বরিশাল অফিস : বরিশাল নগরবাসীর জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে নির্মিত রূপাতলী ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টকে ঘিরে গুরুতর অনিয়ম, দখলদারিত্ব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। জনস্বার্থে গড়ে তোলা এই স্থাপনাটি ব্যক্তিগত পশুখামার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে—এমন অভিযোগ সরাসরি গিয়ে পড়েছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এদিকে রুপাতলী ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট আকস্মিক পরিদর্শন করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।তিনি দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাষ প্রদান করেন। কী অভিযোগ স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিন পর্যবেক্ষণে জানা গেছে, প্লান্টের নির্ধারিত জমির একটি বড় অংশ দখল করে সেখানে দুম্বা, ছাগল ও ভেড়ার খামার গড়ে তোলা হয়েছে। শুধু পশু পালন নয়, খামারটিকে টেকসই রাখতে প্লান্টের ভেতরেই ঘাস চাষের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এতে করে একটি জনকল্যাণমূলক অবকাঠামো কার্যত ব্যক্তিগত ব্যবহারে চলে যাওয়ার অভিযোগ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, এই খামার পরিচালনায় সিটি কর্পোরেশনের বেতনভুক্ত কর্মচারীদের ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্তত চারজন কর্মচারী নিয়মিত পশুর পরিচর্যা, খাবার দেওয়া এবং খামার দেখভালের কাজে নিয়োজিত—যা সরকারি সম্পদের অপব্যবহার হিসেবে দেখা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য নিয়ে শঙ্কা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মতো সংবেদনশীল স্থাপনার ভেতরে পশুপালন জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। পশুর বর্জ্য থেকে নির্গত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং অ্যামোনিয়া বাতাসে ছড়িয়ে শ্বাসতন্ত্রের রোগ, ত্বকের সংক্রমণসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হলো, বৃষ্টির পানির সঙ্গে পশুর বর্জ্য মিশে পানি উৎস দূষিত হওয়ার সম্ভাবনা। এ ধরনের দূষণ যদি পরিশোধন ব্যবস্থায় প্রবেশ করে, তবে তা পুরো নগরবাসীর জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। স্থানীয়দের ভোগান্তি প্লান্ট সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, খামার থেকে ছড়ানো তীব্র দুর্গন্ধে তাদের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় পরিবেশ পরিস্থিতিও ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। আইনি ও প্রশাসনিক প্রশ্ন আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি প্রকল্পের জমি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের ব্যক্তিগত কাজে নিয়োজিত করা দুর্নীতির আওতায় পড়ে এবং এটি দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তযোগ্য বিষয় হতে পারে। পরিবেশ দূষণের প্রমাণ পাওয়া গেলে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনেও ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। সংশ্লিষ্টদের প্রতিক্রিয়া বিসিসির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এই খামারের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং পশুগুলো প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার। অন্যদিকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের বলেন, “এসব বিষয় নিয়ে আপনাদের মাথাব্যথা কেন? যা পারেন করেন।” তার এই প্রতিক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বরিশাল জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেছেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না, তবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আকস্মিক পরিদর্শন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাষ প্রদান করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শিরীন। জবাবদিহিতার প্রশ্ন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং প্রশাসনিক জবাবদিহিতার ঘাটতির প্রতিফলন। তারা দ্রুত দখলমুক্তকরণ, দায়ীদের শাস্তি এবং উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। যে স্থাপনা নগরবাসীর জন্য বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করার কথা, সেটিই যদি দূষণ ও অনিয়মের উৎসে পরিণত হয়—তাহলে জননিরাপত্তা কোথায় দাঁড়ায়? এই প্রশ্নের উত্তর এখন নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত ও কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নেয় তার ওপর।