Brand logo light

বাংলাদেশ

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
সমালোচনার জবাবে ফারুকীর ‘কাফফারা’ মন্তব্য: দায়িত্ব পালন, প্রচারণা নাকি রাজনৈতিক বিতর্ক?

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। সাম্প্রতিক সময়ে তাকে ঘিরে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে চলমান সমালোচনার প্রেক্ষাপটে দেওয়া একটি দীর্ঘ ফেসবুক স্ট্যাটাস নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রোববার (৭ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ওই স্ট্যাটাসে ফারুকী দাবি করেন, জনস্বার্থে কাজ করতে গেলে মূল্য দিতে হয় এবং সেই উপলব্ধি নিয়েই তিনি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তবে দায়িত্ব পালনের সময় যে মাত্রার সমালোচনা, আক্রমণ ও বিতর্কের মুখোমুখি হতে হবে, তা তার প্রত্যাশার বাইরে ছিল। ‘ভালো কাজের কাফফারা’ প্রসঙ্গ স্ট্যাটাসের শুরুতেই ফারুকী লেখেন, “প্রত্যেকটা ভালো কাজের একটা কাফফারা দিতে হয়। এটা জেনেই সরকারে ঢোকার ঝুঁকি নিয়েছিলাম। কিন্তু সেটা যে এতটা ভয়াবহ হবে, ভাবিনি।” তার এই মন্তব্যকে অনেকেই সাম্প্রতিক সমালোচনার সরাসরি জবাব হিসেবে দেখছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দায়িত্ব পালনকালে নেওয়া সিদ্ধান্ত এবং জনপরিসরে তার অবস্থান নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেই প্রেক্ষাপটেই তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। সমালোচকদের উদ্দেশে কড়া বার্তা ফারুকী তার স্ট্যাটাসে এমন ব্যক্তিদের সমালোচনা করেন, যাদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া দেওয়াকেও তিনি নিজের জন্য অস্বস্তিকর বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এমন অনেক ব্যক্তি তাকে নিয়ে মন্তব্য করছেন, যাদের তিনি অতীতে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনও অনুভব করেননি। এমনকি তাদের নামও কখনও তার আলোচনার অংশ ছিল না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের কাছ থেকে সেইসব ব্যক্তির মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হচ্ছে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তার বিরুদ্ধে পরিচালিত সমালোচনার একটি অংশকে তিনি গুরুত্বহীন বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করেন। ‘প্রোপাগান্ডা’ অভিযোগ স্ট্যাটাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে ফারুকী দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে পরিচালিত মিথ্যাচার ও সংগঠিত প্রচারণা বরং প্রমাণ করে যে তিনি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সঠিক অবস্থানে ছিলেন। তিনি লেখেন, “এদের মিথ্যাচার এবং সম্মিলিত প্রোপাগান্ডাই বলে দেয়, আমি আমার কাজটা ঠিকমতো করতে পেরেছি।” এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সমর্থকদের একটি অংশ এটিকে দৃঢ় অবস্থান হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, জনসমালোচনাকে পুরোপুরি ‘প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা বাস্তব পরিস্থিতির পূর্ণ প্রতিফলন নাও হতে পারে। ‘মানুষের পক্ষেই ছিলাম’ স্ট্যাটাসের শেষাংশে নিজের রাজনৈতিক ও নৈতিক অবস্থান তুলে ধরেন ফারুকী। তিনি বলেন, দেশের সংকটময় সময়গুলোতে তিনি সবসময় মানুষের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও সেই অবস্থান অব্যাহত থাকবে। তার বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি দাবি করেন, ইতিহাসের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তার অবস্থান ছিল জনগণের পক্ষে। সামাজিক মাধ্যমে নতুন বিতর্ক ফারুকীর স্ট্যাটাস প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে তার সমর্থকরা এটিকে ‘চাপের মুখেও দৃঢ় অবস্থান’ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, দায়িত্ব পালনকালে উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্ন ও বিতর্কের নির্দিষ্ট জবাব না দিয়ে তিনি সমালোচনাকে রাজনৈতিক বা সংগঠিত প্রচারণা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সংস্কৃতি অঙ্গনের পরিচিত মুখ থেকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে আসা এবং পরে দায়িত্ব ছাড়ার অভিজ্ঞতা ফারুকীকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে গেছে, যেখানে তার প্রতিটি বক্তব্য রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যাখ্যার বিষয় হয়ে উঠছে। ফলে তার সর্বশেষ ‘কাফফারা’ মন্তব্য শুধু ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া নয়, বরং সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্কেরও একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৭, ২০২৬ 0
আইনমন্ত্রী মো.আসাদুজ্জামান। ফাইল ছবি
রামিসা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড: ছয় কার্যদিবসে রায়, উচ্চ আদালতেও বহালের আশা আইনমন্ত্রীর

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়কে বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে তুলে ধরেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। রোববার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে সোহেলকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করেই মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে মামলাটির নিষ্পত্তি করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এত দ্রুত সময়ে একটি জঘন্য অপরাধের বিচার সম্পন্ন হওয়ার ঘটনা। কীভাবে দ্রুত সম্পন্ন হলো বিচার? সরকারের দাবি অনুযায়ী, মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ প্রশাসনিক ও বিচারিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। প্রধান বিচারপতির সম্মতিতে সংশ্লিষ্ট শিশু ট্রাইব্যুনালকে আদালতের নিয়মিত অবকাশের আওতার বাইরে রাখা হয়। ২৪ মে মামলাটি ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পর বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ১ জুন অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ, আসামিদের জবানবন্দি গ্রহণ এবং যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন করা হয়। সবশেষে কার্যত ছয় কার্যদিবসের মধ্যেই আদালত রায় ঘোষণা করেন। আইনমন্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচার যাতে কোনোভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে আইনের সব বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। এমনকি আসামিপক্ষ আইনজীবী নিয়োগ না করায় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের জন্য আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। উচ্চ আদালতে কী হবে? বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর হওয়ার আগে উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এ প্রক্রিয়াকে ডেথ রেফারেন্স বলা হয়। আইনমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি করলে আগামী তিন মাসের মধ্যেই এ মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন করা সম্ভব হতে পারে। তিনি আরও জানান, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন থাকা ডেথ রেফারেন্স মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট অধিক গুরুত্ব দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের জবাব রায়ের আগে ও পরে মামলাটিকে ঘিরে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হয়। বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পর মামলার নথিতে না থাকা একজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেন। আইনমন্ত্রীর দাবি, বিচারপ্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করা এবং জনমতকে অন্যদিকে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যেই এমন বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভ্রান্ত না হয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এগিয়ে গেছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করেছে। দ্রুত বিচার বনাম ন্যায়বিচার বাংলাদেশে আলোচিত অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত বিচার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। একদিকে ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত শাস্তি প্রত্যাশা করে, অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠন ও আইন বিশেষজ্ঞরা বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও যথাযথতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সরকারের দাবি, রামিসা হত্যা মামলায় দ্রুত বিচার হলেও কোনো ধাপ এড়িয়ে যাওয়া হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নিয়োগ থেকে শুরু করে সাক্ষ্যগ্রহণ ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ—সবকিছুই আইনের কাঠামোর মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। সমাজের জন্য কী বার্তা? আইনমন্ত্রী মনে করেন, কেবল কঠোর শাস্তি দিয়ে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো অপরাধ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, পারিবারিক সচেতনতার ঘাটতি এবং সামাজিক প্রতিরোধের দুর্বলতা এ ধরনের অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তাই আইনের পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। যে ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং দ্রুত বিচারের দাবি ওঠে। সেই দাবির প্রেক্ষাপটে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মামলাটির বিচার সম্পন্ন হয়েছে। এখন নজর থাকবে উচ্চ আদালতের ডেথ রেফারেন্স শুনানি এবং চূড়ান্ত বিচারিক পরিণতির দিকে। রামিসা হত্যাকাণ্ড শুধু একটি ফৌজদারি মামলার রায় নয়; এটি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার গতি, দক্ষতা এবং জনআস্থার প্রশ্নেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৭, ২০২৬ 0
বিইআরসি
জেট ফুয়েলের দাম কমাল বিইআরসি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য নিম্নমুখী হওয়ায় দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোর জন্য জেট এ-১ (Jet A-1) ফুয়েলের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন এই মূল্য নির্ধারণের ফলে এয়ারলাইন্সগুলোর পরিচালন ব্যয় কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রোববার (৭ জুন) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বিইআরসি জানায়, অভ্যন্তরীণ রুটে পরিচালিত এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য জেট এ-১ ফুয়েলের দাম প্রতি লিটারে ১৫ টাকা ৬৭ পয়সা কমিয়ে ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা থেকে ১৫০ টাকা ২১ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক রুটে পরিচালিত এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের মূল্য ১ দশমিক ০৮২৩ মার্কিন ডলার থেকে কমিয়ে ০ দশমিক ৯৮০৮ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর জন্য প্রতি লিটারে ০.১০১৫ মার্কিন ডলার মূল্যহ্রাস করা হয়েছে। বিইআরসি’র সচিব মো. নজরুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, নতুন এই মূল্য ৭ জুন রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে। মূল্য কমানোর পেছনে কী কারণ? বিইআরসি বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জেট ফুয়েলের মূল্য নির্ধারণে বহুল ব্যবহৃত সূচক ‘প্লাটস রেট’-এর সাম্প্রতিক গড় মূল্য বিবেচনায় নিয়ে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২২ মে থেকে ৪ জুন ২০২৬ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে জেট ফুয়েলের গড় প্লাটস রেট বিশ্লেষণ করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) আমদানি ব্যয়, এলসি নিষ্পত্তির সময়কার ডলার বিনিময় হার এবং সরবরাহ ব্যয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল ও এভিয়েশন ফুয়েলের দাম ওঠানামা করায় স্থানীয় বাজারেও সময়ে সময়েই সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়। বিইআরসি সেই আন্তর্জাতিক মূল্য প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা করেছে। গণশুনানির পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিইআরসি জানিয়েছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এবং পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের (পিওসিএল) প্রস্তাবের ভিত্তিতে কমিশন গণশুনানির আয়োজন করে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩-এর ৩৪(৪) ও ৩৪(৬) ধারা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত ওই গণশুনানিতে জেট এ-১ ফুয়েলের আন্তর্জাতিক মূল্য, আমদানি ব্যয়, ডলারের বিনিময় হার এবং সরবরাহ ব্যয়ের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। পর্যালোচনা শেষে জুন মাসের জন্য নতুন মূল্য অনুমোদন করে কমিশন। যাত্রীদের জন্য কি সুখবর? বিমান পরিবহন খাতে জ্বালানি ব্যয় সাধারণত মোট পরিচালন ব্যয়ের অন্যতম বড় অংশ। ফলে জেট ফুয়েলের দাম কমলে এয়ারলাইন্সগুলোর পরিচালন ব্যয় কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র জ্বালানির দাম কমলেই সঙ্গে সঙ্গে বিমান ভাড়া কমে যাবে—এমনটি নিশ্চিত নয়। কারণ বিমান সংস্থাগুলোকে বিমান লিজ, রক্ষণাবেক্ষণ, বীমা, বিমানবন্দর চার্জ, বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় এবং অন্যান্য পরিচালন খরচও বহন করতে হয়। তবুও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ব্যয় কম থাকলে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে যাত্রীদের জন্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী ভাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয়ের ইঙ্গিত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জ্বালানি পণ্যের মূল্য নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও নিয়মিত সমন্বয় প্রক্রিয়া চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জেট এ-১ ফুয়েলের সর্বশেষ মূল্যহ্রাস সেই নীতিরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য স্থিতিশীল থাকলে এবং ডলারের বিনিময় হার বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি না করলে ভবিষ্যতেও এভিয়েশন ফুয়েলের দামে সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফলে বিমান পরিবহন খাতের ব্যয় কাঠামোতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৭, ২০২৬ 0
টিআইবি
দুই মাসে ৬০৫ হত্যা, ২০৯ ধর্ষণ ও ৩,৪৯৬ নারী-শিশু নির্যাতন: আইনশৃঙ্খলা নিয়ে টিআইবির গভীর উদ্বেগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপ্যারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিল—এই দুই মাসে দেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড, ২০৯টি ধর্ষণ, ৩ হাজার ৪৯৬টি নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। রোববার (৭ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। ‘সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের ১০০ দিনের কার্যক্রম’ শীর্ষক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করা হয় অনুষ্ঠানে। অপরাধের পরিসংখ্যান কী বলছে? টিআইবির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে সংঘটিত অপরাধের সংখ্যা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। সংস্থাটির তথ্যমতে— হত্যাকাণ্ড: ৬০৫টি ধর্ষণ: ২০৯টি নারী ও শিশু নির্যাতন: ৩,৪৯৬টি অপহরণ: ১৯৬টি এছাড়া একই সময়ে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ৮০টি ঘটনায় ৪২ জন নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মানবাধিকার পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আলোচিত সময়কালে একটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং কারা হেফাজতে ১৮ জনের মৃত্যুর ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে। সরকারের প্রথম ১০০ দিন: আশার পাশাপাশি উদ্বেগ নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কার্যক্রম মূল্যায়ন করতে গিয়ে টিআইবি বলছে, কিছু ইতিবাচক সম্ভাবনা দৃশ্যমান হলেও সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে এখনো সুস্পষ্ট ও কার্যকর রোডম্যাপের ঘাটতি রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও নীতিগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কিছু উদ্যোগ দেখা গেলেও বাস্তবায়ন কাঠামো এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার প্রশ্নে এখনও উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। তার মতে, এসব সীমাবদ্ধতা দূর করা না গেলে ভবিষ্যতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে বড় ধরনের বাধা তৈরি হতে পারে। নিয়োগে দলীয় প্রভাবের অভিযোগ টিআইবির পর্যবেক্ষণে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় বিবেচনার অভিযোগও গুরুত্ব পেয়েছে। সংস্থাটি মনে করছে, প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত না হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ জনআস্থার জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে। উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে অভিযোগে দুদকের ভূমিকা চাইল টিআইবি সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, অভিযোগগুলোর সত্যতা থাকলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উচিত নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত পরিচালনা করা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত অবস্থানকে বিশ্বাসযোগ্য করতে হলে অভিযোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা পদমর্যাদা নয়, বরং তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিবেদন? বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা, মানবাধিকার এবং সুশাসন নিয়ে আলোচনার মধ্যে টিআইবির এই প্রতিবেদন নতুন করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মব সহিংসতার পরিসংখ্যান জননিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে সরকারের ঘোষিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, বিচারিক স্বচ্ছতা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ—এই চারটি ক্ষেত্রেই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সক্ষমতা আগামী দিনের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৭, ২০২৬ 0
মিজানুর রহমান
বিসিবি নির্বাচন: সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে পরিচালক হলেন মিজানুর রহমান,কাউকেই ভোট দেননি রুবেল

