Brand logo light
স্বাস্থ্য

শিশুর মলদ্বারে পলিপ, সঠিক চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষা

নিজেস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
শিশুর মলদ্বারে পলিপ
শিশুর মলদ্বারে পলিপ

শিশুর মলদ্বারে পলিপ অনেক সময় অবহেলিত একটি সমস্যা। পলিপ হলো অন্ত্রের ভেতরের আবরণী থেকে উৎপন্ন ছোট, নরম, মাংসল বৃদ্ধি, যা সাধারণত বৃহদান্ত্রের শেষাংশ বা মলদ্বারের কাছাকাছি অংশে দেখা যায়। শিশুর ক্ষেত্রে অধিকাংশ পলিপই জুভেনাইল ধরনের এবং সাধারণত নিরীহ প্রকৃতির হলেও উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। অনেকের ধারণা, শক্ত পায়খানার কারণেই পলিপ হয়। তবে বাস্তবে শক্ত মল পলিপ সৃষ্টি করে না। যেসব শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে, তাদের শক্ত মল পলিপের গায়ে ঘর্ষণ লেগে রক্তপাত ঘটাতে পারে, ফলে সমস্যাটি ধরা পড়ে।

 

শিশুর মলদ্বারের পলিপের সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গ হলো মলত্যাগের পর টাটকা লাল রক্ত পড়া। রক্ত সাধারণত মলের সঙ্গে মিশে না গিয়ে আলাদা করে পড়ে বা মলের ওপর লেগে থাকে। অনেক সময় শিশুর তলপেটে ব্যথা, মলদ্বারে জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি থাকতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মলত্যাগের সময় ছোট মাংসপিণ্ডের মতো কিছু বাইরে বের হয়ে আবার ভেতরে ঢুকে যেতে দেখা যায়। যদি দীর্ঘদিন ধরে অল্প অল্প করে রক্তপাত চলতে থাকে, তাহলে শিশুর রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে। এতে শিশু দুর্বল হয়ে পড়ে, খাওয়ার রুচি কমে যায় এবং স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে।

এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত শিশু বিশেষজ্ঞ বা শিশু সার্জনের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষা, প্রয়োজন হলে প্রোক্টোস্কপি বা কোলনোস্কপির মাধ্যমে পলিপ শনাক্ত করেন। পলিপ সাধারণত ওষুধে সম্পূর্ণ সেরে যায় না; অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পলিপ অপসারণ করতে হয়, যাকে পলিপেকটমি বলা হয়। পলিপের আকার ও অবস্থান অনুযায়ী এটি সরাসরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বা কোলনোস্কপির সাহায্যে অপসারণ করা যায়। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় এ প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং অভিজ্ঞ সার্জনের মাধ্যমে করালে ঝুঁকি খুবই কম। যেকোনো অস্ত্রোপচারের মতো সামান্য রক্তপাত বা সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকতে পারে, তবে সেগুলো সাধারণত নিয়ন্ত্রণযোগ্য।

 

চিকিৎসা না করালে বারবার রক্তপাতের কারণে রক্তশূন্যতা বাড়তে পারে এবং শিশুর সামগ্রিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে পারে। তাই মলদ্বার দিয়ে রক্তপাতকে কখনই স্বাভাবিক ভেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। অপারেশনের পরও কিছু ক্ষেত্রে পুনরায় পলিপ হতে পারে, বিশেষ করে যাদের একাধিক পলিপ হওয়ার প্রবণতা থাকে। এজন্য নিয়মিত ফলো-আপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনাও জরুরি। শিশুকে পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাবার, যেমন- শাকসবজি, ফলমূল এবং পর্যাপ্ত পানি খাওয়ালে কোষ্ঠকাঠিন্য কমে এবং মল নরম থাকে। ফলে ভবিষ্যতে জটিলতার ঝুঁকি কমে।

