Brand logo light

বাংলাদেশ দুর্নীতি

এনবিআরের কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম
৫৩ ফ্ল্যাট থেকে শতকোটি টাকার জমি: এনবিআরের কর্মকর্তা সহিদুল ইসলামের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের আয়-ব্যয়ের সীমাবদ্ধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জনপরিসরে আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে রাজস্ব, শুল্ক, কাস্টমস এবং ভ্যাট প্রশাসনের মতো সংবেদনশীল খাতগুলোতে কর্মরত কর্মকর্তাদের সম্পদ বৃদ্ধির ঘটনা প্রায়ই জনমনে প্রশ্নের জন্ম দেয়। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তা সহিদুল ইসলামের সম্পদ নিয়ে এমনই এক বিস্তৃত অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য, যার বাজারমূল্য কয়েকশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে পাওয়া নথি, জমির খতিয়ান, ফ্ল্যাট মালিকানার তথ্য, ব্যবসায়িক বিনিয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সহিদুল ইসলাম, তার স্ত্রী ফাহমিদা রাব্বি এবং কয়েকজন নিকট আত্মীয়ের নামে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় বিপুল সম্পদের অস্তিত্ব রয়েছে। বসুন্ধরায় বহুতল ভবন: সম্পদের কেন্দ্রবিন্দু রাজধানীর অভিজাত আবাসিক এলাকা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার জি ব্লকে অবস্থিত একটি ১০তলা ভবন অনুসন্ধানের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। ‘শেল কবিতা’ নামের এই ভবনটি সহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর মালিকানাধীন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। প্রতি তলায় দুটি করে প্রায় আড়াই হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট নিয়ে গড়ে ওঠা ভবনটিতে মোট ২০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। স্থানীয় রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ও সম্পত্তি মূল্যায়ন সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিটি ফ্ল্যাটের সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। সেই হিসাবে কেবল ভবনের ফ্ল্যাটগুলোর মূল্যই প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছায়। তবে জমির বর্তমান বাজারমূল্য, নির্মাণ ব্যয় এবং এলাকার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিবেচনায় পুরো ভবনের মূল্য আরও বেশি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। রাজধানীজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ফ্ল্যাট সাম্রাজ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বসুন্ধরার বাইরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সহিদুল ইসলাম, তার স্ত্রী এবং আত্মীয়স্বজনদের নামে আরও অন্তত ৩৩টি ফ্ল্যাট রয়েছে। বাংলামোটরের স্বজন টাওয়ারে সহিদুল ইসলামের নিজ নামে দুটি ফ্ল্যাটের তথ্য পাওয়া গেছে। একইভাবে ইস্কাটন গার্ডেন রোডের গার্ডেনিয়া টাওয়ারে তার স্ত্রীর নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার মূল্য প্রায় চার কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিরপুরের রূপনগর আরামবাগ আবাসিক এলাকায় ফাহমিদা রাব্বির নামে থাকা একটি ছয়তলা ভবনে ১০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। স্থানীয় সম্পত্তি বাজারের হিসাবে ভবনটির মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। মিরপুর ইস্টার্ন হাউজিংয়ে সম্পদের বিস্তার মিরপুর ইস্টার্ন হাউজিং দ্বিতীয় প্রকল্পে আরও একটি ছয়তলা ভবনের তথ্য পাওয়া গেছে, যা প্রথমে সহিদুল ইসলামের স্ত্রীর নামে ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। পরে ভবনটি চার শ্যালকের নামে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে মালিকানা কাগজপত্রে কাজী মুক্তাদীর ইবনু মিনান, কাজী মুতামিদ ইবনে মিনান, কাজী মুত্তাকী ইবনে মিনান এবং কাজী মুস্তাকীম ইবনে মিনানের নাম রয়েছে। উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, সহিদুল ইসলাম, তার স্ত্রী এবং এই চার আত্মীয়ের নামে থাকা ৫৩টি ফ্ল্যাট ও দুটি দোকানের সম্মিলিত বাজারমূল্য অন্তত ১৬২ কোটি টাকা হতে পারে। জমি ও শিল্পকারখানার বিনিয়োগ শুধু আবাসিক সম্পত্তিই নয়, শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের জমিতেও বড় ধরনের বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। মিরপুরের আগুন্দা এলাকায় প্রায় ১৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত স্থাপনায় প্লাস্টিক কারখানা ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। এর সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা। অন্যদিকে গড়ানচটবাড়ি মৌজায় ৩৩ শতাংশ জমির মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা বলে স্থানীয় সম্পত্তি সংশ্লিষ্টরা ধারণা দিয়েছেন। নিউমার্কেট ও আজিজ সুপার মার্কেটে দোকান রাজধানীর দুই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রেও সহিদুল ইসলামের সম্পদের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের একটি দোকান এবং নিউমার্কেটের আরেকটি দোকানের মালিকানা তার নামে রয়েছে বলে নথিতে দেখা যায়। দুটি দোকানের সম্মিলিত বাজারমূল্য চার কোটি টাকারও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাভারে বাংলোবাড়ি সাভারের মধুমতি মডেল টাউনে ‘সেঁজুতি’ নামের একটি বাংলোবাড়ি স্থানীয়ভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ৩৫ কাঠা জমির ওপর নির্মিত এই বাড়িটি সহিদুল ইসলামের নামে রয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ আছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়িটি অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে এবং সেখানে প্রবেশাধিকার সীমিত। বর্তমান বাজারদরে কেবল জমির মূল্যই প্রায় ১০ কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে। মধুমতিতে আরও বিস্তৃত জমি মালিকানা অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, মধুমতি মডেল টাউন এলাকায় সহিদুল ইসলামের মালিকানায় একাধিক প্লট রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্যারেজ হিসেবে ব্যবহৃত জমি, পশু খামার হিসেবে ব্যবহৃত বড় প্লট এবং ভারী যন্ত্রপাতি সংরক্ষণের জন্য ভাড়া দেওয়া জমি। সব মিলিয়ে প্রায় ৩২০ কাঠা জমির বাজারমূল্য ৯০ কোটি টাকার কাছাকাছি বলে বিভিন্ন সূত্রের মূল্যায়নে উঠে এসেছে। পূর্বাচলে জমির পর জমি পূর্বাচল ও আশপাশের এলাকায় সহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর নামে অন্তত ছয়টি প্লটের তথ্য পাওয়া গেছে। ডুমনি, পিতলগঞ্জ, দিঘলিয়া, বাড়িয়াছনি, মুশুরীগ্রাম এবং কামতা মৌজায় অবস্থিত এসব জমির সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৬২ কোটির বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া গাজীপুরের কালীগঞ্জেও তার নামে জমির মালিকানার নথি পাওয়া গেছে। শেয়ারবাজারে বিপুল বিনিয়োগ স্থাবর সম্পদের পাশাপাশি অস্থাবর সম্পদের দিক থেকেও সহিদুল পরিবারের অবস্থান উল্লেখযোগ্য। তথ্য অনুযায়ী, তার স্ত্রী ফাহমিদা রাব্বির নামে একটি বিও অ্যাকাউন্টে প্রায় ৮০ কোটি টাকার শেয়ার বিনিয়োগ রয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংক হিসাবেও উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ জমা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। সন্তানের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহিদুল ইসলামের ছেলে হাসিন ফারহানের নামেও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে। বসুন্ধরার একটি বাণিজ্যিক ভবনে অফিস নিয়ে তিনি আর্কিটেকচার, ইন্টেরিয়র ডিজাইন ও মার্কেটিং খাতে একাধিক ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে। অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করতে কয়েক কোটি টাকার প্রাথমিক বিনিয়োগ পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল। সরকারি চাকরি বনাম সম্পদের হিসাব একাধিক অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত রাজস্ব কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একজন কাস্টমস বা এনবিআর কর্মকর্তার পুরো চাকরিজীবনের বৈধ আয়—বেতন, ভাতা, পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং অন্যান্য সুবিধাসহ—মোটামুটি কয়েক কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যয় বাদ দিলে সঞ্চয়ের পরিমাণ খুব বেশি হলে তিন কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে। এই হিসাবের সঙ্গে অনুসন্ধানে উঠে আসা কয়েকশ কোটি টাকার সম্পদের অঙ্কের ব্যাপক পার্থক্য প্রশ্ন তৈরি করেছে। সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন সহিদুল ইসলাম কর্মজীবনে এনবিআরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে শুল্ক ও আবগারি বিভাগের সদস্য, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ অন্তর্ভুক্ত। নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তার নামে থাকা অধিকাংশ সম্পদ ২০১০ সালের পর অর্জিত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই সম্পদগুলোর উৎস কী এবং সেগুলো আয়কর নথিতে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে কি না—সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা অভিযোগ ও সম্পদের উৎস সম্পর্কে বক্তব্য জানার জন্য সহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে হয়েছে।সহিদুল ইসলাম ফোনকল কিংবা বার্তার জবাব দেননি। তার স্ত্রীও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। জবাবদিহির দাবি সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা বলছেন, সম্পদের উৎস সম্পর্কে সন্দেহ তৈরি হলে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধান পরিচালনা করা। তাদের মতে, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আর অভিযোগ অসত্য হলে সেটিও স্পষ্টভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরা উচিত। কারণ জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তদন্তের নতুন পর্যায়? সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে এবং ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা, সম্পদের উৎস যাচাই ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে প্রাথমিক প্রস্তুতি চলছে। এখন নজর থাকবে—উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো কী ধরনের তদন্ত চালায়, সম্পদের উৎস সম্পর্কে কী ব্যাখ্যা পাওয়া যায় এবং শেষ পর্যন্ত আইনগত প্রক্রিয়া কোন দিকে এগোয়। কারণ কয়েকশ কোটি টাকার সম্পদের এই প্রশ্ন কেবল একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব নয়; এটি রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি, সুশাসন এবং দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থার কার্যকারিতারও একটি বড় পরীক্ষা। দুর্নীতি প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন ১৩তম ব্যাচের কর্মকর্তার এই পরিমাণ সম্পত্তি অর্জনের ঘটনা প্রমাণ করে যে কাস্টমস বিভাগের ভেতরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কতটা অভাব রয়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে এবং অবৈধ সম্পত্তি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বাজেয়াপ্ত করা না হলে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে দুর্নীতির এই মরণব্যাধি থামানো অসম্ভব হয়ে পড়বে ।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১, ২০২৬ 0
বরিশাল এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরান
বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন

বরিশাল এলজিইডিতে ‘কমিশন সিন্ডিকেট’? নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে তদন্ত বিল আটকে ঘুষ দাবি! বরিশাল এলজিইডির কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ বদলি আদেশও মানেননি? বরিশাল এলজিইডিতে তদন্ত শুরু ঠিকাদারদের ক্ষোভ, এলজিইডি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত কমিটি বরিশাল এলজিইডিতে ঘুষ-কাণ্ড: নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরানকে ঘিরে বিতর্ক   মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়ম গনমাধ্য্যমে প্রকাশিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ২৫৯০ নং স্মারকে প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মোঃ বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটির আহবায়ক হলেন, এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের মানব সম্পদ, পরিবেশ ও জেন্ডার বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ ছয়ফুদ্দিন, অপর দুজন সদস্য হলেন,স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রহমত-ই-খুদা ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী নূর-উস-শামস্। ৩ সদস্য বিশিষ্টি এ কমিটিকে সরেজমিন তদন্ত পুর্বক মতামতসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে প্রেরনের আদেশ প্রদান করেন প্রধান প্রকৌশলী। তদন্তের দিকে নজর এলজিইডির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।   আরও পড়ুন: বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরানের বিরুদ্ধে ঘুস-কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ     বরিশাল এলজিইডিতে ‘কমিশন সিন্ডিকেট’ অভিযোগ: বিল আটকে ঘুস দাবি, বদলি আদেশ অমান্য ও ঠিকাদারদের কাছ থেকে  কমিশন নেওয়ার অভিযোগে বিতর্কে নির্বাহী প্রকৌশলী।  চলমান ও সম্পন্ন হওয়া বিভিন্ন রাস্তা ও ব্রিজের বিল ঘুস না পেলে আটকে রাখা,ঠিকাদারদের জরিমানা মওকুফের নামে ১০ থেকে ২০ লাখ টকা ঘুস দাবী,ঘুস আদায়কারী অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ এনামুল হকের বদলী আদেশ আটকে রাখা,এলজিইডির বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশ না মানা,ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ দেয়ার সাথে শতকরা ১ ভাগ কমিশন আদায় করা,রিভাইজ স্কিম অনুমোদনে চাহিদা অনুযায়ী কমিশন নেয়া ও বিল প্রদানের ক্ষেত্রে শতকরা ২ থেকে ৩ ভাগ কমিশন আদায়সহ অসংখ্য অভিযোগ। দুর্নীতি ও ঘুসসহ বিভিন্ন অভিযোগে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে এলজিইডি। ঢাকা থেকে ঐ তদন্তকারী কর্মকর্তা বরিশালে এসে তদন্ত শুরু করলে তাকে ঘুস দিয়ে তার পক্ষে রিপোর্ট প্রদানের জন্য ব্যাপক তদবির করেন।তার দুর্নীতি, অনিয়ম, ঘুসকান্ডসহ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য  নেতিবাচক রিপোর্ট প্রদান করেছেন।যার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ তিনি হলেন,বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান। তবে সকল অভিযোগ অস্বিকার করে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান বলেন, আমি আমার কার্যালয়কে পরিস্কার করতেছি।তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশ প্রসঙ্গে বলেন,আমি ঢাকায় কথা বলে কাজ করছি।   অভিযোগের কেন্দ্রে ‘কমিশন বাণিজ্য’ : রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার বরিশাল এলজিইডিতে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর মোহাম্মদ আল ইমরান যোগদান করেন।যোগদানের পরেই বিতর্ক যেন তার পিছু না ছাড়ে। যোগদানের পরেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের বিপরীতে প্রদেয় পিসি - কমিশন বাণিজ্যের কারনে প্রথমেই সমালোচিত হোন। নিজের দাপট দেখাতে তিনি লক্ষ্মীপুর -৩ আসনের এমপি ও পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির আত্মীয় পরিচয় দেয়া শুরু করেন।খোজ নিয়ে জানা গেছে মোহাম্মদ আল ইমরান পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির কোন আত্মীয় নন এমন কি কোন সম্পর্কও নেই।তিনি মোহাম্মদ আল ইমরানকে চিনেনও না।  তবে মোহাম্মদ আল ইমরান কার্য্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগের সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের একজন অনুসারী।তার বাড়ি কিশোরগঞ্জে।      ‘ঘুষ সংগ্রাহক’ হিসেবে এনামুল হক !   বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান যোগদান করেই অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ এনামুল হককে অনৈতিক পথে ঘুস গ্রহন ও ঘুস সংগ্রহ এবং সমস্যা সমাধানের জন্য নিয়োগ করেন।