Brand logo light

বরিশাল

কুয়াকাটায় পর্যটকের ঢল
ঈদের ছুটিতে প্রাণ ফিরছে কুয়াকাটায়,উপচে পড়া ভিড়

ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম পর্যটন জেলা পটুয়াখালী-এর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ফিরে এসেছে চাঞ্চল্য। বিশেষ করে দেশের একমাত্র সমুদ্রসৈকত, যেখানে একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়—কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত—এখন পর্যটকদের পদচারণায় মুখর। পর্যটকদের ঢল ও আবাসন সংকট ঈদের আগের সপ্তাহ থেকেই কুয়াকাটামুখী পর্যটকদের চাপ বাড়তে শুরু করে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের দিন থেকে পরবর্তী ৪–৫ দিন পর্যন্ত প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক এখানে ভিড় করছেন। কুয়াকাটার প্রায় সব আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট ও গেস্টহাউস শতভাগ বুকড হয়ে গেছে। অনেক পর্যটককে বিকল্প হিসেবে অস্থায়ী আবাসন বা আশেপাশের এলাকায় থাকতে হচ্ছে। হোটেল মালিক সমিতির নেতারা জানান, এবারের ঈদে পর্যটকের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এতে পর্যটন খাত ঘুরে দাঁড়ানোর আশাবাদ তৈরি হয়েছে। বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ  কুয়াকাটার অন্যান্য  কেন্দ্র যেমন— লেবুর চর গঙ্গামতি সংরক্ষিত বন ফাতরার বন এসব স্থানেও পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। লেবুর চরে সাগরের মাঝে নৌকা ভ্রমণ, গঙ্গামতিতে বনভ্রমণ এবং ফাতরার বনে বন্যপ্রাণী দেখার সুযোগ পর্যটকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে। স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পর্যটকদের আগমনে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে স্থানীয় অর্থনীতি। সৈকতসংলগ্ন খাবারের দোকান, সী-ফুড রেস্টুরেন্ট, ভ্যানচালক, মোটরসাইকেল চালক, ফটোগ্রাফার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, “ঈদের এই সময়টুকুই আমাদের সারা বছরের বড় আয়ের সুযোগ। পর্যটক বেশি হলে আমাদের আয়ও বাড়ে।” নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি ব্যবস্থা। কুয়াকাটা সৈকতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ, নৌ-পুলিশদের সমন্বয়ে কাজ চলছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লাল পতাকা টানানো হয়েছে এবং মাইকিং করে সতর্কতা জারি রাখা হচ্ছে। এছাড়া যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও জোরদার করা হয়েছে। ঈদের ছুটিতে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পর্যটকদের অভিজ্ঞতা রাজধানী ঢাকা থেকে আসা এক পর্যটক জানান, “পরিবার নিয়ে ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটায় এসে খুব ভালো লাগছে। ভিড় একটু বেশি হলেও পরিবেশটা দারুণ উপভোগ করছি।” আরেক পর্যটক বলেন, “সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত একসঙ্গে দেখার অভিজ্ঞতা সত্যিই অসাধারণ।” চ্যালেঞ্জও রয়েছে তবে পর্যটকদের অতিরিক্ত চাপের কারণে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। আবাসন সংকট, অতিরিক্ত ভাড়া, যানজট এবং পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনায় চাপ বাড়ার অভিযোগ রয়েছে। অনেক পর্যটক সৈকতে ময়লা ফেলে পরিবেশ দূষণ করছেন বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সম্ভাবনার দিক সবমিলিয়ে ঈদের ছুটিতে পটুয়াখালী ও কুয়াকাটা অঞ্চলের পর্যটন খাতে নতুন করে গতি সঞ্চার হয়েছে। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে এ অঞ্চল আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা রক্ষা এবং পর্যটকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে কুয়াকাটা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।   বাড়বে পর্যটকদের সংখ্যা পর্যটকদের সংখ্যা আরো বাড়বে বলে ধারণা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। বরগুনা থেকে আসা সায়মা-শাকিল দম্পত্তি বলেছেন, পরিবারের সঙ্গে  কুয়াকাটায় চলে এসেছি। বৃষ্টির মধ্যে সমুদ্রে সাঁতার কেটেছি। তখন সমুদ্রে ছোট ছোট ঢেউ ছিলো। দারুণ এক অনুভূতি হয়েছে। কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেছি। বেশ ভালোই লেগেছে।”  বরিশাল থেকে আসা হোসেন সিকদার বলেন, “আমরা বন্ধুরা মিলে  কুয়াকাটায় এসেছি। বৃষ্টির কারণে কিছুটা মন খারাপ ছিল। তবে, বন্ধুরা মিলে বৃষ্টির মধ্যেই সমুদ্রে সাঁতার কেটেছি। আমরা আজ যে আনন্দ পেয়েছি, তা কোনোদিনই ভুলব না।” কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরীফ বলেছেন, “বৃষ্টির কারণে সকালে পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কম থাকলেও বিকেল থেকে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। সৈকত-সংলগ্ন অধিকাংশ হোটেল-মোটেলের ৮০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে। আগামীকাল থেকে পর্যটকের সংখ্যা আরো বাড়বে এবং আমরা শতভাগ সিট বকিংয়ের আশা করছি।”   ট্যুরিস্ট পুলিশের কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেছেন, “সকালে পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কম থাকলেও দুপুর থেকে পর্যটক বাড়তে শুরু করেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিভিন্ন ট্যুরিস্ট স্পটে বাড়তি পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি থানা পুলিশ, নৌ পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা মাঠে তৎপর আছেন।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
বরিশালের তিন ‘নীরব এলাকা’ এখনও কাগজে-কলমে, বাস্তবায়নে নেই অগ্রগতি

বরিশাল : বরিশাল নগরীর শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল এবং বরিশাল আইন মহাবিদ্যালয় এলাকাকে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ‘২০২১ সালে নীরব এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করা হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এর কার্যকর বাস্তবায়ন আজও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’-এর আওতায় এসব এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। প্রচারণায় স্থানীয় জনগণকে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০০৬ অনুযায়ী নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে তুলে ধরা হয়, যেখানে বলা হয়—এটি মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, অনিদ্রা, স্মৃতিশক্তি হ্রাসসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণ হতে পারে। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘোষিত নীরব এলাকাগুলোতে যানবাহনের হর্ন বাজানো, উচ্চ শব্দে মাইক ব্যবহার এবং অন্যান্য শব্দদূষণ কার্যক্রম আগের মতোই অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে হাসপাতাল এলাকার মতো সংবেদনশীল স্থানে রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য নিরিবিলি পরিবেশ নিশ্চিত করার যে লক্ষ্য ছিল, তা এখনও অর্জিত হয়নি। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রচারণা চালানো হলেও পরবর্তী ধাপে কঠোর আইন প্রয়োগের কথা থাকলেও তা দৃশ্যমান হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় অংশগ্রহণের অভাব এবং নিয়মিত তদারকির ঘাটতির কারণে উদ্যোগটি অনেকাংশেই থমকে আছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছিল, বিধিমালা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে এক মাসের কারাদণ্ড বা ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে এবং পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে আরও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু বাস্তবে এই আইন প্রয়োগের নজির খুবই সীমিত। সচেতন মহলের মতে, শুধুমাত্র প্রচারণা নয়, কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন নিয়মিত মনিটরিং, আইন প্রয়োগে কঠোরতা এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ। অন্যথায় ‘নীরব এলাকা’ ঘোষণার এই উদ্যোগ কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে। বরিশালের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি স্থানে ‘নীরব এলাকা’ ঘোষণা একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ হলেও দীর্ঘদিনেও এর কার্যকর বাস্তবায়ন না হওয়া উদ্বেগজনক। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
বরিশালে ঈদের জামাত
বরিশালে বৃষ্টিভেজা ঈদের জামাত