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার বেশির ভাগ পরিচালকই নির্বাচিত হয়ে গেছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। তবে  নির্বাচন হয়েছে  খুলনা ও বরিশাল বিভাগ এবং ক্লাব ক্যাটাগরিতেই। ক্লাবগুলোকে নিয়ে ক্যাটাগরি-২ এ ১২ পরিচালককে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন ৭৬ জন কাউন্সিলর। এই পদগুলোর জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন ১৬ জন প্রার্থী। সর্বোচ্চ ৭৩ ভোট পেয়ে পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্বে থাকা অ্যাডহক কমিটির প্রধান ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। ক্লাব ক্যাটাগরির নির্বাচনে হেরে যাওয়া চার প্রার্থী হলেন মেজর ইমরোজ আহমেদ, ফৈয়াজুর রহমান, আমজাদ হোসেন ও সৈয়দ বোরহানুল হোসেন।  জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে নিয়ে ক্যাটাগরি-১ এ ১০ পরিচালকের ৭ জনই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বরিশালে ভোটের সমীকরণ বিসিবির ক্যাটাগরি-১-এর আওতায় জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের ভোটে পরিচালক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বরিশাল বিভাগে পরিচালক পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মিজানুর রহমান মিজান এবং মুন্তাসির আলম। নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, মিজানুর রহমান মিজান পেয়েছেন ৫ ভোট এবং মুন্তাসির আলম পেয়েছেন মাত্র ১ ভোট। তবে ভোটের হিসাব পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, বরিশালের কাউন্সিলর মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন রুবেল কোনো প্রার্থীকেই ভোট দেননি। স্থানীয় ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের একাংশের মতে, কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী একজন প্রতিনিধির ভোটদান থেকে বিরত থাকা বা কাউকে সমর্থন না করা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া সংস্থার অভ্যন্তরে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।   ভোট হয়েছে খুলনা ও বরিশাল বিভাগে ভোট হয়েছে খুলনা ও বরিশাল বিভাগে। এর মধ্যে বরিশালের একটি পদে মুন্তাসির আলমকে হারিয়ে বিসিবির পরিচালক হয়েছেন বিপিএলের দল ফরচুন বরিশালের মালিক মিজানুর রহমান। বরিশালে ক্রীড়ার উন্নয়নে,খেলাধুলার প্রসারে ও সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ  বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বরিশাল জেলার কাউন্সিলর হন মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন রুবেল। তিনি পরিচালক পদে নির্বাচনে মিজানুর রহমান মিজান ও মুন্তাসির আলম এ দু প্রার্থীর কাউকেই ভোট প্রদান করেন নি। স্থানীয় লোকজন জানান,তাতে দ্রুত ক্রীড়া সংস্থা থেকে অপসারন করা হোক। এদিকে মুন্তাসির আলম তিনি তার নিজের একটি ভোট পেয়েছেন।অপরদিকে মিজানুর রহমান মিজান পেয়েছেন ৫ ভোট। বরিশালের কাউন্সিলর মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন রুবেল কাউকেই ভোট প্রদান করেন নি।   বিজয়ী মিজানুর রহমানের উত্থানের গল্প মিজানুর রহমান মিজান হলেন দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রপ্তানিমুখী জুতা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ফরচুন সুজ লিমিটেড এবং জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ফরচুন বরিশাল-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। ২০১২ সালে তিনি বরিশালের বিসিক শিল্পনগরীতে ফরচুন সুজ নামে তাঁর স্বপ্নের জুতার কারখানাটি প্রতিষ্ঠা করেন । বর্তমানে এটি একটি শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান, যা ইউরোপ ও আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য ব্র্যান্ডের জুতা তৈরি করে থাকে । তিনি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ফ্র্যাঞ্চাইজি ফরচুন বরিশালের মালিক এবং চেয়ারম্যান ।কর্মজীবন ও সংগ্রামব্যক্তিগত জীবনে তিনি ১৯৯৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে পড়ার সময় বাবার আকস্মিক মৃত্যুর সম্মুখীন হন ।সংসারের হাল ধরতে তিনি চাকরি নেন সেখান থেকে ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা অর্জন করে একক উদ্যোগে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন এবং নিজ জন্মস্থান বরিশালে শিল্পায়নের পথ সুগম করেন।   খুলনায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা, নির্বাচিত দুই পরিচালক খুলনা বিভাগে দুই পরিচালক পদের বিপরীতে ৩ জন প্রার্থী ছিলেন। তাদের মধ্যে শান্তনু ইসলাম ও শফিকুল আলম পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন সংস্থা নিয়ে গঠিত ক্যাটাগরি-৩ এ আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর।পরিচালকদের ভোটে বিসিবির নতুন সভাপতি নির্বাচিত হবেন । সেটি তামিম ইকবাল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।   বিসিবির পরিচালক হলেন যারা ক্যাটাগরি-১ঢাকা বিভাগ: সাইদ বিন জামান, এস এম আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ।চট্টগ্রাম বিভাগ: মিনহাজুল আবেদীন, মঈন উদ্দিন চৌধুরীখুলনা বিভাগ: শফিকুল আলম, শান্তনু ইসলাম।রাজশাহী বিভাগ: মীর শাকরুল আলম।রংপুর বিভাগ: মির্জা ফয়সল আমীন।সিলেট বিভাগ: আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।বরিশাল বিভাগ: মিজানুর রহমান। ক্যাটাগরি - ২ তামিম ইকবাল, মাসুদুজ্জামান, ফাহিম সিনহা, আসিফ রব্বানী, ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, ইসরাফিল খসরু, রফিকুল ইসলাম, সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, শানিয়ান তানিম, সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ, সাকিফ আহমেদ,ক্যাটাগরি - ৩ সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর।   বরিশালের ভোট নিয়ে এখন কয়েকটি প্রশ্ন স্থানীয় ক্রীড়া মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে— কাউন্সিলর মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন রুবেল কেন কোনো প্রার্থীকে ভোট দিলেন না? এটি কি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত? বরিশালের ক্রিকেট প্রশাসনে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী হতে পারে? নতুন পরিচালক হিসেবে মিজানুর রহমান মিজান বরিশালের ক্রিকেট অবকাঠামো উন্নয়নে কী ধরনের উদ্যোগ নেবেন?    

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৭, ২০২৬ 0
আগস্টে তফসিল, অক্টোবরে ভোটগ্রহণ: স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি শুরু ইসির

