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত হলেও জসীম উদ্দিনকে বদলী করা হয় বরিশালে। বরিশালে যোগদানের পরেই পুর্বের কর্মস্থলের মত ঘুষ আদায়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেন।বরিশালে মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে এসে মাদক কারবারিদের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ পরিদর্শক জসীম উদ্দিন। মাদক বিক্রেতাদের পথ মসৃণ করে দিয়ে নিজের পকেটে ভরছেন মাসোহারা। বেপরোয়া উপ পরিদর্শক জসীম অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন মাদক কারবারির কাছ থেকে নেওয়া সেই মাসোহারার ভাগ পান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও। যে কারণে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন উপ পরিদর্শক জসীম। বরিশালে যোগদান করার পর আগের রূপে ফিরেছেন জসীম উদ্দিন। একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, বরিশাল নগরীর চিহ্নিত মাদক কারবারিদের সঙ্গে জসীমের দোস্তি সম্পর্ক রয়েছে। নগরীর রিফিউজি কলোনির ‘গাঁজাসম্রাট’ রফিকের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নেন জসীম। কাউনিয়ার জোসনা, সুমি, কেডিসির নিলু, ডিজে লিটন, বাবু নাজু, আসমা-পারুল, মানিক, রুবেল, ময়না ও খলিলের কাছ থেকে নিয়মিত ঘুসের টাকা নেন জসীম। নগরীতে চোলাই মদের ঘরগুলো থেকে মাসোহারা উঠান জসীম। অভিযোগ রয়েছে, মাদকসহ আটক করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আসামিদের ছেড়ে দেন তিনি। অভিযোগের পুনরাবৃত্তি না প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা? বরিশালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ পরিদর্শক জসীম উদ্দীনকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ নতুন নয়—বরং এটি একটি দীর্ঘ ধারাবাহিকতার অংশ, যা প্রশাসনিক নথি, বিভাগীয় তদন্ত এবং স্থানীয় অভিযোগের মধ্যে এক অস্বস্তিকর সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। অতীতে একাধিক বিভাগীয় মামলায় অভিযুক্ত হওয়া, শাস্তি পাওয়া এবং তারপরও দায়িত্বে বহাল থাকা—এই ঘটনাপ্রবাহ এখন নতুন কর্মস্থলেও একই ধরনের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলে দাবি উঠেছে। এই প্রতিবেদনে সরকারি নথি, বিভাগীয় তদন্তের তথ্য এবং সাম্প্রতিক অভিযোগগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা হয়েছে—একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযোগ কীভাবে প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে টিকে থাকে এবং তার প্রভাব কী হতে পারে। অভিযোগের প্রকৃতি: অভিযানের আড়ালে অনিয়ম? স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, মাদকবিরোধী অভিযানের নামে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অর্থ আদায়ের মতো কর্মকাণ্ড ঘটছে। অভিযোগে বলা হয়— * বাড়িতে তল্লাশির সময় মাদক দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয় * অর্থ দিলে অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়া হয় * অর্থ না দিলে “মাদক উদ্ধার” দেখিয়ে মামলা দেওয়া হয় এ ধরনের অভিযোগ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রম নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি করছে, বিশেষ করে যখন অভিযুক্ত ব্যক্তি অতীতেও একই ধরনের অভিযোগে তদন্ত ও শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন। নথিতে যা পাওয়া যায়: ২০২৪ সালের অফিস আদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অধীন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি অফিস আদেশ (২০ অক্টোবর ২০২৪) অনুযায়ী, উপ পরিদর্শক জসীম উদ্দীন শেরপুরে কর্মরত থাকাকালীন বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগের মুখোমুখি হন। নথিতে উল্লেখ করা হয়— * মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলা * মাসোহারা গ্রহণের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রমে সহায়তা করা * অভিযানে জব্দ মাদক অন্যত্র বিক্রির অভিযোগ * মাদকসেবীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় * অর্থের বিনিময়ে আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া এছাড়া, নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ একাধিকবার মৌখিকভাবে সতর্ক করলেও তিনি তা আমলে নেননি বলেও উল্লেখ করা হয়। নির্দিষ্ট একটি অভিযান: তদন্তে যা উঠে আসে ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি শেরপুর সদর থানাধীন একটি এলাকায় পরিচালিত অভিযানের সময় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা পরবর্তীতে বিভাগীয় তদন্তের কেন্দ্রে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযানের সময় মাদক সেবনকারী মোঃ মিনালকে গাঁজাসহ আটক করে মারধর করা হয়। পরে তার স্ত্রী ১০ হাজার টাকা দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তদন্তে উঠে আসে— * প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন * অভিযানে অংশগ্রহণকারী দলের সদস্যদের সনাক্ত করা গেছে * অভিযুক্ত কর্মকর্তা ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন এই ঘটনাটি শেরপুর জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও আলোচিত হয়, যা সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে নথিতে উল্লেখ আছে। বিভাগীয় তদন্ত ও সিদ্ধান্ত সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী উপ পরিদর্শক জসীম উদ্দীনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। বিভাগীয় মামলা নং-০৫/২০২৪ । তদন্ত শেষে অভিযোগ “প্রমাণিত” বলে উল্লেখ করা হয় এবং তাকে গুরুদণ্ডযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়— * ভুক্তভোগী শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন * অর্থ গ্রহণের বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে * অভিযানের নেতৃত্বদানকারী হিসেবে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই এরপর তাকে চাকরিচ্যুত করার বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি লিখিত জবাব দাখিল করলেও তা