ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : খেলাধুলার মাধ্যমে স্থানীয় তরুণদের মাঠমুখী করা এবং মাদক থেকে দূরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজন করা হয়েছিল একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট। কিন্তু সেই আয়োজনকে ঘিরেই এবার চাঁদা দাবি, টুর্নামেন্টের ব্যানার-পোস্টার ছিঁড়ে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া, আয়োজকের ওপর হামলা এবং নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার আউয়ার হাইস্কুল মাঠ এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনার পর We Are Helpful ফুটবল টুর্নামেন্টের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। সংগঠনটির সভাপতি মোঃ সজিব হোসাইনের অভিযোগ, তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। তিনি সেই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর টুর্নামেন্টের আয়োজন বাধাগ্রস্ত করা হয়। পরে খেলা শেষে তার ওপর হামলা চালিয়ে পকেটে থাকা ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। ঘটনাটি ঘটে সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ We Are Helpful-এর সভাপতি মোঃ সজিব হোসাইন বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আরও আগ্রহী করে তোলা এবং মাঠমুখী করার লক্ষ্য থেকেই স্থানীয় পর্যায়ে এই আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে তরুণদের খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে উৎসাহ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের খেলাধুলাবান্ধব আহ্বান থেকেও স্থানীয় যুবসমাজকে মাঠে ফিরিয়ে আনার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন আয়োজকরা। We Are Helpful একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। সংগঠনের সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনায় গত ৩১ জুলাই আউয়ার হাইস্কুল মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু হয়। প্রথমে টুর্নামেন্টটির নাম ছিল “We Are Helpful ফুটবল টুর্নামেন্ট”। পরে এর নাম পরিবর্তন করে “আরাফাত রহমান ফুটবল টুর্নামেন্ট” রাখা হয়। আয়োজকদের দাবি, এই টুর্নামেন্টের মূল উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা এবং তাদের মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি করা। ‘৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি’ সজিব হোসাইনের অভিযোগ, টুর্নামেন্ট পরিচালনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মাইনুল, জিয়া, কবির, সোহাগ, হৃদয়সহ আরও কয়েকজন তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। তবে তিনি সেই অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী টুর্নামেন্ট পরিচালনা অব্যাহত রাখেন বলে জানান। তার অভিযোগ অনুযায়ী, ১০ আগস্ট বিকেলে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু হওয়ার আগে মাইনুলের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি মাঠে আসেন এবং পূর্বে দাবিকৃত ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। সজিব হোসাইনের ভাষ্য, তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে টুর্নামেন্টের ব্যানার ও পোস্টার ছিঁড়ে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে উপস্থিত লোকজনের সামনে আয়োজক কমিটির সদস্যদের গালিগালাজ করা এবং খেলা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। খেলা শেষে হামলার অভিযোগ ঘটনার পর ওই দিনের খেলা শেষ হলে খেলার বিভিন্ন খরচের বিল পরিশোধের জন্য সজিব হোসাইন মাঠের পাশে মনিরের দোকানে যান বলে জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দোকানে অবস্থান করার সময় একটি ফোন কলের মাধ্যমে তার অবস্থান জানতে চাওয়া হয়। তিনি স্বাভাবিকভাবেই নিজের অবস্থানের কথা জানান। এর প্রায় পাঁচ মিনিট পর সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে একদল লোক দোকানের সামনে এসে তাকে মারধর শুরু করে বলে অভিযোগ করেন সজিব হোসাইন। তার অভিযোগ, হামলাকারীরা গালিগালাজ করতে করতে তাকে টেনে-হিঁচড়ে আউয়ার হাইস্কুল মাঠের দিকে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন। সজিব হোসাইনের ভাষ্য, জীবন বাঁচাতে তিনি চিৎকার শুরু করলে এবং একসময় মাটিতে পড়ে গেলে তার পকেটে থাকা নগদ ৩৫ হাজার টাকা জোরপূর্বক নিয়ে নেওয়া হয়। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে তিনি জানান। ‘থানায় গেলে প্রাণনাশের হুমকি’ হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সজিব হোসাইন। তার ভাষ্য, ঘটনা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে কিংবা থানায় অভিযোগ করলে তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তার দাবি, অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না এবং নিজ এলাকায় অবস্থান করাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তদন্ত ও নিরাপত্তার দাবি We Are Helpful-এর সভাপতি মোঃ সজিব হোসাইন বলেন, “আমি যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে এবং খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছি। আমার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। চাঁদা না দেওয়ায় আমার ওপর হামলা ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই এবং আমার ও আমার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।” তবে এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও এ ঘটনায় কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আয়োজক ও স্থানীয়রা। এরই মধ্যে পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ফুটবল টুর্নামেন্টটি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নওমালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন, প্রভাব বিস্তার এবং শিক্ষা বোর্ডে তদবিরের অভিযোগ উঠেছে ইকবাল হোসেন তালুকদারের বিরুদ্ধে। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি ও অভিযোগসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকা ইকবাল হোসেন তালুকদার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান। এরপর তিনি স্থানীয়ভাবে দলটির কর্মী ও নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ৫ আগস্টের পর বদলে যায় রাজনৈতিক অবস্থান? স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও মিছিল-মিটিংয়ে ইকবাল হোসেন তালুকদারের উপস্থিতি ছিল দৃশ্যমান। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি জামায়াত নেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে দলটির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা বাড়ান। পরবর্তীতে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বাউফল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ইকবাল হোসেন তালুকদার স্থানীয় পর্যায়ে নিজের প্রভাব আরও বিস্তারের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করলেও পরবর্তীতে তিনি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করেন। এবার নওমালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি পদ নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে নওমালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি পদকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে যে নামের প্রস্তাব পাঠিয়েছেন, সেখানে ইকবাল হোসেন তালুকদারের নাম দ্বিতীয় স্থানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একাধিক সূত্রের দাবি, সভাপতি পদটি নিশ্চিত করতে তিনি প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ ও তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রধান শিক্ষককে ঘিরেও প্রশ্ন অনুসন্ধানে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কে এম নাসির উদ্দিন সবুজ খানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, প্রধান শিক্ষক সবুজ খানের সঙ্গে ইকবাল হোসেন তালুকদারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং সেই সম্পর্কের সূত্র ধরেই তাকে এডহক কমিটির সভাপতি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদার পরিবারের সঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ইকবাল হোসেন তালুকদারের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এই যোগাযোগ ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে শিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীর ন্যায়বিচারের দাবি এডহক কমিটির সভাপতি পদে ইকবাল হোসেন তালুকদারের নাম প্রস্তাবের পর বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ইয়াকুব শরীফ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম। তিনি বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচন কি যোগ্যতা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ বিবেচনায় হবে, নাকি রাজনৈতিক প্রভাব ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে? এ প্রশ্নের উত্তর এখন নির্ভর করছে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর। স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক পরিসরে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তাদের বক্তব্য, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে ব্যক্তির রাজনৈতিক অবস্থান বদল এবং পরবর্তীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসার চেষ্টা—পুরো বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ইমাম ও মুয়াজ্জিন নিয়োগের জন্য পৃথক সরকারি পদ ও বরাদ্দ থাকার অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু সেই পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মুসল্লিরা। তাদের অভিযোগ, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের জন্য বরাদ্দ থাকা ইমাম-মুয়াজ্জিনের পদ ২০১৯ সাল থেকে এবং হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ থাকা পদ ২০২৩ সাল থেকে কার্যত শূন্য। নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিনেও সম্পন্ন না হওয়ায় বর্তমানে মসজিদের দায়িত্ব পালনকারীরা সীমিত পারিশ্রমিকে কাজ করছেন। এতে তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, মসজিদ কমিটির সভাপতি ও শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আনোয়ার হোসেন বাবলু বলছেন, সরকারি ছাড়পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়া এখনও চলমান। