মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : বরিশাল হাউজিং এস্টেটের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের সম্পদের পাহাড় শীর্ষক শিরোনামের অভিযোগ আমলে নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন । দুদক রফিকুল ইসলামের সম্পদ ও জ্ঞাত আয়বহির্ভৃত সম্পদের অনুসন্ধান করবে। দুদকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৩ অক্টোবর দুদক কমিশনার,দুদক মহাপরিচালক,দুদক বরিশাল বিভাগীয় পরিচালকের উপস্থিতিতে রফিকুল ইসলামের দুর্নীতি ও জ্ঞাত আয়বহির্ভৃত সম্পদের অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় পিরোজপুর আয়োজিত ঝালকাঠি জেলা শিল্প কলা একাডেমি মিলনায়তনে দুদকের গণশুনানিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুদকের কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী,বিশেষ অতিথি হিসেবে দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন,ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক আশরাফুর রহমান,ঝালকাঠির পুলিশ সুপার উজ্জল কুমার রায় এবং দুদকের বিভাগীয় কার্যালয় বরিশালের পরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদার ।
রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ :
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বরিশাল উপ-বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম একই কর্মস্থলে ১৫ বছর।ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের ক্ষমতার প্রভাবে বরিশাল হাউজিং এস্টেট রুপাতলীতে স্বজনদের নামে নিয়েছেন ৩ টি প্লট। বরিশাল,পিরোজপুর ও নলছিটি হাউজিং এস্টেটে প্লট বানিজ্য করে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়।
মোঃ রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন যাবৎ প্রশাসনিক কর্মকর্তার পাশাপাশি বরিশাল উপ-বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলীর দ্বায়িত্বে ছিলেন।দু’হাতে কামিয়েছেন লাখ লাখ টাকা।
জাতীয় গৃহায়ন নীতিমালা ও বরাদ্দ প্রাপ্তীর নীতিমালা লঙনের শত অভিযোগ থাকলেও ঘুসের বিনিময়ে বৈধতা দিচ্ছেন মোঃ রফিকুল ইসলাম। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বিধি বিধান ও নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে রুপাতলী হাউজিং এস্টেটের অভ্যান্তরে গড়ে উঠেছে অবৈধভাবে বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।রফিকুল ইসলামের সহযোগীতায় খেলার মাঠ দখলসহ অবৈধ স্থাপনা রয়েছে অসংখ্য।মাসিক মাসোয়ারা পান তিনি এসব অবৈধ স্থাপনা থেকে।
বরিশালে ১৫ বছর :
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ খুলনা বিভাগের অধীনে বরিশাল উপ বিভাগে মোঃ রফিকুল ইসলাম ১৫ বছর প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে রয়েছেন।এছাড়া তিনি উপ-সহকারী প্রকৌশলীর দ্বায়িত্বও পালন করেছেন বহু বছর।বরিশাল অঞ্চলে কর্মকালীন সময় ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের দোসর হিসেবে তৎকালীন ক্ষমতাসীন লোকজনকে সুযোগ সুবিধা দিয়ে হয়ে উঠেছেন ধন কুবের। বিষেশ করে পিরোজপুর হাউজিং ও সর্বশেষ নলছিটি হউজিং প্রকল্প থেকে তিনি কোটি টাকার মালিকানা অর্জন করছেন। তার ভাই, বোন ও বোনের ভামাইয়ের নামে নিয়েছেন একাধিক প্লট যেখানে রয়েছে বিলাসবহুল বাড়ি। তিনি তার বড় ভাইয়ের মাধ্যমে ঘুষ লেনদেন করে থাকেন। রুপাতলী হাউজিংয়ে প্লট সংক্রান্ত যেকোনো কাজের জন্য তাকে ঘুস দিতে হয়।
রুপাতলী হাউজিং এস্টেটে গরুর হাট
তিনি ঘুসের বিনিময়ে নামজারী, বা স্থাপনার অনুমোদনের জন্য মোটা অংকের ঘুস নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।রফিকুল ইসলাম লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার জন্য নিজের ভাই এবং বোনের জামাই ও বোনের নামেই একাধিক প্লট নিয়ে স্থাপনা করেছেন। তার নামে বেনামে ঢাকায় একাধিক প্লট, ফ্লাট, বাড়ি রয়েছে। পটুয়াখালী সদরে তার বাড়ি এবং বাউফলে শত শত একর জমি রয়েছে। বরিশালের রুপাতলী হাউজিংয়ে খেলার মাঠ দখল,হাউজিং এর মধ্যে দোকান উঠিয়ে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে রফিকের সহযোগীতায় রুপাতলী হাউজিং এস্টেটে গরুর হাট স্থাপন করা হয়েছে।
রূপাতলী হাউজিং এস্টেটে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক:
সরকারের সকল নিয়মকানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলিকে দেখিয়ে আইন বর্হিভূতভাবে বরিশাল নগরীর রূপাতলী হাউজিং এলাকায় একের পর এক গড়ে উঠেছে অবৈধ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। এতে করে ব্যাহত হচ্ছে পরিবেশ, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। অপরদিকে মাসিক মাসোহারার বিনিময়ে অবৈধ কর্মকান্ড-কে বৈধতা দিচ্ছে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম । সূত্রমতে, সরকার জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে ৪৭০টি আবাসিক প্লট নিয়ে বিসিসির ২৪নং ওয়ার্ডে গড়ে তোলা হয় ‘রূপাতলী হাউজিং এস্টেট’। বরাদ্দ প্রাপ্তির নীতিমালা অনুযায়ী কোন গ্রাহক তাদের নির্মিত স্থাপনায় কোন ধরনের বাণিজ্যিক স্থাপনা কিংবা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতে পারবেন না। বিষয়টি মনিটরিংয়ের জন্য জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের একজন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর নেতৃত্বে একটি দফতর কাজ করলেও তারা এখন ঠুটো জগন্নাথ হয়ে বসে আছেন। ‘রূপাতলী হাউজিং এস্টেট’ এ বর্তমানে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে কাঁচা বাজার, বেসরকারী স্কুল ও কলেজ, মাদ্রাসা, কিন্ডার গার্ডেন, এনজিও, হাসপাতাল, আবাসিক হোটেল, ফার্নিচারের শো-রুম, বিউটি পার্লার, ফ্যাশন হাউজ, ইলেকট্রিক শপ, হার্ডওয়ার, স্যানিটারি, খাবার হোটেল, স্টুডিও, কম্পিউটার শো-রুম, ফোন-ফ্যাক্স, মোবাইল শো-রুম, গার্মেন্টস শো-রুম, জুতার শো-রুম, ওয়াল্টন শো-রুম, অটোমোবাইল মেশিনারি শো-রুম, স্টেশনারি, মুদি দোকানসহ কয়েক শ’ অবৈধ বাণিজ্যিক স্থাপনা। আর এগুলো বরাদ্দ দিয়ে মালিকপক্ষ জামানত হিসেবে আদায় করছে কোটি কোটি টাকা যা সম্পূর্ণ আইন বর্হিভূত। আর এ সকল বাণিজ্যিক স্থাপনায় ব্যবহৃত বিদ্যুত বিল পরিশোধ করছেন আবাসিক হিসেবে। এছাড়া হাউজিংয়ের অভ্যন্তরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র সড়কের দুই পার্শে¦ গড়ে তুলেছেন ছোট ছোট টং ঘর। যা থেকে প্রতিদিন নিদিষ্ট হারে টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। আর এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যুত সংযোগের মাধ্যমে বাণিজ্যিককে আবাসিক বিলে রূপান্তরিত করে দুই একটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মাসিক তিন থেকে পাঁচ শ’ টাকা করে উৎকোচ আদায় করার অভিযোগ রয়েছে বিদ্যুত বিতরণ বিভাগের দায়িত্বরত লাইন সাহায্যকারীর বিরুদ্ধে। রূপাতলী হাউজিং এস্টেট এ অবস্থিত একটি মার্কেটের মালিক বলেন, আমি টাকা দিয়ে জমি ক্রয় করে মার্কেট করেছি। আইন অনুযায়ী আপনি এখানে মার্কেট করতে পারেন কিনা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি দ্বিতীয় পার্টি। আমার জন্য ওই আইন প্রযোজ্য নয়। এ বিষয়ে বিদ্যুত বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান ওজোপাডিকোর নিবার্হী প্রকৌশলী বলেন, রূপাতলী হাউজিং এস্টেটে বাণিজ্যিক সংযোগ দেয়ার কোন সুযোগ নেই। যারা অবৈধভাবে আবাসিক মিটারের মাধ্যমে বাণিজ্যিক সংযোগ ব্যবহার করছে সুনিদিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রূপাতলী হাউজিং এস্টেট কল্যাণ সমিতির এক সদস্য বলেন, এখানে বসবাসকারী কোন ব্যক্তি কোন ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন না। তার পরেও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আইন ও বিধি বিধান অমান্য করে একের পর এক বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে হাউজিং এলাকায় ৪৫ একর জমিতে ৪৭১টি প্লট বরাদ্দকালে হাউজিংয়ের বাসিন্দাদের জন্য ১২তলা মার্কেট নির্মাণের জন্য একপাশে জমি বরাদ্দ রেখে প্লান করা হয়।