সন্তোষজনক নয় বলে বিবেচিত হয়। পূর্বের শাস্তির ইতিহাস নথিপত্র অনুযায়ী, এটি ছিল না তার বিরুদ্ধে প্রথম বিভাগীয় ব্যবস্থা। * ২০১৯ সালে একটি মামলায় তার বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থায়ীভাবে স্থগিত করা হয়,(বিভাগীয় মামলা নম্বর -১৯/২০১৯) । * ২০২১ সালে তাকে তিরস্কার দণ্ড দেওয়া হয়,(বিভাগীয় মামলা নম্বর -১২৩/২০২১)। * ২০২৪ সালে বেতন গ্রেডের নিম্নতর ধাপে অবনমিতকরণ দন্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়,(বিভাগীয় মামলা নম্বর -০৫/২০২৪ )। তবুও তার আচরণে পরিবর্তন হয়নি বলে নথিতে উল্লেখ করা হয় এবং তাকে “অভ্যাসগত অপরাধী” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: বরখাস্ত নয়, অবনমন যদিও তদন্তে অভিযোগ গুরুতর হিসেবে প্রমাণিত হয় এবং তাকে চাকরিচ্যুত করার সুপারিশ উঠে আসে, শেষ পর্যন্ত তাকে বরখাস্ত করা হয়নি। নথিতে উল্লেখ করা হয়— * তার ওপর পরিবারের নির্ভরশীলতা (বৃদ্ধ মা, স্ত্রী, তিন সন্তান) * আর্থিক অবস্থা * “শেষবারের মতো আত্মশুদ্ধির সুযোগ” এই বিবেচনায় তাকে বেতন গ্রেডে তিন ধাপ নিচে নামিয়ে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক কঠোরতা বনাম মানবিক বিবেচনার ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে—বিশেষ করে যখন অভিযোগগুলো গুরুতর এবং পুনরাবৃত্ত। বরিশালে নতুন অধ্যায়: পুরোনো অভিযোগের পুনরাবৃত্তি ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর বরিশালে যোগদানের পর থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আবারও একই ধরনের অভিযোগ উঠতে শুরু করে। স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ— * মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ গ্রহণ * অভিযানে পাওয়া মাদক অন্যত্র বিক্রি * মাদকসেবীদের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় সাম্প্রতিক অভিযোগ: দুটি ঘটনার বিবরণ প্রথম ঘটনা:- বরিশাল নগরীর সার্কুলার রোড এলাকায় এক ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশির সময় মাদক না পেয়ে ঘরে থাকা ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে তাকে ইয়াবা দিয়ে আটক দেখানো হয় বলে দাবি। দ্বিতীয় ঘটনা: গোরস্থান রোডে এক ইট ও বালু ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশির সময় তার স্ত্রীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ঘুষ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে মাদক দিয়ে আটক করার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই অভিযোগগুলো পূর্বের নথিভুক্ত ঘটনার সঙ্গে মিল থাকায় তা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেন ফেনসিডিল বিক্রেতাকে লুৎফর রহমান সড়কের ফেনসিডিল বিক্রেতা বাবুল তালুকদারকে ছয় বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করে ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেন জসীম। এর কয়েক মাস আগে বরিশাল সদর উপজেলার লাকুটিয়া সড়কে নয়ন নামের এক মাদক বিক্রেতাকে তিনশ পিস ইয়াবাসহ আটক করার পর তিন লাখ টাকার বিনিময়ে অল্প কয়েকপিস ইয়াবা দিয়ে মামলা দেন জসীম। এই ঘটনার পরপরই নগরীর পলাশপুর এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি গাঁজা কালাম ও তার পরিবারের চারজনকে ছয় কেজি গাঁজাসহ আটক করেন তিনি। পরে চার লাখ টাকার বিনিময়ে তিনজনকে মুক্তি দিয়ে ছয় কেজি গাঁজার পরিবর্তে দুই কেজি গাঁজা উদ্ধার দেখিয়ে গাঁজা কালামের বিরুদ্ধে মামলা দেন তিনি। কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়া অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, তিনি তল্লাশি দলের সদস্য ছিলেন এবং বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। তবে তার বিরুদ্ধে আনা পূর্বের বিভাগীয় মামলা বা নতুন অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। প্রাতিষ্ঠানিক প্রশ্ন: জবাবদিহিতা কোথায়? এই ঘটনাপ্রবাহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে— * একাধিক বিভাগীয় মামলায় দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরও কেন কঠোর শাস্তি কার্যকর হয়নি? * কেন একই ধরনের অভিযোগ নতুন কর্মস্থলেও অব্যাহত? * অভ্যন্তরীণ নজরদারি ও জবাবদিহিতার কাঠামো কতটা কার্যকর? আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্যতা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যখন অভিযোগের ধরন একই থাকে এবং তা সময়ের সঙ্গে পুনরাবৃত্ত হয়, তখন তা শুধু ব্যক্তিগত নয়—প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার ইঙ্গিতও দিতে পারে। বৃহত্তর প্রভাব: জনআস্থা ও আইন প্রয়োগ মাদকবিরোধী অভিযান একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনের সময় যদি অনিয়ম, দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে, তাহলে তা জনআস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে— * স্বচ্ছ তদন্ত * দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা * জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা —এসবই অত্যন্ত জরুরি। বরিশালের এই ঘটনাটি কেবল একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের গল্প নয়; এটি প্রশাসনিক জবাবদিহিতা, শাস্তির কার্যকারিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার একটি উদাহরণ। অতীতের নথিভুক্ত অভিযোগ, বিভাগীয় তদন্তে প্রমাণিত অনিয়ম এবং বর্তমানের নতুন অভিযোগ—সব মিলিয়ে একটি প্রশ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠছে: **ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু তা কি যথেষ্ট?** এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর—যা শুধু একটি ব্যক্তির নয়, পুরো ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে জড়িত।