Brand logo light
অনুসন্ধানী সংবাদ

বরিশাল সমবায় ব্যাংকের ত্রিশ কোটি টাকার সম্পদ বেদখল: উদ্ধারে নেই কোন তৎপরতা

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
বরিশাল সমবায় ব্যাংকের ত্রিশ কোটি টাকার সম্পদ বেদখল
বরিশাল সমবায় ব্যাংকের ত্রিশ কোটি টাকার সম্পদ বেদখল

* কোটি টাকার সমবায় ব্যাংকের জমি দখল! বরিশালে উপ-নিবন্ধক মোস্তফার বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ

* নেপথ্যে উপ-নিবন্ধক মোহাম্মদ মোস্তফা

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল:  সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার এলাকায় বাড়ি হওয়ার সুবাদে দীর্ঘ সময় বরিশাল বিভাগীয় সমবায় অধিদপ্তরে কর্মরত রয়েছেন প্রভাবশালী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তফা।শেরে বাংলা আঞ্চলিক সমবায় ইনস্টিটিউটে দ্বায়িত্ব পালনের সময় ব্যাপক লুটপাট করেছেন।এছাড়া তার বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারীসহ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে ।

689448c7c5d73145244479

বরিশাল সমবায় ব্যাংকের জমি কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে ব্যক্তি মালিকানায় দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল বিভাগীয় সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক মোহাম্মদ মোস্তফার বিরুদ্ধে।বরিশালে সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের জমিতে স্থায়ী ভবন নির্মাণ করে চলছে ব্যবসা-বাণিজ্য। পুরো বিষয়টি অনিয়মের মাধ্যমে হয়েছে বলে দাবি উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার। তদন্ত শেষে অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে বলে জানান তিনি ।

ইতোমধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপক্ষে তার একাধিক পোস্ট ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। সম্প্রতি ঐ কর্মকর্তার শাস্তির দাবীতে প্রধান উপদেষ্টা, সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন সমবায় ব্যাংকের সাবেক সদস্যরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘ সময়  বরিশালে কর্মরত আছেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে অধীনস্থদের বদলির ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

আরও পড়ুন:

বরিশাল সমবায় ব্যাংক নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে যমুনা টেলিভিশন ও এখন টিভি

 

অভিযোগে বলা হয়, বরিশাল শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক সমবায় ব্যাংকের সম্পত্তি নাজেমস বিরিয়ানীর মালিক ফরিদুর রহমান রেজার কাছে প্রায় ৯০ লাখ টাকার বিনিময়ে জাল কাগজপত্র তৈরি করে হস্তান্তর করা হয়।বর্তমানে সেখানে তিনতলা  রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে।এ বিষয়ে সমবায় ব্যাংকের সাবেক পরিচালক হোসেন জোমাদ্দার বলেন, ‘আমরা লিখিত অভিযোগ করেও কোনো ব্যবস্থা পাইনি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে উপনিবন্ধক মোহাম্মদ মোস্তফা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, তৎকালীন বরিশাল সিটি মেয়র সাদেক আব্দুল্লাহর চাপে  ভবন নির্মাণের বাধ্য করেছিলেন। স্বৈরশাসক আওয়ামীলীগ এখন ক্ষমতা নেই তবে কেন সমবায় ব্যাংকের সম্পত্তি ফিরিয়ে আনছেন না? তখন তিনি ফোন কেটে দেন।এদিকে  সমবায় ব্যাংকের  সম্পত্তি দখল করে রাখা হয়েছে, যা ফিরিয়ে আনার দাবি জোরদার করেছেন বরিশালের সর্বস্তরের মানুষ ।

barisal bank 768x402 1 1024x323 1

দখলে সমবায় কর্মকর্তারা জড়িত:

