বরিশাল অফিস : “রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলো পথ”- এই বাক্যটি বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকে।
কারাগারের কর্তৃপক্ষও দাবি করেছেন, বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রতিটি বন্দিকে রাখা হয় নিবির পর্যবেক্ষণে। কঠোর অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে দেখানো হয় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার পথ।
তবে অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে এর পুরো উল্টো চিত্র। পুরো কারাগার জুড়েই চলছে টাকার খেলা। যার যত বেশি টাকা, সে তত বেশি প্রভাবশালী বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে। টাকাওয়ালারা ঘরের ন্যায় জেলখানাতেও বসবাস করেন আরাম আয়েশে। আর যাদের টাকা নেই তাদের হতে হয় কারাকর্তৃপক্ষের নির্যাতনের শিকার।
তবে কারাগারের বাইরে এসব ঘটনা সহসা প্রকাশ করেন না কেউ। কারণ বেশির ভাগ হাজতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী বা অপরাধী হওয়ায় তাদের বারবার যেতে হয় কারাগারে।
কারাগারে নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে আসামি ও কয়েদিরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কারা ক্যান্টিনের খাবারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।কারাগারে বন্দি ও জামিনে বেরিয়ে আসা আসামিরা জানান, জেলা কারাগারের ক্যান্টিনে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ টাকায় বন্দিদের কাছে খাবার বিক্রি করে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। এ ছাড়া সরকারি খাবারের নীতিমালার তোয়াক্কা না করে নিম্নমানের খাবার দেওয়া হচ্ছে, যা খাওয়ার উপযোগী নয়।
অনুসন্ধানে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, কারাগার কর্তৃপক্ষ সব সময়ই সংবাদকর্মীদের এড়িয়ে চলেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করেন।
একজন হাজতি কারা গেট থেকে প্রবেশের পর থেকেই শুরু হয় কারাকর্তৃপক্ষের অর্থ আদায়ের সূচনা। এরপর জামিনে বের হওয়া পর্যন্ত হাজতিদের নিয়ে চলে তাদের অর্থ বাণিজ্য।
নামের ভুল: হাজতিদের কারাগারে প্রবেশের আগে তাদের নাম, বাবার নাম ও ঠিকানা একটি খাতায় লিপিবদ্ধ করেন কারাকর্তৃপক্ষ। ওই খাতার নাম হলো পিসি বই। হাজতি মুখে তার পরিচয় সঠিক বললেও লেখার সময় ইচ্ছে করেই পিসি বইতে ভুল লেখা হয়। যেমন, এক জন হাজতির নাম যদি হয় ‘আব্দুর রহমান’ কারাকর্তৃপক্ষ তার নাম লিখবে ‘আব্দুর বহমান’। আদালত থেকে তার জামিন মঞ্জুর হলেও ‘র’ ও ‘ব’ এর বেড়াজালে আটকে দেওয়া হয় ওই হাজতিকে। গেটের দায়িত্বে থাকা কারারক্ষীকে ৫শ’ টাকা দিলে ‘ব’ আবার ‘র’ হয়ে যায়। কিন্তু কেউ টাকা দিতে না পারলে জামিন আদেশের পরেও তাকে এক দিন অতিরিক্ত জেল হাজতে থাকতে হয়। টাকা দেওয়ার ব্যাপারেরও রয়েছে কঠিন শর্ত। কেউ বাইরে থেকে আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে টাকা নিতে পারবেন না। তাকে কারাগারের ভিতর থেকেই টাকা সংগ্রহ করে দিতে হবে। পরিচয় গোপন রাখার সর্তে বাংলানিউজকে এসব কথা জানিয়েছেন হয়রানির শিকার এক হাজতি।
দ্বিতীয় ধাপ আমদানি: একজন হাজতি কারাগারে প্রবেশের পর তাকে প্রথম এক দিন আমদানিতে রাখা হয়। পরে তাদের অপরাধ অনুযায়ী বিভিন্ন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। কিন্তু এখানেও রয়েছে টাকার খেলা। যে কেউ চাইলেই আমদানিতে বেড পাবেন না। বেড পেতে হলে তাকে গুনতে হবে ৫শ টাকা। না হয় মেজেতে থাকতে হবে। আর কেউ যদি এক হাজার থেকে ১২শ টাকা দেয় তবে সে যত দিন ইচ্ছে আমদানিতে থাকতে পারবেন। কারাবিধি অনুযায়ী ১০ বছরের নিচের হাজতিদের যশোর সংশোধনী কেন্দ্রে পাঠানোর নিয়ম রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, টাকার জোরে অনেকই দিনের পর দিন আমদানি বসবাস করছে। জানা গেছে, প্রতিমাসে শুধু আমদানি থেকে কারাকর্তৃপক্ষের আয় হচ্ছে প্রায় এক লাখ টাকা।
ওয়ার্ড: আমদানিতে এক দিন রাখার পরে হাজতিদের অপরাধ অনুযায়ী বিভিন্ন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। সেখানেও টাকা। অনেক অপরাধী এক জায়গায় বসবাস করায় প্রায়ই হাজতিতের মধ্যে মারামারি বাধে। মারামারি করার অপরাধে তাদেরকে কেস টেবিলে (কারাগারের বিশেষ বিচার ব্যবস্থা) হাজির করা হয়। তবে কারাগারের সুবেদার, জমাদ্দার ও সিআইডিদের টাকা দিলে পার পেয়ে যায় প্রকৃত অপরাধী। এর প্রেক্ষিতে উল্টো শাস্তি পেতে হয় নিরাপরাধীকে। যার ফলে কারাগারে ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে অপরাধ।