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল চলতি বছরের আগস্ট মাসে ঘোষণা করা হতে পারে এবং অক্টোবরের শেষ দিকে মাঠপর্যায়ে ভোটগ্রহণ শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ নাকি সিটি করপোরেশন— কোন স্তরের নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে সরকারের নীতিগত সম্মতির অপেক্ষায় রয়েছে সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠান। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য, সুশৃঙ্খল ও ত্রুটিমুক্ত করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন শুরু হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পর সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন— এই পাঁচ ধরনের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। কেন আগে হতে পারে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন আগে আয়োজন করাই নিয়মসম্মত এবং বাস্তবসম্মত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা পদাধিকারবলে উপজেলা পরিষদের সদস্য হন। ফলে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন না করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করা যৌক্তিক নয়। তিনি বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন আগে হওয়াই নিয়ম অনুযায়ী সঠিক। সমান্তরালভাবে সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হলেও জেলা পরিষদ নির্বাচন কোনোভাবেই আগে করা যাবে না। সেটি সবার শেষে হবে।” তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য সময়সূচি সম্পর্কে তিনি জানান, “অক্টোবরের শেষ দিকে ভোটগ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা থাকলে আগস্ট মাসেই তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।” নারী প্রতিনিধিত্ব ও নির্বাচন কাঠামো নির্বাচন কমিশনার জানান, উপজেলাধীন ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার কাউন্সিলের মোট আসনের এক-তৃতীয়াংশ নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এসব সংরক্ষিত সদস্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য বা পৌরসভার নারী কাউন্সিলরদের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন। তিনি আরও বলেন, সরকার ইউনিয়ন পরিষদ ব্যবস্থা বাতিল করেনি। তবে অধিকাংশ পরিষদ বর্তমানে কার্যত শূন্য অবস্থায় রয়েছে। ফলে নিয়ম অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন দিয়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। নির্বাচন বিধিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত করতে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন বিধিমালা ও আচরণবিধিতে ব্যাপক পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। জুন মাসের মধ্যেই সংশোধিত খসড়া চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে— নির্বাচনি পোস্টার নিষিদ্ধ করা; অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ না রাখা; দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে নির্দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন আয়োজন; ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার না করা; দেশে ও বিদেশে পোস্টাল ব্যালটে ভোট গ্রহণ না করা; পলাতক আসামিদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়া; স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ভোটারের ১ শতাংশ সমর্থনের বাধ্যবাধকতা বাতিল; প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধি; সেনাবাহিনী মোতায়েন না করা; হলফনামার সঙ্গে আচরণবিধি মেনে চলার অঙ্গীকার যুক্ত করা। আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “প্রার্থীদের জন্য আলাদা অঙ্গীকারনামা থাকবে না। তবে ঘোষণাপত্রে আচরণবিধি মেনে চলার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।” সংলাপ নয়, মতামত নেওয়া হবে ওয়েবসাইটে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার পর তা জনসাধারণের মতামতের জন্য কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এ বিষয়ে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “আমরা এই মাসেই কাজ শেষ করে খসড়াটি ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করে দেবো। সবাই সেখানে মতামত দিতে পারবেন।” রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সংলাপের সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি বলেন, “এ মুহূর্তে আলাদা করে সংলাপ বা বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এসব আলোচনায় নতুন কিছু খুব বেশি পাওয়া যায় না। তবে প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।” তার মতে, রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, সুশীল সমাজসহ সব নাগরিক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মতামত দিতে পারবেন। আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে কী বলছে ইসি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রার্থী হতে পারবেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে প্রার্থীর যোগ্যতা ও আইনগত অবস্থানই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত বা অন্য কোনো দল নয়— আমাদের কাছে প্রার্থী গুরুত্বপূর্ণ। যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্ত পূরণ করলে যে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন। তিনি কোন দল করেন, সেটি নির্বাচন কমিশনের বিবেচ্য বিষয় নয়।” দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের বর্তমান চিত্র নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোট ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে ৪ হাজার ৫৮১টি। এর মধ্যে চলতি বছর নির্বাচন উপযোগী হবে ৩ হাজার ৭৫৫টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং আগামী বছরে আরও ৩৪৯টি। এ ছাড়া নির্বাচন উপযোগী অবস্থায় রয়েছে— ৩৩০টি পৌরসভা; ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ; ১২টি সিটি করপোরেশন; ৬১টি জেলা পরিষদ। সরকার সম্প্রতি বগুড়াকে নতুন সিটি করপোরেশন হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে। ফলে দেশে সিটি করপোরেশনের সংখ্যা বেড়ে ১৩টিতে দাঁড়াবে। একই সঙ্গে নতুন পাঁচটি উপজেলা অনুমোদনের ফলে উপজেলার সংখ্যা হবে ৫০০। স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে এবং কোন স্তর দিয়ে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি ও সরকারের পরিকল্পনা ইঙ্গিত দিচ্ছে— দীর্ঘ বিরতির পর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচনী কার্যক্রম আবারও শুরু হতে যাচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৭, ২০২৬ 0
নোয়াখালী সদরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে আ.লীগের হামলা ছাত্রদলের ওপর, মোটরসাইকেলে আগুন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ছাত্রদলের একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। সংঘর্ষে নোয়াখালী শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয়সহ ছাত্রদল ও যুবদলের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শুল্লুকিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট এলাকায় ছাত্রলীগের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেলের নেতৃত্বে একই এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে ছাত্রদল। সমাবেশ চলাকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা খবর পান যে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে কালাদরাপ ইউনিয়নে একটি মিছিল করেছেন। পরে কর্মসূচি শেষ করে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে ফেরার পথে তারা কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিমকে তার বাড়ির পাশের একটি দোকানে দেখতে পান। এ সময় মিছিলকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যানের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বাগবিতণ্ডা হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে মসজিদের মাইকে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার খবর প্রচার হলে আওয়ামী লীগ ও চেয়ারম্যানের সমর্থকেরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি ছাত্রদলের একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শ্রমিকদল নেতা হৃদয়সহ অন্তত ছয়জন আহত হন। স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, রাত পৌনে ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়ে শাহাদাত হোসেন সেলিমের একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করেন। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেল অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিলের জন্য জড়ো হয়েছিল। খবর পেয়ে ওয়ার্ড ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। পরে বাঁধেরহাটের কর্মসূচি শেষ করে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে নেতাকর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। হামলায় ছাত্রদলের ছয়জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে, সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষ, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ এবং একটি অফিসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যরা অবস্থান করছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় নজরদারি অব্যাহত রেখেছেন। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৭, ২০২৬ 0
তনহাদ আহমেদ নীরব
বরিশালে ইয়াবা-গাঁজাসহ আটক পুলিশ কনস্টেবল: মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চাঞ্চল্য

বরিশাল অফিস :    বরিশাল নগরীর কেডিসি কলোনি এলাকায় ইয়াবা ও গাঁজাসহ এক পুলিশ কনস্টেবলকে আটকের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভ্যন্তরে মাদক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যে বাহিনী মাদক নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করে, সেই বাহিনীরই একজন সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক রাখার অভিযোগ উঠায় ঘটনাটি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তনহাদ আহমেদ নীরব (২৫) নামে ওই কনস্টেবলকে আটক করা হয়। তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) লাইন্সের রেশন স্টোরে কর্মরত ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি মডেল থানার অধীন স্টিমারঘাট ফাঁড়ি পুলিশের একটি দল কেডিসি কলোনি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন হিসেবে তনহাদ আহমেদ নীরবকে তল্লাশি করা হলে তার কাছ থেকে ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করেছে পুলিশ। ঘটনার পরপরই তাকে হেফাজতে নেওয়া হয় এবং উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ কেন গুরুত্বপূর্ণ? বাংলাদেশে মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অন্যতম প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা। ফলে বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলে তা শুধু একটি ব্যক্তিগত অপরাধের অভিযোগে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং পুরো ব্যবস্থার জবাবদিহিতা, অভ্যন্তরীণ নজরদারি এবং শৃঙ্খলা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এমন ঘটনা বিচ্ছিন্ন হলেও তা জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে মাদকবিরোধী অভিযানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কেডিসি কলোনি ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয়দের অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একজন সদস্যের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযুক্তের দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, আটক কনস্টেবল তনহাদ আহমেদ নীরবের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের পরিমাণ, তার উৎস এবং এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত কি না—সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক উদ্ধারের ঘটনাটি শুধু একটি আটক অভিযানে সীমাবদ্ধ না রেখে এর পেছনে সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক বা যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও অনুসন্ধান করা হবে। তদন্তে যেসব প্রশ্ন সামনে আসছে ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— উদ্ধার হওয়া মাদকের উৎস কোথায়? আটক কনস্টেবল ব্যক্তিগতভাবে মাদক বহন করছিলেন, নাকি কোনো বৃহত্তর চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন? দীর্ঘদিন ধরে এমন কর্মকাণ্ড চলছিল কি না? বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নজরদারি ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না? এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি বা সদস্যের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে।   বরিশালে ইয়াবা ও গাঁজাসহ এক পুলিশ কনস্টেবল আটকের ঘটনা শুধু একটি নিয়মিত মাদক উদ্ধারের ঘটনা নয়; বরং এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তদন্তের ফলাফলই নির্ধারণ করবে ঘটনাটি ব্যক্তিগত অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি এর পেছনে আরও বড় কোনো চিত্র রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৫, ২০২৬ 0
আহসান হাবিব লিংকন
প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে, এরপর কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাত: বরিশালে লিংকন,পান্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল নগরীর গণপাড়া এলাকায় রাজনৈতিক পরিচয়, পারিবারিক প্রভাব এবং সম্পত্তি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে আহসান হাবিব লিংকন, রেজাউল ইসলাম পান্না ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে বিয়ে করে সম্পত্তি আত্মসাৎ, জমি দখল, আদালতে মামলা , প্রভাব বিস্তার, ভুক্তভোগীকে হয়রানি এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নিয়ে বিতর্ক। অভিযোগগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ফরিদা মাফরোজা (রিক্তা) নামের এক নারী। তার দাবি, দীর্ঘ প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের মাধ্যমে তাকে একটি পরিকল্পিত সম্পদ দখল প্রক্রিয়ার মধ্যে ফেলা হয়। পরবর্তীতে তার সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেওয়ার পর তাকে তালাক দেওয়া হয়। বর্তমানে সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার জন্য আদালতে লড়াই চালিয়ে গেলেও নানা ধরনের চাপ ও হয়রানির মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে যে পরিবার অভিযোগের তীর মূলত বরিশাল মহানগরের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের গণপাড়া এলাকার বাসিন্দা রেজাউল ইসলাম পান্না ও তার পরিবারের দিকে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, রেজাউল ইসলাম পান্না নিজেকে বিএনপি ও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে পরিচয় দিলেও তার রাজনৈতিক অবস্থান এবং প্রভাব নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি একইসঙ্গে বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মশিউরের আপন ভাই হিসেবেও পরিচিত। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, অতীতের রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন মহলের সঙ্গে সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ও বর্তমানে রেজাউল ইসলাম পান্না বরিশাল নগরীর ৩০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক আহবায়ক মিশাদ বেগের নাম ভাঙ্গিয়ে  প্রভাব বিস্তার করছেন বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে। প্রেম থেকে বিয়ে, তারপর সম্পত্তি বিরোধ ভুক্তভোগী ফরিদা মাফরোজার বর্ণনা অনুযায়ী, ২০০৬ সালে ঢাকায় চাকরির সুবাদে আহসান হাবিব লিংকনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয় ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয় এবং দীর্ঘ ছয় বছরের সম্পর্কের পর ২০১২ সালের ৭ সেপ্টেম্বর দুই লাখ টাকা কাবিনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। রিক্তার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তার ওপর আর্থিক নির্ভরতা তৈরির চেষ্টা শুরু হয়। ধীরে ধীরে তাকে বিভিন্ন বিনিয়োগ ও জমি ক্রয়ের বিষয়ে উৎসাহিত করা হয়। পরিবারের সদস্যদের পরামর্শে বরিশালের গণপাড়া ও মংগলহাটা এলাকায় কয়েক দফায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার জমি কেনা হয়। তার দাবি, পরবর্তীতে পরিস্থিতি এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে জমির মালিকানা তার হাতছাড়া হয়ে যায়। ‘হেবা দলিলের’ মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের অভিযোগ ফরিদা মাফরোজা অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে তাকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ প্রয়োগ করা হয়, যার ফলে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ বা ভারসাম্যহীন অবস্থায় পড়েন। তার ভাষ্যমতে, সেই সুযোগে তার কাছ থেকে হেবা দলিলের মাধ্যমে জমিগুলো অন্যের নামে লিখে নেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর দাবি, দলিল সম্পাদনের সময় তিনি স্বাভাবিক মানসিক অবস্থায় ছিলেন না এবং বিষয়টি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণাও তার ছিল না। তবে এই অভিযোগ আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্তৃপক্ষের। সম্পত্তি হস্তান্তরের পর তালাক ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তনের পর পারিবারিক সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়।পরবর্তীতে তাকে বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে তালাক দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।ফরিদা মাফরোজা বলেন, “যে মানুষকে বিশ্বাস করে জীবন গড়তে চেয়েছিলাম, শেষ পর্যন্ত সেই বিশ্বাসই আমার সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ হয়েছে।”তার অভিযোগ, তালাকের পর সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার জন্য আইনি লড়াই শুরু করলে তাকে নানাভাবে বাধার মুখে পড়তে হয়। আদালতের দ্বারস্থ ভুক্তভোগী নিজের দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য ফরিদা মাফরোজা বরিশাল সদর আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করেছেন। ভুক্তভোগী পক্ষের সরবরাহ করা নথি অনুযায়ী, ০৫/২০২১ এবং ৬৪৯/২১ নম্বর মামলায় সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিচারাধীন রয়েছে।তিনি অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।তার আরও দাবি, এসব কার্যক্রমের পেছনে রেজাউল ইসলাম পান্না প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। আমমোক্তারনামা ও মামলার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, রেজাউল ইসলাম পান্না তার ভাই আহসান হাবিব লিংকনের কাছ থেকে আমমোক্তারনামা গ্রহণ করে সম্পত্তি ও আদালত-সংক্রান্ত বিষয়গুলো পরিচালনা করছেন। তাদের দাবি, মামলার কার্যক্রমে পান্নার সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণেও তিনি প্রভাব বিস্তার করছেন।এ বিষয়ে আমমোক্তারনামা, মামলা সংক্রান্ত নথি এবং সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের একটি চিঠির কপিও ভুক্তভোগী পক্ষ সরবরাহ করেছে বলে জানা গেছে। মসজিদের জমি নিয়েও নতুন অভিযোগ ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিরোধের বাইরেও রেজাউল ইসলাম পান্নার বিরুদ্ধে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তার এক নিঃসন্তান চাচার দেওয়া পূর্ব চহঠা জামে মসজিদের প্রায় ১৬ শতাংশ জমি, যার বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা, কৌশলে নিজের নামে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। মসজিদ কমিটি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ স্থানীয় সূত্রগুলোর আরও দাবি, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব ব্যবহার করে গণপাড়া দেওয়ান বাড়ি জামে মসজিদ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়েছেন রেজাউল ইসলাম পান্না।একইসঙ্গে মসজিদ পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।   স্থানীয়দের দাবি: প্রয়োজন গভীর তদন্ত গণপাড়া এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সম্পত্তি বিরোধ, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার এবং স্থানীয় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে রেজাউল ইসলাম পান্না ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। তাদের মতে, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষ অনুসন্ধান চালালে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। 