বরিশাল সমবায় ব্যাংকের জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে নাজেমস রেষ্টুরেন্ট।জমি সমবায় অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রনাধীন বরিশাল সমবায় ব্যাংকের। ৩২ শতাংশ জমির আংশিক দখল করে তিন তলা ভবন নির্মান করে নাজেমস বিরিয়ানী নামক রেস্তোঁরার মালিকের কাছে অর্ধকোটি টাকা জামানতে মাসিক ৪৫ হাজার টাকায় ভাড়া দেয়া হয়েছে। সমবায় অধিদপ্তরের নাকের ডগায় দখল হলেও তারা চিঠি চালাচালীতে ব্যস্ত।উদ্ধারে নেই কোন তৎপরতা ।একসময়, উদ্যোক্তা ও কৃষক পর্যায়ে ঋণ দেয়া ‘বরিশাল সমবায় ব্যাংক’ ২৩ বছর ধরে বন্ধ।

ব্যাংকটির জমি ও ভবন দখলে বরিশাল বিভাগীয় সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক মোহাম্মদ মোস্তফা,সমবায় অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় অফিসের সাবেক উপ-নিবন্ধক (বিচার) মোঃ রবিউল ইসলাম,বরিশাল জেলা সমবায় অফিসের সাবেক জেলা সমবায় অফিসার প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জী,সমবায় কর্মকর্তা মাহফুজ ও মোঃ আমিনুল ইসলামের যোগসাজসে এ জমিতে ভবন নির্মান করা হয়।সুত্র জানায় দখলে সহযোগীতা করায় সমবায় কর্মকর্তারা পেয়েছেন প্রায় ঘুষ ।

468368771 8690694300984780 5443077340312207794 n

তদন্ত  প্রতিবেদন, দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নেয়নি সমবায় অধিদপ্তর:

সমবায় ব্যাংক বরিশালের অবস্থা সম্পর্কে বরিশাল সদর উপজেলা সমবায় অফিসার লতিফা আকতার একটি তদন্ত  প্রতিবেদন দিয়েছেন।তদন্ত  প্রতিবেদনটি শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিকট পাঠানো হয়।তদন্ত  প্রতিবেদন অনুযায়ী এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি সমবায় অধিদপ্তর। ,বরিশাল বিভাগীয় সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক মোহাম্মদ মোস্তফার অদৃশ্য ইশারায় বেদখল হওয়া সমবায় ব্যাংক বরিশালের বত্রিশ শতাংশ জমি ও ভবন উদ্ধারে  দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নেয়নি সমবায় অধিদপ্তর,বরিশাল বিভাগীয় ,জেলা ও উপজেলা সমবায় অফিস।সমবায় ব্যাংকের জমিতে নতুন ভবন নির্মানে সমবায় অধিদপ্তরের কোন অনুমোদন নেই। এ ছাড়া সমবায় ব্যাংকের জমিতে নতুন ভবনে রেস্তোঁরা ভাড়ার বিষয় সমবায় অধিদপ্তর এর কোন অনুমোদন নেই।

barisal s bank

 

রক্ষণাবেক্ষণে নেই কোন কমিটি :

বরিশালে ১৯১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সমবায় ব্যাংক। এই ব্যাংকটির নিজস্ব জমির পরিমাণ প্রায় ৩৬ শতাংশ। প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যদের কেউ এখন বেঁচে নেই। ২০০১ সাল থেকে সমবায় ব্যাংকের ঋণ দেয়াও বন্ধ। নেই কোনো কার্যক্রম। এতবড় একটি প্রতিষ্ঠানে হিসাবরক্ষক পদে একজন কর্মী ছাড়া আর কেউ নেই। অরক্ষিত এ সম্পদে অনেকেরই লোলুপদৃষ্টি। সমবায় ব্যাংকের হিসাবরক্ষক দেলোয়ার হোসেন বাবুল বলেন, ‘খুব বিপদের মধ্যে আছি। বিভিন্নভাবে আমাকে হেনস্তা করছে।

নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বগুড়া রোডে সমবায় ব্যাংকটির অবস্থান। এখানে ১১১ বছরের পুরাতন একটি দ্বিতল ভবন রয়েছে। কিন্তু এই সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণে নেই কোন কমিটি ও যোগ্য কর্মকর্তা। এই সুযোগে ব্যাংকের জমিতে স্থায়ী ভবন নির্মাণ করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে একটি পক্ষ। সবকিছু অনিয়মে করা হয়েছে বলে দাবি উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার। বরিশাল সদরের উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা লতিফা আক্তার বলেন, ‘সমবায় ব্যাংকের জমিতে যে ভবন করা হয়েছে তা সঠিক নিয়মে করা হয়নি। সব কিছুই অত্র কার্যালয়ের অগোচরে করা হয়েছে।

467966872 8676595882394622 2536837733192557131 n

ভবন ও জমি সরকারের,আয় ভারতীয় নাগরিক টুটুলের :

বরিশাল সমবায় ব্যাংকের জমি সমবায়ের জেলা ও বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সহায়তায় ভারতীয় নাগরিক নিরব হোসেন টুটুল দখলে নিয়ে ভবন নির্মান করে ভাড়া দিয়েছেন নাজেমস বিরিয়ানী নামক একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে। জমি সমবায় অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রনাধীন বরিশাল সমবায় ব্যাংকের হলেও ভবনের ভাড়া থেকে বঞ্চিত সরকার।৩২ শতাংশ জমির আংশিক দখল করে তিন তলা ভবন নির্মান করে নাজেমস বিরিয়ানী নামক রেস্তোঁরার মালিকের কাছে প্রায় অর্ধকোটি টাকা জামানতে মাসিক ৪০ হাজার টাকায় ভাড়া দেয়া হয়েছে।

468355483 8676574565730087 6061119607239417377 n

ব্যাংকের পুরাতন ভবনকে নাজেমস প্রতিষ্ঠান রান্নাঘর হিসেবে ব্যবহার করছেন।সমবায় অধিদপ্তরের জেলা ও বিভাগের শীর্ষ কর্তাদের যোগসাজসে দখল হওয়ায় চিঠি আর তদন্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে বেদখল হওয়া সমবায় ব্যাংকের জমি ও ভবন উদ্ধারের কাজ।

 

সর্বশেষ  গুরুত্বপূর্ণ  সব  সংবাদ, ছবি ,অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও লেখা পেতে

আমাদের  ফেসবুক পেইজে  লাইক  দিয়ে  অ্যাকটিভ  থাকুন।  ভিজিট করুন : http://www.etihad.news

 

* অনলাইন  নিউজ পোর্টাল  ইত্তেহাদ নিউজে  লিখতে  পারেন  আপনিও।

লেখার বিষয়  ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন  [email protected] ঠিকানায় ।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

