ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল নগরীতে সরকারি খাসজমির ওপর থাকা প্রায় ১০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি পুকুর বালু ফেলে ভরাট করে প্লট আকারে বিক্রির প্রস্তুতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬৯ শতাংশ আয়তনের জলাশয়টির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ইতোমধ্যে ভরাট করা হয়েছে। তবে যাঁরা ভরাটের কাজ করছেন, তাঁদের দাবি—ওয়ারিশ সূত্রে জমিটির মালিকানা পাওয়া গেছে এবং বৈধ পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ভিত্তিতেই উন্নয়নকাজ চলছে। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ভূমি প্রশাসনের দাবি, এটি সরকারি খাসজমি। হাসপাতালের পাশের জলাশয় নগরীর মুন্সীবাড়ি এলাকায় বীণাপাণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে উত্তরমুখী সড়কের পাশে অবস্থিত পুকুরটি বরিশাল বক্ষব্যাধি হাসপাতাল এবং উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতালের ঠিক পাশেই অবস্থিত। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, পুকুরসহ আশপাশের জমি সরকারের মালিকানাধীন। পুকুরটি দখল ও ভরাট বন্ধে কাউনিয়া থানা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কারা করছেন ভরাট? স্থানীয় সূত্রের দাবি, শহরের বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম লিয়ন, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব বাবুল তালুকদার, স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলমগীর ও রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এ কাজে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতারও পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে। তবে মহানগর বিএনপি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রাকিবুল ইসলাম লিয়ন বলেন, "ওয়ারিশ সূত্রে ওই জমির মালিক হেলাল আকন ও তাঁর বোন। আমরা চারজন পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিয়ে জায়গাটি ভরাট করছি। পরে প্লট আকারে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে।" তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সরকারি মালিকানার দাবিও প্রত্যাখ্যান করেন। পুকুর ভরাটের ঠিকাদার মো. জুয়েল জানান, সাত লাখ টাকার চুক্তিতে তিনি বালু ফেলে ভরাটের কাজ করছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য: "এটি সবসময় হাসপাতালের পুকুর হিসেবেই পরিচিত" এলাকার প্রবীণ বাসিন্দাদের দাবি, বহু দশক ধরেই জলাশয়টি বক্ষব্যাধি হাসপাতালের পুকুর হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান বলেন, "৫০ বছরের বেশি সময় ধরে আমরা জানি, এটি বক্ষব্যাধি হাসপাতালের পুকুর। কয়েক দিন আগে শুনলাম কেউ নাকি এটি কিনে ফেলেছে।" হাসপাতালের নথিতে কী আছে? হাসপাতালের অফিস সহকারীর দায়িত্বে থাকা ফার্মাসিস্ট আনোয়ারা বেগম বলেন, হাসপাতালের মোট সাত একর ৪১ শতাংশ জমির পর্চা রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী— দাগ নম্বর ১০৬৯ ভিটা, ১০৭০ ও ১০৭১ পুকুর হিসেবে রেকর্ডভুক্ত। এসব জমির মালিক হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে কালেক্টরের নাম উল্লেখ রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, "কাউনিয়া থানা ও এসিল্যান্ড অফিসে বহুবার গিয়েছি। কিন্তু জমি রক্ষায় কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।" "রাতের আঁধারে চলছে ভরাট" হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মাসুমা আক্তার বলেন, হাসপাতালের পুরোনো কর্মচারীরা সবাই জানেন এটি সরকারি সম্পত্তি। তাঁর দাবি, ১৯ জুলাই কাউনিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন ও এসিল্যান্ডকেও জানানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেড়া দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে দখলকারীরাই সেখানে বেড়া দিয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলেও ভরাট বন্ধ হয়নি। বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা স্থানীয়দের হিসাবে, হাসপাতালসংলগ্ন ৬৯ শতাংশ আয়তনের এই পুকুরটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। বক্ষব্যাধি হাসপাতাল ভবনের পেছনে অবস্থান করায় মূল সড়ক থেকে জলাশয়টির বড় অংশ দেখা যায় না। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অবস্থানকেই কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ধাপে ধাপে ভরাট চলছে। বিএনপির প্রতিক্রিয়া মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক বলেন, "এ ঘটনায় বিএনপির কোনো নেতা জড়িত নন। কাগজপত্রে জালিয়াতি হয়েছে কিনা, সেটি ভূমি অফিস তদন্ত করবে।" ভূমি প্রশাসন কী বলছে? সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজহারুল ইসলাম বলেন, পুকুরটি খাস খতিয়ানের জমি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫ বছর আগে জরিপে বিএস রেকর্ডে এটি ব্যক্তি মালিকানার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। তিনি বলেন, "আমার ধারণা, এখানে বড় ধরনের অনিয়ম বা লেনদেন হয়েছে। একটি চক্র পুকুরটি দখল করেছে। কীভাবে খাসজমি ব্যক্তি মালিকানায় গেল, সেটি চ্যালেঞ্জ করে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হবে।" সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের বক্তব্য বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, "প্রশাসনের উদাসীনতা রয়েছে। মামলা করে জমি উদ্ধার করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। তবে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় আমার যা করণীয়, তা করব।" জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তিনি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এখন যে প্রশ্নগুলো সামনে ঘটনাটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে— সরকারি খাসজমি ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড হলো কীভাবে? ওয়ারিশ ও পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ভিত্তি কতটা বৈধ? প্রশাসনের কাছে অভিযোগ যাওয়ার পরও ভরাট কেন বন্ধ হয়নি? ভূমি রেকর্ডে কোনো জালিয়াতি বা অনিয়ম ঘটেছে কি না? সরকারি সম্পত্তি দখলের পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে ভূমি প্রশাসনের তদন্ত এবং সম্ভাব্য ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের মামলার মাধ্যমে। এদিকে স্থানীয়দের দাবি, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই পুকুর ভরাট বন্ধ করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি দখলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল সদর উপজেলার মৃতপ্রায় লাকুটিয়া খালসহ দুটি খাল পুনঃখননের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দ পাওয়া প্রায় ২ কোটি ৫৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৪ টাকা শেষ পর্যন্ত ব্যয় না করে সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের সময়, প্রশাসনের ভূমিকা এবং তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করার পরের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা, কৃষক ও সচেতন মহলের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা ও কৃষি সংকটে ভোগা এলাকায় প্রয়োজনীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় উন্নয়নের একটি বড় সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। তথ্য চাওয়ার পর কী ঘটেছিল? সাংবাদিক মোহাম্মদ আবুবকর সিদ্দীক ভূঁইয়া জানান, তিনি ৭ জুন ২০২৬ তথ্য অধিকার আইনের আওতায় প্রকল্প-সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে আবেদন করেন। তার দাবি, আবেদন করার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তথ্য দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করে। পরে কোনো তথ্য সরবরাহ না করেই গত সপ্তাহে প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়। তিনি বলেন, "আমি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার সাত দিন পর তথ্য চেয়েছিলাম। যদি আগে থেকেই টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকত, তাহলে সেটি আগে নেওয়া যেত। কিন্তু তথ্য চাওয়ার পরই কেন অর্থ ফেরত দেওয়া হলো—এটি অনুসন্ধানের বিষয়।" তার আরও প্রশ্ন, অর্থ ফেরতের পরপরই কেন বরিশাল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছুটিতে গেলেন—এ বিষয়েও জনমনে নানা আলোচনা রয়েছে। কোন প্রকল্পে কত টাকা ফেরত? দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ইজিপিপি (EGPP) প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলার দুটি খাল পুনঃখননের জন্য মোট ২ কোটি ৫৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৪ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে— মরখখোলার পোল থেকে ঝড়ঝড়িয়াতলা বাজার হয়ে মাঝিবাড়ির ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার খাল খননের জন্য বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ২৩২ টাকা। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন না করেই পুরো অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে। চরবাড়িয়া ইউনিয়নের আরেকটি প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ৭৭ লাখ ২৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৬৮ লাখ টাকা ফেরত পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের ক্ষোভ স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে লাকুটিয়া খাল ভরাট হয়ে থাকায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ ও পানির সংকট দেখা দেয়। তাদের মতে, সরকারি বরাদ্দ পাওয়া সত্ত্বেও প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্যসম্পদ উন্নয়নের সুযোগ নষ্ট হয়েছে। তারা আরও প্রশ্ন তুলেছেন, জেলার অন্য উপজেলাগুলোতে খাল খননের কাজ বাস্তবায়িত হলেও সদর উপজেলায় কেন তা সম্ভব হয়নি। "টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি"—পিআইও বরিশাল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মোজাম্মেল হক বলেন, "গত সপ্তাহে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি।" এ কথা বলেই তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বলে প্রতিবেদকের দাবি। ইউএনওর বক্তব্য মেলেনি প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফরিদা সুলতানা বর্তমানে ছুটিতে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিক্রিয়া এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, "এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।" জেলা প্রশাসক কী বললেন? বরিশালের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মামুন খন্দকার জানান, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, "কেন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা গেল না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। লাকুটিয়া ও জেল খাল নিয়ে আমার পরিকল্পনা রয়েছে, যা শিগগিরই জানানো হবে।" যেসব প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি এই ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও কেন কাজ শুরু হয়নি? তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করার পরই কেন বরাদ্দ ফেরতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো? প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনিক বা কারিগরি কোনো জটিলতা ছিল কি? অর্থ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত কখন এবং কার অনুমোদনে নেওয়া হয়? দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কোনো প্রশাসনিক তদন্ত হবে কি? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে স্থানীয়দের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মহলও এখন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নিলুফার ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম, সরকারি সম্পদের ব্যক্তিগত ব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ, বদলি বাণিজ্য এবং প্রশাসনিক বিধি লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব অভিযোগের পরও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন এবং অতীতের বদলির আদেশও শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশের অভিযোগ, বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্ন সময়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা হয়নি। ফলে বিভাগীয় কার্যালয়ে ভয়ভীতি ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে তারা দাবি করছেন। ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের আমলের উপজেলা চেয়ারম্যান স্বামীর ক্ষমতা দেখিয়ে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্চাচারিতা এবং ক্ষমতার অপব্যাবহার করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন প্রাথমিক শিক্ষার বরিশালের বিভাগীয় উপ-পরিচালক। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে থাকা উপজেলা চেয়ারম্যান স্বামীর ক্ষমতা আর পাঁচ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর এক অদৃশ্য শক্তির দাপটে একইভাবে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্চাচারিতা করে যাচ্ছেন তিনি। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কিংবা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাও কর্ণপাত করেন না এই কর্মকর্তা। মহা ক্ষমতাধর এই কর্মকর্তা হলেন প্রাথমিক শিক্ষার বরিশাল বিভাগের উপ-পরিচালক নিলুফার ইয়সামিন। জানা গেছে, স্বৈরাচার হাসিনার আমলে ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা আবু আব্দুল্লাহেল কাফীর স্ত্রী নিলুফার ইয়সামিন। উপজেলা চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা স্বামীর প্রভাবে দুর্নীতি-অপকর্ম ও অনিয়ম করা যেন নিয়মে পরিণত করেছিলেন তিনি। স্বামীর প্রভাব কাজে লাগিয়ে ২০২২ সালের ৩১ আগস্ট বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় উপপরিচালক পদে পদায়ন বাগিয়ে নেন। বদলির আদেশ জারি হলেও কার্যকর হয়নি ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে একাধিক অভিযোগ পরে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে গত ২ অক্টোবর ২০২৪ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নিলুফার ইয়াসমিনকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এই প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হলেও মন্ত্রণালয়ের এই আদেশ কর্ণপাত না করে প্রাথমিকের বরিশাল বিভাগীয় অফিসেই কর্মরত থাকেন তিনি। মন্ত্রণালয়ের আদেশ অমান্য করে কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত না হওয়ায় গত ৯ অক্টোবর ২০২৪ তাকে বরিশাল বিভাগীয় অফিস থেকে কর্মবিমুক্ত (রিলিজ) করে অফিস আদেশ জারি করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আদেশ অমান্য করে এক অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে বর্তমান কর্মস্থল থেকেই তিনি মন্ত্রণালয়ের ২ অক্টোবর ২০২৪ তার বদলির আদেশ বাতিল করিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করান। শত অভিযোগ থাকা এই কর্মকর্তার বদলিতে বরিশাল বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসলেও বদলি বাতিল হওয়ায় হতাশ হন তারা। যত অপকর্ম :সরকারি গেস্ট হাউজে পারিবারিক বসবাসের অভিযোগ নিলুফার ইয়াসমিন তিনি অফিস ভবনের ৩য় তলায় অবস্থিত গেস্ট হাউজে পরিবার নিয়ে ১ বছরের অধিক সময় ধরে বসবাস করে আসছেন। সেখানে মিটিং রুম থেকে ২টি এসি খুলে সেট করেছেন। এরজন্য প্রতি মাসে প্রচুর বিদ্যুত বিল সরকারিভাবে পরিশোধ করা হচ্ছে। তিনি গেস্ট হাউস ব্যবহারের ফলে ঢাকা থেকে আসা অতিথি এবং বিভাগের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা থেকে প্রশিক্ষণে বা সভায় অংশগ্রহণের জন্য আসা কর্মকর্তাগণ নিজস্ব গেস্ট হাউজে অবস্থান করতে না পেরে বাধ্য হয়ে বাইরের হোটেলে বা অন্য কোন দপ্তরের গেস্ট হাউজে অবস্থান করতে বাধ্য হন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট অনুজ কুমার, সহকারি পরিচালক কবির উদ্দিন, এনামুল হক, ইঞ্জিনিয়ার সাইদুর রহমান সম্প্রতি ধান গবেষণার রেস্ট হাউজে এবং নিরঞ্জন রায় পাবলিক হেলথ এর রেস্ট হাউজে অধিদপ্তরের কাজে গিয়ে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি পুরো পরিবার নিয়ে কোয়ার্টারের মতো বসবাস করলেও অদ্যাবধি কোন ভাড়া পরিশোধ করেননি। সরকারি অফিস সময় না মানার অভিযোগ: পবিত্র রমজান মাস বাদে সরকারি অফিস টাইম সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৫ টা হলেও নিলুফার ইয়সামিন রেস্ট হাউজ থেকে অফিস কক্ষে নামেন দুপুর ১২ টায় এবং আবার রেস্ট হাউজে ফিরে যান দুপুর ১ টায়। এরপর বিকেল চার টায় অফিসে এসে রাত ৭ টা থেকে ৮ টা পর্যন্ত অফিস করেন তিনি। অফিসে আসা কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানান, ‘আমি বিভাগীয় অফিসে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে হয়। তিনি যখন রেস্ট হাউজ থেকে অফিসে আসেন তখন স্বাক্ষাৎ পাওয়া যায় না নামলে সাক্ষাৎ না করেই ফিরে যেতে হয়।’ এদিকে একজন মহিলা কর্মকর্তার সঙ্গে রাত ৮ টা পর্যন্ত অফিস সময়ের পরে অফিস কক্ষে অবস্থান করা সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীর জন্য বিব্রতকর ও বিরক্তিকর হলেও তার ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারেন না। অনেকেই কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন। তিনি সময় মতো অফিসে থাকেন না বিধায় উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারিদেরকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। আর্থিক যত অনিয়ম: ২০২২-২৩ অর্থ বছরের অফিস আনুষাঙ্গিক ও অন্যান্য বরাদ্দ বাবদ অফিসের কোন মালামাল ক্রয় করা না হলেও ভুয়া বিল ভাউচার করে সব টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন তিনি। একই অর্থ বছরে অফিসের রুটিন মেইনটেনেন্সের জন্য বরাদ্দকৃত ৫০ হাজার টাকার কোন কাজ না করে ভুয়া বিল ভাউচার করে সব টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেছেন। ২০২২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি যোগদানের পর থেকে যত প্রশিক্ষণ হয়েছে তাতে যে ভেন্যু ভাড়া বাবদ বরাদ্দ ছিল তা তিনি পরিশোধ না করে সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেছেন । ২০২২ সাল থেকে সকল প্রশিক্ষণ পিটিআইতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে কোন ভাড়া পরিশোধ করা হয়নি। । এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি প্রোগ্রামে স্বয়ং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন। প্রোগ্রামটি পিটিআইয়ের একটি সাধারণ কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত প্রোগ্রামটির ৩০ হাজার টাকা ভেন্যু ভাড়া ছিল। এর পুরোটাই তিনি খরচ না করে আত্মসাৎ করছেন। প্রোগ্রামটিতে প্রশাসনিক ব্যয় ৩৫০০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও তিনি ৮০০০ টাকা ব্যয় দেখিয়ে এসওই দাখিল করেছেন । এখানে ৫০০০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। প্রোগ্রামটিতে ডিপিইও কে সভাপতি এবং ডিডি অফিসের শিক্ষা অফিসারকে কোর্স সমন্বয়ক করার নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তিনি তা না করে নিজে সভাপতি এবং ডিপিইওকে কোর্স সমন্বয়ক করে সম্মানী বিতরণ করেছেন। তিনি শিক্ষা অফিসারকে কোন সম্মানী প্রদান করেননি। ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না—এমন অভিযোগ ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালানোর পরে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের কোন অনুষ্ঠান করা না হলেও বরাদ্দের সব টাকা আত্মসাত করেছেন। শিক্ষা পদক সংক্রান্ত বিভাগীয় বাছাই সম্পন্ন করে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সনদ ও পুরস্কার বিতরণের নির্দেশনা থাকলেও তিনি তা না করে বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাত করেছেন। ২০২২ ও ২০২৩ সালে কম্পিউটার থেকে সনদপত্র প্রিন্ট করে প্রদান করেছেন। কোন অনুষ্ঠান করেননি। প্রথম স্থান অধিকারীদের কেউ কেউ অফিসে এসে অথবা সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলা অফিস থেকে সনদ সংগ্রহ করেছেন। অনুষ্ঠান না করেও বিল করে করেছেন অর্থ আত্মসাৎ। ২০২২ ও ২০২৩ সালে জাতীয় পর্যায়ে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় ঢাকায় উপস্থিত না থেকেও ঢাকা ভ্রমণের জন্য টিএ বিল উত্তোলন করেন। ২০২২ সালে ১৫ দিন শ্রান্তি বিনোদন ছুটির সাথে অবৈধভাবে আরো প্রায় ১৫ দিন অফিস করেননি। এক মাস অফিসের গাড়ীটি না চললেও ঐ মাসে জ্বালানী বাবদ সমুদয় অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। সরকারি অফিসকে পারিবারিক সম্পত্তিরুপে ব্যবহার : অফিসের গাড়িটি তিনি তার ছেলে-মেয়েদের স্কুল ও কোচিং এ আনা নেয়ার কাজে ব্যবহার করেন। প্রতিদিন কমপক্ষে ৬ থেকে ৮ বার তার ছেলে-মেয়েকে স্কুলে ও কোচিং এ আনা নেওয়া করা হয় এবং সরকারি অফিসের এই গাড়ির চালককে এসব কাজে বাধ্য করেন তিনি। কোন জেলা বা উপজেলায় পরিদর্শনে গেলে পিটিআই বা ডিপিইও অফিসের গাড়ি ব্যবহার করেন। অথচ জ্বালানী তেল পুরাটাই উত্তোলন করে খরচ দেখান। গত ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর নেছারাবাদ উপজেলা পরিদর্শণের জন্য ঐ শিক্ষা অফিসারকে দিয়ে গাড়ি ভাড়া করিয়েছেন। তিনি অফিসের ২ জন অফিস সহায়ক, নৈশ প্রহরী, পরিচ্ছন্ন কর্মী, চালক এবং অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর শাহ আলমকে তার ছেলে মেয়েদের স্কুল ও কোচিং এ আনা নেয়া এবং ব্যক্তিগত বিভিন্ন কাজে সারাক্ষণ ব্যস্ত রাখেন বিধায় অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় । তিনি তার ব্যক্তিগত হীনস্বার্থ হাসিলের জন্য দরিদ্র পরিচ্ছন্ন কর্মী আকলিমা বেগম এর বেতন আটকিয়ে রেখে তাকে মোবাইল ফোন কিনতে বাধ্য করেছেন যাতে তিনি ডাকা মাত্র তার ডাকে সাড়া দিতে পারেন। আকলিমাকে দিয়ে ব্যক্তিগত যাবতীয় গৃহস্থলির কাজ করান। সকাল ৮/৯ টা থেকে রাত ৯/১০ টা পর্যন্ত তাকে দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করান বিধায় আকলিমা বেগম অফিসের নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কাজ করার সময় পায় না। বরিশাল সদরের কিশোর মজলিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো: আল মামুনকে স্কুল চলাকালীন সময়ে অফিসের গেস্ট হাউজে এসে তার ছেলেকে প্রাইভেট পড়াতে বাধ্য করেন তিনি। ঐ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জায়েদা সহ অন্যদের প্রবল আপত্তির জন্য বর্তমানে স্কুল সময়ে আসা বন্ধ হয়েছে। আপত্তির কারণে জায়েদা চরম রোষানলে পড়েছেন এবং তাকে দেখে নেয়ার হুমকি প্রদান করা হয়েছে। টাকা ছাড়া মেলেনা সেবা : প্রাথমিক শিক্ষক-কর্মচারীদের পাসপোর্ট তৈরি ও নবায়নে এনওসি প্রদান, শিক্ষা ছুটি মঞ্জুর, উচ্চতর স্কেল প্রদানসহ যে সকল কাজ বিভাগীয় অফিস থেকে করতে হয় তার প্রত্যেকটি কাজে অর্থ না দিলে কোনো ফাইল তিনি ছাড়েন না। টাকা ছাড়া ফাইল স্বাক্ষর হয়না বিভাগীয় এই অফিসে। এ বিষয়ে সম্প্রতি অর্ধগড় বেতনে এবং বিনা বিতনে ছুটি পাওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পারিবারিক প্রয়োজনে এক মাসের ছুটির আবেদন করি। তবে ছুটি না পাওয়ায় প্রথমে উপজেলা শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করলে কর্মকর্তা আমাকে বিভাগীয় অফিসে কথা বলতে বলেন। অফিসে কথা বলে বুঝতে পারি টাকা ছাড়া এখানে কিছু করা সম্ভব নয়। পরে বাধ্য হয়ে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে আমি ছুটি মঞ্জুর করি। অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বললেই চলে শোকজ, বিভাগীয় মামলার ভয় এবং এসিআর খারাপ করে দেওয়ার হুমকি: নিলুফার ইয়াসমিন অতি সাধারণ বিষয়েও কর্মকর্তা/কর্মচারীদের শোকজ করার এবং বিভাগীয় মামলার ভয় দেখিয়ে ধমক দেন। ভবিষ্যতে এসিআর খারাপ দেয়ার ভয় দেখান। শোকজ এবং বিভাগীয় মামলা ও এসিআর খারাপের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস করেনা। অফিসের যাবতীয় নথি শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে উপাস্থাপন করার বিধান থাকলেও তিনি তা মানেন না। তিনি খেয়াল খুশি মতো নথি ছাড়াই অনেক প্রশাসনিক ও আর্থিক কাজ করে থাকেন। কোন কোন ক্ষেত্রে শিক্ষা অফিসার বাইরে আছেন লিখিয়ে নথি উপাস্থাপন করতে বলেন। অফিস সহকারি শাহ আলমকে শিক্ষা অফিসারকে বাদ দিয়ে সরাসরি ফাইল উপাস্থাপন করতে বলেন। শাহ আলম তাই করে থাকে। বদলির ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় : নিলুফা ইয়সামিন তার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর শাহ আলমের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে উৎকোচ ও উপঢৌকন গ্রহণ করেন। শাহ আলম জেলা ও উপজেলা অফিসে ফোন করে জানান যে, তাকে ছাড়া ম্যাডাম অন্য কাউকে বিশ্বাস করেন না। তাই সকলকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কর্মচারীদের কর্মকাল সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে তা শাহ আলমের নিকট দিয়েছেন। শাহ আলম ঐ তালিকা দেখে দেখে বেশিদিন কর্মকাল হয়েছে এমন কর্মচারীদের ফোন করে বদলীর ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করেন। শাহ আলমের কার্যক্রম সম্পর্কে তাকে অবহিত করলে তিনি কোন কর্ণপাত করেননা। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে অন্য কর্মকর্তা কর্মচারিদের বঞ্চিত করে শাহ আলমকে ১৪ হাজার ৫০৬ টাকার টিএ বিল দিয়েছেন। তার প্রশ্রয়ের কারণে শাহ আলম সবাইকে হুমকী দিয়ে কথা বলেন। কর্মচারী বদলির ক্ষেত্রে কোন নিয়ম নীতির তোয়ক্কা করেন না। প্রশাসনিক কারণে আবুল কালামকে দশমিনা থেকে রাজাপুর বদলী করে আবার ৪ মাস পর শাহ আলমের মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা নিয়ে তাকে বাউফল উপজেলায় বদলী করা হয়। সম্প্রতি ৪ জন টেকনিক্যাল ক্যাটাগরি সহ ৬ জনকে জনস্বার্থে বদলি করা হয়। এর মধ্যে একই দপ্তরের ২ জনকে একত্রে অন্যত্র বদলি করা হয়, যদিও তাদের বিরুদ্ধে কোন লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ ছিলনা। এতে ঐ দপ্তরে কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়েছে। সমন্বিত বদলি নির্দেশিকা ২০২৩ এ মহাপরিচালকের অনুমোদন গ্রহণের বিধান থাকলেও তা করা হয়নি। এমনকি কোন ফাইল নোট ও দেয়া হয়নি। সাটলিপিকার মো: আরিফ হোসেন বিগত ৪/৫ মাস পূর্বে অবসর গ্রহণ করলেও তার কাজ অফিসের অন্য কাউকে বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। তিনি বিভাগীয় মামলা সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি এখনও তার দখলে রেখেছেন। তার মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা আদায় সহজ হয় বলে এখনো তাকে দিয়ে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ করানো হয়। শাহ আলমের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা আদায় নিশ্চিত হলে তাকে ফোন করে অফিসে আনা হয়। সে নথি তৈরি করে দিলে শাহ আলমের মাধ্যমে উপ¯’াপন করে তা নিষ্পন্ন করা হয়। একাধিক কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শিক্ষকদের সাথে কথা বললে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমরা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগীয় অফিসে জিম্মি। যখন নিলুফা ইয়াসমিনের বদলির আদেশ হলো তখন আমরা ভেবেছিলাম এই জিম্মি দশা থেকে মুক্তি পেলাম। পরবর্তী দেখলাম সেই আদেশ বাতিল হয়েছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরকারের পতন হলে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম। এই কালো টাকার সিস্টেম বদলাবে। কিন্তু তা না আমাদের ভাগ্যের আর বদল হলো না। বিভাগীয় অফিসেই আমরা জিম্মি হয়ে থাকতে হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষকদের কোচিং বানিজ্যে উৎসাহিত করা: সম্প্রীতি বিভিন্ন অনলাইল নিউজ পোর্টাল ও স্থানীয় দৈনিকে বরিশাল সদর উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের কোচিং বানিজ্যের সংবাদ প্রকাশ হলে, তিনি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নামে একটি চিঠি যাহার স্মারক নং-৩৮.০১.১০০০.০০০.২৭.০১.২০২৬.৩৮৯ প্রত্যেক স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের লিখিত ভাবে জানান, কোচিং করানো যাবে তবে স্কুল সময়ের পরে। অথচ শিক্ষামন্ত্রী বলছে স্কুল শিক্ষকদের বাহিরে বানিজ্যিক কোচিং চলবে না। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা কর্ণপাত না করে তিনি অর্থ আদায়ের মাধ্যমে নিজস্ব ক্ষমতা বলে চালিয়ে যাচ্ছেন এ সকল অপকর্ম। ডেপুটেশন বানিজ্য: মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক নিলুফার ইয়াসমিন ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: মোস্তফা কামাল শিক্ষকদের সুবিধা মতো ডেপুটেশনের মাধ্যমে বদলী করা হয়। গত ২৪/০৬/২০২৬ ইং তারিখে ৮ জন শিক্ষকের ডেপুটেশন বদলীর চিঠি যাহার স্মারক নং-জেপ্রাশিঅ/বরি/১০৭০ প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের এসব কাজে সহায়তা করেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার জাবের ও শিক্ষক নেতা ভাটিখানা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তারিকুল ইসলাম পলিন্স, ১৯১ নং কিশোর মজলিস সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইলিয়াস আলী খান, মো: আনোয়ার হোসেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় অফিসের উপ-পরিচালক নিলুফার ইয়সামিনকে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার একটি দাখিল মাদ্রাসায় মৃত এক শিক্ষকের ইনডেক্স নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে প্রায় দুই দশক ধরে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর স্থানীয় এক জামায়াত নেতার দিকে, যিনি বর্তমানে একটি সরকারি অনুদানভুক্ত কলেজে কর্মরত। অভিযুক্ত মো. মহিউদ্দিন তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী এবং উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি। অভিযোগ অনুযায়ী, একই নামের সুযোগ নিয়ে তিনি মৃত শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনের সরকারি ইনডেক্স নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে দীর্ঘ ২০ বছর সরকারি অর্থ উত্তোলন করেছেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার সুপার ইতোমধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। অভিযোগে যা বলা হয়েছে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, তজুমদ্দিন উপজেলার মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৯৯৪ সালের ১৩ মার্চ জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান মো. মহিউদ্দিন। তার নামে নির্ধারিত সরকারি ইনডেক্স নম্বর এবং ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে নিয়মিত বেতন-ভাতা প্রদান করা হতো। পরবর্তীতে ওই শিক্ষক মারা গেলে পদটি শূন্য হয়ে যায়। এরপর ২০০৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর একই নামের আরেক ব্যক্তি মো. মহিউদ্দিনকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় দেশে শিক্ষক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু থাকলেও প্রয়োজনীয় নিয়ম অনুসরণ না করে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নতুন করে ইনডেক্স গ্রহণের পরিবর্তে মৃত শিক্ষকের ইনডেক্স নম্বর এবং ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করেই সরকারি বেতন উত্তোলন শুরু হয়। ২০ বছর ধরে সরকারি অর্থ উত্তোলনের দাবি মাদ্রাসা সুপারের অভিযোগ, ২০০৬ সাল থেকে শুরু হওয়া এই অনিয়ম ২০২৬ সাল পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। তার দাবি, ২০২৬ সালের জুন মাসের এমপিও কপিতেও মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব নম্বর বহাল রয়েছে। এর মাধ্যমে এখনও সরকারি অর্থ উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি কেবল প্রশাসনিক অনিয়ম নয়; বরং সরকারি অর্থ আত্মসাতের একটি দীর্ঘমেয়াদি জালিয়াতির ঘটনাও হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। মাদ্রাসা সুপারের বক্তব্য মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. নুরুজ্জামান বলেন, "আমি এখানে যোগদানের পর বিষয়টি আমার নজরে আসে। এরপর মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করি এবং নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন জানাই।" তিনি আরও বলেন, "আমার ধারণা, গত ২০ বছরে সরকারের লাখ লাখ টাকা অনৈতিকভাবে উত্তোলন করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে এবং সরকার প্রয়োজনীয় অর্থও উদ্ধার করতে পারবে।" অভিযুক্ত যা বলছেন অভিযোগ অস্বীকার করে মো. মহিউদ্দিন বলেন, "হিসাব নম্বর এক হলেও ওই অ্যাকাউন্ট থেকে বেতন তোলা হয়নি।" তবে কোন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে তিনি বেতন উত্তোলন করেছেন—এ প্রশ্নের জবাব না দিয়েই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। প্রশাসনের অবস্থান তজুমদ্দিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, "অভিযোগটি তদন্ত করে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সরকারি অর্থ পুনরুদ্ধারসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" তদন্তে যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্তকারীদের সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে— মৃত শিক্ষকের ইনডেক্স নম্বর কীভাবে সক্রিয় অবস্থায় ছিল? একই ব্যাংক হিসাব নম্বর ব্যবহার করে কত বছর সরকারি অর্থ ছাড় হয়েছে? এমপিও ডাটাবেজে তথ্য পরিবর্তন বা যাচাইয়ের দায়িত্বে কারা ছিলেন? শিক্ষক নিবন্ধন চালুর পরও কীভাবে নতুন ইনডেক্স ছাড়া এমপিও অনুমোদন দেওয়া হয়? সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও প্রশাসনের কোনো পর্যায়ে অবহেলা বা যোগসাজশ ছিল কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর মিললেই অভিযোগের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকা জেলার রেজিস্ট্রেশন প্রশাসনে জমির শ্রেণি পরিবর্তন, দলিল সম্পাদনে অনিয়ম এবং ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। জেলা রেজিস্ট্রারসহ গুলশান ও মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ এনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার মুন্সি মোখলেছুর রহমান, মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদের এবং গুলশান সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল্লাহ আল মামুন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গত ৩ মে গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ১০.