Brand logo light
বাংলাদেশ

যুবকদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানালেন এআরএবি সভাপতি ড. মির শাহ আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
এআরএবি সভাপতি ড. মির শাহ আলম
এআরএবি সভাপতি ড. মির শাহ আলম

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : অ্যামেচার রেডিও অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (এআরএবি)’র আয়োজনে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অডিটোরিয়ামে শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে ‘বিয়ন্ড দ্য হরাইজন : গ্রাউন্ড টু অরবিট’শীর্ষক থিমে আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

সেমিনারের মূল উদ্দেশ্য ছিল যুবকদেরকে দুর্যোগকালীন যোগাযোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ত করা। সেমিনারে আমন্ত্রিত বক্তারা যুব সমাজকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে।  

এআরএবি’র আয়োজনে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. আবদুল হান্নান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. রফিকুর রহমান (প্রাক্তন ফায়ার সার্ভিস ডিরেক্টর জেনারেল), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আমিনুল হক (ডিজি, বিটিআরসি), মেজর জলিল (সদস্য, এআরএবি), লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম. এ. আজাদ আনোয়ার (ডিরেক্টর, ফায়ার সার্ভিস) এবং অন্যান্য অভিজ্ঞ কর্মকর্তা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর নাজমা শামস, প্রফেসর খন্দকার নাসির উদ্দিন (প্রাক্তন ভিসি, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), ড. এম. এ. মান্নান (ইডি, এসএবি)।

সেমিনারের মূল বক্তাদের মধ্যে ছিলেন ফিলিপ স্প্রিংগার (DK6SP), স্বেন লোভরিচ (DJ4MX), লিয়ন হেলমিচ (DL3ON) এবং জেমি উইলিয়ামস (M0SDV)। অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করেন এআরএবি সভাপতি ড. মির শাহ আলম (S21MIR)  এবং প্রোগ্রামের সমন্বয় করেছেন অনুপ কুমার ভৌমিক (S21TV) ও আয়োজনের আহ্বায়ক জামিল আহমেদ। 

বিটিআরসি অনুমোদিত হ্যাম অপারেটরদের মাধ্যমে আয়োজিত এ ধরনের কার্যক্রম দুর্যোগের সময় কার্যকর যোগাযোগ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আগুন, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধস, ভূমিকম্প এবং ভবন ধ্বংসের সময় এই সদস্যরা উদ্ধারকর্মীদের সহায়তা করে এবং স্বাধীন যোগাযোগ ব্যবস্থা বজায় রাখে। 

সেমিনারের আগে এআরএবি সদস্যরা বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় ১৫ দিনের মাঠ সমীক্ষা পরিচালনা করেছিলেন যাতে দ্রুত যোগাযোগের কৌশলগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করা যায়। 

সমীক্ষার ফলাফলের আলোকে সেমিনারে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০০ এর বেশি যুব স্বেচ্ছাসেবককে জরুরি পরিস্থিতিতে কার্যকর যোগাযোগ রক্ষার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। অনুপ কুমার ভৌমিক এআরএবির সরকারের উদ্ধারকর্মীদের সহায়তা এবং জাতীয় স্বার্থে তাদের অবদান তুলে ধরেন। 

প্রধান অতিথি উপাচার্য প্রফেসর ড. আবদুল হান্নান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, যুবকদের অংশগ্রহণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা খাতকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাবে। সেমিনারটি সহ-পরিচালনা করেন সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী সাধারণ সম্পাদক রায়হান তুহিন, ডেপুটি ডিরেক্টর মি. সাদ, রুদ্রনীল অচঙঘ এবং ইসির সদস্য তাসলিমা আক্তার ও হায়াত আহমেদ। 

এ সময় এআরএবি সভাপতি ড. মির শাহ আলম (S21MIR) অংশগ্রহণকারীদের, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক বক্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে যুব সমাজকে বিজ্ঞানমুখী ক্যারিয়ার গ্রহণ এবং দেশের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার আহ্বান জানান।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ

View more
বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণ
চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগ: অভিযুক্তকে ঘিরে রাতভর রণক্ষেত্র, প্রশ্নে জনরোষ ও আইনশৃঙ্খলা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুরো এলাকা পরিণত হয় সংঘর্ষ, আগুন ও আতঙ্কের নগরীতে। একদিকে শিশুটির প্রতি নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে ক্ষুব্ধ জনতা, অন্যদিকে অভিযুক্তকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে পুলিশের মরিয়া প্রচেষ্টা—এই দুইয়ের সংঘাতে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, যানবাহন ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ। ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন পুলিশ সদস্য, পাঁচজন সাংবাদিক এবং আরও বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। রাতভর অচল হয়ে পড়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের একটি অংশ। অভিযোগ যেভাবে বিস্ফোরণে রূপ নেয় স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেলে শিশুটির মা পোশাক কারখানায় এবং বাবা রিকশা চালাতে বাইরে ছিলেন। সেই সুযোগে একই এলাকার ডেকোরেশন কর্মচারী মনির হোসেন শিশুটিকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা অভিযুক্তকে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে একটি ভবনে তার অবস্থানের খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ সেখানে জড়ো হয়। ভবনের গেটে তালা ঝুলিয়ে দিলে বিক্ষুব্ধ জনতা কয়েক দফা গেট ভাঙার চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। কিন্তু ততক্ষণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে শুরু করে। পুলিশের গাড়ি ঘিরে ছয় ঘণ্টার অবরোধ অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আটক করে থানায় নেওয়ার সময় পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে জনতা। বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি ছিল অভিযুক্তকে জনতার হাতে তুলে দেওয়া। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড এবং ফাঁকা গুলি ছুড়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। রাত ১০টার দিকে এলাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে পুলিশ কৌশল নেয়। অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে গোপনে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে বিষয়টি টের পেয়ে ক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরও করা হয়। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে মহাসড়কে অভিযুক্তকে থানায় নেওয়ার পরও উত্তেজনা থামেনি। পুলিশের পিছু নিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাকলিয়া এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে অবস্থান নেয়। রাত সাড়ে ১০টার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে আগুন দেয় এবং যানবাহনে হামলা চালায়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে এপিবিএন ও র‌্যাব সদস্যরা যোগ দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। রাত ১টার পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পুলিশ বলছে ‘দুষ্কৃতকারীদের’ বিরুদ্ধে মামলা হবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ জানিয়েছেন, সংঘর্ষে ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। কয়েকজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়েছে, সরকারি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর হয়েছে। এসব ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, ধর্ষণের অভিযোগে শুক্রবার শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আদালতে পাঠানো হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অভিযুক্ত মনির হোসেন কে? পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মনির হোসেনের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকায়। তিনি নগরীর বাকলিয়ার মিয়াখান নগরে ভাড়া থাকতেন এবং পেশায় ডেকোরেশন কর্মচারী। হাসপাতালে শিশুটিকে দেখতে রাজনৈতিক নেতারা শুক্রবার চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে গিয়ে শিশুটির খোঁজ নেন নগর জামায়াত নেতারা। চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, শিশুটি এখনো ভয় ও মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছে। তিনি এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই দাবিতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করে ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। প্রশাসনের সামনে বড় প্রশ্ন ঘটনার পর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা চমেক হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে বলেন, শুধু প্রতিবাদ করলেই হবে না, অপরাধ ঘটার আগেই সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, প্রশাসন এখন শুধু একটি ধর্ষণ মামলাই নয়, বরং জনরোষ, বিচারহীনতার আশঙ্কা এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা—সবকিছুর সম্মিলিত চাপের মুখে রয়েছে। এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—শিশু নির্যাতনের ঘটনায় জনতার ক্ষোভ কেন এত দ্রুত বিস্ফোরিত হচ্ছে? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনাস্থা কতটা গভীর হলে অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য হাজারো মানুষ রাস্তায় নামে? বাকলিয়ার রাতভর সহিংসতা শুধু একটি অপরাধের প্রতিক্রিয়া নয়; এটি বিচারপ্রক্রিয়া, সামাজিক নিরাপত্তা এবং জনআস্থার সংকটেরও এক নির্মম প্রতিচ্ছবি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৩, ২০২৬ 0
গলদা-বাগদা রেণুপোনা