বরিশাল: বৃষ্টিস্নাত ভোরে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে বরিশালে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৮টায় নগরীর কেন্দ্রীয় হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। জামাতে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, বিভাগীয় কমিশনার মো. মাহফুজুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা। সব ভেদাভেদ ভুলে মুসল্লিরা এক কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে মানবসেবায় আত্মনিয়োগের তৌফিক কামনা করা হয় আল্লাহর কাছে। নামাজ শেষে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তবে বৃষ্টিপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মুসল্লিদের কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। অনেক স্থানে ঈদগাহে জামাত আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও বৃষ্টির কারণে তা বাতিল করে মসজিদে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়। এদিকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন গৌরনদী সরকারি কলেজ মসজিদে ঈদের জামাতে অংশ নিয়ে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বরিশাল নগরসহ জেলা ও বিভাগজুড়ে পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ভোলায় লঞ্চের সঙ্গে অভিযান চালানো স্পিডবোটের ধাক্কা
ভোলায় লঞ্চের সঙ্গে অভিযান চালানো স্পিডবোটের ধাক্কা,নিখোঁজ পুলিশ সদস্য

ভোলার লালমোহনে যাত্রীবাহি লঞ্চের সাথে ধাক্কায় মৎস্য রক্ষা অভিযানের স্পিডবোট উল্টে এক পুলিশ কনস্টেবল নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্ঘনায় আহত হয় স্পিডবোটে থাকা অপর ৫ জন। তাদের লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে ঘটনার প্রায় ৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পর উদ্ধার হয়নি নিখোঁজ পুলিশ সদস্য। বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যা ৮টার দিকে লালমোহন উপজেলার মঙ্গলসিকদার লঞ্চঘাটে এই ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ পুলিশ কনস্টেবলের নাম মো. ফখরুল। জানা গেছে, ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিয়ে ঢাকা থেকে চরফ্যাশনের বেতুয়া ঘাটঘামী এমভি কর্ণফুলী-১২ লঞ্চ সন্ধ্যা ৭টার দিকে মঙ্গলসিকদার লঞ্চঘাটে পৌঁছে। একই সময় মেঘনা নদীর অভয়াশ্রমে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা মনিটরিং করার জন্য উপজেলা মৎস্য অফিসের ৩ সদস্য ও ৩জন কনস্টেবল স্পিডবোটে অভিযানে যায়। ওই টিমে লালমোহন মৎস্য অফিসের অফিস সহকারী আব্বাছ উদ্দিন, ক্ষেত্র সহকারী মনোয়ার হোসেন ও সাইফুল ইসলাম সোহাগ এবং পুলিশের ৩জন কনস্টেবল ছিলেন। লঞ্চটি ঘাটে ভেড়ানোর সময় লঞ্চের পেছনের প্রফেলারের সাথে ধাক্কায় স্পিডবোটটি উল্টে যায়। ঘটনার পর ৫জন সাঁতরে তীরে উঠলেও তাদের সাথে থাকা পুলিশ কনস্টেবল মোঃ ফখরুল এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ফখরুল মঙ্গলসিকদার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি বরিশালে। লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম জানান, অভিযানে যাওয়া স্পিডবোটটি নদীর মধ্যেই ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। এসময় স্রোতের টানে বোটটি ঘাটে ধাকা লঞ্চের সাথে গিয়ে ধাক্কা লাগে এবং লঞ্চের নিচে বোটটি ঢুকে যাওয়ার সময় সবাই একদিক চলে গেলে বোটটি উল্টে যায়। ঘটনার পর কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি টিম নদীতে নেমে তল্লাশি চালাচ্ছে। বরিশাল থেকে আরও ডুবরি দল আসছে বলেও ওসি জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ধানিসাফা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) আব্দুল জলিল
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় জন্ম সনদ বাণিজ্য: কোটি টাকার অভিযোগে ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ঝড়

পিরোজপুর : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় জন্ম নিবন্ধন সনদকে ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ২ নং ধানিসাফা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, জন্ম সনদ বিক্রি, অতিরিক্ত ফি আদায় এবং বিভিন্ন বরাদ্দ থেকে কমিশন নেওয়ার মাধ্যমে তিনি বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী জন্ম নিবন্ধন ০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে বিনামূল্যে এবং ৪৬ দিন থেকে ৫ বছর বয়স পর্যন্ত মাত্র ২৫ টাকা ফি নেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে এ নিয়ম মানা হচ্ছে না। ধানিসাফা ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধনের জন্য সব বয়সের নাগরিকদের কাছ থেকে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া জন্ম নিবন্ধনে বয়স সংশোধনের ক্ষেত্রে নেওয়া হচ্ছে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রমকে গতিশীল করতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রতি বছর ইউনিয়ন পরিষদ সচিবদের অনুকূলে ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু এ অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। কখনো প্রিন্টার কেনা, আবার কখনো ওয়াইফাই সংযোগ চালুর কথা বলা হলেও বাস্তবে কোনো উন্নয়ন কাজ দৃশ্যমান নয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী জরিপভিত্তিক এসেসমেন্ট না করে গ্রাম পুলিশদের মাধ্যমে ট্যাক্স আদায় করে সেই অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জন্ম নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স ও ট্যাক্স সংক্রান্ত কোনো তথ্য রেজিস্টার খাতায় সংরক্ষণ করা হয় না বলেও জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকেও ৫ শতাংশ হারে অর্থ আদায় করা হয়। অডিটরদের ঘুষ দিয়ে বিষয়গুলো ‘ম্যানেজ’ করার কথাও বলে থাকেন তিনি। এ বিষয়ে পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুন নেছা সুমি বলেন, “জন্ম নিবন্ধনসহ সকল সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। কেউ অনিয়ম করলে তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে।” অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও ইউপি সচিব আব্দুল জলিলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।  এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং দ্রুত তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
শেবাচিম হাসপাতালে আগুন
বরিশালের শেবাচিম হাসপাতালে আগুন: ২ রোগীর মৃত্যু, তদন্ত কমিটি

