হুমায়ুন ইসলাম: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার তাজু, যার আসল নাম তাইজুল ইসলাম, সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছেন। এক সাধারণ মানুষ হলেও তার সরল ভিডিওগুলো আজ একটি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
তাজুর ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির বিষয়বস্তু ছিল একটি দোকানে জিলাপির দাম সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন করা—“জিলাপি কত করে বিক্রি করছেন? সাদাডা কত, লালডা কত?”। যদিও প্রশ্নটি দৈনন্দিন জীবনের একটি সাধারণ অংশ, সামাজিক মিডিয়ায় এটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। অনেকেই তাকে হাস্যরসের খোরাক হিসেবে গ্রহণ করে, আবার অনেকে তার সরলতাকে প্রশংসা করেছেন।
তাজু নিজে বলেন,
“আমি সাংবাদিক নই। সাংবাদিকরা আমাদের চরাঞ্চলে আসেন না, তাই আমি নিজেই ভিডিও করি। আমি বোকাসোকা মানুষ, ভুল হতেই পারে। আমাকে ট্রল করলেও আমার কষ্ট নেই, আমি শুধু চাই আমাদের এলাকার উন্নয়ন হোক।”
সরাসরি সাংবাদিকতা না হলেও তাজুর উদ্যোগ নাগরিক সাংবাদিকতা বা সিটিজেন জার্নালিজমের উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন প্রথাগত মিডিয়া পুরো দেশব্যাপী পৌঁছাতে পারে না, তখন সাধারণ মানুষ তাদের নিজস্ব অঞ্চলের ঘটনা তুলে ধরতে পারে।
ডা. মেহেদী হাসান, গণমাধ্যম গবেষক, মন্তব্য করেন,
“তাজুর মতো মানুষ সমাজের প্রতিটি প্রান্তে ঘটে যাওয়া সমস্যাগুলো তুলে আনতে পারে। এটি মিডিয়ার ফাঁক পূরণ করার একটি নতুন পদ্ধতি।”
তাজুর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া দুইভাবে দেখা গেছে:
প্রশংসা: সরল ভাষায় জনগণের কষ্ট তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ।
বিনোদনমূলক ব্যঙ্গ: ভিডিওকে মজা করা, সরল প্রশ্নগুলোকে হাস্যরস হিসেবে দেখানো।
তবে ইনভেস্টিগেটিভ দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—আমরা কি শুধু তার সরলতাকে উপহাসের খোরাক বানাচ্ছি, নাকি প্রকৃত সমস্যার দিকে নজর দিচ্ছি?
তাজুর সরলতা প্রকৃতপক্ষে প্রতিফলিত করে প্রান্তিক মানুষের দৈনন্দিন দুঃখ। ব্রিজ, সেতু, রাস্তা, যোগাযোগের সমস্যা—এসব তার ভিডিওর আড়ালে লুকিয়ে থাকে। তার কণ্ঠ শুধু নিজের সমস্যা নয়, পুরো অঞ্চলের জনগণের এক ধরনের ক্ষোভ এবং দাবি প্রকাশ করে।
সামাজিক বিশ্লেষক রুবিনা আক্তার বলেন,
“যারা সামাজিক মিডিয়ায় তার ভিডিওকে মজা করছে, তারা হয়তো সেই অঞ্চলের বাস্তবতা বুঝতে পারছে না। তাজুর সরলতা আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে—সামাজিক উন্নয়ন কি সবসময় মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে, নাকি প্রান্তিক জনগণ নিজ উদ্যোগে এগিয়ে আসতে পারবে?”