৬৬ কাঠা জমির একটি সাব-কবলা দলিল সম্পাদন করা হয় (দলিল নম্বর ৩৪৫৯)। অভিযোগকারীদের দাবি, বাস্তবে জমিটি বসতভিটা হলেও দলিলে সেটিকে ‘নাল জমি’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। তাদের মতে, এভাবে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি ও দলিল প্রক্রিয়ায় অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দলিল সম্পাদনে চাপের অভিযোগ অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট জমির দাতা পক্ষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দলিল সম্পাদনে বাধ্য করা হয়েছে এবং সরকারি রাজস্বের একটি অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগকারীরা মনে করেন, এ ধরনের অনিয়মের ফলে রাষ্ট্রের রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি বাড়তে পারে। জেলা রেজিস্ট্রারের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, ঢাকা জেলার অন্তত ২১টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চললেও জেলা রেজিস্ট্রার মুন্সি মোখলেছুর রহমান কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি। কিছু ক্ষেত্রে তিনি অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের রক্ষায় ভূমিকা রেখেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে অডিট ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অফিস থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। মোহাম্মদপুর অফিসে জালিয়াতি ধামাচাপার অভিযোগ মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তিনি দলিল জালিয়াতি ও অনিয়মের বিষয়গুলো ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই অফিসের নকল নবিশ আওলাদ হোসেন দীর্ঘ সময় ধরে বালাম বইয়ে তথ্য সংরক্ষণ করেননি এবং নিয়মনীতি উপেক্ষা করে এজলাসে ওঠার অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া অভিযোগকারীরা বলেন, মোহাম্মদপুর অফিসে সরকারি বিধিবিধানের বাইরে স্ক্যানার মেশিন স্থাপন করা হয়েছে এবং দলিলের কাগজ স্ক্যান করে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। তাদের দাবি, রেকর্ড রুমে এ ধরনের স্ক্যানার বসানোর কোনো নিয়ম নেই। গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের অভিযোগ গুলশান সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে দলিল সম্পাদনের সময় অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ ও রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, কিছু সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে এবং দ্রুত সেবা দেওয়ার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। সূত্রের বরাতে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এসব দালাল চক্রকে প্রশ্রয় দেওয়ার ফলে প্রশাসনিক দুর্বলতা তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আশুলিয়া অফিসের পূর্ববর্তী অভিযোগ ২০২৪ সালের একটি পৃথক অভিযোগে আশুলিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কিছু কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণ ও দলিল প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগে বলা হয়েছিল, সেখানে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম পরিচালনা করছিল। ঘুষের অর্থ আদায়ের অভিযোগ অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ঢাকা জেলার ২১টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে অডিট ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের নামে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হয়। সেখানে মাশোহারা, অডিটের নামে অর্থ গ্রহণ এবং বদলি বাণিজ্যের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। দুদকের অভিযানের প্রেক্ষাপট রেজিস্ট্রেশন অফিসে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দেশের ৩৫টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অভিযান চালায়। ওই অভিযানে দলিল রেজিস্ট্রি, নকল উত্তোলনসহ বিভিন্ন সেবায় অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠে আসে। পর্যবেক্ষকদের মতে, একই ধরনের অভিযোগ বারবার সামনে আসায় রেজিস্ট্রেশন প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সেবার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রশাসনের ভেতরের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগের সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির নয় দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও দায়িত্ব গ্রহণ করেননি মু. রেজা হাসান। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। একই সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে বিভিন্ন আলোচনা, যদিও এসব দাবির সরকারি কোনো নিশ্চিতকরণ নেই। প্রশ্ন উঠছে—একজন জেলা প্রশাসককে নিয়োগের পরও কেন তিনি কর্মস্থলে যোগ দিচ্ছেন না? এটি কি কেবল প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো কারণ? প্রশাসনের অবস্থান: ‘আমরা কিছু জানি না’ সোমবার বিকেলে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা বলেন, "এটি (ডিসির যোগদান করা কিংবা না করা) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বলতে পারবে। এ বিষয়ে কিছু জানা নেই আমার।" তার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, জেলা প্রশাসনের বর্তমান দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছেও নতুন ডিসির যোগদানে বিলম্বের কারণ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি কী? সরকারদলীয় সিলেটের একটি স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র দাবি করেছে, মু. রেজা হাসানকে সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি স্থানীয় একজন মন্ত্রীর পছন্দ হয়নি। ওই সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় সিলেটের জন্য নতুন করে আরেকটি নিয়োগ প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। তবে এই দাবির পক্ষে সরকার বা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বদলির ধারাবাহিকতা গত ২১ জুন সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। তবে ওই প্রজ্ঞাপনে প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ করা হয়নি এবং একই সঙ্গে নতুন জেলা প্রশাসকের নামও ঘোষণা করা হয়নি। পরবর্তীতে ২৮ জুন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনরত মু. রেজা হাসানকে সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের পর তিনি কুমিল্লার দায়িত্ব ছেড়ে দিলেও এখনও সিলেটে যোগ দেননি। ফলে বর্তমানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পিংকি সাহা ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মাজারের দানব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্কের সঙ্গে কি কোনো সম্পর্ক? প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলের একাধিক সূত্রের দাবি, সারওয়ার আলমের বদলির আগে সিলেটে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা। গত ১২ জুন দুই মাজার পরিদর্শনের সময় সারওয়ার আলম দান ও ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগের ঘোষণা দেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৮ জুন— পুরোনো দানবাক্স সিলগালা করা হয়; নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়; দীর্ঘদিন ব্যবহৃত ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগও সিলগালা করা হয়। এই পদক্ষেপের পর জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একটি অংশ প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানায়। অন্যদিকে অনেকেই মাজারের প্রচলিত ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ হিসেবে বিষয়টি দেখেন এবং সমালোচনা করেন। বদলি কি ছিল ‘রুটিন’? মাজারের দানব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের কয়েক দিনের মধ্যেই সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়। এই সময় সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকেই মন্তব্য করেন, দানবাক্সের ব্যবস্থাপনায় হাত দেওয়ার কারণেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের একাধিক মন্ত্রী প্রকাশ্যে বলেছেন, জেলা প্রশাসকের বদলি ছিল ‘রুটিন ওয়ার্ক’ এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো বিশেষ কারণ যুক্ত নয়। সরকারি এই ব্যাখ্যার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নানা ব্যাখ্যা ও গুঞ্জন চলমান থাকলেও সেগুলোর কোনোটি এখন পর্যন্ত সরকারি নথি বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়নি। এখনও উত্তরহীন কয়েকটি প্রশ্ন বর্তমান পরিস্থিতিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা— নিয়োগের নয় দিন পরও কেন সিলেটে যোগ দেননি মু. রেজা হাসান? তিনি কি ব্যক্তিগত বা প্রশাসনিক কোনো কারণে যোগদান স্থগিত রেখেছেন? রাজনৈতিক আপত্তির যে আলোচনা চলছে, তার বাস্তব ভিত্তি কতটা? জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কি নতুন কোনো সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে? সিলেটে কি আবারও নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে? যা নিশ্চিত এ মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে জানা তথ্য হলো— সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মু. রেজা হাসানকে সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। তিনি কুমিল্লার দায়িত্ব ছেড়েছেন। কিন্তু এখনও সিলেটে দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। ফলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা না দেওয়া পর্যন্ত নতুন জেলা প্রশাসকের যোগদানে বিলম্বের প্রকৃত কারণ নিয়ে তৈরি হওয়া আলোচনা ও জল্পনার অবসান হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ২০২৫–২৬ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় বিভিন্ন ভবনের মেরামত ও সংরক্ষণ কাজের জন্য আহ্বান করা প্রায় দেড় কোটি টাকার একটি ই-জিপি টেন্ডারকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সর্বনিম্ন দরপ্রস্তাব দেওয়া একাধিক প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত বেশি দরদাতা একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে সরকারের প্রায় ১০ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে। প্রাপ্ত নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটির প্রাক্কলিত মূল্য ছিল ১ কোটি ৫০ লাখ ৩২ হাজার টাকা। টেন্ডারে মোট ২২টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। দরপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ‘এম/এস যমুনা প্রকৌশলী’ প্রতিষ্ঠান ১ কোটি ২৬ লাখ ৭৯ হাজার ৪৯২ টাকা দরপ্রস্তাব দিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতাদের মধ্যে ছিল। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথম ১৪ জন সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে ১৫তম অবস্থানে থাকা ‘নিশিত বসু’ নামের প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ৩৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এ সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের প্রায় ১০ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে। দ্রুত মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন টেন্ডার-সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, দরপত্র আহ্বান করা হয় ২০২৬ সালের ২ জুন। দরপত্র দাখিল ও উন্মুক্ত করার নির্ধারিত তারিখ ছিল ১৮ জুন। এরপর মাত্র ১২ দিনের মধ্যে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের একাংশের দাবি, অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে মাত্র দুই কার্যদিবস হাতে রেখে এত বড় অঙ্কের টেন্ডার মূল্যায়ন ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় এর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পিপিআর লঙ্ঘনের অভিযোগ অভিযোগে বলা হয়েছে, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) ২০০৮ অনুসরণ না করে সর্বনিম্ন দরদাতাকে উপেক্ষা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ রয়েছে, ৫ শতাংশ অগ্রিম কমিশনের বিনিময়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হয়েছে। আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তৌহিদ ইমাম ই-জিপি পোর্টালের নিয়ন্ত্রণ এককভাবে নিজের হাতে রেখে পুরো টেন্ডার প্রক্রিয়া পরিচালনা করেছেন। দায়িত্ব নিয়ে ভিন্নমত এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোখলেসুর রহমান বলেন, ক্রয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তিনি হলেও পুরো টেন্ডার প্রক্রিয়া পরিচালনা করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তৌহিদ ইমাম। অন্যদিকে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তৌহিদ ইমাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "নিয়ম মেনেই টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। এসএলটি অনুযায়ী ‘নিশিত বসু’ প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েছে। অনলাইনে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।" তিনি আরও বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে জুন ক্লোজিংয়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করা হয়েছে। বিল পরিশোধের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবে। প্রশাসনের ব্যাখ্যা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, তিনি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবির বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাজস্ব বাজেটের অর্থ ব্যয় করতে না পারলে তা সরকারি কোষাগারে ফেরত যাওয়ার ঝুঁকি ছিল। আগের অভিযোগের প্রেক্ষাপট এর আগে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত এবং একাধিক মামলার ঘটনাও সামনে আসে। নতুন এই টেন্ডার-সংক্রান্ত অভিযোগ সেই প্রেক্ষাপটেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রয়প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সরকার পরিবর্তন হয়, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিও বদলায়। কিন্তু পাসপোর্ট করতে দালালকে টাকা দেওয়া, জমির নামজারি দ্রুত করাতে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ, থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা তদন্ত এগিয়ে নিতে অনানুষ্ঠানিক লেনদেন—এসব যেন বাংলাদেশের নাগরিক জীবনের দীর্ঘস্থায়ী বাস্তবতা। প্রশ্ন উঠছে, রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল হলেও কেন