Brand logo light

ব্রিজ প্রকল্প

রাজাপুর এলজিইডি প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার
রাজাপুরে এলজিইডি প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের অনিয়ম: তদন্তে বেরিয়ে আসছে দুর্নীতির চিত্র

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা এলজিইডি)-এর এক উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় রাস্তা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি এবং বিল উত্তোলনে অনিয়মের অভিযোগে আলোচনায় রয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ঠিকাদার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ—সরকারি অর্থে পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের কারণে সরকারের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে এবং কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।   ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ  । তার বিরুদ্ধে ওঠা প্রধান অভিযোগগুলো নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো: ১. ঘুষ ও বিল বাণিজ্য ঘুষের হার: অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি টাকা ছাড়া কোনো ফাইলে স্বাক্ষর করেন না। ঠিকাদারদের কাছ থেকে ওয়ার্ক অর্ডারে ৩-৫%, বিল পাসে ৫-৭% এবং জামানত ফেরত দিতে ৩-১৫% পর্যন্ত কমিশন বা ঘুষ দাবি করেন বলে সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে । বকেয়া বিল: টাকা না দেওয়ায় অনেক ঠিকাদারের বিল আটকে রাখা এবং জামানতের টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে [১.১.১]। ২. উন্নয়ন কাজে স্থবিরতা ও ভোগান্তি অর্ধসমাপ্ত প্রকল্প: উপজেলায় এলজিইডির অধীনে বাস্তবায়নাধীন একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প (যেমন- রাস্তা ও সেতু) দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে [১.৩.১]। কাজ শুরু করে মাঝপথে ফেলে রাখা বা ড্রেন ও অ্যাপ্রোচ রোড তৈরি না করার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনিয়ম: নিম্নমানের কাজকে স্বীকৃতি দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করার পেছনে তার গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে । ৩. প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অভিযোগ কর্মস্থলে অনুপস্থিতি: তিনি নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকেন না এবং দিনের অধিকাংশ সময় ঝালকাঠি জেলা শহরে কাটান বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায়ই দুপুর ১২টার আগে তাকে অফিসে পাওয়া যায় না । রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা: স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি এখনো বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের নেতাদের পরামর্শে কাজ পরিচালনা করছেন। সম্প্রতি একটি খাল খনন কমিটি গঠনে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রাধান্য দেওয়ায় এলাকায় অসন্তোষ তৈরি হয়েছে । এই সব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি স্থানীয় বাসিন্দারা তার বিরুদ্ধে মানববন্ধনও করেছেন বলে জানা গেছে ।   রাজাপুর উপজেলার এলজিইডি প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরও কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য নিচে দেওয়া হলো: ১. দুদকের গণশুনানিতে অভিযোগ ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক গণশুনানিতে আব্দুল হাকিম নামে এক ব্যক্তি অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগের মূল বিষয় ছিল উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে দীর্ঘসূত্রতা ও বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার না হওয়া । ২. ৪ কোটি টাকার ঝুলে থাকা প্রকল্প ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজাপুর মডেল মসজিদ থেকে মঠবাড়ীয়া ইউপি অফিস হয়ে নাপিতের হাট পর্যন্ত ৩১ মিটারের দুটি আরসিসি গার্ডার ব্রিজের জন্য ৪ কোটি ২৬ লাখ ১৪ হাজার ১৬৪ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় । গণশুনানিতে দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী: বরাদ্দ দেওয়ার দেড় বছর পার হলেও প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়নি । এলাকার আরও একাধিক উন্নয়ন কাজ এভাবে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে । ৩. অনিয়ম ও হয়রানির মাত্রা প্রকাশিত সংবাদ ও স্থানীয় অভিযোগ থেকে প্রাপ্ত আরও কিছু তথ্য: হয়রানি: ঠিকাদারদের অভিযোগ, বিল বা জামানতের টাকার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং কমিশন না দিলে নানা অজুহাতে ফাইলে ত্রুটি ধরা হয় । আচরণগত সমস্যা: অনেক সময় সেবাগ্রহীতা বা ঠিকাদারদের সঙ্গে তিনি খারাপ আচরণ করেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে তাকে পাওয়া যায় না বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন । উল্লেখ্য যে, সারাদেশে এলজিইডির বিভিন্ন দপ্তরে দুদকের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে রাজাপুর এলজিইডি অফিসের কার্যক্রমও নজরদারিতে রয়েছে ।   রাজাপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী তার অফিস করার চিত্রটি নিম্নরূপ: দেরিতে উপস্থিতি: অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি অধিকাংশ দিন বেলা ১২টার আগে অফিসে উপস্থিত হন না । কর্মস্থলে রাত্রিযাপন না করা: সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কর্মস্থলে থাকার কথা থাকলেও, তিনি নিয়মিত সেখানে থাকেন না। দিনের বেশিরভাগ সময় তিনি ঝালকাঠি জেলা শহরে কাটান বলে জানা গেছে । জনসাধারণের ভোগান্তি: তিনি নিয়মিত অফিসে না থাকায় এবং সময়মতো তাকে না পাওয়ায় সাধারণ মানুষ ও ঠিকাদারদের বিভিন্ন জরুরি কাজের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং তারা হয়রানির শিকার হন । অফিস চলাকালীন অনুপস্থিতি: স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, অনেক সময় জরুরি প্রয়োজনে তাকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেন না অথবা অফিস ছুটির আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করেন ।এই অনিয়মিত উপস্থিতির প্রতিবাদে এবং তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্থানীয়রা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করেছেন ।   রাজাপুর উপজেলার এলজিইডি প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ থাকলেও, এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা (যেমন বরখাস্ত বা স্থায়ী অপসারণ) নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে তার বিরুদ্ধে কিছু প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে: দুদকের তদন্ত: ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক গণশুনানিতে তার বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ উত্থাপন করা হয় । দুদক বর্তমানে এসব অভিযোগ তদন্ত করছে। তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন যে, গণশুনানিতে তাকে ডাকা হয়েছিল। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারি: এলজিইডির সদর দপ্তর এবং বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় থেকে তার বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ ও বিল বাণিজ্যের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে শোকজ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার মতো প্রাথমিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায় । বদলির সম্ভাবনা: তার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ এবং মানববন্ধন হওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রশাসনিকভাবে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ বা বদলি করার একটি গুঞ্জন বা প্রক্রিয়া জেলা পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে, যদিও এখনো কোনো চূড়ান্ত অফিস আদেশ প্রকাশিত হয়নি । বর্তমানে তিনি তার দায়িত্ব পালন করছেন, তবে ৪ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের উন্নয়ন প্রকল্পে স্থবিরতা এবং ঘুষের অভিযোগের কারণে তিনি চাপের মুখে রয়েছেন । মানববন্ধনের সংবাদ: গত বছর রাজাপুর উপজেলা সদরে স্থানীয় ঠিকাদার ও সাধারণ মানুষ তার অপসারণ এবং দুর্নীতির বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেন। এই সংবাদটি বেশ কিছু অনলাইন পোর্টালে গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হয়েছিল। ভিডিও প্রতিবেদন: স্থানীয় সংবাদকর্মীরা মানববন্ধনের সময় তার বিরুদ্ধে ওঠা নির্দিষ্ট অভিযোগগুলো (যেমন- ৫% থেকে ১৫% কমিশন বাণিজ্য) নিয়ে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছিলেন ।   অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি বহাল তবিয়তে থাকার পেছনে বেশ কিছু প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকার কথা স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও জনগণের আলোচনায় উঠে এসেছে: ১. বিগত সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব: স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী নেতা এবং সাবেক সংসদ সদস্যের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ আছে যে, তিনি এখনো সেই রাজনৈতিক বলয়ের পরামর্শ এবং আশীর্বাদ নিয়ে কাজ করছেন । ২. ঊর্ধ্বতন মহলের যোগসাজশ: ঠিকাদারদের দাবি, তিনি যে ঘুষ ও কমিশনের টাকা আদায় করেন, তার একটি বড় অংশ এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এই "কমিশন চেইন" বা সিন্ডিকেটের কারণেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করা হয় বলে মনে করা হয় । ৩. প্রশাসনিক আমলাতন্ত্র: তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিয়ে তদন্ত শুরু হলেও আইনি জটিলতা বা আমলাতান্ত্রিক ধীরগতির সুযোগ নিয়ে তিনি পার পেয়ে যাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ লোপাট করার মতো প্রশাসনিক শক্তিও তিনি ব্যবহার করেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। ৪. ঠিকাদার সিন্ডিকেট: উপজেলার কিছু প্রভাবশালী ঠিকাদারের সাথে তার ব্যবসায়িক গোপন আঁতাত রয়েছে। এই সিন্ডিকেটটি নিজেদের স্বার্থেই তাকে ওই পদে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করে। সারসংক্ষেপে, রাজনৈতিক মদত এবং দাপ্তরিক দুর্নীতির সিন্ডিকেটই তার প্রধান শক্তির উৎস বা "জোড়" হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করা হয়।   রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযোগের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আপডেট তথ্য নিচে দেওয়া হলো: ১. দুদকের গণশুনানি ও প্রাথমিক পদক্ষেপ (অক্টোবর ২০২৫) ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত দুদকের ১৮৬তম গণশুনানিতে অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয় । অভিযোগের ধরণ: ৪ কোটি টাকার বেশি মূল্যের ব্রিজের কাজ দেড় বছরেও শুরু না করা, রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৫% থেকে ১৫% পর্যন্ত কমিশন দাবির বিষয়গুলো শুনানিতে উঠে আসে । তাৎক্ষণিক নির্দেশনা: শুনানিতে উপস্থিত দুদকের কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবর আজিজী অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেন । ২. এলজিইডিতে দুদকের বিশেষ অভিযান (এপ্রিল ২০২৫) এর আগে ২০২৫ সালে অভিযান চালায় দুদক এই অভিযানের অংশ হিসেবে রাজাপুর এলজিইডি অফিসের বিভিন্ন প্রকল্পের নথিপত্র এবং ব্যয়ের হিসাব যাচাই করা হয়। সড়ক ও ব্রিজ নির্মাণে অনিয়ম খতিয়ে দেখতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে যা বর্তমানে দুদকের কেন্দ্রীয় ল্যাবে বিশ্লেষণাধীন রয়েছে । ৩. বর্তমান অবস্থা (মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত) বর্তমানে অভিযোগগুলো অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী: স্থবিরতা: ২০২৬ সালের মার্চের শুরুতে দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের পদত্যাগের ফলে কমিশনের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কিছুটা প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে, যার ফলে বড় ধরনের আইনি সিদ্ধান্ত গ্রহণে কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে । তদন্ত কার্যক্রম: তবে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় (পিরোজপুর) থেকে নিয়মিত রুটিন তদন্ত ও তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে । ব্যক্তিগত জবাবদিহি: দুদক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, গণশুনানিতে উপস্থাপিত অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে অভিজিৎ মজুমদারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র তলব করা হয়েছে । দুদকের বর্তমান প্রশাসনিক পরিস্থিতির কারণে আনুষ্ঠানিক মামলার  জন্য আরও কিছু সময় লাগতে পারে। রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে অভিজিৎ মজুমদারের যোগদানের সুনির্দিষ্ট তারিখ দাপ্তরিক নথিতে সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও, বিভিন্ন সংবাদ এবং প্রকল্পের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় তিনি প্রায় ৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে (২০২২ সাল থেকে বর্তমান ২০২৬ পর্যন্ত) রাজাপুরে কর্মরত আছেন। তার কর্মকাল নিয়ে প্রাপ্ত কিছু প্রাসঙ্গিক তথ্য নিচে দেওয়া হলো: ২০২২ সাল থেকে অবস্থান: ঝালকাঠি জেলা এলজিইডির বিভিন্ন দাপ্তরিক সভায় ২০২২-২৩ অর্থবছরের শুরু থেকেই তার উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রকল্প: তার সময়েই ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বড় বড় প্রকল্পগুলো (যেমন- ৪ কোটি টাকার আরসিসি ব্রিজ) অনুমোদিত ও বাস্তবায়নাধীন রয়েছে । বর্তমান সময়: তিনি এখনো (মার্চ ২০২৬) রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন । সাধারণত উপজেলা পর্যায়ে একজন প্রকৌশলীর মেয়াদকাল ৩ বছর হয়ে থাকে, যা তিনি ইতিপূর্বেই পূর্ণ করেছেন। তার এই দীর্ঘ অবস্থানের কারণেই স্থানীয় ঠিকাদার ও জনগণের মধ্যে তার "প্রভাব" নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে যে প্রকল্পগুলোতে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও গুরুতর হলো বিআরবি (BRB) প্রকল্পের আওতাধীন উন্নয়ন কাজসমূহ। নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো: ১. আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প (সবচেয়ে আলোচিত) প্রকল্পের স্থান: রাজাপুর মডেল মসজিদ থেকে মঠবাড়ীয়া ইউপি অফিস হয়ে নাপিতের হাট পর্যন্ত ৩১ মিটারের দুটি আরসিসি গার্ডার ব্রিজ। বরাদ্দের পরিমাণ: ৪ কোটি ২৬ লাখ ১৪ হাজার ১৬৪ টাকা । অভিযোগ: ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এই প্রকল্পটি অনুমোদনের দেড় বছরের বেশি সময় পার হলেও কাজের কোনো অগ্রগতি হয়নি। দুদকের গণশুনানিতে সরাসরি অভিযোগ করা হয়েছে যে, এই প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ ও বাস্তবায়নে চরম গাফিলতি এবং যোগসাজশ রয়েছে । ২. রাস্তা ও কালভার্ট সংস্কার কাজ অভিযোগ: উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ রাস্তা এবং ছোট কালভার্ট মেরামতের কাজে নিম্নমানের খোয়া, পাথর এবং বালু ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিনিময়ে তিনি কমিশন নিয়েছেন [১.৫.১]। নির্দিষ্ট এলাকা: উপজেলার মঠবাড়ীয়া এবং বড়ইয়া ইউনিয়নের বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ রাস্তা সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ স্থানীয়রা তুলেছেন । ৩. খাল খনন ও ড্রেনেজ প্রকল্প অভিযোগ: সম্প্রতি রাজাপুরে একটি খাল খনন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার প্রকল্পের কমিটি গঠনে এবং কার্যাদেশে তিনি ব্যাপক অনিয়ম করেছেন। অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি অর্থের বিনিময়ে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সিন্ডিকেটকে কাজ পাইয়ে দিতে সহায়তা করেছেন, যার ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ তৈরি হয় এবং মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় । ৪. জামানত ও বিল অবমুক্তি প্রক্রিয়াগত দুর্নীতি: কোনো সুনির্দিষ্ট একটি প্রকল্প নয়, বরং উপজেলার প্রায় প্রতিটি শেষ হওয়া প্রকল্পের ঠিকাদারদের জামানত (Security Deposit) ফেরত দেওয়ার সময় তিনি ৩% থেকে ১৫% পর্যন্ত ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। টাকা না দিলে বিল আটকে রাখা বা নথিতে ত্রুটি দেখানোর অভিযোগও সুনির্দিষ্টভাবে সংবাদে এসেছে । বর্তমানে দুদক এই ৪ কোটি টাকার ব্রিজ প্রকল্প এবং অন্যান্য ছোট প্রকল্পের নথিপত্র তলব করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে ।   রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে আলোচিত প্রকল্পগুলোর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম এবং তদন্তের বর্তমান পর্যায় সম্পর্কে আপডেট তথ্য নিচে দেওয়া হলো: ১. ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে ওঠা ৪ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের ব্রিজ প্রকল্পসহ (মডেল মসজিদ থেকে নাপিতের হাট পর্যন্ত) অন্যান্য কাজে বেশ কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম আলোচনায় এসেছে: চয়ন অ্যাসোসিয়েটস: এই প্রতিষ্ঠানের মালিক আহলান সুমন তালুকদার-এর বিরুদ্ধে জাল কাগজপত্র জমা দিয়ে দরপত্রে অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যদিও এটি সরাসরি রাজাপুরের এই নির্দিষ্ট ব্রিজের কাজ কিনা তা নিয়ে তদন্ত চলছে, তবে এলজিইডির বিভিন্ন বড় প্রকল্পে এই প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে । স্থানীয় সিন্ডিকেট: সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজাপুরের অনেক কাজ স্থানীয় একটি ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে, যাদের সাথে প্রকৌশলীর বিশেষ সখ্যতা রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু না করে অর্থ লোপাট বা বিল তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে । ২. তদন্তের বর্তমান পর্যায় (মার্চ ২০২৬ আপডেট) প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে তদন্ত বর্তমানে কয়েকটি স্তরে চলমান: দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান: ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত গণশুনানির পর দুদক তার বিরুদ্ধে একটি বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত (Special Inquiry) শুরু করেছে । নথিপত্র যাচাই: দুদকের পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে রাজাপুর এলজিইডি অফিসের নথিপত্র এবং ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ৪ কোটি টাকার গার্ডার ব্রিজ প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং কাজ শুরু না হওয়ার কারণগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা: ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে এলজিইডির নতুন প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগের পর, সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ তদন্ত সেলকেও (Vigilance Cell) রাজাপুরের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সাথে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । বর্তমান অবস্থা: ২০২৬ সালের মার্চ মাসের তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন (Under Investigation) পর্যায়ে আছে। দুদক সূত্র জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ এবং আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড সংগ্রহের কাজ চলছে, যা শেষ হলে চার্জশিট বা মামলা দায়েরের পরবর্তী ধাপ শুরু হবে । প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে গৃহীত আইনি ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের বর্তমান অবস্থা নিম্নরূপ: ১. দুদকের আইনি প্রক্রিয়া অনুসন্ধান শুরু: ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত দুদকের গণশুনানির পর তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান (Inquiry) শুরু হয়েছে । জিজ্ঞাসাবাদ: দুদক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে নথিপত্রসহ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে । বর্তমানে তার অর্জিত অবৈধ সম্পদের কোনো উৎস আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ২. বিভাগীয় তদন্ত ও শোকজ প্রাথমিক প্রতিবেদন: এলজিইডির বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় থেকে তার বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষের অভিযোগ ও কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়ে একটি প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে । শোকজ (Show Cause): নির্ভরযোগ্য সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের কাজ শুরু না করা এবং আর্থিক অনিয়মের ব্যাখ্যা চেয়ে তাকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করা হয়েছে। ৩. প্রশাসনিক অবস্থা ওএসডি বা বদলির প্রস্তাব: তার বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে মানববন্ধন ও তীব্র গণঅসন্তোষের কারণে তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটি প্রশাসনিক সুপারিশ জেলা পর্যায় থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে । তবে ২০২৬ সালের মার্চের শুরু পর্যন্ত তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ওই পদেই বহাল আছেন বলে জানা গেছে।   টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট একটি সিন্ডিকেট সক্রিয়। তাদের দাবি, কিছু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই কাজ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়। একজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন— “টেন্ডার জমা দিলেও অনেক সময় কাজ পাওয়ার সুযোগ থাকে না। আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে কে কাজ পাবে।” ঘুষ ও বিল বাণিজ্যের অভিযোগ স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার টাকা ছাড়া কোনো ফাইলে স্বাক্ষর করেন না। অভিযোগ অনুযায়ী কমিশনের হার: ওয়ার্ক অর্ডারে ৩% থেকে ৫% বিল পাসে ৫% থেকে ৭% জামানত ফেরতের ক্ষেত্রে ৩% থেকে ১৫% ঠিকাদারদের অভিযোগ, এসব কমিশন না দিলে বিভিন্ন অজুহাতে বিল আটকে রাখা হয় বা নথিতে ত্রুটি দেখানো হয়। একাধিক ঠিকাদার জানিয়েছেন, অনেক প্রকল্পের বিল মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়েছে।   