তাজু ভাইরাল হয়েছেন হাসির খোরাক হিসেবে, কিন্তু তার ভিডিও আমাদের ভাবার সুযোগ দেয়—কীভাবে সাধারণ মানুষ সমাজের দুঃখ এবং সমস্যা তুলে ধরতে পারে। তার সরলতা এবং সাহস আমাদের শিখিয়ে দেয় যে নাগরিক সাংবাদিকতা শুধু প্রথাগত সাংবাদিকদের কাজ নয়; এটি যেকোনও মানুষের দায়িত্ব হতে পারে।
তাজুর মতো কণ্ঠস্বর শোনার সুযোগ না দিলে সমাজ কি প্রকৃত সমস্যাগুলোর দিকে নজর দিতে পারত? সম্ভবত না। তাই তাজু শুধুমাত্র হাসির খোরাক নয়—সে প্রান্তিক জনগণের কণ্ঠ, যা আমাদের শোনার প্রয়োজন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: বরিশালের গুরুত্বপূর্ণ নদীপথ সুগন্ধা ও কীর্তনখোলার মোহনায় অবৈধ দখল ও দূষণের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে অনুসন্ধানে। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠী “অপসোনিন”নদীর তীর ও মোহনার বিস্তীর্ণ অংশ দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, বর্জ্য ফেলা,জমি দখল,পরিবেশ ধ্বংস এবং জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করছে,যার ফলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।মোহনা এখন আর শুধু প্রাকৃতিক জলপথ নয়—এটি পরিণত হয়েছে দখল, দূষণ ও অপসোনিনের আধিপত্যের এক জটিল সংঘাতে। দখলের বিস্তার ও কৌশল: স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে ধীরে ধীরে নদীর তীর ঘেঁষে মাটি ভরাট, স্থায়ী বিশাল কংক্রিট দেয়াল নির্মাণ ভরাট করে স্থাপনের মাধ্যমে দখল প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে। শুরুতে ছোট পরিসরে কাজ হলেও বর্তমানে তা বড় শিল্পকারখানার সম্প্রসারণে রূপ নিয়েছে।সুগন্ধা ও কীর্তনখোলার মোহনায় বিশাল এই স্থাপনা যেন বাংলাদেশের লাগামহীন নদী দখলের এক ভয়াবহ নিদর্শন। একজন জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আগে এই জায়গায় আমরা জাল ফেলতাম। এখন সেখানে বাঁধ দেওয়া হয়েছে, ফলে নদী এখন ভুমিতে পরিনত করেছে অপসোনিন।” স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রথমে কারখানাটি ছোট্ট একটি জায়গায় গড়ে ওঠে। কিন্তু প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে নদীতে বালু ফেলে ধীরে ধীরে তারা জায়গা বাড়াতে থাকে। রাতের আঁধারেও সেই কাজ চলত।ফলে নদীপথে নাব্যতা সংকট সৃষ্টি করছে, নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ ব্যাহত করছে এবং পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। ১. নদীর বুক চিরে ‘শিল্প সাম্রাজ্য’ স্থানীয় সূত্র ও মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, ঝালকাঠির দপদপিয়া ও তিমিরকাঠী সংলগ্ন এলাকায় সুগন্ধা ও বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর ভেতরে ৫০ একরের বেশি এলাকা ভরাট করে শিল্প স্থাপনা সম্প্রসারণের অভিযোগ রয়েছে। নদীতে কংক্রিট ব্লক ফেলে ধীরে ধীরে চর সৃষ্টি করে সেই চর পরে কোম্পানির জমির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ সংকুচিত হয়েছে। ২. ‘সিকিস্তি জমি’দখলের অভিযোগ নদীভাঙনে বিলীন হওয়া জমি পরে জেগে উঠলে তা পূর্ব মালিকদের পাওয়ার কথা থাকলেও— অভিযোগ আছে, সেই জমি দখল করে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে. শতাধিক পরিবার তাদের জমি ফিরে পায়নি।দখল ঠেকাতে গেলে হামলা-হুমকির অভিযোগও রয়েছে এটি শুধু নদী দখল নয়—ভূমি অধিকার সংকটেও রূপ নিয়েছে। ৩. পরিকল্পিত ভরাট ও তীর দখল পরিবেশকর্মীদের মতে— নদীর ভেতরে বালু ভরাট করা হয়েছে। তীর ঘেঁষে গাইড ওয়াল ও শিল্প অবকাঠামো তৈরি হয়েছে।নদীর অংশ নিজেদের সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার করছে ।ফলে নদীর প্রাকৃতিক সীমানা প্রায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ৪. দূষণের ভয়াবহ চিত্র সুগন্ধা ও কীর্তনখোলা নদী এখন বহুমুখী দূষণের শিকার— প্রধান দূষণের উৎস: অপসোনিন কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য, ময়লা,প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য সরাসরি নদীতে পড়ছে, যা পানিকে বিষাক্ত করে তুলছে।ফলে পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।মাছ ও জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে ও নদীর নাব্যতা কমে যাচ্ছে। ৫. সুগন্ধা নদীর সংকট: ভাঙন ও চাপ শুধু কীর্তনখোলা নয়, পাশের সুগন্ধা নদীতেও সংকট বাড়ছে । অপসোনিন দুটি নদীরই অংশ দখল করে নিয়েছে। যার মারাত্মক প্রভাব পড়েছে নদীগুলোর প্রাকৃতিক প্রবাহ ও পরিবেশ ব্যবস্থায়। প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। তীব্র ভাঙনে গ্রাম, রাস্তা, প্রতিষ্ঠান বিলীন,নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হুমকির মুখে । মোহনা অঞ্চলে কৃত্রিম বাধা ও দখল দপদপিয়া ও তিমিরকাঠি মৌজার অংশ এই ভাঙনকে আরও ত্বরান্বিত করছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারনা । এছাড়া দপদপিয়া -নলছিটি সড়কটি এখন ভাঙনের মুখে। ৬. প্রশাসনিক দুর্বলতা ও প্রভাবশালী চক্র অনুসন্ধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে দখল শুধু ঘটছে না, বরং দীর্ঘদিন ধরে তা টিকে আছে। কারণগুলো: প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠীর প্রভাব।