সেবা খাতের ঘুষ-দুর্নীতির ধরন বদলায় না? সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ প্রকাশের পর বিষয়টি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। জরিপ বলছে, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি সেবা খাতে আনুমানিক ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকার ঘুষ লেনদেন হয়েছে। আগের জরিপের তুলনায় যা ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে অন্তত একটি সরকারি সেবা নিতে গিয়ে ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবার কোনো না কোনো ধরনের দুর্নীতির মুখোমুখি হয়েছে। ২০২৩ সালের জরিপে এ হার ছিল ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান সামনে আসার পর রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুর্নীতি কেন কমেনি। আবার অনেকে জানতে চাইছেন, বর্তমান সরকারের সময়ে পরিস্থিতির আদৌ কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না। তবে তথ্য বলছে, এই দুই প্রশ্নের উত্তর এক নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার এক বছরের চিত্র টিআইবির জরিপ মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার এক বছরের সেবা খাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে। জরিপ অনুযায়ী, শুধু ঘুষের মোট অঙ্কই বাড়েনি, বেড়েছে ঘুষ দিতে বাধ্য হওয়া পরিবারের সংখ্যাও। ২০২৩ সালে যেখানে ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবার অন্তত একটি সেবা নিতে ঘুষ দেওয়ার কথা জানিয়েছিল, সর্বশেষ জরিপে তা বেড়ে হয়েছে ৬৩ দশমিক ৬ শতাংশ। সবচেয়ে দুর্নীতিপ্রবণ সেবার তালিকায় রয়েছে— পাসপোর্ট বিআরটিএ বিচার সংশ্লিষ্ট সেবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ভূমি অফিস পাসপোর্ট সেবা নিতে যাওয়া ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ দুর্নীতির অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। বিআরটিএ সেবায় দুর্নীতির অভিজ্ঞতার হার ৭৯ দশমিক ৩ শতাংশ। "ঘুষ না দিলে সেবা পাওয়া কঠিন" জরিপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণগুলোর একটি হলো, ঘুষ দেওয়া পরিবারগুলোর ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ জানিয়েছে, ঘুষ না দিলে সেবা পাওয়া সম্ভব হতো না কিংবা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়তো। অর্থাৎ, বহু ক্ষেত্রে ঘুষ এখন বিচ্ছিন্ন অনিয়ম নয়; বরং নাগরিকের কাছে কার্যত সেবা পাওয়ার অলিখিত শর্তে পরিণত হয়েছে। পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ৯ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৫ হাজার ১২৪ টাকায় নেমে এলেও টিআইবি বলছে, এটিকে দুর্নীতি কমার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যাবে না। কারণ, ব্যক্তি প্রতি ঘুষের অঙ্ক কমলেও আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিবার ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছে। অর্থাৎ দুর্নীতির বিস্তার বেড়েছে। ডিজিটাল সেবা এখনও সীমিত জরিপে দেখা গেছে, ৯৯ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ সরাসরি উপস্থিত হয়ে সরকারি সেবা নিয়েছেন। অন্যদিকে অনলাইনে সেবা নিয়েছেন মাত্র ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি যোগাযোগের এই উচ্চ হার দালাল চক্র, ফাইল আটকে রাখা, দ্রুত সেবা দেওয়ার নামে অর্থ আদায় এবং কর্মকর্তা-সেবাগ্রহীতার অনানুষ্ঠানিক লেনদেনের সুযোগ বহাল রেখেছে। বর্তমান সরকারের সময় পরিস্থিতি কি বদলেছে? এখানেই গুরুত্বপূর্ণ একটি পার্থক্য রয়েছে। বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেয় ১৭ ফেব্রুয়ারি। অন্যদিকে টিআইবির প্রকাশিত জাতীয় জরিপটি মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা। ফলে পরিসংখ্যানগতভাবে এখনই বলা সম্ভব নয়, বর্তমান সরকারের সময়ে সেবা খাতের ঘুষ কমেছে, বেড়েছে নাকি একই অবস্থায় রয়েছে। তবে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ১০০ দিনের মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে টিআইবি। সেখানে সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট সুবিধা বাতিল, প্রধানমন্ত্রীর ভিভিআইপি প্রটোকল সীমিত করা, রাষ্ট্রীয় অর্থে ব্যক্তিগত বিদেশ সফর নিরুৎসাহিত করা এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি বলেছে, দুর্নীতি প্রতিরোধ, সুশাসন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য এখনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দৃশ্যমান নয়। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, বিচারব্যবস্থা ও গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ স্থগিত বা পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত সংস্কারের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। দুদকের নেতৃত্বে দীর্ঘ শূন্যতা দুর্নীতি দমনে রাষ্ট্রের প্রধান প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কিন্তু বর্তমান সরকারের শুরুতেই প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের প্রশাসনিক সংকটে পড়ে। গত মার্চে চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার একযোগে পদত্যাগ করার পর প্রায় সাড়ে তিন মাস কমিশনের অনুসন্ধান, মামলা অনুমোদন, চার্জশিট, সম্পদ জব্দ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং গ্রেফতারসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সরকার ইতোমধ্যে নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠন করেছে এবং আবেদনও আহ্বান করেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব না পাওয়া পর্যন্ত কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সংসদে রাজনৈতিক বিতর্ক টিআইবির প্রতিবেদন প্রকাশের পর জাতীয় সংসদেও বিষয়টি আলোচনায় আসে। সরকারি দলের সদস্যরা ১২ হাজার কোটি টাকার ঘুষের হিসাব তুলে ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন এবং উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেন। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, এটি কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্পে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের হিসাব নয়। বরং নাগরিকরা সরকারি সেবা নিতে গিয়ে যে ঘুষ দিয়েছেন, তার সামগ্রিক অর্থমূল্য। ফলে এই অর্থকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের ব্যক্তিগত দুর্নীতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে সেবা খাতের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় সংশ্লিষ্ট সরকারের ওপর বর্তায় বলে সরকারি বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়। তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, দুর্নীতি একটি ফৌজদারি অপরাধ এবং এর কোনো তামাদি নেই। অভিযোগ যে সময়েরই হোক, দুদক স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে পারে এবং করা উচিত। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বাধা থাকবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিশেষজ্ঞ কী বলছেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক মাসুদ কামালের মতে, সেবা খাতের দুর্নীতি বাংলাদেশে নতুন নয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তা তুলনামূলকভাবে বেড়েছিল। তার ভাষায়, মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের মধ্যে শাস্তির ভয় দুর্বল হয়ে পড়ায় ঘুষের প্রবণতাও বেড়েছে। তিনি বলেন, "দুর্নীতি বন্ধের একমাত্র কার্যকর উপায় হলো দলীয় পরিচয় বা রাজনৈতিক প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের সমান প্রয়োগ। কেউ যদি বিশ্বাস করে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তার বিচার হবে না, তাহলে দুর্নীতি কখনও কমবে না।" আরও বলেন, "দুর্নীতিবাজদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে এই প্রবণতা চলতেই থাকবে। সরকার আওয়ামী লীগের হোক, অন্তর্বর্তী সরকারের হোক কিংবা বিএনপির—প্রশাসনের একই লোকজন যদি শাস্তির ভয় না পায়, তাহলে সেবা খাতের ঘুষও বন্ধ হবে না।" অনুসন্ধানের সারকথা টিআইবির জরিপ একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে—সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেবা খাতের দুর্নীতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে না। কারণ, ঘুষের সংস্কৃতি অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক কাঠামো, জবাবদিহির দুর্বলতা, সীমিত ডিজিটাল সেবা, দালালনির্ভর প্রক্রিয়া এবং শাস্তিহীনতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। বর্তমান সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তাই রাজনৈতিক বক্তব্য নয়; বরং এমন একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে পাসপোর্ট অফিস, ভূমি কার্যালয়, থানা, বিআরটিএ, আদালত কিংবা ব্যাংকে সাধারণ মানুষ বাস্তবে ঘুষ ছাড়াই সেবা পেতে পারেন। শেষ পর্যন্ত দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকারের সফলতা পরিমাপ হবে নাগরিকের অভিজ্ঞতায়—প্রতিশ্রুতিতে নয়।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে খুলনাকেন্দ্রিক একটি প্রভাবশালী টেন্ডার সিন্ডিকেট পরিচালনা, সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদার নির্বাচন এবং জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন নথি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা বলে অনুসন্ধানে এমন অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অমিত কুমার বিশ্বাসের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। খুলনায় দীর্ঘদিনের প্রভাব অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২৮তম বিসিএসের মাধ্যমে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর অমিত কুমার বিশ্বাসের প্রথম কর্মস্থল ছিল খুলনা। কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য সময় তিনি সহকারী প্রকৌশলী, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এবং পরে নির্বাহী প্রকৌশলী (গণপূর্ত বিভাগ-১) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তিনি দীর্ঘ সময় খুলনায় দায়িত্বে থেকে বিভাগ-১, বিভাগ-২ এবং বাগেরহাট গণপূর্ত বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও একসঙ্গে পালন করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব তথ্য সরকারি দপ্তরের বদলি ও দায়িত্ব সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করলেই যাচাই করা সম্ভব। টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিশেষ বরাদ্দের একাধিক প্রকল্পে ওপেন টেন্ডার মেথড (OTM) ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া দিঘলিয়া উপজেলা মডেল মসজিদ, টিটিসি নির্মাণ এবং খুলনা মেডিকেল কলেজের নতুন ভবন নির্মাণসহ একাধিক প্রকল্পে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তাদের ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদার। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব প্রকল্পে কমিশনভিত্তিক আর্থিক লেনদেনেরও অভিযোগ রয়েছে। গোপালগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালেও অনিয়মের অভিযোগ খুলনার বাইরে গোপালগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগে দায়িত্ব পালনকালেও বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে অমিত কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২০ সালে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে গৃহীত কয়েকটি নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়া হয়। পটুয়াখালীতে বদলির পরও একই অভিযোগ ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর অমিত কুমার বিশ্বাসকে পটুয়াখালী গণপূর্ত বিভাগে বদলি করা হয়। সেখানে গিয়েও প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশনার বাইরে গিয়ে লিমিটেড টেন্ডার মেথড (LTM)-এর পরিবর্তে ওপেন টেন্ডার মেথড (OTM) ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে যেসব টেন্ডারের আইডি উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: 1082830,1078462,1078463,1072870,1072103,1072880,1072852,1071872,1070585,1066538,1067779,1067780,1070581 এসব টেন্ডারের মূল্যায়ন প্রতিবেদন, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সিদ্ধান্ত এবং অনুমোদন নথি পর্যালোচনা করলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন অনুসন্ধানে অমিত কুমার বিশ্বাসের নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ থাকার অভিযোগও উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তার সম্পদের মধ্যে রয়েছে— খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকায় একটি ছয়তলা ভবন। ডুমুরিয়ায় প্রায় ২০ বিঘা আয়তনের মাছের ঘের। ঢাকার উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরে দুটি ফ্ল্যাট। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সি-ব্লকে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। গাজীপুরে রিসোর্ট নির্মাণের জন্য প্রায় ১০ একর জমি। বিভিন্ন ব্যাংকে নামে-বেনামে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের আমানত থাকার অভিযোগ। এছাড়া অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, ভারতে সম্পদ এবং অর্থপাচারেরও অভিযোগ রয়েছে। তদন্তের দাবি গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা ও ঠিকাদার, যারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন, তারা অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, টেন্ডার প্রক্রিয়া, সম্পদের উৎস, ব্যাংক লেনদেন এবং সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের নথিপত্র পর্যালোচনা করলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হবে। বক্তব্য পাওয়া যায়নি অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার বিশ্বাসের বক্তব্য জানার জন্য তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: সরকারের সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২-এর আওতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) আসনের ১০টি মসজিদে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া ১০টি মসজিদের মধ্যে আটটিই সংসদ সদস্য ড. মু. মিজানুর রহমানের নিজ উপজেলা গোমস্তাপুরে হওয়ায় স্থানীয়দের একাংশ বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন। বরাদ্দ তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাকি দুটি মসজিদের মধ্যে একটি নাচোল এবং অন্যটি ভোলাহাট উপজেলায়। নাচোলে বরাদ্দ পাওয়া মসজিদটি আবার পৌর জামায়াতের আমির মুনিরুল ইসলামের নিজ গ্রামের বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, একই সংসদীয় এলাকার তিনটি উপজেলার মধ্যে বরাদ্দ বণ্টনে কী নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে এবং কেন একটি উপজেলায় মোট বরাদ্দের ৮০ শতাংশ চলে গেছে। বরাদ্দের চিত্র খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২-এর আওতায় নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলার ১০টি মসজিদের জন্য মোট ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে রয়েছে মোট ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা। এর মধ্যে গোমস্তাপুর উপজেলায় রয়েছে আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা, যা পুরো আসনের প্রায় অর্ধেক প্রশাসনিক ইউনিট। তবে বরাদ্দের তালিকায় দেখা যায়— গোমস্তাপুর উপজেলায় আটটি মসজিদ রহনপুর পৌরসভার পুরাতন প্রসাদপুর দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদ রহনপুর রেলস্টেশন বাজার শাহী জামে মসজিদ নুনগোলা জামে মসজিদ সন্তোষপুর জামে মসজিদ দাঁড়াবাজ গাবতলা জামে মসজিদ দিঘা বাজার জামে মসজিদ পলাশডাঙ্গা জামে মসজিদ কাশিয়াবাড়ি পূর্বপাড়া জামে মসজিদ নাচোল উপজেলায় একটি মুরাদপুর পশ্চিমপাড়া পুরাতন জামে মসজিদ ভোলাহাট উপজেলায় একটি মধ্য খড়কপুর জামে মসজিদ 'সমতার ভিত্তিতে হলে চিত্র ভিন্ন হতো' স্থানীয় বাসিন্দা ওবায়দুল্লাহর দাবি, প্রশাসনিক ইউনিটের অনুপাতে বরাদ্দ দেওয়া হলে নাচোল ও ভোলাহাটে তিনটি করে এবং গোমস্তাপুরে চারটি মসজিদ বরাদ্দ পাওয়ার কথা ছিল। তিনি বলেন, "সমতার ভিত্তিতে বরাদ্দ হলে দুটি পৌরসভার জন্য দুটি এবং প্রতি দুটি ইউনিয়নের জন্য একটি করে মসজিদ বরাদ্দ দেওয়া যেত। সেই হিসাবে নাচোল