মোঃ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল।দ্রুত তাকে অপসারনের দাবী জানিয়েছেন রুপাতলী হাউজিং এস্টেটের সাধারন প্লট মালিক ও ভুক্তভুগীরা।
২০ লাখ টাকা ঘুস না দেয়ায় টেন্ডার বাতিল :
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের খুলনা বিভাগের অধীনে বরিশাল উপ বিভাগের জন্য রুপাতলী হাউজিং এস্টেটে চার তলা ফাউন্ডেশন এবং দু’তলা অফিস ভবন নির্মান ও অভ্যান্তরীন স্যানিটারি ও বৈদ্যুতিক কাজের দরপত্র আহবান করা হয় ২০২২ সালের ১৭ আগষ্ট।
একই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর দরপত্রে সর্ব নিম্ম দরদাতা হিসেবে বিবেচিত হয় কাজী হোল্ডিং।দ্বিতীয় দরদাতা হোন সাংহাই জিয়ারুই মেটালোজিক্যাল এন্ড হেভী ম্যাশিনারী বিডি লিমিটেড। তৃতীয় দরদাতা হলেন এস এ ট্রেডিং করপোরেশন।
সর্ব নিম্ম দরদাতা হিসেবে কোটেশন দর প্রদান করেন দুই কোটি তেত্রিশ লাখ ৯৭ হাজার এক শত ৪৪ টাকা।অফিসিয়াল কস্ট ইস্টিমেট ছিল দুই কোটি ৩৩ লাখ ১২ হাজার দুই শত ছত্রিশ টাকা। পে অর্ডারসহ সকল বিধি বিধান মেনে দরপত্রে অংশ নিয়ে কাজী হোল্ডিং সর্ব নিম্ম দরদাতা হলেও কার্যাদেশ প্রদান করা হয়নি। সুত্র জানায় কাজী হোল্ডিং দরপত্রে সর্ব নিম্ম দরদাতা হিসেবে উত্তীর্ন হলেও আটকে যায় কার্যাদেশ।কারন কাজটি থেকে বিশ লাখ টাকা ঘুস দাবী করেছিলেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বরিশাল উপ-বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম।
এ ব্যাপারে কাজী হোল্ডিং এর প্রতিনিধি জানান,মোঃ রফিকুল ইসলাম একজন দুর্নীতিবাজ ও ঘুসখোর লোক।রফিকের দাবীকৃত বিশ লাখ টাকা ঘুস না দেয়ায় কার্যাদেশ প্রদান করেন নি তিনি।
ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ:
এছাড়া মোঃ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অন্যের নামে তিনি পুকুরে মাছ চাষ করে আয় করছেন বিধি বহির্ভূত ভাবে। রুপাতলী হাউজিং এস্টেটের জমিতে নার্সারী ও দোকান ভাড়া দিয়ে ভাড়া আদায় এবং বিভিন্ন নামে ড্রেন নির্মান,বাউন্ডারি দেয়াল নির্মান,গ্যারজ নির্মানের কার্যাদেশ দেখিয়ে নিজেই এসব নির্মান কাজে জড়িত ছিলেন।করেছেন সরকারি অর্থ আত্মসাৎ। এ দিকে ২০২৪ -২০২৫ অর্থ বছরে এক টাকার কাজ ও পণ্য ক্রয় না করেও ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।
স্বজনদের নামে ৩ টি প্লট:
মোঃ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। তার আপন ভাই আনোয়ারের মাধ্যমে ঘুসের টাকা লেনদেন করেন।সেপ্টেম্বর মাসেই এক দিনে আনোয়ারের ব্যাংক একাউন্টসে ৬০ লাখ টাকা জমা হয়েছে।বছরফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের ক্ষমতার প্রভাবে বরিশাল হাউজিং এস্টেট রুপাতলীতে স্বজনদের নামে নিয়েছেন ৩ টি প্লট। বরিশাল,পিরোজপুর ও নলছিটি হাউজিং এস্টেটে প্লট বানিজ্য করে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়।
উল্লেখ্য, দুদকের এ গনশুনানীতে২৯টি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি দপ্তরের বিরুদ্ধে ৯৫টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে দুদকের তফসিলভুক্ত ৭৪টি অভিযোগের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ৪টি অভিযোগের বিষয়ে দুদকে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হয়। ৪ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং ১ জন কর্মকর্তাকে বদলীর ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দেয়া হয়। বাকী অভিযোগগুলোর তাৎক্ষণিক সমাধান দেয়া হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও বি এম কলেজ এর সাবেক জি এস এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা। নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর খামেনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ এবং টাইমস অব ইসরায়েলসহ একাধিক গণমাধ্যমও সরকারি সূত্রের বরাতে জানায়, খামেনির মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। তবে, এই দাবি প্রকাশ পাওয়ার পর পরই ইরান সরকার কঠোর ভাষায় তার নেতার জীবিত থাকার দাবি করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-আলম জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ খামেনি এখনো বেঁচে আছেন এবং তিনি পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আরও বলা হয়, তিনি দেশের সেনাবাহিনী এবং সরকারের নেতা হিসেবে দৃঢ়তার সঙ্গে যুদ্ধের ময়দানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। খামেনি বেঁচে আছেন, দৃঢ়তার সঙ্গে নেতৃত্ব দিচ্ছেন:ইরানের গণমাধ্যমের দাবি এদিকে, এনবিসিতে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “ইরানের প্রায় সব কর্মকর্তা জীবিত, সুস্থ ও নিরাপদ স্থানে আছেন।” তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান আবারও তাদের নেতার বেঁচে থাকার বিষয়ে নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ইরানে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন বা শূন্যতা তৈরি হতে পারে, তবে এখনো কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। এর পাশাপাশি, ইরান সরকার তাদের সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান নিয়ে প্রাথমিকভাবে কোনো বিশেষ প্রতিক্রিয়া দেয়নি। এ ঘটনার পর বিশ্বের নজর তেহরানে, এবং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের নতুন প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ব্যাপক বদলির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পদোন্নতির পর তিনি বদলি বাণিজ্যকে অর্থ আয়ের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন। দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিভিন্ন দপ্তরে বদলি করা হয়েছে। সূত্রমতে, ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোঃ শামীম আখতার অবসরে যাওয়ার পর খালেকুজ্জামান চৌধুরী প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনটি শিবিরে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। অনেক কর্মকর্তার দাবি, নতুন প্রধান প্রকৌশলী ইতোমধ্যেই তদবির ও সিন্ডিকেটের কার্যক্রমকে সুসংহত করেছেন। পিএইচডি জালিয়াতি ও বিতর্কিত অতীত খালেকুজ্জামান চৌধুরীর কর্মজীবন শুরু থেকেই নানা বিতর্কে ঘেরা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি শিক্ষাজীবনে বিভিন্ন তদবিরের মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরে নিজের পদোন্নতির পথ তৈরি করেন। এমনকি ২০১৪ সালে তার বিরুদ্ধে পিএইচডি ডিগ্রি জালিয়াতির অভিযোগও ওঠে। এই ঘটনায় প্রশাসনিক শাস্তির বদলে তাকে পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তিনি পুনরায় পদোন্নতির জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তদবিরে সক্রিয় হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে। রূপপুর প্রকল্প ও ঠিকাদারি সিন্ডিকেট ২০১৫ সালে পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের গ্রিন সিটি নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় ঠিকাদারদের সঙ্গে শত কোটি টাকার লেনদেনের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ঠিকাদারি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন খালেকুজ্জামান। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকল্পে আর্থিক লেনদেন ও প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে। বিদেশে বসবাস ও নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন খালেকুজ্জামান চৌধুরীর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি ছুটি ও পিএইচডি ছুটির সুযোগ ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘ সময় অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করেন এবং অনুমোদন ছাড়া সেখানে চাকরিও করেন। একাধিক সূত্র দাবি করেছে, তার অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্বও রয়েছে। এ বিষয়টি বিদেশি আর্থিক লেনদেন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের প্রশ্নও সামনে এনেছে। প্রশাসনিক সমর্থন ও পদোন্নতির অভিযোগ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্রের দাবি, সাবেক পূর্তসচিব শহীদ উল্লা খন্দকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে খালেকুজ্জামান চৌধুরী প্রশাসনিক সমর্থন পান। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার এবং পদোন্নতির পথ সুগম করা হয়। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নগর নিরাপত্তা ও বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ড ২০২৪ সালের শুরুতে রাজধানীর বেইলি রোডে গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ৪৬ জন প্রাণ হারান এবং আরও ১৩ জন দগ্ধ হন। তদন্তে উঠে আসে, ২০১১ সালে রাজউকের অথরাইজড অফিসার হিসেবে খালেকুজ্জামান চৌধুরী ওই ভবনের নকশা অনুমোদন করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ভবনে পর্যাপ্ত জরুরি বহির্গমন পথ ছিল না এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এই ঘটনায় জনমনে প্রশ্ন ওঠে—নিরাপত্তা বিধি অনুসরণ না করেই কীভাবে ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। বদলি ঝড়ে অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই খালেকুজ্জামান চৌধুরী একাধিক স্মারকের মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা—নির্বাহী প্রকৌশলী, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও সহকারী প্রকৌশলীদের ব্যাপকভাবে বদলি করেন। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে জারি করা একাধিক স্মারকে প্রায় অর্ধশতাধিক কর্মকর্তাকে বিভিন্ন বিভাগ ও জেলায় বদলি করা হয়। এসব বদলির মধ্যে ঢাকা, ময়মনসিংহ, নোয়াখালী, বরিশাল, রাজশাহী, নওগাঁ, রাজবাড়ি, ভোলা ও পিরোজপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। স্মারক নম্বর-২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৭.১১-১৪২৮ তারিখ ঃ ০৪ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ৭ জনকে বদলি তাদের নাম- সৈয়দ ইসকান্দার আলী নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) গণপূর্ত ই/এম পিএন্ডডি বিভাগ, ময়মনসিংহ। থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-৬, ঢাকা। জুবায়ের বিন হায়দার নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম পিএন্ডডি) এর কার্যালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। গণপূর্ত ই/এম পিএন্ডডি বিভাগ, সিলেট এ পদায়নকৃত। তাকে নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) পণপূর্ত ই/এম কাঠের কারখানা বিভাগ, ঢাকা। নাজমুল আলম রববানী নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-১১, ঢাকা। তাকে নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম পিএন্ডডি) এর কার্যালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। মোঃ শরিফুল ইসলাম নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। তাকে নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-১১, ঢাকা। মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, গণপূর্ত ই/এম জোন, ঢাকা এর সাথে সংযুক্ত। তাকে নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-১০, ঢাকা। জনাব মোহাম্মদ তরিকুল আলম নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-৬, ঢাকা। তাকে নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) এর কার্যালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। জনাব রুবাইয়াত ইসলাম নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। তাকে নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) গণপূর্ত ই/এম কারখানা বিভাগ, ঢাকা। আরেক স্মারক নম্বর ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৪.২৪-১৫১১, তারিখ ঃ ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে রাজন চক্রবর্তী, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিপদপ্তর, ঢাকা।সংযুক্ত জনসংখ্যা প্রকল্প কোষ ইউনিট। তাকে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগ, নোয়াখালী বদলি আরেক স্মারক নম্বর ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৪.২৪-১৫১৩, তারিখ ঃ ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ৩ জনকে বদলি ১. এ.এস.এম. সাখাওয়াত ইসলাম, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত উপ-বিভাগ-৬, ঢাকা। তাকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী গাজীপুর গণপূর্ত উপ-বিভাগ-২, গাজীপুর। ২. তানজিনা আফরিন জাহান উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। তাকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) তদন্ত কোষ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। ৩. রিয়াদুস সালেহীন সাদী উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) তদন্ত কোষ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। তাকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত উপ-বিভাগ-৬, ঢাকা। আরেক স্মারক নম্বর ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৪.২৪-১৫১৫, তারিখ ঃ ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ৫ জনকে বদলি ১. আশরাফ-উল আলম উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, বরিশাল গণপূর্ত উপ-বিভাগ, বরিশাল। তাকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মাদারীপুর গণপূর্ত উপ-বিভাগ, মাদারীপুর। ২. এম.কে.এম. নুরুল হাসান, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, ঠাকুরগাঁও গণপূর্ত উপ-বিভাগ-১, ঠাকুরগাঁও। তাকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পঞ্চগড় গণপূর্ত উপ-বিভাগ, পঞ্চগড়। ৩. মোঃ দেলওয়ার মাহাফুজ সোহাগ, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, ফুলবাড়ী গণপূর্ত উপ-বিভাগ, দিনাজপুর। থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী দিনাজপুর গণপূর্ত উপ-বিভাগ-১, দিনাজপুর। ৪. ইজাজ আহমেদ খান, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, গাজীপুর গণপূর্ত উপ-বিভাগ-২, গাজীপুর। থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত উপ-বিভাগ-৯, ঢাকা। ৫. মোঃ তানজিল ইসলাম ভূইয়া, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) চাঁদপুর গণপূর্ত উপ-বিভাগ, চাঁদপুর। থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) ইডেন ভবন গণপূর্ত উপ-বিভাগ-১, ঢাকা। আরেক স্মারক নম্বর ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৪.