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৫, ২০২৬ 0
বিদ্যুৎ বিল
গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল বাড়ল প্রায় ১৫%: নিম্ন আয়ের পরিবারে নতুন চাপের আশঙ্কা

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দেশের সবচেয়ে কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী শ্রেণি—‘লাইফ লাইন’ গ্রাহকরাও এখন আর মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে বাইরে নয়। নতুন সিদ্ধান্তে এই শ্রেণির বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, ফলে সীমিত আয়ের লাখো পরিবারকে মাস শেষে বাড়তি বিল গুনতে হবে। নতুন মূল্যহার অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন নীতির এই পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর—যারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ভর্তুকি সুবিধার আওতায় ছিল।  কত মানুষের ওপর পড়ছে প্রভাব? সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে লাইফ লাইন গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৭৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৮০ জন। এর মধ্যে শুধু পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় রয়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯১টি সংযোগ। অর্থাৎ, গ্রামাঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠী এই মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাবে পড়ছে।   বাস্তবে কত বাড়ছে বিল? বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ বিল শুধু ইউনিট মূল্যের ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে— ডিমান্ড চার্জ ভ্যাট মিটার ভাড়া ফলে ইউনিট মূল্য ১৫ শতাংশ বাড়লেও বাস্তবে গ্রাহকদের মোট বিল প্রায় ১৮ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। হিসাব অনুযায়ী, মাসে সর্বোচ্চ ৫০ ইউনিট ব্যবহারকারী একজন গ্রাহককে প্রায় ৩৭ টাকা অতিরিক্ত বিল দিতে হতে পারে। যদিও অঙ্কটি আপাতদৃষ্টিতে ছোট মনে হতে পারে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন—নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য প্রতিটি অতিরিক্ত টাকা গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যেখানে খাদ্য ও জ্বালানির ব্যয়ও বাড়ছে।   নীতির পেছনের চাপ: ভর্তুকি বনাম অর্থনীতি বিদ্যুৎ খাতের এই মূল্য সমন্বয়কে ব্যাখ্যা করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বুধবার ঘোষণায় সংস্থাটি পাইকারি পর্যায়ে ১৯.৮৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জানায়। বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, ভর্তুকির চাপ কমানো এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, লাইফ লাইন গ্রাহকদের জন্য তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম—প্রায় ১৫ শতাংশ হারে মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সরকার ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব পেয়েছিল। কিন্তু সব পক্ষের মতামত বিবেচনা করে গড়ে ১৯.৮৫ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।  বিদ্যুৎ খাতের বড় সমস্যা: ক্যাপাসিটি চার্জ বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ের বড় অংশ তৈরি করছে ‘ক্যাপাসিটি পেমেন্ট’। বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রস্তুত থাকলেও উৎপাদন না করলেও নির্দিষ্ট অর্থ পরিশোধ করতে হয় সরকারকে—যা সামগ্রিক ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিইআরসি চেয়ারম্যানও বলেন, দক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বেশি বিদ্যুৎ গ্রহণ এবং অদক্ষ কেন্দ্রের ব্যবহার কমানোর ওপর জোর দেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্যাপাসিটি পেমেন্ট কমানোর সুযোগ আছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।    প্রশ্নের মুখে নীতি বাস্তবতা নতুন সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে—যাদের জন্য এতদিন ভর্তুকি ছিল, তারাই কেন এখন বাড়তি চাপের মুখে? অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যার বোঝা এখন সরাসরি ভোক্তার কাঁধে গিয়ে পড়ছে। বিশেষ করে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এটি একটি নতুন অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৪, ২০২৬ 0
‘মেমেই’ নামের কেমিক্যাল ট্যাংকার।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় চট্টগ্রামে আটকে ‘মেমেই’ ট্যাংকার, ৬০ কোটি টাকার কেমিক্যাল জাহাজ ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজ ভাঙার জন্য আমদানি করা একটি কেমিক্যাল ট্যাংকারকে ঘিরে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর ‘মেমেই’ নামের জাহাজটি বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আটকে আছে। ফলে জাহাজটি সৈকতে ভেড়ানো বা ভাঙার কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে প্রায় ৬০ কোটি ৮০ লাখ টাকা মূল্যের জাহাজটি ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসএন করপোরেশন। কী ঘটেছে? আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘মেমেই’ নামের ৪৪ হাজার ৮০০ টন ধারণক্ষমতার কেমিক্যাল ট্যাংকারটি স্ক্র্যাপ হিসেবে ভাঙার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আনা হয়। গত ২২ মে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। তবে জাহাজটি বাংলাদেশে পৌঁছানোর মাত্র ছয় দিনের মাথায়, ২৮ মে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর এবং অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) এটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত করে। এসএন করপোরেশনের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক ওমর ফারুক বলেন, জাহাজটি ভাঙার জন্য আমদানি করা হয়েছিল। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে। এখনো জাহাজটির মূল্য পরিশোধ করা হয়নি এবং সেটি ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। কেন নিষেধাজ্ঞা? মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ‘মেমেই’ ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ছিল। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশলের অংশ হিসেবে জাহাজটিকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। শুধু ‘মেমেই’ নয়, এর হংকংভিত্তিক মালিক ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ‘এভার শাইনিং লিমিটেড’ এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত ‘ফ্লোরা’ নামের আরেকটি জাহাজও একই নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে। চট্টগ্রামে কেন আটকে আছে জাহাজটি? আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সাধারণত বৈশ্বিক পর্যায়ে কার্যকর হয়। ফলে কোনো জাহাজ নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত হলে সেটিকে ঘিরে বন্দর কর্তৃপক্ষ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক অংশীদাররা অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থান নেয়। এই কারণে ‘মেমেই’কে চট্টগ্রামের শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে নিয়ে গিয়ে ভাঙার অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে জাহাজটি বর্তমানে বহির্নোঙরেই অবস্থান করছে। শিপ ব্রেকিং শিল্পের জন্য কী বার্তা? বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জাহাজ ভাঙা শিল্পের কেন্দ্র। প্রতিবছর শতাধিক পুরোনো জাহাজ সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন ইয়ার্ডে ভাঙা হয়। তবে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, জাহাজের অতীত কার্যক্রম এবং মালিকানা কাঠামো নিয়ে যথাযথ যাচাইয়ের গুরুত্ব আবারও সামনে নিয়ে এসেছে ‘মেমেই’ ঘটনা। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা জাহাজ আমদানির ঝুঁকি শুধু ব্যবসায়িক ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি আর্থিক, আইনি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। এখন কী হবে? আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাহাজটির মূল্য পরিশোধ না করেই সেটি ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে জাহাজটি শেষ পর্যন্ত কোন গন্তব্যে যাবে এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে আর কী ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ঘটনাটি বাংলাদেশের শিপ ব্রেকিং শিল্পে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৪, ২০২৬ 0
সালমান
মোবাইল ফোনের দাবি থেকে রক্তাক্ত সংঘর্ষ: ফতুল্লায় বাবাকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় ছেলে গ্রেপ্তার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি মোবাইল ফোন কেনাকে কেন্দ্র করে বাবা-ছেলের বিরোধ ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মোবাইল ফোন কিনে না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের বাবাকে বটি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছেন ২০ বছর বয়সী এক যুবক। ঘটনার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আহত ব্যক্তি কামাল মিয়া (৪৫) ফতুল্লার ভুইগড় বাজারে সবজি বিক্রি করেন। তার ছেলে সালমানও একই পেশার সঙ্গে যুক্ত। কয়েকদিন ধরে একটি নতুন মোবাইল ফোন কেনার জন্য বাবার ওপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন সালমান। তবে আর্থিক সংকটের কারণে কামাল মিয়া ছেলের সেই দাবি পূরণ করতে পারেননি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা এবং মোবাইল ফোন কেনা নিয়ে চলমান পারিবারিক উত্তেজনা মঙ্গলবার রাতে চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায়। একপর্যায়ে বাবা-ছেলের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং পরিস্থিতি দ্রুত সহিংস রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, তর্কের একপর্যায়ে সালমান ঘরে থাকা একটি বটি নিয়ে তার বাবার ওপর হামলা চালান। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন কামাল মিয়া। তার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর বুধবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সালমানকে গ্রেপ্তার করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। একইসঙ্গে হামলায় ব্যবহৃত বটিটিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর আলম বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে অভিযুক্ত সালমান মাদকাসক্ত। মোবাইল ফোন কেনাকে কেন্দ্র করেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনাটি আবারও পারিবারিক সহিংসতা, অর্থনৈতিক চাপ এবং তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন সামনে এনেছে। যদিও তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবুও পুলিশ ঘটনার পেছনের অন্যান্য কারণও খতিয়ে দেখছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৪, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নতুন সদর দপ্তর
উদ্বোধনের আগেই ৫০ কোটি টাকার বিপিসি সদর দপ্তরে ফাটল, নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নতুন সদর দপ্তর ভবন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয়নি। কিন্তু এরই মধ্যে ভবনের একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় নির্মাণমান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চট্টগ্রাম নগরের সার্সন রোডের জয় পাহাড় এলাকায় নির্মিত পাঁচতলা ভবনটিতে সম্প্রতি কয়েকটি দেয়ালে ফাটল শনাক্ত করা হয়। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ফাটলগুলো দেখা দেওয়ার পর দ্রুততার সঙ্গে পুটিং ও প্লাস্টারের মাধ্যমে সেগুলো ঢেকে ফেলার কাজ চলছে। নির্মাণশ্রমিকদের তড়িঘড়ি মেরামত কার্যক্রম ভবনটির গুণগত মান নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। উদ্বোধনের আগেই কেন মেরামত? ভবনটির উদ্বোধনের প্রস্তুতি যখন শেষ পর্যায়ে, ঠিক তখনই ফাটল মেরামতের কাজ শুরু হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাধারণত নতুন কোনো সরকারি অবকাঠামো প্রকল্প উদ্বোধনের আগেই এমন সংস্কার কাজের প্রয়োজন দেখা দিলে নির্মাণপ্রক্রিয়া, উপকরণের মান এবং তদারকির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, ফাটলগুলো কেবল নান্দনিক সমস্যা নাকি কাঠামোগত দুর্বলতার ইঙ্গিত—তা যাচাই করা প্রয়োজন। কারণ ভবনটি দীর্ঘমেয়াদে শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর কর্মস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হবে। প্রকল্প পরিচালকের ব্যাখ্যা তবে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে বড় কোনো সমস্যা হিসেবে দেখছে না। বিপিসির নতুন সদর দপ্তর নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক এবং সংস্থাটির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. আপেল মামুন দাবি করেন, ভবনে যে ফাটলগুলো দেখা গেছে সেগুলো বড় ধরনের নয়। তার ভাষ্য, নির্মাণকাজের বিভিন্ন পর্যায়ে ছোটখাটো ফাটল তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয় এবং সেগুলো পুটিং ও প্লাস্টারের মাধ্যমে মেরামত করা হচ্ছে। ভবনের সার্বিক মান নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিন দশক পর নিজস্ব ভবন বিপিসি সূত্রে জানা যায়, ১৯৯০ সাল থেকে সংস্থাটির সদর দপ্তর চট্টগ্রামে ভাড়া ভবনে পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রথমে আগ্রাবাদের হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন ভবনে এবং পরে ২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর নিজস্ব সদর দপ্তর নির্মাণের উদ্যোগ নেয় বিপিসি। জয় পাহাড় এলাকায় নির্মিত স্টিল স্ট্রাকচারের পাঁচতলা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয় গত বছর। প্রকল্পটির নির্মাণ দায়িত্ব পায় ইউনাইটেড করপোরেশন। ১৮০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কর্মস্থল নতুন ভবনটি চালু হলে বিপিসির প্রায় ১৮০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী সেখানে কাজ করবেন। দেশের জ্বালানি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিপিসি বছরে প্রায় ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করে। এসব তেল বিপণনের দায়িত্বে রয়েছে পদ্মা অয়েল, যমুনা অয়েল ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম। নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্নের উত্তর কে দেবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্বোধনের আগেই সরকারি অর্থায়নে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভবনে ফাটল দেখা দেওয়া স্বাভাবিকভাবে জনমনে প্রশ্ন তৈরি করে। ফাটলের প্রকৃতি, কারণ এবং ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা সম্পর্কে স্বাধীন কারিগরি মূল্যায়ন হলে প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হতে পারে। কারণ সরকারি অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যয়, মান নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতা—তিনটি বিষয়ই জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৪, ২০২৬ 0
বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলো
বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় মা ও দুই কন্যার মরদেহ: ঋণের চাপ, নাকি অন্য কোনো রহস্য? তদন্তে পুলিশ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরগুনার জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর দুটি কক্ষ থেকে এক নারী ও তার দুই কন্যা সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ নিয়ে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সন্তানদের হত্যার পর মা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে অপেক্ষা করতে হবে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদনের জন্য। বুধবার (৩ জুন) বিকেলে জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর ৩ ও ৪ নম্বর কক্ষ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহত নারী স্মৃতি রানী বরগুনা শহরের কালিবাড়ী এলাকার বাসিন্দা এবং জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় পার্টটাইম ঝাড়ুদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। উদ্ধার হওয়া দুই শিশুই তার কন্যা। দুটি কক্ষ, তিনটি মরদেহ পুলিশ সূত্র জানায়, ডাকবাংলোর ৩ নম্বর কক্ষের বিছানার ওপর আনুমানিক ছয় বছর বয়সী এক কন্যা শিশুর মরদেহ পাওয়া যায়। পরে পাশের ৪ নম্বর কক্ষের দরজা ভেঙে উদ্ধার করা হয় স্মৃতি রানী ও প্রায় দুই বছর বয়সী আরেক কন্যা শিশুর মরদেহ। একই ভবনের দুটি পৃথক কক্ষে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কী কারণে শিশু দুটিকে আলাদা কক্ষে রাখা হয়েছিল, কিংবা মৃত্যুর আগে তাদের অবস্থান কী ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। ঘটনার আগে কী করেছিলেন স্মৃতি রানী? জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা জানিয়েছেন, ঘটনার দিন বেলা ১১টার দিকে দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে কর্মস্থলে আসেন স্মৃতি রানী। প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন জানতে পেরেছে, তিনি কিছুদিন ধরে আর্থিক সংকটে ছিলেন। পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে তদন্তকারীরা জেনেছেন, তার ওপর ঋণের চাপ ছিল। তবে শুধুমাত্র আর্থিক সংকটই এই মৃত্যুর একমাত্র কারণ কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। আত্মহত্যা তত্ত্বের বাইরে যেসব প্রশ্ন তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এমন ঘটনায় কয়েকটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ— শিশু দুটির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ কী? তাদের মৃত্যু একই সময়ে হয়েছে কি না? মায়ের মৃত্যুর ধরন আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু? ঘটনাস্থলে কোনো সুইসাইড নোট বা লিখিত বার্তা পাওয়া গেছে কি না? মৃত্যুর আগে কারও সঙ্গে স্মৃতি রানীর যোগাযোগ হয়েছিল কি না? ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও ডিজিটাল তথ্য পর্যালোচনার মাধ্যমে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে। পুলিশের অবস্থান বরগুনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আ. আলীম বলেছেন, ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। সামাজিক বাস্তবতার নির্মম প্রতিচ্ছবি স্মৃতি রানী ও তার দুই কন্যার মৃত্যুর ঘটনা শুধু একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি নয়; এটি আর্থিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক নিরাপত্তা ও মানসিক চাপের মতো বৃহত্তর বাস্তবতার দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। তবে এই মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করার আগে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফলাফলের অপেক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, আলামত এবং ময়নাতদন্তের তথ্যই শেষ পর্যন্ত বলে দেবে—ডাকবাংলোর ওই দুটি কক্ষে ঠিক কী ঘটেছিল।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৪, ২০২৬ 0
দীপেন দেওয়ান
পদত্যাগের পর রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করলেন দীপেন দেওয়ান, পাহাড়ে শান্তি ও সম্প্রীতির আহ্বান

