Brand logo light
মতামত

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান এক জীবনের অফুরান প্রেরণার বাতিঘর

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান।
অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান।

ড. মো. অলিউর রহমান: 

তিনি নি নেই-এই সত্যটি আজও মেনে নিতে পারছিনা। তাই দুদিন ধরে মনটা খুব ভারী হয়ে আছে। মনে হচ্ছে, আমার খুব চেনা এক পৃথিবী হঠাৎ নিঃশব্দে হারিয়ে গেছে। তার চলে যাওয়া মানেই আমার একান্ত চেনাজগৎ থেকে আলো নিভে যাওয়া। যেন পরিচিত অক্ষরগুলো হঠাৎ ঝাপসা হয়ে যাওয়া। বলছি, আমার-আমাদের শিক্ষাগুরু অধ্যাপক সাখাওয়াত স্যারের কথা, যিনি আজ আর আমাদের মধ্যে নেই। সম্প্রতি স্ট্রোক করার পর কয়েক দিনের চিকিৎসা শেষে রবিবার রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে আমার শিক্ষক, পথপ্রদর্শক ও পিতৃসম অভিভাবক 'শিক্ষাগুরু সাখাওয়াত আলী খান স্যার'। আমার একাডেমিক জীবনের প্রতিটি বাঁকেই তার স্নেহময় নির্দেশনা পেয়েছি। প্রায় ৯ বছর ধরে নানা চড়াই-উতরাই অভিজ্ঞতায় তার তত্ত্বাবধানে পিএইচডি গবেষণার সময় আমি শুধু গবেষণার কর্মপদ্ধতিই শিখিনি, অধিকন্তু শিখেছি সততা, নৈতিকতা আর মানবিকতার এক নির্মল পাঠ। এমফিল অধ্যয়নকালেও তার স্নেহময় দিকনির্দেশনা আমাকে অধ্যয়ন-গবেষণার মর্মসন্ধানে অনুপ্রাণিত করেছিল। স্যারের বাসায় গিয়ে দীর্ঘ আলাপ, তার স্নেহময় পরামর্শ-সবই আজ স্মৃতির ভান্ডারে সমুজ্জ্বল। করোনাকালে খালাম্মা মালেকা খান ও স্যারের ছেলে নওশের আলী খানের কড়া অনুশাসন জারি থাকায় স্যারের সঙ্গে দেখা হতো না ঠিকই; কিন্তু স্যারের সঙ্গে মানবিক জীবনের ফোনালাপ ছিল নিয়মিত।

বাংলাদেশের সাংবাদিকতা শিক্ষার ইতিহাসের সঙ্গে মিশে আছে সাখাওয়াত স্যারের নাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় স্নাতক (সম্মান) কোর্সের প্রবর্তন তারই হাত ধরে। তিনি বিভাগের চেয়ারম্যান থাকাকালে সাংবাদিকতা শিক্ষার একাডেমিক জগতের যে সম্প্রসারণ ঘটে, তা সময়ান্তরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় সাড়ে পাঁচ দশক ধরে এ দেশে সাংবাদিকতা শিক্ষায় তিনি নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ সম্পাদনা ও ফিচার লিখন কোর্সে আমি আজও তার বিকল্প খুঁজে পাইনি-সম্পাদনার শিল্প, কৌশল ও দর্শনের গভীরতা তিনি যেভাবে বোধগম্য করে তুলতেন, তা ছিল সত্যিই অতুলনীয়। সাংবাদিকতায় ফিচার লেখাকে তিনি সামাজিক দায়বদ্ধতার নিরিখে মানবিক জীবনের গল্প বলার সংবাদ-শিল্পকলায় উন্নীত করতে আমাদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।

'সাখাওয়াত স্যার' এক উষ্ণ মানবিক সম্পর্কের নাম। তিনি ছিলেন আমার কাছে পরশ-মানবব্যক্তিত্ব। দেশ, কাল, সমাজ ও রাজনীতিসচেতন মানুষ ছিলেন তিনি, কিন্তু জাতীয় রাজনীতি তথা সুবিধাবাদী পালাবদলের পঙ্কিল রাজনীতির সামান্য কলুষতাও কোনো দিন তার পরিচ্ছন্ন ও সমুজ্জ্বল ব্যক্তিত্বকে এতটুকু কলুষিত করতে পারেনি। পরিস্থিতির শিকার হয়ে কর্মস্থলের নানা টানাপড়েন ও চড়াই-উতরাইয়ে যখন হতাশ হয়ে পড়তাম, তখন তিনি সান্ত্বনা দিতেন। পিতৃতুল্য অনুশাসনের স্বরে বলতেন- 'আর একটু ধৈর্য ধরো, সামনেই তোমার ভালো দিন অপেক্ষা করছে। তুমি আমাকে না জানিয়ে চাকরি বা দায়িত্ব ছাড়ার আর কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না কিন্তু।' তার এই স্নেহময় বাক্যগুলো আজও আমাকে নিয়ত পথ দেখায়। তার হাস্যোজ্জ্বল, যুক্তিবাদী ও সহিষ্ণু ব্যক্তিত্ব, ভিন্নমতকে শ্রদ্ধাভরে গ্রহণের গুণাবলি-এসব কাছ থেকে না দেখলে বা তার সান্নিধ্যে না এলে বোঝানো যাবে না। তিনি ছিলেন একাধারে অভিজাত পরিবারের সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের সক্রিয় সংগঠক এবং প্রগতিশীল চেতনার ধারক ও বাহক।

