Brand logo light
অনুসন্ধানী সংবাদ

সরকারি ডুপ্লেক্স বাংলো দখলে, ভাড়া কেলেঙ্কারিতে লাখ লাখ টাকার অনিয়ম সাবেক পূর্ত সচিব ওয়াছি উদ্দিনের

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
সাবেক  পূর্ত সচিব ওয়াছি উদ্দিন
সাবেক পূর্ত সচিব ওয়াছি উদ্দিন

সরকারি চাকরি জীবনের ইতি টেনেও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ছায়া ছাড়তে পারেননি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন। বরাবরই নিজেকে সৎ কর্মকর্তা হিসেবে দাবি করতেন, চাকরি জীবনের প্রথমদিকে মোটামুটি রয়েসয়ে চলতেন। কিন্তু পরবর্তীতে ক্রমান্বয়ে অধঃপতন ঘটে তথাকথিত এই সৎ কর্মকর্তার। এক নাগাড়ে তিন বছরের বেশি সময় ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে। এই মন্ত্রণালয়ে যুগ্মসচিব পদের পাশাপাশি প্রভাব খাটিয়ে একটি বড় প্রকল্পেরও প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব নিজের হাতে রেখে দেন। এই সময় তলে তলে সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। গুরুতর অনিয়ম-অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবেও এই অনিয়মের ধারা অব্যাহত থাকে তার। এই সময় এক নারী ঠিকাদারের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। গণপূর্তের সচিব হওয়ার পরে এক পর্যায়ে ওই নারী ঠিকাদারকে বিয়েও করেন। তাকে নিয়ে উঠেন পূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন বেইলী রোডের একটি বিশেষ বাংলোয়। নিয়ম অনুযায়ী বাড়ি ভাড়া ৫০ হাজার টাকা তার বেতন থেকে কেটে রাখার কথা। কিন্তু এর পরিবর্তে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে মাত্র চার হাজার টাকা ভাড়া পরিশোধের ব্যবস্থা করেন তিনি পূর্ত সচিব পদে থেকে। শুধু তাই নয়, ওয়াছি উদ্দিনের পিআরএল শেষ হয়েছে ৯ মার্চ, ২০২৫। এখন পর্যন্ত তিনি সরকারি ওই বাংলোটি দখলে রেখেছেন সম্পূর্ণ অবৈধভাবে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ও এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না তার বিরুদ্ধে। যদিও ইতিমধ্যে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের অবৈধভাবে প্লট বরাদ্দের মামলায় কাজী ওয়াছি উদ্দিনকে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সাবেক সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিনের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি উপজেলায়। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আমলে মূলতঃ এটিই ছিল ওয়াছি উদ্দিনের খুঁঁটির জোর। এই পরিচয়েই তিনি ২০২০ সালের আগস্টে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব পদে পদায়ন পান। ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ তাকে গণপূর্ত সচিব করা হয়। চাকরির বয়স শেষে এক বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগও ভোগ করেন। গণপূর্তের সচিব পদে থাকাকালে শেখ সেলিম, ঢাকার পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ গোপালগঞ্জের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালীর সমন্বয়ে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। সিন্ডিকেটের হয়ে সরকারি বাড়ি দখল, প্লট বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য, নিয়োগ-বদলি, অনিয়ম, চাঁদাবাজিসহ এমন কোনো অপকর্ম নেই যা তিনি করেননি। তার সময়ে পূর্ত মন্ত্রণালয়কেন্দ্রীক নতুন একটি দালাল শ্রেণিও গড়ে উঠে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সচিবের দপ্তর থেকেই ভুয়া এক ডিজিএফআই কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই ব্যক্তি আদতে ছিল সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিনের দালাল। ওয়াছি উদ্দিনের নানাবিধ এসব অনিয়ম-অপকর্মের তথ্য বিস্তারিতভাবে পরবর্তীতে তুলে ধরা হবে। সরকারি বাংলোয় নামেমাত্র ভাড়া পরিশোধ এবং এখনও অবৈধ দখলে রেখে সরকারের যে বিপুল অংকের আর্থিক ক্ষতি করেছেন চলতি প্রতিবেদনে এ তথ্যগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিনের পিআরএল শুরু হয়েছে ২০২৪ এর ১০ মার্চ। ফলে নিয়ম অনুযায়ী ২০২৫ এর ৯ মার্চ পর্যন্ত তিনি সরকারি বাসায় থাকতে পারবেন। এরপরেও অতিরিক্ত দুই মাস এবং বিশেষ বিবেচনায় সর্বোচ্চ আরও চার মাস পর্যন্ত থাকা যায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি কোন ক্ষমতার বলে সরকারি এ বাংলোটি দখল করে রেখেছেন, পূর্ত মন্ত্রণালয়ও তাকে কোন বিবেচনায় এ অবৈধ সুযোগ দিচ্ছে- সংশ্লিষ্টরা জবাব দিতে পারছেন না।

উল্লেখ্য, গত ১৭ জানুয়ারি শনিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, কাজী ওয়াছি উদ্দিন রাজধানীর বেইলী রোডের মিনিস্টার্স এপার্টমেন্ট-৩ সংলগ্ন গণপূর্ত অধিদপ্তরের বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত সরকারি ভবনটি ছাড়েননি। সরকারি নথিতে এটি একটি সাব-স্টেশন ভবন হিসেবে উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে সেটিকে সম্পূর্ণভাবে ডুপ্লেক্স বাংলোতে রূপান্তর করা হয়েছে। কাজী ওয়াছি উদ্দিন এই বাংলোটিতে সরকারের বিপুল অংকের অর্থ খরচ করেছেন শুধু নিজে থাকার সুবিধার জন্যই। বর্তমানে ভবনটি ‘বেইলী রোড মন্ত্রীপাড়া ৪০ নম্বর বাড়ি’ হিসেবেই পরিচিত।

সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, প্রায় ৫০ হাজার টাকা মাসিক ভাড়ার একটি ডুপ্লেক্স বাংলোর জন্য তিনি মাত্র ৪ হাজার টাকা ভাড়া পরিশোধ করছেন। বরাদ্দ নেওয়ার সময় নিজের প্রভাব খাটিয়ে বাসাটিকে ‘সাব-স্টেশন ভবন’ হিসেবে দেখিয়ে মূল বেতনের মাত্র ৭.৫ শতাংশ হারে ভাড়া নির্ধারণ করান তিনি।
বরাদ্দের আগে একই বাসায় বসবাস করতেন নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) তরিকুল ইসলাম। তিনি সরকারি বিধি অনুযায়ী তার বেতন থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২৬ হাজার টাকা বাসা ভাড়া পরিশোধ করতেন। অথচ কাজী ওয়াছি উদ্দিন সেই একই বাসায় বসবাস করা সত্ত্বেও এমনকি ইতিমধ্যে বিপুল অংকের অর্থ ব্যয় করে বাসাটির উন্নয়ন সত্ত্বেও মাত্র চার হাজার টাকা ভাড়া পরিশোধ করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, কাজী ওয়াছি উদ্দিন অত্যন্ত কৌশলে সাব-স্টেশন উল্লেখপূর্বক ভবনটি বরাদ্দ নেন এবং পরবর্তীতে সাব-স্টেশন কার্যক্রম পাশ কাটিয়ে পুরো ভবনটিকে বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাংলোতে রূপান্তর করেন। নিচতলা ও দোতলা মিলিয়ে প্রায় ৮টি কক্ষবিশিষ্ট এই বাংলোটি আধুনিক রিনোভেশন ও দামী ফার্নিচারে সাজানো হয়।

সূত্র বলছে, ভবনটির সংস্কার ও আসবাবপত্র কেনায় প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। সরকারি অর্থের এমন অপ্রয়োজনীয় বিপুল ব্যয় কীভাবে এবং কোন বিধিবলে করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

