Brand logo light
স্বাস্থ্য

ডা. রেজওয়ান কায়সারের সফলতার গল্প

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোঃ রেজওয়ান কায়সার: স্বাস্থ্যসেবা ও মানুষের জীবনে নতুন আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ডাঃ মো: রেজওয়ান কায়সার
ডাঃ মো: রেজওয়ান কায়সার

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য সম্প্রতি প্রশংসিত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত স্কিন, হেয়ার, এলার্জি, চর্ম ও যৌন বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোঃ রেজওয়ান কায়সার। তার অনন্য সেবা, মানবিক আচরণ এবং চিকিৎসায় নতুন পদ্ধতির প্রয়োগ তাকে বিশেষভাবে জনপ্রিয় করে তুলেছে। তার চিকিৎসা পদ্ধতিতে রোগীদের প্রতি সহানুভূতি এবং নতুন উদ্ভাবনী ধারণার সংমিশ্রণে অসংখ্য রোগী তার কাছ থেকে সান্ত্বনা পেয়েছেন।

স্কিন, হেয়ার, এলার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোঃ রেজওয়ান কায়সারের অনন্য চিকিৎসা পদ্ধতি, মানবিক আচরণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার তাকে রোগীদের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

চিকিৎসাক্ষেত্রে দক্ষতার পাশাপাশি রোগীদের প্রতি তার সহানুভূতিশীল মনোভাব এবং বন্ধুসুলভ আচরণ তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। অনেক রোগীর মতে, চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক স্বস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি সমান গুরুত্ব দেন।

ডাঃ কায়সার বলেন, "আমার মূল লক্ষ্য হলো, আমি শুধু রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে নয়, রোগীদের মানসিক শান্তি ও আস্থাও অর্জন করতে চাই।" তিনি জানান, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং নিয়মিত গবেষণার মাধ্যমে চর্ম, হেয়ার এবং এলার্জি চিকিৎসায় উন্নত পদ্ধতি ব্যবহার করে তিনি তার রোগীদের দ্রুত সুস্থতা নিশ্চিত করেন।

রোগীদের প্রতি স্নেহ ও সহানুভূতি

ডাঃ রেজওয়ান কায়সারের চিকিৎসা শাস্ত্রে দক্ষতার পাশাপাশি, রোগীদের প্রতি তার আন্তরিকতা তাকে মানুষের মন জয় করতে সহায়তা করেছে। তার সহজ-সরল ভাষায় রোগীদের জন্য পরিষ্কার ব্যাখ্যা এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন অনেকে। এই চিকিৎসকই একমাত্র যিনি রোগীর সাথে বন্ধুসুলভ সম্পর্ক স্থাপন করে তাকে তার চিকিৎসার পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করেন।

নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি 

ডাঃ কায়সারের নেতৃত্বে  অনেক চর্ম ও এলার্জি রোগের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। তার নিয়মিত গবেষণার মাধ্যমে নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়েছে, যা বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

সমাজসেবায় অবদান

চিকিৎসা সেবা দেওয়ার পাশাপাশি, ডাঃ কায়সার বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজেও জড়িত। তার উদ্যোগে অসহায় মানুষদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয় এবং তিনি নিয়মিত চর্মরোগ ও এলার্জি সম্পর্কে সচেতনতামূলক পরামর্শ দিচ্ছেন।

ভবিষ্যত পরিকল্পনা

ডাঃ মোঃ রেজওয়ান কায়সার আশা করছেন যে, তার কাজের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে আরও উন্নতি আসবে এবং তিনি আরো অনেক নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবন করবেন। তার লক্ষ্য হলো, সব শ্রেণির মানুষের কাছে উন্নত চিকিৎসা সেবা পৌঁছানো এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে তার সেবার পরিধি আরও সম্প্রসারিত করা।

ডাঃ কায়সারের মেধা, পরিশ্রম এবং নৈতিকতা তাকে স্বাস্থ্যসেবা খাতে এক অনন্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। তিনি দেশের এক অত্যন্ত প্রশংসিত চিকিৎসক হিসেবে তার সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে আরো অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

তিনি বরিশালের বগুড়া রোডস্থ স্কিনফিনিটি (স্কিন, হেয়ার, এলার্জী, লেজার, এসথেটিক সেন্টার) এ এবং বাংলাবাজারের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়মিত রোগী দেখেন।
স্কিনফিনিটির মোবাইল নম্বর:  ০১৩০৬৭৮৭০৪, ০১৩০৭০৭৭৫৯০


চিকিৎসা সেবা:
চর্মরোগ ও চর্ম লেজার সার্জারি।
চুল পড়া ও চুলের যত্ন (হেয়ার)।
এলার্জি রোগ।
যৌন ও সেক্স রোগ।
এস্থেটিক মেডিসিন (সৌন্দর্যবর্ধন)। 
চর্ম ও এলার্জি রোগে উচ্চতর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তিনি স্কিনফিনিটিতে আধুনিক ও বিশেষায়িত সেবা নিশ্চিত করছেন।

ডাঃ মো: রেজওয়ান কায়সারের  সংক্ষিপ্ত পরিচিতি :

ডাঃ মো: রেজওয়ান কায়সার (এমবিবিএস, ডিডি-থাইল্যান্ড, আমেরিকান একাডেমি অফ এস্থেটিক মেডিসিন) বরিশালের আলেকান্দায় স্কিনফিনিটি সেন্টারে স্কিন, চুল, এলার্জি, সেক্স এবং লেজার সার্জারির জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন । তিনি ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন কনসালটেন্ট এবং চর্ম ও যৌন রোগের পাশাপাশি এস্থেটিক মেডিসিনে পারদর্শী।


চেম্বারের তথ্য

যোগাযোগ ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট:
সেন্টারের নাম: স্কিনফিনিটি (স্কিন, হেয়ার, এলার্জি, লেজার, এসথেটিক সেন্টার)
ঠিকানা: বগুড়া রোড, বরিশাল-৮২০০ ।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