বিল ও কার্যদেশের ব্যাপারেও এনামুল হকের সাথে আগেভাগেই ঠিকাদারদের যোগাযোগ করতে হয়।এনামুলের গ্রীন সিগনাল ছাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান কোন ফাইলে স্বাক্ষর করেন না।  চলতি বছরের মার্চ মাসে সকল ঠিকাদার ক্ষুব্ধ হন এনামুলকে দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর ঘুস আদায়ের বিরুদ্ধে।এমনকি ঠিকাদাররা নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করার উদ্যোগ গ্রহন করেন।পরে ঠিকাদারদের সাথে সমঝোতা করেন নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান।   এনামুলকে বদলী,তিনদিন পর জানলেন নির্বাহী প্রকৌশলী: বদলি আদেশ নিয়েও বিতর্ক   অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ এনামুল হকের বিরুদ্ধে নির্বাহী প্রকৌশলীর অনৈতিক সুবিধা আদায়কারী প্রমানিত হওয়ার পরেই গত ১৪ মে এলজিইডির বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরীফ মোঃ জামাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এনামুল হককে পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলা এলজিইডিতে এবং অপর এক অফিস আদেশে বরিশাল সদর উপজেলা এলজিইডি থেকে বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে রেহেনা আখতারকে বদলী করা হয়।আদেশগুলোতে উল্লেখ করা হয়,১৯ মে তারিখ হতে ষ্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য হবে। নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিস ও বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর অফিস একই দেয়ালে ঘেরা।দুরত্ব একশত হাতেরও কম।তবুও ১৪ মে তারিখের আদেশ নির্বাহী প্রকৌশলী পেলেন ১৭ মে। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর অফিস আদেশ পেয়েও এনামুল হককে ছাড়তে নারাজ নির্বাহী প্রকৌশলী। এ ব্যাপারে নির্বাহী  প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান বলেন,আমি ঢাকায় কথা বলেছি।আমার অফিসের ব্যাপার বাইরে কেন।তবে তিনি বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য'র সুরে বলেন,আমার অফিসের ব্যাপারে আমি সিদ্ধান্ত নিব।আমি ঢাকায় কথা বলেছি।ঢাকা যে সিদ্ধান্ত দিবে তা পালন করবো। কারন হিসেবে জানা গেছে,মোহাম্মদ আল ইমরান এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া তিনি সাবেক বিতর্কিত প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিমের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশ পালনে ইচ্ছুক নন। তিনি বলেন রেহেনা আখতার এখানে আসতে চান না। রেহেনা আখতার জানালেন কে বলেছে আমি যেতে চাইনা। আমিতো নির্বাহী প্রকৌশলী স্যারকে বলিনি যে আমি নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে যোগদান করবোনা। এ ব্যাপারে এলজিইডির বরিশাল সদর উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ মাইনুল মাহমুদ বলেন, রেহেনা আখতারকে আলাদা ছাড়পত্র দেয়ার কিছু নাই।তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশই যথেষ্ট।   জরিমানার অর্থ মওকুফের নামে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা   এ দিকে নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের থেকে জরিমানার অর্থ মওকুফের নামে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে। প্রতি বিল থেকে শতকরা ২ থেকে ৩ পারসেন্ট ঘুসের ব্যাপারে ঠিকাদররা ক্ষুব্ধ।   কমিশন আদায়ের অভিজ্ঞ নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান   নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে সারাদেশে খাল-পুকুর প্রকল্পের উপ- প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন।তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের রাষ্ট্রপতির জেলা কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা।এ কারণে প্রধান কার্যালয়ের উক্ত প্রকল্পে তার প্রভাব ছিল অপ্রতিরোধ্য।তৎকালীন সময়ে প্রকল্পের স্কিম গ্রহণ,অনুমোদন এবং রিভাইজ ও অর্থছারের কমিশন বাণিজ্যে ছিল সিদ্ধহস্ত ।পরবর্তীতে সাবেক অভিযুক্ত প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিম দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপদেষ্টাকে ম্যানেজ করে বরিশাল জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর পথটি ভাগিয়ে নেন। অভিযোগ জানা গেছে, জেলা পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা না থাকলেও স্থানীয় ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়ে যথেষ্ট অভিজ্ঞ। রিভাইজ স্কিম অনুমোদনে ২ থেকে ৩ পারসেন্ট কমিশন এছাড়া রিভাইজ স্কিম অনুমোদনে চাহিদা অনুযায়ী কমিশন নেয়া ও বিল প্রদানের ক্ষেত্রেও ২ থেকে ৩ পারসেন্ট কমিশনের দাবি পূরণের বিষয়টি ঠিকাদারদের কাছে অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। নির্বাহী প্রকৌশলীর এই অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা বিব্রত ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নির্বাহী প্রকৌশলীদের ফিল্ড পর্যায়ে কাজ পরিদর্শনের রীতি থাকলেও তিনি দপ্তরে বসেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। ঠিকাদারদের কাছ থেকে অধীনস্থ প্রকৌশলীর মাধ্যমে কমিশন আদায় চাপ প্রয়োগ করার কারণে নির্বাহী প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা চরম ক্ষুব্ধ। নাম প্রকাশে অনুচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, বিগত সময় কোন নির্বাহী প্রকৌশলী এভাবে ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করতেন না। এছাড়া কমিশনের টাকা এককভাবে নেওয়ার অভিযোগ ও রয়েছে।   বিভিন্ন বাহানায় অর্থ প্রাপ্তির কৌশল   নাম প্রকাশে অনচ্ছুক এক ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, একটি রিভাইজ স্কিম অনুমোদনের জন্য প্রধান কার্যালয়ে প্রেরণের ক্ষেত্রে মোটা অংকের অর্থ দাবি করেছেন।যা বিগত সময়ের কোন নির্বাহী প্রকৌশলী এ অর্থ দাবি করেনি।অন্য একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক বলেন, হঠাৎ করে নির্বাহী প্রকৌশলী তার সাইট পরিদর্শনের কথা বলে সরে জমিনে পরিদর্শন পূর্বক ত্রুটির বিচ্যুতির কথা উল্লেখ করে বিভিন্ন বাহানায় অর্থ প্রাপ্তির কৌশল অবলম্বন করেন। এক্ষেত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো তার অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করার স্থির করেন। নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরানের অনৈতিক পথে অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি তদারকি করেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক  মোঃ এনামুল হক।   নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানকে বদলী ও শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী    অভিজ্ঞজনদের মতে, জনস্বার্থে সরকারের আর্থিক সদ্ব্যবহার ও কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে অর্থলোভী ও কমিশন বাণিজ্যের হোতা বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানকে বদলী ও শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন।নচেৎ এলজিইডি বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়সহ বিভগের সকল জেলা ও উপজেলা এলজিইডি অফিসে চেইন্ড অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়বে।  তাকে বদলী করা না হলে বরিশাল জেলায় জনদুর্ভোগ ও জনরোষ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে।    

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২১, ২০২৬ 0
প্রধান প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান
সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে টেন্ডার জালিয়াতি, কমিশন বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগ

সওজে ‘টেন্ডার সিন্ডিকেট’: মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগ ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, টেন্ডার জালিয়াতি, কমিশন বাণিজ্য এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন দপ্তরসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, ঠিকাদার ও অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সওজের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কাঠামোর ওপর প্রভাব বিস্তার করে একটি শক্তিশালী ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মনিরুজ্জামান কক্সবাজার, মুন্সিগঞ্জ, রংপুর ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকালে প্রভাবশালী অবস্থান গড়ে তোলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে উপস্থাপন করে প্রশাসনিক প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসন ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ বর্তমানে সওজের জনবল নিয়ন্ত্রণ ও বদলি-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখায় তাঁর অদৃশ্য প্রভাব বজায় রয়েছে বলে একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধাজনক পোস্টিং ও বদলির ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকে। সওজের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, প্রশাসন ও সংস্থাপন শাখা সাধারণত রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত বিশ্বস্ত কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। মনিরুজ্জামানের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কারণেই তিনি দীর্ঘদিন এই প্রভাব ধরে রাখতে সক্ষম হন বলে তাঁদের দাবি। কক্সবাজারে ১৫০ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট নথি ও অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, কক্সবাজার সড়ক বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অতিরিক্ত প্রাক্কলন দেখিয়ে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম সংঘটিত হয়। সেখানে সমুদ্র উপকূলীয় ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের নামে বরাদ্দ পাওয়া প্রকল্পগুলোর কাজ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভুয়া বিল-ভাউচার ও অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো ছিল নিয়মিত চর্চা। পরবর্তীতে রাজশাহী জোনে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ আরও জোরালো হয়ে ওঠে। ‘কোর সিন্ডিকেট’ গঠনের অভিযোগ রাজশাহীতে দায়িত্ব পালনকালে ৪ থেকে ৫ জন প্রভাবশালী ঠিকাদারকে নিয়ে একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন, নির্ধারিত কমিশন বা ‘পার্সেন্টেজ’ নিশ্চিত না করলে কোনো ঠিকাদারের পক্ষে টেন্ডারে অংশ নেওয়া কিংবা কাজ পাওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চলে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নির্দিষ্ট কয়েকটি লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ আর্থিক সম্পর্কের তথ্য দুদকে জমা পড়া অভিযোগেও উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে “আমিনুল ইসলাম কনস্ট্রাকশন” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কথাও উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) লঙ্ঘন করে দরপত্রের শর্ত এমনভাবে তৈরি করা হতো, যাতে নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট ছাড়া অন্য কেউ প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারে। নিম্নমানের কাজ ও পুনঃসংস্কারের চক্র মুন্সিগঞ্জ সড়ক বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে সড়ক সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পে নিম্নমানের কাজের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত বা সংস্কার করা সড়ক বর্ষা শুরুর আগেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, কমিশনভিত্তিক প্রকল্প অনুমোদনের সংস্কৃতি সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অন্যতম কারণ। ফলে এক থেকে দুই বছরের মধ্যেই জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক পুনরায় সংস্কারের তালিকায় চলে আসে। কমিশন ছাড়া ফাইল নড়ত না—অভিযোগ সওজের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ের একাধিক সূত্র দাবি করেছে, বিভিন্ন প্রকল্পের প্রশাসনিক ও কারিগরি অনুমোদনের ক্ষেত্রে ৫ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন ছাড়া কোনো ফাইল অনুমোদন হতো না। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ঠিকাদারদের কাছ থেকে অগ্রিম কমিশন নেওয়ার কারণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার হলেও চূড়ান্ত বিল অনুমোদনে বাধা থাকত না। টিআইবির পর্যবেক্ষণ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ ও গবেষণায় সড়ক খাতের উন্নয়ন প্রকল্পে গড়ে ২৩ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের তথ্য উঠে এসেছে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, “সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রাতিষ্ঠানিক সিন্ডিকেট কাজ করছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া কোনো কর্মকর্তার পক্ষে এত দীর্ঘ সময় টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও বিপুল সম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।” তিনি আরও বলেন, “যদি কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও টেন্ডার জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।” অবৈধ সম্পদের অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, ফরিদপুরে আদি বাড়ি থাকা মনিরুজ্জামান গত এক দশকে ঢাকা, ফরিদপুর ও রাজশাহীতে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ফরিদপুরে কৃষি ও অকৃষি জমি, রাজশাহীতে বাণিজ্যিক প্লট ও ফ্ল্যাট, এবং ঢাকার বনানী, গুলশান, বসুন্ধরা ও নিকেতন এলাকায় তাঁর ও আত্মীয়স্বজনদের নামে একাধিক মূল্যবান সম্পত্তি রয়েছে। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিপুল অঙ্কের এফডিআর ও সঞ্চয়পত্রের তথ্যও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। একজন সরকারি গ্রেড-২ বা গ্রেড-৩ কর্মকর্তার বৈধ আয়ের সঙ্গে এই সম্পদের অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে অভিযোগ করা হয়েছে, হুন্ডির মাধ্যমে তাঁর বিপুল পরিমাণ অর্থ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও দুবাইয়ে পাচার করা হয়েছে। দুদকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, তাঁর ব্যাংক হিসাব, সম্পত্তির দলিল ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও সূত্রটি দাবি করেছে। দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ কমিশনে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই শেষে নিয়ম অনুযায়ী অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে।” সওজের ভেতরে অসন্তোষ নাম প্রকাশ না করার শর্তে সওজের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা নিজস্ব সিন্ডিকেট ও অবৈধ অর্থের জোরে পুরো প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ন্ত্রণ করছেন। এতে সৎ কর্মকর্তারা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন।” তিনি আরও বলেন, “ই-জিপি ব্যবস্থায় কারিগরি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে অনেক ঠিকাদারকে প্রতিযোগিতা থেকে বাইরে রাখা হচ্ছে।” বক্তব্য পাওয়া যায়নি এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. মনিরুজ্জামানের দপ্তরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, “কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি বা অবৈধ সম্পদের অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে সরকার শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করবে।” তিনি বলেন, “দুদক বা অন্য কোনো তদন্ত সংস্থা তথ্য চাইলে মন্ত্রণালয় পূর্ণ সহযোগিতা করবে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৮, ২০২৬ 0
বরিশাল গণপূর্তের প্রকৌশলী মানিক লাল দাস
