Brand logo light

বাংলাদেশ

ইনফ্রা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট
বরিশালে ইনফ্রা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট দখলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা

বরিশালের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইনফ্রা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট দখলকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক প্রকৌশলী মো. আমীর হোসাইনের অভিযোগ, তার ব্যবসায়িক অংশীদার ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ইমরান চৌধুরী সাধারণ কর্মচারীদের ভুল বুঝিয়ে প্রতিষ্ঠানটি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রকৌশলী আমীর হোসাইনের দাবি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি ব্যক্তিমালিকানাধীন হওয়া সত্ত্বেও ইমরান চৌধুরী রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলা এই দ্বন্দ্বে উঠে এসেছে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ। যারমধ্যে অর্থ আত্মসাত, ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগসহ একক আধিপত্য, নিজের অনুসারী শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে স্বৈরাচারী পরিবেশ তৈরি করা এবং কেউ অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে তাকে বহিষ্কার এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয় দেখানোর বিস্তার অভিযোগ রয়েছে। সূত্রমতে, ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে শিক্ষক রফিকুল ইসলাম ও এমএলএসএস মো. সুমন হাওলাদার প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে গেলে বর্তমান অধ্যক্ষ সাব্বির ও ইমরান চৌধুরীর অনুসারীরা তাদের বাঁধা প্রদান করেন। এনিয়ে বাগবিতণ্ডা শুরু হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং উভয়পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের আহবান করেন। তবে অধ্যক্ষ সাব্বিরের দাবি, শিক্ষক রফিকুল ও কর্মচারী সুমনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একারণেই তাদের প্রতিষ্ঠানে ঢুকতে বাঁধা দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ইনফ্রা পলিটেকনিক শুরু থেকেই সুনামের সাথে পরিচালিত হচ্ছিল। কিন্তু বর্তমান মালিকানা দ্বন্দ্ব ও প্রায়ই ঘটে যাওয়া হট্টগোলে এলাকার শান্তি ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তারা শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
বরিশালে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা
বরিশালে বিএনপি কর্মী দেলোয়ারকে কুপিয়ে হত্যা, বিরোধের অভিযোগ

বরিশাল, ১৯ ফেব্রুয়ারি: বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নে দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী নামের এক বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাতে স্থানীয় বৌসেরহাট বাজারের অদূরে বাদামতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর বিমানবন্দর থানা পুলিশ রাতেই লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী বৌসেরহাট বাজারে ইজারা উত্তোলনের কাজ করতেন। তারাবির নামাজ চলাকালে তিনি বাইসাইকেলে করে বাসায় ফিরছিলেন। পথে বাদামতলা এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। পরে তার মরদেহ রাস্তার পাশে হাঁটুসমান পানিতে ফেলে রেখে যায়। বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, মরদেহের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। রাত ১টার দিকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) মর্গে পাঠায়। এদিকে, রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দেলোয়ার হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেন চৌধুরী ও তার ছোট ভাই কবির চৌধুরীর দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। জমি সংক্রান্ত সেই বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে তাদের দাবি। ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজাদী হাসানাত ফিরোজ বলেন, “দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে চাচাতো ভাইয়ের সন্তান আওয়ামী লীগ নেতা জাকির চৌধুরীর জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই বিরোধের জেরেই তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।” তবে এ হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত—তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ। তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে থানা কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), সিআইডি এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।  প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের শিবপাশা গ্রামের বাদামতলা এলাকায় বসুরহাট-কাশিপুর বাজার সড়কের উত্তর পাশে একটি গোলপাতার ক্ষেতে বৃদ্ধ দেলোয়ার হোসেন চৌধুরীর লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।  পুলিশ জানায়, দুর্বৃত্তরা বৃদ্ধের মাথার বাম পাশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। পরে সুরতহাল শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীরা।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
ছালেহ শিবলী, রুমন
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব হলেন ছালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব রুমন

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ (ছালেহ শিবলী)। বুধবার সচিব পদমর্যাদায় তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আতিকুর রহমান রুমন। তিনি বর্তমানে দৈনিক দিনকাল পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশকের দায়িত্ব পালন করছেন। আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ সাংবাদিক মহলে ছালেহ শিবলী নামে অধিক পরিচিত। তিনি অতীতে তারেক রহমান–এর প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যখন তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন। চার দলীয় জোট সরকারের সময় ছালেহ শিবলী কলকাতা উপ-হাই কমিশনে ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাংবাদিকতায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিবলী বার্তা সংস্থা United News of Bangladesh (ইউএনবি), দৈনিক মানবজমিন, বাংলা বাজার পত্রিকা এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল Channel i–এ কর্মরত ছিলেন। এছাড়াও তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি–এর সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারি সূত্র জানায়, নতুন দায়িত্বে প্রধানমন্ত্রীর গণমাধ্যম কার্যক্রম সমন্বয়, তথ্য সরবরাহ ও জনসংযোগ জোরদারে ভূমিকা রাখবেন তিনি।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
রাজিব আহসান
রাজনৈতিক নির্যাতন পেরিয়ে প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান

মাত্র ৪৭ বছরের জীবনে তারুণ্যের পুরো সময়টাই কেটেছে মামলা, জেলখানা, আদালতের বারান্দা আর লুকিয়ে-পালিয়ে। ১৭ বছরের শাসনামলে তার বিরুদ্ধে হয়েছে ১৩০টিরও বেশি মামলা। রিমান্ডে নিয়ে ১৭ বছরে ১২৩ দিন পুলিশি নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে গুম বা খুন হয়ে যাওয়ার আতঙ্ক ছিল নিত্যসঙ্গী। আজন্ম বিএনপির রাজনীতি করা সেই রাজিব আহসান এখন বিএনপি সরকারের প্রতিমন্ত্রী। দায়িত্ব পেয়েছেন সড়ক-সেতু-রেলপথ ও নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের। বরিশাল অঞ্চলের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ অবহেলার প্রেক্ষাপটে তার এ নিয়োগে আশাবাদী দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। শৈশব ও শিক্ষা জীবন বরিশালের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মেহেন্দীগঞ্জে জন্ম রাজিব আহসানের। বাবা মিজানুর রহমান ছিলেন স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। পাতারহাট জুবলী ও টিটিসি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা শেষ করেন তিনি। পরে জুবলী ইনস্টিটিউশন থেকে মাধ্যমিক এবং পাতারহাট আরসি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয় আরসি কলেজ থেকেই। কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ক্যাম্পাসে ছিলেন তুখোড় ছাত্রনেতা—প্রথমে কবি জসীম উদদীন হলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, পরে সভাপতি নির্বাচিত হন। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের হেলাল-বাবু কমিটিতে সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে প্রচার ও সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ২০১৫ সালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন। সফলভাবে দায়িত্ব পালনের পর স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হন। বর্তমানে তিনি এ দায়িত্বে রয়েছেন। নির্যাতন, কারাবাস ও সংগ্রামের দিনগুলো রাজিব আহসান আওয়ামী শাসনামলে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত রাজনৈতিক নেতাদের অন্যতম হিসেবে পরিচিত। ১৭ বছরে প্রায় প্রতিদিনই তার বাসায় চলতো পুলিশের হানা। দুই বোন ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে ছোট্ট পরিবারটি ছিল আতঙ্কে। বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার হয়ে প্রায় চার বছর কারাগারে ছিলেন তিনি। রিমান্ডে নিয়ে চালানো হয়েছে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। তার ঘনিষ্ঠরা জানান, আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে কত রাত যে নদীর মধ্যে ভাসমান জেলে নৌকায় কাটাতে হয়েছে, তার হিসাব নেই। একবার পটুয়াখালীতে গ্রেফতারের পর তাকে গোপন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিকল্পনা ছিল হত্যার পর গুম করার। গণমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখাতে বাধ্য হয় পুলিশ। জাতীয় সংসদ সদস্য থেকে প্রতিমন্ত্রী সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান রাজিব আহসান। ৫৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। পরবর্তীতে তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করে সড়ক-সেতু-রেলপথ ও নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। বরিশালের মানুষের প্রত্যাশা বরিশাল নাগরিক পরিষদের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, সড়ক ও নৌ-যোগাযোগে বরিশাল বিভাগ সব সরকারের আমলেই অবহেলিত। এ জেলা থেকে আগে কখনো সড়ক, সেতু বা নৌ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাননি কেউ। নতুন প্রতিমন্ত্রীর কাছে তাই অনেক প্রত্যাশা। বিশেষ করে— ঢাকা-কুয়াকাটা এক্সপ্রেস সড়ক কুয়াকাটা পর্যন্ত রেললাইন ভোলা-বরিশাল সেতু ঢাকা-কুয়াকাটা রেল সংযোগ এসব প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। প্রতিমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া রাজিব আহসান বলেন, “প্রথমেই কৃতজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি। আমাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার যোগ্য মনে করেছেন। কতদূর কী পারব জানি না, তবে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে মানুষের ইচ্ছা পূরণের।” দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় দীর্ঘ নির্যাতন-সংগ্রামের পথ পেরিয়ে দায়িত্বের আসনে বসা রাজিব আহসানকে ঘিরে বরিশাল অঞ্চলে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। রাজনৈতিক জীবনের প্রায় পুরোটা সময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে থাকা এই নেতার কাছে উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন প্রত্যাশা করছে দক্ষিণাঞ্চলের জনগণ।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
মব জাস্টিস নিয়ন্ত্রণ করা হবে: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মব জাস্টিস নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা যতটুকু খারাপ ছিল, এটাকে ইমপ্রুভ করার চেষ্টা করতেই হবে। বুধবার (১৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকার গঠনের পর প্রথম কর্মদিবসে এসে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এই সময়ের চ্যালেঞ্জ, সরকারের চ্যালেঞ্জটা কী, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসছি আমরা। চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে— টু বিল্ড দ্য নেশন (দেশকে গড়ে তোলা)। আমাদের প্রধানমন্ত্রী, যিনি আমাদের এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তার প্রথম কথাটি ছিল বাংলাদেশের জন্য, আই হ্যাভ এ প্ল্যান (আমার একটা পরিকল্পনা আছে)। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য তিনি তার মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। মন্ত্রিসভা তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে, বাংলাদেশের মানুষের সমস্যাগুলো সমাধান করার চেষ্টা করবে এবং বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে সামনের দিকে।’ ফখরুল বলেন, ‘ডেমোক্রেসি হচ্ছে আমাদের প্রধান... ইনগ্রেডিয়েন্ট (উপাদান), যাকে নিয়ে আমরা সামনে এগোচ্ছি। অর্থাৎ আমাদের সবকিছুর মধ্যেই গণতন্ত্র থাকবে। আমরা সেই গণতন্ত্রকে বিশ্বাস করি। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, এটার পুরোপুরি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, একেবারে গ্রাসরুট (তৃণমূল) মানুষের সঙ্গে। আমার একটা অ্যাডভান্টেজ আছে, আমি কিন্তু একসময় নিজে লোকাল গভর্নমেন্টে ছিলাম।’ ‘তো আমরা এই জিনিসগুলো সম্পর্কে কিছু ধারণা রাখি। আমি বিশ্বাস করি যে আপনাদের এই মন্ত্রণালয়কে অত্যন্ত ডাইনামিক (গতিময়) একটা মন্ত্রণালয়ে পরিণত করতে পারব। মানুষের যে সমস্যাগুলো আছে, সেই সমস্যাগুলো নিয়ে আমরা কাজ করতে পারব।’ দেশের ‘আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি ভঙ্গুর’ দাবি করে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘না না, অতটা খারাপ না। আপনারা যতটা খারাপভাবে দেখছেন, অতটা খারাপ না। আমাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ইমপ্রুভ (উন্নত) হয়েছে। অর্থনীতি, ম্যাক্রো ইকোনমিক স্ট্যাবিলিটি (ব্যাষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা) এটা অনেক ফিরে এসেছে। ব্যাংক তো অনেকটা কন্ট্রোলে এসেছে। এগুলো তো ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। আমরা মনে করি, সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় এটাকে আরও ভালো করতে পারব।’ ‘গেল দেড় বছর ব্যাপক মবজাস্টিস হয়েছে,’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘অবশ্যই। এটাকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা যতটুকু খারাপ ছিল, এটাকে ইমপ্রুভ করার চেষ্টা করতেই হবে। একটা বড় ঝড় গেছে আমাদের। একটা বিপ্লব হয়েছে, বিদ্রোহ হয়েছে, গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। এসব মুহূর্তের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে, এটা মনে করার কারণ নেই। এক-দেড় বছর আমরা পার হয়েছি একটা ইন্টারিম গভর্নমেন্টের অধীনে। তারা একটা ইলেকশন দিয়ে গেছে। ইলেকশন করে একটা গভর্নমেন্ট হয়েছে, ইলেকটেড গভর্নমেন্ট হয়েছে। এটাই তো একটা বড় অ্যাচিভমেন্ট (অর্জন)। আমি তো মনে করি, দ্যাটস অলসো এ ভেরি বিগ অ্যাচিভমেন্ট (এটা একটা ভালো অর্জন)।’ ‘আওয়ামীলীগ বিহীন’ নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে কিনা, প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘না, এটা কিন্তু জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সবাই বলছে, এটা ইনক্লুসিভ ইলেকশন (অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন) হয়েছে। এবং এটা ইনক্লুসিভ ইলেকশন হয়েছে বলেই আজকে এটা একসেপ্টেবল টু অল (গ্রহণযোগ্য) হয়েছে, সকলের কাছে।’ আওয়ামী লীগের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত কী হবে, প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘এটা আমরা পলিটিক্যালি পরে আপনাদের জানাব। আমাদের গভর্নমেন্টের আলোচনার পরে জানাব।’ অন্তর্বর্তী সরকারের কার্ক্রম নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করবেন কিনা, জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রয়োজন নেই। কারণ তারা একটা বিশেষ মুহূর্তে দায়িত্ব নিয়েছে। সেই সময়, আমি মনে করি, আমার দলও মনে করে যতটুকু প্রয়োজন ছিল, তারা সেই কাজের সিংহভাগ করতে পেরেছে। মূল সমস্যাটা কী ছিল? ট্রানজিশন টু ডেমোক্রেসি। সেটা তো তারা করে দিয়ে গেছে। সুতরাং ইউ মাস্ট গিভ ক্রেডিট টু দেম (তাদের সেই কৃতিত্ব)। দিতেই হবে। তারা অনেক ভালো কাজ করেছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শহীদদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শহীদদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তার সরকারের কাজ শুরু হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পরিদর্শন বইয়ে লিখিত মন্তব্যে তিনি এ কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরদিনই তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। পরিদর্শন বইয়ের মন্তব্যে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসানের পর একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকামী জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশের জনগণ গণতন্ত্রের পথে নতুন যাত্রা শুরু করেছে। আলহামদুলিল্লাহ। আমি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাই। তিনি আরও লেখেন, বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নবগঠিত মন্ত্রিসভাসহ আমি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করছি, যাদের আত্মত্যাগে আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রামসহ দেশের ইতিহাসে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সকল শহীদদের প্রতিও আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি নিরাপদ, মানবিক, গণতান্ত্রিক, স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নেই তাঁর সরকার কাজ শুরু করেছে। তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যেন জনগণের সামনে ঘোষিত প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার তৌফিক লাভ করে এবং সকল শহীদের মাগফিরাত কামনা করেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের আগমনকে কেন্দ্র করে স্মৃতিসৌধ এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করেন। মহাসড়কে বাড়ানো হয় গোয়েন্দা নজরদারি। ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট মহড়া দেয়। পুরো স্মৃতিসৌধ এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
তথ্যমন্ত্রী
ভয়মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি করব: তথ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশে ভয়মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন নতুন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে শপথ নেয়। নতুন এই মন্ত্রিসভার সদস্য জহির উদ্দিন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।  বুধবার বেলা সোয়া একটার দিকে তিনি সচিবালয়ে আসেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। নিজের রাজনৈতিক জীবনের কথা উল্লেখ করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন। তিনি বলেন, তিনি নিজেও জানেন, ভয়ভীতির মধ্যে যাঁরা বাস করেন, তাঁদের কী ধরনের মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। বিশেষ করে গণমাধ্যমের মতো এ রকম পেশায় যাঁরা কাজ করেন। তাঁদের যদি সারাক্ষণ নজরদারির মধ্যে থাকতে হয়। জহির উদ্দিন আরও বলেন, ‘সমস্যা যেহেতু আমরা জানি, প্রধানমন্ত্রী (তারেক রহমান) যেহেতু তাঁর পরিকল্পনার মধ্যে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিকল্পনা দিয়েছেন, তাহলে আমরা বাংলাদেশে একটা ভয়মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি করব, ইনশা আল্লাহ।’