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলেই নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে প্রশ্ন উঠছে—পদ শূন্য থাকার এত বছর পরও কেন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়নি? আর সরকারি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকারীদের জীবনযাত্রা ও প্রাপ্য আর্থিক সহায়তার দায়ই বা কার? প্রতিষ্ঠার চার দশক পরও নিয়োগ সংকট মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এলাকায় মুসলমানদের নামাজ ও ইবাদত-বন্দেগির সুবিধার্থে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটি নির্মাণ করেন। বর্তমানে দেশের অন্যতম বড় এই চিকিৎসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, রোগী এবং তাদের স্বজনসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ নিয়মিত মসজিদটিতে নামাজ আদায় করেন। এত বড় একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক মসজিদে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালনের জন্য পৃথকভাবে পদ বরাদ্দ থাকার কথা জানালেও দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত নিয়োগ না হওয়ায় স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাদের ভাষ্য, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ এবং শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য পৃথকভাবে একজন করে ইমাম ও একজন করে মুয়াজ্জিনের পদ বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু পদ থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর তা শূন্য থাকছে। ২০১৯ ও ২০২৩: দুই সময়সীমা, এক প্রশ্ন মুসল্লিদের অভিযোগ অনুযায়ী, কলেজের জন্য বরাদ্দ থাকা ইমাম-মুয়াজ্জিনের পদ ২০১৯ সাল থেকে এবং হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ থাকা পদ ২০২৩ সাল থেকে শূন্য রয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া কেন শেষ করা সম্ভব হয়নি—সেটিই এখন প্রধান প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। মসজিদ পরিচালনার জন্য একটি কমিটি থাকলেও ইমাম-মুয়াজ্জিন নিয়োগ ও তাদের বেতন-ভাতার বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা দৃশ্যমান নয় বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন নিয়মিত মুসল্লি। পদাধিকারবলে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মসজিদ কমিটির সভাপতি হওয়ায় নিয়োগসংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতায় সমস্যাটি আরও জটিল হয়েছে বলে মনে করছেন তারা। তবে অভিযোগের জবাবে অধ্যক্ষ ডা. আনোয়ার হোসেন বাবলু বলেন, “ইমাম-মুয়াজ্জিন নিয়োগের সরকারি ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সেটি সম্পন্ন হলেই নিয়োগ দেওয়া হবে।” সাড়ে ৬ হাজার টাকায় সংসার সরকারি নিয়োগ ও নিয়মিত বেতন-ভাতার বাইরে থেকে দীর্ঘদিন ধরে মসজিদের খেদমত করে আসা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আর্থিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুসল্লিরা। তাদের অভিযোগ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে সীমিত পারিশ্রমিকে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবনযাপন করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। মুসল্লিদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাবেক অধ্যক্ষ ডা. ফায়জুল বাশারের সময়ে কলেজ অফিস থেকে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য মাসিক সাড়ে ৬ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হতো। এর পাশাপাশি মসজিদে মুসল্লিদের দেওয়া দানের অর্থ থেকেও তাদের সহযোগিতা করা হতো বলে তারা দাবি করেন। বর্তমানে কলেজের পক্ষ থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা করে দেওয়া হলেও মসজিদের দানের অর্থ ইমাম-মুয়াজ্জিনদের দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ অবশ্য সরাসরি অস্বীকার করেছেন মসজিদ কমিটির সভাপতি ডা. আনোয়ার হোসেন বাবলু। তিনি বলেন, “কলেজের ফান্ডে সমস্যা থাকায় ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন দিতে সমস্যা হচ্ছে। আর মুসল্লিদের দানের টাকা আমরা নিয়ে যাই—এমন তথ্য সঠিক নয়।” দানের অর্থ কোথায় ব্যয় হয়? মুসল্লিদের একটি অংশের অভিযোগ, মসজিদের দানের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। তাদের মতে, মসজিদে নিয়মিত দান সংগ্রহ হলেও সেই অর্থের আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য সাধারণ মুসল্লিদের সামনে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয় কি না, সে প্রশ্ন রয়েছে। যদিও মসজিদ কমিটির সভাপতি দানের অর্থ আত্মসাৎ বা অন্যত্র নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে নিয়মিত মুসল্লিদের দাবি, ভুল বোঝাবুঝি ও বিতর্ক এড়াতে মসজিদের দানের অর্থের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা উচিত। নিয়োগের অপেক্ষায় আর কতদিন? দীর্ঘদিন ধরে পদ শূন্য থাকা এবং সরকারি ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া চলমান থাকার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এখন মূল প্রশ্ন হলো—নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে কি না। মুসল্লিরা বলছেন, বছরের পর বছর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা সমাধান হতে পারে না। তাদের দাবি, দ্রুত সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ইমাম ও মুয়াজ্জিন নিয়োগ দিতে হবে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসা ব্যক্তিদের প্রাপ্য ও ন্যায্য বেতন-ভাতা নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিনের হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন এলাকাবাসী ও মুসল্লিরা। প্রশ্নগুলো এখনো রয়ে গেছে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মতো বৃহৎ সরকারি প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় মসজিদে পদ থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর কেন ইমাম-মুয়াজ্জিন নিয়োগ হয়নি? সরকারি ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া কবে শুরু হয়েছে এবং কবে শেষ হবে? মসজিদের দানের অর্থ কীভাবে পরিচালিত ও ব্যয় হচ্ছে? আর সরকারি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ন্যায্য আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে? মসজিদ কমিটির সভাপতি অবশ্য জানিয়েছেন, সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই নিয়োগ দেওয়া হবে। এখন মুসল্লিদের অপেক্ষা—সেই প্রক্রিয়ার বাস্তব সমাপ্তি কবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালীর সদর উপজেলায় দুটি পোষা কুকুরকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে কাঠের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। বৃহস্পতিবার পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতের বিচারক মো. আবু বকর এ রায় দেন। কী ঘটেছিল আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ জুলাই বেলা ১১টার দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাদুরা খেজুরতলা স্ট্যান্ড এলাকায় দুটি পোষা কুকুরকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে কাঠের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পটুয়াখালী সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার নজরে আসে। পরে এ ঘটনায় সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতিউর রহমান বাদী হয়ে মামলা করেন। যে আইনে মামলা মামলাটি করা হয় প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯-এর ৭(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪২৮ ধারায়। মামলায় দক্ষিণ বাদুরা গ্রামের মঞ্জু হাওলাদার (৫০) ও জহির হাওলাদারকে (৪৫) আসামি করা হয়। আদালতের রায়ে দুই আসামির প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আদালতের রায়ে কী বলা হয়েছে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইমরান বলেন, প্রাণিকল্যাণ আইনে এ অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যে শাস্তির বিধান রয়েছে, আদালত সেটিই দিয়েছেন। তার মতে, প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার ঘটনায় আদালতের এই রায় সমাজে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধেও রায়টি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। কেন ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ পটুয়াখালীর এ ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে। পরে সরকারি প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার উদ্যোগে মামলা এবং আদালতের রায়ের মাধ্যমে বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ায় যায়। প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার অভিযোগে করা মামলায় আদালতের এ ধরনের রায় প্রাণিকল্যাণ আইন বাস্তবায়নের বিষয়টিকেও সামনে নিয়ে এসেছে। তবে এ ঘটনায় আদালতের রায় ও মামলার নথিতে থাকা তথ্যই প্রতিবেদনের মূল ভিত্তি। দুই আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বিবেচ্য।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের স্বাক্ষর ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের অফিসিয়াল লেটারহেড জাল করে নিজের বদলি ঠেকানো এবং ঢাকায় কাঙ্ক্ষিত পদায়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে—এমন অভিযোগে বরগুনা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওন মজুমদার সুমনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা মামলাটি করেছেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ উপবিভাগ-১-এর পরিচালক মো. মনির হোসেন। মামলায় শাওন মজুমদারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ কী? মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্ত কর্মকর্তা ডেপুটি স্পিকারের জাল স্বাক্ষর এবং সংসদ সচিবালয়ের অফিসিয়াল লেটারহেড ব্যবহার করে একটি ভুয়া আধা-সরকারি (ডিও) চিঠি প্রস্তুত করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই ভুয়া চিঠির মাধ্যমে তাঁর বদলির আদেশ পরিবর্তনের সুপারিশ দেখিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়। নথিপত্রে দেখা যায়, শাওন মজুমদারকে বরগুনা সদর থেকে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু জাল করা ডিও লেটারে সেই বদলির আদেশ বাতিল করে তাঁকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে পদায়নের অনুরোধ জানানো হয়। কীভাবে ধরা পড়ে? সংসদ সচিবালয়ে চিঠিটি যাচাইয়ের সময় অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়, এমন কোনো চিঠি সংসদ সচিবালয় থেকে কখনোই ইস্যু করা হয়নি। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ভুয়া চিঠিতে ব্যবহৃত ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর, ভাষার ধরন, নথির বিন্যাস এবং নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংসদ সচিবালয়ের সংরক্ষিত মূল নথির সঙ্গে মিলেনি। মামলার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি পদায়ন প্রক্রিয়াকে প্রতারণামূলকভাবে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যেই জাল নথিটি তৈরি ও ব্যবহার করা হয়েছে। তদন্তে যে আশঙ্কা মামলার বাদী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই ঘটনার পেছনে একটি সুসংগঠিত জালিয়াত চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। এ কারণে তদন্তে শুধু অভিযুক্ত কর্মকর্তার ভূমিকা নয়, বরং পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এজাহারে তদন্তকারী সংস্থার কাছে যেসব পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে— অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও ই-মেইলের ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা; ভুয়া নথির প্রিন্ট বা মুদ্রণের উৎস শনাক্ত করা; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগের তথ্য ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ; জালিয়াতির সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা চক্র জড়িত কি না, তা অনুসন্ধান। যেসব ধারায় মামলা মামলাটি দণ্ডবিধির জালিয়াতি, জাল নথি আসল হিসেবে ব্যবহার, প্রতারণা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রসংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট ধারায় রুজু করা হয়েছে। মামলার সঙ্গে প্রমাণ হিসেবে ভুয়া ডিও চিঠির অনুলিপি, সংসদ সচিবালয়ের প্রকৃত অফিসিয়াল লেটারহেডের নমুনা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথিও জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্তের সামনে যেসব প্রশ্ন এই ঘটনাকে ঘিরে এখন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— ভুয়া ডিও লেটারটি কোথায় এবং কার সহায়তায় প্রস্তুত করা হয়েছিল? সংসদ সচিবালয়ের অফিসিয়াল লেটারহেডের নমুনা কীভাবে সংগ্রহ করা হয়? এটি কি একক কোনো উদ্যোগ, নাকি বৃহত্তর জালিয়াত চক্রের অংশ? সরকারি বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার আরও কোনো চেষ্টা হয়েছে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে। তবে মামলার অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং অভিযুক্তের বক্তব্যও প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। তদন্তের ফলাফলের ওপরই পরবর্তী আইনি অবস্থান নির্ভর করবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল নগরীতে সরকারি খাসজমির ওপর থাকা প্রায় ১০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি পুকুর বালু ফেলে ভরাট করে প্লট আকারে বিক্রির প্রস্তুতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬৯ শতাংশ আয়তনের জলাশয়টির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ইতোমধ্যে ভরাট করা হয়েছে। তবে যাঁরা ভরাটের কাজ করছেন, তাঁদের দাবি—ওয়ারিশ সূত্রে জমিটির মালিকানা পাওয়া গেছে এবং বৈধ পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ভিত্তিতেই উন্নয়নকাজ চলছে। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ভূমি প্রশাসনের দাবি, এটি সরকারি খাসজমি। হাসপাতালের পাশের জলাশয় নগরীর মুন্সীবাড়ি এলাকায় বীণাপাণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে উত্তরমুখী সড়কের পাশে অবস্থিত পুকুরটি বরিশাল বক্ষব্যাধি হাসপাতাল এবং উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতালের ঠিক পাশেই অবস্থিত। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, পুকুরসহ আশপাশের জমি সরকারের মালিকানাধীন। পুকুরটি দখল ও ভরাট বন্ধে কাউনিয়া থানা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কারা করছেন ভরাট? স্থানীয় সূত্রের দাবি, শহরের বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম লিয়ন, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব বাবুল তালুকদার, স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলমগীর ও রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এ কাজে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতারও পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে। তবে মহানগর বিএনপি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রাকিবুল ইসলাম লিয়ন বলেন, "ওয়ারিশ সূত্রে ওই জমির মালিক হেলাল আকন ও তাঁর বোন। আমরা চারজন পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিয়ে জায়গাটি ভরাট করছি। পরে প্লট আকারে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে।" তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সরকারি মালিকানার দাবিও প্রত্যাখ্যান করেন। পুকুর ভরাটের ঠিকাদার মো. জুয়েল জানান, সাত লাখ টাকার চুক্তিতে তিনি বালু ফেলে ভরাটের কাজ করছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য: "এটি সবসময় হাসপাতালের পুকুর হিসেবেই পরিচিত" এলাকার প্রবীণ বাসিন্দাদের দাবি, বহু দশক ধরেই জলাশয়টি বক্ষব্যাধি হাসপাতালের পুকুর হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান বলেন, "৫০ বছরের বেশি সময় ধরে আমরা জানি, এটি বক্ষব্যাধি হাসপাতালের পুকুর। কয়েক দিন আগে শুনলাম কেউ নাকি এটি কিনে ফেলেছে।" হাসপাতালের নথিতে কী আছে? হাসপাতালের অফিস সহকারীর দায়িত্বে থাকা ফার্মাসিস্ট আনোয়ারা বেগম বলেন, হাসপাতালের মোট সাত একর ৪১ শতাংশ জমির পর্চা রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী— দাগ নম্বর ১০৬৯ ভিটা, ১০৭০ ও ১০৭১ পুকুর হিসেবে রেকর্ডভুক্ত। এসব জমির মালিক হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে কালেক্টরের নাম উল্লেখ রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, "কাউনিয়া থানা ও এসিল্যান্ড অফিসে বহুবার গিয়েছি। কিন্তু জমি রক্ষায় কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।" "রাতের আঁধারে চলছে ভরাট" হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মাসুমা আক্তার বলেন, হাসপাতালের পুরোনো কর্মচারীরা সবাই জানেন এটি সরকারি সম্পত্তি। তাঁর দাবি, ১৯ জুলাই কাউনিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন ও এসিল্যান্ডকেও জানানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেড়া দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে দখলকারীরাই সেখানে বেড়া দিয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলেও ভরাট বন্ধ হয়নি। বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা স্থানীয়দের হিসাবে, হাসপাতালসংলগ্ন ৬৯ শতাংশ আয়তনের এই পুকুরটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। বক্ষব্যাধি হাসপাতাল ভবনের পেছনে অবস্থান করায় মূল সড়ক থেকে জলাশয়টির বড় অংশ দেখা যায় না। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অবস্থানকেই কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ধাপে ধাপে ভরাট চলছে। বিএনপির প্রতিক্রিয়া মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক বলেন, "এ ঘটনায় বিএনপির কোনো নেতা জড়িত নন। কাগজপত্রে জালিয়াতি হয়েছে কিনা, সেটি ভূমি অফিস তদন্ত করবে।" ভূমি প্রশাসন কী বলছে? সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজহারুল ইসলাম বলেন, পুকুরটি খাস খতিয়ানের জমি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫ বছর আগে জরিপে বিএস রেকর্ডে এটি ব্যক্তি মালিকানার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। তিনি বলেন, "আমার ধারণা, এখানে বড় ধরনের অনিয়ম বা লেনদেন হয়েছে। একটি চক্র পুকুরটি দখল করেছে। কীভাবে খাসজমি ব্যক্তি মালিকানায় গেল, সেটি চ্যালেঞ্জ করে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হবে।" সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের বক্তব্য বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, "প্রশাসনের উদাসীনতা রয়েছে। মামলা করে জমি উদ্ধার করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। তবে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় আমার যা করণীয়, তা করব।" জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তিনি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এখন যে প্রশ্নগুলো সামনে ঘটনাটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে— সরকারি খাসজমি ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড হলো কীভাবে? ওয়ারিশ ও পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ভিত্তি কতটা বৈধ? প্রশাসনের কাছে অভিযোগ যাওয়ার পরও ভরাট কেন বন্ধ হয়নি? ভূমি রেকর্ডে কোনো জালিয়াতি বা অনিয়ম ঘটেছে কি না? সরকারি সম্পত্তি দখলের পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে ভূমি প্রশাসনের তদন্ত এবং সম্ভাব্য ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের মামলার মাধ্যমে। এদিকে স্থানীয়দের দাবি, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই পুকুর ভরাট বন্ধ করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি দখলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল সদর উপজেলার মৃতপ্রায় লাকুটিয়া খালসহ দুটি খাল পুনঃখননের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দ পাওয়া প্রায় ২ কোটি ৫৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৪ টাকা শেষ পর্যন্ত ব্যয় না করে সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের সময়, প্রশাসনের ভূমিকা এবং তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করার পরের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা, কৃষক ও সচেতন মহলের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা ও কৃষি সংকটে ভোগা এলাকায় প্রয়োজনীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় উন্নয়নের একটি বড় সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। তথ্য চাওয়ার পর কী ঘটেছিল? সাংবাদিক মোহাম্মদ আবুবকর সিদ্দীক ভূঁইয়া জানান, তিনি ৭ জুন ২০২৬ তথ্য অধিকার আইনের আওতায় প্রকল্প-সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে আবেদন করেন। তার দাবি, আবেদন করার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তথ্য দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করে। পরে কোনো তথ্য সরবরাহ না করেই গত সপ্তাহে প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়। তিনি বলেন, "আমি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার সাত দিন পর তথ্য চেয়েছিলাম। যদি আগে থেকেই টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকত, তাহলে সেটি আগে নেওয়া যেত। কিন্তু তথ্য চাওয়ার পরই কেন অর্থ ফেরত দেওয়া হলো—এটি অনুসন্ধানের বিষয়।" তার আরও প্রশ্ন, অর্থ ফেরতের পরপরই কেন বরিশাল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছুটিতে গেলেন—এ বিষয়েও জনমনে নানা আলোচনা রয়েছে। কোন প্রকল্পে কত টাকা ফেরত? দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ইজিপিপি (EGPP) প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলার দুটি খাল পুনঃখননের জন্য মোট ২ কোটি ৫৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৪ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে— মরখখোলার পোল থেকে ঝড়ঝড়িয়াতলা বাজার হয়ে মাঝিবাড়ির ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার খাল খননের জন্য বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ২৩২ টাকা। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন না করেই পুরো অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে। চরবাড়িয়া ইউনিয়নের আরেকটি প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ৭৭ লাখ ২৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৬৮ লাখ টাকা ফেরত পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের ক্ষোভ স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে লাকুটিয়া খাল ভরাট হয়ে থাকায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ ও পানির সংকট দেখা দেয়। তাদের মতে, সরকারি বরাদ্দ পাওয়া সত্ত্বেও প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্যসম্পদ উন্নয়নের সুযোগ নষ্ট হয়েছে। তারা আরও প্রশ্ন তুলেছেন, জেলার অন্য উপজেলাগুলোতে খাল খননের কাজ বাস্তবায়িত হলেও সদর উপজেলায় কেন তা সম্ভব হয়নি। "টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি"—পিআইও বরিশাল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মোজাম্মেল হক বলেন, "গত সপ্তাহে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি।" এ কথা বলেই তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বলে প্রতিবেদকের দাবি। ইউএনওর বক্তব্য মেলেনি প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফরিদা সুলতানা বর্তমানে ছুটিতে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিক্রিয়া এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, "এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।" জেলা প্রশাসক কী বললেন? বরিশালের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মামুন খন্দকার জানান, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, "কেন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা গেল না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। লাকুটিয়া ও জেল খাল নিয়ে আমার পরিকল্পনা রয়েছে, যা শিগগিরই জানানো হবে।" যেসব প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি এই ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও কেন কাজ শুরু হয়নি? তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করার পরই কেন বরাদ্দ ফেরতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো? প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনিক বা কারিগরি কোনো জটিলতা ছিল কি? অর্থ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত কখন এবং কার অনুমোদনে নেওয়া হয়? দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কোনো প্রশাসনিক তদন্ত হবে কি? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে স্থানীয়দের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মহলও এখন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার একটি বাড়ির পাশে নির্মাণকাজের জন্য রাখা বালুভর্তি বস্তায় হঠাৎ বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হওয়ার পর স্থানীয়দের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনেও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—বালুর বস্তার ভেতরে বিস্ফোরকটি এলো কীভাবে? সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামে শাহ আলম হাওলাদারের বাড়িতে ঘটে এ ঘটনা। এতে দগ্ধ হন শাহ আলমের স্ত্রী হনুফা বেগম (৫০), মেয়ে ইতি আক্তার (২০) এবং নাতি ফাহিম হাওলাদার (১৪)। প্রথমে তাদের বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখনও নিশ্চিত নন, এটি ককটেল, হাতবোমা নাকি অন্য কোনো বিস্ফোরক ছিল। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ঢাকার বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে তদন্তে যুক্ত করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে কী ঘটেছিল? স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল ৭টার দিকে হনুফা বেগম নাতি ফাহিমকে স্থানীয় বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন মেয়ে ইতি আক্তারও। ঠিক সেই সময় ঘরের পাশে রাখা বালুভর্তি একটি বস্তা থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে আগুন ছড়িয়ে পড়ে তিনজনের শরীরে। প্রাণ বাঁচাতে তারা বাড়ির পাশের তুলাতলা নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং আশপাশের লোকজনের বক্তব্য সংগ্রহ শুরু করে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: বালুর বস্তায় বিস্ফোরক এলো কোথা থেকে? ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, বিস্ফোরকটি কীভাবে নির্মাণকাজের জন্য রাখা বালুর বস্তার ভেতরে গেল। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বিস্ফোরকটি আগে থেকেই বালুর সঙ্গে ছিল অথবা কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে সেখানে লুকিয়ে রেখেছিল। তদন্তকারীরা কয়েকটি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন— নির্মাণকাজে আনা বালুর সঙ্গে পরিত্যক্ত বিস্ফোরক চলে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে কেউ বালুর মধ্যে বিস্ফোরক লুকিয়ে রেখেছিল। ব্যক্তিগত শত্রুতা বা নাশকতার উদ্দেশ্যে কেউ বস্তার মধ্যে বিস্ফোরক রেখে যেতে পারে। এটি দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত ককটেল বা হাতবোমা হতে পারে, যা নড়াচড়ার সময় বিস্ফোরিত হয়েছে। তবে এসবই এখন পর্যন্ত প্রাথমিক অনুমান। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সম্ভাবনাকেই নিশ্চিত বলে বিবেচনা করছে না পুলিশ। পরিবারের দাবি শাহ আলম হাওলাদারের ছেলে জামাল হোসেন বলেন, পরিবারের কেউ জানেন না বালুর বস্তার ভেতরে কীভাবে বিস্ফোরক গেল। তার ভাষায়, সকালে বিস্ফোরণের পর মুহূর্তেই আগুন ধরে যায়। পরিবারের সদস্যরা প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তিনি বলেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসুক—এটাই তাদের প্রত্যাশা। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, আহতদের শরীরের বিভিন্ন অংশ, বিশেষ করে হাত, পা ও মুখ মারাত্মকভাবে ঝলসে গেছে। দুই নারীকে মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনজনকেই ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তদন্তে যেসব সংস্থা ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে যায়— জেলা পুলিশ গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) র্যাব পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আশপাশে থাকা অন্যান্য বালুর বস্তাও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেন বলেছেন, বিস্ফোরকটির ধরন এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। থানার এসআই হাবিবুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে এটি পরিত্যক্ত ককটেল বা হাতবোমা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি এটি কী ধরনের বিস্ফোরক ছিল। বোম ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থল পরীক্ষা করার পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটির পেছনে নাশকতা, ব্যক্তিগত শত্রুতা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কিনা, সেটিও তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যেসব প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি বিস্ফোরকটি আসলে কী ধরনের ছিল? এটি বালুর সঙ্গে এসেছিল, নাকি পরে সেখানে রাখা হয়েছিল? বিস্ফোরকটি কতদিন ধরে সেখানে ছিল? এটি দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত নাশকতা? অন্য বালুর বস্তাগুলোতেও কোনো বিস্ফোরক রয়েছে কি? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর মিলবে বোম ডিসপোজাল ইউনিটের পরীক্ষা, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং পুলিশের তদন্ত শেষে। একটি সাধারণ নির্মাণসামগ্রীর বস্তা থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি তদন্তকারী সংস্থাগুলো। ফলে বিস্ফোরকটির উৎস, উদ্দেশ্য এবং দায়ী ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বরিশাল অফিস : পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) নতুন উপ-উপাচার্য (প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও ওশানোগ্রাফি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম। গত ২৭ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে 'পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১'-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলামকে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চার বছরের জন্য নিয়োগ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, তার নিয়োগের মেয়াদ যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ—যেটি আগে হবে, সেই সময় পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী পদ-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে সার্বক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে। শিক্ষা ও গবেষণায় দীর্ঘ পথচলা বগুড়ার সন্তান অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগ থেকে ২০০২ সালে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক (সম্মান) এবং ২০০৩ সালে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৭ সালে তিনি পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে অধ্যাপক হন। বর্তমানে তিনি ওশানোগ্রাফি অনুষদের ডিন এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলনবিল অঞ্চলের মাটির শ্রেণিবিভাগ নিয়ে গবেষণা সম্পন্ন করে পিএইচডি (ডক্টরেট) ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গবেষণা সাময়িকীতে তার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি চলনবিলের মাটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি গবেষণাগ্রন্থও রচনা করেছেন। সংগঠন ও পেশাজীবী কার্যক্রম অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম ছাত্রজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পেশাজীবী সংগঠনে তিনি ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (ইউট্যাব)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পবিপ্রবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জিয়া পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার রাজনৈতিক ভূমিকা, আন্দোলনে সম্পৃক্ততা, নির্যাতনের অভিযোগ এবং চাকরিচ্যুত হওয়ার বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য হিসেবে বিভিন্ন সময়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বিষয়ে এই প্রতিবেদনে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য অতিরিক্ত তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। দায়িত্ব নিয়ে যা বললেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম বলেন, "আলহামদুলিল্লাহ। এটি আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের এবং একই সঙ্গে বড় দায়িত্বের বিষয়। আমার ওপর অর্পিত এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনের মানোন্নয়নে সকলের সহযোগিতা নিয়ে নিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করতে চাই।"
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার একটি দাখিল মাদ্রাসায় মৃত এক শিক্ষকের ইনডেক্স নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে প্রায় দুই দশক ধরে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর স্থানীয় এক জামায়াত নেতার দিকে, যিনি বর্তমানে একটি সরকারি অনুদানভুক্ত কলেজে কর্মরত। অভিযুক্ত মো. মহিউদ্দিন তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী এবং উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি। অভিযোগ অনুযায়ী, একই নামের সুযোগ নিয়ে তিনি মৃত শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনের সরকারি ইনডেক্স নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে দীর্ঘ ২০ বছর সরকারি অর্থ উত্তোলন করেছেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার সুপার ইতোমধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। অভিযোগে যা বলা হয়েছে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, তজুমদ্দিন উপজেলার মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৯৯৪ সালের ১৩ মার্চ জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান মো. মহিউদ্দিন। তার নামে নির্ধারিত সরকারি ইনডেক্স নম্বর এবং ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে নিয়মিত বেতন-ভাতা প্রদান করা হতো। পরবর্তীতে ওই শিক্ষক মারা গেলে পদটি শূন্য হয়ে যায়। এরপর ২০০৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর একই নামের আরেক ব্যক্তি মো. মহিউদ্দিনকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় দেশে শিক্ষক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু থাকলেও প্রয়োজনীয় নিয়ম অনুসরণ না করে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নতুন করে ইনডেক্স গ্রহণের পরিবর্তে মৃত শিক্ষকের ইনডেক্স নম্বর এবং ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করেই সরকারি বেতন উত্তোলন শুরু হয়। ২০ বছর ধরে সরকারি অর্থ উত্তোলনের দাবি মাদ্রাসা সুপারের অভিযোগ, ২০০৬ সাল থেকে শুরু হওয়া এই অনিয়ম ২০২৬ সাল পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। তার দাবি, ২০২৬ সালের জুন মাসের এমপিও কপিতেও মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব নম্বর বহাল রয়েছে। এর মাধ্যমে এখনও সরকারি অর্থ উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি কেবল প্রশাসনিক অনিয়ম নয়; বরং সরকারি অর্থ আত্মসাতের একটি দীর্ঘমেয়াদি জালিয়াতির ঘটনাও হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। মাদ্রাসা সুপারের বক্তব্য মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. নুরুজ্জামান বলেন, "আমি এখানে যোগদানের পর বিষয়টি আমার নজরে আসে। এরপর মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করি এবং নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন জানাই।" তিনি আরও বলেন, "আমার ধারণা, গত ২০ বছরে সরকারের লাখ লাখ টাকা অনৈতিকভাবে উত্তোলন করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে এবং সরকার প্রয়োজনীয় অর্থও উদ্ধার করতে পারবে।" অভিযুক্ত যা বলছেন অভিযোগ অস্বীকার করে মো. মহিউদ্দিন বলেন, "হিসাব নম্বর এক হলেও ওই অ্যাকাউন্ট থেকে বেতন তোলা হয়নি।" তবে কোন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে তিনি বেতন উত্তোলন করেছেন—এ প্রশ্নের জবাব না দিয়েই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। প্রশাসনের অবস্থান তজুমদ্দিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, "অভিযোগটি তদন্ত করে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সরকারি অর্থ পুনরুদ্ধারসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" তদন্তে যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্তকারীদের সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে— মৃত শিক্ষকের ইনডেক্স নম্বর কীভাবে সক্রিয় অবস্থায় ছিল? একই ব্যাংক হিসাব নম্বর ব্যবহার করে কত বছর সরকারি অর্থ ছাড় হয়েছে? এমপিও ডাটাবেজে তথ্য পরিবর্তন বা যাচাইয়ের দায়িত্বে কারা ছিলেন? শিক্ষক নিবন্ধন চালুর পরও কীভাবে নতুন ইনডেক্স ছাড়া এমপিও অনুমোদন দেওয়া হয়? সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও প্রশাসনের কোনো পর্যায়ে অবহেলা বা যোগসাজশ ছিল কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর মিললেই অভিযোগের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।