স্যারের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। শিক্ষার্থী থেকে শিক্ষকতার জীবন অবধি বিভিন্ন পরিমণ্ডলে তার যে

অপরিমেয় সান্নিধ্য আমি পেয়েছি, তা জ্ঞানচর্চার সততা ও নৈতিকতার কঠিন পাঠ, যা আজীবন আমাকে প্রেরণা জুগিয়ে যাবে। গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে সাংবাদিকতা বিভাগ চালুর সময় তিনি শুরু থেকেই পাশে ছিলেন। ২০১৮ সালের ২২ নভেম্বর বিভাগের উদ্বোধন করেছিলেন তিনি নিজ হাতে। পাঠক্রম পরিকল্পনা থেকে ক্লাস পরিচালনা অবধি-সব ক্ষেত্রেই তার মূল্যবান পরামর্শ ছিল আমার অনন্য পাথেয়। জাতীয় জীবনে গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রশ্নে তিনি আমাকে প্রায়ই খোঁজ নিতে বলতেন। কে জানত, তার সেই অনুসন্ধিৎসু যোগাযোগ স্মৃতি একদিন হয়ে উঠবে এমন অফুরান প্রেরণার বাতিঘর।

তিনি চলে গেছেন-এ কথা মনে হয় ভুল। কারণ, স্যার আসলে চলে যাননি। তিনি ফিরে এসেছেন আমাদের মূল্যবোধ জাগ্রত করতে-আমাদের চেতনার বর্ধিত পরিসরে। তার পরশ, তার উপস্থিতি আমরা চিরকাল টের পাব। সাংবাদিকতা শিক্ষার এই মহিরুহ, বহু শিক্ষকের শিক্ষক, আমার প্রিয় শিক্ষাগুরু অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। স্যার, আপনার কাছে আমরা চিরঋণী।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম যোগাযোগ বিভাগ, গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

Ph.D. on RTI [1st Ph.D. Degree on the Right to Information Act in Bangladesh]; Title of Thesis: “Journalists’ Access to Information: Pre and Post-Situation Analysis of the Right to Information Act”

Fellow of IIJ (Berlin) Germany,M. Phil. in Mass Communication, B.A (Hons.) & M. A in Mass Communication and Journalism

 

এই নিবন্ধটি অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের স্মরণে তাঁর ছাত্র ড. মো. অলিউর রহমানের একটি আবেগঘন শ্রদ্ধাঞ্জলি। নিবন্ধটির মূল বিষয়বস্তু নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
 
এক জীবনের অফুরান প্রেরণার বাতিঘর
  • বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা: লেখক তাঁর প্রিয় শিক্ষক অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁকে একজন শিক্ষক, পথপ্রদর্শক এবং 'পিতৃসম অভিভাবক' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
  • শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতায় অবদান: অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার প্রসারে অসামান্য অবদান রেখেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগ চালু করার ক্ষেত্রে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে তিনি এই পেশায় অসংখ্য শিক্ষার্থী তৈরি করেছেন।
  • ব্যক্তিত্ব ও আদর্শ: তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধৈর্যশীল, যুক্তিবাদী এবং সহনশীল একজন মানুষ। লেখক উল্লেখ করেছেন যে, কঠিন সময়ে স্যার তাঁকে সাহস জোগাতেন এবং সততা ও নৈতিকতার সাথে পথ চলার শিক্ষা দিতেন। তাঁর সান্নিধ্য লেখকদের গবেষণায় এবং পেশাগত জীবনে গভীর অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
  • শেষ জীবন: সম্প্রতি স্ট্রোক করার পর রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও শিক্ষা অঙ্গনে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
 
 
১. শোকের সূচনা
নিবন্ধের শুরুতেই লেখক তাঁর প্রিয় শিক্ষক অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, স্যারের চলে যাওয়া মানে তাঁর পরিচিত জগতের আলো নিভে যাওয়া। সম্প্রতি স্ট্রোক করার পর রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
 
২. শিক্ষক ও অভিভাবক হিসেবে স্যার
লেখক দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে স্যারের সান্নিধ্যে ছিলেন। তিনি তাঁকে শুধু শিক্ষক নয়, বরং একজন 'পিতৃসম অভিভাবক' ও পথপ্রদর্শক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ড. অলিউর রহমান তাঁর অধীনে পিএইচডি গবেষণা করেছিলেন এবং দীর্ঘ ৯ বছর স্যারের তত্ত্বাবধানে কাজ করার সময় তাঁর সততা, নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলী কাছ থেকে দেখেছেন।
 
৩. সাংবাদিকতা শিক্ষায় অবদান
বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার বিকাশে সাখাওয়াত আলী খানের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।
  • তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগ (বর্তমানে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ) চালুর ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
  • প্রায় পাঁচ দশক ধরে তিনি সাংবাদিকতা শিক্ষার প্রসারে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন।
  • রিপোর্টিং, ফিচার লিখন এবং সংবাদ সম্পাদনার মতো জটিল বিষয়গুলোকে তিনি অত্যন্ত সহজ ও দর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতেন।
 
৪. ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য
লেখক স্যারের কিছু অনন্য গুণের কথা উল্লেখ করেছেন:
  • তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও যুক্তিবাদী। কর্মক্ষেত্রের নানা চড়াই-উতরাইয়ে লেখক যখন হতাশ হতেন, তখন স্যার তাঁকে সাহস জুগিয়ে বলতেন, "আর একটু ধৈর্য ধরো, সামনে তোমার ভালো দিন অপেক্ষা করছে।"
  • তিনি ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা জানাতেন এবং সংকীর্ণ রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে একজন আলোকিত মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
  • পরিবার ও সমাজের প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধ ছিল অনুকরণীয়।
 
