Brand logo light
ব্রেকিং

সিলেট আন্তর্জাতিক ওসমানী বিমানবন্দরের সার্ভার রুমে আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে আগুন
সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে আগুন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাত তখন প্রায় সাড়ে ১১টা। দিনের শেষ ফ্লাইটও ছেড়ে গেছে। ঠিক সেই সময় হঠাৎ করে ধোঁয়া দেখা যায় সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর ইমিগ্রেশন সার্ভার রুম থেকে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি রূপ নেয় অগ্নিকাণ্ডে—যা বড় ধরনের বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারত, যদি ঘটনাটি ঘটত ব্যস্ত সময়ে। সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সার্ভার রুমে আগুন লেগেছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ উদ্দিন আহমদ। রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সেখানে আগুন লাগার খবর পেয়ে দুটি ইউনিট পাঠানোর তথ্য দেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিদর্শক যিশু তালুকদার।

কীভাবে শুরু হলো আগুন?

বিমানবন্দর সূত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আগুনের সূত্রপাত হয় এরাইভাল ইমিগ্রেশন বিভাগের সার্ভার রুমে, যা কাস্টমস ভবনের উপরের তলায় অবস্থিত। হঠাৎ ধোঁয়া বের হতে দেখে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।

বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। রাত সাড়ে ১২টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও সার্ভার রুমজুড়ে ঘন ধোঁয়া রয়ে যায়, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতার ইঙ্গিত দেয়।

কোনো  ফ্লাইটের ব্যাঘাত হয়নি

বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিক আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনও ধোঁয়া রয়েছে। রোববারের মত সব ফ্লাইট শেষ হওয়ার পরই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফলে ফ্লাইটের কোনো ব্যাঘাত হয়নি। এয়ারপোর্ট থানার ওসি সহিদুর রহমান বলেন, রাত সাড়ে ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন কাজ করছেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা যিশু তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে পারেননি। সিলেট ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার কুতুব উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এরাইভাল ইমিগ্রেশনের (কাস্টমসের উপরের তলা) সার্ভার রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার সাইফুল ইসলাম জানান, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন সার্ভার রুমে আগুনের সূত্রপাত হয়।খবর পেয়ে মহানগর পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।ফায়ার সার্ভিসের দুটি টিম অগ্নি নির্বাপনে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে বেশ কয়েকটি এসি পুড়ে যায় ও প্রচুর ধোঁয়া সৃষ্টি হয়।

 ঝুঁকির মাত্রা কতটা ছিল?

সার্ভার রুম সাধারণ কোনো কক্ষ নয়—এখানে সংরক্ষিত থাকে বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ডাটা, ইমিগ্রেশন সিস্টেম, যাত্রী তথ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ডিজিটাল অবকাঠামো। এই ধরনের স্থানে আগুন লাগা মানে শুধু অবকাঠামোগত ক্ষতি নয়, বরং পুরো অপারেশনাল সিস্টেম ভেঙে পড়ার আশঙ্কা।

যদিও বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, “সব ফ্লাইট শেষ হওয়ার পরই আগুন লাগে, তাই কোনো ফ্লাইটে ব্যাঘাত ঘটেনি,”—তবুও প্রশ্ন থেকেই যায়: যদি এই ঘটনা পিক আওয়ারে ঘটত?

 ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ

ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে—

  • আগুনে কয়েকটি এসি পুড়ে গেছে
  • সার্ভার রুমে ব্যাপক ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়েছে
  • সংবেদনশীল যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে

প্রাথমিকভাবে প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির ধারণা করা হচ্ছে, যদিও তদন্ত ছাড়া চূড়ান্ত পরিমাণ নির্ধারণ সম্ভব নয়।

 তদন্তে কী উঠে আসতে পারে?

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা এখনো আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে পারেননি। তবে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে—

  • বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট
  • সার্ভার বা কুলিং সিস্টেমের ত্রুটি
  • অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা

এখন মূল প্রশ্ন হচ্ছে:
সার্ভার রুমে কি যথাযথ ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা ছিল?
আগুন প্রতিরোধে অটোমেটেড সিস্টেম (যেমন গ্যাস-ভিত্তিক ফায়ার সাপ্রেশন) সক্রিয় ছিল কি?
নিয়মিত নিরাপত্তা অডিট করা হচ্ছিল কি না?

 নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ফাঁকফোকর?

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরের সার্ভার রুমে সাধারণত উন্নত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং রিয়েল-টাইম মনিটরিং থাকা বাধ্যতামূলক। এই ঘটনায় যদি দেখা যায় যে এসব ব্যবস্থায় ঘাটতি ছিল, তাহলে তা বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত দেবে।

 সামনে কী?

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রপাতি ও সার্ভার রুমের অবস্থা যাচাই করা হচ্ছে এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনাটি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

এই অগ্নিকাণ্ডে তাৎক্ষণিকভাবে বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলেও এটি স্পষ্ট করেছে—দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ঝুঁকি এখনও রয়ে গেছে। সময়মতো আগুন লাগা (ফ্লাইট শেষে) বড় বিপর্যয় ঠেকিয়েছে, কিন্তু এটি একই সঙ্গে একটি সতর্কবার্তাও—নিরাপত্তা ব্যবস্থার যেকোনো দুর্বলতা ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

Popular post
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্রেকিং

View more
পুরোনো ছবি
৩০ ডলারে কেনা পুরোনো ছবি, নিলামে দাম উঠল ১৩ লাখ ৫২ হাজার ডলার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মাত্র ৩০ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার ৬০০ টাকা। এই সামান্য অর্থে কেনা একটি পুরোনো ছবি কয়েক দশক পর নিলামে বিক্রি হলো ১৩ লাখ ৫২ হাজার ৬০০ ডলারে—বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ১৬ কোটি টাকা। শুধু বিপুল দামের কারণেই নয়, ছবিটির দীর্ঘদিনের অজানা ইতিহাসও একে ব্যতিক্রমী করে তুলেছে। শিকাগোর প্রখ্যাত শিল্পী গের্ট্রুড অ্যাবারক্রম্বি ১৯৫১ সালে ছবিটি এঁকেছিলেন। এরপর প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার পর সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে এটি কার্যত লোকচক্ষুর আড়ালে ছিল। শেষ পর্যন্ত মিশিগানের কালামাজুর একটি এস্টেট সেলে ছবিটির সন্ধান মেলে। সেখানে একজন সংগ্রাহক পুরোনো ভিনাইল রেকর্ড খুঁজতে গিয়ে ছবিটি দেখতে পান। পেছনে শিল্পীর নাম লেখা দেখে মাত্র ৩০ ডলারে সেটি কিনে নেন তিনি। এরপর বিশেষজ্ঞদের যাচাই, সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের পর ছবিটি পৌঁছে যায় নিউইয়র্কের নিলামঘরে। সেখানেই তৈরি হয় অ্যাবারক্রম্বির কাজের জন্য নতুন বিশ্ব নিলাম রেকর্ড। যে ছবির মূল্য কেউ বুঝতে পারেনি ছবিটির নাম ‘অল্ডারম্যান মেরিয়ামস শেলস’। অ্যাবারক্রম্বি এটি আঁকেন ১৯৫১ সালে। ছবিটির গল্প অবশ্য শুরু হয়েছিল আরও পরে। ১৯৫২ সালে মিশিগানের কালামাজুর চিকিৎসক ডা. জন টি. রেনল্ডসের হাতে ছবিটি যায়। জানা গেছে, চিকিৎসা সেবার বিনিময়ে অ্যাবারক্রম্বি তাকে ছবিটি দিয়েছিলেন। পরবর্তী দুই বছরে ছবিটি নিউইয়র্ক, শিকাগো, মিলওয়াকি ও ইভান্সটনে প্রদর্শিত হয়। অর্থাৎ সৃষ্টির পরপরই ছবিটি শিল্পবোদ্ধাদের নজরে এসেছিল। কিন্তু প্রদর্শনীর সেই পর্বের পর ছবিটির যেন আর কোনো অস্তিত্বই ছিল না। দশকের পর দশক এটি রয়ে যায় রেনল্ডস পরিবারের সম্পত্তির অংশ হিসেবে। সময়ের সঙ্গে ছবিটির শিল্পমূল্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্বও যেন হারিয়ে যায় পরিবারের দৈনন্দিন সম্পদের আড়ালে। ৭০ বছর পর এস্টেট সেলে ফিরে এল শিল্পকর্মটি সাত দশকেরও বেশি সময় পর কালামাজুর একটি এস্টেট সেলে যান এক সংগ্রাহক। তার উদ্দেশ্য ছিল পুরোনো ভিনাইল রেকর্ড খোঁজা। সেখানেই হঠাৎ তার চোখে পড়ে একটি পুরোনো ছবি। ছবিটি উল্টে দেখার পর তিনি দেখতে পান পেছনে লেখা রয়েছে গের্ট্রুড অ্যাবারক্রম্বির নাম। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে তিনি ছবিটি মাত্র ৩০ ডলারে কিনে নেন। পরে জানা যায়, ছবিটি ডা. জন টি. রেনল্ডসের সম্পত্তিরই অংশ ছিল। অর্থাৎ দীর্ঘ সময় ধরে এটি একই পরিবারের কাছে সংরক্ষিত ছিল, কিন্তু এর প্রকৃত শিল্পমূল্য সম্পর্কে সবাই যে অবগত ছিলেন—তা নয়। এক অর্থে, একটি এস্টেট সেলের সাধারণ জিনিসপত্রের ভিড়েই সাত দশকের বেশি সময় ধরে লুকিয়ে ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকর্ম। কালো পটভূমিতে ঝিনুক, আর অ্যাবারক্রম্বির স্বপ্নের জগৎ ‘অল্ডারম্যান মেরিয়ামস শেলস’ ছবিতে দেখা যায় কয়েকটি ঝিনুক। এর পটভূমির বড় অংশজুড়ে রয়েছে গাঢ় কালো রং। একটি ঝিনুককে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেন সেটি প্রায় সম্পূর্ণ কালো এক পরিসরের মধ্যে ভেসে আছে। শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, ছবির অস্বাভাবিক আলো, গাঢ় আবহ এবং স্বপ্নের মতো দৃশ্য অ্যাবারক্রম্বির শিল্পচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়কে তুলে ধরে। আরও একটি বিষয় ছবিটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এতে দেখা যায় ফাটা ঝিনুকের একটি নকশা, যা অ্যাবারক্রম্বির কাজে এর আগে দেখা যায়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে একই ধরনের নকশা তার শিল্পকর্মে বারবার ফিরে আসে। ফলে ছবিটি শুধু একটি আলাদা শিল্পকর্ম নয়; অ্যাবারক্রম্বির শিল্পভাষার বিকাশ বোঝার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ১৫ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার—তারপর সব হিসাব বদলে গেল নিলামে তোলার আগে ছবিটির সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের কাজ করা হয় শিকাগোর বাউমগার্টনার ফাইন আর্ট রেস্টোরেশন-এ। নিলামের আগে ছবিটির আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছিল ১৫ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। কিন্তু নিলামে সেই পূর্বাভাস একেবারেই ছাড়িয়ে যায় ছবিটির দাম। ক্রেতার প্রিমিয়ামসহ শেষ পর্যন্ত এর মূল্য দাঁড়ায় ১৩ লাখ ৫২ হাজার ৬০০ ডলার। অর্থাৎ ৩০ ডলারে কেনা ছবিটির নিলামমূল্য দাঁড়ায় প্রাথমিক ক্রয়মূল্যের প্রায় ৪৫ হাজার গুণ। ফ্রিম্যানস নিলামঘর জানিয়েছে, অ্যাবারক্রম্বির কোনো কাজের ক্ষেত্রে এটাই প্রথমবারের মতো ১০ লাখ ডলারের সীমা অতিক্রমের ঘটনা। কে ছিলেন গের্ট্রুড অ্যাবারক্রম্বি? গের্ট্রুড অ্যাবারক্রম্বি ছিলেন শিকাগোর শিল্প ও সংগীতজগতের গুরুত্বপূর্ণ এক ব্যক্তিত্ব। তিনি শুধু চিত্রশিল্পী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন না; শিকাগোর জ্যাজ সংগীতের সঙ্গেও তার ছিল গভীর যোগাযোগ। তিনি শহরের হাইড পার্ক এলাকায় বসবাস করতেন এবং শিকাগোর শিল্পী ও সংগীতশিল্পীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিমণ্ডলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭৭ সালে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পরও তার শিল্পকর্মের গুরুত্ব ধীরে ধীরে নতুন করে মূল্যায়িত হয়েছে। আর কালামাজুর সেই এস্টেট সেলে পাওয়া ‘অল্ডারম্যান মেরিয়ামস শেলস’ যেন তার শিল্পজীবনের সেই পুনর্মূল্যায়নের একটি অসাধারণ উদাহরণ হয়ে উঠেছে। ৩০ ডলারের ছবির ভেতরে লুকিয়ে ছিল কোটি টাকার ইতিহাস একটি এস্টেট সেল। পুরোনো জিনিসপত্রের স্তূপ। একজন সংগ্রাহক। আর মাত্র ৩০ ডলারের একটি ছবি। সেখান থেকেই শুরু হয় এমন এক আবিষ্কারের গল্প, যার শেষ হয় ১৩ লাখ ৫২ হাজার ৬০০ ডলারের নিলামমূল্যে। তবে অর্থের অঙ্কের বাইরেও ঘটনাটির গুরুত্ব অন্য জায়গায়। সাত দশকের বেশি সময় ধরে একটি পরিবারের সম্পত্তির অংশ হয়ে থাকা ছবিটি কীভাবে হারিয়ে গিয়েছিল জনপরিচিতি থেকে, কীভাবে আবার একজন সংগ্রাহকের চোখে পড়ে সেটি শনাক্ত হলো—সেই ঘটনাই দেখিয়ে দেয়, শিল্পের মূল্য অনেক সময় তার তাৎক্ষণিক বাজারদামে ধরা পড়ে না। কখনো কখনো একটি পুরোনো ছবির আসল পরিচয় ফিরে পেতে অপেক্ষা করতে হয় কয়েক দশক। আর সেই পুনরাবিষ্কারের মুহূর্তেই ৩০ ডলারের একটি অচেনা ছবি পরিণত হয় ১৩ লাখ ৫২ হাজার ৬০০ ডলারের ঐতিহাসিক শিল্পকর্মে।