আইনের দুর্বল প্রয়োগ।উচ্ছেদ অভিযানের ধারাবাহিকতার অভাব। যদিও প্রশাসন জানিয়েছে, নদী দখল ও দূষণ রোধে পরিকল্পনা রয়েছে। ৭. দখলদার অপসোনিন, বিস্তৃত নেটওয়ার্ক কীর্তনখোলা ও সুগন্ধা নদী দখলে অপসোসিনের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে।এ দুটি নদী দখলের প্রতিযোগীতায় অপসোনিন এগিয়ে।নদীতে ব্লক ফেলে নদী দখল করেছে এ অঞ্চলে একমাত্র অপসোনিন। সাবেক এমপি ও আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতা আমির হোসেন আমুর প্রভাবকে তারা কাজে লাগিয়ে নদী দখল করেছে বলে স্থানীয়রা জানান। অর্থাৎ, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়-একটি সংগঠিত দখল প্রক্রিয়া। ৮. সামাজিক: ও অর্থনীতির উপর প্রভাব অর্থনৈতিক: জেলেদের আয় কমে গেছে,নৌ চলাচলে বাধা ও নদীভিত্তিক ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত। সামাজিক: ভূমিহীনতা বৃদ্ধি-স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা।নদীর অংশও দখলের আওতায় চলে গেছে। ৯. বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা পরিবেশবিদদের মতে— নদীকে “জীবন্ত সত্তা” হিসেবে আইনি স্বীকৃতি থাকলেও বাস্তবে তা রক্ষা হচ্ছে না দ্রুত দখলমুক্ত না করলে নদী হারানোর ঝুঁকি রয়েছে । পরিবেশগত ক্ষতি: বিশেষজ্ঞদের মতে, মোহনা অঞ্চল নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পলি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বাধা সৃষ্টি হলে— নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হতে পারে, মাছের প্রজনন ব্যাহত হয়, নৌ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়। পরিবেশকর্মীরা জানান, শিল্পবর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলার ফলে পানির রং ও গন্ধ পরিবর্তিত হয়েছে। অনেক এলাকায় তেলজাতীয় পদার্থ ভাসতে দেখা গেছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, দখলের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলেও কার্যকর পদক্ষেপ খুব একটা দেখা যায়নি। নদী রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবও প্রকট। একজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, “নদী দখল ঠেকাতে আইনি কাঠামো আছে, কিন্তু প্রয়োগে দুর্বলতা রয়েছে। প্রভাবশালী গোষ্ঠীর কারণে অনেক সময় অভিযান থেমে যায়।” আমুর প্রভাবে ১৮ একর জমি দখলের : আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর ক্ষমতার দাপটে জাল জালিয়াতির মাধ্যে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অপসোনিন ফার্মাসিটিক্যাল লিমিটেড কোম্পানি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা মিসকেস সাজিয়ে আমির হোসেন আমুর ক্ষমতার প্রভাবে ১৮ একর ১৫ শতাংশ জমি আত্মসাত করেছেন।এমন অভিযোগ তুলে আমির হোসেন আমু ও অপসোনিন ফার্মাসিটিক্যাল লিমিটেডের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে ভূক্তভোগিরা। ভূক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বোরহান উদ্দিন মিলন। তিনি বলেন, ফ্যাসিষ্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার দোসর সাবেক খাদ্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু অপসোনিন ফার্মাসিটিক্যাল লিমিটেডের অংশীদার। এছাড়া রাকিব খান ও রউফ খান পরস্পর মামাতো-ফুফাতো ভাই। তাঁরা আওয়ামী লীগের আমলে আমির হোসেন আমুর ক্ষমতার অপব্যবহার করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভূয়া মিস কেস ২৩০/৬৫-৬৬ নম্বর বন্দোবস্তের মাধ্যমে তাদের ৭ পরিবারের প্রায় ১৮ একর ১৫ শতাংশ ভূমি আত্মাসাত করে নেয়। মিলন আরও বলেন, নলছিটি এসিল্যান্ড অফিসের ১২ নম্বর রেজিস্টার বইতে মিস কেস ২৩০/৬৫-৬৬ এর কোন অস্তিত্ব নেই। বরং ওই রেজিস্টারে তিনটি বন্দোবস্ত কেস দায়ের রয়েছে। কিন্তু নলছিটি জেএল নম্বর ১২৭ পশ্চিম চর দপদপিয়ার জমি অপসোনিন কোম্পানির মালিক রাকিব খানের নামে ৪৩১৯/১৯ দলিল এবং ৩৮২৮/২০০০ নম্বর দলিল বরিশাল সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে রেজিস্ট্রি হয়, যা ১৯৬৬ সালে আইনে সম্পূর্ণ অবৈধ। যত দলিল অপসোনিন কোম্পানিকে দেয়া হয়েছে। এর মূল মালিকানা স্বত্ব ২৩০/৬৫-৬৬ মিস বন্দোবস্ত কেসটি দলিলে উল্লেখ্য নাই। এসকল দলিলে জাগুয়া ইউনিয়ন জেএল ১২৭ নম্বর উল্লেখ্য করেছে, কিন্তু প্রকৃত পক্ষে জাগুয়া ইউনিয়ন জেএল নম্বর ৫৪। সকল দলিল জাল জালিয়াতি মাধ্যমে সৃষ্টি করা হয়েছে। তাছাড়া এই রাকিব খান ও রউফ খান কীর্তনখোলা নদীর স্রোত গতি পরিবর্তন করে, নদী ভরাট ও দখল করে পরিবেশের ভারসম্যের ব্যাঘাত ঘঠিয়ে শিল্প কারখানা গড়ে তুলেছেন। শত শত অসহায় গরীব মানুষের জমি এবং সরকারের খাস জমি অবৈধভাবে জবর দখল করেছে। এর সব কিছুর নেপথ্যে আমির হোসেন আমু। তিনি বলেন, এ নিয়ে