বরগুনায় কোটি টাকার গলদা-বাগদা রেণুপোনা জব্দ, নদী থেকে অবৈধ আহরণের অভিযোগ

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি)

হাবিপ্রবিতে হল সংঘর্ষ: ভাঙচুর, হামলা ও মহাসড়ক অবরোধের ঘটনায় ৩১ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

পবিপ্রবি

পবিপ্রবির ২২ শিক্ষক-কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভ্যানচালককে মারধরের মামলা

শওকত হাচানুর রহমান রিমন
বরগুনার সাবেক এমপি রিমনের সম্পদ জব্দের নির্দেশ, ব্যাংক হিসাবও অবরুদ্ধ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সহ-সভাপতি এবং বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন-এর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার ব্যাংক হিসাব, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, যানবাহনসহ বিভিন্ন আর্থিক সম্পদও অবিলম্বে অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন। শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার বরগুনা জেলা জজ আদালতের সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাইফুর রহমান এ আদেশ দেন। আদালত সূত্র জানিয়েছে, সাবেক সংসদ সদস্য রিমনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমিদখল, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান অবস্থায় অভিযুক্ত ব্যক্তি তার ও পরিবারের নামে থাকা সম্পদ গোপনে হস্তান্তর বা সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকে আদালতের কাছে আবেদন করে দুর্নীতি দমন কমিশন। দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা ২০০৭-এর বিধি ১৮ অনুযায়ী তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোকের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তদন্তের স্বার্থে রিমনের সম্পদ সাময়িকভাবে জব্দের আবেদন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে আবেদনে উল্লেখ থাকা পরিবারের সদস্যদের নামীয় সম্পদও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে ক্রোক করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের আদেশে আরও বলা হয়েছে, তফসিলভুক্ত অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, যানবাহন এবং অন্যান্য আর্থিক সম্পদ দ্রুত অবরুদ্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আয়কর কর্তৃপক্ষকে রিমনের আয়কর রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জব্দ করে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন বলেন, তদন্তের প্রয়োজনে আদালত সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত শেষে সম্পদের বৈধতা প্রমাণিত না হলে আদালত সেগুলো বাজেয়াপ্ত করতে পারেন। তবে বৈধ প্রমাণিত হলে সম্পদ ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৩, ২০২৬ 0
ডা. আশীষ কুমার হালদার

বরিশালে চিকিৎসা অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু: দুঃখ প্রকাশ করলো ডা. আশীষ কুমার হালদার

ঝালকাঠির পুরাতন পৌর গোরস্থান পরিষ্কার করল ‘প্রত্যয় তরুণ সংঘ’

ঝালকাঠির পুরাতন পৌর গোরস্থান পরিষ্কার করল ‘প্রত্যয় তরুণ সংঘ’ | সম্প্রীতি ও মানবিকতার দৃষ্টান্ত

ঝালকাঠির সারেংগল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতিতে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড
এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ : তদন্তে দুদক ও ভ্যাট গোয়েন্দা

