ঢাকা: প্রায় ৩০০ কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজ ও তাঁর পরিবারের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইতোমধ্যে দুদকের কমিশন সভায় মামলাটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। দুদকের উপপরিচালক আক্তারুল ইসলাম বুধবার গণমাধ্যমকে জানান, পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে শিগগিরই মামলাটি দায়ের করা হবে। দীর্ঘদিন অনুসন্ধান চালিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করার পর কমিশন মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সাবেক এমপি মহিউদ্দিন মহারাজের নিজের নামে প্রায় ৫১ কোটি ২৭ লাখ ৩২ হাজার ৬৩১ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া তাঁর পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের নামেও বিপুল পরিমাণ সম্পদের অসংগতি চিহ্নিত হয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী— স্ত্রী উম্মে কুলসুমের নামে প্রায় ৬ কোটি ৯৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ছেলে শাম্মাম জুনাইদ ইফতির নামে প্রায় ৬৪ কোটি ৯১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা ভাই মো. শামসুদ্দিনের নামে প্রায় ২১ কোটি ৮৬ লাখ ২৩ হাজার টাকা মো. সালাউদ্দীনের নামে প্রায় ২৭ কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা মিরাজুল ইসলাম মিরাজের নামে প্রায় ৯৯ কোটি ১২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা মিরাজের স্ত্রী মিসেস শামীমার নামে প্রায় ৭ কোটি ৯০ লাখ ৯৯ হাজার টাকা এই সম্পদের বৈধ উৎস দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা বলে জানিয়েছে দুদক। দুদক সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন খাত থেকে অর্থ সংগ্রহ, জমি এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রয় ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অস্বাভাবিক লেনদেন করে এসব সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হতে পারে। এর আগে মহিউদ্দিন মহারাজের বিরুদ্ধে প্রায় ১ হাজার ৭৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আটটি মামলা দায়ের করেছে দুদক। এসব মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পদ জব্দ ও ক্রোকের উদ্যোগ নেয় দুদক। সেই ধারাবাহিকতায় মহিউদ্দিন মহারাজ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা এবং সম্পদ জব্দের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী ভবিষ্যতে আরও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিএক্সউটিএ) অধিকাংশ কর্মকর্তাই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুর্নীতির একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলে অঢেল অবৈধ সম্পদ করেছেন। তারা বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, নৌ-বন্দর ইজারা, নদীর ড্রেজিং, নদী থেকে বালু উত্তোলন, জাহাজ চলাচলের অনুমোদনসহ বিভিন্ন কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তারা এখন নতুন সরকারের মন্ত্রী, সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে, বিভিন্ন দপ্তরে থাকা কর্তাব্যক্তিদের পিএস, এপিএসদের সাথে ঘনিষ্ঠতা করে পুনরায় দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়াচ্ছেন। পতিত সরকারের আমলে এটি বড় একটি রেওয়াজে পরিণত হয়েছিল। এদিকে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বিআইডব্লিউটিএ’র উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না পাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো চলছে ধীরগতিতে। অন্যদিকে, আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের নানামুখী তৎপরতা ও ষড়যন্ত্রের কারণে প্রকল্পগুলোর কাজ থমকে গেছে। তবে আওয়ামী ট্যাগিংয়ের অধিকাংশ কর্মকর্তা রূপ পাল্টিয়ে সরকারি দলে যোগ দিয়েছেন। আবার অনেককেই বদলি বা বরখাস্ত করা হয়েছে। খোদ বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফার বিরুদ্ধেও