খাবার: জেলখানায় খাবারের মান খুবই নিম্নমানের বলে জানিয়েছেন একাধিক হাজতি। তবে কারাকর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, বন্দিদের উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়।
জেলার জানান, বন্দিদের সকালে রুটি ও গুড়, দুপুরে সবজি-ডাল-ভাত এবং রাতে সবজি-ডাল-ভাত-মাছ বা মাংস খেতে দেওয়া হয়। বন্দিরাও জেলারের কথা অস্বীকার করেন নি। তবে তাদের অভিযোগ খাবারের মান নিয়ে। একাধিক বন্দি জানান, খাবারের তালিকায় মাছের যে সাইজ উল্লেখ থাকে তা দেওয়া হয়না। তালিকায় ইলিশ, রুই, কাতলসহ বিভিন্ন মাছ খাওয়ানোর কথা থাকলেও প্রায় প্রতিদিনই দেওয়া হয় পুকুরে চাষ করা পাঙ্গাস মাছ। আর যে মাংস খাওয়ানো হয় তাও পরিমাণে খুব কম।
তবে টাকার বিনিময়ে ক্যান্টিন থেকে চড়া মূল্যে মাছ ও মাংস কিনে খেতে পারেন বন্দিরা। তাই যাদের সামর্থ আছে তারাই কারাগারে বসে ভালমন্দ কিনে খেতে পারেন। সদ্য জেল থেকে বের হওয়া এক হাজতি জানান, রমজান মাসে খাবারের মান ছিল খুবই নিম্নমানের। বন্দিদের সংখ্যা বেশি দেখিয়ে অতিরিক্ত খাবার বরাদ্ধ নেয় কারাকর্তৃপক্ষ। পরে তা বাইরে বিক্রি করে দেয়।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, কারাগারের প্রধান গেট থেকেই ভিতরে প্রবেশ করে এই সব নিম্নমানের খাবার। খাবার ভিতরে প্রবেশ করানোর সময় নিম্নমানের অভিযোগ তুলে তা গেটে আটকে দেয় গেট ইনচার্জ। এ নিয়ে চলে খাবার সরবরাহকারী ও গেট ইনচার্জের দেনদরবার। ঘণ্টাখানেক পর ওই খাবারই ভালোমানের হিসেবে কারাগারের ভিতরে প্রবেশ করে। এই নিম্নমানের খাবার খেয়ে পেটের পিড়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতি মাসে ২০ থেকে ২৫ জন বন্দি শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি হয় বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
গোসল: একটু ভালোভাবে গোসল করার জন্যও টাকা গুনতে হয় বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিদের। গোসলসহ সব কাজ করার জন্য মাত্র একটি পুকুর রয়েছে কারা অভ্যন্তরে। তাই সব কাজ একটি পুকুরে করায় পুকুরের পানি নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে ওই পুকুরের পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পরেছে। তাই পাম্প বা বিভিন্ন সেলের সামনে গোসল করতে হয় বন্দিদের। কিন্তু সবাই এসব স্থানে গোসল করতে পারেন না। প্রতিবার গোসল করার জন্য যারা ৫০ থেকে ৬০ টাকা দিতে পারছে শুধুমাত্র তারাই সেখানে গোসল করার সুযোগ পাচ্ছে।
ক্যান্টিন: একাধিক বন্দি জানিয়েছেন, কারাগারের ক্যান্টিনে তেমন একটা দুর্নীতি হয়না। তবে যা হয় তাও কম নয়। এখানে রান্নার তেল খুবই খারাপ। একই পোড়া তেল দিয়ে তৈরি করা হয় নানা খাবার। এ ব্যাপারে কয়েক জন হাজতির সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, ‘কেনই বা পোড়া তেল দিয়ে রান্না হবে না। ক্যান্টিন বরাদ্ধ নিতে এক কালীন ৫ লাখ টাকা দিতে হয় কারাকর্তৃপক্ষকে।
হাজতিদের টাকা: কারাগারের অভ্যন্তরে নগদ টাকা বহন করা বড় ধরনের অপরাধ। তাই বাইরে থেকে কেউ টাকা দিতে চাইলে ব্যাংক হিসেবের ন্যায় পিসি বইতে টাকা জমা হয়। কারো টাকার প্রয়োজন হলে পিসি বইয়ের মাধ্যমে ক্যান্টিন থেকে লেনদেন করেন। আর এখানেই হলো আসল দুর্নীতি। কেউ একশ’ টাকা চাইলে তাকে দেওয়া হয় ৯০ টাকা। বাকি ১০টা কমিশন বাবদ কেটে রাখা হয়।
দেখার ঘর: বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে আসা স্বজনরা সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হন দেখার ঘরে। তবে টাকা থাকলে সেখানেও রয়েছে স্বস্তি।কারারক্ষীদের পকেটে একশ’ টাকার দুটি নোট ঢুকিয়ে দিতেই দেখা করার ব্যবস্থা করে দেয় কারারক্ষী। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কারাগারের দেখার ঘরের দায়িত্বে রয়েছেন মেয়াসাবরা । তারাই টাকা সংগ্রহ করেন।
মেডিকেল: কারাগারের সবচেয়ে বেশি হৃদয়বিধারক ঘটনা ঘটে মেডিকেলে। হাজত খেটে বের হওয়া অনেকেই অভিযোগ করেছেন, পুরো মেডিকেল রয়েছে চিফ রাইটারের নিয়ন্ত্রণে। তিনি যেভাবে চালান সেভাবেই চলে মেডিকেল। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মেডিকেলের চিফ রাইটারের দায়িত্বে আছেন এক কয়েদি । অথচ কারাবিধান অনুযায়ী এক মাসের বেশি কোনো কয়েদি বা কারারক্ষী একস্থানে থাকতে পারবেন না।