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ৬, ২০২৬ 0
কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার একের পর এক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সেখানে অবস্থানরত হাজারো বাংলাদেশি পর্যটক

কলকাতার নিউমার্কেটে ভয়াবহ আগুনের পর অভিযান, দুই দিনে বন্ধ ২২১ হোটেল : বিপাকে পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি পর্যটক

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন সন্ধিক্ষণে: হাসিনার ফেরার ঘোষণা কি বদলে দেবে কূটনৈতিক সমীকরণ?

গণপ্রতিরোধের মুখে চব্বিশের ৫ আগস্ট হাসিনার স্বৈরশাসন থেকে মুক্ত হয় বাংলাদেশ

র‍্যাবের টিএফআই সেল ‘আয়নাঘর’: ট্রাইব্যুনালের পরিদর্শনে উঠে এলো গুম, গোপন বন্দিশালা ও আলামত নষ্টের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  ঢাকার উত্তরার বিমানবন্দরসংলগ্ন র‍্যাব-১ ব্যাটালিয়নের কম্পাউন্ডে অবস্থিত টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল—যা দীর্ঘদিন ধরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত—পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন বিচারপতি। তাদের সঙ্গে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর ও প্রসিকিউশন টিমের সদস্যরা। পরিদর্শনের সময় স্থাপনাটির কাঠামো, বিভিন্ন সেল, জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ এবং অভিযোগ অনুযায়ী গুম ও নির্যাতনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এই স্থাপনাটি বলপূর্বক গুম ও নির্যাতনের একটি গুরুত্বপূর্ণ গোপন বন্দিশালা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। আওয়ামী লীগ এ ধরনের অভিযোগ অতীতে অস্বীকার করে এসেছে। কোথায় অবস্থিত টিএফআই সেল? র‍্যাব-১ ব্যাটালিয়নের কম্পাউন্ডের অস্ত্রাগারের পাশে অবস্থিত একটি পুরোনো দ্বিতল ভবনে টিএফআই সেলটি নির্মিত হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে এটি জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হলেও তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের দাবি, সময়ের সঙ্গে এটি গোপন আটককেন্দ্রে রূপ নেয়। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো স্থাপনাটি র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখা (ইন্ট উইং)-এর পরিচালকের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হতো এবং সাধারণ প্রশাসনিক কাঠামোর বাইরে বিশেষ গোপনীয়তায় পরিচালিত হওয়ার কারণে এর কোডনেম ছিল ‘হাসপাতাল’। কীভাবে পরিচালিত হতো বলে অভিযোগ? প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বলপূর্বক গুমের ঘটনাগুলো একটি সমন্বিত কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হতো। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে অপহরণ, গোপনে আটক, জিজ্ঞাসাবাদ, নির্যাতন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে হত্যার মতো কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। কখনও র‍্যাব এককভাবে, আবার কখনও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এসব অভিযান চালানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, টিএফআই সেলে রাখা অনেক ব্যক্তিকে পরবর্তীতে অন্য গোপন বন্দিশালাতেও স্থানান্তর করা হয়েছিল। ২৯টি স্থায়ী সেল: কী পাওয়া গেছে? পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনাল দেখতে পায়, পুরো ভবনে মোট ২৯টি স্থায়ী সেল রয়েছে। নিচতলায় রয়েছে— খোলা টয়লেটসহ ১০টি ছোট সেল প্রতিটি সেলের গড় আয়তন প্রায় ৫ ফুট × ৮ ফুট একই তলায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা র‍্যাব সদস্যদের ব্যারাক দ্বিতীয় তলায় রয়েছে— আরও ১০টি সেল দুটি বড় আকারের তথাকথিত 'ভিআইপি সেল' ছোট দুটি সংযুক্ত টয়লেট গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কয়েকটি অফিস কক্ষ 'ডেথ সেল' নামে পরিচিত সাতটি সংকীর্ণ কক্ষ প্রবেশমুখের সিঁড়ির পাশে খোলা টয়লেটসংবলিত সাতটি অতিক্ষুদ্র সেলের সন্ধান পাওয়া যায়। প্রতিটি সেলের আয়তন গড়ে মাত্র ২ ফুট × ৪ ফুট। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এগুলোকে নিরাপত্তা সদস্যদের মধ্যে 'ডেথ সেল' বা 'যম সেল' নামে ডাকা হতো। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, আটক ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে গেলে ভবনের করিডোরে কাপড় বা ক্যানভাসের পার্টিশন দিয়ে অস্থায়ী সেলও তৈরি করা হতো। সাউন্ডপ্রুফ নির্যাতন কক্ষের অভিযোগ পরিদর্শনে তিনটি সাউন্ডপ্রুফ জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, এসব কক্ষে ছিল— বৈদ্যুতিক মোটরে ঘোরানো স্টিলের চেয়ার বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার ব্যবস্থা ছাদ থেকে ঝুলিয়ে নির্যাতনের সরঞ্জাম লোহার মই-আকৃতির নির্যাতন বেড তদন্তকারীদের দাবি, আটক ব্যক্তিদের এসব যন্ত্রের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হতো। এছাড়া কক্ষগুলোর দেয়ালে কাটা হাত, উপড়ে ফেলা চোখসহ নির্যাতনের বিভৎস ছবি টাঙিয়ে রাখা হয়েছিল বলেও প্রসিকিউশন জানিয়েছে। আলামত নষ্টের অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের পরিদর্শনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে আসে স্থাপনাটির কাঠামোগত পরিবর্তনের অভিযোগ। চিফ প্রসিকিউটরের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভবনের দেয়াল, দরজা ও জানালার বিভিন্ন অংশ পরিবর্তন করে গুম-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আলামত আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানান, ভুক্তভোগীদের বর্ণনার সঙ্গে স্থাপনার মিল না পাওয়ায় বিস্তারিত অনুসন্ধানে কয়েকটি নতুন দেয়াল শনাক্ত করা হয়। পরে সেগুলো অপসারণ করলে আড়ালে থাকা ২২টি কক্ষের সন্ধান পাওয়া যায়। চিফ প্রসিকিউটর যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, তদন্ত শুরুর সময় পুরো স্থাপনাটিকে এমনভাবে পরিবর্তন করা হয়েছিল, যাতে ভুক্তভোগীদের দেওয়া বর্ণনার সঙ্গে মিল না পাওয়া যায়। তার ভাষ্য, দেয়াল অপসারণের পর লুকিয়ে রাখা কক্ষ এবং একটি ডেথ সেলের সন্ধান পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, যারা অতীতে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, তাদের যেমন জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে, তেমনি পরে আলামত নষ্ট বা স্থাপনা পরিবর্তনের অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিচারাধীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চিফ প্রসিকিউটর জানান, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উদ্ধার হওয়া কয়েকজন ভুক্তভোগী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেন। তাদের মধ্যে ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমানের অভিযোগের ভিত্তিতে টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন। তিনি আরও দাবি করেন, এখন পর্যন্ত গুম ও হত্যার শিকার ২৫০ জনেরও বেশি ব্যক্তির সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজদের তালিকায় বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী এবং সুমনের নামও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তদন্তের সামনে যেসব প্রশ্ন এই পরিদর্শনের পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— টিএফআই সেলের প্রকৃত ব্যবহার কী ছিল? গুমের অভিযোগের সঙ্গে কারা সরাসরি জড়িত ছিলেন? স্থাপনাটির কাঠামো পরিবর্তনের নির্দেশ কে দিয়েছিল? আলামত নষ্টের অভিযোগ কতটা প্রমাণ করা সম্ভব হবে? বিচারিক প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য ও ফরেনসিক প্রমাণ কতটা ভূমিকা রাখবে? এসব প্রশ্নের উত্তর এখন বিচারিক তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ১, ২০২৬ 0
উলুছড়ি গ্রামের বাজার ও বেশকিছু বাড়ি বন্যার পানিতে ডুবে যায়