আওয়ামীপন্থী ট্যাগের অভিযোগ উঠেছে। এজন্য ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। জানা গেছে, নদীর চলাচল ও অবকাঠামো রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ১২টি প্রকল্পের কাজ চলছে ধীরগতিতে। প্রধান প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে নদীর খাল রক্ষার জন্য বৃহৎ খনন কাজ। এর মধ্যে জামালপুরের ব্রহ্মপুত্র ও ঝিনাই নদী, কুড়িগ্রামের ধরলা নদী, দিনাজপুরের তোলাই ও পুনর্ভবা নদী, টাঙ্গাইলের বাঁশী নদী, গাইবান্ধার ঘাঘট নদী, গাজীপুরের নাগদা নদী এবং কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার বিভিন্ন নদী উক্ত খনন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। অন্য প্রধান প্রকল্পগুলো হলো, ঢাকার চারপাশে একটি বৃত্তাকার পথ নির্মাণ, নদীর সীমানা নির্ধারণের জন্য ীমারেখা পিলার স্থাপন এবং ৩৫টি নতুন খননযন্ত্র কেনার উদ্যোগ। যেটিতে বেশ কয়েক বছর ধরে বরাদ্দ থাকছে না। নতুন সরকার চাচ্ছে ধীরগতিতে চলা কাজগুলো দ্রুত শেষ করতে। এদিকে, বিআইডব্লিউটিএর ঘুষ, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের সাথে সম্পৃক্ত দুই ডজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও তাদের স্ত্রীদের বিরুদ্ধে দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিট অনুসন্ধান করছে বছরের পর বছর ধরে। সূত্র জানিয়েছে, ওই কর্মকর্তাদের মধ্যে সাত কর্মকর্তারা তাদের অবৈধ সম্পদ বৈধ করতে জাহাজ ক্রয়ে বিনিয়োগ করেছেন, স্ত্রীদের এসব জাহাজের মালিক বানিয়েছেন এবং কোটি কোটি টাকার সম্পদ কিনে দিয়েছেন। আরো ১৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান টিম মাঠে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। এরা সবাই পতিত সরকারের আমলে বিআইডব্লিউটিএকে লোকসানের মুখে ঠেলে দিয়ে নিজেরা আলিশান বাড়ি ও পাহাড় সমপরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। দুদকের তথ্যমতে, ২০২১ সালে বিআইডব্লিউটিএ’র একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চারটি পৃথক অভিযোগ জমা পড়ে দুদকে। একই বছরের অক্টোবর মাসে বিআইডব্লিউটিএ’র ২ ডজন কর্মকর্তা ও তাদের স্ত্রী-সন্তানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি তদন্ত করতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে দুদকে চিঠি পাঠানো হয়। এরপরই দুদক তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অনুসন্ধানে মাঠে নামে। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে ৭ জন কর্মকর্তাসহ মোট ১২ জনের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৮০ লাখ বিনিয়োগ করে ‘ডজন রোজ লিমিটেড’ নামে একটি জাহাজ কোম্পানি গঠন এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে কর্মকর্তাদের স্ত্রীদের নামে শেয়ার ক্রয়ের তথ্য পাওয়া যায়। একইসঙ্গে তাদের স্ত্রীদের নামে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে ফ্ল্যাট, প্লট ও ব্যাংক ব্যালেন্স করার তথ্য রয়েছে। দুদক যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজনের আমলনামা নিম্নে তুলে ধরা হলো। বিআইডব্লিউটিএ’র সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী শামীম আক্তারের আমলনামা বিআইডব্লিউটিএ’র সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম ১৯৮৯ সালে বিআইডব্লিউটিএ’তে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি চাকরিতে যোগদানের পর স্ত্রীকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী দেখান। শফিকুল ইসলাম ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পরিচালক (সচিব) হিসেবে অবসরে যান। অবসরে যাওয়ার আগে তিনি ২০১৮ সালের ১১ এপ্রিল স্ত্রী শামীমা আক্তারের নামে ‘রোজ ডজন’ কোম্পানিতে ১৫ লাখ টাকার শেয়ার কেনেন। রাজধানীর রাজাবাজারে মাসুম ভ্যালী ভবনের দ্বিতীয় তলায় শফিকুলের ১১৫০ বর্গফুট ও কার পার্কিংসহ একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। কুড়িগ্রামের তরকপুরে ২২ শতাংশ জমিতে পুকুর খনন ও টিনসেড