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন দীপেন দেওয়ান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের প্রতি শান্তি, ধৈর্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও ভবিষ্যৎ পথচলা সম্পর্কেও স্পষ্ট বক্তব্য দেন। বুধবার (৪ জুন) রাত ৯টার দিকে দেওয়া ওই পোস্টে দীপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন। পদত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এ ঘটনায় আবেগ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে তিনি পরিস্থিতি শান্ত রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পাহাড়ি, বাঙালি ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ধরনের উসকানি, বিভ্রান্তি বা সংঘাতের পথে না গিয়ে আইনশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ অটুট রাখারও আহ্বান জানান তিনি। পার্বত্য অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বার্তা ফেসবুক পোস্টে দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সবার এবং এ অঞ্চলের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষার দায়িত্বও সবার। পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সব জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও ভ্রাতৃত্ব আরও সুদৃঢ় হোক—এ প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পদত্যাগের পরপরই সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতার প্রশ্নে এ ধরনের বার্তা দেওয়া পার্বত্য অঞ্চলের বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাৎপর্যপূর্ণ। বিএনপির প্রতি আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত পোস্টের একটি বড় অংশজুড়ে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীতের কথা তুলে ধরেন সাবেক এই মন্ত্রী। তিনি জানান, তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরিবার থেকেই তিনি দেশপ্রেম ও জনসেবার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। দীপেন দেওয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে তিনি দলের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও বিএনপির প্রতি তার আনুগত্য ও অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে বলে জানান। ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলার ইঙ্গিত ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কেও ইঙ্গিত দেন দীপেন দেওয়ান। তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং নতুন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে সেই নেতৃত্বের অধীনেই কাজ করে যেতে চান। তার এই বক্তব্যকে অনেকেই পদত্যাগ-পরবর্তী রাজনৈতিক জল্পনার জবাব হিসেবে দেখছেন। যদিও পদত্যাগের কারণ বা এর পেছনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি পোস্টে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৪, ২০২৬ 0
এলজিইডি বরিশাল
বরিশালের চন্দ্রমোহনে এলজিইডির ৩ কোটি টাকার সড়ক প্রকল্পে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ,নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই হেলে পড়ছে প্যালাসাইডিং

বরিশাল অফিস :   বরিশাল সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন থেকে ভেদুরিয়া লঞ্চঘাট পর্যন্ত সড়ক পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, যথাযথ তদারকির অভাব এবং প্রকৌশলগত ত্রুটির কারণে প্রায় ৩ কোটি টাকার এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিদর্শন প্রতিবেদনে সড়কটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ—প্রোটেকশন ওয়ার্ক বা প্যালাসাইডিংয়ের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ কী? চন্দ্রমোহন মাছ বাজার এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের প্যালাসাইডিং ও সুরক্ষা কাঠামো নির্মাণে একাধিক অনিয়ম হয়েছে। তাদের দাবি, ঘানিব্যাগ তৈরিতে নির্ধারিত অনুপাতে বালু ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়নি। ফলে বস্তাগুলো শক্ত হওয়ার পরিবর্তে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, কিছু স্থানে বস্তার ভেতরে সহজেই লাঠি প্রবেশ করানো সম্ভব হচ্ছে, যা নির্মাণমান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। এছাড়া খালের ভেতর থেকে ভারী যন্ত্র দিয়ে কাদামাটি উত্তোলন করে সড়কের পাশে ফেলার কারণে প্যালাসাইডিংয়ের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ইতোমধ্যে প্রায় ১৪০ মিটার এলাকায় প্যালাসাইডিং খালের দিকে হেলে পড়েছে। তাদের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে পানির চাপ বৃদ্ধি পেলে পুরো কাঠামো ধসে পড়তে পারে এবং সড়কটি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তদারকি নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত তদারকির অভাব রয়েছে। একইসঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশের অভিযোগও তুলেছেন তারা। অভিযোগের তীর গেছে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীর দিকেও। এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরিদর্শন প্রতিবেদনে কী বলা হয়েছে? গত ১ জুন প্রকল্প পরিচালকের কাছে জমা দেওয়া এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে বরিশালের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরীফ মো. জামাল প্রকল্পটির নকশা ও প্রোটেকশন ওয়ার্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্প এর আওতায় সড়কটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। খরস্রোতা খালের পাড়ঘেঁষে নির্মাণাধীন হওয়ায় সড়কের একপাশে আরসিসি প্যালাসাইডিং নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সুরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ১:৪:৮ অনুপাতে প্রস্তুত বালিভর্তি বস্তা ব্যবহার করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খালের পানির উচ্চতার পরিবর্তনের কারণে এখানে সক্রিয়  ও নিষ্ক্রিয় চাপের মাত্রা পরিবর্তনশীল। বর্ষা মৌসুমে এই চাপ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বিদ্যমান প্যালাসাইডিং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে কি না, সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে। ‘স্থায়ী নাও হতে পারে’ প্যালাসাইডিং পরিদর্শন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সড়কের মূল অংশের সাবগ্রেড, সাববেইজ, বেইজ ও কার্পেটিংয়ের কাজ তখনও শুরু হয়নি। একইসঙ্গে কান্ট্রি-সাইডের মাটির কাজও অসম্পূর্ণ ছিল। পরিদর্শন শেষে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মন্তব্য করেন: “সম্ভবত সড়কটির প্যালাসাইডিং স্থায়ী হবে না, অথচ এই অংশটিই সড়কের স্থায়িত্বের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও মত দেন যে, প্রোটেকশন ওয়ার্কের বিষয়ে ডিজাইন ইউনিটের কারিগরি পরামর্শ অনুযায়ী প্রাক্কলন প্রস্তুত করা প্রয়োজন ছিল। ব্যয়ের বড় অংশ সুরক্ষা কাঠামোয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের প্রায় পুরো ব্যয়ের বড় অংশই প্রোটেকশন ওয়ার্কে ব্যয় হচ্ছে। তাই সড়কের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সুরক্ষা কাঠামোর কার্যকারিতা এবং নকশাগত সক্ষমতা পুনর্মূল্যায়ন জরুরি। এছাড়া কান্ট্রি-সাইডের কয়েকটি অংশে অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং একটি ছোট ড্রেনেজ কালভার্ট নির্মাণেরও সুপারিশ করা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ হিসেবে প্রোটেকশন ওয়ার্কের স্থায়িত্ব যাচাইয়ের জন্য এলজিইডির ডিজাইন ইউনিট এবং প্রকল্প পরিচালকের সরেজমিন পরিদর্শনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সামনে কী ঝুঁকি? স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেও প্রকল্প থেকে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না। বরং অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সরকারি অর্থের অপচয় এবং জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, উপজেলা প্রকৌশলী এবং নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২, ২০২৬ 0
আরিফ মেমোরিয়াল হাসপাতাল
বরিশালে আরিফ মেমোরিয়াল হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু: চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে ফের বিতর্কে হাসপাতাল

