নীলফামারীর সদর উপজেলায় উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়ার সময় প্রতি লাখে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও গোড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে তিনি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গেলে ইউপি সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে ঘিরে ধরে কিছু সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা অভিযোগ করেন, টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে বরাদ্দ দেওয়ার সময় প্রতিটি প্রকল্প থেকে নির্দিষ্ট হারে ঘুষ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ৪০০টি কার্ড নিজের কাছে রেখে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। সংরক্ষিত নারী সদস্য বিলকিস বেগম বলেন, তাকে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প দেওয়া হয়েছিল। তার দাবি, কাজ শেষ হলেও এখনো বিল পাননি। “কাজ দেওয়ার সময় প্রশাসক অগ্রিম ৪০ হাজার টাকা নিয়েছেন,” বলেন তিনি। আরেক সংরক্ষিত নারী সদস্য চম্পা রানী অভিযোগ করেন, যে সদস্যকে প্রকল্প দেওয়া হয়েছে, তার কাছ থেকেই টাকা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাকে ২ লাখ ৬৩ হাজার টাকার একটি প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। এজন্য আমার কাছ থেকেও ৪০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এটি নাকি তার প্রাপ্য।” ইউপি সদস্য মশিউর রহমান জানান, টিআর, কাবিটা ও কাবিখা প্রকল্পের প্রতি লাখে ২০ হাজার টাকা দিতে হবে বলে জানানো হয়েছিল। “আমি তাকে টাকা দিয়েছি। এছাড়া ভিজিএফ চালের ৪০০টি কার্ডও তিনি নিজের কাছে রেখেছেন। এগুলো কী করা হবে সে বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি,” বলেন তিনি। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রশাসক মো. আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, “ইউপি সদস্যদের সঙ্গে আমার কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি। কেউ প্রমাণ করতে পারবে না আমি তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি।” তার দাবি, তাকে অবরুদ্ধ করা হয়নি। “আজ সবাই মিলে কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে,” বলেন তিনি। এদিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ বলেন, অভিযোগগুলো তার আগে জানা ছিল না। তিনি বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিয়ে করে বাড়ি ফেরার পথে বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বর-কনেসহ ১৩ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি বাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এদিকে দুর্ঘটনায় নিহত ১৩ জনের পরিচয় মিলেছে। নিহতদের মধ্যে চারজনের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং ৯ জনের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। নিহতরা হলেন- বর আহাদুর রহমান সাব্বির, কনে মারজিয়া আক্তার মিতু, কনের বোন লামিয়া, নানি আনোয়ারা বেগম, দাদি রাশিদা বেগম, বরের বাবা বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক, আঞ্জুমান, পুতুল, ঐশী, গাড়িচালক নাঈম শেখ, শিশু ইরাম, সামিউল ও আলিফ। নিহত কনে মার্জিয়া আক্তার মিতুর মামা আবু তাহের বলেন, কয়রা উপজেলার নাকশায় দুপুরে তার ভাগনির বিয়ে হয়। মার্জিয়ার শ্বশুরবাড়ি মোংলার শেলাবুনিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয় বরযাত্রীদের মাইক্রোবাসটি। বিকেল ৪টার পর জেনেছি রামপালের কাছাকাছি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে কনে মার্জিয়া মিতু, তার বোন লামিয়া, নানি ও তার দাদিসহ মোট ৪ জন মারা গেছে। কাটাখালী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কে এম হাসানুজ্জামান বলেন, নৌবাহিনীর যাত্রীবাহী বাসটি খুলনার দিকে যাচ্ছিল। আর যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি ছিল মোংলা অভিমুখে। পথিমধ্যে বেলাইব্রিজ এলাকায় দুটি যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল জানান, দুর্ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হয়েছি। আমাদের এখানে ৪টি মরদেহ আছে।রাত ৯টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মাসরুর আহসান বলেন, এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ৯ জনের মরদেহ এসেছে। গাড়িচালক নাঈমের বন্ধু বলেন, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ফলতিতা বাজার ক্রস করছিলাম। তখন আমার কাছে ফোন আসে রামপালে নাঈম এক্সিডেন্ট করছে। পরবর্তীতে গ্রুপে জানাই। পরে জানতে পারি নৌবাহিনীর গাড়ির সাথে নাঈমের গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। ঘটনা শুনে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসি। এসে দেখলাম সে মারা গেছে।
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ভিজিএফ’র কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের চরগোলকনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে মির্জাপুর ইউনিয়নের অসহায় দরিদ্রদের মাঝে ভিজিএফ’র চাল দেওয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কার্ড ইস্যু করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ওই গ্রামের ওয়ার্ড বিএনপি নেতা সায়েম আলীর কাছে কার্ড চান যুবদল নেতা শামীম হোসেন লস্কর। এ নিয়ে দু’জনের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। এ নিয়ে সন্ধ্যায় স্থানীয় গ্রাম্য মাতব্বররা সালিশে বসে। এরই এক পর্যায়ে সায়েম আলী ও শামীম হোসেনের সমর্থকর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রাত ৮ টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ৫০ জন আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে ওই এলাকায় বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় সংসদকে তিনি সকল যুক্তি, তর্ক এবং জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চান। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতে তিনি ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না ও হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আবারও জনগণের ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি সত্যিকারের জনপ্রতিনিধিত্বশীল জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের রাজনীতির এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তিনি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছেন, যার অশেষ রহমতে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন যাত্রা শুরু করা সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম পর্যন্ত গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রালগ্নে তিনি তাঁদের কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এসব আন্দোলন-সংগ্রামে যেসব মায়েরা সন্তান হারিয়েছেন, যেসব সন্তান তাঁদের প্রিয়জন হারিয়েছেন, যেসব পরিবার স্বজন হারিয়েছে এবং যেসব আহত মানুষ স্বাভাবিক জীবন হারিয়েছেন, তাঁদের অবদান তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি আরও বলেন, নির্যাতন, নিপীড়ন, রাজনৈতিক হয়রানি কিংবা মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে যারা সর্বস্ব হারিয়েছেন, দেশের ছাত্র-জনতা, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, কামার-কুমার, জেলে-তাঁতি, গাড়িচালক, ব্যবসায়ী, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, গৃহিণীসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষ যারা গুম, খুন, হত্যা, নির্যাতন, নিপীড়ন এবং মিথ্যা হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন কিংবা জীবন্ত মানুষ কবরস্থানের মতো বর্বর বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’-এর মতো পরিস্থিতির মধ্যেও যাদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে রুখে দেওয়া যায়নি, তাদের সাহসী ভূমিকায় দেশে পুনরায় গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই যাত্রালগ্নে দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতান্ত্রিক বীর ছাত্র-জনতাকে অভিনন্দন জানান। ভাষণে তিনি বলেন, দেশনেত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সেটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে সেই গণতন্ত্রকে প্রহসনে পরিণত করে জাতীয় সংসদকে হাস্যরসের খোরাকে পরিণত এবং দেশে তাঁবেদারি শাসন-শোষণ কায়েম করা হয়। তিনি বলেন, দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য বেগম খালেদা জিয়া জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই করেছেন এবং জীবনে কখনো স্বৈরাচার কিংবা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করেননি। আজ থেকে দেশে আবারও সেই কাঙ্ক্ষিত সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় রাজনীতির প্রতিষ্ঠাতা বেগম খালেদা জিয়া দেশ ও জনগণের এই সাফল্যের মুহূর্তটি দেখে যেতে পারেননি। তাই জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি দেশ ও জনগণের স্বার্থে আপসহীন নেতৃত্বের অধিকারী, স্মরণীয় ও অনুকরণীয় রাজনীতিবিদ মরহুমা খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বলেছিলেন—‘জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয়, তাহলে আমি সেই দলেই আছি’। অর্থাৎ ব্যক্তি বা দলের স্বার্থ নয়, জনগণের স্বার্থই সবচেয়ে বড়—এটাই বিএনপির রাজনীতি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি প্রথমবারের মতো বিএনপি থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য এবং সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে দলের প্রতিনিধিত্ব করলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি বলেন, তাঁর রাজনীতি দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষার রাজনীতি। বিএনপির রাজনীতি জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার রাজনীতি। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করাই তাঁদের রাজনীতির লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার মাধ্যমেই বিএনপি একটি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি গণতান্ত্রিক জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা এবং জাতীয় সংসদের সকল দলের নির্বাচিত সদস্যদের সমর্থন প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন, দল বা মত কিংবা কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু তাঁবেদারমুক্ত, ফ্যাসিবাদমুক্ত, স্বাধীন, সার্বভৌম, নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদকে জাতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু না করে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার সংসদকে অকার্যকর করে ফেলেছিল। তিনি বলেন, নতুন সংসদের যাত্রা শুরু করার সময় সংসদের সাবেক স্পিকার কিংবা ডেপুটি স্পিকার উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও পতিত ও পরাজিত সরকারের জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট জনরোষের ফলে তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের কেউ কারাগারে, কেউ নিখোঁজ কিংবা কেউ পলাতক রয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী ও তাঁবেদারি শাসন-শোষণের পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে এক বিশেষ পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সংবিধান ও সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির বিধান অনুসরণ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সভাপতিত্ব করার জন্য তিনি প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও পাঁচবারের নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, সংসদীয় রীতিনীতির ইতিহাসে এ ধরনের পরিস্থিতি নজিরবিহীন নয়। ১৯৭৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান ওই সংসদের সদস্য মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নাম প্রস্তাব করেছিলেন এবং তার সভাপতিত্বে বাংলাদেশের প্রথম সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছিল।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি-এর একটি শাখার ভল্ট থেকে প্রায় ৪৩ কোটি টাকা গায়েব হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায় এই জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের তথ্য উদঘাটিত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ব্যাংকের ওই শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলিমুল আল রাজি তমাল গত দুই বছরে ধাপে ধাপে এসব অর্থ সরিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি পলাতক বলে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। দুই বছরে ধাপে ধাপে অর্থ সরানো ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের শহীদ তুলশিরাম সড়কে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংকের শাখা থেকে ২০২৪ সাল থেকে ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মোট ৪৩ কোটি টাকা সরানো হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৫ কোটি টাকা সরানো হয়েছিল রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার অগ্রণী ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং শাখা থেকে। তদন্তে আরও জানা গেছে, ওই শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক আব্দুল লতিফের অ্যাকাউন্টে ৪৫ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছিল। তবে আব্দুল লতিফ দাবি করেছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ওই টাকা পাওনা ছিলেন এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তমাল সেই টাকা পরিশোধ করেছেন। ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। কীভাবে ঘটেছে জালিয়াতি ব্যাংকের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তমাল ব্যাংকের কয়েকজন সহকর্মীর অ্যাকাউন্ট ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন। এরপর ওই অ্যাকাউন্টগুলোর মাধ্যমে ধাপে ধাপে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়। ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই ঘটনায় তমাল একা জড়িত নন। তাদের মতে, এর পেছনে আরও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে এবং বিষয়টি নিয়ে গভীর তদন্ত প্রয়োজন। তদন্ত কমিটি ব্যাংকের হেড অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মেহেদী রহমানের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি তদন্ত দল বিষয়টি অনুসন্ধান করে। তদন্ত দলের অন্য সদস্যরা হলেন— সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার আনোয়ারুজ্জামান এসপিও খালেদ মুহাম্মদ সাইফুদ্দিন প্রিন্সিপাল অফিসার কাজী মো. সোলায়মান হোসেন প্রিন্সিপাল অফিসার দেবাশীষ মল্লিক প্রিন্সিপাল অফিসার মো. ইকবাল কবীর প্রিন্সিপাল অফিসার একেএম ফজলুল করিম এই তদন্ত প্রতিবেদন গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রংপুরে ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। আইটি বিভাগের গাফিলতির অভিযোগ সৈয়দপুর শাখার বর্তমান ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান বলেন, আইটি বিভাগের গাফিলতির কারণেই এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অর্থ অপসারণ তার নজরে আসেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিদেশে পালানোর অভিযোগ তদন্তের সময় জানা যায়, অভিযুক্ত কর্মকর্তা তমালের গ্রামের বাড়ি নীলফামারী সদর উপজেলার কাঞ্চনপাড়ায়। তিনি পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন রংপুর শহরের রহমতপুর এলাকায়। স্থানীয় সূত্র জানায়, চলতি বছরের শুরুতেই তিনি সপরিবারে বিদেশে চলে গেছেন। তার বড় ভাই তুহিন সালেহীন জানান, তমাল বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। তবে তিনি কেন সেখানে গেছেন, সে বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। আইনি পদক্ষেপ অগ্রণী ব্যাংকের রংপুর বিভাগের মহাব্যবস্থাপক সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস জানান, বিষয়টি নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-কে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, তার অধীনে পাঁচটি জোনের প্রশাসনিক কাজ দেখভাল করতে হয়, তাই সব সময় কম্পিউটার মনিটর করা সম্ভব হয় না। ঘটনার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সৈয়দপুর শাখার ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলিমুল আল রাজি তমালকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।
