বরিশাল অফিস : বরিশালের বাটাজোর ইউনিয়নের বাটাজোর থেকে চন্দ্রহার পর্যন্ত খাল পুনঃখনন প্রকল্পকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, খালের দখলমুক্তকরণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চন্দ্রহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হলেও খালের অপর পাড়ে গড়ে ওঠা প্রায় ৭০টি অবৈধ বাজার স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, খাল পুনঃখননের শেষ পর্যায়ে এসে প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, খালের দক্ষিণ পাড়ে অবস্থিত বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হলেও উত্তর পাড়ে দীর্ঘদিন ধরে থাকা বাজারের অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা অক্ষত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্যানিটেশন সংকটের আশঙ্কা চন্দ্রহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ২৫০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে। বিদ্যালয়টির একমাত্র কার্যকর স্যানিটেশন সুবিধা হিসেবে ব্যবহৃত ওয়াশব্লকটি অপসারণ করা হলে শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন, বিকল্প স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো অপসারণ কতটা যৌক্তিক? বিশেষ করে যখন একই খালের অপর পাড়ে বহু অবৈধ স্থাপনা বহাল রয়েছে। একাধিক অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানান, খাল পুনঃখনন কার্যক্রমে তারা বাধা দিতে চান না। তবে উচ্ছেদ কার্যক্রমে সমতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের মতে, জনস্বার্থে প্রয়োজন হলে অবৈধ দোকানপাট অপসারণ করা যেতে পারে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের মৌলিক স্যানিটেশন সুবিধা ধ্বংস করে নয়। দ্বৈত নীতির অভিযোগ স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের বর্তমান অবস্থান বৈষম্যমূলক বলে মনে হচ্ছে। একদিকে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো অপসারণের তাগিদ, অন্যদিকে খালের জায়গা দখল করে থাকা বাজারের স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া—এ দুই অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট অসঙ্গতি রয়েছে বলে তারা মনে করেন। এলাকাবাসীর ভাষ্য, যদি খাল পুনরুদ্ধারই মূল লক্ষ্য হয়, তাহলে খালের উভয় পাড়ে সমানভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা উচিত। শুধুমাত্র বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক অপসারণের উদ্যোগ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। পুনর্বিবেচনার দাবি স্থানীয় জনগণ প্রশাসনের কাছে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা চান, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় ওয়াশব্লকটি আপাতত বহাল রাখা হোক অথবা বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। একই সঙ্গে খালের উত্তর পাড়ে অবস্থিত অবৈধ বাজার স্থাপনাগুলোর বিষয়েও সমানভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এলাকাবাসীর মতে, জনস্বার্থ, শিক্ষা ও স্যানিটেশন সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় এনে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে হঠাৎ প্রত্যাহারের সরকারি সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সিলেট থেকে সরিয়ে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে সরকারি আদেশে প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ না থাকলেও স্থানীয় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—মাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত কি তার বদলির প্রধান কারণ? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে সামনে আসে কয়েকটি ঘটনা, যা গত কয়েক মাসে সিলেটে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।সাম্প্রতিক সময়ে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারে দানবাক্স ও ঐতিহ্যবাহী ‘ডেগ’ সিলগালা করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। কেউ এটিকে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবে দেখলেও, অন্যরা একে ধর্মীয় ঐতিহ্যে হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দেন। ‘ডিসি’ সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারকে মাজার ভক্তরা ‘ওলির সঙ্গে বেয়াদবির খেসারত’ বললেও অপর একটি পক্ষ বিষয়টিকে মাজারে ‘মদ গাঁজার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় একজন ভালো প্রশাসকের পরিণতি’ বলছেন। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে মাজারের দানবাক্স ও ডেগ ঘটনার সূত্রপাত হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের দান ব্যবস্থাপনা নিয়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ থেকে। গত ১৮ জুন প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাজারের বিদ্যমান দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একইসঙ্গে শতাব্দীপ্রাচীন তিনটি ঐতিহ্যবাহী ‘দানের ডেগ’ সিলগালা করা হয়। প্রশাসনের দাবি ছিল, দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। কিন্তু সিদ্ধান্তটি মুহূর্তেই ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নেয়। মাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযোগ করেন, সাতশ বছরের ঐতিহ্যবাহী ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের এ ধরনের হস্তক্ষেপ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। অন্যদিকে প্রশাসনপন্থী একটি অংশ এটিকে দীর্ঘদিনের অনিয়ম বন্ধের উদ্যোগ হিসেবে দেখেছে। তিন দিনের মাথায় প্রত্যাহার ডেগ ও দানবাক্স সিলগালার ঘটনার মাত্র তিন দিনের মাথায় আসে সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারের আদেশ। যদিও সরকারিভাবে দুই ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্কের কথা বলা হয়নি, তবে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পর্যায়ের অনেকেই মনে করছেন, মাজার ইস্যুতে সৃষ্ট জনমতের চাপ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে থাকতে পারে। সিলেটের বিভিন্ন মহলে এখনো আলোচনা চলছে—এটি কি কেবল একটি নিয়মিত প্রশাসনিক বদলি, নাকি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক পরিণতি? সারওয়ার আলমের অবস্থান: ‘ভালো কাজ শেষ করতে পারলাম না’ প্রত্যাহারের পর প্রতিক্রিয়ায় মো. সারওয়ার আলম গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারি চাকরিতে বদলি স্বাভাবিক বিষয়। তবে তার বক্তব্যে আক্ষেপের সুরও ছিল। তিনি বলেন, “একটি ভালো কাজ শুরু করেছিলাম, শেষ করা গেল না। অনেকের পেটে হাত পড়ায় তারা এর বিরুদ্ধাচরণ করেছে।” তার এই মন্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—তিনি কি মাজার ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছিলেন, নাকি প্রশাসনিক সীমারেখা অতিক্রম করেছিলেন? সিলেটে দায়িত্ব পালন: সাফল্য ও সমালোচনার মিশ্র চিত্র গত বছরের আগস্টে সাদাপাথর লুট ও চুরির ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে বিশেষ দায়িত্ব নিয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগ দেন সারওয়ার আলম। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বেশ কিছু আলোচিত উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ছিল— সাদাপাথর লুটের ঘটনায় প্রশাসনিক অভিযান; সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ভূমি অধিগ্রহণ দ্রুত সম্পন্নের ঘোষণা; ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা; ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ; বাজার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক তৎপরতা। তবে এসব উদ্যোগের বেশিরভাগই শেষ পর্যন্ত পূর্ণ বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। সমালোচকদের মতে, তিনি অনেক ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিলেও দীর্ঘমেয়াদি ফল নিশ্চিত করতে পারেননি। ‘অতিরিক্ত সক্রিয়’ না ‘সংস্কারক’? সচেতন নাগরিকদের একাংশের অভিযোগ, সারওয়ার আলম প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগে অনেক সময় অতিরিক্ত আগ্রাসী ছিলেন। তাদের মতে, মাজারের মতো সংবেদনশীল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বৃহত্তর অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে তার সমর্থকরা বলছেন, দীর্ঘদিনের অস্বচ্ছতা, অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তিনি প্রতিরোধের মুখে পড়েছেন। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেট শাখার সদস্য সচিব আব্দুল করিম কিমের ভাষায়, সাদাপাথর রক্ষায় তার ভূমিকা প্রশংসনীয় ছিল। তবে মাজার ব্যবস্থাপনায় কিছু পদক্ষেপ জনমনে অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে। মাজার ভক্তদের ক্ষোভ মাজার-সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রশাসন দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে চাইলে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে এগোতে পারত। মাজার ভক্ত সোহেল আলী মনে করেন, ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক পরিবেশকে অযথা বিতর্কিত করার কারণেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে ভক্ত আব্দুল হান্নান বলেন, মাজারকে ঘিরে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি। অসমাপ্ত প্রতিশ্রুতির প্রশ্ন সারওয়ার আলমের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনার মধ্যে আবার সামনে এসেছে মঙ্গল দাসের ঘটনাও। বিদ্যুতের বিল বকেয়া থাকায় কারাগারে যাওয়া মঙ্গল দাসের মুক্তির বিষয়ে জেলা প্রশাসকের আশ্বাস থাকলেও শেষ পর্যন্ত তার সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনাও প্রশাসনিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বহাল রাখার দাবিও আছে তবে বিতর্কের পাশাপাশি তার পক্ষে অবস্থানও দেখা গেছে। প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে সিলেটে যুবসমাজের ব্যানারে বিক্ষোভ ও সমাবেশ হয়েছে। বক্তারা দাবি করেছেন, সিলেটের স্বার্থে সারওয়ার আলমকে বহাল রাখা উচিত। এতে স্পষ্ট হয়, জেলা প্রশাসক হিসেবে তার কর্মকাণ্ড সিলেটে বিভক্ত জনমত তৈরি করেছে। মূল প্রশ্নের উত্তর এখনও অমীমাংসিত সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি এখনও অমীমাংসিত—এটি কি কেবল নিয়মিত প্রশাসনিক বদলি, নাকি মাজার ইস্যুতে সৃষ্ট বিতর্কের প্রত্যক্ষ ফল? সরকার এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে ঘটনাপ্রবাহ বলছে, মাজারের দানবাক্স ও ডেগ সিলগালা, জনমতের প্রতিক্রিয়া এবং তিন দিনের মধ্যে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত—এই তিনটি ঘটনার সময়গত সম্পর্ক ভবিষ্যতেও আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে। সিলেটের ধর্মীয় ঐতিহ্য, প্রশাসনিক কর্তৃত্ব এবং জনমতের সংঘাত—এই তিন বাস্তবতার মধ্যেই এখন খোঁজা হচ্ছে সারওয়ার আলম অধ্যায়ের প্রকৃত ব্যাখ্যা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের সরকারি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সিলেটের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গন। সরকারের পক্ষ থেকে এটিকে নিয়মিত প্রশাসনিক পদায়ন হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন ও নাগরিক প্রতিনিধিরা এর পেছনে ভিন্ন কারণ দেখছেন। রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির মধ্যেও সিলেট নগরের কোর্ট পয়েন্টে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, জনপ্রিয় ও জনবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত সারওয়ার আলমকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে ‘স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রভাব’ থাকতে পারে। কী বলছে সরকারি প্রজ্ঞাপন? জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, বদলিজনিত কারণে মো. সারওয়ার আলমকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে পদায়ন করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কেন ক্ষুব্ধ সিলেটের একটি অংশ? মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী বক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনের সময় সারওয়ার আলম নগরের ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বক্তারা বিশেষভাবে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার সংশ্লিষ্ট আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। তাদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ একটি সুবিধাভোগী মহল প্রশাসনিকভাবে তাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে মানববন্ধনে কোনো প্রামাণ্য নথি বা সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়নি। মানববন্ধনে কী বলা হয়েছে? রেনেসাঁর আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে এবং মাহফুজ বিন আবদুল হাফিজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন— মাওলানা শামীম আহমদ মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ মুফতি জিয়াউর রহমান মাওলানা হাবীব আহমদ শিহাব সৈয়দ সালিম কাসিমী মুফতি মিনহাজুস সিরাজ আবদুল্লাহ আল মনসুর আহমাদুল হক উমামা আদিব আহমদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। বক্তারা বলেন, “সিলেটবাসীর প্রত্যাশা ও জনমতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে প্রত্যাহারের আদেশ বাতিল করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলন, গণসমাবেশ এবং প্রয়োজন হলে হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচিও বিবেচনায় আসতে পারে।” প্রশাসনিক বদলি নিয়ে কেন প্রশ্ন? বাংলাদেশের প্রশাসনে জেলা প্রশাসকদের বদলি নিয়মিত ঘটনা। তবে কোনো কর্মকর্তাকে ঘিরে জনসমর্থন, প্রতিবাদ বা রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হলে সেই বদলি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বাইরেও জনআলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। বিশ্লেষকদের মতে, সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারকে ঘিরে যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তা শুধু একজন কর্মকর্তার বদলি নয়; বরং স্থানীয় প্রশাসন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং প্রভাবশালী স্বার্থগোষ্ঠীর ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। সামনে কী হতে পারে? সরকার এখন পর্যন্ত সারওয়ার আলমের পদায়নকে নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই ব্যাখ্যা করেছে। অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা প্রত্যাহার আদেশ বাতিলের দাবি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে বিষয়টি কেবল প্রশাসনিক বদলির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি বৃহত্তর জনআন্দোলনের রূপ নেবে—সেটিই এখন সিলেটের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের অন্যতম আলোচ্য প্রশ্ন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহে থাকা দানের তিনটি ডেগ সিলগালার মাত্র তিন দিনের মাথায় সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সরকারি প্রজ্ঞাপনে এই বদলির কারণ উল্লেখ না থাকলেও ঘটনাটি ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি নিয়মিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নাকি মাজারকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক ও প্রভাবশালী স্বার্থগোষ্ঠীর চাপের ফল? ডিসির প্রত্যাহারের পর সিলেটের কয়েকটি ইসলামি দল প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, মাজারের দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ এবং মাজারকেন্দ্রিক অনিয়মে হস্তক্ষেপের কারণেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনও সরকারি বা স্বাধীন তদন্তের তথ্য প্রকাশ হয়নি। যে সিদ্ধান্ত থেকে বিতর্কের সূত্রপাত সম্প্রতি হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহে থাকা দানের তিনটি ডেগ প্রশাসনের উদ্যোগে সিলগালা করা হয়। প্রশাসনের দাবি ছিল, দানের অর্থের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এই পদক্ষেপের পরপরই মাজারকে কেন্দ্র করে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, মাজারের দান ও তহবিল ব্যবস্থাপনা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার বিষয় হলেও এ ধরনের সরাসরি প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ বিরল। ঠিক এর তিন দিনের মাথায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। ইসলামি দলগুলোর অভিযোগ কী? সিলেট জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা নেহাল আহমদের দাবি, ডিসি সারওয়ার আলম সিলেটে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মাজারের দানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা করেছিলেন। তার ভাষায়, মাজারকেন্দ্রিক সুবিধাভোগী গোষ্ঠীগুলো এই পদক্ষেপে অসন্তুষ্ট হয়ে ডিসির বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়েছে। একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির নুরুল ইসলাম বাবুল। তিনি বলেন, সারওয়ার আলম ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ তহবিল গঠন, প্রবাসীদের স্বীকৃতি প্রদান, নগরীর ফুটপাত ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রেখেছিলেন। তার মতে, ডেগ সিলগালার মাধ্যমে দানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। অন্যদিকে সিলেট মহানগর হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা মাহমুদুল হাসান ঘটনাটির পেছনে “অপশক্তির প্রভাব” থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি সরকারের কাছে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। ভিন্নমতও রয়েছে তবে সব ইসলামি সংগঠন একই অবস্থানে নেই। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিলেট মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী মনে করেন, ডিসি কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিলেও কয়েকটি সিদ্ধান্ত বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তার অভিযোগ, কালেক্টরেট মার্কেটের কিছু ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদ করার ঘটনায় অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। একই সঙ্গে মাজারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজনৈতিক ও সামাজিক অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। এই বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, ডিসির কর্মকাণ্ড নিয়ে সমর্থন ও সমালোচনা—দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই ছিল। সরকারি নীরবতা বাড়াচ্ছে প্রশ্ন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সরকারের নীরবতা। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে শুধু বলা হয়েছে, “জনস্বার্থে” সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু কেন তাকে সরানো হলো, কিংবা তার স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন—সে বিষয়ে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। প্রশাসনিক রদবদলের ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত অস্বাভাবিক নয়। তবে একটি আলোচিত পদক্ষেপের পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রত্যাহার হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে জল্পনা-কল্পনা আরও বেড়েছে। মূল প্রশ্নগুলো কী? এই ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— মাজারের দানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় প্রকৃত অবস্থা কী? ডেগ সিলগালার সিদ্ধান্তের পেছনে প্রশাসনের নির্দিষ্ট অনুসন্ধান বা অভিযোগ ছিল কি? ডিসি প্রত্যাহারের সঙ্গে ওই সিদ্ধান্তের কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি? যদি সম্পর্ক না থাকে, তবে সরকার কারণ প্রকাশে অনাগ্রহী কেন? মাজারকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর কারা প্রভাব বিস্তার করে? সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা কেবল একজন কর্মকর্তার বদলিকে ঘিরে নয়। বরং এটি মাজারের দান ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, প্রভাবশালী স্বার্থগোষ্ঠী এবং সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা—এসব বৃহত্তর প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। সরকারি ব্যাখ্যা অনুপস্থিত থাকায় ঘটনাটি নিয়ে নানা ব্যাখ্যা ও অভিযোগ সামনে আসছে। তবে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার বাইরে গিয়ে প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক ও স্বচ্ছ অনুসন্ধান। ততদিন পর্যন্ত ডেগ সিলগালা এবং ডিসি প্রত্যাহারের এই সময়গত মিল জনমনে প্রশ্ন জাগিয়েই যাবে। সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব পদে পদায়ন করা হয়েছে। রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, মো. সারওয়ার আলমকে বদলিজনিত কারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে পদায়ন করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর আগে, ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভোলার লালমোহন উপজেলায় ডাকবাংলো সেতুর অতিরিক্ত উচ্চতা ও ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতুটির বর্তমান নকশা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে, যা সাধারণ পথচারী, শিক্ষার্থী এবং যানবাহন চালকদের জন্য স্থায়ী ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সেতুটি দ্রুত সংস্কার এবং নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে রোববার (২১ জুন) সকালে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ‘আমরা ওয়েস্টার্নপাড়া এলাকাবাসী’-এর ব্যানারে ডাকবাংলো সেতুর ওপর আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই সেতুটি অত্যন্ত উঁচু ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেতুতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় ইতোমধ্যে একাধিক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে এবং এতে অনেক মানুষ আহত হয়েছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন লালমোহন ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. মোশাররফ হোসাইন, লালমোহন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল হক, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার মো. আমজাদ হোসেন আলম, ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবুল বাশার সেলিম এবং ভোলা নাজিউর রহমান কলেজের অধ্যাপক মো. কামাল হোসেন শাহিন। বক্তারা বলেন, সেতুর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা স্থানীয় জনজীবনে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির কারণ হয়ে রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন হওয়ায় প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এই পথ ব্যবহার করে চলাচল করে। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তারা আরও বলেন, সেতুর আশপাশে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক চিহ্ন, নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং আধুনিক অবকাঠামোগত সুবিধার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দ্রুত প্রকৌশলগত মূল্যায়ন করে সেতুটি সংস্কার না করা হলে ভবিষ্যতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. কবির মিয়া, পৌরসভা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা নিয়াজ মাহমুদ কাজী সাইফুল্লাহ, মাদ্রাসার অধ্যাপক মাওলানা মো. ফিরোজ মাহমুদ, সাংবাদিক শাহীন কুতুবসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। স্থানীয়দের দাবি, সেতুর নিরাপত্তা ঝুঁকি নিরসনে অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক এবং জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ দ্রুত শুরু করা হোক।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চার দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলার পাশাপাশি ‘অপহরণ’ ও ‘অসুস্থতা’ ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন, যা এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এ কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে জিসানকে হাজির করা হয়। বিচারক তৈয়ব উদ্দিন আহমেদ তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত প্রাঙ্গণে তার মাথায় হেলমেট এবং শরীরে পুলিশি নিরাপত্তা ভেস্ট দেখা যায়। আদেশের পরপরই তাকে দ্রুত প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের প্রতিবেদন কী বলছে? জিসানকে চার দিন ধরে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেডিক্যাল বোর্ড তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাকে সুস্থ বলে মত দিয়েছে। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, চিকিৎসকদের মূল্যায়নে জিসানের শারীরিক অবস্থায় এমন কোনো জটিলতা পাওয়া যায়নি, যা হাসপাতালে রাখার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে। সেই ভিত্তিতেই তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এই পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গ্রেপ্তারের পর থেকে জিসান নিজেকে অসুস্থ দাবি করে হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন এবং সে কারণে তাকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছিল পুলিশ। ‘অপহরণ’ না ‘আত্মগোপন’? ঘটনার আরেকটি বিতর্কিত দিক হলো জিসানের কথিত নিখোঁজ হওয়া। ১১ জুন রাতে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরদিন বিভিন্ন মাধ্যমে দাবি ওঠে, তিনি অপহরণের শিকার হয়েছেন। তবে পুলিশ বলছে, তদন্তে তারা অপহরণের কোনো প্রমাণ পায়নি। বরং জিসান স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে তাদের দাবি। পুলিশের ভাষ্যমতে, এক বিধবা নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক, পরবর্তীতে ওই নারীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়া এবং বিয়ের চাপ থেকে বাঁচতেই তিনি নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজান। পরে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে পরিবারের দাবি ছিল, তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং তিনি অপহরণের শিকার হয়েছিলেন। এই দুই বিপরীতমুখী বক্তব্যের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা কী, সেটি এখনো তদন্তের বিষয়। ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, কয়েক মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক ২৫ বছর বয়সী বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্পর্কের একপর্যায়ে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হন। এরপর তাকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং ওষুধ সেবনের মাধ্যমে ভ্রূণ নষ্ট করা হয়। পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিয়ে এড়াতেই জিসান আত্মগোপনে যান বলে দাবি পুলিশের। শুক্রবার রাতে উদ্ধার হওয়ার পর ওই নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় জিসানসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। আদালতে আইনজীবীদের অভিযোগ জিসানের আইনজীবী মনির হোসেন দাবি করেছেন, আদালতে তার শারীরিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কারা হাসপাতালে রাখার আবেদন করা হয়েছিল। তার অভিযোগ, ওকালতনামা সংগ্রহের জন্য তারা পুলিশ হেফাজতে থাকা জিসানের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও সুযোগ দেওয়া হয়নি। এছাড়া আদালতের আদেশের পর পুলিশ দ্রুত তাকে প্রিজন ভ্যানে তুলে নেয়। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তদন্তের সামনে যেসব প্রশ্ন ঘটনার বিভিন্ন দিক সামনে আসার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখন আলোচনায় রয়েছে— জিসান সত্যিই অপহরণের শিকার হয়েছিলেন, নাকি আত্মগোপনে ছিলেন? চিকিৎসাধীন থাকার প্রয়োজন ছিল কি না, সে বিষয়ে হাসপাতালের পর্যবেক্ষণ ও তার দাবির মধ্যে এত পার্থক্য কেন? ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ তদন্তকারীদের হাতে রয়েছে? বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও সম্পর্কের প্রকৃত প্রকৃতি কী ছিল? মামলার অন্য আসামিদের ভূমিকা কী? এখন কী হবে? মামলার তিন আসামি—সেকান্দর আলী, গোলাম রাব্বী ও সজীব হাসান—ইতোমধ্যে কারাগারে রয়েছেন। জিসানকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর ফলে এখন তদন্তের পরবর্তী ধাপ, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য জিজ্ঞাসাবাদের ওপর গুরুত্ব বাড়বে। একদিকে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ, অন্যদিকে অপহরণ ও আত্মগোপনের পরস্পরবিরোধী বর্ণনা—সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন শুধু একটি ফৌজদারি মামলা নয়; বরং এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত, চিকিৎসা মূল্যায়ন এবং রাজনৈতিকভাবে পরিচিত একজন নেতাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বহুমাত্রিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেল সংযোগ সেতুর কয়েকটি পিলারের নিচ থেকে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কাটার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি অনুমোদিত প্রকল্পকাজ, নাকি প্রভাবশালী মহলের মাটি বাণিজ্যের অংশ? প্রশাসন আপাতত কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। তবে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি ছিল পরিবেশ পুনরুদ্ধারের একটি পরিকল্পিত কার্যক্রম, যার সঙ্গে সেতুর নিরাপত্তার কোনো সম্পর্ক নেই। ভিডিও থেকে শুরু বিতর্ক সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের ৮৫, ৮৬ ও ৮৭ নম্বর পিলারের নিচ ও আশপাশে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি অপসারণ করা হচ্ছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয় যে, সেতুর ভিত্তির কাছ থেকে মাটি সরানোর ফলে ভবিষ্যতে অবকাঠামোগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে অভিযোগ ওঠে, একটি প্রভাবশালী চক্র রাতদিন মাটি কেটে ট্রাকে করে স্থানীয় ইটভাটাগুলোতে সরবরাহ করছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ মাটি কাটার খবর পাওয়ার পর ফতুল্লার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান নূর ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। পরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিনও এলাকা পরিদর্শন করেন। ইউএনও জানান, সংশ্লিষ্টরা অনুমতির দাবি করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বৈধ নথি দেখাতে পারেননি। ফলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত মাটি কাটার কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরও একই অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সরেজমিন পর্যবেক্ষণে এভাবে মাটি অপসারণের যৌক্তিকতা স্পষ্ট হয়নি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও উপস্থাপন করা যায়নি। এ কারণে বিষয়টি বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নজরে আনা হয়েছে। প্রকল্প কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা অন্যদিকে পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের ব্রিজ অ্যান্ড ভায়াডাক্ট ইনচার্জ প্রকৌশলী আমিনুল করিম দাবি করেছেন, ঘটনাটি ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। তাঁর মতে, আলীগঞ্জ এলাকার সংশ্লিষ্ট অংশটি মূলত একটি জলাধার ছিল। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্মাণসামগ্রী পরিবহন ও যন্ত্রপাতি চলাচলের সুবিধার্থে সেখানে অস্থায়ীভাবে বালু ও মাটি ফেলে প্রবেশপথ তৈরি করা হয়েছিল। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর চুক্তি অনুযায়ী সেই ভরাটকৃত মাটি অপসারণ করে জলাশয়কে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কাজ চলছিল। ৭৬ থেকে ৯০ নম্বর পিলার পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার এলাকায় এই কাজের পরিকল্পনা ছিল বলে তিনি জানান। প্রকৌশলী আমিনুল করিমের দাবি, পুরো কার্যক্রম সেনাবাহিনী ও চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছে এবং এতে পিলারের স্থিতিশীলতা বা সেতুর নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। রেলওয়ের আনুষ্ঠানিক অবস্থান মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও একই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাটি কাটার স্থানটি রেলওয়ের অধিগ্রহণকৃত জমির অন্তর্ভুক্ত। ভায়াডাক্ট নির্মাণকালে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সেখানে একটি অস্থায়ী রাস্তা নির্মাণ করেছিল। প্রকল্প চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ হলে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে স্থানটিকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। রেলওয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সেই চুক্তির অংশ হিসেবেই ভরাট করা মাটি অপসারণের কাজ চলছিল এবং পুরো প্রক্রিয়া প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালট্যান্ট বাংলাদেশ আর্মি’র তত্ত্বাবধানে ছিল। তবে জনমনে উদ্বেগ এবং প্রশাসনিক আপত্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আপাতত মাটি অপসারণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এলাকাটি ভবিষ্যৎ বৃক্ষরোপণের জন্য সংরক্ষণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে যা দেখা গেছে সরেজমিনে স্থানীয়দের বর্ণনা এবং প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, তিনটি পিলারের নিচ ও আশপাশে প্রায় ৮ থেকে ১০ ফুট গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অন্তত এক সপ্তাহ ধরে দিনে-রাতে খননযন্ত্র ব্যবহার করে মাটি কেটে ড্রাম ট্রাকে করে বিভিন্ন ইটভাটায় নেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রতিবাদ সত্ত্বেও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারণে কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, কুতুবপুর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আবুবক্কর ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা এই মাটি অপসারণের সঙ্গে জড়িত। তবে আবুবক্কর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি কোনো মাটি কাটার সঙ্গে যুক্ত নন এবং তাঁর জানা মতে সংশ্লিষ্ট কাজের অনুমতি ছিল। মূল প্রশ্নগুলো এখনও অমীমাংসিত ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— মাটি অপসারণের জন্য প্রকল্প কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমোদন ছিল কি না? জেলা প্রশাসনকে আগে থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছিল কি? অপসারিত মাটি কোথায় নেওয়া হয়েছে এবং তার হিসাব রয়েছে কি? পরিবেশ পুনরুদ্ধারের কাজ হলে তা কেন স্থানীয় প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট ছিল না? পিলারের সংলগ্ন এলাকায় খননের নিরাপত্তা মূল্যায়ন প্রতিবেদন