Brand logo light

বাংলাদেশ উন্নয়ন

বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশলী শহিদুল
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের সফলতা

মামুনুর রশীদ নোমানী, বরিশাল থেকে:  বরিশালের শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নের চলমান রূপান্তর আজ দৃশ্যমান। কিন্তু এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা, নিম্নমানের নির্মাণকাজ এবং প্রশাসনিক জটিলতার বিরুদ্ধে এক ধারাবাহিক লড়াই। এই প্রেক্ষাপটে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন কঠোর মনিটরিং-নির্ভর প্রশাসক হিসেবে—যিনি উন্নয়নকে শুধু প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং গুণগত মান ও জবাবদিহিতাকে সামনে এনেছেন। এই অনুসন্ধানধর্মী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তার নেতৃত্বে চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তব চিত্র, অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ, অভিযোগ এবং সম্ভাবনা। স্থবিরতা থেকে গতি: বাস্তবতার প্রেক্ষাপট   বরিশালের শিক্ষা অবকাঠামো এক সময় ছিল অবহেলার প্রতীক। বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জরাজীর্ণ ভবন, শ্রেণিকক্ষের সংকট এবং নিরাপত্তাহীন পরিবেশে পাঠদান চলত। উন্নয়ন প্রকল্প থাকলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন ছিল ধীরগতির, অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতীতে অনেক প্রকল্পে কাজের মান নিয়ে অভিযোগ ছিল। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়া, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, এবং পর্যাপ্ত তদারকির অভাব—এসব ছিল সাধারণ সমস্যা। এই পরিস্থিতিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম। “গুণগত মানই টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি”   মো. শহিদুল ইসলামের কাজের দর্শন স্পষ্ট—“কাজের মান নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন অর্থহীন।” তার বক্তব্য অনুযায়ী:     চলমান প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে হবে     কাজের গুণগত মানে কোনো আপস চলবে না     ত্রুটি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদার উভয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবক—সবাই যেন প্রকল্পের সুফল পায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।” কঠোর মনিটরিং ও জবাবদিহিতা এই দপ্তরের কাজের ধরনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে মনিটরিং ব্যবস্থায়। তার নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে:     প্রতিটি প্রকল্পের নিয়মিত সাইট পরিদর্শন     চলমান অবস্থায় ত্রুটি শনাক্তকরণ     নির্দিষ্ট সময়সীমা (বিশেষ করে জুন মাস) নির্ধারণ     কাজ শেষে ত্রুটি পাওয়া গেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন: “কাজ শেষ হওয়ার পরে যদি ত্রুটি ধরা পড়ে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।” এই অবস্থান প্রশাসনিক কাঠামোতে এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করলেও, মাঠপর্যায়ে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ভেতরের কণ্ঠ: কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া   একজন সহকারী প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান:     “বর্তমানে শতভাগ কাজ নিশ্চিত করার জন্য আমাদের ওপর জোরালো নির্দেশনা রয়েছে। সততা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ না করলে টিকে থাকা কঠিন।” এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, দপ্তরের ভেতরে একটি কর্মচাপ তৈরি হয়েছে—যা উন্নয়নের গতি বাড়াতে সহায়ক হলেও, তা নিয়েও রয়েছে ভিন্নমত। উন্নয়নের পরিসংখ্যান: সংখ্যায় বরিশালের পরিবর্তন বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় বর্তমানে বিপুল অঙ্কের উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। মূল তথ্যসমূহ:     মোট চলমান উন্নয়ন কাজ: প্রায় ৬৯৬–৭০০ কোটি টাকা     গত অর্থ বছরে ব্যয়: ৭৬ কোটি টাকা     চলমান প্রকল্প সংখ্যা: ১১টি বড় প্রকল্প     বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ: প্রায় ৪৬০টি এই প্রকল্পগুলোর আওতায়:     নতুন ভবন নির্মাণ     ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ     কারিগরি শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন     তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধা বৃদ্ধি   জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র: দক্ষিণাঞ্চলের জন্য গেমচেঞ্জার   বরিশালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আঞ্চলিক কেন্দ্র নির্মাণাধীন, যা দেশের দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পের অগ্রগতি:     ব্যয়: প্রায় ১৬.৫ কোটি টাকা     ইতোমধ্যে ব্যয়: ৯.১৬ কোটি টাকা     নির্মাণাধীন ভবন: ১০ তলা     আংশিক কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু এই কেন্দ্র চালু হলে প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং শিক্ষার্থীরা দ্রুত সেবা পাবে। মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট: নারীর প্রযুক্তি শিক্ষায় নতুন দিগন্ত প্রায় ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে বরিশাল মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। বর্তমান অবস্থা:     ৭টি ভবনের মধ্যে ৩টি সম্পন্ন     বাকি ৪টির কাজ প্রায় ৮০% শেষ     নির্ধারিত সময়: জুনের মধ্যে সম্পন্ন এই প্রতিষ্ঠান চালু হলে নারী শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। কলেজ ও স্কুলে অবকাঠামোগত বিপ্লব বরিশালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে অবকাঠামোগত উন্নয়ন চলছে: উল্লেখযোগ্য কাজ:       ৬ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ (সরকারি কলেজসমূহে)     জেলা স্কুল ও বালিকা বিদ্যালয়ে নতুন ভবন     মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানে সম্প্রসারণ এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে:     শ্রেণিকক্ষ সংকট কমবে     শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হবে     শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাবে প্রকল্পের বৈচিত্র্য: বহুমুখী উন্নয়নের চিত্র বরিশালে চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে:     বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন     মাদরাসা উন্নয়ন     বিজ্ঞান শিক্ষা সম্প্রসারণ     টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন     তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা প্রকল্প বিশেষ করে “প্রতি উপজেলায় একটি টেকনিক্যাল স্কুল” প্রকল্পটি ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাস্তব চিত্র: দৃশ্যমান উন্নয়ন মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে:     বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন বহুতল ভবন     পুরনো জরাজীর্ণ কাঠামোর পরিবর্তন     নতুন নির্মাণ কাজের দ্রুত অগ্রগতি স্থানীয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতে, “আগে যেখানে ক্লাস নেওয়া কঠিন ছিল, এখন সেখানে আধুনিক ভবন তৈরি হচ্ছে।” প্রশংসা ও পর্যবেক্ষণ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সরেজমিনে পরিদর্শন করে কাজের গুণগত মানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এটি নির্দেশ করে যে, কেন্দ্রীয় পর্যায়েও বরিশালের কাজ ইতিবাচকভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে। তবে কি সবই নিখুঁত?