ঝালকাঠি আদালতে মামলা করেছেন ভূক্তভোগীরা। মামলায় ২৩ বছর তারা কোর্টে হাজির না হয়ে, কোর্ট অবমাননা করেছেন। তারা অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের মাধ্যমে আইন কানুন আদালতকে তোয়াক্কা না করায়, তাদের বিরুদ্ধে আদালত জি আর মামলা নং ৩১/২৫ এবং সি আর ১৪৭/২৫ নং মামলায় গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করে। আমির হোসেন আমুর অবৈধ ক্ষমতার দাপটে বহু অসহায় গরীব মানুষের ভূমি জবর দখল করে নিয়েছে। জাল-জালিয়াতির মূল হোতা অপসোনিন ফার্মার অসাধু কর্মকর্তা মো. পারভেজ আহমেদ, রফিক আহম্মেদ, জসিম উদ্দিন, ফিরোজ আহমেদ বলে উল্লেখ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- ভূক্তভোগী জালাল আহমেদ খান, জাহাঙ্গীর খান, সিরাজুল ইসলাম গাজী, সাইফুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সাইফুল। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, 'হাইকোর্ট নদীগুলোকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করেছেন। এর মানে স্থানীয় প্রশাসনের এখতিয়ার রয়েছে অবিলম্বে দখলদারদের উচ্ছেদ করার।'তিনি বলেন, 'আমি বুঝতে পারছি না কেন তারা এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অপসোনিনের বক্তব্য : অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান “অপসোনিন”-এর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়েছে, তারা কোনো অবৈধ দখলে জড়িত নয়। তাদের দাবি, সব স্থাপনা বৈধ অনুমোদনের ভিত্তিতেই নির্মিত এবং পরিবেশগত মানদণ্ড মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তব পরিস্থিতি সেই দাবির সঙ্গে মিলছে না। করণীয় ও সুপারিশ: বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতি মোকাবেলায় কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপের কথা বলেছেন— নদীর সীমানা নির্ধারণ করে দখলমুক্ত করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দ্রুত অভিযান, শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি, স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা। সুগন্ধা ও কীর্তনখোলার মোহনা শুধু নদীপথ নয়, বরং এ অঞ্চলের অর্থনীতি, জীবিকা ও পরিবেশের প্রাণকেন্দ্র। দখল ও দূষণের এই চক্র অব্যাহত থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই নদীগুলোকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। সুগন্ধা ও কীর্তনখোলার মোহনায় যা ঘটছে তা শুধু একটি নদী দখলের ঘটনা নয়— এটি পরিবেশ, অর্থনীতি, ভূমি অধিকার ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার সম্মিলিত সংকট। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে— নদীর নাব্যতা হারাবে,জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে,হাজারো মানুষের জীবিকা বিপন্ন হবে, নদী রক্ষার লড়াই এখন সময়ের দাবি।
হুমায়ুন ইসলাম: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার তাজু, যার আসল নাম তাইজুল ইসলাম, সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছেন। এক সাধারণ মানুষ হলেও তার সরল ভিডিওগুলো আজ একটি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সরল প্রশ্ন, বড় প্রতিধ্বনি তাজুর ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির বিষয়বস্তু ছিল একটি দোকানে জিলাপির দাম সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন করা—“জিলাপি কত করে বিক্রি করছেন? সাদাডা কত, লালডা কত?”। যদিও প্রশ্নটি দৈনন্দিন জীবনের একটি সাধারণ অংশ, সামাজিক মিডিয়ায় এটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। অনেকেই তাকে হাস্যরসের খোরাক হিসেবে গ্রহণ করে, আবার অনেকে তার সরলতাকে প্রশংসা করেছেন। তাজু নিজে বলেন, “আমি সাংবাদিক নই। সাংবাদিকরা আমাদের চরাঞ্চলে আসেন না, তাই আমি নিজেই ভিডিও করি। আমি বোকাসোকা মানুষ, ভুল হতেই পারে। আমাকে ট্রল করলেও আমার কষ্ট নেই, আমি শুধু চাই আমাদের এলাকার উন্নয়ন হোক।” নাগরিক সাংবাদিকতার উদাহরণ সরাসরি সাংবাদিকতা না হলেও তাজুর উদ্যোগ নাগরিক সাংবাদিকতা বা সিটিজেন জার্নালিজমের উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন প্রথাগত মিডিয়া পুরো দেশব্যাপী পৌঁছাতে পারে না, তখন সাধারণ মানুষ তাদের নিজস্ব অঞ্চলের ঘটনা তুলে ধরতে পারে। ডা. মেহেদী হাসান, গণমাধ্যম গবেষক, মন্তব্য করেন, “তাজুর মতো মানুষ সমাজের প্রতিটি প্রান্তে ঘটে যাওয়া সমস্যাগুলো তুলে আনতে পারে। এটি মিডিয়ার ফাঁক পূরণ করার একটি নতুন পদ্ধতি।” প্রতিক্রিয়ার বিভাজন তাজুর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া দুইভাবে দেখা গেছে: প্রশংসা: সরল ভাষায় জনগণের কষ্ট তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ। বিনোদনমূলক ব্যঙ্গ: ভিডিওকে মজা করা, সরল প্রশ্নগুলোকে হাস্যরস হিসেবে দেখানো। তবে ইনভেস্টিগেটিভ দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—আমরা কি শুধু তার সরলতাকে উপহাসের খোরাক বানাচ্ছি, নাকি