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)-এর এক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বিসিকের প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক (মূল পদবী: উপ-মহাব্যবস্থাপক) মোঃ রাশেদুর রহমান। নিয়োগ ও পটভূমি তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০১১ সালের ৯ অক্টোবর নিয়োগ পান এবং ২০১৯ সালের ৩ নভেম্বর বিসিকে যোগদান করেন। ছাত্রজীবনে তিনি বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে জানা যায়। অভিযোগ কী বিভিন্ন সূত্রে তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো উঠেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়ে বিতর্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশ অভিযোগকারীরা দাবি করছেন, তিনি বিসিকের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর টেন্ডার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং একটি সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিতর্ক ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে তার ফেসবুক পোস্ট ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়। কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়ে তার সমালোচনামূলক পোস্ট বিতর্কের জন্ম দেয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পদক্ষেপ অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যদিও সরকারি বিধি অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠনের সুযোগ রয়েছে। কর্তৃপক্ষের অবস্থান বিসিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্তের বক্তব্য মোঃ রাশেদুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন: “আমি এখন সরকারি চাকরি করি। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।” তবে তিনি স্বীকার করেন, ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। একইসঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা আইনগতভাবে সমর্থনযোগ্য নয়।
বাংলাদেশের নবগঠিত সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে ঘিরে নানা বিতর্ক, অভিযোগ এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার আলোচনা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন মহলে তীব্র হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের ভেতরের একাধিক সূত্র, সাবেক আমলা এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়—তার কার্যক্রম, নিয়োগ প্রক্রিয়া, এবং ব্যক্তিগত প্রভাব বলয়ের বিস্তার নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। এসব অভিযোগের ব্যাপকতা এবং বিস্তার প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ক্ষমতার কেন্দ্রের ঘনিষ্ঠ একজন কর্মকর্তা এ বি এম আব্দুস সাত্তার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া-এর ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন (২০১২–২০২৪)। তাঁর মৃত্যুর পর তিনি একই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর ঘনিষ্ঠ প্রশাসনিক ব্যক্তি হিসেবে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত হন। নতুন সরকার গঠনের পর তাকে চুক্তিভিত্তিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়—যে পদটি প্রশাসনিক সমন্বয়, নীতি বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্বৈত ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক: অফিসার্স ক্লাব ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব অভিযোগ উঠেছে, মুখ্যসচিবের দায়িত্বে থাকা অবস্থায়ও তিনি ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল রয়েছেন। প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের দ্বৈত ভূমিকা “স্বার্থের সংঘাত” তৈরি করতে পারে। একজন সাবেক সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তা যদি একই সঙ্গে একটি বিতর্কিত ক্লাব পরিচালনা করেন, তা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তোলে।” রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা: সমন্বয়হীনতার অভিযোগ গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত এক বড় অনুষ্ঠানে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠে। আমন্ত্রিত অতিথিদের ভিড়, নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সমন্বয়হীনতার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এই ঘটনায় বিএনপির সিনিয়র নেতা নজরুল ইসলাম খান-সহ অনেকেই ভিড়ের চাপে পড়েন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে এই আয়োজনের দায়িত্ব মুখ্যসচিবের ওপর বর্তালেও, অভিযোগ রয়েছে—সংকটময় মুহূর্তে তাকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি। গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগে স্থবিরতা সরকার গঠনের পর দুই মাস পার হলেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সচিব পদ শূন্য রয়েছে বলে অভিযোগ। এর মধ্যে রয়েছে: * প্রধানমন্ত্রীর সচিব * ক্যাবিনেট সচিব * জনপ্রশাসন সচিব * অর্থ, এনবিআর, ইআরডি, এফআইডি সংশ্লিষ্ট পদ প্রশাসনের ভেতরের সূত্র দাবি করেছে, এই শূন্যপদগুলো পূরণে সিদ্ধান্তহীনতা এবং সমন্বয় ঘাটতি রয়েছে। একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন: “ফাইল পড়ে আছে, সিদ্ধান্ত নেই—এটাই এখন বড় সমস্যা।” দুর্নীতির অভিযোগ ও নিয়োগ বাণিজ্য সচিবালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে যে, উচ্চপদস্থ নিয়োগে অনিয়ম এবং আর্থিক লেনদেন হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন পোর্টালেও এ বিষয়ে বিভিন্ন দাবি উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনে পূর্ববর্তী সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা বিতর্কিত কর্মকর্তাদের তিনি রক্ষা করছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রাখছেন। কিছু নামও আলোচনায় এসেছে, যাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিসিবি ও আর্থিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্তে যথাযথ ঝুঁকি বিশ্লেষণ ছাড়া অনুমোদন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া প্রায় ২০০০ কোটি টাকার একটি স্থগিত ফান্ড ছাড় করার চেষ্টা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যেখানে ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এলজিইডি নিয়োগ কেলেঙ্কারি এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী পদে এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে রাতারাতি চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনা প্রশাসনে আলোড়ন সৃষ্টি করে। অভিযোগ অনুযায়ী: * সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে পাশ কাটিয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় * প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেতরে গোপনে ফাইল প্রস্তুত করা হয় * রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় পরবর্তীতে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সরকার বিব্রত হয় এবং নিয়োগ বাতিল করা হয়। অফিসার্স ক্লাব দখল ও তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা অফিসার্স ক্লাব দখলের অভিযোগ রয়েছে এ বি এম আব্দুস সাত্তার-এর বিরুদ্ধে। সূত্রগুলো দাবি করেছে: * ক্লাবকে তদবির বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে * পদোন্নতি, বদলি, টেন্ডার ও মামলা নিষ্পত্তিতে প্রভাব খাটানো হয়েছে * কর্মকর্তাদের ক্লাবে ডেকে চাপ প্রয়োগ করা হতো একজন কর্মকর্তা বলেন: “ক্লাবটা এক ধরনের ‘পাওয়ার হাব’-এ পরিণত হয়েছিল।” আর্থিক অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, একটি সংগঠিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন পরিচালিত হতো। এমনকি “কাজ না হলেও টাকা ফেরত না দেওয়া” নিয়ে অভিযোগও রয়েছে। যদিও এসব দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত নয়। অফিসার্স কল্যাণ ফান্ড ও অগ্নিকাণ্ড সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো অফিসার্স কল্যাণ ফান্ড দখল এবং পরবর্তী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। সূত্র অনুযায়ী: * ফান্ড থেকে অর্থ তছরুপের অভিযোগ ছিল * গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট করতে আগুন দেওয়া হয় * ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয় এই ঘটনায় তদন্ত সংস্থা কাজ করলেও, অভিযোগ রয়েছে—পরবর্তীতে প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে প্রভাব তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে: * ব্যাংকের পরিচালক পদ * শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি * হাসপাতাল পরিচালনা একটি স্কুলে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষককে রক্ষা করার অভিযোগও সামনে এসেছে, যদিও তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। গোয়েন্দা সংস্থার আপত্তি একটি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থার আপত্তির কথাও উঠে এসেছে। সূত্র বলছে, তার অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে সংস্থাগুলোর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। প্রশাসনিক অচলাবস্থা: বাস্তবতা না অতিরঞ্জন? সমালোচকদের মতে, এই সব ঘটনার সম্মিলিত প্রভাব প্রশাসনের কার্যকারিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে: * ফাইল আটকে থাকা * সিদ্ধান্তহীনতা * কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণ তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মূল্যায়ন এখনো প্রকাশ করা হয়নি। প্রশ্নের মুখে নেতৃত্ব এ বি এম আব্দুস সাত্তার-কে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো প্রশাসনের ভেতরে আস্থার সংকট তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এগুলোর অধিকাংশই অভিযোগ ও সূত্রভিত্তিক তথ্য, যেগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং যাচাই প্রয়োজন। রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা একজন কর্মকর্তাকে ঘিরে এমন বিতর্ক দীর্ঘমেয়াদে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা, নীতি বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কা অস্বীকার করা যাচ্ছে না।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সরকারি চাকরির কাঠামোতে “সহকারী প্রোগ্রামার” পদটি সাধারণত মাঝারি পর্যায়ের একটি প্রযুক্তিগত দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু এই তুলনামূলক নিম্নপদস্থ অবস্থান থেকেই যদি কেউ বিশাল আর্থিক অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার এবং প্রশাসনিক নির্দেশ অমান্য করার মতো গুরুতর অভিযোগের কেন্দ্রে চলে আসে, তাহলে তা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দেয়—কীভাবে এবং কার আশ্রয়ে? তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের (ডিওআইসিটি) সহকারী প্রোগ্রামার আনজুম রিয়াসাতকে ঘিরে ঠিক এমনই এক জটিল চিত্র সামনে এসেছে। প্রায় ২০০ কোটি টাকার আত্মসাত, টেন্ডার কারসাজি, তথ্য ফাঁস এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার—এসব অভিযোগে বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছেন তিনি। কিন্তু অভিযোগের গুরুত্ব সত্ত্বেও, প্রশাসনিক বদলি আদেশ অমান্য করে দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীতে অবস্থান এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহযোগিতায় বহাল তবিয়তে থাকার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। চাকরিজীবনের সূচনা ও পরিচয়ের কৌশল ২০১৯ সালে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরে সহকারী প্রোগ্রামার পদে যোগ দেন আনজুম রিয়াসাত। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের পর থেকেই নিজের পরিচয় নির্মাণে তিনি একটি বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেন—নিজেকে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের এক শীর্ষ নেতার ‘ভাগিনা’ হিসেবে উপস্থাপন করা। যদিও বাস্তবে সেই সম্পর্ক ছিল দূরবর্তী—তার মা এবং ওই নেতার মধ্যে ছিল সহপাঠীর সম্পর্ক—তবুও এই “ভাগিনা” পরিচয় দ্রুতই তাকে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে আলাদা সুবিধা এনে দেয়। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, এই পরিচয় ব্যবহার করেই তিনি উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করতে সক্ষম হন। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলে তিনি দ্রুত নিজের অবস্থান শক্তিশালী করে তোলেন। এতে করে চাকরির শুরুর দিকেই তিনি এমন কিছু দায়িত্ব ও সুযোগ পান, যা সাধারণত এই পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে বিরল। প্রভাব বিস্তার ও অনিয়মের সূত্রপাত প্রাথমিক পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে করতেই আনজুম যুক্ত হন বিভিন্ন প্রকল্পে, বিশেষ করে ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন প্রকল্পে অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়ার পর তার কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই সময় থেকেই তিনি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ, নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা প্রদান এবং আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—টেন্ডার ডকুমেন্ট নিজস্ব পছন্দ অনুযায়ী তৈরি করা এবং গোপন দরপত্র তথ্য আগেই নির্দিষ্ট পক্ষকে সরবরাহ করা। এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু প্রশাসনিক শৃঙ্খলার লঙ্ঘন নয়, বরং সরাসরি দুর্নীতির আওতায় পড়ে। এই সময়েই তার বিরুদ্ধে প্রথম দফায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে এবং তাকে মূল কর্মস্থল চাঁদপুর সদর উপজেলা কার্যালয়ে বদলি করা হয়। বদলি—কাগজে-কলমে, বাস্তবে নয় ২০২৩ সালের আগস্টে আনজুমকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হলেও, বাস্তবে তিনি খুব বেশি দিন রাজধানীর বাইরে থাকেননি। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে, ২০২৪ সালের এপ্রিলে তিনি আবার ঢাকায় ফিরে আসেন। একাধিক সূত্র জানায়, এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে রাজনৈতিক তদবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদিও একই বছরের জুলাই মাসে আবারও তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়—দেশব্যাপী উপজেলা পর্যায়ে কর্মকর্তার ঘাটতি পূরণের অংশ হিসেবে—তবুও সেই নির্দেশও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, আনজুম নিয়মিতভাবে বদলি আদেশ উপেক্ষা করে ঢাকাতেই অবস্থান করেছেন। মাঝে মাঝে কর্মস্থলে গিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে ফিরে আসা—এ ধরনের কৌশল ব্যবহার করে তিনি প্রশাসনিক নজরদারি এড়িয়ে গেছেন। রাজনৈতিক পরিবর্তন ও নতুন সুযোগ ২০২৪ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আনজুমের বিশ্ববিদ্যালয়-সংযোগের এক জুনিয়র গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে অধিষ্ঠিত হন। এই সংযোগকে কাজে লাগিয়ে আনজুম আবারও ঢাকায় সংযুক্তিতে বদলি হন—এইবার জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে। এই পদায়নের মাধ্যমে তিনি আবারও রাজধানীকেন্দ্রিক প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে প্রবেশ করেন। শুধু তাই নয়, তার ঘনিষ্ঠ আরও কয়েকজন সহকর্মীকেও একইভাবে ঢাকায় আনার অভিযোগ রয়েছে। নেটওয়ার্ক গঠন ও প্রভাব বিস্তার ঢাকায় অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর আনজুম দ্রুতই একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ স্থাপন করে তিনি নিজেকে একটি “কেন্দ্রীয় ব্যক্তি” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নিজেকে বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নেতাদের “মেন্টর” হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। এই পরিচয় ব্যবহার করে তিনি আইসিটি অধিদপ্তরের বিভিন্ন ক্রয় কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করেন। এ সময় তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো সামনে আসে, তার মধ্যে রয়েছে: টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া গোপন দরপত্র তথ্য ফাঁস প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এই কার্যক্রমগুলোতে তিনি একাধিক সহযোগীর সহায়তা পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগ ও দুদকের অনুসন্ধান ২০২৫ সালের জুলাই মাসে আনজুম রিয়াসাতের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়—তিনি বিভিন্ন প্রকল্প থেকে ২০০ কোটিরও বেশি টাকা আত্মসাত করেছেন, পাশাপাশি তথ্য পাচার এবং সীমাহীন দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে ১২টি বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়। তবে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সেই তথ্য এখনও দুদককে সরবরাহ করা হয়নি। এতে করে তদন্ত প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক সুরক্ষা ও অভিযোগ ধামাচাপা এই পুরো প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ হলো—আনজুমকে রক্ষা করতে অধিদপ্তরের ভেতর থেকেই চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে অর্থ ও প্রশাসন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী: দুদকের চিঠির জবাব বিলম্বিত করা প্রশাসনিক পদক্ষেপ স্থগিত রাখা বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা এই কর্মকাণ্ডগুলো শুধু একজন ব্যক্তিকে রক্ষা করা নয়, বরং পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বদলি এড়ানোর কৌশল দুদকের তদন্তের মুখে আনজুমকে আবার চাঁদপুরে বদলি করা হলেও, বাস্তবে তিনি সেখানে যোগ দেননি। বরং রাজধানীতেই অবস্থান করে বিভিন্ন মাধ্যমে আবার ঢাকায় স্থায়ীভাবে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি রাজনৈতিক পরিচয় বদলের কৌশলও গ্রহণ করেছেন। পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করে প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। এই প্রক্রিয়ায় তার সহযোগী হিসেবে কয়েকজন সহকর্মীর নামও উঠে এসেছে, যারা প্রশাসনিকভাবে তাকে সহায়তা করছেন। সামগ্রিক বিশ্লেষণ আনজুম রিয়াসাতের ঘটনাটি একটি বৃহত্তর বাস্তবতার প্রতিফলন—যেখানে প্রশাসনিক কাঠামোর দুর্বলতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক একত্রে কাজ করে একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি করে। এই ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে: কীভাবে একটি মাঝারি পর্যায়ের কর্মকর্তা এত