ঢাকা, বাংলাদেশ: রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়েরকৃত মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহের'র সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন। আনিস আলমগীরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আসলাম মিয়া ও তামান্না ফেরদৌস, এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রেজাউল করিম মৃধা। জামিন প্রসঙ্গে আনিস আলমগীরের আইনজীবী মো. আসলাম মিয়া সাংবাদিকদের জানান, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার থাকায় আনিস আলমগীর এখনই কারামুক্ত হবেন না। তিনি বলেন, মামলায় আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংককে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও টকশোতে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ঢাকার ধানমণ্ডির একটি জিম থেকে আনিস আলমগীরকে তুলে নিয়ে মিন্টো রোডে ডিএমপি’র গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কার্যালয়ে নেয়া হয়। পরদিন জুলাই রেভ্যুলুশনারি অ্যালায়েন্সের কেন্দ্রীয় সংগঠক আরিয়ান আহমেদ উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। মামলায় আনিস আলমগীরের পাশাপাশি অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, মডেল মারিয়া এবং ইমতু রাতিশকেও আসামি করা হয়। আইনজীবী আসলাম মিয়ার মতে, হাইকোর্ট জামিন হওয়া সত্ত্বেও আনিস আলমগীরের গ্রেপ্তার স্থগিত হয়নি, কারণ তার বিরুদ্ধে অন্যান্য মামলা চলমান রয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ২০২৫ সালে কাজের সময় রেকর্ড ১২৯ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের প্রাণ গেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হাতে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন Committee to Protect Journalists (সিপিজে)-এর বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে সংবাদকর্মীদের প্রাণহানির রেকর্ড হয়েছে। ২০২৪ সালের মতো গত বছরও নিহত সাংবাদিকদের বড় একটি অংশের মৃত্যুর জন্য ইসরায়েল দায়ী। গাজা ও ইয়েমেনে ব্যাপক প্রাণহানি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে ৮৬ জন সাংবাদিক নিহত হন। তাদের অধিকাংশই ছিলেন Gaza Strip-এর ফিলিস্তিনি সাংবাদিক। এছাড়া ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী Houthis পরিচালিত একটি গণমাধ্যম কার্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় ৩১ জন গণমাধ্যমকর্মী নিহত হন। সিপিজে জানায়, সাংবাদিকদের হতাহতের সংখ্যা নথিভুক্ত করার ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা। সিপিজে যে ৪৭টি হত্যাকাণ্ডকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা বা ‘হত্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তার ৮১ শতাংশের জন্যও ইসরায়েল দায়ী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। গাজায় প্রবেশাধিকারে কঠোর বিধিনিষেধ থাকায় সাংবাদিকদের হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়নি। অতীতে তারা দাবি করেছে, গাজায় তাদের সেনারা কেবল যোদ্ধাদের লক্ষ্য করেছে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে কাজ করার ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই ঝুঁকি থাকে। গত সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের ওই গণমাধ্যম কার্যালয়ে হামলার দায় স্বীকার করে ইসরায়েল। সে সময় সেটিকে হুথিদের প্রচারণা শাখা হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। কিছু ঘটনায় ইসরায়েল দাবি করেছে, গাজায় নিহত কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে Hamas-এর যোগাযোগ ছিল। তবে এ দাবির পক্ষে যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সিপিজে ইসরায়েলের এমন অভিযোগকে ‘ভয়াবহ অপবাদ’ বলে উল্লেখ করেছে। উল্লেখ্য, গাজায় বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেয় না ইসরায়েল। ফলে সেখানে নিহত সব গণমাধ্যমকর্মীই ছিলেন ফিলিস্তিনি। অন্যান্য দেশে পরিস্থিতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত ১২৯ সাংবাদিকের মধ্যে অন্তত ১০৪ জন সংঘাত-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। গাজা ও ইয়েমেনের বাইরে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী দেশগুলোর একটি ছিল Sudan, যেখানে ৯ জন নিহত হন। এছাড়া Mexico-তে ৬ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। Ukraine-এ রুশ বাহিনীর হাতে চারজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে Philippines-এ তিন সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন। রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে সাংবাদিকদের নিশানা করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং উল্টো ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশ সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ তুলেছে। যদিও কিয়েভ এ অভিযোগ নাকচ করেছে। প্রতিবেদনের বিষয়ে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত রাশিয়ার দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তিন দশকের তথ্যসংগ্রহ সিপিজে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বজুড়ে সাংবাদিক হতাহতের তথ্য সংগ্রহ ও নথিভুক্ত করছে। সংস্থাটির মতে, বর্তমানে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী যেকোনও দেশের সামরিক বাহিনীর তুলনায় সর্বোচ্চসংখ্যক নিশানাভিত্তিক সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। বিশ্বব্যাপী সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে সাংবাদিকদের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে—এমন উদ্বেগও তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে।
ঢাকা, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি): রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান-এ মাদকবিরোধী অভিযানের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তত তিনজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন বাংলানিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার তোফায়েল আহমেদ, আকাশ (এনপিবি নিউজ) এবং কাওসার আহমেদ রিপন (আজকের পত্রিকা)। গুরুতর আহত তোফায়েল আহমেদ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। লাইভ সম্প্রচারের সময় হামলার অভিযোগ জানা যায়, সোমবার রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদক নির্মূলে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। অভিযানের দৃশ্য জনসমক্ষে তুলে ধরতে সাংবাদিকরা ফেসবুক লাইভে সরাসরি সম্প্রচার করছিলেন। এ সময় একদল পুলিশ সদস্য তাদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ‘আজকের পত্রিকা’র মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার কাওসার আহমেদ রিপন জানান, নিজেদের পরিচয় বারবার দেওয়ার পরও পুলিশ কোনো তোয়াক্কা না করে বেধড়ক লাঠিচার্জ শুরু করে। তোফায়েল আহমেদকে মারধর করা হলে তাকে উদ্ধার করতে গেলে অন্য সাংবাদিকদেরও পেটানো হয়। গুরুতর আহত তোফায়েল, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের আশঙ্কা সহকর্মীরা জানান, মাথা ও পিঠে আঘাতের ফলে তোফায়েলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে। রক্তক্ষরণ ও তীব্র ব্যথা শুরু হলে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে তার শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি রয়েছে। বাংলানিউজের নিন্দা ও বিচার দাবি বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম-এর ক্রাইম বিট প্রধান সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট আবাদুজ্জামান শিমুল বলেন, এর আগেও রমনা পার্ক এলাকায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান দায়িত্বশীলভাবে লাইভ সম্প্রচার করা হয়েছে। পুলিশের অপরাধ দমন কার্যক্রম ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে প্রতিষ্ঠানটি বরাবরই সচেষ্ট। তিনি অভিযোগ করেন, একই ধারাবাহিকতায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তোফায়েলের ওপর বেপরোয়া হামলা চালানো হয়, যার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান তিনি। ডিএমপির আশ্বাস এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)-এর রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, “ভিডিও ফুটেজ যেহেতু রয়েছে, তা পর্যালোচনা করে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” জনগুরুত্বপূর্ণ অভিযানের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার এই ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা—এখন সেটিই দেখার বিষয়।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান Press Institute of Bangladesh (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ-এর কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, পিআইবি থেকে অবসর গ্রহণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিষ্ঠানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের পাওনা সংক্রান্ত বিষয় ঝুলিয়ে রেখে মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। একাধিক সূত্র দাবি করেছে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং তারা অভিযোগ করছেন যে তাদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা নিষ্পত্তি না করে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা চলছে। এছাড়া অভিযোগ উঠেছে যে, প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩৪ জনকে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নীতিমালার বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে পিআইবির কর্মচারী ফরিদ আহমেদ-এর সঙ্গে অমানবিক আচরণের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, তার সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এই অনিয়ম দুর্নীতি অবৈধ নিয়ম বিষয়ে কথা বলায়,মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে পিআইবির সিনিয়র পরীক্ষক পারভীন সুলতানা রাব্বিকে যড়যন্ত্র ও কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করে বদলি করা হয়েছে এবং আলী হোসেনের সুনিশ্চিত কারণ ছাড়া অবসর দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করা হয়েছে বলেও জানা যায়। এভাবে অবসরপ্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তির সঙ্গেই তিনি অনুরূপ আচরণ করে থাকেন। এছাড়াও, তিনি প্রায় ৩৪ জন লোককে পিআইবিতে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন। ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী: বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের অনিয়মের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে মহাপরিচালক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে অনিয়ম ও লুটপাটের মহোৎসবে পরিণত করেছেন—এমন অভিযোগ বিভিন্ন মহলে উত্থাপিত হয়েছে। তাই দ্রুত তাকে অপসারনের দাবী জানিয়েছে সাংবাদিক সমাজ। তিনি ডিজি পদে টিকে থাকার লক্ষ্যে তিনি নানামুখী তৎপরতা ও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বলেও জানা যাচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি রাখে।তথ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে, বিষয়টির প্রতি যাতে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।
দৈনিক দিনকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশকের পদ ছেড়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে যোগ দিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন। সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বলা হয়েছে, সাংবাদিক, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’–এর আহ্বায়ক ও বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন দৈনিক দিনকালের সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে যোগদান করেছেন।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস কোম্পানির অধীনে পরিচালিত হয় বিখ্যাত সংবাদপত্র দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। চলতি বছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ডিজিটাল সাবস্ক্রিপশন ও অনলাইন বিজ্ঞাপন থেকে অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে কোম্পানিটি। গত বুধবার প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত পরিচালন মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ২৬ দশমিক ১ শতাংশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই–সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি নতুন করে ৪ লাখ ৬০ হাজার ডিজিটাল-অনলি সাবস্ক্রাইবার যুক্ত করেছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিন মাসে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। গ্রাহকদের জন্য ‘মাল্টি-প্রোডাক্ট বান্ডেল সাবস্ক্রিপশন’ কৌশল সফল হওয়ায় এই প্রবৃদ্ধি এসেছে। বর্তমানে মোট গ্রাহকের অর্ধেকের বেশি একাধিক পণ্যের সাবস্ক্রিপশন ব্যবহার করছেন। নিউজ রিপোর্ট, কুকিং, গেমস, অয়্যারকাটার ও দ্য অ্যাথলেটিকসহ বিভিন্ন সেবায় নিউইয়র্ক টাইমসের মোট গ্রাহকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩০ হাজারে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী মেরিডিথ কপিত লেভিয়েন বলেন, ব্যবহারকারী ও গভীরভাবে যুক্ত গ্রাহক বাড়ানোর সক্ষমতার বিষয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী। তিনি আরও জানান, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ গ্রাহকসংখ্যা ১ কোটি ৫০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজস্ব ও মুনাফার চিত্র মোট রাজস্ব: ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৭০ কোটি ৮ লাখ ডলার পরিচালন মুনাফা: সমন্বিত পরিচালন মুনাফা ১৩ কোটি ১৪ লাখ ডলার বিজ্ঞাপন আয়: আগের বছরের তুলনায় ২০ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৮১ লাখ ডলার অ্যাফিলিয়েট ও লাইসেন্সিং আয়: মূলত অয়্যারকাটার থেকে আয় ৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৭ কোটি ৩৯ লাখ ডলার ডিজিটাল এআরপিইউ: গ্রাহকপ্রতি গড় আয় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৯ দশমিক ৭৯ ডলার—যার পেছনে মূল্য সমন্বয় ও প্রচারমূলক মূল্যের অবসান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ডিজিটাল কনটেন্টে গ্রাহক ঝুঁকে পড়ায় প্রিন্ট সাবস্ক্রিপশন কমছে। তৃতীয় ত্রৈমাসিকে প্রিন্ট গ্রাহক ৫০ হাজার কমে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৭০ হাজারে। এ খাত