অফিসে অনিয়মিত উপস্থিতি অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে অফিসে অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি: তিনি অনেক দিন বেলা ১২টার আগে অফিসে আসেন না অনেক সময় অফিস শেষ হওয়ার আগেই চলে যান জরুরি প্রয়োজনে ফোন করলে অনেক সময় রিসিভ করেন না অভিযোগ রয়েছে যে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কর্মস্থলে থাকার কথা থাকলেও তিনি বেশিরভাগ সময় ঝালকাঠি জেলা শহরে অবস্থান করেন।   ঠিকাদারদের হয়রানির অভিযোগ ঠিকাদারদের অভিযোগ অনুযায়ী, বিল বা জামানতের টাকা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। কমিশন না দিলে: বিল আটকে রাখা নথিতে ত্রুটি দেখানো অতিরিক্ত যাচাইয়ের নামে বিলম্ব করা এসব কারণে অনেক ঠিকাদার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন।   মানববন্ধন ও প্রতিবাদ অভিজিৎ মজুমদারের অপসারণের দাবিতে রাজাপুর উপজেলা সদরে স্থানীয় ঠিকাদার ও সাধারণ মানুষ মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন: উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম বন্ধ করতে হবে প্রকৌশলীকে দ্রুত অপসারণ করতে হবে দুর্নীতির তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে এই কর্মসূচির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।   দুদকের তদন্তের বর্তমান অবস্থা ২০২৫ সালে এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম তদন্তে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন। এর অংশ হিসেবে: রাজাপুর এলজিইডি অফিসের নথিপত্র সংগ্রহ করা হয় প্রকল্পের ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বর্তমানে অভিযোগগুলো অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে। বিভাগীয় তদন্ত এদিকে এলজিইডির বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় থেকেও একটি প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে: প্রকল্প বাস্তবায়নে গড়িমসি কর্মস্থলে অনুপস্থিতি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এর ভিত্তিতে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বদলির আলোচনা স্থানীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ এবং মানববন্ধনের পর প্রশাসনিকভাবে তাকে অন্যত্র বদলি করার প্রস্তাব জেলা পর্যায় থেকে পাঠানো হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত তিনি রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। সব প্রকল্প সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তদন্তে প্রকৃত সত্য বের হয়ে আসবে।”   সামনে কী হতে পারে দুদক সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগগুলোর আর্থিক লেনদেন ও প্রকল্পের নথিপত্র বিশ্লেষণ শেষ হলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে: মামলা দায়ের বিভাগীয় ব্যবস্থা সম্পদের হিসাব যাচাই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতামত স্থানীয় সরকার খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে উন্নয়নের প্রকৃত লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন। তাদের মতে, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে স্বাধীন তদন্ত জরুরি। বর্তমান পরিস্থিতি: বর্তমানে তিনি দুদকের নজরদারিতে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াটি আমলাতান্ত্রিক স্তরে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিশেষ করে ৪ কোটি টাকার ব্রিজ প্রকল্পের গড়িমসির বিষয়ে তিনি কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারায় বড় শাস্তির সম্ভাবনা রয়েছে ।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১০, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

বরিশাল সিটিতে বিএনপির মেয়র মনোনয়ন ঘিরে হিসাব–নিকাশ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও  বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও  বি এম কলেজ এর  সাবেক জি এস  এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা।  নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।  

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

অর্থনীতি

Etihad Airways

Etihad Airways Joins Forces With McLaren Racing to Revolutionise Global Travel and Motorsport – Here’s How It Will Impact F1 and Beyond!

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0




অপরাধ

নরসিংদীতে দুপক্ষের সংঘর্ষ

দুপক্ষের সংঘর্ষ নরসিংদীতে , গুলিতে স্কুল শিক্ষার্থী নিহত

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ও অম্লতা বেড়ে চলেছে।

১৫টি ‘জলবায়ু ঝুঁকি’তে আছে বাংলাদেশ

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0