পাহাড়ি ঢল, বৃষ্টিপাত ও অব্যবস্থাপনার ত্রিমুখী চাপ

শেখ হাসিনা

আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে শেখ হাসিনাকে: দেশে ফেরার ঘোষণায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া, আইনি বাস্তবতা নাকি কৌশলগত বার্তা?

পাহাড়ধস

চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঝুঁকি: ১৯ বছরে বাস্তবায়ন হয়নি ৩৬ সুপারিশ, প্রাণ গেছে অন্তত ২৫০ জনের

সাজেকে সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা
টানা বৃষ্টি, পাহাড়ধস ও বন্যার ঝুঁকিতে সাজেক বন্ধ: চট্টগ্রাম-সিলেটসহ ১৭ জেলায় সতর্কতা, বিপর্যয়ের মুখে পাহাড়ি অঞ্চল

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : টানা ভারী বর্ষণ, উজানের ঢল এবং পাহাড়ধসের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মধ্যে রাঙামাটির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা বাড়তে থাকায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেকে সব ধরনের পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে এবং পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এই সিদ্ধান্ত কেবল একটি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের প্রশাসনিক ঘোষণা নয়; বরং দেশের পাহাড়ি অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান জলবায়ুজনিত দুর্যোগের বাস্তব চিত্রও তুলে ধরছে। পাহাড়ধসের আশঙ্কা কেন এত বেড়েছে? জেলা প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস এবং রাঙামাটিতে কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণের কারণে বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের উচ্চঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যোগাযোগ বিঘ্নিত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে— সাজেক ভ্যালির সব পর্যটনকেন্দ্র সব ঝর্ণা পাহাড়ি ট্রেইল দুর্গম এলাকা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পর্যটন স্পট প্রশাসন জানিয়েছে, পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা, ট্যুর অপারেটরসহ কারও প্রবেশ আপাতত অনুমোদিত নয়। শুধু সাজেক নয়, দেশের ১৭ জেলা বন্যার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টি এবং ভারতের উজানের ঢলের কারণে দেশের অন্তত ১৭ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী চার দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে— চট্টগ্রাম সিলেট ময়মনসিংহ রংপুর বিভাগে একই সঙ্গে ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গেও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। কোন কোন নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁতে পারে? বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে— উত্তর-পূর্বাঞ্চল সুরমা কুশিয়ারা নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল দ্রুত পানি বাড়ছে— গোমতী মুহুরী ফেনী সিলোনিয়া হালদা সাঙ্গু মাতামুহুরী এসব নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে— বান্দরবান কক্সবাজার ফেনী চট্টগ্রাম খাগড়াছড়ি নোয়াখালী লক্ষ্মীপুর উত্তরাঞ্চল আগামী ২৪–৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নীলফামারী ও লালমনিরহাটে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বান্দরবানে ৩০ হাজার পরিবার পাহাড়ধসের উচ্চঝুঁকিতে বর্তমানে সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বান্দরবানে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী— সাত উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার পরিবার পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১২০টি আশ্রয়কেন্দ্র। মোতায়েন রয়েছে আটটি মেডিক্যাল টিম। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চলছে মাইকিং। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় থানচি, রুমা, লামা ও আলীকদমে বন্যার আশঙ্কাও বাড়ছে। রুমার কেওক্রাডং এলাকায় ৫০ জনের বেশি পর্যটক আটকা পড়লেও থানচি ও রেমাক্রি থেকে পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত জেলার সব পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। কক্সবাজারে বাড়ছে প্রাণহানি, প্লাবিত ৩৩ ইউনিয়ন টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের নয়টি উপজেলার অন্তত ৩৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়েছে শত শত পরিবার। দুই দিনে পাহাড়ধসে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। প্রশাসনের তথ্যমতে— এক হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। টেকনাফ–সেন্ট মার্টিন নৌপথে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ। টানা পাঁচ দিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সেন্ট মার্টিনে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কুতুবদিয়ায় একটি সেতু ভেঙে স্থানীয় যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। রোহিঙ্গা শিবিরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর তথ্য অনুযায়ী— নিহত ১০ জন আহত ১০ জন ক্ষতিগ্রস্ত ১৫,৮১৩ জন বাস্তুচ্যুত ৩,১৮২ জন এ ছাড়া রেকর্ড করা হয়েছে— ৫২টি পাহাড়ধস ১৪টি বন্যা ৮৩টি ঝড়সংক্রান্ত ঘটনা মানবিক সংস্থাগুলো জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রামে রেকর্ড বৃষ্টি, বিমান ও রেল চলাচলে বিঘ্ন গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩৩০.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এর ফলে— নগরের বহু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। তীব্র জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। রেললাইন ডুবে যাওয়ায় কক্সবাজারগামী ট্যুরিস্ট এক্সপ্রেস কয়েক ঘণ্টা আটকা পড়ে। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ঢাকায় ডাইভার্ট করা হয়। একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চট্টগ্রামে নামতে না পেরে ঢাকায় ফিরে যায়। বর্তমানে বিমানবন্দরে ঘণ্টায় ৮০–৯০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইছে। রাঙামাটিতেও প্রাণহানি রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে পাহাড়ধসে উপড়ে পড়া গাছের নিচে চাপা পড়ে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। কাপ্তাইয়ে পাহাড়ধস ও গাছ পড়ে সাময়িকভাবে চট্টগ্রাম–কাপ্তাই সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হলেও প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর কী বলছে? আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমি লঘুচাপের প্রভাবে আগামী ৭২ ঘণ্টায়— চট্টগ্রাম ঢাকা রাজশাহী খুলনা বরিশাল সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। জলবায়ুজনিত দুর্যোগ কি নতুন বাস্তবতা হয়ে উঠছে? সাজেক বন্ধের সিদ্ধান্ত বিচ্ছিন্ন কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়। একই সময়ে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার এবং চট্টগ্রামে একযোগে পাহাড়ধস, বন্যা, সড়ক বিচ্ছিন্নতা, পর্যটন স্থগিত, নদীর পানি বৃদ্ধি এবং প্রাণহানির ঘটনা একটি বড় জলবায়ুগত সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত, পাহাড় কাটা, বন উজাড় এবং অপরিকল্পিত বসতি বিস্তারের কারণে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকি আরও বাড়ছে। ফলে কেবল জরুরি উদ্ধার নয়, দীর্ঘমেয়াদি ভূমি ব্যবস্থাপনা, পাহাড় সংরক্ষণ এবং দুর্যোগ প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৮, ২০২৬ 0
সরিষাবাড়ী উপজেলার গেন্দারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে

জামালপুরে জমি নিজের নামে লিখে না দেওয়ায় বৃদ্ধা মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে প্রশ্ন

শেষ আটে ফ্রান্স

পেনালটিতে ফ্রান্স, অপেক্ষায় এমবাপ্পে-হাকিমি দ্বৈরথ

আর্জেন্টিনার জয়

কেপ ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0