Brand logo light
মিডিয়া

ব্রিটিশ গণমাধ্যমে মুসলিমবিদ্বেষ

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ব্রিটিশ গণমাধ্যমে মুসলিমবিদ্বেষ সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে
ব্রিটিশ গণমাধ্যমে মুসলিমবিদ্বেষ সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে

আসুন আমরা এই ভদ্রোচিত মিথ্যাটি বাদ দিই যে ব্রিটিশ সাংবাদিকতা মুসলিমদের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করে। তারা তা করে না। আর বর্তমানের তথ্য-উপাত্ত, যা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত, তা সন্দেহাতীতভাবেই এটি প্রমাণ করে।

 

'সেন্টার ফর মিডিয়া মনিটরিং' ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে মুসলিমদের উপস্থাপনার ওপর এযাবৎকালের সবচেয়ে কঠোর ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের ফলাফল প্রকাশ করেছে। গবেষণায় ৩০টি প্রধান সংবাদমাধ্যমের ৪০ হাজর ৯১৩টি নিবন্ধ পরীক্ষা করা হয়েছে—পুরো এক বছরের সংবাদ কাভারেজকে ব্যবচ্ছেদ ও কোডিং করা হয়েছে এবং পক্ষপাতের পাঁচটি সুনির্দিষ্ট সূচকের ভিত্তিতে পরিমাপ করা হয়েছে।

এর উপসংহারটি অত্যন্ত ভয়াবহ: ২০২৫ সালে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে মুসলিমদের নিয়ে করা মোট কাভারেজের প্রায় অর্ধেকই ছিল পক্ষপাতদুষ্ট। 'অর্ধেক'—এই সংখ্যা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনাকে নির্দেশ করে না, বরং এটি একটি পদ্ধতিগত বা কাঠামোগত সমস্যাকে তুলে ধরে।

বিশ্লেষণ করা নিবন্ধগুলোর ৭০ শতাংশই মুসলিম বা ইসলামকে নেতিবাচক বিষয় বা আচরণের সঙ্গে যুক্ত করেছে। আর এখানে পদ্ধতিগত একটি বিষয় রয়েছে, যা এই পরিসংখ্যানকে অস্বীকার করা আরও কঠিন করে তোলে: গবেষণাটি কেবল সেই নিবন্ধগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না যেখানে মুসলিমরা মূল বিষয় ছিল। 

তথ্যভাণ্ডারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য কোনো নিবন্ধে মুসলিমদের সম্পর্কে একটিমাত্র সাধারণ উল্লেখই যথেষ্ট ছিল। সেই বিচারে, গবেষণার পদ্ধতি ছিল বেশ উদার, এমনকি শিথিলও বলা চলে। তা সত্ত্বেও প্রায় অর্ধেক নিবন্ধই পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এই ৫০ শতাংশের পরিসংখ্যান সম্ভবত পক্ষপাতের সর্বনিম্ন সীমা, সর্বোচ্চ নয়।

এবার ঐতিহাসিক রেকর্ডের দিকে তাকানো যাক। পাঁচ বছর আগে, এই কেন্দ্রটি ২০১৮-১৯ সালের ১২ মাসের ব্যবধানে প্রকাশিত ৪৮ হাজারেরও বেশি নিবন্ধের ওপর একই প্যারামিটার ব্যবহার করে একটি মূল্যায়ন প্রকাশ করেছিল। তখন নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের হার ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ; যা এখন ৭০ শতাংশে পৌঁছেছে। এটি কোনো সামান্য বিচ্যুতি নয়, বরং কাঠামোগত অবনতি।

মুসলিমদের নিয়ে সংবাদ পরিবেশন কেবল শত্রুতাপূর্ণই হয়ে ওঠেনি, বরং এটি এখন একটি বার বার একই অপরাধ করার রোগে পরিণত হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম এখন মুসলিমদের নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি অবজ্ঞাভরে নিবন্ধ প্রকাশ করছে। 

ভাষ্যকার পিটার ওবোর্ন যখন বলেছিলেন যে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে—অনেক বেশি খারাপ—তখন তিনি মোটেও বাড়িয়ে বলেননি। উপাত্তগুলোই তা নিশ্চিত করছে।

বিকৃত শব্দচয়ন

ডানপন্থী সংবাদমাধ্যমগুলো এখন আর মুসলিমদের নিয়ে প্রতিবেদন করছে না; বরং তারা তাদের বিরুদ্ধে রীতিমতো প্রচারণা চালাচ্ছে।