প্রকৃত সমস্যার দিকে নজর দিচ্ছি? প্রান্তিক জনগণের কণ্ঠ তাজুর সরলতা প্রকৃতপক্ষে প্রতিফলিত করে প্রান্তিক মানুষের দৈনন্দিন দুঃখ। ব্রিজ, সেতু, রাস্তা, যোগাযোগের সমস্যা—এসব তার ভিডিওর আড়ালে লুকিয়ে থাকে। তার কণ্ঠ শুধু নিজের সমস্যা নয়, পুরো অঞ্চলের জনগণের এক ধরনের ক্ষোভ এবং দাবি প্রকাশ করে। সামাজিক বিশ্লেষক রুবিনা আক্তার বলেন, “যারা সামাজিক মিডিয়ায় তার ভিডিওকে মজা করছে, তারা হয়তো সেই অঞ্চলের বাস্তবতা বুঝতে পারছে না। তাজুর সরলতা আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে—সামাজিক উন্নয়ন কি সবসময় মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে, নাকি প্রান্তিক জনগণ নিজ উদ্যোগে এগিয়ে আসতে পারবে?” তাজু ভাইরাল হয়েছেন হাসির খোরাক হিসেবে, কিন্তু তার ভিডিও আমাদের ভাবার সুযোগ দেয়—কীভাবে সাধারণ মানুষ সমাজের দুঃখ এবং সমস্যা তুলে ধরতে পারে। তার সরলতা এবং সাহস আমাদের শিখিয়ে দেয় যে নাগরিক সাংবাদিকতা শুধু প্রথাগত সাংবাদিকদের কাজ নয়; এটি যেকোনও মানুষের দায়িত্ব হতে পারে। তাজুর মতো কণ্ঠস্বর শোনার সুযোগ না দিলে সমাজ কি প্রকৃত সমস্যাগুলোর দিকে নজর দিতে পারত? সম্ভবত না। তাই তাজু শুধুমাত্র হাসির খোরাক নয়—সে প্রান্তিক জনগণের কণ্ঠ, যা আমাদের শোনার প্রয়োজন।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এক সিনিয়র সাংবাদিককে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতি সভার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক কালাম তালুকদারকে রাতে গোপালগঞ্জের ২৫০-শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত কালাম তালুকদার কোটালীপাড়া সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এবং দৈনিক ভোরের আলো পত্রিকার গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি। তিনি রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের শ্রীফলবাড়ি গ্রামের প্রয়াত জবেদ আলী তালুকদারের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সাংবাদিক কালাম তালুকদার জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতি সভার খবর সংগ্রহ করতে তিনি হলরুমে যান। সভা চলাকালে কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় কোটালীপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক লালন শেখ, সদস্য সচিব নিলয় হাওলাদার মোস্তফা এবং ধারাবাশাইল সরকারি আদর্শ কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হামিম বিশ্বাসসহ ১০-১২ জন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং টেনে-হিঁচড়ে নিচতলায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় হামলাকারীরা সাংবাদিক কালামকে উপজেলায় না যাওয়ার হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তোরা আর সাংবাদিকতা করতে পারবি না। তোদের যেন আর কোথাও না দেখি।’ পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত গোপালগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ব্যাপারে কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে বারবার ফোন করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় গোপালগঞ্জের জেলা-উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন তারা। গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আরিফ উজ-জামান বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
Dr. Md. Aliur Rahman: Right to know, among all other rights, is the foremost right. It is their basic human rights too as every citizen has the right to know all kinds of information and decisions that can affect their lives. Journalists and media have been playing a leading role in fulfilling the right to know on behalf of the citizen. Journalists, as the representatives of citizens, gather news mainly for those citizens and work as the communication activists to uphold their rights. As a global profession, the ideal purpose of journalism is to publish an event illuminated in the light of the information digging out the truths through proper investigation. The most accomplished, glorious and risky responsibility of journalism realm is investigation. For this reason, the study of investigative journalism is closely related to implementation of right to information and access to information. Against this backdrop, the aim of this article is to make a simple focus on the functionality of the Right to Information (RTI) act in journalists' access to information and in their practices for investigative journalism. Investigative journalism is a kind of information-exploration process wherein the attempt goes continue to open the close-door and unuttered-mouth of information aiming