বাড়ি নির্মাণ করেন। তার ধানমন্ডিতে ৮৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট আছে। এসব সম্পদের মূল্য দেখান ২৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এছাড়া তার ৮০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, লিজেন্ড-১০ শিপিং লাইন্সে ৪০ লাখ টাকার শেয়ার, এমভি শুভেচ্ছা-১ এ ১৯ লাখ ২৫ হাজার টাকার শেয়ার, জেমস্টোনে ১০ লাখ টাকার শেয়ার, একটি জিপ গাড়ি ও ১৫ ভরি সোনাসহ আবসাবপত্র ও ইলেক্ট্রনিক্স মালামাল রয়েছে। শফিকুলের স্ত্রী শামীমা আক্তারের বগুড়া সদরের ছয়পুকুরিয়ায় আড়াই শতাংশ জমি ও ৬টি দোকান, ঢাকার পশ্চিম জাফরাবাদে ১২৩০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট, মোহাম্মদপুরে ১২৩০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া ‘রোজ ডজন’ কোম্পানিতে তার ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা শেয়ার, জেম স্টোন শিপিং লাইন্সে ৪০ লাখ টাকা, রিলায়াবল অয়েল কোম্পানিতে ৪৮ লাখ টাকা বিনিয়োগ, একটি প্রাইভেট কার ও ২০ ভরি স্বর্ণসহ আসবাবপত্র ও ইলেক্ট্রনিক্স মালামাল রয়েছে। শামীমা আক্তার কর দিয়ে ১ কোটি ১৬ লাখ ১৮ হাজার কালো টাকা সাদা করেছেন। আয়কর নথির অনুযায়ী শফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর ৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা মূল্যের সম্পদ রয়েছে। বাস্তবে তাদের সম্পদের মূল্য আরও অনেক বেশি। এসব সম্পদের মধ্যে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে। পরিচালক রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী সাবিহা পারভীনের আমলনামা রফিকুল ইসলাম ১৯৯২ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। তার স্ত্রী সাবিহা পারভীন একজন গৃহিণী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। রফিকুল ইসলামের স্ত্রীর নামে ২০২০ সালে লিজেন্ড-১০ কোম্পানির মর্নিং ভয়েজ নামীয় নৌযানে ২০ লাখ টাকার শেয়ার কিনেন। রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানা এলাকায় পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ১২ জমি শতাংশ রয়েছে। একই থানার ছোট বনগ্রামে ৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ জমি রয়েছে। এছাড়া, রাজধানীর আদাবরে পার্কিংসহ ১৫৬৩ বর্গফুটের ফ্ল্যাট, বাড্ডায় ২০ জনের সমিতি গঠন করে ১০ কাঠা জমি ক্রয়, রাজধানীর একটি আবাসিক প্রকল্পে ২ কাঠার প্লট ক্রয়, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ভাইয়ের কাছ থেকে ৪০ শতাংশ, মায়ের কাছ থেকে সাড়ে ২৫ শতাংশ জমি পেয়েছেন বলে আয়কর নথিতে উল্লেখ করেন। তিনি এজমালি সম্পত্তি থেকে ১০ দশমিক ৭১ শতাংশ পেয়েছেন বলে জানান। তার স্ত্রীর নামে সাভারের কাউন্দিয়ায় সাড়ে ৭ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। তাদের দুজনের ৬৫ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। আয়কর নথিতে তাদের ৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে। বাস্তবে এসব সম্পদের মূল্য আরও অনেক বেশি। তাদের দখলে থাকা সম্পদের মধ্যে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ থাকার তথ্য রয়েছে। যুগ্ম পরিচালক গুলজার আলী ও তার স্ত্রীর আমলনামা গুলজার আলী ১৯৯৪ সালে চাকরিতে যোগদান করেন। তিনি স্ত্রী সালমা হককে একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে স্ত্রীর নামে লিজেন্ড শিপিং লাইন্সে ২০ লাখ এবং ২০১৮ সালের এপ্রিলে রোজ ডজন শিপিং কোম্পানিতে ১৫ লাখ টাকার শেয়ার কেনেন। গুলজার আলীর ৪ শতাংশ জমিতে টিনশেড বাড়ি, একটি আবাসন প্রকল্পে শেয়ারে ১০ কাঠা জমি ক্রয় ও সেখানে বাড়ি নির্মাণে সাড়ে ১৭ লাখ টাকা ব্যয়, ব্যাংকে ৭৫ লাখ জমা, ১০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র. ৫ ভরি স্বর্ণসহ কয়েক লাখ টাকার আসবাবপত্র ও ইলেক্ট্রনিক্স মালামাল রয়েছে। গুলজার তার স্ত্রী সালমা হকের পৈত্রিক জমিতে ৩০ লাখ ১৫ হাজার টাকা ব্যয়ে বাড়ি নির্মাণ, কেরানীগঞ্জের আটিবাজার এলাকায় তিন কাঠা জমি ক্রয় করেন। আয়কর