তিনটি, ভোলাহাট তিনটি এবং গোমস্তাপুর চারটি মসজিদ পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে গোমস্তাপুর পেয়েছে আটটি।" রাজনৈতিক মহলেও প্রশ্ন নাচোল উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মাজিদুল ইসলাম বলেন, "নাচোলে যে মসজিদে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেটি জামায়াতের পৌর আমিরের এলাকায়। এটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।" ভোলাহাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইয়াজদানি জর্জের ভাষ্য, "উপজেলাভিত্তিক আনুপাতিক বরাদ্দ হওয়া উচিত ছিল। বর্তমান বণ্টন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।" জামায়াত নেতাদের বক্তব্য: 'ভুল হয়েছে' সমালোচনার মুখে স্থানীয় জামায়াত নেতারাও বরাদ্দ বণ্টনে ভারসাম্যের ঘাটতির কথা স্বীকার করেছেন। নাচোল উপজেলা জামায়াতের আমির ইয়াকুব আলী বলেন, "আগের বরাদ্দগুলো সমতার ভিত্তিতে হয়েছিল। এবার একটু ভুল হয়েছে। সংসদ সদস্যের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। পরবর্তী বরাদ্দে সমন্বয় করা হবে।" সংসদ সদস্য যা বলছেন সংসদ সদস্য ড. মু. মিজানুর রহমান বলেন, শুরুতে বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তার ভাষ্য, "তাৎক্ষণিকভাবে একটি তালিকা চাওয়া হয়েছিল। আমার ফাইলে যেসব আবেদন ছিল, সেখান থেকেই তালিকা অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে দেখি গোমস্তাপুর উপজেলায় সংখ্যাটা বেশি হয়ে গেছে। পরবর্তী বরাদ্দে উপজেলাভিত্তিক সমতা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে।" যে প্রশ্নগুলো সামনে এসেছে এই বরাদ্দকে ঘিরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— মসজিদ নির্বাচন ও বরাদ্দের ক্ষেত্রে কী নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে? আবেদনকারীর সংখ্যা, প্রয়োজন নাকি রাজনৈতিক বিবেচনা—কোনটি প্রাধান্য পেয়েছে? একই সংসদীয় এলাকার তিন উপজেলার মধ্যে বরাদ্দ বণ্টনে ভারসাম্য নিশ্চিত করার কোনো প্রশাসনিক যাচাই ছিল কি? ভবিষ্যতে এ ধরনের সরকারি বরাদ্দে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? সরকারি অর্থে ধর্মীয় অবকাঠামো উন্নয়নের বরাদ্দে এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই এখন স্থানীয়দের প্রধান প্রত্যাশা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পাখিমারা আউটলেট শাখার এক ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক গ্রাহকের প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ক্যাশিয়ার রিয়াদুল ইসলাম ইউসুফ বর্তমানে পলাতক বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার (২৯ জুন) সকাল ১১টার দিকে ব্যাংকের আউটলেট শাখার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা। তারা দ্রুত অর্থ ফেরত, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। কীভাবে সামনে এলো অভিযোগ ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ গ্রহণ করলেও সংশ্লিষ্ট ক্যাশিয়ার অনেক ক্ষেত্রে সেই টাকা ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেমে জমা হিসেবে দেখাতেন না। গ্রাহকরা জানান, টাকা জমা দেওয়ার পর মোবাইলে স্বয়ংক্রিয় এসএমএস না এলে তারা বিষয়টি জানতে চাইতেন। তখন অভিযুক্ত ক্যাশিয়ার "সার্ভারের সমস্যা"র কথা বলে তাদের আশ্বস্ত করতেন। পরে হিসাব মিলিয়ে দেখা যায়, একাধিক জমা ব্যাংকের রেকর্ডেই নেই। এভাবে ধাপে ধাপে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সামনে আসে বলে দাবি করেন ক্ষতিগ্রস্তরা। শুধু গ্রাহক নয়, এজেন্টের অ্যাকাউন্ট থেকেও অর্থ উধাও অভিযোগ অনুযায়ী, শুধু গ্রাহকদের আমানতই নয়, ব্যাংকের এজেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান আইয়ুব আলীর মাদার অ্যাকাউন্ট থেকেও প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আর্থিক অনিয়মের পরিধি আরও বড় হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। "আমি সর্বস্বান্ত" ভুক্তভোগী লামিয়া বলেন, "আমি সর্বস্বান্ত হয়ে গেলাম। আমার সব টাকা নিয়ে পালিয়েছে।" তার মতো আরও অনেক গ্রাহক দাবি করেছেন, তাদের জীবনভর সঞ্চিত অর্থ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কী বলছে ব্যাংকের এজেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান আইয়ুব আলী বলেন, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তার ভাষায়, "ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।" তবে কতজন গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, মোট অর্থের পরিমাণ কত এবং অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তদন্তের অপেক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— অভিযোগের প্রকৃত আর্থিক পরিমাণ কত? কতজন গ্রাহকের অর্থ জমা হয়নি? অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ব্যবস্থার ফাঁক কোথায় ছিল? দীর্ঘ সময় ধরে অনলাইন সিস্টেমে জমা না দেখানো হলেও তা কেন শনাক্ত হয়নি? অভিযুক্ত একাই এই অনিয়ম করেছেন, নাকি এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুসন্ধানে। বর্তমানে ভুক্তভোগীরা দ্রুত অর্থ ফেরত এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পর্যটন সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে আবাসন ও হোটেল প্রকল্পের স্বপ্ন দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহের পরও এক দশক পেরিয়ে নির্ধারিত প্লট বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সেঞ্চুরি গ্রুপের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, 'সেঞ্চুরি কুয়াকাটা মডেল টাউন', 'সেঞ্চুরি গোল্ড কোস্ট হোটেল অ্যান্ড স্পা' এবং 'সেঞ্চুরি ট্রেজার আইল্যান্ড অ্যান্ড বাটার ফ্লাই পার্ক'—এই তিন প্রকল্পে জমি, হোটেলের মালিকানা ও ভবিষ্যৎ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে বিনিয়োগ নেওয়া হলেও অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি আজও বাস্তবায়ন হয়নি। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমজিআর নাসির মজুমদার। এশিয়া পোস্টের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—প্লটের পুরো মূল্য পরিশোধের পরও নির্দিষ্ট জমি বুঝিয়ে না দেওয়া, সরকারি ফি'র তুলনায় কয়েক গুণ বেশি অর্থ আদায়, চুক্তির বাইরে ভিন্ন মৌজার জমি দলিলে অন্তর্ভুক্ত করা এবং দফায় দফায় নতুন অর্থ দাবির মতো একাধিক অভিযোগ। পুরো টাকা পরিশোধের ১০ বছর পরও প্লট নেই ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রাহকদের কাছে কাঠাপ্রতি ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩৫০ টাকা দরে পাঁচ কাঠার প্লট বিক্রির ঘোষণা দেয় সেঞ্চুরি গ্রুপ। ২০১১ সালের মে মাসে গ্রাহকদের হাতে চুক্তিপত্র তুলে দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী, মাসে ১১ হাজার ২৫ টাকা করে ৭২ কিস্তিতে ২০১৬ সালের জুন মাসে মোট ৭ লাখ ৯৩ হাজার ৮০০ টাকা পরিশোধ করেন ক্রেতারা। কিন্তু ২০২৬ সালেও অধিকাংশ ক্রেতা তাদের নির্ধারিত প্লট বুঝে পাননি। কিস্তিতে সামান্য দেরি, এরপর জরিমানা ও ঘুষের অভিযোগ একাধিক গ্রাহক জানিয়েছেন, কিস্তি পরিশোধে সামান্য বিলম্ব হলেই বড় অঙ্কের জরিমানা আরোপ করা হতো। একজন ভুক্তভোগীর দাবি, জরিমানা কমিয়ে দেওয়ার আশ্বাসে কোম্পানির এক কর্মকর্তাকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। এরপরও তার কাছ থেকে ৩১ হাজার ১৬৩ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। উন্নয়ন ও রেজিস্ট্রেশনের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ২০১৬ সালে প্লটের সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধের পরও ২০২১ সালে গ্রাহকদের কাছ থেকে ডেভেলপমেন্ট চার্জ হিসেবে প্লট মূল্যের ১৫ শতাংশ হারে ১ লাখ ১৯ হাজার ৭০ টাকা নেওয়া হয়। এরপর ২০২৪ সালে জমির রেজিস্ট্রেশন করতে গিয়ে প্রতিটি গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া হয় ২ লাখ ৩০ হাজার ৯১২ টাকা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দলিলে উল্লেখিত মূল্যের ভিত্তিতে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন ফি সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ হওয়ার কথা। সেই হিসাবে সরকারি ফি দাঁড়ায় প্রায় ৩৭ হাজার ৮৭৫ টাকা। অর্থাৎ সরকারি নির্ধারিত ব্যয়ের তুলনায় প্রায় দুই লাখ টাকা বেশি আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ। রেজিস্ট্রেশনের পর সামনে আসে নতুন জালিয়াতির অভিযোগ রেজিস্ট্রেশনের পর অনেক গ্রাহক জানতে পারেন, চুক্তিতে উল্লেখ করা প্লট বাস্তবে দেখাতে পারছে না কোম্পানি। ভুক্তভোগী আনিসুর রহমান (ছদ্মনাম) জানান, তাকে গঙ্গামতি মৌজার নির্দিষ্ট একটি প্লট দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দলিল পাওয়ার পরও সেই প্লট আজ পর্যন্ত বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, "২০১৬ সালে পুরো টাকা পরিশোধ করেছি। ২০২৪ সালে দলিল পেয়েছি। কিন্তু ২০২৬ সালেও প্লট পাইনি। উল্টো বিভিন্ন অজুহাতে এখনো টাকা দাবি করা হচ্ছে।" তার অভিযোগ, কিস্তিতে বিলম্বের কারণে প্রায় এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং জরিমানা কমানোর জন্য প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তাকে ২০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। প্লট নেই, তবু নতুন করে অর্থ দাবি ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এখন জমির নামজারি করার জন্য প্রতিটি প্লটের বিপরীতে ৬০ হাজার টাকা দাবি করছে প্রতিষ্ঠানটি। অথচ সরকারি হিসাবে পাঁচ কাঠা জমির নামজারির ব্যয় প্রায় ১ হাজার ১৩০ টাকা। এ ছাড়া সীমানা প্রাচীর নির্মাণের নামে আরও দেড় লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে। মাঠে গিয়ে মিলল না বিজ্ঞাপনের প্রকল্প সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে আধুনিক আবাসন প্রকল্পের কোনো দৃশ্যমান অবকাঠামো পাওয়া যায়নি। বিজ্ঞাপনে দেখানো রাস্তা, পরিকল্পিত প্লট, নাগরিক সুবিধা কিংবা আধুনিক টাউনশিপের কোনো বাস্তব অস্তিত্ব চোখে পড়েনি। প্রকল্পের বড় অংশ এখনও কৃষিজমি হিসেবেই রয়েছে। হোটেল প্রকল্পেও প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ফারাক সেঞ্চুরি গোল্ড কোস্ট হোটেল অ্যান্ড স্পা প্রকল্পে শুরুতে ৫০ শতাংশ জমির ওপর ১৬ তলা ভবন নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হলেও বর্তমানে ১৪ তলা পর্যন্ত নির্মাণ হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি— ৫০ শতাংশ নয়, বাস্তবে ভবন নির্মাণ হয়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ জমিতে। অবশিষ্ট জমি কার পার্কিং হিসেবে দেখানো হয়েছে। ২০২১ ও পরে ২০২২ সালে হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ২০২৬ সালেও প্রকল্প শেষ হয়নি। বিনিয়োগকারীরা এখনো সাব-কবলা বা দলিল পাননি। শেয়ারের দাম বেড়েছে, কিন্তু প্রকল্প এগোয়নি ২০১৬ সালে প্রতি শেয়ারের মূল্য ছিল ১ লাখ ৫১ হাজার টাকা। পরবর্তীতে তা ধাপে ধাপে বেড়ে— ২০১৮ সালে ১.৯৯ লাখ টাকা, ২০২১-২২ সালে ৩.৫০ লাখ টাকা, ২০২৬ সালের শুরুতে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত ওঠে। পরে তা কমিয়ে ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। দ্বিতীয় হোটেল প্রকল্পেও একই অভিযোগ সেঞ্চুরি ট্রেজার আইল্যান্ড অ্যান্ড বাটার ফ্লাই পার্ক প্রকল্পে ৮১ শতাংশ জমির ওপর ১৪ তলা হোটেল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেয়ার বিক্রি করা হলেও অনুসন্ধানে প্রকল্পের বাস্তব কোনো নির্মাণকাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বর্তমানে প্রতিটি শেয়ার ৭ লাখ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক জমির শেয়ার দুই প্রকল্পে বিক্রির অভিযোগ ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গোল্ড কোস্ট হোটেলের বাইরে থাকা ৩৩ শতাংশ কার পার্কিংয়ের জমির শেয়ার একই সঙ্গে দুটি পৃথক প্রকল্পে বিক্রি করা হয়েছে। পরে দুই প্রকল্পের সংযোগ ঘটিয়ে এক শেয়ারে দুই হোটেলের মালিকানার অফার দেওয়া হয়। এ ছাড়া শুরুতে প্রচারপত্রে বছরে পাঁচ রাত ছয় দিন বিনামূল্যে থাকার সুবিধা উল্লেখ থাকলেও পরে সেই সুবিধা বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ যা বলছেন কোম্পানি আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট মো. সবুজ হোসাইন বলেন, হোটেল বা রিসোর্ট প্রকল্পের নামে নির্দিষ্ট জমি বা চৌহদ্দি ছাড়া ক্ষুদ্র অংশের জমির শেয়ার বিক্রির কোনো আইনগত সুযোগ নেই। তার ভাষায়, "এ ধরনের কার্যক্রম প্রতারণার শামিল।" তিনি আরও বলেন, কোম্পানি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন ছাড়া কোনো কোম্পানি সাধারণ জনগণের কাছ থেকে শেয়ার বিক্রি করে মূলধন সংগ্রহ করতে পারে না। সেঞ্চুরি গ্রুপের বক্তব্য অভিযোগ অস্বীকার করে সেঞ্চুরি গ্রুপের ডিজিএম তৌফিক চৌধুরী বলেন, "এসব মিথ্যা কথা।" অন্যদিকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমজিআর নাসির মজুমদার প্রথমে ফোনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। পরে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তায় তিনি লেখেন, "আপনি যা বলছেন বা ভাবছেন, আমি বা আমরা সে রকম খারাপ মানুষ না। আমি অসুস্থ। দোয়া করবেন, মৃত্যুর আগে যেন মানুষের পাওনা বুঝিয়ে দিতে পারি।"
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খানকে ঘিরে ক্ষমতার অপব্যবহার, বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, কমিশন গ্রহণ এবং ঠিকাদারি ব্যবসায় অংশীদার হওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-১-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, আনুষ্ঠানিক পদমর্যাদার বাইরে গিয়ে তাঁর প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে প্রধান প্রকৌশলীর সমপর্যায়ের, এমনকি তারও বেশি। ক্ষমতার উত্থান সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বদরুল আলম খান তৎকালীন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই রাজনৈতিক যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন এবং বড় প্রকল্পে প্রভাব বিস্তার করেন। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজের রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে নতুন ক্ষমতার বলয়ে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে আবার নিজেকে অন্য রাজনৈতিক বলয়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন বলেও দাবি করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। বদলি ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ সার্কেলগুলোতে দায়িত্ব পালনকালে বদরুল আলম খান বদলি ও পদায়নে অনানুষ্ঠানিক প্রভাব বিস্তার করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের অনুকূলে প্রভাবিত করার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কয়েকটি প্রকল্পে কমিশনের বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দেওয়ার একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। ঠিকাদারি ব্যবসায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ কয়েকজন ঠিকাদারের অভিযোগ, "আসিফ" নামের এক ঠিকাদারের সঙ্গে বদরুল আলম খানের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন নির্বাহী প্রকৌশলীকে ফোন করে ওই ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের কয়েকটি থানা ভবন নির্মাণ এবং অন্যান্য সরকারি অবকাঠামো প্রকল্পেও এই প্রভাব খাটানো হয়েছে। মিরপুর আবাসিক প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মিরপুর পাইকপাড়া আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আরবরিকালচার কাজ সংশ্লিষ্ট বিভাগে না দিয়ে অন্য বিভাগের মাধ্যমে টেন্ডার করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তখন প্রকল্পটির প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন বদরুল আলম খান। অতীত কর্মস্থল নিয়েও অভিযোগ ভোলা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালেও তাঁর বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্য, অনিয়ম এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ওঠে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। ময়মনসিংহে কর্মরত অবস্থায় ভবনের নকশা অনুমোদনে অনিয়মের অভিযোগে তাঁকে ওএসডি করা হয়েছিল বলেও কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে। যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন, বদরুল আলম খানের নির্দেশ অমান্য করলে বদলি বা প্রশাসনিক ব্যবস্থার আশঙ্কা থাকে। ফলে অনেক কর্মকর্তা অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাঁর নির্দেশ অনুসরণ করেন বলে অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সরকারি জমি বা প্লটসংক্রান্ত মামলায় রাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের একটি প্রচলিত অবস্থান হলো—সরকারি স্বার্থ রক্ষায় মামলাটি আদালতের সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত পরিচালনা করা। নিম্ন আদালত বা হাইকোর্টে সরকার পরাজিত হলে আপিল এবং প্রয়োজন হলে আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধেও রিভিউ আবেদন করা হয়ে থাকে। অতীতে রাজউক ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একাধিক মামলায় এমন নজিরও রয়েছে, যেখানে আদালতের চূড়ান্ত রায়ের পরও সরকারি সংস্থাগুলো সম্পত্তির দখল ছাড়েনি এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মালিকানা বা হস্তান্তর নিয়ে নতুন বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু গুলশানের সিইএন (সি) ব্লকের ৯৮ নম্বর সড়কের ৬ নম্বর প্লটের ক্ষেত্রে পাওয়া সরকারি নথিপত্র একটি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৭৬ সালে হাইকোর্টের একটি রিট মামলায় সরকারের বিপক্ষে রায় হওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষ আর কোনো আপিল করেনি। অথচ সরকারি সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলায় এটি ছিল একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। প্রশ্ন উঠেছে—কেন ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়নি? ১৯৭২ সালের গেজেট বনাম ১৯৭৬ সালের রায় সরকারি নথি অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির আদেশ (পি.