বরিশাল: বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম)-এর মেডিসিন ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (রাত ১১টা) পঞ্চম তলার একটি স্টোররুমে আগুন লাগে। এ ঘটনায় আতঙ্কে রোগী সরানোর সময় এবং অক্সিজেন সাপোর্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মৃতরা হলেন—পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর এলাকার কাজী আতাউর রহমান (৮০) এবং বরিশাল নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল হোসেন হাওলাদার (৬৫)। ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন লাগার সময় মেডিসিন বিভাগে মোট ৬৬ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। তাদের দ্রুত অন্য ভবনে সরিয়ে নেওয়া হয়।    মৃত্যুর অভিযোগ নিহত আতাউর রহমানের ছেলে কাজী আনসার আলী অভিযোগ করেন, আগুনের আতঙ্কে বাবাকে নিচে নামানোর সময় অক্সিজেনের অভাবে তার মৃত্যু হয়। তিনি দাবি করেন, হাসপাতালে থাকা একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স থেকেও অক্সিজেন পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, আবুল হোসেনের ছেলে জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে তিনি তার বাবাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।    হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, “দুই রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি আমরা জেনেছি। তারা গুরুতর অবস্থায় অক্সিজেন সাপোর্টে ছিলেন। আগুন লাগার পর স্বজনরা তড়িঘড়ি করে অক্সিজেন ছাড়াই নিচে নামালে এই মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।”   আগুনের কারণ ফায়ার সার্ভিসের বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক আবুল বাশার জানান, স্টোররুমে রাখা পুরোনো ফোমের বেড থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। বিড়ি বা সিগারেটের আগুন থেকেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।  আহতদের তথ্য অগ্নিকাণ্ডের সময় হুড়োহুড়িতে তিন আনসার সদস্য—রাজিব, নাজমুল ও হাসিবুল এবং একজন ওয়ার্ড মাস্টার আহত হয়েছেন।   তদন্ত কমিটি ঘটনা তদন্তে প্রথমে একটি কমিটি গঠন করা হলেও তা বাতিল করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটির প্রধান করা হয়েছে সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফজলে রহমান খানকে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন— জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি ফায়ার সার্ভিস প্রতিনিধি মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিনিধি গণপূর্ত বিভাগের প্রতিনিধি হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের রেসিডেন্সিয়াল সার্জন তদন্ত কমিটিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   ফায়ার সার্ভিস বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক আবুল বাশার জানান, স্টোররুমে থাকা পুরোনো ফোমের বেড থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেন। বিড়ি বা সিগারেটের আগুন থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন নেভাতে গিয়ে ও আতঙ্কিত পরিস্থিতিতে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে তিন আনসার সদস্য রাজিব, নাজমুল ও হাসিবুল এবং একজন ওয়ার্ড মাস্টার আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. নাজমুল আহসান।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
দুমকিতে নলুয়া-বাহেরচর সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
দুমকিতে নলুয়া-বাহেরচর সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

এবারের ঈদযাত্রার বিষয়ে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, বাংলাদেশের কোনো পরিবহণে ১শ টাকা নয় ১ টাকাও ভাড়া বেশি নেওয়া হয়নি। বরং আমি নিজে গিয়ে দেখেছি তারা আরও কোনো কোনো জায়গায় ২৫-৩০ টাকা কম নিচ্ছে। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি এবং সার্বক্ষণিক আমরা মনিটরিং করছি। যারা এ অভিযোগ করেছেন- আপনারা বলেন কোন পরিবহণে কার কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নিচ্ছে এখনই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় পটুয়াখালীর দুমকিতে নলুয়া-বাহেরচর সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এর আগে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা ও পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মধ্যবর্তী পাণ্ডব-পায়রা নদীর উপর নলুয়া বাহেরচর সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় দুমকিতে সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন করেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ সময় তিনি বলেন, নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে এ সেতু এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী এয়ারভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, সেতুটি নির্মিত হলে এ অঞ্চলের ২৫ লাখ মানুষ উপকৃত হবেন। এ সময় উপস্থিত থেকে ভিস্তিপ্রস্তর স্থাপনে আরও অংশ নেন সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ ও বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান। অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি ও নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান টোটনসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নলুয়া-বাহেরচর সেতু নির্মাণ প্রকল্প  ২০২১ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার একনেকে অনুমোদন দেয়। এর প্রায় ৫ বছর পর সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলো। আধুনিক ডিজাইন ও হেলথ মনিটরিং সিস্টেম সম্পন্ন ব্রিজটি তৈরি করতে ব্যয় হবে ১ হাজার ২৩ কোটি টাকা। ওপেক ফান্ড ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে নির্মিত হতে যাওয়া সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন। দীর্ঘ দিনের প্রতীক্ষিত এ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হওয়ায় ওই এলাকার জনসাধারণের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
বরিশাল নগরীতে মরহুম শেখ কবিরুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া

বরিশাল নগরীতে মরহুম শেখ কবিরুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৫ মার্চ) নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁদমারী মাদ্রাসা সড়কের একটি মসজিদে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মরহুমের সন্তান শেখ শামীম এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন। তিনি বরিশাল বিভাগীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি, মোহনা টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান ও সিনিয়র রিপোর্টার এবং দৈনিক সকালের বার্তার প্রতিষ্ঠাতা প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দোয়া মাহফিলে নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, গণমাধ্যমকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় মরহুম শেখ কবিরুল ইসলামের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
বেলাল সিকদার
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয়ে অ্যাডভোকেট হলেন সাংবাদিক বেলাল সিকদার

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এমসিকিউ, লিখিত ও মৌখিক—তিন ধাপের পরীক্ষায় সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়ে অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন সাংবাদিক মোঃ বেলাল হোসেন সিকদার। দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা পেশার পাশাপাশি অধ্যবসায় ও নিষ্ঠার মাধ্যমে আইন পেশায় প্রবেশ করে তিনি একটি নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছেন। শিক্ষাজীবনে বেলাল হোসেন সিকদার চরমোনাই আহসানাবাদ রশিদিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে কামিল (এমএ) সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে বরিশাল বিএম কলেজ থেকে বিএ (অনার্স) ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর বরিশাল ল কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি সম্পন্ন করে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সকল ধাপের পরীক্ষায় প্রথমবারেই উত্তীর্ণ হন। পেশাগত জীবনে তিনি প্রায় এক যুগ ধরে সাংবাদিকতায় সক্রিয় রয়েছেন। এ সময়ে বরিশালের বিভিন্ন স্থানীয় পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। অ্যাডভোকেট বেলাল হোসেন সিকদার বলেন, “সাংবাদিক হিসেবে আমি সবসময় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ তুলে ধরার চেষ্টা করেছি—সত্যকে সত্য এবং মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে উপস্থাপন করা আমার লক্ষ্য ছিল। এখন আইন পেশায় যুক্ত হয়ে সত্য, ন্যায়বিচার, দেশ ও মানবতার পক্ষে কাজ করতে চাই।” তিনি বর্তমানে বরিশাল জজ কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন এবং সাধারণ মানুষের আইনি সেবা প্রদানে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক কন্যা সন্তানের জনক। তার  পিতা প্রায় ১০ বছর আগে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহির রাজিউন)। বর্তমানে তার পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী, মাতা, দুই ভাই ও এক বোন। নতুন এই পথচলায় সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন অ্যাডভোকেট বেলাল হোসেন সিকদার।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
৫ সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ
পাঁচ সিটি করপোরেশনে বিএনপি নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ

বাংলাদেশে আরও পাঁচটি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকেরা আগামীকাল থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। শনিবার প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বরিশাল, রাজশাহী, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও রংপুর সিটি করপোরেশনে পাঁচজন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ পাওয়া পাঁচজনই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নেতা। যাঁরা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী— বরিশাল সিটি করপোরেশনে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন রাজশাহী সিটি করপোরেশনে মাহফুজুর রহমান কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে মো. ইউসুফ মোল্লা ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে রুকুনোজ্জামান রোকন রংপুর সিটি করপোরেশনে মাহফুজ উন নবী চৌধুরী তাদের সবাই বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃস্থানীয় দায়িত্বে রয়েছেন। বিলকিস আক্তার জাহান বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ)। মাহফুজুর রহমান রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। মো. ইউসুফ মোল্লা কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া রুকুনোজ্জামান রোকন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এবং মাহফুজ উন নবী চৌধুরী রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব। মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন প্রশাসকেরা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪–এর ধারা ২৫ক-এর উপধারা (৩) অনুযায়ী নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকেরা মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। তারা বিধি অনুযায়ী ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন। এখন পর্যন্ত ১১ সিটিতে প্রশাসক এই পাঁচজনকে নিয়োগের মাধ্যমে দেশে মোট ১১টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলো। তবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে আদালতের আদেশে বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন বর্তমানে মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রশাসকেরা দায়িত্বে থাকবেন। নির্বাচন শেষে নির্বাচিত মেয়রের কাছে তারা দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন। এর আগে ছয় সিটিতে প্রশাসক এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দেশের আরও ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার। সেগুলো হলো— ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন – মো. আব্দুস সালাম ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন – মো. শফিকুল ইসলাম খান খুলনা সিটি করপোরেশন – নজরুল ইসলাম মঞ্জু সিলেট সিটি করপোরেশন – আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন – মো. সাখাওয়াত হোসেন খান গাজীপুর সিটি করপোরেশন – মো. শওকত হোসেন সরকার সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচন আয়োজনের আগ পর্যন্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
নেছারাবাদ
নেছারাবাদে নদীর তীরে গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় নদীর তীরে গলাকাটা অবস্থায় এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের পূর্ব সারেংকাঠী গ্রামের মামুন মোল্লার ইটভাটার দক্ষিণ পাশে সন্ধ্যা নদী সংলগ্ন এলাকায় মরদেহটি পাওয়া যায়।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলের দিকে পূর্ব সারেংকাঠী গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মামুন মোল্লার ইটভাটার দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে নদীর ধারে একটি গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন ইটভাটার শ্রমিকেরা। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশের নেছারাবাদ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পরিচয় শনাক্তের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করা হয়। পুলিশ জানায়, মরদেহটির মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় স্থানীয় কেউই মৃত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পারেননি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অজ্ঞাত কোনো স্থান থেকে ওই ব্যক্তিকে ধরে এনে নির্জন স্থানে হত্যা করে মরদেহটি সেখানে ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করতে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সার্কেল এসপি সাবিহা মেহেবুবা। পুলিশ জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত ও ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
আইন অমান্য করে ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে কাঠ পোড়ানো হয়।ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার নীলকমল ইউনিয়ন
চরফ্যাশনে ৩৩ ইটভাটার মধ্যে ১৭টি অবৈধ, কাঠ পোড়ানোর অভিযোগে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে ৩৩টি ইটভাটা পরিচালিত হলেও এর মধ্যে অন্তত ১৭টি কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই চলছে। এসব ভাটায় আইন অমান্য করে কয়লার পরিবর্তে কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। ফলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি কৃষিজমি, পর্যটন এলাকা এবং স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। স্থানীয় পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চরফ্যাশন সদর, দুলারহাট, শশীভূষণ এবং দক্ষিণ আইচা এলাকায় গড়ে ওঠা ৩৩টি ইটভাটার মধ্যে ১৬টির বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। বাকি ১৭টি ইটভাটা অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। প্রশাসন প্রতিবছর অভিযান চালালেও কিছুদিন পর প্রভাব খাটিয়ে ভাটাগুলো আবারও চালু হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। আইন লঙ্ঘন করে কাঠ পোড়ানো ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী ইটভাটায় জ্বালানি কাঠ পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পরিবেশ দূষণ ও বন উজাড় রোধে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও বাস্তবে অনেক ভাটায় তা মানা হচ্ছে না। সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে প্রায় সব ভাটাই জনবসতি এলাকার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে রাত্রী, নাভা, আকন, সোনালী, তেঁতুলিয়া, আব্দুল্লাহ ও মিজান ব্রিকসসহ অবৈধ ১৭টি ভাটায় অবৈধ ড্রাম চিমনি ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব ভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। পর্যটন এলাকাও দূষণের ঝুঁকিতে উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নে মেঘনা নদীর তীরবর্তী জনপ্রিয় ভ্রমণকেন্দ্র বেতুয়া প্রশান্ত পার্কের প্রবেশমুখেই অন্তত ছয়টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। নদী, সবুজ প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং শান্ত পরিবেশের কারণে পার্কটি স্থানীয় ও দূরদূরান্তের পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে ইটভাটার ধোঁয়া, ধুলাবালু এবং ভারী যানবাহনের চলাচলের কারণে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা হাসনাইন বলেন, “একটি পর্যটন এলাকার প্রবেশপথই পুরো এলাকার প্রথম পরিচয়। সেখানে যদি দূষণ ও বিশৃঙ্খলা থাকে, তাহলে পুরো এলাকার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।” তিনি বলেন, ইটভাটায় মাটি আনা ও ইট পরিবহনের ট্রাক চলাচলে প্রচুর ধুলাবালু উড়ে, যা পর্যটন এলাকার পরিবেশের জন্য বড় হুমকি। কৃষিজমিতে ফসল উৎপাদন কমছে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ইটভাটার ধোঁয়া ও ছাই বাতাসে ছড়িয়ে কৃষিজমিতে জমে ফসলের ক্ষতি করছে। অনেক ক্ষেতেই ধান, শাকসবজি ও ফলগাছ ঠিকমতো বৃদ্ধি পাচ্ছে না। দক্ষিণ আইচা এলাকার কৃষক বাবুল বলেন, “আমি প্রায় দেড় একর জমিতে রবিশস্য করেছি। পাশেই ইটভাটা থাকায় গাছ ঠিকমতো বাড়ে না। ফলে ফসলও ভালো হয় না। আমরা এসব ইটভাটা বন্ধের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই।” স্বাস্থ্যঝুঁকিতে স্থানীয় বাসিন্দারা দুলারহাট এলাকার বাসিন্দা হারুন জানান, তার বাড়ির পাশে ঢাকা ব্রিকস নামে একটি ইটভাটা রয়েছে। তিনি বলেন, “এই ভাটায় কাঠ পোড়ানো হয়। ধোঁয়া ও ধুলাবালুর কারণে আমাদের পরিবারের শিশু ও বয়স্করা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে। সামনে গরমের দিনে এই সমস্যা আরও বাড়বে।” চরফ্যাশন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শোভন বসাক বলেন, জনবসতি এলাকায় ইটভাটার ধোঁয়া ও ধুলাবালুর কারণে শিশু ও বয়স্করা বেশি শ্বাসকষ্ট ও কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছে। ভাটামালিকদের দাবি অবৈধ ইটভাটার মালিকরা দাবি করছেন, তারা ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়েছেন এবং শিগগিরই বৈধতার অনুমোদন পাবেন। তেঁতুলিয়া ব্রিকসের মালিক মো. মোশারেফ বলেন, “সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে আবেদন করেছি। এখনো অনুমোদন পাইনি।” অনুমোদন ছাড়া কীভাবে ইটভাটা চালাচ্ছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতি বছরই তার ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়। প্রশাসনের অবস্থান ভোলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তোতা মিয়া বলেন, অবৈধ ইটভাটাগুলো বন্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এমাদুল হোসেন জানান, পরিবেশ আইন লঙ্ঘনকারী ইটভাটাগুলোর ওপর নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
বরিশালে ফর্মার ক্রিকেটার্স ক্লাবের উদ্যোগে ইফতার
বরিশালে ফর্মার ক্রিকেটার্স ক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

