* কোটি টাকার সমবায় ব্যাংকের জমি দখল! বরিশালে উপ-নিবন্ধক মোস্তফার বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ
* নেপথ্যে উপ-নিবন্ধক মোহাম্মদ মোস্তফা
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার এলাকায় বাড়ি হওয়ার সুবাদে দীর্ঘ সময় বরিশাল বিভাগীয় সমবায় অধিদপ্তরে কর্মরত রয়েছেন প্রভাবশালী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তফা।শেরে বাংলা আঞ্চলিক সমবায় ইনস্টিটিউটে দ্বায়িত্ব পালনের সময় ব্যাপক লুটপাট করেছেন।এছাড়া তার বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারীসহ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে ।

বরিশাল সমবায় ব্যাংকের জমি কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে ব্যক্তি মালিকানায় দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল বিভাগীয় সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক মোহাম্মদ মোস্তফার বিরুদ্ধে।বরিশালে সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের জমিতে স্থায়ী ভবন নির্মাণ করে চলছে ব্যবসা-বাণিজ্য। পুরো বিষয়টি অনিয়মের মাধ্যমে হয়েছে বলে দাবি উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার। তদন্ত শেষে অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে বলে জানান তিনি ।
ইতোমধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপক্ষে তার একাধিক পোস্ট ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। সম্প্রতি ঐ কর্মকর্তার শাস্তির দাবীতে প্রধান উপদেষ্টা, সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন সমবায় ব্যাংকের সাবেক সদস্যরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘ সময় বরিশালে কর্মরত আছেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে অধীনস্থদের বদলির ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়, বরিশাল শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক সমবায় ব্যাংকের সম্পত্তি নাজেমস বিরিয়ানীর মালিক ফরিদুর রহমান রেজার কাছে প্রায় ৯০ লাখ টাকার বিনিময়ে জাল কাগজপত্র তৈরি করে হস্তান্তর করা হয়।বর্তমানে সেখানে তিনতলা রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে।এ বিষয়ে সমবায় ব্যাংকের সাবেক পরিচালক হোসেন জোমাদ্দার বলেন, ‘আমরা লিখিত অভিযোগ করেও কোনো ব্যবস্থা পাইনি।
অভিযোগ প্রসঙ্গে উপনিবন্ধক মোহাম্মদ মোস্তফা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, তৎকালীন বরিশাল সিটি মেয়র সাদেক আব্দুল্লাহর চাপে ভবন নির্মাণের বাধ্য করেছিলেন। স্বৈরশাসক আওয়ামীলীগ এখন ক্ষমতা নেই তবে কেন সমবায় ব্যাংকের সম্পত্তি ফিরিয়ে আনছেন না? তখন তিনি ফোন কেটে দেন।এদিকে সমবায় ব্যাংকের সম্পত্তি দখল করে রাখা হয়েছে, যা ফিরিয়ে আনার দাবি জোরদার করেছেন বরিশালের সর্বস্তরের মানুষ ।

দখলে সমবায় কর্মকর্তারা জড়িত:
বরিশাল সমবায় ব্যাংকের জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে নাজেমস রেষ্টুরেন্ট।জমি সমবায় অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রনাধীন বরিশাল সমবায় ব্যাংকের। ৩২ শতাংশ জমির আংশিক দখল করে তিন তলা ভবন নির্মান করে নাজেমস বিরিয়ানী নামক রেস্তোঁরার মালিকের কাছে অর্ধকোটি টাকা জামানতে মাসিক ৪৫ হাজার টাকায় ভাড়া দেয়া হয়েছে। সমবায় অধিদপ্তরের নাকের ডগায় দখল হলেও তারা চিঠি চালাচালীতে ব্যস্ত।উদ্ধারে নেই কোন তৎপরতা ।একসময়, উদ্যোক্তা ও কৃষক পর্যায়ে ঋণ দেয়া ‘বরিশাল সমবায় ব্যাংক’ ২৩ বছর ধরে বন্ধ।
ব্যাংকটির জমি ও ভবন দখলে বরিশাল বিভাগীয় সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক মোহাম্মদ মোস্তফা,সমবায় অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় অফিসের সাবেক উপ-নিবন্ধক (বিচার) মোঃ রবিউল ইসলাম,বরিশাল জেলা সমবায় অফিসের সাবেক জেলা সমবায় অফিসার প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জী,সমবায় কর্মকর্তা মাহফুজ ও মোঃ আমিনুল ইসলামের যোগসাজসে এ জমিতে ভবন নির্মান করা হয়।সুত্র জানায় দখলে সহযোগীতা করায় সমবায় কর্মকর্তারা পেয়েছেন প্রায় ঘুষ ।