মাদারীপুর সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার জেরে অন্তত ৪০টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয়রা। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে সাবেক কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান আখতার হাওলাদারের সমর্থক আলমগীর হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষের লোকজন। এই হত্যাকাণ্ডের জের ধরে রাতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে নিহত আলমগীর হাওলাদারের পক্ষের সমর্থকরা প্রতিপক্ষ হাসান মুন্সী পক্ষের লোকজনের বাড়িঘরে হামলা চালায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হামলাকারীরা অন্তত ২০টি বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পাশাপাশি জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লাবলু হাওলাদার ও হাসান মুন্সীর বাড়িসহ অন্তত ২০টি বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়িঘর ছেড়ে চলে যান। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, হামলার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি বলেন, হামলাকারীরা ঘটনাস্থলের বিভিন্ন সড়কে ইট ও গাছ ফেলে রাস্তা অবরোধ করে দেয়। এতে সেখানে পৌঁছাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেগ পেতে হয়েছে। তবে বর্তমানে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন বলে জানান তিনি। দীর্ঘদিনের বিরোধ স্থানীয়দের দাবি, নতুন মাদারীপুর এলাকায় সাবেক কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান আখতার হাওলাদার পক্ষ এবং হাসান মুন্সী পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। গত কয়েক বছরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে এলাকায় দুই পক্ষের উত্তেজনা আবারও বাড়তে শুরু করে। সাম্প্রতিক এই হত্যাকাণ্ডের পর সেই বিরোধ নতুন করে সহিংস রূপ নিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি সেতাফুর রহমান বাবুকে এবার দেখা গেল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিলের মঞ্চে। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের এ নেতার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের পর হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা হয়েছে এবং এতদিন তিনি পলাতক ছিলেন। সোমবার (৯ মার্চ) রাজশাহীর গোদাগাড়ী জামায়াতের উদ্যোগে একটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানের মঞ্চে এমপির ঠিক পেছনের সারিতে বসে থাকতে দেখা যায় সেতাফুর রহমান বাবুকে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবুর বাড়ি গোদাগাড়ী উপজেলার রেলগেট এলাকায়। একসময় তিনি পাওয়ার টিলারের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। পরে হেরোইন ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন এবং অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল অর্থসম্পদের মালিক হন। এরপর তিনি মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখা-২ থেকে প্রকাশিত মাদক কারবারিদের এক তালিকায় সেতাফুর রহমান বাবুর নাম ৯ নম্বরে ছিল। ওই প্রতিবেদনে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীকে মাদকের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজশাহীর উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কিছু অসাধু রাজনীতিক ফেনসিডিল, হেরোইন ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বাবুর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। তিনি মাটিকাটা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সহসভাপতি ছিলেন এবং সাবেক এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় তার নেতৃত্ব থাকার অভিযোগ রয়েছে। ওই হামলায় স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম নিহত হন। গণঅভ্যুত্থানের পর নিহত নজরুল ইসলামের বড় ছেলে মাসুম সরকার বাদী হয়ে সেতাফুর রহমান বাবুকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের আমলে ওই এলাকায় জিয়া পরিষদের কার্যালয় দখলের অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সাব্বির রহমান জানান, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ১০০ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেপ্তার হন তৎকালীন ইউপি সদস্য সেতাফুর রহমান বাবু। পরে তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে থাকায় জেলা প্রশাসনের সুপারিশে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাকে ইউপি সদস্য পদ থেকে বরখাস্ত করে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গণঅভ্যুত্থানের পর গোদাগাড়ী ও রাজশাহী নগরের বোয়ালিয়া থানায় একাধিক মামলা হলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। কয়েকদিন আগে এলাকায় ফিরে এসে তাকে জামায়াতের ইফতার মাহফিলের মঞ্চে দেখতে পাওয়ায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের অভিযোগ, এতদিন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর আশীর্বাদে থাকা এ মাদক কারবারি এখন জামায়াতের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছে। নিহত নজরুল ইসলামের ছেলে এবং জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম অরণ্য কুসুম অভিযোগ করে বলেন, জামায়াতের ওই ইফতার মাহফিল আয়োজনের পুরো খরচই নাকি বহন করেছে সেতাফুর রহমান বাবু। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ভোটকেন্দ্র দখল করতে গিয়ে আমার বাবাকে হত্যা করেছে। সেই আসামিকেই এখন জামায়াতের মঞ্চে এমপির পাশে বসতে দেখা যাচ্ছে। এটি খুবই দুঃখজনক।’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান ভালো বলতে পারবে। জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. কামরুজ্জামান জানান, সেতাফুর রহমান বাবু যে একজন মাদক কারবারি এবং যুবলীগের নেতা— এটি তিনি জানেন। তবে তাকে অনুষ্ঠানে দাওয়াত করা হয়নি এবং মঞ্চে বসার বিষয়টি পরে শুনেছেন বলে দাবি করেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সেতাফুর রহমান বাবুর দুটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। গোদাগাড়ী থানার কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির বলেন, সেতাফুর রহমান বাবুর বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে কি না তা যাচাই করে বলতে হবে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলে অবশ্যই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। তিনি বলেন, মাদক কারবারি হলে কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দিলেও আইনের বাইরে থাকার সুযোগ নেই।