 বরিশাল অফিস :   বরিশাল নগরীর আরিফ মেমোরিয়াল হাসপাতাল আবারও এসেছে সংবাদের শিরোনামে। এবার অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসা অবহেলার কারণে এক নবজাতকের মৃত্যুর। শিশুটির পরিবারের দাবি, সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং উন্নত হাসপাতালে রেফার না করায় তাদের সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি নতুন হলেও অভিযোগের ধরন নতুন নয়। এর আগেও চিকিৎসা অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে আলোচনায় এসেছিল হাসপাতালটি। গত বছরের অক্টোবর মাসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন একাধিক ভুক্তভোগী পরিবার। সেই অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি না হতেই নতুন করে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির সেবার মান ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলছেন—“আর কত প্রাণ গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘুম ভাঙবে?” অপারেশনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংকট পরিবার সূত্রে জানা যায়, উজিরপুর উপজেলার মোরাকাঠি গ্রামের বাসিন্দা মুনা সর্দার এবং তার স্বামী সাজ্জাদ ফরাজী বর্তমানে বরিশাল নগরীর ভাটিখানা জোর মসজিদ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। গত ৩১ মে দুপুরে অন্তঃসত্ত্বা মুনা সর্দারকে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য আরিফ মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নজরুল ইসলাম। পরিবারের দাবি, ভর্তি হওয়ার পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় মা সুস্থ ছিলেন। রাত প্রায় ৮টার দিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। তবে জন্মের পরপরই চিকিৎসক পরিবারকে জানান, নবজাতকের শারীরিক অবস্থা ভালো নয় এবং তাকে অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে হবে। ছিল না প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত সুবিধা? পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, হাসপাতালটিতে নবজাতকের সংকটাপন্ন অবস্থার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সিসিইউ বা আইসিইউ সুবিধা ছিল না। শুধু তাই নয়, সিজারিয়ান অপারেশনের সময় কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও উপস্থিত ছিলেন না। অভিযোগ রয়েছে, শিশুর অবস্থার অবনতি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়নি। বরং ডা. নজরুল ইসলাম তার পছন্দের একজন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আসার জন্য অপেক্ষা করতে বলেন। পরিবারের ভাষ্যমতে, রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মুজিবুর রহমান হাসপাতালে এসে নবজাতককে পরীক্ষা করেন এবং দ্রুত শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। ততক্ষণে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। ‘আরও আগে রেফার করলে বাঁচানো যেত’ নবজাতকের বাবা সাজ্জাদ ফরাজীর দাবি, চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই বিলম্বই তাদের সন্তানের মৃত্যুর প্রধান কারণ। তিনি বলেন, “আমার সন্তানের মৃত্যুর জন্য ডা. নজরুল ইসলাম দায়ী। তিনি দায়িত্বে অবহেলা করেছেন এবং সময়মতো উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করেননি। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।” পরিবারের দাবি, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরাও তাদের জানিয়েছেন যে, রোগীকে আরও আগে রেফার করা হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। তবে হাসপাতালটিতে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে নবজাতকটির মৃত্যু হয়। পুরোনো অভিযোগের ছায়া আরিফ মেমোরিয়াল হাসপাতালের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম অভিযোগ নয়। গত বছরের অক্টোবর মাসে চিকিৎসা অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ এনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন একাধিক ভুক্তভোগী পরিবার। বর্তমান ঘটনাটি সেই অভিযোগগুলোর কার্যকর তদন্ত ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এছাড়া হাসপাতালটিকে ঘিরে আরেকটি অভিযোগও রয়েছে। কয়েকজন ভুক্তভোগীর দাবি, ডা. নজরুল ইসলামের চেম্বারে চিকিৎসা নেওয়ার পর তার নির্ধারিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করালে অন্য প্রতিষ্ঠানের রিপোর্ট গ্রহণে অনীহা দেখানো হয়। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকের বক্তব্য মেলেনি নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ডা. নজরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। কী বলছে প্রশাসন? বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস. এম. মনজুর-এ-এলাহী বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি। অভিযোগের তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” আগের অভিযোগগুলোর বিষয়ে তিনি জানান, সেগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম বলেন, “আমি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছি। আমাদের কাছে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অন্যদিকে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। তিনি বলেন, “ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” জবাবদিহির অপেক্ষায় একটি মৃত্যু একটি নবজাতকের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে দেয় না, এটি স্বাস্থ্যসেবার মান, জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং বেসরকারি হাসপাতালের জবাবদিহির প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসে। আরিফ মেমোরিয়াল হাসপাতালের বিরুদ্ধে অতীতের অভিযোগ এবং সাম্প্রতিক এই মৃত্যুর ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটি এখন তদন্তের বিষয়। তবে একটি প্রশ্ন ইতোমধ্যে জনমনে জোরালো হয়ে উঠেছে—যদি অভিযোগগুলো আগেই কার্যকরভাবে তদন্ত হতো, তাহলে কি আরেকটি প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব ছিল?

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২, ২০২৬ 0
মিরপুরের বন্ধ দরজার ওপাশে: এক মায়ের নিঃসঙ্গ মৃত্যু
একই বাসায় থেকেও কেউ খোঁজ নেয়নি! মিরপুরে ৭ দিন পর মিলল মায়ের মরদেহ, প্রশ্নের মুখে পরিবার ও সমাজ

