Brand logo light
ফিচার

সুনামগঞ্জের হাসাউড়ার আনারস: পাহাড়ি টিলার মিষ্টি অর্থনীতি, জিআই স্বীকৃতি ও রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0
আনারস..
আনারস..

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  মেঘ, পাহাড় আর হাওরের জেলা হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জ। কৃষিনির্ভর এ জেলার অর্থনীতিতে বোরো ধানের পাশাপাশি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে মৌসুমি ফল চাষ। সেই পরিবর্তনের অন্যতম উদাহরণ সীমান্তঘেঁষা হাসাউড়া এলাকার আনারস, যা স্থানীয় কৃষকদের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে।

জেলা শহরের সীমান্তবর্তী রঙ্গারচর ইউনিয়নের হাসাউড়া, রসুলপুর, দর্পগ্রাম, পেচাকোনা ও বনগাঁও এলাকায় বিস্তৃত টিলাভূমি এখন আনারস চাষের কেন্দ্রবিন্দু। বছরের পর বছর ধরে এসব এলাকায় বিশেষ এক জাতের আনারস চাষ হয়ে আসছে, যা স্থানীয়ভাবে ‘হাসাউড়ার আনারস’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনা, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং বাজার সম্প্রসারণ নিশ্চিত করা গেলে এই আনারস দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও জায়গা করে নিতে পারে।

পাহাড়ি টিলাজুড়ে আনারসের রাজ্য

সীমান্তবর্তী পূণ্যনগর এলাকার ছোট ছোট সবুজ টিলাগুলো বর্ষা মৌসুমে যেন এক বিশাল আনারস বাগানে পরিণত হয়। খাসিয়া সম্প্রদায়ের বসবাসঘেরা পাহাড়ি জনপদের এসব টিলায় চোখ যতদূর যায়, দেখা মেলে আনারসের সারি।

মে মাস থেকে ফল সংগ্রহ শুরু হলেও জুনজুড়ে চলে সবচেয়ে বড় বেচাকেনা। ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পাকা আনারস সংগ্রহে ব্যস্ত থাকেন কৃষকরা। এ সময় পুরো এলাকা ভরে ওঠে আনারসের মিষ্টি সুবাসে।

কেন আলাদা হাসাউড়ার আনারস?

স্থানীয় কৃষক ও ক্রেতাদের মতে, হাসাউড়ার আনারসের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য এর স্বাদ ও সুবাস।

এ অঞ্চলে মূলত ‘হানিকুইন’ জাতের আনারস চাষ হয়। এ জাতের আনারসে আঁশ তুলনামূলক কম, রস বেশি এবং স্বাদ অত্যন্ত মিষ্টি। ফলে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা সরাসরি বাগানে এসে আনারস সংগ্রহ করেন।

আনারস চাষি নিতাই চন্দ্র দাস জানান, বাজারে ‘হাসাউড়ার আনারস’ নাম শুনলেই ক্রেতারা আগ্রহ দেখান। পুরোপুরি পাকার পরই তারা ফল সংগ্রহ করেন, যাতে স্বাদ ও গুণগত মান অক্ষুণ্ণ থাকে।

আরেক চাষি ইসলাম উদ্দিন বলেন, এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। যারা একবার এ আনারস খায়, তারা পরবর্তী মৌসুমেও এর খোঁজ করে।

রাসায়নিক ছাড়াই উৎপাদন

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, আনারস চাষে তারা কোনো রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন না।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার, পরিচর্যা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর নির্ভর করেই ফল উৎপাদন করা হয়। ফলে আনারসের স্বাভাবিক স্বাদ ও গুণগত মান বজায় থাকে।

তবে কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের জন্য উৎপাদন পদ্ধতি, মান নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ কৃষি চর্চার বিষয়ে আরও প্রাতিষ্ঠানিক যাচাই প্রয়োজন হবে।

লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা, কিন্তু রয়ে গেছে চ্যালেঞ্জ

একটি উন্নতমানের আনারস উৎপাদনে কয়েক মাসের পরিচর্যা প্রয়োজন। চারা রোপণ, আগাছা পরিষ্কার, সেচ এবং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কৃষকদের দীর্ঘ সময় শ্রম দিতে হয়।