২৪-১৫১৪ , তারিখ ঃ ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ৩ জনকে বদলি ১. মোঃ ইমরান বিন কালাম উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, গণপূর্ত পেকু উপ-বিভাগ, ঢাকা। ২. কামরুন নাহার, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী গণপূর্ত পেকু উপ-বিভাগ, ঢাকা। সংযুক্তঃ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সমন্বয়) এর দপ্তর। থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী গণপূর্ত পেকু উপ-বিভাগ, ঢাকা। সংযুক্তঃ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সমন্বয়) এর দপ্তর। ৩. মোঃ আলী হোসেন, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। সংযুক্তঃ গণপূর্ত প্রকিউরমেন্ট ইউনিট, ঢাকা। আরেক স্মারক নম্বর ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৪.২৪-১৫১৬ , তারিখ ঃ ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ৪ জনকে বদলি ১. মোঃ রাজু মল্লিক উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মানিকগঞ্জ গণপূর্ত উপ-বিভাগ-২, মানিকগঞ্জ। থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মতিঝিল গণপূর্ত উপ-বিভাগ-২, ঢাকা। ২. মোঃ হাদিসুর রহমান উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) বরগুনা গণপূর্ত উপ-বিভাগ, বরগুনা। থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) বরিশাল গণপূর্ত মেডিকেল কলেজ উপ-বিভাগ, বরিশাল। ৩. মোঃ কামাল হোসেন হাং, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) বরিশাল গণপূর্ত মেডিকেল কলেজ উপ-বিভাগ, বরিশাল। থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) ঝালকাঠি গণপূর্ত উপ-বিভাগ, ঝালকাঠি। ৪. মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম খান, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মতিঝিল গণপূর্ত উপ-বিভাগ-২, ঢাকা। উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মানিকগঞ্জ গণপূর্ত উপ-বিভাগ-২, মানিকগঞ্জ। আরেক স্মারক নম্বর ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৪.২৪-১৫১২ , তারিখ ঃ ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ৭ জনকে বদলি ১। মোঃ মিজানুর রহমান নির্বাহী প্রকৌশলী নওগাঁ গণপূর্ত বিভাগ, নওগাঁ। থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ-২, রাজশাহী। ২। মোঃ আজমুল হক নির্বাহী প্রকৌশলী রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। থেকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পওবিপ্র) এর স্টাফ অফিসার গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। ৩। মোঃ মিজানুর রহমান নির্বাহী প্রকৌশলী রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। সংযুক্তঃ জনসংখ্যা প্রকল্প কোষ (পিপিসি) ইউনিট। থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। সংযুক্তঃ গণপূর্ত উন্নয়ন উইং। ৪। মোঃ হারুন অর রশিদ নির্বাহী প্রকৌশলী রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী নওগাঁ গণপূর্ত বিভাগ, নওগাঁ। ৫। এস.এম. তৌহিদুল ইসলাম নির্বাহী প্রকৌশলী রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী রাজবাড়ি গণপূর্ত বিভাগ, রাজবাড়ি। ৬। জনাব মোঃ আবিল আয়াম নির্বাহী প্রকৌশলী রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী ভোলা গণপূর্ত বিভাগ, ভোলা। ৭। মোঃ শহীদুল ইসলাম নির্বাহী প্রকৌশলী রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। সংযুক্তঃ গণপূর্ত উন্নয়ন উইং। নির্বাহী প্রকৌশলী পিরোজপুর গণপূর্ত বিভাগ, পিরোজপুর। আরেক স্মারক নম্বর ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৪.২৪-১৫৩০ , তারিখ ঃ ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ৪ জনকে বদলি ১। মোঃ জাহিদুল ইসলাম খান নির্বাহী প্রকৌশলী (রিজার্ভ), গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। সংযুক্তঃ গণপূর্ত বিশেষ ডিজাইন ইউনিট, ঢাকা। থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী গণপূর্ত ডিজাইন বিভাগ-৮, ঢাকা। ২। মোঃ কামরুল ইসলাম খান নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। সংযুক্তঃ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সমন্বয়) এর দপ্তর। থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) সমন্বয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। ৩। জনাব মোহাম্মদ ফতেহ আজম খান নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) (রিজার্ভ), গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। সংযুক্তঃ গণপূর্ত বিশেষ ডিজাইন ইউনিট-২, ঢাকা। থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) গণপূর্ত ডিজাইন বিভাগ-৭, ঢাকা। ৪। এ.কে.এম তানভীর আহমেদ, নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) (রিজার্ভ), গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। সংযুক্তঃ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সমন্বয়) এর দপ্তর। থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) সমন্বয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। আরেক স্মারক নম্বর ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৪.২৪-১৫৩১ , তারিখ ঃ ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ৪ জনকে বদলি ১. এ.বি.এম. আশরাফুজ্জামান, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, ময়মনসিংহ গণপূর্ত উপ-বিভাগ, ময়মনসিংহ। থেেক উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মিরপুর গণপূর্ত উপ-বিভাগ-২, ঢাকা। ২. জনাব উৎপল পোদ্দার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব), ঢাকা গণপূর্ত উপ-বিভাগ-৩, ঢাকা। থেেক উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) চাঁদপুর গণপূর্ত উপ-বিভাগ, চাঁদপুর। ৩. আনোয়ার হোসেন, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব), শেরপুর গণপূর্ত উপ-বিভাগ, শেরপুর। থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) ময়মনসিংহ গণপূর্ত উপ-বিভাগ, ময়মনসিংহ। ৪. শেখ আরেফিন নূর, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) ঝিনাইদহ গণপূর্ত উপ-বিভাগ, ঝিনাইদহ। থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) ঢাকা গণপূর্ত উপ-বিভাগ-৩, ঢাকা। আরেক স্মারক নম্বর ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৪.২৪-১৫২৯ , তারিখ ঃ ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ১ জনকে বদলি মোঃ মোফাজ্জল হোসেন. (সহকারী প্রকৌশলী) সিভিল ময়মনসিংহ গণপূর্ত সার্কেল, ময়মনসিংহ। থেকে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) বরগুনা গণপূর্ত বিভাগ, বরগুনা। আরেক স্মারক নম্বর ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৪.২৪-১৫২৮ , তারিখ ঃ ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ১ জনকে বদলি উম্মে নায়ার সুলতানা, নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব), রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। সংযুক্ত ঃ গণপূর্ত প্রকিউরমেন্ট ইউনিট। থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ডিজাইন) এর স্টাফ অফিসার গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। অভিযোগ রয়েছে, এসব বদলির পেছনে তদবির ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি প্রভাব ফেলেছে। প্রশাসনে বিভাজন ও উদ্বেগ গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন নেতৃত্বের অধীনে প্রশাসনে বিভাজন আরও তীব্র হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ঠিকাদারি সিন্ডিকেট, তদবির ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রশাসনিক প্রভাব শক্তিশালী করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী পদ দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, নগর পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ পদে থাকা ব্যক্তির সিদ্ধান্ত সরাসরি জাতীয় উন্নয়ন প্রকল্প ও সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনার ওপর প্রভাব ফেলে। বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করছে, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু যোগ্যতা নয়, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : বরিশাল হাউজিং এস্টেটের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের সম্পদের পাহাড় শীর্ষক শিরোনামের অভিযোগ আমলে নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন । দুদক রফিকুল ইসলামের সম্পদ ও জ্ঞাত আয়বহির্ভৃত সম্পদের অনুসন্ধান করবে। দুদকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৩ অক্টোবর দুদক কমিশনার,দুদক মহাপরিচালক,দুদক বরিশাল বিভাগীয় পরিচালকের উপস্থিতিতে রফিকুল ইসলামের দুর্নীতি ও জ্ঞাত আয়বহির্ভৃত সম্পদের অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় পিরোজপুর আয়োজিত ঝালকাঠি জেলা শিল্প কলা একাডেমি মিলনায়তনে দুদকের গণশুনানিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুদকের কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী,বিশেষ অতিথি হিসেবে দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন,ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক আশরাফুর রহমান,ঝালকাঠির পুলিশ সুপার উজ্জল কুমার রায় এবং দুদকের বিভাগীয় কার্যালয় বরিশালের পরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদার । রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ : জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বরিশাল উপ-বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম একই কর্মস্থলে ১৫ বছর।ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের ক্ষমতার প্রভাবে বরিশাল হাউজিং এস্টেট রুপাতলীতে স্বজনদের নামে নিয়েছেন ৩ টি প্লট। বরিশাল,পিরোজপুর ও নলছিটি হাউজিং এস্টেটে প্লট বানিজ্য করে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। মোঃ রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন যাবৎ প্রশাসনিক কর্মকর্তার পাশাপাশি বরিশাল উপ-বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলীর দ্বায়িত্বে ছিলেন।দু’হাতে কামিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। জাতীয় গৃহায়ন নীতিমালা ও বরাদ্দ প্রাপ্তীর নীতিমালা লঙনের শত অভিযোগ থাকলেও ঘুসের বিনিময়ে বৈধতা দিচ্ছেন মোঃ রফিকুল ইসলাম। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বিধি বিধান ও নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে রুপাতলী হাউজিং এস্টেটের অভ্যান্তরে গড়ে উঠেছে অবৈধভাবে বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।রফিকুল ইসলামের সহযোগীতায় খেলার মাঠ দখলসহ অবৈধ স্থাপনা রয়েছে অসংখ্য।মাসিক মাসোয়ারা পান তিনি এসব অবৈধ স্থাপনা থেকে। বরিশালে ১৫ বছর : জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ খুলনা বিভাগের অধীনে বরিশাল উপ বিভাগে মোঃ রফিকুল ইসলাম ১৫ বছর প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে রয়েছেন।এছাড়া তিনি উপ-সহকারী প্রকৌশলীর দ্বায়িত্বও পালন করেছেন বহু বছর।বরিশাল অঞ্চলে কর্মকালীন সময় ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের দোসর হিসেবে তৎকালীন ক্ষমতাসীন লোকজনকে সুযোগ সুবিধা দিয়ে হয়ে উঠেছেন ধন কুবের। বিষেশ করে পিরোজপুর হাউজিং ও সর্বশেষ নলছিটি হউজিং প্রকল্প থেকে তিনি কোটি টাকার মালিকানা অর্জন করছেন। তার ভাই, বোন ও বোনের ভামাইয়ের নামে নিয়েছেন একাধিক প্লট যেখানে রয়েছে বিলাসবহুল বাড়ি। তিনি তার বড় ভাইয়ের মাধ্যমে ঘুষ লেনদেন করে থাকেন। রুপাতলী হাউজিংয়ে প্লট সংক্রান্ত যেকোনো কাজের জন্য তাকে ঘুস দিতে হয়। রুপাতলী হাউজিং এস্টেটে গরুর হাট তিনি ঘুসের বিনিময়ে নামজারী, বা স্থাপনার অনুমোদনের জন্য মোটা অংকের ঘুস নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।রফিকুল ইসলাম লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার জন্য নিজের ভাই এবং বোনের জামাই ও বোনের নামেই একাধিক প্লট নিয়ে স্থাপনা করেছেন। তার নামে বেনামে ঢাকায় একাধিক প্লট, ফ্লাট, বাড়ি রয়েছে। পটুয়াখালী সদরে তার বাড়ি এবং বাউফলে শত শত একর জমি রয়েছে। বরিশালের রুপাতলী হাউজিংয়ে খেলার মাঠ দখল,হাউজিং এর মধ্যে দোকান উঠিয়ে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে রফিকের সহযোগীতায় রুপাতলী হাউজিং এস্টেটে গরুর হাট স্থাপন করা হয়েছে। রূপাতলী হাউজিং এস্টেটে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক: সরকারের সকল নিয়মকানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলিকে দেখিয়ে আইন বর্হিভূতভাবে বরিশাল নগরীর রূপাতলী হাউজিং এলাকায় একের পর এক গড়ে উঠেছে অবৈধ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। এতে করে ব্যাহত হচ্ছে পরিবেশ, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। অপরদিকে মাসিক মাসোহারার বিনিময়ে অবৈধ কর্মকান্ড-কে বৈধতা দিচ্ছে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম । সূত্রমতে, সরকার জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে ৪৭০টি আবাসিক প্লট নিয়ে বিসিসির ২৪নং ওয়ার্ডে গড়ে তোলা হয় ‘রূপাতলী হাউজিং এস্টেট’। বরাদ্দ প্রাপ্তির নীতিমালা অনুযায়ী কোন গ্রাহক তাদের নির্মিত স্থাপনায় কোন ধরনের বাণিজ্যিক স্থাপনা কিংবা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতে পারবেন না। বিষয়টি মনিটরিংয়ের জন্য জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের একজন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর নেতৃত্বে একটি দফতর কাজ করলেও তারা এখন ঠুটো জগন্নাথ হয়ে বসে আছেন। ‘রূপাতলী হাউজিং এস্টেট’ এ বর্তমানে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে কাঁচা বাজার, বেসরকারী স্কুল ও কলেজ, মাদ্রাসা, কিন্ডার গার্ডেন, এনজিও, হাসপাতাল, আবাসিক হোটেল, ফার্নিচারের শো-রুম, বিউটি পার্লার, ফ্যাশন হাউজ, ইলেকট্রিক শপ, হার্ডওয়ার, স্যানিটারি, খাবার হোটেল, স্টুডিও, কম্পিউটার শো-রুম, ফোন-ফ্যাক্স, মোবাইল শো-রুম, গার্মেন্টস শো-রুম, জুতার শো-রুম, ওয়াল্টন শো-রুম, অটোমোবাইল মেশিনারি শো-রুম, স্টেশনারি, মুদি দোকানসহ কয়েক শ’ অবৈধ বাণিজ্যিক স্থাপনা। আর এগুলো বরাদ্দ দিয়ে মালিকপক্ষ জামানত হিসেবে আদায় করছে কোটি কোটি টাকা যা সম্পূর্ণ আইন বর্হিভূত। আর এ সকল বাণিজ্যিক স্থাপনায় ব্যবহৃত বিদ্যুত বিল পরিশোধ করছেন আবাসিক হিসেবে। এছাড়া হাউজিংয়ের অভ্যন্তরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র সড়কের দুই পার্শে¦ গড়ে তুলেছেন ছোট ছোট টং ঘর। যা থেকে প্রতিদিন নিদিষ্ট হারে টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। আর এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যুত সংযোগের মাধ্যমে বাণিজ্যিককে আবাসিক বিলে রূপান্তরিত করে দুই একটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মাসিক তিন থেকে পাঁচ শ’ টাকা করে উৎকোচ আদায় করার অভিযোগ রয়েছে বিদ্যুত বিতরণ বিভাগের দায়িত্বরত লাইন সাহায্যকারীর বিরুদ্ধে। রূপাতলী হাউজিং এস্টেট এ অবস্থিত একটি মার্কেটের মালিক বলেন, আমি টাকা দিয়ে জমি ক্রয় করে মার্কেট করেছি। আইন অনুযায়ী আপনি এখানে মার্কেট করতে পারেন কিনা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি দ্বিতীয় পার্টি। আমার জন্য ওই আইন প্রযোজ্য নয়। এ বিষয়ে বিদ্যুত বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান ওজোপাডিকোর নিবার্হী প্রকৌশলী বলেন, রূপাতলী হাউজিং এস্টেটে বাণিজ্যিক সংযোগ দেয়ার কোন সুযোগ নেই। যারা অবৈধভাবে আবাসিক মিটারের মাধ্যমে বাণিজ্যিক সংযোগ ব্যবহার করছে সুনিদিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রূপাতলী হাউজিং এস্টেট কল্যাণ সমিতির এক সদস্য বলেন, এখানে বসবাসকারী কোন ব্যক্তি কোন ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন না। তার পরেও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আইন ও বিধি বিধান অমান্য করে একের পর এক বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে হাউজিং এলাকায় ৪৫ একর জমিতে ৪৭১টি প্লট বরাদ্দকালে হাউজিংয়ের বাসিন্দাদের জন্য ১২তলা মার্কেট নির্মাণের জন্য একপাশে জমি বরাদ্দ রেখে প্লান করা হয়। মোঃ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল।দ্রুত তাকে অপসারনের দাবী জানিয়েছেন রুপাতলী হাউজিং এস্টেটের সাধারন প্লট মালিক ও ভুক্তভুগীরা। ২০ লাখ টাকা ঘুস না দেয়ায় টেন্ডার বাতিল : জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের খুলনা বিভাগের অধীনে বরিশাল উপ বিভাগের জন্য রুপাতলী হাউজিং এস্টেটে চার তলা ফাউন্ডেশন এবং দু’তলা অফিস ভবন নির্মান ও অভ্যান্তরীন স্যানিটারি ও বৈদ্যুতিক কাজের দরপত্র আহবান করা হয় ২০২২ সালের ১৭ আগষ্ট। একই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর দরপত্রে সর্ব নিম্ম দরদাতা হিসেবে বিবেচিত হয় কাজী হোল্ডিং।দ্বিতীয় দরদাতা হোন সাংহাই জিয়ারুই মেটালোজিক্যাল এন্ড হেভী ম্যাশিনারী বিডি লিমিটেড। তৃতীয় দরদাতা হলেন এস এ ট্রেডিং করপোরেশন। সর্ব নিম্ম দরদাতা হিসেবে কোটেশন দর প্রদান করেন দুই কোটি তেত্রিশ লাখ ৯৭ হাজার এক শত ৪৪ টাকা।অফিসিয়াল কস্ট ইস্টিমেট ছিল দুই কোটি ৩৩ লাখ ১২ হাজার দুই শত ছত্রিশ টাকা। পে অর্ডারসহ সকল বিধি বিধান মেনে দরপত্রে অংশ নিয়ে কাজী হোল্ডিং সর্ব নিম্ম দরদাতা হলেও কার্যাদেশ প্রদান করা হয়নি। সুত্র জানায় কাজী হোল্ডিং দরপত্রে সর্ব নিম্ম দরদাতা হিসেবে উত্তীর্ন হলেও আটকে যায় কার্যাদেশ।কারন কাজটি থেকে বিশ লাখ টাকা ঘুস দাবী করেছিলেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বরিশাল উপ-বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম। এ ব্যাপারে কাজী হোল্ডিং এর প্রতিনিধি জানান,মোঃ রফিকুল ইসলাম একজন দুর্নীতিবাজ ও ঘুসখোর লোক।রফিকের দাবীকৃত বিশ লাখ টাকা ঘুস না দেয়ায় কার্যাদেশ প্রদান করেন নি তিনি। ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ: এছাড়া মোঃ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অন্যের নামে তিনি পুকুরে মাছ চাষ করে আয় করছেন বিধি বহির্ভূত ভাবে। রুপাতলী হাউজিং এস্টেটের জমিতে নার্সারী ও দোকান ভাড়া দিয়ে ভাড়া আদায় এবং বিভিন্ন নামে ড্রেন নির্মান,বাউন্ডারি দেয়াল নির্মান,গ্যারজ নির্মানের কার্যাদেশ দেখিয়ে নিজেই এসব নির্মান কাজে জড়িত ছিলেন।করেছেন সরকারি অর্থ আত্মসাৎ। এ দিকে ২০২৪ -২০২৫ অর্থ বছরে এক টাকার কাজ ও পণ্য ক্রয় না করেও ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। স্বজনদের নামে ৩ টি প্লট: মোঃ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। তার আপন ভাই আনোয়ারের মাধ্যমে ঘুসের টাকা লেনদেন করেন।সেপ্টেম্বর মাসেই এক দিনে আনোয়ারের ব্যাংক একাউন্টসে ৬০ লাখ টাকা জমা হয়েছে।বছরফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের ক্ষমতার প্রভাবে বরিশাল হাউজিং এস্টেট রুপাতলীতে স্বজনদের নামে নিয়েছেন ৩ টি প্লট। বরিশাল,পিরোজপুর ও নলছিটি হাউজিং এস্টেটে প্লট বানিজ্য করে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। উল্লেখ্য, দুদকের এ গনশুনানীতে২৯টি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি দপ্তরের বিরুদ্ধে ৯৫টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে দুদকের তফসিলভুক্ত ৭৪টি অভিযোগের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ৪টি অভিযোগের বিষয়ে দুদকে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হয়। ৪ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং ১ জন কর্মকর্তাকে বদলীর ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দেয়া হয়। বাকী অভিযোগগুলোর তাৎক্ষণিক সমাধান দেয়া হয়।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : তিনি টাকা আর সম্পদের কুমির। হার মানিয়েছে সম্পদ ও টাকার দিক দিয়ে পিকে হালদারকেও। পিকে হালদার ভারতে পালিয়ে গিয়ে ভারতের কারাগারে বসবাস করলেও বাংলাদেশে এখনও বহাল তবিয়তে তিনি । রাজার মত জিবন যাপন। ঘুরে বেড়াচ্ছেন বীরদর্পে। সেলিব্রিটি বিরাট কোহলি থেকে মালাইকা অরোরার মত পান করেন দামীয় অ্যালকালাইন ওয়াটার। যার দাম ভারতে ৭০০ রুপী। বলছি বরিশাল গনপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে এর কথা। উৎপল কুমার দে সরকারি টাকায় সব সময়ই উৎফুল্ল।ঠিকাদারদেরকে বিল না দিয়ে লক্ষ টাকায় কমোড, অর্ধকোটি টাকায় গেটসহ সরকারি টাকা তসরুপ করছেন দু হাতে। তার খুটির জোড় অনেক বড় রাষ্ট্রের চেয়েও প্রশ্ন কর্মকর্তা,কর্মচারী ও ঠিকাদারদের।আইন-আদালত,দুদক,গনপূর্ত অধিদপ্তর ও গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয়কে থোরাই কেয়ার করেন না বলে অভিযোগ গনপূর্ত অফিস সংশ্লিষ্ঠদের। প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করায় দুর্নীতি দমন কমিশন চিরুনী অভিযান চালিয়ে অসংখ্য দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় এনে কাউকে সাময়িক বরখাস্ত, কাউকে স্থায়ী বরখাস্ত, এমনকি কারও কারও সাজারও ব্যবস্থা করেছেন। তবে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে রয়ে গেছেন বহাল তবিয়তে। তার বিরুদ্ধে দুদক দুটি মামলা করেছে।মামলায় সত্যতা পেয়ে চার্জশীটও প্রদান করেছে। টাকার জোড়ে তিনি এখনো ফুর ফুরে মেজাজে।শীর্ষ কর্তাদের কাছে তথ্য গোপন করে এখনো চাকুরী করছেন দাপটের সাথে।তিনি ছিলেন জি কে শামিমের ডান হাত। ফাইভ স্টার গ্রুপের প্রধান। গণপূর্ত অধিদপ্তর বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে-এর বিরুদ্ধে দুদকে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দু’টি মামলা হয়েছে । উৎপল কুমার দের নামে দুদক একটি মামলা দায়ের করে ।এ ছাড়া উৎপল কুমার দে ও তার স্ত্রী গোপা দে’র বিরুদ্ধে ২০২০ সালে দুদকের সহকারি পরিচালক মোঃ নেয়ামুল আহসান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় দুদক আদালতে চার্জশীট প্রদান করেন ২০২৩ সালে। একটি মামলায় শুধু উৎপল কুমার দে , অন্য একটি মামলায় তার স্ত্রী গোপা দে ও উৎপল কুমার দে-কে আসামী করা হয়েছে এবং আদালতে চার্জশীটও দাখিল করা হয়েছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে সব তথ্য : দুদকের মামলা নং-২ তারিখ ০৫/০৮/২০২০ ইং এ অভিযোগ করা হয়েছে আসামী (১) গোপা দে, স্বামী- উৎপল কুমার দে, পিতা- নেপাল সেন, মাতা- নিয়তি সেন, বর্তমান ঠিকানা : ৫/এ, ৮১/৩, অতীস দীপঙ্কর সড়ক, সবুজবাগ, ঢাকা-১২১৪, স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম + পোঃ চক্রশালা, থানা- পটিয়া, জেলা- চট্টগ্রাম এবং (২) উৎপল কুমার দে, অতিরিক্ত পধান প্রকৌশলী (রিজার্ভ), গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা, পিতা- দুলাল চন্দ্র দে, মাতা- পারুল রানী দে, বর্তমান ঠিকানা : ফ্ল্যাট নং- ৫/এ, ৮১/৩, অতীস দীপঙ্কর সড়ক, সবুজবাগ, ঢাকা-১২১৪, স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম + পোঃ- চক্রশালা, থানা- পটিয়া, জেলা- চট্টগ্রাম । অসৎ উদ্দেশ্যে দুর্নীতির মাধ্যমে ৬,৬২,৬৮,৭৫৪/- (ছয় কোটি বাষট্টি লক্ষ আটষট্টি হাজার সাতশত চুয়ান্ন) টাকার জ্ঞাত আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করে তা নিজেদের ভোগ দখলে রেখে উক্ত সম্পদ বৈধ করার অসৎ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময়ে রূপান্তর/স্থানান্তর/হস্তান্তর করে মানি লন্ডারিং এর মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় এবং মানি-লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২)(৩) ধারাসহ দন্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন, প্রধান কার্যালয়, ঢাকার নথি নং-০০.