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যাত্রা শেষ,প্রজ্ঞাপন জারি

গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যাত্রা শেষ হলো নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথের মধ্য দিয়ে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের নিয়োগের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে গেছে জানিয়ে  মঙ্গলবার রাতে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট গঠিত হয়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন সংসদ সদস্য তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন এবং তার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের জন্য সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে গেছে বলে গণ্য হবে। আলাদা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস গতকাল সোমবার তার কার্যালয়ে বিদায়ী ভাষণ দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে বিদায় নেন। রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে তার মেয়াদ শেষের কথা জানান তিনি। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারও নিজ নিজ দপ্তর থেকে গত কয়েক দিনে বিদায় নিয়েছেন।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
সালাহউদ্দিন
গুম থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমদের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন

২০১৫ সাল। বিরোধী দলীয় রাজনীতিতে চরম দমন-পীড়নের সময়। খালেদা জিয়া গৃহবন্দি, মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর গ্রেফতার, পরে কার্যালয় থেকে আটক হন রুহুল কবির রিজভী। দলীয় বহু সিনিয়র নেতা ছিলেন কারাগারে কিংবা আত্মগোপনে। সেই দুঃসময়ে দলের পক্ষে ধারাবাহিক ও কঠোর বিবৃতি দিয়ে আলোচনায় আসেন বিএনপির তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদ। আত্মগোপন থেকে পাঠানো তার বিবৃতিগুলো সরাসরি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনামূলক ছিল। রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তোলে এসব বক্তব্য। ১০ মার্চের রহস্য: নিখোঁজ থেকে শিলং ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাজধানীর উত্তরা থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন সালাহউদ্দিন আহমদ। দীর্ঘ ৬২ দিন পর ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। ভারতীয় পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিলংয়ে উদভ্রান্তের মতো ঘোরাঘুরির সময় স্থানীয়দের ফোন পেয়ে তাকে আটক করা হয়। এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে সালাহউদ্দিন বলেন, চোখ বেঁধে তাকে কোথাও নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং তিনি ধারণা করেছিলেন তাকে ‘ক্রসফায়ারের’ জন্য নেওয়া হচ্ছে। পরে শিলংয়ে চোখ খোলার পর বুঝতে পারেন তিনি ভারতে আছেন। স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশের কাছে গেলে তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন সন্দেহে হাসপাতালে পাঠানো হয় বলেও জানান তিনি। আইনি লড়াই: ফরেনার্স অ্যাক্ট মামলা ভারতে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া প্রবেশের অভিযোগে মেঘালয় পুলিশ তার বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী মামলা করে। ২০১৮ সালে নিম্ন আদালতে খালাস পেলেও ভারত সরকার আপিল করলে তাকে সেখানেই অবস্থান করতে হয়। অবশেষে ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আপিলেও খালাস পান তিনি। আদালত তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ভ্রমণ অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২০২৩ সালের ১১ আগস্ট দিল্লি থেকে ঢাকায় ফেরেন তিনি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক পুনরুত্থান ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যায়। সেই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আবারও সক্রিয় ও প্রভাবশালী নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন সালাহউদ্দিন আহমদ। বিএনপির মনোনয়নে কক্সবাজার-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন—যা তার রাজনৈতিক জীবনের এক নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের প্রতীক। শৈশব, শিক্ষা ও কর্মজীবন ১৯৬২ সালে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার পেকুয়া ইউনিয়নের সিকদার পাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। মাধ্যমিক: পেকুয়া শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয় (রেকর্ড নম্বরসহ উত্তীর্ণ) উচ্চমাধ্যমিক: চট্টগ্রাম কলেজ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ (এলএলবি ১৯৮৪, এলএলএম ১৯৮৬) ১৯৮৫ সালে ৭ম বিসিএস পরীক্ষায় প্রশাসন ক্যাডারে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ পান।   গুম, কারাবাসের আশঙ্কা, বিদেশে মামলা, দীর্ঘ আইনি লড়াই—সব পেরিয়ে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদে আসীন হওয়া সালাহউদ্দিন আহমদের রাজনৈতিক জীবন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এক নাটকীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। দমন-পীড়নের সময় আত্মগোপন থেকে বিবৃতি দেওয়া এক নেতা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় নি