স্থানীয়দের মতে, বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—

  • আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাব
  • কৃষি প্রণোদনার সীমাবদ্ধতা
  • বাজার ব্যবস্থাপনায় মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব
  • রপ্তানি উপযোগী অবকাঠামোর ঘাটতি

কৃষকরা বলছেন, উৎপাদন বাড়লেও সংরক্ষণ সুবিধা না থাকায় অনেক সময় দ্রুত বিক্রি করতে বাধ্য হন তারা।

পতিত টিলায় নতুন সম্ভাবনা

দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিরুল হক জানিয়েছেন, হাসাউড়ার পাশের মাঠগাঁওসহ আরও কয়েকটি এলাকায় আনারস চাষের উপযোগী টিলাভূমি রয়েছে।

একই মত দিয়েছেন রঙ্গারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই। তার মতে, প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনা দেওয়া হলে বর্তমানে পতিত থাকা অনেক টিলায় আনারসের আবাদ সম্প্রসারণ করা সম্ভব।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. বুরহান উদ্দিনও মনে করেন, বর্তমানে যে পরিমাণ আনারস উৎপাদিত হচ্ছে, বাস্তবে তার কয়েকগুণ বেশি উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে।

৩০ হেক্টর আবাদ, সামনে রপ্তানির সম্ভাবনা

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হাসাউড়া এলাকায় প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে হানিকুইন জাতের আনারস চাষ হচ্ছে।

উৎপাদিত আনারসের মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা সরাসরি বাগান থেকে ফল সংগ্রহ করছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে মিষ্টি ও রসালো ফলের চাহিদা থাকায় এ আনারস রপ্তানিরও সম্ভাবনা দেখছে কৃষি বিভাগ।

জেলা কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক বলেন, সারাদেশে হানিকুইন আনারসের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে এবং স্থানীয় কৃষকদের আগ্রহও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জিআই স্বীকৃতির পথে হাসাউড়ার আনারস?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, স্বাদ, সুবাস এবং দীর্ঘদিনের চাষাবাদের ঐতিহ্য—সব মিলিয়ে ‘হাসাউড়ার আনারস’ জিআই (Geographical Indication) স্বীকৃতির জন্য শক্তিশালী দাবিদার হতে পারে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানিয়েছেন, হাসাউড়ার আনারসকে জিআই পণ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

যদি সেই স্বীকৃতি অর্জন সম্ভব হয়, তাহলে শুধু কৃষকরাই নয়, পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিও নতুন গতি পেতে পারে।

বিশ্লেষণ: স্থানীয় ফল থেকে জাতীয় ব্র্যান্ড?

হাসাউড়ার আনারসের গল্প কেবল একটি ফলের গল্প নয়। এটি সীমান্তবর্তী একটি অঞ্চলের কৃষি-অর্থনীতির পরিবর্তনের গল্প।

প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত একটি স্থানীয় ফল ইতোমধ্যে জাতীয় বাজারে পরিচিতি পেয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো—সরকারি সহায়তা, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা, ব্র্যান্ডিং এবং জিআই স্বীকৃতি নিশ্চিত করা গেলে কি ‘হাসাউড়ার আনারস’ বাংলাদেশের পরবর্তী কৃষি-রপ্তানি সাফল্যের উদাহরণ হতে পারবে?

বর্তমান বাস্তবতা বলছে, সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজন শুধু পরিকল্পিত বিনিয়োগ, বাজার সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের পাশে টেকসই সহায়তা। সেই সুযোগ কাজে লাগানো গেলে পাহাড়ি টিলার এই মিষ্টি ফল একদিন আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের পরিচয় বহন করতে পারে।

 
Popular post
সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফিচার

View more
সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ
বরিশালে আস্থার নাম সমাজসেবার মানবিক মুখ সাজ্জাদ পারভেজ