ঝালকাঠি: ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভার একটি সরকারি কবরস্থানের জন্য মাটি ভরাট প্রকল্পে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন নলছিটি পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ অলিউল ইসলাম। অভিযোগে বলা হয়েছে, নলছিটি পৌরসভার মল্লিকপুর সরকারি কবরস্থানে মাটি ভরাটের জন্য একটি টিআর (টেস্ট রিলিফ) প্রকল্পে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার টাকার কাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে ওই প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওলাদ হোসেন অতিরিক্ত খরচের কথা বলে মোট ৯ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারী অলিউল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা এবং বিভিন্ন চাপের কারণে তারা বাধ্য হয়ে ওই অর্থ প্রদান করেছেন। তিনি অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি কর্মকর্তার কার্যালয়ে এভাবে ঘুষ নেওয়া অনৈতিক এবং সরকারি সেবার নীতিমালার পরিপন্থী। তিনি আরও জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে জেলা প্রশাসনের কাছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওলাদ হোসেনকে ফোন করলে সাংবাদিক পরিচয় জানার পর তিনি ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, অভিযোগটি তদন্তের জন্য জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের ডিডি এলজিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে। এরপর বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে এবং প্রশাসনের তদন্তে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী। ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় দুপুর ১২টা পর্যন্ত তালাবদ্ধ থাকার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নলছিটি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের দরজায় তালা ঝুলছে। অথচ এ সময় সরকারি অফিস খোলা থাকার কথা এবং সেবাগ্রহীতাদের জন্য দায়িত্ব পালনের সময়ও এটি। এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আওলাদ হোসেনকে ফোন করা হলে তিনি কল রিসিভ করেন। কিন্তু সাংবাদিক পরিচয় জানার পর কোনো মন্তব্য না করে ফোন কেটে দেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন সেবাগ্রহীতা ও দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওলাদ হোসেন নিয়মিত অফিসে আসেন না। কখনো খেয়ালখুশিমতো অফিসে এলেও বেশিক্ষণ থাকেন না। ফলে সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, বিল উত্তোলন কিংবা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের ক্ষেত্রে নিয়মমাফিক কমিশন না দিলে বিভিন্নভাবে জটিলতা সৃষ্টি করা হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশেষ করে ছোট ছোট উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদার ও জনপ্রতিনিধিদের বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। একজন জনপ্রতিনিধি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যয় হওয়ার কথা। কিন্তু কমিশনের কারণে অনেক সময় প্রকল্প বাস্তবায়নই জটিল হয়ে পড়ে। বিল তুলতে গেলেই সবচেয়ে বেশি হয়রানি হয়।” স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন দায়িত্বহীনতা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করছে। এতে প্রকল্পের অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে এবং তৃণমূলের মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে কর্মকর্তার নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের মতে, সরকারি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার এমন আচরণ শুধু উন্নয়ন কার্যক্রমকেই বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং প্রশাসনের ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বরিশালের বাকেরগঞ্জে নিয়ামতি ইউনিয়নে সরকারি বরাদ্দের চাল কম আনার অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হুমায়ুন কবির ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দলের বাকেরগঞ্জ উপজেলা শাখার সহসভাপতি। এ ঘটনার একটি ভিডিও সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তেজিত যুবকরা চেয়ারম্যানকে ঘিরে ধরে কিল-ঘুসি মারছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও বিষয়টি পরিকল্পিত বলে দাবি করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য নুরুল ইসলাম আলামীন বলেন, চাল কম আনার অভিযোগ উঠলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। তাহলে আইন হাতে তুলে কেন নেওয়া হলো? আমরা মনে করি হামলার ঘটনা ইউনিয়ন বিএনপি নেতারা পরিকল্পিতভাবে ঘটিয়েছে। বাকেরগঞ্জ থানার ওসি খন্দকার সোহেল রানা ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, সরকারি চাল কম উত্তলোনের অভিযোগ তুলে নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ন কবিরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সরকারের বরাদ্দকৃত ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় নিয়ামতি ইউনিয়নের জন্য ২৪ টন চাল আসার কথা ছিল। তবে চেয়ারম্যান ১ টন চাল কম নিয়ে আসেন বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ উঠলে ট্যাগ অফিসার এনামুলের সামনে আবারও চাল মাপা হয়। এ সময় ১ টন কম পাওয়া যায়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা সালাম শিকাদার, কৃষক দল নেতা নয়ন, রাকিব, জুয়েল হাওলাদার, সোহেল হাওলদার ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল শিকদারের নেতৃত্বে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা চেয়ারম্যানের ওপর হামলা চালায়। ট্যাগ অফিসার এনামুল ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, চাল কম থাকার বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে এ ঘটনা ঘটে। তবে ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ন কবিরের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হামলার ঘটনা অস্বীকার করে যুবদল নেতা সালাম শিকাদার বলেন, আমি মারামারির প্রথমদিকে সেখানে ছিলাম না। তবে চাল কম আনার বিষয়টি আমাদের ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল শিকদার অবগত ছিলেন। তিনি চাল কম আনার কারণ জানতে চাইলে চেয়ারম্যান আমাদের ওপর হামলা করেন এবং চেয়ারম্যানের মামা ঘুসি মারেন। পরে স্থানীয়রা উত্তেজিত হলে মারামারির ঘটনা ঘটে। বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে জানানো হবে।
বগুড়া: বগুড়ায় বিএনপি নেতার দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় শাহজাহানপুর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে আদালতে হাজিরা দিতে এলে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু হেনা সিদ্দিকী শুনানি শেষে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মাদকবিরোধী অভিযানের নামে শাহজাহানপুর থানার তৎকালীন ওসি আলমগীর হোসেন জেলা বিএনপির সাবেক সহপ্রশিক্ষণ সম্পাদক ও শাহজাহানপুর থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ ফজলুল হক উজ্জ্বলের গাড়ি ধাওয়া করে আটক করেন। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আটক করার পর মাদকের ভয়ভীতি দেখিয়ে উজ্জ্বলের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ‘ক্রসফায়ারে’ দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতির চাপে পড়ে উজ্জ্বল তার স্ত্রী ও এক সহকর্মীর মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা সংগ্রহ করে ওসি আলমগীর হোসেনকে দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে টাকা দেওয়ার পরও তাকে একটি অজ্ঞাত মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। ঘটনার প্রায় এক দশক পর, চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ফজলুল হক উজ্জ্বল আদালতে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য শাহজাহানপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুরকে দায়িত্ব দেন। তদন্ত শেষে তিনি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। সোমবার মামলার শুনানির জন্য আদালতে হাজিরা দিতে আসেন সাবেক ওসি আলমগীর হোসেন। শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বগুড়া আদালতের কোর্ট পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম জানান, আদালতের সমন অনুযায়ী হাজিরা দিতে এলে শুনানি শেষে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আলমগীর হোসেন দিনাজপুর পুলিশ লাইনে কর্মরত রয়েছেন। মামলার বাদী ফজলুল হক উজ্জ্বল বলেন, তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু পুলিশ কর্মকর্তা বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর দমনপীড়ন ও চাঁদাবাজি চালিয়েছেন। তিনিও এর শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমি এই অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার চাই, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করার সাহস না পায়।”