ভয়াবহ নদী দখল : অপসোনিনের কবলে সুগন্ধা ও কীর্তনখোলা

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: বরিশালের গুরুত্বপূর্ণ নদীপথ সুগন্ধা ও কীর্তনখোলার মোহনায় অবৈধ দখল ও দূষণের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে অনুসন্ধানে। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠী “অপসোনিন”নদীর তীর ও মোহনার বিস্তীর্ণ অংশ দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, বর্জ্য ফেলা,জমি দখল,পরিবেশ ধ্বংস এবং জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করছে,যার ফলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।মোহনা এখন আর শুধু প্রাকৃতিক জলপথ নয়—এটি পরিণত হয়েছে দখল, দূষণ ও অপসোনিনের আধিপত্যের এক জটিল সংঘাতে।   দখলের বিস্তার ও কৌশল: স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে ধীরে ধীরে নদীর তীর ঘেঁষে মাটি ভরাট, স্থায়ী বিশাল কংক্রিট দেয়াল  নির্মাণ  ভরাট করে স্থাপনের মাধ্যমে দখল প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে। শুরুতে ছোট পরিসরে কাজ হলেও বর্তমানে তা বড় শিল্পকারখানার সম্প্রসারণে রূপ নিয়েছে।সুগন্ধা ও কীর্তনখোলার  মোহনায় বিশাল এই স্থাপনা যেন বাংলাদেশের লাগামহীন নদী দখলের এক ভয়াবহ নিদর্শন। একজন জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আগে এই জায়গায় আমরা জাল ফেলতাম। এখন সেখানে বাঁধ দেওয়া হয়েছে, ফলে নদী এখন ভুমিতে পরিনত করেছে অপসোনিন।” স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রথমে কারখানাটি ছোট্ট একটি জায়গায় গড়ে ওঠে। কিন্তু প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে নদীতে বালু ফেলে ধীরে ধীরে তারা জায়গা বাড়াতে থাকে। রাতের আঁধারেও সেই কাজ চলত।ফলে নদীপথে নাব্যতা সংকট সৃষ্টি করছে, নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ ব্যাহত করছে এবং পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে।   ১. নদীর বুক চিরে ‘শিল্প সাম্রাজ্য’ স্থানীয় সূত্র ও মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, ঝালকাঠির দপদপিয়া ও তিমিরকাঠী সংলগ্ন এলাকায় সুগন্ধা ও  বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর ভেতরে ৫০ একরের বেশি এলাকা ভরাট করে শিল্প স্থাপনা সম্প্রসারণের অভিযোগ রয়েছে। নদীতে কংক্রিট ব্লক ফেলে ধীরে ধীরে চর সৃষ্টি করে সেই চর পরে কোম্পানির জমির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ সংকুচিত হয়েছে।   ২. ‘সিকিস্তি জমি’দখলের অভিযোগ নদীভাঙনে বিলীন হওয়া জমি পরে জেগে উঠলে তা পূর্ব মালিকদের পাওয়ার কথা থাকলেও— অভিযোগ আছে, সেই জমি দখল করে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে. শতাধিক পরিবার তাদের জমি ফিরে পায়নি।দখল ঠেকাতে গেলে হামলা-হুমকির অভিযোগও রয়েছে  এটি শুধু নদী দখল নয়—ভূমি অধিকার সংকটেও রূপ নিয়েছে।   ৩. পরিকল্পিত ভরাট  ও  তীর দখল পরিবেশকর্মীদের মতে— নদীর ভেতরে বালু ভরাট করা হয়েছে। তীর ঘেঁষে গাইড ওয়াল ও শিল্প অবকাঠামো তৈরি হয়েছে।নদীর অংশ নিজেদের সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার করছে ।ফলে নদীর প্রাকৃতিক সীমানা প্রায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ৪. দূষণের ভয়াবহ চিত্র সুগন্ধা ও কীর্তনখোলা নদী এখন বহুমুখী দূষণের শিকার— প্রধান দূষণের উৎস: অপসোনিন কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য, ময়লা,প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য সরাসরি  নদীতে পড়ছে, যা পানিকে বিষাক্ত করে তুলছে।ফলে পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।মাছ ও জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে ও নদীর নাব্যতা কমে যাচ্ছে। ৫. সুগন্ধা নদীর সংকট: ভাঙন ও চাপ শুধু কীর্তনখোলা নয়, পাশের সুগন্ধা নদীতেও সংকট বাড়ছে । অপসোনিন দুটি নদীরই  অংশ দখল করে নিয়েছে। যার মারাত্মক প্রভাব পড়েছে নদীগুলোর প্রাকৃতিক প্রবাহ ও পরিবেশ ব্যবস্থায়। প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। তীব্র ভাঙনে গ্রাম, রাস্তা,  প্রতিষ্ঠান বিলীন,নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হুমকির মুখে । মোহনা অঞ্চলে কৃত্রিম বাধা ও দখল দপদপিয়া ও তিমিরকাঠি মৌজার অংশ  এই ভাঙনকে আরও ত্বরান্বিত করছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারনা । এছাড়া দপদপিয়া -নলছিটি সড়কটি এখন ভাঙনের মুখে।   ৬. প্রশাসনিক দুর্বলতা ও প্রভাবশালী চক্র অনুসন্ধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে দখল শুধু ঘটছে না, বরং দীর্ঘদিন ধরে তা টিকে আছে। কারণগুলো: প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠীর প্রভাব।আইনের দুর্বল প্রয়োগ।উচ্ছেদ অভিযানের ধারাবাহিকতার অভাব। যদিও প্রশাসন জানিয়েছে, নদী দখল ও দূষণ রোধে পরিকল্পনা রয়েছে। ৭. দখলদার অপসোনিন, বিস্তৃত নেটওয়ার্ক কীর্তনখোলা ও সুগন্ধা নদী দখলে অপসোসিনের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে।এ দুটি নদী দখলের প্রতিযোগীতায় অপসোনিন এগিয়ে।নদীতে ব্লক ফেলে নদী দখল করেছে এ অঞ্চলে একমাত্র অপসোনিন। সাবেক এমপি ও আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতা আমির হোসেন আমুর প্রভাবকে তারা কাজে লাগিয়ে নদী দখল করেছে বলে স্থানীয়রা জানান। অর্থাৎ, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়-একটি সংগঠিত দখল প্রক্রিয়া। ৮. সামাজিক: ও অর্থনীতির উপর প্রভাব অর্থনৈতিক: জেলেদের আয় কমে গেছে,নৌ চলাচলে বাধা ও  নদীভিত্তিক ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত। সামাজিক: ভূমিহীনতা বৃদ্ধি-স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা।নদীর অংশও দখলের আওতায় চলে গেছে। ৯. বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা পরিবেশবিদদের মতে— নদীকে “জীবন্ত সত্তা” হিসেবে আইনি স্বীকৃতি থাকলেও বাস্তবে তা রক্ষা হচ্ছে না দ্রুত দখলমুক্ত না করলে নদী হারানোর ঝুঁকি রয়েছে ।     