বরিশাল অফিস : গাড়ি, বাড়ি, প্লট, ফ্ল্যাট-কী নেই বরিশালের ডোষ্ট পেট্রোল পাম্পের মালিক শাওন ও সুপারসনিক লঞ্চ মালিক স্বপনের। রীতিমতো গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। শুধু নিজের নামেই নয়; স্ত্রী ও স্বজনদের নামেও গড়েছেন বিপুল সম্পত্তি। এসব সম্পত্তি করেছেন জাল -জালিয়াতি,দুর্নীত ও অনিয়মের মাধ্যমে।অভিযোগ রয়েছে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ গড়ার।
দুদকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি তদন্ত শুরু করেছেন দুদক বরিশাল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক খন্দকার কামরুজ্জামান। দুদক প্রধান কার্যালয়,ঢাকার ০০,০১,০৬০০,৬৫২,০১,০৪৮,২৫-৫৬৯১৯, তারিখ: ২৯/১০/২০২৫ এর স্মারক, দুদক, প্রধান কার্যালয়, ঢাকার ই/আর নম্বর। মল্ট তদন্ত-২/৫৭৪/২৫/বরিশাল, তারিখ: ০৮/১০/২০২৫ ও দুদক, সজেকা, বরিশালের স্মারক নম্বর: ০০.০১.০৬০০,৭৪২,০১,০২৯.২৫-১৮৭৭ তারিখ: ০৯/১১/২০২৫ এ এই অভিযোগ তদন্ত শুরু করেছে বরিশাল দুদক অফিস।ইতিমধ্যে অভিযোগকারী ইমন খান ও বরিশালের ডোষ্ট পেট্রোল পাম্পের মালিক শাওন ও সুপারসনিক লঞ্চ মালিক স্বপনকে দুদক কার্যালয়ে তদন্তের জন্য ডেকে ছিল।
দুদকে বরিশালের ডোষ্ট পেট্রোল পাম্পের মালিক শাওন ও সুপারসনিক লঞ্চ মালিক স্বপনের বিরুদ্ধে কর ও ভ্যাট ফাঁকি,সরকারি জমি দখল,জাল জালিয়াতি,জাল বন্টন নামা সৃষ্টি,অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ,দুর্নীতি ও অনিয়ম এবং পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকারের দাপট দেখিয়ে জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জন করে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড় এই মর্মে অভিযোগ দিয়েছিল ইমন খান নামের এক ব্যক্তি।
ইমন খান লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন-
বরিশালের বিশিষ্টি ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার খানের মৃত্যুর পরে তার মালিকানাধীন ডোষ্ট ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশন জাল বন্টননামা সৃষ্টি করে ফিলিং স্টেশনটির দখল নেয় ওয়ালী মোহাম্মাদ খান শাওন। এই ফিলিং স্টেশনটি হয় শাওনের আলাদিনের চেরাগ।ফিলিং স্টেশনে ক্রেতাদের পেট্রোল,অকটেন, ডিজেলের পরিমাপে কম দেয়া,সরকারি -বেসরকারি অফিস প্রদত্ত পেট্রোল ও অকটেনের স্লিপ ক্রয়,সরকারি রাজস্ব ফাঁকি,ডিপো থেকে তেল নিয়ে পাচার,সরকারি জমি দখল,অনিয়ম দুর্নীতি করে শাওন গড়েছেন শতকোটি টাকার সম্পদ।এছাড়া পেট্রোল ,ডিজেল ও অকটেনের অবৈধ মুজুদদারীর অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘ দিনের।
একটি তেলের পাম্প থেকে শাওন অসংখ্য ফিলিং ষ্টেশন গড়েছেন। এগুলো হলো,ডোষ্ট এলপিজি,মেসার্স রাব্বি ফিলিং ষ্টেশন,মেসার্স সারা ফিলিং ষ্টেশন, মেসার্স ইউনিক ফিলিং ষ্টেশন,মেসার্স কামিনী ফিলিং ষ্টেশন,মেসার্স তুর্য্য ফিলিং ষ্টেশন,মেসার্স কনা ফিলিং ষ্টেশন,মেসার্স পাথরঘাটা ফিলিং ষ্টেশন।এছাড়া বরিশাল বিসিকে ৩০ শতাংশ জমির ওপর মেসার্স বরিশাল আয়রন এন্ড ইলিয়েড ইন্ডাস্ট্রিজ,গড়িয়ার পাড়ে ত্রিশ শতাংশ জমি ক্রয়,কাশিপুর হাইস্কুল সংলগ্ন ৩০ শতাংশ জমি ক্রয় ,সাগরদী পায়রা নার্সিং হোম নামক বিল্ডিং জমিসহ ক্রয়,কাটপট্টিতে চারতলা ভবন ও জমি,ডোস্ট পাম্পের বিপরীতে ৩০ শতাংশ জমি,ওয়াহেদিয়া স্কুলের পাশে জমি,রুপাতলী বিদ্যুৎ অফিসের পাশে ২০ শতাংশ জমি,আব্দুল্লাহ পরিবহন নামে ১৮টি বাস,ঢাকা বসুন্ধরায় ৩টি প্লট ,রাজা বাহাদুর সড়কে থ্রি প্লেক্স ভবন ও জমি,৪টি প্রাইভেটকার,একটি মাইক্রোবাসসহ নামে বেনামে শত কোটি টাকার সম্পদ ও নগদ অর্থ রয়েছে। এ ছাড়া দ্বিল মোহাম্মাদ খান স্বপনের রয়েছে এমভি সুপার সনিক ৩,এমভি সুপার সনিক ৬,এমভি সুপার সনিক ৭,এমভি সুপার সনিক ৮ ও সুপার সনিক ১০ নামে ৫টি লঞ্চ, একটি প্রাইভেট কারসহ নামে বেনামে শত কোটি টাকার সহায় সম্পদ।