—অনুসন্ধানে উঠে আসা প্রশ্ন যদিও উন্নয়নের চিত্র আশাব্যঞ্জক, তবে অনুসন্ধানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও উঠে এসেছে: ১. সময়সীমা বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব? জুন মাসের মধ্যে সব কাজ শেষ করার নির্দেশনা বাস্তবসম্মত কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ২. অতিরিক্ত চাপ কি মানের ওপর প্রভাব ফেলছে? দ্রুত কাজ শেষ করার চাপ কখনো কখনো মানের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ৩. স্থানীয় পর্যায়ে তদারকি কতটা কার্যকর? সব প্রকল্পে সমানভাবে মনিটরিং হচ্ছে কি না, তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। শহর-গ্রামের বৈষম্য কমানোর লক্ষ্য নির্বাহী প্রকৌশলী বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন গ্রামীণ এলাকায় উন্নয়নের ওপর। তিনি বলেন: “শহরের সুবিধা গ্রামের মানুষকেও দিতে হবে।” এই লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি ভারসাম্য তৈরি হতে পারে। প্রশাসনিক কড়াকড়ি: ইতিবাচক না নেতিবাচক? তার প্রশাসনিক কড়াকড়ি নিয়ে দুই ধরনের মতামত পাওয়া গেছে: ইতিবাচক দিক:     দুর্নীতি কমছে     কাজের গতি বাড়ছে     জবাবদিহিতা তৈরি হচ্ছে সমালোচনা:     অতিরিক্ত চাপ     সিদ্ধান্ত গ্রহণে কেন্দ্রীকরণ     মাঠপর্যায়ে মানসিক চাপ সামগ্রিক মূল্যায়ন বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বর্তমান কার্যক্রম বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:     উন্নয়নের গতি স্পষ্টভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে     গুণগত মানে জোর দেওয়া হয়েছে     মনিটরিং ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়েছে     বড় আকারের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের পথে তবে একইসাথে:     সময়সীমা বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জিং     দীর্ঘমেয়াদে মান ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ     তদারকি ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে স্থবির কাজগুলো দ্রুত গতিতে বাস্তবায়ন করার আপ্রান চেস্টা জনস্বার্থে উন্নয়ন কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করে স্থবির কাজগুলো দ্রুত গতিতে বাস্তবায়ন করার আপ্রান চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃশহিদুল ইসলাম।   বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের  নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃশহিদুল ইসলাম বলেছেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে দরকার কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা। যে প্রকল্পগুলোর কাজ চলছে, সেগুলোর গুণগত মান ঠিক রেখে নির্ধারিত সময়ে শেষ করা। তবেই শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা  প্রকল্পগুলোর সুফল পাবে।  বরিশাল জেলা  শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে  প্রকল্প গুলোর কাজের মান আরো উন্নত হোক।  প্রক্রিয়াধীন প্রকল্পগুলো ,  দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করলে  অর্থও বাঁচবে, জনগণ উপকৃত হবে।   কর্মকান্ডকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছি: মোঃ শহিদুল ইসলাম মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, মন্ত্রী,প্রতিমন্ত্রী ও প্রধান প্রকৌশলীর দিকনির্দেশনা মোতাবেক বরিশালের কর্মকান্ডকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, আমি প্রকৌশলী সহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছি যে, শহরের নাগরিক সুযোগ সুবিধা গ্রামের সকলে পাবে। আপনারা  হচ্ছেন শিক্ষা প্রকৌশলের প্রাণ। আপনারা মনোযোগ দিয়ে কাজ করেন।  আর যদি কোন ঠিকাদারের  কাজের মান খারাপ হয়। তাহলে ঐ ঠিকাদার এবং কাজে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো। তিনি ইত্তেহাদ নিউজকে বলেন, জেলা ও উপজেলাগুলোতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কাজগুলোর বাস্তবায়নে গতির তথ্য দেয়া।এছাড়া সকল ঠিকাদারদের জুন মাস মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য  সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। চলমান অবস্থায় কাজের ত্রুটি শনাক্ত করতে হবে এবং সঠিক মনিটরিং করলে অনেক সমস্যা সমাধান হয়ে যায়।  কাজ শেষ করার পরে যদি কোন ত্রুটি দেখা যায়,তবে  কাজ সংশ্লিষ্ট কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে ক্ষমা করা হবে না।তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বরিশাল জেলার এক সহকারী প্রকৌশলী  বলেন,নির্বাহী প্রকৌশলী নির্দেশে শতভাগ কাজ সুনিশ্চিত করা এবং সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি বাড়াতে দায়িত্বে থাকা সকলকে সততা ও আন্তরিকতা  নিয়ে উন্নয়ন কর্মকান্ডে গতি বাড়িয়ে কাজ করার দ্রিত তাগিদ দিয়েছেন। ৭শ’ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান বরিশালের মাধ্যমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭শ’ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। যারমধ্যে গত অর্থ বছরে ৭৬ কোটি টাকা ব্যয় করেছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর। এসব প্রকল্পের মধ্যে বেশকিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণকাজ গত অর্থ বছরে শতভাগই সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ১১টি প্রকল্পের আওতায় বরিশালের বিপুল সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন ভবন নির্মাণ ছাড়াও ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ চলমান রয়েছে। যার বেশির ভাগই চলতি অর্থ বছরে সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম। এসব প্রকল্প’র কাজ সম্পন্ন হলে সারা দেশের মতো বরিশালের শিক্ষা ব্যবস্থায়ও ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ। দেশের ৩টি স্থানে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্রের মধ্যে বরিশালেও প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ১০তলা বহুতল ভবন নির্মিত হচ্ছে। যার দুটি ফ্লোরের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে ইতোমধ্যে সেখানে প্রশাসনিক কর্মকা- শুরু হয়েছে। আগামী মার্চের মধ্যে পুরো ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের আঞ্চলিক দফতরটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হবে বলে জানা গেছে। প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি টাকা ব্যয় সম্বলিত ঐ প্রকল্পে ইতোমধ্যে ৯.১৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। শেষ পর্যায়ে বরিশাল মহিলা পলিটেকনিকের কাজ দেশের ৪টি বিভাগীয় সদরে মহিলা পলটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশাল মহিলা পলিটেকনিকের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে এ ইনস্টিটিউটের ৭টি ভবনের মধ্যে ৩টির কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট ৪টি কাজও প্রায় ৮০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে পুরো প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন করে আগামী বছরের এসএসসি’র ফলাফল প্রকাশের পরে এখানে ভর্তি প্রক্রিয়াও শুরু হবে বলে জানা গেছে। এছাড়া বরিশাল সরকারি কলেজ, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ এবং সরকারি মহিলা কলেজ সমূহে ৬তলা একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজও এগিয়ে চলেছে। আগামী বছরের ডিসেম্বর নাগাদ এসব ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে প্রতিষ্ঠানগুরোতে শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শিক্ষাবীদগণ। একইসাথে বরিশাল জেলা স্কুল ও বরিশাল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়েও ৬তলা দুটি একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। আগামী অর্থ বছরের মধ্যে এসব ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলে বরিশাল বিভাগীয় সদরের এ দুটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তনে আশাবাদী শিক্ষাবীদগণ।   দৃশ্যমান হচ্ছে বরিশালে বর্তমানে প্রায় ৬৯৬ কোটি টাকার প্রকল্প এছাড়া ‘নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমূহের উন্নয়ন প্রকল্প’, ‘নির্বাচিত বেসরকারি বিদ্যালয় সমূহের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ প্রকল্প’, ‘নির্বাচিত মাদরাসা উন্নয়ন প্রকল্প’, ‘তথ্য ও প্রযুক্তি সহায়তায় কলেজ সমূহের উন্নয়নে ২য় সংশোধিত প্রকল্প’, সরকারি কলেজ সমূহের বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ প্রকল্প’, কারগরি শিক্ষা অধিদফতরাধীন ৬৪টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্প’, ১শ’ উপজেলায় ১টি করে টেকনিক্যল স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্প’ এবং উপজেলা পর্যায়ে ৩২৯টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্প’র আওতায় বরিশালে বর্তমানে প্রায় ৬৯৬ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবান করছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর। বরিশাল মহানগরীসহ বিভিন্ন উপজেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের উন্নয়ন ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হচ্ছে। আগে জরাজীর্ন অবকাঠামোর কারণে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হত, তার অনেকগুলোতেই ইতোমধ্যে বহুতল ভবন দৃশ্যমান। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। বর্তমানে বরিশালের বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে ৪৬০টি বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের দায়িত্বশীল মহল।    একটি পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণ বরিশাল এখন একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে—যেখানে উন্নয়ন শুধু সংখ্যা নয়, দৃশ্যমান বাস্তবতা। নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে এই পরিবর্তন কতটা টেকসই হবে, তা নির্ভর করবে:     গুণগত মান বজায় রাখা     স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা     এবং জবাবদিহিতা ধরে রাখার ওপর যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে বরিশাল শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নে দেশের একটি মডেল হিসেবে দাঁড়াতে পারে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
কোটালীপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এইচ এম আনসার
কোটালীপাড়ার পিআইও আনসারের সম্পদের পাহাড় বরিশাল ও ঢাকায়

মামুনুর রশীদ নোমানী : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এইচ এম আনসার। নামে বেনাসে সম্পদের পাহাড়।বরিশালে জমি,ফ্লাট,ঢাকায় ফ্লাট,প্রায় দুই শত ভরি স্বর্ন, গাড়িসহ রয়েছে ঢাকা,বরিশাল ও বাকেরগঞ্জে জমি। বরিশালের প্রান কেন্দ্র সদর রোডের একটি বহুতল ভবনেও রয়েছে তার ফ্লাট। তার  আত্মীয় জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হওয়ায় দুর্নীতি করে পার পেযে যাচ্ছেন বার বার।   “১৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ”—স্থানীয়দের অভিযোগ স্থানীয় একাধিক ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানের দাবি, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হারে অর্থ কেটে রাখা হয়। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পভেদে ১৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ “অফিস খরচ” বা অনানুষ্ঠানিক খাতে দিতে হয়। একজন ইউপি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রকল্প শেষ করার পর বিল নিতে গেলে পুরো টাকা পাওয়া যায় না। বিভিন্ন খাতে কেটে রাখা হয়।” আরেকজন জনপ্রতিনিধির দাবি, “কাজ ঠিকমতো করলেও একটি নির্দিষ্ট অংশ দিতে হয়, না দিলে বিল পেতে সমস্যা হয়।”   টিআর ও কাবিখা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ কোটালীপাড়া উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ দুটি কর্মসূচি—টিআর ও কাবিখা—নিয়ে বিশেষ অভিযোগ উঠেছে। সূত্রগুলোর দাবি, কিছু প্রকল্প বাস্তবে সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে, প্রকল্প সভাপতি ও দপ্তরের মধ্যে যোগসাজশে অর্থ বণ্টন হয়েছে, শ্রমভিত্তিক প্রকল্প হলেও প্রকৃত শ্রমিকরা পুরো সুবিধা পাননি। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “কাগজে কাজ হয়, কিন্তু মাঠে আমরা অনেক সময় তার অস্তিত্ব দেখি না।”   “কাজের আগে টাকা”—একটি অভিযোগ একাধিক সূত্রের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে বা চলাকালে অর্থ লেনদেন একটি অনানুষ্ঠানিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। একজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করে বলেন, “কিছু না দিলে ফাইল এগোয় না—এটাই বাস্তবতা হয়ে গেছে।” মেরামত ও সংস্কারের জন্য সরকারি ও বিভিন্ন সংস্থার বরাদ্দ অর্থের বেশির ভাগ তছরুপ হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা কোটালীপাড়া পজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের একাংশ দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছেন। বেশির ভাগ কাজ না করে পিআইও মাধ্যমে ভাগ বাটোয়ারা হয়ে থাকে। কোটালীপাড়া উপজেলার অনুকূলে বরাদ্দ অর্থ সমন্বয় কমিটির সভার মাধ্যমে বণ্টন হয় বিভিন্ন ইউনিয়নভুক্ত এলাকার প্রকল্পের নামে। যা বাস্তবায়নের দায়িত্বে জনপ্রতিনিধিরা থাকলেও দেখাশোনার দায়িত্ব থাকে কোটালীপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার ওপর।  প্রকল্প কাগজকলমে থাকলেও এগুলো বাস্তবে মাঠে হদিস খুঁজে পাচ্ছে না। এসব প্রকল্পের নামের তালিকা কাজগুলো কোটালীপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ও চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ভুয়া বিল জমা দিয়ে কাজ না করেই প্রকল্পের টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নেন পিআইও।   বরাদ্দ অর্থের সিংহভাগ তছরুপ হচ্ছে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে   কোটালীপাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নভুক্ত মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান, শ্মশানঘাট, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট স্থাপন, মেরামত ও সংস্কারের জন্য সরকারি ও বিভিন্ন সংস্থার বরাদ্দ অর্থের সিংহভাগ তছরুপ হচ্ছে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে।দেশের তৃণমূলে উন্নয়ন ও দরিদ্রদের সহায়ক হিসেবে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার নানা অর্থ বরাদ্দ হয় উপজেলায়। উন্নয়নের জন্য ত্রাণ, দুর্যোগ ও পুনর্বাসন এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) উপজেলা পর্যায়ে থোক বরাদ্দ, সাধারণ ও বিশেষ নামে পরিচিত।অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কাবিটা বা কাবিখা কর্মসূচির আওতায় প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে কাবিটা,গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ টিআর কর্মসূচি,  গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কাবিটা বা কাবিটা কর্মসূচির আওতায় তৃতীয় পর্যায়ের কাবিটা এবং গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ টিআর কর্মসূচির আওতায় প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।  ইউনিয়ন পর্যায়ে বরাদ্দের বিপরীতে প্রকল্প তালিকা জমা দেন।কয়েকজন সদস্য বলেন, তারা প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করে বিলের জন্য পিআইও অফিস থেকে নগদ টাকা বিল নিয়ে যান। অফিস খরচ বাবদ ১৯ শতাংশ টাকা কম দেওয়া হয় । সদস্য বলেন, একটি প্রকল্পে আমাকে বরাদ্দ দেয়। বিল পিআইও অফিস থেকে নগদ টাকায় দিয়েছে। বাকি টাকা খরচ হিসেবে কেটে রাখা হয়েছে।     উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে কোটালীপাড়ায় নিয়মিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়। এসব প্রকল্পের লক্ষ্য থাকে: গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জরুরি সংস্কার কাজ।   গ্রামীণ অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারে টিআর ও কাবিখার প্রকল্পের কাজ না করেই টাকা আত্মসাতের অভিযোগের ঘটনায় উপজেলাজুড়েই ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সভাপতি ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নিজেদের মধ্যে যোগসাজশে এসব টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।   কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রকল্পের একটি অংশ কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে। কোটালীপাড়া  উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন এইচ এম আনসার এর যোগদান করার পর টাকা ছাড়া কোনো ফাইল নড়ে না। আগে টাকা পরে কাজ, সঠিক কাজ করলে ২০ ভাগ ঘুষ দিতে হবে, না দিলে হয়রানির শিকার হতে হয়। আর সরকারি প্রকল্পে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ঘুস নেওয়ার অভিযোগের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন ইউপি মেম্বার চেয়ারম্যানরা। বিশেষ করে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারি বরাদ্দের টাকা নয়ছয় করা হচ্ছে।   সম্পদ গঠনের অভিযোগ নামে ও আত্মীয়দের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে জমি, ফ্ল্যাট এবং অন্যান্য সম্পদ রয়েছে।বরিশালে জমি,ফ্লাট,ঢাকায় ফ্লাট,প্রায় দুই শত ভরি স্বর্ন, গাড়িসহ রয়েছে ঢাকা,বরিশাল ও বাকেরগঞ্জে জমি। বরিশালের প্রান কেন্দ্র সদর রোডের একটি বহুতল ভবনেও রয়েছে তার ফ্লাট।বরিশাল নগরীর চৈতন্য স্কুল এলাকায় রয়েছে জমি ও ফ্লাট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অভিযোগ যাচাই করতে আয়কর নথি, সম্পত্তি রেকর্ড ও ব্যাংকিং তথ্য বিশ্লেষণ প্রয়োজন।   প্রশাসনিক নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন এতগুলো অভিযোগের পরও কোনো দৃশ্যমান তদন্ত না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। একজন স্থানীয় নাগরিক বলেন, “অভিযোগ বহুদিনের, কিন্তু কোনো সমাধান দেখা যাচ্ছে না।”   বিশেষজ্ঞদের মতামত সুশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপজেলা পর্যায়ের প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে: ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা, প্রকল্প তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা, সামাজিক নিরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা, নিয়মিত নিরপেক্ষ অডিট করা। তাদের মতে, জবাবদিহিতা না থাকলে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের ঝুঁকি বাড়ে।   কোটালীপাড়া উপজেলার উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারি অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। অভিযোগের ব্যাপারে  কোটালীপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এইচ এম আনসার এর সরকারি ও নিজস্ব মোবাইল নম্বরে কল করা হলেও তিনি  রিসিভ করেন নি।ফলে তার বক্তব্য দেযা সম্ভব হয়নি।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