৫. শেষ বিদায় ও কৃতজ্ঞতা
নিবন্ধের শেষে লেখক অত্যন্ত আবেগপূর্ণভাবে বলেছেন যে, যদিও স্যার শারীরিকভাবে নেই, কিন্তু তাঁর আদর্শ ও শিক্ষা চিরকাল বেঁচে থাকবে। তিনি গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর সাংবাদিকতা বিভাগে স্যারের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। সবশেষে তিনি স্যারের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন।
 
নিবন্ধটি শেষ হয়েছে স্যারের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং তাঁর প্রতি চিরস্থায়ী কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে।
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বরিশাল সিটিতে বিএনপির মেয়র মনোনয়ন ঘিরে হিসাব–নিকাশ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও  বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও  বি এম কলেজ এর  সাবেক জি এস  এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা।  নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।  

নিজেস্ব প্রতিবেদক

মতামত

View more
অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান।
অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান এক জীবনের অফুরান প্রেরণার বাতিঘর

ড. মো. অলিউর রহমান:  তিনি নি নেই-এই সত্যটি আজও মেনে নিতে পারছিনা। তাই দুদিন ধরে মনটা খুব ভারী হয়ে আছে। মনে হচ্ছে, আমার খুব চেনা এক পৃথিবী হঠাৎ নিঃশব্দে হারিয়ে গেছে। তার চলে যাওয়া মানেই আমার একান্ত চেনাজগৎ থেকে আলো নিভে যাওয়া। যেন পরিচিত অক্ষরগুলো হঠাৎ ঝাপসা হয়ে যাওয়া। বলছি, আমার-আমাদের শিক্ষাগুরু অধ্যাপক সাখাওয়াত স্যারের কথা, যিনি আজ আর আমাদের মধ্যে নেই। সম্প্রতি স্ট্রোক করার পর কয়েক দিনের চিকিৎসা শেষে রবিবার রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে আমার শিক্ষক, পথপ্রদর্শক ও পিতৃসম অভিভাবক 'শিক্ষাগুরু সাখাওয়াত আলী খান স্যার'। আমার একাডেমিক জীবনের প্রতিটি বাঁকেই তার স্নেহময় নির্দেশনা পেয়েছি। প্রায় ৯ বছর ধরে নানা চড়াই-উতরাই অভিজ্ঞতায় তার তত্ত্বাবধানে পিএইচডি গবেষণার সময় আমি শুধু গবেষণার কর্মপদ্ধতিই শিখিনি, অধিকন্তু শিখেছি সততা, নৈতিকতা আর মানবিকতার এক নির্মল পাঠ। এমফিল অধ্যয়নকালেও তার স্নেহময় দিকনির্দেশনা আমাকে অধ্যয়ন-গবেষণার মর্মসন্ধানে অনুপ্রাণিত করেছিল। স্যারের বাসায় গিয়ে দীর্ঘ আলাপ, তার স্নেহময় পরামর্শ-সবই আজ স্মৃতির ভান্ডারে সমুজ্জ্বল। করোনাকালে খালাম্মা মালেকা খান ও স্যারের ছেলে নওশের আলী খানের কড়া অনুশাসন জারি থাকায় স্যারের সঙ্গে দেখা হতো না ঠিকই; কিন্তু স্যারের সঙ্গে মানবিক জীবনের ফোনালাপ ছিল নিয়মিত। বাংলাদেশের সাংবাদিকতা শিক্ষার ইতিহাসের সঙ্গে মিশে আছে সাখাওয়াত স্যারের নাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় স্নাতক (সম্মান) কোর্সের প্রবর্তন তারই হাত ধরে। তিনি বিভাগের চেয়ারম্যান থাকাকালে সাংবাদিকতা শিক্ষার একাডেমিক জগতের যে সম্প্রসারণ ঘটে, তা সময়ান্তরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় সাড়ে পাঁচ দশক ধরে এ দেশে সাংবাদিকতা শিক্ষায় তিনি নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ সম্পাদনা ও ফিচার লিখন কোর্সে আমি আজও তার বিকল্প খুঁজে পাইনি-সম্পাদনার শিল্প, কৌশল ও দর্শনের গভীরতা তিনি যেভাবে বোধগম্য করে তুলতেন, তা ছিল সত্যিই অতুলনীয়। সাংবাদিকতায় ফিচার লেখাকে তিনি সামাজিক দায়বদ্ধতার নিরিখে মানবিক জীবনের গল্প বলার সংবাদ-শিল্পকলায় উন্নীত করতে আমাদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। 'সাখাওয়াত স্যার' এক উষ্ণ মানবিক সম্পর্কের নাম। তিনি ছিলেন আমার কাছে পরশ-মানবব্যক্তিত্ব। দেশ, কাল, সমাজ ও রাজনীতিসচেতন মানুষ ছিলেন তিনি, কিন্তু জাতীয় রাজনীতি তথা সুবিধাবাদী পালাবদলের পঙ্কিল রাজনীতির সামান্য কলুষতাও কোনো দিন তার পরিচ্ছন্ন ও সমুজ্জ্বল ব্যক্তিত্বকে এতটুকু কলুষিত করতে পারেনি। পরিস্থিতির শিকার হয়ে কর্মস্থলের নানা টানাপড়েন ও চড়াই-উতরাইয়ে যখন হতাশ হয়ে পড়তাম, তখন তিনি সান্ত্বনা দিতেন। পিতৃতুল্য অনুশাসনের স্বরে বলতেন- 'আর একটু ধৈর্য ধরো, সামনেই তোমার ভালো দিন অপেক্ষা করছে। তুমি আমাকে না জানিয়ে চাকরি বা দায়িত্ব ছাড়ার আর কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না কিন্তু।' তার এই স্নেহময় বাক্যগুলো আজও আমাকে নিয়ত পথ দেখায়। তার হাস্যোজ্জ্বল, যুক্তিবাদী ও সহিষ্ণু ব্যক্তিত্ব, ভিন্নমতকে শ্রদ্ধাভরে গ্রহণের গুণাবলি-এসব কাছ থেকে না দেখলে বা তার সান্নিধ্যে না এলে বোঝানো যাবে না। তিনি ছিলেন একাধারে অভিজাত পরিবারের সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের সক্রিয় সংগঠক এবং প্রগতিশীল চেতনার ধারক ও বাহক। স্যারের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। শিক্ষার্থী থেকে শিক্ষকতার জীবন অবধি বিভিন্ন পরিমণ্ডলে তার যে অপরিমেয় সান্নিধ্য আমি পেয়েছি, তা জ্ঞানচর্চার সততা ও নৈতিকতার কঠিন পাঠ, যা আজীবন আমাকে প্রেরণা জুগিয়ে যাবে। গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে সাংবাদিকতা বিভাগ চালুর সময় তিনি শুরু থেকেই পাশে ছিলেন। ২০১৮ সালের ২২ নভেম্বর বিভাগের উদ্বোধন করেছিলেন তিনি নিজ হাতে। পাঠক্রম পরিকল্পনা থেকে ক্লাস পরিচালনা অবধি-সব ক্ষেত্রেই তার মূল্যবান পরামর্শ ছিল আমার অনন্য পাথেয়। জাতীয় জীবনে গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রশ্নে