জানা গেছে, কারাবিধি অনুযায়ী যে রোগী আগে যাবে সে মেডিকেলে সিট পাবে। কিন্তু সেখানে চলে এর উল্টো। টাকার বিনিময়ে সুস্থদের সিট পাাইয়ে দেয় । আর প্রকৃত অসুস্থরা থাকেন মেঝেতে। তবে কারা পরিদর্শক দল পরিদর্শনে গেলে অসুস্থদের বেডে রাখা হয়। কিন্তু তারা চলে গেলে পূর্বের নিয়ম চালু হয়।
একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, মেডিকেলে ১৫ দিন থাকার জন্য ১৫শ টাকা এবং এক মাস থাকার জন্য ২৫শ টাকা দিতে হয়। নাম প্রকাশ না করার সর্তে একাধিক হাজতি জানিয়েছেন, যে কেউ দিব্যি সুস্থ হয়েও অসুস্থতার সার্টিফিকেট নিয়ে শেবাচিম হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হয়। সেখানে বসে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা এবং মোবাইলে পর্যন্ত কথা বলতে পারেন। কারা চিকিৎসকের সঙ্গে আতাত করে সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা করে দেয় । এই সার্টিফিটের জন্য প্রতিজন বন্দিকে দিতে হয় ৮শ থেকে এক হাজার টাকা।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিমাসে শুধুমাত্র মেডিকেল থেকে আয় হয় দেড় থেকে ২ লাখ টাকা। চিকিৎসক নিজেও এর একটি অংশ পান।
মাদক: কারাগারের অভ্যন্তরে বিক্রি হওয়া মাদকের মধ্যে রয়েছে গাজা এবং ঘুমের ট্যাবলেট ইপম ও ক্লোনাজম। কারাঅভ্যন্তরে কারারক্ষীরা নিজেরাই এসব মাদকদ্রব্য সরবরাহ করছে বলে বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে।
বিশেষ করে সিআইডি জমাদ্দার ও মেডিকেল চিফ রাইটার এই মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। কারণ সিআইডি সদস্যদের গেটে তল্লাশি করা হয়না। তাই কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই কারাঅভ্যন্তরে মাদক প্রবেশ করায় তারা।
সিআইডি: দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে যেমন সিআইডি টিম রয়েছে। কারাগারেও এর বিকল্প নয়। কয়েদি ও কারারক্ষীদের মধ্যে থেকে বিশ্বস্ত লোক বাছাই করে সিআইডি হিসেবে নিয়োগ দেন জেলার নিজেই। তবে যে কাজের জন্য তাদের নিয়োজিত করা হয় তারা তা বাদ দিয়ে সব সময় অর্থ আয়ে নিজেদের ব্যস্ত রাখেন।
জানা গেছে, কারাগারের সব দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে খোঁজ খবর রাখার জন্য ডিআইজি প্রিজনের পক্ষ থেকে একজন সিআইডি সদস্য রয়েছে বরিশাল কারাগারে। তবে এই সিআইডি সদস্য ডিআইজির কাছে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের সব দুর্নীতি ও অনিয়মের কথা গোপন করছেন। কারণ কারাকর্তৃপক্ষের সঙ্গে আতাত করে এখান থেকে প্রতিমাসে মোটা অংকের টাকা নিয়ে পকেট ভারি করছেন তিনি।
কয়েদিদের দুর্ভোগ: যে সব কয়েদী কারাকর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে থাকেন তারাই রাজত্ব করেন পুরো কারাগার জুড়ে। আর যারা কারাকর্তৃপক্ষের মন মতো চলতে পারেন না, তাদের সইতে হয় নির্যাতন। মন মতো বলতে টাকা উপার্জন করিয়ে দেওয়াকে বোঝানো হয়েছে। আর তাদের কাজ করতে হয় ফুলের বাগান, সুইপার চালি, তাত চালি বা রান্না ঘরে। এমনই তথ্য দিয়েছেন হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুই কয়েদি।
বিভিন্ন দিবসে বন্দিদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন: বিভিন্ন সরকারি দিবস বা ঈদ-কোরবানীতে বন্দিদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়ে থাকে। কারাঅভ্যন্তরে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। এজন্য সরকার থেকে আলাদা বরাদ্ধ থাকলেও বন্দিদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করে কর্তৃপক্ষ।
টাকার ভাগবাটোয়ারা: খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নামের ভুলসংশোধনী, আমদানি, ওয়ার্ড, গোসল, খাবার, ক্যান্টিন, হাজতিদের টাকার কমিশন, দেখার ঘর, মেডিকেল অর্থাৎ সব মিলিয়ে প্রতিমাসে কমপক্ষে ১০ খেকে ১২ লাখ টাকা উপার্জন হয় অবৈধভাবে। সিনিয়র সুপার, জেলার, ডেপুটি জেলার থেকে শুরু করে হাসপাতালের চিকিৎসক, সুবেদার, কারারক্ষীরা পর্যন্ত এই টাকার ভাগ পায়।
কারাগারের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস: বরিশাল ছিল এক সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকা। তাই এখানে নির্জন কারাবাসে পাঠানো হতো ভয়ঙ্কর অপরাধীদের। ১৮২৯ সালে ২০ দশমিক ৩ একর জমির ওপর বরিশালে কারাগার নির্মাণ করা হয়। পরে ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই এটি বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার হিসেবে ঘোষণা করে তৎকালীন সরকার। তবে জেলা কারাগার থেকে কেন্দ্রীয় কারাগার করা হলেও সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি একাংশও। দেশে বর্তমানে কেন্দ্রীয় কারাগারের সংখ্যা ১৩টি।