পেকুয়ায় বিশুদ্ধ পানি প্রকল্প: ৫০০ পরিবার পাবে নিরাপদ পানির সুবিধা

সাজ্জাদুল ইসলাম:  কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা-এর একটি গ্রামে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে, যা স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের পানির সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। উপজেলার সদর এলাকার সিকদারপাড়া গ্রামে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটির আওতায় প্রায় ৫০০টি পরিবার সরাসরি নিরাপদ পানির সুবিধা পাবে। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পেকুয়া ছাড়াও পাশের চকরিয়া উপজেলা-এর বিভিন্ন ইউনিয়নে একই ধরনের পানি সরবরাহ প্রকল্প ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন হয়েছে। পাশাপাশি পেকুয়ার মগনামা, রাজাখালী, বারবাকিয়া ও টইটং ইউনিয়নেও আরও কয়েকটি প্রকল্পের কাজ চলছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করাই এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এর ফলে পানিবাহিত রোগ কমে আসবে এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটবে বলে তারা আশা করছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, সরকার উপকূলীয় এলাকার মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্প আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভোগার পর এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরে আসবে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২২, ২০২৬ 0
খাল খনন: জিয়া থেকে তারেক

আলম রায়হান: বর্তমান সরকারের প্রধান কর্মসূচির মধ্যে একটি হচ্ছে পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন। কাগজপত্রের হিসাবে এ কাজ অতীব সহজ। বেকু দিয়ে কাটলেই হলো! উল্লেখ্য জনশক্তির ওপর নির্ভর করে এ কাজের সূচনা করেছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। বলা হয়, এটি নিছক কোনো কাজ নয়, একটি আন্দোলন। বিপ্লবও বলা চলে। দেশকে স্বনির্ভর করাই ছিল তাঁর ঘোষিত লক্ষ্য। গভীরে আরও অনেক বিষয় ছিল।  পানি নিয়ে ভাবতেন প্রেসিডেন্ট জিয়া প্রেসিডেন্ট জিয়া পানি নিয়ে ভাবতেন। যে ভাবনা থেকেই ভারতের সঙ্গে পানির ন্যায্য হিস্সার ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ পানি রক্ষায় নানান উদ্যোগ নিয়েছেন। এ উদ্যোগেরই আলোচিত ও আলোকিত দিক হচ্ছে খাল খনন। কয়েক দশক আগে সূচিত কাজটিই নতুন উদ্যমে হাতে নিয়েছেন জিয়াপুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কিন্তু মাঝখানে পদ্মা-মেঘনা দিয়ে অনেক পানি গড়িয়েছে। ফলে জিয়াউর রহমানের পক্ষে যা বাম হাতের খেলা ছিল, তারেক রহমানের পক্ষে তা কতটা সহজ-এ নিয়ে অনেকেই ভাবছেন। সঙ্গে আরও অনেক প্রসঙ্গ নিয়ে নানান আলোচনা আছে। কিন্তু মূল কথাটি সম্ভবত এখনো তেমন আলোচনায় আসেনি। তা হচ্ছে, খাল কাটা হবে কোথায়, কীভাবে। এ প্রসঙ্গে কারও মনে পড়তেই পারে হাসন রাজার গান, ‘কী ঘর বানাইমু আমি শূন্যের মাঝার।’ এ প্রসঙ্গে অতীতের একটি ঘটনার অবতারণা করা যাক। এবং বলে রাখা ভালো, কোনো বিচারেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতীয় নদী কমিশনের চেয়ারম্যানের তুলনা চলে না। তবে অনুমান করা যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নদী কমিশনের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গ তো আনুপাতিকভাবে আসতেই পারে।    শেখ হাসিনার দিকে ফিরেও তাকাননি উল্লেখ্য শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নদী কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী। তিনি শেখ পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবেও বেশ পরিচিত। এরপরও মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। যামিনী না পোহাতেই জাগাবার মতো ঘটনা ঘটেছে। যদিও অন্য রকম আকুতি আছে বরীন্দ্রনাথের গানে, ‘কেন যামিনী না যেতে জাগালে না, বেলা হলো মরি লাজে।’ নদী কমিশনের উল্লিখিত চেয়ারম্যান নদী-পানি রক্ষায় নিজেকে ক্ষমতাধর মনে করেছিলেন, রথের মতো। যেটাকে সরকারের ঘনিষ্ঠ ‘নদীখোর’ সাঙাতরা খুব বেশি বাড়াবাড়ি বলে বিবেচনা করেছিলেন।  মনে রাখা প্রয়োজন, সব সরকারের আমলেই একদল সাঙাত জুটে যায়। এরা খুবই ক্ষমতাধর হয়। সরকারের সঙ্গে এদের সম্পর্কটা অনেকটা পরকীয়ার আদলে। ফলে সাঙাতদের বদনখানি মলিন হলেই সরকারের কেন্দ্রে এক প্রকার ঝাঁকুনি লাগে। যদিও নিদানকালে এসব সাঙাত কোনোই কাজে লাগে না। এটি শেখ হাসিনার পরিণতিতে দিবালোকের মতো স্পষ্ট। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যাঁরা চিরকাল থাকার সংকল্প করেছিলেন, এমনকি একত্রে কবরেও যাওয়ার কথা বলেছিলেন তাঁরা ইউটার্ন করেছেন নিমেষে। শেখ হাসিনার দিকে ফিরেও তাকাননি। কবরে যাওয়া তো অনেক দূরের বিষয়।  কবর থেকে উঠতেই চাচ্ছিলেন না মোশতাক কবর প্রসঙ্গে একটি বিষয় উল্লেখ করা যায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তাঁর বাবা ইন্তেকাল করেন। তাঁকে শেষবিদায়পর্বে যাঁরা কবরে নামিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে খোন্দকার মোশতাকও ছিলেন। কিন্তু তিনি এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে কবর থেকে আর উঠতেই চাচ্ছিলেন না। কিন্তু নির্মম ইতিহাস বলে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে সপরিবার কবরে পাঠানোর ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন এই মোশতাক। বলাবাহুল্য এরকম অনেক বাস্তবতা আছে। কিন্তু কেউ তেমন বিবেচনায় নেন না। শিক্ষা নেওয়া তো অনেক দূরের বিষয়। ওয়ান-ইলেভেনের পরিণতি কি কেউ বিবেচনায় নিয়েছেন? অন্তত আওয়ামী লীগ নেয়নি। যদিও হাসপাতাল থেকে অচল অবস্থায় কর্মীদের কাঁধে চড়ে বের হওয়ার সময় ওবায়দুল কাদের ওয়ান-ইলেভেনকে ‘একটি শিক্ষা’ হিসেবে উচ্চারণ করেছিলেন আবেগঘন নাটকীয়তায়। কিন্তু ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি এবং তাঁর সরকার কী করেছে? আসলে এটি হচ্ছে দেশের সরকারগুলোর ইনবিল্ড প্রবণতা। আর আমাদের রাজনীতিকরা যতটা না সরকার গঠন করেন, তার চেয়ে অনেক বেশি দৈন্যে সরকার কাঠামোতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। একপর্যায়ে এই কাঠামোবলয়ে আশ্রিত হয়ে যান এবং সরকার কাঠামোকেই সুরক্ষার বর্ম হিসেবে বিবেচনার বিভ্রমে আক্রান্ত হন। হেলাল হাফিজের কবিতার প্রিয়ার গালে মাছিকে তিল ভেবে ভুল করার মতো। ফলে সামগ্রিক বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়ার অবস্থায় তারা থাকেন না।  শিরোমণি ছিলেন অতিবাচাল এক নারী কাজেই সরকার কাঠামোতে নদী-পানির বিষয়ে নদী কমিশনের চেয়ারম্যান তো নস্যি, মন্ত্রীও একপ্রকার তেজপাতা। কাজেই নদী কমিশনের চেয়ারম্যান যতই শেখ পরিবারঘনিষ্ঠ ও দক্ষ হন না কেন, তাতে কিছু যায় আসে না। ফলে নদী কমিশনের চেয়ারম্যানের সক্রিয় ভূমিকা বড় বেশি বাড়াবাড়ি মনে করা হয়েছিল ক্ষমতাকেন্দ্রের সাঙাতদের কাছে। তাঁর সবচেয়ে ‘বড় অপরাধ’ ছিল, তিনি ঢাকার চারদিকের চারটি নদী পরিষ্কার রাখার জন্য গোঁ ধরেছিলেন। যাকে বরিশালের স্থানীয় বয়ানে বলা হয়, ‘ছাগলের ঠেনি।’ চেয়ারম্যান এমনও বলেছিলেন, ‘নদীর পানি এমন স্বচ্ছ হবে যে ঝিনুক ফিরে আসবে, মাছ ধরার জন্য নদীর তীরে ধ্যানের মতো অপেক্ষায় থাকবে মাছরাঙা।’ কিন্তু এসবের কিছুই হয়নি। উল্টো খোদ প্রধানমন্ত্রীর রোষানলে অপমানিত হয়েই বিদায় নিয়েছেন।  তবে এ অপকর্মের জন্য খুব ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের গলদঘর্ম হতে হয়নি। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদী দখল করে ডকইয়ার্ড নির্মাণকরী এক ব্যবসায়ী মূল খেলা খেলে দিয়েছেন। এর প্রেক্ষাপট প্রস্তুত করার জন্য সক্রিয় ছিল পরিবেশবাদীর ছদ্মাবরণে কতিপয় ভুঁইফোঁড় এনজিও। আর এদের শিরোমণি ছিলেন নাটকীয় বচনের অতিবাচাল এক নারী। পরে তিনি ইউনূস সরকারের উপদেষ্টার আসন অলংকৃত করেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারে থাকাকালে তাঁর অনেক অপকর্মের ফিরিস্তি এর মধ্যেই বেশ চাউর হয়েছে। এরপরও তিনি বাচালপ্রবণতা ত্যাগ করতে পারেননি। কয়েক দিন আগে সংসদ নির্বাচনের সময় তাঁদের তৎপরতা প্রশ্নে বচন দিয়ে জামায়াতের হাতে একটি বড় ইস্যু তুলে দিয়েছেন, সরকারকে ফেলেছেন বিব্রতকর অবস্থায়। তিনি এমনই এক জিনিস।  