তাদের দুজনের বিরুদ্ধে রয়েছে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ। এছাড়া দ্বিল মোহাম্মাদ খান স্বপন তার পিতা মৃত আব্দুস সাত্তার খানের রেখে যাওয়া এমভি সুপার সনিক (এম -১৫০৪৮) ও এমভি গোলাম রসুল (এম -১৫০৪৯) লঞ্চ দুটি ইমন খান নাবালক অবস্থায় স্ক্রাপ হিসেবে বিক্রি করে দিয়ে নিজ নামে লঞ্চ গড়েন।অথচ ইমনসহ অংশীদারদের কাউকে কোন অংশ প্রদান করেননি।সম্পূর্ন অর্থ আত্মসাৎ করেন।
দুদকের তদন্ত শুরু হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন ইমন খান।তিনি বলেন, তদন্তে সত্য বেড়িয়ে আসবে।ইমন খান বলেন,আমার পিতা আব্দুস সাত্তার খান মৃত্যুর সময় আমার বয়স ৮ বছর। পিতার মৃত্যুর বিশ দিন পরে আমার আপন ভাই দিল মোহাম্মদ খান স্বপন ও সৎ ভাই ওয়ালি মোহাম্মাদ খান শাওন যোগ সাজসে একটি বে আইনি আপোষ বন্টন নামা করে।আমি নাবালক হওয়া সত্ত্বেও আদালত থেকে কোন অনুমতি ছাড়াই বন্টনকৃত সম্পদ থেকে আমার প্রাপ্য অংশ রাখেনি।
ইমন খান বলেন, আমার পিতা আব্দুস সাত্তার খান লাইন রোডে ১০ শতাংশ জমির ওপর ভবন ,সাগরদী গাউসিয়া সড়কে ৯ শতাংশ জমির ওপর ২তলা ভবন,সাগরদীতে ডোস্ট ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশন নামে একটি পেট্রোল পাম্প, এম ভি সুপার সনিক ,এম ভি গোলাম রসুল নামে দুটি লঞ্চ,ফকিরবাড়ি সড়কে একটি দোকান,লাইন রোডে একটি দোকান,পোর্ট রোডে মৎস্য বাজারে তিনটি দোকান,৪ টি ট্যাংক লরি,বাংলাদেশ বানিজ্য ভান্ডার নামে একটি চালের আড়ৎ,৪ টি তেলের লাইসেন্স,২টি গ্যাসের লাইসেন্স রেখে গেছেন।ইমন খান বলেন, আমার পিতা তিন স্ত্রী , ৮ পুত্র ও দুই কন্যা রেখে ২০০৩ সালের ১৩ মার্চ ইন্তেকাল করেন।
আমার পিতার মৃত্যুর বিশ দিনের মধ্য সম্পত্তি ভাগ ভাটোয়ারা করা হয়।আমার অংশ না রেখেই।বন্টনে অনেক সম্পত্তির উল্লেখ না করে আমার পিতার সম্পত্তি গোপন রাখা হয়।আমার পিতার সম্পত্তি দিয়ে আমার ভাই দিল মোহাম্মাদ খান স্বপন ৫ টি লঞ্চ করেছে।গাড়ি রয়েছে।
আমার সৎ ভাই ওয়ালি মোহাম্মাদ খান শাওন ৭টি পেট্রোল পাম্প করেছে। বিসিক শিল্প নগরী,গড়িয়ার পাড়,কাশিপুর,সাগরদী,কাটপট্টি,ওয়াহেদ স্কুল সংলগ্ন, রুপাতলীতে জমি ক্রয় করেছে।আব্দুল্লাহ পরিবহন নামে ১৮টি বাস ক্রয় করেছে।ঢাকার বসুন্ধরায় ও রাজা বাহাদুর সড়কে জমি ক্রয় ও ভবন নির্মান ও তিনটি প্রাইভেট কার ও একটি মাইক্রোবাস ক্রয় করেছে।
অথচ আমার পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তির কোথাও আমার অংশ না রেখে আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে পৈত্তিক সম্পত্তি থেকে।ইমন খান ইতিমধ্যে লঞ্চ বিক্রির বিরুদ্ধে,স্বাক্ষর জালিয়াতি করা,আপোষ বন্টন নামা ও হেবার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।এ ব্যাপারে ইমন খান তিনি ন্যায় বিচার পেতে প্রশাসনসহ সকলের সহযোগীতা কামনা করেছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