০১.০০০০.৫০২.০১.১০১.১৯ এর অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত তথ্যাদি পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, ১নং আসামী গোপা দে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (রিজার্ভ) উৎপল কুমার দে’র স্ত্রী। গোপা দে-এর আয়কর নথিতে তার নামে পটিয়া ইলেকট্রনিক্স নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু একজন প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী হিসেবে উৎপল কুমার দে’র স্ত্রী গোপা দে কর্তৃক উক্ত ব্যবসা করার স্বপক্ষে বিভাগীয় কোন অনুমতি নেয়ার দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানকালে আসামী গোপা দে’র ২০১৮-১৯ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর নথিতে প্রদর্শিত নীট ১,৬০,৬৯,২০৫/- টাকা আয়ের সমর্থনে বৈধ উৎসের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বা দাখিল করতে সমর্থ হয়নি। এছাড়াও অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত তথ্য ও অন্যান্য রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, গোপা দে’র নামে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আরো ৫,০১,৯৯,৫৪৯/- টাকার অস্থাবর সম্পদ গচ্ছিত রয়েছে। কিন্তু উক্ত সম্পদের তথ্য গোপা দে’র আয়কর নথিতে প্রদর্শন না করে গোপন করা হয়েছে। অনুসন্ধানকালে ব্যাংকে গচ্ছিত উক্ত অর্থেরও বৈধ কোন উৎসের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সে হিসাবে আসামী গোপা দে’র নামে তার আয়কর নথিতে প্রদর্শিত ১,৬০,৬৯,২০৫/- এবং বিভিন্ন ব্যাংকে গচ্ছিত ৫,০১,৯৯,৫৪৯/- টাকারসহ মোট (১,৬০,৬৯,২০৫/- + ৫,০১,৯৯,৫৪৯/-) = ৬, ৬২,৬৮,৭৫৪/- (ছয় কোটি বাষট্টি লক্ষ আটষট্টি হাজার সাতশত চুয়ান্ন) টাকার সম্পদের (স্থাবর-অস্থাবর) তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। যা তার জ্ঞাত আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ অবৈধ সম্পদ মর্মে পরিলক্ষিত হয়। সার্বিক অনুসন্ধানে গোপা দে’র নামে বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়েছে মর্মে দেখা যায়। এক্ষেত্রে, প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক বিষয়াদি পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, ১নং আসামী গোপা দে ২নং আসামী স্বামী- উৎপল কুমার দে-এর প্রত্যক্ষ যোগসাজসে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ পন্থায় ৬,৬২,৬৮,৭৫৪/- (ছয় কোটি বাষট্টি লক্ষ আটষট্টি হাজার সাতশত চুয়ান্ন) টাকার জ্ঞাত আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ অবৈধ সম্পদ অর্জন পূর্বক তাদের ভোগ দখলে রেখে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় এবং উক্ত সম্পদ বিভিন্ন সময়ে রূপান্তর/স্থানান্তর/হস্তান্তরের মাধ্যমে মানি-লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২)(৩) ধারাসহ দন্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এছাড়া উৎপল কুমার দে’র নামে দুদকে আরও একটি জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলা রয়েছে যার মামলা নং-৩ তারিখ ০৫/০৮/২০২০ ইং। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন সরকারি চাকুরী আইন ২০১৮ (২০১৮ সালের ৫৭ নং আইন) এর ধারা ৪১ এর উপধারা (২) ও সরকারি কর্মচারী (শৃংখলা ও আপীল) বিধিমালা ২০১৮ (জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-৪ শাখা থেকে জারীকৃত প্রজ্ঞাপন এস.আর.ও নং ১১০ আইন/২০১৮) এর বিধি ২৫ এর উপবিধি (২) এবং সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের (বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়) অফিস মেমোরেন্ডাম নং (ইডি) (রেগ-৮)/এস-১২৩/৭৮-১১৫ (৫০০) তারিখ ২১/১১/৭৮ (এস্টাবলিশমেন্ট মেনুয়্যাল ১নং ভলিউমের পৃষ্ঠা নং- ৮৯২ ও ৮৯৩) এবং বি.এস.আর ১ম খন্ডের ৭৩ বিধির ১ ও ২ নং নোট অনুসারে কোন সরকারি কর্মচজারী ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতারের পর বা আদালতে আত্মসমর্পনের পর জামিনে মুক্তি লাভ করিলেও সাময়িক বরখাস্ত হিসেবে গণ্য হইবেন। ফাইভ স্টার গ্রুপের প্রধান যখন তিনি: গনপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে গনপূর্তে বদলি বাণিজ্য, পদোন্নতি বাণিজ্য, পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া ও অসাধু কর্মকর্তাদের ঘুপচি টেন্ডার অনুমোদনসহ সব ধরনের কাজ করে আসছিলেন। পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দিতে ইজিপি এড়িয়ে ওটিএম’র মাধ্যমে প্রকল্পের টেন্ডার শুরুসহ অসংখ্য অভিযোগের পাহাড় গড়ে ছিলেন তিনি।গড়েছিলেন একটি ফাইভ স্টার গ্রুপ। আর এই ফাইভ স্টার গ্রুপের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন উৎপল কুমার দে। গনপূর্ত অধিদপ্তরের অনেকে দুদক থেকে দায়মুক্তি পেলেও উৎপল কুমার দের বিরুদ্ধে সব অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় স্ত্রীসহ হয়েছেন দুটি মামলার আসামী। বিদেশ সফরে নিষেধাজ্ঞা : গণপূর্ত অধিদপ্তরের নয়জন প্রকৌশলী এবং দুই মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তাসহ ১১ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০১৯ সালের ৩০ অক্টোবর। ১১ জনের মধ্যে যার নামটি শীর্ষে রয়েছে তিনি হলেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে।বিতর্কিত ঠিকাদার জিকে শামীমের সঙ্গে প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে যুক্ত থেকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের কারনেই বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয় দুদক। উৎপল কুমার দে এর বিরুদ্ধে দুদকের তদন্তে সত্যতাও মেলে।বিদেশ যাত্রার নিষেধাজ্ঞার চিঠি ২০১৯ সালের ৩০ অক্টোবর পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) বিশেষ পুলিশ সুপার (ইমিগ্রেশন) বরাবর চিঠি পাঠিয়েছেন দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন। যত অভিযোগ : ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ক্যাসিনোকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রাঘব বোয়ালদের গ্রেফতার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনো ও অন্যান্য অবৈধ মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধানে নামে দুদক। এই অনুসন্ধানের সময় নাম আসে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে’র। ২০২০ সালের ৫ আগস্ট দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ সংস্থাটির কর্মকর্তা নেয়ামুল আহসান গাজী বাদী হয়ে উৎপল কুমার ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। দ্বিতীয় মামলাটির আসামি শুধু উৎপল কুমার দে। এই মামলাটিও দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নেয়ামুল আহসান গাজী বাদী হয়ে করেছেন। মামলায় বলা হয়েছে, একজন সরকারি কর্মচারী হয়েও উৎপল কুমার বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বহিভূত সম্পদ অর্জন