বরিশাল অফিস : একসময় দেশের শিল্পখাতে সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল বরিশাল ভিত্তিক অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড। খান সন্স ভবন, ৫১ কাঠপট্টি রোডে করপোরেট অফিস এবং রূপাতলীতে কারখানা নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি বিদশে অর্থ পাচারের কারনে এখন ভয়াবহ আর্থিক সংকট, শ্রমিক অসন্তোষ এবং ব্যাংক ঋন খেলাপী,বিদ্যুৎ বিল বকেয়ায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন,কর্মকর্তাদের বেতন বকেয়ায় কর্ম বিরতি, ৩ দেশে অর্থপাচার করে সম্পদের পাহাড় বানানো,৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি,সরকার থেকে অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়া,ঈদুল আজহার পরে স্থায়ী ভাবে বন্ধ করে দেয়ার পায়তারা,ডিলার, রিটেইলারদের থেকে অতিরিক্ত কমিশন দেয়ার নামে অগ্রীম টাকা নিয়ে সিমেন্ট না দেয়া,পাওনাদারদের পাওনা টাকা না দেয়াসহ গুরুতর অভিযোগে আলোচনায় এসেছে।   ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ,তদন্তে ভ্যাট গোয়েন্দা   ৪০ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি ও অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়ায় কাগজপত্রসহ অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর কর্তৃপক্ষকে তলব করেছে কাস্টমস,ও ভ্যাট বিভাগ। ইতিমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিষয়টি আমলে নিয়ে এ্যাংকর সিমেন্টের  শুল্ক ফাঁকি, ভ্যাট জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের বিষয়ে নজরধারী ও তদন্ত শুরু করেছে।  বিদেশে নাগরিত্ব গ্রহন, বাংলাদেশের অর্থ বিদেশে পাচার এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভুত অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলাসহ অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান শুরু করেছে।সম্প্রতি অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডকে দুদক নোটিশ প্রদান করেছে। বিদেশে সম্পদ গড়ার অভিযোগ, পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা   অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর অর্থ বিদেশে পাচার এবং বিদেশে অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলা,দুদকের অনুসন্ধান,ভ্যাট ফাঁকি ও সরকার থেকে অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়ার ফলে ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিষয়টি আমলে নেয়ায়,ব্যাংক ঋন বকেয়া, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া,কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা বকেয়া, ডিলার, রিটেইলারদের থেকে অতিরিক্ত কমিশন দেয়ার নামে অগ্রীম টাকা নিয়ে সিমেন্ট না দেয়া,পাওনাদারদের পাওনা টাকা না দেয়ার চাপ বাড়তে থাকায় অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান ,ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান ও পরিচালক রিফাত বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর একটি বিশ্বস্ত সুত্র নিশ্চিত করেছে। দুবাই,আমেরিকা ও লন্ডনে তাদের বাড়ি ও গাড়ি রয়েছে।তারা এই তিন দেশের কোন এক দেশে যাবেন বলে সুত্র জানায়।   জুলিয়া রহমান-আনিকা রহমান - রিফাত                                                                                                                                                        ছবি- ইত্তেহাদ নিউজ   পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে লিখিত অভিযোগ   সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে এক প্রবাসী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মরহুম মজিবুর রহমান খানের মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নেন তার স্ত্রী জুলিয়া রহমান, মেয়ে আনিকা রহমান এবং জামাতা রিফাত। এরপর থেকেই কোম্পানির অর্থ বিদেশে পাচার এবং অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার কার্যক্রম শুরু  করেন। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, জুলিয়া রহমান হুন্ডির মাধ্যমে ও আন্ডার ইন ভয়েসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে একাধিক ডুপ্লেক্স বাড়ি ও ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব অর্থ এসেছে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের তহবিল ও ব্যাংক ঋণ থেকে। একইসঙ্গে জুলিয়া রহমান অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। তার বিদেশি ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—৫১ চার্চ স্ট্রিট, সেন্ট জন’স, অ্যান্টিগুয়া।   কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ অন্যদিকে আনিকা রহমান ও তার স্বামী রিফাতের বিরুদ্ধে দুবাই, শারজাহ এবং নিউইয়র্কে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তরে সহায়তা করেছেন প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী, যাদের মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,সিওও শাহেদ উদ্দিন,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ আরো অনেকে। সহায়তা করার জন্য এসব কর্মকর্তারা হয়েছেন ক্রোড়পতি।