অনুসন্ধানী সংবাদ

View more
বিএডিসি’র প্রকল্প পরিচালক মুজিবর
বিএডিসি’র প্রকল্প পরিচালক মুজিবরের দুনীতি,সার গুদাম প্রকল্পে ৩৫০ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) অধিনে স্বৈরাচারী পতিত লীগ সরকারের দোসর প্রকল্প পরিচালক মুজিবুর রহমানের বেপরোয়া ঘুষ দুনীতি কারণে প্রকল্পের আওতায় সকল কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু মাত্র পিডির আর্থিক অনিয়ম দুনীতি কারণে। সুত্রে আরও যানা যায়, লীগ সরকারের আমলে দাপট দেখিয়ে সাবেক কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এর ছত্র ছায়ায় প্রকল্প পরিচালক পদটি বাগীয়ে নেন, মহা ধুত্যবাজ এই কর্মকর্তা। প্রকল্পের পিডির দায়িত্ব পেয়ে গড়ে তুলেছিলেন সু বিশাল ঠীকাদার সিন্ডিকেট বাহীনি, সেই সিন্ডিকেট বাহীনি দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে, গোপন দর প্রদান করেন ঠিকাদার দের কাজ পাইয়ে দিতেন তিনি। বিনিময়ে উক্ত কার্যাদেশ বিপরীতে অগ্রীম ১০% হারে কমিশন বানিজ্য চালিয়ে গেছেন পিডি মুজিবর। মিস্টার ১০% নামে পরিচিত বিএডিসি র” সাধারণ ঠিকাদার দের নিকট পিডি মুজিবের নাম। প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন নির্মাণ কাজের দরপত্রের মাধ্যমে ঘুপচি টেন্ডারের কারসাজি করে বেপরোয়া হয়ে ঘুষ বানিজ্য চালিয়ে গেছেন পিডি মুজিবর রহমান খান। অনেক জায়গায় নাম মাত্র কাজ করে সমূদয় টাকা আত্মসাৎ করছেন বলে একাধিক সুত্রে যানা যায়। সুত্রে আরও জানা যায়, বিএডিসি’র বিদ্যমান সার গুদামসমূহের রক্ষণাবেক্ষণ,পূর্নবাসন এবং নতুন গুদাম নির্মাণের মাধ্যমে সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদারকরণ প্রকল্প (২য় পর্যায়) বিএডিসি’র “বিদ্যমান সার গুদামসমূহের রক্ষণাবেক্ষণ, পুনর্বাসন এবং নতুন গুদাম নির্মাণের মাধ্যমে সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদারকরণ” প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) মো. মজিবর রহমান খানের বেপরোয়া দুনীতি চালিয়ে গেছেন দেদারসে। রাত কে দিন আর দিন কে রাত বানানোই ছিল তাঁর কাজ। নিজের আখের গুছিয়ে লাগামহীন দুনীতি মাধ্যমে প্রকল্পের থেকে । প্রকল্পের বিবরণ ও তথ্য: অনুযায়ী উক্ত প্রকল্পেটি শুরু হয়েছিল জুলাই ২০১৯ থেকে জুন ২০২৬ সালে শেষে হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্পের পিডি মুজিবরের অদক্ষতা কারণে পুরোপুরি ১০০% শেষ হয়নি আজ-ও পযন্ত বলে একাধিক কর্মকর্তারা জানান। প্রকল্পের মোট বরাদ্ধ: প্রায় ৩৫০.৮৮ কোটি টাকা বরাদ্ধ থাকলেও সিংহ ভাগ টাকা পিডির পকেটে গেছেন অতি নিম্নমানের সংস্কার মেরামত কাজ না করে,যা সরেজমিনে তদন্ত করলে থলের বিরাল বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন বিএডিসির সাধারণ কর্মকর্তারা। সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল – সার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ কার্যক্রম জোরদারকরণের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষির সামগ্রিক উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন। গুদাম নির্মাণের মাধ্যমে বিএডিসি’র সার ব্যবস্থাপনা বিভাগের নন-নাইট্রোজেনাস সার সংরক্ষণ ক্ষমতা বর্তমান পর্যায়ের চেয়ে ৫০% বৃদ্ধির মাধ্যমে সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদারকরণ। সুষ্ঠুভাবে ও সময়মত প্রান্তিক কৃষকের দোর গোড়ায় সার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং গুদাম, অফিস রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সরবরাহের মাধ্যমে সার ব্যবস্থাপনা বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। প্রকল্পের আওতায় সকল উন্নয়ন মুলক কার্যক্রম দৃশ্যমান না হলেও পিডি মুজিবের আর্থিক