থেকে প্রতিষ্ঠানের আয় কমেছে ৩ শতাংশ, যা এখন ১২ কোটি ৭২ লাখ ডলার। ২০২২ সালে ৫৫০ মিলিয়ন ডলারে কেনা দ্য অ্যাথলেটিক বহুদিন লোকসানে থাকলেও ২০২৪ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রথমবারের মতো লাভজনক হয়। তবে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এর পৃথক আর্থিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে পরিচালন ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯ কোটি ৬০ লাখ ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। সেপ্টেম্বর শেষে নিউইয়র্ক টাইমসের হাতে নগদ অর্থ ও দ্রুত বিক্রয়যোগ্য সিকিউরিটিজ মিলে ছিল ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার।
পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে সংবাদপত্রের প্রচলন ক্রমেই কমছে। সর্বশেষ কয়েক বছরে অঞ্চলটিতে সংবাদপত্রের সার্কুলার ব্যাপকভাবে কমে গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়ার দ্রুত বৃদ্ধি ও সরকারী সহায়তার অভাব একসময়ের সমৃদ্ধশালী খাতটিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। একসময় যা একটি প্রাণবন্ত ক্ষেত্র ছিল, আজ তা কম পাঠকসংখ্যা ও খরচ বৃদ্ধির কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বিক্রেতা ও প্রকাশকরা জানিয়েছেন যে, সেই শিল্পখাতটি যা দশকের পর দশক ধরে হাজার হাজার পরিবারের জীবিকা নিশ্চিত করত, এখন তার আগের পাঠকসংখ্যার কেবল এক ভগ্নাংশের ওপর টিকে আছে। যারা দীর্ঘ সময় ধরে এই পেশায় কাজ করেছেন, তাদের মতে, করোনা মহামারির পর থেকে এ শিল্পের পতন শুরু হয়। তখন কাগজের দাম কয়েকগুন বৃদ্ধি ও সরবারহ ব্যবস্থা ভেঙে যাওয়ায় সংবাদপত্রের দাম বেড়ে যায়। সরকারের কাছে এ খাতটি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য অনুদান চেয়েও কোন সাড়া মিলেনি।ফলে কর্মীরা আর্থিক অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করতে বাধ্য হয়েছেন। অনেকে বলেন, তাদের দৈনন্দিন আয় এখন আগের আয়ের চতুর্থাংশের থেকেও কমে গেছে। সংকটের কারণ হিসেবে জম্মু-কাশ্মীরের গণমাধ্যমকর্মীরা বলছেন, সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো সোশ্যাল মিডিয়ার আধিপত্য। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে এখন সংবাদপত্রের স্ক্যান করা কপি বিনামূল্যে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে মুদ্রিত সংস্করণের পাঠক সংখ্যা সীমিত হয়ে গেছে। বাকি পাঠকের বেশিরভাগই ৫০ বছরের ওপরে, আর সরকারি অফিসগুলো একমাত্র বড় প্রতিষ্ঠানগত গ্রাহক হিসেবে টিকে আছে। সার্কুলেশন কমার বিষয়টি সংবাদপত্র বিক্রেতাদের জীবিকায় সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, শিক্ষার খরচ এবং স্বাস্থ্যসেবা এখন বিলাসিতা হয়ে গেছে, এমনকি মাসিক ভাড়া জোগাতেও পরিবারগুলো হিমশিম খাচ্ছে। মুজাফফরাবাদ ও আশেপাশের অঞ্চলের কয়েকজন পত্রিকা বিক্রেতা জানিয়েছেন, তারা বারবার সংবাদপত্র ব্যবসা চালু রাখতে প্রেস সহায়তা তহবিলের জন্য আবেদন করেছেন, কিন্তু এখনও এমন কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরজুড়ে প্রায় ৭০ শতাংশ পত্রিকা সরবারহ কমে গেছে। কর্মীরা আশঙ্কা করছেন, জরুরি সংস্কার ছাড়া শিল্পটি টিকে থাকতে নাও পারে।
আন্তর্জাতিক বাহিনী প্রত্যাহার এবং ২০২১ সালের আগস্টে তালেবানদের পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর আফগানিস্তানের একসময়কার বৈচিত্র্যময় ও সক্রিয় গণমাধ্যমখাত কার্যত ভেঙে পড়েছে। অর্থনৈতিক সংকট, কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং সেন্সরশিপের চাপে শত শত গণমাধ্যম বন্ধ হয়ে গেছে, কর্মহীন হয়েছেন হাজারো সাংবাদিক। এই শূন্যতার সুযোগেই আফগানিস্তানে দ্রুত ও দৃশ্যমানভাবে বিস্তৃতি ঘটাচ্ছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। ২০২১ সালের পর থেকে আফগানিস্তানে চীনের মিডিয়া উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রেডিও ফ্রি ইউরোপ/রেডিও লিবার্টিএর সঙ্গে কথা বলা একাধিক আফগান সাংবাদিক জানিয়েছেন, চীনা গণমাধ্যমগুলো মূলত এমন সব সংবাদ ও ডকুমেন্টারি তৈরি করছে, যা বেইজিংয়ের ‘ইতিবাচক ভূমিকা’ তুলে ধরে; অথচ দারিদ্র্য, মানবাধিকার লঙ্ঘন, দমন-পীড়ন কিংবা সাধারণ মানুষের দুর্দশার মতো বিষয়গুলো সচেতনভাবে এড়িয়ে যাচ্ছে। কাবুলে কর্মরত এক আফগান সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমাদের বলা হয় কেবল ইতিবাচক বিষয় নিয়ে কাজ করতে—যাতে তালেবান সরকারের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। মাঠে গেলে আমরা ক্ষুধা ও কষ্ট দেখি, কিন্তু সেসব গল্প প্রকাশ করতে দেওয়া হয় না। বাস্তবতাকে আড়াল করা হচ্ছে।’ চীনা গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের অন্য মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতেও নিষেধ করা হয়েছে। অনেকেই জানিয়েছেন, নির্দেশ অমান্য করলে চাকরি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। তালেবান ক্ষমতার আগে চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) ও চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক (সিজিটিএন)-এর আফগান কর্মীরা জানান, সে সময় চীনা কনটেন্টে আগের আফগান সরকারের দুর্বলতা, দুর্নীতি ও অস্থিরতার দিকগুলো জোর দিয়ে তুলে ধরা হতো—যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী ভূরাজনৈতিক অবস্থানকে সহায়তা করত। তালেবান শাসনের পর সেই কৌশলে পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে চীনা গণমাধ্যমগুলো আঞ্চলিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে, বিশেষ করে আফগানিস্তান–পাকিস্তান উত্তেজনা নিয়ে। একই সঙ্গে তালেবান নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম—যেমন বাখতার নিউজ এজেন্সির সঙ্গে যৌথ অনুষ্ঠান, কনটেন্ট আদান-প্রদান ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি চীনের বৃহত্তর ‘সফট পাওয়ার’ কৌশলের অংশ। পশ্চিমা গণমাধ্যম ও দাতা সংস্থাগুলো আফগানিস্তান থেকে সরে যাওয়ায় যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সেখানে চীন নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেখছে। জার্মানির লাইপজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক হযরত বাহার বলেন, ‘বিদেশি গণমাধ্যমে বিনিয়োগ অনেক সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উদ্দেশ্যেই করা হয়। আফগান মিডিয়ার পতনের পর চীন এই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে।’ গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু বেসরকারি আফগান টিভি চ্যানেল ও মিডিয়া হাউস চীনা অর্থনৈতিক সহায়তা পেয়েছে। চায়না রেডিও ইন্টারন্যাশনালের (সিআরআই) পশতু সার্ভিস কাবুল ও কান্দাহারে নিয়মিত সম্প্রচার চালাচ্ছে এবং সামাজিক মাধ্যমে বিপুল অনুসারী তৈরি করেছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ও সিজিটিএন কাবুলে অফিস চালু রেখে ইংরেজি ভাষার কনটেন্ট তৈরি করছে। ভারতের থিঙ্ক ট্যাংক সেন্টার ফর সোশ্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক প্রোগ্রেস (সিএসইপি)-এর ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন অর্থায়ন, কনটেন্ট অংশীদারত্ব এবং সাংবাদিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আফগান গণমাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করছে। লক্ষ্য একটাই—চীনকে একটি ‘স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ হিসেবে তুলে ধরা। তবে সাবেক আফগান সরকারের শেষ চীনে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত জাওয়েদ কাইম মনে করেন, চীনের ভূমিকা এখনো মূলত বাস্তববাদী। তার ভাষায়, ‘আফগানিস্তান চীনের কাছে অতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, তবে নিরাপত্তার দিক থেকে এটি আঞ্চলিক কৌশলের অংশ। চীন চায়, আফগানিস্তান থেকে কোনো হুমকি যেন তাদের সীমান্তে না আসে।’ এই অবস্থার বিপরীতে আফগানিস্তানের স্বাধীন গণমাধ্যম খাত ক্রমেই অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে। বহু সাংবাদিক দেশ ছেড়েছেন, অসংখ্য গণমাধ্যম বন্ধের মুখে। পশ্চিমা সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়া, তালেবানের কঠোর সেন্সরশিপ, বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান নিষিদ্ধকরণ এবং নারী সাংবাদিকদের ওপর বিধিনিষেধ—সব মিলিয়ে আফগান গণমাধ্যম এক গভীর অন্ধকারের দিকে এগোচ্ছে। রেডিও ফ্রি ইউরোপ রেডিওলিবার্টি- মিশর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ানের অনুবাদ
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের গামছাখালী এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিবি) সাংবাদিক মিরাজ উদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসময় সন্ত্রাসীরা তাকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে সংবাদ সংগ্রহের সময় এ ঘটনা ঘটে। তার সাথে থাকা মোটরসাইকেল চালক সাকিবও হামলার শিকার হন। আহত মিরাজ জানায়, গামছাখালী এলাকায় সংবাদ সংগ্রহের কাজে গেলে, সেখানে তার ওপর হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার সঙ্গে থাকা বাইক চালক সাকিবও বর্তমানে চিকিৎসাধীন। হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বিষয়টি মাত্র শুনেছি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বিদেশ থেকে আগত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য ‘মিডিয়া সেন্টার’ স্থাপন করেছে তথ্য অধিদপ্তর। ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এ মিডিয়া সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মিডিয়া সেন্টারের কার্যক্রম চালু থাকবে। নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ সফররত বিদেশি সাংবাদিকরা মিডিয়া সেন্টার থেকে তথ্য ও লজিস্টিক সেবা পাবেন। নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্যের জন্য দুটি হটলাইন সেবা চালু করা হয়েছে। হটলাইন নম্বর দুটি হলো: ৪৮৩২২৩৪৪ এবং ৪৮৩২২৪৩৫।
