Brand logo light
অনুসন্ধানী সংবাদ

অপসোনিনের বিরুদ্ধে নদী দখল'র ভয়াবহ চিত্র, হুমকিতে পরিবেশ ও জীবিকা

ভয়াবহ নদী দখল : অপসোনিনের কবলে সুগন্ধা ও কীর্তনখোলা

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
নদী দখল - অপসোনিনের কবলে সুগন্ধা ও কীর্তনখোলার মোহনা -ইত্তেহাদ
নদী দখল - অপসোনিনের কবলে সুগন্ধা ও কীর্তনখোলার মোহনা -ইত্তেহাদ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল:

বরিশালের গুরুত্বপূর্ণ নদীপথ সুগন্ধা কীর্তনখোলার মোহনায় অবৈধ দখল দূষণের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে অনুসন্ধানে অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠীঅপসোনিননদীর তীর মোহনার বিস্তীর্ণ অংশ দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, বর্জ্য ফেলা,জমি দখল,পরিবেশ ধ্বংস এবং জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করছে,যার ফলে পরিবেশ জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছেমোহনা এখন আর শুধু প্রাকৃতিক জলপথ নয়এটি পরিণত হয়েছে দখল, দূষণ অপসোনিনের আধিপত্যের এক জটিল সংঘাতে

 

দখলের বিস্তার কৌশল:

স্থানীয় বাসিন্দা জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে ধীরে ধীরে নদীর তীর ঘেঁষে মাটি ভরাট, স্থায়ী বিশাল কংক্রিট দেয়াল  নির্মাণ  ভরাট করে স্থাপনের মাধ্যমে দখল প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে শুরুতে ছোট পরিসরে কাজ হলেও বর্তমানে তা বড় শিল্পকারখানার সম্প্রসারণে রূপ নিয়েছেসুগন্ধা কীর্তনখোলার  মোহনায় বিশাল এই স্থাপনা যেন বাংলাদেশের লাগামহীন নদী দখলের এক ভয়াবহ নিদর্শন

একজন জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,

আগে এই জায়গায় আমরা জাল ফেলতাম এখন সেখানে বাঁধ দেওয়া হয়েছে, ফলে নদী এখন ভুমিতে পরিনত করেছে অপসোনিন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রথমে কারখানাটি ছোট্ট একটি জায়গায় গড়ে ওঠে কিন্তু প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে নদীতে বালু ফেলে ধীরে ধীরে তারা জায়গা বাড়াতে থাকে রাতের আঁধারেও সেই কাজ চলতফলে নদীপথে নাব্যতা সংকট সৃষ্টি করছে, নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ ব্যাহত করছে এবং পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে

 

. নদীর বুক চিরেশিল্প সাম্রাজ্য

স্থানীয় সূত্র মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, ঝালকাঠির দপদপিয়া তিমিরকাঠী সংলগ্ন এলাকায় সুগন্ধা  বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর ভেতরে ৫০ একরের বেশি এলাকা ভরাট করে শিল্প স্থাপনা সম্প্রসারণের অভিযোগ রয়েছে

নদীতে কংক্রিট ব্লক ফেলে ধীরে ধীরে চর সৃষ্টি করে সেই চর পরে কোম্পানির জমির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ সংকুচিত হয়েছে

 

. ‘সিকিস্তি জমিদখলের অভিযোগ

নদীভাঙনে বিলীন হওয়া জমি পরে জেগে উঠলে তা পূর্ব মালিকদের পাওয়ার কথা থাকলেও

অভিযোগ আছে, সেই জমি দখল করে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে.

শতাধিক পরিবার তাদের জমি ফিরে পায়নিদখল ঠেকাতে গেলে হামলা-হুমকির অভিযোগও রয়েছে  এটি শুধু নদী দখল নয়ভূমি অধিকার সংকটেও রূপ নিয়েছে

 

. পরিকল্পিত ভরাট  ও  তীর দখল

পরিবেশকর্মীদের মতে

নদীর ভেতরে বালু ভরাট করা হয়েছেতীর ঘেঁষে গাইড ওয়াল শিল্প অবকাঠামো তৈরি হয়েছেনদীর অংশ নিজেদের সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার করছেফলে নদীর প্রাকৃতিক সীমানা প্রায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে

. দূষণের ভয়াবহ চিত্র

সুগন্ধা কীর্তনখোলা নদী এখন বহুমুখী দূষণের শিকার

প্রধান দূষণের ৎস:

অপসোনিন কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য, ময়লা,প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য সরাসরি  নদীতে পড়ছে, যা পানিকে বিষাক্ত করে তুলছেফলে পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছেমাছ জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে ও নদীর নাব্যতা কমে যাচ্ছে

. সুগন্ধা নদীর সংকট: ভাঙন চাপ

শুধু কীর্তনখোলা নয়, পাশের সুগন্ধা নদীতেও সংকট বাড়ছেঅপসোনিন দুটি নদীরই  অংশ দখল করে নিয়েছে যার মারাত্মক প্রভাব পড়েছে নদীগুলোর প্রাকৃতিক প্রবাহ পরিবেশ ব্যবস্থায় প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে

তীব্র ভাঙনে গ্রাম, রাস্তা,  প্রতিষ্ঠান বিলীন,নদীর গতিপথ পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হুমকির মুখে