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রীর পিএস, এপিএস, প্রোটোকল অফিসার নিয়োগ
প্রধানমন্ত্রীর পিএস, এপিএস, প্রোটোকল অফিসার নিয়োগ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একান্ত সচিব-১, সহকারী একান্ত সচিব-১ এবং প্রোটোকল অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদীকে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ হিসেবে নিয়োগ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী যতদিন প্রধানমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করবেন অথবা মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদীকে তার একান্ত সচিব-১ পদে বহাল রাখার অভিপ্রায় পোষণ করবেন ততদিন এ নিয়োগ আদেশ কার্যকর থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ মামুন শিবলীকে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-১ হিসেবে নিয়োগ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী যতদিন প্রধানমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করবেন অথবা মোহাম্মদ মামুন শিবলীকে তার সহকারী একান্ত সচিব পদে বহাল রাখার অভিপ্রায় পোষণ করবেন ততদিন এ নিয়োগ আদেশ কার্যকর থাকবে। অপর আদেশে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. উজ্জল হোসেনকে প্রধানমন্ত্রীর প্রোটোকল অফিসার-১ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
শামা ওবায়েদ
বাবা জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায়, মেয়ে এখন প্রতিমন্ত্রী: শামা ওবায়েদের নতুন অধ্যায়

বাবা ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভার সদস্য। মেয়ে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। বলছি বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের কথা।  ফরিদপুর- ২ আসনের সংসদ সদস্য শামা ওবায়েদ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা, সালথা) আসনে ১ লাখ ২১ হাজার ৬৯৪ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি ৩২ হাজার ৩৮৯ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হন।  শামা ওবায়েদ প্রবীণ রাজনীতিবিদ প্রয়াত কেএম ওবায়দুর রহমানের কন্যা। শামা ওবায়েদ তার নির্বাচনি এলাকায় জনগণের পাশে থেকে ব্যাপক কাজ করেছেন। সেই কারণে ভোটারদের ভালোবাসায় তিনি বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হন।নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই গুঞ্জন ছিল তার মন্ত্রিত্ব পাওয়ার। এবার সে গুঞ্জনই সত্যি হলো। শামা ওবায়েদের বাবা কে এম ওবায়দুর রহমান বিএনপির মহাসচিব ছিলেন। তিনি ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন ফরিদপুর-৭ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৩-১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ সরকারের ডাক ও তার প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার পর তিনি খোন্দকার মোশতাক আহমেদের সরকারে যোগ দেন। ১৯৭৫ সালের জেল হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন তিনি। ২০০৪ সালে জেল হত্যা মামলায় তিনি খালাস পেয়েছিলেন। ১৯৭৮ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন এবং ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।এ সময় তিনি প্রথমে মৎস্য ও পশুপালন এবং পরে বিমান ও পর্যটনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।  ১৯৮৬-১৯৮৮ সালে তিনি বিএনপির মহাসচিব ছিলেন। জুন ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি থেকে ফরিদপুর-২ আসনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।আমৃত্যু বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। 

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
পিতা লেবার সর্দার মোতালেব মোল্লা, পুত্র বিআরটিসির চালক হাফিজ
বরিশাল বিআরটিসি ডিপোতে চাঁদাবাজদের হামলা ও লুটপাট, সুপারভাইজার আহত

বরিশাল অফিস:  বরিশাল বিআরটিসি ডিপোতে বহিরাগতদের চাঁদাবাজি করতে  গিয়ে হামলা লুটপাটের অভিযোগ। অতর্কিত হামলায় ডিপোর একজন সুপারভাইজার আহত হয়েছে।এ ঘটনায় আতংকে রয়েছে বিআরটিসির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বিআরটিসি ডিপো ও যাত্রী সুত্রে জানা গেছে,২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট থেকে একদল চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা বিআরটিসি ডিপো দখলের পায়তারা করে আসছিল। তাদের দাবি ডিপো থেকে বিআরটিসির বাস বের হলেই চাঁদাবাজদের নির্দিষ্টহারে চাঁদা দিতে হবে।ডিপো ম্যানেজার শক্ত অবস্থানে থাকায় চাঁদাবাজদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। ১২ ফেব্রুয়ারী বিএনপি তিনশত আসনের ২১২ টা আসন পেয়ে সরকার গঠন করেছে। এখন বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে  ১৬ ফেব্রুয়ারী'২৬ তারিখ বেলা দুটার দিকে  লেবার সর্দার মোতালেব মোল্লা, বিআরটিসির চালক হাফিজ,ফিসারী রোডের রাব্বিসহ সাত -আটজনের একটি  সন্ত্রাসী দল অতর্কিত হামলা করে বিআরটিসি ডিপোতে কর্মরতদের । হামলায় আহত হয়েছে বিআরটিসির সুপারভাইজার মিরাজ।এ সময় তার নিকট থেকে চাঁদাবাজরা টাকা হাতিয়েও নিয়ে যায়। এঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। সুত্র জানায়,লেবার সর্দার ও তার পুত্র বিআরটিসির চালক হাফিজের নেতৃত্বে একটি বড় সিন্ডিকেট নৈরাজ্য করে আসছিল ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনামলে।২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে কোনঠাসা হয়ে পরে।সুযোগবুঝে বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে তারা বিআরটিসি ডিপো দখলে নেয়ার জন্য গত সোমবার বাপ-পুত্রের নেতৃত্বে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
সুজা মিয়া
পরীক্ষা ছাড়াই উত্তীর্ণ, যোগ দিতে এসে চাকরিপ্রার্থী আটক

লিখিত, মৌখিক কিংবা ব্যবহারিক—কোনো পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও পেয়েছেন নিয়োগপত্র। সেই নিয়োগপত্র হাতে কর্মস্থলে যোগ দিতে এসে আটক হয়েছেন এক চাকরিপ্রার্থী। এ ঘটনায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অভ্যন্তরীণ জালিয়াতি বা দালালচক্র জড়িত কি না তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।   সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে গাজীপুরের বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ব্রি) এ ঘটনা ঘটে। আটক ব্যক্তির নাম সুজা মিয়া (৩২)। তিনি শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার কুকড়াপাড় গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে।   বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, দুটি প্লাম্বার পদসহ মোট ১৯টি শূন্য পদে ৩১ জনকে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগের জন্য ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কাছে যোগদানের চিঠি পাঠানো হয়। সুজা মিয়া গত ৩ ফেব্রুয়ারি নিয়োগপত্র পান বলে জানা গেছে।   রোববার বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ে যোগ দিতে গেলে তাকে গাজীপুর সদর দপ্তরে যোগাযোগ করতে বলা হয়। পরে সোমবার সকালে তিনি প্লাম্বার পদে যোগ দিতে ব্রি’র সদর দপ্তরে উপস্থিত হন। সদর দপ্তরে কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। দেখা যায়, তার অ্যাডমিট কার্ডে অন্য ব্যক্তির ছবি সংযুক্ত ছিল। যার ছবি ছিল, তার নাম মিলন মিয়া। অর্থাৎ সব পরীক্ষায় তার হয়ে অন্য কেউ অংশ নিয়েছেন।     জিজ্ঞাসাবাদে সুজা মিয়া দাবি করেন, তিনি ‘মিলন মিয়া’কে চেনেন না। তবে শ্রীবরদী এলাকার মাহবুব নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে সাত লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরি পেয়েছেন বলে তিনি স্বীকার করেন। পরে ব্রি কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।   গাজীপুর সদর থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, নিয়োগ জালিয়াতির অভিযোগে ব্রি কর্তৃপক্ষ এক ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।   এদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এ ধরনের অনিয়মের পেছনে কোনো দালালচক্র বা অভ্যন্তরীণ যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হলে জালিয়াতি চক্রের প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
তারেক রহমান
বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিলেন তারেক রহমান

বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন তিনি। গতকাল ইসি সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিয়েছেন। ঢাকা-১৭ আসন রেখেছেন। তার এ সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছে নির্বাচন কমিশন। একইসঙ্গে বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে ইসি। আইন অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিনটি আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। তবে বিজয়ী হলে তিনি কেবল একটি আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারেন। বাকিগুলো ছেড়ে দিতে হয়। সেগুলোতে নিয়ম অনুযায়ী উপনির্বাচনের আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
মুফতি রেজাউল করীম-এর বাসভবনে তারেক রহমান
সবাইকে নিয়ে কাজের অঙ্গীকার করেছেন তারেক রহমান: চরমোনাই পীর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ বিজয় এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় আগামীর নবগঠিত সরকারকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর রমনার ৫৫/১ সিদ্ধেশ্বরী রোডে দলের আমির মুফতি রেজাউল করীম-এর বাসভবনে তারেক রহমান-এর সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিটের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। মুফতি রেজাউল করীম বলেন, বৈঠকটি আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারেক রহমান অতীতের রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন, যা দেশে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে আশা করছি। নির্বাচনে অনিয়ম বা ত্রুটি-বিচ্যুতির অভিযোগের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন—এ বাস্তবতাকে সামনে রেখে তারা গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে চান। তিনি জানান, দেশ গঠনে সহযোগিতা চেয়ে তারেক রহমান আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকার জনকল্যাণমূলক কাজ করলে তারা পাশে থাকবে। তবে জনবিরোধী, দেশবিরোধী বা ইসলামবিরোধী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে দল প্রতিবাদ জানাবে এ ধরনের অবস্থানকে তারেক রহমান স্বাগত জানিয়ে বলেছেন অবশ্যই রাজনৈতিক দলগুলো স্বাধীনভাবে রাজনীতি করবে। তবে প্রতিবাদ করার আগে, আন্দোলন করার আগে আমাদেরকে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। মুফতি রেজাউল করীম বলেন, প্রতিবাদ বা আন্দোলনের আগে সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দেশে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ঐক্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হবে এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করা হবে। নির্বাচন-পূর্ব ও পরবর্তী সহিংসতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কঠোরভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার আশ্বাস দিয়েছে। প্রশাসনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার না করে সবার জন্য উন্মুক্ত গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। জাতীয় স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, মতভেদ থাকলেও জাতীয় স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানী, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদসহ দলের অন্যান্য নেতারা।  

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
জুতার কারখানায় আগুন
পুরান ঢাকায় জুতার কারখানায় আগুন

রাজধানীর পুরান ঢাকার আগামাসি লেন এলাকায় একটি সাততলা ভবনের চারতলায় অবস্থিত জুতার কারখানায় আগুন লেগেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। সর্বশেষ তথ্য পাওয়া পর্যন্ত আগুন নেভানোর চেষ্টা চলছিল। তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। এর আগে রাত ১০টা ২৮ মিনিটে রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় একটি কাঠের দোকানসহ কয়েকটি স্থাপনায় আগুন লাগে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
সংসদ
সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন সিইসি নাসির উদ্দিন

নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন আহমেদ। সংবিধানের ১৫৮ অনুচ্ছেদের ২(খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে তিনি এই শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র নিয়ে সোমবার ( ১৬ ফেব্রুয়ারি) সিইসির বাসভবনে যান সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা। সংসদ সচিবালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২১২ আসনে জয় পেয়ে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।  মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর পরই নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।   সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে আপত্তি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সংবিধানে এ ধরনের কোনো পরিষদের শপথ পড়ানোর এখতিয়ার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেই। তিনি আরও বলেন, যদি ভবিষ্যতে সংবিধানে এ বিষয়ে বিধান যুক্ত করা হয় এবং কে শপথ পাঠ করাবেন তা নির্ধারিত হয়, তাহলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ আয়োজন করা সম্ভব হবে। অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার পুনর্গঠনের প্রয়োজন এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের প্রায় সব খাতেই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং এগুলোকে নতুন করে পুনর্গঠন করতে হবে। তবে মন্ত্রিসভায় কে কোন দায়িত্ব পাবেন—এ বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য জানেন না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিএনপির নেতারা মনে করছেন, বিরোধী দলের কার্যকর ভূমিকা ও ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর করতে সহায়ক হবে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
নির্বাচনে হেরেছেন তাদের কয়েকজন
দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়েও হারলেন যারা

সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নানারকম রাজনীতি হয়েছে। দল ত্যাগ, জোট গঠন ও এক পক্ষ ত্যাগ করে আরেক পক্ষে যোগ দেওয়াসহ বিভিন্ন খেলা দেশবাসী দেখেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি যা আলোচিত হয়েছে তা হলো- নিজের দল বিলুপ্ত করে অন্যের ছাতার নিচে আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা।   এতে বিলুপ্ত হয়ে গেছে বেশ কয়েকটি দল। ২০২৫ সালে সর্বশেষ সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ তথা আরপিও অনুযায়ী জোট গঠন করলেও ভোটে লড়তে হবে নিজ দলের প্রতীক নিয়ে। যেখানে ছোট দলগুলোর বেধেছে বিপত্তি। পরাজিত হওয়ার আশঙ্কায় তারা দলই বিলুপ্ত করে ধানের শীষে নির্বাচন করার জন্য বিএনপিতে ভেড়েন। অর্ধ ডজনের বেশি রাজনৈতিক নেতা এবার সংসদে যাওয়ার আশায় বুক বেঁধে ছিলেন। কিন্তু তাদের দলের অবস্থা ও জনপ্রিয়তা এর জন্য উপযোগী ছিল না। এক পর্যায়ে দল বিলুপ্ত বা বদল করে অন্য দলে যোগ দেন তারা। এরপরও তাদের অনেকের কপাল খোলেনি। ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর জানা যায়, তাদের মধ্যে কয়েকজন নির্বাচনি বৈতরণী পাড় হতে পারেননি। যারা এবারের নির্বাচনে হেরেছেন তাদের কয়েকজনের বিবরণ দেওয়া হলো: সৈয়দ এহসানুল হুদা গত ২২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন দলটির চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা।  রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ যোগদান করেন। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ফুল দিয়ে সৈয়দ এহসানুল হুদাকে বরণ করে নেন। এহসানুল হুদা নির্বাচনের মাঠে নামার আগে ধানের শীষ প্রতীক পান। কিন্তু তিনি ভোটযুদ্ধে সুবিধা করতে পারেননি। হেরেছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে। কিশোরগঞ্জ–৫ (বাজিতপুর ও নিকলী) আসনে হাঁস প্রতীকে শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৬০৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের এহসানুল হুদা পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৪৫০ ভোট। ড. রেদোয়ান আহমেদ গত ২৪ ডিসেম্বর লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ নিজ দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগদান করেন।  বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের কথা ঘোষণা দেন তিনি। পরে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে লড়েন। কিন্তু বিএনপির বিদ্রোহী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম শাওনের কাছে পরাজিত হন। এ আসনে পাঁচবারের সাবেক এমপি ড. রেদোয়ান পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৯২৫ ভোট, অপরদিকে শাওন পেয়েছেন ৯০ হাজার ৮১৯ ভোট। রাশেদ খান গত ২৭ ডিসেম্বর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলটিতে যোগদানের ঘোষণা দেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান।  এর আগে তিনি নিজ দল থেকে পদত্যাগ করেন। পরে তিনি ঝিনাইদহ-৪ (সদর ও কালীগঞ্জ) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। রাশেদ ঝিনাইদহ-৪ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আবু তালেবের কাছে হেরেছেন। আবু তালেব পেয়েছেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৯ ভোট, আর রাশেদ তৃতীয় অবস্থানে থেকে পেয়েছেন ৫৬ হাজার ২২৪ ভোট। ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ন্যাশনাল পিপলস পার্টির(এনপিপি) চেয়ারম্যান এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদ তার দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীক পান। নড়াইল-২ আসনে (লোহাগড়া ও সদরের একাংশ) লড়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন। এ নিয়ে তিনি তৃতীয়বারের মতো হারলেন। এ আসনে জেলা জামায়াতের আমির আতাউর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার ১৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী কলস প্রতীক নিয়ে মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৪৫৭ ভোট এবং ধানের শীষের প্রার্থী ফরিদুজ্জামান ফরহাদ পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৪৬৩ ভোট।  রশীদ বিন ওয়াক্কাস দলের নিবন্ধন না থাকায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একাংশের নেতা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন। কিন্তু তারও কপাল পুড়েছে। যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে ত্রিমুখী লড়াই হয়েছে। এ আসনে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী গাজী এনামুল হক বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৫৮। বিএনপি থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে এ আসনে নির্বাচন করা শহীদ মো. ইকবাল হোসেন দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ৮৫ হাজার ৫১৭। তৃতীয় অবস্থানে আছেন বিএনপি জোট থেকে মনোনয়ন পাওয়া রশীদ বিন ওয়াক্কাস। তার প্রাপ্ত ভোট ৫৫ হাজার ৪১৯।  কেউ কেউ আবার দলবদলের খেলায় সাফল্য পেয়েছেন। তারা ভোটযুদ্ধে জয়ী হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম শাহাদাত হোসেন সেলিম।  তিনি গত ৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি- বিএলডিপির (একাংশ) চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন।  লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ও পান। ড. রেজা কিবরিয়া গত ১ ডিসেম্বর বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর তাকে হবিগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ও পান। এছাড়া এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ তার দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন। পরে ধানের শীষ পেয়ে ঢাকা-১৩ আসনে নির্বাচন করে জয় পান।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
শফিকুর রহমান
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হচ্ছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান? উপনেতা আলোচনায় নাহিদ ইসলাম

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান—এমন তথ্য জানিয়েছে দলীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র। পাশাপাশি বিরোধীদলীয় উপনেতা পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন নাহিদ ইসলাম। তবে এসব পদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ ও হুইপ পদ নিয়েও দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। চিফ হুইপ বা হুইপ হওয়ার আলোচনায় রয়েছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এবং মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। এ ছাড়া চট্টগ্রামের শাহজাহান চৌধুরী ও সাতক্ষীরার গাজী নজরুল ইসলাম-কে বিরোধী দলে সম্মানজনক কোনো পদে রাখা হতে পারে বলেও জানা গেছে। বিরোধী দল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ডেপুটি স্পিকার পদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় আলোচনায় আছেন দলের সাবেক আমির মওলানা মতিউর রহমান নিজামী-এর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এবং প্রয়াত নেতা মীর কাসেম আলি-এর ছেলে, আয়নাঘর থেকে ফেরত আসা ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাসেম আরমান। তবে দলীয় ভেতরে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের সম্ভাবনা বেশি বলে আলোচনা রয়েছে। ১১ দলীয় জোটের শরিকদের মধ্য থেকেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হতে পারে। জোটের শরিক এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বিরোধী দলের হুইপ হতে পারেন বলে সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা এটিএম মাসুম বলেন, সংসদের এসব পদ নিয়ে এখনো দলের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি জানান, ১১ দলীয় জোট অটুট রাখতে শরিক দলগুলোর জন্যও কিছু পদ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। জোটের বৈঠকের পরই বিরোধীদলীয় নেতা, উপনেতা, চিফ হুইপ, হুইপ ও ডেপুটি স্পিকারসহ সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে দলীয় সূত্রে আভাস দেওয়া হয়েছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
নজরুল ইসলাম মঞ্জু
খুলনা-২ আসনে বিএনপির দুর্গে ভাঙন, জামায়াতের ঐতিহাসিক জয়