রয়েছে কি? তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিতর্ক অব্যাহত বর্তমানে প্রশাসনের নির্দেশে মাটি কাটার কাজ বন্ধ রয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক মতামত এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। একদিকে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বলছে এটি পরিবেশ পুনরুদ্ধারের অংশ, অন্যদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ মাটি বাণিজ্যের। দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী অবস্থানের মধ্যে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে নথিপত্র, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং স্বাধীন কারিগরি মূল্যায়ন। সেই তদন্তের ফলই নির্ধারণ করবে—আলীগঞ্জে যা ঘটেছে তা প্রকল্প-পরবর্তী পরিবেশ পুনর্বাসন, নাকি অবকাঠামোর ছায়ায় পরিচালিত আরেকটি মাটি বাণিজ্যের ঘটনা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলা পরিষদ চত্বরে সংসদ সদস্য (এমপি) ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য একটি করে পরিদর্শন কক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের সব উপজেলা পরিষদের অনুকূলে ছয় লাখ টাকা করে বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান। সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক সমন্বয় বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও এর পেছনে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতার প্রশ্নও সামনে এসেছে। কী বলছে সরকার? গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সারের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জানান, দেশের সব উপজেলায় সংসদ সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য একটি করে পরিদর্শন কক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কক্ষ কেবল সংসদ সদস্যদের জন্য নয়; বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও দাপ্তরিক কাজে এগুলো ব্যবহার করতে পারবেন। স্থানীয় সরকার বিভাগ ইতোমধ্যে প্রতিটি উপজেলা পরিষদের জন্য ছয় লাখ টাকা করে বরাদ্দ দিয়েছে। কেন উঠেছিল এই দাবি? উপজেলা পর্যায়ে সংসদ সদস্যদের জন্য নির্দিষ্ট কর্মপরিসর তৈরির বিষয়টি প্রথম আলোচনায় আসে চলতি বছরের ৩১ মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে। সেদিন এনসিপির সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান নির্বাচনী এলাকায় এমপিদের জন্য বসার জায়গা নিশ্চিত করার দাবি উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে ২১ এপ্রিল স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সংসদে জানান, উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের জন্য বসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই দিনে এনসিপির আরেক সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ট্যাক্সমুক্ত গাড়ির সুবিধার পরিবর্তে উপজেলা পর্যায়ে কার্যকর অফিস স্থাপনের দাবি জানান। সাম্প্রতিক এই উদ্যোগকে অনেকেই ওই ধারাবাহিক দাবির বাস্তবায়ন হিসেবে দেখছেন। প্রশাসনিক সুবিধা নাকি ক্ষমতার নতুন কেন্দ্র? বাংলাদেশের উপজেলা পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের এলাকায় নিয়মিত উপস্থিতি এবং সরকারি কার্যক্রম তদারকির জন্য নির্দিষ্ট কর্মপরিসর থাকা কার্যকর হতে পারে। তবে প্রশ্ন উঠছে, উপজেলা পরিষদের নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে এমপিদের জন্য আলাদা অবকাঠামো তৈরি হলে স্থানীয় সরকারের ক্ষমতার ভারসাম্যে কোনো প্রভাব পড়বে কি না। অতীতে উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রশাসন এবং সংসদ সদস্যদের ভূমিকা ও কর্তৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন সময় বিতর্ক দেখা গেছে। ফলে নতুন এই কক্ষগুলো কেবল দাপ্তরিক ব্যবহারে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হবে—সেই প্রশ্নও আলোচনায় এসেছে। কত টাকা ব্যয় হবে? বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৪৯৫টি উপজেলা রয়েছে। সে হিসাবে প্রতিটি উপজেলায় ছয় লাখ টাকা বরাদ্দ দিলে মোট ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ২৯ কোটি ৭০ লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। যদিও সরকার এখন পর্যন্ত প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ ব্যয়, নকশা কিংবা বাস্তবায়ন সময়সূচি প্রকাশ করেনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে নতুন বার্তা? স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইতোমধ্যে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এমন প্রেক্ষাপটে উপজেলা পর্যায়ে সংসদ সদস্যদের জন্য নতুন অবকাঠামো নির্মাণের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, নির্বাচনী এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের প্রশাসনিক উপস্থিতি জোরদার করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের যোগাযোগ আরও প্রাতিষ্ঠানিক করার লক্ষ্যও এর পেছনে থাকতে পারে। তবে এই উদ্যোগ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কতটা শক্তিশালী করবে, নাকি নতুন ধরনের প্রভাব বলয়ের জন্ম দেবে—সেই মূল্যায়ন নির্ভর করবে এর বাস্তব প্রয়োগের ওপর।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাকে জামিনে মুক্ত করার প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে শুরু হয়েছে সমান্তরাল আইনি লড়াই। একদিকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল প্রত্যর্পণের পক্ষে আদালতে নথিপত্র জমা দিয়েছে, অন্যদিকে বেনজীরের আইনজীবীরা তার মুক্তির আবেদন নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। দুবাই ও বাংলাদেশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ের আল আওয়ার কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ, ইন্টারপোলের নোটিশ এবং প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত নথি যাচাই-বাছাই করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জামিনের আবেদন, কিন্তু সিদ্ধান্ত নয় সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুবাই কোর্ট অব আপিলে বেনজীর আহমেদের পক্ষে জামিন আবেদন দাখিল করা হয়। একই দিনে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া প্রতিনিধি দলও আদালতে পৃথক আবেদন জমা দেয়, যেখানে তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের পক্ষে যুক্তি ও নথিপত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। আদালত উভয় পক্ষের আবেদন গ্রহণ করলেও তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। বরং অভিযোগ, ইন্টারপোল নোটিশ, দুদকের মামলার নথি এবং দুবাইয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিষয়গুলো পর্যালোচনার জন্য সময় নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, এই প্রক্রিয়ায় অন্তত ১০ থেকে ১৫ দিন বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। কী বলছেন বেনজীরের আইনজীবীরা? বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ইন্টারপোলের মাধ্যমে উত্থাপিত অভিযোগ, তার দুবাইয়ে অবস্থানের কারণ এবং জামিনের পক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যাসহ সব নথি দুবাইয়ের পাবলিক প্রসিকিউটরের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। যদিও আদালত আবেদন গ্রহণ করেছে, তবে জামিন বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে তা জানিয়ে দেওয়া হবে। বেনজীরের আইনজীবীদের দাবি, আগামী সাত দিনের মধ্যে তাকে জামিনে মুক্ত করার লক্ষ্যে আইনি প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দুবাইয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অন্তত পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে দুবাই পৌঁছেছে। দলটিতে রয়েছেন— এনসিবি (ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো) বা ইন্টারপোল-সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা; পুলিশ সদর দপ্তরের তিন কর্মকর্তা; দুটি পৃথক গোয়েন্দা সংস্থার দুই প্রতিনিধি। মঙ্গলবার তারা আদালতে দুদকের মামলা, ইন্টারপোল নোটিশ এবং বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগের নথি জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি দুবাইয়ের বিচারিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনি সমন্বয়ও করছেন। দুবাইয়ের আইনে কী হতে পারে? দুবাইয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক দায়িত্বে অতীতে কর্মরত ছিলেন—এমন একজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে প্রথমে দুবাই পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়। সাধারণত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে পাবলিক প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর প্রসিকিউশন কয়েকটি বিষয় যাচাই করে— ইন্টারপোলের রেড নোটিশ বৈধ কি না; অভিযোগকারী রাষ্ট্রের নথিপত্র যথাযথ কি না; প্রত্যর্পণের আইনি ভিত্তি রয়েছে কি না। প্রাথমিক যাচাইয়ের পর মামলাটি পাঠানো হয় দুবাই কোর্ট অব আপিলে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ২০০৬ সালের ৩৯ নম্বর ফেডারেল আইন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত মামলার প্রাথমিক শুনানির এখতিয়ার এই আদালতের। জামিন পেতে কী শর্ত পূরণ করতে হতে পারে? আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারপোল-সংক্রান্ত প্রত্যর্পণ মামলায় সাধারণত অভিযুক্তের পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। এছাড়া আদালত চাইতে পারে— একজন নির্ভরযোগ্য আমিরাতি নাগরিককে জামিনদার হিসেবে; উল্লেখযোগ্য অঙ্কের আর্থিক বন্ড; আদালতে হাজিরা নিশ্চিত করার মুচলেকা। এসব শর্ত পূরণ হলেও আদালত জামিন দেবেন কি না, তা নির্ভর করে মামলার প্রকৃতি ও বিচারকের মূল্যায়নের ওপর। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া কতটা দীর্ঘ? দুবাইয়ের আইন অনুযায়ী, আদালত যদি প্রত্যর্পণের পক্ষে রায়ও দেন, তবুও সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্তকে সংশ্লিষ্ট দেশের কাছে হস্তান্তর করা হয় না। প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলো হলো— কোর্ট অব আপিলের রায়; প্রয়োজন হলে কোর্ট অব ক্যাসেশনে আপিল; সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিচার মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট নির্বাহী কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক অনুমোদন; চূড়ান্ত প্রত্যর্পণ কার্যকর। ফলে আদালতের সিদ্ধান্তের পরও পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও সময় লাগতে পারে। আগামী ১০ দিন গুরুত্বপূর্ণ পুলিশের একজন অতিরিক্ত আইজিপি পর্যায়ের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরকার যেমন বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে, তেমনি তার পক্ষে জামিনের উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে। তার ভাষায়, “আগামী ১০ দিনের মধ্যে দুবাই আদালতের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে।” তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আইজিপি, এনসিবি বা পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (অ্যাডমিন) একেএম আওলাদ হোসেনও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন। সামনে কোন তিনটি সম্ভাবনা? বর্তমান পরিস্থিতিতে বেনজীর আহমেদের মামলায় তিনটি সম্ভাব্য পথ খোলা রয়েছে— প্রথমত, আদালত জামিন মঞ্জুর করতে পারেন, তবে তার ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। দ্বিতীয়ত, আদালত প্রত্যর্পণযোগ্য অপরাধ হিসেবে অভিযোগগুলো গ্রহণ করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। তৃতীয়ত, আইনি আপিল ও প্রশাসনিক অনুমোদনের জটিলতায় পুরো প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে। ফলে সাবেক এই পুলিশ প্রধানের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে দুবাইয়ের আদালত, ইন্টারপোল নোটিশের আইনি বৈধতা এবং বাংলাদেশ সরকারের উপস্থাপিত নথিপত্রের ওপর।