বরিশাল অফিস : গাড়ি, বাড়ি, প্লট, ফ্ল্যাট-কী নেই বরিশালের ডোষ্ট পেট্রোল পাম্পের মালিক শাওন ও সুপারসনিক লঞ্চ মালিক স্বপনের। রীতিমতো গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। শুধু নিজের নামেই নয়; স্ত্রী ও স্বজনদের নামেও গড়েছেন বিপুল সম্পত্তি। এসব সম্পত্তি করেছেন জাল -জালিয়াতি,দুর্নীত ও অনিয়মের মাধ্যমে।অভিযোগ রয়েছে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ গড়ার। দুদকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি তদন্ত শুরু করেছেন দুদক বরিশাল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক খন্দকার কামরুজ্জামান। দুদক প্রধান কার্যালয়,ঢাকার ০০,০১,০৬০০,৬৫২,০১,০৪৮,২৫-৫৬৯১৯, তারিখ: ২৯/১০/২০২৫ এর স্মারক, দুদক, প্রধান কার্যালয়, ঢাকার ই/আর নম্বর। মল্ট তদন্ত-২/৫৭৪/২৫/বরিশাল, তারিখ: ০৮/১০/২০২৫ ও দুদক, সজেকা, বরিশালের স্মারক নম্বর: ০০.০১.০৬০০,৭৪২,০১,০২৯.২৫-১৮৭৭ তারিখ: ০৯/১১/২০২৫ এ এই অভিযোগ তদন্ত শুরু করেছে বরিশাল দুদক অফিস।ইতিমধ্যে অভিযোগকারী ইমন খান ও বরিশালের ডোষ্ট পেট্রোল পাম্পের মালিক শাওন ও সুপারসনিক লঞ্চ মালিক স্বপনকে দুদক কার্যালয়ে তদন্তের জন্য ডেকে ছিল। দুদকে বরিশালের ডোষ্ট পেট্রোল পাম্পের মালিক শাওন ও সুপারসনিক লঞ্চ মালিক স্বপনের বিরুদ্ধে কর ও ভ্যাট ফাঁকি,সরকারি জমি দখল,জাল জালিয়াতি,জাল বন্টন নামা সৃষ্টি,অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ,দুর্নীতি ও অনিয়ম এবং পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকারের দাপট দেখিয়ে জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জন করে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড় এই মর্মে অভিযোগ দিয়েছিল ইমন খান নামের এক ব্যক্তি। আরও পড়ুন: বরিশালে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে ইমন খানকে বঞ্চিত করার অভিযোগ ভাইদের বিরুদ্ধে ইমন খান লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন- বরিশালের বিশিষ্টি ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার খানের মৃত্যুর পরে তার মালিকানাধীন ডোষ্ট ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশন জাল বন্টননামা সৃষ্টি করে ফিলিং স্টেশনটির দখল নেয় ওয়ালী মোহাম্মাদ খান শাওন। এই ফিলিং স্টেশনটি হয় শাওনের আলাদিনের চেরাগ।ফিলিং স্টেশনে ক্রেতাদের পেট্রোল,অকটেন, ডিজেলের পরিমাপে কম দেয়া,সরকারি -বেসরকারি অফিস প্রদত্ত পেট্রোল ও অকটেনের স্লিপ ক্রয়,সরকারি রাজস্ব ফাঁকি,ডিপো থেকে তেল নিয়ে পাচার,সরকারি জমি দখল,অনিয়ম দুর্নীতি করে শাওন গড়েছেন শতকোটি টাকার সম্পদ।এছাড়া পেট্রোল ,ডিজেল ও অকটেনের অবৈধ মুজুদদারীর অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘ দিনের। একটি তেলের পাম্প থেকে শাওন অসংখ্য ফিলিং ষ্টেশন গড়েছেন। এগুলো হলো,ডোষ্ট এলপিজি,মেসার্স রাব্বি ফিলিং ষ্টেশন,মেসার্স সারা ফিলিং ষ্টেশন, মেসার্স ইউনিক ফিলিং ষ্টেশন,মেসার্স কামিনী ফিলিং ষ্টেশন,মেসার্স তুর্য্য ফিলিং ষ্টেশন,মেসার্স কনা ফিলিং ষ্টেশন,মেসার্স পাথরঘাটা ফিলিং ষ্টেশন।