হাসপাতাল আছে চিকিৎসক নেই: ৫৮ শয্যার হাসপাতালটিতে প্রায় সব সময়ই শতাধিক বন্দি ভর্তি থাকেন। সেখানে নেই কোনো স্থায়ী চিকিৎসক। চিকিৎসা দেওয়ার জন্য বরিশাল সিভিল সার্জন অফিস থেকে একজন চিকিৎসককে প্রেষণে দেওয়া হয়েছে। কারাবিধি অনুযাীয় ৫০ শয্যার হাসপাতালে একজন বিশেষজ্ঞসহ ছয়জন চিকিৎসক থাকার কথা রয়েছে।বিভাগের অন্যান্য কারাগার থেকে অসুস্থ বন্দিদের বরিশালে পাঠানো হয়। অথচ এখানে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়ার জন্য কোনো চিকিৎসক নেই।
কারাগার থেকে জামিনে বের হওয়া হাজতিরা অভিযোগ করে বলেন, ‘বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে “রাখিব নিরাপদ, দেখাবো আলোর পথ” এই নীতিবাক্য লেখা থাকলেও বাস্তবে ঘটছে উল্টোটা। কেননা কারাগারের অভ্যন্তরে টাকা দিলে নানা রকম সুবিধা মেলে। আর যার টাকা নেই তার কষ্ট ও দুর্ভোগের শেষ নেই। থাকার জন্য জায়গা পেতে টাকা দিতে হচ্ছে কারারক্ষীদের। খাবার পেতে টাকা দিতে হচ্ছে। কারাগারের ক্যান্টিনে যে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয় তা বাইরের অনিময়কেও হার মানায়। তাছাড়া স্বজনরা কারাগারে খাবার ও টাকা দিয়ে আসলে তাও সঠিক পরিমাণে হাজতিদের বুঝিয়ে দেয় না কারারক্ষীরা। কারাগারের মধ্যে সব থেকে বেশি চাহিদা হাসপাতালের। কিন্তু সেখানে যেতে কোন কোন ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হয়। তবে টাকা হলে সেটার প্রয়োজন হয় না।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও বি এম কলেজ এর সাবেক জি এস এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা। নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর খামেনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ এবং টাইমস অব ইসরায়েলসহ একাধিক গণমাধ্যমও সরকারি সূত্রের বরাতে জানায়, খামেনির মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। তবে, এই দাবি প্রকাশ পাওয়ার পর পরই ইরান সরকার কঠোর ভাষায় তার নেতার জীবিত থাকার দাবি করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-আলম জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ খামেনি এখনো বেঁচে আছেন এবং তিনি পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আরও বলা হয়, তিনি দেশের সেনাবাহিনী এবং সরকারের নেতা হিসেবে দৃঢ়তার সঙ্গে যুদ্ধের ময়দানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। খামেনি বেঁচে আছেন, দৃঢ়তার সঙ্গে নেতৃত্ব দিচ্ছেন:ইরানের গণমাধ্যমের দাবি এদিকে, এনবিসিতে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “ইরানের প্রায় সব কর্মকর্তা জীবিত, সুস্থ ও নিরাপদ স্থানে আছেন।” তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান আবারও তাদের নেতার বেঁচে থাকার বিষয়ে নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ইরানে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন বা শূন্যতা তৈরি হতে পারে, তবে এখনো কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। এর পাশাপাশি, ইরান সরকার তাদের সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান নিয়ে প্রাথমিকভাবে কোনো বিশেষ প্রতিক্রিয়া দেয়নি। এ ঘটনার পর বিশ্বের নজর তেহরানে, এবং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।
বরিশাল নগরীতে দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক সেবা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সিটি করপোরেশনের অধিকাংশ ওয়ার্ড কাউন্সিলর আত্মগোপনে থাকায় জন্মনিবন্ধন সনদ, মৃত্যুসনদ, নাগরিকত্ব সনদ, ওয়ারিশ সনদসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ সেবা পেতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নগরবাসী। সরকার পতনের পরবর্তী পরিস্থিতিতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বেশিরভাগ কাউন্সিলর আত্মগোপনে চলে যান। এরপর বিভাগীয় কমিশনার মো. শওকত আলী গত ১৯ আগস্ট সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে অধিকাংশ ওয়ার্ডে নির্বাচিত কাউন্সিলর না থাকায় নাগরিক সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কাউন্সিলর কার্যালয় বন্ধ, সেবা বন্ধ বরিশাল সিটি করপোরেশনের সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী, ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের কার্যালয় থেকেই জন্মনিবন্ধন সনদ, মৃত্যুসনদ, নাগরিকত্ব সনদ, চারিত্রিক সনদ, উত্তরাধিকার (ওয়ারিশ) সনদ, ভূমিহীন সনদ, টিসিবি কার্ড এবং বিভিন্ন ভাতার সত্যায়িত সনদ প্রদান করা হয়। এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকা যাচাই, বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র ও অনাপত্তিপত্রেও কাউন্সিলরের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে মামলার কারণে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১৪টিরও বেশি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আত্মগোপনে থাকায় এসব কার্যালয় কার্যত বন্ধ রয়েছে। ফলে নাগরিকদের বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রশাসক নিয়োগেও সমাধান হয়নি বরিশাল সিটি করপোরেশনে একজন মেয়র, ৩০ জন সাধারণ কাউন্সিলর এবং ১০ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের পরিবর্তে প্রথম শ্রেণির ২০ জন সরকারি কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নাগরিকদের অভিযোগ, দাফতরিক কাজের চাপে প্রশাসকরা যথাসময়ে নাগরিক সেবা দিতে পারছেন না। একজন জনপ্রতিনিধি যে সেবা দ্রুত দিতে পারতেন, তা পেতে এখন সপ্তাহ থেকে মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতারা প্রশাসকের কক্ষে প্রবেশও করতে পারছেন না। সনদের জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মিরাজুল ইসলাম জানান, তার সন্তানের স্কুলে ভর্তির জন্য জন্মনিবন্ধন সনদের প্রয়োজন হয়েছিল। তিনি বলেন, “প্রশাসকের কক্ষে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। এক সপ্তাহ ঘোরার পর দেখা পাই। কিন্তু সনদ পেতে এক মাস লেগে যায়। আগে কাউন্সিলরের মাধ্যমে এক সপ্তাহেই পাওয়া যেত।” একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পুষ্প চক্রবর্তী। তিনি জানান, নাগরিক সনদের জন্য এক মাস চেষ্টা করেও প্রশাসকের কক্ষে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে সাবেক কাউন্সিলরের সহযোগিতায় সনদ সংগ্রহ করতে হয়েছে। সাবেক কাউন্সিলরদের কাছে ছুটছেন নাগরিকরা বর্তমানে অনেক নাগরিক সাবেক কাউন্সিলরদের কার্যালয়ে গিয়ে সাহায্য চাইছেন। সাবেক কাউন্সিলররা জানান, প্রশাসকদের প্রটোকল ও ব্যস্ততার কারণে সাধারণ মানুষ সহজে তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না। ফলে তারা সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন দফতরে ফোন করে নাগরিকদের জরুরি কাজ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মর্তুজা আবেদীন বলেন, “একটি নাগরিক সনদ পেতে দেড় মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করার নজির রয়েছে। প্রতিদিন মানুষ আমার অফিসে সনদের জন্য আসছেন।” সমাধান কী? সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “সরকারি কর্মকর্তারা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তারা এলাকার মানুষকেও চেনেন না। তাই সেবা দিতে দেরি হচ্ছে। দ্রুত নির্বাচন বা সাবেক কাউন্সিলরদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিলে সমস্যা কমবে।” শতভাগ সেবা দেওয়া সম্ভব নয়: সিইও এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, বর্তমানে যারা কাউন্সিলরদের স্থলে প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের পক্ষে নাগরিকদের শতভাগ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী নগরীতে নাগরিক সেবার সংকটের পাশাপাশি বেড়েছে মশার উপদ্রবও। শুষ্ক মৌসুমে মশার অস্বাভাবিক বিস্তারে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে নগর জীবন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সিটি করপোরেশন নগরজুড়ে বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ শুরু করেছে। ১২টি জরুরি দলের মাধ্যমে সকাল-বিকাল নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. মনজুরুল হক জানান, মশার বিস্তার রোধে নতুন ধরনের ওষুধ ব্যবহার শুরু হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, প্রতিদিন প্রায় ২০০ লিটার অ্যাডাল্টিসাইড এবং বিভিন্ন এলাকায় লার্ভিসাইড ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে চারপাশে মশার বংশবিস্তার অনুকূল পরিবেশ থাকায় সমস্যার স্থায়ী সমাধান কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিবিসি বাংলা: "ঘরে মশা বাইরে মশা, যেখানেই যাই মশা। মশার যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর মনে হয় মশা যেন তুলে নিয়ে যাবে।" এভাবেই বলছিলেন ঢাকার উত্তরা এগারো নম্বর সেক্টরের খিদির খাল এলাকার বাসিন্দা শরিফুল হোসেন। দিনের বেলায়ও মশার কয়েল অথবা মশা প্রতিরোধক রিপিলেন্ট ব্যবহার করেও কাজ হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ রাজধানীর রামপুরা আফতাবনগর এলাকার বাসিন্দা সিমি আক্তারও। তিনি বলেন, বাসায় ছোট শিশু থাকায় মশা থেকে বাঁচতে দিন-রাত সবসময় বাসার দরজা-জানালা বন্ধ রাখছেন। মশার এমন ভয়াবহ উপদ্রবেও সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের। ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা গোপাল বিশ্বাস বলেন, "আগে তো মাঝেমধ্যে ধোঁয়া মারতে দেখতাম, অনেক দিন হলো সেটাও চোখে পড়ে না।" মশা বেড়েছে ঢাকার অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত গুলশান কিংবা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়ও। কেবল ঢাকায়ই নয় চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী সিটির কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে ওইসব এলাকায়ও হঠাৎ করেই মশা বৃদ্ধির খবর পাওয়া গেছে। এমন প্রেক্ষাপটে মশাবাহিত রোগ, বিশেষ করে ডেঙ্গু নিয়ে শঙ্কা বেড়েছে সাধারণ মানুষের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, এবছরের পহেলা জানুযারি থেকে ২৬শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দুই মাসে অন্তত দেড় হাজার জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, মারা গেছেন চার জন। ড্রেন পরিষ্কার না করা, খালের সংযোগস্থল ভরাট এবং জমে থাকা পঁচা পানির কারণেই মশা বেড়েছে বলে মত কীটতত্ত্ববিদের। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলছেন, স্থানীয় প্রশাসনে দীর্ঘদিনের অচলবস্থার কারণে কেবল ঢাকাই নয়, মশার উপদ্রব বেড়েছে গোটা দেশেই। যে তিন কারণে মশা বেড়েছে শীতের বিদায় আর বসন্তের আগমনে প্রকৃতিতে যখন পরিবর্তনের হাওয়া, ঠিক তখনই সারাদেশে মশার উপদ্রব ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা শহরেও মশার দাপটে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। বছরের এই সময়ে প্রতি বছরই মশা কিছুটা বাড়ে বলেই মত কিটতত্ত্ববিদের। তবে এবার মশার উপদ্রব অনেকটা বেশি বলেই জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার। এর পেছনে মোটাদাগে তিনটি কারণকে দায়ি করছেন মি. বাশার। তিনি বলছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দেশের স্থানীয় সরকার প্রশাসন পুরোপুরি ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল, মাঠপর্যায়ে প্রশাসন ছিল না বললেই চলে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অচলবস্থার কারণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজগুলো কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ায়, বিশেষ করে জনবহুল সিটি কর্পোরেশন এলাকাগুলোতে মশা অধিক হারে বেড়েছে বলেই মনে করেন তিনি। মি. বাশার বলছেন, "ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, সিটি কর্পোরেশনের মতো স্থানীয় সরকার প্রশাসনের যে অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলো ছিল পুরো কাঠামোটাই ভেঙে পড়েছে।" দ্বিতীয়ত, বর্জ ব্যবস্থাপনা ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমসহ সব ধরণের তৎপরতার গতি কমে যাওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না থাকায় ড্রেন, ডোবা, নর্দমার পানি আটকে কিউলেক্স মশার বংশবৃদ্ধির জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেও মনে করেন মি. বাশার। "বৃষ্টি না হওয়ায় ড্রেন, ডোবা, নর্দমার জমে থাকা পানি স্থির থেকেছে, সেই পানি পরিষ্কার না করার দীর্ঘদিন ধরে পঁচেছে। এখন বসন্তের আগমনে কিছুটা তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় গরমে মশার বংশবৃদ্ধির উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে।" শুষ্ক সময়ে জমে থাকা পানি যদি সিটি কর্পোরেশন বা স্থানীয় প্রশাসন পরিষ্কারের ব্যবস্থা নিত তাহলে পানি পঁচতো না। মশার প্রজননের সুযোগও কমে যেত। তবে "এখন যে মশাটা আছে তার ৯২ ভাগই কিউলেক্স মশা। এই মশার বংশবৃদ্ধি হয় ড্রেন, ডোবা, নর্দমার পঁচা পানিতে," বলেন তিনি। তৃতীয় কারণ হিসেবে মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়াকে দায়ি করছেন এই কীটতত্ত্ববিদ। তার মতে, কেবল গত আঠারো মাসে নয়, বাংলাদেশে মশার বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বাংলাদেশে সাধারণত মশা নিয়ন্ত্রণে যে ফগিং বা ধোঁয়ার ব্যবহার করা হয় সেটি কার্যকর কোনো সমাধান নয় বলেই মনে করেন