বরিশাল অফিস :    সরকারি চাকরি অনেকেই করেন। কিন্তু দায়িত্বের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক কম। বরিশালে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ সেই ব্যতিক্রমী মানুষদের একজন, যিনি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগেও অসহায়, দুস্থ ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন। সম্প্রতি সমাজসেবা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বরিশাল-এর অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে সাজ্জাদ পারভেজকে। তার এই পদায়নের খবর প্রকাশের পর সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং বিভিন্ন সামাজিক মহলে আনন্দ ও সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। দীর্ঘ কর্মজীবনে সততা, দায়িত্বশীলতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে তিনি সমাজসেবা অঙ্গনে একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন। কর্মদক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ সহকারী পরিচালক হিসেবে সম্মাননাও অর্জন করেছেন। সরকারি দায়িত্বের বাইরেও মানবিক উদ্যোগ সাজ্জাদ পারভেজের সহকর্মীরা জানান, সমাজসেবা অফিসে সহযোগিতা চাইতে এসে তার কাছ থেকে নিরাশ হয়ে ফিরে গেছেন—এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। সরকারি নীতিমালার কারণে কোনো ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তা দেওয়া সম্ভব না হলে, অনেক সময় তিনি নিজের ব্যক্তিগত অর্থ দিয়েও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বরিশালের বিভিন্ন হতদরিদ্র পরিবার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সহায়তায় নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। অনেক ক্ষেত্রেই এসব সহযোগিতা হয়েছে নীরবে, প্রচারের বাইরে। সমাজসেবাকে দেখেন মানবিক দায়িত্ব হিসেবে ১৯৯৭ সালে বরিশাল সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন সাজ্জাদ পারভেজ। এরপর দীর্ঘ সময় বরিশাল জেলা সমাজসেবা অফিসের সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সুনামের সঙ্গে। সহকর্মীদের মতে, সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। সাংবাদিকদের প্রতিও তিনি সহযোগিতাপরায়ণ ও ইতিবাচক মনোভাবের জন্য পরিচিত। বন্ধুদের সঙ্গে মানবিক উদ্যোগ সরকারি সহায়তার বাইরে ব্যক্তিগতভাবেও সামাজিক উদ্যোগ পরিচালনা করে আসছেন সাজ্জাদ পারভেজ। তিনি এসএসসি ১৯৮৪ ব্যাচের বন্ধুদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন '৮৪ ইভেন্ট' নামে একটি সামাজিক উদ্যোগ। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অসহায়, অবহেলিত ও দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা প্রদান করা হয়। বন্ধুদের ভাষ্য, যেখানেই কোনো অসহায় মানুষের খবর পান, সেখানেই সহযোগিতার চেষ্টা করেন সাজ্জাদ পারভেজ। নতুন দায়িত্ব নিয়ে প্রত্যাশা সমাজসেবা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বরিশালের অধ্যক্ষ হিসেবে তার নতুন দায়িত্ব গ্রহণকে সংশ্লিষ্টরা গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখছেন।তাদের প্রত্যাশা, তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং মানবিক নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে এবং সমাজসেবা খাতের মানবসম্পদ উন্নয়নে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।     একটি ছোট সহায়তা, বড় মানবিকতা সাজ্জাদ পারভেজের মানবিকতার মতোই সমাজে আরও অনেক নীরব মানবিক গল্প রয়েছে। এমনই একটি ঘটনার কথা জানালেন তার এক পরিচিত ব্যক্তি। প্রতিদিন ভোরে একটি পত্রিকা বাসায় পৌঁছে দিতে আসতেন এক সংবাদপত্র পরিবেশক। কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি জানান, পুরোনো মোটরসাইকেল চালাতে প্রতিদিন অতিরিক্ত খরচ ও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তাই তিনি একটি নতুন সাইকেল কিনতে চান। নিজের সঞ্চয় ছিল ৩ হাজার টাকা, কিন্তু আরও ৬ হাজার টাকার অভাবে তা সম্ভব হচ্ছিল না। স্ত্রী অনার্সে অধ্যয়নরত এবং দুই ছেলে স্কুলে পড়ায় সংসারের ব্যয় সামলে অতিরিক্ত অর্থ জোগাড় করা তার জন্য কঠিন হয়ে উঠেছিল। তার প্রয়োজন বিবেচনায় একটি দূরন্ত সাইকেল কিনে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সহায়তাটি পাওয়ার পর তিনি জানান, নতুন সাইকেল তার কর্মজীবনকে অনেক সহজ করে দেবে। মানবিকতার বার্তা সাজ্জাদ পারভেজের বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীরা মনে করেন, সমাজে যদি আরও বেশি মানুষ ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে সামাজিক বৈষম্য অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। তাদের ভাষায়, মানবিকতা কেবল একটি শব্দ নয়—এটি দায়িত্ববোধের একটি বাস্তব প্রয়োগ। আর সেই প্রয়োগের উদাহরণ হিসেবেই দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত হয়ে উঠেছেন সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ।  