সার্বিকভাবে বলা যায়, সময়মতো সঠিক রোগনির্ণয়, উপযুক্ত চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস- এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে পারলে শিশুর মলদ্বারের পলিপ সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বরিশাল সিটিতে বিএনপির মেয়র মনোনয়ন ঘিরে হিসাব–নিকাশ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও  বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও  বি এম কলেজ এর  সাবেক জি এস  এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা।  নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।  

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

বরিশালে সাংবাদিকদের ওপর ডিসির ক্ষোভ: নির্বাচনী কার্ড ইস্যুতে হয়রানির অভিযোগ

বরিশালে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর যেন পাহাড়সম ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বর্তমান জেলা প্রশাসক (ডিসি)। পারিবারিক কলহ ও স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে অতীতে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর এই চটে থাকা বলে জানা গেছে। বর্তমানে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের জন্য প্রয়োজনীয় 'নির্বাচনী কার্ড' ইস্যু করাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি। কার্ড ইস্যু নিয়ে চলছে টালবাহানা ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীদের দাবি, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরেও কার্ড দিতে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে। মূলত ডিসির ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণেই মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বরিশালের সাংবাদিক সমাজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং একে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। ব্যক্তিগত আক্রোশের প্রভাব পেশাগত কাজে উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে এই জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়। সেই থেকে সাংবাদিকদের প্রতি তার বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে। ফলস্বরূপ, এখন সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার হরণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিশেষে বলা যায়, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়। নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর সময়ে সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য সংগ্রহের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। একজন সাংবাদিক লিখেছেন, বৌ পেটানো নিউজ করার মাসুল দিচ্ছে বরিশালের সাংবাদিকরা। আরেক সাংবাদিক প্রশাসনের এই প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করে লিখেছেন, ডিসি তার ক্ষমতা দেখাইছে, এখন আমাদের বরিশালের সাংবাদিকদের উচিত সবাই এক হয়ে ক্ষমতা দেখানো। কার পাশা যাবে কার টেবিলে, খেলা যে চলছে কোন লেভেলের! ​নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের জন্য কার্ড একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথি। কিন্তু কার্ড পেতে বিলম্ব হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন তৈরির কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, ​সঠিক কারণ ছাড়াই আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। ​জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। ​স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বরিশালের সংবাদকর্মী মহলে ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এমন ‘ব্যক্তিগত রোষ’ এবং ‘ক্ষমতার দাপট’ রুখতে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো কঠোর কর্মসূচির কথা ভাবছে। নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অবিলম্বে সাংবাদিকদের কার্ড প্রদানের দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও। কে এই ডিসি খাইরুল আলম সুমন যৌতুক সংক্রান্ত মামলায় কারাবাসের অভিযোগ থাকা একজন কর্মকর্তাকে বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশাসনের ভেতর ও বাইরে বিস্ময় ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বরিশালের ডিসি  খায়রুল আলম সুমন ২৯তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা। জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব জেলার আইনশৃঙ্খলা, ম্যাজিস্ট্রেসি ও ভূমিসংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করা—যেখানে ব্যক্তিগত সুনাম ও নৈতিকতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, যাদের ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, এমন কর্মকর্তাকে ডিসি পদে বসানো ইমেজ ও আস্থার প্রশ্ন তৈরি করে। আদালত ও মামলার তথ্য সূত্র অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে ওই মামলায় খায়রুল আলম সুমন ও তার মা খোদেজা বেগমকে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারী থানার এসআই শাহ আলম আদালতে তাদের হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিন—উভয় আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি দীর্ঘ সময় কারাবাসে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের ৫ জুন বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ রাতে ঢাকার ওয়ারী এলাকায় খায়রুলের বাসায় তার মায়ের মাধ্যমে গরম খুন্তি দিয়ে ছেঁকা দেওয়া হয় এবং এ সময় খায়রুল আলম সুমন ভুক্তভোগীর হাত চেপে ধরেন। পরদিন ওয়ারী থানায় মামলা করা হয়। বিভাগীয় মামলা ও পদোন্নতি স্ত্রীর করা মামলার পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েও অভিযোগ দেওয়া হলে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এর ফলে নিয়মিত পদোন্নতি ব্যাহত হয় বলে জানা গেছে। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর উপসচিব পদে তার পদোন্নতির আদেশ জারি হলেও সেখানে ২০২৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ভূতাপেক্ষ (ব্যাকডেটেড) পদোন্নতি দেখানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নিজেকে পদোন্নতিতে বঞ্চিত দাবি করে তিনি ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত তথ্য ও ডিসির বক্তব্য খায়রুল আলম সুমনের ‘ব্যক্তিগত ডাটা শিটে’ (পিডিএস) বর্তমানে তাকে ‘অবিবাহিত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খায়রুল আলম সুমন বলেন, “এসব আমার ব্যক্তিগত তথ্য। আমার নামে বিভাগীয় মামলা  ছিল—সবই কর্তৃপক্ষ জানে এবং জেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি এসব নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।” প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মত জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলা প্রশাসক পদটি কেবল প্রশাসনিক নয়—এটি নৈতিক নেতৃত্বেরও প্রতীক। একজন ডিসির ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ থাকলে জেলার আইনশৃঙ্খলা ও ম্যাজিস্ট্রেসি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশ্ন ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাদের ভাষ্য, “ডিসির সুনামটাই সবচেয়ে জরুরি।” সূত্র জানায়, খায়রুল আলম সুমন প্রবেশনার হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাকরি শুরু করেন। সে সময়ের ডিসি মো. আবদুল মান্নানের মেয়েকে তিনি বিয়ে করেছিলেন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম ডিসি কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া নাঙ্গলকোট, নিকলি ও বাজিতপুরে এসিল্যান্ড এবং ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী ও দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বরিশালের ডিসি হিসেবে তার  নিয়োগ প্রশাসনে নৈতিকতা ও যোগ্যতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও অবস্থান প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক

স্বাস্থ্য

View more
অ্যালার্জি বেড়েছে
শহরে অ্যালার্জি বেড়েছে, মূল কারণ তিনটি

শহরে অ্যালার্জি রোগের হার গত কয়েক দশকে বেড়েছে। শিশু ও বড়দের মধ্যে নাক বাফ, হাঁপানি, চুলকানি, চোখের লাল ভাব এবং খাদ্য অ্যালার্জি বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক শহরের জীবনধারা, পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন- এ তিনটিই এর মূল কারণ। দূষণ ও শহরের জীবনধারা শহরে গাড়ি, ট্রাফিক ও কারখানার ধোঁয়া, ধুলো ও পলিনের কারণে শ্বাসনালী জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা হয়। ঘরের ভেতরও ধুলো, পোকামাকড়, নরম খেলনা, ভারি পর্দা ও তেলের ল্যাম্প বা ঘ্রাণদ্রব্য শ্বাসনালীকে সংবেদনশীল করে তোলে। অনেক মানুষ এখন দীর্ঘ সময় ঘরে থাকেন, এয়ার কন্ডিশনার বা ফ্যানের নিচে বসে থাকেন। এতে ধুলো ও অ্যালার্জেন জমে যায় এবং সমস্যা বাড়ে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব       উচ্চ তাপমাত্রা ও বায়ুর কার্বন ডাই অক্সাইডের বৃদ্ধি উদ্ভিদকে বেশি পলিন উৎপাদনে প্ররোচিত করছে। পলিনের মরশুম দীর্ঘ হচ্ছে, ফলে মানুষের নাক, চোখ ও ফুসফুসে অ্যালার্জি হওয়ার দিন বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে শহরে। কারণ শহরে বৃক্ষের সংখ্যা কম, সেখানে সমস্যা আরও তীব্র। খাবার, স্বাস্থ্য ও জীবনধারা আধুনিক খাবারে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, চিনির বেশি ব্যবহার এবং কম ফাইবার থাকার কারণে খাদ্য অ্যালার্জি বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিশুদের ক্ষেত্রে, কিছু খাবার দেরিতে খাওয়ানোর পদ্ধতিও অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। প্রতিরোধ ও সচেতনতা ডাক্তাররা বলছেন, অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। সেগুলো হলো- • পরিচিত অ্যালার্জেন যেমন ধুলো, পলিন, পশুর লোম বা নির্দিষ্ট খাবার এড়িয়ে চলা। • ধুলোমুক্ত রাখা, বিছানাপত্র নিয়মিত গরম পানি দিয়ে ধোয়া। • বেশি দূষিত বা পলিনের দিন মাস্ক ব্যবহার। • ঘরের ভেন্টিলেশন ঠিক রাখা এবং শীত-গরমের সময় উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া। • গুরুতর অ্যালার্জির ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। এ ব্যাপারে সরকারি উদ্যোগও জরুরি। শহরের বায়ু মান উন্নয়ন, বৃক্ষরোপণ, খোলা জায়গা বৃদ্ধি ও শিল্প দূষণ নিয়ন্ত্রণ করলে ভবিষ্যতে অ্যালার্জির ঘটনা কমানো সম্ভব। শহরের বাসিন্দাদের উচিত নিজের এবং পরিবারের স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় সাবধানতা নেওয়া। তথ্যসূত্র : ওয়ান ইন্ডিয়া।