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক (লিগ্যাল) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আইন ও বিচার বিভাগের সংযুক্ত কর্মকর্তা (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ আলী হোসাইন। সোমবার (৯ মার্চ) তাকে মহাপরিচালক (ডিজি) নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে তার চাকরি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
মো. সিয়াম খান: বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা ঝালকাঠিতে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা শামসুল হক মনুর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলেও তাকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। মামলার প্রায় দুই মাস পার হয়ে গেলেও প্রধান আসামিকে ধরতে না পারায় স্থানীয়ভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মামলার নথি, আদালতের নির্দেশনা এবং স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঝালকাঠি পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামসুল হক মনুসহ দুইজনের বিরুদ্ধে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয় চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি। মামলার বাদী যিনি একটি জর্দা কোম্পানির শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন, ঝালকাঠি আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগটি দাখিল করেন। আদালতের নির্দেশে মামলা আদালতের বিচারক শরীফ মোহাম্মদ সানাউল হক অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে আমলে নিয়ে ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) এজাহার গ্রহণের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশের পর থানায় মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে রুজু করা হয় এবং তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে। আইন অনুযায়ী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে দায়ের হওয়া অভিযোগগুলোর তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক সময় এসব মামলায় তদন্ত ধীরগতির হয়—যা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তদন্তে পুলিশের অবস্থান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিলন মল্লিক গণমাধ্যমকে জানান, এজাহারভুক্ত দুই আসামির মধ্যে ফরিদ নামের একজন বর্তমানে অন্য একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন। তবে প্রধান আসামি শামসুল হক মনু এখনো গ্রেফতার হননি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে “আত্মগোপনে” রয়েছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, “আমরা তাকে গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।” তবে এই বক্তব্যের বিপরীতে স্থানীয়দের দাবি ভিন্ন। স্থানীয়দের দাবি: প্রকাশ্যে চলাফেরা মনুর পরিবারের একাধিক সদস্য এবং স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন, তিনি ঝালকাঠি শহরের নিজ বাসাতেই অবস্থান করছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাকে শহরের বিভিন্ন সড়কে জিপ গাড়ি নিয়ে চলাফেরা করতেও দেখা গেছে। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “তিনি যদি আত্মগোপনে থাকেন, তাহলে শহরের মানুষ তাকে প্রতিদিন দেখছে কীভাবে? সবাই তো দেখছে তিনি গাড়ি নিয়ে বের হচ্ছেন।” আরেকজন বাসিন্দা বলেন, “এটা সবাই জানে তিনি শহরেই আছেন। তাহলে পুলিশ তাকে ধরছে না কেন—এই প্রশ্ন এখন মানুষের মধ্যে আছে।” রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেক সময় অপরাধের তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত হয়—এমন অভিযোগ প্রায়ই উঠে আসে। যদিও এই মামলার ক্ষেত্রে সরাসরি এমন অভিযোগ আনতে চাননি স্থানীয় অনেকেই, তবে তারা বলছেন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের অনীহা কখনো কখনো দেখা যায়। শামসুল হক মনু স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে দলীয় কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। পুলিশের প্রতিক্রিয়া ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। তদন্তের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে তিনি আসামি গ্রেফতারের বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে কিছু জানাননি। আইনি বিশেষজ্ঞদের মত আইনজীবীরা বলছেন, আদালতের নির্দেশে দায়ের হওয়া মামলার ক্ষেত্রে তদন্তে বিলম্ব হলে তা বিচার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করতে পারে।ঝালকাঠির এক ফৌজদারি আইনজীবী বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলাগুলোতে দ্রুত তদন্ত করা জরুরি। তার ভাষায়, “যদি কোনো আসামি আত্মগোপনে থাকে, তাহলে পুলিশ তাকে গ্রেফতারের জন্য আইন অনুযায়ী অভিযান চালাতে পারে। প্রয়োজনে আদালতের মাধ্যমে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা যায়।” ভুক্তভোগীদের জন্য চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশে যৌন সহিংসতার মামলায় ভুক্তভোগীরা অনেক সময় সামাজিক চাপ, ভয় এবং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে ন্যায়বিচার পেতে সমস্যার মুখে পড়েন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এ ধরনের মামলায় দ্রুত তদন্ত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের ভবিষ্যৎ এখন পর্যন্ত মামলার তদন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—যদি আসামি সত্যিই শহরে অবস্থান করে থাকেন, তাহলে তাকে গ্রেফতার করতে এত সময় লাগছে কেন। এই প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। মামলার অগ্রগতি এবং পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টরা।
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গফরগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীর ভাই। তবে, অভিযোগ অস্বীকার করছেন অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা। তার দাবি, পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে হেয় করার জন্য এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। অভিযোগ উঠা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার নাম মীর মোজাম্মেল হোসেন মনন (৪৭)। তিনি গফরগাঁও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক।গফরগাঁও থানার ওসি আতিকুল ইসলাম লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শনিবার (৭ মার্চ) রাতে মো. আরিফুজ্জামান খান বাদী হয়ে পাঁচজনের নামে গফরগাঁও থানায় অভিযোগ করেন। এতে আরও ২৫ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাতকে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদী মো. আরিফুজ্জামানের ভাই মো. নুরুজ্জামান রানা একজন ব্যবসায়ী। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তার ১৮টি পরচুলার ব্যবসা রয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, খারাপ প্রকৃতি মানুষ ও পাশের গ্রামের বাসিন্দা। রানার বসতবাড়ির পাশে নিজস্ব জায়গায় আব্দুর রহমান ইসলামিয়া মাদরাসা এবং পি-বাড়ীয়া গ্রুপ হেয়ার কোট ফ্যাক্টরি রয়েছে। মাদরাসায় অনুমানিক দুই শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। আর পি-বাড়ীয়া গ্রুপ হেয়ার কোট ফ্যাক্টরিতে ২৫০ জনের অধিক কর্মচারী আছে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে মীর মোজাম্মেল হোসেন মননের নেতৃত্বে অন্যান্য অভিযুক্তরা নুরুজ্জামান রানার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলো। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। পরবর্তীতে এ ব্যবসায়ীর কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে ফ্যাক্টরি ও মাদরাসা বন্ধ করে দেবে বলে হুমকি দেয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দু’দিন পর থেকে মীর মোজাম্মেল হোসেন মনন আবারও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবি করা চাঁদা দিলে আর কোনও ঝামেলা করবে না বলে জানান তিনি। ফের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা রানাকে প্রাণনাশের ভয়ভীতিসহ বিভিন্ন হুমকি দিতে থাকে। এমতাবস্থায় গত ৬ মার্চ পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে মাদরাসার ছাত্র ও পি-বাড়ীয়া গ্রুপ হেয়ার কোট ফ্যাক্টরির কর্মীদের নিয়ে মাদরাসা মাঠ প্রাঙ্গণে ইফতারের আয়োজন করা হয়। ইফতার মাহফিল উপলক্ষে ব্যবসায়ী রানা দেড় বছর পর ঢাকা থেকে ব্যক্তিগত গাড়িতে সেখানে যান ও আয়োজনের বিভিন্ন কাজে তদারকি করেন। ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে অভিযুক্ত মোজাম্মেল হোসেন মনন, মীর রাসেল, মীর টুইংকেল, বিটু, সুমনসহ অজ্ঞাতনামা ২৫ থেকে ৩০ জন ৯টি মোটরসাইকেল ও তিনটি অটোরিকশাযোগে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাদরাসার সামনে আসে। ওই সময় অভিযুক্তরা রানাকে ডেকে নিয়ে তাৎক্ষণাক ১০ লাখ টাকার দাবি করে। বিষয়টি দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। আরিফুজ্জামান বলেন, “শনিবার রাতে অভিযোগ করার পর আমাকে কয়েকজন সন্ত্রাসী রাস্তায় দাঁড় করিয়ে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেন। বাড়ি না ছাড়লে আমার ও পরিবারের ক্ষতি করবে জানায়।” অভিযোগ অস্বীকার করে মীর মোজাম্মেল হোসেন মনন বলেন, “রানা ও তার সহযোগীরা ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের দোসর। যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিলো তখন তারা আমার বাড়িঘর ভাঙচুর করেছিলো। পূর্ব থেকে তার সঙ্গে আমাদের বিরোধ চলে আসছে। যে কারণে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।” এ বিষয়ে গফরগাঁও থানার ওসি আতিকুল ইসলাম বলেন, “লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রাজধানীর আলোচিত ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। রোববার (৮ মার্চ) ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই এক্স (সাবেক টুইটার)–এ প্রকাশিত এক পোস্টে এ তথ্য জানায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতেই তাদের আটক করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দুই আসামিকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীতে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের পর ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেন সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যান এবং সেখানে আত্মগোপনে ছিলেন। পরে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। সূত্র আরও জানায়, সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) নবনিযুক্ত মহাপরিচালক ভারত সফর করেন। ওই সফরের সময় হাদি হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই দুই আসামিকে আটক করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা নিয়েও পদক্ষেপ বাংলাদেশের আহ্বানের প্রেক্ষিতে ভারতে বসে বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এ বিষয়ে দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান–প্রদান ও সমন্বয় বাড়ানো হচ্ছে। যেভাবে হত্যাকাণ্ড গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা চালানোর সময় মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তি গুলি চালায়। এতে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি। প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। পরে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তদন্তের অগ্রগতি হত্যাকাণ্ডের পর করা মামলায় ইতিমধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া কয়েকজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে ভারতে আটক ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার হরষপুর এলাকায় লৌহর নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজ নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো অর্ধেকও শেষ হয়নি। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ৯ মাস পরও মাত্র ৪০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিআরডি) সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২৬ নভেম্বর ২০২৩। প্রকল্প অনুযায়ী কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২৫ মে ২০২৫। তবে সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সেতুর কাজের অগ্রগতি মাত্র ৪০ শতাংশ। এলজিআরডি অফিস জানায়, সেতুর পাইলিং, বেইজ ঢালাই ও ওয়েং ওয়াল নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ উপজেলা এলজিআরডি অফিসের প্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। বালু, কংক্রিট, সিমেন্টসহ বিভিন্ন উপকরণে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয়রা কাজ বন্ধের দাবি জানালে প্রশাসন তিন দফায় কাজ বন্ধ করে দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ থাকার পাশাপাশি বড় প্রকল্পের কাজ মাত্র ২ থেকে ৪ জন শ্রমিক দিয়ে ধীরগতিতে চালানো হচ্ছে, যা প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় ধরনের বিলম্ব সৃষ্টি করেছে। এই প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনন্ত আকাশ ত্রিপুরা এবং মেসার্স লোকমান হোসেন জেবি। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক লোকমান হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে উপজেলা এলজিআরডি অফিসের উপজেলা প্রকৌশলী আশিকুর রহমান ভূইয়া বলেন, “আমাদের প্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে কাজ করার বিষয়টি এলাকাবাসী জানালে আমরা কাজ বন্ধ করে দিই। ঠিকাদারকে দ্রুত সেতুর কাজ শেষ করার জন্য নিয়মিত তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।” এদিকে দীর্ঘদিনেও সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয়দের যাতায়াতে ভোগান্তি বাড়ছে। দ্রুত কাজ শেষ করে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের সেতুটি চালু করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বরিশাল সদরের চন্দ্রমোহন বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির স্থায়ী কার্যালয় দখল করে সেখানে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র ও বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বাজারের খাস জমিতে নির্মিত ওই কার্যালয়ে বর্তমানে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং সেখানে দলীয় সাইনবোর্ডও টানানো হয়েছে। জানা গেছে, ২০০৬ সালে বাজারের খাস জমির ওপর পাকা ভবন নির্মাণ করে চন্দ্রমোহন বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির স্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করা হয়। বাজারের প্রায় দেড়শ ব্যবসায়ী এই কমিটির সদস্য এবং বাজার পরিচালনা ও ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এ সংগঠনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। নিয়ম অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদাধিকারবলে কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ভবনটি দখলে নিয়ে সেখানে বিএনপির কার্যক্রম চালানো শুরু হয়। সম্প্রতি ভবনের সামনে চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন বিএনপির সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। এ ঘটনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কাজী ফিরোজ আলম—এমন অভিযোগও উঠেছে। চন্দ্রমোহন বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তারিন ঢালী বলেন, প্রায় এক বছর আগে গঠিত কমিটিতে তিনি সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। তবে তার আগ থেকেই কার্যালয়টি ব্যবহার করা হচ্ছিল না। তিনি বলেন, “বিএনপি নেতারা চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে ভবনটি ব্যবহার করছেন কিনা, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।” এদিকে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাই বলেন, “বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির অফিসটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ছিল। সভাপতি ফিরোজ আলম সংস্কার করে সেখানে তাঁর লোকজন নিয়ে বসেন। তবে আমি এ কাজটি পছন্দ করিনি, তাই সেখানে যাই না।” অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কাজী ফিরোজ আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। অন্যদিকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল হাওলাদার বলেন, “খাস জমিতে বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির একটি পাকা ভবন কার্যালয় রয়েছে। তবে বহু বছর ধরে সেটি ব্যবহার করা হয় না। আমি সাধারণত একটি ফার্মেসিতে বসে সভা করি। সেখানে বিএনপির সাইনবোর্ড আছে কিনা, সেটি আমার জানা নেই।”