বরিশাল অফিস :  ফর্মার ক্রিকেটার্স ক্লাব বরিশালের আয়োজনে  ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৩ মার্চ স্থানীয় নুরজাহান কনভেনশন সেন্টারে ইফতার ও দোয়া মাহফিলে  উপস্থিত ছিলেন  সাবেক ক্রীড়াবিদ আনোয়ারুল হক তারিন,ও হকি কোচ আসাদুজ্জামান খসরু, জেলা সমাজসেবা কার্যালয় বরিশালের উপ- পরিচালক একেএম আকতারুজ্জামান তালুকদার,সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজ, ফর্মার ক্রিকেটার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মীর মোর্শেদ সুমন প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি রমজানের পবিত্রতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে একত্রিত হওয়ার একটি সুযোগ হিসেবে ধরা হয়। উপস্থিত অতিথিরা ইফতার শেষে বিশেষ দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন এবং দেশের শান্তি ও কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করেন। জেলা সমাজসেবা কার্যালয় বরিশালের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজ সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু ক্রীড়াবিদদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা নয়, বরং সমাজে ভ্রাতৃত্ব ও একতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া।” ইফতার ও দোয়া মাহফিলটি স্থানীয় ক্রীড়াসংস্কৃতির সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের পাশাপাশি রমজানের মহিমা উদযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হিসেবে উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠেছে। রমজানের পবিত্রতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে একত্রিত হয়ে সবাই ইফতার ও বিশেষ দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
নলছিটি পৌরসভার সরকারি কবরস্থানের জন্য মাটি বরাদ্দ প্রকল্পে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ
নলছিটিতে পিআইওর বিরুদ্ধে কবরস্থানের মাটি বরাদ্দে ঘুষের অভিযোগ, তদন্ত শুরু

ঝালকাঠি: ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভার একটি সরকারি কবরস্থানের জন্য মাটি ভরাট প্রকল্পে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন নলছিটি পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ অলিউল ইসলাম। অভিযোগে বলা হয়েছে, নলছিটি পৌরসভার মল্লিকপুর সরকারি কবরস্থানে মাটি ভরাটের জন্য একটি টিআর (টেস্ট রিলিফ) প্রকল্পে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার টাকার কাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে ওই প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওলাদ হোসেন অতিরিক্ত খরচের কথা বলে মোট ৯ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারী অলিউল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা এবং বিভিন্ন চাপের কারণে তারা বাধ্য হয়ে ওই অর্থ প্রদান করেছেন। তিনি অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি কর্মকর্তার কার্যালয়ে এভাবে ঘুষ নেওয়া অনৈতিক এবং সরকারি সেবার নীতিমালার পরিপন্থী। তিনি আরও জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে জেলা প্রশাসনের কাছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওলাদ হোসেনকে ফোন করলে সাংবাদিক পরিচয় জানার পর তিনি ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, অভিযোগটি তদন্তের জন্য জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের ডিডি এলজিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে। এরপর বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে এবং প্রশাসনের তদন্তে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।   ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় দুপুর ১২টা পর্যন্ত তালাবদ্ধ থাকার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।  সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নলছিটি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের দরজায় তালা ঝুলছে। অথচ এ সময় সরকারি অফিস খোলা থাকার কথা এবং সেবাগ্রহীতাদের জন্য দায়িত্ব পালনের সময়ও এটি। এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আওলাদ হোসেনকে ফোন করা হলে তিনি কল রিসিভ করেন। কিন্তু সাংবাদিক পরিচয় জানার পর কোনো মন্তব্য না করে ফোন কেটে দেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন সেবাগ্রহীতা ও দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওলাদ হোসেন নিয়মিত অফিসে আসেন না। কখনো খেয়ালখুশিমতো অফিসে এলেও বেশিক্ষণ থাকেন না। ফলে সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, বিল উত্তোলন কিংবা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের ক্ষেত্রে নিয়মমাফিক কমিশন না দিলে বিভিন্নভাবে জটিলতা সৃষ্টি করা হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশেষ করে ছোট ছোট উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদার ও জনপ্রতিনিধিদের বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। একজন জনপ্রতিনিধি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যয় হওয়ার কথা। কিন্তু কমিশনের কারণে অনেক সময় প্রকল্প বাস্তবায়নই জটিল হয়ে পড়ে। বিল তুলতে গেলেই সবচেয়ে বেশি হয়রানি হয়।” স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন দায়িত্বহীনতা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করছে। এতে প্রকল্পের অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে এবং তৃণমূলের মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে কর্মকর্তার নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের মতে, সরকারি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার এমন আচরণ শুধু উন্নয়ন কার্যক্রমকেই বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং প্রশাসনের ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১০, ২০২৬ 0
চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির
বরিশালের বাকেরগঞ্জে চেয়ারম্যানের ওপর বিএনপি নেতাকর্মীর হামলা

বরিশালের বাকেরগঞ্জে নিয়ামতি ইউনিয়নে সরকারি বরাদ্দের চাল কম আনার অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হুমায়ুন কবির ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দলের বাকেরগঞ্জ উপজেলা শাখার সহসভাপতি।   এ ঘটনার একটি ভিডিও সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তেজিত যুবকরা চেয়ারম্যানকে ঘিরে ধরে কিল-ঘুসি মারছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও বিষয়টি পরিকল্পিত বলে দাবি করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য নুরুল ইসলাম আলামীন বলেন, চাল কম আনার অভিযোগ উঠলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। তাহলে আইন হাতে তুলে কেন নেওয়া হলো? আমরা মনে করি হামলার ঘটনা ইউনিয়ন বিএনপি নেতারা পরিকল্পিতভাবে ঘটিয়েছে। বাকেরগঞ্জ থানার ওসি খন্দকার সোহেল রানা ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, সরকারি চাল কম উত্তলোনের অভিযোগ তুলে নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ন কবিরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সরকারের বরাদ্দকৃত ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় নিয়ামতি ইউনিয়নের জন্য ২৪ টন চাল আসার কথা ছিল। তবে চেয়ারম্যান ১ টন চাল কম নিয়ে আসেন বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ উঠলে ট্যাগ অফিসার এনামুলের সামনে আবারও চাল মাপা হয়। এ সময় ১ টন কম পাওয়া যায়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা সালাম শিকাদার, কৃষক দল নেতা নয়ন, রাকিব, জুয়েল হাওলাদার, সোহেল হাওলদার ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল শিকদারের নেতৃত্বে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা চেয়ারম্যানের ওপর হামলা চালায়। ট্যাগ অফিসার এনামুল ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, চাল কম থাকার বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে এ ঘটনা ঘটে। তবে ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ন কবিরের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হামলার ঘটনা অস্বীকার করে যুবদল নেতা সালাম শিকাদার বলেন, আমি মারামারির প্রথমদিকে সেখানে ছিলাম না। তবে চাল কম আনার বিষয়টি আমাদের ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল শিকদার অবগত ছিলেন। তিনি চাল কম আনার কারণ জানতে চাইলে চেয়ারম্যান আমাদের ওপর হামলা করেন এবং চেয়ারম্যানের মামা ঘুসি মারেন। পরে স্থানীয়রা উত্তেজিত হলে মারামারির ঘটনা ঘটে। বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে জানানো হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১০, ২০২৬ 0
ঝালকাঠি পৌর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি শাসসুল হক মনু
ঝালকাঠিতে ধর্ষণ মামলার আসামি আ.লীগ নেতা শামসুল হক মনু ‘পলাতক’, নিজ বাড়িতে !