বড় অঙ্কের আর্থিক অনিয়মে জড়াতে পারেন? কেন বারবার বদলি আদেশ কার্যকর করা সম্ভব হয়নি? প্রশাসনের ভেতরে কে বা কারা তাকে সুরক্ষা দিচ্ছেন? তদন্ত প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার পেছনে কী কারণ? দুর্নীতির অভিযোগ, প্রশাসনিক নির্দেশ অমান্য এবং প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক—এই তিনটি উপাদান একত্রে আনজুম রিয়াসাতকে একটি আলোচিত ও বিতর্কিত চরিত্রে পরিণত করেছে। এই ঘটনা শুধু একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়; এটি প্রশাসনিক জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং আইনের শাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এখন দেখার বিষয়—দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান কতটা নিরপেক্ষ ও কার্যকরভাবে এগোয়, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগগুলোর প্রেক্ষিতে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত দুর্নীতির ঘটনা নয়, বরং একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার উদাহরণ হিসেবেও বিবেচিত হবে। আর যদি যথাযথ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা যায়, তাহলে তা ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে সবচেয়ে বেশি ইমেজ ক্ষুণ্ন হয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের। এ সময়ে এ মন্ত্রণালয়ে তেমন কোনো কাজ হয়নি। সচিব মাহবুবা ফারজানা তথ্য মন্ত্রণালয়কে তেমন কোনো কিছুই দিতে পারেননি।সচিব মাহবুবা ফারজানার সময় কেটেছে উপদেষ্টাদের প্রটোকল দিয়ে ও নিজেকে পরিপাটি রেখে। সচিব মাহবুবা ফারজানার পরিচিতি ছিল ‘প্রটোকল অফিসার’ হিসেবে।তার দ্বারা কিছু টাউট-বাটপারের ব্যক্তিগত উপকার হলেও গণমাধ্যমের কোনো উপকার হয়নি। এমনকি প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের মর্যাদাও রক্ষা করতে পারেনি। স্বাধীনতার পর থেকে ২০২১ সালের ১৪ মার্চ পর্যন্ত এ মন্ত্রণালয়ের নাম ছিল তথ্য মন্ত্রণালয়। আওয়ামী সরকারের সময়ে ড. হাসান মাহমুদ যখন মন্ত্রী তখন এর নাম পরিবর্তন করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় করা হয়। মন্ত্রণালয়টির ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বাংলাদেশের সব বিখ্যাত ব্যক্তিরা এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ডাকসাইটের আমলারা এ মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। যাদের নাম এখনো শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। এটি সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়। শুধু গণমাধ্যম নিয়ে এ মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়, দেশের স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ইমেজ তৈরির কাজটি করার দায়িত্বও অনেকখানি। গুরুত্বপূর্ণ এ মন্ত্রণালয়টির প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন শুরু হয় ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি থেকে, যখন মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রথম মন্ত্রী ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ। তার পর শেখ মুজিবুর রহমান, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী, শেখ আবদুল আজিজ, এম কোরবান আলী, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, হাবিবুল্লাহ খান, শামসুল হুদা চৌধুরী, তোফাজ্জল হোসেন খান, সৈয়দ নাজিমুদ্দিন হাশিম, এ আর ইউসুফ, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কাজী জাফর আহমেদ, বেগম খালেদা জিয়া, ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, এম শামসুল ইসলাম, শেখ হাসিনা, ড. আবদুল মঈন খান, তরিকুল ইসলামসহ বিখ্যাত ও খ্যাতিমান রাজনৈতিক নেতারা। সাংবাদিকদের মধ্যে তথ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন তাহের উদ্দিন ঠাকুর, সিরাজুল হোসেন খান, আনোয়ার জাহিদ, সৈয়দ দিদার বখত, ড. মিজানুর রহমান শেলী। বিভিন্ন সময়ে এ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ড. আকবর আলী খান, শামসুল হুদা চৌধুরী, এ আর এস দোহা, মাহবুবুল আলম, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। এই মন্ত্রণালয়ের প্রথম সচিব ছিলেন এম হোসেন আলী। তার পর বাহাউদ্দিন চৌধুরী, খোরশেদ আলম সিএসপি, আনিসুজ্জামান খান সিএসপি, জহুরুল হক সিআইএস, এটিএম শামসুল হক সিএসপি, এবিএম গোলাম মোস্তফা সিএসপি, আনম ইউসূফ সিএসপি, মনজুর মোরশেদ সিএসপি, এজেডএম নাসিরুদ্দিন সিএসপি, কাজী মুহাম্মদ মনজুরে মওলা সিএসপি, নুরুদ্দিন আহমেদ, আলম মাসুদ সিএসপি, সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ সিএসপি, ড. মুহম্মদ মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার হায়দার আলী, হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, মরতুজা আহমেদসহ ডাকসাইটের ও অভিজ্ঞ, সিনিয়র আমলাদের তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হতো। আওয়ামী লীগ সরকার খাজা মিয়াকে সচিবের দায়িত্ব দিয়ে এ মন্ত্রণালয়ের ইমেজ অনেকটা ম্লান করেছে। তার পর থেকে মেধাবী, যোগ্য, দক্ষ কোনো আমলাকে এ মন্ত্রণালয়ে সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না। বর্তমান তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পদোন্নতি পেয়েছেন। ১৮ মাসে যোগ্যতা, দক্ষতা বা মেধার কোনো প্রমাণ তিনি রাখতে পারেননি বলে মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জীবন বাজি রেখে রাজনীতি করছেন। মৃত্যুর দুয়ার থেকে তিনি ফিরে এসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তথ্য মন্ত্রণালয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরে তিনি দলের অত্যন্ত ত্যাগী নেতা জহির উদ্দিন স্বপনকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি একজন সাবেক মেধাবী ছাত্রনেতা। অনেক ত্যাগ ও কাঠখড় পুড়িয়ে তিনি রাজনীতিতে টিকে আছেন। হামলা-মামলা মোকাবিলা করে তিনি আজ মন্ত্রী হয়েছেন। ইয়াসের খান চৌধুরী হলেন প্রতিমন্ত্রী। ইয়াসের খান চৌধুরী একজন তথ্যপ্রযুক্তি বিজ্ঞানী। দীর্ঘদিন বিবিসি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক লন্ডনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার আগে বিশ্বের সর্ববৃহৎ কম্পিউটার টেকনোলজি কোম্পানি আইবিএম ও ভোডাফোনে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে কর্মরত ছিলেন। ক্লিন ইমেজের মানুষ। প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় উপদেষ্টা নিযুক্ত হয়েছেন ডা. জাহেদ উর রহমান। গণমাধ্যমে তিনি পরিচিত মুখ ও গণমাধ্যমের সঙ্গে তার যোগাযোগ ভালো। তাদেরও চেয়ারের ওপরে অনার বোর্ডে বিখ্যাতদের নামও আছে, অখ্যাতদের নামও আছে। তারা যদি খ্যাতিমান ব্যক্তিদের কাতারে নিজেদের নাম রাখতে চান, তাহলে তথ্য মন্ত্রণালয়ের হারানো ইমেজ পুনরুদ্ধার করতে হবে। তথ্য মন্ত্রণালয়কে আগের মর্যাদায় ফিরিয়ে নিতে হবে বলে মনে করেন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর প্রতি প্রত্যাশা—তারা অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের হারানো আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, তথ্যপ্রবাহের স্বচ্ছতা, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন—এই তিনটি ক্ষেত্রেই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
ইত্তেহাদ নিউজ: কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে থানায় পাঠানোর ঘটনায় অভিযুক্ত এসিল্যান্ড ফয়সাল আল নূরকে স্ট্যান্ড রিলিজ দিয়ে সিলেটের জৈন্তাপুরে বদলি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির আদেশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. বরমান হোসেন। এর আগে বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে চান্দিনা উপজেলা ভূমি অফিসে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক হলেন দৈনিক মানবজমিনের দেবিদ্বার উপজেলা প্রতিনিধি রাসেল সরকার এবং ‘ফেস দ্য পিপল’ অনলাইন নিউজ পোর্টালের দেবিদ্বার প্রতিনিধি আব্দুল আলীম। কী ঘটেছিল সাংবাদিক আব্দুল আলীম অভিযোগ করেন, তার এক আত্মীয়ের নামজারি সংক্রান্ত বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে দপ্তরে যাতায়াতের পর নির্ধারিত শুনানির দিনে তিনি সহকর্মীকে নিয়ে ভূমি অফিসে যান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসিল্যান্ডের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে আচরণ নিয়ে ভিডিও ধারণ করতে গেলে কর্মকর্তা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে পুলিশ ডেকে এনে তাদের হাতকড়া পরিয়ে থানায় পাঠানো হয়। আরও অভিযোগ আব্দুল আলীম আরও অভিযোগ করেন, থানায় নেওয়ার পর তার মোবাইল ফোন জোরপূর্বক নিয়ে ভিডিও ও ছবি মুছে ফেলা হয়। পরে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রশাসনিক পদক্ষেপ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অভিযুক্ত এসিল্যান্ড ফয়সাল আল নূরকে তাৎক্ষণিকভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ দিয়ে সিলেটের জৈন্তাপুরে বদলি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো বিভাগীয় তদন্ত বা অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
সমালোচনায় বরিশাল সিটি করপোরেশন মামুনুর রশীদ নোমানী: ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র মাস মাহে রমজান। এই মাসে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষ জাগতিক ভোগ-বিলাস থেকে নিজেকে সংযত রাখার শিক্ষা গ্রহণ করে এবং আত্মশুদ্ধির পথে এগিয়ে যায়। রমজানকে সহনশীলতা, সংযম ও মানবিকতার মাস হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। এই মাসে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে ইফতার ও ইবাদতের মাধ্যমে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সামাজিক বন্ধনকে দৃঢ় করে। অর্থবান মানুষরা নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট উপলব্ধি করে তাদের পাশে দাঁড়ানোর প্রেরণা পান। কিন্তু এমন একটি সময়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিল নিয়ে উঠেছে বৈষম্যের অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, ইফতারের মেন্যুতেই ধনী ও গরিব তথা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের একাধিক সূত্র এবং ইফতার মাহফিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা জানান, গত ৪ মার্চ বুধবার শহীদ মিনার সংলগ্ন সিটি করপোরেশনের অডিটোরিয়ামে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ভিভিআইপি ও ভিআইপিদের জন্য পরিবেশন করা হয় ডাবের পানি, শরবত, মাম পানি, মাছ ফ্রাই, মুরগির টিক্কা, জুস, কাচ্চি বিরিয়ানি, খেজুর, বুট, পিয়াজু, বেগুনি ও মুড়িসহ নানা ধরনের খাবার। অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য ইফতারের মেন্যুতে দেওয়া হয় শুধু একটি এসএমসি জুসের প্যাকেট, একটি বোতল মাম পানি, কিছু খেজুর এবং একটি তেহারির প্যাকেট। আরও অভিযোগ উঠেছে, সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ইফতার মাহফিলে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি। এ ঘটনায় সিটি করপোরেশনের ভেতরে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, “ইফতারের মতো একটি পবিত্র আয়োজনেও এ ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি করা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অস্বস্তি ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।” আরেক কর্মকর্তা বলেন, “তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য যে মেন্যু দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। এ বিষয়ে আসলে বলার মতো ভাষা নেই।” রমজান মাসে সামাজিক সমতা ও সহমর্মিতার যে শিক্ষা দেওয়া হয়, তার পরিপন্থী এমন আয়োজন নিয়ে সমালোচনা করছেন অনেকেই। “ইফতারে ভাঙি রোজা, ভাঙি বৈষম্য”—এই স্লোগানের কথাও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন কেউ কেউ। সমালোচকদের মতে, সুবিধাপ্রাপ্ত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ না কমিয়ে বরং আলাদা মেন্যুর মাধ্যমে শ্রেণি বিভেদকে আরও প্রকট করে তুলেছে বরিশাল সিটি করপোরেশন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ায় চিকিৎসাসেবায় জড়িত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন মুফতি আমির হামজা। তিনি বলেন, “সবাই ওপরের জনকে দোষ দেয়। ওপরওয়ালা কুষ্টিয়ায় কেউ নেই, ওপরওয়ালা এখন আমি। কেউ যদি দুই নম্বর কিছু করতে চায়, তাহলে আমার কথা বলবেন। এত ক্ষমতা নিয়ে কে চলে কুষ্টিয়ায়, আমি তা দেখব।” বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল-এর ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। মুফতি আমির হামজা বলেন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা তাদের আবেগ ও অগ্রাধিকার। তিনি জানান, বর্তমানে কয়েকটি বিভাগ চালু থাকলেও পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রথম ১০০ দিনের কর্মসূচির ভেতরে প্রত্যেকটি সরকারি অফিস-আদালতকে জনবান্ধব করার চেষ্টা করব। বিশেষ করে মানুষ ডিসি, এসপি, ইউএনও অফিস ও থানায় যেতে ভয় পান। সিভিল সার্জন, এলজিইডির মতো অফিসগুলোতেও সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ করতে চাই।” দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসা খাতে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সভায় হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন, জনবল সংকট নিরসন এবং চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের অন্তত তিনজন প্রভাবশালী উপদেষ্টা নির্বাচন বিলম্বিত করার এক নানামুখী কৌশলে লিপ্ত ছিলেন—এমন অভিযোগ এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক ভাবনা থাকলেও পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস। দ্রুত নির্বাচন থেকে সরে আসা: চাপ নাকি কৌশল? সূত্র বলছে, দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতে অধ্যাপক ইউনূস স্বল্প সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের কথা বিবেচনা করছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে একগুচ্ছ সংস্কার প্রস্তাব জাতির সামনে উপস্থাপন করা হয়, যা বাস্তবায়নের জন্য সময় প্রয়োজন—এই যুক্তি সামনে আনা হয়। সমালোচকদের মতে, এসব সংস্কারের আড়ালে ক্ষমতার মেয়াদ দীর্ঘায়নের একটি সুপরিকল্পিত কৌশল ছিল। তিন উপদেষ্টার যুক্তি ছিল—আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক, প্রশাসন অস্থিতিশীল, দ্রুত নির্বাচন দিলে অনাকাঙ্ক্ষিত শক্তির উত্থান ঘটতে পারে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই যুক্তির পেছনে ছিল বিশেষ উদ্দেশ্য: সময়ক্ষেপণ করে নিজেদের পছন্দের শক্তির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ সুগম করা। ‘মব সন্ত্রাস’ কৌশলের হাতিয়ার? একাধিক ঘটনার বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রশাসনিক অস্থিরতা ও মব সন্ত্রাস পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছিল। অভিযোগ রয়েছে, এসব অস্থিরতা ইচ্ছাকৃতভাবে উসকে দেওয়া হয়েছিল রাজনৈতিক পরিবেশ অনিশ্চিত রাখতে। বিশেষ করে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে অগ্নিসংযোগের ঘটনার দিন প্রশাসনের রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে অস্বাভাবিক বিলম্ব করে। কে বা কারা সেই নির্দেশ দিয়েছিল—তা এখনো অজানা। অধ্যাপক ইউনূস পরে এক সিনিয়র সাংবাদিককে জানান, ঘটনার সময় তিনি অবগত ছিলেন না। এতে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে। আঞ্চলিক শক্তির চাপ ও ‘লন্ডন বৈঠক’ রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, একটি প্রভাবশালী আঞ্চলিক শক্তি দ্রুত নির্বাচন চেয়েছিল। তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল নেতৃত্বে পরিবর্তন নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক চাপ ও নিজস্ব রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনমুখী হতে বাধ্য হন অধ্যাপক ইউনূস। লন্ডন বৈঠক ছিল সেই প্রক্রিয়ার অংশ। তবে নির্বাচনবিরোধী উপদেষ্টারা বৈঠকের আগেই নানা অপপ্রচার চালান। তারা বিদেশি কূটনীতিকদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, নির্বাচন হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। প্রশাসন কবজায় নেওয়ার চেষ্টা সন্ধ্যাকালীন গোপন বৈঠক, অনানুষ্ঠানিক শক্তির প্রভাব এবং প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা—সব মিলিয়ে এক সময় পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, অধ্যাপক ইউনূস কার্যত সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, কিছু উপদেষ্টা বিদেশ সফরেও কূটকৌশলে যুক্ত ছিলেন। একজন উপদেষ্টা দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশে সফরকালে সাময়িকভাবে ‘নিখোঁজ’ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও আলোচনায় আসে। ফরমায়েশি জনমত জরিপ? আরেকটি অভিযোগ—জনমত জরিপকে ব্যবহার করা হয়েছে মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে। টেবিলে বসে তৈরি করা জরিপ বিদেশি দূতাবাসে প্রচার করা হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের। সেখানে বলা হয়েছে, দ্রুত নির্বাচন হলে অপ্রত্যাশিত শক্তির উত্থান ঘটবে। পরিকল্পনা ‘প্ল্যান ২’ কী ছিল? নির্বাচনের দিন পর্যন্ত কিছু উপদেষ্টার তৎপরতা ছিল নির্দিষ্ট কিছু আসনকেন্দ্রিক। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে বুঝতে পেরে তারা ‘প্ল্যান ২’ বাস্তবায়ন থেকে সরে আসেন বলে জানা যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, পরিকল্পনাটি ছিল— নির্বাচন ভণ্ডুলের পরিস্থিতি সৃষ্টি করা, অথবা প্রশাসনিক অস্থিতিশীলতার অজুহাতে জরুরি অবস্থা সদৃশ কাঠামো জোরদার করা, অথবা নেতৃত্বে পরিবর্তনের পথ সুগম করা। তবে জনচাপ, আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং সেনাবাহিনীর সতর্ক অবস্থানের কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার এই ঘটনাপ্রবাহ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—ক্ষমতা কি সত্যিই নিরপেক্ষ হাতে ছিল, নাকি আড়ালে চলছিল একাধিক শক্তির সমান্তরাল খেলা? নির্বাচন ঘিরে বিতর্ক, প্রশাসনিক ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক তৎপরতা—সব মিলিয়ে বিষয়টি ভবিষ্যৎ গবেষণা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।