তদন্ত প্রতিবেদন, দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নেয়নি সমবায় অধিদপ্তর:
সমবায় ব্যাংক বরিশালের অবস্থা সম্পর্কে বরিশাল সদর উপজেলা সমবায় অফিসার লতিফা আকতার একটি তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন।তদন্ত প্রতিবেদনটি শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিকট পাঠানো হয়।তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি সমবায় অধিদপ্তর। ,বরিশাল বিভাগীয় সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক মোহাম্মদ মোস্তফার অদৃশ্য ইশারায় বেদখল হওয়া সমবায় ব্যাংক বরিশালের বত্রিশ শতাংশ জমি ও ভবন উদ্ধারে দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নেয়নি সমবায় অধিদপ্তর,বরিশাল বিভাগীয় ,জেলা ও উপজেলা সমবায় অফিস।সমবায় ব্যাংকের জমিতে নতুন ভবন নির্মানে সমবায় অধিদপ্তরের কোন অনুমোদন নেই। এ ছাড়া সমবায় ব্যাংকের জমিতে নতুন ভবনে রেস্তোঁরা ভাড়ার বিষয় সমবায় অধিদপ্তর এর কোন অনুমোদন নেই।

রক্ষণাবেক্ষণে নেই কোন কমিটি :
বরিশালে ১৯১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সমবায় ব্যাংক। এই ব্যাংকটির নিজস্ব জমির পরিমাণ প্রায় ৩৬ শতাংশ। প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যদের কেউ এখন বেঁচে নেই। ২০০১ সাল থেকে সমবায় ব্যাংকের ঋণ দেয়াও বন্ধ। নেই কোনো কার্যক্রম। এতবড় একটি প্রতিষ্ঠানে হিসাবরক্ষক পদে একজন কর্মী ছাড়া আর কেউ নেই। অরক্ষিত এ সম্পদে অনেকেরই লোলুপদৃষ্টি। সমবায় ব্যাংকের হিসাবরক্ষক দেলোয়ার হোসেন বাবুল বলেন, ‘খুব বিপদের মধ্যে আছি। বিভিন্নভাবে আমাকে হেনস্তা করছে।
নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বগুড়া রোডে সমবায় ব্যাংকটির অবস্থান। এখানে ১১১ বছরের পুরাতন একটি দ্বিতল ভবন রয়েছে। কিন্তু এই সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণে নেই কোন কমিটি ও যোগ্য কর্মকর্তা। এই সুযোগে ব্যাংকের জমিতে স্থায়ী ভবন নির্মাণ করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে একটি পক্ষ। সবকিছু অনিয়মে করা হয়েছে বলে দাবি উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার। বরিশাল সদরের উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা লতিফা আক্তার বলেন, ‘সমবায় ব্যাংকের জমিতে যে ভবন করা হয়েছে তা সঠিক নিয়মে করা হয়নি। সব কিছুই অত্র কার্যালয়ের অগোচরে করা হয়েছে।

ভবন ও জমি সরকারের,আয় ভারতীয় নাগরিক টুটুলের :
বরিশাল সমবায় ব্যাংকের জমি সমবায়ের জেলা ও বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সহায়তায় ভারতীয় নাগরিক নিরব হোসেন টুটুল দখলে নিয়ে ভবন নির্মান করে ভাড়া দিয়েছেন নাজেমস বিরিয়ানী নামক একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে। জমি সমবায় অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রনাধীন বরিশাল সমবায় ব্যাংকের হলেও ভবনের ভাড়া থেকে বঞ্চিত সরকার।৩২ শতাংশ জমির আংশিক দখল করে তিন তলা ভবন নির্মান করে নাজেমস বিরিয়ানী নামক রেস্তোঁরার মালিকের কাছে প্রায় অর্ধকোটি টাকা জামানতে মাসিক ৪০ হাজার টাকায় ভাড়া দেয়া হয়েছে।

ব্যাংকের পুরাতন ভবনকে নাজেমস প্রতিষ্ঠান রান্নাঘর হিসেবে ব্যবহার করছেন।সমবায় অধিদপ্তরের জেলা ও বিভাগের শীর্ষ কর্তাদের যোগসাজসে দখল হওয়ায় চিঠি আর তদন্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে বেদখল হওয়া সমবায় ব্যাংকের জমি ও ভবন উদ্ধারের কাজ।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও বি এম কলেজ এর সাবেক জি এস এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা। নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর খামেনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ এবং টাইমস অব ইসরায়েলসহ একাধিক গণমাধ্যমও সরকারি সূত্রের বরাতে জানায়, খামেনির মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। তবে, এই দাবি প্রকাশ পাওয়ার পর পরই ইরান সরকার কঠোর ভাষায় তার নেতার জীবিত থাকার দাবি করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-আলম জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ খামেনি এখনো বেঁচে আছেন এবং তিনি পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আরও