বরিশাল গণপূর্তের প্রকৌশলী মানিক লাল দাসের কোটি টাকার টেন্ডার ও দুর্নীতির অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : খান ট্রেডার্স, খান বিল্ডার্স, রাতুল এন্টারপ্রাইজ ও ইনভেন্ট পয়েন্ট কম্পিউটারকে নিয়ে গঠন করেছেন ঠিকাদারি সিন্ডিকেট। অপ্রতিরোধ্য সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে মানিক লাল দাসের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মানিক লাল দাস ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে প্রধান প্রকৌশলীর প্রজ্ঞাপন অমান্য করে এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরিশাল ও ভোলা গণপূর্ত বিভাগের ৮০% ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবানের অনুমতি প্রদান করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের এমপি আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর পরিচয়ে আওয়ামী সরকারের শেষ সময়ে গোটা দক্ষিণাঞ্চল দাবড়িয়ে বেড়িয়েছেন তিনি। হাসনাতের প্রভাবে বরিশাল গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে দায়িত্ব বাগিয়ে নিয়ে বেনামী ঠিকাদারী ব্যবসা, টেন্ডার বাণিজ্যসহ নির্মাণ মেরামত রক্ষণাবেক্ষণ কাজগুলোতে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বরাদ্দের মোটা অংকের অর্থ প্রতিবছর লোপাট করে আসছেন তিনি। অবৈধ উপায়ে আয়কৃত অর্থের একটি অংশ তিনি আ’ লীগের বিতর্কিত একতরফা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর ও তার ছেলে সাদিক আবদুল্লাহর মেয়র নির্বাচনী কাজে ব্যয় করেছেন অভিযোগ রয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ভোলা বরিশাল ও পটুয়াখালীতে স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র-জনাতার আন্দোলন দমাতে ফ্যাসিস্ট লীগের মাধ্যমে অনেক টাকা খরচ করেছেন তিনি। এখনো ফ্যাসিস্ট লীগের লোকজনকে কাজ দেয়ার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীদের চাপ দেন। তার অধীনস্থ বিভাগগুলোতে ঝালকাঠির নাসির খানের মালিকানাধীন খান বিল্ডার্স, ভোলা সদরের ফ্যাসিস্ট লীগের সহ সভাপতি হাসান মিয়ার রাতুল এন্টারপ্রাইজ, ইনভেন্ট পয়েন্ট কম্পিউটার ও বরিশালের কাশিপুরের বাসিন্দা মিজানের খান ট্রেডার্স এর মাধ্যমে কাজ পাইয়ে দিয়ে সেই টাকা নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মিছিলে লোক জোগান দিতে ব্যয় করান বলে অভিযোগ উঠেছে। ,প্রত্যেক এক্সেনকে ডিসেম্বরের আগেই এই চার ফার্মের নামে মিনিমাম ৮ টি কাজ দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানাগেছে। মানিক লাল দাস ২০২২ সালে যখন যশোর গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তখন মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষন কাজের দরপত্র সীমিত পদ্ধতিতে আহবান করার কথা থাকলেও তার নির্দেশের কারণে কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগ উন্মক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করে মানিক লালের পছন্দের ঠিকাদারদের কে কাজ পাইয়ে দিতে বাধ্য হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিনিময়ে মানিক লাল দাস মোটা কমিশন হাতিয়ে নেন। কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী কৃষি আবহওয়া অফিসের সিভিল স্যানিটারী ও বৈদ্যুতিক মেরামত কাজ। তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, যশোর গণপূর্ত সার্কেলের স্মারক নং ১৫৯৮ তারিখ ২১/০৩/২০২২ মাধ্যমে প্রাক্কলন অনুমোদন উন্মক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবানের পত্র প্রদান করেন যার দরপত্র আইডি নং৬৭৯২১১। কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় ও পরিদর্শন বাংলোর সিভিল স্যানেটারী মেরামত কাজ। তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, যশোর গণপূর্ত সার্কেলের স্মারক নং ১৫৯৭ তারিখ ২১/০৩/২০২২ খ্রিঃ মাধ্যমে প্রাক্কলন অনুমোদন উন্মক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবানের পত্র প্রদান করেন যার দরপত্র আইডি নং- ৬৭৯০১১। কুষ্টিয়া ম্যাটস্ এর বাউন্ডারী ওয়াল, গেট, গার্ডরুম ও বাথরুম সিভিল ও বৈদ্যুতিক মেরামত কাজ। তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, যশোর গণপূর্ত সার্কেলের স্মারক নং ১৪৯৫ তারিখ ০৬/০৩/২০২২ মাধ্যমে প্রাক্কলন অনুমোদন উন্মক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবানের পত্র প্রদান করেন যার দরপত্র আইডি নং৬৭৬৪৫৩। কুষ্টিয়া ম্যাটস্ এর গ্রাউন্ড ফ্লোরে সিভিল, স্যানেটারী ও বৈদ্যুতিক মেরামত কাজ। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, যশোর গণপূর্ত সার্কেলের স্মারক নং ১৪৯৭ তারিখ ০৬/০৩/২০২২ মাধ্যমে দরপত্র অনুমোদন উন্মক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবানের পত্র প্রদান করেন যার দরপত্র আইডি নং ৬৭৫৯৭ এবং কুষ্টিয়া ম্যাটস্ এর ছাত্রী হোষ্টেলের ২য় তলায় সিভিল, স্যানেটারী ও বৈদ্যুতিক মেরামত কাজে অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করছেন। অন্যদিকে তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী, যশোর গণপূর্ত সার্কেলের স্মারক নং ১৪৯৩ তারিখ ০৬/০৩/২০২২খ্রিঃ মাধ্যমে দরপত্র অনুমোদন উন্মক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবানের পত্র প্রদান করেন যার দরপত্র আইডি নং৬৭৬৩৬৬। ৬) কুষ্টিয়া ম্যাটস্ এর প্রশাসনিক ভবনের গ্যালারী মেরামত, রুম, জানালা মেরামতসহ বৈদ্যুতিক মেরামত কাজ। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, যশোর গণপূর্ত সার্কেলের স্মারক নং ১৪৯৬ তারিখ ০৬/০৩/২০২২ মাধ্যমে প্রাক্কলন অনুমোদন ও উন্মক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবানের পত্র প্রদান করেন যার দরপত্র আইডি নং৬৭৬৪১৫। এই সকল মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষন কাজের দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রধান প্রকৌশলী, গণপূর্ত অধিদপ্তরের দৃষ্টি গোচর হতে পারে বলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ওয়েব সাইটে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষন কাজ সীমিত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করার কথা থাকলেও উন্মক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবানের নির্দেশনা সম্বলিত পত্র ও প্রাক্কলন অনুমোদন দেন যশোর গণপূর্ত সার্কেলের তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী মানিক লাল দাস। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে প্রধান প্রকৌশলীর জুলাই মাসের অফিস আদেশ অমান্য করে এক দিনের নোটিশে দরপত্র ওপেনিং দিয়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেয়ার জন্য ততকালীন কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম কে জোর জবরদস্তি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে বিধি বহির্ভুতভাবে সময় বর্ধন অনুমতি দিয়েছেন যেটা দিতে পারবেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও প্রধান প্রকৌশলী করবেন অনুমোদন সেটা নিজেই অনুমোদন দিয়েছেন। ঝিনাইদহ পাসপোর্ট অফিস, কুষ্টিয়া সাংবাদিক কাঙাল হরিনাথ স্মৃথি মিউজিয়াম, মাগুরা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মান প্রকল্প ও শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠি বাড়ি সম্প্রসারিত উন্নয়ন প্রকল্পের বিভিন্ন অঙ্গের এছাড়া যশোর সার্কেলের সকল ডিভিশনের নিয়ম বহির্ভূতভাবে সময় বর্ধন, ভেরিয়েশন ও প্রাক্কলন অনুমোদন দিয়েছেন। এছাড়া কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ নির্মাণ প্রকল্প এর কাজের সময়েও এই মানিক লাল দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিলো যে দীর্ঘদিন ধরে উক্ত কাজের সাথে থাকলেও তিনি সাইট পরিদর্শনে আসেন না বললেই চলে। সারাদিন অফিসে বসে বসে ঠিকাদারদের অপেক্ষায় থাকেন কখন কোন ঠিকাদার অফিসে এসে তার কমিশন দিয়ে যাবে। এসময় ভবন নির্মাণ কাজের অবহেলায় ছাদ ধসের ঘটনায় অনেকের শাস্তি হলেও তিনি থেকে যান ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। এছাড়া, সে সময় অন্য ঠিকাদারদের যেখানে কাজের মেয়াদ শেষ, সেখানে ঠিকাদার জহুরুল ইসলামের মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়েছিলেন ২০২২ সাল পর্যন্ত। অথচ এই জহুরুলের নির্মাণাধীন কাজের অংশেই ২০১৯ সালের ১৭ জানুয়ারি হাসপাতাল ভবনের গাড়ি বারান্দার ছাদ ধসে পড়ে। পরে এ প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী, এসডি, এসওসহ চারজন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার এবং দুইজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও দায়িত্বে অবহেলা ও সাইট পরিদর্শনে অলসতার অভিযোগ যেই মানিক লালের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। মানিক লাল দাস ভোলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালীন ২০১৪ সালের নির্বাচনকালীন সরকারের ৩ মাসের তোফায়েল আহমেদের গণপূর্ত মন্ত্রী থাকাকালীন ফ্যাসিবাদ সরকারের অন্যতম দোসর ভোলার সাবেক চালচোর চেয়ারম্যান হাসান মিয়া ও তার ভাই হোসেন মিয়ার প্রভাবে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ -১ পদায়ন পেয়েছিলেন। তিনি ঢাকার একটি ডিভিশন ঠিকমতো চালাতে পারেন নি। তাই সে সময় তাকে দীর্ঘ দিন ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাখা হয়। পরে পদোন্নতি পেয়ে যশোর গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হন। যশোর গণপূর্ত সার্কেলের আওতাধীন ঝিনাইদহ, মেহেরপুর , যশোর, কুষ্টিয়া, নড়াইল ও মাগুরা গণপূর্ত বিভাগের ৮০% ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান অনুমতি দিয়ে তিনি কোটি কোটি হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানাগেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২১, ২০২৬ 0
এলজিইডি কুমিল্লা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী একরামুল হক
৪৯ হাজার টাকা বেতনের এলজিইডি কর্মকর্তার ৫০ কোটি টাকার সম্পদ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কুমিল্লা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী একরামুল হকের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। মাসিক সর্বমোট ৪৯ হাজার টাকা বেতন পাওয়া দশম গ্রেডের এই কর্মকর্তা নিজের ও স্ত্রী শাম্মী আক্তারের নামে অন্তত ৫০ কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। রাজধানীতে প্লট, কুষ্টিয়ায় বহুতল ভবন, ফ্ল্যাট, কৃষিজমি, ব্যাংকে বিপুল অর্থসহ নানা সম্পদের তথ্য পেয়েছে অনুসন্ধানকারীরা। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানে জানা গেছে, একরামুল হকের বাড়ি কুষ্টিয়ায় হলেও তিনি আয়কর নথি জমা দিয়েছেন যশোরে। অন্যদিকে তার স্ত্রী শাম্মী আক্তারের আয়কর ফাইল কুষ্টিয়ায়। আয়কর নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঘোষিত আয়ের সঙ্গে বাস্তব সম্পদের বিশাল অসংগতি রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অন্তত ৫০ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য আয়কর নথিতে গোপন রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে একরামুল হক দাবি করেন, অধিকাংশ সম্পদের মালিক তার ভাই। তবে কী কারণে সেই সম্পদ নিজের নামে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি। অন্যদিকে শাম্মী আক্তারের ট্যাক্স ফাইলে পেশা হিসেবে “ব্যবসায়ী” উল্লেখ করা হলেও স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি মূলত গৃহিণী। এত বিপুল সম্পদের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে একরামুল বলেন, “আমি বাসায় গিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানার চেষ্টা করব।” বসুন্ধরায় ৩০ কোটি টাকার প্লট: একরামুল দম্পতির সম্পদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ডুমনি মৌজায় ৯ দশমিক ৯০ শতাংশ জমির একটি প্লট। খতিয়ান নম্বর ১১৬৭৮-এর এই প্লটের বর্তমান বাজারমূল্য অন্তত ৩০ কোটি টাকা বলে জানা গেছে। গত জানুয়ারিতে শাম্মী আক্তার ওই প্লটের নামজারির আবেদন করেছেন। সেই আবেদনপত্রের কপিও অনুসন্ধানকারীদের হাতে এসেছে। তবে একরামুল ও তার স্ত্রী দাবি করেছেন, বসুন্ধরায় তাদের কোনো সম্পত্তি নেই। শাম্মী আক্তারের নামে নামজারির আবেদন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে একরামুল বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমাদের এমন কোনো সম্পত্তি নেই।” কুষ্টিয়ায় বহুতল ভবন ও জমির পর জমি: একরামুল দম্পতির সম্পদের বড় অংশ কুষ্টিয়া জেলায়। নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, কুষ্টিয়া সদরে নিজের ও স্ত্রীর নামে মোট পাঁচটি জমি কিনেছেন একরামুল হক। চৌড়াহাস-২২ মৌজার ৬০০৩ খতিয়ানে মুক্তির পুকুরপাড় এলাকায় প্রায় ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ জমি কিনে সেখানে ছয়তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন তিনি। জমি ও ভবনটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া কুষ্টিয়া সদরের ঢাকা ঝালুপাড়া-২৭ মৌজার ৪০৮/১ খতিয়ানে প্রায় ৬৬ শতাংশ জমির মালিকানা রয়েছে একরামুলের। এই জমির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। একই এলাকায় নিজের নামে একটি ফ্ল্যাট ও ১ দশমিক ১২৩ শতাংশ জমিও কিনেছেন তিনি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭০ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামেও কোটি টাকার সম্পদ: স্ত্রী শাম্মী আক্তারের নামেও একাধিক সম্পত্তির তথ্য পাওয়া গেছে। কুষ্টিয়া সদরের হাটশ হরিপুর-১৮ মৌজায় ১৮ দশমিক ৯৭৫ শতাংশ জমি এবং হাজরাহাটি-৫৩ মৌজার পাঁচটি খতিয়ানে ৪৪ দশমিক ১৬ শতাংশ জমি রয়েছে তার নামে। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, জমি দুটির বর্তমান বাজারমূল্য যথাক্রমে প্রায় ৬০ লাখ ও ৫০ লাখ টাকা। পান বরজ, বাগান ও তামাক ক্ষেত: কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায়ও বিপুল জমির মালিক একরামুল হক। বারুইপাড়া ইউনিয়নের কেউপুর-৫২ মৌজার ১৯০ নম্বর খতিয়ানে প্রায় ৫৫ শতাংশ জমি কিনে সেখানে পান বরজ করেছেন তিনি। এর বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। একই মৌজার ১১৬৭ খতিয়ানে প্রায় ৫৮ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি কিনে সেখানে বাগান গড়ে তুলেছেন। এই জমির মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা। এ ছাড়া পোড়াদহ হাজরাহাটি বাজারে তার একটি দোতলা বাড়ি ও চারটি দোকান রয়েছে। একই এলাকায় বিপুল কৃষিজমিও রয়েছে তার নামে। হাজরাহাটি-৫৩ মৌজার ৬৯৫ খতিয়ানে প্রায় ১২৫ দশমিক ১৭ শতাংশ জমি কিনে সেখানে তামাক ক্ষেত করেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। একই মৌজা ও খতিয়ানে আরও ২২৫ দশমিক ১৭ শতাংশ জমি কিনেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা। এছাড়া একই মৌজার ২৫-৮৫০ খতিয়ানে ২৯৭ শতাংশ বা প্রায় ৯ বিঘা জমির মালিক একরামুল, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লাখ লাখ টাকা: স্থাবর সম্পদের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংকেও রয়েছে একরামুল দম্পতির বিপুল অর্থ। অনুসন্ধানে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকে একরামুলের একাধিক হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে শাম্মী আক্তারের নামে রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট। এসব হিসাবে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে প্রায় ৩ লাখ টাকা, সোনালী ব্যাংকে প্রায় ২০ লাখ টাকা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে প্রায় ৪৩ লাখ টাকা, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে প্রায় ২১ লাখ টাকা এবং অগ্রণী ব্যাংকে প্রায় ৪ লাখ টাকা জমা রয়েছে বলে জানা গেছে। দুদকের নজরদারিতে একরামুল দম্পতি: দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে, আয়কর নথিতে ঘোষিত আয়ের সঙ্গে বাস্তব সম্পদের অসামঞ্জস্য পাওয়ায় একরামুল দম্পতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। বিশেষ করে স্বল্প বেতনের একজন সরকারি কর্মচারীর নামে ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে একরামুল হক বলেন, “আমার সামান্য কিছু সম্পত্তি আছে। বাকি যা আছে, তা আসলে আমার ভাইয়ের। ভুলক্রমে অনলাইন ডকুমেন্টে আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৭, ২০২৬ 0
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মচারী