মো. সিয়াম খান: বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা ঝালকাঠিতে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা শামসুল হক মনুর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলেও তাকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। মামলার প্রায় দুই মাস পার হয়ে গেলেও প্রধান আসামিকে ধরতে না পারায় স্থানীয়ভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মামলার নথি, আদালতের নির্দেশনা এবং স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঝালকাঠি পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামসুল হক মনুসহ দুইজনের বিরুদ্ধে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয় চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি। মামলার বাদী  যিনি একটি জর্দা কোম্পানির শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন, ঝালকাঠি আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগটি দাখিল করেন। আদালতের নির্দেশে মামলা আদালতের বিচারক শরীফ মোহাম্মদ সানাউল হক অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে আমলে নিয়ে ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) এজাহার গ্রহণের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশের পর থানায় মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে রুজু করা হয় এবং তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে। আইন অনুযায়ী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে দায়ের হওয়া অভিযোগগুলোর তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক সময় এসব মামলায় তদন্ত ধীরগতির হয়—যা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তদন্তে পুলিশের অবস্থান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিলন মল্লিক গণমাধ্যমকে জানান, এজাহারভুক্ত দুই আসামির মধ্যে ফরিদ নামের একজন বর্তমানে অন্য একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন। তবে প্রধান আসামি শামসুল হক মনু এখনো গ্রেফতার হননি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে “আত্মগোপনে” রয়েছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, “আমরা তাকে গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।” তবে এই বক্তব্যের বিপরীতে স্থানীয়দের দাবি ভিন্ন। স্থানীয়দের দাবি: প্রকাশ্যে চলাফেরা মনুর পরিবারের একাধিক সদস্য এবং স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন, তিনি ঝালকাঠি শহরের নিজ বাসাতেই অবস্থান করছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাকে শহরের বিভিন্ন সড়কে জিপ গাড়ি নিয়ে চলাফেরা করতেও দেখা গেছে। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “তিনি যদি আত্মগোপনে থাকেন, তাহলে শহরের মানুষ তাকে প্রতিদিন দেখছে কীভাবে? সবাই তো দেখছে তিনি গাড়ি নিয়ে বের হচ্ছেন।” আরেকজন বাসিন্দা বলেন, “এটা সবাই জানে তিনি শহরেই আছেন। তাহলে পুলিশ তাকে ধরছে না কেন—এই প্রশ্ন এখন মানুষের মধ্যে আছে।” রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেক সময় অপরাধের তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত হয়—এমন অভিযোগ প্রায়ই উঠে আসে। যদিও এই মামলার ক্ষেত্রে সরাসরি এমন অভিযোগ আনতে চাননি স্থানীয় অনেকেই, তবে তারা বলছেন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের অনীহা কখনো কখনো দেখা যায়। শামসুল হক মনু স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে দলীয় কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। পুলিশের প্রতিক্রিয়া ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। তদন্তের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে তিনি আসামি গ্রেফতারের বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে কিছু জানাননি। আইনি বিশেষজ্ঞদের মত আইনজীবীরা বলছেন, আদালতের নির্দেশে দায়ের হওয়া মামলার ক্ষেত্রে তদন্তে বিলম্ব হলে তা বিচার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করতে পারে।ঝালকাঠির  এক ফৌজদারি আইনজীবী বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলাগুলোতে দ্রুত তদন্ত করা জরুরি। তার ভাষায়, “যদি কোনো আসামি আত্মগোপনে থাকে, তাহলে পুলিশ তাকে গ্রেফতারের জন্য আইন অনুযায়ী অভিযান চালাতে পারে। প্রয়োজনে আদালতের মাধ্যমে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা যায়।” ভুক্তভোগীদের জন্য চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশে যৌন সহিংসতার মামলায় ভুক্তভোগীরা অনেক সময় সামাজিক চাপ, ভয় এবং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে ন্যায়বিচার পেতে সমস্যার মুখে পড়েন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এ ধরনের মামলায় দ্রুত তদন্ত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের ভবিষ্যৎ এখন পর্যন্ত মামলার তদন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—যদি আসামি সত্যিই শহরে অবস্থান করে থাকেন, তাহলে তাকে গ্রেফতার করতে এত সময় লাগছে কেন। এই প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। মামলার অগ্রগতি এবং পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৯, ২০২৬ 0
চন্দ্রমোহন বাজার কমিটির কার্যালয় দখলের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
বরিশালে চন্দ্রমোহন বাজার কমিটির কার্যালয় দখলের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

বরিশাল সদরের চন্দ্রমোহন বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির স্থায়ী কার্যালয় দখল করে সেখানে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র ও বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বাজারের খাস জমিতে নির্মিত ওই কার্যালয়ে বর্তমানে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং সেখানে দলীয় সাইনবোর্ডও টানানো হয়েছে। জানা গেছে, ২০০৬ সালে বাজারের খাস জমির ওপর পাকা ভবন নির্মাণ করে চন্দ্রমোহন বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির স্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করা হয়। বাজারের প্রায় দেড়শ ব্যবসায়ী এই কমিটির সদস্য এবং বাজার পরিচালনা ও ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এ সংগঠনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। নিয়ম অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদাধিকারবলে কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ভবনটি দখলে নিয়ে সেখানে বিএনপির কার্যক্রম চালানো শুরু হয়। সম্প্রতি ভবনের সামনে চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন বিএনপির সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। এ ঘটনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কাজী ফিরোজ আলম—এমন অভিযোগও উঠেছে। চন্দ্রমোহন বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তারিন ঢালী বলেন, প্রায় এক বছর আগে গঠিত কমিটিতে তিনি সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। তবে তার আগ থেকেই কার্যালয়টি ব্যবহার করা হচ্ছিল না। তিনি বলেন, “বিএনপি নেতারা চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে ভবনটি ব্যবহার করছেন কিনা, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।” এদিকে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাই বলেন, “বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির অফিসটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ছিল। সভাপতি ফিরোজ আলম সংস্কার করে সেখানে তাঁর লোকজন নিয়ে বসেন। তবে আমি এ কাজটি পছন্দ করিনি, তাই সেখানে যাই না।” অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কাজী ফিরোজ আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। অন্যদিকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল হাওলাদার বলেন, “খাস জমিতে বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির একটি পাকা ভবন কার্যালয় রয়েছে। তবে বহু বছর ধরে সেটি ব্যবহার করা হয় না। আমি সাধারণত একটি ফার্মেসিতে বসে সভা করি। সেখানে বিএনপির সাইনবোর্ড আছে কিনা, সেটি আমার জানা নেই।”vএ ঘটনার পর বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
রাঙ্গাবালীতে সাড়ে ৪ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ
রাঙ্গাবালীতে ৪ কোটি টাকার সড়ক প্রকল্পে মানহীন নির্মাণ, স্থানীয়দের ক্ষোভ