জাহিদ ইকবাল  : মিরপুরের সেই ফ্ল্যাটে যখন পুলিশ ঢুকল, তখন ঘরজুড়ে শুধু পচনের গন্ধ আর এক ধরনের ভয়াবহ নীরবতা। যে নীরবতা সাধারণ নীরবতা নয়; যে নীরবতা মানুষের বিবেককে প্রশ্নবিদ্ধ করে, সমাজের মুখোশ খুলে দেয় এবং আমাদের তথাকথিত সভ্যতার সামনে একটি নির্মম আয়না তুলে ধরে। বিছানায় পড়ে ছিলেন নুরজাহান বেগম। বয়স বাহাত্তর। শরীরে পচন ধরেছে। মৃত্যুর সাত থেকে আট দিন পেরিয়ে গেছে। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে কেউ জানতে পারেনি তিনি আর বেঁচে নেই। কেউ তাঁর খোঁজ নেয়নি। কেউ দরজায় কড়া নাড়েনি। কেউ একবারও জানতে চায়নি—“মা, আপনি কেমন আছেন?” এই দৃশ্য কেবল একটি মৃত্যুর ঘটনা নয়; এটি আমাদের সময়ের সবচেয়ে মর্মান্তিক সামাজিক ট্র্যাজেডিগুলোর একটি। কারণ এখানে শুধু একজন বৃদ্ধা মারা যাননি, এখানে মারা গেছে পারিবারিক মূল্যবোধ, মানবিকতা, দায়িত্ববোধ এবং সম্পর্কের সেই পবিত্র বন্ধন, যার ওপর দাঁড়িয়ে একটি পরিবার, একটি সমাজ, একটি জাতি গড়ে ওঠে। সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, নুরজাহান বেগম কোনো অসহায়, নিঃসন্তান বা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন মানুষ ছিলেন না। তাঁর সন্তানরা সমাজের চোখে প্রতিষ্ঠিত। একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, আরেকজন দেশের অন্যতম সেরা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আরেকজন বিদেশে বসবাস করেন। সমাজের প্রচলিত মানদণ্ডে এটি একটি সফল পরিবারের গল্প। এমন পরিবারকে আমরা উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরি। এমন সন্তানদের নিয়ে গর্ব করি। আত্মীয়স্বজনদের আড্ডায় তাঁদের সাফল্যের গল্প বলা হয়। কিন্তু আজ একটি প্রশ্ন আমাদের বিবেককে তাড়া করে ফিরছে— যে সন্তান জীবনের সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করেও নিজের মায়ের নিঃসঙ্গতা দেখতে পায় না, সে কি সত্যিই সফল? আমরা সন্তানদের জীবনে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য কত কিছুই না করি। ছোটবেলা থেকে কোচিং, প্রাইভেট টিউটর, ভালো স্কুল, ভালো কলেজ, ভালো বিশ্ববিদ্যালয়—সবকিছুর পেছনে ছুটি। আমরা চাই আমাদের সন্তান ডাক্তার হোক, ইঞ্জিনিয়ার হোক, সচিব হোক, অধ্যাপক হোক, বিদেশে যাক, বড় চাকরি করুক। কিন্তু এই দৌড়ের মধ্যে আমরা একটি বিষয় ক্রমাগত ভুলে যাচ্ছি—মানুষ হওয়ার শিক্ষা। আমরা পেশাজীবী তৈরি করছি, কিন্তু মানুষ তৈরি করতে পারছি না। আমরা মেধাবী তৈরি করছি, কিন্তু হৃদয়বান মানুষ তৈরি করতে ব্যর্থ হচ্ছি। যে মা একদিন নিজের ঘুম বিসর্জন দিয়ে সন্তানের জ্বরের রাতে মাথায় পানি ঢেলেছেন, যে মা নিজের নতুন কাপড় না কিনে সন্তানের বই কিনে দিয়েছেন, যে মা নিজের ক্ষুধা লুকিয়ে সন্তানের প্লেটে খাবার তুলে দিয়েছেন, সেই মা যদি জীবনের শেষ সময়ে একটি ঘরের ভেতরে একা পড়ে থাকেন, তাহলে আমাদের সব অর্জন, সব শিক্ষা, সব উন্নয়ন আসলে কীসের জন্য? জানা গেছে, নুরজাহান বেগম তাঁর মেয়ের বাসায় থাকতেন। একই ছাদের নিচে মা ও মেয়ে বাস করতেন, কিন্তু আলাদা ঘরে। একজন মানুষ কীভাবে একই বাড়িতে থেকেও এতটা একা হয়ে যেতে পারেন? কীভাবে একজন মা এমন এক অবস্থায় পৌঁছান, যেখানে সপ্তাহের পর সপ্তাহ তাঁর ঘরে কেউ ঢোকে না? কীভাবে সম্ভব, পাশের ঘরে মানুষ রয়েছে অথচ একজন বৃদ্ধার মৃত্যু এবং মৃত্যুর পরের পচন কারও নজরে আসে না? এ প্রশ্ন শুধু একটি পরিবারের নয়। এ প্রশ্ন আমাদের পুরো সমাজের। আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যেখানে যোগাযোগের প্রযুক্তি সবচেয়ে উন্নত, কিন্তু মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক সবচেয়ে দুর্বল। আমরা পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে সেকেন্ডে কথা বলতে পারি, কিন্তু একই বাড়ির একটি ঘরে থাকা বৃদ্ধ মায়ের খোঁজ নিতে পারি না। আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজার মানুষের সঙ্গে যুক্ত, কিন্তু নিজের বাবা-মায়ের সঙ্গে মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন। আমরা প্রতিদিন অসংখ্য ছবি পোস্ট করি, অসংখ্য স্ট্যাটাস দিই, কিন্তু বৃদ্ধ মা-বাবার পাশে বসে দশ মিনিট সময় কাটানোর ফুরসত পাই না। আর যখন নুরজাহান বেগমের সেই শেষ ছবিটির দিকে তাকাই, তখন বুকের ভেতরটা আরও ভারী হয়ে আসে। সেখানে দেখা যায় এক বৃদ্ধা নারী নিথর হয়ে শুয়ে আছেন। মুখে আর কোনো অভিযোগ নেই। কোনো অভিমান নেই। কোনো প্রত্যাশাও নেই। যেন জীবনের সমস্ত অপেক্ষার সমাপ্তি ঘটেছে। একসময় যে মুখ সন্তানদের নিয়ে উদ্বেগে ভরে থাকত, যে চোখ সন্তানের পথ চেয়ে জানালার পাশে বসে থাকত, আজ সেই চোখ চিরতরে বন্ধ। ছবিটি দেখে মনে হয় না এটি শুধু একজন মৃত মানুষের ছবি। এটি যেন আমাদের সমাজের বিবেকের ছবি। এই মুখে আমি হাজারো অবহেলিত মায়ের মুখ দেখতে পাই। দেখতে পাই সেইসব নারীদের, যারা সারাজীবন সন্তানদের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, অথচ শেষ বয়সে এসে নিঃসঙ্গতার কাছে পরাজিত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি কষ্ট লাগে এই ভেবে যে, মৃত্যুর আগে হয়তো এই মানুষটিও কারও পদধ্বনি শুনতে চেয়েছিলেন। হয়তো দরজার দিকে তাকিয়ে ভেবেছিলেন, কেউ আসবে। হয়তো শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস করেছিলেন, তাঁর সন্তানরা তাঁকে ভুলে যায়নি। হয়তো তিনি অপেক্ষা করেছিলেন। কিন্তু সেই অপেক্ষার শেষ হয়েছে এক নিঃসঙ্গ মৃত্যুতে। পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় দৃশ্য সম্ভবত সেটিই—যখন একজন মা অপেক্ষা করেন, আর কেউ আসে না। ছবিটির দিকে যতবার তাকাই, ততবার মনে হয় এটি একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের ব্যর্থতার দলিল। এটি আমাদের শেখায়, মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় দারিদ্র্য অর্থের অভাব নয়; সবচেয়ে বড় দারিদ্র্য হলো ভালোবাসার অভাব। সবচেয়ে বড় নিঃস্বতা হলো আপনজনদের উপস্থিতি না থাকা। এই ছবিটি তাই শুধু একটি মৃত্যুর ছবি নয়। এটি একটি প্রশ্নচিহ্ন। একটি নীরব আর্তনাদ। একটি অব্যক্ত অভিযোগ। এটি যেন আমাদের প্রত্যেককে জিজ্ঞেস করছে—“তোমাদের এত ব্যস্ততার পৃথিবীতে, একজন মায়ের জন্য কি সত্যিই একটু সময় ছিল না?” আজ বাংলাদেশের শহরগুলোতে হাজার হাজার নুরজাহান বেগম রয়েছেন। তাঁরা হয়তো অর্থকষ্টে নেই। তাঁদের জন্য ওষুধ কেনা হয়, বাজার করা হয়, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পৌঁছে দেওয়া হয়। কিন্তু মানুষ কি শুধু ওষুধ আর খাবার দিয়ে বাঁচে? একজন বৃদ্ধ মানুষের সবচেয়ে বড় চাহিদা হলো সঙ্গ, কথা, ভালোবাসা এবং আপনজনের উপস্থিতি। যে মা সারাজীবন সন্তানদের নিয়ে বেঁচেছেন, তিনি বৃদ্ধ বয়সে সবচেয়ে বেশি অপেক্ষা করেন সন্তানের কণ্ঠ শোনার জন্য, সন্তানের মুখ দেখার জন্য। অথচ আমরা সেই মানুষগুলোকেই জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সবচেয়ে বেশি একা করে দিচ্ছি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত হবে, আইনি প্রশ্ন উঠবে, বিভিন্ন ব্যাখ্যা সামনে আসবে। কিন্তু আইনের বাইরেও একটি নৈতিক প্রশ্ন থেকে যায়। আমরা কি সত্যিই এমন সমাজে পরিণত হচ্ছি, যেখানে বৃদ্ধ বাবা-মা কেবল দায়িত্বের একটি অংশ? যেখানে তাঁদের জন্য একটি আলাদা ঘর, কিছু টাকা এবং একজন কাজের মানুষ রাখলেই দায়িত্ব শেষ বলে মনে করা হয়? যেখানে ভালোবাসার জায়গা দখল করে নিচ্ছে আনুষ্ঠানিকতা? আমরা আজকাল সন্তানদের ইংরেজি শেখাই, কম্পিউটার শেখাই, প্রযুক্তি শেখাই, বিদেশে পড়াশোনার স্বপ্ন দেখাই। কিন্তু আমরা কি শেখাই বৃদ্ধ মানুষকে সম্মান করতে? আমরা কি শেখাই মায়ের সঙ্গে সময় কাটাতে? আমরা কি শেখাই বাবার নীরব কষ্ট বুঝতে? আমরা কি শেখাই যে জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন কোনো পদবি নয়, বরং এমন একজন মানুষ হওয়া, যার উপস্থিতিতে বাবা-মা নিরাপদ বোধ করেন? সত্যি বলতে, নুরজাহান বেগমের মৃত্যু আমাদের সামনে একটি নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরেছে। এই মৃত্যু কেবল একজন মানুষের মৃত্যু নয়; এটি আমাদের সামাজিক অবক্ষয়ের প্রতীক। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি কিংবা সামাজিক মর্যাদা কখনোই মানবিকতার বিকল্প হতে পারে না। একটি সমাজ তখনই সত্যিকার অর্থে উন্নত হয়, যখন সেই সমাজের বৃদ্ধ মানুষগুলো সম্মান, যত্ন এবং ভালোবাসা নিয়ে বাঁচতে পারেন। আজ যারা নিজেদের বাবা-মায়ের খোঁজ নেওয়ার সময় পান না, তাঁদেরও মনে রাখা উচিত—জীবন একটি চক্র। আজ আপনি সন্তান, কাল আপনি বাবা-মা হবেন। আজ যেভাবে আপনি আপনার বাবা-মায়ের সঙ্গে আচরণ করছেন, আপনার সন্তানরাও একদিন সেই আচরণ থেকেই শিক্ষা নেবে। আপনি যদি আপনার সন্তানকে দেখান যে বৃদ্ধ বাবা-মা গুরুত্বপূর্ণ নন, তাহলে একদিন সেই সন্তানও আপনাকে গুরুত্বহীন মনে করবে। কারণ মানবিকতা যেমন উত্তরাধিকারসূত্রে যায়, অবহেলাও তেমনি উত্তরাধিকারসূত্রে যায়। নুরজাহান বেগম আর ফিরে আসবেন না। তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলো কেমন কেটেছে, শেষ মুহূর্তে তিনি কাকে মনে করেছিলেন, কাকে ডাকতে চেয়েছিলেন, সেই উত্তর আমরা কোনোদিন জানব না। কিন্তু তাঁর মৃত্যু আমাদের সামনে একটি আয়না ধরে গেছে। সেই আয়নায় আমরা নিজেদেরই মুখ দেখতে পাচ্ছি। তাই মিরপুরের সেই ফ্ল্যাটের ঘটনা যেন কেবল একটি সংবাদ হয়ে না থাকে। এটি যেন আমাদের বিবেককে জাগিয়ে তোলে। এটি যেন আমাদের বাধ্য করে নিজেদের দিকে তাকাতে। আজ যদি আপনার মা বেঁচে থাকেন, তাঁর ঘরে যান। তাঁর পাশে কিছুক্ষণ বসুন। তাঁর হাতটা ধরুন। জিজ্ঞেস করুন তিনি কেমন আছেন। আজ যদি আপনার বাবা বেঁচে থাকেন, তাঁকে একটি ফোন করুন। তাঁর কণ্ঠটা শুনুন। কারণ পৃথিবীর সব সাফল্য, সব পদমর্যাদা, সব অর্থবিত্ত একদিন অর্থহীন হয়ে যাবে। কিন্তু বাবা-মায়ের জন্য দেওয়া সময়, তাঁদের মুখে ফোটানো একটি হাসি, তাঁদের মনে দেওয়া নিরাপত্তা—সেটিই শেষ পর্যন্ত আপনার সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে থাকবে। সচিব হওয়া, অধ্যাপক হওয়া কিংবা বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হওয়া নিঃসন্দেহে বড় অর্জন। কিন্তু একজন মায়ের শেষ জীবনে তাঁকে একা না রাখা—তার চেয়েও বড় মানবিক অর্জন আর কিছু নেই। কারণ পৃথিবীর ইতিহাসে অসংখ্য সফল মানুষের নাম হারিয়ে গেছে, কিন্তু একজন মায়ের চোখের জল কখনো হারায় না। আর একজন মায়ের দীর্ঘশ্বাস—সেটি নীরব হলেও, তার প্রতিধ্বনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বয়ে চলে।   জাহিদ ইকবাল জামতলা,নিকুঞ্জ-০২ খিলক্ষেত, ঢাকা।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২, ২০২৬ 0
প্রেমের টানে টাঙ্গাইলে চীনের স্কুলশিক্ষক
সোশ্যাল মিডিয়ার প্রেমের টানে টাঙ্গাইলে চীনা নাগরিক: ধর্মান্তর ও আন্তর্জাতিক বিয়ের প্রস্তুতি ঘিরে আলোচনার ঝড়

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভালোবাসার কোনো ভৌগোলিক সীমা বা ভাষার বাধা নেই—এই কথাটিই যেন নতুন করে আলোচনায় এসেছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে চীন থেকে বাংলাদেশে এসে হাজির হয়েছেন ৩২ বছর বয়সী ওয়াং ইউলাই, যিনি পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক। রাঙ্গগুই প্রদেশ থেকে আসা এই তরুণের গন্তব্য ছিল মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা পূর্বপাড়া। সেখানে বসবাস করেন কলেজপড়ুয়া আনিকা আক্তার (২০)—যার সঙ্গে তার পরিচয় হয় প্রায় সাত মাস আগে একটি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাপের মাধ্যমে। প্রথমে বন্ধুত্ব, পরে সম্পর্ক—শেষ পর্যন্ত তা রূপ নেয় দীর্ঘ দূরত্বের প্রেমে। ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে এসে ঘোষণা বিয়ের পরিকল্পনার এক মাসের ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে এসে ওয়াং ইউলাই স্থানীয়দের নজরে আসেন যখন তিনি সরাসরি আনিকার বাড়িতে পৌঁছে যান। ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও ভিড় তৈরি হয়। ওয়াং ইউলাই দাবি করেন, তিনি আনিকাকে “মনে-প্রাণে ভালোবাসেন” এবং বাংলাদেশের আইন মেনে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বিয়ে করতে চান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে একসাথে জীবন গড়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু প্রতারণামূলক ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি সম্পূর্ণ বৈধ প্রক্রিয়ায় সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে চান। পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর তিনি আনিকার পরিবারের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে অতিথি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই ঘটনাটিকে কৌতূহল ও বিস্ময়ের চোখে দেখছেন। আনিকার অবস্থান ও সম্পর্কের দাবি কলেজপড়ুয়া আনিকা আক্তার জানান, প্রায় সাত মাস অনলাইনে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে গভীর বোঝাপড়া তৈরি হয়। তিনি বলেন, উভয়ের সম্মতিতেই তারা ভবিষ্যতে একসঙ্গে জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আনিকার ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াং ইউলাই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং তিনি চীনে স্থায়ী হওয়ার জন্য প্রস্তুত। প্রশাসনের বক্তব্য মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চীনা নাগরিকের বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা রয়েছে। তিনি স্থানীয় থানায় নথিপত্র প্রদর্শন করেছেন এবং বর্তমানে নিরাপদে পরিবারের হেফাজতে আছেন। তিনি আরও জানান, বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনি কাঠামোর মধ্যেই পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।  আগেও ঘটেছে এমন ঘটনা স্থানীয়ভাবে এর আগে একই এলাকায় ভুয়া পরিচয়ে বিদেশি নাগরিক পরিচয় দিয়ে বিয়ের চেষ্টা করার একটি ঘটনা আলোচনায় আসে। তবে এবারের ঘটনায় প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী সকল নথি বৈধ থাকায় পরিস্থিতি ভিন্ন। ডিজিটাল প্রেম থেকে আন্তঃদেশীয় সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্ক এখন সীমান্ত পেরিয়ে বাস্তব জীবনে প্রবেশ করছে। তবে এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আইন, অভিবাসন এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের জটিল প্রক্রিয়া। এই ঘটনাও সেই প্রবণতারই একটি সাম্প্রতিক উদাহরণ—যেখানে অনলাইন পরিচয় পৌঁছে গেছে সরাসরি পারিবারিক ও সামাজিক বাস্তবতায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১, ২০২৬ 0
গাজীপুরে সৌদি শেখ
বন্ধুর টানে সৌদি শেখের বাংলাদেশ সফর: হেলিকপ্টারে কালীগঞ্জ, গ্রামীণ আতিথেয়তায় মুগ্ধ আব্দুর রহমান