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রশ্নে বর্তমান সরকারের অবস্থান স্পষ্ট—কোনোভাবেই বাংলাদেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে বা দেশকে ‘বিকিয়ে’ দিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে না। মঙ্গলবার সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি) আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। উপদেষ্টা বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে দেশে প্রায়ই নানা ধরনের রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। অনেকের মধ্যে এমন ধারণা রয়েছে যে, ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা মানেই বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়া। তবে সরকারের অবস্থান সে রকম নয়। “সবার আগে বাংলাদেশ”—এই নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক সম্মান, সমমর্যাদা এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে। সহযোগিতা বাড়ানোর ইঙ্গিত ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ করতে আগ্রহী। তিনি জানান, ভবিষ্যতে যথাযথ আমন্ত্রণ পেলে তিনি ভারত সফরে যেতে প্রস্তুত রয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রেও ইতিবাচক মনোভাবের কথা তুলে ধরেন তিনি। পানি বণ্টন ইস্যুতে গুরুত্ব প্রেস ব্রিফিংয়ে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির প্রসঙ্গও উঠে আসে। উপদেষ্টা জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরে গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। এছাড়া তিস্তা চুক্তিসহ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অভিন্ন ৫৩টি নদীর পানি বণ্টন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা এখনও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এসব বিষয়ে বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে চায় এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজছে। দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া ভারতের রাজধানী দিল্লির একটি বিমানবন্দরে তাকে দুই ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রাখার ঘটনার প্রসঙ্গেও কথা বলেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি ঘটনাটিকে ‘হয়রানি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ঘটনার পর তিনি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। তবে বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার মতে, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়া উচিত নয়। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, পারস্পরিক সম্মান ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের ভিত্তিতে ভবিষ্যতেও ভারত সফর এবং দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদী।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দেশের রেল অবকাঠামো সম্প্রসারণের নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঢাকার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলসহ আরও ১০ জেলাকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে যেসব জেলার সঙ্গে এখনো ঢাকার সরাসরি রেল যোগাযোগ নেই, সেসব এলাকাকে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের ৪৯টি জেলার সঙ্গে রেল যোগাযোগ রয়েছে। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল দেশের ৬৪টি জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নতুন ১০ জেলায় রেলসেবা সম্প্রসারণের সম্ভাব্য রুট ও প্রকল্প নিয়ে প্রাথমিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে। রেল মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন রেললাইন নির্মাণ ও বিদ্যমান নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ আরও দ্রুত ও কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানীর সঙ্গে রেল সংযোগবিহীন জেলাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি নীতিগতভাবে বিবেচনায় রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে শেখ রবিউল আলম বলেন, কয়েকটি বড় অবকাঠামোগত প্রকল্প ইতোমধ্যে বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। এর মধ্যে আখাউড়া-সিলেট এবং সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ প্রকল্প উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি ধীরাশ্রমে একটি আইসিডি (ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো) প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে, যা পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে বর্তমানে মিটারগেজ ও ব্রডগেজ উভয় ধরনের রেললাইন বিদ্যমান থাকায় পরিচালনাগত কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ কারণে টঙ্গী-আখাউড়া এবং লাকসাম-সিলেট অংশে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত একটি নতুন কর্ড লাইন নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সম্প্রসারণ? রেল বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের সব জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে পারলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে সড়কপথের ওপর চাপ কমবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক অর্থনীতি, শিল্পায়ন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চল ও অপেক্ষাকৃত কম সংযুক্ত জেলাগুলোতে রেলসেবা সম্প্রসারণ দীর্ঘদিনের দাবি। নতুন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর সঙ্গে এসব অঞ্চলের যোগাযোগ সময় ও ব্যয়ের দিক থেকে আরও সাশ্রয়ী হতে পারে। তবে ঘোষিত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন, অর্থায়ন এবং সময়সীমা নিয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে পরিকল্পনাগুলো কত দ্রুত বাস্তবে রূপ পায়, সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ মানুষের।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় নিখোঁজের একদিন পর সাত বছরের শিশু নন্দিনীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটিকে ঘিরে স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ভাঙচুর এবং অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার ঘটনা নতুন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে নিজ বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে নন্দিনীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত নন্দিনী ওই গ্রামের বাসিন্দা নলিনী কান্তের মেয়ে। নিখোঁজ থেকে মরদেহ উদ্ধার পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার বিকেল থেকে নন্দিনীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজন ও আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। মঙ্গলবার সকালে পুনরায় অনুসন্ধানে বের হলে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে নরম মাটি দেখতে পান স্থানীয়রা। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সেখানে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করা হয়। একপর্যায়ে মাটির নিচ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার খবর দ্রুত পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আটক অভিযানের মধ্যেই সহিংসতা লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় বাসিন্দা রনজিৎ রায়ের ছেলে বিধান রায়কে আটক করতে যায় পুলিশ। তবে এর আগেই উত্তেজিত জনতা বিধান রায়ের বাড়িতে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান এবং পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের গাড়িতে হামলা চালায়। এতে সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহত অন্তত ৩০ প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার একপর্যায়ে স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ওসি প্রত্যাহার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হককে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে তার প্রত্যাহারের কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। যে প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো মেলেনি নন্দিনীর মৃত্যুর ঘটনায় এখনো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি— শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী? তাকে হত্যা করা হয়েছে নাকি অন্য কোনোভাবে মৃত্যু হয়েছে? হত্যার পেছনে একজন নাকি একাধিক ব্যক্তি জড়িত? ঘটনাস্থলই কি হত্যাকাণ্ডের স্থান, নাকি অন্য কোথাও হত্যার পর মরদেহ সেখানে পুঁতে রাখা হয়েছিল? আটক অভিযানে যাদের নাম এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে তদন্তকারীরা? তদন্তের দিকে নজর শিশু নন্দিনীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আদিতমারীর সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—একদিকে জনরোষ নিয়ন্ত্রণ করা, অন্যদিকে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা। তদন্তের অগ্রগতি এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে, সাত বছরের নন্দিনীর মৃত্যুর পেছনে ঠিক কী ঘটেছিল এবং কারা এর জন্য দায়ী।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের (বোর্ড অব ডিরেক্টরস) সব সদস্যের নিয়োগ বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ও ৪৭(৩) ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত দেশের ব্যাংকিং খাতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রবিবার (১৪ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ব্যাংক-কোম্পানির স্বার্থ, আমানতকারীদের স্বার্থ এবং বৃহত্তর জনস্বার্থে ইসলামী ব্যাংকের বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৭(৩) ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. জহির হোসেনকে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সব ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত তিনি ব্যাংকটির বোর্ডের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। কেন হঠাৎ পুরো বোর্ড বাতিল? বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করা হলেও, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে—সুশাসন নিশ্চিত করা, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা এবং ব্যাংকিং কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ব্যাংকিং খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি, গ্রাহকদের ব্যাপক অর্থ উত্তোলন, পরিচালন কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন এবং বাজারে আস্থার সংকট—এসব বিষয় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় ছিল। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংককে আড়াই হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দেওয়ার তথ্যও সামনে আসে। নিয়ন্ত্রণ কি সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে? সর্বশেষ সিদ্ধান্তের ফলে কার্যত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালন কাঠামোতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৭(৩) ধারা বাংলাদেশ ব্যাংককে বিশেষ পরিস্থিতিতে কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ক্ষমতা স্থগিত বা বাতিল করে বিকল্প প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, একজন নির্বাহী পরিচালককে বোর্ডের পূর্ণ ক্ষমতা প্রদান করার অর্থ হলো—ব্যাংকের নীতিগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যক্ষ তদারকির আওতায় পরিচালিত হবে। আমানতকারীদের জন্য কী বার্তা? বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে আমানতকারীদের স্বার্থের বিষয়টি। ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ তখনই নেওয়া হয়, যখন নিয়ন্ত্রক সংস্থা মনে করে বিদ্যমান ব্যবস্থাপনায় আস্থা পুনরুদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে—ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং গ্রাহকদের আমানত সুরক্ষার বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সরাসরি নজরদারি করবে। সামনে কী হতে পারে? ব্যাংকিং খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বোর্ড বাতিলের পরবর্তী ধাপে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন, মালিকানা কাঠামো পর্যালোচনা এবং সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এছাড়া ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা, ঋণ বিতরণ, করপোরেট গভর্ন্যান্স এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়গুলোও নতুন করে মূল্যায়নের আওতায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক কিংবা ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্তটির পেছনের বিস্তারিত কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো অতিরিক্ত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে দেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংকের পুরো পরিচালনা পর্ষদ একযোগে বাতিলের ঘটনা নিঃসন্দেহে খাতটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ: তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে সম্পদের উৎস, সামনে প্রত্যর্পণ প্রশ্ন ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলার প্রেক্ষাপটে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এআইজি শাহাদাত হোসেন রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুদকের মামলায় আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তায় বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে ১২ জুন বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। তবে কোন নির্দিষ্ট মামলার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বর্তমানে তিনি কী ধরনের আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি, কিংবা তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ উদ্যোগ নিয়েছে কি না—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ তদন্তের পর গ্রেপ্তার বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গত কয়েক বছরে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে একাধিক অনুসন্ধান ও মামলা শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন। দুদকের তদন্তে অভিযোগ ওঠে, সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে, যার বৈধ উৎস নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। আদালতের নির্দেশে তাদের নামে থাকা জমি, ফ্ল্যাট, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব এবং বিভিন্ন আর্থিক সম্পদ ক্রোক (জব্দ) করা হয়। একইসঙ্গে একাধিক ব্যাংক হিসাব ও সঞ্চয়পত্রও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। ইন্টারপোলের রেড নোটিশ কীভাবে এলো? দুদকের আবেদনের পর ঢাকার একটি আদালত ২০২৫ সালের শুরুতে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। এরপর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাকে শনাক্ত ও আটক করতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা চাওয়া হয়। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের ‘রেড নোটিশ’ জারি হয়। যদিও রেড নোটিশ নিজেই কোনো আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নয়, এটি সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত, অবস্থান নির্ণয় এবং স্থানীয় আইনের আওতায় আটক করার অনুরোধ হিসেবে কাজ করে। দুবাইয়ে তার গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশের পর এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—বাংলাদেশ কি তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারবে? সামনে কী আইনি প্রক্রিয়া? আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যক্তিকে বিদেশে গ্রেপ্তারের পর সরাসরি দেশে ফেরত আনা যায় না। সাধারণত প্রত্যর্পণ চুক্তি, স্থানীয় আদালতের অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। ফলে বেনজীর আহমেদের ক্ষেত্রে দুবাইয়ের আদালত, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন এবং বাংলাদেশের অনুরোধ—সবকিছু মিলিয়ে একটি জটিল আইনি প্রক্রিয়া সামনে আসতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন করে, তাহলে অভিযোগের প্রকৃতি, মামলার অবস্থা এবং দুই দেশের আইনি কাঠামোর ভিত্তিতে বিষয়টি বিবেচিত হবে। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই গ্রেপ্তার? বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে বেনজীর আহমেদ ছিলেন অন্যতম আলোচিত কর্মকর্তা। র্যাবের মহাপরিচালক এবং পরে পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দুবাইয়ে তার গ্রেপ্তার শুধু একটি ব্যক্তিগত মামলার অগ্রগতি নয়; বরং এটি বাংলাদেশের দুর্নীতি তদন্ত, আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা এবং সীমান্ত-পেরোনো আর্থিক অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত হলেও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। ফলে আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তি হিসেবেই বিবেচিত হবেন। এখন নজর থাকবে দুবাই কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ, বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রত্যর্পণ আবেদন এবং বহুল আলোচিত এই মামলার ভবিষ্যৎ আইনি গতিপথের দিকে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামি সোহেল রানা হাইকোর্টে দায় স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। জেল আপিলে দেওয়া তার স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যে তিনি দাবি করেছেন, দীর্ঘদিনের মাদকাসক্তি, চরম আর্থিক সংকট এবং পারিবারিক অশান্তির মধ্যে থাকায় তিনি অবচেতন অবস্থায় এই নৃশংস অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। তবে মামলার অপর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে খালাস চেয়েছেন। জেল আপিলে কী বললেন সোহেল রানা? রোববার (১৪ জুন) হাইকোর্টে উপস্থাপিত জেল আপিলে সোহেল রানা বলেন, তিনি একজন অটোরিকশা গ্যারেজের মিস্ত্রি ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাদকাসক্তির কারণে পরিবারে প্রায়ই কলহ-বিবাদ হতো। তিনি দাবি করেন, অতীতে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না এবং রামিসার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সংঘটিত হয়েছে। জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, আর্থিক অভাব, পারিবারিক অস্থিরতা এবং মাদকের প্রভাবে তিনি এমন একটি অপরাধ করে ফেলেছেন, যার পরিণতি তিনি তখন উপলব্ধি করতে পারেননি। আদালতের প্রতি আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, তার একটি মাত্র সন্তান রয়েছে, যার পড়াশোনা ও পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার মতো আর কেউ নেই। এজন্য তিনি নিজের অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। স্ত্রী স্বপ্নার দাবি: ‘আমি নির্দোষ’ অন্যদিকে একই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত স্বপ্না আক্তার জেল আপিলে দাবি করেছেন, তিনি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মামলায় তাকে অন্যায়ভাবে জড়ানো হয়েছে এবং তিনি খালাস পাওয়ার যোগ্য। আইনি বিশ্লেষকদের মতে, জেল আপিল শুনানিতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের এমন অবস্থান আদালতের চূড়ান্ত মূল্যায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধুমাত্র ক্ষমা প্রার্থনা বা দায় অস্বীকার করাই রায়ের ভিত্তি পরিবর্তনের নিশ্চয়তা দেয় না। আদালত মূলত সাক্ষ্য-প্রমাণ, তদন্ত প্রতিবেদন, ফরেনসিক তথ্য এবং বিচারিক নথিপত্রের আলোকে সিদ্ধান্ত নেবেন। হাইকোর্টে আপিল গ্রহণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুন কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার পৃথকভাবে জেল আপিল দায়ের করেন। রোববার হাইকোর্ট তাদের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন। এর ফলে এখন মামলাটি উচ্চ আদালতে বিচারিক পর্যালোচনার নতুন ধাপে প্রবেশ করলো। আপিল শুনানির পর আদালত মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা, কমানো অথবা খালাস দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন। তদন্তে উঠে আসা প্রশ্ন এই মামলায় সোহেল রানার সর্বশেষ বক্তব্য নতুন করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে— অপরাধ সংঘটনের সময় তার মানসিক ও শারীরিক অবস্থা কী ছিল? মাদকাসক্তির দাবি তদন্তে কতটা প্রতিফলিত হয়েছে? অপরাধের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত ছিল কি না? স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ কতটা শক্তিশালী? আইনবিদদের মতে, এসব প্রশ্নের উত্তরই আপিল শুনানির সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার পূর্বাচলে অবস্থিত গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের নিজস্ব ক্যাম্পাসে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম যোগাযোগ (জেএমসি) বিভাগের সামার-২০২৬ (ব্যাচ-২৬০কে) শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়েছে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে। শনিবার অনুষ্ঠিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানটি শুধু আনুষ্ঠানিক পরিচিতি বা সাংস্কৃতিক আয়োজনেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর পরিবর্তিত গণমাধ্যম বাস্তবতায় ভবিষ্যৎ সাংবাদিকদের প্রস্তুত হওয়ার বার্তাও উঠে আসে বক্তাদের বক্তব্যে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিভাগের প্রধান ড. হাবীব মোহাম্মদ আলী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. খাজা ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এম শহীদুল্লাহ। গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য দেন দৈনিক খবরের কাগজের বার্তা সম্পাদক রোকেয়া রহমান। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম যোগাযোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. অলিউর রহমান। সাংবাদিকতার নতুন বাস্তবতায় এআই প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. খাজা ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতা আর কেবল তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তৃত ব্যবহারের ফলে তথ্য বিশ্লেষণ, ফ্যাক্ট-চেকিং, অডিও-ভিডিও কনটেন্ট নির্মাণ এবং স্বয়ংক্রিয় রিপোর্ট তৈরির মতো ক্ষেত্রগুলোতে প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে প্রযুক্তির এই দ্রুত বিকাশের মধ্যেও নৈতিকতা, তথ্যের সত্যতা এবং জনস্বার্থ রক্ষার প্রশ্নকে সাংবাদিকতার প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, পরিবর্তিত কর্মবাজারে টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের কেবল একাডেমিক জ্ঞান অর্জন করলেই চলবে না; প্রযুক্তিনির্ভর নতুন টুলস এবং ডিজিটাল দক্ষতার ওপরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলির বিকাশও প্রয়োজন। দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর বক্তারা বলেন, গণমাধ্যম শিল্প দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সাংবাদিকতা শিক্ষাকে এখন আরও বাস্তবমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে হচ্ছে। নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য মাল্টিমিডিয়া প্রোডাকশন, ডেটা জার্নালিজম, ডিজিটাল স্টোরিটেলিং এবং তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা অপরিহার্য হয়ে উঠছে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিভাগের প্রভাষক ও প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ বায়েজীদ খান, প্রভাষক জান্নাতুল ফেরদৌস মীম এবং নাজমুন্নাহার উর্মি। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা বিনিময় অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ। এ সময় অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদক জুবায়ের আহমেদ এবং জেএমসি মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি ও মেন্টর ইমু আক্তার মিম। এ ছাড়া জেএমসি ল্যাব কো-অর্ডিনেটর কাজী মাহাদী মুনতাসির বিভাগের কার্যক্রমভিত্তিক একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করেন। ফাইয়াজ সরকার ও নাজিফা তাবাস্সুম তাজের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানটি কেক কাটা এবং গ্রুপ ফটোসেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বার্তা? বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যম খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকদের ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই বাস্তবতায় গ্রিন ইউনিভার্সিটির নবীনবরণ অনুষ্ঠানটি শুধু নতুন শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিক স্বাগত জানানোর আয়োজন নয়; বরং ভবিষ্যৎ সাংবাদিকদের প্রযুক্তি, নৈতিকতা ও পেশাগত দক্ষতার সমন্বয়ে প্রস্তুত হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও বহন করেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। রাজধানীর এক ব্যবসায়ী দাবি করেছেন, ডিএনসির একটি দল তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করেছে এবং পরে তাঁকে মাদক মামলায় জড়িয়েছে। অভিযোগটি ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) কাছে লিখিতভাবে জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ডিএনসির ১০ কর্মকর্তা। পুরোনো অভিযোগ, নতুন বিতর্ক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন সময়ে অভিযানে অনিয়ম, জব্দ করা মাদকের পরিমাণ কম দেখানো, একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অবস্থান এবং কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অভিযোগগুলো তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি। এমন প্রেক্ষাপটে নতুন এই অভিযোগ ডিএনসির কার্যক্রম ও জবাবদিহিতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছে। কী অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী? অভিযোগকারী ফরহাদ বিল্লা রুবেল, রাজধানীর নিকুঞ্জ এলাকার বাসিন্দা এবং লা পেসেতা ফ্যাশন অ্যান্ড ট্রেডিং করপোরেশনের মালিক। লিখিত অভিযোগে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি তৈরি পোশাক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য খাতে ব্যবসা করছেন। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বিদেশি ক্রেতা ও অতিথিরা তাঁর অফিস ও বাসায় নিয়মিত আসা-যাওয়া করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশি অতিথিদের ব্যবহৃত কিছু পানীয়ের খালি বোতল এবং হুকা-সংশ্লিষ্ট সামগ্রী বাসায় সংরক্ষিত ছিল। ফরহাদ বিল্লা রুবেলের অভিযোগ, গত ৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় ডিএনসির পরিচয়ে ১০ থেকে ১২ জন কর্মকর্তা তাঁর অফিসে প্রবেশ করেন। অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পরিদর্শক মাহবুব রহমান, সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদ, উপপরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন, সহকারী উপপরিদর্শক মোহাম্মদ আলী, তৃষ্ণা রাণী বিশ্বাস, রুবেল হোসেন, সাইফুল ইসলাম, মাহমুদুল হাসান এবং লুৎফর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, কর্মকর্তারা অফিসের বিভিন্ন নথিপত্র তল্লাশির নামে এলোমেলো করেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযানের কারণ জানতে চাইলে তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং মাদক মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়। ‘এক কোটি টাকা দাবি, পরে ৫০ লাখে সমঝোতার প্রস্তাব’ অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে তাঁকে মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার বিনিময়ে এক কোটি টাকা দাবি করা হয়। পরে সেই দাবি কমিয়ে ৫০ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা হয় এবং দ্রুত অর্থ পরিশোধের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। ফরহাদ বিল্লা রুবেলের দাবি, তিনি অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে আরও চাপ প্রয়োগ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, রাত ১১টার দিকে ডিএনসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এসে তাঁর কাছে থাকা নগদ ২০ লাখ টাকা নিয়ে যান। ‘ঘোরানো হয় বিভিন্ন স্থানে’ লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অর্থ নেওয়ার পর তাঁকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘোরানো হয়। বনানীর একটি কফিশপের সামনে নিয়ে গিয়ে আরও অর্থ সংগ্রহের জন্য চাপ দেওয়া হয়। পরে গুলশান ও হাতিরঝিল এলাকা ঘুরিয়ে তাঁকে গেন্ডারিয়ায় ডিএনসির কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরদিন তাঁর বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। ‘মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে’ ফরহাদ বিল্লা রুবেল অভিযোগ করেছেন, মামলার এজাহারে তাঁকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন। তাঁর আরও অভিযোগ, জব্দ তালিকায় থাকা স্বাক্ষর তাঁর নয় এবং অভিযানের সময় বাসা থেকে বিভিন্ন মালামালও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, মামলার নথিতে অভিযানের সময়সূচি ও ঘটনাপ্রবাহের যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তা বাসার সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে মিলছে না। ফুটেজে কর্মকর্তাদের প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় এজাহারের তথ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত হওয়া জরুরি। তাঁর মতে, অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনসাধারণের আস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ডিএনসির প্রতিক্রিয়া অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) মো. বশির আহমেদ বলেন, অভিযোগটি প্রধান কার্যালয়ে জমা পড়েছে। তিনি জানান, বিষয়টি এখনো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়নি। তবে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সামনে যে প্রশ্নগুলো এই অভিযোগের পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— অভিযানের সময় কী নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল? অভিযোগকারীর দাবি অনুযায়ী সিসিটিভি ফুটেজে কী দেখা যাচ্ছে? ঘুষ গ্রহণ ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগের কোনো প্রমাণ রয়েছে কি? মামলার এজাহার ও জব্দ তালিকার তথ্য কতটা নির্ভুল? অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্ত হবে কি? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে কেবল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে। আর সেই তদন্তই এখন নজরে সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ মানুষের।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরগুনার সদর উপজেলার ১ নম্বর বদরখালী ইউনিয়নে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যানের ওপর হামলার জেরে গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এনেছে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক বাণিজ্য এবং কথিত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের প্রভাব। শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল চারটার দিকে ইউনিয়নের ডেমা গ্রামে সংঘটিত এ ঘটনায় নিহত হন ইব্রাহিম হোসেন কালু (৩০)। গুরুতর আহত হয়েছেন তার সহযোগী তৌহিদ ইসলাম শুভ (২২)। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল কালু ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘কালু বাহিনী’কে ঘিরে একাধিক অভিযোগ থাকলেও তাদের কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ দীর্ঘদিনের বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। ঘটনার দিন বিকেলে ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফার ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, স্থানীয় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে ক্ষুব্ধ জনতা কালু ও তার সহযোগীদের ধরে গণপিটুনি দেয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের বরগুনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইব্রাহিম হোসেন কালুকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত তৌহিদ ইসলাম শুভকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, আহত ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফাকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম জানিয়েছেন, ইব্রাহিম হোসেন কালুর বিরুদ্ধে মাদক, ডাকাতি ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি অস্ত্র মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং তার কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। প্রায় চার মাস কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। পুলিশের দাবি, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর কালু পুনরায় মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এসব কার্যক্রমে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করেই সর্বশেষ সহিংসতার সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তবে ঘটনাটি আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। একজন বহুমামলার আসামি জামিনে মুক্ত হয়ে কীভাবে আবার এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হলেন? স্থানীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন অভিযোগ থাকলেও কেন কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি? এবং শেষ পর্যন্ত কেন আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে গণপিটুনির মতো পরিস্থিতি তৈরি হলো? এ বিষয়ে পুলিশ বলছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের প্রশাসনে আবারও বড় ধরনের রদবদল এনেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা ১১টি পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার ১১ কর্মকর্তাকে নতুন দায়িত্বে পদায়ন ও বদলি করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাত—জ্বালানি, স্থানীয় সরকার, পানি সরবরাহ, পল্লী উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কার্যক্রম—একযোগে পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে সরকার নীতি বাস্তবায়নে গতি আনতে চাইছে। জ্বালানি খাতে পরিবর্তন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের হাইড্রোকার্বন ইউনিটের মহাপরিচালক (যুগ্ম-সচিব) মো. সাবেত আলীকে একই বিভাগের