মি. বাশার। তিনি বলছেন, এর মাধ্যমে নাগরিকদের কেবল খুশি করার চেষ্টা করা হয়। "ছোট বাচ্চাদের চকলেট দিয়ে যেমন খুশি করার চেষ্টা করা হয় ঠিক একইভাবে নাগরিকদের খুশি করার পদক্ষেপ হচ্ছে ফগিং," বলেন তিনি। উন্নত বিশ্বের উদাহরণ টেনে কবিরুল বাশার বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি থাকায় পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশেই, মশা নিয়ন্ত্রণে ধোঁয়া ব্যবহার এখন আর অনুমোদিত নয়। ডেঙ্গু নিয়ে শঙ্কা বাংলাদেশে সাধারণত বর্ষা মৌসুম অর্থাৎ জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকে। কারণ এই সময়ে গরম ও বৃষ্টির কারণে জমে থাকা পানিতে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার বংশবৃদ্ধি দ্রুত হয়। যদিও ডেঙ্গু এখন আর নির্দিষ্ট কোনো মৌসুমে সীমাবদ্ধ নেই। বছরের যেকোন সময়ই ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে বলেই মনে করেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। সারাদেশে মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকারে বাড়লেও ডেঙ্গু আক্রান্তের হার এখনও আশঙ্কাজনক নয় বলেই মনে করেন জনস্বাস্থ্যবিদ এবং কীটতত্ত্ববিদরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে, মশার বর্তমান আধিপত্য এখনই নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলছেন, মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে যেমন পদক্ষেপ জরুরি তেমনি সাধারণ মানুষের সচেতনতাও প্রয়োজন। বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, "ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো দরকার। আমাদেরকে অবশ্যই আগেভাগে প্রস্তুতি রাখতে হবে, এপ্রিলে বৃষ্টি শুরু হলে এডিস মশা আমাদের চিন্তার কারণ হতে পারে।" ডেঙ্গুর শঙ্কা কিছুটা কম থাকলেও কিউলেক্স মশাবাহিত রোগ এই সময় হতে পারে বলে মনে করেন কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার। তিনি বলছেন, "যখনই বৃষ্টি শুরু হবে তখন কিউলেক্স মশা মরবে আর এডিস মশা বাড়বে। কারণ বৃষ্টির পানি বিভিন্ন পাত্রে জমা হয়ে এডিস মশার প্রজননের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করবে।" এ কারণেই বৃষ্টি শুরুর আগে এডিস মশার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করার পরামর্শ তার। এক্ষেত্রে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন মি. বাশার। তিনি বলছেন, "ছোট বড় পড়ে থাকা পাত্র ধ্বংস করতে হবে। এপ্রিলে বৃষ্টি শুরুর আগেই এগুলো করতে হবে যাতে বৃষ্টি শুরু হলেই পানি জমে থাকতে না পারে।" মশা নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? মশার উপদ্রব এবং মশাবাহিত রোগ নিয়ে নানা আলোচনা হলেও এর যেন কোনো সমাধান নেই। প্রতি বছরই অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয় ছোট্ট এই জীবের কামড়ে। সম্প্রতি মশার উপদ্রব যে মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে সেটি নিয়ন্ত্রণে ড্রেন, ডোবা, নর্দমার মতো যেসব জায়গায় পঁচা পানি জমে থাকার সুযোগ রয়েছে, সেগুলো পরিষ্কার করাই সব থেকে কার্যকর উপায় বলে মনে করেন কীটতত্ত্ববিদ এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলছেন, পরিষ্কার করার পর এই জায়গাগুলোতে কীট নিয়ন্ত্রণের ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। যাতে মশার প্রজননস্থলগুলোই ধ্বংস হয়। "মশার উৎপত্তিস্থল যদি আমরা নষ্ট করতে পারি, তাহলে উড়ন্ত মশা পরবর্তীতে আর আসবেই না। আর মশার জন্মস্থান নষ্ট করে মশা নিয়ন্ত্রণ যত সহজ, উড়ন্ত মশা নিয়ন্ত্রণ করা তো অতটা সহজ না," বলেন তিনি। মশা নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার? সম্প্রতি মশার উপদ্রব অনেক বেশি বেড়ে যাওয়ায় এই প্রশ্নটি ঘুরেফিরেই আসছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর কয়েকটি সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ করলেও মাঠ পর্যায়ে স্থানীয় সরকারের কার্যক্রম বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এখনও তেমন কার্যকর করতে পারেনি। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া মো. শফিকুল ইসলাম খান বলছেন, সিটি কর্পোরেশনে সব কিছুতেই অব্যবস্থাপনা রয়েছে। "আমি দায়িত্ব নিয়েছি কয়েক দিন হলো। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি, আশা করছি মশা নিয়ন্ত্রণে আগামী সপ্তাহ থেকেই মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করবো আমরা," বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি। মশা নিধনে 'জিরো টলারেন্স' এর কথা বলেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বা ডিএসসিসি এর প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। তিনি জানান, মশক নিয়ন্ত্রণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করতে স্বাস্থ্য বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। "মশা নিয়ন্ত্রণে ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলে পর্যায়ক্রমে ১০ দিনের বিশেষ 'ক্র্যাশ প্রোগ্রাম' শুরু করা হবে," বলেও জানান মি. সালাম।