মোহনা অঞ্চলে কৃত্রিম বাধা দখল দপদপিয়া তিমিরকাঠি মৌজার অংশ  এই ভাঙনকে আরও ত্বরান্বিত করছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারনাএছাড়া দপদপিয়া -নলছিটি সড়কটি এখন ভাঙনের মুখে

 

. প্রশাসনিক দুর্বলতা প্রভাবশালী চক্র

অনুসন্ধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে

দখল শুধু ঘটছে না, বরং দীর্ঘদিন ধরে তা টিকে আছে

কারণগুলো:

প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠীর প্রভাবআইনের দুর্বল প্রয়োগউচ্ছেদ অভিযানের ধারাবাহিকতার অভাব

যদিও প্রশাসন জানিয়েছে, নদী দখল দূষণ রোধে পরিকল্পনা রয়েছে

. দখলদার অপসোনিন, বিস্তৃত নেটওয়ার্ক

কীর্তনখোলা ও সুগন্ধা নদী দখলে অপসোসিনের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে।এ দুটি নদী দখলের প্রতিযোগীতায় অপসোনিন এগিয়ে।নদীতে ব্লক ফেলে নদী দখল করেছে এ অঞ্চলে একমাত্র অপসোনিন। সাবেক এমপি ও আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতা আমির হোসেন আমুর প্রভাবকে তারা কাজে লাগিয়ে নদী দখল করেছে বলে স্থানীয়রা জানান। অর্থা, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়-একটি সংগঠিত দখল প্রক্রিয়া

. সামাজিক: অর্থনীতির উপর প্রভাব

অর্থনৈতিক:

জেলেদের আয় কমে গেছে,নৌ চলাচলে বাধা  নদীভিত্তিক ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত

সামাজিক:

ভূমিহীনতা বৃদ্ধি-স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ অনিশ্চয়তানদীর অংশও দখলের আওতায় চলে গেছে

. বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

পরিবেশবিদদের মতে

নদীকেজীবন্ত সত্তা হিসেবে আইনি স্বীকৃতি থাকলেও বাস্তবে তা রক্ষা হচ্ছে না

দ্রুত দখলমুক্ত না করলে নদী হারানোর ঝুঁকি রয়েছে

 

 

পরিবেশগত ক্ষতি:

বিশেষজ্ঞদের মতে, মোহনা অঞ্চল নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পলি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এখানে বাধা সৃষ্টি হলে

নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হতে পারে,

মাছের প্রজনন ব্যাহত হয়,

নৌ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়

পরিবেশকর্মীরা জানান, শিল্পবর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলার ফলে পানির রং গন্ধ পরিবর্তিত হয়েছে অনেক এলাকায় তেলজাতীয় পদার্থ ভাসতে দেখা গেছে

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন:

প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, দখলের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলেও কার্যকর পদক্ষেপ খুব একটা দেখা যায়নি নদী রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবও প্রকট

একজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা বলেন,

নদী দখল ঠেকাতে আইনি কাঠামো আছে, কিন্তু প্রয়োগে দুর্বলতা রয়েছে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর কারণে অনেক সময় অভিযান থেমে যায়

 

আমুর প্রভাবে ১৮ একর জমি দখলের :

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর ক্ষমতার দাপটে জাল জালিয়াতির মাধ্যে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অপসোনিন ফার্মাসিটিক্যাল লিমিটেড কোম্পানি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা মিসকেস সাজিয়ে আমির হোসেন আমুর ক্ষমতার প্রভাবে ১৮ একর ১৫ শতাংশ জমি আত্মসাত করেছেন।এমন অভিযোগ তুলে আমির হোসেন আমু ও অপসোনিন ফার্মাসিটিক্যাল লিমিটেডের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে ভূক্তভোগিরা। ভূক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বোরহান উদ্দিন মিলন। তিনি বলেন, ফ্যাসিষ্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার দোসর সাবেক খাদ্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু অপসোনিন ফার্মাসিটিক্যাল লিমিটেডের অংশীদার। এছাড়া রাকিব খান ও রউফ খান পরস্পর মামাতো-ফুফাতো ভাই। তাঁরা আওয়ামী লীগের আমলে আমির হোসেন আমুর ক্ষমতার অপব্যবহার করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভূয়া মিস কেস ২৩০/৬৫-৬৬ নম্বর বন্দোবস্তের মাধ্যমে তাদের ৭ পরিবারের প্রায় ১৮ একর ১৫ শতাংশ ভূমি আত্মাসাত করে নেয়। মিলন আরও বলেন, নলছিটি এসিল্যান্ড অফিসের ১২ নম্বর রেজিস্টার বইতে মিস কেস ২৩০/৬৫-৬৬ এর কোন অস্তিত্ব নেই। বরং ওই রেজিস্টারে তিনটি বন্দোবস্ত কেস দায়ের রয়েছে। কিন্তু নলছিটি জেএল নম্বর ১২৭ পশ্চিম চর দপদপিয়ার জমি অপসোনিন কোম্পানির মালিক রাকিব খানের নামে ৪৩১৯/১৯ দলিল এবং ৩৮২৮/২০০০ নম্বর দলিল বরিশাল সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে রেজিস্ট্রি হয়, যা ১৯৬৬ সালে আইনে সম্পূর্ণ অবৈধ। যত দলিল অপসোনিন কোম্পানিকে দেয়া হয়েছে। এর মূল মালিকানা স্বত্ব ২৩০/৬৫-৬৬ মিস বন্দোবস্ত কেসটি দলিলে উল্লেখ্য নাই। এসকল দলিলে জাগুয়া ইউনিয়ন জেএল ১২৭ নম্বর উল্লেখ্য করেছে, কিন্তু প্রকৃত পক্ষে জাগুয়া ইউনিয়ন জেএল নম্বর ৫৪। সকল দলিল জাল জালিয়াতি মাধ্যমে সৃষ্টি করা হয়েছে। তাছাড়া এই রাকিব খান ও রউফ খান কীর্তনখোলা নদীর স্রোত গতি পরিবর্তন করে, নদী ভরাট ও দখল করে পরিবেশের ভারসম্যের ব্যাঘাত ঘঠিয়ে শিল্প কারখানা গড়ে তুলেছেন। শত শত অসহায় গরীব মানুষের জমি এবং সরকারের খাস জমি অবৈধভাবে জবর দখল করেছে। এর সব কিছুর নেপথ্যে আমির হোসেন আমু। তিনি বলেন, এ নিয়ে ঝালকাঠি আদালতে মামলা করেছেন ভূক্তভোগীরা। মামলায় ২৩ বছর তারা কোর্টে হাজির না হয়ে, কোর্ট অবমাননা করেছেন। তারা অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের মাধ্যমে আইন কানুন আদালতকে তোয়াক্কা না করায়, তাদের বিরুদ্ধে আদালত জি আর মামলা নং ৩১/২৫ এবং সি আর ১৪৭/২৫ নং মামলায় গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করে। আমির হোসেন আমুর অবৈধ ক্ষমতার দাপটে বহু অসহায় গরীব মানুষের ভূমি জবর দখল করে নিয়েছে। জাল-জালিয়াতির মূল হোতা অপসোনিন ফার্মার অসাধু কর্মকর্তা মো. পারভেজ আহমেদ, রফিক আহম্মেদ, জসিম উদ্দিন, ফিরোজ আহমেদ বলে উল্লেখ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- ভূক্তভোগী জালাল আহমেদ খান, জাহাঙ্গীর খান, সিরাজুল ইসলাম গাজী, সাইফুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সাইফুল।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, 'হাইকোর্ট নদীগুলোকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করেছেন এর মানে স্থানীয় প্রশাসনের এখতিয়ার রয়েছে অবিলম্বে দখলদারদের উচ্ছেদ করার'তিনি বলেন, 'আমি বুঝতে পারছি না কেন তারা এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