নিজেস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
বস্তিবাসীর মানসিক রোগে চিকিৎসা

বস্তিবাসীর মানসিক রোগে চিকিৎসা গ্রহণের হার বেড়েছে ৫ গুণ

ছানি অপারেশন

৯ কোটির বেশি মানুষের ছানি অপারেশন দরকার

শিশুর মলদ্বারে পলিপ

শিশুর মলদ্বারে পলিপ, সঠিক চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষা

স্বাস্থ্যব্যবস্থা বড় দুর্যোগের মুখে
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা দুর্যোগের মুখে: দুর্নীতি, জনবল সংকট ও বাজেট ঘাটতি

বাংলাদেশ-এর স্বাস্থ্যব্যবস্থা বর্তমানে বড় ধরনের দুর্যোগের মুখে। গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি, জনবল সংকট ও পরিকল্পনাহীনতার কারণে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রয়োজন বাস্তবসম্মত, সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। দুর্নীতির অভিযোগ: কেনাকাটা থেকে পদোন্নতি স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বেশি আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে কেনাকাটা, নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে—এমন অভিযোগ বিশেষজ্ঞদের। তাদের দাবি, বিগত সময়ে এসব ক্ষেত্রে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে খালি বাক্সের বিপরীতেও বিল পরিশোধ করা হয়েছে। কেনা যন্ত্রপাতির বড় অংশ স্টোরে বাক্সবন্দি পড়ে আছে। নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। মন্ত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব অনিয়মের সুবিধাভোগী হয়েছেন বলে দাবি উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিগত সরকার, বিশেষ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। বর্তমানে ক্ষমতার বাইরে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারে এলে এই সংকট মোকাবিলায় বড় চ্যালেঞ্জে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। সরকারি সেবায় সীমিত কাভারেজ, বেসরকারিতে নির্ভরতা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষ সরকারি পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পান। বাকি ৮৫ শতাংশ মানুষকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অর্থের বিনিময়ে সেবা নিতে হয়। চিকিৎসা ব্যয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তির পকেট থেকে খরচের হার বাংলাদেশে প্রায় ৭৪ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে ভুটানে ১৩ শতাংশ, ভারতে ৬৩ শতাংশ, মালদ্বীপে ২১ শতাংশ, নেপালে ৫১ শতাংশ, পাকিস্তানে ৫৬ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় ৫১ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে ব্যক্তিগত ব্যয়ের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। জনবল সংকট ও বৈষম্যপূর্ণ বণ্টন কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি ডা. আবু মুহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মূল উদ্দেশ্য মানুষের আয়ু ও কর্মক্ষমতা বাড়ানো। কিন্তু বাস্তবে সেবার মান ও কাভারেজ—দুটিই সন্তোষজনক নয়। তার ভাষায়, পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল নেই, আর যাঁরা আছেন তাঁদের বণ্টন অসম। অধিকাংশ চিকিৎসক শহরকেন্দ্রিক; গ্রামে গেলেও অনেক সময় থাকেন না। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতি প্রকট—অপথালমোলজিস্ট, সাইকিয়াট্রিস্ট, কার্ডিওলজিস্ট, নেফ্রোলজিস্ট ও ডায়াবেটোলজিস্টের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম, বিশেষ করে পেরিফেরি পর্যায়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্গম এলাকায় ডাক্তার-নার্স রাখতে হলে ৩০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ ভাতা দিতে হবে। WHO মানদণ্ডে ঘাটতি World Health Organization (WHO)-এর সুপারিশ অনুযায়ী ডাক্তার, নার্স ও প্যারামেডিকের অনুপাত হওয়া উচিত ১:৩:৫। বর্তমানে দেশে প্রায় ৯০ হাজার চিকিৎসক থাকলেও নার্স রয়েছেন প্রায় ১ লাখ। অথচ এই সংখ্যায় নার্স থাকার কথা ছিল ২ লাখ ৭০ হাজার এবং প্যারামেডিক সাড়ে ৪ লাখ। সরকারি হিসাবে প্যারামেডিক রয়েছেন মাত্র ২০ হাজার। ডাক্তারের প্রায় ২০ শতাংশ এবং নার্স ও প্যারামেডিকের প্রায় ৪০ শতাংশ পদ শূন্য। এসব পদ দ্রুত পূরণ এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করলে সেকেন্ডারি ও টারশিয়ারি পর্যায়ে চাপ কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মেডিকেল শিক্ষার মান তলানিতে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ বলেন, মেডিকেল শিক্ষা হচ্ছে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভিত্তি। কিন্তু এই ভিত্তিই নড়বড়ে হয়ে গেছে। মানহীন ডাক্তার, নার্স ও টেকনোলজিস্ট তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যখাতে বড় সংকট ডেকে আনতে পারে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাত সংস্কার করতে হলে গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে পরিবর্তন আনতে হবে। বাজেট সংকট ও কাঠামোগত দুর্বলতা বর্তমানে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ জিডিপির মাত্র ০.৭৪ শতাংশ, যেখানে প্রয়োজন অন্তত ৫ শতাংশ। বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ১৫ শতাংশ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা প্রায় ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বরাদ্দ কম এবং তার একটি বড় অংশ দুর্নীতিতে নষ্ট হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবার মান নিম্নমুখী। করণীয়: সমন্বিত পরিকল্পনা ও রোগপ্রতিরোধে গুরুত্ব জনস্বাস্থ্যবিদ রাশেদ রাব্বি বলেন, দেশের জনসংখ্যা, ঘনবসতি ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি দুটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। চিকিৎসার চেয়ে রোগপ্রতিরোধ ও সুস্থতা নিশ্চিতকরণে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে— দলীয় বিবেচনা বাদ দিয়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি প্রাথমিক থেকে টারশিয়ারি পর্যায় পর্যন্ত কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেবার মূল্য নির্ধারণ ও মান নিয়ন্ত্রণ পৃথক স্বাস্থ্য প্রশাসন ও বেতন কাঠামো সময়োপযোগী ও জনমুখী স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন তিনি আরও বলেন, গত দেড় বছরে স্বাস্থ্যখাতে যে লুটপাট ও স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না করলে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্ভব হবে না।   বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখন বড় ধরনের ধাক্কার মুখে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, দক্ষ জনবল নিয়োগ, বাজেট বৃদ্ধি, প্রাথমিক সেবা জোরদার এবং স্বাস্থ্যনীতি সংস্কার—সব ক্ষেত্রেই একযোগে পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় স্বাস্থ্যখাতের এই সংকট আরও গভীর হয়ে বৃহত্তর মানবিক দুর্যোগে রূপ নিতে পারে।

নিজেস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
শিশুর অটিজমের ঝুঁকি

গর্ভাবস্থায় মায়ের মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে শিশুর অটিজমের ঝুঁকি!

