ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানী ঢাকার কাকরাইলে এক অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আদালতের রায় কার্যকর করতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা উচিত। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের সরকারের কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আগামী ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কী বলেছেন নাহিদ ইসলাম? শুক্রবার (১০ জুলাই) আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। সেখানে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আদালতের রায় ইতোমধ্যে হয়েছে এবং এখন সেটি কার্যকর করার পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তার ভাষায়, শেখ হাসিনাকে "যথাযথ কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর" করা উচিত এবং এ জন্য সরকারের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া দরকার। রয়টার্সের সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গ অনুষ্ঠানে বক্তব্যের সময় নাহিদ ইসলাম রয়টার্সে প্রকাশিত শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গও টানেন। তার দাবি, সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর মাসে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা বলেছেন। এই প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনিও চান শেখ হাসিনা দেশে ফিরুন, তবে তার বিরুদ্ধে আদালতের রায় কার্যকর করার উদ্দেশ্যে। 'সিদ্ধান্ত দিল্লির ওপর নির্ভর করবে' শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, এটি কেবল শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়। তার দাবি, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা, বিচার প্রক্রিয়া কিংবা রায় বাস্তবায়নের মতো বিষয়গুলো মূলত ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর নির্ভর করবে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগকে তিনি বর্তমানে কার্যকর রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখেন না। সরকারের ভূমিকায় কী বললেন? সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা কীভাবে দেশে ফিরবেন, তিনি আত্মসমর্পণ করবেন কি না কিংবা তাকে কীভাবে দেশে আনা হবে—এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। তার মতে, বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করবে এবং সরকারের পক্ষ থেকেই পুরো প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হবে। 'যেকোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত' নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীরা রাজনৈতিকভাবে যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতি রক্ষার প্রশ্নে তারা সক্রিয় থাকবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার কোনো প্রচেষ্টা হলে এবং সরকার সেটিকে প্রশ্রয় দিলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে সরকারই। আওয়ামী লীগের বিচার নিয়েও মন্তব্য নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার আওয়ামী লীগকে দলগতভাবে বিচারের আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, সেটিই "সঠিক পথ" হবে। যে অনুষ্ঠানে বক্তব্য আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ন্যাশনাল এসএমই ফাউন্ডেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়িক খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন এবং বক্তব্য রাখেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)-এর তিনটি ব্যাংক হিসাবে থাকা প্রায় ৪৪০ কোটি রুপি জব্দ হওয়ার ঘটনায় দলটির অভ্যন্তরীণ সংকট নতুন মাত্রা পেয়েছে। অর্থের উৎস নিয়ে তদন্তের দাবি, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এবং আর্থিক নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধ এখন প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নিয়েছে। পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, একটি বেসরকারি ব্যাংকে রক্ষিত তৃণমূলের তিনটি হিসাবের ওপর ‘ডেবিট ফ্রিজ’ আরোপ করা হয়েছে। ফলে এসব হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন বা অন্যত্র স্থানান্তর করা যাবে না। তবে নতুন অর্থ জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকছে না। এই হিসাবগুলোতে মোট প্রায় ৪৪০ কোটি রুপি বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৭১ কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ রয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে অর্থের উৎস ঘটনার সূত্রপাত হয় দলের বিদ্রোহী হিসেবে পরিচিত ১০ জন বিধায়কের অভিযোগের পর। তারা বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দাখিল করে হিসাবগুলোর আর্থিক লেনদেন এবং অর্থের উৎস নিয়ে তদন্তের দাবি জানান। অভিযোগে প্রশ্ন তোলা হয়েছে—হিসাবগুলোতে জমা হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ বৈধ উৎস থেকে এসেছে, নাকি অবৈধ আর্থিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংগৃহীত হয়েছে। অভিযোগকারীরা সম্ভাব্য ঘুষ বা ‘কাটমানি’ আদায়, সরকারি অর্থের অপব্যবহার এবং বিভিন্ন আর্থিক কেলেঙ্কারি থেকে প্রাপ্ত অর্থ এসব হিসাবে জমা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য তথ্য ও পরিস্থিতিগত সূত্র থেকে এমন ধারণা পাওয়া গেছে যে প্রভাব খাটানো, অসাধু আর্থিক লেনদেন এবং সন্দেহজনক অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে অর্জিত কিছু অর্থ এসব হিসাবে স্থানান্তর করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি এবং তদন্তও এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। নির্বাচনী পরাজয়ের পর ক্ষমতার লড়াই সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর দলটির সাংগঠনিক ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন তীব্র হয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের নেতৃত্বাধীন একটি গোষ্ঠী এবং বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ আরেকটি গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংক হিসাব জব্দের ঘটনাটি কেবল আর্থিক তদন্তের বিষয় নয়; বরং দলীয় ক্ষমতার ভারসাম্য এবং আর্থিক নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে। অরূপ বিশ্বাসের চিঠি নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে বর্তমান বিতর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কয়েকদিন আগেই অরূপ বিশ্বাস সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছে চিঠি দিয়ে দলীয় হিসাবগুলো সুরক্ষিত রাখার এবং সব ধরনের লেনদেন স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। চিঠিতে তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের বিভিন্ন হিসাবে প্রায় ৫০০ কোটিরও বেশি টাকা রয়েছে। নেতৃত্বসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই অর্থ পরিচালনা না করার আহ্বানও জানান তিনি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, হিসাবগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দলের ভেতরে যে বিরোধ চলছে, তা কি এখন আইনগত ও ফৌজদারি তদন্তের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে? কোষাধ্যক্ষ নিয়ে বিরোধ তৃণমূলের জ্যেষ্ঠ নেতা কুণাল ঘোষ অরূপ বিশ্বাসের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তার দাবি, অরূপ বিশ্বাস বর্তমানে দলের কোষাধ্যক্ষ নন এবং দলীয় আর্থিক বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার এখতিয়ারও তার নেই। কুণাল ঘোষের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৫ জুন অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সুবাশিস চক্রবর্তীকে নতুন কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তিনিই দলীয় আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এই বক্তব্য তৃণমূলের অভ্যন্তরে নেতৃত্ব ও আর্থিক কর্তৃত্ব নিয়ে বিদ্যমান বিভাজনের বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। রাজনৈতিক ও আইনি প্রভাব কী হতে পারে? বিশ্লেষকদের মতে, তদন্তে যদি অর্থের উৎস নিয়ে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তা শুধু তৃণমূলের জন্য নয়, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্যও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, অভিযোগগুলো যদি দলীয় ক্ষমতার দ্বন্দ্বের অংশ হিসেবে প্রমাণিত হয়, তাহলে তা তৃণমূলের সাংগঠনিক স্থিতিশীলতা ও জনসমর্থনের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এখন নজর থাকবে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। কারণ, ৪৪০ কোটি রুপির এই হিসাবগুলোকে ঘিরে যে প্রশ্নগুলো উঠেছে, তার উত্তরই নির্ধারণ করতে পারে পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও আর্থিক অবস্থান।