রাঙ্গাবালী, পটুয়াখালী – পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অধীনে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অনুমোদিত প্রায় ৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকার প্রকল্পে বাস্তবে মানহীন কাজের চিত্র দেখা গেছে। রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গঙ্গিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সামুদাফৎ সড়ক হয়ে বটতলা পর্যন্ত ৬.২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নাজমুল শাহাদাৎ ট্রেডার্স। প্রকল্পের সিডিউল অনুযায়ী সড়কের প্রস্থ ১০ ফুট এবং কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব ১ ইঞ্চি হওয়ার কথা থাকলেও অনেক স্থানে তা কম দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হওয়ার তিন থেকে চার দিন পরও সড়কের ভেতরের অংশ শক্ত হয়নি। সুজন ডাক্তার জানান, “নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ না করে কাজ করা হচ্ছে। যথাযথ বিটুমিন ব্যবহার না করে কেবল ইট ঢেকে দায়সারা কাজ করা হচ্ছে।” অন্য একজন বাসিন্দা জব্বার খন্দকার বলেন, “পুরো সড়কজুড়েই অনিয়ম চলছে। ব্যবহৃত ইট নিম্নমানের, যা হাতে চাপ দিলেই গুঁড়া হয়ে যাচ্ছে। ঢালাইয়ের পুরুত্বও মাত্র দুই ‘সুতা’; সামান্য টান দিলেই উঠে যাচ্ছে।” অটোরিকশা চালক কামাল মাদবর আরও জানান, “অনেক স্থানে আধা ইঞ্চিরও কম ঢালাই, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের উপরিভাগ উঠে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।” উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, “উক্ত সড়কের কাজ স্টিমেট অনুযায়ী করা হচ্ছে। প্রতিবেদন প্রকাশে সমস্যা সমাধান হয় না, স্থায়ী সমাধানই গুরুত্বপূর্ণ।” তবে মাঠপর্যায়ে প্রাথমিক স্টিমেটের সঙ্গে বাস্তব পরিমাপের অমিল পাওয়া গেছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সাহিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “স্টিমেট অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। কিছু স্থানে কার্পেটিংয়ের পুরুত্বে গড়মিল আছে, সেটি আমি ঠিক করে দেব।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ভূঞা বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয়দের মতে, ৬ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করেন। তাদের দাবী, তদারকি কর্মকর্তাদের সক্রিয় নজরদারি এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলতার অভাবের কারণে সরকারের বিপুল অর্থ অপচয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দ্রুত প্রকল্প তদারকি করে মানসম্মত সড়ক নির্মাণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
ঝালকাঠি জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচন
ঝালকাঠি জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচন:সভাপতি শাহাদাৎ, সম্পাদক সোহেল আকন

ঝালকাঠি: জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ২টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ পরিচালিত হয়। ভোট গণনার পর বিকেলে নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট সৈয়দ হোসেন ফলাফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফলাফলে সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাৎ হোসেন ৮৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডভোকেট মাহেব হোসেন পান ৭৪ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট সোহেল আকন, ৬৩ ভোটে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডভোকেট নাসিমুল হাসান পেয়েছেন ৫৩ ভোট। নির্বাচনের অন্যান্য পদে বিজয়ীরা হলেন: সহ-সভাপতি: অ্যাডভোকেট মো. হারুন-অর-রশিদ – ৭৭ ভোট যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: অ্যাডভোকেট মো. গোলাম সরোয়ার লিটন – ৬৭ ভোট, অ্যাডভোকেট মো. মিজানুর রহমান মুবিন – ৭০ ভোট অর্থ সম্পাদক: অ্যাডভোকেট আরিফ হোসেন খান – ৯২ ভোট ভিজিল্যান্স সম্পাদক: অ্যাডভোকেট মো. মোফাজ্জেল হোসেন – ১২১ ভোট ভর্তি সম্পাদক: অ্যাডভোকেট আমির হোসেন মোল্লা – ৭৮ ভোট লাইব্রেরি সম্পাদক: অ্যাডভোকেট মো. ফিরোজ হোসাইন – ৭৬ ভোট নির্বাহী সম্পাদক: অ্যাডভোকেট মো. আক্কাস সিকদার – ১১২ ভোট, অ্যাডভোকেট মোবাশ্বের আলী ভূঁইয়া (বাদশা) – ১০২ ভোট উল্লেখযোগ্যভাবে, এই নির্বাচনে বিএনপির দুটি গ্রুপ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বাধীন প্যানেল সভাপতি পদসহ ৪টি পদে বিজয়ী হয়েছে। অন্যদিকে, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সাধারণ সম্পাদক পদসহ ৭টি পদে বিজয়ী হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কেউ জিততে পারেননি। নবনির্বাচিত সভাপতি মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “আইনজীবীদের অধিকার সংরক্ষণ, পেশাগত মর্যাদা রক্ষা এবং সমিতির সার্বিক উন্নয়নে আমি সকলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করব।” সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল আকন বলেন, “আইনজীবী সমিতির কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি আদালত অঙ্গনের পরিবেশ উন্নয়নে আমি আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করব।” নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ১১টি পদের বিপরীতে ২৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।  হাইলাইটস: সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে বিএনপির ভেতরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভিজিল্যান্স সম্পাদক পদে সর্বোচ্চ ভোট – ১২১ জামায়াতে ইসলামী কোন পদে জেতেনি জেলা আইনজীবী সমিতির সার্বিক নির্বাচন বিশ্লেষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
বরিশাল  সিটি করপোরেশন
বরিশালে কাউন্সিলর নেই, প্রশাসকের কাছে ঢোকাও কঠিন—সনদের জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা নগরবাসীর