an extravagant effort for the objective news. This is such a public interest-based reporting process, which can be used to expose public mishaps as well as to expose masks of corruption for public welfare. However, investigative journalism is not an easy task. In this process, a journalist may have to wait for years to get about specific information, especially on the issues of public-interest. As a result, investigating journalists often have to face various obstacles, risks, and insecurities while collecting related objective information or news. The main principle of investigative journalism is to unveil any public interest information or reveal such truths that are beneficial to the people who have been kept hidden intentionally from the public. An investigative journalist has to run behind the news for a long time despite being it a risky task. In this scenario, the task will be easier if the RTI Act is in place. The effective use of the Act can increase the quality of information and acceptance of news in terms of labor, time and objectivity. Using the act, the journalists and media can get great benefit to proof the fact that the citizen is the real owner of the Republic. The ultimate goal of transparency, accountability and good governance can be achieved in this way. It has been proved in a higher-level research that the RTI Act is very much helpful for investigative journalism. An analysis of the field survey of a Ph.D. research under the Department of Mass Communication and Journalism in Dhaka University found that 72 percent respondents and journalists think that "Right to Information Act is helpful in bringing transparency and accountability to public and private sectors." 57 percent of the respondents believe that the RTI Act is very helpful for journalists and researchers. At the same time, it is noted that most of the journalists believe that the RTI Act cannot play a role in daily reporting. But this act can play an active role in investigative journalism. It is also revealed in the survey that journalists can play an important role in implementing the RTI Act through the practice of investigative reporting using the law. It is also found in the research findings that RTI Act is very much helpful for collecting information and reporting and it is possible to get adequate benefits in investigative journalism if the RTI Act is implemented effectively. The RTI Act is the only law through which the journalists can explore many unknown and serious corruption-irregularities. In many cases, journalists may have to face harassment and mischief while attempting to collect information using the traditional ways of journalism. Good results can be found, if they try to collect the same information applying under the RTI Act. Using Right to Information Act, the journalists can report in-depth, especially investigative reporting on topics related to public-interest such as reporting on accountable actions of the government, semi-government, non-governmental organizations including the government's procurement, as well as corruption of emergency services, land acquisition, murder and important issues including human rights. Besides, in some stories, 'seeking anonymity/asking not to be named'- is cited considering the sensitive of the events as the sources may face untoward situation if their identities are disclosed. Despite the fact that the information is correct, the acceptability or authenticity of the news stories will be in question only due to the undisclosed sources. But if we are able to collect the same information using the RTI Act, there will be no problem regarding the authenticity. To protect the newsmen from self-defense and to protect the source, tendency of giving wrong information to the readers is noticed often. In such a case, the source of information can be cited properly and reliably by applying the RTI Act and there is no need to use 'asking not to be named'. The main purpose of journalism is to present the news by self-employing as a professional information activist for the welfare of the society, the state and the people. And