ইউটিউবভিত্তিক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মানবজমিন সম্পাদক দাবি করেন, গণভবন ছাড়ার তাড়াহুড়োয় আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হয়নি পদত্যাগপত্র; সেটি শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ব্যাগেই থেকে যায়। ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছাড়ার প্রাক্কালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিন পৃষ্ঠার একটি পদত্যাগপত্র লিখেছিলেন এবং দেশ ছাড়ার সময় সেটি নিজের সঙ্গে নিয়ে যান—এমন দাবি করেছেন প্রবীণ সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরী। রোববার (৩১ মে) ইউটিউবভিত্তিক সংবাদ প্ল্যাটফর্ম ‘দ্য পোস্ট’-এ প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। তবে এই দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো সরকারি নথি বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বিষয়টি রাজনৈতিক ও সাংবিধানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমানে তা একটি প্রত্যক্ষদর্শী-ভিত্তিক দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। কী দাবি করা হয়েছে? মতিউর রহমান চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা দেশত্যাগের আগে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি তিন পৃষ্ঠার একটি বিস্তারিত পদত্যাগপত্র প্রস্তুত করেন। সেই চিঠিতে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, রাষ্ট্র পরিচালনায় নেওয়া পদক্ষেপ এবং উদ্ভূত রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, চিঠিটি আনুষ্ঠানিকভাবে টাইপ করার দায়িত্ব বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) এক কর্মকর্তার ওপর দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু গণভবনের বাইরে দ্রুত অবনতিশীল পরিস্থিতির কারণে সেটি আর চূড়ান্ত রূপ পায়নি। শেষ মুহূর্তে কী ঘটেছিল? সাক্ষাৎকারে তুলে ধরা বিবরণ অনুযায়ী, ৫ আগস্ট দুপুরের দিকে গণভবনের চারপাশে বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারী অবস্থান নিতে শুরু করলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। সে সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনা কর্মকর্তারা ওয়াকিটকির মাধ্যমে বারবার সতর্কবার্তা পাঠাচ্ছিলেন বলে দাবি করেন মতিউর রহমান চৌধুরী। তার ভাষ্যমতে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা শেখ হাসিনাকে দ্রুত গণভবন ত্যাগের পরামর্শ দেন এবং জানান যে সেখানে অবস্থানের জন্য আর সময় নেই। এই তাড়াহুড়োর মধ্যেই শেখ হাসিনা তাঁর ব্যক্তিগত ভ্যানিটি ব্যাগ একটি চেয়ারের ওপর ফেলে বেরিয়ে যান বলে তিনি দাবি করেন। পরে গাড়িতে ওঠার আগে ব্যাগটির কথা মনে পড়লে একজন ব্রিগেডিয়ার পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে সেটি এনে দেওয়ার নির্দেশ দেন। মতিউর রহমান চৌধুরীর দাবি, ওই ব্যাগের ভেতরেই সংরক্ষিত ছিল তিন পৃষ্ঠার সেই পদত্যাগপত্র। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই দাবি? বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে শেখ হাসিনার ক্ষমতা ত্যাগের প্রক্রিয়া অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত বিষয়। বিশেষ করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছিলেন কি না, করলে কখন এবং কীভাবে করেছিলেন—এ প্রশ্ন নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। যদি এমন কোনো পদত্যাগপত্র বাস্তবেই থেকে থাকে, তবে সেটি ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, সাংবিধানিক বিতর্ক এবং ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো নথির অস্তিত্ব নিশ্চিত করেনি। যা জানা জরুরি এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য মূলত মতিউর রহমান চৌধুরীর সাক্ষাৎকারে দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। দাবিগুলোর স্বাধীন ও প্রামাণ্য যাচাই এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য কিংবা আনুষ্ঠানিক তদন্তের তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন।