ভয়াবহ নদী দখল : অপসোনিনের কবলে সুগন্ধা ও কীর্তনখোলা

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: বরিশালের গুরুত্বপূর্ণ নদীপথ সুগন্ধা ও কীর্তনখোলার মোহনায় অবৈধ দখল ও দূষণের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে অনুসন্ধানে। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠী “অপসোনিন”নদীর তীর ও মোহনার বিস্তীর্ণ অংশ দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, বর্জ্য ফেলা,জমি দখল,পরিবেশ ধ্বংস এবং জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করছে,যার ফলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।মোহনা এখন আর শুধু প্রাকৃতিক জলপথ নয়—এটি পরিণত হয়েছে দখল, দূষণ ও অপসোনিনের আধিপত্যের এক জটিল সংঘাতে।   দখলের বিস্তার ও কৌশল: স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে ধীরে ধীরে নদীর তীর ঘেঁষে মাটি ভরাট, স্থায়ী বিশাল কংক্রিট দেয়াল  নির্মাণ  ভরাট করে স্থাপনের মাধ্যমে দখল প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে। শুরুতে ছোট পরিসরে কাজ হলেও বর্তমানে তা বড় শিল্পকারখানার সম্প্রসারণে রূপ নিয়েছে।সুগন্ধা ও কীর্তনখোলার  মোহনায় বিশাল এই স্থাপনা যেন বাংলাদেশের লাগামহীন নদী দখলের এক ভয়াবহ নিদর্শন। একজন জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আগে এই জায়গায় আমরা জাল ফেলতাম। এখন সেখানে বাঁধ দেওয়া হয়েছে, ফলে নদী এখন ভুমিতে পরিনত করেছে অপসোনিন।” স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রথমে কারখানাটি ছোট্ট একটি জায়গায় গড়ে ওঠে। কিন্তু প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে নদীতে বালু ফেলে ধীরে ধীরে তারা জায়গা বাড়াতে থাকে। রাতের আঁধারেও সেই কাজ চলত।ফলে নদীপথে নাব্যতা সংকট সৃষ্টি করছে, নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ ব্যাহত করছে এবং পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে।   ১. নদীর বুক চিরে ‘শিল্প সাম্রাজ্য’ স্থানীয় সূত্র ও মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, ঝালকাঠির দপদপিয়া ও তিমিরকাঠী সংলগ্ন এলাকায় সুগন্ধা ও  বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর ভেতরে ৫০ একরের বেশি এলাকা ভরাট করে শিল্প স্থাপনা সম্প্রসারণের অভিযোগ রয়েছে। নদীতে কংক্রিট ব্লক ফেলে ধীরে ধীরে চর সৃষ্টি করে সেই চর পরে কোম্পানির জমির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ সংকুচিত হয়েছে।   ২. ‘সিকিস্তি জমি’দখলের অভিযোগ নদীভাঙনে বিলীন হওয়া জমি পরে জেগে উঠলে তা পূর্ব মালিকদের পাওয়ার কথা থাকলেও— অভিযোগ আছে, সেই জমি দখল করে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে. শতাধিক পরিবার তাদের জমি ফিরে পায়নি।দখল ঠেকাতে গেলে হামলা-হুমকির অভিযোগও রয়েছে  এটি শুধু নদী দখল নয়—ভূমি অধিকার সংকটেও রূপ নিয়েছে।   ৩. পরিকল্পিত ভরাট  ও  তীর দখল পরিবেশকর্মীদের মতে— নদীর ভেতরে বালু ভরাট করা হয়েছে। তীর ঘেঁষে গাইড ওয়াল ও শিল্প অবকাঠামো তৈরি হয়েছে।নদীর অংশ নিজেদের সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার করছে ।ফলে নদীর প্রাকৃতিক সীমানা প্রায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ৪. দূষণের ভয়াবহ চিত্র সুগন্ধা ও কীর্তনখোলা নদী এখন বহুমুখী দূষণের শিকার— প্রধান দূষণের উৎস: অপসোনিন কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য, ময়লা,প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য সরাসরি  নদীতে পড়ছে, যা পানিকে বিষাক্ত করে তুলছে।ফলে পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।মাছ ও জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে ও নদীর নাব্যতা কমে যাচ্ছে। ৫. সুগন্ধা নদীর সংকট: ভাঙন ও চাপ শুধু কীর্তনখোলা নয়, পাশের সুগন্ধা নদীতেও সংকট বাড়ছে । অপসোনিন দুটি নদীরই  অংশ দখল করে নিয়েছে। যার মারাত্মক প্রভাব পড়েছে নদীগুলোর প্রাকৃতিক প্রবাহ ও পরিবেশ ব্যবস্থায়। প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। তীব্র ভাঙনে গ্রাম, রাস্তা,  প্রতিষ্ঠান বিলীন,নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হুমকির মুখে । মোহনা অঞ্চলে কৃত্রিম বাধা ও দখল দপদপিয়া ও তিমিরকাঠি মৌজার অংশ  এই ভাঙনকে আরও ত্বরান্বিত করছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারনা । এছাড়া দপদপিয়া -নলছিটি সড়কটি এখন ভাঙনের মুখে।   ৬. প্রশাসনিক দুর্বলতা ও প্রভাবশালী চক্র অনুসন্ধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে দখল শুধু ঘটছে না, বরং দীর্ঘদিন ধরে তা টিকে আছে। কারণগুলো: প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠীর প্রভাব।আইনের দুর্বল প্রয়োগ।উচ্ছেদ অভিযানের ধারাবাহিকতার অভাব। যদিও প্রশাসন জানিয়েছে, নদী দখল ও দূষণ রোধে পরিকল্পনা রয়েছে। ৭. দখলদার অপসোনিন, বিস্তৃত নেটওয়ার্ক কীর্তনখোলা ও সুগন্ধা নদী দখলে অপসোসিনের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে।এ দুটি নদী দখলের প্রতিযোগীতায় অপসোনিন এগিয়ে।নদীতে ব্লক ফেলে নদী দখল করেছে এ অঞ্চলে একমাত্র অপসোনিন। সাবেক এমপি ও আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতা আমির হোসেন আমুর প্রভাবকে তারা কাজে লাগিয়ে নদী দখল করেছে বলে স্থানীয়রা জানান। অর্থাৎ, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়-একটি সংগঠিত দখল প্রক্রিয়া। ৮. সামাজিক: ও অর্থনীতির উপর প্রভাব অর্থনৈতিক: জেলেদের আয় কমে গেছে,নৌ চলাচলে বাধা ও  নদীভিত্তিক ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত। সামাজিক: ভূমিহীনতা বৃদ্ধি-স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা।নদীর অংশও দখলের আওতায় চলে গেছে। ৯. বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা পরিবেশবিদদের মতে— নদীকে “জীবন্ত সত্তা” হিসেবে আইনি স্বীকৃতি থাকলেও বাস্তবে তা রক্ষা হচ্ছে না দ্রুত দখলমুক্ত না করলে নদী হারানোর ঝুঁকি রয়েছে ।     পরিবেশগত ক্ষতি: বিশেষজ্ঞদের মতে, মোহনা অঞ্চল নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পলি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বাধা সৃষ্টি হলে— নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হতে পারে, মাছের প্রজনন ব্যাহত হয়, নৌ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়। পরিবেশকর্মীরা জানান, শিল্পবর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলার ফলে পানির রং ও গন্ধ পরিবর্তিত হয়েছে। অনেক এলাকায় তেলজাতীয় পদার্থ ভাসতে দেখা গেছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, দখলের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলেও কার্যকর পদক্ষেপ খুব একটা দেখা যায়নি। নদী রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবও প্রকট। একজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, “নদী দখল ঠেকাতে আইনি কাঠামো আছে, কিন্তু প্রয়োগে দুর্বলতা রয়েছে। প্রভাবশালী গোষ্ঠীর কারণে অনেক সময় অভিযান থেমে যায়।”   আমুর প্রভাবে ১৮ একর জমি দখলের : আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর ক্ষমতার দাপটে জাল জালিয়াতির মাধ্যে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অপসোনিন ফার্মাসিটিক্যাল লিমিটেড কোম্পানি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা মিসকেস সাজিয়ে আমির হোসেন আমুর ক্ষমতার প্রভাবে ১৮ একর ১৫ শতাংশ জমি আত্মসাত করেছেন।এমন অভিযোগ তুলে আমির হোসেন আমু ও অপসোনিন ফার্মাসিটিক্যাল লিমিটেডের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে ভূক্তভোগিরা। ভূক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বোরহান উদ্দিন মিলন। তিনি বলেন, ফ্যাসিষ্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার দোসর সাবেক খাদ্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু অপসোনিন ফার্মাসিটিক্যাল লিমিটেডের অংশীদার। এছাড়া রাকিব খান ও রউফ খান পরস্পর মামাতো-ফুফাতো ভাই। তাঁরা আওয়ামী লীগের আমলে আমির হোসেন আমুর ক্ষমতার অপব্যবহার করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভূয়া মিস কেস ২৩০/৬৫-৬৬ নম্বর বন্দোবস্তের মাধ্যমে তাদের ৭ পরিবারের প্রায় ১৮ একর ১৫ শতাংশ ভূমি আত্মাসাত করে নেয়। মিলন আরও বলেন, নলছিটি এসিল্যান্ড অফিসের ১২ নম্বর রেজিস্টার বইতে মিস কেস ২৩০/৬৫-৬৬ এর কোন অস্তিত্ব নেই। বরং ওই রেজিস্টারে তিনটি বন্দোবস্ত কেস দায়ের রয়েছে। কিন্তু নলছিটি জেএল নম্বর ১২৭ পশ্চিম চর দপদপিয়ার জমি অপসোনিন কোম্পানির মালিক রাকিব খানের নামে ৪৩১৯/১৯ দলিল এবং ৩৮২৮/২০০০ নম্বর দলিল বরিশাল সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে রেজিস্ট্রি হয়, যা ১৯৬৬ সালে আইনে সম্পূর্ণ অবৈধ। যত দলিল অপসোনিন কোম্পানিকে দেয়া হয়েছে। এর মূল মালিকানা স্বত্ব ২৩০/৬৫-৬৬ মিস বন্দোবস্ত কেসটি দলিলে উল্লেখ্য নাই। এসকল দলিলে জাগুয়া ইউনিয়ন জেএল ১২৭ নম্বর উল্লেখ্য করেছে, কিন্তু প্রকৃত পক্ষে জাগুয়া ইউনিয়ন জেএল নম্বর ৫৪। সকল দলিল জাল জালিয়াতি মাধ্যমে সৃষ্টি করা হয়েছে। তাছাড়া এই রাকিব খান ও রউফ খান কীর্তনখোলা নদীর স্রোত গতি পরিবর্তন করে, নদী ভরাট ও দখল করে পরিবেশের ভারসম্যের ব্যাঘাত ঘঠিয়ে শিল্প কারখানা গড়ে তুলেছেন। শত শত অসহায় গরীব মানুষের জমি এবং সরকারের খাস জমি অবৈধভাবে জবর দখল করেছে। এর সব কিছুর নেপথ্যে আমির হোসেন আমু। তিনি বলেন, এ নিয়ে ঝালকাঠি আদালতে মামলা করেছেন ভূক্তভোগীরা। মামলায় ২৩ বছর তারা কোর্টে হাজির না হয়ে, কোর্ট অবমাননা করেছেন। তারা অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের মাধ্যমে আইন কানুন আদালতকে তোয়াক্কা না করায়, তাদের বিরুদ্ধে আদালত জি আর মামলা নং ৩১/২৫ এবং সি আর ১৪৭/২৫ নং মামলায় গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করে। আমির হোসেন আমুর অবৈধ ক্ষমতার দাপটে বহু অসহায় গরীব মানুষের ভূমি জবর দখল করে নিয়েছে। জাল-জালিয়াতির মূল হোতা অপসোনিন ফার্মার অসাধু কর্মকর্তা মো. পারভেজ আহমেদ, রফিক আহম্মেদ, জসিম উদ্দিন, ফিরোজ আহমেদ বলে উল্লেখ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- ভূক্তভোগী জালাল আহমেদ খান, জাহাঙ্গীর খান, সিরাজুল ইসলাম গাজী, সাইফুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সাইফুল। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, 'হাইকোর্ট নদীগুলোকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করেছেন। এর মানে স্থানীয় প্রশাসনের এখতিয়ার রয়েছে অবিলম্বে দখলদারদের উচ্ছেদ করার।'তিনি বলেন, 'আমি বুঝতে পারছি না কেন তারা এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।   অপসোনিনের বক্তব্য : অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান “অপসোনিন”-এর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়েছে, তারা কোনো অবৈধ দখলে জড়িত নয়। তাদের দাবি, সব স্থাপনা বৈধ অনুমোদনের ভিত্তিতেই নির্মিত এবং পরিবেশগত মানদণ্ড মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তব পরিস্থিতি সেই দাবির সঙ্গে মিলছে না।   করণীয় ও সুপারিশ: বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতি মোকাবেলায় কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপের কথা বলেছেন— নদীর সীমানা নির্ধারণ করে দখলমুক্ত করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দ্রুত অভিযান, শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি, স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা। সুগন্ধা ও কীর্তনখোলার মোহনা শুধু নদীপথ নয়, বরং এ অঞ্চলের অর্থনীতি, জীবিকা ও পরিবেশের প্রাণকেন্দ্র। দখল ও দূষণের এই চক্র অব্যাহত থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই নদীগুলোকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। সুগন্ধা ও কীর্তনখোলার মোহনায় যা ঘটছে তা শুধু একটি নদী দখলের ঘটনা নয়— এটি পরিবেশ, অর্থনীতি, ভূমি অধিকার ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার সম্মিলিত সংকট। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে— নদীর নাব্যতা হারাবে,জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে,হাজারো মানুষের জীবিকা বিপন্ন হবে, নদী রক্ষার লড়াই এখন সময়ের দাবি।    