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৫, ২০২৬ 0

ড্রাগনের রাজধানী গৌরীনাথপুর: কোটি টাকার বাজারে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য

উপকূলীয় দুমকী উপজেলায় লবণাক্ততা-সহনশীল ধান চাষে কৃষকের ভাগ্য বদল

লবণাক্ততার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দুমকীর কৃষকরা: জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি কীভাবে বদলে দিচ্ছে উপকূলের বাস্তবতা

সুপার গ্রিন লাউয়ে মিজানুরের সাফল্য

দিনাজপুরে ‘সুপার গ্রিন’ লাউয়ের বিপ্লব? তাক লাগালেন যুবক মিজানুর ,খামার ঘিরে বদলে যাচ্ছে কৃষকদের ভাবনা

আনারস..
সুনামগঞ্জের হাসাউড়ার আনারস: পাহাড়ি টিলার মিষ্টি অর্থনীতি, জিআই স্বীকৃতি ও রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  মেঘ, পাহাড় আর হাওরের জেলা হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জ। কৃষিনির্ভর এ জেলার অর্থনীতিতে বোরো ধানের পাশাপাশি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে মৌসুমি ফল চাষ। সেই পরিবর্তনের অন্যতম উদাহরণ সীমান্তঘেঁষা হাসাউড়া এলাকার আনারস, যা স্থানীয় কৃষকদের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে। জেলা শহরের সীমান্তবর্তী রঙ্গারচর ইউনিয়নের হাসাউড়া, রসুলপুর, দর্পগ্রাম, পেচাকোনা ও বনগাঁও এলাকায় বিস্তৃত টিলাভূমি এখন আনারস চাষের কেন্দ্রবিন্দু। বছরের পর বছর ধরে এসব এলাকায় বিশেষ এক জাতের আনারস চাষ হয়ে আসছে, যা স্থানীয়ভাবে ‘হাসাউড়ার আনারস’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনা, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং বাজার সম্প্রসারণ নিশ্চিত করা গেলে এই আনারস দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও জায়গা করে নিতে পারে। পাহাড়ি টিলাজুড়ে আনারসের রাজ্য সীমান্তবর্তী পূণ্যনগর এলাকার ছোট ছোট সবুজ টিলাগুলো বর্ষা মৌসুমে যেন এক বিশাল আনারস বাগানে পরিণত হয়। খাসিয়া সম্প্রদায়ের বসবাসঘেরা পাহাড়ি জনপদের এসব টিলায় চোখ যতদূর যায়, দেখা মেলে আনারসের সারি। মে মাস থেকে ফল সংগ্রহ শুরু হলেও জুনজুড়ে চলে সবচেয়ে বড় বেচাকেনা। ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পাকা আনারস সংগ্রহে ব্যস্ত থাকেন কৃষকরা। এ সময় পুরো এলাকা ভরে ওঠে আনারসের মিষ্টি সুবাসে। কেন আলাদা হাসাউড়ার আনারস? স্থানীয় কৃষক ও ক্রেতাদের মতে, হাসাউড়ার আনারসের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য এর স্বাদ ও সুবাস। এ অঞ্চলে মূলত ‘হানিকুইন’ জাতের আনারস চাষ হয়। এ জাতের আনারসে আঁশ তুলনামূলক কম, রস বেশি এবং স্বাদ অত্যন্ত মিষ্টি। ফলে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা সরাসরি বাগানে এসে আনারস সংগ্রহ করেন। আনারস চাষি নিতাই চন্দ্র দাস জানান, বাজারে ‘হাসাউড়ার আনারস’ নাম শুনলেই ক্রেতারা আগ্রহ দেখান। পুরোপুরি পাকার পরই তারা ফল সংগ্রহ করেন, যাতে স্বাদ ও গুণগত মান অক্ষুণ্ণ থাকে। আরেক চাষি ইসলাম উদ্দিন বলেন, এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। যারা একবার এ আনারস খায়, তারা পরবর্তী মৌসুমেও এর খোঁজ করে। রাসায়নিক ছাড়াই উৎপাদন স্থানীয় কৃষকদের দাবি, আনারস চাষে তারা কোনো রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন না। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার, পরিচর্যা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর নির্ভর করেই ফল উৎপাদন করা হয়। ফলে আনারসের স্বাভাবিক স্বাদ ও গুণগত মান বজায় থাকে। তবে কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের জন্য উৎপাদন পদ্ধতি, মান নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ কৃষি চর্চার বিষয়ে আরও প্রাতিষ্ঠানিক যাচাই প্রয়োজন হবে। লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা, কিন্তু রয়ে গেছে চ্যালেঞ্জ একটি উন্নতমানের আনারস উৎপাদনে কয়েক মাসের পরিচর্যা প্রয়োজন। চারা রোপণ, আগাছা পরিষ্কার, সেচ এবং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কৃষকদের দীর্ঘ সময় শ্রম দিতে হয়। স্থানীয়দের মতে, বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো— আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাব কৃষি প্রণোদনার সীমাবদ্ধতা বাজার ব্যবস্থাপনায় মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব রপ্তানি উপযোগী অবকাঠামোর ঘাটতি কৃষকরা বলছেন, উৎপাদন বাড়লেও সংরক্ষণ সুবিধা না থাকায় অনেক সময় দ্রুত বিক্রি করতে বাধ্য হন তারা। পতিত টিলায় নতুন সম্ভাবনা দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিরুল হক জানিয়েছেন, হাসাউড়ার পাশের মাঠগাঁওসহ আরও কয়েকটি এলাকায় আনারস চাষের উপযোগী টিলাভূমি রয়েছে। একই মত দিয়েছেন রঙ্গারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই। তার মতে, প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনা দেওয়া হলে বর্তমানে পতিত থাকা অনেক টিলায় আনারসের আবাদ সম্প্রসারণ করা সম্ভব। স্থানীয় বাসিন্দা মো. বুরহান উদ্দিনও মনে করেন, বর্তমানে যে পরিমাণ আনারস উৎপাদিত হচ্ছে, বাস্তবে তার কয়েকগুণ বেশি উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। ৩০ হেক্টর আবাদ, সামনে রপ্তানির সম্ভাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হাসাউড়া এলাকায় প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে হানিকুইন জাতের আনারস চাষ হচ্ছে। উৎপাদিত আনারসের মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা সরাসরি বাগান থেকে ফল সংগ্রহ করছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে মিষ্টি ও রসালো ফলের চাহিদা থাকায় এ আনারস রপ্তানিরও সম্ভাবনা দেখছে কৃষি বিভাগ। জেলা কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক বলেন, সারাদেশে হানিকুইন আনারসের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে এবং স্থানীয় কৃষকদের আগ্রহও বৃদ্ধি পাচ্ছে। জিআই স্বীকৃতির পথে হাসাউড়ার আনারস? বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, স্বাদ, সুবাস এবং দীর্ঘদিনের চাষাবাদের ঐতিহ্য—সব মিলিয়ে ‘হাসাউড়ার আনারস’ জিআই (Geographical Indication) স্বীকৃতির জন্য শক্তিশালী দাবিদার হতে পারে। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানিয়েছেন, হাসাউড়ার আনারসকে জিআই পণ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। যদি সেই স্বীকৃতি অর্জন সম্ভব হয়, তাহলে শুধু কৃষকরাই নয়, পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিও নতুন গতি পেতে পারে। বিশ্লেষণ: স্থানীয় ফল থেকে জাতীয় ব্র্যান্ড? হাসাউড়ার আনারসের গল্প কেবল একটি ফলের গল্প নয়। এটি সীমান্তবর্তী একটি অঞ্চলের কৃষি-অর্থনীতির পরিবর্তনের গল্প। প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত একটি স্থানীয় ফল ইতোমধ্যে জাতীয় বাজারে পরিচিতি পেয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো—সরকারি সহায়তা, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা, ব্র্যান্ডিং এবং জিআই স্বীকৃতি নিশ্চিত করা গেলে কি ‘হাসাউড়ার আনারস’ বাংলাদেশের পরবর্তী কৃষি-রপ্তানি সাফল্যের উদাহরণ হতে পারবে? বর্তমান বাস্তবতা বলছে, সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজন শুধু পরিকল্পিত বিনিয়োগ, বাজার সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের পাশে টেকসই সহায়তা। সেই সুযোগ কাজে লাগানো গেলে পাহাড়ি টিলার এই মিষ্টি ফল একদিন আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের পরিচয় বহন করতে পারে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0