দীর্ঘ তিন দশকের রাজনৈতিক সমীকরণ ভেঙে খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে প্রথমবারের মতো বিজয়ের পতাকা উড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী চারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টানা জয় পাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবার নিজেদের শক্ত ঘাঁটি হারিয়েছে। মাঠের রাজনীতিতে তিন দশকের বেশি সময় সক্রিয় সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু-কে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করে জয় পান জামায়াতের খুলনা মহানগর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলই ছিল এ পরাজয়ের প্রধান কারণ। অতীতের শক্ত ঘাঁটি, ভাঙল দীর্ঘ ঐতিহ্য ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে খুলনা-২ আসন ছিল বিএনপির দখলে। এমনকি ২০০৮ সালের রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও জয় ধরে রেখেছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। আওয়ামী লীগ সরকারের কঠিন সময়েও তিনি এলাকায় ছিলেন সক্রিয় ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তবে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী না থাকায় বিএনপি শিবিরে এক ধরনের আত্মতৃপ্তি তৈরি হয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। প্রার্থী ঘোষণার পরও প্রথমদিকে মাঠে সক্রিয়তা না থাকা নেতাকর্মীদের হতাশ করেছে। টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন বলেন, “প্রার্থী ঘোষণার পরও মঞ্জু ভাইকে প্রথম পর্যায়ে মাঠে দেখা যায়নি। নির্দিষ্ট কার্যক্রম ছাড়া ডোর টু ডোর প্রচার ছিল না। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী শুরু থেকেই মাঠে সক্রিয় ছিল।” পরিকল্পিত প্রচারে এগিয়ে জামায়াত জামায়াত প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল ছিলেন কৌশলী ও সংগঠিত। দলটির নেতাকর্মীরা পাড়া-মহল্লাভিত্তিক ছোট ইউনিটে ভাগ হয়ে ঘরে ঘরে প্রচারণা চালান। বিশেষ করে নারী ভোটারদের কেন্দ্রে আনার বিষয়ে ছিল আলাদা উদ্যোগ। বিএনপির প্রচারণা যেখানে মূল সড়ক ও বাজারকেন্দ্রিক ছিল, জামায়াত সেখানে অলিগলি পর্যন্ত পৌঁছে যায়। সংগঠিত উপস্থিতি নিশ্চিত করাই ছিল তাদের প্রধান কৌশল। দলটির কর্মী জিকু আলম জানান, “বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল আমাদের মাথায় ছিল। ভোটারদের আস্থা থাকলেও তাদের বিশৃঙ্খলার সুযোগ আমরা কাজে লাগিয়েছি।” দলীয় কোন্দল: পরাজয়ের বড় কারণ ২০২১ সালে খুলনা মহানগর বিএনপির কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর থেকেই নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সঙ্গে বর্তমান নেতৃত্বের দূরত্ব তৈরি হয়। মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড কমিটি থেকে তার অনুসারীদের বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। নির্বাচনের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে ঐক্যের ছবি দেখা গেলেও বাস্তবে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। বর্তমান কমিটির অনেক প্রভাবশালী নেতা মাঠে সক্রিয় হননি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক সেকেন্দার আলী খান সাচ্চু বলেন, “কোন্দলের প্রভাব পড়েছে। আমরা দুই অংশ এক হলেও সবাই সেভাবে কাজ করেনি।” খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, “এ আসনে তুলনামূলক ভোট কম পড়েছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা ফলাফলে স্পষ্ট হয়েছে।” ভবিষ্যৎ সমীকরণে নতুন বার্তা খুলনা-২ আসনে জামায়াতের এই জয় দলটির জন্য কৌশলগত ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর পরিকল্পিতভাবে প্রার্থী দিয়ে তারা একটি ঐতিহ্যবাহী আসনে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে, খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম বলেন, “এখনো বুঝে উঠতে পারছি না কেন হারলাম। বিষয়টি নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ চলছে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খুলনা-২ আসনের ফলাফল শুধু একটি আসনের পালাবদল নয়—এটি ভবিষ্যৎ জাতীয় রাজনীতির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। দলীয় ঐক্য, মাঠভিত্তিক সংগঠন এবং ভোটার ব্যবস্থাপনা—এই তিনটি উপাদানই আগামী দিনের রাজনীতিতে নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
বিএনপির মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন যারা
জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে নিরঙ্কুশ জয়ে সরকার গঠনের প্রস্তুতিতে বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় ও সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, নবীন ও প্রবীণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে ৩২ থেকে ৪২ সদস্যের একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করেছেন বলে জানা গেছে। সংবিধান অনুযায়ী, মোট মন্ত্রীর সর্বোচ্চ এক-দশমাংশ টেকনোক্র্যাট কোটায় নিয়োগ দেওয়া যাবে। টেকনোক্র্যাট কোটায় কারা আসছেন? দলীয় সূত্রে জানা গেছে, টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং সেলিমা রহমান। তারা সংসদ সদস্য না হলেও দীর্ঘদিন ধরে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সক্রিয়। এছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় আলোচনায় রয়েছেন— রুহুল কবির রিজভী, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, হুমায়ুন কবীর, মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, মাহদী আমিন, আমিনুল হক এবং ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার। তাদের মধ্যে কেউ মন্ত্রিসভায় স্থান না পেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদেও নিয়োগ পেতে পারেন বলে জানা গেছে। সংবিধান কী বলছে? বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৬(২) অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীদের রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন। শর্ত থাকে যে, অন্যূন নয়-দশমাংশ মন্ত্রী সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে এবং অনধিক এক-দশমাংশ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে মনোনীত হতে পারবেন। সে হিসাবে ৪০ সদস্যের মন্ত্রিসভায় সর্বোচ্চ চারজন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হতে পারেন। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে সম্ভাব্য মন্ত্রী সরাসরি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন— অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নওশাদ জমির, আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রশীদ, শেখ রবিউল আলম, আসাদুল হাবিব দুলু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, রকিবুল ইসলাম বকুল এবং মোহাম্মদ আলী আসগর লবি। এছাড়া আলোচনায় আছেন— নুরুল ইসলাম মনি, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মজিবর রহমান সরওয়ার, এবিএম মোশাররফ হোসেন, জহির উদ্দিন স্বপন, আব্দুস সালাম পিন্টু, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, শরীফুল আলম, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল এবং আফরোজা খান রিতা। গুঞ্জনে রয়েছেন আরও— ফজলুল হক মিলন, খায়রুল কবির খোকন, শামা ওবায়েদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু, খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির চৌধুরী, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বরকতউল্লা বুলু, মো. শাজাহান, মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, ড. রেজা কিবরিয়া, মো. মোশাররফ হোসেন এবং সাঈদ আল নোমান। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে মির্জা ফখরুল? দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন—এমন আলোচনা রয়েছে। পাশাপাশি তাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মিত্র দল থেকেও অন্তর্ভুক্তি মিত্র দলগুলোর মধ্য থেকে সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তির তালিকায় রয়েছেন— আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি এবং নুরুল হক নুর। এছাড়া নির্বাচনে পরাজিত হলেও টেকনোক্র্যাট কোটায় আলোচনায় আছেন মাহমুদুর রহমান মান্না। দলীয় নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা ও পেশাগত দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিয়েই টেকনোক্র্যাট কোটার চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। শপথ গ্রহণের দিনই নতুন মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে। রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন—নতুন সরকারে কার হাতে উঠবে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব, আর কতটা ভারসাম্য বজায় রাখতে পারবে নবীন-প্রবীণের এই সমন্বয়।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বরিশালে সাংবাদিকদের ওপর ডিসির ক্ষোভ: নির্বাচনী কার্ড ইস্যুতে হয়রানির অভিযোগ