হাসিনার প্রতিমন্ত্রীও ছিলেন ‘নদীখাদক’  এই অদম্য নারীর সঙ্গে যদি হাসিনা সরকারের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী যুক্ত হন তাহলে আর কিছু লাগে! প্রসঙ্গত এই প্রতিমন্ত্রীও ‘নদীখাদক’ হিসেবে কুখ্যাত। শুরুর দিকেই বলেছি, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কোনো কমিশন চেয়ারম্যানের তুলনা না চললেও অনুমান করা যায়। এই আলোকেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার অনুকরণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খাল কাটা উদ্যোগ পানির মতো সোজা মনে হচ্ছে না। প্রসঙ্গত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শুরুতে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দেশের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা ছিলেন। তিনি ছিলেন একক ক্ষমতাধর। তাঁর হাতে ‘ডান্ডা’ ছিল। আর সেই সময়ে রাজনীতি ততটা কলুষিত হয়নি, যতটা হয়েছে পরবর্তী সময়ে ক্রমাগতভাবে। দ্রুত অধোগতির ধারায় রাজনীতির জার্সি গায়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরের অপরাধী ও ধান্ধাবাজরা রাজনীতিতে ঢুকে পড়েছেন। ফলে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে রাজনীতিতে ঠগ বাছতে কম্বল উজাড় হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হতে পারে। রাষ্ট্রকাঠামোতে নানান কিসিমের অপরাধীতে গিজগিজ করে রাষ্ট্রকাঠামোর ওপর দিকের বিভিন্ন স্তর থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নানান কিসিমের অপরাধীতে গিজগিজ করে। এরা নিজের স্বার্থ ছাড়া আর কোনো কিছুকে বিবেচনায় নেয় না। এই অপশক্তি বিভিন্ন দলে সংযুক্ত। তাদের বাহারি পরিচয় ‘নেতা’। কথিত এই নেতারা সুযোগ পেলে পাবলিকের খাতা ধরে টানাটানি করে। বস্ত্র হরণের একাধিক খবর তো গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। অনেক খবর অপ্রকাশিতই থেকে যায়। কাজেই খাল খনন করতে গিয়ে যখন উচ্ছেদ প্রসঙ্গ আসবে তখনই হবে জটিল খেলা। এ প্রসঙ্গে পানিসম্পদমন্ত্রী প্রকারান্তরে আগাম ধারণা দিয়ে রেখেছেন। তিনি ৮ মার্চ বলেছেন, ‘খাল এবং নদীর অনেক জায়গায় দীর্ঘ সময় পলি জমে ছিল, অনেক জায়গায় দোকানপাট বাড়িঘর গড়ে উঠেছিল। আমরা সব বাধাবিপত্তি দূর করে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’ প্রশ্ন হচ্ছে, যারা দখল করেছে তারা কি সহায়তা করার জন্য মুখিয়ে আছেন? এদের তো উচ্ছেদ করতে হবে। এটি মোটেই সহজ নয়, বরং খুবই কঠিন কাজ।  পানি উন্নয়ন বোর্ড সম্পর্কে মন্ত্রীর সম্যক ধারণা আছে?  প্রশ্ন আছে, খাল কাটার উদ্দেশ্য কী? এ ব্যাপারে আগিলা সময়ের একটি পাঠ্য রচনা প্রসঙ্গে আসা যাক। সেই সময় রচনাবলির মধ্যে একটি ছিল, ‘যদি লাখ টাকা পাই’। শিশুতোষ রচনায় লাখ টাকা পেলে নানা পরিকল্পার কথা বলা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, সব ভাত গুড় দিয়ে খাওয়ার ভাবনা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, খাল কাটার প্রধান উদ্দেশ্যগুলো কী কী?  আতা গাছে তোতা পাখির মতো সরকারি বয়ান নিশ্চয়ই প্রস্তুত, ‘বর্ষাকালের পানি ধারণ, শুষ্ক মৌশুমে কৃষিতে সেচের ব্যবহার এবং জলাবদ্ধতা দূর করা।’ খুবই ভালো কথা। কিন্তু এই লক্ষ্য অর্জন নিশ্চিত করার দৃঢ়তা কি সরকারের বখেদমতে হুজুরেআলাদের আছে? এ নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। এদিকে মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে খাল কাটা কাজ হচ্ছে। কিন্তু যতটুকু জানা গেছে, খাল খননের মাঠের কাজটি করবে প্রধানত তাঁর মন্ত্রণালয়ের অধীন পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিএডিসি। কিন্তু নিজ মন্ত্রণালয়ের অধীন পানি উন্নয়ন বোর্ড সম্পর্কে মন্ত্রীর কী সম্যক ধারণা আছে? বলা কঠিন!  প্রয়োজনে ক মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি হাসিনা সরকারের পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীমের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারেন। আবার উপমন্ত্রী বলে অবজ্ঞা করা ঠিক হবে না। কারণ এনামুল হক শামীম খুবই ক্ষমতাধর ছিলেন।  এরপরও তিনি নিজ মন্ত্রণালয়ের অধীন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছুই করতে পারেননি। আরও অনেক কঠিন বাস্তবতা আছে। এসব অতিক্রম করেই খাল কাটা কর্মসূচি সফল করতে হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। যা পাহাড় লঙ্ঘনের মতোই কঠিন কাজ। যত জটিলতাই হোক না কেন, খাল কাটায় প্রধানমন্ত্রীর সাফল্য কামনা করি। কারণ দেশ বাঁচানোর প্রাণভোমরা কিন্তু পানি। আর পানির প্রথম ধাপটিই হচ্ছে খালবিল-পুকুর, পরে নদী। খাল খনন কর্মসূচি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে এটি বাস্তবায়ন করতে গেলে প্রশাসনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সামাজিক সহযোগিতা—সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন। পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশ—উভয়ের জন্যই জরুরি। কিন্তু পরিকল্পনা আর বাস্তবতার ব্যবধান কমানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২০, ২০২৬ 0
মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সের অপ্রতিরোধ্য উত্থানের অন্তরালে সিন্ডিকেট, অনিয়ম ও প্রভাবের জাল

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ), পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)সহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সংস্থাগুলোর মাধ্যমে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়। কিন্তু এই বিপুল অর্থের প্রবাহের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে—ঠিকাদারি সিন্ডিকেট, রাজনৈতিক প্রভাব, কাজ না করেই বিল উত্তোলন, নিম্নমানের নির্মাণ এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগে দুর্নীতির বিস্তার। সাম্প্রতিক সময়ের একাধিক তথ্য-উপাত্ত, নথি এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে উঠে আসে একটি আলোচিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম—**মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড**। প্রতিষ্ঠানটি গত আট মাসে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে ২৮০টি কাজ পেয়েছে, যার মোট দর ৮৩৬ কোটি টাকা। এত অল্প সময়ে এত বিপুল পরিমাণ কাজ পাওয়া নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনি প্রতিষ্ঠানটির অতীত কার্যক্রম, রাজনৈতিক সংযোগ এবং কাজের বাস্তবায়ন নিয়েও রয়েছে গুরুতর অভিযোগ।  দ্রুত উত্থান না প্রভাবের খেলা? নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এলজিইডি, সওজ, পাউবো, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ (ইইডি), গণপূর্ত বিভাগ (পিডব্লিউডি), খাদ্য অধিদপ্তর এবং রুরাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেটিভ—এই আটটি সংস্থা থেকে মোট ২৮০টি কাজ পেয়েছে ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স। এর মধ্যে: * এলজিইডি: ১৭৩টি কাজ (৬০৩ কোটি টাকার বেশি) * সওজ: ৮১টি কাজ * পাউবো: ১৫টি কাজ (প্রায় ১৭৪ কোটি টাকা) * অন্যান্য সংস্থা: বাকি কাজগুলো বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এত স্বল্প সময়ে এতগুলো প্রকল্প গ্রহণ করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করা প্রায় অসম্ভব। একজন সাবেক প্রকৌশলী বলেন, “এটি শুধু সক্ষমতার প্রশ্ন নয়, বরং এটি একটি সিস্টেমিক ইস্যু। একটি প্রতিষ্ঠান এত কাজ পেলে ধরে নিতে হয়—তারা হয় নিজেরা কাজ করছে না, অথবা কাজগুলো সাব-লেট করছে।”  “আমরা সক্ষম”—প্রতিষ্ঠানের দাবি এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইমরান হোসেন দাবি করেন, তারা সম্পূর্ণ আইন মেনে কাজ করছেন। তার ভাষায়: “আমাদের ৫০ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমরা ধাপে ধাপে বড় হয়েছি। কাজ না করে বিল তোলার মতো কোনো কৌশল আমাদের জানা নেই। আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে।” ৮৩৬ কোটি টাকার কাজ পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “এটা আমাদের সক্ষমতার বিষয়। অতীতে আরও অনেক নতুন প্রতিষ্ঠান রাতারাতি হাজার কোটি টাকার কাজ পেয়েছে।” তবে তিনি স্বীকার করেন, কিছু ক্ষেত্রে অংশীদারি ভিত্তিতে অন্য প্রতিষ্ঠান কাজ করে থাকে।  সাব-কন্ট্রাক্টিং নাকি ‘লাইসেন্স ভাড়া’? অভিযোগ রয়েছে, ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স নিজে খুব কম কাজ করে। বরং তারা বিভিন্ন জেলার ঠিকাদারদের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত চুক্তিতে দরপত্র জমা দেয় এবং কাজ পাওয়ার পর তা সাব-কন্ট্রাক্ট হিসেবে বিক্রি করে দেয়। এই পদ্ধতিতে: * স্থানীয় ঠিকাদাররা ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সের লাইসেন্স ব্যবহার করে দরপত্রে অংশ নেয় * কাজ পাওয়ার পর নির্দিষ্ট শতাংশ কমিশন দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে * মূল প্রতিষ্ঠানের নাম থাকলেও কাজের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণে থাকে না একজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এটা ওপেন সিক্রেট। কাজ পাওয়ার আগেই সব সেটেল হয়ে যায়। কে কাজ করবে, কত টাকায় করবে—সব ঠিক থাকে।”  