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাস্থ্য

View more
ডাঃ মো: রেজওয়ান কায়সার
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোঃ রেজওয়ান কায়সার: স্বাস্থ্যসেবা ও মানুষের জীবনে নতুন আলো

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য সম্প্রতি প্রশংসিত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত স্কিন, হেয়ার, এলার্জি, চর্ম ও যৌন বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোঃ রেজওয়ান কায়সার। তার অনন্য সেবা, মানবিক আচরণ এবং চিকিৎসায় নতুন পদ্ধতির প্রয়োগ তাকে বিশেষভাবে জনপ্রিয় করে তুলেছে। তার চিকিৎসা পদ্ধতিতে রোগীদের প্রতি সহানুভূতি এবং নতুন উদ্ভাবনী ধারণার সংমিশ্রণে অসংখ্য রোগী তার কাছ থেকে সান্ত্বনা পেয়েছেন। স্কিন, হেয়ার, এলার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোঃ রেজওয়ান কায়সারের অনন্য চিকিৎসা পদ্ধতি, মানবিক আচরণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার তাকে রোগীদের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। চিকিৎসাক্ষেত্রে দক্ষতার পাশাপাশি রোগীদের প্রতি তার সহানুভূতিশীল মনোভাব এবং বন্ধুসুলভ আচরণ তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। অনেক রোগীর মতে, চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক স্বস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি সমান গুরুত্ব দেন। ডাঃ কায়সার বলেন, "আমার মূল লক্ষ্য হলো, আমি শুধু রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে নয়, রোগীদের মানসিক শান্তি ও আস্থাও অর্জন করতে চাই।" তিনি জানান, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং নিয়মিত গবেষণার মাধ্যমে চর্ম, হেয়ার এবং এলার্জি চিকিৎসায় উন্নত পদ্ধতি ব্যবহার করে তিনি তার রোগীদের দ্রুত সুস্থতা নিশ্চিত করেন। রোগীদের প্রতি স্নেহ ও সহানুভূতি ডাঃ রেজওয়ান কায়সারের চিকিৎসা শাস্ত্রে দক্ষতার পাশাপাশি, রোগীদের প্রতি তার আন্তরিকতা তাকে মানুষের মন জয় করতে সহায়তা করেছে। তার সহজ-সরল ভাষায় রোগীদের জন্য পরিষ্কার ব্যাখ্যা এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন অনেকে। এই চিকিৎসকই একমাত্র যিনি রোগীর সাথে বন্ধুসুলভ সম্পর্ক স্থাপন করে তাকে তার চিকিৎসার পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করেন। নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি  ডাঃ কায়সারের নেতৃত্বে  অনেক চর্ম ও এলার্জি রোগের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। তার নিয়মিত গবেষণার মাধ্যমে নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়েছে, যা বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। সমাজসেবায় অবদান চিকিৎসা সেবা দেওয়ার পাশাপাশি, ডাঃ কায়সার বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজেও জড়িত। তার উদ্যোগে অসহায় মানুষদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয় এবং তিনি নিয়মিত চর্মরোগ ও এলার্জি সম্পর্কে সচেতনতামূলক পরামর্শ দিচ্ছেন। ভবিষ্যত পরিকল্পনা ডাঃ মোঃ রেজওয়ান কায়সার আশা করছেন যে, তার কাজের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে আরও উন্নতি আসবে এবং তিনি আরো অনেক নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবন করবেন। তার লক্ষ্য হলো, সব শ্রেণির মানুষের কাছে উন্নত চিকিৎসা সেবা পৌঁছানো এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে তার সেবার পরিধি আরও সম্প্রসারিত করা। ডাঃ কায়সারের মেধা, পরিশ্রম এবং নৈতিকতা তাকে স্বাস্থ্যসেবা খাতে এক অনন্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। তিনি দেশের এক অত্যন্ত প্রশংসিত চিকিৎসক হিসেবে তার সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে আরো অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তিনি বরিশালের বগুড়া রোডস্থ স্কিনফিনিটি (স্কিন, হেয়ার, এলার্জী, লেজার, এসথেটিক সেন্টার) এ এবং বাংলাবাজারের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়মিত রোগী দেখেন। স্কিনফিনিটির মোবাইল নম্বর:  ০১৩০৬৭৮৭০৪, ০১৩০৭০৭৭৫৯০ চিকিৎসা সেবা: চর্মরোগ ও চর্ম লেজার সার্জারি। চুল পড়া ও চুলের যত্ন (হেয়ার)। এলার্জি রোগ। যৌন ও সেক্স রোগ। এস্থেটিক মেডিসিন (সৌন্দর্যবর্ধন)।  চর্ম ও এলার্জি রোগে উচ্চতর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তিনি স্কিনফিনিটিতে আধুনিক ও বিশেষায়িত সেবা নিশ্চিত করছেন। ডাঃ মো: রেজওয়ান কায়সারের  সংক্ষিপ্ত পরিচিতি : ডাঃ মো: রেজওয়ান কায়সার (এমবিবিএস, ডিডি-থাইল্যান্ড, আমেরিকান একাডেমি অফ এস্থেটিক মেডিসিন) বরিশালের আলেকান্দায় স্কিনফিনিটি সেন্টারে স্কিন, চুল, এলার্জি, সেক্স এবং লেজার সার্জারির জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন । তিনি ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন কনসালটেন্ট এবং চর্ম ও যৌন রোগের পাশাপাশি এস্থেটিক মেডিসিনে পারদর্শী। চেম্বারের তথ্য যোগাযোগ ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট: সেন্টারের নাম: স্কিনফিনিটি (স্কিন, হেয়ার, এলার্জি, লেজার, এসথেটিক সেন্টার) ঠিকানা: বগুড়া রোড, বরিশাল-৮২০০ ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল

বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের ২ চিকিৎসককে কৈফিয়ত তলব

বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগ-স্বৈরাচারের দোসররা বহাল তবিয়তে

বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগ: স্বৈরাচারের দোসররা বহাল তবিয়তে

ওয়ার্ড মাস্টার মশিউল আলম ফেরদৌস

শেবাচিমে আওয়ামীপন্থী কর্মচারীদের আধিপত্য বহাল, বিতর্কের কেন্দ্রে ওয়ার্ড মাস্টার ফেরদৌস

শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
জিম্মিরোগীরা : চিকিৎসা সেবা পেতে পদে পদে ভোগান্তি

চিকিৎসার জন্য শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর দক্ষিনাঞ্চলের কোটি মানুষের নির্ভরতা। বরিশালসহ খুলনা বিভাগের একাংশ ও ঢাকা বিভাগের ফরিদপুর মাদারীপুর,গোপালগঞ্জের  মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান এটি। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর  স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করছে  সবচেয়ে পুরনো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি। অথচ এই হাসপাতালের রোগীসেবায় কেউ সন্তুষ্টি নন ।কোনো কাজে আসছে না গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত কোনো রোগী।এখানে ভর্তি করা হলে ঢাকা মেডিকেল বা বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে প্রেরন করা হয়। অভিযোগ পাওয়া গেছে, অস্ত্রোপচারের জন্য রোগীদের মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়। অধিকাংশ যন্ত্রপাতি বিকল থাকায় কম মূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা সুবিধা পাচ্ছে না রোগীরা। আছে অনিয়ম-দুর্নীতি এবং দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যও। হাসপাতালের সর্বত্রই ময়লা-আবর্জনা। তবে সেবা পেতে রোগীর ভোগান্তি সব কিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। একাধিক রোগী ও রোগীদের স্বজনরা  ইত্তেহাদ নিউজকে জানিয়েছেন, এখানে হাসপাতালে সেবা পেতে পদে পদে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনিয়ম যেখানে নিয়মে পরিনত, অসভ্যতাই যেখানে সভ্যতা, নোংড়াই যেখানে পরিচ্ছন্নতা! রোগী, স্বজন যেখানে জিম্মি, বর্তমান আলোর পৃথিবীতে এক ভয়ানক অন্ধকার জগতের নাম দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম বরিশালের শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। রোগী ভর্তি থেকে শুরু হয় নানান রকম হয়রানী আর বিরম্বনা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও জরুরি বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে ক্যাজুয়ালটি বিভাগটি পুরোপুরি চালু করা যাচ্ছে না। জরুরি বিভাগ থেকে আহত রোগীদের ক্যাজুয়ালটি বিভাগে না পাঠিয়ে অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, একশ্রেণীর দালাল চক্রের সঙ্গে জরুরি বিভাগের কর্মচারীদের সিন্ডিকেট রয়েছে। কমিশনের বিনিময়ে জরুরি বিভাগ থেকে রোগী ভাগিয়ে তারা প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিকে নিয়ে যায়।কর্মকর্তা কর্মচারীদের স্বেচ্ছাচারীতা, কর্তব্যে অবহেলার কারনে জটিল ধাধায় পরে যায় আগত সাধারন রোগী ও স্বজনরা। আয়া বুয়াদের দাপট আর আচরণ এতটাই জঘন্য। এমনকি ঝাড়ু নিয়েও আক্রমন করতে দেখা গেছে স্বজনদের উপর। কেউ প্রতিবাদ করলেই যেনো তাকে বিপদে পরতে হয়, ভিমরুলের দলের মত সব দলবদ্ধ হয়ে ঝাপিয়ে পরে। এতো গেলো আয়া বুয়া ক্লিনারদের কথা।সিস্টার নার্স আর ডাক্তার, তারাতো বাংলার নবাব। কোন বিষয় কথা বলতে গেলেই ধমকের সুরে কথা বেড়িয়ে আসে তাদের মুখ থেকে। রোগী যখন সংকটময় অবস্থা তখন দশবার ডেকেও তাদের পাওয়া যায়না। তাদের অবহেলার কারনে শিশু মারা গেছে নবজাতক শিশু ওয়ার্ডে। স্বজনদের অভিয়োগ ডাক্তার যদি একটু কেয়ার করত তবে হয়ত শিশু তিনটি বেচে যেতো। এর কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে হুমকি-ধামকি দিয়ে নাজেহাল করে দেয় তারা। সাংবাদিক পরিচয় দিলে, হুমকী দিয়ে বলা হয়, এটা সরকারী হাসপাতাল, ডাক্তারদের ক্ষমতা অনেক, আপনি যা পারেন করেন গিয়ে। শিক্ষিত ডাক্তারদের এমন অশালীন দৃষ্টতাপূর্ণ আচরনে হতবাগ হয়ে পরে উপস্হিত জনতা। পরিচ্ছন্নতার কথা আর কি বলব, এক কথায় সমগ্র হাসপাতালটি একটি নোংড়া দূর্গন্ধময় ভুবন। বেশিরভাগ বাথরুমের নেই কোন দরজা, পানি ব্যাবহারের ব্যবস্থাও নেই বেশিরভাগ বাথরুমে, নানা অব্যাবস্থাপণা, অনিয়নম আর সেচ্ছাচারীতায় এমন বৃহত্তর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি এখন কতিপয় অমানুষ আর হায়েনার রাজ্যে পরিনত হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবী, লাখো মানুষের সেবায় নিয়োজিত এই মহা স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি নিয়ম ও সভ্য আচরণে ফিরে আসবে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের। ডিউটি রেখে ব্যক্তিগত ক্লিনিকে সময় দেন চিকিৎসকরা : সরকারি ডিউটি রেখে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা ব্যক্তিগত ক্লিনিকে সময় দেন। এর ফলে সরকারি চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা পড়েন চরম ভোগান্তি ও বিড়ম্বনায়।   হাসপাতাল ময়লার ভাগাড়: বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল হাসপাতালের মানসিক বিভাগের পাশের এ খোলা জায়গাতে চিকিৎসা বর্জ্য ফেলছে কর্তৃপক্ষ। রাতে সিটি করপোরেশন এসব ময়লা অপসারণ করলেও দিনভর পাখি, কুকুর, বিড়াল এসব বর্জ্য চারদিকে ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণ করছে। হাসপাতালের মূল ভবনের পাশেই ময়লার ভাগাড় গড়ে তোলায় চিকিৎসা নিতে এসে বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের।রোগীর স্বজনরা জানান, মানসিক বিভাগের পাশে ময়লার ভাগাড় করায় কোনোভাবেই চিকিৎসা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। উল্টো রোগীর সঙ্গে এসে নিজেরাই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানান তারা।এদিকে চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দুদফা চিঠি ও বৈঠক করেও কোন সুরাহা করতে পারেনি পরিবেশ অধিদফতর।বরিশাল জেলা পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক বলেন,‘দ্রুত এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নিলে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে। আমরা বারবার তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বিষয়টি দুঃখজনক।’তবে দ্রুত ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানের কথা জানিয়ে হাসপাতাল পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা গণপূর্ত বিভাগের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালে ২ টি জায়গা নির্ধারণ করেছি। দ্রুত এই দুই জায়গায় ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।’১৯৬৮ সালে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর ৫৫ বছরেও তৈরি করা হয়নি ডাম্পিং স্টেশন। পরিচ্ছন্নতাসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অসন্তোষ  স্বাস্থ্যমন্ত্রীর : হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অডিটোরিয়ামে এক আলোচনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতাল নোংরা থাকবে এবং মানুষ চিকিৎসা সেবা পাবে না-এটা আর গ্রহণ করতে রাজি নই। যারা দায়িত্বে রয়েছেন তাদের কাছ থেকে কাজ বুঝে নিতে চাই– যদি না পারেন তবে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হবে।’ হাসপাতালটির সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অন্য হাসপাতালের তুলনায় এই হাসপাতাল পিছিয়ে আছে। হাসপাতালের বাইরে খারাপ অবস্থা। এখানে চারিদিকে ফুলের গাছ দিয়ে ভরিয়ে দিতে হবে, যাতে মানুষের প্রথম দেখায় ভালো লাগে। এখানে চারিদিকে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার অভাব রয়েছে, হাসপাতালে শীতের মধ্যে মানুষকে শুয়ে থাকতে দেখেছি। এরপরে যখন আসবো এসবের উন্নতি দেখতে চাই।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই হাসপাতালের (শেবাচিম) আগে ক্যান্সারসহ বিশেষায়িত হাসপাতালের কাজ দেখতে গিয়েছিলাম, সেগুলোও অন্যান্য বিভাগের তুলনায় কাজ পিছিয়ে আছে। যারা ঠিকাদার রয়েছেন তাদের বলতে চাই, যে টুকু পিছিয়ে পড়েছে সেটি যেন দ্রুত পূরণ করা হয়, তা নাহলে পেনাল্টিতে পড়তে হবে।’ জানা গেছে, ১৯৭০ সালের ২০ নভেম্বর দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কার্যক্রম শুরু হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে সব ধরনের রোগের চিকিৎসার ইনডোর-আউটডোর সেবা থাকতে হবে। কিন্তু শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চিকিৎসক ও স্থান স্বল্পতার কারণে একাধিক রোগের ইনডোর-আউটডোর সেবা কার্যক্রম চালু ছিল না। বিশেষ করে কার্ডিওলজি (হৃদরোগ) চিকিৎসার বহির্বিভাগ চালু না থাকায় গরিব ও সাধারণ রোগীরা প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। এ অবস্থায় ২০১৫ জানুয়ারিতে এক সভায় স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন কমিটির সভাপতি আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ জরুরি ভিত্তিতে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হৃদরোগ বহির্বিভাগ চালুর নির্দেশ দেন। প্রতিষ্ঠার ৫১ বছর পর ২ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে ভাস্কুলার সার্জারি, কার্ডিওলজি, ইউরোলজি ও গ্যাস্ট্রোএন্ট্রোলজি বহিঃ বিভাগের কার্যক্রম। ববি শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত : শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের বহির্বিভাগে মাকে চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) রসায়ন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত।১৯ জুন বেলা ১১টার দিকে শেবাচিমের নিচতলায় ববি শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। হামলার শিকার সাংবাদিকরা : বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রী র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় কলেজ অধ্যক্ষের বিচার চাইলেও বিচার পাননি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। বরং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বক্তব্য নেয়ায় সাংবাদিকদের পিটিয়েছেন কলেজের শিক্ষকরা। ২৪ আগস্ট ওই ছাত্রী র‌্যাগিংয়ের শিকার হন। এ ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহের জন্য শনিবার ২৬আগস্ট সাংবাদিকরা কলেজে গেলে হামলার শিকার হন। কলেজ অধ্যক্ষের কাছে র‍্যাগিংয়ের বিচার চাইতে যান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। এদিন সময় টেলিভিশনের রিপোর্টার শাকিল মাহমুদ, চিত্র সাংবাদিক সুমন হাসানসহ চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের স্টাফ রি‌পোর্টার কাওছার হো‌সেন রানা, বাংলা নিউজ ২৪ এর রিপোর্টার মুসফিক সৌরভ, এশিয়ান টেলিভিশনের রিপোর্টার ফিরোজ মোস্তাফা যান তথ্য সংগ্রহে। এ সময় ভুক্তভোগীর বক্তব্য নেয়ায় সাংবাদিকদের পিটিয়েছেন কলেজের কমিউনিটি মে‌ডি‌সিন বিভা‌গের শিক্ষক ডা. সৈয়দ বাকী বিল্লাহ ও প্যাথলজি বিভা‌গের সহ‌যোগী অধ্যাপক ডা. প্রবীর কুমার সাহা। র‌্যাগিং ও হামলা: অভিযুক্তকে দিয়েই গঠন করা হলো তদন্ত কমিটি বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবামেক) হাসপাতালের ছাত্রী হলে র‌্যাগিং ও সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় ৪ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা করা প্যাথলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক প্রবীর কুমার সাহাকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।রবিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে এই কমিটি গঠন করা হয় বলে জানান উপাধ্যক্ষ জিএম নাজিমুল হক।কলেজের অধ্যক্ষ ডা. ফয়জুল বাশার ঘটনা তদন্তে ৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেন। যার প্রধান করা হয়েছে অধ্যাপক উত্তম কুমার সাহাকে। কমিটির অন্য ৩ সদস্য হলেন- অভিযুক্ত প্রবীর কুমার সাহা, প্রভাষক আনিকা ইসলাম ও জহিরুল ইসলাম। হাসপাতালের কক্ষ ব্যাংকের কাছে ভাড়া : বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শয্যাসংকট সত্ত্বেও নিচতলায় একটি বেসরকারি ব্যাংককে কক্ষ ভাড়া দেয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের পরিচালক সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। আপন ছোট ভাইকে ব্যাংকটির চাকরিতে স্থায়ী করতে এ কাজ করেছেন তিনি।হাসপাতালে শয্যাসংকটে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। বারান্দা, শৌচাগারসহ কোথাও নেই একটুও হাঁটার জায়গা। এমন দুর্ভোগের মধ্যেই হাসপাতালের নিচতলায় একটি বেসরকারি ব্যাংককে ভাড়া দেয়া হয়েছে কক্ষবরিশাল নদী-খাল বাঁচাও আন্দোলনের সদস্যসচিব এনায়েত হোসেন শিপলু বলেন, ‘হাসপাতালের পরিচালক তার ছোট ভাইকে চাকরি দেয়ার সুবাদে হাসপাতালের ভেতর ব্যাংক ভাড়া দিয়েছে। এমন অভিযোগ এখন ওপেন সিক্রেট। হাসপাতালের বাইরে অনেক খালি ভবন রয়েছে। সেখানে ব্যাংক স্থাপন হলেও চলত। হাসপাতালের মেডিসিন ভবনের ভেতর ব্যাংকটি অবিলম্বে সরিয়ে দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি নিয়ম মেনে হাসপাতালের নিচতলায় এক হাজার স্কয়ার ফুট জায়গা ভাড়া দেয়া হয়েছে। প্রতিমাসে ২০ হাজার টাকা ভাড়া আসে সেখান থেকে। আমি কোনো দুর্নীতি করিনি।এ বিষয়ে ভাড়া নেয়া বেসরকারি ব্যাংকটির কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিমাসের ভাড়া নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দিয়ে দেয়া হয়। হাসপাতালের ভেতরে ব্যাংকটি খোলা হয়েছে রোগীদের সেবা দেয়ার জন্যই। আমরা চাই রোগীরা নিরাপদে টাকা-পয়সা লেনদেন করুক।ডা. সাইফুল ইসলামের ছোট ভাই মনির হোসেন বলেন, ‘আমি নিজের যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছি। আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। আমার চাকরির বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আরও ভালো জানে। নার্সদের ঘুমে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত রোগীরা : মধ্যরাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোগী ও স্বজনদের দাবি, সেবা না দিয়ে হাসপাতালের কক্ষে ঘুমিয়ে থাকেন দায়িত্বরতরা। ডাকাডাকি করেও প্রয়োজনে পাশে পান না নার্সদের। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়ার দায়সারা জবাব হাসপাতাল প্রশাসনের। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে রাতে বিছানার চাদর টাঙিয়ে ঘুমাচ্ছেন নার্সরা। দরজার সামনে অপেক্ষায় রোগী ও তাদের স্বজনরা। শুধু মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডেই নয়, এমন অবস্থা হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডে। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, ডাকাডাকি করেও প্রয়োজনের সময় পাওয়া যায় না নার্সদের। রাতে সেবা চাইতে গেলে উল্টো খারাপ ব্যবহার করেন তারা।রোগীরা জানান, ঠিকমতো নার্সরা আসেন না। সেবা তো দূরে থাক, প্রয়োজনের সময় অনুরোধ করেও আনা যায় না তাদের। ডাক্তার আর প্রশাসনের কাছে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি বলে দাবি তাদের। তবে এসব বিষয় অস্বীকার করেন নার্সরা। তারা জানান, রোগীরা যখন আসে তখনই সেবা দেয়া হয় তাদের। পাশাপাশি রাতে রোটেশন অনুযায়ী সেবা দেয়া হয় রোগীদের। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দৈনিক গড়ে রোগী ভর্তি থাকেন ২ হাজার। আর তাদের সেবা দিতে বর্তমানে নার্স আছেন ৯৪৬ জন। বছরজুড়ে কার্ডিয়াক বিভাগের এসি বিকল, গরমে রোগীদের ভোগান্তি এক বছর ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিভাগের সব শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মেশিন। একে তো চলছে তীব্র দাবদাহ, তার ওপর মাত্র ৪৩টি শয্যার বিপরীতে রোগী থাকেন প্রায় দ্বিগুণ। কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ রোগী ও তাদের স্বজনরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, দফায় দফায় চিঠি চালাচালি করেও সমাধান মিলছে না। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, কার্ডিওলজি বিভাগে তারা বেড না পেয়ে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ওয়ার্ডে শয্যার চেয়ে রোগী বেশি। বাইরে প্রচণ্ড গরম। ভেতরে মানুষ ঠাসাঠাসি। এসি না থাকায় তাদের খুব সমস্যা হচ্ছে। চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সিসিইউ ও পিসিসিউতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা। কার্ডিওলজি বিভাগে শয্যা সংখ্যা ৪৩টি। কিন্তু রোগী প্রায় দ্বিগুণ। মেঝেতে শুয়েও নিতে হয় চিকিৎসা।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সিসিইউতে থাকা ১০টি, পিসিসিউর ৮টি, ইকো ও ইটিটি কক্ষে ১টি করে মোট ২০টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মেশিনের সবই বিকল। দফায় দফায় চিঠি চালাচালি করেও সমাধান মিলেনি বলে জানান পরিচালক।বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে থাকা ২০টি এয়ার কন্ডিশনই ব্যবহার অনুপযোগী। বিভিন্ন দফতরে লিখিত জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি।’  তবে দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত বিভাগের দাবি, রোগীদের কষ্ট লাঘবে দ্রুত উদ্যোগ নেয়া হবে। বরিশাল গণপূর্ত মেডিকেল কলেজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল) মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব এ সমস্যার সমাধান করা হবে। যাতে করে রোগী ও স্বজনদের কষ্ট লাঘব হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ ৫০০ শয্যার হাসপাতালটিতে দৈনিক গড়ে ২ হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। আর প্রতিদিন বহির্বিভাগে সেবা নেন তিন হাজার রোগী। শয্যা সংকট, মেঝেতেই চলছে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠার ৫৪ বছরেও স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়নি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। অত্যাধুনিকসব যন্ত্রপাতি থাকলেও অধিকাংশই বিকল। ভোগান্তির অপর নাম শয্যা সংকট। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও সমস্যার সমাধান না পাওয়ার আক্ষেপ খোদ হাসপাতালের পরিচালকের। শয্যা সংকটে মেঝেতেই চলছে চিকিৎসাসেবা। ৫৪ বছর আগে নির্মাণ করা হাসপাতালটির ভবনের অবস্থাও জরাজীর্ণ। খসে পড়ছে পলেস্তারা। পানি সংকট ভোগান্তি আরও বাড়িয়েছে। রোগীদের সঙ্গে খারাপ আচরণেরও অভিযোগ রয়েছে নার্সসহ হাসপাতালের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।দীর্ঘদিন ধরে বিকল এমআরআই, সিটিস্ক্যানসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র। তাই স্বাস্থ্যের যেকোনো পরীক্ষায় বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোই ভরসা রোগীদের।বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অনেক সময় ইমার্জেন্সি মোকাবিলা করতে পারি না। তবে প্যাথলজি বিভাগে আমরা দুই শিফট চালু করেছি।’ সংকটের বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন মহলে জানিয়েও কোনো সমাধান মিলছে না বলে আক্ষেপ করেন হাসপাতাল পরিচালক। রমরমা ট্রলি বাণিজ্য, বিপাকে রোগীরা : বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবামেক) হাসপাতালে জমে ওঠেছে ট্রলির ব্যবসা। কোনো রোগী টাকা ছাড়া ট্রলিতে উঠতে পারে না। এছাড়া প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির কথা জানে বলেও সরল স্বীকারোক্তি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। তবে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। হাসপাতালে ঢুকতেই ইমারজেন্সি চত্বরে দেখা যায় বেশ কয়েকটা ট্রলি। আর এখানেই ঝগড়া-বিবাদ। হাসপাতালে ট্রলি পেতে এমন বাগ্‌বিতণ্ডা নিত্যদিনের। ট্রলিতে রোগী উঠলেই গুনতে হয় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, নিচে পরীক্ষা করতে গেলে যার ট্রলি তাকে ১০০ টাকা দেয়া লাগে। এ ছাড়া রোগী সুস্থ হোক বা না হোক, নাশতা খাওয়ার টাকা দিতে হবে।রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, ট্রলিতে আসা-যাওয়াসহ বিছানার চাদর পাওয়া,পরিষ্কার করানো থেকে শুরু করে যে কোনো বিনামূল্যের সরকারি সুবিধা ভোগ করতে টাকা দিতে হয় একদল স্বেচ্ছাসেবক নামধারীদের। আর সরকারি স্টাফরা দুর্ব্যবহার করেন রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে। রোগী ও স্বজনরা বলেন, ২০০ টাকা দিতেই হবে। না হলে তারা এমনভাবে রোগীকে টান দেয় যে রোগীর মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যায়। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করা এসব কর্মী ছড়িয়ে আছেন হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডে। তাদের দাবি, কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই কাজের বিনিময়ে খুশি হয়ে যা দেয় সেটাই তারা নেয়। স্বেচ্ছাসেবকরা বলেন, ‘আমরা জোর করে টাকা নেই না। রোগীকে পৌঁছে দিলে স্বেচ্ছায় কিছু টাকা তারা দেন। সেগুলো নিয়ে থাকি।হাসপাতালের বিভিন্ন শাখায় এসব নামধারী স্বেচ্ছাসেবক আছেন অন্তত ২৫০ জন। চতুর্থ ও তৃতীয় শ্রেণির কর্মী সংকট থাকায় স্বেচ্ছাসেবক নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পানির জন্য হাহাকার : বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চাহিদার অর্ধেকেরও কম পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী, স্বজনসহ কর্মচারীরা। সংকট নিরসনে স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেই বলেও অভিযোগ রয়েছে। লিফটে পানি নিয়ে ওঠা যাবে না। তাই ৫তলা পর্যন্ত সিঁড়ি বেয়ে বালতিতে পানি নিয়ে উঠছেন ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধা। প্রতিনিয়ত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমন চিত্র। শুধু তিনিই নন, পানির নিদারুণ কষ্টে আছেন তিন তলার সার্জারি নারী ওয়ার্ডের চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের পাশে থাকা স্বজনরা। হাসপাতালের প্রতিটি ফ্লোরে পানিসংকটের ভোগান্তি সইতে হচ্ছে তাদের। মাসখানেক ধরে হাসপাতালের আনসার কোয়ার্টারে পানির সংকট পৌঁছেছে চরমে। দিনে দুবার যে পানি দেয়া হচ্ছে, তা-ও আবার ব্যবহার অনুপযোগী। বারবার বলা সত্ত্বেও মিলছে না কোনো স্থায়ী সমাধান। শেবাচিমের আনসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২ ঘণ্টা পানি থাকে; সেটাও দুগন্ধযুক্ত ও ময়লা। এখানে খাওয়ার মতো পানি নেই।প্রতিদিন হাসপাতালে রোগী, স্বজন, চিকিৎসক, নার্স, শিক্ষার্থী, স্টাফ, আনসার ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ৫ থেকে ৬ লাখ গ্যালন পানি ব্যবহারের চাহিদা রয়েছে। অথচ মাত্র দুটি সেন্ট্রাল পাম্পের মাধ্যমে ট্যাঙ্কে পানি উঠানো হয় মোট চাহিদার অর্ধেকেরও কম।বরিশাল গণপূর্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী বলেন, এখানে যে পানি সরবরাহের সিস্টেম; এটা ১৯৬৮ সালে যেভাবে চলত এখনো ঠিক সেভাবে চলছে। কোনো আপডেট করা হয়নি।