বলা হয়, তিনি দেশের সেনাবাহিনী এবং সরকারের নেতা হিসেবে দৃঢ়তার সঙ্গে যুদ্ধের ময়দানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। খামেনি বেঁচে আছেন, দৃঢ়তার সঙ্গে নেতৃত্ব দিচ্ছেন:ইরানের গণমাধ্যমের দাবি এদিকে, এনবিসিতে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “ইরানের প্রায় সব কর্মকর্তা জীবিত, সুস্থ ও নিরাপদ স্থানে আছেন।” তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান আবারও তাদের নেতার বেঁচে থাকার বিষয়ে নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ইরানে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন বা শূন্যতা তৈরি হতে পারে, তবে এখনো কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। এর পাশাপাশি, ইরান সরকার তাদের সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান নিয়ে প্রাথমিকভাবে কোনো বিশেষ প্রতিক্রিয়া দেয়নি। এ ঘটনার পর বিশ্বের নজর তেহরানে, এবং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।
* কোটি টাকার সমবায় ব্যাংকের জমি দখল! বরিশালে উপ-নিবন্ধক মোস্তফার বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ * নেপথ্যে উপ-নিবন্ধক মোহাম্মদ মোস্তফা মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার এলাকায় বাড়ি হওয়ার সুবাদে দীর্ঘ সময় বরিশাল বিভাগীয় সমবায় অধিদপ্তরে কর্মরত রয়েছেন প্রভাবশালী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তফা।শেরে বাংলা আঞ্চলিক সমবায় ইনস্টিটিউটে দ্বায়িত্ব পালনের সময় ব্যাপক লুটপাট করেছেন।এছাড়া তার বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারীসহ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে । বরিশাল সমবায় ব্যাংকের জমি কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে ব্যক্তি মালিকানায় দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল বিভাগীয় সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক মোহাম্মদ মোস্তফার বিরুদ্ধে।বরিশালে সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের জমিতে স্থায়ী ভবন নির্মাণ করে চলছে ব্যবসা-বাণিজ্য। পুরো বিষয়টি অনিয়মের মাধ্যমে হয়েছে বলে দাবি উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার। তদন্ত শেষে অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে বলে জানান তিনি । ইতোমধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপক্ষে তার একাধিক পোস্ট ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। সম্প্রতি ঐ কর্মকর্তার শাস্তির দাবীতে প্রধান উপদেষ্টা, সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন সমবায় ব্যাংকের সাবেক সদস্যরা। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘ সময় বরিশালে কর্মরত আছেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে অধীনস্থদের বদলির ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। আরও পড়ুন: বরিশাল সমবায় ব্যাংক নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে যমুনা টেলিভিশন ও এখন টিভি অভিযোগে বলা হয়, বরিশাল শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক সমবায় ব্যাংকের সম্পত্তি নাজেমস বিরিয়ানীর মালিক ফরিদুর রহমান রেজার কাছে প্রায় ৯০ লাখ টাকার বিনিময়ে জাল কাগজপত্র তৈরি করে হস্তান্তর করা হয়।বর্তমানে সেখানে তিনতলা রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে।এ বিষয়ে সমবায় ব্যাংকের সাবেক পরিচালক হোসেন জোমাদ্দার বলেন, ‘আমরা লিখিত অভিযোগ করেও কোনো ব্যবস্থা পাইনি। অভিযোগ প্রসঙ্গে উপনিবন্ধক মোহাম্মদ মোস্তফা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, তৎকালীন বরিশাল সিটি মেয়র সাদেক আব্দুল্লাহর চাপে ভবন নির্মাণের বাধ্য করেছিলেন। স্বৈরশাসক আওয়ামীলীগ এখন ক্ষমতা নেই তবে কেন সমবায় ব্যাংকের সম্পত্তি ফিরিয়ে আনছেন না? তখন তিনি ফোন কেটে দেন।এদিকে সমবায় ব্যাংকের সম্পত্তি দখল করে রাখা হয়েছে, যা ফিরিয়ে আনার দাবি জোরদার করেছেন বরিশালের সর্বস্তরের মানুষ । দখলে সমবায় কর্মকর্তারা জড়িত: বরিশাল সমবায় ব্যাংকের জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে নাজেমস রেষ্টুরেন্ট।