বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক মো. আবদুল জলিলকে অপসারণ। এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি ব্যক্তিগত পদচ্যুতি নয়, বরং দেশের ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বাস্তব চিত্রকে সামনে নিয়ে এসেছে। ঘটনাটি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অনিয়ম, প্রভাব এবং দুর্বল নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর ফলেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মো. আবদুল জলিল একজন গ্রাহককে বিশেষ সুবিধা প্রদান করেছেন, যা ব্যাংকিং নীতিমালার পরিপন্থী। এছাড়া রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংক সত্যতা পাওয়ার পর তাঁকে প্রথমে পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো হয় এবং পরবর্তীতে পরিচালক পদ থেকেও অপসারণ করা হয়। এই পদক্ষেপটি প্রমাণ করে যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আগের তুলনায় আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
ইসলামী ব্যাংকের সাম্প্রতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ব্যাংকটি একটি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। এ সময় ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ অনিয়মের মাধ্যমে বের হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন নামে-বেনামে ঋণ বিতরণ, যথাযথ যাচাই ছাড়া নিয়োগ এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতা ব্যাংকটিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। এসব কারণে আমানতকারীদের আস্থা কমে যায় এবং ব্যাংকের আর্থিক অবস্থাও দুর্বল হতে শুরু করে।
২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। নতুন পর্ষদের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা শুরু হয়। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই মো. আবদুল জলিলকে পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়, যা প্রমাণ করে যে নতুন ব্যবস্থায় ব্যক্তির চেয়ে নীতির গুরুত্ব বেশি দেওয়া হচ্ছে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের নৈতিকতা ও পেশাগত দক্ষতা। একটি ব্যাংকের সিদ্ধান্ত গ্রহণে পরিচালকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা যদি ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে পুরো প্রতিষ্ঠানই ঝুঁকির মুখে পড়ে। আবদুল জলিলের ক্ষেত্রে যে অভিযোগগুলো উঠেছে, তা এই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে আসে। বিশেষ সুবিধা প্রদান বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অর্থ সংগ্রহ, উভয়ই ব্যাংকিং নীতির গুরুতর লঙ্ঘন।
এছাড়া, এই ঘটনাটি ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টিও তুলে ধরে। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক ও গোষ্ঠীগত প্রভাবের অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা নষ্ট হয় এবং প্রকৃত উদ্যোক্তারা বঞ্চিত হন। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ইসলামী ব্যাংকের ঘটনাটি এই সমস্যার একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে ইতিবাচক দিক হলো, বাংলাদেশ ব্যাংক এখন এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। পরিচালক অপসারণের মতো সিদ্ধান্তগুলো ব্যাংকিং খাতে একটি শক্ত বার্তা দেয়, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এটি অন্যান্য ব্যাংকের জন্যও সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
অন্যদিকে, নতুন পরিচালক হিসেবে এস এম আবদুল হামিদের নিয়োগও গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। একজন অভিজ্ঞ হিসাববিদ হিসেবে তাঁর কাছ থেকে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তিনি নিজেও জানিয়েছেন যে ব্যাংকটিতে অনেক সমস্যা রয়েছে এবং সেগুলো সমাধানে কাজ করতে হবে। এটি প্রমাণ করে যে নতুন নেতৃত্ব পরিস্থিতির গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন।
ভবিষ্যতের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ করণীয় রয়েছে। প্রথমত, ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। দ্বিতীয়ত, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের নিয়োগে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার ভিত্তি নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়ায় কঠোর যাচাই-বাছাই চালু রাখতে হবে। চতুর্থত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি আরও জোরদার করতে হবে।
এছাড়া প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ করা সম্ভব। ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেমের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেন দ্রুত শনাক্ত করা গেলে অনিয়ম কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও নৈতিকতা উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে।
সবশেষে বলা যায়, মো. আবদুল জলিলের অপসারণ একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ার একটি অংশ। যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। তবে এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং সকল পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও বি এম কলেজ এর সাবেক জি এস এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা। নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক মো. আবদুল জলিলকে অপসারণ। এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি ব্যক্তিগত পদচ্যুতি নয়, বরং দেশের ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বাস্তব চিত্রকে সামনে নিয়ে এসেছে। ঘটনাটি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অনিয়ম, প্রভাব এবং দুর্বল নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর ফলেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মো. আবদুল জলিল একজন গ্রাহককে বিশেষ সুবিধা প্রদান করেছেন, যা ব্যাংকিং নীতিমালার পরিপন্থী। এছাড়া রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংক সত্যতা পাওয়ার পর তাঁকে প্রথমে পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো হয় এবং পরবর্তীতে পরিচালক পদ থেকেও অপসারণ করা হয়। এই পদক্ষেপটি প্রমাণ করে যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আগের তুলনায় আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ইসলামী ব্যাংকের সাম্প্রতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ব্যাংকটি একটি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। এ সময় ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ অনিয়মের মাধ্যমে বের হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন নামে-বেনামে ঋণ বিতরণ, যথাযথ যাচাই ছাড়া নিয়োগ এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতা ব্যাংকটিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। এসব কারণে আমানতকারীদের আস্থা কমে যায় এবং ব্যাংকের আর্থিক অবস্থাও দুর্বল হতে শুরু করে। ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। নতুন পর্ষদের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা শুরু হয়। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই মো. আবদুল জলিলকে পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়, যা প্রমাণ করে যে নতুন ব্যবস্থায় ব্যক্তির চেয়ে নীতির গুরুত্ব বেশি দেওয়া হচ্ছে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের নৈতিকতা ও পেশাগত দক্ষতা। একটি ব্যাংকের সিদ্ধান্ত গ্রহণে পরিচালকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা যদি ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে পুরো প্রতিষ্ঠানই ঝুঁকির মুখে পড়ে। আবদুল জলিলের ক্ষেত্রে যে অভিযোগগুলো উঠেছে, তা এই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে আসে। বিশেষ সুবিধা প্রদান বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অর্থ সংগ্রহ, উভয়ই ব্যাংকিং নীতির গুরুতর লঙ্ঘন। এছাড়া, এই ঘটনাটি ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টিও তুলে ধরে। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক ও গোষ্ঠীগত প্রভাবের অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা নষ্ট হয় এবং প্রকৃত উদ্যোক্তারা বঞ্চিত হন। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ইসলামী ব্যাংকের ঘটনাটি এই সমস্যার একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে ইতিবাচক দিক হলো, বাংলাদেশ ব্যাংক এখন এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। পরিচালক অপসারণের মতো সিদ্ধান্তগুলো ব্যাংকিং খাতে একটি শক্ত বার্তা দেয়, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এটি অন্যান্য ব্যাংকের জন্যও সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। অন্যদিকে, নতুন পরিচালক হিসেবে এস এম আবদুল হামিদের নিয়োগও গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। একজন অভিজ্ঞ হিসাববিদ হিসেবে তাঁর কাছ থেকে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তিনি নিজেও জানিয়েছেন যে ব্যাংকটিতে অনেক সমস্যা রয়েছে এবং সেগুলো সমাধানে কাজ করতে হবে। এটি প্রমাণ করে যে নতুন নেতৃত্ব পরিস্থিতির গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন। ভবিষ্যতের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ করণীয় রয়েছে। প্রথমত, ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। দ্বিতীয়ত, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের নিয়োগে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার ভিত্তি নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়ায় কঠোর যাচাই-বাছাই চালু রাখতে হবে। চতুর্থত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি আরও জোরদার করতে হবে। এছাড়া প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ করা সম্ভব। ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেমের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেন দ্রুত শনাক্ত করা গেলে অনিয়ম কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও নৈতিকতা উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে। সবশেষে বলা যায়, মো. আবদুল জলিলের অপসারণ একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ার একটি অংশ। যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। তবে এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং সকল পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।
Global Motorsport Meets World-Class Travel Etihad Airways’ extensive global network, serving over 100 destinations worldwide, makes it the perfect partner for McLaren’s far-reaching race calendar. By combining the unmatched reach of one of the world’s leading airlines with the sheer excitement of McLaren’s high-speed motorsport operations, fans from around the globe will have access to convenient, luxury travel options directly linked to Formula 1, World Endurance Championship, and Formula E events. Fans can now seamlessly travel from major global hubs such as Abu Dhabi, Melbourne, Silverstone, and Suzuka to race venues, making race weekends even more accessible and exciting. This collaboration isn’t just about convenience; it’s about delivering a premium travel experience for the discerning motorsport traveller. Etihad’s high-end services will elevate the overall race experience, ensuring that fans arrive in comfort and style, ready to witness McLaren’s exciting performances. Boosting McLaren’s Global Reach with Cutting-Edge Branding One of the most striking elements of this partnership is the massive exposure Etihad Airways will receive on the world stage. Beginning in 2026, Etihad’s logo will be featured on McLaren’s Formula 1 cars—specifically on the rear wing and cockpit halo of the 2026 MCL40 car. This branding extends to the team’s driver helmets, making Etihad’s presence hard to miss in every race. The impact of this branding is twofold: not only does it put Etihad’s name in front of millions of F1 fans, but it also aligns the airline with McLaren’s reputation for speed, precision, and cutting-edge innovation. Whether you’re watching the Abu Dhabi Grand Prix, the Monaco Grand Prix, or Spa Francorchamps, Etihad’s logo will now be a staple of these iconic racing moments. Custom Etihad-McLaren Livery on a Boeing 787 Dreamliner But the excitement doesn’t stop at the racetrack. As part of the partnership, Etihad Airways will also be rolling out a custom McLaren livery on one of its Boeing 787 Dreamliner aircraft. This unique plane will travel to global destinations and become a symbol of the airline’s partnership with McLaren. Passengers will not only enjoy world-class travel but also get a first-hand look at this co-branded aircraft, promoting the exhilarating world of motorsports while soaring through the skies. For race fans, this aircraft represents more than just a plane; it’s a direct connection to the Formula 1 circuit and McLaren’s elite racing status. Etihad will be flying in style, and fans will be able to ride along with them, literally experiencing the partnership in the air as well as at the track. What This Partnership Means for Motorsports and Tourism The McLaren- Etihad alliance is bound to have a transformative effect on motorsport tourism. As Etihad helps McLaren’s global fanbase travel to Formula 1 races, World Endurance Championship events, and more, it brings race fans closer to their passion like never before. This partnership offers exclusive travel packages to major motorsport destinations, with flights, hotels, and VIP experiences all bundled together for ultimate convenience.