সুবিধা নেওয়ার কারণে ডুবতে বসেছে প্রকল্পের উন্নয়ন মুলক কর্মকাণ্ড। মহা ঘুষখোর দুর্নীতি পরায়ন লীগের দোসর প্রকল্প পরিচালক মো. মজিবর রহমান খানের বিরুদ্ধে বেপরোয়া হয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও সাবেক কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এর ছোট ছেলের মাধ্যমে সেই সকল অভিযোগ আজও পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। দুনীতির মাধ্যমে অঢেল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থাকলেও বিএডিসির কতৃপক্ষের নিরবতা ও অদৃশ্য শক্তি কারণে এখনো বহাল তরিয়াতে আছেন তিনি। রাতা রাতি ভোলপাল্টে বর্তমানে বিএনপি পন্থাী দাবি করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন দেদারসে বিএডিসিতে। বিএডিসির সারা দেশে সার ব্যবস্থাপনা জোরদারকরণ এবং কৃষকের দোরগোড়ায় সার পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বিদ্যমান গুদাম সংস্কার ও নতুন গুদাম নির্মাণের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও পিডির আর্থিক দুনীতির কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছে প্রকল্পের আওতায় সকল উন্নয়ন মুলক কর্মকাণ্ড। প্রকল্পের আওতায় যেসকল স্হানে নতুন গুদাম নির্মাণ এবং পুরোনো গুদাম সংস্কারের কাজ, যে সকল জেলায় সম্পন্ন হয়েছে রয়েছে। নির্মাণ সংস্কারের কাজে ব্যাপক কারচুপির হয়েছে বলে সুত্রে যানা গেছে। বিএডিসির সার গুদাম নির্মাণ ও সংস্কার কাজ যেসকল জেলায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি জেলা হলো:রংপুর: রংপুরের আলম নগরে নতুন গুদাম নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে সেটিও ডিপিপির বাইরে হয়েছে। দিনাজপুর: জেলার বিরামপুর উপজেলায় ৭২০০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার সার গুদাম ও অফিস ভবন নির্মাণ করা হয়েছে অতি নিম্নমানের। ঠাকুরগাঁও: এখানে আধুনিক সার গুদাম নির্মাণ ও কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।সিরাজগঞ্জ: রায়গঞ্জে সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক সার গুদাম নির্মাণ করা হয়েছে দরপত্রে চাহিদা মাফিক হয়নী সেখানেও দুনীতির আশ্রয় নেয়য়া হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা: বিএডিসি প্রাঙ্গণে আড়াই হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার নতুন গুদাম নির্মাণ করা হয়েছে সেটা ও একইভাবে অতি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে নিজের আখের গুছিয়ে লাগামহীন দুনীতি মাধ্যমে প্রকল্পের থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ: এই দুই জেলায় সার মজুতের জন্য নতুন দুটি গুদাম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।মানিকগঞ্জ: বৃহত্তর ঢাকা সেচ এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নানা অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয়েছে? সকল জায়গাতে দুনীতির আশ্রয় নেয় হয়েছে। বিএডিসি ঐ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশকে ২১টি অঞ্চলে বিভক্ত করে সার গুদাম রক্ষণাবেক্ষণ ও নতুন গুদাম নির্মাণের আর্থিক দুনীতি করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। উল্লেখীত যেসকল স্হানে নির্মাণ সংস্কার মেরামত করা হয়েছে পিডি তাঁর মনোনীত ঠিকাদার দের গোপন দর প্রদান করে। সেই সকল ঠিকাদার দের মাধ্যমে কমিশন বানিজ্য করে হাতিয়ে নিচ্ছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ বলে জানান একাধিক কর্মকর্তারা। এই ভাবে প্রকল্প থেকে লুটপাটের মহোৎসব চালিয়েছেন মহা ঘুষখোর দুর্নীতি পরায়ন লীগের দোসর পিডি মুজিবর রহমান খান।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৩, ২০২৬ 0