দেশের পরিবহন খাতে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি টাকা চাঁদাবাজি হচ্ছে। রাজধানীসহ সারা দেশে বাস, ট্রাক, সিএনজি, ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং অন্যান্য যানবাহন থেকে নানা নামে এই অর্থ আদায় করা হয়। চাঁদাবাজির পেছনে মালিক-শ্রমিক সংগঠন, রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসাধু সদস্যদের সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এই অর্থের বেশিরভাগই ভয়ভীতি দেখিয়ে আদায় করা হয়। কোথাও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা, পার্কিং বা পৌর টোলের নামে জোরপূর্বক টাকা নেওয়া হয়। অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কিছু সদস্যও এই চাঁদার অংশ গ্রহণ করে। ফলে পরিবহন চালক ও মালিকরা বছরের পর বছর এসব চাঁদা পরিশোধ করতে বাধ্য হন। চাঁদাবাজির ফলে পরিবহন ভাড়া বাড়ছে, পণ্যমূল্যও আকাশছোঁয়া হয়ে যাচ্ছে। সমঝোতা সিস্টেমের নামে এই অতিরিক্ত অর্থের বোঝা পড়ে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারের বদল হলেও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের চাঁদাবাজি বন্ধ হচ্ছে না। টিআইবি-এর ২০২৪ সালের ৫ মার্চের গবেষণা অনুযায়ী, দেশে ব্যক্তিমালিকানাধীন বাস ও মিনিবাস থেকে বছরে ১ হাজার ৫৯ কোটি টাকা চাঁদাবাজি হয়। এর ভাগ পান রাজনৈতিক নেতা, ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশ, বিআরটিএ কর্মকর্তা-কর্মচারী, মালিক-শ্রমিক সংগঠন এবং পৌর/সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি। গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশের বৃহৎ বাস কোম্পানির প্রায় ৯২ শতাংশ পরিচালনায় রাজনীতিবিদরা জড়িত, যার ৮০ শতাংশই ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত। যাত্রীকল্যাণ সমিতি জানিয়েছে, ঢাকা শহরে সিটি বাস থেকে দৈনিক ৬৪ লাখ টাকা, সিএনজি অটোরিকশা থেকে ২৭ লাখ টাকা, চট্টগ্রাম থেকে ১২ লাখ টাকা, এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকে দৈনিক প্রায় ৫৫ কোটি টাকা চাঁদা আদায় হয়। সবচেয়ে বেশি চাঁদা আদায় করা হয় ট্রাক থেকে; দেশজুড়ে দৈনিক ৪ লাখ ট্রাক থেকে প্রায় ৪০ কোটি টাকা নেওয়া হয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন, সমঝোতা চুক্তির ভিত্তিতে কিছু টাকা মালিকরা স্বেচ্ছায় প্রদান করছেন যা ব্যবস্থাপনা খরচ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। তবে তার বাইরেও সড়কে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় হচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজি মো. দেলোয়ার হোসেন মিঞা দাবি করেন, মহাসড়কে চাঁদাবাজি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবু কিছু টার্মিনালকেন্দ্রিক অভিযোগ তাদের নজরে এসেছে। পরিবহন খাতের চাঁদাবাজি বন্ধে ডিজিটাল ভাড়া পরিশোধ এবং ক্যামেরার মাধ্যমে মামলা করার ব্যবস্থা জরুরি বলে মনে করেন যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, সরকারের উচিত নিরপেক্ষভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত সত্য প্রকাশ করা এবং প্রমাণ মিললে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ডের নেতারা জানান, চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে জনপ্রতিনিধিদের আসনও স্থায়ী হবে না। মালিক ও চালকরা বিভিন্ন জেলায় পণ্য আনা-নেওয়ার সময় অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় পৌরসভার বা অন্যান্য সংস্থার নামে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। পরিবহন খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চাঁদাবাজি বন্ধ ও স্বচ্ছ হিসাব প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় ভাড়া বৃদ্ধি, পণ্যমূল্য ঊর্ধ্বগতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব অব্যাহত থাকবে।