রোগীদের চাপ বাড়লেও সে অনুযায়ী পানি সরবরাহের সক্ষমতা বাড়েনি। বার্ন ইউনিট বন্ধ, বিপাকে দগ্ধ রোগীরা : যাত্রীবোঝাই লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধদের উদ্ধার করে পাঠানো হয় বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তবে হাসপাতালের বার্ন ইউনিট বন্ধ থাকায় চিকিৎসা চলে সার্জারি বিভাগে। একসঙ্গে এত রোগীকে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। প্রায় ৫ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ। এর ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এম‌ভি অভিযান-১০ নামে ল‌ঞ্চে অগ্নিদগ্ধ ৭২ জন রোগী।রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, সার্জারি বিভাগে অগ্নিদগ্ধদের চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেই। ইন্টার্ন চিকিৎসক ও নার্সরাই রোগীদের একমাত্র ভরসা। হাসপাতালটির বার্ন ইউনিট বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন দগ্ধ রোগীরা। সার্জারি ওয়ার্ডের আগে থেকে অনেক রোগী ভর্তি থাকায় দগ্ধদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ২০১৫ সালের ১২ মার্চ হাসপাতালের নিচতলায় আটটি শয্যা নিয়ে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ চালু করা হয়েছিল। বিভাগে আটজন চিকিৎসক ও ১৬ জন নার্সের পদ রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউনিটটি ৩০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। চালু থাকা পাঁচ বছরে প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি রোগী বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিয়েছেন।শেবাচিমের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. এমএ আজাদের রহস্যজনক মৃত্যুর পর ইউনিটটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ধুঁকে ধুঁকে চলছে চিকিৎসাসেবা : বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে রোগ নির্ণয়ের মেশিনগুলোর অর্ধেকেরও বেশি অচল। ব্যক্তি মালিকানার ল্যাবের সঙ্গে হাসপাতালের শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট জড়িত থাকায় বছরের পর বছর পার হলেও সরকারের ডায়াগনস্টিক মেশিন সচল হচ্ছে না। এতে ধারণ ক্ষমতার তিনগুণ বেশি রোগী নিয়ে ধুঁকে ধুঁকে চলছে চিকিৎসাসেবা। বরিশাল  শেরে বাংলা মেডিকেল হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটির একমাত্র এমআরআই মেশিনটি ২০০৭ সালে চালু হয়। ৯ বছর কোনোমতে চললেও, গত ৬ বছর ধরে বিকল। এছাড়াও হাসপাতলের একমাত্র সিটি স্কান মেশিনটি চালু হয় ২০১৪ সালে। গত ৪ বছর ধরে বন্ধ। আরও জানা গেছে, হাসপাতালের ২২টি ইউনিটি মোট ৪৫০টি মেশিনের মধ্যে পুরোপুরি অচল ৮৫টি আর মেরামতযোগ্য আছে ৭৪টা মেশিন। সচল রয়েছে ২৯১টি। অভিযোগ পাওয়া গেছে, সরকারি মেশিনগুলো যখন অচল, তখন হাসপাতালের আশপাশে একের পর এক গড়ে উঠছে ব্যক্তি মালিকানার ল্যাব। রোগীদের অভিযোগ, সরকারি মেশিন নষ্টের অজুহাত দেখিয়ে বেশি টাকায় বাধ্য করা হয় বাইরের ল্যাবে পরীক্ষা করাতে। এসব ল্যাবের সঙ্গে হাসপাতালের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। অথচ ধারণ ক্ষমতার প্রতিদিন তিনগুণ বেশি রোগী সেবা নেয় এই হাসপাতাল থেকে। অক্সিজেন সিলিন্ডার উধাও : বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) করোনা ওয়ার্ড থেকে ১শ’ অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং ৩০টি সিলিন্ডার মিটার উধাও হয়ে গেছে। এ ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু সন্ধান চালিয়ে উধাও হওয়া কোন সিলিন্ডার উদ্ধার করতে পারেনি তারা। মেডিকেলের স্টোর সূত্র জানায়, করোনা ওয়ার্ডের ওয়ার্ড মাস্টারদের মাধ্যমে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও সিলিন্ডার মিটার সরবরাহ করা হয়। কোন ওয়ার্ডে কতটি অক্সিজেন সিলিন্ডার ও সিলিন্ডার মিটার নেয়া হয়েছে তার তালিকা করা হয়েছে। ওই তালিকা অনুযায়ী বিভিন্ন ওয়ার্ড তল্লাশি করে অন্তত ১শ’ সিলিন্ডার ও ৩০টি সিলিন্ডার মিটারের হদিস পাওয়া যায়নি। নন কোভিড ওয়ার্ডেও সেগুলোর খোঁজ মেলেনি। বিষয়টি পরিচালককে অবহিত করা হলে তিনি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ৮টার অফিসে ১০টায়ও যান না চিকিৎসকরা : দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি দল সকাল সোয়া ৯টায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে গিয়ে বেশিরভাগ শিক্ষককে (চিকিৎসক) অনুপস্থিত পেয়েছেন। পরে ডা. মনিরুজ্জামান শাহিনের কাছে চিকিৎসকদের গত এক সপ্তাহের বায়োমেট্রিক হাজিরা রিপোর্ট দেখতে চাইলে অধ্যক্ষ দিতে অস্বীকার করেন। এ নিয়ে দুদক কর্মকর্তাদের সঙ্গে অধ্যক্ষের বাদানুবাদ হয়েছে।সকাল ৮টায় কর্মস্থলে হাজিরার কথা থাকলেও বরিশাল মেডিকেল কলেজের বেশিরভাগ শিক্ষক ১০টার পরে কর্মস্থলে যান। তাঁরা রাত ২-৩টা পর্যন্ত প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখেন। বিশেষ করে নিউরোলজি মেডিসিনের ডা. অমিতাভ সরকার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় দুদক কর্মকর্তারা মেডিকেল কলেজে অভিযান চালান। এ দিনও এই দুই চিকিৎসককে সকাল সাড়ে ৯টায় কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি।বরিশাল দুদকের সহকারী পরিচালক রাজ কুমার সাহার নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি দল সকাল ৯টার দিকে প্রথমে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যায়। দলের সদস্যরা বহির্বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে পরিচালকের কক্ষে গিয়ে বসেন। সেখান থেকে সকাল সোয়া ৯টায় যান অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামানের কার্যালয়ে। তখন তিনি কক্ষে ছিলেন না। দুদক দল আসার খবর পেয়ে তিনি তড়িঘড়ি করে কার্যালয়ে পৌঁছান। তাঁর কাছে গত এক সপ্তাহের বায়োমেট্রিক হাজিরা রিপোর্ট চাইলে দিতে অস্বীকার করে তিনি দুদক টিমের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়ান। একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, দুদক টিমের ছবি তুলে রাখার হুমকি দিচ্ছেন অধ্যক্ষ। তখন দুদকের এক কর্মকর্তা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয় দিলে অধ্যক্ষ পাল্টা বলেন, ‘আমি উড়ে এসেছি নাকি?’ এর কিছুক্ষণ পর চিকিৎসকরা একে একে অধ্যক্ষের কক্ষে আসা শুরু করেন। তাঁরা সকাল ১০টার দিকে হাজিরা দেন অধ্যক্ষের কক্ষে। সাড়ে ১০টার দিকে দুদক টিম মেডিকেল কলেজ ত্যাগ করে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন : মানববন্ধনে বক্তারা হাসপাতালের ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি, অকেজো যন্ত্রপাতি চালু, লিফট, এসি সচলসহ দালালের দৌরাত্ম্য রোধের দাবি জানান। তারা চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীদের সেবা না পাওয়ারও প্রতিবাদ করেন। আর এ জন্য হাসপাতালে হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশন গঠনের তাগিদ দেন। রেহানা বেগমের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান বক্তা বেসরকারি সংস্থা স্কোপ এর নির্বাহী পরিচালক কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, ‘শেবাচিম হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার কারণে সেবা থেকে রোগীদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। ডেঙ্গু রোগীদের এখানে চিকিৎসা হচ্ছে না। তাদের ঢাকায় রেফার করা দুঃখজনক। এমনটাই যদি করতে হয়, তাহলে বড় বড় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা কি করেন।’ তিনি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশন গঠনের তাগিদ দেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১, ২০২৬ 0
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ বিশ্বেশ্বরী সরকারি পাইলট হাইস্কুলের ৬ সাবেক শিক্ষার্থী ডাক্তার