জমি সমবায় অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রনাধীন বরিশাল সমবায় ব্যাংকের। ৩২ শতাংশ জমির আংশিক দখল করে তিন তলা ভবন নির্মান করে নাজেমস বিরিয়ানী নামক রেস্তোঁরার মালিকের কাছে অর্ধকোটি টাকা জামানতে মাসিক ৪৫ হাজার টাকায় ভাড়া দেয়া হয়েছে। সমবায় অধিদপ্তরের নাকের ডগায় দখল হলেও তারা চিঠি চালাচালীতে ব্যস্ত।উদ্ধারে নেই কোন তৎপরতা ।একসময়, উদ্যোক্তা ও কৃষক পর্যায়ে ঋণ দেয়া ‘বরিশাল সমবায় ব্যাংক’ ২৩ বছর ধরে বন্ধ। ব্যাংকটির জমি ও ভবন দখলে বরিশাল বিভাগীয় সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক মোহাম্মদ মোস্তফা,সমবায় অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় অফিসের সাবেক উপ-নিবন্ধক (বিচার) মোঃ রবিউল ইসলাম,বরিশাল জেলা সমবায় অফিসের সাবেক জেলা সমবায় অফিসার প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জী,সমবায় কর্মকর্তা মাহফুজ ও মোঃ আমিনুল ইসলামের যোগসাজসে এ জমিতে ভবন নির্মান করা হয়।সুত্র জানায় দখলে সহযোগীতা করায় সমবায় কর্মকর্তারা পেয়েছেন প্রায় ঘুষ । তদন্ত প্রতিবেদন, দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নেয়নি সমবায় অধিদপ্তর: সমবায় ব্যাংক বরিশালের অবস্থা সম্পর্কে বরিশাল সদর উপজেলা সমবায় অফিসার লতিফা আকতার একটি তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন।তদন্ত প্রতিবেদনটি শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিকট পাঠানো হয়।তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি সমবায় অধিদপ্তর। ,বরিশাল বিভাগীয় সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক মোহাম্মদ মোস্তফার অদৃশ্য ইশারায় বেদখল হওয়া সমবায় ব্যাংক বরিশালের বত্রিশ শতাংশ জমি ও ভবন উদ্ধারে দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নেয়নি সমবায় অধিদপ্তর,বরিশাল বিভাগীয় ,জেলা ও উপজেলা সমবায় অফিস।সমবায় ব্যাংকের জমিতে নতুন ভবন নির্মানে সমবায় অধিদপ্তরের কোন অনুমোদন নেই। এ ছাড়া সমবায় ব্যাংকের জমিতে নতুন ভবনে রেস্তোঁরা ভাড়ার বিষয় সমবায় অধিদপ্তর এর কোন অনুমোদন নেই। রক্ষণাবেক্ষণে নেই কোন কমিটি : বরিশালে ১৯১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সমবায় ব্যাংক। এই ব্যাংকটির নিজস্ব জমির পরিমাণ প্রায় ৩৬ শতাংশ। প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যদের কেউ এখন বেঁচে নেই। ২০০১ সাল থেকে সমবায় ব্যাংকের ঋণ দেয়াও বন্ধ। নেই কোনো কার্যক্রম। এতবড় একটি প্রতিষ্ঠানে হিসাবরক্ষক পদে একজন কর্মী ছাড়া আর কেউ নেই। অরক্ষিত এ সম্পদে অনেকেরই লোলুপদৃষ্টি। সমবায় ব্যাংকের হিসাবরক্ষক দেলোয়ার হোসেন বাবুল বলেন, ‘খুব বিপদের মধ্যে আছি। বিভিন্নভাবে আমাকে হেনস্তা করছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বগুড়া রোডে সমবায় ব্যাংকটির অবস্থান। এখানে ১১১ বছরের পুরাতন একটি দ্বিতল ভবন রয়েছে। কিন্তু এই সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণে নেই কোন কমিটি ও যোগ্য কর্মকর্তা। এই সুযোগে ব্যাংকের জমিতে স্থায়ী ভবন নির্মাণ করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে একটি পক্ষ। সবকিছু অনিয়মে করা হয়েছে বলে দাবি উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার। বরিশাল সদরের উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা লতিফা আক্তার বলেন, ‘সমবায় ব্যাংকের জমিতে যে ভবন করা হয়েছে তা সঠিক নিয়মে করা হয়নি। সব কিছুই অত্র কার্যালয়ের অগোচরে করা হয়েছে। ভবন ও জমি সরকারের,আয় ভারতীয় নাগরিক টুটুলের : বরিশাল সমবায় ব্যাংকের জমি সমবায়ের জেলা ও বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সহায়তায় ভারতীয় নাগরিক নিরব হোসেন টুটুল দখলে নিয়ে ভবন নির্মান করে ভাড়া দিয়েছেন নাজেমস বিরিয়ানী নামক একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে। জমি সমবায় অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রনাধীন বরিশাল সমবায় ব্যাংকের হলেও ভবনের ভাড়া থেকে বঞ্চিত সরকার।