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর অনুসন্ধানে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগে ফেঁসে যাচ্ছেন বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)-এর জনসংযোগ কর্মকর্তা আহসান উদ্দিন রোমেলসহ অন্তত ১০ কর্মকর্তা ও কর্মচারী। টেন্ডার কারসাজি, জাল-জালিয়াতি, অনিয়ম এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি চলছে। বরিশাল সিটি করপোরেশন—স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, যার ওপর নির্ভর করে নগরবাসীর দৈনন্দিন নাগরিক সেবা। কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠানই যদি দুর্নীতি, অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে, তবে তা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়—এটি জনআস্থার গভীর সংকটের ইঙ্গিত দেয়। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর এক অনুসন্ধানে বিসিসির ১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রায় ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুদক। এছাড়া জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তালিকায় রয়েছেন প্রায় ৬ জন। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানের রিপোর্ট অনুমোদন হলে শিঘ্রই মামলা হতে পারে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।চার্জশিট হলেই বিসিসির চাকুরী থেকে বরখাস্ত হবেন তারা। বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে এ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন দায়িত্ব গ্রহনের পরই সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষনা দিয়েছেন।তিনি বিসিসিতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করার জন্য সোচ্চার রয়েছেন।ফলে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা রয়েছেন সতর্ক অবস্থানে। দুদকের এই অনুসন্ধান শুধু একটি বিচ্ছিন্ন দুর্নীতির ঘটনা নয়; বরং এটি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা প্রশাসনিক দুর্বলতা, রাজনৈতিক প্রভাব, এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার অভাবের একটি প্রতিচ্ছবি। অভিযোগের স্তর জমেছিল বহুদিন বিসিসিকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। নগর উন্নয়ন প্রকল্প, টেন্ডার প্রক্রিয়া, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা এবং সরঞ্জাম ক্রয়ে অনিয়ম নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বহুদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল। অভিযোগগুলো ধীরে ধীরে এতটাই বিস্তৃত হয়ে ওঠে যে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নজরে আসে দুদকের। দুদকের বরিশাল সমন্বিত কার্যালয় গত কয়েক মাস ধরে একটি বিস্তৃত অনুসন্ধান পরিচালনা করে। অনুসন্ধানে উঠে আসে— উন্নয়নকাজের দরপত্রে অনিয়ম জাল নথি ব্যবহার করে সম্পদ বণ্টন সরকারি অর্থের অপচয় ব্যক্তিগত সম্পদ অর্জনে ক্ষমতার অপব্যবহার এই অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তলব করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা ও সম্পদের হিসাব চাওয়া হয়। তলব ও জিজ্ঞাসাবাদ: আতঙ্কের শুরু ২০২৫ সালের ৯ ও ১০ জুলাই অভিযুক্তদের দুদক কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়। ধাপে ধাপে তারা হাজির হয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন এবং সম্পদের বিবরণ দাখিল করেন। তবে অনুসন্ধান সূত্র বলছে, অনেক ক্ষেত্রেই তাদের প্রদত্ত তথ্য ও বাস্তব অবস্থার মধ্যে অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং সম্পদের উৎস নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এই তলবের পর থেকেই বিসিসির অভ্যন্তরে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক—কার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকে। কারা আছেন অভিযোগের তালিকায় দুদকের অনুসন্ধানে যাদের নাম উঠে এসেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী। তালিকায় উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন— তৎকালীন সচিব মাসুমা আক্তার প্রধান প্রকৌশলী (সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) হুমায়ুন কবির সাবেক হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মশিউর রহমান জনসংযোগ কর্মকর্তা আহসান উদ্দিন রোমেল সম্পত্তি কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান শাকিল উপসহকারী প্রকৌশলী এইচ এম কামাল সাইফুল ইসলাম মুরাদ সার্ভেয়ার সাইদুর রহমান প্ল্যান শাখার সহকারী খায়রুল হাসান কম্পিউটার অপারেটর ফিরোজ হোসেনসহ ১৮ জন। কী ধরনের অনিয়ম ধরা পড়েছে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বহুমাত্রিক দুর্নীতির চিত্র। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো— ১. টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারসাজি উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্রে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের সুবিধা দিতে নিয়ম ভাঙার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের পরিবর্তে পূর্বনির্ধারিতভাবে কাজ বণ্টনের প্রমাণ মিলেছে বলে সূত্র জানিয়েছে। ২. সরকারি সম্পদ বণ্টনে অনিয়ম বিসিসির সম্পত্তি বরাদ্দে স্বজনপ্রীতি এবং ঘুষের অভিযোগ রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে জাল নথি ব্যবহার করে সম্পত্তি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ। ৩. ক্রয় প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ল্যাপটপ, ড্রোন, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনায় অতিরিক্ত মূল্য দেখানো এবং নিম্নমানের পণ্য সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। ৪. উৎসব ব্যয়ে অস্বচ্ছতা ঈদ উপলক্ষে মেয়রের শুভেচ্ছা ফেস্টুন স্থাপনে প্রায় ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব চাওয়া হয়েছে। এই ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ৫. পুনঃনিয়োগে অনিয়ম পূর্বে চাকরিচ্যুত কিছু ব্যক্তি কীভাবে পুনরায় নিয়োগ পেয়েছেন—এই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় এসেছে। জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ: বড় ধরনের অভিযোগ অনুসন্ধানে অন্তত ৬ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন আইনের অধীনে এটি একটি গুরুতর অপরাধ। যদি প্রমাণিত হয় যে কোনো ব্যক্তি তার বৈধ আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জন করেছেন, তাহলে তা সরাসরি আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। আইনি দিক: কী হতে পারে পরিণতি আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে অনুসন্ধান রিপোর্ট অনুমোদন এবং পরবর্তী চার্জশিটের ওপর। বরিশাল বারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহে আলম জানিয়েছেন— কোন ব্যক্তি অসাধু উপায়ে এমন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেন যা তার বৈধ আয়ের উৎসের সাথে অসংগতিপূর্ণ তাহলে তিনি দুদক আইনের ২৭ ধারা লঙন করেছেন।অভিযোগ প্রমানিত হলে সর্বনিম্ন ৩ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হতে পারে। এছাড়া ওই অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্তযোগ্য হবে । তিনি বলেন,বিসিসির কারো বিরুদ্ধে জাল-জালিয়াতি প্রমান হলে তিনি ধারা ৪০৯ লঙন করেছেন। এটি দুদকের তদন্তাধীন সবচেয়ে গুরুতর অপরাধগুলোর একটি। তিনি বলেন,দুর্নীতির মামলায় চার্জশিট (অভিযোগপত্র) আদালতে গৃহীত হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিধান রয়েছে। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আলোকে এবং সাময়িক বরখাস্ত আইনের ধারা ৩৯(২) অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় আদালত কর্তৃক অভিযোগপত্র (চার্জশিট ) গৃহীত হলে কর্তৃপক্ষ তাকে ওই তারিখ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করতে পারে । দুর্নীতির মামলার ক্ষেত্রে এটি সাধারণত আবশ্যিকভাবে পালন করা হয়। এছাড়া চার্জশিট হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা- কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে চূড়ান্তভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অপসারণ করা হতে পারে। তিনি আরো বলেন,কোনো কর্মকর্তা -কর্মচারী ফৌজদারি মামলায় আদালত কর্তৃক ১ বছর বা তার বেশি মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে তিনি রায় প্রদানের তারিখ থেকে চাকরি থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত হবেন । চার্জশিট ও চাকরি: কী বলছে আইন সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ অনুযায়ী— কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট গৃহীত হলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা যেতে পারে, দুর্নীতির মামলায় এটি সাধারণত বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর করা হয়। পরবর্তীতে বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে অপসারণ করা হতে পারে। এছাড়া, যদি কোনো কর্মকর্তা ১ বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তাহলে রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই তার চাকরি বাতিল হয়ে যাবে। দুদকের অবস্থান: কঠোর বার্তা অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. আবুল কাইউম হাওলাদার জানিয়েছেন, তিনি তার অনুসন্ধান সম্পন্ন করে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। যদিও তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন, তবে দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে— যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে, তারা কোনোভাবেই রেহাই পাবেন না। এতে স্পষ্ট যে, দুদক এই মামলাকে একটি উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা অনুসন্ধান শেষ হওয়ার পর থেকে বিসিসির অভ্যন্তরে এক ধরনের চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। দুদকের অনুসন্ধানে যাদের নাম উঠে এসেছে সে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক কার্যক্রমে ধীরগতি সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনিশ্চয়তা একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অনেকেই ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং কেউ কেউ আইনি প্রস্তুতিও শুরু করেছেন। স্থানীয় সরকারে দুর্নীতির চিত্র এই ঘটনা শুধু বরিশালেই সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় একই ধরনের অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন— টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রাজনৈতিক প্রভাব জবাবদিহিতার দুর্বলতা এসব কারণেই স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্নীতির ঝুঁকিতে থাকে। গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, রিপোর্ট অনুমোদন বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো দুদকের প্রধান কার্যালয়ে রিপোর্ট অনুমোদন। এরপর— মামলা দায়ের চার্জশিট প্রস্তুত আদালতে বিচার প্রক্রিয়া শুরু এই পুরো প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হলেও, এটি বিসিসির ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামোকে প্রভাবিত করতে পারে। একটি পরীক্ষার মুখে বিসিসি বরিশাল সিটি করপোরেশনের এই ঘটনা একটি বড় প্রশ্ন তুলে ধরেছে— জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান কতটা স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক? দুদকের এই অনুসন্ধান যদি শেষ পর্যন্ত কার্যকর বিচার নিশ্চিত করতে পারে, তবে এটি শুধু বিসিসি নয়, দেশের অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও একটি শক্ত বার্তা হবে। এখন নজর সবার—রিপোর্ট অনুমোদনের পর কী পদক্ষেপ নেয়া হয়, এবং অভিযুক্তরা সত্যিই আইনের আওতায় আসে কিনা।
বরিশাল অফিস : বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) অধীনে হাট-বাজার, পাবলিক টয়লেট ও বাস টার্মিনাল ইজারা প্রক্রিয়াকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্তোষ দেখা যাচ্ছে। উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে ইজারা কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় নাগরিকদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ইজারা প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও গোপনীয়তার অভিযোগ থাকলেও এবার বিসিসি কর্তৃপক্ষ উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ইজারা প্রদান শুরু করেছে। এতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন যোগ্য ও আগ্রহী ব্যক্তিরা, যা প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। নগরীর বিভিন্ন হাট-বাজার ও বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ ব্যবসায়ী ও সেবাগ্রহীতারা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, উন্মুক্ত ইজারা প্রক্রিয়া চালু থাকলে দুর্নীতি কমবে এবং সেবার মানও বাড়বে। একই সঙ্গে পাবলিক টয়লেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো আরও পরিচ্ছন্ন ও ব্যবহার উপযোগী হবে বলে আশা করছেন তারা। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “আগে ইজারা প্রক্রিয়া নিয়ে অনেক অভিযোগ শুনতাম। এবার খোলামেলা দরপত্র হওয়ায় আমরা খুশি। এতে সঠিক ব্যক্তি ইজারা পাবে বলে মনে হচ্ছে।” তবে সচেতন মহল সতর্ক করে বলছেন, যদি এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ‘গুজ’ বা অনিয়ম প্রবেশ করে, তাহলে বিসিসির ইতিবাচক ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারে। তাই তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। সচেতন মহলের মতে, ইজারা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা গেলে শুধু রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে না, বরং নগর সেবার মানও উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে। এজন্য দরপত্রের প্রতিটি ধাপে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। এ বিষয়ে বিসিসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উন্মুক্ত ও নীতিমালা অনুযায়ী ইজারা কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তারা আশ্বস্ত করেছেন। উন্মুক্ত ইজারা প্রক্রিয়ার এই ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে পারলে বরিশাল সিটি করপোরেশন একটি স্বচ্ছ ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে—এমনটাই প্রত্যাশা নগরবাসীর।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : বরিশালের সিটি করপোরেশনে সিসিটিভি ক্যামেরা কেলেঙ্কারি ফাসঁ। স্থাপনের চেয়ে অতিরিক্ত সংখ্যা ও প্রকৃত মূল্য থেকে অতিরিক্ত বিল করে অর্থ আত্মসাৎ।অভিযোগের তীর জনসংযোগ কর্মকর্তা ও আইটি কর্মকর্তা (চঃদাঃ) আহসান উদ্দিন রোমেলের দিকে।রোমেলের কারনে অনলাইন ট্রেড লাইসেন্স কার্য্যক্রম ভেস্তে গেছে।এছাড়া রোমেল চাকুরির আড়ালে ঠিকাদারী কাজও করেন। সাবেক মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ এই রোমেলকে দুর্নীতির কারনে চাকুরীচ্যুত করেছিল। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে কে এই দুর্নীতিবাজ রোমেল : বরিশালে একটি আইটি প্রতিষ্ঠান এর তৈরি ডিজিটাল ট্রেড লাইসেন্স এর কাজ শেষ হলেও উদ্ভোধনের দিনক্ষন নির্ধারিত হওয়ার ঠিক আগ মুহুর্তে ঐ আইটি প্রতিষ্ঠানের কাজকে এড়িয়ে সাবেক মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ আমলে আর্থিক ক্ষতিসহ ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায় চতুর্থ পরিষদের নবম সাধারণ সভায় চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমুলক কর্মকান্ডের জন্য চাকুরী হারানো আহসিন উদ্দিন রোমেল । গোপনে তার নিজের প্রতিষ্ঠান পিপলো বিডি দিয়ে সিটি কর্পোরেশনের আইটিসহ বিভিন্ন বিভাগের সুবিধা হাতিয়ে নিয়েছে। রোমেলের নিজ প্রতিষ্ঠান পিপলো বিডির করা প্রজেক্টের কাজ ও বিল আটকে দেয় সচিব মাসুমা আক্তার।পরে রোমেল ও সচিব মাসুমা অর্থ ভাগাভাগি করে অর্থ আত্মসাৎ করে। এর সাথে কমিশন সম্পর্ক থাকায় রোমেল জনসংযোগ কর্মকর্তার পাশাপাশি আইটি বিভাগের কর্মকর্তার পদটি বাগিয়ে নেয়।আইটি কর্মকর্তা হিসেবে নামে বে নামে বিল ও ভাউচার করতো এ ছাড়া মেয়রের, ঈদ শুভেচ্ছার ব্যানার, সাইনবোর্ড, ফেসবুকে মেয়রের ব্যক্তিগত প্রচারণা (বুষ্টিং )চালানোর নামে অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগ রোমেলের নামে। নেটওয়ার্কের জন্য ২ লাখ নিয়ে ৭৬ হাজার টাকার কাজ করে বাকি টাকা আত্মসাৎ করেছে রোমেল। এছাড়া রোমেলের বিরুদ্ধে সাবেক মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের ঈদ শুভেচ্ছার ব্যানার সাইনবোর্ড ও ফেস্টুন বাবদ ১৩ লাখ নিলেও ৭ লাখ টাকার ব্যানার ও ফেস্টুন লাগিয়ে ৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে এই দুর্নীতিবাজ আহসান উদ্দিন রোমেল। এছাড়া নামে মাত্র বুষ্টিংয়ের কাজ করে ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৩৭ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই দুর্নীতিবাজ রোমেল। রোমেলের অপকর্মের তথ্য চেয়ে সম্প্রতি তরিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চেয়ে আবেদন করেছেন। সম্প্রতি সিটি করপোরেশনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে সেই আন্দোলনের অন্যতম দাবী ছিল দুর্নীতিবাজ ও সরকারি টাকা আত্মসাৎকারী আহসান উদ্দিন রোমেলকে চাকুরী থেকে বরখাস্তসহ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করার।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।