তথ্য অধিকার আইন ২০০৯-এর সংশোধনকল্পে অধ্যাদেশ অনুমোদন দেওয়াকে বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রহসন বলে মন্তব্য করেছে তথ্য অধিকার ফোরাম। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) তথ্য অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক শাহীন আনাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ফোরামের ধারাবাহিক তাগিদ সত্ত্বেও দীর্ঘ সময়ে প্রধান তথ্য কমিশনার ও কমিশনার নিয়োগ করা হয়নি। ফলে জনগণের অর্থে পরিচালিত তথ্য কমিশনকে অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নে যে বাধা সৃষ্টি হয়েছে তা নিন্দনীয়। অন্তর্বর্তী সরকারের অসচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের এটিও একটি উদাহরণ। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তথ্য অধিকার ফোরাম তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর বিভিন্ন ধারার ওপর ৩৭টি সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করে গত বছরের ৬ মার্চ একটি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করে এবং একই দিনে প্রধান উপদেষ্টার বরাবর পাঠানো হয়। পরে তথ্য অধিকার ফোরামের পক্ষ থেকে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশের আলোকে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ পর্যালোচনা ও সংশোধনের বিষয়গুলোতে তথ্য এবং সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে পুনরায় মতামত দেওয়া হয়। সবশেষ উপদেষ্টা পরিষদে তথ্য অধিকার আইন ২০০৯-এর সংশোধনকল্পে একটি অধ্যাদেশ অনুমোদনের বিষয়টি অবগত হওয়ায় ফোরামের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অতি জরুরি সংশোধনীসমূহ অন্তর্ভুক্ত করতে গত ২৫ জানুয়ারি তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় ফোরামের পক্ষ থেকে সরাসরি উপদেষ্টাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়টি নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, তথ্য অধিকার ফোরাম মনে করে তথ্য অধিকার আইনের অন্তস্থিত চেতনার পরিপূর্ণ বাস্তবায়নে ন্যূনতম পক্ষে নিম্নলিখিত সংশোধনীসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন, যার প্রতিফলন এই অধ্যাদেশে পরিলক্ষিত হয়নি। যেমন: তথ্যের সংজ্ঞায় নোট সিট অন্তর্ভুক্ত করা যা মাধ্যমে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নথি পরিচালনকারী প্রত্যেক কর্মকর্তা বা কর্মচারী কে কী ভূমিকা পালন করেছেন তা স্পষ্ট বোঝা যায়। কর্তৃপক্ষের আওতা বৃদ্ধি করে সরকারের পক্ষে অথবা সরকার বা সরকারি কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ কোনো বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান, নির্বাচন কমিশন দ্বারা নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বা স্থানীয় সরকার সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান যুক্ত করা; প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারদের পদমর্যাদা, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় তাদের পদমর্যাদা, পারিশ্রমিক, ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধাদি যথাক্রমে আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের অনুরূপ নির্ধারিত করা এবং জরিমানায় আপিল কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনা। বিবৃতিতে জানানো হয়, তথ্য অধিকার ফোরামের পক্ষ থেকে এই বিবৃতিতে সহমত পোষণ করেছেন, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, নিজেরা করি'র কোঅর্ডিনেটর খুশী কবির, কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী, বাংলাদেশ ইন্সিটিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস্) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, বিএনএনআরসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম বজলুর রহমান, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, আইসোশ্যাল চেয়ারপারসন ড. অনন্য রায়হান, ব্লাস্টের অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম খোকন, মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের (এমআরডিআই) নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান, রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশের (রিইব) ডেপুটি ডাইরেক্টর সদস্য রুহী নাজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চ ও টোবাকো ট্যাক্স প্রজেক্টের প্রজেক্ট ম্যানেজার হামিদুল ইসলাম হিল্লোল।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও বি এম কলেজ এর সাবেক জি এস এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা। নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।