পিরোজপুর এলজিইডির সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জিত দে'র বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার ভুয়া বিল ও দুর্নীতির অভিযোগ

সিলেট গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইলিয়াস আহম্মেদকে ঘিরে ঘুষ, অবৈধ সম্পদ ও অর্থপাচারের অভিযোগ

প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খান।

গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রকৌশলী বদরুল আলম খানকে ঘিরে ক্ষমতার প্রভাব, বদলি ও টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ

কাজী ওয়াছি উদ্দিন
গুলশানের ৩০০ কোটি টাকার সরকারি প্লট: ৪৭ বছরের পুরোনো রায়, হারানো নথি ও রহস্যজনক সিদ্ধান্তের অনুসন্ধান

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সরকারি জমি বা প্লটসংক্রান্ত মামলায় রাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের একটি প্রচলিত অবস্থান হলো—সরকারি স্বার্থ রক্ষায় মামলাটি আদালতের সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত পরিচালনা করা। নিম্ন আদালত বা হাইকোর্টে সরকার পরাজিত হলে আপিল এবং প্রয়োজন হলে আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধেও রিভিউ আবেদন করা হয়ে থাকে। অতীতে রাজউক ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একাধিক মামলায় এমন নজিরও রয়েছে, যেখানে আদালতের চূড়ান্ত রায়ের পরও সরকারি সংস্থাগুলো সম্পত্তির দখল ছাড়েনি এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মালিকানা বা হস্তান্তর নিয়ে নতুন বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু গুলশানের সিইএন (সি) ব্লকের ৯৮ নম্বর সড়কের ৬ নম্বর প্লটের ক্ষেত্রে পাওয়া সরকারি নথিপত্র একটি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৭৬ সালে হাইকোর্টের একটি রিট মামলায় সরকারের বিপক্ষে রায় হওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষ আর কোনো আপিল করেনি। অথচ সরকারি সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলায় এটি ছিল একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। প্রশ্ন উঠেছে—কেন ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়নি? ১৯৭২ সালের গেজেট বনাম ১৯৭৬ সালের রায় সরকারি নথি অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির আদেশ (পি.ও-১৬/৭২) অনুসারে ১৯৭২ সালে প্লটটি পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়। পরে ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩ সালে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আদেশে এটি পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু একই সময় দায়ের হওয়া রিট পিটিশন নং-২৫১/১৯৭৩-এর রায়ে ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬ সালে হাইকোর্ট মন্তব্য করেন যে সংশ্লিষ্ট প্লটটি পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত নয়। মন্ত্রণালয়ের নথি বিশ্লেষণে অভিযোগ করা হয়েছে, ওই মামলায় সরকার পক্ষ পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে গেজেট প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ নথি আদালতে উপস্থাপন করেনি। ফলে রায় সরকারের বিপক্ষে যায়। এরপরও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল না করায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। রায়ের পরও কেন হয়নি বাস্তবায়নের আবেদন? নথি অনুযায়ী, হাইকোর্টের রায় পাওয়ার পর মামলার বাদীও প্লটের দখল বুঝে নিতে আদালতের দ্বারস্থ হননি। আদালত অবমাননার (Contempt) আবেদন কিংবা রায় বাস্তবায়নের জন্যও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্টদের একটি অংশের দাবি, পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় গেলে সরকারি গেজেটসহ অন্যান্য নথি আদালতের সামনে আসার সম্ভাবনা ছিল। এ কারণেই আদালতের বাইরে প্রশাসনিক পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালে নতুন মোড় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুনে তৎকালীন সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্লটটি বেসরকারি মালিকানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সিদ্ধান্তের আগে বিষয়টি তৎকালীন প্রতিমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়নি। এমনকি প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল বলেও সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরে আলোচনা শুরু হয় এবং সংশ্লিষ্ট নথি খুঁজে না পাওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরে সেটি সচিবের সংরক্ষিত আলমারি থেকে উদ্ধার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। হারিয়ে যাওয়া একটি চিঠি অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, ২০১০ সালে রাজউকের তৎকালীন সচিব মোহাম্মদ মোস্তফার স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে প্লটটিকে পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। চিঠিটি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল এবং নথিতে সংরক্ষিতও ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীকালে সেই চিঠি নথি থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান মূল্য ৩০০ কোটি টাকার বেশি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বর্তমান বাজারমূল্যে প্লটটির মূল্য ৩০০ কোটি টাকারও বেশি। অভিযোগকারীদের মতে, এত উচ্চমূল্যের সম্পত্তিকে পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকায় নেই—এমন যুক্তি দেখিয়ে বেসরকারি মালিকানায় দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়, যদিও সরকারি বিভিন্ন নথিতে এর বিপরীত তথ্য রয়েছে। যেসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি এই পুরো ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— ১৯৭৬ সালের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার কেন আপিল করেনি? পরিত্যক্ত সম্পত্তির গেজেট আদালতে কেন উপস্থাপন করা হয়নি? ২০১০ সালের রাজউকের চিঠি নথি থেকে কীভাবে হারিয়ে গেল? ২০২৩ সালের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রচলিত অনুমোদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি? সরকারি সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কোনো স্বাধীন তদন্ত হয়েছে কি? ভারসাম্যের স্বার্থে এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট সূত্র ও অভিযোগকারী পক্ষের দাবির ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযোজন করলে প্রতিবেদনটি আরও পূর্ণাঙ্গ হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৮, ২০২৬ 0