ছয় বছরের অনুসন্ধানে কীভাবে বিশ্বের অন্যতম বড় কর্পোরেট জালিয়াতি উন্মোচন করেন ড্যান ম্যাকক্রাম

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ৩ শক্তিশালী টুল

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নতুন সহযোদ্ধা: তিন টুল যেভাবে বদলে দিচ্ছে তথ্য অনুসন্ধানের ধরন

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার প্রাণ- সাক্ষাৎকার

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় সাক্ষাৎকার: তথ্য যাচাই, সূত্র ব্যবস্থাপনা ও সত্য উদ্ঘাটনের কৌশল

ইত্তেহাদ নিউজ
ইত্তেহাদ নিউজ (Etihad News) অসহায়-নিপিড়িত ও নির্যাতিত মানুষের মুখপত্র

নজরুল ইসলাম :  ইত্তেহাদ নিউজ (Etihad News) বৃহৎ একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল।সত্য নিরপেক্ষতা ও দ্বায়িত্বশীল সাংবাদবকতার প্রতীক এই শ্লোগানকে ধারন করে ইত্তেহাদ নিউজের (Etihad News) পথচলা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এই অনলাইন গনমাধ্যমটি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। সংবাদ, অনিসন্ধানী সংবাদ,স্পেশাল সংবাদ পাঠকদের ও ভিজিটরদের মুগ্ধ করেছে।সততা ও সাহসের সাথে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশে সব সময়ই ইত্তেহাদ নিউজ এগিয়ে। জনপ্রিয় এই অনলাইন মাধ্যমটির সংবাদ ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ইত্তেহাদ নিউজ (Etihad News) সম্পাদকীয় পলিসি যথাযথ ভাবে অনুসরন করে আসছে প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই। ইত্তেহাদ নিউজের (Etihad News)  ব্যবহারের শর্তাবলী,প্রাইভেসি পলিসি রয়েছে।সবচেয়ে অনলাইন গনমাধ্যমটি সম্পাদকীয় পলিসির মাধ্যমে টরিচালনা করে আসছে।কারো কোন অভিযোগ থাকলে গনমাধ্যমটি কমপ্লাইন অপশন রেখেছে। এছাড়ানযে কেউ সম্পাদকের সাথে যোগাডোগ করার জন্য কন্টাক্ট অপশন রেখেছে।যাতে  করে যে কেউ দ্রুত কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে পারে।এছাড়া রয়েছে তাদের ডোগাযোগের জন্য ইমেল।তাদরর রয়েছে কুকিজ পলিসি।রয়েছে ফ্যাক্ট চেক পলিসি। গনমাধ্যমটি বিষয়ে বিস্তারবত জানতে হলে এ্যাবাউট আজএ ক্লিক করে জানতে পারবেন। ইত্তেহাদ নিউজ (Etihad News)  স্বাধীনভাবে সত্য সংবাদ প্রকাশে অবিচল।কারে রক্ত চক্ষুকে ভয় করেনা।ইত্তেহাদ নিউজ (Etihad News) সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে আপনি ইত্তেহাদ নিউজের (Etihad News)   সম্পাদকীয় নীতিমালা টড়তে পারেন। তাহলেই বুঝতে পারবেন ইত্তেহাদ নিউজ (Etihad News)  সকল গনমাধ্যম থেকে আলাদা একটি স্বাধীন গনমাধ্যম।জনস্বার্থ কে অগ্রাধীকার দিয়ে সব সময়ই সংবাদ প্রকাশ করে আসছে ইত্তেহাদ নিউজ। স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা (Editorial Independence & Impartiality) ইত্তেহাদ নিউজ  Etihad News)  সম্পূর্ণ সম্পাদকীয় স্বাধীনতা বজায় রেখে সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো রাজনৈতিক দল, সরকার, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির প্রভাবমুক্তভাবে সংবাদ পরিবেশন করা হয়। সংবাদে সব পক্ষের মতামত তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। ব্যক্তিগত মতামত ও সংবাদ প্রতিবেদনের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বজায় রাখা হয়।   ন্যায্যতা ও ভারসাম্য (Fairness & Balance) সংবাদ পরিবেশনে ন্যায্যতা ও ভারসাম্য বজায় রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিক্রিয়া নেওয়া হয়।   