 

অপসোনিনের বক্তব্য :

অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানঅপসোনিন-এর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়েছে, তারা কোনো অবৈধ দখলে জড়িত নয় তাদের দাবি, সব স্থাপনা বৈধ অনুমোদনের ভিত্তিতেই নির্মিত এবং পরিবেশগত মানদণ্ড মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তব পরিস্থিতি সেই দাবির সঙ্গে মিলছে না

 

করণীয় সুপারিশ:

বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতি মোকাবেলায় কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপের কথা বলেছেন

নদীর সীমানা নির্ধারণ করে দখলমুক্ত করা,

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দ্রুত অভিযান,

শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি,

স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা

সুগন্ধা কীর্তনখোলার মোহনা শুধু নদীপথ নয়, বরং অঞ্চলের অর্থনীতি, জীবিকা পরিবেশের প্রাণকেন্দ্র দখল দূষণের এই চক্র অব্যাহত থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্য প্রজন্মের জন্য এই নদীগুলোকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে

সুগন্ধা কীর্তনখোলার মোহনায় যা ঘটছে তা শুধু একটি নদী দখলের ঘটনা নয়

এটি পরিবেশ, অর্থনীতি, ভূমি অধিকার প্রশাসনিক ব্যর্থতার সম্মিলিত সংকট

এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে

নদীর নাব্যতা হারাবে,জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে,হাজারো মানুষের জীবিকা বিপন্ন হবে,

নদী রক্ষার লড়াই এখন সময়ের দাবি

 

 

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

অনুসন্ধানী সংবাদ

View more
দক্ষিণাঞ্চলে চিংড়ির রেণুপোনা পাচার: টুলু সিন্ডিকেট
দক্ষিণাঞ্চলে চিংড়ির রেণুপোনা পাচার: টুলু সিন্ডিকেট, কোটি টাকার এই অবৈধ বাণিজ্যের নেপথ্যে যারা