অন্তর্বর্তী সরকারের অন্তত তিনজন প্রভাবশালী উপদেষ্টা নির্বাচন বিলম্বিত করার এক নানামুখী কৌশলে লিপ্ত ছিলেন—এমন অভিযোগ এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক ভাবনা থাকলেও পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস। দ্রুত নির্বাচন থেকে সরে আসা: চাপ নাকি কৌশল? সূত্র বলছে, দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতে অধ্যাপক ইউনূস স্বল্প সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের কথা বিবেচনা করছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে একগুচ্ছ সংস্কার প্রস্তাব জাতির সামনে উপস্থাপন করা হয়, যা বাস্তবায়নের জন্য সময় প্রয়োজন—এই যুক্তি সামনে আনা হয়। সমালোচকদের মতে, এসব সংস্কারের আড়ালে ক্ষমতার মেয়াদ দীর্ঘায়নের একটি সুপরিকল্পিত কৌশল ছিল। তিন উপদেষ্টার যুক্তি ছিল—আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক, প্রশাসন অস্থিতিশীল, দ্রুত নির্বাচন দিলে অনাকাঙ্ক্ষিত শক্তির উত্থান ঘটতে পারে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই যুক্তির পেছনে ছিল বিশেষ উদ্দেশ্য: সময়ক্ষেপণ করে নিজেদের পছন্দের শক্তির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ সুগম করা। ‘মব সন্ত্রাস’ কৌশলের হাতিয়ার? একাধিক ঘটনার বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রশাসনিক অস্থিরতা ও মব সন্ত্রাস পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছিল। অভিযোগ রয়েছে, এসব অস্থিরতা ইচ্ছাকৃতভাবে উসকে দেওয়া হয়েছিল রাজনৈতিক পরিবেশ অনিশ্চিত রাখতে। বিশেষ করে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে অগ্নিসংযোগের ঘটনার দিন প্রশাসনের রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে অস্বাভাবিক বিলম্ব করে। কে বা কারা সেই নির্দেশ দিয়েছিল—তা এখনো অজানা। অধ্যাপক ইউনূস পরে এক সিনিয়র সাংবাদিককে জানান, ঘটনার সময় তিনি অবগত ছিলেন না। এতে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে। আঞ্চলিক শক্তির চাপ ও ‘লন্ডন বৈঠক’ রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, একটি প্রভাবশালী আঞ্চলিক শক্তি দ্রুত নির্বাচন চেয়েছিল। তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল নেতৃত্বে পরিবর্তন নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক চাপ ও নিজস্ব রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনমুখী হতে বাধ্য হন অধ্যাপক ইউনূস। লন্ডন বৈঠক ছিল সেই প্রক্রিয়ার অংশ। তবে নির্বাচনবিরোধী উপদেষ্টারা বৈঠকের আগেই নানা অপপ্রচার চালান। তারা বিদেশি কূটনীতিকদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, নির্বাচন হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। প্রশাসন কবজায় নেওয়ার চেষ্টা সন্ধ্যাকালীন গোপন বৈঠক, অনানুষ্ঠানিক শক্তির প্রভাব এবং প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা—সব মিলিয়ে এক সময় পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, অধ্যাপক ইউনূস কার্যত সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, কিছু উপদেষ্টা বিদেশ সফরেও কূটকৌশলে যুক্ত ছিলেন। একজন উপদেষ্টা দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশে সফরকালে সাময়িকভাবে ‘নিখোঁজ’ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও আলোচনায় আসে। ফরমায়েশি জনমত জরিপ? আরেকটি অভিযোগ—জনমত জরিপকে ব্যবহার করা হয়েছে মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে। টেবিলে বসে তৈরি করা জরিপ বিদেশি দূতাবাসে প্রচার করা হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের। সেখানে বলা হয়েছে, দ্রুত নির্বাচন হলে অপ্রত্যাশিত শক্তির উত্থান ঘটবে। পরিকল্পনা ‘প্ল্যান ২’ কী ছিল? নির্বাচনের দিন পর্যন্ত কিছু উপদেষ্টার তৎপরতা ছিল নির্দিষ্ট কিছু আসনকেন্দ্রিক। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে বুঝতে পেরে তারা ‘প্ল্যান ২’ বাস্তবায়ন থেকে সরে আসেন বলে জানা যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, পরিকল্পনাটি ছিল— নির্বাচন ভণ্ডুলের পরিস্থিতি সৃষ্টি করা, অথবা প্রশাসনিক অস্থিতিশীলতার অজুহাতে জরুরি অবস্থা সদৃশ কাঠামো জোরদার করা, অথবা নেতৃত্বে পরিবর্তনের পথ সুগম করা। তবে জনচাপ, আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং সেনাবাহিনীর সতর্ক অবস্থানের কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার এই ঘটনাপ্রবাহ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—ক্ষমতা কি সত্যিই নিরপেক্ষ হাতে ছিল, নাকি আড়ালে চলছিল একাধিক শক্তির সমান্তরাল খেলা? নির্বাচন ঘিরে বিতর্ক, প্রশাসনিক ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক তৎপরতা—সব মিলিয়ে বিষয়টি ভবিষ্যৎ গবেষণা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।