the implementation objective of the Right to Information Act is inherently co-related to the fundamental purpose of journalism and freedom of the press. In the Right to Information Act, 2009, failing to provide any information related to public interest, to abstain, denial from giving information or to hide information is considered as an offense. Hence, the RTI Act and investigative journalism are helpful and complementary to flourish democratic culture and creating the way to freedom of expression, it is high time to establish transparency, accountability and good governance throughout our state life by implementing the RTI Act in investigation journalism more effectively. Dr. Aliur Rahman is the first researcher in Bangladesh who is conferred a Ph.D Degree on research related to RTI Act. At present, He is the Chairperson of the Dept. of Media and Communication in Green University of Bangladesh . writer: ড. মো. অলিউর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারপার্সন, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম যোগাযোগ বিভাগ গ্রিন ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ। Dr. Md. Aliur Rahman is the first researcher in Bangladesh to receive a Ph.D. on research related to the Right to Information Act. His doctoral thesis, titled “Journalists’ Access to Information: Pre and Post-Situation Analysis of the Right to Information Act,” examines the impact of the RTI law on media practices. He currently serves as the Chairperson of the Department of Media and Communication at Green University of Bangladesh. PROFESSIONAL CERTIFICATION: –Successfully completed a two-month-long training course for the trainers (ToT) on ‘Improving Training Concepts’ under the auspices of the International Institute for Journalism (IIJ) in Berlin, Germany; –Completed the Senior Certificate Course in Military Science from the University of Dhaka; –Attended the Training of Trainers (ToT) workshop on Gender and Media, organized by PLAGE-II in Dhaka; –Attended the Pilot Testing ToT workshop on “Gender and Media Guidebook for Trainers” organized by PLAGE-II in Dhaka; –Participated in the Training of Trainers (ToT) workshop on Avian Influenza and Pandemic Influenza Awareness and Preparedness, organized by Unicef in Dhaka; –Attended the ‘Training of Trainers (ToT)’ organized by Prothom Alo; –Participated in the workshop on “Introduction to Film Studies” conducted by Father Gaston Roberge, organized by Bangladesh Federation of Film Societies and Dept. of Mass Communication and Journalism of Dhaka University; –Completed Basic Office Management Course organized by the Press Institute of Bangladesh; –Completed two-week Advance Computer Training organized by the Press Institute of Bangladesh; –Attended the training workshop on Project Formulation and Processing in the Prescribed Proforma, organized by the Academy for Planning and Development in Dhaka; –Completed the English Language Proficiency Course, organized by the Academy for Planning and Development in Dhaka; –Attended the training workshop on Writing Books, Translating and Editing, organized by National Book Center in Dhaka; –Completed basic photography course from the Dhaka University Photographic Society. ড. মো. অলিউর রহমান যিনি বাংলাদেশের তথ্য অধিকার (RTI) আইন নিয়ে কাজ করা একজন বিশিষ্ট গবেষক এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব। আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তাঁর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি নিচে দেওয়া হলো: গবেষণায় অনন্য কৃতিত্ব: তিনি বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইনের (RTI Act) ওপর প্রথম পিএইচডি (Ph.D.) ডিগ্রি অর্জনকারী ব্যক্তি। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল— “Journalists’ Access to Information: Pre and Post-Situation Analysis of the Right to Information Act”। আন্তর্জাতিক ফেলোশিপ: তিনি জার্মানির বার্লিনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠান IIJ (International Institute for Journalism)-এর একজন ফেলো। শিক্ষাগত যোগ্যতা: তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। পরবর্তীতে একই বিষয়ে এম.