নথি অনুযায়ী গুলজার আলী ও তার স্ত্রীর ২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা মূল্যের রয়েছে। বাস্তবে তাদের সম্পদের মূল্য আরও কয়েকগুণ বেশি। এসব সম্পদের মধ্যে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে। এছাড়া তাদের বেনামে আরও সম্পদ রয়েছে। উপ-পরিচালক শহীদুল্লাহ ও তার স্ত্রী ফাতেমা পারভীনের আমলনামা শহীদুল্লাহ ২০০৫ সালে চাকরিতে যোগদান করেন। তার স্ত্রীও একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তিনি ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে স্ত্রীর নামে ১৫ লাখ টাকা দিয়ে রোজ ডজন শিপিং কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করেন। এসব শেয়ার ২০২০ সালে বিক্রি করে দেন। তিনি ২০০০ সালের ইস্টার্ন হাউজিংয়ে ৯৩ লাখ টাকায় ২ কাঠা জমি ক্রয় করেন। এছাড়া জোয়ার সাহারা প্রকল্পে ৫ কাঠা জমির ৮ ভাগের ১ অংশের মালিক তিনি। তার ২৮ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ৪৮ লাখ টাকা ব্যাংকে গচ্ছিত, আড়াই লাখ টাকার প্রাইজবন্ডসহ কয়েক লাখ টাকার আসবাবপত্র ও ইলেক্ট্রনিকস মালামাল রয়েছে। এছাড়া স্ত্রীর নামে সাভারের কাউন্দিয়ায় সাড়ে ৭ শতাংশ জমি, ঢাকার ধানমন্ডিতে ১৬০২বর্গফুটের ফ্ল্যাট ও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ৩ কাঠা জমি ক্রয় করেছেন। তাদের দুজনের ৬৮ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। আয়কর নথিতে তাদের সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা। বাস্তবে তাদের যে পরিমাণ সম্পদ রয়েছে তার প্রকৃত মূল্য কয়েকগুণ বেশি। এসব সম্পদের মধ্যে ১ কোটি ১২ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে। এর বাইরে তাদের বেনামি সম্পদও রয়েছে। উপ-পরিচালক আবু সালেহ কাইয়ুম ও তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তারের আমলনামা আবু সালেহ কাইয়ুম ২০০৫ সালে চাকরিতে যোগদান করেন। তার স্ত্রী ২০০৯ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। তিনি ২০১৭ সালের ১২ জানুয়ারি ২০ লাখ টাকা দিয়ে স্ত্রীর নামে লিজেন্ড শিপিং লাইন্সের শেয়ার ক্রয় করেন। ২০২২ সালে সেই শেয়ার বিক্রিও করে দেন। আবু সালেহ ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত বেতন-ভাতা পেয়েছেন ১ কোটি ১৪ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে পারিবারিক ব্যয় হয়েছে ৫০ লাখ ১ হাজার টাকা। তার প্রায় ১৪ লাখ টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। তিনি বিয়ের সময় ১০ ভরি ও তার স্ত্রী ৪৫ ভরি স্বর্ণ উপাহার পেয়েছেন। আয়কর নথি অনুযায়ী এই দম্পতির সম্পদের মূল্য ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এসব সম্পদের মধ্যে ২০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে তাদের সম্পদের মূল্য এবং অবৈধ সম্পদের পরিমাণ আরও অনেক বেশি। উপ-পরিচালক আবু বকর ও তার স্ত্রী ইসরাত জাহানের আমলনামা আবু বকর সিদ্দিক ১৯৯৫ সালে নির্বাহী সহকারী হিসেবে যোগদান করেন। তিনি ২০২০ সালের ডিসেম্বর অবসরে যান। আয়কর নথিতে তাদের ৫ কোটি ২০ লাখ টাকার সম্পদ থাকার তথ্য রয়েছে। বাস্তবে তাদের সম্পদের মূল্য ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা। এসব মধ্যে বিপুল পরিমাণ অবৈধ উপায়ে অর্জন করা হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জরিনা বেগম ও তার স্বামী মুকবুল আহমেদের আমলনামা বিআইডব্লিউটিএ’র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জরিনা বেগমের স্বামী মুকবুল আহমেদ। এই দম্পতি বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এর মধ্যে জরিনা খানম ও তার স্বামী মুকবুল আহমেদ আশুলিয়া মডেল টাউনে ৩ কাঠা জমি রয়েছে। যার মূল্য দেখানো হয় ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। বাউনিয়া মৌজায় ৪১ দশমিক ২৫ অযুতাংশ জমি, যারা মূল্য দেখানো হয় ৭ লাখ ৫০ হাজার এবং হাজারীবাগ মনেশ্বর রোডে ১২০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটের মূল্য ২ লাখ ৬১ হাজার। এছাড়া, তাদের