৩২ শতাংশ জমির আংশিক দখল করে তিন তলা ভবন নির্মান করে নাজেমস বিরিয়ানী নামক রেস্তোঁরার মালিকের কাছে প্রায় অর্ধকোটি টাকা জামানতে মাসিক ৪০ হাজার টাকায় ভাড়া দেয়া হয়েছে। ব্যাংকের পুরাতন ভবনকে নাজেমস প্রতিষ্ঠান রান্নাঘর হিসেবে ব্যবহার করছেন।সমবায় অধিদপ্তরের জেলা ও বিভাগের শীর্ষ কর্তাদের যোগসাজসে দখল হওয়ায় চিঠি আর তদন্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে বেদখল হওয়া সমবায় ব্যাংকের জমি ও ভবন উদ্ধারের কাজ। সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ, ছবি ,অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। ভিজিট করুন : http://www.etihad.news * অনলাইন নিউজ পোর্টাল ইত্তেহাদ নিউজে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায় ।
ভোলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন ওরফে রিজু ছাত্রজীবনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিস্ববিদ্যালয়ে(কুয়েট) ছাত্র লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। তিনি আবু সুফিয়ান মাহাবুব লিমন কমিটির ছাত্রলীগ ক্যাডার ছিলেন। যথারীতি ছাত্রলীগ পুনর্বাসনের বিশেষ বিসিএস ৩২ তম বিসিএস এ ২০০ নম্বরের পরীক্ষা দিয়ে ক্যাডার কর্মকর্তা বনে যান। বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নেতা হিসেবে প্রথম পোস্টিং পান ঢাকা ডিভিশন ১ এ সহকারী প্রকৌশলী হিসাবে। শংকর মালোর স্টাফ অফিসার হিসাবে ক্যারিয়ার শুরু করে আওয়ামী চেতনা বিক্রি করে তর তর করে কেবল উপরে উঠেছেন। এরপর একে একে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হিসাবে মিরপুর গণপূর্ত উপবিভাগ ১ এ পাচ বছর এবং ঢাকা গণপূর্ত উপবিভাগ-৬ এ সাড়ে চার বছর দুহাতে অবৈধ অর্থ কামিয়েছেন। এরপরে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে চলতি দ্বায়িত্ব পাবার পরে প্রথম পোষ্টিং পান গাজীপুরে। এই গাজীপুরে যেয়ে তিনি সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীরের সাথে সখ্যতস গড়ে তোলেন। জাহাঙ্গীরের আস্থা ভাজন লোকদের সাথে মিলে নিজের আপন ভাই সহ টেন্ডার বানিজ্য করে লূটপাটের সর্গরাজ্য বানিয়ে ফেলেন। সেই টাকা দিয়ে গাজীপুরে ভূমি দস্যু সিন্ডিকেটের সাথে যোগসাজসে রিসোর্ট কিনেছেন মর্মে জানা যায়। তিনি জাহাঙ্গীরগং অন্যের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী দখল করে বেনামে চালাচ্ছেন । ২০২৪ এর জুলাই গণুভ্যুত্থানে জাহাঙ্গীরের পৈশাচিক ভূমিকা কারো অজানা নয়। ছাত্র জনতা হত্যায় এই রিজু শুধু অর্থ ও জনবল দিয়ে সাহায্য করেনি বরং নিজে মাথায় লাল ফিতা বেধে মোটর সাইকেলে চড়ে উত্তরা এলাকায় সরাসরি ছাত্র-জনতার উপর গুলি চালিয়েছেন। তিনি জাহাঙ্গীরের সাথে প্রায়ই নারী বান্ধবী সহ ইন্টার কন্টিনেন্টালে লাঞ্চ করতেন। জুলাই গনুঅভ্যুত্থানের সময় তিনি জাহাঙ্গীর সহ উত্তরা ক্লাবে রাতের বেলা মদের পার্টিতে একাধিক বার গোপন বৈঠক করেছেন । ৫ আগষ্ট সরকার পতনের পরও সব কিছু সামলে নিয়েছিলেন রিজু। কিন্তু বিধিবাম। ছাত্র জনতার উপর গুলি চালানো এই সাবেক ছাত্রলীগের গুন্ডাকে সরাতে আইইবির বিএনপি পন্থী নেতারা এবং ততকালীন সমন্বয়করা প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করলে ৩ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে প্রধান প্রকৌশলী ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৩.২৪-১৪১৩ স্মারকে ভোলায় বদলী করতে বাধ্য হন। কথিত আছে বিভিন্ন সময়ে ঢাকায় বিএনপির জন সভা পন্ড করতে জাহাঙ্গীর বাহিনী যে রংকরা বাশ দিয়ে বেধড়ক পিটাতেন তা সাপ্লাই দিতেন আশ্রাফ উদ্দিন রিজু। আশরাফ গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগ থেকে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছর জুনে বিশ কোটি টাকা লোপাট করেছেন। সাবেক মন্ত্রী মোকতাদির চৌধুরীকে চার কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগে পোষ্টিং বাগিয়ে নিয়েছিলেন নেয়ার পর টাকার নেশায় দুর্নীতি ও অনিয়মের হোলি খেলায় নেমে ছিলেন। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে প্রধান প্রকৌশলীর প্রজ্ঞাপন অমান্য করে এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দিয়ে ২০% কমিশন নিয়ে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন। এখানেই আশরাফ অপকর্ম শেষ নয় তিনি তার আপন ভাই এর প্রতিষ্ঠান কে ছয় কোটি টাকার একটি কাজ পাইয়ে দেন যা পিপিআর ও পিপিএ পরিপন্থী কারন একজন TEC মেম্বার নিকট অত্মীয় টেন্ডার অংশ গ্রহন করার কোন সুযোগ নেই যা গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগের নথিপত্র ও ইজিপি পোর্টালে যাচাই করলে প্রমান পাওয়া যাবে। এই আশরাফ সাবেক মন্ত্রী মোকতাদির চৌধুরীর আস্থাভাজন হওয়ায় জুন মাসে তিন কোটি টাকার RFQ করে কাজ না করে কোটেশন আহবান করার পরদিন বিল পরিশোধ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কে ১০% লাভ দিয়ে পুরো টাকা হাতিয়ে নেন। আশরাফ অপকর্ম এখানেই থেমে থাকিনি উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও উপ-বিভাগীয় প্রকোশলীর দপ্তরের সাইন ও সিল মোহর ছাড়া ঠিকাদরী প্রতিষ্ঠান কে তিন কোটি টাকার বিল পরিশোধ করে ৩০% টাকা কমিশন নেন যা গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগের নথিপত্র যাচাই করলে প্রমান পাওয়া যাবে। আশরাফের বিরুদ্ধে উক্ত অভিযোগের বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরে তিন সদস্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে মোঃ আশিক আহমেদ শিবলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, প্রকিউরমেন্ট সেল, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা আরেক সদস্য হলেন মোঃ বদরুল আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, সাভার গণপূর্ত সার্কেল, ঢাকা ও সদস্য সচিব করা হয়েছে হাফসার মৌরি, নির্বাহী প্রকৌশলী, প্রকিউরমেন্ট সেল, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। প্রতিবেদক তদন্ত কমিটির আহবায়ক মোঃ আশিক শিবলী সাদিক কে মুঠোফোনে কল দিলে তিনি বলেন তদন্ত শেষ না হলে তদন্তের সার্থে কিছু বলা যাবে তবে এটুকু বলে যায় আশরাফ দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয় বেশ কিছু প্রমান পাওয়া গেছে খুব অল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিল করবো প্রধন প্রকৌশলীর নিকট এটুকু বলতে পারি। এ বিষয় অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফ বলেন নতুন ভাবে যিনি গেছেন তিনিও (শারমিন আখতার) ফ্যাসিস্টের দোসর। কিছু সাংবাদিকদের বলেন তার বাড়ি গোপালগঞ্জ, আপনারা তার বিরুদ্ধে লিখছেন না কেন, তার অনেক বিতর্কিত কর্মকান্ড রয়েছে, সেগুলো লিখছেন না কেন? আশরাফ, গতবছর গ্রেফতার হওয়া টেন্ডার মাফিয়া নূসরাত হোসেনের ঘনিষ্ট। এই নূসরাতের বন্ধু প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতার তাই তদন্ত প্রতিবেদন ধামাচাপা দিবেন তাতে সন্দেহ নেই। গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর আশীর্বাদপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তা ১২ বছরের চাকুরি জীবনে কখনও ঢাকার বাহিরে একদিনের জন্যও চাকুরি করেন নি। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, এই নিয়ে খুব গর্বও করতেন তিনি সহকর্মীদের সাথে। ভোলায় বদলী হবার পর অঢেল টাকা ঢেলে নিজেকে বিএনপি পন্থী , কখনবা এনসিপি পন্থী প্রমান করতে চাচ্ছেন। বাড়ি পঞ্চগড় এই সুত্র ধরে বিএনপির একজন অত্যন্ত প্রভাব শালী নেতার পিএস কে ধরে ঢাকায় ঢোকার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। তাতে কাজ না হলে আবার অন্য ডালে পা দেন। এনসিপির এক নেতাকে নির্বাচনে ডোনেশন দিয়ে তদবীর করান। কিন্তু উপদেষ্টার কার্যালয় ম্যানেজ না হওয়ায় তিনি সে যাত্রায় সফল হননি। এখন রিজু ফন্দি এটেছেন রাঙ্গামাটিতে ১১৫০ কোটি টাকার প্রকল্প পাস হয়েছে , সেখানে গিয়ে টেণ্ডার বানিজ্য করবেন। খুনি হাসিনার কুকর্মের সহযোগী এই কর্মকর্তার যেখানে জেলে থাকার কথা সেখানে তাকে আরো দুহাতে টাকা কামানোর সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে তার আপা দিল্লী দাসি হাসিনাকে হুন্ডিকরে ভারতে টাকা পাঠানোর জন্য? আমরা অবিলম্বে তার গাজীপুর এ সঙ্গঘটিত দূর্নীতি অনিয়মের তদন্ত প্রতিবেদন এর আলোকে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা দেখতে চাই। আই ওয়াশ বদলী কোন শাস্তি নয়। চাকুরি বিধিমালা ও প্রজাতন্ত্রের প্রচলিত আইনে তিনি দূর্নীতি ও কৃত ফৌজদারী অপরধের শাস্তি পেয়েছেন কিনা তা আমরা দেখতে চাই। যদি দুষ্টের দমন না হয় তবে সৎ ও ভালো কর্মকর্তা গন হতাশ হয়ে পড়বে, সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে , তখন এই আওয়ামী দালালরাই ‘মব, মব’ বলে মুখে ফেনা তুলবে।