পরিবেশ অধিদপ্তরের ১৯তম গ্রেডের কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোটি টাকার সম্পদ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন ১৯তম গ্রেডের কর্মচারীর বিরুদ্ধে অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত সেলিম মাহমুদ, যিনি স্থানীয়ভাবে “সানি” নামে পরিচিত, সরকারি চাকরির পাশাপাশি বিলাসবহুল ব্যবসা ও একাধিক সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। স্থানীয় সূত্র বলছে, প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বছর আগে পরিবেশ অধিদপ্তরে ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট পদে যোগ দেন সেলিম মাহমুদ। তার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের বালিয়াটি ইউনিয়নের কুষ্টিয়া গ্রামে। এলাকাবাসীর দাবি, চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই দ্রুত বদলে যেতে থাকে তার জীবনযাত্রা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ শহরের কাজল কমপ্লেক্সে “দ্য জেন্টলম্যান” নামে একটি অভিজাত সেলুন পরিচালিত হচ্ছে, যার সঙ্গে সেলিম মাহমুদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে একটি কসমেটিকস ব্যবসাও পরিচালিত হচ্ছে। ব্যবসাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে তার স্ত্রীর নামে নিবন্ধিত হলেও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ তার হাতেই রয়েছে বলে দাবি স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শুরুতে এসব প্রতিষ্ঠানে আরও কয়েকজন অংশীদার থাকলেও সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেন সেলিম মাহমুদ। সম্প্রতি প্রায় ১৮ লাখ টাকার বিনিময়ে এক অংশীদারের শেয়ার কিনে নেওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরির বিধিমালা লঙ্ঘন করে ব্যবসা পরিচালনা, ঘুষ গ্রহণ, প্রভাব খাটানো এবং ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছরের ব্যবধানে সেলিম মাহমুদ প্রায় দুই কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও সমালোচনা বাড়ছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সেলিম মাহমুদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৫, ২০২৬ 0
মোঃ হেলাল উদ্দিন,সহকারি পরিচালক,আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, মাদারীপুর।
৪৫ হাজার টাকার চাকরি, ৫৯ কোটির সম্পদের অভিযোগ

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মাদারীপুর জেলা পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মো. হেলাল উদ্দিন। সরকারি চাকরির নবম গ্রেডের একজন কর্মকর্তা হিসেবে বেতন ও ভাতা মিলিয়ে তার মাসিক আয় প্রায় ৪৫ হাজার টাকা। কিন্তু অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই আয়ের বাইরে তিনি ও তার পরিবারের নামে গড়ে উঠেছে কয়েক ডজন কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ। রাজধানীর গুলশান, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা, তেজগাঁও ও কেরানীগঞ্জে জমি ও ফ্ল্যাটসহ তার মোট সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৫৯ কোটি টাকা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিন অনুসন্ধান, জমির নথিপত্র, ব্যাংক হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে।   আগারগাঁওয়ে কর্মরত থাকাকালেই সম্পদের বিস্তার   হেলাল উদ্দিনের গ্রামের বাড়ি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ভাষানচরে। স্ত্রী শাহিনা পারভীনও একই জেলার বাসিন্দা। বর্তমানে তারা ঢাকার আদাবরের ইবনে সিনা হাউজিং সোসাইটিতে বসবাস করেন। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, পৈতৃকভাবে তাদের প্রায় ১০৪ শতাংশ জমি রয়েছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রাজধানীতে তার বিপুল সম্পদের বড় অংশ গড়ে ওঠে আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকালে। পরে ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর তাকে মাদারীপুরে বদলি করা হয়। জমির পাশাপাশি তার পরিবারের নামে একাধিক ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের অভিযোগও রয়েছে।   ঢাকার ছয় এলাকায় জমি   নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, হেলাল উদ্দিন নিজের নামে এবং স্ত্রী ও শ্যালকের নামে মোট ৩৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ জমি কিনেছেন। নিজের নামে গুলশান-ভাটারা এলাকায় ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ আবাসিক জমি মোহাম্মদপুরে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ জমি বাড্ডায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ জমি শুধু গুলশানের জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীরা। এছাড়া মোহাম্মদপুর ও বাড্ডার জমির সম্মিলিত মূল্য প্রায় ১৭ কোটি টাকা। স্ত্রীর নামে ধানমন্ডির রামচন্দ্রপুর-১ মৌজায় ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ জমি রয়েছে স্ত্রী শাহিনা পারভীনের নামে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই জমির বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা। যৌথ মালিকানায় তেজগাঁওয়ের গজারিয়া-১ মৌজায় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ জমি কিনেছেন হেলাল উদ্দিন। এর বর্তমান মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। অন্যদিকে কেরানীগঞ্জের তারানগর মৌজায় শ্যালক হাসিবুল ইসলামের সঙ্গে যৌথ নামে রয়েছে আরও ৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ জমি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা।   ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক সম্পদের অভিযোগ   জমির বাইরে আদাবরের ইবনে সিনা হাউজিং সোসাইটিতে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে হেলাল উদ্দিনের পরিবারের নামে। স্থানীয় রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফ্ল্যাটটির মূল্য এক কোটি টাকার বেশি। এছাড়া রাজধানীতে আরও কয়েকটি ফ্ল্যাট ও একাধিক মার্কেটে দোকান থাকার অভিযোগও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। যদিও এসব সম্পদের পূর্ণাঙ্গ নথি এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।   সাত ব্যাংক ও ১০ মোবাইল আর্থিক অ্যাকাউন্টে লেনদেন   হেলাল উদ্দিন ও তার পরিবারের আর্থিক লেনদেন হয়েছে অন্তত সাতটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে। নিজের নামে রয়েছে: ইসলামী ব্যাংক মার্কেন্টাইল ব্যাংক সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক প্রাইম ব্যাংক সিটি ব্যাংক স্ত্রী শাহিনা পারভীনের নামে রয়েছে: পূবালী ব্যাংকের দুটি অ্যাকাউন্ট আইডিএলসি ফিন্যান্স লিমিটেডে একটি অ্যাকাউন্ট এছাড়া নগদ ও বিকাশের অন্তত ১০টি মোবাইল আর্থিক সেবার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গেছে।   ‘ঢাকায় আমার এত টাকা নেই’   বেতন কাঠামোর সঙ্গে বিপুল সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা দেননি হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, “মহাপরিচালকের অনুমতি ছাড়া কথা বলা মানা। ঢাকা শহরে আমার এত টাকা নেই। যা আছে, তার ভ্যাট-ট্যাক্স সব দেওয়া আছে। এর বাইরে কেউ কিছু বললে তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”   মুখ খুলছে না অধিদপ্তর   বিষয়টি নিয়ে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি সাংবাদিকদের দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এ ক্ষেত্রেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”     ৪৫ হাজার টাকার চাকরি, রাজধানীতে ৫৯ কোটির সম্পদের পাহাড় পাসপোর্ট কর্মকর্তার নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ গুলশান-ধানমন্ডিতে জমি, ব্যাংকে লেনদেন: প্রশ্নের মুখে পাসপোর্ট কর্মকর্তা সরকারি চাকরি, বিলাসবহুল সম্পদ: কীভাবে গড়ে উঠলো হেলাল উদ্দিনের সাম্রাজ্য? সাত ব্যাংক, ১০ মোবাইল অ্যাকাউন্ট, কোটি টাকার সম্পদ—তদন্তের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৪, ২০২৬ 0
শওকত আকবর
রূপপুর গ্রিন সিটি দুর্নীতি: বালিশ কাণ্ড, ড্রেসিং টেবিলে কোটি টাকা ব্যয় ও শওকত আকবরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর একটি—রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত এই মেগা প্রকল্পের আবাসন খাত ‘গ্রিন সিটি’ এখন দুর্নীতির অভিযোগে বারবার আলোচনায়। সরকারি নিরীক্ষা, গণমাধ্যমের অনুসন্ধান এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে উঠে এসেছে অস্বাভাবিক ব্যয়, প্রশ্নবিদ্ধ ক্রয়প্রক্রিয়া এবং অতিরিক্ত বিলের বিস্ময়কর তথ্য। আর এসব অভিযোগের কেন্দ্রে ঘুরেফিরে এসেছে সাবেক প্রকল্প পরিচালক মো. শওকত আকবরের নাম। বিশ্লেষকদের মতে, প্রকল্পের প্রশাসনিক ও আর্থিক সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে থাকা একজন প্রকল্প পরিচালকের অগোচরে এমন ব্যয়ের অসঙ্গতি দীর্ঘ সময় ধরে চলা প্রায় অসম্ভব। ড্রেসিং টেবিলে ‘অস্বাভাবিক’ ব্যয় মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার ৫০০ টাকা এমন একটি ড্রেসিং টেবিল সরকারি নথিতে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেখানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে মোট ১ হাজার ৩৪২টি ড্রেসিং টেবিল কেনায় অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে একই ধরনের পণ্যের দামে বিশাল পার্থক্য নিয়ে। কোথাও একটি ড্রেসিং টেবিলের দাম দেখানো হয়েছে ৫৫ হাজার টাকা, কোথাও ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা, আবার কোথাও সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এমন ব্যয়ের অনুমোদন প্রকল্প পরিচালকের দপ্তরের বাইরে সম্ভব নয়। কারণ ক্রয় অনুমোদন, বিল যাচাই এবং অর্থ ছাড়—সবই শেষ পর্যন্ত প্রকল্প পরিচালকের প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়। ‘বালিশ কাণ্ড’ যেভাবে প্রতীকে পরিণত হয় রূপপুর প্রকল্প নিয়ে জনমনে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তোলে তথাকথিত ‘বালিশ কাণ্ড’। সিএজির অনুসন্ধানে দেখা যায়, একটি বালিশ কেনা ও বহনের জন্য সর্বোচ্চ ৮৯ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় এবং এটি সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির প্রতীকে পরিণত হয়। পরে একে একে সামনে আসে বিছানার চাদর, আসবাবপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেনায় অস্বাভাবিক ব্যয়ের অভিযোগ। সমালোচকদের মতে, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং একটি বৃহৎ আর্থিক অনিয়মের ধারাবাহিক অংশ। ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, গ্রিন সিটি প্রকল্পে আসবাবপত্র কেনাকাটার পুরো প্রক্রিয়াই ছিল অস্বচ্ছ। অভিযোগ রয়েছে, বাজার যাচাই ছাড়াই নির্দিষ্ট কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয়। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজ বণ্টন এবং পরে অতিরিক্ত বিল উত্তোলনের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। সিএজির প্রতিবেদনে সাজিন কনস্ট্রাকশন লিমিটেড ও মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে প্রায় ৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা অতিরিক্ত উত্তোলনের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রশ্নের মুখে প্রকল্প পরিচালকের ভূমিকা রূপপুর প্রকল্পে একের পর এক অনিয়মের সময় প্রকল্প পরিচালক ছিলেন মো. শওকত আকবর। প্রশাসনিক কাঠামো অনুযায়ী, প্রকল্পের ব্যয় যৌক্তিক ও নিয়মসম্মত কি না তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ছিল তাঁর দপ্তরের। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, তাঁর দায়িত্বকালেই বালিশ, ড্রেসিং টেবিলসহ বিভিন্ন খাতে অস্বাভাবিক ব্যয়ের তথ্য সামনে এসেছে। গণমাধ্যমে এসব অভিযোগ প্রকাশের পরও দীর্ঘ সময় দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে প্রশ্ন উঠেছে—উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক সুরক্ষা ছাড়া এত বড় আর্থিক অনিয়ম কীভাবে সম্ভব হয়েছিল? যদিও অভিযোগের বিষয়ে মো. শওকত আকবরের পক্ষ থেকে বিস্তারিত প্রকাশ্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি, তবে সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করেন, প্রকল্পের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায় এড়ানোর সুযোগ তাঁর নেই। দুদকের তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ দুদক সূত্রে জানা গেছে, রূপপুর প্রকল্পের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে একাধিক অনুসন্ধান চলছে। বালিশ-কাণ্ডসহ বিভিন্ন অভিযোগে গণপূর্ত বিভাগের ২৯ জন প্রকৌশলীকে তলব করা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালকসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তবে সমালোচকদের প্রশ্ন—এত নিরীক্ষা প্রতিবেদন ও অনুসন্ধান সত্ত্বেও মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কঠোর ব্যবস্থা কেন দেখা যাচ্ছে না? বিদেশ সফর ও বিলাসী ব্যয়ের অভিযোগ শুধু আসবাবপত্র নয়, বিদেশ সফর ও আবাসন ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাশিয়ায় কর্মকর্তাদের জন্য বাসা ভাড়া দেখানো হলেও তাঁরা অবস্থান করেছেন বিলাসবহুল হোটেলে। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব সময়েও প্রকল্পের প্রশাসনিক নেতৃত্বে ছিলেন মো. শওকত আকবর। বৃহত্তর প্রশ্ন: কতটা নিরাপদ মেগা প্রকল্পের অর্থ? সুশাসন বিশ্লেষকদের মতে, রূপপুর প্রকল্পের ঘটনাগুলো বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্প ব্যবস্থাপনার গভীর দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। তাঁদের যুক্তি, যদি একটি প্রকল্পে বালিশ, ড্রেসিং টেবিল ও আসবাব কেনাতেই কোটি কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়, তাহলে মূল অবকাঠামোগত কাজগুলোতে কী পরিমাণ অর্থ অপচয় বা আত্মসাৎ হয়েছে—সেটি নিয়েও জনমনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হবে। এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও আদালতে করা আবেদনে রূপপুর প্রকল্প থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে। এমনকি ৫০০ কোটি ডলার পর্যন্ত অর্থ লোপাটের অভিযোগ তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়েরের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। জবাবদিহির প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত রূপপুর প্রকল্পে অনিয়মের ঘটনায় কয়েকজন নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এখনো স্পষ্ট নয়। দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনগুলোর মতে, রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে পরিচালিত একটি প্রকল্পে যদি অনিয়মের অভিযোগের পরও দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতের মেগা প্রকল্পগুলোও একই ঝুঁকিতে পড়বে। বর্তমানে তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ চলমান থাকলেও জনমনে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি রয়ে গেছে—এত অভিযোগ, এত নিরীক্ষা প্রতিবেদন এবং এত তথ্য প্রকাশের পরও কেন মূল দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান বিচার দেখা যাচ্ছে না? আর সেই প্রশ্নের কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নাম—মো. শওকত আকবর।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
মো. জুলহাস উদ্দিন আহমেদ