ফিল (M.Phil) ডিগ্রিও অর্জন করেন। ড. মো. অলিউর রহমানের গবেষণা প্রবন্ধ (Thesis) তাঁর গবেষণার মূল শিরোনাম ছিল: “ Journalists’ Access to Information: Pre and Post-Situation Analysis of the Right to Information Act ”। এই গবেষণায় তিনি মূলত দুটি সময়ের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করেছেন: আইন-পূর্ব পরিস্থিতি (Pre-RTI Act): ২০০৯ সালের আগে সাংবাদিকরা দাপ্তরিক গোপনীয়তা আইন (Official Secrets Act, 1923) ও প্রশাসনিক অনীহার কারণে তথ্য পেতে কী ধরণের বাধার সম্মুখীন হতেন। আইন-পরবর্তী পরিস্থিতি (Post-RTI Act): তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ প্রণয়নের পর সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কী ধরণের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে । গবেষণার মূল ফলাফল: ১. সাংবাদিকদের জন্য এটি একটি শক্তিশালী আইনি হাতিয়ার হলেও অনেক ক্ষেত্রে আবেদন প্রক্রিয়ার জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রিতা তথ্যের সময়োপযোগিতা নষ্ট করে। ২. তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তাদের (PIO) মানসিকতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি তথ্যের অবাধ প্রবাহে বড় ভূমিকা রাখে । তথ্য অধিকার আইন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ড. অলিউর রহমান তাঁর বিভিন্ন নিবন্ধে তথ্য অধিকার আইনকে কার্যকর করতে কয়েকটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন: তদন্তমূলক সাংবাদিকতায় RTI-এর ব্যবহার: তিনি মনে করেন, তথ্য অধিকার আইন ব্যবহার করে সাংবাদিকরা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি ও অনিয়ম আরও তথ্যবহুলভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারেন । স্বতঃপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ (Proactive Disclosure): নাগরিক বা সাংবাদিক আবেদন করার আগেই প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইট বা মাধ্যমে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করা আইনটির অন্যতম লক্ষ্য । আবেদন প্রক্রিয়া: একজন নাগরিক বা সাংবাদিক নির্ধারিত ফরমে (ফরম ক) বা সাদা কাগজে তথ্য চেয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে আবেদন করতে পারেন। আবেদন পাওয়ার ২০ কার্যদিবসের মধ্যে তথ্য প্রদানের নিয়ম রয়েছে । তথ্য না পেলে আপিল: নির্দিষ্ট সময়ে তথ্য না পেলে বা ভুল তথ্য দিলে ৩০ দিনের মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল এবং পরবর্তীতে তথ্য কমিশনে অভিযোগ দায়ের করা যায় । ড. মো. অলিউর রহমানের পূর্ণাঙ্গ পিএইচডি থিসিস পেপারটি বাংলাদেশে তথ্য অধিকার (RTI) আইনের কার্যকারিতা এবং সাংবাদিকদের তথ্যে অভিগম্যতা নিয়ে প্রথম এবং একটি অনন্য একাডেমিক গবেষণা। নিচে তাঁর থিসিস পেপারের মূল দিকগুলো তুলে ধরা হলো: থিসিসের মৌলিক তথ্য শিরোনাম: “Journalists’ Access to Information: Pre and Post-Situation Analysis of the Right to Information Act” । গবেষণার ধরন: এটি একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণধর্মী গবেষণা (Comparative Analysis)। এতে মূলত তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ প্রণয়নের আগের এবং পরের বাস্তব পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে । গবেষণার গুরুত্ব: এটি বাংলাদেশের প্রথম পিএইচডি গবেষণা যা সরাসরি তথ্য অধিকার আইনের ওপর করা হয়েছে । থিসিসের মূল অধ্যায় ও বিষয়বস্তু (Structure) পূর্ণাঙ্গ থিসিসটি সাধারণত নিচের ৫টি প্রধান অংশে বিভক্ত .......... ১. ভূমিকা (Introduction): এখানে তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং গণতন্ত্রের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ২. লিটারেচার রিভিউ (Literature Review): বিশ্ব প্রেক্ষাপটে RTI এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর বিবর্তন। ৩. গবেষণা পদ্ধতি (Methodology): তিনি গুণগত (Qualitative) এবং সংখ্যাতাত্ত্বিক (Quantitative) উভয় পদ্ধতিই ব্যবহার করেছেন । ৪. ফলাফল ও বিশ্লেষণ (Results and Analysis): সাংবাদিকদের তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধা এবং আইনের সুফল। ৫. উপসংহার ও সুপারিশ (Conclusion and Recommendations): আইনটিকে আরও কার্যকর করার জন্য নীতিনির্ধারণী পরামর্শ । কোথায় পাওয়া যাবে? পূর্ণাঙ্গ থিসিস পেপারটি সরাসরি পড়ার জন্য আপনি নিচের উৎসগুলো অনুসরণ করতে পারেন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি: যেহেতু তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন, থিসিসটির হার্ড কপি সেখানে সংরক্ষিত আছে। DU Institutional Repository: আপনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল রিপোজিটরি-এ তাঁর গবেষণার সারাংশ বা পূর্ণাঙ্গ কপি চেক করতে পারেন । অনলাইন রিসার্চ প্ল্যাটফর্ম: তাঁর অন্যান্য গবেষণা এবং এই থিসিস সংক্রান্ত সারমর্ম ResearchGate এবং Academia.edu-এ নিয়মিত আপডেট করা হয় ।