যুগ্ম-সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা বর্তমানে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়ায় এই পদায়নকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে বিভাগে সংযুক্ত যুগ্ম-সচিব মো. অলিউর রহমানকে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজউক থেকে জনপ্রশাসনে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এস এম তুহিনুর আলমকে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। প্রশাসনিক মহলে এ ধরনের পদক্ষেপকে ভবিষ্যৎ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদানের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে দেখা হয়। প্রশিক্ষণ ও মানবসম্পদ উন্নয়নে নতুন নিয়োগ প্রেষণ শেষে সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগদানকারী যুগ্ম-সচিব মো. আবুল হোসেনকে জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির (নাডা) এমডিএস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নাডা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে এই পদায়ন প্রশাসনিক মানবসম্পদ উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। নতুন অধিদপ্তরে প্রথম ডিজি সবচেয়ে আলোচিত পদায়নগুলোর একটি হলো নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম-সচিব ডি এম আতিকুর রহমানকে নবগঠিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর’-এর মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ। তার চাকরি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। নতুন এই অধিদপ্তরের কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কাঠামো কীভাবে গড়ে তোলা হবে, সে বিষয়ে এখন আগ্রহ তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক অঙ্গনে। আবাসন ও অবকাঠামো খাতে পরিবর্তন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক সৈয়দ ফরহাদ হোসেনকে ‘অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণ’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মো. জহিরুল ইসলাম খানকে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। ওয়াসায় নতুন নেতৃত্ব রাজশাহী বিভাগের কৃষি বিপণন কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বেগম শাহানা আখতার জাহানকে রাজশাহী ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের পরিচালক এরশাদ হোসেন খানকে ঢাকা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পানি সরবরাহ ও নগর সেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এই নিয়োগগুলোকে ভবিষ্যৎ সেবা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কী ইঙ্গিত দিচ্ছে এই রদবদল? প্রশাসনের বিভিন্ন খাতে একযোগে এই পুনর্বিন্যাস সরকারের কৌশলগত অগ্রাধিকারকে সামনে নিয়ে আসে। বিশেষ করে নবগঠিত অধিদপ্তরে নেতৃত্ব নিয়োগ, উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন কর্মকর্তা দায়িত্ব প্রদান এবং প্রশিক্ষণ ও স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আনার প্রচেষ্টার অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এসব বদলিকে নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে, তবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে একযোগে নেতৃত্ব পরিবর্তন প্রশাসনিক পুনর্গঠনের ইঙ্গিত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার জেরে রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে শতাধিক রোগীর চিকিৎসার ভবিষ্যৎ নিয়ে। হাসপাতালটি থেকে রোগীদের দ্রুত অন্যত্র স্থানান্তরের নির্দেশ দিলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিবিড় পরিচর্যায় থাকা রোগীদের স্থানান্তর নিজেই একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে রাজধানীর ছয়টি সরকারি হাসপাতালে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল থেকে রেফার হওয়া রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোন হাসপাতালগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে? স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী রোগীদের নিম্নোক্ত সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে— ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট অধিদপ্তর বলছে, রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে চিকিৎসার সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। লাইসেন্স বাতিলের পর শুরু রোগী স্থানান্তর গত বৃহস্পতিবার ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার পর আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সঙ্গে হাসপাতালটিকে রোগীদের অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়। এর পরপরই হাসপাতাল থেকে রোগী ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মাত্র একদিনের ব্যবধানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ১৭৩ জন কমে বর্তমানে ২৪৩ জনে নেমে এসেছে। তবে সংখ্যার এই পরিবর্তনের আড়ালে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে নিবিড় পরিচর্যায় থাকা রোগীদের নিরাপত্তা। সবচেয়ে ঝুঁকিতে কারা? হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে— ৫০ জন নবজাতক এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন ১৩ জন রোগী আইসিইউ ও এইচডিইউতে ভর্তি অর্থাৎ প্রায় ৭০ জন রোগী এমন অবস্থায় রয়েছেন, যাদের চিকিৎসা স্থানান্তরের সময় বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্স, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক দল এবং উন্নত লাইফ সাপোর্ট প্রয়োজন হতে পারে। রোগীর স্বজনরা বলছেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতালে তুলনামূলক কম খরচে জটিল চিকিৎসার সুযোগ ছিল। অন্য হাসপাতালে একই ধরনের সেবা পাওয়া গেলেও ব্যয়, শয্যা সংকট এবং দ্রুত ভর্তি নিশ্চিত করা নিয়ে তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ: সহায়তা কোথায়? স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোগী স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিলেও শুক্রবার হাসপাতালে অধিদপ্তরের কোনো প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন রোগীর স্বজন। তাদের আশঙ্কা, সংকটাপন্ন রোগীদের স্থানান্তরের সময় সমন্বয়হীনতা তৈরি হলে তা রোগীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন এদিকে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, রোগীদের জীবনরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভবনের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের জন্য তিন মাস সময় চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করেছে। তদন্তের কেন্দ্রে যে প্রশ্নগুলো ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্যখাতে জবাবদিহির প্রশ্ন সামনে এনেছে। তবে একই সঙ্গে উঠে এসেছে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— মৃত্যুর ঘটনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কতদূর এগিয়েছে? সংকটাপন্ন রোগীদের নিরাপদ স্থানান্তরের জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? বিকল্প হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত শয্যা ও চিকিৎসা সক্ষমতা রয়েছে কি? নিম্ন আয়ের রোগীদের জন্য চিকিৎসা ব্যয় কীভাবে সামাল দেওয়া হবে? স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোগীদের চিকিৎসা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিলেও মাঠপর্যায়ে সেই নির্দেশনার বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীর ব্যস্ত নগরজীবনে ছিনতাই এখন কতটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, তার আরেকটি মর্মান্তিক উদাহরণ হয়ে উঠেছে সোহেলি ইসলামের মৃত্যু। ভোরবেলায় মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে বাসা ফিরছিলেন তিনি। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের এক ছিনতাইচেষ্টাই কেড়ে নিল তার জীবন। চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর বৃহস্পতিবার সকালে মারা যান ৪২ বছর বয়সী এই কর্মজীবী নারী। ঘটনাটি ঘটে গত রোববার ভোরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে। পরিবার ও স্বজনদের বর্ণনা অনুযায়ী, দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে ঢাকায় ফেরার পর গাবতলী এলাকায় বাস থেকে নেমে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে রিকশায় করে ধানমন্ডির বাসার উদ্দেশে রওনা দেন সোহেলি ইসলাম। পথে একটি মোটরসাইকেলে আসা দুই ছিনতাইকারী তাদের অনুসরণ করে। একপর্যায়ে হেলমেট পরা এক ব্যক্তি সোহেলির হাতে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ টান দিতে শুরু করে। ব্যাগ রক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে ধস্তাধস্তির মধ্যে চলন্ত রিকশা থেকে সড়কে ছিটকে পড়ে যান তিনি। মাথায় গুরুতর আঘাত, শুরু হয় জীবন-মৃত্যুর লড়াই পড়ে গিয়ে সোহেলির ডান হাত ভেঙে যায়। একই সঙ্গে মাথার পেছনে গুরুতর আঘাত লাগে এবং কান দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজনের সহায়তায় তার মেয়ে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রথমে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শেষ পর্যন্ত উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যু হয়। কর্মজীবী এক মায়ের অসমাপ্ত জীবন নিহত সোহেলি ইসলামের বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায়। তিনি একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিতে মেডিক্যাল সার্ভিস অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মসূত্রে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় বসবাস করতেন। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মেয়ের উচ্চশিক্ষার জন্য নিরলস পরিশ্রম করতেন তিনি। তার একমাত্র মেয়ে বর্তমানে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী। মায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে তিনি গভীর মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছেন। ভোরের ঢাকায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন পরিবার জানায়, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান শেষে শনিবার রাতে মেয়েকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন সোহেলি। ভোরে গাবতলীতে পৌঁছে কিছু সময় অপেক্ষা করার পর রিকশায় করে বাসার দিকে রওনা দেন। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হন। ঘটনাটি আবারও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে ভোররাত ও সকালবেলার সময় মোটরসাইকেলভিত্তিক ছিনতাই চক্রের সক্রিয়তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। আহত অবস্থায় পড়ে থাকলেও দ্রুত সহায়তা মেলেনি স্বজনদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় সড়কে পড়ে থাকলেও শুরুতে আশপাশের অনেক মানুষ এগিয়ে আসেননি। পরে রিকশাচালক ও কয়েকজন পথচারীর সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়। মানবিক সহায়তার এই বিলম্ব আহত ব্যক্তির চিকিৎসা ও বেঁচে থাকার সম্ভাবনায় কতটা প্রভাব ফেলেছে, সেই প্রশ্নও উঠছে পরিবারের পক্ষ থেকে। মামলা হয়নি, আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে চিকিৎসা ও দাফনসংক্রান্ত ব্যস্ততার কারণে এখনো কোনো মামলা করা হয়নি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ছিনতাইকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবিতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এদিকে সোহেলির মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনরা দ্রুত তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।