বরিশাল অফিস : রীতিমতো গ্রাহকদের কৃষিঋণ বিতরণে পাল্লা দিয়ে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছেন ভোলার কালিনাথ রায়ের বাজার শাখা অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির ম্যানেজার। এক ব্যক্তিকে একাধিক বার ঋণ প্রদান, একই এনআইডি কার্ডে দুজন বা তিনজনকে ঋণ বিতরণ, প্রতিবারই ঋণ দেওয়ার নামে ১০% কমিশন গ্রহণ ছাড়াও ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রেও চরম জালিয়াতি স্পষ্ট হয়েছে কালিনাথ রায়ের বাজার শাখার অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এমনকি তাদের এই নিয়মবহির্ভূতভাবে ঋণ বিতরণের প্রমাণ পেয়েছেন উর্ধতন কর্মকর্তারাও। ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা ব্যাংকের অনুমোদন প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে। সূত্র মতে, কালিনাথ রায়ের বাজার শাখার আমানতের পরিমাণ মাত্র ১৫ কোটি টাকা। যা থেকে তাদের সর্বোচ্চ ৮০% ঋণ দেয়ার অনুমোদন রয়েছে। সে অনুযায়ী তাদের ঋণ বিতরণ সক্ষমতা দাড়ায় ১২ কোটি টাকা। অথচ তারা ঋণ বিতরণ করেছে ৫২ কোটি টাকা। যা আমানতের প্রায় ৩৫৭% । এ বিষয়টি গভীরভাবে অনুসন্ধানের দাবি স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকদের। কোনোরকম পুরাতন ঋণ আদায় না করেই ইউনিয়ন ভিত্তিক দালালদের মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা নতুন ঋণ বিতরণের প্রক্রিয়া চলছে এই শাখায়। আর এই ঋণ বিতরণে জড়িত রয়েছেন বেশ কয়েকজন বহিরাগত এজেন্ট বা দালাল। এদের মধ্যে ভেদুরিয়াতে সিদ্দিকুর রহমান, পাতা ভেদুরিয়াতে ইউসুফ, চরকালিতে জাহানারা বেগম নামের দালালের মাধ্যমে ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকার নতুন করে ঋণ বিতরণ চলছে। কৃষক ছাড়াই কৃষি ঋণ বিতরণ অভিযোগ রয়েছে, ঋণগ্রহীতাদের কোনোরকম যাচাই-বাছাই, অনুমোদন, ফাইল প্রক্রিয়া এবং মাঠ পর্যায়ের পরিদর্শন ছাড়াই “ম্যানুয়াল তালিকা” ও ব্যক্তিগত পরিচয়ে ঋণ অনুমোদন করা হচ্ছে। প্রতিটি ঋণ হতে ৫ হাজার টাকা উৎকোচ বাবদ রাখা হয়। যা থেকে শাখা ব্যবস্থাপক ৩ হাজার টাকা নিয়ে- ১ হাজার টাকা করে জোনাল অফিসে প্রদান করেন। বাকী ২০০০ টাকা করে ফাইল প্রতি দেয়া হয় দালালদের। অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি কালীনাথ রায়ের বাজার শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, মাঠপর্যায়ে ঋণ বিতরণে যুক্ত আছেন ছিদ্দিকুর রহমান, মোঃ ইউসুফ, জাহানারা বেগম, মোঃ মিজানুর রহমান, সুমী নন্দী, আব্দুল মালেক কবিরাজ। যাঁরা “ফিল্ড রিপ্রেজেন্টেটিভ” বা “ঋণ সংগ্রাহক” হিসেবে কাজ করছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাদের কেউই অগ্রণী ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী নন। স্থানীয় সূত্র জানায়, এসব ব্যক্তি ঋণ বিতরণ ও সংগ্রহের নাম করে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন এবং ব্যাংকের অফিসিয়াল রেকর্ড ছাড়াই লেনদেন করছেন। এতে প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন, আর কিছু মধ্যস্বত্বভোগী লাভবান হচ্ছেন। আবার বাণিজ্যিক ঋণ বিতরণ ব্যবস্থা থাকলেও এই শাখা থেকে সবসময় ‘কৃষক নন’ এমন ব্যক্তিদেরকেই কৃষিঋণ প্রদান করা হচ্ছে। বিগত তিনটি বছর ধরে এভাবেই ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন শাখা ব্যবস্থাপক খায়রুল বাশার পাভেল। বিনিময়ে ১০% কমিশন নিয়ে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন তিনি। একইসাথে অগ্রণী ব্যাংক কালিনাথ রায়ের বাজার শাখাটি চূড়ান্তভাবে ধ্বংস করছেন। ভোলা জোনাল অফিসের সহকারী ব্যবস্থাপক গণেশ চন্দ্র দেবনাথকে ম্যানেজ করেই খায়রুল বাশার বিগত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে অবাধে দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও বরিশাল সার্কেল অফিসে তার নিজস্ব লোকজন রয়েছে- যারা কৃষি ঋণের উৎকোচের টাকা মাসিক হিসাবে ভাগ পান। যার ফলে খায়রুল বাশার ধরাকে সরা জ্ঞান করেন বলে জানিয়েছেন