বরিশাল নগরীতে দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক সেবা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সিটি করপোরেশনের অধিকাংশ ওয়ার্ড কাউন্সিলর আত্মগোপনে থাকায় জন্মনিবন্ধন সনদ, মৃত্যুসনদ, নাগরিকত্ব সনদ, ওয়ারিশ সনদসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ সেবা পেতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নগরবাসী। সরকার পতনের পরবর্তী পরিস্থিতিতে বরিশাল  সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বেশিরভাগ কাউন্সিলর আত্মগোপনে চলে যান। এরপর বিভাগীয় কমিশনার মো. শওকত আলী গত ১৯ আগস্ট সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে অধিকাংশ ওয়ার্ডে নির্বাচিত কাউন্সিলর না থাকায় নাগরিক সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কাউন্সিলর কার্যালয় বন্ধ, সেবা বন্ধ বরিশাল  সিটি করপোরেশনের সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী, ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের কার্যালয় থেকেই জন্মনিবন্ধন সনদ, মৃত্যুসনদ, নাগরিকত্ব সনদ, চারিত্রিক সনদ, উত্তরাধিকার (ওয়ারিশ) সনদ, ভূমিহীন সনদ, টিসিবি কার্ড এবং বিভিন্ন ভাতার সত্যায়িত সনদ প্রদান করা হয়। এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকা যাচাই, বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র ও অনাপত্তিপত্রেও কাউন্সিলরের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে মামলার কারণে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১৪টিরও বেশি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আত্মগোপনে থাকায় এসব কার্যালয় কার্যত বন্ধ রয়েছে। ফলে নাগরিকদের বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রশাসক নিয়োগেও সমাধান হয়নি বরিশাল  সিটি করপোরেশনে একজন মেয়র, ৩০ জন সাধারণ কাউন্সিলর এবং ১০ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের পরিবর্তে প্রথম শ্রেণির ২০ জন সরকারি কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নাগরিকদের অভিযোগ, দাফতরিক কাজের চাপে প্রশাসকরা যথাসময়ে নাগরিক সেবা দিতে পারছেন না। একজন জনপ্রতিনিধি যে সেবা দ্রুত দিতে পারতেন, তা পেতে এখন সপ্তাহ থেকে মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতারা প্রশাসকের কক্ষে প্রবেশও করতে পারছেন না। সনদের জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মিরাজুল ইসলাম জানান, তার সন্তানের স্কুলে ভর্তির জন্য জন্মনিবন্ধন সনদের প্রয়োজন হয়েছিল। তিনি বলেন, “প্রশাসকের কক্ষে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। এক সপ্তাহ ঘোরার পর দেখা পাই। কিন্তু সনদ পেতে এক মাস লেগে যায়। আগে কাউন্সিলরের মাধ্যমে এক সপ্তাহেই পাওয়া যেত।” একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পুষ্প চক্রবর্তী। তিনি জানান, নাগরিক সনদের জন্য এক মাস চেষ্টা করেও প্রশাসকের কক্ষে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে সাবেক কাউন্সিলরের সহযোগিতায় সনদ সংগ্রহ করতে হয়েছে। সাবেক কাউন্সিলরদের কাছে ছুটছেন নাগরিকরা বর্তমানে অনেক নাগরিক সাবেক কাউন্সিলরদের কার্যালয়ে গিয়ে সাহায্য চাইছেন। সাবেক কাউন্সিলররা জানান, প্রশাসকদের প্রটোকল ও ব্যস্ততার কারণে সাধারণ মানুষ সহজে তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না। ফলে তারা সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন দফতরে ফোন করে নাগরিকদের জরুরি কাজ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মর্তুজা আবেদীন বলেন, “একটি নাগরিক সনদ পেতে দেড় মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করার নজির রয়েছে। প্রতিদিন মানুষ আমার অফিসে সনদের জন্য আসছেন।” সমাধান কী? সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “সরকারি কর্মকর্তারা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তারা এলাকার মানুষকেও চেনেন না। তাই সেবা দিতে দেরি হচ্ছে। দ্রুত নির্বাচন বা সাবেক কাউন্সিলরদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিলে সমস্যা কমবে।” শতভাগ সেবা দেওয়া সম্ভব নয়: সিইও এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, বর্তমানে যারা কাউন্সিলরদের স্থলে প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের পক্ষে নাগরিকদের শতভাগ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী নগরীতে নাগরিক সেবার সংকটের পাশাপাশি বেড়েছে মশার উপদ্রবও। শুষ্ক মৌসুমে মশার অস্বাভাবিক বিস্তারে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে নগর জীবন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সিটি করপোরেশন নগরজুড়ে বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ শুরু করেছে। ১২টি জরুরি দলের মাধ্যমে সকাল-বিকাল নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. মনজুরুল হক জানান, মশার বিস্তার রোধে নতুন ধরনের ওষুধ ব্যবহার শুরু হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, প্রতিদিন প্রায় ২০০ লিটার অ্যাডাল্টিসাইড এবং বিভিন্ন এলাকায় লার্ভিসাইড ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে চারপাশে মশার বংশবিস্তার অনুকূল পরিবেশ থাকায় সমস্যার স্থায়ী সমাধান কঠিন হয়ে পড়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
বরিশাল আইনজীবী সমিতির নির্বাচন
বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম বিতরণে অনিয়ম,আদালত অঙ্গনে উত্তেজনা

বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম বিতরণকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জামায়াত সমর্থক ,আওয়ামীপন্থী ও বিএনপির   পক্ষের বেশ কয়েকজন আইনজীবী দাবি করেছেন, তারা মনোনয়ন ফরম পাননি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালত অঙ্গনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে বরিশাল আদালত প্রাঙ্গণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জানা গেছে, আগামী ২ এপ্রিল বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু করে নির্বাচন কমিশন। তবে একাধিক আইনজীবী অভিযোগ করেন, নির্দিষ্ট কিছু আইনজীবীকে মনোনয়ন ফরম দেওয়া হয়েছে এবং অনেক সম্ভাব্য প্রার্থীকে ফরম দেওয়া হয়নি। আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইকবাল আজাদ বলেন, তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে মনোনয়ন ফরম দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “আমিসহ অন্তত ৪০ থেকে ৫০ জন আইনজীবীকে মনোনয়ন ফরম দেওয়া হয়নি। নির্দলীয় নির্বাচনকে কলুষিত করার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এমনকি জামায়াত নেতা ও জামায়াত সমর্থক অ্যাডভোকেট সালাহ উদ্দিন মাসুমকেও ফরম দেওয়া হয়নি। আমরা এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি।” এদিকে সাবেক ছাত্রদল নেতা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান নান্টুও একই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “আমি জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। অথচ আমাকেও মনোনয়ন ফরম দেওয়া হয়নি। এর বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে।” বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক কাজী মনির বলেন, তফসিল অনুযায়ী তিনি মনোনয়ন ফরম নিতে আসলেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার ফরম দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “তারা একটি পাতানো নির্বাচনের প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে। আমরা এই প্রক্রিয়াকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।” বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এস এম সাদেকুর রহমান লিংকন বলেন, “নির্বাচনে সভাপতি পদে ৮ জন, সম্পাদক পদে ১২ জনসহ প্রায় ৬০টি মনোনয়ন ফরম বিতরণ করা হয়েছে। মোট পদ রয়েছে ১১টি। কিছু লোক না এসেই অভিযোগ করছেন যে তারা ফরম পাননি। যারা আমাদের কাছে এসেছেন, তাদের ফরম দেওয়া হয়েছে।” এদিকে মনোনয়ন ফরম বিতরণকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আইনজীবীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বরিশাল সিটিতে বিএনপির মেয়র মনোনয়ন ঘিরে হিসাব–নিকাশ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও  বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও  বি এম কলেজ এর  সাবেক জি এস  এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা।  নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।  

অর্থনীতি

তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ৪৭ ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র

বাংলাদেশে ৪৭টি তেল-গ্যাস ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র শিগগির: এলএনজি নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0




অপরাধ

বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের নমুনা সংগ্রহকারী গ্রেফতার

বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের নমুনা সংগ্রহকারী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২০, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা  দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0