এছাড়া বরিশাল বিসিকে ৩০ শতাংশ জমির ওপর মেসার্স বরিশাল আয়রন এন্ড ইলিয়েড ইন্ডাস্ট্রিজ,গড়িয়ার পাড়ে ত্রিশ শতাংশ জমি ক্রয়,কাশিপুর হাইস্কুল সংলগ্ন ৩০ শতাংশ জমি ক্রয় ,সাগরদী পায়রা নার্সিং হোম নামক বিল্ডিং জমিসহ ক্রয়,কাটপট্টিতে চারতলা ভবন ও জমি,ডোস্ট পাম্পের বিপরীতে ৩০ শতাংশ জমি,ওয়াহেদিয়া স্কুলের পাশে জমি,রুপাতলী বিদ্যুৎ অফিসের পাশে ২০ শতাংশ জমি,আব্দুল্লাহ পরিবহন নামে ১৮টি বাস,ঢাকা বসুন্ধরায় ৩টি প্লট ,রাজা বাহাদুর সড়কে থ্রি প্লেক্স ভবন ও জমি,৪টি প্রাইভেটকার,একটি মাইক্রোবাসসহ নামে বেনামে শত কোটি টাকার সম্পদ ও নগদ অর্থ রয়েছে। এ ছাড়া দ্বিল মোহাম্মাদ খান স্বপনের রয়েছে এমভি সুপার সনিক ৩,এমভি সুপার সনিক ৬,এমভি সুপার সনিক ৭,এমভি সুপার সনিক ৮ ও সুপার সনিক ১০ নামে ৫টি লঞ্চ, একটি প্রাইভেট কারসহ নামে বেনামে শত কোটি টাকার সহায় সম্পদ। তাদের দুজনের বিরুদ্ধে রয়েছে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ। এছাড়া দ্বিল মোহাম্মাদ খান স্বপন তার পিতা মৃত আব্দুস সাত্তার খানের রেখে যাওয়া এমভি সুপার সনিক (এম -১৫০৪৮) ও এমভি গোলাম রসুল (এম -১৫০৪৯) লঞ্চ দুটি ইমন খান নাবালক অবস্থায় স্ক্রাপ হিসেবে বিক্রি করে দিয়ে নিজ নামে লঞ্চ গড়েন।অথচ ইমনসহ অংশীদারদের কাউকে কোন অংশ প্রদান করেননি।সম্পূর্ন অর্থ আত্মসাৎ করেন। দুদকের তদন্ত শুরু হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন ইমন খান।তিনি বলেন, তদন্তে সত্য বেড়িয়ে আসবে।ইমন খান বলেন,আমার পিতা আব্দুস সাত্তার খান মৃত্যুর সময় আমার বয়স ৮ বছর। পিতার মৃত্যুর বিশ দিন পরে আমার আপন ভাই দিল মোহাম্মদ খান স্বপন ও সৎ ভাই ওয়ালি মোহাম্মাদ খান শাওন যোগ সাজসে একটি বে আইনি আপোষ বন্টন নামা করে।আমি নাবালক হওয়া সত্ত্বেও আদালত থেকে কোন অনুমতি ছাড়াই বন্টনকৃত সম্পদ থেকে আমার প্রাপ্য অংশ রাখেনি। ইমন খান বলেন, আমার পিতা আব্দুস সাত্তার খান লাইন রোডে ১০ শতাংশ জমির ওপর ভবন ,সাগরদী গাউসিয়া সড়কে ৯ শতাংশ জমির ওপর ২তলা ভবন,সাগরদীতে ডোস্ট ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশন নামে একটি পেট্রোল পাম্প, এম ভি সুপার সনিক ,এম ভি গোলাম রসুল নামে দুটি লঞ্চ,ফকিরবাড়ি সড়কে একটি দোকান,লাইন রোডে একটি দোকান,পোর্ট রোডে মৎস্য বাজারে তিনটি দোকান,৪ টি ট্যাংক লরি,বাংলাদেশ বানিজ্য ভান্ডার নামে একটি চালের আড়ৎ,৪ টি তেলের লাইসেন্স,২টি গ্যাসের লাইসেন্স রেখে গেছেন।ইমন খান বলেন, আমার পিতা তিন স্ত্রী , ৮ পুত্র ও দুই কন্যা রেখে ২০০৩ সালের ১৩ মার্চ ইন্তেকাল করেন। আমার পিতার মৃত্যুর বিশ দিনের মধ্য সম্পত্তি ভাগ ভাটোয়ারা করা হয়।আমার অংশ না রেখেই।বন্টনে অনেক সম্পত্তির উল্লেখ না করে আমার পিতার সম্পত্তি গোপন রাখা হয়।আমার পিতার সম্পত্তি দিয়ে আমার ভাই দিল মোহাম্মাদ খান স্বপন ৫ টি লঞ্চ করেছে।গাড়ি রয়েছে। আমার সৎ ভাই ওয়ালি মোহাম্মাদ খান শাওন ৭টি পেট্রোল পাম্প করেছে। বিসিক শিল্প নগরী,গড়িয়ার পাড়,কাশিপুর,সাগরদী,কাটপট্টি,ওয়াহেদ স্কুল সংলগ্ন, রুপাতলীতে জমি ক্রয় করেছে।আব্দুল্লাহ পরিবহন নামে ১৮টি বাস ক্রয় করেছে।ঢাকার বসুন্ধরায় ও রাজা বাহাদুর সড়কে জমি ক্রয় ও ভবন নির্মান ও তিনটি প্রাইভেট কার ও একটি মাইক্রোবাস ক্রয় করেছে। অথচ আমার পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তির কোথাও আমার অংশ না রেখে আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে পৈত্তিক সম্পত্তি থেকে।ইমন খান ইতিমধ্যে লঞ্চ বিক্রির বিরুদ্ধে,স্বাক্ষর জালিয়াতি করা,আপোষ বন্টন নামা ও হেবার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।এ ব্যাপারে ইমন খান তিনি ন্যায় বিচার পেতে প্রশাসনসহ সকলের সহযোগীতা কামনা করেছেন।