কালিনাথ বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী। তারা বলেন, শুধুমাত্র গত আগস্টেই ভেদুরিয়াতে ১০ লক্ষ ও বাপ্তাতে ৯ লক্ষ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। ঋণগুলো বিতরণে শুরু থেকে শেষ অবধি দুইজন মাঠকর্মী ম্যানেজারের নির্দেশে দালালদেরকে সহযোগিতা করেন। ফাইল রেডি থেকে টাকা ভাগ বাটোয়ারা পর্যন্ত ভেদুরিয়াতে দালালদের পাশাপাশি মাঠকর্মী মাকসুদুর রহমান ও বাপ্তাতে সাইমুন জড়িত। তারা নিজেরা মাঠে গিয়ে লোন আদায়ের কথা থাকলেও, ম্যানেজারের নির্দেশে দালালদের সাথে নিয়ে মাঠে যান। নির্ধারিত এলাকার বাইরেও ঋণ বিতরণ শুধু তাই নয়, অগ্রণী ব্যাংক ভোলা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক গণেশ চন্দ্র দেবনাথ স্বাক্ষরিত বরাদ্ধপত্র সূত্রে জানা জায়, অগ্রণী ব্যাংক কালীনাথ রায়ের বাজার শাখার ঋণ বিতরণ এলাকা হচ্ছে- বাপ্তা, ভেদুরিয়া ও ভেলুমিয়া ইউনিয়ন। কিন্তু নির্ধারিত এলাকায় ঋণ না দিয়ে অনেক ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে ভোলা পৌরসভাসহ অন্যান্য এলাকায়। যার বেশ কিছু তথ্য এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে ভোলা পৌরসভার পৌরনবীপুর এলাকার বাসিন্দা রিপনচন্দ্র মজুমদারকে ৪৫ হাজার টাকা কৃষি ঋণ দেয়া হয়েছে, তার অ্যাকাউন্ট নম্বর ০২০০০২১৭২১৭৩৫। ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি ভোলা পৌরসভার তিনখাম্বা শিকদার বাড়ির বাসিন্দা সেলিনা বেগমকে (অ্যাকাউন্ট নম্বর ০২০০০২৩২৭৫৫৬৮১) ৬৮ হাজার এবং একই বাড়ির আবদুর রহিম শিকদারকে (অ্যাকাউন্ট নম্বর ০২০০০২২৬৫০৯৫২) ৫৮ হাজার টাকা কৃষি ঋণ প্রদান করা হয়। জানা গেছে, এদের কেউই কৃষক নন। এধরণের অনেকের তথ্য প্রতিবেদকের সংগ্রহে রয়েছে। দুর্নীতি ঢাকতে ফাইল মিসিং অগ্রণী ব্যাংক ভোলা জোনাল অফিসের পক্ষ থেকে কালীনাথ রায়ের বাজার শাখার বিভিন্ন অনিয়ম বিষয়ে ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই তারিখে পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- এই শাখার আওতাধীন বাপ্তা ইউনিয়নের ১৯টি কৃষি ঋণের ফাইল মিসিং হয়েছে। এ বিষয়ে ফাইলগুলোর তথ্য জোনাল অফিসে জানাতে বলা হলেও তা এখন পর্যন্ত জানানো হয়নি। এদিকে এই প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে দেখা দেখা গেছে, ভেদুরিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি এবং বাপ্তা ইউনিয়নের আরো প্রায় শতাধিক কৃষি ঋণের ফাইল মিসিং রয়েছে। এই ফাইলগুলোর ঋণ বিতরণ সম্পর্কে তথ্য গোপন করতেই তা দালালদের মাধ্যমে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংক কালীনাথ রায়ের বাজার শাখা ব্যবস্থাপক খায়রুল বাশার পাভেল বলেন, “এ জাতীয় অভিযোগ তিন বছর আগে ছিলো। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তদন্ত করে ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছে। আমি দায়িত্ব পালন করছি তিন বছর, এরমধ্যে কোনো অনিয়ম হয়নি। একই ব্যক্তির একাধিক লোন বা এজাতীয় অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট। তবে গরীব কৃষক লোন পরিশোধ করতে না পারলে তাকে ঐ ঋণই পুনরায় ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান খায়রুল বাশার পাভেল। অগ্রণী ব্যাংক ভোলা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক গণেশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, এজাতীয় কোন অভিযোগ আমি এখন পর্যন্ত পাইনি। পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া নেয়া হবে। তবে তিনি স্বীকার করেন নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে কৃষি ঋণ বিতরণের কোন সুযোগ নেই। চাহিদার অতিরিক্ত ঋণ বিতরণ সম্পর্কে সহকারী ব্যবস্থাপক বলেন, পূর্বের ঋণসহ ৫২ কোটি টাকা স্থিতি হয়েছে এই শাখার। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া টার্গেট পূরণ করতে এমনটি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এবিষয়ে জানতে অগ্রণী ব্যাংক বরিশাল সার্কেলের জি.এম জাহিদ ইকবাল জানান, তিনি ভোলার কালীনাথ রায়ের বাজার অগ্রণী ব্যাংক ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের একটি অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।