কর বিভাগের কর্মচারীর বিরুদ্ধে ভুয়া ঠিকানায় চাকরি ও সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার কর বিভাগে কর্মরত এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে ভুয়া স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করে সরকারি চাকরি নেওয়া, একাধিক স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার, আয়কর সংক্রান্ত অনিয়ম এবং আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ গড়ার অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাকরি জীবনের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত নানা অসঙ্গতির তথ্য। মো: জুলহাস উদ্দিন আহমেদ ২৩ মে ১৯৯৩ সালে কর বিভাগে নৈশ প্রহরী হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। একই বিভাগে প্রায় সাত বছর চাকরির পর ১০ সেপ্টেম্বর ২০০০ সালে তিনি অফিস সহায়ক (পিয়ন) পদে পদোন্নতি পান। দীর্ঘ ২৫ বছর একই বিভাগে চাকরি করার পর ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে “অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক” পদে দ্বিতীয় পদোন্নতি পান। বর্তমানে তিনি কর অঞ্চল–৩, সার্কেল–৫৯, পুরানা পল্টনে কর্মরত আছেন। তার বর্তমান সর্বসাকুল্যে মাসিক বেতন ২২ হাজার ৪৯০ টাকা বলে জানা গেছে। ভুয়া স্থায়ী ঠিকানার অভিযোগ অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চাকরিতে যোগদানের সময় তিনি মানিকগঞ্জ জেলার একটি স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই ঠিকানাটি প্রকৃত নয় এবং জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে তা উপস্থাপন করা হয়েছিল। এ বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে মানিকগঞ্জে তার কোনো স্থায়ী ঠিকানার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা। বরং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী তার প্রকৃত স্থায়ী ঠিকানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের সুলতানপুর এলাকায় বলে জানা গেছে। তার পূর্বের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও বর্তমান স্মার্টকার্ডের তথ্য বিশ্লেষণ করেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঠিকানার সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদকের হাতে থাকা নথিতে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, চাকরি স্থায়ীকরণের সময় পুলিশ ভেরিফিকেশনেও ঘুষের মাধ্যমে ভুয়া ঠিকানাকে বৈধ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আয়কর নথিতেও অসঙ্গতির অভিযোগ অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নির্ধারিত কর অঞ্চলের বাইরে গিয়ে তিনি নিজের কর্মস্থল সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চল থেকেই টিআইএন (TIN) নিবন্ধন করেন। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, ঢাকায় কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীদের অনলাইন টিআইএন নিবন্ধন কর অঞ্চল–৪ এর আওতায় হওয়ার কথা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, তিনি কর অঞ্চল–৩, সার্কেল–৬২ থেকে টিআইএন গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থেকে প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে নিয়ম ভঙ্গ করেন। এ বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে মো: জুলহাস উদ্দিন আহমেদ প্রতিবেদককে বলেন, “আমার ভুল হয়েছে।” এক ব্যক্তির তিন স্থায়ী ঠিকানা? অনুসন্ধানে তার নামে বা ব্যবহৃত নথিতে তিনটি পৃথক স্থায়ী ঠিকানার তথ্য পাওয়া গেছে—মানিকগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং ঢাকার একটি ঠিকানা। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—একজন ব্যক্তির একাধিক স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহারের প্রয়োজন কেন? অনুসন্ধানকারীদের ভাষ্য, এসব ঠিকানার আড়ালে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কিংবা পরিচয় গোপনের উদ্দেশ্য থাকতে পারে। আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদের অভিযোগ অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, সীমিত বেতনের চাকরি করলেও জুলহাস উদ্দিন আহমেদের পরিবারের জীবনযাপন ও সম্পদের পরিমাণ নিয়ে রয়েছে বিস্ময়। ঢাকার খিলগাঁও দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় তার এক নিকট আত্মীয়ের নামে কোটি টাকার একটি ফ্ল্যাট কেনার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুলতানপুর এলাকায় নিজের ও ভাইদের নামে নির্মিত হয়েছে একাধিক ভবন ও অভিজাত বাড়ি। প্রতিবেদকের হাতে থাকা তথ্যমতে, আত্মীয়-স্বজনের নামেও জমি কেনার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার সাত ভাইয়ের মধ্যে একজনকে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এবং আরেকজনকে সৌদি আরবে পাঠানোর তথ্যও উঠে এসেছে অনুসন্ধানে। সন্তানের বিদেশে পড়াশোনা নিয়েও প্রশ্ন জুলহাস উদ্দিন আহমেদ দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক। তার ছেলে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় East West University-এ পড়াশোনা শেষ করার পর বর্তমানে যুক্তরাজ্যের London Metropolitan University-এ অধ্যয়ন করছেন বলে জানা গেছে। প্রতিবেদকের প্রশ্ন ছিল—একজন নৈশ প্রহরী ও পরে দীর্ঘদিন পিয়ন পদে চাকরি করা কর্মচারীর পক্ষে এত ব্যয়বহুল শিক্ষা ব্যয় বহন করা কীভাবে সম্ভব? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে বলেন, “আপনারা যা পারেন নিউজ করেন।” সামাজিক প্রভাব ও অনুদান কার্যক্রম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুলতানপুর এলাকায় বিভিন্ন খেলাধুলা, শিক্ষা ও সামাজিক অনুষ্ঠানে তাকে নিয়মিত অনুদান দিতে দেখা যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবেও উপস্থিত থাকেন তিনি। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন—সরকারি চাকরির সীমিত আয়ে কীভাবে তিনি নিয়মিত এ ধরনের ব্যয় বহন করছেন? জবাবদিহির দাবি সুশীল সমাজের একাধিক ব্যক্তি বলছেন, সরকারি চাকরিতে ভুয়া তথ্য ব্যবহার, আয়-ব্যয়ের অসঙ্গতি এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার জন্য গুরুতর হুমকি হতে পারে। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১১, ২০২৬ 0
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মূসক সেবা ও পণ্য শাখার প্রথম সচিব রুহুল আমিন
এনবিআরের প্রথম সচিব রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর মূসক বাস্তবায়ন, সেবা ও পণ্য শাখার এক প্রথম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা রুহুল আমিনকে ঘিরে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার আয়ের সঙ্গে দৃশ্যমান সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে কাস্টমস-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সিএন্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে তিনি প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ সুবিধা দিয়েছেন। এর ফলে রাষ্ট্রীয় রাজস্বের বড় অঙ্কের ক্ষতি হয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সূত্রের দাবি অনুযায়ী, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালে তিনি এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হন। সম্পদ অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার ঘোষিত আয় ও সরকারি বেতনের সঙ্গে বাস্তব সম্পদের মধ্যে অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করা গেছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার ও পরিবারের নামে একাধিক স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর একটি অভিজাত এলাকায় তার নামে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া ঢাকার উপকণ্ঠে জমি ক্রয় এবং উত্তরাঞ্চলের একটি জেলায় একাধিক জমির মালিকানার নথি পাওয়া গেছে, যা বিভিন্ন সময়ে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। শুধু নিজের নামেই নয়, তার স্ত্রীর নামেও জমি থাকার তথ্য উঠে এসেছে। ঢাকার আশপাশের এলাকায় কয়েক শতাংশ জমি এবং উত্তরাঞ্চলে বড় আকারের জমি তার স্ত্রীর নামে নথিভুক্ত রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে প্রায় ১৪ শতক জমির দুটি প্লটে শেয়ার কেনার তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তার ব্যবহৃত বিলাসবহুল ব্যক্তিগত গাড়ির তথ্যও সামনে এসেছে। এনবিআরের একাধিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কিছু সিএন্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রভাব খাটিয়ে রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল। এর বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং এনবিআরের অভ্যন্তরীণ তদন্ত শাখার সক্রিয় ভূমিকা জরুরি। সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে আয়-ব্যয়ের অসামঞ্জস্য পাওয়া গেলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তদন্তের সুযোগ রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
দুর্নীতি দমন কমিশন
স্বাস্থ্য অধিদফতরে নিয়োগ বাণিজ্যে ৪০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে দুদক

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : করোনা মহামারিকালে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও টেকনিশিয়ানসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে চলমান অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র উদ্ধার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে, এসব নথিপত্রে কথিত নিয়োগ বাণিজ্যের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের একাধিক উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তার জড়িত থাকার অভিযোগও সামনে আসছে। জানা গেছে, করোনার জরুরি পরিস্থিতিতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সিদ্ধান্তে ৮৮৯ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এবং ১ হাজার ৮০০ জন টেকনিশিয়ান নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করেই বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে ১৬১ জন প্রার্থীর কাছ থেকে ঘুষের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দুদকের উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম জানান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক পরিচালক ডা. শামিউল ইসলাম সাদির নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে প্রায় ৪০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে শতকোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহে স্বাস্থ্য অধিদফতরে গত সপ্তাহে আবারও চূড়ান্ত তাগিদপত্র পাঠানো হয়েছে। দুদক শুধু নিয়োগ বাণিজ্য নয়, করোনাকালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিভিন্ন কেনাকাটায় অনিয়মসহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগও তদন্ত করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
তৃত্বীয় শ্রেনীর কর্মচারীর সম্পদের পাহাড়
সড়ক ও জনপথের তৃত্বীয় শ্রেনীর কর্মচারী সার্ভেয়ার আব্দুল আজিজ'র সম্পদের পাহাড়

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের এক তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী থেকে দ্রুত সম্পদশালী হয়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে সার্ভেয়ার আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র, সহকর্মী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে তার সম্পদ অর্জনের উৎস নিয়ে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। সাধারণ পরিবার থেকে বিত্তশালী নওগাঁর মান্দা উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের হাজী গবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আজিজ। তার বাবা আব্দুল জলিল ছিলেন একজন কৃষক এবং সাবেক ইউপি সদস্য। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তাদের মোট জমির পরিমাণ ছিল প্রায় পাঁচ বিঘা, এবং দীর্ঘদিন আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যেই চলেছে পরিবারটি। একই পরিবারের একমাত্র সন্তান আজিজ কষ্ট করেই পড়াশোনা শেষ করেন। এসএসসি পাসের পর রাজশাহী সরকারি সার্ভে ইনস্টিটিউট থেকে ২০০৭-০৮ সালের দিকে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। ২০০৯ সালের অক্টোবরে সড়ক ও জনপথ বিভাগে সার্ভেয়ার হিসেবে যোগ দেন তিনি। অল্প সময়ে সম্পদের বিস্তার চাকরিতে যোগদানের প্রায় ১৪ বছরের মধ্যে তার সম্পদের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নিজ এলাকায় একটি এলপিজি ফিলিং স্টেশন স্থাপন করেছেন, যার আনুমানিক ব্যয় প্রায় এক কোটি টাকা। এছাড়া রাজশাহী শহরে একাধিক বাড়ি, প্লট এবং বাণিজ্যিক সম্পত্তির মালিকানা রয়েছে তার। স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী: রাজশাহী শহরের হেতেমখাঁ এলাকায় পাঁচতলা একটি ভবন (প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্য) শহরে আরও একটি তিনতলা বাড়ি আরডিএ ভবনের পাশে উচ্চমূল্যের একটি প্লট গ্রামের বাড়িতে আলিশান নতুন নির্মাণ বিল উতরাইল মৌজায় বাবার নামে প্রায় ১০ বিঘা জমি বিভিন্ন স্থানে দোকানঘর ও জমি বিনিয়োগ এছাড়া তার পরিবারের কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বর্ণ মজুদের কথাও জানা গেছে। অভিযোগের ধরন: লিজ বাণিজ্য ও প্রভাব খাটানো একাধিক সূত্র জানায়, সড়ক ও জনপথের জমি লিজ দেওয়ার নামে তিনি বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে—মহাসড়কের পাশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে লিজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে লাখ লাখ টাকা নিয়েছেন। মান্দা উপজেলার এক ব্যবসায়ী বলেন, “তার মাধ্যমে জমির লিজ নিয়েছি। কাগজপত্রও দিয়েছেন। কিন্তু পরে জানতে পারি বিষয়টি পুরোপুরি স্বচ্ছ নয়।” আরেকজন সওজ কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, “অনেক ক্ষেত্রে মৌখিক লিজ দিয়ে অর্থ নেওয়া হয়েছে, যা সরকারি নিয়মের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।” ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও অভিযোগ একটি বিতর্কিত অভিযোগও সামনে এসেছে—একটি বহুতল ভবন সওজের জমিতে পড়েছে দেখিয়ে ভেঙে ফেলার ভয় দেখিয়ে ওই ভবনের মালিকের মেয়েকে বিয়ে করেন আজিজ। পরে সেই সম্পর্ক বিচ্ছেদে গড়ায়, এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠে আসে।  অভিযোগ ও তদন্তের প্রেক্ষাপট এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছিল বলে জানা গেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, তা কার্যকরভাবে এগোয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আব্দুল আজিজ বলেন, “গ্রামের বাড়ি ছাড়া শহরে আমার তেমন কিছু নেই। আরডিএ ভবনের পাশে একটি প্লট কিনেছি, সেটিও শেয়ার ভিত্তিতে।” প্রশ্ন রয়ে যায় একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর বেতন কাঠামো বিবেচনায় এনে স্থানীয় সচেতন মহল প্রশ্ন তুলছে—স্বল্প সময়ে এত বিপুল সম্পদ অর্জনের উৎস কী? এসব সম্পদ কি তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? এই অভিযোগগুলো নিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৪, ২০২৬ 0
হারুন অর রশিদ রানা
ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ রানার বিপুল সম্পদ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকা ওয়াসার এক কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ রানা–কে ঘিরে হঠাৎ সম্পদ বৃদ্ধির অভিযোগ নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চলছে। একসময় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও বর্তমানে তিনি রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সম্পদের মালিক—এমন দাবি স্থানীয়দের। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা ওয়াসা–এর মিটার রিডার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা এই কর্মকর্তা পরবর্তীতে রাজস্ব পরিদর্শক পদে থেকে আন্ডার বিলিং, মিটার টেম্পারিং এবং অবৈধ পানির সংযোগে সহযোগিতার মাধ্যমে অবৈধ আয় করেছেন। যদিও এসব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে তার অবস্থান শক্তিশালী হয়। বিশেষ করে জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং ফাহমী বাবেল গোলন্দাজ–এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা উল্লেখ করে তিনি দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তার করেছেন বলে অভিযোগ। বর্তমানে তিনি মোহাম্মদপুরের ওয়াসা রাজস্ব জোন-৩–এ দায়িত্ব পালন করছেন। আন্দোলন ঘিরেও অভিযোগ হারুন অর রশিদ রানার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, ময়মনসিংহে একটি আন্দোলনের সময় ছাত্রদের ওপর হামলায় অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। একই সঙ্গে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকাতেও তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন আন্দোলনের এক অংশগ্রহণকারী। এছাড়া একটি মামলায় শেখ হাসিনা–এর সঙ্গে তার নাম এসেছে বলে জানা গেলেও বিষয়টি এখন তদন্তাধীন। সম্পদের বিস্তার মোহাম্মদপুরের টিক্কাপাড়া, ঢাকা উদ্যান, ৩ নম্বর সড়ক ও চান মিয়া হাউজিং এলাকায় তার একাধিক ভবনের কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এছাড়া গাজীপুর, ময়মনসিংহের ভালুকা ও গফরগাঁও এলাকাতেও তার সম্পত্তি রয়েছে বলে অভিযোগ। সরকারি গণপূর্ত বিভাগের জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ এবং সেখান থেকে ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। একজন দারোয়ান জানান, “তার বিষয়ে প্রায়ই তদন্ত করতে লোকজন আসেন।” জমি দখল ও হয়রানির অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল এবং মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে অনেককে। এমনকি একজন ধর্মীয় ব্যক্তিকেও জঙ্গি আখ্যা দিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ, কিন্তু ব্যবস্থা নেই অভিযোগকারীদের দাবি, একাধিকবার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও ওয়াসা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একজন সরকারি আনসার কর্মকর্তা বলেন, “স্বল্প বেতনের চাকরি থেকে তিনি এখন কোটি টাকার মালিক। প্রতিবাদ করলে মামলা দিয়ে চাপ দেওয়া হয়।” অভিযুক্তের বক্তব্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হারুন অর রশিদ রানা। তার দাবি, “আমার সম্পদের বৈধ উৎস রয়েছে।” তবে সেই উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি সরাসরি সাক্ষাতে কথা বলার কথা জানিয়েছেন। ওয়াসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩০, ২০২৬ 0
এনবিআর কর্মকর্তা ফয়সাল
অবৈধ সম্পদের জাল: এনবিআর কর্মকর্তা ফয়সালের সম্পদের পাহাড়

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের কর প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নিজের নামে এবং ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার একটি জটিল আর্থিক নেটওয়ার্ক।কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল নিজ নামে এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১৪ জনের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তা কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল—যিনি বর্তমানে বগুড়ায় অতিরিক্ত কর কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে কর্মরত এবং এর আগে যুগ্ম কর কমিশনার ছিলেন। দুদকের দাবি, দায়িত্ব পালনের সময় সেবাপ্রত্যাশীদের ফাইল আটকে রেখে অবৈধ অর্থ আদায়ের মাধ্যমে তিনি এই সম্পদ গড়ে তুলেছেন, যা রাষ্ট্রের জন্য উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়েছে।  কী বলছে দুদক দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, ফয়সাল তার নিজের নামে এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্তত ১৪ জনের নামে ঘোষিত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী: * প্রায় **১৭.২১ কোটি টাকা** মূল্যের সম্পদের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যায় * পরবর্তীতে মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় **১৮.১৬ কোটি টাকা** * এর মধ্যে   * **স্থাবর সম্পদ**: প্রায় ৬.৯৪ কোটি টাকা   * **অস্থাবর সম্পদ**: প্রায় ১১.২১ কোটি টাকা দুদকের অভিযোগ, এসব সম্পদের উৎস, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ গোপন রাখতে তিনি বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে একাধিক হিসাব খুলে সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। অভিযোগের সারাংশ দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ফয়সাল তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রায় ১৮ কোটি টাকারও বেশি সম্পদ অর্জন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে— প্রায় ৬.৯৪ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ (জমি, প্লট, ফ্ল্যাট) প্রায় ১১.২১ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ (ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার) প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৭ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেলেও পরবর্তী অনুসন্ধানে এর পরিমাণ আরও বেড়েছে। আত্মীয়দের নামে সম্পদের বিস্তার তদন্তে দেখা গেছে, ফয়সাল তার স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়ি, ভাই-বোন, শ্যালকসহ নিকটাত্মীয়দের নামে সম্পদ কিনেছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই পদ্ধতির মাধ্যমে তিনি সম্পদের প্রকৃত মালিকানা আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো: * রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট * অভিজাত আবাসিক এলাকায় জমি, যার ঘোষিত মূল্য বাস্তব মূল্যের তুলনায় অনেক কম * শ্বশুরের নামে ঢাকায় বড় আকারের একটি ফ্ল্যাট * শাশুড়ির নামে উচ্চমূল্যের প্লট, যার দলিলে কম মূল্য দেখানো হয়েছে দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের লেনদেন “ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পদের প্রকৃত মূল্য গোপন করার কৌশল” হতে পারে।ফয়সাল ও তার সংশ্লিষ্টদের নামে প্রায় ১৭ কোটি ২১ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য মিলেছে, যা তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। পরবর্তীতে অনুসন্ধানে মোট প্রায় ১৮ কোটি ১৬ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে।  ব্যাংক, সঞ্চয়পত্র ও শেয়ার বিনিয়োগ অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও তার স্বজনদের নামে পাওয়া গেছে উল্লেখযোগ্য আর্থিক বিনিয়োগ: * **সঞ্চয়পত্র**: প্রায় ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা * **শেয়ার বিনিয়োগ**: প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা * **ব্যাংক আমানত**: প্রায় ৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা দুদকের মতে, এসব অর্থ বিভিন্ন হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর ও রূপান্তর করে “মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বৈধ করার চেষ্টা” করা হয়েছে। কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের যত সম্পদ কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের নিজ নামে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন দমন কামতা মৌজায় রূপগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নং-৩৭৫২; জমির পরিমাণ ৬ কাঠার ১/৭ অংশ। নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন গুতিয়াব (১) মৌজায় রূপগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নং-১১৬৫৭; জমির পরিমাণ ০.০৩ একর। নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন হারারবাড়ি মৌজায় রূপগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নং-৬৬৯৫, জমির পরিমাণ ৩৩৪.৪৫ বর্গমিটার। ঢাকা জেলার খিলগাঁও থানাধীন নন্দিপাড়া মৌজায় দলিল নং-৮৯৭১, জমির পরিমাণ ০.২৭ একর এর ১/৬০ অংশ। ঢাকা জেলার ভাটারা থানাধীন বড় কাঁঠালদিয়া মৌজায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট (প্রা.) লিমিটেডের প্লট নং-৫৯৯, সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নং-৯২৩১ এবং দলিল নং-১০৮৭৫; জমির পরিমাণ ০৫ কাঠা। এ জমিটি নিজের ও স্ত্রীর নামে কেনা হয়েছে। স্ত্রী আফসানা জেসমিনের যত সম্পদ এ ছাড়া কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল তার স্ত্রী আফসানা জেসমিনের নামে ঢাকা জেলার ভাটারা থানাধীন বড় কাঁঠালদিয়া মৌজায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট (প্রা.) লিমিটেডের প্লট নং-১৮৯৬, ব্লক-এম, সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নং-১০৫০০, জমির পরিমাণ ০৫ কাঠা। এ জমির দলিল মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ১৮ লাখ টাকা। তবে বাস্তবে এ জমি ৭৫ লাখ টাকায় কেনা হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন কামতা মৌজায় পূর্বাচল নতুন শহর আবাসিক প্রকল্প, সেক্টর নং-২১, প্লট নং-০১৮, রূপগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নং-৯৮২১, জমির পরিমাণ ২০০.১৭ বর্গমিটার। কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের শ্বশুর ও শাশুড়ির যত সম্পদ কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের শ্বশুর আহমেদ আলীর নামে রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেডের রূপায়ণ আবাসন প্রকল্পের আওতায় ‘রূপায়ণ স্বপ্ন নিলয়’, ৫৬-৫৭, সিদ্ধেশ্বরী রোড, রমনা, ঢাকায় ২৯৯০ বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাট এবং ২৩৮ বর্গফুট কার পার্কিংসহ মোট ৩,২২৮ বর্গফুট ১১তম তলায় আই-১০ নং ফ্ল্যাট সাবরেজিস্ট্রি অফিস তেজগাঁও, ঢাকা এর দলিল নং-৪০৬২। কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের শাশুড়ি মমতাজ বেগমের নামে আফতাবনগর হাউজিং প্রকল্পের এন/এস বোড, ব্লক নং-এইচ, প্লট-এইচ-৪-এ জমির পরিমাণ ১০ কাঠার একটি প্লট। খিলগাঁও সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নং-১৮০৫। প্লটটির ক্রয় মূল্য ৫২ লাখ টাকা দেখানো হলেও প্রকৃত মূল্য সাড়ে ৪ কোটি টাকা, যা নিশ্চিত করেছেন বিক্রেতা। এভাবে এ কর্মকর্তা নিজ নামে চারটি প্লট, নিজের স্ত্রী আফসানা জেসমিনের নামে দুটি প্লট ও তাদের যৌথ নামে একটি প্লট, শাশুড়ি মমতাজ বেগমের নামে একটি প্লট ও শ্বশুর আহম্মেদ আলীর নামে একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। দুদকের অনুসন্ধানে যেসব সম্পদের মূল্য প্রায় ৭ কোটি টাকার প্রমাণ মিলেছে।    যত সঞ্চয়পত্র ও শেয়ার এ ছাড়া কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের নিজ নামে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের বিজয়নগর শাখা ও প্রধান শাখায় যথাক্রমে ৩০ লাখ ও ২০ লাখ টাকা—মোট ৫০ লাখ টাকা মূল্যের সঞ্চয়পত্র রয়েছে। তার স্ত্রী আফসানা জেসমিনের নামে মার্কেন্টাইল ব্যাংক, বিজয়নগর শাখায় ৫ লাখ টাকা, সোনালী ব্যাংকের রমনা করপোরেট শাখায় ২১ লাখ টাকা, সোনালী ব্যাংকের রমনা করপোরেট শাখায় ১০ লাখ টাকা, ওয়ান ব্যাংকের মগবাজার শাখায় ১৪ লাখ টাকাসহ মোট ৫০ লাখ টাকা মূল্যের সঞ্চয়পত্র রয়েছে। শ্যালক আফতাব আলীর নামে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখায় ২৯ লাখ টাকা, প্রাইম ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় ১ লাখ টাকাসহ মোট ৩০ লাখ টাকা মূল্যের সঞ্চয়পত্র রয়েছে। ভাই কাজী খালিদ হাসানের নামে সোনালী ব্যাংক, খুলনা করপোরেট শাখায় ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে। শ্বশুর আহম্মেদ আলীর নামে ঢাকা ব্যাংকের কেডিএ শাখায় ২০ লাখ টাকা, একই শাখায় আরও ১০ লাখ টাকা, একই শাখায় আরও ১০ লাখ টাকা ও ২০ লাখসহ মোট ৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে। খালা শাশুড়ি মাহমুদা হাসানের নামে অগ্রণী ব্যাংকের এইচএমএম রোড শাখা, যশোরে ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং খন্দকার হাফিজুর রহমানের নামে অগ্রণী ব্যাংকের স্যার ইকবাল রোড শাখা, খুলনায় ৩০ লাখ টাকা ও একই শাখায় আরও ১০ লাখ টাকাসহ মোট ৪০ লাখ টাকা মূল্যের সঞ্চয়পত্র রয়েছে। আবু মাহমুদ ফয়সাল ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে মোট ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের প্রমাণ মিলেছে। এ ছাড়া আবু মাহমুদ ফয়সাল তার স্ত্রী আফসানা জেসমিনের নামে ৮৫ লাখ ৯৬ হাজার ৯১৯ টাকা মূল্যের শেয়ার ক্রয়, শ্যালক আফতাব আলীর নামে ৪০ লাখ ৩৬ হাজার ৬৫০ টাকা মূল্যের শেয়ার এবং শ্বশুর আহম্মেদ আলীর নামে ৪৪ লাখ ১৩ হাজার ১৪৩ টাকা মূল্যের শেয়ার ক্রয়সহ মোট ১ কোটি ৭০ লাখ ৪৬ হাজার ৭১২ টাকা মূল্যের শেয়ার ক্রয় করেছেন বলে তথ্য-প্রমাণ মিলেছে। আবু মাহমুদ ফয়সাল নিজের নামে ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নামে অস্থাবর সম্পদ হিসাবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন হিসাবে গচ্ছিত রেখেছেন ৬ কোটি ৯৬ লাখ ৫০ হাজার ৯০৮ টাকা। তিনি নিজ নামে ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে মোট অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন ১১ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮০ টাকা। দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানে আবু মাহমুদ ফয়সাল ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নামে ৬ কোটি ৯৪ লাখ ৬২ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর ও ১১ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮০ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদসহ মোট ১৮ কোটি ১৬ লাখ ৫৯ হাজার ৮০ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জনের তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। দুদকের অনুসন্ধান সূত্রে পাওয়া তথ্য বলছে—অভিযুক্ত কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল তার অবৈধ আয়ের উৎস, প্রকৃতি, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ গোপন করতে একটি সুপরিকল্পিত আর্থিক জাল গড়ে তোলেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি নিজের নিকটাত্মীয় ও স্বার্থসংশ্লিষ্টদের—স্ত্রী আফসানা জেসমিন, মা কারিমা খাতুন, বোন ফারহানা আক্তার, ভাই কাজী খালিদ হাসান, শ্বশুর আহম্মেদ আলী, শাশুড়ি মমতাজ বেগম, শ্যালক আফতাব আলী, খালা রওশন আরা খাতুন, খালা শাশুড়ি মাহমুদা হাসান, শ্যালিকা ফারহানা আফরোজ ও মামা শ্বশুর শেখ নাসির উদ্দিনসহ অন্যদের নামে সঞ্চয়পত্র ক্রয় ও বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হিসাব খোলেন। এর মাধ্যমে তিনি নিজের অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বৈধ আয়ের ছদ্মাবরণ দেওয়ার চেষ্টা করেন।   ব্যাংক লেনদেন ও বিনিয়োগ অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার সংশ্লিষ্টদের নামে পাওয়া গেছে— ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ১ কোটি ৭০ লাখ টাকার বেশি শেয়ার বিনিয়োগ প্রায় ৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকার ব্যাংক আমানত দুদকের তদন্তে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর ও রূপান্তর করে এগুলো বৈধ আয়ের ছদ্মাবরণ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।    ‘পরিকল্পিত আর্থিক জাল’ অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ফয়সাল একটি সুসংগঠিত আর্থিক কাঠামো তৈরি করেছিলেন। এতে— * আত্মীয়দের নামে ব্যাংক হিসাব খোলা * সঞ্চয়পত্র ও বিনিয়োগ ছড়িয়ে দেওয়া * এক হিসাব থেকে অন্য হিসাবে অর্থ স্থানান্তর এর মাধ্যমে অবৈধ আয়ের উৎস আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া এই ঘটনায় দুদকের উপপরিচালক শেখ গোলাম মাওলা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ফয়সালসহ তার পরিবারের একাধিক সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। দুদক জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একসময়ের যুগ্ম কর কমিশনার ও বর্তমানে বগুড়ার অতিরিক্ত কর কমিশনার (চলতি দায়িত্ব), পরিদর্শী রেঞ্জ-১ ও ২ কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল নিজ নামে ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১৪ জনের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১৭ কোটি ২১ লাখ ৯৪ হাজার ৩১৮ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন ও দখলে রেখে এর অবৈধ প্রকৃতি, উৎস, অবস্থান, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ গোপন এবং মানি লন্ডারিংয়ের উদ্দেশ্যে পরস্পর যোগসাজশে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হিসাব খুলে সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। ১০ জন আসামি এসব অপরাধলব্ধ সম্পদ নিজেদের নামে গ্রহণ, দখলে নিয়ে কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালকে মানি লন্ডারিংয়ে সহায়তা করেছেন। তিন আসামি বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে হিসাব খুলে সন্দেহজনক লেনদেন করে কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালকে মানি লন্ডারিংয়ে সহায়তা করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। বড় প্রশ্ন এই ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজস্ব প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। একজন কর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সামনে আসায়— * কর ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা * প্রশাসনিক নজরদারি * এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ কাঠামোর কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হতে পারে। দুদকের তদন্ত শেষ হলে, এই অভিযোগগুলো কতটা প্রমাণিত হয়—সেদিকেই এখন নজর।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩০, ২০২৬ 0