করেছেন ১ কোটি ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৯০৩ টাকা। অনুসন্ধানকালে দেখা গিয়েছে আসামি তার বেতন ভাতা ছাড়া সুনির্দিষ্ট বৈধ আয়ের কোনো উৎস দেখাতে পারেননি। ফলে দুর্নীতির মাধ্যমে এই সম্পদ অর্জন করেছেন বলে বিবেচিত। জি কে শামীমের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে উৎপল কুমার দের বিরুদ্ধে । উৎপল কুমার দেকে ঘুষ দিয়ে বিতর্কিত ঠিকাদার জিকে শামীম গণপূর্তের বড় কাজগুলো বাগিয়ে নিয়েছেন। অবৈধভাবে বিপুল অর্থের মালিক হওয়া, জিকে শামীমসহ প্রভাবশালীদের শত শত কোটি টাকা ঘুষের মাধ্যমে ঠিকাদারি কাজ দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ,অর্থ পাচারসহ নানা অভিযোগ রয়েছে উৎপল কুমার দের বিরুদ্ধে । উৎপল কুমার দে ও গোপা দে’র বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা অসৎ উদ্দেশ্যে দুর্নীতির মাধ্যমে ছয় কোটি ৬২ লাখ ৬৮ হাজার ৭৫৪ টাকার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করে তা নিজেদের ভোগ দখলে রাখে। পরে এসব সম্পদ বৈধ করার অসৎ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময়ে রূপান্তর/স্থানান্তর/হস্থান্তর করে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় এবং মানি-লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২)(৩) ধারাসহ দন্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এ কারণে মামলাটি দায়ের করা হয়। আরও বলা হয়, গোপা দে’র নামে বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়েছে মর্মে দেখা যায়। প্রাপ্ত তথ্যপ্রমাণ ও অন্যান্য পারিপাশ্বিক বিষয়াদি পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, গোপা দে ও তার স্বামী উৎপল কুমার দে’র প্রত্যক্ষ যোগসাজসে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ পন্থায় ছয় কোটি ৬২ লাখ ৬৮ হাজার ৭৫৪ টাকার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। উৎপল কুমার দে’র বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগে বলা হয়, একজন সরকারি কর্মচারী হয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে দুর্নীতি এবং বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১ কোটি ১৮ লাখ ১৭ হাজান ৯০৩ টাকার সম্পদ অর্জন করে তা নিজ ভোগ দখলে রেখে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। অনুসন্ধানকালে আসামি উৎপল কুমার দে’র নামে অর্জিত সম্পদের তার বেতন-ভাতা ব্যতীত অন্যকোন সুনির্দিষ্ট বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া যায়নি। প্রকৃতপক্ষে তিনি সরকারি কর্মচারী হিসেবে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ পন্থায় অর্জিত অর্থ দ্বারা এসব স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ/সম্পত্তির মালিকানা অর্জন করেছেন মর্মে প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য প্রমাণে প্রতিষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে’র বিরুদ্ধে কানাডা ও ভারতে টাকা পাচার , কোটি কোটি টাকার বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ঠিকাদার জিকে শামীম গ্রেফতার হওয়ার পর আসল চেহারা বেরিয়েছে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দের । প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে’র ছেলে কানাডায় বসবাস করার কারণে সেখানে টাকা পাচার করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। উৎপল দে তার ছেলেকে কয়েক কোটি মূল্যের গাড়ি কিনে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। নিম্নমানের রড-সিমেন্ট দেওয়ায় নির্মাণের সময়ই ভেঙে পড়ে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রাচীর। ওই সময় নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে ছিলেন এই উৎপল কুমার দে। পরে এ ঘটনার তদন্ত করে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। তাতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হলেও ধামাচাপা পড়ে যায় তদন্ত প্রতিবেদন। তৎকালীন গৃহায়ন ও গনপূর্তী মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের নির্দেশে এক প্রজ্ঞাপনে ঢাকা মেট্রো ও ঢাকা জোনের দ্বায়িত্ব থেকে উৎপল কুমার দে’কে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।উৎপল কুমার দে ১৫তম বিসিএসে গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগদান করেন। তার দায়িত্ব পালনকালে আজিমপুর গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী ও ঢাকা ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকাকালে নানা বিতর্ক ছিল।এর মধ্যে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের নির্মাণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির রিপোর্ট এখনো আলোর মুখ দেখেনি। উৎপল কুমার দে’কে ওএস ডি করার পর তিনি দ্বায়িত্ব বুঝিয়েও দেন নি।পরে উপায়ান্ত না পেয়ে দ্বায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। উৎপল কুমার দে কিছু দিন ঘাপটি মেরে তদবীর করে গনপুর্তের বরিশাল জোনে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হয়ে আসেন। এ ব্যাপারে গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয়ের সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিনকে ই মেইলে এবং গনপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার এর হোয়াটঅ্যাপসে নিম্মোক্ত প্রশ্ন করা হলেও কোন উত্তর প্রদান করেন নি। প্রশ্ন ছিল, সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ এর ৩৯ (২) ধারা অনুযায়ী দুদকের মামলায় জনাব উৎপল দে অতিরিক্ত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, বরিশাল গণপূর্ত জোন, বরিশাল এর বিরুদ্ধে চার্জশীট হওয়ার পরে কোন ব্যবস্থা নিয়েছেন কিনা? আইন অনুযায়ী অর্থাৎ কোনো ফৌজদারি মামলায় অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন হইতে তাহাকে সাময়িক বরখাস্ত করিতে পারিবে এবং আদালতে যদি কোন মামলা বিচারাধীন থাকে তাহলে কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। প্রশ্ন জনাব উৎপল দে’র বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা? জনাব উৎপল দে ঠিকাদারদের বকেয়া বিল না দিয়ে কোটি টাকা ব্যয়ে অফিসের সাজ সজ্জা করতে পারে কিনা? দুদকের দুটি মামলার জন্য বেশীর ভাগ সময়ই ঢাকায় থাকেন। তিনি ছুটি নেয় কিনা? এ ব্যাপারে গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী জানান,খোজ নিয়ে জানাতে হবে। এ ব্যাপারে গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয়ের যুগ্নসচিব ও আইন কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর জানান, আমি অসুস্থ্য ছুটিতে রয়েছি তাই না জেনে বলা সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে বরিশাল গনপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে জানান,আমার ব্যাপারে সব অপপ্রচার হচ্ছে। দুদকের মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,মামলা চলমান। আমার অথরিটিকে জিজ্ঞেস করেন। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে’র বিরুদ্ধে দুদকের চাঞ্চল্যকর এ মামলা দু’টির ব্যাপারে গণপূর্ত অধিদপ্তরে নানা সমালোচনা থাকলেও এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তর এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়নি। উৎপল কুমার দে এর ক্ষেত্রে কোনরূপ সরকারি চাকুরী বিধিমালার তোয়াক্কা না করে বরিশাল গণপূর্ত জোনের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে যা দুর্নীতি ও অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।