পরিবেশগত ক্ষতি: বিশেষজ্ঞদের মতে, মোহনা অঞ্চল নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পলি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বাধা সৃষ্টি হলে— নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হতে পারে, মাছের প্রজনন ব্যাহত হয়, নৌ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়। পরিবেশকর্মীরা জানান, শিল্পবর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলার ফলে পানির রং ও গন্ধ পরিবর্তিত হয়েছে। অনেক এলাকায় তেলজাতীয় পদার্থ ভাসতে দেখা গেছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, দখলের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলেও কার্যকর পদক্ষেপ খুব একটা দেখা যায়নি। নদী রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবও প্রকট। একজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, “নদী দখল ঠেকাতে আইনি কাঠামো আছে, কিন্তু প্রয়োগে দুর্বলতা রয়েছে। প্রভাবশালী গোষ্ঠীর কারণে অনেক সময় অভিযান থেমে যায়।”   আমুর প্রভাবে ১৮ একর জমি দখলের : আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর ক্ষমতার দাপটে জাল জালিয়াতির মাধ্যে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অপসোনিন ফার্মাসিটিক্যাল লিমিটেড কোম্পানি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা মিসকেস সাজিয়ে আমির হোসেন আমুর ক্ষমতার প্রভাবে ১৮ একর ১৫ শতাংশ জমি আত্মসাত করেছেন।এমন অভিযোগ তুলে আমির হোসেন আমু ও অপসোনিন ফার্মাসিটিক্যাল লিমিটেডের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে ভূক্তভোগিরা। ভূক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বোরহান উদ্দিন মিলন। তিনি বলেন, ফ্যাসিষ্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার দোসর সাবেক খাদ্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু অপসোনিন ফার্মাসিটিক্যাল লিমিটেডের অংশীদার। এছাড়া রাকিব খান ও রউফ খান পরস্পর মামাতো-ফুফাতো ভাই। তাঁরা আওয়ামী লীগের আমলে আমির হোসেন আমুর ক্ষমতার অপব্যবহার করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভূয়া মিস কেস ২৩০/৬৫-৬৬ নম্বর বন্দোবস্তের মাধ্যমে তাদের ৭ পরিবারের প্রায় ১৮ একর ১৫ শতাংশ ভূমি আত্মাসাত করে নেয়। মিলন আরও বলেন, নলছিটি এসিল্যান্ড অফিসের ১২ নম্বর রেজিস্টার বইতে মিস কেস ২৩০/৬৫-৬৬ এর কোন অস্তিত্ব নেই। বরং ওই রেজিস্টারে তিনটি বন্দোবস্ত কেস দায়ের রয়েছে। কিন্তু নলছিটি জেএল নম্বর ১২৭ পশ্চিম চর দপদপিয়ার জমি অপসোনিন কোম্পানির মালিক রাকিব খানের নামে ৪৩১৯/১৯ দলিল এবং ৩৮২৮/২০০০ নম্বর দলিল বরিশাল সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে রেজিস্ট্রি হয়, যা ১৯৬৬ সালে আইনে সম্পূর্ণ অবৈধ। যত দলিল অপসোনিন কোম্পানিকে দেয়া হয়েছে। এর মূল মালিকানা স্বত্ব ২৩০/৬৫-৬৬ মিস বন্দোবস্ত কেসটি দলিলে উল্লেখ্য নাই। এসকল দলিলে জাগুয়া ইউনিয়ন জেএল ১২৭ নম্বর উল্লেখ্য করেছে, কিন্তু প্রকৃত পক্ষে জাগুয়া ইউনিয়ন জেএল নম্বর ৫৪। সকল দলিল জাল জালিয়াতি মাধ্যমে সৃষ্টি করা হয়েছে। তাছাড়া এই রাকিব খান ও রউফ খান কীর্তনখোলা নদীর স্রোত গতি পরিবর্তন করে, নদী ভরাট ও দখল করে পরিবেশের ভারসম্যের ব্যাঘাত ঘঠিয়ে শিল্প কারখানা গড়ে তুলেছেন। শত শত অসহায় গরীব মানুষের জমি এবং সরকারের খাস জমি অবৈধভাবে জবর দখল করেছে। এর সব কিছুর নেপথ্যে আমির হোসেন আমু। তিনি বলেন, এ নিয়ে ঝালকাঠি আদালতে মামলা করেছেন ভূক্তভোগীরা। মামলায় ২৩ বছর তারা কোর্টে হাজির না হয়ে, কোর্ট অবমাননা করেছেন। তারা অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের মাধ্যমে আইন কানুন আদালতকে তোয়াক্কা না করায়, তাদের বিরুদ্ধে আদালত জি আর মামলা নং ৩১/২৫ এবং সি আর ১৪৭/২৫ নং মামলায় গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করে। আমির হোসেন আমুর অবৈধ ক্ষমতার দাপটে বহু অসহায় গরীব মানুষের ভূমি জবর দখল করে নিয়েছে। জাল-জালিয়াতির মূল হোতা অপসোনিন ফার্মার অসাধু কর্মকর্তা মো. পারভেজ আহমেদ, রফিক আহম্মেদ, জসিম উদ্দিন, ফিরোজ আহমেদ বলে উল্লেখ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- ভূক্তভোগী জালাল আহমেদ খান, জাহাঙ্গীর খান, সিরাজুল ইসলাম গাজী, সাইফুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সাইফুল। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, 'হাইকোর্ট নদীগুলোকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করেছেন। এর মানে স্থানীয় প্রশাসনের এখতিয়ার রয়েছে অবিলম্বে দখলদারদের উচ্ছেদ করার।'তিনি বলেন, 'আমি বুঝতে পারছি না কেন তারা এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।   অপসোনিনের বক্তব্য : অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান “অপসোনিন”-এর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়েছে, তারা কোনো অবৈধ দখলে জড়িত নয়। তাদের দাবি, সব স্থাপনা বৈধ অনুমোদনের ভিত্তিতেই নির্মিত এবং পরিবেশগত মানদণ্ড মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তব পরিস্থিতি সেই দাবির সঙ্গে মিলছে না।   করণীয় ও সুপারিশ: বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতি মোকাবেলায় কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপের কথা বলেছেন— নদীর সীমানা নির্ধারণ করে দখলমুক্ত করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দ্রুত অভিযান, শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি, স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা। সুগন্ধা ও কীর্তনখোলার মোহনা শুধু নদীপথ নয়, বরং এ অঞ্চলের অর্থনীতি, জীবিকা ও পরিবেশের প্রাণকেন্দ্র। দখল ও দূষণের এই চক্র অব্যাহত থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই নদীগুলোকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। সুগন্ধা ও কীর্তনখোলার মোহনায় যা ঘটছে তা শুধু একটি নদী দখলের ঘটনা নয়— এটি পরিবেশ, অর্থনীতি, ভূমি অধিকার ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার সম্মিলিত সংকট। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে— নদীর নাব্যতা হারাবে,জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে,হাজারো মানুষের জীবিকা বিপন্ন হবে, নদী রক্ষার লড়াই এখন সময়ের দাবি।    