গড়েছেন নামে বেনামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সহায় সম্পদ। বন্ধ রয়েছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী ও ব্যাগ ফ্যাক্টরী                                                                                                                            ছবি- ইত্তেহাদ নিউজ              ব্যাংক ঋণ  সংকটে ও উৎপাদন বন্ধ   জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার সময় বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেয়। এর মধ্যে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি এবং ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব ঋণের অর্থ উৎপাদনে ব্যবহার না করে বিদেশে সরিয়ে নেওয়ায় বর্তমানে কোম্পানিটি মারাত্মক ঋণ সংকটে পড়েছে। বর্তমানে কারখানায় উৎপাদন বন্ধ। কাঁচামালের সংকট, এলসি খুলতে অক্ষমতা এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে তাদের মধ্যে অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে। একাধিক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বেতন বকেয়া থাকায় এখন কর্ম বিরতি চলছে।   নতুন ঋণের জন্য জাল কাগজ তৈরির অভিযোগ   এদিকে অভিযোগ রয়েছে, নতুন করে ব্যাংক ঋণ নেওয়ার উদ্দেশ্যে কিছু জমির জাল কাগজপত্র প্রস্তুতের কাজও চলছে। এ কাজে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।   বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা,আটকের দাবি   সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান এবং পরিচালক রিফাত এর বিদেশ গমনের পথ বন্ধ করে  তাদের আটক করে এবং অভিযোগগুলো সঠিকভাবে দুদক ও ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর তদন্ত করলে বড় ধরনের অর্থপাচার ও ব্যাংক জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। অভিযুক্তদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা এবং আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, দুদক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা ।   আরও পড়ুন: এ্যাংকর সিমেন্টে ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ : বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বরিশালে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ হতে যাচ্ছে : বাড়ছে পাওনাদারদের ভিড়,গা ঢাকা দিয়েছে  এ্যাংকর সিমেন্টের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, আর্থিক সংকট,উৎপাদন বন্ধ , তদন্তের দাবি   তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত দাবি করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের শিল্প ও ব্যাংক খাতকে রক্ষা করতে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি বলছেন, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে এটি দেশের শিল্পখাত ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। এ্যাংকর সিমেন্টের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট নয়; বরং এটি করপোরেট সুশাসন, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রীয় নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্নও সামনে আনছে। এক কথায় এই অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের গল্প শুধুমাত্র একটি ব্যবসার পতনের নয়, বরং নৈতিকতার, প্রজ্ঞার, এবং দেশপ্রেমের চূড়ান্ত পরীক্ষা।   এ্যাংকর সিমেন্টে ভয়াবহ কেলেঙ্কারি! বিদেশে সম্পদের পাহাড়, তদন্তে দুদক বরিশালের সিমেন্ট সাম্রাজ্যে ধস: ব্যাংক ঋণ থেকে বিদেশে বিলাসবহুল বাড়ি! ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি? এ্যাংকর সিমেন্ট নিয়ে তোলপাড় বেতন নেই, উৎপাদন বন্ধ, বিদেশে সম্পদ—সংকটে এ্যাংকর সিমেন্ট হুন্ডিতে অর্থপাচারের অভিযোগ, বিদেশে পালানোর শঙ্কা কোম্পানি কর্তাদের সিমেন্ট কোম্পানি নাকি অর্থপাচারের নেটওয়ার্ক? তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য দুবাই-লন্ডন-নিউইয়র্কে সম্পদ, দেশে বন্ধ কারখানা! প্রশ্নের মুখে এ্যাংকর সিমেন্ট ডিলারদের কোটি টাকা আটকে, তদন্তে ভ্যাট গোয়েন্দা ও দুদক     আগামী পর্বে থাকছে ------ ▪️অযোগ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ নেপথ্যে করপোরেটে নিলা ও ফ্যক্টরীতে শাহেদ উদ্দিন।  ▪️ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে অলিম্পিক সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার,অলিম্পিক শিপিং লাইনস লিমিটেড।  ▪️সহায় -সম্পত্তি জামানতের চেয়ে ব্যাংক ঋন পরিমান কত?।  ▪️কোম্পানী ধ্বংসের কারিগর  এমডি,ডিরেক্টর,এমডির পিস,ডিরেক্টরের পিএস,সিওও,সিএমও,ভ্যাট কর্মকর্তাসহ একাধিক কর্মকর্তা। ▪️অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড থেকে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ টাকার পাহাড় গড়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ একাধিক কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে  ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অর্থ আত্মসাতে সহায়তাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২১, ২০২৬ 0
বরিশালে ডিবি পুলিশের অভিযান,আটক ৬

বরিশালে ডিবি পুলিশের অভিযান,আটক ৬

সরকারি হিজলা ডিগ্রি কলেজ

সরকারি হিজলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবদুস সালামের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

ডাঃ আশীষ কুমার হালদার

বরিশালে ডাঃ আশীষ কুমার হালদারের অবহেলায় চিকিৎসক দম্পতির নবজাতকের মৃত্যু,তদন্ত কমিটি গঠন

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0