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : উপকূলীয় অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ ধ্বংস করে দক্ষিণাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলছে নিষিদ্ধ চিংড়ির রেণুপোনা পাচার। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বরিশালকেন্দ্রিক একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট প্রতিরাতে কোটি টাকার অবৈধ রেণুপোনা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করছে। স্থানীয় সূত্র, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, প্রশাসনিক পর্যায়ের একাধিক ব্যক্তি এবং মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, অসাধু ব্যবসায়ী,  সাংবাদিক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের যোগসাজশ থাকার অভিযোগ রয়েছে।   ‘টুলু সিন্ডিকেট’ নামে পরিচিত একটি নেটওয়ার্ক অনুসন্ধানে জানা যায়, গোপালগঞ্জের টুলু নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ বাণিজ্যের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি দক্ষিণাঞ্চলের রেণুপোনা বাণিজ্যে একক আধিপত্য গড়ে তোলেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।  অভিযোগের বিষয়ে টুলুর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি। সূত্র বলছে, বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এই সিন্ডিকেটে সিপন, হারুন, বিপ্লব, রনি, জিন্নাত ডাক্তার, নিও, সুমনরাজ, সকেট জামাল, রহিমসহ প্রায় দুই শতাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উপকূল থেকে নগর—রাতভর পাচারের রুট তদন্তে উঠে এসেছে, পটুয়াখালীর কলাপাড়া, ভোলার উপকূলীয় অঞ্চল ও মেহেন্দিগঞ্জ এলাকার নদী মোহনা থেকে অবৈধভাবে চিংড়ির রেণুপোনা সংগ্রহ করা হয়। পরে ড্রামভর্তি করে ট্রাক, ট্রলার ও স্পিডবোটে করে সেগুলো বরিশাল হয়ে খুলনা ও বাগেরহাটসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রশাসনের নজর এড়াতে প্রতিনিয়ত নতুন কৌশল ব্যবহার করছে এই চক্র। কখনও মাছবাহী ট্রাক, কখনও সাংবাদিক স্টিকার লাগানো প্রাইভেটকার ব্যবহার করা হচ্ছে পরিবহনে।   ‘সাংবাদিক স্টিকার’ ব্যবহার করে নিরাপদ রুটের অভিযোগ সাম্প্রতিক সময়ে পোর্ট রোড এলাকার এক মৎস্য ব্যবসায়ী রনির বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটকে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, গভীর রাতে প্রাইভেটকারে ‘Press’ বা ‘সাংবাদিক’ স্টিকার ব্যবহার করে তারা রেণুপোনার চালান নিরাপদে পার করে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন চেকপোস্ট এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানী দলের হাতে এমন কয়েকটি ভিডিও এসেছে, যেখানে সাংবাদিক স্টিকারযুক্ত গাড়ির গতিবিধি সন্দেহজনক বলে প্রতীয়মান হয়েছে।  ‘ম্যানেজ বাজেট’: ৪৪ লাখ টাকার সমঝোতার অভিযোগ স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রেণুপোনা পরিবহন নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন, স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও কিছু সংবাদকর্মীকে ‘ম্যানেজ’ করার জন্য একটি বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ করা হয়। বরিশাল নগরীর কয়েকটি অভিজাত হোটেলে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে প্রথমে ৩৬ লাখ টাকার একটি সমঝোতা বাজেট নির্ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সেটি বাড়িয়ে ৪৪ লাখ টাকা করা হয় বলেও দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।   কনস্টেবল  মেহেদি হাসানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ সাম্প্রতিক এক ঘটনায় বরিশাল আইনশৃংখলা বাহিনীর এক তদন্তকারী সংস্থার কনস্টেবল মেহেদি হাসানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, শিকারপুর ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় তিনি নিজেকে ‘এসআই’ পরিচয় দিয়ে রেণুপোনা ভর্তি একটি ট্রাক ও একটি সিএনজি আটক করেন। পরে ব্যবসায়ীদের কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করা হয়। দরকষাকষির একপর্যায়ে ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে সেই টাকা ফেরত দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। এ ঘটনায় ভোর থেকে প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা যানবাহন আটকে থাকায় ড্রামে থাকা প্রায় ৯০ হাজার রেণুপোনা মারা যায় বলে ব্যবসায়ীদের দাবি। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলেও তারা জানিয়েছেন।তবে মেহেদি হাসান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।   নোমরহাট ব্রিজে ‘সরাসরি উপস্থিতি’ অনুসন্ধানী দল চাঁদপাশা–সায়েস্তাবাদ সংযোগস্থলের নোমরহাট ব্রিজ এলাকায় অবস্থান নিয়ে স্পিডবোট, ট্রলার ও ট্রাকে রেণুপোনা পরিবহনের দৃশ্য ধারণ করে।সেখানে কয়েকজনকে রেণুপোনাভর্তি ড্রাম ট্রাকে তুলতে দেখা যায়। স্থানীয়দের প্রশ্ন—মৎস্য অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট থানাকে না জানিয়ে কারা এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে, এবং কোন ক্ষমতাবলে তা হচ্ছে? এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।   