২৪ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব তানিয়া ফেরদৌস স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অধ্যাপক প্রিম রিজভীকে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম)‑এর পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও বাস্তবায়ন) পদে পদায়ন করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোয় এই নিয়োগকে নিয়ে একধরনের দীর্ঘস্থায়ী অসন্তোষ ও প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। শিক্ষা প্রশাসনের ভেতরে যারা দীর্ঘদিন কাজ করছেন, তাদের একটি অংশ মনে করছেন, এটি শুধুমাত্র আরেকটি “পদায়ন” নয়। এটি বাংলাদেশের প্রশাসন ও রাজনৈতিক আনুগত্যের মিলনক্ষেত্র এবং দীর্ঘ মেয়াদী রাজনৈতিক প্রভাবকে শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িয়ে দেয়া একটি নতুন অধ্যায়। এই প্রতিবেদনটি রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, ন্যায্য পদায়ন নীতি, ক্যাডার রাজনীতি এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা নিয়ে বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করবে। অধ্যাপক প্রিম রিজভী: পেশাগত পথ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট প্রিম রিজভী বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের ১৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তিনি ২০০৩ সালে কর্মজীবন শুরু করেন ঢাকা কলেজে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে, এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে দায়িত্ব পালন ও পদোন্নতি লাভ করেন। রাজনৈতিক প্রভাবের প্রেক্ষাপটে তার কর্মজীবনের প্রধান স্টেজগুলো ছিল: মাধ্যমিক স্তরে নারী শিক্ষার সম্প্রসারণ ও শিক্ষার মান উন্নয়ন প্রকল্প (SESP)‑এ সহকারী পরিচালক SEQAEP (World Bank অর্থায়নে)‑এ সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ও চেয়ারম্যান পদ BANBEIS‑এর উপ‑পরিচালক (প্রশাসন) মাউশির প্রশিক্ষণ শাখা‑এ উপ‑পরিচালক এনসিটিবি‑র বিশেষজ্ঞ পদে পদায়ন ইত্যাদি প্রিম রিজভীর কর্মজীবনের ব্যাখ্যায় বারবার রাজনৈতিক প্রবণতা ও ক্ষমতার কেন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্কের অঙ্গেজন স্পষ্ট হয়। রাজনৈতিক প্রভাবের সূত্র: প্রিম রিজভী দেশের রাজনৈতিক অস্থির সময়েও তার নেতৃত্ব ও পদায়ন ধরে রেখেছেন—বিশেষত: আওয়ামী লীগের শাসন আমল (২০০৮‑২০১৪) অন্তর্বর্তী সরকার আমল বর্তমান বিএনপি সরকার আমল এতে প্রশ্ন উঠেছে যে সরকারের পরিবর্তনের সাথে সাথে কি আদৌ তার পদায়নে পারদর্শিতা/যোগ্যতা মূল ভিত্তি ছিল নাকি রাজনৈতিক সহায়তা ও প্রভাব প্রধান ভূমিকা নিয়েছে? পদায়নের বিরোধিতা: শিক্ষাক্যাডারের অভ্যন্তরীণ অবস্থা শিক্ষা ক্যাডারের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী: 👉 অধ্যাপক প্রিম রিজভীকে পরিচালক পদে নিয়োগের প্রজ্ঞাপনের পর অবিলম্বে ক্ষোভের সঙ্কেত। বিভিন্ন শিক্ষাক্যাডার কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন যে: দীর্ঘমেয়াদী প্রশাসনিক ভূমিকার পরও উচ্চতর পদে পদায়নে নির্দিষ্ট নিয়মানুযায়ী স্বচ্ছতা ছিল না রাজনৈতিক প্রবণতা ও পুরোনো রাজনৈতিক প্রভাব তার জন্য সুবিধা সৃষ্টি করেছে অনেক কর্মী দীর্ঘদিন অপেক্ষা করলেও পদোন্নতি পায়নি, অথচ রিজভীর মতো কর্মকর্তাদের দ্রুত পদায়ন