বরিশাল অফিস : বরিশালের ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি এলাকায় সাগরদী খালের পাড়ে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীর প্রতি জাতীয় ঐক্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জলাশয় রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। কর্মসূচির উদ্বোধনের আগে তিনি বলেন, “কদিন আগে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে মিলে এ দেশ থেকে স্বৈরাচার হটিয়েছি। এবার আসুন সবাই মিলেমিশে দেশের জন্য কাজ করি।” জাতীয় ঐক্যের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ধর্ম-বর্ণ ও দলমত নির্বিশেষে মানুষ একসঙ্গে লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছিল। একইভাবে সাম্প্রতিক সময়েও সকল শ্রেণি-পেশা ও মতের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। “আমরা সকলে মিলে যদি কাঁধে কাঁধ রেখে দেশের জন্য, মানুষের জন্য ভালো কাজ করি, তাহলে সকলে মিলে উপকৃত হবো।” বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী একটি নারিকেল গাছের চারা রোপণ করেন। পরে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত দায়িত্বের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ রক্ষা কেবল সরকারের বা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়; এটি সকল নাগরিকের যৌথ দায়িত্ব। তিনি সবাইকে নিজ নিজ বাসা-বাড়ি, অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং আশপাশের এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান। “আমরা প্রত্যেকে চেষ্টা করব আমাদের আশেপাশের এলাকা যাতে নষ্ট না হয়, পরিবেশটা যাতে সুন্দর থাকে, ভালো থাকে।” তিনি বলেন, দেশের পরিবেশ পরিষ্কার ও সুস্থ রাখতে ব্যক্তিগত সচেতনতা এবং সামাজিক অংশগ্রহণ জরুরি। সাগরদী খাল রক্ষায় স্থানীয়দের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব সাগরদী খালের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালটির রক্ষণাবেক্ষণ শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়; খালের আশপাশের বাসিন্দাদেরও এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। তিনি খালের পানিতে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, টিস্যু পেপারসহ বিভিন্ন বর্জ্য ফেলার প্রবণতার সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের আচরণ খালের পরিবেশ ও পানির গুণগত মান নষ্ট করে। “খালের মধ্যে আমরা এগুলো ফেলবো না—এই সচেতনতা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে।” সিটি করপোরেশনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, খালের পাশে ময়লা ফেলার বিন থাকলেও জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি খালের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত পাইপ ও সুয়ারেজ সংযোগগুলো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ড্রেনেজ ও সুয়ারেজ ব্যবস্থার বিষয়ে পরামর্শ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাসা-বাড়ির ব্যবহৃত পানি বা সুয়ারেজ লাইন সরাসরি খালের সঙ্গে যুক্ত থাকলে পানি দূষিত হয় এবং পরিবেশের ক্ষতি হয়। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনকে প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার অনুরোধ জানান তিনি। “আমাদের নিজেদের পরিবেশ আমাদের নিজেদেরকে রক্ষা করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, যেমন নিজের ঘর পরিষ্কার না রাখলে তা নোংরা হয়ে যায়, তেমনি পাড়া-মহল্লা ও দেশকে পরিষ্কার না রাখলে তার ভোগান্তিও জনগণকেই পোহাতে হবে। কর্মসূচিতে নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, নৌ প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মাসুদ আহমেদ তালুকদার এবং সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। তারা খালের দুই পাড়ে গাছ রোপণ করেন। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ ও জোহরের নামাজ আদায় করেন।
বরিশাল অফিস : বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংকট মোকাবিলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাঁর এই মন্তব্য সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সরকারের অবস্থানকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে আনে। মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অনুষ্ঠিত এ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী মহড়াস্থল ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। জঙ্গলের ভেতরে অবস্থানরত সদস্যদের কাছে গিয়ে তিনি তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করেন। সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা, আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা দেশের মানুষের মনে তাঁদের প্রতি বিশেষ মর্যাদা তৈরি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই আস্থা ও মর্যাদা ধরে রাখতে পেশাদার প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখা প্রয়োজন। সেনা পরিবারের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি এক সেনা পরিবারে বড় হয়েছেন এবং সেনাসদস্যদের কাছে এলে তাঁর শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে যায়। ব্যক্তিগত এই অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি সেনাবাহিনীর প্রতি নিজের আবেগ ও শ্রদ্ধার কথাও তুলে ধরেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আরও সুনাম, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতি অর্জন করবে। সেনাবাহিনীর সক্ষমতা, আধুনিকায়ন এবং সুনাম বৃদ্ধির জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি ও প্রযুক্তি পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী বিস্তীর্ণ জঙ্গল এলাকায় সেনাসদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা তাঁকে মহড়ার বিভিন্ন দিক এবং কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন। মহড়ায় ব্যবহৃত অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেমের কার্যক্রমও প্রধানমন্ত্রী প্রত্যক্ষ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁকে শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যপদ্ধতি এবং যুদ্ধক্ষেত্রে এর সম্ভাব্য ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দেন। সেনাসদস্যদের সঙ্গে সময় একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদস্যদের সঙ্গে মাটিতে বসে কিছু সময় কাটান। তিনি তাঁদের প্রশিক্ষণ, দায়িত্ব এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন। মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত করা খাবারও তিনি গ্রহণ করেন। সেনাসদস্যদের পরিবেশিত খাবারের মধ্যে ছিল সাদা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছ এবং ডিমের তরকারি। উপস্থিতি ও তাৎপর্য এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এই পরিদর্শনকে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ সক্ষমতা, আধুনিকায়ন এবং জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তাদের ভূমিকার প্রতি সরকারের গুরুত্ব প্রদানের একটি প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
বরিশাল অফিস : বরিশালে এক দিনের ধারাবাহিক কর্মসূচিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলীয় ঐক্য, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি, উন্নয়ন-নীতির পুনর্মূল্যায়ন এবং পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। সোমবার বিকেলে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত বিভাগীয় সাংগঠনিক সভায় তিনি বলেন, দলের ভেতরে মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে তা যেন কোনোভাবেই ঐক্য নষ্ট না করে। “ঐক্য থাকলে ফ্যাসিস্ট বা কোনো গুপ্তচর দলে ঢুকে সুবিধা নিতে পারবে না। ঐক্যে ফাটল ধরলেই তারা সুযোগ নেবে,” — তারেক রহমান। ১৭ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে ঐক্যের আহ্বান দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, গুম, খুন ও নির্যাতনের মধ্যেও তারা ঐক্যবদ্ধভাবে দলকে ধরে রেখেছেন। “তখন সবাই সবার পাশে থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে দল চালিয়েছেন। এখন নির্যাতনের সেই ভয় নেই, তাহলে এখন কেন ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারবেন না?” তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে যে, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিএনপির জন্য অভ্যন্তরীণ সংহতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি বলে তিনি মনে করেন। স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ‘হাইব্রিড’ সতর্কতা আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে তিনি তৃণমূল সংগঠনকে শক্তিশালী করার নির্দেশ দেন। তারেক রহমান বলেন, বর্ষার পর আলোচনা করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হবে। “তৃণমূলকে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে হবে। তবে দল গোছানোর ক্ষেত্রে ‘হাইব্রিড’ ও ‘গুপ্ত’—এই দুটি বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে,” এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, বিএনপি সংগঠনের ভেতরে অনুপ্রবেশ বা সুযোগসন্ধানী নেতৃত্বের সম্ভাবনা নিয়ে নেতৃত্বের উদ্বেগ রয়েছে। ধর্মীয় উৎসব ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আসন্ন প্রধান ধর্মীয় উৎসবের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন। “যেকোনো মূল্যে এই ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে হবে। কেউ যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে ফায়দা লুটতে না পারে,” তিনি দেশের সকল ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্যের কথাও উল্লেখ করেন এবং ধর্মীয় ভেদাভেদ না করে মানবিকতার ভিত্তিতে দেশ পুনর্গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উন্নয়ন নিয়ে সমালোচনা ও পাল্টা রূপরেখা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তারেক রহমান দাবি করেন, উন্নয়নের নামে ব্যাপক অর্থ পাচার হয়েছে। “গত ১৭ বছরে উন্নয়নের নামে আসলে লুটেরাদের পকেটের উন্নয়ন হয়েছে। মেগা প্রজেক্টের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে,” তিনি ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের শ্বেতপত্রের তথ্য উল্লেখ করে বলেন, প্রতি বছর গড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা পাচারের কথা সেখানে উঠে এসেছে। পাশাপাশি পদ্মা সেতু ও ভারতের ভূপেন হাজারিকা সেতুর নির্মাণ ব্যয়ের তুলনাও টানেন। তার মতে, উন্নয়ন শুধু রাস্তাঘাট নির্মাণ নয়; স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষি খাতের সার্বিক উন্নয়নই প্রকৃত উন্নয়ন। এ প্রসঙ্গে তিনি উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি এবং শিশুদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও বলেন। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও সামাজিক সুরক্ষা গৌরনদীর বাটাজোরে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তারেক রহমান বলেন, সারাদেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে ধীরে ধীরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। “আমাদের উদ্দেশ্যই হলো, আমাদের মায়েরা যাতে ভালো থাকতে পারেন, দেশের মানুষ যাতে একটু হলেও ভালো থাকতে পারেন,” তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন সম্ভব হবে বলে সরকার বিশ্বাস করে। পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার নাগরিক আহ্বান সকালে গৌরনদীর সরিকল-বাটজোর খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তারেক রহমান দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে নাগরিক দায়িত্বের ওপর জোর দেন। “আমরা যদি নিজের ঘর এবং দেশকে নিজেরা পরিষ্কার না রাখি, তাহলে এই দেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে না। বাইরে থেকে কেউ এসে আমাদের দেশকে পরিষ্কার করে দিয়ে যাবে না,” খালে ভাসমান প্লাস্টিকের বোতল দেখিয়ে তিনি বলেন, দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়; প্রতিটি নাগরিকের আচরণ ও অভ্যাসের সঙ্গে এটি সরাসরি সম্পর্কিত। রাজনৈতিক বার্তার সমন্বিত চিত্র বরিশালের এই কর্মসূচিগুলোতে তারেক রহমানের বক্তব্যে কয়েকটি বিষয় স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে: দলীয় ঐক্য: বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংহতি বজায় রাখাকে তিনি রাজনৈতিক টিকে থাকার প্রধান শর্ত হিসেবে দেখিয়েছেন। নির্বাচনী প্রস্তুতি: স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে তৃণমূল সংগঠনকে শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন। সামাজিক সম্প্রীতি: ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে এবং সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়েছেন। অর্থনৈতিক সমালোচনা: পূর্ববর্তী সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ পুনরুল্লেখ করেছেন। নাগরিক দায়িত্ব: পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষাকে জাতীয় উন্নয়নের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। সবশেষে তারেক রহমান দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, “করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ”—এই লক্ষ্য নিয়েই বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এগিয়ে নিতে চায় বিএনপি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় চলমান এইচএসসি পরীক্ষা ও সমমানের একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল করতে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় প্রায় ১০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাতে চরফ্যাশন থানায় ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মো. মহিউদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে শনিবার দুপুরে চরফ্যাশন উপজেলা শহরের ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ প্রশ্ন কমন না পড়ার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে জড়ায়। পরে পরিস্থিতি সহিংসতায় রূপ নেয় বলে মামলার এজাহার, পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে। কেন্দ্রে কী ঘটেছিল? বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের আওতায় পরিচালিত ওই কেন্দ্রে চরফ্যাশন সরকারি কলেজের ৮৮৪ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন। শনিবার ছিল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা। সকালে নিয়মিতভাবে এমসিকিউ প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। এমসিকিউ পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কেন্দ্রের ৩০৪ নম্বর কক্ষে কিছু পরীক্ষার্থী দাবি করেন যে প্রশ্ন তাদের “কমন” পড়েনি। কলেজ সূত্র জানায়, ওই সময় কিছু শিক্ষার্থী নকলের চেষ্টা করলে দায়িত্বরত শিক্ষকরা নকল প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নেন। অভিযোগ রয়েছে, এরপর কিছু পরীক্ষার্থী নকল করার সুযোগ দাবি করে এবং কক্ষে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করে। পরীক্ষা শেষে সহিংসতা মামলার এজাহার অনুযায়ী, পরীক্ষা শেষে দুপুর ১টা ৫ মিনিটের দিকে একদল শিক্ষার্থী কলেজের পকেট গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। তারা পরীক্ষার খাতা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইটপাটকেলের আঘাতে পরীক্ষাকক্ষে দায়িত্ব পালনকারী ৭ জন শিক্ষক এবং কলেজের গভর্নিং কমিটির সভাপতিসহ কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এরপর কেন্দ্র এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। মামলার অগ্রগতি চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদ আল-ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ বাদী হয়ে শতাধিক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছেন। তিনি আরও জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ঘটনার তাৎপর্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নকলবিরোধী ব্যবস্থা গ্রহণকে কেন্দ্র করে সহিংসতার এই অভিযোগ শিক্ষা ব্যবস্থার শৃঙ্খলা, পরীক্ষা পরিচালনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তের মাধ্যমে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করা এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : অবিশ্বাস্য মনে হলেও ঘটনাটি বাস্তব। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর হর্টিকালচার সেন্টারে একটি আমগাছে ফলছে ১০টি ভিন্ন জাতের আম। কলম সংযোজন প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশি ও বিদেশি জাতের আমকে একই গাছে যুক্ত করার এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষক ও উদ্যানপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি শুধু প্রদর্শনমূলক উদ্যোগ নয়; বরং বহুজাতের আম উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাইয়ের একটি চলমান গবেষণা। একই গাছে ১৫ থেকে ২০ জাতের আম উৎপাদনের লক্ষ্যে আরও কলম সংযোজন কার্যক্রম চলছে। কোন কোন জাতের আম রয়েছে? রহমতপুর হর্টিকালচার সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে একটি গাছে কলম সংযোজনের মাধ্যমে যে ১০টি জাতের আম উৎপাদন করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে— জাপানি আম মিয়াজাকি, ন্যামডকমাই, রেড আইভরি, টকমাই, থ্রি টেস্ট, দেশি আম্রপালি, বারিভোগ এবং বারি-১১সহ মোট ১০ জাতের আম। এই বহুজাতের চারা সেন্টার থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি গাছের পরিচর্যা, সেচ, ছাঁটাই ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে ক্রেতাদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। কীভাবে সম্ভব হচ্ছে এক গাছে বহু জাতের আম? উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “রহমতপুর হর্টিকালচার সেন্টারে একটি গাছে কলম সংযোজনকৃত ১০ জাতের আমের চারা পাওয়া যায়। এছাড়াও এটিকে ২০ জাত পর্যন্ত বাড়াতে কলমের কার্যক্রম চলছে।” কৃষিবিজ্ঞানীদের মতে, কলম সংযোজনের মাধ্যমে একই মূলগাছের ওপর বিভিন্ন জাতের আমের শাখা যুক্ত করা যায়। প্রতিটি শাখা তার নিজস্ব জাতের বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে ফল দেয়। তবে এ ধরনের গাছকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত পরিচর্যা, পুষ্টি ব্যবস্থাপনা এবং শাখা-প্রশাখার ভারসাম্য রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণার পরিধি কতটা? রোববার, ১২ জুলাই রহমতপুর হর্টিকালচার সেন্টারে বহুজাতের আমের ফলন দেখতে সরেজমিনে গিয়ে কেন্দ্রটির উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. অলিউল রহমানের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, “আমাদের গবেষণায় এ সেন্টারে ৭৪ জাতের আমের চারা রয়েছে।” এ তথ্য থেকে বোঝা যায়, সেন্টারটি শুধু বহুজাতের একটি প্রদর্শনী গাছ তৈরিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিভিন্ন জাতের আম সংরক্ষণ, সম্প্রসারণ এবং নতুন সম্ভাবনা যাচাইয়ে কাজ করছে। পুষ্টিগুণ ও কৃষি সম্ভাবনা হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ ফেরদৌস আরা মিতা বলেন, “আমরা বছরজুড়ে আমাদের দেশীয় আম খাচ্ছি। এতে প্রচুর ভিটামিন এ আছে, আর কাঁচা আমে মিলছে ভিটামিন সি।” কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সীমিত জায়গায় বিভিন্ন জাতের আম উৎপাদনের এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক চাষেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে যেসব কৃষকের জমির পরিমাণ কম, তাদের জন্য বহুজাতের একটি গাছ বাড়তি অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। কৃষি খাতে নতুন দিগন্ত? রহমতপুর হর্টিকালচার সেন্টারের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের ফলচাষে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন দিগন্তের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এক গাছে ১৫ থেকে ২০ জাতের আম সফলভাবে উৎপাদন সম্ভব হলে তা দীর্ঘমেয়াদে কতটা টেকসই ও লাভজনক হবে, সেটিই এখন গবেষণার মূল প্রশ্ন। তবুও একটি গাছে ১০ জাতের আমের ফলন ইতোমধ্যে কৃষি গবেষণা ও উদ্যানতত্ত্বের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো সোমবার (১৩ জুলাই) বরিশাল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান— বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও সাংগঠনিক সভাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয়দের আশা, এই সফরে দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন দাবিগুলোর বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক বার্তা বা ঘোষণা আসতে পারে। সফরের মূল কর্মসূচি সফরসূচি অনুযায়ী, সকালে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোরে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে বরিশাল নগরীর বেলস পার্ক এলাকায় আরেকটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। দুপুরে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। বর্ষাকালীন পরিস্থিতির কারণে এই সফরে দলীয় কোনো জনসভা রাখা হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রত্যাশা বরিশাল ও দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের দাবি জানিয়ে আসছেন। প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: ঢাকা-বরিশাল এবং ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা বরিশালে রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) স্থাপন ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ কুয়াকাটায় সমুদ্রভাঙন প্রতিরোধ ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন বরিশালে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা স্থানীয় ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি ও পেশাজীবীদের মতে, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসতে পারে। রাজনৈতিক গুরুত্ব ও প্রস্তুতি প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। গত কয়েকদিন ধরে বরিশাল নগরীতে আনন্দ মিছিল, শোভাযাত্রা ও প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনের নেতৃত্বে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। মহানগর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলও পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে। বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান মোহাম্মদ শহীদউল্লাহ বলেন, “আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে। তাঁর এই সফর দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।” কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি ও বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম তসলিম বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বরিশালে কোনো জনসভা করবেন না। তিনি জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন। তাই তাঁকে স্বাগত জানাতে সড়কের দুই পাশে ব্যাপক মানুষের সমাগম হবে।” প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক প্রস্তুতিও জোরদার করা হয়েছে। নগরজুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি সার্কিট হাউস ও জেলা শিল্পকলা একাডেমিকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সফরস্থল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার জানান, প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে সড়কপথে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হবেন। তিনি গৌরনদীর বাটাজোর এবং বরিশাল নগরীর ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি-সংলগ্ন এলাকায় পৃথক দুটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। পরে সার্কিট হাউসে বিরতির পর বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। উন্নয়ন ঘোষণার অপেক্ষায় দক্ষিণাঞ্চল বরিশাল বিভাগে ৬টি জেলা ও ৪২টি উপজেলা রয়েছে, যেখানে জাতীয় সংসদের ২১টি আসন রয়েছে। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে এই অঞ্চলের অধিকাংশ আসনে বিএনপি জয়ী হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সরকারের কাছে এ অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশাও তুলনামূলক বেশি। বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি এবায়েদুল হক চান বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। তিনি বলেন, “সরু সড়ক ও যানজটের কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে এবং শিল্পায়নও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই সড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করা এখন সময়ের দাবি।” ভোলা জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর বলেন, “ভোলা এখনো সড়ক যোগাযোগে দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। গ্যাসসমৃদ্ধ জেলা হওয়া সত্ত্বেও যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে শিল্পায়ন হচ্ছে না। ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের বিষয়ে ইতিবাচক ঘোষণা আসবে বলে আমরা আশা করছি।” প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম বরিশাল সফর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি তিনি বরিশালের বেলস পার্ক মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন। আরও আগে ২০০৬ সালের ১৪ মে তিনি একবার বরিশাল সফর করেছিলেন। এই সফরকে ঘিরে বরিশালবাসীর প্রধান প্রত্যাশা হলো—দীর্ঘদিনের অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি ও কার্যকর উদ্যোগ।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের ডহসংকর এলাকায় একটি সরকারি সেতু নির্মাণকাজকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, প্রকল্পের নির্ধারিত শর্ত লঙ্ঘন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে না জানিয়েই কাজ শুরুর অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দারা শুক্রবার নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটির নির্মাণকাজে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে না। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৬০ ফুট পাইলিংয়ের পরিবর্তে মাত্র ১৫ ফুট পাইল ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া ব্ল্যাক স্টোনের বদলে হোয়াইট স্টোন, সিলেটি বালুর পরিবর্তে স্থানীয় বালু এবং ২০ মিলিমিটার রডের বদলে ১৬ মিলিমিটার রড ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন। স্থানীয় যুবদল নেতা মো. সাইফুল ইসলাম, মো. মামুন হাওলাদার, আহম্মেদ মিঠু, মো. লাভলু হাওলাদার ও মো. কাঞ্চন হাওলাদার জানান, নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই নানা অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে। তাদের অভিযোগ, চলমান বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেও পানির নিচে ঢালাই কাজ করা হয়েছে। অথচ কাজ চলাকালে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের প্রতিনিধির উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও ঘটনাস্থলে কোনো প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে শুক্রবার স্থানীয় বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। তাদের অভিযোগ, পরে ঠিকাদার ঘটনাস্থলে এসে একইভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন এবং প্রতিবাদকারী স্থানীয়দের হুমকি-ধমকি দেন। স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে সরকারি অর্থের অপচয় করা হচ্ছে। তারা দ্রুত ঘটনাটির তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার মো. রফিকুল ইসলাম মৃধা তা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সেতু নির্মাণকাজের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আবেদন করা হয়েছে এবং কাজের লে-আউটের সময় উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) মো. আবুল বাসার উপস্থিত ছিলেন। তার দাবি, ভারী বর্ষণ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তারা কাজ বন্ধ রেখেছিলেন। আগামী রোববার সেতুর পাইল বসানোর কাজ শুরু হবে বলেও তিনি জানান। তবে কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) মো. আবুল বাসার বলেন, সেতু নির্মাণকাজের মেয়াদ গত ১৫ জুন শেষ হয়েছে। ঠিকাদার মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন না করে এবং দপ্তরকে অবহিত না করেই কাজ শুরু করেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, “আমরা এখন পর্যন্ত সেতুটির কাজ শুরু করিনি। ঠিকাদার কেন আমাদের না জানিয়ে কাজ শুরু করেছেন, তা জানতে তাকে নোটিশ দিয়ে কৈফিয়ত চাওয়া হবে।” উপজেলা প্রকৌশলীর এই বক্তব্যের পর স্থানীয়দের মধ্যে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই কীভাবে একটি সরকারি প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হলো? বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরে এক চিকিৎসক কর্মকর্তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন উত্তেজনা। বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে বরিশালের স্বাস্থ্য প্রশাসনে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। সম্প্রতি বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ডা. মনিরুজ্জামানকে একদল চিকিৎসক ও সহযোগী দপ্তর থেকে বের করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংগঠনটির একাংশ নিয়োগ বাতিলের দাবি তুললেও অন্য অংশ বলছে, ব্যক্তিগত বিরোধ বা প্রতিহিংসার কারণে কোনো সরকারি কর্মকর্তার নিয়োগ প্রশ্নবিদ্ধ করা হলে তারা আন্দোলনে যাবে। ঘটনার পর থেকে পরিচালকের কার্যালয়ে তৈরি হয়েছে কার্যত অচলাবস্থা। এমনকি পরিচালকের কক্ষ ও প্রধান ফটকে তালা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। নিয়োগের পর থেকেই বিরোধের সূত্রপাত সরকার গত ৫ জুলাই শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক উপপরিচালক ডা. মনিরুজ্জামানকে বরিশালের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক পদে নিয়োগ দেয়। পরদিন ৬ জুলাই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।তবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তার নিয়োগকে ঘিরে আপত্তি তোলে ড্যাবের একটি অংশ। শেবাচিম শাখা ড্যাবের সভাপতি এবং সম্প্রতি অবসরে যাওয়া চিকিৎসক ডা. নজরুল ইসলাম সেলিমের নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক ও শিক্ষার্থী বুধবার পরিচালকের কার্যালয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, তারা পরিচালকের কক্ষে প্রবেশ করে ডা. মনিরুজ্জামানকে চেয়ার থেকে উঠে যেতে বাধ্য করেন এবং তাকে দপ্তর ছাড়তে বলেন। পরে তার কক্ষে তালা দেওয়া হয়। ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন ড্যাবের শেবাচিম শাখার সাবেক সভাপতি ডা. আজিজ রহিম এবং সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের বরিশাল বিভাগীয় সদস্য সচিব ও জেলা ড্যাবের সাবেক সহসভাপতি ডা. মিজানুর রহমান। তারা বিষয়টি থামানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে। দ্বিতীয় দফায় তালাবদ্ধ কার্যালয় বৃহস্পতিবার সকালে আবারও পরিচালকের কার্যালয়ে যান ডা. সেলিমের অনুসারীরা। আগের দিনের লাগানো তালা খোলা দেখতে পেয়ে তারা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এরপর পরিচালকের দপ্তরের প্রধান ফটকে নতুন করে তালা দেওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভেতরে আটকা থাকেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুরোধে তালা খুলে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর স্বাস্থ্য বিভাগের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কেন বিরোধ? দুই পক্ষের ভিন্ন দাবি ডা. নজরুল ইসলাম সেলিমের দাবি, ডা. মনিরুজ্জামান অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক থাকাকালে তিনি “জুলাই আন্দোলনবিরোধী শান্তি মিছিলে” অংশ নিয়েছিলেন এবং আওয়ামী লীগপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাচিপের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তাকে দেখা গেছে। সেলিম বলেন, “আগস্ট বিপ্লবে তিনি জনগণের পক্ষে ছিলেন না। তাই এই নিয়োগ আমরা মেনে নিচ্ছি না।” অন্যদিকে বরিশাল জেলা ড্যাবের সভাপতি ডা. কবিরুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ড্যাবের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। তার ভাষ্য, সংগঠনের মতামত উপেক্ষা করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পাল্টা অবস্থানে ড্যাবের অন্য অংশ তবে ড্যাবের আরেক অংশ এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। শেবাচিম শাখা ড্যাবের সাবেক সভাপতি ডা. আজিজ রহিম বলেন, ডা. মনিরুজ্জামান ড্যাবের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের আজীবন সদস্য। তিনি জানান, ১২ ফেব্রুয়ারির আগে কেন্দ্র থেকে গঠিত ড্যাবের নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতেও মনিরুজ্জামান ছিলেন। আজিজ রহিম বলেন, “নির্বাচনি প্রচারণায় সেলিম ও মনিরুজ্জামান একসঙ্গে কাজ করেছেন। হঠাৎ এই বিভক্তির কারণ বুঝতে পারছি না। ব্যক্তিগত জেলাসি থেকেই বিষয়টি তৈরি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।” মবের অভিযোগের নিন্দা সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের বরিশাল বিভাগীয় সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, কোনো কর্মকর্তাকে দপ্তরে গিয়ে জোর করে চেয়ার থেকে উঠিয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, “মব সৃষ্টি করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার ঘটনা দুঃখজনক।” তিনি আরও দাবি করেন, ডা. মনিরুজ্জামান শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং পরে সহসভাপতি ছিলেন। ডা. মনিরুজ্জামানের বক্তব্য নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডা. মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি কেবল সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করেছেন। তার ভাষায়, “সরকারি চাকরিতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সরকারের নির্দেশ মানতে হয়, এটাই নিয়ম।” শান্তি সমাবেশে অংশ নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তৎকালীন পরিচালক তাকে সেখানে যেতে বাধ্য করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না। প্রশাসনিক পদে রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব? বরিশালের এই ঘটনা আবারও সামনে এনেছে সরকারি প্রশাসনিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়, অতীত ভূমিকা এবং পেশাজীবী সংগঠনের প্রভাবের প্রশ্ন। একদিকে একটি পক্ষ বলছে, বিতর্কিত অতীত থাকা কাউকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে রাখা উচিত নয়। অন্যদিকে অপর পক্ষের অভিযোগ, ব্যক্তিগত বিরোধ ও সংগঠনগত দ্বন্দ্বকে রাজনৈতিক অভিযোগের আড়ালে ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে ডা. মনিরুজ্জামানের নিয়োগ বহাল থাকলেও পরিচালকের দপ্তরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশালের আগৈলঝাড়ায় এক গ্রেফতার আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে থানায় হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের আহত হওয়ার ঘটনায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে গ্রেফতার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় অনেক পরিবার এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে বলে জানা গেছে। বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় পুলিশের হেফাজতে থাকা এক আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা এখন রূপ নিয়েছে বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে। থানায় হামলা, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এবং সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, হামলার পর থানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাতভর অভিযান চালিয়ে হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি। বরিশালের পুলিশ সুপার এজেডএম মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, থানায় হামলার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে হামলায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। গ্রেফতার আসামিকে ঘিরে উত্তেজনার শুরু পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ জুন বুধবার সন্ধ্যায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে চুরি ও মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে একটি চুরির মামলায় গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায়, থানার হাজতে থাকা অবস্থায় রিয়াজ নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করেন। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। রাতের দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার বিকালে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। যদিও পরে পুলিশ জানায়, তিনি মারা যাননি এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। গুজব ছড়িয়ে হামলা, আহত পুলিশ সদস্য রিয়াজের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে শতাধিক মানুষ মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় গিয়ে হামলা চালায়। পুলিশের অভিযোগ, এ সময় থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে মারধর করা হয় এবং থানায় ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে পুলিশের ছয় সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন। গুরুতর আহত এএসআই আব্দুল হালিমকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্য কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল আমিন হোসেন ও মেহেদী হাসানকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মামলায় ৪৩ জনের নাম, গ্রেফতার ১৮ থানায় হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদী ওমর ফারুক জানান, বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন— সিদ্দিক ফকির শারমিন আক্তার গিয়াস ফকির সবুজ ফকির মান্নান ফকির রিফাত ফকির নাইম ফকির হাবিবুর রহমান রাজু হাওলাদার তাহমিনা বেগম মনোয়ারা বেগম আসমা আক্তার মমতাজ বেগম ঝুমুর বেগম নাজমা আক্তার তানজিলা আক্তারসহ আরও কয়েকজন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের শুক্রবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের অস্বীকার এ ঘটনায় রিয়াজ ফকিরের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পুলিশি নির্যাতনের কারণে তিনি আহত হয়েছেন। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশের দাবি, রিয়াজ নিজের মাথায় আঘাত করে আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থানা হামলার পর আগৈলঝাড়া এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রেফতার আতঙ্কে অনেক নারী-পুরুষ বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন। ঘটনার তদন্তে এখন মূল প্রশ্ন—রিয়াজ ফকিরের আহত হওয়ার প্রকৃত কারণ কী এবং মৃত্যুর গুজব এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে কীভাবে। পুলিশ বলছে, তদন্ত ও তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে পুরো ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : টানা ছয় দিনের ভারী বর্ষণে ভোলার উপকূলীয় উপজেলা মনপুরার বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। খাল-বিল, বসতঘর ও রাস্তাঘাট একাকার হয়ে তৈরি হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় নিম্নাঞ্চলে পানি আটকে রয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দিনমজুর, জেলে, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ নিম্নআয়ের মানুষ। কয়েক দিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় অনেক পরিবারের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বহু ঘরে রান্নার চুলা জ্বলছে না। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অনেকে চিড়া-মুড়ি খেয়ে কোনোভাবে দিন পার করছেন। তবে অধিকাংশ পরিবারে দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। তারা দ্রুত শুকনো খাবার, চাল-ডাল এবং নিরাপদ পানির সহায়তা চেয়েছেন। পানি নামছে না, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি দীর্ঘ সময় ধরে পানি জমে থাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট ও স্যানিটেশন পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ঘরের ভেতর, উঠান এবং চলাচলের পথ পানিতে ডুবে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকেও মনপুরায় থেমে থেমে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় সূর্যের দেখা মেলেনি। এতে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে। পাঁচ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে ভয়াবহ পরিস্থিতি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার সাকুচিয়া ইউনিয়নের খাড়ির খাল এলাকা, মাস্টারহাট, লতাখালী ও বাতানখালী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে। এছাড়া বিচ্ছিন্ন কলাতলী ইউনিয়নের ঢালচর, কাজীরচর ও কলাতলী চরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল তিন থেকে চার ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমান গ্রাম, হাজিরহাট ইউনিয়নের দাসেরহাট ও চরযতিনের নিম্নাঞ্চল, সোনারচর গ্রামের পূর্ব ও পশ্চিম অংশ এবং মনপুরা ইউনিয়নের কাউয়ারটেক ও আন্দিড়পার এলাকাতেও একই পরিস্থিতি দেখা গেছে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। পাশাপাশি বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চললেও পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে তারা দাবি করছেন। হাজিরহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা আনোয়ার, আল-আমিন ও আক্তার হোসেন; দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ডা. কামাল হোসেন ও শ্রীকৃষ্ণ; উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের রিপন ও হাসান; এবং মনপুরা ইউনিয়নের মমিন তালুকদার, জিসান চন্দ্র দাস ও শুভ্র জানান, কয়েকটি স্লুইসগেট দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় রয়েছে। তাদের অভিযোগ, খাল দখল ও অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নদীতে নামতে পারছে না। ফলে পানি আটকে গিয়ে লোকালয়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। তারা দ্রুত স্লুইসগেট সংস্কার, খাল পুনঃখনন এবং স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন। ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ, ক্ষোভ বাড়ছে দুর্গত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে পানিবন্দি থাকলেও এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক ব্যক্তি বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত খোঁজ নেওয়া হয়নি। তারা জানান, কোনো ত্রাণ সহায়তাও এখনও পৌঁছায়নি। দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। প্রশাসনের বক্তব্য পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা বলেন, সারা দেশের মতো মনপুরাতেও টানা বর্ষণের কারণে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা সমাধানে খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। কেন বারবার ডুবে যায় মনপুরা? মনপুরার বর্তমান জলাবদ্ধতা শুধু কয়েক দিনের বৃষ্টির ফল নয়—স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অকেজো স্লুইসগেট, খালের সংকোচন এবং অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে উপকূলীয় এই জনপদ বারবার পানির সংকটে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অতিবৃষ্টি এবং জোয়ারের পানির চাপ মোকাবিলায় শুধু বাঁধ নির্মাণ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত খাল রক্ষণাবেক্ষণ এবং কার্যকর নিষ্কাশন অবকাঠামো। মনপুরার বাসিন্দাদের এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—অস্থায়ী সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান কবে আসবে?
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরগুনার তালতলী উপজেলার ফকিরহাট সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে দুটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। এ ঘটনায় ১৬ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও এখনও নিখোঁজ রয়েছেন দুই জেলে। তাদের উদ্ধারে অভিযান চালাতে প্রস্তুত রয়েছে কোস্টগার্ড, তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অভিযান শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ৮টার দিকে উপকূল থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বুধবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত সাগর উত্তাল থাকায় উদ্ধার অভিযান শুরু করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড। কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা? জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে তালতলী উপজেলার ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে ১৮ জন জেলেকে নিয়ে দুটি ট্রলার ইলিশ শিকারের উদ্দেশ্যে গভীর সমুদ্রে যায়। ট্রলার দুটির মালিক ছিলেন তপন জোমাদ্দার ও আলমগীর খলিফা। রাতে হঠাৎ আবহাওয়ার অবনতি হলে সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠে। প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে প্রথমে আলমগীর খলিফার ট্রলারটি ডুবে যায়। তখন ওই ট্রলারের জেলেরা প্রাণ বাঁচাতে তপন জোমাদ্দারের ট্রলারে আশ্রয় নেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর প্রবল ঢেউয়ের তোড়ে দ্বিতীয় ট্রলারটিও ডুবে যায়। এতে ১৮ জন জেলেই সাগরে ভেসে পড়েন। কয়েক ঘণ্টা পানিতে ভেসে থাকার পর রাত ৩টার দিকে অপর একটি মাছ ধরার ট্রলারের জেলেরা ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন। পরে তাদের পটুয়াখালীর মহিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। উদ্ধার হওয়া জেলেরা উদ্ধার হওয়া জেলেরা তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তারা হলেন: খলিল মাস্টার হৃদয় জোমাদ্দার দুলাল ইমরান ফারুক আল-আমিন মনির আশরাফুল জামাল ইমরান শামীম নাসির সাগর আছিফ নাসির নুরুজ্জামান নিখোঁজ দুই জেলে এ ঘটনায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন একই ইউনিয়নের কালাম পাইকার ও শহীদ নামে দুই জেলে। তাদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। উদ্ধার অভিযানে বিলম্ব কেন? কোস্টগার্ড স্টেশনের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার আশরাফুল আলম বলেন, “বৈরী আবহাওয়ায় সাগর উত্তাল থাকায় এখনও উদ্ধার অভিযান শুরু করা যায়নি। আবহাওয়া অনুকূলে এলে অভিযান পরিচালনা করা হবে।” তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশকে জানানো হয়েছে। তবে উত্তাল সাগরের কারণে উদ্ধার কার্যক্রমে কিছুটা বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া জেলেদের চিকিৎসার বিষয়েও খোঁজখবর রাখছে প্রশাসন।” সমুদ্রে নিরাপত্তা প্রস্তুতি কতটা ছিল? এই দুর্ঘটনা আবারও গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাস, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা কার্যকর ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে আকস্মিক আবহাওয়া পরিবর্তনের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই গভীর সমুদ্রে যাওয়া ট্রলারগুলোর জন্য আগাম সতর্কবার্তা, লাইফ জ্যাকেট ও জরুরি উদ্ধার সরঞ্জাম নিশ্চিত করা জরুরি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।