একটি সম্প্রদায় নিয়ে সংবাদ প্রচার করা আর তাদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; একটি ধর্মকে পর্যবেক্ষণ করা আর সেটিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের মধ্যেও তফাত আছে। এই সংকটের মূলে থাকা সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের পথ বেছে নিয়েছে: দ্য স্পেকটেটর, জিবি নিউজ, দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ, দ্য জিউস ক্রনিকল, দ্য ডেইলি এক্সপ্রেস, দ্য ডেইলি মেইল ও দ্য টাইমস।

এগুলো কোনো প্রান্তিক কণ্ঠস্বর নয়। এগুলো সেই প্রতিষ্ঠান যারা জনমতের গতিপথ নির্ধারণ করে। আর এই প্রতিবেদনের প্রমাণ অনুযায়ী, তারা পদ্ধতিগতভাবে ব্রিটিশ মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ।

তাদের ভাষা লক্ষ্য করুন। প্রতিবেদনে বিকৃত পরিভাষা ব্যবহারের যে বিশ্লেষণ দেওয়া হয়েছে, তা পড়লে মনে হবে এটি এমন এক শব্দকোষ যা তৈরি করেছে তারা যারা মুসলিমদের অস্তিত্ব মুছে দিতে চায়: ‘মুসলিম পুরুষদের গ্যাং’, ‘ঘাতক আদর্শ’, ‘ঘৃণা মিছিল’, ‘মৃত্যুর কাল্ট’, ‘ইসলামপন্থী ইহুদি-বিদ্বেষী’, ‘আধুনিকতাকে উৎখাত করা’, ‘তাণ্ডব চালানো’।

এগুলো কোনো বর্ণনামূলক শব্দ নয়, এগুলো অস্ত্র। জিবি নিউজ নতুন যাত্রা শুরু করলেও পক্ষপাতের সব সূচকে তারা নিকৃষ্টতমদের কাতারে রয়েছে। ২০২৫ সালের একটি শিরোনাম তাদের সম্পাদকীয় সংস্কৃতিকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলে: ‘আমাকে অভদ্র হতে দিন: মুসলিমরা ইহুদিদের প্রতি বর্ণবাদী’। এখানে লেখকের অবজ্ঞাকে ‘সাহস’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। গোঁড়ামিকে যখন বীরত্ব হিসেবে বাজারজাত করা হয়, তখন সেটি আর সাংবাদিকতা থাকে না, উস্কানিতে পরিণত হয়।

দ্য স্পেকটেটর-এ চরম পক্ষপাতের হার সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে; তাদের প্রতি চারটির মধ্যে একটি নিবন্ধকে ‘ভীষণ পক্ষপাতদুষ্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি এমন কোনো প্রকাশনা নয় যা মাঝেমধ্যে কুসংস্কারে হোঁচট খায়; বরং এটি এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে মুসলিম-বিদ্বেষ ধারাবাহিকভাবে ফুটে ওঠে।

দ্য স্পেকটেটর একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছিল যেখানে তারা আপাত বিস্ময় প্রকাশ করেছে যে কেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মানুষকে ‘ঈদ মোবারক’ জানাবেন! একজন ব্রিটিশ নেতা এ দেশের অন্যতম পালিত একটি ধর্মীয় উৎসবের স্বীকৃতি দেওয়াকে যখন ব্যাখ্যা করার মতো বিষয় হিসেবে দেখা হয়, তখন এটিই আপনাকে বুঝিয়ে দেয় যে জনজীবনে মুসলিমদের উপস্থিতিকে কতটা প্রতিকূলতার চোখে দেখা হচ্ছে।

আর এই প্রচারণা নতুন বছরেও থেমে নেই। ২০২৬ সালেও এটি অব্যাহত রয়েছে, যেখানে মুসলিমদের গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। মুসলিম ভোটাররা তাদের অধিকার প্রয়োগ করাকে ‘সাম্প্রদায়িক ভোট’, ‘পারিবারিক ভোট ব্যাংক’ বা সন্দেহজনক ও সমন্বিত কিছু হিসেবে উপস্থাপন করা ইসলামভীতিমূলক শব্দকোষের সর্বশেষ সংযোজন।