তিনি আমাকে প্রায়ই খোঁজ নিতে বলতেন। কে জানত, তার সেই অনুসন্ধিৎসু যোগাযোগ স্মৃতি একদিন হয়ে উঠবে এমন অফুরান প্রেরণার বাতিঘর। তিনি চলে গেছেন-এ কথা মনে হয় ভুল। কারণ, স্যার আসলে চলে যাননি। তিনি ফিরে এসেছেন আমাদের মূল্যবোধ জাগ্রত করতে-আমাদের চেতনার বর্ধিত পরিসরে। তার পরশ, তার উপস্থিতি আমরা চিরকাল টের পাব। সাংবাদিকতা শিক্ষার এই মহিরুহ, বহু শিক্ষকের শিক্ষক, আমার প্রিয় শিক্ষাগুরু অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। স্যার, আপনার কাছে আমরা চিরঋণী। লেখক: সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম যোগাযোগ বিভাগ, গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ Ph.D. on RTI [1st Ph.D. Degree on the Right to Information Act in Bangladesh]; Title of Thesis: “Journalists’ Access to Information: Pre and Post-Situation Analysis of the Right to Information Act” Fellow of IIJ (Berlin) Germany,M. Phil. in Mass Communication, B.A (Hons.) & M. A in Mass Communication and Journalism।   এই নিবন্ধটি অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের স্মরণে তাঁর ছাত্র ড. মো. অলিউর রহমানের একটি আবেগঘন শ্রদ্ধাঞ্জলি। নিবন্ধটির মূল বিষয়বস্তু নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:   এক জীবনের অফুরান প্রেরণার বাতিঘর বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা: লেখক তাঁর প্রিয় শিক্ষক অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁকে একজন শিক্ষক, পথপ্রদর্শক এবং 'পিতৃসম অভিভাবক' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতায় অবদান: অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার প্রসারে অসামান্য অবদান রেখেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগ চালু করার ক্ষেত্রে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে তিনি এই পেশায় অসংখ্য শিক্ষার্থী তৈরি করেছেন। ব্যক্তিত্ব ও আদর্শ: তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধৈর্যশীল, যুক্তিবাদী এবং সহনশীল একজন মানুষ। লেখক উল্লেখ করেছেন যে, কঠিন সময়ে স্যার তাঁকে সাহস জোগাতেন এবং সততা ও নৈতিকতার সাথে পথ চলার শিক্ষা দিতেন। তাঁর সান্নিধ্য লেখকদের গবেষণায় এবং পেশাগত জীবনে গভীর অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। শেষ জীবন: সম্প্রতি স্ট্রোক করার পর রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও শিক্ষা অঙ্গনে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে।     ১. শোকের সূচনা নিবন্ধের শুরুতেই লেখক তাঁর প্রিয় শিক্ষক অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, স্যারের চলে যাওয়া মানে তাঁর পরিচিত জগতের আলো নিভে যাওয়া। সম্প্রতি স্ট্রোক করার পর রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।   ২. শিক্ষক ও অভিভাবক হিসেবে স্যার লেখক দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে স্যারের সান্নিধ্যে ছিলেন। তিনি তাঁকে শুধু শিক্ষক নয়, বরং একজন 'পিতৃসম অভিভাবক' ও পথপ্রদর্শক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ড. অলিউর রহমান তাঁর অধীনে পিএইচডি গবেষণা করেছিলেন এবং দীর্ঘ ৯ বছর স্যারের তত্ত্বাবধানে কাজ করার সময় তাঁর সততা, নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলী কাছ থেকে দেখেছেন।   ৩. সাংবাদিকতা শিক্ষায় অবদান বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার বিকাশে সাখাওয়াত আলী খানের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগ (বর্তমানে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ) চালুর ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। প্রায় পাঁচ দশক ধরে তিনি সাংবাদিকতা শিক্ষার প্রসারে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। রিপোর্টিং, ফিচার লিখন এবং সংবাদ সম্পাদনার মতো জটিল বিষয়গুলোকে তিনি অত্যন্ত সহজ ও দর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতেন।   ৪. ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য লেখক স্যারের কিছু অনন্য গুণের কথা উল্লেখ করেছেন: তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও যুক্তিবাদী। কর্মক্ষেত্রের নানা চড়াই-উতরাইয়ে লেখক যখন হতাশ হতেন, তখন স্যার তাঁকে সাহস জুগিয়ে বলতেন, "আর একটু ধৈর্য ধরো, সামনে তোমার ভালো দিন অপেক্ষা করছে।" তিনি ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা জানাতেন এবং সংকীর্ণ রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে একজন আলোকিত মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। পরিবার ও সমাজের প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধ ছিল অনুকরণীয়।   ৫. শেষ বিদায় ও কৃতজ্ঞতা নিবন্ধের শেষে লেখক অত্যন্ত আবেগপূর্ণভাবে বলেছেন যে, যদিও স্যার শারীরিকভাবে নেই, কিন্তু তাঁর আদর্শ ও শিক্ষা চিরকাল বেঁচে থাকবে। তিনি গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর সাংবাদিকতা বিভাগে স্যারের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। সবশেষে তিনি স্যারের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন।   নিবন্ধটি শেষ হয়েছে স্যারের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং তাঁর প্রতি চিরস্থায়ী কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান

সাংবাদিকতার শিক্ষাগুরু অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান

খালি হাতে ত্যাগীরা

নতুন মন্ত্রিসভা: কেন বাদ পড়লেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা? রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

জ্বালানি সংকট

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা: বাংলাদেশে কি সত্যিই জ্বালানি সংকট?

বিএনপি
বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থীদের ভাগ্যে কী আছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রার্থী হওয়ার কারণে শতাধিক নেতাকে বহিষ্কার।বহিষ্কৃত কেউ কেউ জয়ী হয়ে এখন দলে ফিরতে চাচ্ছেন কেউ।কী আছে  তাদের ভাগ্যে।        ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বহিষ্কৃত শতাধিক নেতাকে নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচনের পর তাদের অনেকেই আবার দলের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি। দলীয় সূত্র বলছে, বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কোনো ফোরামে আলোচনা হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কমিটির মতামতের ভিত্তিতে। শতাধিক নেতা বহিষ্কার মনোনয়ন না পেয়ে অন্তত ১৯০ জন বিএনপি নেতা ১১৭টি আসনে স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মেনে অনেকেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেও শেষ পর্যন্ত ৭৮টি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থনের অভিযোগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সহস্রাধিক নেতাকর্মীকেও বহিষ্কার করা হয়। সাত বিদ্রোহীর জয় নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, অন্তত সাতজন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি মনোনীত বা জোট সমর্থিত প্রার্থীদের হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এদিকে বেশ কয়েকটি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের অংশগ্রহণের কারণে ধানের শীষ প্রতীকের ভোট বিভক্ত হয়ে যায়, যার ফলে দলীয় প্রার্থীরা প্রত্যাশিত ফল পায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, অন্তত ২৮টি আসনের ফলাফলে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সরাসরি প্রভাব ছিল। ভোট বিভক্তির উদাহরণ ঢাকা–১২ এ আসনে বিএনপি সমর্থিত বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক পেয়েছেন ৩০,৯৬৩ ভোট। অন্যদিকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাইফুল আলম (নীরব) পান ২৯,৮৬৯ ভোট। দুই প্রার্থীর মোট ভোট দাঁড়ায় ৬০,৮৩২। কিন্তু ভোট বিভক্তির সুযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি সমর্থিত প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন ৫৩,৭৭৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। সিলেট–৫ এখানে বিএনপি সমর্থিত জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুক পান ৬৯,৭৭৪ ভোট। বিদ্রোহী প্রার্থী মামুনুর রশিদ পান ৫৬,৩৬৯ ভোট। ভোট বিভক্তির সুযোগে খেলাফত মজলিস প্রার্থী আবুল হাসান ৭৯,৩৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। নারায়ণগঞ্জ–৪ এ আসনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমী পান ৮০,৬১৯ ভোট। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মো. শাহ আলম পান ৩৯,৫৮৯ ভোট এবং মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন পান ৪,৭৭৯ ভোট। ফলে ভোট বিভক্ত হয়ে যাওয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন ১,০৬,১৭১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম–১৬, পাবনা–৪, বাগেরহাট–১, ঝিনাইদহ–৪, নড়াইল–২, যশোর–৫, মাদারীপুর–১, ঢাকা–১৪, সাতক্ষীরা–৩ ও ময়মনসিংহ–৬সহ আরও কয়েকটি আসনে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। দলে ফেরার চেষ্টা দলীয় সূত্র বলছে, বহিষ্কৃত অনেক নেতা ইতোমধ্যে নিজেদের ভুল স্বীকার করে দলীয় কর্মকাণ্ডে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আবার অনেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং দলের হাইকমান্ডের ইতিবাচক সংকেতের অপেক্ষায় আছেন। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বহিষ্কারাদেশ নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি দলের চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় কমিটির আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।” কঠোর অবস্থানে হাইকমান্ড বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মতে, যারা দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করেছেন তাদের ফেরার পথ সহজ হবে না। বিশেষ করে নির্বাচনে পরাজিত বিদ্রোহীদের ক্ষেত্রে দলের অবস্থান তুলনামূলক কঠোর। দলীয় সূত্র বলছে, দলের শীর্ষ পর্যায়ের বার্তা পরিষ্কার— “দল আগে, ব্যক্তি পরে।” তৃণমূলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া বহিষ্কৃত নেতাদের দলে ফেরানো নিয়ে তৃণমূলেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কিছু নেতাকর্মী মনে করেন, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থান প্রয়োজন। অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, জনপ্রিয় ও সংগঠক নেতাদের বাইরে রাখলে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোতে নির্বাচন ঘিরে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বহিষ্কার এবং পরে আবার দলে ফেরানোর নজির নতুন নয়। তাদের মতে, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী অনেক নেতাকে দীর্ঘদিন বাইরে রাখলে সাংগঠনিক ক্ষতি হতে পারে। তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিএনপিও হয়তো বাস্তবতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
ফারুক ওয়াসিফ মহাপরিচালক পিআইবি