নৈতিক সাংবাদিকতা (Ethical Journalism) আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতার নৈতিক নীতিমালা অনুসরণ করা হয়। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, মর্যাদা ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখানো হয়। ঘৃণামূলক, সহিংসতা উসকে দেয় বা বৈষম্যমূলক কনটেন্ট প্রকাশ করা হয় না। শিশু ও সংবেদনশীল বিষয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা (Transparency & Accountability) পাঠকদের প্রতি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়। তথ্যের উৎস যথাসম্ভব স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়। পাঠকদের মতামত ও অভিযোগ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হয়। সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়। জনস্বার্থ (Public Interest) জনস্বার্থ আমাদের সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি। দুর্নীতি ও সামাজিক সমস্যার সংবাদে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। তথ্য প্রকাশে আইন ও নৈতিকতার ভারসাম্য রক্ষা করা হয়। ইত্তেহাদ নিউজ একটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যম, যা স্বতন্ত্র সম্পাদকীয় টিম দ্বারা পরিচালিত। অর্থায়ন অনলাইন বিজ্ঞাপন স্পন্সরড কনটেন্ট মিডিয়া পার্টনারশিপ অন্যান্য বৈধ উৎস ইত্তেহাদ নিউজ ( Etihad News)  সব সময়ই নির্ভুলতা,নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাষ করে। ইত্তেহাদ নিউজের ( Etihad News)   মুলনীতি হল-  যাচাই বাচাই প্রক্রিয়া - একাধিক নির্ভরযোগ্য উৎস যাচাই করা হয় সরকারি ও গবেষণামূলক ডেটা ব্যবহার করা হয় উৎসের বিশ্বাসযোগ্যতা পরীক্ষা করা হয় নৈতিকতা নীতি হল-  ভুয়া বা ক্ষতিকর তথ্য প্রকাশ করা হয় না মানবিক মূল্যবোধ বজায় রাখা হয় সংবেদনশীল বিষয় সতর্কতার সাথে প্রকাশ করা হয় সংশোধন নীতি হল- ভুল শনাক্তকরণ তথ্য যাচাই সংশোধন প্রকাশ সংশোধন নোট যোগ  যেকোন লেখক লেখা পাঠাতে পারেন। লেখা পাঠানোর জন্য  একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ইত্তেহাদ নিউজ। আপনি যদি  আপনার সংবাদ, প্রবন্ধ বা ফিচার পাঠাতে চান, তবে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে পারেন:  ১. সংবাদ পাঠানোর মাধ্যম  ইত্তেহাদ নিউজে  (Etihad News)  সংবাদ বা লেখা পাঠানোর প্রধান মাধ্যম হলো ইমেইল। আপনি আপনার লেখা সরাসরি নিচের ঠিকানায় পাঠাতে পারেন:      ইমেইল: [email protected] অথবা [email protected]  ২. সংবাদ পাঠানোর নিয়মাবলি  আপনার পাঠানো সংবাদটি যাতে প্রকাশের জন্য বিবেচিত হয়, সে জন্য নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি:     ফরম্যাট: সংবাদটি সাধারণত MS Word (.doc) ফাইল আকারে অথবা সরাসরি ইমেইল লিখে পাঠাতে পারেন।     ছবি: সংবাদের সাথে সংশ্লিষ্ট পরিষ্কার ছবি অবশ্যই যুক্ত করবেন। ছবিগুলো নিউজ ফাইলের সাতে অ্যাটাচমেন্ট হিসেবে পাঠানো ভালো।     তথ্যসূত্র: সংবাদটি অবশ্যই সত্য এবং বস্তুনিষ্ঠ হতে হবে। কোনো সুনির্দিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে তারিখ, স্থান এবং সঠিক তথ্য উল্লেখ থাকতে হবে।     লেখকের পরিচয়: সংবাদের নিচে আপনার পূর্ণ নাম, পেশা, বর্তমান ঠিকানা এবং মোবাইল নম্বর যুক্ত করবেন। প্রয়োজন হলে ইত্তেহাদ নিউজ কর্তৃপক্ষ আপনার সাথে যোগাযোগ করবরন। ৩. সংবাদ নীতিমালা     মৌলিকতা: লেখাটি অবশ্যই আপনার নিজের হওয়া উচিত। অন্য কোনো মাধ্যম থেকে কপি করা সংবাদ তারা গ্রহণ করে না।     নিরপেক্ষতা: ইত্তেহাদ নিউজ নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা অনুসরণ করে, তাই কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি উস্কানিমূলক বা বিদ্বেষমূলক লেখা পরিহার করতে হবে।     