রাজশাহীর আরসি ফুড কায়ছার আলীকে খুঁজছেন খাদ্য কর্মকর্তারা, ঘুষের টাকা ফেরত চান

গৌরনদীতে খাল পুনঃখনন: অবৈধ স্থাপনা বহাল, সরকারি গাছ কাটার অভিযোগে প্রশ্নের মুখে প্রকল্প

অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় এলজিইডি বরিশাল বিভাগ বরিশাল

বরিশাল এলজিইডির নিয়ন্ত্রক বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নেতা রহমত-ই-খুদা!

সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) মো. সরোয়ার হোসেন
এনবিআর কর্মকর্তা সরোয়ার হোসেনকে ঘিরে অবৈধ সম্পদ, ঘুষ ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর অধীন কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) মো. সরোয়ার হোসেনকে ঘিরে সম্প্রতি দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ, প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মহলে ঘুরে বেড়ানো অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, সরকারি চাকরির বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন।  ফলে অভিযোগ এবং প্রমাণিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য বজায় রেখে বিষয়টি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন প্রশাসনিক ও আইন বিশেষজ্ঞরা। চাকরিজীবনের শুরু থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব অভিযোগপত্র অনুযায়ী, মো. সরোয়ার হোসেন ২০১৮ সালে নন-ক্যাডার কর্মকর্তা হিসেবে কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি মোংলা কাস্টমস, ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেট এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি এমন অবস্থানে ছিলেন, যেখানে ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগ ছিল। তাদের ভাষ্যমতে, এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে তিনি একটি প্রভাববলয় তৈরি করেছিলেন, যা পরবর্তীতে আর্থিক সুবিধা আদায়ের ক্ষেত্র তৈরি করে দেয়।   অভিযোগের কেন্দ্রে সম্পদের প্রশ্ন সরোয়ার হোসেনকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় হলো তার সম্পদের পরিমাণ এবং সম্পদের উৎস। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি রাজধানীর একটি অভিজাত এলাকায় প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন। তবে অভিযোগপত্রে ফ্ল্যাটটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান, নিবন্ধন নথি, মালিকানা দলিল কিংবা ক্রয়ের অর্থের উৎস সংক্রান্ত কোনো সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে অভিযোগের বাস্তবতা যাচাইয়ের জন্য ভূমি রেকর্ড, রেজিস্ট্রেশন তথ্য এবং আয়কর নথি বিশ্লেষণ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বরগুনায় বিলাসবহুল বাড়ির অভিযোগ অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নিজ জেলা বরগুনায় তার একটি বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে, যার মূল্য কয়েক কোটি টাকা হতে পারে। স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের দাবি থাকলেও অভিযোগের সঙ্গে কোনো প্রকৌশল মূল্যায়ন প্রতিবেদন, জমির রেকর্ড বা সরকারি নথি সংযুক্ত করা হয়নি। ফলে বাড়িটির প্রকৃত মূল্য, মালিকানা এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে স্বাধীন তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। স্ত্রীর নামে সম্পদ ও বিলাসবহুল গাড়ির অভিযোগ অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, সরোয়ার হোসেনের স্ত্রীর নামেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি ও স্থাবর সম্পদ রয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, শ্বশুরবাড়ি এলাকায় কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবারের ব্যবহারের জন্য একটি উচ্চমূল্যের বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গাড়িটির নিবন্ধন তথ্য, মালিকানা, ক্রয়মূল্য বা সম্পদের উৎস সম্পর্কে কোনো নথিপত্র প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এসব দাবিও এখনো অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে। ঘুষ ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ সম্পদের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্ত কিংবা প্রশাসনিক পদক্ষেপের ভয় দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে।   