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটি হেলিকপ্টার গাজীপুরের কালীগঞ্জের আকাশে ভেসে ওঠে। স্থানীয়দের কাছে এটি ছিল বিরল এক দৃশ্য। তবে সেই আগমনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল না কোনো ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল, কূটনৈতিক সফর কিংবা রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি। এর পেছনে ছিল বহু বছরের এক ব্যক্তিগত সম্পর্ক—বন্ধুত্ব। সৌদি আরবের নাগরিক শেখ আব্দুর রহমান মোবারক আল ইয়ামি সাত দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছেন তার দীর্ঘদিনের বন্ধু, সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশি ইসমাঈল হোসেনের আমন্ত্রণে। শনিবার (৩০ মে) সকালে ঢাকায় পৌঁছানোর পর বিমানবন্দর থেকে সরাসরি হেলিকপ্টারে গাজীপুরের কালীগঞ্জে যান তিনি। তার আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই জাঙ্গালিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে। ফুটবল মাঠে অতিথি, আলোচনায় বন্ধুত্ব আব্দুর রহমানের সফরকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে একটি মাদকবিরোধী ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। গ্রামীণ জনপদে হেলিকপ্টার অবতরণের ঘটনা যেমন মানুষের আগ্রহের কারণ হয়ে ওঠে, তেমনি স্থানীয়দের মতে এই সফরের মূল আকর্ষণ ছিল দুই দেশের দুই মানুষের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের গল্প। খেলার মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি স্থানীয়দের সঙ্গে সৌদি অতিথির সরাসরি মেলামেশাও ছিল চোখে পড়ার মতো। কর্মী থেকে আপনজন সফরের অংশ হিসেবে মোক্তারপুর ইউনিয়নের বড়গাঁও গ্রামের দেলোয়ার হোসেন শেখ, জামালপুর ইউনিয়নের আশাদুল্লাহ এবং বাহাদুরশাদী ইউনিয়নের ঈশ্বরপুর গ্রামের নুর ইসলামের বাড়িতে যান আব্দুর রহমান। এই তিনজনই একসময় সৌদি আরবে তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি বাড়িতেই তাকে ঘিরে ছিল উৎসবের আবহ। কোথাও ফুল দিয়ে বরণ, কোথাও নির্মাণ করা হয় বিশেষ তোরণ। আবার কোথাও শুধু আন্তরিক অভ্যর্থনাই হয়ে ওঠে প্রধান আয়োজন। এ সফর এক অর্থে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়োগকর্তার মানবিক সম্পর্কেরও একটি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। গ্রামীণ আতিথেয়তায় মুগ্ধ অতিথি বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য অতিথি আপ্যায়ন। কালীগঞ্জে আব্দুর রহমানের অভিজ্ঞতাও তার ব্যতিক্রম ছিল না। ডাবের পানি, কলা, আপেল, কমলা থেকে শুরু করে মৌসুমি ফল—আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু ও তালের শাঁস দিয়ে আপ্যায়ন করা হয় তাকে। তবে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ হন স্থানীয় খাবারের আয়োজন দেখে। দেলোয়ার হোসেন শেখের বাড়িতে দুপুরের খাবারে পরিবেশন করা হয় টেংরা, শিং, কৈ, মলা, পুঁটি ও চিংড়ি মাছ। সঙ্গে ছিল দেশি মুরগি, খাসি এবং গরুর মাংসের নানা পদ। স্থানীয়রা জানান, বাংলাদেশের গ্রামীণ খাদ্য ঐতিহ্যের স্বাদ তুলে ধরতেই এমন আয়োজন করা হয়েছিল। লিচুবাগানে ফিরে পাওয়া শৈশব খাবারের আনুষ্ঠানিকতা শেষে অতিথিকে নিয়ে যাওয়া হয় বাড়ির পাশের একটি লিচুবাগানে। সেখানে গাছ থেকে নিজ হাতে লিচু পেড়ে খাওয়ার অভিজ্ঞতা তাকে বিশেষভাবে আনন্দিত করে। উপস্থিতদের ভাষ্য অনুযায়ী, মুহূর্তটিতে তার মধ্যে যেন শিশুসুলভ উচ্ছ্বাস ফিরে এসেছিল। গ্রামীণ বাংলাদেশের প্রকৃতি, ফলের বাগান এবং মানুষের স্বতঃস্ফূর্ততা তার সফরের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। ‘বিদেশে আছি বলে মনে হয়নি’ বাংলাদেশ সফর নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আব্দুর রহমান বলেন, বন্ধু ইসমাঈল হোসেনের আমন্ত্রণেই তিনি বাংলাদেশে এসেছেন। তার ভাষায়, “বাংলাদেশ সম্পর্কে যতটা ধারণা ছিল, বাস্তবে এসে দেখলাম দেশটি তার চেয়েও অনেক বেশি সুন্দর। এখানের মানুষ অত্যন্ত আন্তরিক ও অতিথিপরায়ণ। বন্ধুর বাড়িতে এসে কখনো মনে হয়নি আমি বিদেশে আছি। মনে হয়েছে আমি নিজের পরিবারের মাঝেই আছি।” তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাকে মুগ্ধ করেছে এবং সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে আবারও বাংলাদেশে আসতে চান। সফরের পরবর্তী গন্তব্য কালীগঞ্জ সফর শেষে কুমিল্লা ও সিলেটে আরও দুই বন্ধুর বাড়ি পরিদর্শনের কথা রয়েছে আব্দুর রহমানের। সফরের শেষদিকে তিনি আবার কালীগঞ্জে ফিরে আসবেন। এরপর সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। বন্ধুত্বের গল্পে উঠে এলো বাংলাদেশের আরেক পরিচয় আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে ব্যক্তি পর্যায়ের বন্ধুত্ব অনেক সময় দুই দেশের মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। কালীগঞ্জে সৌদি নাগরিক আব্দুর রহমান আল ইয়ামির সফরও তেমনই একটি ঘটনা। হেলিকপ্টারে আগমন হয়তো মানুষের দৃষ্টি কেড়েছে, কিন্তু সফরটির মূল বার্তা ছিল অন্যত্র—হাজার কিলোমিটার দূরের সম্পর্কও কখনও কখনও একটি গ্রামীণ উঠোনে এসে পরিবারের উষ্ণতায় পরিণত হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১, ২০২৬ 0
মরণোত্তর জাতিসংঘ পদক পাচ্ছেন ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
আবেইতে নিহত ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : আফ্রিকার সংঘাতপ্রবণ অঞ্চল আবেইতে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ প্রদান করতে যাচ্ছে জাতিসংঘ। আগামী ৫ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তাদের এই সম্মাননা প্রদান করবেন। শুধু একটি পদক প্রদান অনুষ্ঠান নয়, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের দীর্ঘদিনের অবদান এবং সেই দায়িত্ব পালনের চরম মূল্যকে সামনে নিয়ে এসেছে এই স্বীকৃতি। কারা পাচ্ছেন এই পদক? জাতিসংঘের ঘোষণায় বলা হয়েছে, পদকপ্রাপ্ত বাংলাদেশি ছয় শান্তিরক্ষী হলেন— মো. জাহাঙ্গীর আলম মো. সবুজ মিয়া মো. মাসুদ রানা মো. মোমিনুল ইসলাম শামীম রেজা সান্ত মণ্ডল তারা ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনী (ইউএনআইএসএফএ)-তে দায়িত্ব পালনকালে এক ড্রোন হামলায় নিহত হন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শান্তিরক্ষা মিশনে প্রযুক্তিনির্ভর হামলার ঝুঁকি যে বেড়েছে, এই ঘটনা তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক কী? ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনকালে নিহত সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক সদস্যদের স্মরণে প্রদান করা হয়। জাতিসংঘের দ্বিতীয় মহাসচিব ড্যাগ হ্যামারশোল্ডের নামে প্রবর্তিত এই পদক শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত। এ বছর গত বছরে নিহত ৫৯ জনসহ মোট ৬৮ জন শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর এই পদক দেওয়া হবে। বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সদস্য প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অবদানকারী। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ২৭৭ জন নারী সদস্যসহ ৪ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিভিন্ন মিশনে দায়িত্ব পালন করছেন। তারা কাজ করছেন— আবেই মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র সাইপ্রাস গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র লেবানন লিবিয়া দক্ষিণ সুদান পশ্চিম সাহারা এই উপস্থিতি শুধু বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বাড়ায় না, বরং বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় দেশটির কূটনৈতিক অবস্থানকেও শক্তিশালী করে। ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মুখে শান্তিরক্ষীরা জাতিসংঘের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি বেসামরিক, সামরিক ও পুলিশ সদস্য শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত আছেন। কিন্তু এসব মিশনের পরিবেশ দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। ড্রোন প্রযুক্তির বিস্তার, অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয়তা, অভ্যন্তরীণ সংঘাত এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা শান্তিরক্ষীদের জন্য নতুন ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। আবেইতে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের মৃত্যু সেই পরিবর্তিত বাস্তবতারই একটি প্রতিফলন। ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’ কেন আলোচনায়? এবারের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’। জাতিসংঘ বলছে, বিশ্বজুড়ে সংঘাত বৃদ্ধি এবং আর্থিক সম্পদের সংকোচনের সময়ে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে রাজনৈতিক ও আর্থিক সহায়তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজন। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তার বার্তায় বলেন, শান্তিরক্ষা স্থিতিশীলতা ও আশার পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি পরীক্ষিত এবং ব্যয়-সাশ্রয়ী উপায়। তবে এর জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক রাজনৈতিক সমর্থন এবং নির্ভরযোগ্য অর্থায়ন। একইসঙ্গে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জ্যঁ-পিয়েরে লাক্রোয়া বলেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন পরিবেশেও শান্তিরক্ষীরা বেসামরিক মানুষকে সুরক্ষা দিচ্ছেন, সহিংসতা প্রতিরোধ করছেন এবং শান্তির সম্ভাবনা ধরে রাখছেন। আত্মত্যাগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০০২ সালে ২৯ মে-কে ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৪৮ সালে প্রথম শান্তিরক্ষা মিশন প্রতিষ্ঠার স্মরণে দিনটি পালন করা হয়। নিউইয়র্কের এবারের অনুষ্ঠানে ১৯৪৮ সাল থেকে দায়িত্ব পালনকালে নিহত প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষীর স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। সেই স্মরণানুষ্ঠানে বাংলাদেশের ছয় শান্তিরক্ষীর নামও যুক্ত হবে বিশ্ব শান্তিরক্ষার ইতিহাসে আত্মত্যাগের এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে। তাদের মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক শুধু ব্যক্তিগত সাহসিকতার স্বীকৃতি নয়; এটি আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের দীর্ঘ প্রতিশ্রুতি, পেশাদারিত্ব এবং আত্মত্যাগেরও বৈশ্বিক স্বীকৃতি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, কৃষি ব্যাংকে নূরুল আমিন: ব্যাংক খাতে নতুন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0