মহারাজ সিন্ডিকেট: অতীতের ছায়া কি এখনও সক্রিয়? তদন্তে উঠে এসেছে, পিরোজপুরের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী ঠিকাদারি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল। এই সিন্ডিকেট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। অভিযোগ অনুযায়ী: * ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স ছিল এই সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য * রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা বিপুল সংখ্যক প্রকল্প পেত * প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অর্থ আত্মসাৎ করা হতো ক্ষমতার পরিবর্তনের পর মহারাজ বিদেশে পালিয়ে গেলেও এই সিন্ডিকেটের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একজন তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, “মহারাজ নেই, কিন্তু তার নেটওয়ার্ক আছে। ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স সেই নেটওয়ার্কের একটি মুখমাত্র হতে পারে।”  অতীতের অভিযোগ: কাজ না করেই বিল উত্তোলন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের এক তদন্তে উঠে আসে ভয়াবহ তথ্য—এলজিইডির পিরোজপুর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে ১৭টি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১,৬৪৭ কোটি টাকা কাজ না করেই উত্তোলন করা হয়েছে। এই ঘটনায়: * রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় * ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে * প্রায় ৯৬ কোটি টাকার কাজ পায় প্রতিষ্ঠানটি * এর মধ্যে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা অগ্রিম বিল হিসেবে তোলা হয় বর্তমানে এই ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে। চলমান প্রকল্প: কাজের অগ্রগতি প্রশ্নবিদ্ধ পিরোজপুরে ইউনুস অ্যান্ড  ব্রাদার্সের অন্তত ৩০টি প্রকল্প এখনও অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরু হলেও তা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “প্রথমে কাজ শুরু হয়, তারপর বন্ধ হয়ে যায়। আবার যখন খবর হয় তখন একটু কাজ করে।”  সিরাজগঞ্জে হুমকি: অনিয়ম ধরলেই চাপ সিরাজগঞ্জের তাড়াশে একটি ১৯ কোটি টাকার সড়ক প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পটির কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হয়নি—অগ্রগতি মাত্র ৩০ শতাংশ। এখানে আরও গুরুতর অভিযোগ: * নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার * প্রকৌশলীদের হুমকি * ১৯টি শোকজ নোটিশের কোনো জবাব না দেওয়া উপজেলা প্রকৌশলী ফজলুল হক বলেন, “নিম্নমানের কাজ করতে বাধা দিলে আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।” অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে—কাজটি স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠান করছে। ইজিপি টেন্ডার: স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ? সরকারি ক্রয়ে ইজিপি (ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট) চালুর মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—কীভাবে একটি প্রতিষ্ঠান এত বিপুল সংখ্যক কাজ পাচ্ছে? বিশেষজ্ঞদের মতে: * ইজিপি থাকা সত্ত্বেও কারসাজির সুযোগ রয়েছে * দরপত্রে ‘সেটিং’ করা সম্ভব * প্রযুক্তিগত মূল্যায়নে পক্ষপাতিত্ব হতে পারে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী দাবি করেন, “ইজিপিতে অনিয়মের সুযোগ নেই। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”  জি কে শামীমের চেয়েও ধূর্ত ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স সংশ্লিষ্টরা ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সকে বিতর্কিত ঠিকাদার জি কে শামীমের সঙ্গে তুলনা করছেন। তাদের মতে, “জি কে শামীম গ্রেফতার হয়েছে, কিন্তু ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স আরও কৌশলী—তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে।” এই তুলনা থেকেই বোঝা যায়, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে কতটা গভীর সন্দেহ রয়েছে। কাজ না করেই প্রায় ১৬০০ কোটি টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ চট্টগ্রামভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স-এর বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সহ বিভিন্ন দপ্তরে কাজ না করেই প্রায় ১৬০০ কোটি টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া দুর্নীতির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটি কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও গত আট মাসে তারা বিভিন্ন সরকারি বিভাগ থেকে আরও ২৮০টি নতুন কাজ বাগিয়ে নিয়েছে।  এসব অভিযোগের বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:  কাজ না করেই অর্থ উত্তোলন: অভিযোগ অনুযায়ী, এলজিইডির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বাস্তবে কোনো কাজ সম্পাদন না করেই বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি।     সিন্ডিকেট ও কাজ বিক্রি: প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে যে, তারা নিজেরা কাজ না করে তা অন্য ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করে দেয়। প্রতিটি জেলায় তাদের নির্দিষ্ট 'এজেন্ট' বা 'প্রস্তুত ঠিকাদার' রয়েছে যারা ইউনুস ব্রাদার্সের লাইসেন্স ব্যবহার করে দরপত্র জমা দেয়।     রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দাপট: প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিরোজপুরের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য ছিল এই ইউনুস ব্রাদার্স। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও তাদের আধিপত্য কমেনি এবং এলজিইডি, সওজ (সড়ক ও জনপথ), এবং পাউবো (পানি উন্নয়ন বোর্ড)-র মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে তাদের কাজ পাওয়া অব্যাহত রয়েছে।    নতুন কাজের কার্যাদেশ: দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ থাকার পরেও গত আট মাসে প্রতিষ্ঠানটি ৮৩৬ কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ২৮০টি নতুন কাজের কার্যাদেশ পেয়েছে।  উল্লেখ্য যে, মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সকে জি কে শামীমের চেয়েও 'ধূর্ত' হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, কারণ তারা দুই সরকারের আমলেই সমানতালে কাজ বাগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে।  নতুন কাজের কার্যাদেশ ও কালো তালিকাভুক্তি এড়ানো দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগে এই প্রতিষ্ঠানটি কালো তালিকাভুক্ত  থাকলেও, রহস্যজনকভাবে তারা নতুন কাজ পাওয়া অব্যাহত রেখেছে:      মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ (সওজ) এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) থেকে আরও প্রায় ২৮০টি নতুন কাজের কার্যাদেশ পেয়েছে।     এসব নতুন কাজের মোট আর্থিক মূল্য প্রায় ৮৩৬ কোটি টাকা। অভিযোগ রয়েছে যে, কোনো অভিযোগই তাদের নতুন কাজ পাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারছে না।   কাজের ধরন ও সিন্ডিকেট পরিচালনা  ইউনুস ব্রাদার্সের কাজ করার পদ্ধতি নিয়ে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে:     কাজ বিক্রি: তারা বড় বড় প্রকল্পের কাজ বাগিয়ে নিয়ে তা স্থানীয় পর্যায়ে অন্য ঠিকাদারদের কাছে নির্দিষ্ট কমিশনের বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়।     প্রস্তুত ঠিকাদার (Ready Contractor): প্রতিটি জেলায় তাদের নিজস্ব 'এজেন্ট' বা 'রেডি কন্ট্রাক্টর' রয়েছে। ইউনুস ব্রাদার্সের লাইসেন্স ব্যবহার করে এই এজেন্টরাই দরপত্র             জমা দেয় এবং পরবর্তীতে নিম্নমানের কাজ করে বা কাজ না করেই বিল তুলে নেয়।     রাজনৈতিক প্রভাব: আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে ও পরে, উভয় সময়েই এই প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রভাব খাটিয়ে কাজ বাগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। এমনকি বর্তমানেও এলজিইডির কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে তারা নতুন কার্যাদেশ নিশ্চিত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।     সমস্যা কোথায়? এই পুরো ঘটনার বিশ্লেষণে কয়েকটি বড় সমস্যা স্পষ্ট হয়: ১. অতিরিক্ত কাজ বণ্টন একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে অতিরিক্ত কাজ কেন্দ্রীভূত হওয়া প্রতিযোগিতা ও মান নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করে। ২. সাব-কন্ট্রাক্টিং সংস্কৃতি মূল প্রতিষ্ঠান কাজ না করে অন্যদের দিয়ে করালে জবাবদিহিতা কমে যায়।  ৩. রাজনৈতিক প্রভাব ঠিকাদারি কাজে রাজনৈতিক সংযোগ বড় ভূমিকা রাখছে।  ৪. তদারকির দুর্বলতা শোকজ নোটিশ দিয়েও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া প্রশাসনিক ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়।   বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি পদক্ষেপের কথা বলছেন: * বড় প্রকল্পে একক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ সীমিত করা * সাব-কন্ট্রাক্টিং কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা * প্রকল্প তদারকিতে স্বাধীন সংস্থা যুক্ত করা * দুর্নীতির অভিযোগে দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, দুর্নীতির অভিযোগগুলো নিয়ে আলোচনা ও প্রাথমিক তদন্তের কথা বলা হলেও, মাঠ পর্যায়ে কাজ না করেই টাকা তোলার জন্য প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল বা অর্থ আদায়ের মতো কার্যকর কোনো অগ্রগতি এখনো দৃশ্যমান নয়। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো তাদের বিরুদ্ধে বড় কোনো মামলার কার্যক্রম বা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার মতো পদক্ষেপ নেয়নি। তবে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা বিভিন্ন সময়ে জানা গেছে। মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেডের উত্থান শুধুমাত্র একটি প্রতিষ্ঠানের গল্প নয়—এটি বাংলাদেশের সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যবস্থার গভীর কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিচ্ছবি। এখানে যেমন রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব, তেমনি রয়েছে প্রশাসনিক শৈথিল্য এবং জবাবদিহিতার অভাব। অভিযোগ প্রমাণিত হোক বা না হোক, একটি বিষয় পরিষ্কার—এত বিপুল কাজ, এত অভিযোগ, এবং এত প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্ত জরুরি। অন্যথায় উন্নয়ন প্রকল্পের নামে জনগণের অর্থ অপচয় এবং নিম্নমানের অবকাঠামোর চক্র থেকে বের হওয়া কঠিন হবে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ঝালকাঠী এলজিইডি
ঝালকাঠী এলজিইডির টেন্ডার প্রক্রিয়াকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : ঝালকাঠী সদর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ হেল বাকীর বিরুদ্ধে রয়েছে পাহাড়সম দুর্নীতি,অনিয়ম,টেন্ডার বানিজ্য,সরকারি অর্থ তছরুপ ও প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগ। বিশেষ করে উন্নয়ন প্রকল্প, ক্রয় কার্যক্রম এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া,ব্রিজ ও রাস্তা নির্মানকে  কেন্দ্র করে অসংখ্য বার প্রশ্ন উঠেছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত দুদকের গনশুনানীতে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল ঝালকাঠির পিপলীতার এস এ জুয়েল হাওলাদার নামে এক ব্যক্তি। দুদকে অভিযোগ ঘিরে নতুন করে এমন অভিযোগ সামনে এসেছে, যা পুরো ব্যবস্থাপনাকেই আবারও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলায় একটি আয়রন ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়াকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঝালকাঠী সদর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ হেল বাকীর বিরুদ্ধে। প্রায় ৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকার এই প্রকল্প নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে দোষারোপের পাল্টাপাল্টি অবস্থান পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। অভিযোগের সূত্রপাত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফাস্টবিল্ডের পক্ষ থেকে, যারা দাবি করছে—টেন্ডার মূল্যায়নে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম হয়েছে। অভিযোগটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলীর কাছে জমা দেওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।  কী এই প্রকল্প? এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ঝালকাঠি সদর উপজেলার দোগলচিড়া-বেতরা খালের ওপর একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের জন্য ২০২৪ সালের ১৩ নভেম্বর টেন্ডার আহ্বান করা হয়। ওটিএম পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ টেন্ডারে একাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। টেন্ডার আইডি ১০৩৩১৭৫-এ দুটি প্রতিষ্ঠান—ফাস্টবিল্ড ও ই-স্মার্ট কনস্ট্রাকশন লিমিটেড—একই দর (৪ কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার ৩০৩ টাকা) জমা দেয়।  কোথায় অনিয়মের অভিযোগ? ফাস্টবিল্ডের অভিযোগ অনুযায়ী, ই-স্মার্ট কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে পূর্ব থেকেই এলজিইডির টেন্ডারে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা ছিল। তাছাড়া, তারা বিভিন্ন প্রকল্পের নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (NOA) গোপন রেখে নিজেদের টেন্ডার সক্ষমতা (capacity) বাড়িয়ে দেখিয়েছে। এই অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে মূল্যায়নে অগ্রাধিকার পেল—সেই প্রশ্ন তুলেছে ফাস্টবিল্ড।  তদন্তের নির্দেশ, চিঠি নিয়ে বিভ্রান্তি অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রকল্প পরিচালক শরীফ জামাল উদ্দিন অলোক ঝালকাঠি এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে একটি চিঠি দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে বলেন। তবে এই চিঠি নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম সরকার দাবি করেন, চিঠিটি সরাসরি তার কাছে নয়, বরং সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলীর উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে—কারণ তিনিই টেন্ডার কমিটির সভাপতি। অন্যদিকে, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শিপলু কর্মকার বলেন, তিনি কোনো চিঠি পাননি। তার দাবি, টেন্ডার মূল্যায়নের কাজ আগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. রাজিউল্লাহ সম্পন্ন করে গেছেন এবং তিনি শুধু তাতে স্বাক্ষর করেছেন।  এই টেন্ডারে ক্ষমতার অপ ব্যবহার করেছেন সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শিপলু কর্মকার।কারন তিনি ছিলেন টেন্ডার কমিটির সভাপতি।শিপলু কর্মকারের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত দুদকের গনশুনানীতে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি।তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন,ঝালকাঠি সদর উপজেলার দোগলচিড়া-বেতরা খালের ওপর একটি গার্ডার ব্রিজের টেন্ডারে অনিয়ম করে এলজিইডি থেকে টেন্ডারে নিষেধাজ্ঞা দেয়া "ই-স্মার্ট" ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে (নোহা) নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ারবড দেযার অভিযোগ।উক্ত এলজিইডি এর সিনিয়র প্রকৌশলী শিপলু কর্মকার টেন্ডার কমিটির সভাপতি হিসাবে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে।  ‘আমি করিনি’—পাল্টা দাবি সাবেক কর্মকর্তার এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন সাবেক সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. রাজিউল্লাহ। তার বক্তব্য, তিনি কেবল দরপত্র খোলার কাজ পর্যন্ত যুক্ত ছিলেন এবং ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর বদলি হয়ে যান। মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তার ভাষায়, “মূল্যায়ন রিপোর্টে আমার কোনো স্বাক্ষর নেই। এখন আমার ওপর দায় চাপানো হলে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।”  বরখাস্ত প্রকল্প পরিচালকের অবস্থান এদিকে, এই প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অস্থায়ী প্রকল্প পরিচালক আদনান আকতারুল আজিম ইতোমধ্যে দুর্নীতির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই এবং বর্তমান প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।  প্রশ্নের মুখে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একই লাইসেন্সগত ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও একটি টেন্ডার গ্রহণ এবং অন্যটি পুনঃটেন্ডার (রি-টেন্ডার) করার সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হলো—তা স্পষ্ট নয়। এই বৈপরীত্যই এখন তদন্তের অন্যতম কেন্দ্রে রয়েছে।  কী হতে পারে পরবর্তী পদক্ষেপ? এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশে বিষয়টি এখন তদন্তাধীন। প্রকল্প পরিচালক সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।   এলজিইডির প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ হেল বাকীর বিরুদ্ধে আরো দু'টি অভিযোগ: ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত দুদকের গনশুনানীতে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল ঝালকাঠির পিপলীতার আব্দুল হাইর পুত্র এস এ জুয়েল হাওলাদার নামে এক ব্যক্তি। তিনি লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন,পিপলিতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে রমনাথপুর বাইপাস সংযোগ সড়কটির কাজ (আইডি নং ৫৪২৪০৪১৫৯) পুর্বে ইটের সলিং ছিল।