স্বর্ণালঙ্কার, আসবাবপত্র, ইলেক্ট্রনিক্স মালামালসহ মোট সম্পদের মূল্য ২ কোটি ৮২ লাখ ১৮ হাজার ৮৯৯ টাকা দেখানো হয়। এই সম্পদ অর্জনের বিপরীতে আয় দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৯০ লাখ ৬৫ হাজার ৪৩৬ টাকা। অর্থাৎ তাদের অর্জিত সম্পদ থেকে আয়ের পরিমাণ ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৫৩৭ টাকা বেশি। অভিযোগ রয়েছে, জরিনা খানম ও তার স্বামীর সম্পদের যে মূল্য দেখানো হয়েছে তার প্রকৃত মূল্য অনেক বেশি। দুদক সূত্রমতে, বিআইডব্লিউটিএ’র যাদের বিরুদ্ধে দুদকে মামলা বা অভিযোগ রয়েছে তাদের প্রত্যেকের বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান। এরা পতিত সরকারের আমলে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এদের বেশিরভাগই সম্পদ করেছেন স্ত্রী এবং বেনামে। পতিত সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত থাকলেও তারা অনেকে এখন মুখোশ পাল্টিয়ে বিএনপিপন্থী সেজে গেছেন। সূত্রমতে, একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী নিজের অপকর্ম এবং দুর্নীতি থেকে বাচঁতে মিডিয়ায় পজেটিভ নিউজ করানোর জন্য মোটা দাগের টাকা খরচ করে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। এদিকে, সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে দুদকও দুর্নীতি রোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে নড়েচড়ে বসেছে। এর ফলে অনেক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিদায়ঘন্টাও বেজে উঠেছে। কারণ দুদককে স্বাধীন করে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। শক্তিশালী কমিশন গঠনে দুর্নীতিবাজদের ঘুম হারাম হয়ে যাবে। দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ আসছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সূত্রমতে, বিআইডব্লিউটিএ’র অধিকাংশ কর্মকর্তা অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে নতুন সরকার কি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে তা নিয়ে সর্বত্রই প্রশ্ন উঠেছে। তবে অনেকেই দলীয় পরিচয় বহন করে পদ-পদবী সহ বিভিন্ন সুবিধা নিতে মরিয়া।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও বি এম কলেজ এর সাবেক জি এস এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা। নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর খামেনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ এবং টাইমস অব ইসরায়েলসহ একাধিক গণমাধ্যমও সরকারি সূত্রের বরাতে জানায়, খামেনির মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। তবে, এই দাবি প্রকাশ পাওয়ার পর পরই ইরান সরকার কঠোর ভাষায় তার নেতার জীবিত থাকার দাবি করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-আলম জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ খামেনি এখনো বেঁচে আছেন এবং তিনি পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আরও বলা হয়, তিনি দেশের সেনাবাহিনী এবং সরকারের নেতা হিসেবে দৃঢ়তার সঙ্গে যুদ্ধের ময়দানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। খামেনি বেঁচে আছেন, দৃঢ়তার সঙ্গে নেতৃত্ব দিচ্ছেন:ইরানের গণমাধ্যমের দাবি এদিকে, এনবিসিতে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “ইরানের প্রায় সব কর্মকর্তা জীবিত, সুস্থ ও নিরাপদ স্থানে আছেন।” তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান আবারও তাদের নেতার বেঁচে থাকার বিষয়ে নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ইরানে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন বা শূন্যতা তৈরি হতে পারে, তবে এখনো কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। এর পাশাপাশি, ইরান সরকার তাদের সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান নিয়ে প্রাথমিকভাবে কোনো বিশেষ প্রতিক্রিয়া দেয়নি। এ ঘটনার পর বিশ্বের নজর তেহরানে, এবং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।