যখন একজন মুসলিম ভোট দেন, সেটি হয় ‘ব্লক ভোটিং’। যখন একটি মুসলিম সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ হয়, সেটি হয় ‘গণতন্ত্রের জন্য হুমকি’। এগুলো তাদের ব্যবহৃত ভাষা যারা প্রিন্ট মিডিয়ায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালায়—এবং তাদের ভাষা যারা লোকদেখানো ভণ্ডামি ছেড়ে স্রেফ আমাদের অস্তিত্বই মুছে দিতে চায়।

বিপজ্জনক ও বিষাক্ত

একটি তথ্য কেবল ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম নয়, বরং সবাইকে অভিযুক্ত করে। সেটি হলো ‘প্রাসঙ্গিক তথ্যের অনুপস্থিতি’ —অর্থাৎ পাঠককে একটি ঘটনা সঠিকভাবে বোঝার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে ব্যর্থ হওয়া। ৪৪ শতাংশ পক্ষপাতদুষ্ট নিবন্ধে এই চিত্র পাওয়া গেছে। পুরো ডেটাসেটে এটিই মিডিয়ার সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। এর জন্য সবসময় বিদ্বেষের প্রয়োজন হয় না।

অত্যন্ত নগণ্য সংখ্যক মানুষের সম্পৃক্ততা আছে এমন চরমপন্থার কোনো খবর দেওয়ার সময় প্রেক্ষাপট উল্লেখ না করা; কোনো রাজনীতিবিদের উস্কানিমূলক মন্তব্যের বিরুদ্ধে কোনো পাল্টা যুক্তি না দিয়েই তা উদ্ধৃত করা—এর জন্য ঘৃণার প্রয়োজন নেই, কেবল অবহেলাই যথেষ্ট। কিন্তু হাজার হাজার নিবন্ধ এবং ডজন ডজন সংবাদমাধ্যমে এই অবহেলার পুনরাবৃত্তি যখন ঘটে, তখন এর প্রভাবের দিক থেকে এটি আর বিদ্বেষের চেয়ে আলাদা থাকে না।

বিবিসি সব সূচকেই পক্ষপাতের সর্বনিম্ন হার রেকর্ড করেছে। এই হতাশাজনক পরিস্থিতিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি প্রমাণ করে যে বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও অমানবিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করে মুসলিম ও ইসলাম নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করা সম্ভব।

জনসেবা বা পাবলিক সার্ভিসের দায়িত্বগুলো কেবল নিয়ন্ত্রণমূলক আমলাতন্ত্র নয়। এগুলো শিল্পের নিকৃষ্টতম প্রবৃত্তিগুলোকে ঠেকানোর একটি কার্যকর উপায়—যা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাদের রক্ষা করার দাবিকে আগের চেয়ে আরও জরুরি করে তুলেছে।

ব্রিটিশ সাংবাদিকতার অন্যতম অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব কেভিন ম্যাগুইয়ার কেন্দ্রের এই ফলাফলগুলোকে ‘লজ্জাজনক, বিপজ্জনক এবং বিষাক্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সঠিক। আর তার মতো একজন সাংবাদিক যখন জনসমক্ষে এটি বলতে বাধ্য হন, সেটিই প্রমাণ করে পরিস্থিতির কতটা অবনতি হয়েছে।

প্রশ্ন এখন আর এটা নয় যে এমনটা ঘটছে কিনা। উপাত্তগুলো তা পরিষ্কার করে দিয়েছে। প্রশ্ন হলো এখন কী হবে? সম্পাদকরা কি এই প্রতিবেদন পড়বেন এবং কর্মী নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও তাদের নিউজরুমের সংস্কৃতিতে প্রকৃত কোনো পরিবর্তন আনবেন? নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো—যারা এতদিন এড়িয়ে যাওয়ার অবিশ্বাস্য মানসিকতা দেখিয়েছে—তারা কি শেষ পর্যন্ত প্রমাণের ভিত্তিতে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করবে?

রাজনীতিবিদরা—যাদের অনেকে নির্বাচনি ফায়দার জন্য এই বিদ্বেষকে পুঁজি করেছেন ও ছড়িয়ে দিয়েছেন—তারা কি সততার সঙ্গে তাদের নিজেদের দায় স্বীকার করবেন? নাকি আমরা এই প্রতিবেদনটিকেও আগেরগুলোর মতো ফাইলবন্দি করে রাখব এবং উপযুক্ত জায়গায় কেবল উদ্বেগ প্রকাশ করে পরের গবেষণার জন্য অপেক্ষা করব, যা আমাদের ইতোমধ্যেই জানা সত্যগুলোকেই আবার নিশ্চিত করবে?