ও-১৬/৭২) অনুসারে ১৯৭২ সালে প্লটটি পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়। পরে ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩ সালে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আদেশে এটি পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু একই সময় দায়ের হওয়া রিট পিটিশন নং-২৫১/১৯৭৩-এর রায়ে ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬ সালে হাইকোর্ট মন্তব্য করেন যে সংশ্লিষ্ট প্লটটি পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত নয়। মন্ত্রণালয়ের নথি বিশ্লেষণে অভিযোগ করা হয়েছে, ওই মামলায় সরকার পক্ষ পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে গেজেট প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ নথি আদালতে উপস্থাপন করেনি। ফলে রায় সরকারের বিপক্ষে যায়। এরপরও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল না করায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। রায়ের পরও কেন হয়নি বাস্তবায়নের আবেদন? নথি অনুযায়ী, হাইকোর্টের রায় পাওয়ার পর মামলার বাদীও প্লটের দখল বুঝে নিতে আদালতের দ্বারস্থ হননি। আদালত অবমাননার (Contempt) আবেদন কিংবা রায় বাস্তবায়নের জন্যও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্টদের একটি অংশের দাবি, পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় গেলে সরকারি গেজেটসহ অন্যান্য নথি আদালতের সামনে আসার সম্ভাবনা ছিল। এ কারণেই আদালতের বাইরে প্রশাসনিক পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালে নতুন মোড় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুনে তৎকালীন সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্লটটি বেসরকারি মালিকানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সিদ্ধান্তের আগে বিষয়টি তৎকালীন প্রতিমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়নি। এমনকি প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল বলেও সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরে আলোচনা শুরু হয় এবং সংশ্লিষ্ট নথি খুঁজে না পাওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরে সেটি সচিবের সংরক্ষিত আলমারি থেকে উদ্ধার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। হারিয়ে যাওয়া একটি চিঠি অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, ২০১০ সালে রাজউকের তৎকালীন সচিব মোহাম্মদ মোস্তফার স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে প্লটটিকে পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। চিঠিটি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল এবং নথিতে সংরক্ষিতও ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীকালে সেই চিঠি নথি থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান মূল্য ৩০০ কোটি টাকার বেশি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বর্তমান বাজারমূল্যে প্লটটির মূল্য ৩০০ কোটি টাকারও বেশি। অভিযোগকারীদের মতে, এত উচ্চমূল্যের সম্পত্তিকে পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকায় নেই—এমন যুক্তি দেখিয়ে বেসরকারি মালিকানায় দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়, যদিও সরকারি বিভিন্ন নথিতে এর বিপরীত তথ্য রয়েছে। যেসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি এই পুরো ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— ১৯৭৬ সালের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার কেন আপিল করেনি? পরিত্যক্ত সম্পত্তির গেজেট আদালতে কেন উপস্থাপন করা হয়নি? ২০১০ সালের রাজউকের চিঠি নথি থেকে কীভাবে হারিয়ে গেল? ২০২৩ সালের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রচলিত অনুমোদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি? সরকারি সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কোনো স্বাধীন তদন্ত হয়েছে কি? ভারসাম্যের স্বার্থে এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট সূত্র ও অভিযোগকারী পক্ষের দাবির ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযোজন করলে প্রতিবেদনটি আরও পূর্ণাঙ্গ হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দীর্ঘদিন জনসমক্ষে দেখা যায়নি কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তকে। তার বিরুদ্ধে দেশে একাধিক মামলা দায়ের হওয়ার পর তিনি কোথায় অবস্থান করছেন—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, চিকিৎসক সমাজ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল। অবশেষে সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে ভারতের ত্রিপুরার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে তার পাঠদান করার তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। বাংলাদেশ সংবাদের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজে বর্তমানে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। শনিবার (২৭ জুন ২০২৬) কলেজটির এক স্টাফ নার্স বাংলাদেশ সংবাদকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন। তবে তিনি ঠিক কবে থেকে কলেজটিতে যুক্ত হয়েছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি। ভিডিওতে মিলল অবস্থানের প্রমাণ সম্প্রতি শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, আধুনিক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সামনে বক্তৃতা দিচ্ছেন অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। তার পেছনের ডিজিটাল ডিসপ্লেতে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন স্লাইড প্রদর্শিত হচ্ছিল। ভিডিওর বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তিনি নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিষয়ে একটি একাডেমিক ক্লাস পরিচালনা করছিলেন। ভিডিওটি প্রকাশের পরই তার বর্তমান অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার কার্যত অবসান ঘটে। দীর্ঘ চিকিৎসা জীবনের পর রাজনীতিতে অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত দেশের একজন সুপরিচিত নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ। তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সরকার পতনের পর আত্মগোপন গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতা, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের মতো ডা. প্রাণ গোপাল দত্তও জনসমক্ষে আর দেখা দেননি। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হওয়ার পর তিনি দেশ ছেড়েছেন কি না, কোথায় অবস্থান করছেন কিংবা চিকিৎসা বা শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন কি না—এসব প্রশ্নের কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য এতদিন পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক ভিডিও এবং কলেজ-সংশ্লিষ্ট এক কর্মীর বক্তব্যের পর অন্তত এটুকু নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তিনি বর্তমানে ভারতের ত্রিপুরায় অবস্থান করছেন এবং একটি মেডিকেল কলেজে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে তিনি কোন ধরনের ভিসায় ভারতে অবস্থান করছেন, কলেজটির সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক নিয়োগের ধরন কী এবং বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর বর্তমান আইনি অবস্থা—এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশ সংবাদ এ বিষয়ে অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত কিংবা শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে এই প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রামের সাবেক আরসি ফুড (বর্তমানে যিনি রাজশাহীর আরসি ফুড) এস. এম. কায়ছার আলীকে খুঁজছেন খাদ্য কর্মকর্তারা। গত মার্চ মাসের শেষের দিকে চট্টগ্রাম থেকে রিলিজ হওয়ার প্রাক্কালে তড়িঘড়ি করে তিন দিনে ১৪ জন খাদ্য কর্মকর্তাকে বদলি ও নতুন পদায়ন করেন এস. এম. কায়ছার আলী। এদের প্রায় প্রত্যেকের কাছ থেকেই পদায়নের গুরুত্ব অনুযায়ী ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা করে অগ্রিম ঘুষ নেন তিনি। এরপর বদলির আদেশ জারি করেন। যদিও নিয়ম অনুযায়ী নিজের বদলির আদেশ জারির পর কোনো কর্মকর্তা অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ রকমের বদলির আদেশ জারি করতে পারেন না। তাছাড়া মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বদলির ব্যাপারে তখন পর্যন্ত মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তর থেকে সবুজ সংকেত ছিল না। এসব নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই বেপরোয়া দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এস. এম. কায়ছার আলী বদলিগুলো করেন। বিনিময়ে হাতিয়ে নেন মোট প্রায় দুই কোটি টাকা ঘুষ। কিন্তু আরসি ফুড (আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক) কায়ছার আলীর এ অপকর্মের খবর ফাঁস হয়ে গেলে মন্ত্রণালয় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়। অবৈধ এ বদলির আদেশগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বাতিলের জন্য মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব নির্দেশ দেন। মন্ত্রণালয়ের চাপে পড়ে বদলির আদেশগুলো বাতিল করতে বাধ্য হন এস. এম. কায়ছার আলী। পরবর্তী কর্মস্থল খুলনায় যোগ দেন তিনি। তবে চট্টগ্রামের খাদ্য কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অগ্রিম নেওয়া ঘুষের টাকাগুলো আর ফেরত দেননি। এই খাদ্য কর্মকর্তাদের ‘আশ^াস’ দেন, শিগগিরই আবার চট্টগ্রামে ফিরে আসছেন। যদিও খাদ্য কর্মকর্তারা বুঝতে পারছিলেন এটা অসম্ভব। কিন্তু এটাও ভাবছিলেন, দুর্নীতিবাজ কায়ছার আলীর পক্ষে সবই সম্ভব। কায়ছার আলী ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগ আমলে এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও এ রকমের অনেক অসম্ভব কাজকে সম্ভব করেছেন। এদিকে গত সপ্তায় কায়ছার আলী খুলনা থেকে রাজশাহীর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা পদে পদায়ন নিয়ে চলে গেছেন। এমন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামের খাদ্য কর্মকর্তারা এস. এম. কায়ছার আলীকে খুঁজছেন। বিভিন্ন মাধ্যমে তার কাছ থেকে ঘুষের টাকাগুলো ফেরত চাচ্ছেন। তবে প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারছেন না, যেহেতু ঘুষের বিষয়। তাছাড়া, দুর্নীতিবাজ কায়ছার আলীর হাত অনেক লম্বা- যে কোনো সময়, যে কারো ক্ষতি করতে পারেন তিনি। চট্টগ্রাম থেকে অবমুক্তির আগে তড়িঘড়ি যেভাবে দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নেন চলতি বছরের মার্চ মাসে এস. এম. কায়ছার আলীকে চট্টগ্রামের আরসি ফুড (আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক) থেকে খুলনার আরসি ফুড পদে বদলি করা হয়। ১৫ মার্চ এই বদলির আদেশ জারি হয়। কিন্তু তিনি খুলনায় যেতে চাননি, যেহেতু সেখানে অবৈধ আয়ের সুযোগ কম। ব্যাপক দেনদরবার করছিলেন, বড় অংকের ঘুষ নিয়েও ঘুরছিলেন। এর আগেও গত বছরের আগস্টে এক দফায় তাকে চট্টগ্রামের আরসি ফুড থেকে খুলনার আরসি ফুড পদে বদলি করা হয়েছিল। তবে এক দিনের মাথায় সেই বদলির আদেশ বাতিল করিয়েছেন। বিনিময়ে তৎকালীন উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার এবং সচিব মাসুদুল হাসানকে দুই কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন। এস. এম. কায়ছার আলীর চট্টগ্রামের আরসি ফুড পদে পদায়ন হয়েছিল ২০২৩ সালের মার্চে। ২০২৫ সালের মার্চে দুই বছর পূর্ণ হয় অর্থাৎ নীতিমালা অনুযায়ী নতুন পদায়নের সময় আসে। কিন্তু তখনকার উপদেষ্টা ও সচিবকে ম্যানেজ করে চট্টগ্রামেই থাকার ব্যবস্থা করেন তিনি। বিশেষ প্রয়োজনে কোনো কর্মকর্তাকে আরও এক বছর অতিরিক্ত অর্থাৎ তিন বছর পর্যন্ত একই পদায়নে রাখা যায়। নীতিমালার এই সুযোগটি কায়ছার আলীর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। তবে নিম্নমানের ও পঁচাচাল গুদামজাতকরণ-সহ নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর আগস্টে তাকে খুলনায় বদলি করতে বাধ্য হয় মন্ত্রণালয়। ওই সময় চট্টগ্রামের অধীনস্থ খাদ্য কর্মকর্তাদের ওপর ব্যাপকহারে চাঁদাবাজি, ঘুষ বাণিজ্য ছাড়াও বদলি বাণিজের মাধ্যমে তড়িঘড়ি বড় অংকের টাকা যোগাড় করেন তিনি। ঢাকায় এসে উপদেষ্টা ও সচিবের সঙ্গে সাক্ষাত করে বদলির আদেশ বাতিলের ব্যবস্থা করেন। বদলির আদেশ জারি হয়েছিল ১৭ আগস্ট, ২০২৫ এবং পরদিনই তা বাতিল করা হয়। সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজ ও শীর্ষনিউজ ডটকমে তখন এ নিয়ে খবরও প্রকাশিত হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী যেহেতু অতিরিক্ত এক বছর থাকার মেয়াদ শেষ হয় চলতি বছরের মার্চ মাসে। তাই এই সময় পর চট্টগ্রামে পদায়নে থাকার আর কোনো সুযোগ নেই। সেই হিসেবে গত ১৫ মার্চ, ২০২৬ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এস. এম. কায়ছার আলীকে খুলনার আরসি ফুড পদে বদলি করা হয়। কিন্তু কায়ছার আলী খুলনায় যাবেন না। বড় অংকের ঘুষ নিয়ে তিনি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মহলে আবারও তদবির শুরু করেন। আগেরবার খুলনায় বদলি ঠেকিয়েছেন, এবারও ঠেকাবেন- এমন ঘোষণা দেন নিজ দপ্তরে বসে। তবে অনেক চেষ্টা করেও এবার আর বদলি ঠেকাতে পারেননি। মন্ত্রণালয়ের তখনকার সচিব জানিয়ে দেন, বদলিস্থলে যেতেই হবে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শেষ মুহূর্তে বেপরোয়া হয়ে উঠেন কায়ছার আলী। ৩১ মার্চ, ২০২৬ ছিল চট্টগ্রাম থেকে রিলিজ (অবমুক্ত) হওয়ার দিন। চলেই যেহেতু যেতে হবে, তাই রিলিজের আগ মুহূর্তে নেমে পড়েন বেপরোয়া বদলি ও ঘুষ বাণিজ্যে। ২৮ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত এই তিন দিনে মোট ১৪টি স্মারকে ১৪ জন খাদ্য কর্মকর্তাকে ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) পদে নতুন পদায়ন দেন। ২৮ মার্চ, ২০২৬ তারিখে ২৮৬ (ম), ২৮৮ (ম), ২৮৯ (ম), ২৯০(ম), ২৯১(ম) নং স্মারকে, ২৯ মার্চ ২৯৩(ম), ২৯৪ (ম), ২৯৫(ম), ২৯৬(ম), ২৯৭(ম) নং স্মারকে এবং ৩০ মার্চ ৩১৫(ম), ৩১৬ (ম), ৩১৭(ম), ৩১৮ (ম) নং স্মারকে বদলির আদেশগুলো জারি করেন তিনি। এই পদায়নগুলোর বিনিময়ে হাতিয়ে নেন প্রায় দুই কোটি টাকা। অগ্রিম টাকা আদায়ের পরই আদেশ জারি করা হয়। এসব ঘুষের টাকা লেনদেন হয় চট্টগ্রামস্থ আরসি ফুড অফিসে বসেই। এ সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে তার অফিসের টেবিলে একটি পিস্তলও দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। উক্ত ১৪ জনের বাইরে আরও বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে তিনি অগ্রিম ঘুষের টাকা নিয়েছেন। পরের দিন অর্থাৎ শেষ কর্মদিবসে পেছনের তারিখ দিয়ে এদের পদায়নের আদেশ জারি করার কথা ছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের সচিবের নির্দেশের কারণে তা আর সম্ভব হয়ে উঠেনি। বরং যেসব বদলির আদেশ জারি করেছেন তিনি ২৮, ২৯ এবং ৩০ মার্চ- ওই অবৈধ আদেশগুলো বাতিলের নির্দেশ দেন সচিব। ৩০ মার্চ রাতেই এস. এম কায়ছার আলী বাধ্য হন সবগুলো বদলির আদেশ বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করতে। তখনকার চট্টগ্রামের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক এস. এম. কায়ছার আলী স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, “অত্র দপ্তরের ২৮/০৩/২০২৬ তারিখের ২৮৬ (ম), ২৮৮ (ম), ২৮৯ (ম), ২৯০(ম), ২৯১(ম) নং স্মারকে, ২৯/০৩/২০২৬ তারিখের ২৯৩(ম), ২৯৪ (ম), ২৯৫(ম), ২৯৬(ম), ২৯৭(ম) নং স্মারকে এবং ৩০/০৩/২০২৬ তারিখের ৩১৫(ম), ৩১৬ (ম), ৩১৭(ম), ৩১৮ (ম) নং স্মারকে জারীকৃত প্রজ্ঞাপন এতদ্বারা বাতিল করা হলো। এ আদেশ জনস্বার্থে জারী করা হলো।” প্রজ্ঞাপনের তারিখ ছিল ৩০ মার্চ, ২০২৬। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলেও ছিলেন ক্ষমতার শীর্ষে ফ্যাসিস্ট-লুটেরা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও এস. এম. কায়ছার আলী ছিলেন অত্যন্ত ক্ষমতাবান। আলোচিত ক্ষমতাবান খাদ্য কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। দুর্নীতিবাজ আওয়ামী মন্ত্রীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুবাদে যখন যেটা ইচ্ছে করেছেন সেটিই হয়েছে, অনিয়মের মধ্যে হলেও। বদলি-পদায়নের নীতিমালায় অতিরিক্ত এক বছরসহ সর্বোচ্চ তিন বছর একই কর্মস্থলে থাকার সুযোগ আছে। কিন্তু নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এস. এম. কায়ছার আলী কুমিল্লা ডিসি ফুড-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদায়নে একনাগাড়ে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর ছিলেন, যারমাধ্যমে অতীতের অনিয়মের সকল রেকর্ড ভঙ্গ হয়েছে। তাঁর টার্গেট ছিল কুমিল্লার ডিসি ফুড থেকে সরাসরি চট্টগ্রামের আরসি ফুড হওয়া, যদিও তার জন্য এটা বৈধ নয়। প্রথমত, কায়ছার আলীর বাড়ি চট্টগ্রাম শহরে। দ্বিতীয়ত, আরসি ফুড পদে প্রথম পদায়ন হয়ে থাকে সাধারণত কম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে। কায়ছার আলীর ক্ষেত্রে এ নিয়মগুলোর তোয়াক্কা করা হয়নি। তাঁর চাহিদা অনুযায়ীই পদায়ন করা হয়েছে। এখনও ক্ষমতাবান! অবাক ব্যাপার হলো, আওয়ামী লীগ আমলের সুবিধাভোগী এবং ক্ষমতাবান কর্মকর্তা কায়ছার আলী অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ক্ষমতাবান হয়ে উঠেছিলেন টাকার জোরে, এ মুহূর্তে আবার নতুন করে তার ক্ষমতার নজির সৃষ্টি হয়েছে রাজশাহীর আরসি ফুড পদে পদায়ন বাগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে। কম গুরুত্বপূর্ণ খুলনা বিভাগে যোগদানের মাত্র দুই মাসের মাথায় রাজশাহীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের আরসি ফুড পদ বাগিয়ে নিলেন। অবশ্য: এরজন্য তাকে নগদ দুই কোটি টাকা ঘুষ পরিশোধ করতে হয়েছে বলে চাউর আছে। যদিও কায়ছার আলী নানা নাটকীয় প্রচার-প্রচারনার মাধ্যমে ঘুষের এই অপকর্ম ঢাকার চেষ্টা করেছেন তা সফল হয়নি। মন্ত্রণালয়ের সংস্থা প্রশাসন-২ শাখার উপসচিব মো. আবু নাসার উদ্দিনের স্বাক্ষরিত গত ১৪ মে তারিখের এক প্রজ্ঞাপনে খাদ্য অধিদপ্তরের সংগ্রহ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক (চ.দা.) ইকবাল বাহার চৌধুরীকে রাজশাহীর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক পদে পদায়ন করা হয়েছিল। কিন্তু ওই প্রজ্ঞাপনের পর পরই অত্যন্ত তৎপর হয়ে উঠেন দুর্নীতিবাজ কায়ছার আলী। তিনি এর আগে খুলনায় যোগদানের সময়ই ঘোষণা করেছিলেন, সেখানে থাকবেন না। তাকে খুলনায় রাখা যাবে না। মন্ত্রণালয়সহ প্রভাবশালী মহলে ব্যাপক তদবির চালিয়ে ইকবাল বাহার চৌধুরীর রাজশাহীতে যোগদান ঠেকিয়ে দেন তিনি। এর পরিবর্তে রাজশাহীর আরসি ফুড পদে নিজের পদায়নের ব্যবস্থা করেন। গত ২ জুন মন্ত্রণালয়ের একই উপসচিব আবু নাসার উদ্দিন নতুন প্রজ্ঞাপনে কায়ছার আলীকে আরসি ফুড পদে পদায়ন করেন। এই প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হওয়ার পর পরই কায়ছার আলী সর্বত্র প্রচার করতে থাকেন, তিনি রাজশাহীতে যেতে চান না, খুলনায়ই থাকতে চান। এমনও বলা হয় যে, ডিজি বরাবর দরখাস্ত করেছেন, রাজশাহী যেত চান না। এমনকি তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে, এমন কথাও প্রচার করেছেন। কিন্তু খোঁজ নিয়ে আদৌ এ রকমের কোনো দরখাস্ত বা স্ট্যান্ড রিলিজের হদিস পাওয়া যায়নি। আদতে তিনি যে, দুই কোটি টাকার বিনিময়ে রাজশাহীর আরসি ফুড পদে পদায়ন বাগিয়ে নিয়েছেন তা আর গোপন থাকেনি। অধিদপ্তরের অনেকেই এখন একথা জানেন। তবে এ বিষয়ে চট্টগ্রামের খাদ্য কর্মকর্তাদের বক্তব্য হলো, কায়ছার আলী যা খুশি করুক, তাদের অগ্রিম ঘুষের টাকাটা যাতে ফেরত পাওয়া যায় এই ব্যবস্থা করা হোক। খাদ্য অধিপ্তরের পরিচালক জহিরুল ইসলাম খান একই সঙ্গে স্ত্রী শারমিন আক্তার এবং স্ত্রীর আপন ভাগ্নী দু’জনকেই বিয়ে করেছেন। খালা-ভাগ্নী উভয়ে জহিরুলের স্ত্রী। বিভিন্ন সময়ে দু’জনকেই একাধিকবার তালাকও দিয়েছেন তিনি। তালাকের পরে তাদের নিয়ে আবার সংসারও করছেন। পরিচালক পর্যায়ের একজন কর্মকর্তার এ ধরনের অনাচার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড খাদ্য অধিদপ্তরে মুখরোচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নিপীড়ন-নির্যাতনের অভিযোগ এনে শারমিন আক্তার পর পর ৪টি মামলা করেন জহিরুলের বিরুদ্ধে। এরমধ্যে তিনটি মামলায় চার্জশিটও হয়েছে। এ কারণে গত সপ্তায় পরিচালক জহিরুল ইসলামকে সাসপেন্ড করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। স্ত্রীর বড় বোনের মেয়ে শাহানা আক্তার স্বর্ণার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে গোপন পরকীয়া সম্পর্কে জড়ান জহিরুল ইসলাম খান। এক পর্যায়ে শাহানা আক্তার স্বর্ণাকে গোপনে বিয়েও করেন। একই সঙ্গে দু’জনের সঙ্গেই সংসার করছিলেন। ঘটনা ধরা পড়ে গেলে স্ত্রীর সঙ্গে এ নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ হয়। স্ত্রীর ওপর শারীরিক নিপীড়ন-নির্যাতনও চালান। এসব ঘটনা তুলে ধরে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ঢাকার ১৩ নম্বর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন জহিরুল ইসলাম খানের স্ত্রী শারমিন আক্তার। মামলায় মোট চার জনকে আসামী করা হয়। এরমধ্যে এক নম্বর আসামি হলেন জহিরুল ইসলাম খান, ২ নং শাহানা আক্তার স্বর্ণা (বোনের মেয়ে), ৩ নং আসামি সাইদ হাসান শাকিল (আপন বোনের ছেলে) এবং ৪ নং আসামি (আপন বোন) সাইফুন আরা। নির্যাতনসহ বিভিন্ন ঘটনায় পরবর্তীতে একে একে আরও তিনটি মামলা দায়ের করেন শারমিন আক্তার। শারমিন আক্তারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে খাদ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের তদন্তে শারমিন আক্তারের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় এবং অবশেষে গত সপ্তায় তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
বরিশাল অফিস : বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর থেকে চন্দ্রহার খাল পুনঃখনন প্রকল্পকে ঘিরে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং সরকারি সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, খাল পুনঃখননের নামে সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হচ্ছে না। একদিকে খালের গভীরতা বাড়ানো হচ্ছে না, অন্যদিকে সরকারি রাস্তার গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র বলছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় বাটাজোর ইউনিয়ন থেকে সরিকল ইউনিয়নের সাকোকাঠী (আগরপুর) পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ সম্প্রতি শুরু হয়েছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিল খালের পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন। তবে প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। ‘পুনঃখনন’ নাকি শুধু খালের পাড় ঘষামাজা? স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকৃত অর্থে খালের গভীরতা বৃদ্ধি না করে দুই পাড়ে সীমিত পরিসরে মাটি কাটার কাজ চলছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি ধারণক্ষমতা বাড়বে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। একাধিক কৃষক জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালটি নাব্যতা হারিয়েছে। পুনঃখননের মাধ্যমে তারা কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের আশা করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে যে কাজ হচ্ছে, তাতে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না বলে তাদের আশঙ্কা। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ‘বাছাই নীতি’? স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, খালের দক্ষিণ পাড়ে থাকা কিছু ব্যক্তিগত গাছ ও স্থাপনা অপসারণ করা হলেও রাস্তার পাশের বেশ কয়েকটি অবৈধ দোকান ও স্থাপনা অক্ষত রাখা হয়েছে। তাদের দাবি, খালের উভয় পাড় থেকে সমানভাবে প্রতিবন্ধকতা অপসারণ না করলে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে না এবং পুনঃখননের কার্যকারিতাও সীমিত থাকবে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “যেখানে সাধারণ মানুষের স্থাপনা সরানো হয়েছে, সেখানে রাস্তার পাশের অবৈধ দোকানগুলো কেন বহাল রয়েছে—এ প্রশ্নের উত্তর কেউ দিচ্ছে না।” সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ প্রকল্প ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সরকারি রাস্তার গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে। স্থানীয়দের দাবি, খননকাজে ব্যবহৃত ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে দিনের বেলায়ই রাস্তার পাশের সরকারি গাছ কেটে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব গাছ অপসারণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকাশ্য নিলাম, টেন্ডার বা সরকারি অনুমোদনের তথ্য স্থানীয়রা জানেন না। কয়েকজন প্রবীণ রাজনৈতিক কর্মী অভিযোগ করেন, সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা না থাকলে তা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। তাদের মতে, সরকারি গাছ অপসারণের ক্ষেত্রে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত করা প্রয়োজন। খালের পাড় ভাঙনের আশঙ্কা স্থানীয়দের আরেকটি উদ্বেগ খনন পদ্ধতি নিয়ে। তাদের দাবি, ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে খননকাজ পরিচালনার ফলে খালের দক্ষিণ পাড়ের বিভিন্ন অংশে মাটি ধসে পড়তে শুরু করেছে। এতে ভবিষ্যতে পাড় রক্ষা, ভূমিক্ষয় এবং খালের স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। প্রকৌশলগত মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য মেলেনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য নিতে স্থানীয় ইউনিয়ন সদস্য মোহাম্মদ রেজাউল শেখের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে বাটাজোর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুর রব হাওলাদার অসুস্থ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তদন্তের দাবি স্থানীয়দের দাবি, খাল পুনঃখনন প্রকল্পে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বৈষম্য, সরকারি গাছ অপসারণের বৈধতা এবং খননকাজের মান যাচাইয়ে স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন। তাদের মতে, প্রকল্পটি যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় পরিবেশের ওপর প্রত্যাশিত ইতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
বরিশাল অফিস : বরিশালের বাটাজোর ইউনিয়নের বাটাজোর থেকে চন্দ্রহার পর্যন্ত খাল পুনঃখনন প্রকল্পকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, খালের দখলমুক্তকরণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চন্দ্রহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হলেও খালের অপর পাড়ে গড়ে ওঠা প্রায় ৭০টি অবৈধ বাজার স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, খাল পুনঃখননের শেষ পর্যায়ে এসে প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, খালের দক্ষিণ পাড়ে অবস্থিত বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হলেও উত্তর পাড়ে দীর্ঘদিন ধরে থাকা বাজারের অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা অক্ষত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্যানিটেশন সংকটের আশঙ্কা চন্দ্রহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ২৫০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে। বিদ্যালয়টির একমাত্র কার্যকর স্যানিটেশন সুবিধা হিসেবে ব্যবহৃত ওয়াশব্লকটি অপসারণ করা হলে শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন, বিকল্প স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো অপসারণ কতটা যৌক্তিক? বিশেষ করে যখন একই খালের অপর পাড়ে বহু অবৈধ স্থাপনা বহাল রয়েছে। একাধিক অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানান, খাল পুনঃখনন কার্যক্রমে তারা বাধা দিতে চান না। তবে উচ্ছেদ কার্যক্রমে সমতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের মতে, জনস্বার্থে প্রয়োজন হলে অবৈধ দোকানপাট অপসারণ করা যেতে পারে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের মৌলিক স্যানিটেশন সুবিধা ধ্বংস করে নয়। দ্বৈত নীতির অভিযোগ স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের বর্তমান অবস্থান বৈষম্যমূলক বলে মনে হচ্ছে। একদিকে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো অপসারণের তাগিদ, অন্যদিকে খালের জায়গা দখল করে থাকা বাজারের স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া—এ দুই অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট অসঙ্গতি রয়েছে বলে তারা মনে করেন। এলাকাবাসীর ভাষ্য, যদি খাল পুনরুদ্ধারই মূল লক্ষ্য হয়, তাহলে খালের উভয় পাড়ে সমানভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা উচিত। শুধুমাত্র বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক অপসারণের উদ্যোগ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। পুনর্বিবেচনার দাবি স্থানীয় জনগণ প্রশাসনের কাছে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা চান, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় ওয়াশব্লকটি আপাতত বহাল রাখা হোক অথবা বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। একই সঙ্গে খালের উত্তর পাড়ে অবস্থিত অবৈধ বাজার স্থাপনাগুলোর বিষয়েও সমানভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এলাকাবাসীর মতে, জনস্বার্থ, শিক্ষা ও স্যানিটেশন সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় এনে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল কাশেমকে ঘিরে আবারও সামনে এসেছে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিদেশে কর্মরত অবস্থায় সংঘটিত অনিয়মের একাধিক গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দাবি, বছরের পর বছর ধরে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে একাধিক দপ্তরকে অবহিত করা হলেও কার্যকর তদন্ত বা দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রাপ্ত নথি, অভিযোগপত্র এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের পাসপোর্ট ও ভিসা উইংয়ে দায়িত্ব পালনকালে আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, রাজস্ব ফাঁকি, ভুয়া পরিচয়ে পাসপোর্ট ইস্যু এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে তিনি নিজেকে বিএনপিপন্থি হিসেবে পরিচয় দিয়ে অতীতের অভিযোগ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অভিযোগের কেন্দ্রে রিয়াদ দূতাবাস রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসে দায়িত্ব পালনকালে আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে পাসপোর্ট প্রক্রিয়াকরণে রাজস্ব ফাঁকি এবং অবৈধ অর্থ লেনদেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, দূতাবাসের স্থানীয় কর্মীদের আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিপুলসংখ্যক পাসপোর্ট প্রক্রিয়াকরণ করা হতো। বিনিময়ে আদায় করা হতো নগদ অর্থ, যার একটি অংশ কথিত সিন্ডিকেটের সদস্যদের মধ্যে ভাগাভাগি করা হতো। অভিযোগকারী সূত্র দাবি করেছে, ২০১৯ সালের মে, জুন ও জুলাই—এই তিন মাসেই শত শত পাসপোর্টে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগপত্রে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ‘ভুয়া আইডি’ ব্যবহার করে পাসপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ অভিযোগের আরও বিস্ফোরক অংশে বলা হয়েছে, ২০১৭-১৮ সালে দূতাবাসের ভেতরে অস্তিত্বহীন কর্মচারীর নামে ভুয়া আইডি খুলে তা ব্যবহার করে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, ‘সাইফুর’ নামে একটি আইডির মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং সফটওয়্যার লগ বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি সহজেই যাচাই করা সম্ভব। তবে এই অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। তদন্ত চেয়ে একাধিক সরকারি চিঠি, কিন্তু ব্যবস্থা কোথায়? নথিপত্র অনুযায়ী, আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও মতামত চেয়ে ২০২০ সাল থেকে ২০২২ সালের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শাখা থেকে একাধিক চিঠি দেওয়া হয়। সুরক্ষা সেবা বিভাগ, প্রশাসন-১ শাখা এবং মিশন শাখা পৃথকভাবে রিয়াদ দূতাবাসকে অভিযোগ যাচাই করে প্রতিবেদন পাঠানোর অনুরোধ জানায়। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, একাধিক স্মারক জারি হলেও অভিযোগের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং তদন্ত প্রতিবেদনও যথাসময়ে জমা পড়েনি। এ পরিস্থিতি প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। বিদেশে পোস্টিং নিয়ে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ আবুল কাশেমের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সোহাগ হোসেনের বিরুদ্ধেও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে বিদেশে পোস্টিং নিশ্চিত করার চেষ্টা, বদলি বাণিজ্য এবং প্রশাসনে তদবিরের সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের নাম জড়িয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন প্রকাশের আগে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আবুল কাশেম ও সোহাগ হোসেনের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ নিজ এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আবুল কাশেম ও তার পরিবারের প্রভাব বৃদ্ধি পায় এবং ওই সময়েই তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হন। তাদের অভিযোগ, দেশে-বিদেশে তার নামে ও বেনামে সম্পদ রয়েছে। তবে এসব সম্পদের পরিমাণ বা মালিকানার বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। কী বলছেন দুর্নীতি বিরোধী বিশ্লেষকরা? দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে বসে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ বা অবৈধ সুবিধা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। তার ভাষায়, “দুর্নীতি ছোট বা বড় হয় না। দুর্নীতি মানেই দুর্নীতি। প্রতিটি অভিযোগের গভীর অনুসন্ধান হওয়া প্রয়োজন।” অন্যদিকে দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশ্নের মুখে জবাবদিহি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ওঠা অভিযোগ, তদন্তের জন্য বারবার সরকারি চিঠি দেওয়া, কিন্তু দৃশ্যমান কোনো নিষ্পত্তি না হওয়া—এসব বিষয় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে হঠাৎ প্রত্যাহারের সরকারি সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সিলেট থেকে সরিয়ে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে সরকারি আদেশে প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ না থাকলেও স্থানীয় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—মাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত কি তার বদলির প্রধান কারণ? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে সামনে আসে কয়েকটি ঘটনা, যা গত কয়েক মাসে সিলেটে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।সাম্প্রতিক সময়ে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারে দানবাক্স ও ঐতিহ্যবাহী ‘ডেগ’ সিলগালা করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। কেউ এটিকে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবে দেখলেও, অন্যরা একে ধর্মীয় ঐতিহ্যে হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দেন। ‘ডিসি’ সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারকে মাজার ভক্তরা ‘ওলির সঙ্গে বেয়াদবির খেসারত’ বললেও অপর একটি পক্ষ বিষয়টিকে মাজারে ‘মদ গাঁজার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় একজন ভালো প্রশাসকের পরিণতি’ বলছেন। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে মাজারের দানবাক্স ও ডেগ ঘটনার সূত্রপাত হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের দান ব্যবস্থাপনা নিয়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ থেকে। গত ১৮ জুন প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাজারের বিদ্যমান দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একইসঙ্গে শতাব্দীপ্রাচীন তিনটি ঐতিহ্যবাহী ‘দানের ডেগ’ সিলগালা করা হয়। প্রশাসনের দাবি ছিল, দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। কিন্তু সিদ্ধান্তটি মুহূর্তেই ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নেয়। মাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযোগ করেন, সাতশ বছরের ঐতিহ্যবাহী ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের এ ধরনের হস্তক্ষেপ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। অন্যদিকে প্রশাসনপন্থী একটি অংশ এটিকে দীর্ঘদিনের অনিয়ম বন্ধের উদ্যোগ হিসেবে দেখেছে। তিন দিনের মাথায় প্রত্যাহার ডেগ ও দানবাক্স সিলগালার ঘটনার মাত্র তিন দিনের মাথায় আসে সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারের আদেশ। যদিও সরকারিভাবে দুই ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্কের কথা বলা হয়নি, তবে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পর্যায়ের অনেকেই মনে করছেন, মাজার ইস্যুতে সৃষ্ট জনমতের চাপ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে থাকতে পারে। সিলেটের বিভিন্ন মহলে এখনো আলোচনা চলছে—এটি কি কেবল একটি নিয়মিত প্রশাসনিক বদলি, নাকি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক পরিণতি? সারওয়ার আলমের অবস্থান: ‘ভালো কাজ শেষ করতে পারলাম না’ প্রত্যাহারের পর প্রতিক্রিয়ায় মো. সারওয়ার আলম গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারি চাকরিতে বদলি স্বাভাবিক বিষয়। তবে তার বক্তব্যে আক্ষেপের সুরও ছিল। তিনি বলেন, “একটি ভালো কাজ শুরু করেছিলাম, শেষ করা গেল না। অনেকের পেটে হাত পড়ায় তারা এর বিরুদ্ধাচরণ করেছে।” তার এই মন্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—তিনি কি মাজার ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছিলেন, নাকি প্রশাসনিক সীমারেখা অতিক্রম করেছিলেন? সিলেটে দায়িত্ব পালন: সাফল্য ও সমালোচনার মিশ্র চিত্র গত বছরের আগস্টে সাদাপাথর লুট ও চুরির ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে বিশেষ দায়িত্ব নিয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগ দেন সারওয়ার আলম। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বেশ কিছু আলোচিত উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ছিল— সাদাপাথর লুটের ঘটনায় প্রশাসনিক অভিযান; সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ভূমি অধিগ্রহণ দ্রুত সম্পন্নের ঘোষণা; ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা; ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ; বাজার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক তৎপরতা। তবে এসব উদ্যোগের বেশিরভাগই শেষ পর্যন্ত পূর্ণ বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। সমালোচকদের মতে, তিনি অনেক ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিলেও দীর্ঘমেয়াদি ফল নিশ্চিত করতে পারেননি। ‘অতিরিক্ত সক্রিয়’ না ‘সংস্কারক’? সচেতন নাগরিকদের একাংশের অভিযোগ, সারওয়ার আলম প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগে অনেক সময় অতিরিক্ত আগ্রাসী ছিলেন। তাদের মতে, মাজারের মতো সংবেদনশীল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বৃহত্তর অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে তার সমর্থকরা বলছেন, দীর্ঘদিনের অস্বচ্ছতা, অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তিনি প্রতিরোধের মুখে পড়েছেন। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেট শাখার সদস্য সচিব আব্দুল করিম কিমের ভাষায়, সাদাপাথর রক্ষায় তার ভূমিকা প্রশংসনীয় ছিল। তবে মাজার ব্যবস্থাপনায় কিছু পদক্ষেপ জনমনে অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে। মাজার ভক্তদের ক্ষোভ মাজার-সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রশাসন দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে চাইলে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে এগোতে পারত। মাজার ভক্ত সোহেল আলী মনে করেন, ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক পরিবেশকে অযথা বিতর্কিত করার কারণেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে ভক্ত আব্দুল হান্নান বলেন, মাজারকে ঘিরে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি। অসমাপ্ত প্রতিশ্রুতির প্রশ্ন সারওয়ার আলমের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনার মধ্যে আবার সামনে এসেছে মঙ্গল দাসের ঘটনাও। বিদ্যুতের বিল বকেয়া থাকায় কারাগারে যাওয়া মঙ্গল দাসের মুক্তির বিষয়ে জেলা প্রশাসকের আশ্বাস থাকলেও শেষ পর্যন্ত তার সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনাও প্রশাসনিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বহাল রাখার দাবিও আছে তবে বিতর্কের পাশাপাশি তার পক্ষে অবস্থানও দেখা গেছে। প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে সিলেটে যুবসমাজের ব্যানারে বিক্ষোভ ও সমাবেশ হয়েছে। বক্তারা দাবি করেছেন, সিলেটের স্বার্থে সারওয়ার আলমকে বহাল রাখা উচিত। এতে স্পষ্ট হয়, জেলা প্রশাসক হিসেবে তার কর্মকাণ্ড সিলেটে বিভক্ত জনমত তৈরি করেছে। মূল প্রশ্নের উত্তর এখনও অমীমাংসিত সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি এখনও অমীমাংসিত—এটি কি কেবল নিয়মিত প্রশাসনিক বদলি, নাকি মাজার ইস্যুতে সৃষ্ট বিতর্কের প্রত্যক্ষ ফল? সরকার এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে ঘটনাপ্রবাহ বলছে, মাজারের দানবাক্স ও ডেগ সিলগালা, জনমতের প্রতিক্রিয়া এবং তিন দিনের মধ্যে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত—এই তিনটি ঘটনার সময়গত সম্পর্ক ভবিষ্যতেও আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে। সিলেটের ধর্মীয় ঐতিহ্য, প্রশাসনিক কর্তৃত্ব এবং জনমতের সংঘাত—এই তিন বাস্তবতার মধ্যেই এখন খোঁজা হচ্ছে সারওয়ার আলম অধ্যায়ের প্রকৃত ব্যাখ্যা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চার দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলার পাশাপাশি ‘অপহরণ’ ও ‘অসুস্থতা’ ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন, যা এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এ কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে জিসানকে হাজির করা হয়। বিচারক তৈয়ব উদ্দিন আহমেদ তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত প্রাঙ্গণে তার মাথায় হেলমেট এবং শরীরে পুলিশি নিরাপত্তা ভেস্ট দেখা যায়। আদেশের পরপরই তাকে দ্রুত প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের প্রতিবেদন কী বলছে? জিসানকে চার দিন ধরে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেডিক্যাল বোর্ড তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাকে সুস্থ বলে মত দিয়েছে। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, চিকিৎসকদের মূল্যায়নে জিসানের শারীরিক অবস্থায় এমন কোনো জটিলতা পাওয়া যায়নি, যা হাসপাতালে রাখার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে। সেই ভিত্তিতেই তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এই পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গ্রেপ্তারের পর থেকে জিসান নিজেকে অসুস্থ দাবি করে হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন এবং সে কারণে তাকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছিল পুলিশ। ‘অপহরণ’ না ‘আত্মগোপন’? ঘটনার আরেকটি বিতর্কিত দিক হলো জিসানের কথিত নিখোঁজ হওয়া। ১১ জুন রাতে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরদিন বিভিন্ন মাধ্যমে দাবি ওঠে, তিনি অপহরণের শিকার হয়েছেন। তবে পুলিশ বলছে, তদন্তে তারা অপহরণের কোনো প্রমাণ পায়নি। বরং জিসান স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে তাদের দাবি। পুলিশের ভাষ্যমতে, এক বিধবা নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক, পরবর্তীতে ওই নারীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়া এবং বিয়ের চাপ থেকে বাঁচতেই তিনি নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজান। পরে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে পরিবারের দাবি ছিল, তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং তিনি অপহরণের শিকার হয়েছিলেন। এই দুই বিপরীতমুখী বক্তব্যের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা কী, সেটি এখনো তদন্তের বিষয়। ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, কয়েক মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক ২৫ বছর বয়সী বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্পর্কের একপর্যায়ে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হন। এরপর তাকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং ওষুধ সেবনের মাধ্যমে ভ্রূণ নষ্ট করা হয়। পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিয়ে এড়াতেই জিসান আত্মগোপনে যান বলে দাবি পুলিশের। শুক্রবার রাতে উদ্ধার হওয়ার পর ওই নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় জিসানসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। আদালতে আইনজীবীদের অভিযোগ জিসানের আইনজীবী মনির হোসেন দাবি করেছেন, আদালতে তার শারীরিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কারা হাসপাতালে রাখার আবেদন করা হয়েছিল। তার অভিযোগ, ওকালতনামা সংগ্রহের জন্য তারা পুলিশ হেফাজতে থাকা জিসানের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও সুযোগ দেওয়া হয়নি। এছাড়া আদালতের আদেশের পর পুলিশ দ্রুত তাকে প্রিজন ভ্যানে তুলে নেয়। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তদন্তের সামনে যেসব প্রশ্ন ঘটনার বিভিন্ন দিক সামনে আসার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখন আলোচনায় রয়েছে— জিসান সত্যিই অপহরণের শিকার হয়েছিলেন, নাকি আত্মগোপনে ছিলেন? চিকিৎসাধীন থাকার প্রয়োজন ছিল কি না, সে বিষয়ে হাসপাতালের পর্যবেক্ষণ ও তার দাবির মধ্যে এত পার্থক্য কেন? ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ তদন্তকারীদের হাতে রয়েছে? বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও সম্পর্কের প্রকৃত প্রকৃতি কী ছিল? মামলার অন্য আসামিদের ভূমিকা কী? এখন কী হবে? মামলার তিন আসামি—সেকান্দর আলী, গোলাম রাব্বী ও সজীব হাসান—ইতোমধ্যে কারাগারে রয়েছেন। জিসানকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর ফলে এখন তদন্তের পরবর্তী ধাপ, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য জিজ্ঞাসাবাদের ওপর গুরুত্ব বাড়বে। একদিকে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ, অন্যদিকে অপহরণ ও আত্মগোপনের পরস্পরবিরোধী বর্ণনা—সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন শুধু একটি ফৌজদারি মামলা নয়; বরং এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত, চিকিৎসা মূল্যায়ন এবং রাজনৈতিকভাবে পরিচিত একজন নেতাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বহুমাত্রিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।