নিজস্ব প্রতিবেদক

অনুসন্ধানী সংবাদ

View more
সাদেকুর রহমান
বন বিভাগে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: সিন্ডিকেট ও অনিয়ম

বন অধিদপ্তরের ‘সুফল (টেকসই বন ও জীবিকা)’ প্রকল্পে প্রায় ১.৫ কোটি টাকা বাগান সৃজন না করে আত্মসাৎ করার অভিযোগে তৈরি হয়েছে তীব্র অস্থিরতা। অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের এক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারি তহবিল আত্মসাত ও ঘুষ প্রদান করে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করার — অথচ এক বছরেও কোনো কার্যকর তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সরকারি হিসাব ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের কুমিরা রেঞ্জে ৭০ ও ১০ হেক্টর জমিতে বাগান সৃজনের কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি। নির্ধারিত মান পূরণে ব্যর্থতার বিষয়টি বন বিভাগীয় পর্যায়ে “ওপেন সিক্রেট” হলেও এখন পর্যন্ত সংঘবদ্ধ অভিযোগের কোনো প্রভাবশালী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।গত এক বছর ধরে এই অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি বন বিভাগে ‘ওপেন সিক্রেট’ হলেও এখনো কোনো কার্যকর তদন্ত হয়নি। বরং অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সাদেকুর রহমানকে শাস্তির পরিবর্তে ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি দিয়ে কক্সবাজারের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা বন বিভাগের ‘লোভনীয় পোস্টিং’ হিসেবে পরিচিত। অভিযোগের মূল পয়েন্ট • পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন ইউনিটে ঘুষ দিয়ে প্রকল্পের সত্যতা লুকানোর চেষ্টা করা হয়েছে, অভিযোগ পাওয়া গেছে। • অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এক কর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি পেয়ে কক্সবাজারের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জে বদলি হয়েছেন — বন বিভাগের মধ্যে এটিকে “লোভনীয় পোস্টিং” হিসেবেও দেখা হচ্ছে। • সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বদলি ও পদোন্নতির মাধ্যমে এই ঘটনার অনুসন্ধান সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। প্রকল্প বাস্তবায়নে চরম অনিয়ম গত ২৬ নভেম্বর, উপবন সংরক্ষক উম্মে হাবিবা চট্টগ্রাম বিভাগের বন কর্মকর্তার কাছে চিঠি দেন, যাতে ৭ দিনের মধ্যে কুমিরা রেঞ্জে ব্যর্থতার দায়ে সংশ্লিষ্টদের তালিকা জমা দিতে বলা হয়। তবে সময়সীমা অতিক্রম করা সত্ত্বেও সেই তালিকা দপ্তরে পাঠানো হয়নি। এর আগের ২২ এপ্রিল পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ ছিল, • ১৭০ হেক্টর বাগানে জীবিত চারার হার ছিল মাত্র ৬০.২০%, • অন্য ১০ হেক্টরের বাগানে ছিল মাত্র ৫০.৪০%, যেখানে ন্যূনতম ৮০% জীবিত চারার হার থাকার কথা ছিল। অভিযুক্তরা এবং তাদের অবস্থান সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক ড. মোল্যা রেজাউল করিমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তিন কর্মকর্তা এই অর্থ আত্মসাতে জড়িত — সাদেকুর রহমান — কক্সবাজার ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা এস.এম. কায়চার — উপবন সংরক্ষক (বর্তমানে চট্টগ্রাম বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক পরিচালক) জয়নাল আবেদীন — সহকারী বন সংরক্ষক (বর্তমানে হবিগঞ্জে কর্মরত) জিজ্ঞাসা করলে, সাদেকুর রহমান বলেন, “আমি এখানে নতুন দায়িত্বে আছি; এ বিষয়ে ডিএফও’র সঙ্গে কথা বলুন।” এস.এম. কায়চার ফোন রিসিভ করেননি। জয়নাল আবেদীন বলেন, “আমি অভিযুক্ত, তাই কিছু বলতে পারব না।” ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠা কর্মকর্তার মন্তব্য পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন ইউনিটের উপবন সংরক্ষক উম্মে হাবিবার বিরুদ্ধেও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে, যদিও তিনি সেটা গণমাধ্যমে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। বন বিভাগে হতাশা ও দ্রুত তদন্তের দাবি এই দেড় কোটি টাকা আত্মসাত ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ নিয়ে বন বিভাগে ব্যাপক অস্থিরতা বিরাজ করছে। সরকারি হিসাব ও বন কর্মীদের অনেকে দাবি করেছেন — • দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক • দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক বাংলাদেশের সরকারি প্রকল্পে এমন ধরণের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জনমত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জোরদার হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ঢাকা ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী জুনায়েদ আবু ইয়াসির

ঢাকা ওয়াসা : নির্বাহী প্রকৌশলী জুনায়েদ আবু ইয়াসিরের দুর্নীতি, সিন্ডিকেট ও ক্ষমতার অপব্যবহার

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)

বিআরটিএর উপ-পরিচালক বদলির আদেশ বাতিল, ঘুষ-বাণিজ্য ও সিন্ডিকেট

নদী দখল - অপসোনিনের কবলে সুগন্ধা ও কীর্তনখোলার মোহনা -ইত্তেহাদ

ভয়াবহ নদী দখল : অপসোনিনের কবলে সুগন্ধা ও কীর্তনখোলা

বিটিভি চট্টগ্রামের জিএম ইমাম হোসাইন'র অনিয়ম-দুর্নীতি
বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জিএম ইমাম হোসাইন'র অনিয়ম-দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার পাহাড়: প্রতিমন্ত্রীর ক্ষোভে প্রশাসনে তোলপাড়