প্রকৌশলী ফজলুল হক মধু
গণপূর্তের প্রকৌশলী ফজলুল হক মধু :দুদকের তদন্ত ধামাচাপা দিয়ে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশের সরকারি নির্মাণ খাতের অন্যতম সংস্থা গণপূর্ত অধিদপ্তর দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত। বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এমন প্রেক্ষাপটে গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মো. ফজলুল হক মধুকে ঘিরেও একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে টেন্ডার প্রক্রিয়া, বিল প্রদান এবং ঠিকাদারি কাজের ক্ষেত্রে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ভুয়া বিল উত্তোলন, কাজের অগ্রগতি ছাড়াই বিল প্রদান, এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদারি গোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কমিশন গ্রহণের মতো কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। কিছু কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন, প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ছাড়াই বিল ছাড়ের ঘটনাও ঘটেছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি প্রকল্পে প্রায় ১০ কোটি টাকার অতিরিক্ত বিল প্রদানের অভিযোগও ওঠে। এছাড়া আগারগাঁওয়ে অবস্থিত একটি সরকারি হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পেও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে, যেখানে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে অতিরিক্ত বিল অনুমোদনের কথা বলা হয়। এই ঘটনাগুলো নিয়ে জনমাধ্যমে আলোচনা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বরং পরবর্তীতে তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে বলেও জানা যায়। এদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একসময় এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছিল বলে জানা গেলেও সেই তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গণপূর্ত অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে কর্মরত কিছু কর্মকর্তা বলছেন, এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না হলে সৎ কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
মিডফোর্ট হাসপালের হিসাব রক্ষক জাহিদুর রহিম
কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক মিডফোর্ট হাসপালের হিসাব রক্ষক জাহিদুর রহিম

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মিটফোর্ড ইউনিট) হিসাব বিভাগে কর্মরত এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হচ্ছে, দায়িত্ব পালনকালেই তিনি সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযুক্ত হিসাবরক্ষকের নাম জাহিদুর রহিম। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তার পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ সূত্রের বরাতে জানা যায়, সরকারি তহবিল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় জাহিদুর রহিমের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, হিসাব গরমিল এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দায়িত্বে থাকাকালে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনে অনিয়মের সুযোগ নিয়েছেন। এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আরও বলা হয়, তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নামেও একাধিক স্থাবর সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে, যা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে দাবি করা হচ্ছে। ডেমরায় একাধিক সম্পত্তির তথ্য রাজধানীর ডেমরা এলাকায় জাহিদুর রহিমের নামে একাধিক স্থাপনার তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— বাঁশের পুল এলাকায় “নূরমহল” নামে একটি ৮ তলা ভবন বাদশা মিয়া রোডের মুসলিম নগর টাওয়ারে দুটি ফ্ল্যাট একই এলাকায় নির্মাণাধীন আরও একটি ৮ তলা ভবনের মালিকানা এসব সম্পত্তির উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে। তদন্তের দাবি ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে এবং সংশ্লিষ্ট মহলে দ্রুত তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন অভিযোগ ওঠা নতুন করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করছেন অনেকে। তবে বিষয়টি এখন তদন্তসাপেক্ষ—ফলে শেষ পর্যন্ত কী তথ্য সামনে আসে, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধানের ওপর।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0
বরিশাল সিটি করপোরেশন: দুদকের অনুসন্ধানে ফেঁসে যাচ্ছে জনসংযোগ কর্মকর্তা আহসান উদ্দিন রোমেল

বরিশাল অফিস :   বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, আইটি অবকাঠামো এবং প্রশাসনিক ব্যয়ের খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি অনুসন্ধান প্রতিবেদনে অন্তত ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে প্রায় ১০ জনের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বিসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা আহসান উদ্দিন রোমেলের নাম। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম, অতিরিক্ত বিল উত্তোলন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো এবং ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সিটি করপোরেশনের কাজ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। দুদক এখনো কোনো মামলা দায়ের করেনি এবং অনুসন্ধান প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানা গেছে। বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে এ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন দায়িত্ব গ্রহনের পরই সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষনা দিয়েছেন।তিনি বিসিসিতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করার জন্য সোচ্চার রয়েছেন।  দুদকের অনুসন্ধান: কীভাবে শুরু হলো তদন্ত দুদক সূত্রে জানা যায়, বরিশাল সিটি করপোরেশনের কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে একটি প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু হয়। তদন্তের আওতায় আনা হয় আইটি প্রকল্প, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, ডিজিটাল ট্রেড লাইসেন্স ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা ব্যয়। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ৯ ও ১০ জুলাই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তাদের সম্পদের বিবরণ, প্রকল্পের ব্যয়ের হিসাব এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।   আরও পড়ুন: বিসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা রোমেল চাকুরির আড়ালে ঠিকাদারও   দুদকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “প্রাথমিক পর্যায়ে অনিয়ম পাওয়া গেছে। বিশেষ করে আইটি ও ডিজিটাল প্রকল্পগুলোর ব্যয় ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।” তবে তিনি  উল্লেখ করেন যে, অনুসন্ধান এটি কেবলমাত্র পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের ভিত্তি তৈরি করে।  অভিযোগের কেন্দ্রে কে আহসান উদ্দিন রোমেল? বরিশাল সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আহসান উদ্দিন রোমেল দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা যায়। অভিযোগপত্র ও একাধিক সূত্রের দাবি অনুযায়ী, তিনি একই সঙ্গে আইটি সংশ্লিষ্ট কিছু দায়িত্বে প্রভাব বিস্তার করেছেন এবং কিছু প্রকল্পে ব্যক্তিগতভাবে সম্পৃক্ত থেকেছেন। অভিযোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— * সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্পে প্রকৃত কাজের তুলনায় অতিরিক্ত বিল দেখানো * অনলাইন ট্রেড লাইসেন্স ব্যবস্থায় অনিয়ম ও বিলম্ব * বিভিন্ন আইটি প্রকল্পে বাজেট বৃদ্ধির মাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো * ব্যক্তিগত আইটি প্রতিষ্ঠান  পিপলো বিডি দিয়ে ব্যবহার করে প্রকল্পে প্রভাব বিস্তার * সরকারি প্রচারণা ও বিজ্ঞাপন ব্যয়ে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন এসব অভিযোগ বিভিন্ন অভিযোগকারী ও অভ্যন্তরীণ নথির ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানা যায়।  আইটি প্রকল্প নিয়ে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ অভিযোগপত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সিটি করপোরেশনের ডিজিটালাইজেশন প্রকল্পগুলোকে। সূত্রের দাবি অনুযায়ী, অনলাইন ট্রেড লাইসেন্স ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রকল্পটি পুরোপুরি কার্যকর হয়নি বা মাঝপথে ব্যাহত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রকল্পের প্রযুক্তিগত বাস্তবায়নে যে প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্ত ছিল, তাদের কাজের বিল ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে অনিয়ম হয়েছে। একটি অভিযোগে বলা হয়, একটি স্থানীয় আইটি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করলেও যথাযথ বিল না পাওয়ার অভিযোগ করেছে। অন্যদিকে, পরবর্তীতে সেই প্রকল্পে ভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করে পুনরায় বাজেট প্রস্তাব করা হয় বলে দাবি করা হয়। একাধিক সূত্রের দাবি, প্রকল্পের বাস্তব ব্যয় এবং প্রস্তাবিত বাজেটের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য ছিল। যেখানে বিশেষজ্ঞদের মতে কিছু কাজ তুলনামূলক কম খরচে সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল, সেখানে কয়েক কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়। সিসিটিভি প্রকল্প: অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ সিটি করপোরেশনের সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সংখ্যক ক্যামেরা দেখিয়ে অতিরিক্ত বিল তোলা হয়েছে এবং প্রকৃত বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি খরচ দেখানো হয়েছে। একটি সূত্রের দাবি, প্রকল্পের কাজের পরিমাণ এবং বিলের মধ্যে অসামঞ্জস্য ছিল। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো মূল্যায়ন বা যাচাই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের অভিযোগ অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আহসান উদ্দিন রোমেলের একটি ব্যক্তিগত আইটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মাধ্যমে তিনি সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্পে পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু প্রকল্পে ঠিকাদার নির্বাচন, বিল অনুমোদন এবং কাজের তদারকিতে ব্যক্তিগত প্রভাব খাটানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আদালতের রায় বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এখনো পাওয়া যায়নি।  প্রচার-প্রচারণা ও বিজ্ঞাপন ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন প্রচারণামূলক কার্যক্রম—যেমন ব্যানার, ফেস্টুন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা—এসব খাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে বাস্তব কাজের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি বিল দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, নির্দিষ্ট একটি প্রচারণা কাজে প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বতন্ত্র আর্থিক নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।   অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত সূত্রগুলো বলছে, বিসিসির অভ্যন্তরে কিছু প্রকল্প ও বিল অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব ছিল। কিছু প্রকল্পে একাধিক পক্ষের সম্পৃক্ততা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমন্বয়হীনতা দেখা গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। একটি সূত্র দাবি করে, কিছু ক্ষেত্রে প্রকল্প অনুমোদন ও বিল আটকে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে, যা পরবর্তীতে অর্থনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে সমাধান হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।  রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব সূত্রগুলো আরও জানায়, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে কিছু প্রকল্প স্থগিত এবং পরে পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা হয়েছে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব বিষয় রাজনৈতিক বিশ্লেষণের অংশ এবং এর সঙ্গে সরাসরি দুর্নীতির প্রমাণ সম্পর্কিত নয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।  ছাত্র আন্দোলন ও জনমতের চাপ বরিশালে সম্প্রতি কিছু ছাত্র ও নাগরিক সংগঠন দুর্নীতির অভিযোগে দাবি তুলেছে। তাদের প্রধান দাবি—অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। একজন আন্দোলনকারী বলেন, “আমরা চাই স্বচ্ছ তদন্ত হোক। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হোক।” তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।  দুদকের পরবর্তী পদক্ষেপ কী? দুদক সূত্র বলছে, অনুসন্ধান প্রতিবেদন এখনো চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। কমিশন অনুমোদন দিলে মামলা দায়ের হবে।    অভিযুক্তদের অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে আহসান উদ্দিন রোমেল বা সংশ্লিষ্ট অন্যদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সাধারণত এ ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তদন্ত চলাকালে মন্তব্য থেকে বিরত থাকেন ।  অভিযোগ বনাম প্রমাণ দুর্নীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুসন্ধান প্রতিবেদন এবং অভিযোগপত্র প্রাথমিক পর্যায়ের তথ্য হিসেবে গণ্য হয়। এগুলোকে আদালতে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করতে হলে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, অডিট রিপোর্ট এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ প্রয়োজন। একজন প্রশাসনিক বিশ্লেষক বলেন, “সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ প্রায়ই ওঠে, কিন্তু সব অভিযোগ প্রমাণিত হয় না। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিচারিক প্রক্রিয়া অপরিহার্য।” বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্প ঘিরে যে অভিযোগগুলো উঠেছে, তা এখনো তদন্তাধীন পর্যায়ে রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান প্রতিবেদন এই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও এটি চূড়ান্ত রায় নয়। আহসান উদ্দিন রোমেলসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হবে কি না, তা নির্ভর করছে পরবর্তী আইনি তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর। ততক্ষণ পর্যন্ত এসব অভিযোগকে “অভিযোগ” হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে—যার সত্যতা বা অসত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব এখন আইনি প্রক্রিয়ার হাতে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৭, ২০২৬ 0
গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুব
গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবের বিরুদ্ধে ১৭কোটি টাকার বিল কারসাজি,অঢেল অবৈধ সম্পদ!