ব্রিটিশ মুসলিমরা বিশেষ কোনো সুবিধা চাচ্ছে না। তারা কেবল তথ্যের নির্ভুলতা এবং ন্যায্যতার সেই মৌলিক মানদণ্ডটুকুই চাইছে যা সব সম্প্রদায়ের প্রাপ্য। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে কার্যকর গণমাধ্যমের জন্য এটিই সর্বনিম্ন চাহিদা।

কিন্তু সেই সর্বনিম্ন চাহিদাটুকুও পূরণ হচ্ছে না। যারা এটি পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে তারা ভালো করেই জানে তারা কারা। আর এখন, বাকি সবাইও তা জেনে গেছে।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

মিডিয়া

View more
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন
প্রেস কাউন্সিল আইন সংশোধন: সাংবাদিক নিবন্ধনের পথে বাংলাদেশ?

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলকে আরও কার্যকর, আধুনিক ও গণমাধ্যমবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে ১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে সাংবাদিকদের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ এবং বার কাউন্সিলের আদলে নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “সরকার স্বাধীন, দায়িত্বশীল, জবাবদিহিমূলক ও পেশাদার সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।” তিনি বলেন, “মোবাইল জার্নালিজমের নামে অনুমোদনহীন, অপেশাদার বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সরকার সমর্থন করে না।” তথ্যমন্ত্রী জানান, প্রেস কাউন্সিল আইন যুগোপযোগী করার প্রস্তাবে সাংবাদিকদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ, বার কাউন্সিলের আদলে নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু এবং মিথ্যা, হয়রানিমূলক বা নীতিবিরোধী সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আর্থিক জরিমানার বিধান যুক্ত করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ডিজিটাল সম্প্রচার ব্যবস্থার বিস্তার, অনলাইন ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন প্রচারসংক্রান্ত নীতিমালা পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।” এ ছাড়া সংরক্ষিত আসনের সদস্য আরিফা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, পডকাস্ট, ব্লগ এবং ইনফ্লুয়েন্সারভিত্তিক ডিজিটাল কনটেন্টের প্রচার ও প্রকাশ বর্তমানে প্রচলিত আইন ও নীতিমালার আওতায় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জনস্বার্থের ভারসাম্য বজায় রেখে নতুন নীতিগত কাঠামো তৈরির বিষয়েও কাজ চলছে। অন্যদিকে যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোক্তার আলীর প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন স্বপন জানান, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত পত্রিকার সংখ্যা ৩ হাজার ৩৩৮টি। এর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ৪৩৬টি দৈনিক, ১ হাজার ২৩১টি সাপ্তাহিক, ৪৫২টি মাসিক, ২১৫টি পাক্ষিক এবং অর্ধসাপ্তাহিক, দ্বিমাসিক, ত্রৈমাসিক, ষাণ্মাসিক ও বার্ষিক মিলিয়ে আরও ৫৪টি প্রকাশনা।   কেন  এই উদ্যোগ? গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের মতে, সাংবাদিকদের জন্য নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হলে পেশাদার সাংবাদিকতার মান ও জবাবদিহিতা বাড়তে পারে। তবে একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং নিবন্ধন ব্যবস্থার অপব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা তৈরি হতে পারে। প্রস্তাবিত আইন সংশোধনী চূড়ান্ত হলে বাংলাদেশের গণমাধ্যম খাতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৯, ২০২৬ 0
গোলাম ফারুক মজনু এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মুহাম্মদ আবু আবিদ

এসএসপির নির্বাচন: সভাপতি মজনু, সম্পাদক আবু আবিদ

এইচআরএসএস

৭৫ সাংবাদিক হয়রানির শিকার, মব সহিংসতায় ২২ নিহত: মানবাধিকার প্রতিবেদন

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলা

গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে সাংবাদিক গ্রেপ্তার ও মামলা: ন্যায়বিচার না দমননীতি?