চট্টগ্রাম: রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনের চট্টগ্রাম কেন্দ্রে প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা, দায়িত্বে অবহেলা এবং সরকারি প্রটোকল ভঙ্গের এক বিব্রতকর চিত্র উঠে এসেছে  অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন একটি নির্ধারিত টকশোতে অংশ নিতে গিয়ে সেখানে চরম অব্যবস্থাপনার মুখে পড়েন। পরে তিনি বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ফোনে অবহিত করেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীকে। প্রতিমন্ত্রীর অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) ইমাম হোসাইন। বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে প্রতিমন্ত্রী: সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) ইফতারের পর একটি পূর্বনির্ধারিত টকশোতে অংশ নিতে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে যান ভূমি প্রতিমন্ত্রী। কিন্তু সেখানে পৌঁছে তিনি যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, তা একটি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও বিব্রতকর। ঘটনার সময় কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার ইমাম হোসাইন কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রীর আগমনের বিষয়টি জানা সত্ত্বেও তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই নিজ জেলা ফেনীতে অবস্থান করছিলেন। অন্ধকার ভিভিআইপি গেস্ট রুম, নষ্ট এসি: কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর প্রতিমন্ত্রীকে ভিভিআইপি গেস্ট রুমে নেওয়া হলে দেখা যায়— কক্ষটি অন্ধকার, বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, জেনারেটর চালু করা হয়নি,এসি নষ্ট, দরজা খোলার জন্যও কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী উপস্থিত নেই। শেষ পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রীর এপিএস নিজেই দরজা খুলে দেন। একটি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানে একজন মন্ত্রীর উপস্থিতিতে এমন অব্যবস্থাপনা প্রশাসনিক ব্যর্থতার স্পষ্ট উদাহরণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে দিয়ে প্রটোকল: বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীকে স্বাগত জানান কেন্দ্রটির নির্বাহী প্রযোজক মো. সফির হোসাইন, যিনি ইলন সফির নামেও পরিচিত। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিনি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়াও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে তার বিরুদ্ধে একটি মামলাও চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে একটি প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ এবং বিটিভির মহাপরিচালকের প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে তার বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত এমন একজন কর্মকর্তাকে দিয়েই একজন প্রতিমন্ত্রীকে প্রটোকল প্রদান করানো হয়েছে—যা উপস্থিত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাঝেও বিস্ময় ও ক্ষোভের জন্ম দেয়। অনেকেই মনে করছেন, এটি শুধু প্রশাসনিক অদক্ষতারই নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার চরম অবক্ষয়েরও একটি দৃষ্টান্ত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানে এমন সংবেদনশীল দায়িত্বে বিতর্কিত কর্মকর্তাকে সামনে আনা শুধু প্রটোকল ভঙ্গই নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত টকশো হয়নি: সূত্র জানায়, টকশোটি আগে থেকেই নির্ধারিত থাকলেও অন্য অতিথিদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়নি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনুষ্ঠান শুরু না হওয়ায় প্রতিমন্ত্রী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান এবং বিষয়টি সরাসরি তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীকে ফোনে জানান। পরে তিনি অনুষ্ঠান না করেই কেন্দ্র ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে জেনারেল ম্যানেজারের নির্দেশে একটি বিটিভি টিম প্রতিমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে সাক্ষাৎকার নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। জিএম ইমাম হোসাইনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ এবং অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ: সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রতিমন্ত্রীর আগমনের বিষয়টি জানা সত্ত্বেও জেনারেল ম্যানেজার ইমাম হোসাইন কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই নিজ জেলা ফেনীতে অবস্থান করছিলেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান। প্রশাসনিক বিধি অনুযায়ী কোনো কেন্দ্রপ্রধান কর্মস্থল ত্যাগ করতে চাইলে পূর্বানুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক। সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত ব্যবহারের অভিযোগ: অনুসন্ধানে জানা গেছে, জিএম ইমাম হোসাইন প্রায়ই সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কর্মস্থলের বাইরে ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিটিভির প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী জেনারেল ম্যানেজারের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি গাড়ি মূলত দাপ্তরিক কাজে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত। ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বা কর্মস্থলের বাইরে ব্যবহার করতে হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা বিধি লঙ্ঘনের প্রশ্ন: প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্মকর্তা যদি দায়িত্ব পালনের সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন এবং তার কারণে সরকারি কার্যক্রম ব্যাহত হয়, তাহলে তা গুরুতর প্রশাসনিক অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। Government Servants (Discipline and Appeal) Rules, 2018 অনুযায়ী— দায়িত্বে অবহেলা, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার, প্রশাসনিক কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। শিল্পী সম্মানী ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ: বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া ইমাম হোসাইন এর বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে— অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা, প্রশাসনিক নজরদারির অভাব, শিল্পী সম্মানীর অর্থ বণ্টনে অনিয়ম, প্রযোজকদের সঙ্গে আঁতাত করে অর্থ লেনদেন। এসব অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনা হলেও কার্যকর তদন্ত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে “চলতি দায়িত্ব”: সূত্র জানায়, প্রচলিত প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তাকে “চলতি দায়িত্ব” সাধারণত সীমিত সময়ের জন্য দেওয়া হয়। কিন্তু ইমাম হোসাইন প্রায় দেড় বছর ধরে জেনারেল ম্যানেজারের চলতি দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং এ সময় তিনি দায়িত্বভাতাও গ্রহণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার- বিতর্কে জিএম ইমাম হোসাইন: এদিকে অনুসন্ধানে বিভিন্ন সূত্রে আরও জানা গেছে, বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) মো. ইমাম হোসাইনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।বিশ্বস্ত সূত্র ও সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি অনুযায়ী, তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের আত্মীয় (ফুফাতো বোনের ছেলে) বলে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, এই রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব ব্যবহার করেই তিনি চাকরিতে প্রবেশ করেন এবং পরবর্তীকালে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালজুড়ে তিনি ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রশাসনিক বিতর্কের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর একটি জোট, যারা দীর্ঘদিন ধরে বিটিভির দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছে, তাদের কয়েকজন নেতার দাবি—চট্টগ্রাম কেন্দ্রের দায়িত্ব নেওয়ার পর ইমাম হোসাইনের সময়ে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আরও প্রকট হয়ে ওঠে। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, কেন্দ্রটিতে অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা ও শিল্পী সম্মানী বণ্টন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি প্রোগ্রাম ম্যানেজার থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে তাকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি কিছু প্রযোজকের সঙ্গে সমন্বয় করে শিল্পী সম্মানীর অর্থ বণ্টনে অস্বচ্ছতা তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। এদিকে প্রশাসনিক সূত্রগুলো আরও জানায়, প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তাকে “চলতি দায়িত্ব” সাধারণত সীমিত সময়ের জন্য দেওয়া হয় এবং তা দীর্ঘদিন বহাল থাকার কথা নয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ইমাম হোসাইন প্রায় দেড় বছর ধরে জেনারেল ম্যানেজারের চলতি দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং এ সময় তিনি দায়িত্বভাতাও গ্রহণ করছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিষয়টি প্রশাসনিক ও আইনি দিক থেকে পর্যালোচনার দাবি রাখে। “ম্যানেজ” করার চেষ্টা: ঘটনার পর জেনারেল ম্যানেজার ইমাম হোসাইন বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু প্রতিমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান সরকারের সময়ে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের কোন ধরনের অনিয়ম দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। ঢাকা কেন্দ্রের জিএম পদে নিয়োগ পেতে তৎপর ইমাম হোসাইন: সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ টেলিভিশন ঢাকা কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজারের শূন্য পদে নিয়োগ পাওয়ার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জিএম (চলতি দায়িত্ব) ইমাম হোসাইন সক্রিয় তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এ উদ্দেশ্যে তিনি বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে সুপারিশ আদায়ের চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি তাকে প্রায়ই সচিবালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় বলেও সূত্রগুলো দাবি করেছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে: গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম হিসেবে বিটিভির দায়িত্ব শুধু অনুষ্ঠান প্রচার নয়; বরং রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতার প্রতিফলন ঘটানো। কিন্তু একজন প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এমন অব্যবস্থাপনা প্রকাশ্যে আসায় প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মতামত জানতে ফোন করা হলেও সাড়া মেলেনি: এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেনারেল ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) ইমাম হোসাইনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে এ বিব্রতকর ঘটনার বিষয়ে বিটিভির ডিজির মতামত জানতে চাওয়া হলে তিনি  প্রতিবেদককে জানান যে, "এই ঘটনার বিষয়ে তিনি কোন কিছু জানেন না।"  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
গোমা সেতু