স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বড় রূপান্তর: ‘স্বাস্থ্য–খাত সংস্কার’ ও শরীরে ‘পাখি–ফ্লু’ আঘাত

ডেঙ্গুর প্রভাব বাড়ছে, সতর্ক থাকার পরামর্শ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের

মেটালযুক্ত ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে স্বাস্থ্যঝুঁকি, হুঁশিয়ারি বিশেষজ্ঞদের

দেশে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে মেটাল বা ভারী ধাতব উপাদান ব্যবহারের কারণে ত্বক ও কিডনিসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সর্তকতা জারি করেছেন এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, বাজারে পাওয়া বেশ কিছু নামিদামি ফেয়ারনেস ক্রিমে পারদ (Mercury), সিসা (Lead), আরসেনিক (Arsenic) এবং ক্যাডমিয়াম (Cadmium)-এর মতো ক্ষতিকর উপাদান অনুমোদিত সীমার বহু গুণ বেশি পরিমাণে রয়েছে।   চিকিৎসকদের উদ্বেগ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের অধ্যাপক ডা. ফারহানা পারভীন বলেন, “এসব ক্রিমের ব্যবহারে ত্বক ফর্সা হওয়া তো দূরের কথা, বরং তা ত্বকের স্থায়ী ক্ষত, চুলকানি, ফুসকুড়ি ও পিগমেন্টেশনের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এগুলো কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপরও প্রভাব ফেলে।” তিনি আরও জানান, অনেক নারী দীর্ঘদিন এসব ক্রিম ব্যবহারের পর ত্বকের স্বাভাবিক রঙ হারিয়ে ফেলছেন, আবার কেউ কেউ গুরুতর সংক্রমণের শিকার হচ্ছেন।   বাজারে অনিয়ন্ত্রিত পণ্য বাজারে অনেক পণ্য বিদেশি ব্র্যান্ডের নামে বাজারজাত করা হলেও তাদের যথাযথ নিবন্ধন নেই। কিছু ক্রিমের গায়ে উপাদানের উল্লেখ থাকলেও তা ভুয়া বা ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়।   ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টসকর্মী সালমা খাতুন বলেন, “টিভি বিজ্ঞাপনে দেখে একটা ক্রিম কিনেছিলাম। কয়েকদিন ব্যবহারের পর মুখে জ্বালা-পোড়া শুরু হয়। পরে ডাক্তার দেখিয়ে জানতে পারি তাতে ক্ষতিকর রাসায়নিক ছিল।”   বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ত্বক ফর্সাকারী পণ্যে আকৃষ্ট না হয়ে প্রাকৃতিক পরিচর্যায় গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ত্বক ভিন্ন ভিন্ন কারণে কালচে হতে পারে—তাই সঠিক রোগ নির্ণয় ছাড়া যেকোনো ক্রিম ব্যবহার বিপজ্জনক।   সরকারি অবস্থান ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অচিরেই বাজার থেকে ক্ষতিকর ক্রিমগুলো জব্দ করা হবে। পাশাপাশি, ভোক্তাদের সচেতন করার জন্য গণমাধ্যমে প্রচার চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

জানিফ হাসান জুন ৯, ২০২৫ 0

বাড়ছে শিশুদের মধ্যে হাঁপানির প্রকোপ, চিকিৎসকরা বলছেন দূষণ দায়ী

নতুন ভাইরাসের আতঙ্ক: কীভাবে বাঁচবেন আপনি ও আপনার পরিবার?

নতুন ভাইরাসের আতঙ্ক: কীভাবে বাঁচবেন আপনি ও আপনার পরিবার?

করোনা পরবর্তী জটিলতায় বাড়ছে মানসিক রোগীর সংখ্যা