ফারুক ওয়াসিফ, পিআইবি ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি: নিরপেক্ষ তদন্তে সত্য উদঘাটন জরুরি

আমীন আল রশীদ

খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ ইরান কীভাবে নেবে?

আত্মহত্যা

আত্মহত্যা: নীরব মানসিক ব্যাধি

চা-পাতা সংগ্রহ করছেন এক নারী শ্রমিক।
সবুজ বাগানে জীবন যাদের অনুজ্জ্বল

চা-বাগান মানেই চোখ জুড়ানো সবুজ, কুয়াশায় ঢাকা পাহাড়ি ঢাল, সারি সারি চা-গাছ আর সেই গাছের ফাঁকে ফাঁকে নীরবে নুয়ে পড়া শ্রমজীবী মানুষ গজিয়ে ওঠা সবুজ কচি পাতা তুলছে। কি অপূর্ব এক দৃশ্য। এই সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক দীর্ঘ বঞ্চনার ইতিহাসÑ যেখানে চা-শ্রমিকদের জীবন আজও অচল হয়ে এক জায়গায় স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, অবহেলা ও বৈষম্যের প্রতীক হয়ে। আমাদের দেশের চা-চাষের ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ এবং পুরাতন। ১৮৫৪ সালে সিলেটে যখন ব্রিটিশরা চায়ের বাগান তৈরি করে চা উৎপাদন শুরু করে তখন সিংহভাগের দখলে ছিল ব্রিটিশ বণিকরা। মাইলের পর মাইল বিশাল এই চা-বাগানে কাজ করবার জন্য দরকার ছিল বিপুলসংখ্যক শ্রমিক। বিহার, উড়িষ্যা, অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে কর্মহীন, শিক্ষাহীন, ভিন্ন ভাষাভাষী ও শ্রমিকশ্রেণির হিন্দু, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকজনকে কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চা-বাগান এলাকাগুলোতে নিয়ে আসা হয়। বাগানের মাঝে ছোট মাটির ঘরে চা-শ্রমিকদের বসবাস শুরু হয়। প্রতিশ্রুতি ছিল কাজ, বাসস্থান ও নিরাপদ জীবনের। বাস্তবে তারা পেয়েছে শোষণ, বন্দিত্ব আর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলা দরিদ্রতা। স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র বদলেছে, সরকার বদলেছে, কিন্তু চা-শ্রমিকদের ভাগ্য কার্যত বদলায়নি। তাদের ঘরে রাত্রে ঘুমানোর খাট নাই, তাদের থাকার ঘরে বৃষ্টির রাতে তিন-চারবার ঘুমের স্থান বদলাতে হয়, কারণ বৃষ্টি বেশি হলে ওপরের ছাদ থেকে ঘরের বিভিন্ন জায়গায় পানি পড়ে। এই হচ্ছে তাদের নিয়তি।    চা বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিবন্ধিত চা-বাগানের সংখ্যা ১৭১টি। এই বাগানগুলোর মালিক হচ্ছে জেমস ফিনলে, ডানকান ব্রাদারস, নেশনেল টি কোম্পানি, দেউন্দি টি কোম্পানি, এম আহমদ টি অ্যান্ড ল্যান্ড। তার মধ্যে প্রায় ১০টি চা-বাগান সম্পূর্ণ অসুস্থ। এই বাগানগুলোতে চা-পাতা তোলা হয় না কর্মচারী/বাবুগণ বিগত ৪৮ মাস যাবৎ কোনো বেতন পান না। সবাই বাগানে থেকেই বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করে জীবন চালাচ্ছেন। বাগানের শ্রমিকরা দৈনিক ভিত্তিক মজুরিতে কাজ করেন, কেউবা তাদের বাগানের কাছে অবস্থিত খাসিয়াপুঞ্জিতে খাসিয়া মেয়েদের সঙ্গে পানগাছ থেকে পান তুলতে সাহায্য করেন। আবার অনেক বেকার শ্রমিক পাশের শহরে রিকশা, ঠেলাগাড়ি চালান অথবা দিনমজুরের কাজ করে থাকেন। এই বাগানগুলো মূলত সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, পঞ্চগড় ও রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত। সবচেয়ে বেশি চা-বাগান রয়েছে মৌলভীবাজারে ৯৬টি। বাগানগুলোতে শ্রমিকের সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি। তবে, পরিবারসহ চা-শ্রমিক জনগোষ্ঠীর মোট সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ বা তার বেশি। যাদের বেশিরভাগ নারী। জানা গেছে, প্রায় ৬৪ শতাংশই নারী, যাদের প্রায় সবাই খুব ছোটবেলা থেকেই চা-বাগানে কাজ করতে বাধ্য হন।    মৌলভীবাজার তথা পুরো সিলেটের চায়ের রাজ্যে আমার নিজের পর্যবেক্ষণের আলোকে বলছি, দেশে যখন শহুরে শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি নিয়ে বিতর্ক হয়, তখন চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি যেন রাষ্ট্রীয় বিবেকের কাছে অদৃশ্য। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্দোলনের পর মজুরি কিছুটা বাড়লেও তা এখনও ন্যূনতম মানবিক জীবনের জন্য যথেষ্ট নয়। দৈনিক কয়েকশ টাকায়Ñ যেখানে খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, পোশাক সবই জোগাড় করতে হয় সেখানে চা-শ্রমিক পরিবারগুলো দিনের পর দিন অপুষ্টি আর অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করছে। আসলে একজন চা-শ্রমিকের কাজ শুধু চা-পাতা তোলা নয়। পাহাড়ি ঢালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা, রোদবৃষ্টি উপেক্ষা করে কাজ করা, নির্দিষ্ট কোটা অর্থাৎ জনপ্রতি আড়াই কেজি কাঁচাপাতা প্রতিদিন বিকাল ৫টার মধ্যে তোলা পূরণ না হলে মজুরি কাটা যায়, সব মিলিয়ে এ এক কঠিন শ্রমযাপন। অথচ সেই শ্রমের ন্যায্যমূল্য তারা পান না।  বেশিরভাগ চা-শ্রমিক আজও বাগান কর্তৃপক্ষের দেওয়া কুঁড়েঘরে বসবাস করেন। জরাজীর্ণ ঘর, বিশুদ্ধ পানির সংকট, স্যানিটেশনের ভয়াবহ অবস্থাÑ এসব যেন চা-বাগানের নিত্যচিত্র। আধুনিক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার অগ্রগতির গল্প চা-শ্রমিকদের ছুঁতে পারেনি। ৭ ফুট বাই ১৪ ফুট ঘরে পুরো পরিবারের বাস, শিক্ষা-স্বাস্থ্য নিয়ে সুযোগই নেই। উপরন্তু দ্রব্যমূল্য পাল্লা দিয়ে বাড়লেও তাদের বেতন সেভাবে বাড়ে না। এভাবে নানা বঞ্চনা নিয়ে দুর্দশার জীবন কাটাচ্ছেন বাংলাদেশের চা-শ্রমিকরা। দেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে পিছিয়ে পড়া বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নয়ন হলেও চা-বাগান যেন এখনও বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। এখানে পৌঁছে না আধুনিকতার আলো, মেলে না জীবনধারণের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা।  দেশের চা-বাগানের মধ্যে ৯৬টির অবস্থান মৌলভীবাজারে। আর এখানকার চা-শ্রমিকদের বিশেষ করে নারীদের দুর্দশা-বঞ্চনা আর ক্রীতদাসের মতো জীবনের যেন শেষ নেই। চা-বাগানের নিজস্ব হাসপাতাল বা ডিসপেনসারিগুলোতে চিকিৎসা সীমিত। গুরুতর রোগে আক্রান্ত হলে শহরে যাওয়ার সামর্থ্য অনেকের নেই। মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যঝুঁকি, শিশুমৃত্যু, অপুষ্টিÑ সব মিলিয়ে চা-শ্রমিক জনগোষ্ঠী আজও এক প্রান্তিক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে। বাংলাদেশের কোনো শিল্পাঞ্চলে কোনো মদের দোকান নেই শুধু ব্যতিক্রম চা-বাগান। প্রতিটি চা-বাগানে একাধিক মদের দোকান আছে। স্থানীয় ভাষায় মদের পাটটা বলে। প্রায় সব চা-শ্রমিকই মদপানে আসক্ত। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে নিবন্ধিত আছে ৮৪টি মদের পাটটা। আধো আলো আর আধো ছায়ার মধ্যে চা-বাগানগুলো তাদের উপস্থিতি টিকিয়ে রাখে। জানা গেছে, সেখানে চা-চাষে সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত ভূমির পরিমাণ ১,১৪,০১৪ হেক্টর কিন্তু বাস্তবে চাষ হচ্ছে ৫০,৪৭০ হেক্টরে। চা-বাগানে প্রাকৃতিক বন ধ্বংস হচ্ছে, তাই বন্যপ্রাণীও চা-বাগান এলাকা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। বিস্ময়কর সত্য হলো চাশিল্প ঘিরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে প্রায় ১৫টি প্রতিষ্ঠান, সেখানে চা-শ্রমিকের উপস্থিতি নেই।  শিক্ষাই পারে দারিদ্র্যের শিকল ভাঙতেÑ এই সত্যটি চা-শ্রমিকদের জীবনে বারবার প্রমাণিত হয়নি। বাগানের ভেতরের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা আর ঝরে পড়ার হার অত্যন্ত বেশি। শিশুরা অল্প বয়সেই কাজে নেমে পড়েÑ কারণ পরিবার চালাতে অতিরিক্ত আয়ের দরকার। ফলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম চা-শ্রমিক হিসেবেই রয়ে যাচ্ছে। একজন চা-শ্রমিকের সন্তান চা-শ্রমিক ছাড়া অন্য কিছু হতে পারবেÑ এই স্বপ্ন এখনও অনেকের কাছে বিলাসিতা। চা-শ্রমিকদের বড় একটি অংশ আদিবাসী ও নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তারা সামাজিকভাবেও বৈষম্যের শিকার। জাতীয় মূলধারার রাজনীতি, প্রশাসন বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের প্রতিনিধিত্ব প্রায় নেই বললেই চলে। ভোটের সময় তারা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ভোটের পরে তাদের দাবিদাওয়ার কথা ভুলে যাওয়া হয়। নাগরিক অধিকার থাকলেও বাস্তবে সেই অধিকার প্রয়োগের সুযোগ সীমিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চা-শ্রমিকদের আন্দোলন দেশজুড়ে আলোচনায় এসেছে। মজুরি বৃদ্ধি, রেশন সুবিধা, চিকিৎসা ও শিক্ষা উন্নয়নের দাবি তুলেছেন তারা। সরকার ও মালিকপক্ষ আলোচনায় বসেছে, কিছু প্রতিশ্রুতিও এসেছে। কিন্তু বাস্তবায়নের গতি ধীর, অনেক ক্ষেত্রেই