বরিশালে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর যেন পাহাড়সম ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বর্তমান জেলা প্রশাসক (ডিসি)। পারিবারিক কলহ ও স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে অতীতে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর এই চটে থাকা বলে জানা গেছে। বর্তমানে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের জন্য প্রয়োজনীয় 'নির্বাচনী কার্ড' ইস্যু করাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি। কার্ড ইস্যু নিয়ে চলছে টালবাহানা ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীদের দাবি, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরেও কার্ড দিতে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে। মূলত ডিসির ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণেই মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বরিশালের সাংবাদিক সমাজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং একে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। ব্যক্তিগত আক্রোশের প্রভাব পেশাগত কাজে উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে এই জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়। সেই থেকে সাংবাদিকদের প্রতি তার বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে। ফলস্বরূপ, এখন সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার হরণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিশেষে বলা যায়, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়। নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর সময়ে সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য সংগ্রহের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। একজন সাংবাদিক লিখেছেন, বৌ পেটানো নিউজ করার মাসুল দিচ্ছে বরিশালের সাংবাদিকরা। আরেক সাংবাদিক প্রশাসনের এই প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করে লিখেছেন, ডিসি তার ক্ষমতা দেখাইছে, এখন আমাদের বরিশালের সাংবাদিকদের উচিত সবাই এক হয়ে ক্ষমতা দেখানো। কার পাশা যাবে কার টেবিলে, খেলা যে চলছে কোন লেভেলের! ​নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের জন্য কার্ড একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথি। কিন্তু কার্ড পেতে বিলম্ব হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন তৈরির কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, ​সঠিক কারণ ছাড়াই আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। ​জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। ​স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বরিশালের সংবাদকর্মী মহলে ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এমন ‘ব্যক্তিগত রোষ’ এবং ‘ক্ষমতার দাপট’ রুখতে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো কঠোর কর্মসূচির কথা ভাবছে। নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অবিলম্বে সাংবাদিকদের কার্ড প্রদানের দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও। কে এই ডিসি খাইরুল আলম সুমন যৌতুক সংক্রান্ত মামলায় কারাবাসের অভিযোগ থাকা একজন কর্মকর্তাকে বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশাসনের ভেতর ও বাইরে বিস্ময় ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বরিশালের ডিসি  খায়রুল আলম সুমন ২৯তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা। জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব জেলার আইনশৃঙ্খলা, ম্যাজিস্ট্রেসি ও ভূমিসংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করা—যেখানে ব্যক্তিগত সুনাম ও নৈতিকতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, যাদের ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, এমন কর্মকর্তাকে ডিসি পদে বসানো ইমেজ ও আস্থার প্রশ্ন তৈরি করে। আদালত ও মামলার তথ্য সূত্র অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে ওই মামলায় খায়রুল আলম সুমন ও তার মা খোদেজা বেগমকে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারী থানার এসআই শাহ আলম আদালতে তাদের হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিন—উভয় আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি দীর্ঘ সময় কারাবাসে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের ৫ জুন বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ রাতে ঢাকার ওয়ারী এলাকায় খায়রুলের বাসায় তার মায়ের মাধ্যমে গরম খুন্তি দিয়ে ছেঁকা দেওয়া হয় এবং এ সময় খায়রুল আলম সুমন ভুক্তভোগীর হাত চেপে ধরেন। পরদিন ওয়ারী থানায় মামলা করা হয়। বিভাগীয় মামলা ও পদোন্নতি স্ত্রীর করা মামলার পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েও অভিযোগ দেওয়া হলে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এর ফলে নিয়মিত পদোন্নতি ব্যাহত হয় বলে জানা গেছে। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর উপসচিব পদে তার পদোন্নতির আদেশ জারি হলেও সেখানে ২০২৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ভূতাপেক্ষ (ব্যাকডেটেড) পদোন্নতি দেখানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নিজেকে পদোন্নতিতে বঞ্চিত দাবি করে তিনি ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত তথ্য ও ডিসির বক্তব্য খায়রুল আলম সুমনের ‘ব্যক্তিগত ডাটা শিটে’ (পিডিএস) বর্তমানে তাকে ‘অবিবাহিত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খায়রুল আলম সুমন বলেন, “এসব আমার ব্যক্তিগত তথ্য। আমার নামে বিভাগীয় মামলা  ছিল—সবই কর্তৃপক্ষ জানে এবং জেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি এসব নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।” প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মত জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলা প্রশাসক পদটি কেবল প্রশাসনিক নয়—এটি নৈতিক নেতৃত্বেরও প্রতীক। একজন ডিসির ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ থাকলে জেলার আইনশৃঙ্খলা ও ম্যাজিস্ট্রেসি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশ্ন ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাদের ভাষ্য, “ডিসির সুনামটাই সবচেয়ে জরুরি।” সূত্র জানায়, খায়রুল আলম সুমন প্রবেশনার হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাকরি শুরু করেন। সে সময়ের ডিসি মো. আবদুল মান্নানের মেয়েকে তিনি বিয়ে করেছিলেন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম ডিসি কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া নাঙ্গলকোট, নিকলি ও বাজিতপুরে এসিল্যান্ড এবং ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী ও দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বরিশালের ডিসি হিসেবে তার  নিয়োগ প্রশাসনে নৈতিকতা ও যোগ্যতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও অবস্থান প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পিআইবিতে অবসরপ্রাপ্তদের হয়রানির অভিযোগ: ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী

 রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান Press Institute of Bangladesh (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ-এর কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, পিআইবি থেকে অবসর গ্রহণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিষ্ঠানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের পাওনা সংক্রান্ত বিষয় ঝুলিয়ে রেখে মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। একাধিক সূত্র দাবি করেছে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং তারা অভিযোগ করছেন যে তাদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা নিষ্পত্তি না করে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা চলছে। এছাড়া অভিযোগ উঠেছে যে, প্রতিষ্ঠানে প্রায়  ৩৪ জনকে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নীতিমালার বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে পিআইবির কর্মচারী ফরিদ আহমেদ-এর সঙ্গে অমানবিক আচরণের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, তার সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এই অনিয়ম দুর্নীতি অবৈধ নিয়ম বিষয়ে কথা বলায়,মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে পিআইবির সিনিয়র পরীক্ষক পারভীন সুলতানা রাব্বিকে যড়যন্ত্র ও কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করে বদলি করা হয়েছে এবং আলী হোসেনের সুনিশ্চিত  কারণ ছাড়া অবসর দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করা হয়েছে বলেও জানা যায়। এভাবে অবসরপ্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তির সঙ্গেই তিনি অনুরূপ আচরণ করে থাকেন। এছাড়াও, তিনি প্রায় ৩৪ জন লোককে পিআইবিতে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন।  ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী: বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের অনিয়মের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে মহাপরিচালক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে অনিয়ম ও লুটপাটের মহোৎসবে পরিণত করেছেন—এমন অভিযোগ বিভিন্ন মহলে উত্থাপিত হয়েছে। তাই দ্রুত তাকে অপসারনের দাবী জানিয়েছে সাংবাদিক সমাজ। তিনি ডিজি পদে টিকে থাকার লক্ষ্যে তিনি নানামুখী তৎপরতা ও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বলেও জানা যাচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি রাখে।তথ্যমন্ত্রীর  দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে, বিষয়টির প্রতি যাতে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।

Top week

বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)
মিডিয়া

পিআইবিতে অবসরপ্রাপ্তদের হয়রানির অভিযোগ: ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0