একই স্কুলের ৬ শিক্ষার্থী ৪৮তম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে

অ্যালার্জি বেড়েছে

শহরে অ্যালার্জি বেড়েছে, মূল কারণ তিনটি

বস্তিবাসীর মানসিক রোগে চিকিৎসা

বস্তিবাসীর মানসিক রোগে চিকিৎসা গ্রহণের হার বেড়েছে ৫ গুণ

ছানি অপারেশন
৯ কোটির বেশি মানুষের ছানি অপারেশন দরকার

বিশ্বে ৯ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ ছানি রোগে ভুগছেন, কিন্তু তাদের অর্ধেকই প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের সুযোগ পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। খবর এএফপির। ডব্লিউএইচও জানায়, বয়স বাড়ার সঙ্গে চোখের লেন্স ঘোলা হয়ে যাওয়াকে ছানি বলা হয়। চিকিৎসা না হলে এটি অন্ধত্বের কারণ হতে পারে। অথচ ছানি অপারেশন মাত্র ১৫ মিনিটের একটি সহজ ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা, যা দ্রুত ও স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিতে পারে। সংস্থাটির চোখের যত্ন বিষয়ক কারিগরি প্রধান স্টুয়ার্ট কিল বলেন, বিশ্বের অর্ধেক মানুষের ছানি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হলেও তারা সেই সুযোগ পাচ্ছেন না। আফ্রিকা অঞ্চলে পরিস্থিতি সবচেয়ে গুরুতর; সেখানে যাদের অপারেশন দরকার, প্রতি চার জনের মধ্যে তিন জনই চিকিৎসা পান না।   তিনি জানান, কেনিয়ায় ছানি অপারেশন প্রয়োজন এমন ৭৭ শতাংশ মানুষের দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা বা অন্ধত্ব নিয়েই মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া বিশ্বজুড়ে পুরুষদের তুলনায় নারীরা কম চিকিৎসা সুবিধা পাচ্ছেন।       ডব্লিউএইচও বলছে, আক্রান্তদের মধ্যে ২০ শতাংশের কম সম্পূর্ণ অন্ধ হলেও অধিকাংশ মানুষ দৃষ্টিশক্তির সমস্যায় ভুগছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
শিশুর মলদ্বারে পলিপ

শিশুর মলদ্বারে পলিপ, সঠিক চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষা

স্বাস্থ্যব্যবস্থা বড় দুর্যোগের মুখে

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা দুর্যোগের মুখে: দুর্নীতি, জনবল সংকট ও বাজেট ঘাটতি

শিশুর অটিজমের ঝুঁকি

গর্ভাবস্থায় মায়ের মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে শিশুর অটিজমের ঝুঁকি!

অর্থনীতি

নীলফামারীতে ঝড়-শিলাবৃষ্টি

নীলফামারীতে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ৪৯৩ হেক্টর ফসলের ক্ষতি, বাড়তে পারে ক্ষয়ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0




অপরাধ

হাতিরঝিল থানার ওসি

‘নবীন’ পাঞ্জাবির দোকান বন্ধে চাপ: হাতিরঝিল থানার ওসি ক্লোজড, ডিএমপির তদন্ত কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা  দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0