প্রশাসনের অভিযান, তবু থামছে না পাচার র‌্যাব-৮, নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও জেলা মৎস্য অধিদপ্তর একাধিক যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ রেণুপোনা, ইলিশ ও সামুদ্রিক মাছ জব্দ করেছে। বরিশালের রূপাতলী, দপদপিয়া সেতু ও বিভিন্ন প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসিয়ে বেশ কয়েকবার ট্রাকচালক, শ্রমিক ও সিন্ডিকেটসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটক করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, জামিনে বেরিয়ে আবারও একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে সিন্ডিকেটের সদস্যরা।   জীববৈচিত্র্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি পরিবেশবিদ ও মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি চিংড়ির রেণু সংগ্রহ করতে গিয়ে নদী ও মোহনায় শত শত প্রজাতির অন্যান্য মাছের পোনা ও জলজ প্রাণী ধ্বংস হয়ে যায়। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ শিকার চলতে থাকলে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ ভয়াবহ সংকটে পড়বে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও অর্থনীতি।   রেণু আহরণের সময়  নষ্ট করা হচ্ছে রেণু ও লার্ভি,দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছ বিলুপ্তির শঙ্কা মৎস্য গবেষকরা বলছেন, নদী থেকে একটি চিংড়ি রেণু আহরণের সময় মাছ, জুপ্লাংকটনসহ বিভিন্ন জলজ প্রজাতির সাড়ে ৭৭৮টি রেণু ও লার্ভি নষ্ট করা হচ্ছে। মাছের রেণু রক্ষা করা না গেলে জীববৈচিত্র নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছ বিলুপ্তির শঙ্কা রয়েছে।প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ২০০২ সালে গলদা চিংড়িসহ সব ধরনের মাছের রেণু পোনা আহরণ নিষিদ্ধ করে সরকার।চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানেও নিয়মিত চোখে পড়ে এমন দৃশ্য। গোধূলী লগ্ন থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে এই নিষিদ্ধ কার্যক্রম। মূলত মশারি জাল দিয়ে তৈরিকৃত এক ধরনের বিশেষ জাল (ঠেলা জাল) দিয়ে নদী থেকে চিংড়ির রেণু আহরণ করে থাকে জেলেরা। এসময় চিংড়ির পাশাপাশি নদীতে থাকা সকল ধরনের মাঝের পোনা ও লার্ভি উঠে আসে জালে। পরে সেগুলো থেকে বাছাই করে গলদা চিংড়ির রেণুগুলো সংরক্ষণ করলেও নির্বিচারে নষ্ট হচ্ছে অন্যান্য মাছের পোনা। জেলে তাজুল ইসলাম বলেন, চিংড়ির রেণু ধরে প্রতিদিন পাঁচশ থেকে ১২শ টাকা আয় হচ্ছে আমাদের। যশোর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলেরজেলাগুলোর মাছের ঘেরে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে গলদা চিংড়ির রেণুর। চাহিদার ওপর ভিত্তি করে পঞ্চাশ পয়সা থেকে ২ টাকা পর্যন্ত প্রতি পিস রেণু বিক্রি করা হয়ে থাকে।জেলে রূপম ইসলাম বলেন, চিংড়ি’র রেণু ধরা যে অবৈধ তা আমরা জানিনা। সংসার চালাতে পেটের দায়ে রেণু আহরণ করি আমরা। রেণু ধরতে গিয়ে হয়তো কিছু পোনা মারা যায়। তবে গলদা চিংড়ির রেণু বেছে বাকি মাছের রেণু আমরা নদীতে ফেলে দেই।   রেণু নিধণের ফলে নদীতে সংকট দেখা দিয়েছে মাছ উৎপাদনে,প্রভাব পড়ছে বাজারে চিংড়ি গবেষক আব্দুল বারী বলেন, প্রতিনিয়ত মাছের রেণু নিধণের ফলে নদীতে সংকট দেখা দিয়েছে মাছ উৎপাদনে। এর প্রভাব পড়ছে বাজারে। আগে নদীতে বড় সাইজের চিংড়ি মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু এখন আর তেমনটা দেখা যাচ্ছে না। চিংড়ির দামও অনেক বেশি। নদীতে মাছের রেণু সংরক্ষণ করা না গেলে আগামীতে দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্তি হয়ে যাবে।   রেণু আহরণ পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বাগেরহাট চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও চিংড়ি গবেষক ড. মো. হারুনর রশিদ বলেন, কোনো অবস্থাতেই মাছের রেণু আহরণ করা ঠিক নয়। এতে করে পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। তিনি জানান, চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রের একটি গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, নদী থেকে একটি চিংড়ির রেণু ধরার জন্য মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রজাতির প্রায় ৭৭৮টি পোনা ও লার্ভি নষ্ট করা হয়। প্রতি বছর প্রাকৃতিক উৎস হতে রেণু আহরণের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে জলাশয়ের জীববৈচিত্র বিনষ্ট হওয়াসহ অনেক মাছ বিলুপ্তি আশঙ্কা রয়েছে। এই সংকট থেকে উত্তরণে কৃত্রিমভাবে গলদা চিংড়ির রেণু উৎপাদন করার পাশাপাশি জেলেদের সচেতন করা প্রয়োজন।    নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। তাই পুরো সিন্ডিকেট, তাদের অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক, প্রশাসনিক যোগসাজশ এবং রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তাদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও গণমাধ্যমের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে, তবে তা শুধু রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থাই নষ্ট করবে না, বরং উপকূলীয় পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্যও দীর্ঘমেয়াদি হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২০, ২০২৬ 0
প্রধান প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান

সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে টেন্ডার জালিয়াতি, কমিশন বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগ

নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মো. শফিকুল ইসলাম

গণপূর্ত অধিদপ্তরে টেন্ডার কারসাজির অভিযোগ: নির্বাহী প্রকৌশলীসহ কয়েক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্যের দাবি

বরিশাল গণপূর্তের প্রকৌশলী মানিক লাল দাস

বরিশাল গণপূর্তের প্রকৌশলী মানিক লাল দাসের কোটি টাকার টেন্ডার ও দুর্নীতির অভিযোগ

এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী
এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যক্টরী বন্ধ,ভ্যাট ফাঁকি ও অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়ায় তোলপাড় বরিশাল কাস্টমস- ভ্যাট অফিস

এ্যাংকর সিমেন্ট: ভ্যাট ফাঁকি, অর্থ পাচার ও অব্যবস্থাপনায় ধ্বংসের মুখে এক শিল্পপ্রতিষ্ঠান । ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ, উৎপাদন বন্ধে বেতনহীন কর্মচারীদের আহাজারি। অর্থ পাচার ও বেতন বকেয়া: ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে বরিশালের এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী। ইত্তেহাদ নিউজ অনলাইন: একটি সফল প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।বিদ্যুৎ বিল বকেয়ার কারনে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন।কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন বকেয়া।কর্ম বিরতি। ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি,শুধু ভ্যাট ফাকিঁই নয় নিয়েছে অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা।বিদেশে অর্থ পাচারের ঘটনা তদন্ত করছে দুদক।অগ্রীম টাকা দেয়া ডিলার,রিটেইলার সিমেন্ট না পেয়ে ক্ষুব্ধ।এখন তারা তাদের পাওনা ফেরৎ পেতে ভিড় জমাচ্ছেন।অন্যান্য পাওনাদাররাও একই পথে। বলছি বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের এ্যাংকর সিমেন্ট এর কথা।   গভীর সংকটের মুখে  ‘এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী’ :   বরিশালের অন্যতম পরিচিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের ব্র্যান্ড ‘এ্যাংকর সিমেন্ট’ এখন গভীর সংকটের মুখে। ভ্যাট ফাঁকি, অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা গ্রহণ, বিদেশে অর্থ পাচার, ব্যাংক ঋণ খেলাপি, বকেয়া বেতন এবং উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বহুমাত্রিক বিতর্ক। কারখানায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। তিন মাস ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বন্ধ। উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির। অন্যদিকে অগ্রিম অর্থ দিয়েও সিমেন্ট না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন ডিলার, রিটেইলার ও করপোরেট ক্রেতারা। পাওনাদারদের চাপ বাড়তে থাকায় প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীতে নেই বিদ্যুৎ, নেই পানি।হাহাকার অবস্থা।বেতন -ভাতা বকেয়ার কারনে চলছে কর্ম বিরতি।বন্ধ উৎপাদন।অচলাবস্থায় মালিক পক্ষ ভাড়ায় ও বিক্রির জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করছেন।তবে কেউ দ্বায়িত্ব নিতে আগ্রহী হয়নি।কারন পাশে বৃহৎ ঔষধ কোম্পানীর ফ্যাক্টরী রয়েছে। এ্যাংকর সিমেন্টের ধুলাবালিতে ওখানের পরিবেশ দুষনের রেট অনেক উচ্চ।পরিবেশ অধিদপ্তরকে ঘুষ দিয়ে প্রতি বছর অলিম্পিক সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়ন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির ঘটনায় বরিশাল কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিসে তোলপাড় :    সম্প্রতি এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যক্টরীতে স্টক রেজিষ্টারে ৮০ হাজার মেট্রিক টন ক্লিংকার জমা থাকলেও বাস্তবে কোথাও নেই এই ক্লিংকারের হিসেব।এ্যাংকর সিমেন্ট লিমিটেডের ভ্যাট কর্মকর্তা মোস্তফা জানান,ক্লিংকার যা ছিল তা দিয়ে সিমেন্ট তৈরী করা হয়েছে। এ্যাংকর সিমেন্ট এর কপোরেট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,৮০ হাজার মেট্রিক টন ক্লিংকার দিয়ে প্রায় ২৬ লাখ ৬৫ হাজার ৬৬৭ ব্যাগ সিমেন্ট তৈরী করে ডুপ্লিকেট মুসক চালানের মাধ্যমে বিক্রি করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে শুধু ক্লিংকার থেকে প্রায় ২০ কোটি টাকা এছাড়া লাইমস্টোন, জিপসাম, স্লাগ ও ফ্লাই এ্যাশ থেকে আরো ২০ কোটি টাকাসহ মোট ৪০ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার সংবাদ প্রকাশিত হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়  জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিয়ন্ত্রণাধীন বরিশাল কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিসে। ইতিমধ্যে তারা খোজ খবর নিতে শুরু করেছেন ভ্যাট ফাঁকি ও অতিরিক্ত রেয়াতের বিষয়ে।   হতাশ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা   ঈদুল ফিতরের বোনাসসহ বেতন বাকি তিন মাসের।ঈদুল আজহা আসন্ন।এখনো বকেয়া বেতন ভাতা না পেযে হতাশ ও ক্ষুব্ধ। সম্প্রতি কর্মকর্তারাও কর্ম বিরতি পালন করে আসছেন।কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, বছরের পর বছর কাজ করেও এখন বেতন ও পাওনা বুঝে পাচ্ছেন না। এতে কয়েক হাজার মানুষের জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত অনেক শ্রমিক-কর্মচারী ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় মানবেতর পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছেন।  ব্যাগ উৎপাদন ইউনিট অলিম্পিক ফাইবার লিমিটেডও এপ্রিলের শেষ দিক থেকে বন্ধ রয়েছে। শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানিয়েছেন, কয়েক দফা ছুটি বাড়ানোর পরও এখন পর্যন্ত উৎপাদন শুরু হয়নি।   দুদকের নজরে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে এলসি ভ্যালু বাড়িয়ে এবং আন্ডার-ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে, দুবাই, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি, ফ্ল্যাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কেনার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অবৈধ অর্থ পাচারের ইঙ্গিত পাওয়ায় ইতোমধ্যে নোটিশও দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।   বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, বন্ধ উৎপাদন   গত ১৪ মে তিন কোটির বেশি টাকার বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের কারণে এ্যাংকর সিমেন্ট কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বিদ্যুৎ বিভাগ। ওজোপাডিকোর বরিশাল বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পুরো কারখানা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। কাঁচামালের সংকট, শ্রমিক অসন্তোষ এবং আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।   ব্যাংক ঋণের চাপ ও আর্থিক সংকট অলিম্পিক সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার এবং অলিম্পিক শিপিং লাইন্সে অর্থায়নকারী একাধিক ব্যাংক ঋণ আদায়ে চাপ বাড়িয়েছে। ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক এবং উত্তরা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা হচ্ছে না। এমনকি ব্যাংক প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করতেও অনীহা দেখাচ্ছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।   আরও পড়ুন: এ্যাংকর সিমেন্টে ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ : বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বরিশালে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ হতে যাচ্ছে : বাড়ছে পাওনাদারদের ভিড়,গা ঢাকা দিয়েছে  এ্যাংকর সিমেন্টের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, আর্থিক সংকট,উৎপাদন বন্ধ ,       ডিলার-রিটেইলারদের ক্ষোভ   অগ্রিম অর্থ নিয়েও সিমেন্ট সরবরাহ না করায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ডিলার ও রিটেইলারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, রাজশাহী, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরসহ বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকার পাওনা আদায়ে এখন প্রতিষ্ঠানটির অফিস ও কারখানার সামনে ভিড় করছেন। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, কমিশনের লোভ দেখিয়ে বিপুল অগ্রিম অর্থ নেয়া হলেও এখন না মিলছে সিমেন্ট, না ফেরত দেয়া হচ্ছে টাকা।   গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন   প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, উৎপাদন ব্যয় কমাতে সিমেন্টে ক্লিংকারের ব্যবহার কমিয়ে লাইমস্টোন ও ফ্লাই অ্যাশের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। তাদের দাবি, এতে এ্যাংকর সিমেন্টের গুণগত মান আগের তুলনায় কমে গেছে এবং বাজারে ক্রেতাদের আস্থাও নষ্ট হয়েছে।   পরিবেশ দূষণের অভিযোগ কারখানাটির বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সিমেন্ট কারখানার ধুলাবালির কারণে আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবছর পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়নের ক্ষেত্রেও অনিয়ম হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ৬ মাস আগে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীতে অভিযান পরিচালনা করে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।   নীরব প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ   অভিযোগের বিষয়ে জানতে এ্যাংকর সিমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “যেখানে বিদ্যুৎ বিলই পরিশোধ করা যাচ্ছে না, সেখানে ডিলারদের অগ্রিম টাকা ফেরত দেয়া বা নতুন করে সিমেন্ট সরবরাহ করা এখন প্রায় অসম্ভব।”   ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে একসময়কার সফল ব্র্যান্ড একসময় গুণগত মান, সঠিক ওজন, দ্রুত সরবরাহ এবং বিক্রয়োত্তর সেবার কারণে বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিল এ্যাংকর সিমেন্ট। তবে অনিয়ম, আর্থিক দুর্বলতা এবং ব্যবস্থাপনার সংকটের কারণে এখন প্রতিষ্ঠানটি কার্যত অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। ব্যাংক ঋণ, পাওনাদারদের চাপ, উৎপাদন বন্ধ এবং তদন্ত সংস্থাগুলোর নজরদারির মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সংশ্লিষ্ট মহলে।   ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত   এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীটি ভাড়া বা বিক্রির জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলেও একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে পরিবেশগত ঝুঁকি ও আর্থিক দায়ের কারণে কেউ দায়িত্ব নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের অবস্থান নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদের বিদেশে থাকার কথা বলা হলেও একাধিক সূত্র দাবি করছে, তারা দেশেই অবস্থান করছেন। সব মিলিয়ে, একসময় সফল শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত এ্যাংকর সিমেন্ট এখন টিকে থাকার কঠিন সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।     আগামী পর্বে থাকছে ------ ▪️অযোগ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ নেপথ্যে করপোরেটে নিলা ও ফ্যক্টরীতে শাহেদ উদ্দিন।  ▪️ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে অলিম্পিক সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার,অলিম্পিক শিপিং লাইনস লিমিটেড।  ▪️সহায় -সম্পত্তি জামানতের চেয়ে ব্যাংক ঋন পরিমান কত?।  ▪️কোম্পানী ধ্বংসের কারিগর  এমডি,ডিরেক্টর,এমডির পিস,ডিরেক্টরের পিএস,সিওও,সিএমও,ভ্যাট কর্মকর্তাসহ একাধিক কর্মকর্তা। ▪️অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড থেকে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ টাকার পাহাড় গড়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ একাধিক কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে  ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অর্থ আত্মসাতে সহায়তাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৮, ২০২৬ 0
বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ

বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরানের বিরুদ্ধে ঘুস-কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ

বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিজি আফজাল হোসেন

বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিজি আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

এলজিইডি কুমিল্লা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী একরামুল হক

৪৯ হাজার টাকা বেতনের এলজিইডি কর্মকর্তার ৫০ কোটি টাকার সম্পদ

প্রিমিয়ার ব্যাংক
প্রিমিয়ার ব্যাংকের এলসির আড়ালে ১০ হাজার কোটি টাকা পাচার: বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে ভয়াবহ অনিয়ম

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভুয়া রপ্তানি আদেশ, অতিমূল্যায়িত এলসি ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশের অভিযোগে নতুন আর্থিক কেলেঙ্কারি। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে আবারও সামনে এসেছে ভয়াবহ এক অর্থপাচারের অভিযোগ। ভুয়া ও অতিমূল্যায়িত রপ্তানি আদেশ দেখিয়ে প্রিমিয়ার ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখা থেকে প্রায় ১০ হাজার ৪৫৬ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অন্তত ২৯টি প্রতিষ্ঠান নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খুলে প্রায় ৯৬ কোটি ৮১ লাখ মার্কিন ডলার বিদেশে সরিয়ে নেয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি শুধু ব্যাংকিং অনিয়ম নয়; বরং পরিকল্পিত আর্থিক জালিয়াতি, যেখানে ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা, রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত মিলেছে। কীভাবে ঘটেছে অর্থপাচার বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি একটি প্রচলিত ব্যাংকিং সুবিধা। সাধারণত রপ্তানি আদেশের বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির জন্য এই সুবিধা দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার অনুমতি রয়েছে। কিন্তু তদন্তে দেখা গেছে, বহু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সেই সীমা ভয়াবহভাবে অতিক্রম করা হয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের নামে প্রকৃত রপ্তানির তুলনায় ১০০ থেকে ৩৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বেশি মূল্যের এলসি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব এলসির বড় অংশই ছিল ভুয়া, অতিমূল্যায়িত অথবা প্রকৃত ব্যবসার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশেষভাবে উঠে এসেছে। টোটাল ফ্যাশন মাত্র ৬ কোটি ২০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করলেও তাদের নামে খোলা হয় ২৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের এলসি। অ্যাভান্টি কালার টেক্স প্রায় ৬ কোটি ৭০ লাখ ডলারের রপ্তানির বিপরীতে নেয় ১৪ কোটি ৬০ লাখ ডলারের এলসি সুবিধা। ডোয়াস-ল্যান্ড অ্যাপারেলস ৫ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের রপ্তানির বিপরীতে ২০ কোটি ৮০ লাখ ডলারের এলসি খোলে। আহোনা নিট কম্পোজিট ও এইচকে অ্যাপারেলসের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে আরও অন্তত ২৪টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একই ধরনের অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আমদানিকৃত কাঁচামাল কোথায় গেল? তদন্তের সবচেয়ে উদ্বেগজনক অংশ হচ্ছে—এলসির বিপরীতে আমদানি করা কাঁচামালের ব্যবহার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমদানিকৃত বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল রপ্তানি পণ্য তৈরিতে ব্যবহারের কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং অভিযোগ রয়েছে, বন্ড সুবিধায় আনা পণ্য স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শুধু বৈদেশিক মুদ্রা পাচারই নয়, ডিউটি ড্র-ব্যাক ও বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার অপব্যবহার করে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকিও দেওয়া হয়েছে। “অনেক ব্যবসায়ী জানতেনই না” ঘটনায় আলোচিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম দাবি করেছেন, অনেক ব্যবসায়ী জানতেনই না যে তাদের প্রতিষ্ঠানের নামে এলসি খোলা হয়েছে। তার অভিযোগ, ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা রপ্তানি আয়ের অর্থ আটকে রেখে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন নথিতে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করেছেন। এই বক্তব্য তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কারণ এতে প্রশ্ন উঠেছে—শুধু ব্যবসায়ী নয়, ব্যাংকের ভেতরেও কি ছিল সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র? তদন্তে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই ধারাবাহিকভাবে এলসি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে, পুরো সময়জুড়ে নারায়ণগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ শহীদ হাসান মল্লিক। ব্যাংকিং নীতিমালা অনুযায়ী দীর্ঘ সময় একই শাখায় দায়িত্ব পালনের বিধিনিষেধ থাকলেও তিনি টানা প্রায় ১০ বছর ওই শাখায় ছিলেন। এছাড়া আরও ২৪ কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় ধরে একই শাখায় কর্মরত ছিলেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এত বড় অঙ্কের অনিয়ম এককভাবে সম্ভব নয়; বরং এতে ব্যাংকের একাধিক স্তরের কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতা ছিল। তদন্ত শেষ, কিন্তু ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৩ সালেই তদন্ত শেষ করলেও দীর্ঘ সময় দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে চলতি বছরের মার্চ মাসে এসে প্রিমিয়ার ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখার অনুমোদিত ডিলার (এডি) লাইসেন্স বাতিল করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের প্রভাব এবং বিভিন্ন চাপের কারণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। সেই সময়ে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে সাবেক সংসদ সদস্য এইচবিএম ইকবাল যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ মূলত ইকবাল পরিবারের হাতেই ছিল বলে জানা যায়। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করেন। শুধু লাইসেন্স বাতিলেই কি যথেষ্ট? বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) অধ্যাপক শাহ মো. আহসান হাবিব মনে করেন, এই ধরনের জালিয়াতির মূল উদ্দেশ্য সাধারণত নগদ প্রণোদনা ও ভর্তুকির সুবিধা নেওয়া। তার মতে, কেবল একটি শাখার লাইসেন্স বাতিল করে দায় এড়ানো যাবে না। ঘটনার সঙ্গে জড়িত তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা এবং সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত ও সম্পদ অনুসন্ধান জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট আরও গভীর হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৫, ২০২৬ 0
মোঃ হেলাল উদ্দিন,সহকারি পরিচালক,আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, মাদারীপুর।

৪৫ হাজার টাকার চাকরি, ৫৯ কোটির সম্পদের অভিযোগ

এ্যাংকর সিমেন্ট

এ্যাংকর সিমেন্টের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, আর্থিক সংকট,উৎপাদন বন্ধ ,বহুমাত্রিক সংকটে বন্ধ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী

বরিশালে বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী

বরিশালে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ হতে যাচ্ছে : বাড়ছে পাওনাদারদের ভিড়,গা ঢাকা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0