সম্পাদনা: পাঠানোর পর সম্পাদকীয় বোর্ড প্রয়োজন মনে করলে সংবাদের গুণগত মান রক্ষার্থে সেটি কিছুটা পরিমার্জন বা সম্পাদনা করতে পারে।  ৪. সরাসরি যোগাযোগ আপনি যদি কোনো বড় ঘটনা বা বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পাঠাতে চান, তবে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের Contact Us পাতায় গিয়ে সরাসরি বার্তা পাঠাতে পারেন।অথবা মেইলে যোগাযোগ করবেন।   ইত্তেহাদ নিউজ (Etihad News) সম্পর্কে আরও কিছু বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো: ১. পরিচালনা ও নেতৃত্ব •    সম্পাদক ও প্রকাশক: এই পোর্টালটির সম্পাদক এবং প্রকাশক হলেন এম এম রহমান (M M Rahman) । •   মামুনুর রশীদ নেমানী,আবাসিক সম্পাদক (বাংলাদেশ)। •    সদর দপ্তর: এটি সংযুক্ত আরব আমিরাত আবুধাবি  থেকে পরিচালিত হয় ।  ২. প্রধান লক্ষ্য ও কার্যক্রম •    প্রবাসীদের মুখপত্র: এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি কমিউনিটির সুখ-দুঃখ এবং সমস্যার কথা বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেওয়া । •    অংশগ্রহণমূলক সাংবাদিকতা: পোর্টালটি "যারাই লেখক, তারাই পাঠক"—এই নীতিতে বিশ্বাসী, যেখানে পাঠকদের মতামত এবং অবদানকে গুরুত্ব দেওয়া হয় [। •    অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা: এটি দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী এবং সাহসী সংবাদ প্রকাশের জন্য পরিচিতি পেয়েছে ।  ৩. সংবাদের ব্যাপ্তি ইত্তেহাদ নিউজ কেবল প্রবাস কেন্দ্রিক নয়, বরং বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন খবর অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রচার করে । তাদের উল্লেখযোগ্য কিছু বিভাগ হলো:  •    ইত্তেহাদ স্পেশাল ও এক্সক্লুসিভ: বিশেষ প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণধর্মী খবর । •    রাজনীতি ও অর্থনীতি: দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং বাণিজ্যিক আপডেট । •    লাইভ আপডেট: সরাসরি সংবাদ সরবরাহ এবং তাৎক্ষণিক ব্রেকিং নিউজ ।  ৪. ডিজিটাল উপস্থিতি •    অফিসিয়াল পোর্টাল: www.etihad.news •    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম: ফেসবুক এবং ইউটিউবে তাদের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে, যার মাধ্যমে তারা বিপুল সংখ্যক পাঠকের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে ।  ৫. যোগাযোগ ও অভিযোগ •    সরাসরি যোগাযোগ: সংবাদের প্রতিবাদ বা কোনো তথ্যের জন্য তাদের যোগাযোগ পাতা ব্যবহার করা যায়। (https://etihad.news/contact-etihad-news •    অভিযোগ ফর্ম: কোনো সংবাদের মান বা তথ্য নিয়ে আপত্তি থাকলে তাদের ওয়েবসাইটে একটি নির্দিষ্ট অভিযোগ ফর্ম (Complaint Form) রয়েছে, যেখানে প্রমাণসহ অভিযোগ জমা দেওয়া যায় । (https://etihad.news/complaint-form-etihad-news) লেখক : বিশেষ সংবাদদাতা, ইত্তেহাদ নিউজ,বাংলাদেশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৭, ২০২৬ 0
Etihad News

অনলাইন নিউজের জনপ্রিয়তা কেন বাড়ছে: দ্রুততা, এআই ও সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব

ইত্তেহাদ  নিউজ

ইত্তেহাদ নিউজ: নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনে নতুন দিগন্ত

সংবাদ স্ক্রিপ্ট লেখার আন্তর্জাতিক নিয়ম ও কৌশল

সংবাদ স্ক্রিপ্ট লেখার আন্তর্জাতিক নিয়ম ও কৌশল

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0