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল (ই/এম) সার্কেল–৩-এর একটি বড় প্রকল্পে প্রায় ১৭ কোটি টাকার বিল অনুমোদনকে কেন্দ্র করে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন এই সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান। অভিযোগকারী ও অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি, সরঞ্জাম সরবরাহ এবং অনুমোদিত বিলের অঙ্কের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অসঙ্গতি রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদার আলদ্দিন ওয়াজেদ দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। কী বলা হয়েছে অভিযোগে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পে যে পরিমাণ বিল করা হয়েছে, তার বিপরীতে সমপরিমাণ কাজ বা সরঞ্জাম সরবরাহের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নথিতে দেখানো দামের সঙ্গে বাজারমূল্যেরও বড় ধরনের পার্থক্যের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়— বিল অনুমোদনে নিয়মিত যাচাই-বাছাই করা হয়নি কিছু ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি করে ফাইল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে নথিপত্রে তারিখের অসঙ্গতি রয়েছে যাচাই ছাড়াই পেমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে অভিযোগকারীদের দাবি, এসব বিষয় সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়মের ইঙ্গিত বহন করে। প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ই/এম সার্কেল–৩-এর টেন্ডার ও ক্রয়প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে গুঞ্জন রয়েছে। অভিযোগকারীরা বলছেন— নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদার নিয়মিত কাজ পেয়ে থাকেন ক্রয় ও সরবরাহ প্রক্রিয়া পূর্বনির্ধারিতভাবে পরিচালিত হয় গুরুত্বপূর্ণ টেন্ডারে একটি সীমিত গোষ্ঠীর প্রাধান্য দেখা যায় ঠিকাদার আলদ্দিন ওয়াজেদের ভাষ্য, “১৭ কোটি টাকার বিলটি এই প্রভাব বলয়ের আরেকটি উদাহরণ হতে পারে।” তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি বক্তব্য জানতে প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। সরকারি সূত্র কী বলছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এ ধরনের বড় অঙ্কের বিলের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা না থাকলে তা উদ্বেগজনক। অভিযোগগুলো সত্য হলে এটি গুরুতর অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়।” তিনি আরও জানান, টেন্ডার ও বিল প্রক্রিয়া নিয়ে আগে থেকেই প্রশ্ন রয়েছে, তবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে তদন্ত প্রয়োজন। দুদকের প্রতিক্রিয়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকারি প্রকল্পে বড় অঙ্কের আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। তার ভাষায়, “নথিপত্রে বৈষম্য বা আর্থিক অস্বচ্ছতা পাওয়া গেলে তা অনুসন্ধানের আওতায় পড়ে। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে প্রাথমিক যাচাইয়ের পর আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হতে পারে।” সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন এদিকে একই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি চাকরির আয়ের সঙ্গে তার সম্পদের পরিমাণের অসামঞ্জস্য রয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে— রাজধানীর মোহাম্মদপুরে প্রায় ৩৫০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট পশ্চিম আগারগাঁও এলাকায় চারতলা ভবন বনশ্রী-আমুলিয়া এলাকায় জমি   বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে ঝুঁকির ইঙ্গিত সরকারি অডিট ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট এক বিশেষজ্ঞ বলেন, “তারিখের অসঙ্গতি, যাচাই ছাড়া পেমেন্ট এবং দ্রুত অনুমোদন—এসব উচ্চ ঝুঁকির সংকেত। এগুলো যদি সমন্বিতভাবে ঘটে, তাহলে তা বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার ইঙ্গিত দিতে পারে।” অন্যদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “এ ধরনের ঘটনা কেবল আর্থিক অনিয়ম নয়, এটি প্রশাসনিক শাসনব্যবস্থার গভীর সংকটের প্রতিফলন। নিরপেক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত প্রয়োজন।” তদন্তের অপেক্ষা  অভিযোগের গুরুত্ব এবং আর্থিক পরিমাণ বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি তদন্তের আওতায় আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
আয়রন ব্রিজে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় আয়রন ব্রিজে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় একটি আয়রন ব্রিজ নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামে দুশমী-করিমবাজার খালের ওপর নির্মাণাধীন ব্রিজে এই অনিয়মের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর অর্থায়নে নির্মাণাধীন ব্রিজটির দৈর্ঘ্য ৪৫ ফুট এবং প্রস্থ সাড়ে ৫ ফুট হওয়ার কথা ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজ নির্মাণে নির্ধারিত রড ব্যবহার না করে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া ঢালাইয়ের পুরুত্ব ৫ ইঞ্চির পরিবর্তে মাত্র ৩ ইঞ্চি রাখা হয়েছে এবং সিমেন্টের মিশ্রণেও অনিয়ম করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা হিমু মোল্লা ও ইদ্রিস মোল্লা অভিযোগ করেন, রত্নপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা ব্রিজ নির্মাণের বরাদ্দ পেলেও তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করেননি। বরং ব্রিজ নির্মাণের কথা বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রায় ৮৫ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগও তোলেন তারা। তাদের দাবি, ঢালাইয়ের সময় উপজেলা প্রকৌশল অফিসের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। বাঁশ ব্যবহারে বাধা দিলে ঠিকাদার সামান্য কিছু রড ব্যবহার করে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করেন। অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা স্থানীয়দের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করলেও ব্রিজের ঢালাই কাজে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছেন। তার দাবি, ব্রিজের বাইরের অংশে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে এবং তা স্থানীয়দের উপস্থিতিতেই করা হয়েছে। রত্নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা সরদার জানান, ব্রিজ নির্মাণের প্রথম পর্যায়ে দেড় লাখ এবং ঢালাইয়ের জন্য সম্প্রতি আরও এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়ে তিনি অবগত নন। উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, ঢালাইয়ের সময় তাদের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও না জানিয়েই কাজ শেষ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বণিক জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি দেখার পর সরেজমিনে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ডা. ভাস্কর সাহা
গোয়েন্দা নজরদারিতে বরিশালের ডা. ভাস্কর সাহা : অর্থ পাচার, অবৈধ সম্পদ ও দেশত্যাগের শঙ্কা

বরিশাল অফিস :  বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ'র অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ভাস্কর সাহাকে ঘিরে অর্থ পাচার, অবৈধ সম্পদ গঠন এবং সম্ভাব্য দেশত্যাগের পরিকল্পনা নিয়ে নানা মহলে আলোচনা বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে তার একটি মেডিকেল ভিসার আবেদনকে কেন্দ্র করে নতুন করে এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিষয়টি এখন নজরে এসেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর।ফলে তিনি রয়েছেন এখন গোয়েন্দা নজরদারীতে। অভিযোগের প্রেক্ষাপট বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, ডা. সাহার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করছেন। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, বাংলাদেশ থেকে অনানুষ্ঠানিক চ্যানেল—বিশেষ করে হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে অর্থ স্থানান্তরের সঙ্গে তিনি জড়িত ।  বাংলাদেশে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ লেনদেন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে অর্থ স্থানান্তর গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। গোয়েন্দা নজরদারি সংবাদ প্রকাশের পর দেশের একটি শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়টি নজরদারিতে নিয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ডা. সাহার আর্থিক লেনদেন, সম্পদ গঠন এবং বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের সম্ভাব্য পথগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, একটি শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা ইতোমধ্যে বিষয়টি নজরদারিতে নিয়েছে এবং ডা. সাহার আর্থিক লেনদেন ও সম্পদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। ঐ গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান,ডা. ভাস্কর সাহার ব্যাপারে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরে খোজখবর নেয়া শুরু করা হয়েছে।তিনি বলেন,অর্থ পাচার,হুন্ডির ব্যাপারে ইতিমধ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।আসা করি পুরো প্রক্রিয়ার তদন্ত করতে আরো সময় লাগবে।  মেডিকেল ভিসা নিয়ে প্রশ্ন ডা. সাহার সাম্প্রতিক মেডিকেল ভিসা আবেদন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের কেউ কেউ মনে করছেন, এটি দেশত্যাগের সম্ভাব্য প্রস্তুতির অংশ হতে পারে।   প্রতিক্রিয়া ও অবস্থান এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে ডা. ভাস্কর সাহার সরাসরি প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। সাংবাদিকরা তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যুক্ত করা হবে। সচেতন মহল ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর প্রতি নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, এই মুহূর্তে কয়েকটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করা জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে—ভিসা আবেদন ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য পর্যবেক্ষণ, তার আর্থিক লেনদেনের উৎস অনুসন্ধান, ব্যাংক হিসাবের তথ্য যাচাই, দেশে ও বিদেশে সম্পদের প্রকৃত অবস্থা নিরূপণ এবং প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে, যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে তা আইনের আওতায় আনা জরুরি। ডা. ভাস্কর সাহাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন । বিষয়টি নিয়ে জনমনে আগ্রহ বাড়লেও, তদন্তের অগ্রগতি পরিস্থিতিকে আরও পরিষ্কার করতে পারে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ডা. ভাস্কর সাহা
মেডিকেল ভিসার আড়ালে দেশত্যাগের প্রস্তুতি? ডা. ভাস্কর সাহাকে ঘিরে অর্থ পাচারের অভিযোগে নতুন উত্তাপ

বরিশাল অফিস :    বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ভাস্কর সাহাকে ঘিরে অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ গঠনের অভিযোগ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তিনি গত ৯ এপ্রিল একটি মেডিকেল ভিসার জন্য আবেদন করেছেন—যা সংশ্লিষ্ট মহলে তার সম্ভাব্য দেশত্যাগ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তিনি স্থায়ীভাবে বিদেশে পাড়ি জমাতে পারেন। ইতোমধ্যে তার স্ত্রী ও সন্তানরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া তিনি নিজ বাসভবনের বাইরে বর্তমানে বরিশাল সদরে  একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করছেন—যা তার চলাফেরায় গোপনীয়তার ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন অনেকে। অর্থ পাচারের অভিযোগ ডা. ভাস্কর সাহার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি একটি বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান “সাউথ অ্যাপোলো হাসপাতাল”-এর শেয়ার বিক্রি করে প্রায় দুই কোটি টাকা সংগ্রহ করেন এবং সেই অর্থ বিদেশে পাচার করেন। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থ ভারতের দিকে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করছে। সম্পদের বিস্তার ও বিক্রির উদ্যোগ  অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, বরিশাল শহরে তার মালিকানাধীন অন্তত তিনটি ফ্ল্যাট রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এর মধ্যে দুটি বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে—যা সম্ভাব্য দেশত্যাগের প্রস্তুতির অংশ হতে পারে বলে মনে করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। শুধু দেশেই নয়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত এলাকাতেও তার নামে একাধিক বাড়ির তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।  এসব তথ্য  গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পারিবারিক নাগরিকত্ব ও অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ডা. সাহার পরিবারের সদস্যদের নাগরিকত্ব, দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান এবং সম্পদ অর্জনের উৎস নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে। এসব বিষয় ভবিষ্যৎ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক যোগাযোগের ইঙ্গিত স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে, ডা. ভাস্কর সাহা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। যদিও এই সম্পর্কের প্রভাব কতটুকু—তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। নজরদারি জোরদারের দাবি এমন পরিস্থিতিতে সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর প্রতি জরুরি ভিত্তিতে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এখন অত্যন্ত জরুরি— ভিসা প্রক্রিয়ার ওপর কঠোর নজরদারি। সম্ভাব্য দেশত্যাগে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা। অর্থের উৎস ও লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত। বিদেশে সম্পদের সত্যতা যাচাই। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ।   সচেতন মহলের মতে, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর আর্থিক অনিয়মের চিত্রও উন্মোচন করতে পারে। ডা. ভাস্কর সাহাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ, তথ্য ও পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট একটি পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্তের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সক্রিয়তা এখনই নির্ধারণ করতে পারে—এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি বড় কোনো আর্থিক জালিয়াতির অংশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0