সিলেট পুলিশ
সিলেটে আল্টিমেটাম: অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ নিয়ে প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সাম্প্রতিক এক নির্দেশনায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সব অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। অপতথ্য ছড়ানো নিয়ে চলমান জাতীয় আলোচনার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ, নাকি সংবাদমাধ্যমকে শৃঙ্খলায় আনার প্রয়াস? বাংলাদেশে অনলাইন সংবাদমাধ্যম নিবন্ধনের বিষয়টি কয়েক বছর ধরেই বিতর্কিত। তথ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অনলাইন নিউজ পোর্টালের নিবন্ধনের জন্য আবেদন আহ্বান করা হলে হাজার হাজার আবেদন জমা পড়ে। কিন্তু দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর সীমিত সংখ্যক প্রতিষ্ঠানই অনুমোদন পায়। সমালোচকদের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক বিবেচনা প্রাধান্য পেয়েছে এবং অনেক পেশাদার প্ল্যাটফর্ম নিবন্ধন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, অনিয়ন্ত্রিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভুয়া খবর ও অপতথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি মোকাবিলায় নিবন্ধন ব্যবস্থা জরুরি। তবে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন—অপতথ্য কি কেবল নিউজ পোর্টালেই সীমাবদ্ধ, নাকি সামাজিক মাধ্যমেও সমানভাবে বিস্তার লাভ করছে? সামাজিক মাধ্যমের ক্ষেত্রে যেখানে নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা নেই, সেখানে শুধু নিউজ পোর্টালকে লক্ষ্যবস্তু করা কতটা কার্যকর—সে প্রশ্নও সামনে আসছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে সহজলভ্য প্রযুক্তির কারণে যে কেউ অনলাইন পোর্টাল চালু করতে পারছে, যা পেশাদার সাংবাদিকতার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ফলে খাতটিকে একটি নীতিমালার আওতায় আনা প্রয়োজন—তবে তা হতে হবে স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য। এদিকে, অনেক অনিবন্ধিত পোর্টালে কর্মরত সাংবাদিকদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আকস্মিকভাবে এসব প্ল্যাটফর্ম বন্ধ হলে বহু সংবাদকর্মী কর্মহীন হয়ে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য নীতিমালা তৈরির জন্য প্রয়োজন ব্যাপক পর্যালোচনা, স্বচ্ছ যাচাই প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে নিবন্ধিত গণমাধ্যমের জন্য সুযোগ-সুবিধা এবং দায়বদ্ধতার বিষয়গুলোও স্পষ্ট করা জরুরি। সামগ্রিকভাবে, সিলেটে জারি হওয়া এই নির্দেশনা দেশের অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের আরও গভীর ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩০, ২০২৬ 0
Amal Khalil was a journalist with the Lebanese newspaper Al-Akhbar

ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট সংঘাতে সাংবাদিক নিহতের সংখ্যা বাড়ছে: কণ্ঠরোধ করছে ইসরায়েল ? সাংবাদিকদের মৃত্যু নিয়ে উদ্বেগ

বিবিসি

বিবিসিতে বড় আকারে ছাঁটাই: চাকরি হারাতে পারেন প্রায় ২০০০ কর্মী

দৈনিক ‘শাহনামা’

বরিশালের প্রাচীন দৈনিক ‘শাহনামা’ ৩৬ বছরে পদার্পণ

টুলু- শফিকুল
বাবুগঞ্জ প্রেসক্লাব নির্বাচন: সভাপতি টুলু, সম্পাদক শফিকুল নির্বাচিত

বরিশাল অফিস :   উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে মোস্তাফিজুর রহমান টুলু সভাপতি এবং মোঃ শফিকুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বাবুগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে বিরতিহীনভাবে এই ভোটগ্রহণ চলে। নির্বাচন ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সিনিয়র সাংবাদিক শাহজাহান খান এবং মোস্তাফিজুর রহমান টুলু। এর মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান টুলু ১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহজাহান খান পান ৯ ভোট। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মোঃ শফিকুল ইসলাম ও আব্দুল্লাহ আল মামুন। শফিকুল ইসলাম ১২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল্লাহ আল মামুন পেয়েছেন ৯ ভোট। ভোটগ্রহণ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংবাদিক সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নতুন এই কমিটির নেতৃত্বে বাবুগঞ্জ উপজেলার বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের ঐক্য আরও সুদৃঢ় হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ফারুক ওয়াসিফ

১৮ মাসে পিআইবির সুনাম ক্ষুন্ন করেছে মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ!

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়

১৮ মাসে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ইমেজ সংকট!

অভিযোগের পাহাড়, তবুও বহাল পিআইবি মহাপরিচালক—কার ছত্রছায়ায় ফারুক ওয়াসিফ?

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0