ঢাকা: রাজধানীর নতুন দুটি মেট্রো রেল প্রকল্পে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে উত্তরা-মতিঝিল মেট্রোর তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। সংশ্লিষ্ট সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)–এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সীমিত দরপত্র প্রতিযোগিতা ও ঋণশর্তের কারণে প্রকল্প ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে উত্তরা-মতিঝিল মেট্রোর (এমআরটি লাইন-৬) নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হয়েছিল ১,৫৭৪ কোটি টাকা। কিন্তু নতুন দুই প্রকল্পে কিলোমিটারে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩,৬১৮ কোটি টাকা। ফলে মোট অনুমোদিত ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এমআরটি লাইন-১: কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর নতুন প্রকল্পগুলোর একটি হলো MRT Line-1, যা কমলাপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। দৈর্ঘ্য: ৩১ কিলোমিটার অনুমোদন: ডিসেম্বর ২০১৯ প্রাথমিক ব্যয়: ৫২,৫৬১ কোটি টাকা ঠিকাদারদের দর অনুযায়ী সম্ভাব্য ব্যয়: ৯৬,৫০০ কোটি টাকা ডিএমটিসিএলের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দরপত্রে সীমিত প্রতিযোগিতার কারণে প্রকল্প ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর): হেমায়েতপুর–ভাটারা অন্য প্রকল্পটি হলো MRT Line-5 (North), যা হেমায়েতপুর থেকে মিরপুর ও গুলশান হয়ে ভাটারা পর্যন্ত যাবে। দৈর্ঘ্য: ২০ কিলোমিটার অনুমোদন: অক্টোবর ২০১৯ প্রাথমিক ব্যয়: ৪১,২৩৮ কোটি টাকা সম্ভাব্য ব্যয় (দর অনুযায়ী): ৮৮ হাজার কোটি টাকা বিশেষ করে মিরপুর–কচুক্ষেত এবং কচুক্ষেত–ভাটারা অংশে ঠিকাদারদের অস্বাভাবিক ব্যয় প্রস্তাবের কারণে খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ব্যয় বৃদ্ধির কারণ কী? ডিএমটিসিএল জানিয়েছে, দরপত্রে প্রতিযোগিতা মূলত জাপানি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সীমিত ছিল। কারণ, প্রকল্পগুলোর বড় অংশের অর্থায়ন করছে জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা। ঋণের শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদার নিয়োগে জাপানি প্রতিষ্ঠানের অগ্রাধিকার থাকায় উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা হয়নি। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে দরপত্রে উন্মুক্ত ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি। আন্তর্জাতিক তুলনায় বাংলাদেশ অনেক বেশি ব্যয়বহুল ডিএমটিসিএলের তথ্যমতে, বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের তুলনায় বাংলাদেশে ব্যয় অত্যন্ত বেশি। ভারতে মেট্রো রেল নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হয় ১৫০ থেকে ৪৫০ কোটি টাকার মধ্যে—যা বাংলাদেশের তুলনায় কয়েকগুণ কম। বিশেষজ্ঞ মতামত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, ঠিকাদার নিয়োগে প্রকৃত প্রতিযোগিতা না থাকাই ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ। নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে ঋণের শর্ত পুনর্বিবেচনা করে ব্যয় কমানো। সম্প্রসারণ প্রকল্পেও উচ্চ ব্যয় উত্তরা-মতিঝিল মেট্রোর সম্প্রসারিত অংশ কমলাপুর পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে। দৈর্ঘ্য: ২১.২৬ কিলোমিটার ব্যয়: ৩৩,৪৭২ কোটি টাকা এই ব্যয়ও আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে মেট্রোরেল গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হলেও ব্যয়ের লাগামহীন বৃদ্ধি উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋণের শর্ত শিথিল করে এবং উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়া নিশ্চিত করলেই কেবল ব্যয় নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। অন্যথায় ভবিষ্যৎ অবকাঠামো প্রকল্পগুলোও একই ধরনের উচ্চ ব্যয়ের ফাঁদে পড়তে পারে।