পুর্বের রাস্তা যে দিকে ছিল সে দিকেই ইস্টিমেট করা সত্ত্বেও বর্তমানে কার্পেটিং করার সময় এই রাস্তাটি অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিযেছেন।এছাড়া, এলজিইডির প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ হেল বাকীর বিরুদ্ধে ঝালকাঠির পুর্ব তারুলীর আলতাফ হোসেন মোল্লার পুত্র মোঃ লিটন মোল্লাও দুদকে লিখিত অভিযোদ দায়ের করেছিল। দুদক ও এলজিইডিতে একের পর এক অভিযোগ থাকলেও তিনি এখনো ধরা ছোয়ার বাইরে। রয়েছেন বহাল তবিয়তে। সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর ঘনিষ্ঠ এই কর্মকর্তা দুর্নীতি ও অনিয়ম করলেও তিনি সব সময়ই থাকছেন খোশ মেজাজে। এ ব্যাপারে ঝালকাঠী সদর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ হেল বাকীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় তিনটি বিষয় বিশেষভাবে সামনে এসেছে: প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার ঘাটতি, চিঠি আদান-প্রদান নিয়েই বিভ্রান্তি, যা প্রশাসনিক দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। দায় এড়ানোর প্রবণতা,সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরস্পরের দিকে দায় ঠেলে দিচ্ছেন। টেন্ডার প্রক্রিয়ার প্রশ্নবিদ্ধতা,সমান দর, নিষিদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং ভিন্ন সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ জোরালো হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে—এই অভিযোগগুলো কতটা সত্য এবং এর দায় কার ওপর বর্তাবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
বিলকিস জাহান শিরীন
ফরিদপুর বর্জ্য শোধনাগার প‌রিদর্শন করলেন বিসিসি প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরীন

বরিশাল অফিস :    ফরিদপুর পৌরসভার বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ এলাকার আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে ফরিদপুর পৌরসভার আদমপুর এলাকায় বর্জ্য শোধনাগার ও রিসাইকেলিং প্লান্ট পরিদর্শনে যান তিনি। পরিদর্শনকালে তার সাথে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার। বিসিসি প্রশাসক আদমপুর এলাকায় বর্জ্য শোধনাগারের বিভিন্ন ইউনিট ঘুরে দেখেন। বিশেষ করে প্লাস্টিক রিসাইকেলের ‘পাইরোলাইসিস প্লান্ট’ এর কার্যক্রমে তিনি বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন। এই প্লান্টে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বর্জ্য পুড়িয়ে পরিবেশবান্ধব উপায়ে জ্বালানি তেল ও কার্বন তৈরি করা হচ্ছে। বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করার এই প্রক্রিয়াটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। ফ‌রিদপু‌রের আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা পরিদর্শন শেষে অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন জানান, নগরায়নের ফলে সৃষ্ট বর্জ্য বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ। ফরিদপুর পৌরসভা যেভাবে প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে তেল উৎপাদন করছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং পরিবেশবান্ধব। তিনি আরও বলেন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও সুগম করতে আমরা কাজ করছি। ফরিদপুরের এই মডেলটি অত্যন্ত কার্যকর। বরিশালেও অনুরূপ পাইরোলাইসিস প্লান্ট ও আধুনিক বর্জ্য শোধনাগার চালু করার ব্যাপারে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ফ্যামিলি কার্ড
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন হলে দারিদ্র্য কমতে পারে ৭.৪ শতাংশ

সরকারের নতুন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি “ফ্যামিলি কার্ড” কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। এই কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের জন্য প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। গবেষণাটি বলছে, যদি এই ভাতা দেশের সব দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের কাছে পৌঁছানো যায়, তাহলে দেশের সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার ১৮.৭ শতাংশ থেকে কমে ১১.৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। অর্থাৎ প্রায় ৭.৪ শতাংশ পয়েন্ট দারিদ্র্য হ্রাস পেতে পারে। একই সঙ্গে চরম দারিদ্র্যের হারেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে যেখানে চরম দারিদ্র্যের হার ৫.৬ শতাংশ, সেখানে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন হলে তা ২.২ শতাংশে নেমে আসতে পারে, অর্থাৎ প্রায় ৩.৪ শতাংশ পয়েন্ট কমতে পারে। এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছে স্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র‍্যাপিড)। গতকাল ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক। গবেষণায় বলা হয়েছে, এই কর্মসূচি বিশেষ করে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এই শ্রেণির মানুষের মধ্যে দারিদ্র্যের হার ৩৩.৯ শতাংশ থেকে কমে ১৫.৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে, যা প্রায় ৮.৪ শতাংশ পয়েন্ট হ্রাস। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় ভাতার টাকা উপকারভোগীর পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পাঠানো হবে। এতে উপকারভোগীরা ঘরে বসেই এই সহায়তা পেতে পারবেন। সরকার ইতোমধ্যে এই কর্মসূচির পাইলট প্রকল্প চালু করেছে। গত মঙ্গলবার এর উদ্বোধন করা হয়। পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম ধাপে চার মাসের জন্য অন্তত ৪০ হাজার পরিবারকে এই ভাতা দেওয়া হবে। র‍্যাপিডের হিসাব অনুযায়ী, এই কর্মসূচি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বের হয়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে ৫৬ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতে পারে এবং প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ মানুষ অর্থনৈতিক ঝুঁকি থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ পাবে। তবে কর্মসূচির সাফল্য অনেকাংশেই নির্ভর করবে সঠিকভাবে উপকারভোগী নির্বাচন করার ওপর। এম এ রাজ্জাক বলেন, যোগ্য পরিবার বাদ পড়ে যাওয়া কিংবা অযোগ্য পরিবার সুবিধা পাওয়া—এই দুই ধরনের ভুল কমাতে হলে স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক নির্বাচন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় সাধারণত রাজনৈতিকভাবে জনপ্রিয় হয়। তবে সরকারের অর্থনৈতিক সক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। কারণ সরকার ইতোমধ্যে জিডিপির ৩ শতাংশ সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ধীরে ধীরে ২ কোটি পরিবারকে এই মাসিক সহায়তার আওতায় আনা হবে। ২০২৬ সালের ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নির্দেশিকায় এই লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচি পুরোপুরি চালু হলে প্রতি মাসে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। অর্থাৎ বছরে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। রাজ্জাক সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনও ৭ শতাংশের নিচে, ফলে সামাজিক সুরক্ষা ব্যয় বাড়ালে অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। এই চাপ সামাল দিতে তিনি পরামর্শ দেন, বর্তমানে চালু থাকা কিছু ওভারল্যাপিং বা অপ্রয়োজনীয় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ধীরে ধীরে বন্ধ করে সেই অর্থ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে ব্যবহার করা যেতে পারে। তার মতে, শক্ত রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং বিদ্যমান সম্পদের দক্ষ ব্যবস্থাপনা থাকলে এই কর্মসূচি বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব বলেন, সরকারের দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকারের কারণেই এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন সহজ হচ্ছে। তিনি বলেন, “এই ২,৫০০ টাকা শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এটি মানুষের প্রতি সরকারের আস্থারও প্রতিফলন। এতে মানুষ অনুভব করছে সরকার তাদের পাশে রয়েছে।” সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবু ইউসুফ বলেন, কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে বিভিন্ন ধরনের সমন্বয় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাত নেই এবং এটি একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে এবং দারিদ্র্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0