দেওয়া হয়েছে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন: “শুধু নীতিগত ভুল নয়, এটি আমাদের ক্যাডারের ন্যায্য সুযোগের প্রতি আস্থা ভেঙে দেয়। দীর্ঘদিন কাজ করে যারা অধীনজীবনে আছে, তারা দেখছে শক্তিশালী রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডই নিয়োগের প্রধান ক্রাইটেরিয়া।” এসব মন্তব্য দেশের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও ক্যাডার নিয়োগে ন্যায্যতার প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব বনাম প্রশাসনিক ন্যায্যতা: বিশ্লেষণ বাংলাদেশে প্রশাসনিক নিয়োগ ও পদায়নকে নিয়ে দীর্ঘদিন বিচার্য প্রশ্ন ওঠে—বিশেষত যখন রাজনৈতিক দলগুলি ক্ষমতায় আসে বা যায়। প্রশাসনিক নিযুক্তি কখনো না কখনো রাজনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গে জড়িত হওয়ায় তা স্বচ্ছতার প্রশ্নের সামনে আসে। বিশ্লেষকরা বলে থাকেন: 👉 প্রশাসনিক পদায়নে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অবশ্যই প্রাধান্য পাওয়া উচিত। 👉 কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, রাজনৈতিক সমর্থন, প্রভাব ও সম্পর্ক বড় ভূমিকা রাখে। উদাহরণস্বরূপ, প্রিম রিজভীর ক্ষেত্রে: তিনি আওয়ামী লীগ আমল, অন্তর্বর্তী আমল ও বিএনপি আমল—তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। পুরো ১৭ বছর তিনি প্রশাসনিক ক্ষমতার কেন্দ্রের সাথে যুক্ত ছিলেন, এবং আজও তিনি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। এতে প্রশ্ন ওঠে যে কি তিনি প্রকৃতপক্ষে অগ্রাধিকারযোগ্য কর্মদক্ষতা ও যোগ্যতার আধারেই পদায়ন লাভ করেছেন, নাকি রাজনৈতিক সংকীর্ণতার কারণে বিভিন্ন শাসনামলের প্রভাব এখানে কাজ করেছে? রাষ্ট্রীয় প্রতিক্রিয়া: শিক্ষা সচিবের বক্তব্য যদিও শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক সাংবাদিকদের বলেন: “এই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।” এতে একটি ইতিবাচক বিষয়ে ইঙ্গিত থাকলেও শূন্য প্রতিশ্রুতির প্রতিচ্ছবি ও প্রশ্নও তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক স্তরে দায়িত্বশীলদের মতো তারা যদি এখনো প্রেক্ষাপটের সত্যতা যাচাইয়ে সচেষ্ট হন, তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। সমালোচকদের বক্তব্য: শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতার অভাব বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক বদরুল ইসলাম বলেন, “যদি আওয়ামী আমলের সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়, তাহলে তা শিক্ষা ক্যাডার কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়াবে। এটা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য ক্ষতিকারক।” তাঁর মতে: ক্যাডার নিয়োগে ফুল ফর্মালিটি ও নথিভুক্ত প্রমাণ থাকা উচিত রাজনৈতিক অবস্থান নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন নির্ধারণ করা উচিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলের বাইরে রাখা অবশ্যই জরুরি এই মন্তব্যগুলো প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও ক্যাডার নিয়োগ নীতির সমালোচনা হিসেবে সামনে এসেছে। প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া: কর্মরত কর্মকর্তাদের অনুভূতি শিক্ষা ক্যাডারের মধ্যে প্রভাবমুক্ত সূত্রগুলোর মতে: অনেকে মনে করেন, দীর্ঘকাল ধরে যারা উচ্চতর দায়িত্বে নেই, তারা অবমূল্যায়িত বোধ করছেন অন্যদিকে, রিজভীর সমর্থকরা মনে করেন তিনি অভিজ্ঞ, পরিচিত ও প্রশাসনিক কাজে পারদর্শী তবে দিনের শেষে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্ব এক কর্মকর্তা বলেন: “চাকরির সুযোগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে যদি ঝুঁকি থাকে, তাহলে সেটা ক্যাডারের প্রতিরোধ শক্তিকে দুর্বল করে দেয়।” ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপট: শিক্ষাক্যাডার ও প্রশাসন শিক্ষা ক্যাডার ও প্রশাসনিক নিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে: 👉 স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীদের মধ্যে আস্থার পুনর্নির্মাণ করতে পারে। 👉 সরকারি সকল নিয়োগে ব্যাপক নথি ও তুলনামূলক বিশ্লেষণ প্রকাশ করা হলে যেকোন বিতর্ক হ্রাস পেতে পারে। একজন বিশ্লেষক মন্তব্য করেন: “যখন প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মাঝে অস্পষ্ট সম্পর্ক থাকে, তখন কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতার সঙ্কট দেখা দেয়।” প্রশাসন কি নিপুণ, নাকি রাজনৈতিক হাতের খেলা? প্রিম রিজভীর নায়েম পরিচালক পদায়ন শুধুমাত্র একটি নিয়োগের ঘটনা নয়। এটি বাংলাদেশের শিক্ষা প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব বনাম স্বচ্ছতা—এই টানাপোড়েনের একটি পরিচায়ক উদাহরণ। শিক্ষাক্যাডারের অভ্যন্তরীণ বিরোধ, রাজনৈতিক ফর্ক, এবং সরকারি প্রতিক্রিয়া—সব মিলিয়ে এটি শিক্ষা প্রশাসন ও সরকারি নিয়োগ নীতির বড় একটি ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার প্রশ্ন থেকে যায়: 👉 সরকার কি স্বচ্ছ তদন্ত করবে? 👉 শিক্ষাক্যাডারের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে নিরাশা কি কাটবে? 👉 রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত প্রশাসনিক নিয়োগ সম্ভব কি? এই প্রশ্নগুলো আগামী দিনে প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে। বছর দুয়েক আগে প্রিম রিজভী শিক্ষা সচিব বরাবর বদলির জন্য একটি দরখাস্ত দেন মাউশির তৎকালীন মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ (যিনি পতিত সরকারের রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ খানের আপন ভাগিনা) এর মাধ্যমে। সেখানে তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের এইচআরএম উইংয়ের উপ-পরিচালক, সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (এসইডিপি) ডেপুটি প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এর উর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ (মাধ্যমিক), জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এর বিশেষজ্ঞ (প্রাথমিক) এই তিন পদের যে কোনো একটিতে পদায়ন চেয়েছিলেন। বদলির এই দরখাস্তে তিনি উল্লেখ করেন, “বিনয়ের সাথে জানাচ্ছি যে, আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা সামসুল হকের একমাত্র কন্যা। আমার পিতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন সময় থেকে আমৃত্যু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর একান্ত সহযোগী ও আজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত ছিলেন। আমার পিতা ১৯৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে M.N.A পদে জয়লাভ করেন (আসন নং NE- 67, বাকেরগঞ্জ, বরিশাল) (কপি সংযুক্ত)। ১৯৭২ সালে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু গঠিত গণপরিষদে M.C.A হিসাবে যোগদান করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি ৯নং সেক্টরে পাক আর্মির সাথে মুখোমুখি যুদ্ধ করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধকালে সাময়িকভাবে স্বাধীন বাংলা সরকারের যোগাযোগ ও খাদ্য মন্ত্রীরও ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে ছিলেন। ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০০৮ (লিপ ইয়ার) এ তাঁর মৃত্যুর পরে জাতীয় মর্যাদায় তাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবি গোরস্থানে দাফন করা হয়।” অতএব আমাকে আবেদনকৃত পদের যে কোন একটিতে পদায়নের আবেদন জানাচ্ছি।
ঢাকা: প্রায় ৩০০ কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজ ও তাঁর পরিবারের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইতোমধ্যে দুদকের কমিশন সভায় মামলাটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। দুদকের উপপরিচালক আক্তারুল ইসলাম বুধবার গণমাধ্যমকে জানান, পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে শিগগিরই মামলাটি দায়ের করা হবে। দীর্ঘদিন অনুসন্ধান চালিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করার পর কমিশন মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সাবেক এমপি মহিউদ্দিন মহারাজের নিজের নামে প্রায় ৫১ কোটি ২৭ লাখ ৩২ হাজার ৬৩১ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া তাঁর পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের নামেও বিপুল পরিমাণ সম্পদের অসংগতি চিহ্নিত হয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী— স্ত্রী উম্মে কুলসুমের নামে প্রায় ৬ কোটি ৯৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ছেলে শাম্মাম জুনাইদ ইফতির নামে প্রায় ৬৪ কোটি ৯১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা ভাই মো. শামসুদ্দিনের নামে প্রায় ২১ কোটি ৮৬ লাখ ২৩ হাজার টাকা মো. সালাউদ্দীনের নামে প্রায় ২৭ কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা মিরাজুল ইসলাম মিরাজের নামে প্রায় ৯৯ কোটি ১২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা মিরাজের স্ত্রী মিসেস শামীমার নামে প্রায় ৭ কোটি ৯০ লাখ ৯৯ হাজার টাকা এই সম্পদের বৈধ উৎস দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা বলে জানিয়েছে দুদক। দুদক সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন খাত থেকে অর্থ সংগ্রহ, জমি এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রয় ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অস্বাভাবিক লেনদেন করে এসব সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হতে পারে। এর আগে মহিউদ্দিন মহারাজের বিরুদ্ধে প্রায় ১ হাজার ৭৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আটটি মামলা দায়ের করেছে দুদক। এসব মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পদ জব্দ ও ক্রোকের উদ্যোগ নেয় দুদক। সেই ধারাবাহিকতায় মহিউদ্দিন মহারাজ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা এবং সম্পদ জব্দের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী ভবিষ্যতে আরও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।