বদলি ও পদায়নে প্রভাবের অভিযোগ অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, তিনি প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে পছন্দের পদায়ন নিশ্চিত করতেন এবং কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতেন। অভিযোগকারীদের মতে, বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়ায়ও তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল।   একজন কর্মকর্তার সম্পদ কতটা অস্বাভাবিক? সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে সম্পদ অর্জন নিজেই কোনো অপরাধ নয়। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশ্নটি সম্পদের পরিমাণ নয়; বরং সেই সম্পদের উৎস বৈধ কি না। যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তার সম্পদ তার বৈধ আয়, কর নথি, ব্যাংক হিসাব এবং ঘোষিত সম্পদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তাহলে সেটি আইনি সমস্যা নয়। অন্যদিকে বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেলে তা দুর্নীতি বা অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানের বিষয় হতে পারে। এই কারণে অভিযোগকারীরা বিষয়টি তদন্তের দাবি তুলেছেন। তদন্ত হলে কী কী যাচাই করা হতে পারে? দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা অন্য কোনো তদন্ত সংস্থা অভিযোগগুলো অনুসন্ধান করলে সাধারণত কয়েকটি বিষয় যাচাই করা হয়— আয়কর রিটার্ন ও সম্পদ বিবরণী ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেন ভূমি ও ফ্ল্যাটের মালিকানা রেকর্ড গাড়ির নিবন্ধন তথ্য পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদ ঘোষিত আয় ও সম্পদের সামঞ্জস্য সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় নেওয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমেই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিরপেক্ষ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব। অভিযুক্তের বক্তব্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? ন্যায়সঙ্গত তদন্তের অন্যতম শর্ত হলো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, মো. সরোয়ার হোসেনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।   স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন সরোয়ার হোসেনকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো মূলত সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদ যাচাই, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা নিয়ে বৃহত্তর প্রশ্ন সামনে এনেছে। তবে সাংবাদিকতা ও আইনের মৌলিক নীতি অনুযায়ী, কোনো অভিযোগকে তদন্ত বা আদালতের রায়ের আগে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা যায় না। সেই কারণে অভিযোগগুলো সত্য না মিথ্যা—তার নির্ধারণ কেবলমাত্র নিরপেক্ষ তদন্ত, নথিপত্র যাচাই এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সম্ভব। অভিযোগ সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তার সুনাম পুনরুদ্ধার—দুই ক্ষেত্রেই স্বচ্ছ তদন্তই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৫, ২০২৬ 0
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.)–এর মাজার সংলগ্ন দিঘিতে থাকা একমাত্র কুমির

খানজাহান আলীর মাজারের শেষ কুমির সরানো হলো কেন? শিশুমৃত্যু, অব্যবস্থাপনা ও হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের অনুসন্ধান

এনবিআরের কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম

৫৩ ফ্ল্যাট থেকে শতকোটি টাকার জমি: এনবিআরের কর্মকর্তা সহিদুল ইসলামের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন

খুরশীদ আলম

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ খুরশীদ আলম: পুরনো অভিযোগ, নতুন দায়িত্ব

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0