গোমা সেতু নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতি: ৫৭ কোটি থেকে ৯২ কোটিতে ব্যয় বৃদ্ধি, ৯ বছরে প্রকল্প শেষ

বরিশাল বিভাগে হাসপাতাল টেন্ডার সিন্ডিকেট

বরিশাল বিভাগে হাসপাতাল টেন্ডার সিন্ডিকেট: কৃষ্ণ পরিবারের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

রাজাপুর এলজিইডি প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার

রাজাপুরে এলজিইডি প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের অনিয়ম: তদন্তে বেরিয়ে আসছে দুর্নীতির চিত্র

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব ও উপব্যবস্থাপক  আহম্মদুল্লাহ
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন: সিন্ডিকেট, নিয়োগ জালিয়াতি ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ আহম্মদুল্লাহর বিরুদ্ধে

বিপিসিতে ‘ক্ষমতার সিন্ডিকেট’ অভিযোগে চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব আহম্মদুল্লাহ বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)-এ দুর্নীতি, নিয়োগ জালিয়াতি এবং টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের বিস্তৃত অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব ও উপব্যবস্থাপক মো. আহম্মদুল্লাহ। বিপিসির ভেতরের একাধিক কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে অস্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করে তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন প্রকল্পে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগ আহম্মদুল্লাহ অস্বীকার করেছেন এবং সেগুলোকে “ভিত্তিহীন” বলে দাবি করেছেন। নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন সূত্রগুলোর দাবি, ২০১৯ সালে বিপিসিতে যোগদানের পর থেকেই আহম্মদুল্লাহ দ্রুত ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমানের সঙ্গে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার সূত্রে তিনি বিপিসিতে চাকরি পান। স্থানীয় সূত্র বলছে, একসময় তিনি সামছুর রহমানের মেয়ের গৃহশিক্ষক ছিলেন এবং সেই সম্পর্ক থেকেই তার চাকরির পথ তৈরি হয়। তবে তার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলার দিবাকরকাঠি গ্রামের বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও তিনি ঢাকা জেলার কোটা ব্যবহার করে চাকরি নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় কমিটির সক্রিয় সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করে প্রত্যয়নপত্র জমা দেওয়ার কথাও বলছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। সমালোচকদের মতে, এই রাজনৈতিক পরিচয়কেই তিনি বিপিসির ভেতরে প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। নিয়ম ভেঙে দীর্ঘদিন একই পদে বিপিসিতে চেয়ারম্যানের একান্ত সহকারীর পদ সাধারণত সহকারী ব্যবস্থাপক বা ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা পালন করেন। কিন্তু আহম্মদুল্লাহ উপব্যবস্থাপক বা ৬ষ্ঠ গ্রেডে থেকেও বছরের পর বছর ওই পদে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিপিসির প্রবিধানমালা অনুযায়ী এটি নিয়মবহির্ভূত হলেও দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি বহাল রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এ নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও তার প্রভাবের কারণে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না বলে জানিয়েছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। রহস্যজনকভাবে বাতিল বদলি আদেশ ২০২১ সালের ৩ অক্টোবর তৎকালীন চেয়ারম্যান এবিএম আজাদ দুর্নীতির অভিযোগে আহম্মদুল্লাহকে চট্টগ্রামের প্রধান কার্যালয়ে বদলির আদেশ দেন। কিন্তু বিস্ময়করভাবে মাত্র একদিনের ব্যবধানে সেই আদেশ বাতিল হয়ে যায়। এরপর তিনি আবার আগের পদেই দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। বিপিসির অনেক কর্মকর্তা এই ঘটনাকে তার অদৃশ্য ক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। অবৈধ সম্পদের অভিযোগ বিপিসির ভেতরের কয়েকটি সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আহম্মদুল্লাহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী— ঢাকার মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও জমি গ্রামের বাড়িতে বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স ভবন মিরপুর এলাকায় দুটি রেস্টুরেন্ট ব্যবসা কোটি কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র ও এফডিআর একটি বেসরকারি ব্যাংকের শেয়ার ক্রয় গোপন লকারে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ এছাড়া স্ত্রী ও আত্মীয়স্বজনের নামেও বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ‘বরিশাল সিন্ডিকেট’ অভিযোগ বিপিসির ভেতরে তার প্রভাব বজায় রাখতে আহম্মদুল্লাহ “বরিশাল সিন্ডিকেট” নামে পরিচিত একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জ্বালানি খাতের অন্তত ১০ জন কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। যাদের বেশিরভাগই তার নিজ অঞ্চলের বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিভাগে তার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সহযোগী হিসেবে আরেক কর্মকর্তার নাম এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সহযোগী হিসেবে উপব্যবস্থাপক মো. আশিক শাহরিয়ারের নামও সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন ডিপো ও রিফাইনারি থেকে অর্থ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাকে “অঘোষিত ক্যাশিয়ার” হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, যোগ্যতার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও মাত্র তিন বছর ১৭ দিনের মধ্যে তার পদোন্নতি হয়েছে। আত্মীয়স্বজনের নিয়োগের অভিযোগ বিপিসির ঢাকা রেস্ট হাউস, লিয়াজো অফিস এবং অধীনস্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিজের আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া তার বিরাগভাজন হওয়ায় অনেক দক্ষ কর্মকর্তাকে বদলি করা বা চাকরি হারানোর ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বড় প্রকল্পেও প্রভাব বিপিসির কয়েকটি বড় উন্নয়ন প্রকল্পেও তার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে— এসপিএম প্রকল্প ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইন প্রকল্প ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্প অভিযোগ অনুযায়ী এসব প্রকল্পে শ্রমিক নিয়োগ ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ আরও অভিযোগ রয়েছে, দেশের একটি প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের ব্যাংকে বিপিসির বিপুল অর্থ জমা রাখার ব্যবস্থা করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এর বিনিময়ে তার আত্মীয়দের ওইসব ব্যাংকে চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই ব্যাংকগুলোতে বিপিসির প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা আটকে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ঘুষ ও মাসোয়ারার অভিযোগ কিছু সূত্রের দাবি, বেসরকারি রিফাইনারি থেকে মাসিক মাসোয়ারা গ্রহণ, বিটুমিন ও ক্রুড অয়েল আমদানির অনুমোদন পাইয়ে দিতে শিল্পগোষ্ঠীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ এবং ইস্টার্ন রিফাইনারির যন্ত্রাংশ ক্রয়ে অনিয়মের সঙ্গেও তার নাম জড়িয়েছে। ব্যাংক লেনদেনের তথ্য সাম্প্রতিক সময়ে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে আপ্যায়ন ও জ্বালানি বিল বাবদ ৫ লাখ ৫৯ হাজার ৯৫১ টাকা উত্তোলনের তথ্য সামনে এসেছে। এছাড়া একটি চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে সাবেক চেয়ারম্যানকে খুশি করার নামে এসি কেনার জন্য ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার ব্যাংক লেনদেনের তথ্যও প্রতিবেদকের হাতে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিপিসির নিয়োগ বাণিজ্যের অন্যতম মূল হোতা হিসেবেও তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বার্তাবাহক পদে ভুয়া ঠিকানায় নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাও তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবু এখনো তিনি দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। দুদকের অনুসন্ধান এদিকে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে জানা গেছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে নিজের সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন আহম্মদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, তিনি দীর্ঘদিন একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তার নিজ জেলা ঝালকাঠি। অন্য সব অভিযোগ “বানোয়াট ও ভিত্তিহীন” বলে দাবি করেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৯, ২০২৬ 0
জেবা আমিনা আহমেদ

বিএনপি নেত্রী জেবা আমিনার বিরুদ্ধে বাড়ি দখলের অভিযোগ

এলজিইডি প্রকৌশলী একরামুল দম্পতি অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদ

৪৯ হাজার টাকার বেতনে ৫০ কোটি টাকার সম্পদ!

বরিশাল সমবায় ব্যাংকের ত্রিশ কোটি টাকার সম্পদ বেদখল

বরিশাল সমবায় ব্যাংকের ত্রিশ কোটি টাকার সম্পদ বেদখল: উদ্ধারে নেই কোন তৎপরতা

অর্থনীতি

নীলফামারীতে ঝড়-শিলাবৃষ্টি

নীলফামারীতে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ৪৯৩ হেক্টর ফসলের ক্ষতি, বাড়তে পারে ক্ষয়ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0




অপরাধ

হাতিরঝিল থানার ওসি

‘নবীন’ পাঞ্জাবির দোকান বন্ধে চাপ: হাতিরঝিল থানার ওসি ক্লোজড, ডিএমপির তদন্ত কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা  দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0