অসম্পূর্ণ। এ কথা সত্য যে, বিগত সরকারের আমলে চা-শ্রমিকদের বিষয়ে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তাদের দুর্দশাকে রাষ্ট্রীয় আলোচনায় নিয়ে আসে। যদিও এসব উদ্যোগ প্রত্যাশার তুলনায় সীমিত। সবচেয়ে আলোচিত অবদান ছিল চা-শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি। দীর্ঘ ১৯ বছর পর ২০২২ সালে চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়। সরকারের মধ্যস্থতায় মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের আলোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত আসে। এতে চা-শ্রমিকদের আন্দোলনের একটি তাৎক্ষণিক সুরাহা হলেও মজুরি এখনও ন্যূনতম জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় অপর্যাপ্ত রয়ে গেছে। তৎকালীন সরকার চা-শ্রমিকদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা কিছুটা অর্থ বাড়ায়। ভিজিডি, ভিজিএফ, মাতৃত্বকালীন ভাতা ও বয়স্ক ভাতা কর্মসূচিতে চা-শ্রমিক পরিবারের অংশগ্রহণ বেড়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি চা-বাগানে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র উন্নয়ন ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকার ‘চা-শ্রমিক উন্নয়ন নীতিমালা’ প্রণয়নের কথা বললেও তার পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। বাসস্থান, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও শিক্ষা ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। অনেক ক্ষেত্রেই এসব দায়িত্ব মালিকপক্ষের ওপরই ন্যস্ত রয়ে গেছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, সরকার চা-শ্রমিকদের সমস্যা স্বীকার করছে, তবে কাঠামোগত বৈষম্য দূরীকরণ ও টেকসই উন্নয়নের পথে এগোতে যে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর সংস্কার দরকার ছিল, তা এখনও অপূর্ণই রয়ে গেছে। আমি মনে করি, চা-শ্রমিকদের জন্য দয়া নয়, প্রয়োজন অধিকারভিত্তিক নীতি। তাই ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মানবিক জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করতে হবে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসেবাকে বাগান কর্তৃপক্ষের দয়ার ওপর না রেখে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। তাদের নিরাপদ বাসস্থান, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে হবে। চা-শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নিতে হবে, যাতে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তাদের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে হবে। চায়ের কাপ হাতে আমরা যখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি, তখন খুব কমই মনে রাখি এই চায়ের পেছনে রয়েছে নিঃস্ব মানুষের ঘাম, ক্লান্তি আর অদৃশ্য কান্না। বাংলাদেশের চা-শিল্প টিকে আছে চা-শ্রমিকদের শ্রমে। অথচ তারাই আজ সবচেয়ে অবহেলিত। মনে রাখতে হবে, চা-শ্রমিকদের উন্নয়ন মানে কেবল একটি শ্রমগোষ্ঠীর উন্নয়ন নয়Ñ এটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার এক অপরিহার্য শর্ত। আমি বলতে চাই, সবুজ চা-বাগানের সৌন্দর্য তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন সেই সবুজের ভেতর থাকা মানুষগুলোর জীবনেও সবুজতা ফিরে আসবে। মতি লাল দেব রায় কলাম লেখক ও সমাজ সংগঠক

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
Professional ethics and responsibility

গণমাধ্যম: পেশাগত নীতিনৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ

রোহিঙ্গা সংকট

রোহিঙ্গা সংকট: নতুন সরকারের অগ্রাধিকারে থাকা উচিত

ফাইয়াজউদ্দিন আহমদ

নিরাপদ পানির অধিকার ও স্যানিটেশন

অর্থনীতি

ফ্যামিলি কার্ড

আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ফ্যামিলি কার্ড এর গুরুত্ব

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১৩, ২০২৬ 0




অপরাধ

ফুটপাত দখল

ফুটপাত দখল,ভোগান্তিতে পথচারী

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১৩, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ও অম্লতা বেড়ে চলেছে।

১৫টি ‘জলবায়ু ঝুঁকি’তে আছে বাংলাদেশ

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0