vএ ঘটনার পর বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রাঙ্গাবালী, পটুয়াখালী – পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অধীনে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অনুমোদিত প্রায় ৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকার প্রকল্পে বাস্তবে মানহীন কাজের চিত্র দেখা গেছে। রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গঙ্গিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সামুদাফৎ সড়ক হয়ে বটতলা পর্যন্ত ৬.২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নাজমুল শাহাদাৎ ট্রেডার্স। প্রকল্পের সিডিউল অনুযায়ী সড়কের প্রস্থ ১০ ফুট এবং কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব ১ ইঞ্চি হওয়ার কথা থাকলেও অনেক স্থানে তা কম দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হওয়ার তিন থেকে চার দিন পরও সড়কের ভেতরের অংশ শক্ত হয়নি। সুজন ডাক্তার জানান, “নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ না করে কাজ করা হচ্ছে। যথাযথ বিটুমিন ব্যবহার না করে কেবল ইট ঢেকে দায়সারা কাজ করা হচ্ছে।” অন্য একজন বাসিন্দা জব্বার খন্দকার বলেন, “পুরো সড়কজুড়েই অনিয়ম চলছে। ব্যবহৃত ইট নিম্নমানের, যা হাতে চাপ দিলেই গুঁড়া হয়ে যাচ্ছে। ঢালাইয়ের পুরুত্বও মাত্র দুই ‘সুতা’; সামান্য টান দিলেই উঠে যাচ্ছে।” অটোরিকশা চালক কামাল মাদবর আরও জানান, “অনেক স্থানে আধা ইঞ্চিরও কম ঢালাই, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের উপরিভাগ উঠে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।” উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, “উক্ত সড়কের কাজ স্টিমেট অনুযায়ী করা হচ্ছে। প্রতিবেদন প্রকাশে সমস্যা সমাধান হয় না, স্থায়ী সমাধানই গুরুত্বপূর্ণ।” তবে মাঠপর্যায়ে প্রাথমিক স্টিমেটের সঙ্গে বাস্তব পরিমাপের অমিল পাওয়া গেছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সাহিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “স্টিমেট অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। কিছু স্থানে কার্পেটিংয়ের পুরুত্বে গড়মিল আছে, সেটি আমি ঠিক করে দেব।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ভূঞা বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয়দের মতে, ৬ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করেন। তাদের দাবী, তদারকি কর্মকর্তাদের সক্রিয় নজরদারি এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলতার অভাবের কারণে সরকারের বিপুল অর্থ অপচয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দ্রুত প্রকল্প তদারকি করে মানসম্মত সড়ক নির্মাণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ঝালকাঠি: জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ২টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ পরিচালিত হয়। ভোট গণনার পর বিকেলে নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট সৈয়দ হোসেন ফলাফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফলাফলে সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাৎ হোসেন ৮৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডভোকেট মাহেব হোসেন পান ৭৪ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট সোহেল আকন, ৬৩ ভোটে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডভোকেট নাসিমুল হাসান পেয়েছেন ৫৩ ভোট। নির্বাচনের অন্যান্য পদে বিজয়ীরা হলেন: সহ-সভাপতি: অ্যাডভোকেট মো. হারুন-অর-রশিদ – ৭৭ ভোট যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: অ্যাডভোকেট মো. গোলাম সরোয়ার লিটন – ৬৭ ভোট, অ্যাডভোকেট মো. মিজানুর রহমান মুবিন – ৭০ ভোট অর্থ সম্পাদক: অ্যাডভোকেট আরিফ হোসেন খান – ৯২ ভোট ভিজিল্যান্স সম্পাদক: অ্যাডভোকেট মো. মোফাজ্জেল হোসেন – ১২১ ভোট ভর্তি সম্পাদক: অ্যাডভোকেট আমির হোসেন মোল্লা – ৭৮ ভোট লাইব্রেরি সম্পাদক: অ্যাডভোকেট মো. ফিরোজ হোসাইন – ৭৬ ভোট নির্বাহী সম্পাদক: অ্যাডভোকেট মো. আক্কাস সিকদার – ১১২ ভোট, অ্যাডভোকেট মোবাশ্বের আলী ভূঁইয়া (বাদশা) – ১০২ ভোট উল্লেখযোগ্যভাবে, এই নির্বাচনে বিএনপির দুটি গ্রুপ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বাধীন প্যানেল সভাপতি পদসহ ৪টি পদে বিজয়ী হয়েছে। অন্যদিকে, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সাধারণ সম্পাদক পদসহ ৭টি পদে বিজয়ী হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কেউ জিততে পারেননি। নবনির্বাচিত সভাপতি মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “আইনজীবীদের অধিকার সংরক্ষণ, পেশাগত মর্যাদা রক্ষা এবং সমিতির সার্বিক উন্নয়নে আমি সকলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করব।” সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল আকন বলেন, “আইনজীবী সমিতির কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি আদালত অঙ্গনের পরিবেশ উন্নয়নে আমি আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করব।” নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ১১টি পদের বিপরীতে ২৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। হাইলাইটস: সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে বিএনপির ভেতরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভিজিল্যান্স সম্পাদক পদে সর্বোচ্চ ভোট – ১২১ জামায়াতে ইসলামী কোন পদে জেতেনি জেলা আইনজীবী সমিতির সার্বিক নির্বাচন বিশ্লেষণ
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী বলেশ্বর নদী দখল ও ভরাটের কবলে পড়ে নাব্য হারিয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় নদীটি ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়দের দাবি, একসময় প্রায় অর্ধকিলোমিটার চওড়া খরস্রোতা এই নদী এখন কোথাও কোথাও সঙ্কুচিত হয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র চল্লিশ হাত। খালে পরিণত হচ্ছে নদীর বিস্তীর্ণ অংশ বাগেরহাট জেলার সীমান্তবর্তী অংশে দীর্ঘদিন ধরে কোনো খনন কার্যক্রম না হওয়ায় নদীর বিস্তীর্ণ অংশ কার্যত খালে পরিণত হয়েছে। চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়নের অশোকনগর, দক্ষিণ চরবানিয়ারী, বাওয়ালী কান্দি গ্রাম এবং পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার বানোয়ারী এলাকার দুই পাড়ে জেগে ওঠা চর দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে কৃষিজমি, মৎস্যঘের ও বসতবাড়ি। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র নিয়মিতভাবে নদীর চরে দখল বসিয়ে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করছে। বর্ষায় জলাবদ্ধতা, বাড়ছে ভাঙনের ঝুঁকি নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি দ্রুত নামতে পারে না। ফলে আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং নদীভাঙনের ঝুঁকিও বাড়ছে। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে নদীর তলদেশে জেগে ওঠা বালুচর এখন দখলদারদের নতুন ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। নদীপথে একসময় লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল করলেও বর্তমানে তা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। নদীর বুক জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে শ্যাওলা ও কচুরিপানা। “অর্ধকিলোমিটার থেকে নেমে এসেছে চল্লিশ হাতে” স্থানীয় বাসিন্দা মুজিবর মোল্লা বলেন, “এই নদীটা আগে প্রায় অর্ধকিলোমিটার চওড়া ছিল। এখন অনেক জায়গায় মাত্র চল্লিশ হাত হয়ে গেছে। আমার জন্মের পর থেকে কখনো নদী খনন হতে দেখিনি। অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে দ্রুত নদী খনন করা দরকার।” তার মতে, নদী খনন হলে কৃষকরা সেচের সুবিধা পাবেন এবং কৃষি উৎপাদনও বাড়বে। আরেক বাসিন্দা জাহাঙ্গীর মোল্লা বলেন, “একসময় বলেশ্বর নদী ছিল আমাদের এলাকার প্রাণ। সারাবছর পানি থাকত, নৌকা-ট্রলার চলত অবাধে। এখন দখল ও ভরাটে নদী সংকুচিত হয়ে গেছে। দ্রুত খনন না হলে নদী মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যাবে।” প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, নদীর চরে যে দখল চলছে তা সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তাদের দাবি, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী একটি রাজনৈতিক মহলের অনুসারীরা নতুন চর জেগে উঠলেই আগে গিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে দখল বসিয়ে দেয়। কমেছে মাছ, বেড়েছে সেচ সংকট প্রবীণ বাসিন্দাদের মতে, একসময় এই নদীতে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। নদী ছিল প্রশস্ত ও স্রোতস্বিনী। কিন্তু বর্তমানে নদীর নাব্য সংকট ও অবৈধ দখলের কারণে মাছের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে কৃষিজমিতে সেচের পানিরও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। প্রকল্প নেই, তবে নজরদারির দাবি কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “বলেশ্বর নদী খননের জন্য বর্তমানে কোনো অনুমোদিত প্রকল্প নেই। তবে নদী দখলের অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।” তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নদী খনন ও দখল উচ্ছেদের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত দখল উচ্ছেদ ও নিয়মিত খনন কার্যক্রম শুরু না হলে দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী এই নদী একসময় মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যেতে পারে।
বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম বিতরণকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জামায়াত সমর্থক ,আওয়ামীপন্থী ও বিএনপির পক্ষের বেশ কয়েকজন আইনজীবী দাবি করেছেন, তারা মনোনয়ন ফরম পাননি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালত অঙ্গনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে বরিশাল আদালত প্রাঙ্গণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জানা গেছে, আগামী ২ এপ্রিল বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু করে নির্বাচন কমিশন। তবে একাধিক আইনজীবী অভিযোগ করেন, নির্দিষ্ট কিছু আইনজীবীকে মনোনয়ন ফরম দেওয়া হয়েছে এবং অনেক সম্ভাব্য প্রার্থীকে ফরম দেওয়া হয়নি। আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইকবাল আজাদ বলেন, তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে মনোনয়ন ফরম দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “আমিসহ অন্তত ৪০ থেকে ৫০ জন আইনজীবীকে মনোনয়ন ফরম দেওয়া হয়নি। নির্দলীয় নির্বাচনকে কলুষিত করার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এমনকি জামায়াত নেতা ও জামায়াত সমর্থক অ্যাডভোকেট সালাহ উদ্দিন মাসুমকেও ফরম দেওয়া হয়নি। আমরা এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি।” এদিকে সাবেক ছাত্রদল নেতা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান নান্টুও একই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “আমি জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। অথচ আমাকেও মনোনয়ন ফরম দেওয়া হয়নি। এর বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে।” বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক কাজী মনির বলেন, তফসিল অনুযায়ী তিনি মনোনয়ন ফরম নিতে আসলেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার ফরম দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “তারা একটি পাতানো নির্বাচনের প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে। আমরা এই প্রক্রিয়াকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।” বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এস এম সাদেকুর রহমান লিংকন বলেন, “নির্বাচনে সভাপতি পদে ৮ জন, সম্পাদক পদে ১২ জনসহ প্রায় ৬০টি মনোনয়ন ফরম বিতরণ করা হয়েছে। মোট পদ রয়েছে ১১টি। কিছু লোক না এসেই অভিযোগ করছেন যে তারা ফরম পাননি। যারা আমাদের কাছে এসেছেন, তাদের ফরম দেওয়া হয়েছে।” এদিকে মনোনয়ন ফরম বিতরণকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আইনজীবীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) আগ্রাবাদ এলাকায় অবস্থিত হোটেল সেন্টমার্টিন লিমিটেড-এর বার্ষিক পৌরকর সংক্রান্ত একটি ভয়াবহ অনিয়মের সত্যতা তদন্ত কমিটি প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, হোটেলের পৌরকর ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে মাত্র ১৮ লাখ টাকায় নেমেছে, যা চসিকের জন্য ৩ কোটি ১২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন-এর কাছে বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় এই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। তদন্ত কমিটি হোটেলের পৌরকর কমানোর পিছনে রাজস্ব বিভাগের দুই কর্মকর্তার যোগসাজশের প্রমাণ পায়। তদন্ত কমিটির গঠন ও দায়িত্ব চসিক ২৪ নভেম্বর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান সংস্থাটির আইন কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মুরাদ, আর সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আশুতোষ দে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সাব্বির রহমান সানি এবং শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমা বিনতে আমিন। কমিটির মূল কাজ ছিল হোটেল সেন্টমার্টিন লিমিটেডের ‘পৌরকর কমানোর’ অভিযোগ যাচাই করা। তদন্তে উঠে আসে যে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে হোটেলের বার্ষিক পৌরকর প্রথমে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে দুই দফা কমিয়ে তা ১৮ লাখ টাকায় আনা হয়। পৌরকর কমানোর প্রক্রিয়ার বিশদ ২০১৭ সালে হোটেল কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত পৌরকরের বিরুদ্ধে আপিল করে। আপিলের পর ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার পৌরকর কমিয়ে ২২ লাখ টাকায় নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পুনরায় আপিল শুনানি শেষে চূড়ান্তভাবে ১৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্ষিক মূল্যায়ন সংক্রান্ত আপিল once সিদ্ধান্ত হওয়ার পর তা আর পরিবর্তন করার বা পুনরায় আপিল দায়ের করার সুযোগ নেই। তবে তৎকালীন কর কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন বেআইনিভাবে আপিল কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। চসিকের আর্থিক ক্ষতি এই অনিয়মের কারণে চসিক ৩ কোটি ১২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। কমিটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, পৌরকরের সঠিক পুনর্মূল্যায়ন ও প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে যে কর কমানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ বেআইনি। চসিকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অনিয়মের বিষয়টি প্রথম প্রকাশিত হয় সেপ্টেম্বর মাসে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে। এরপরই চসিক তদন্ত কমিটি গঠন করে। অনিয়মের দায় এবং সম্ভাব্য পদক্ষেপ কমিটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। এছাড়া ভবিষ্যতে এমন ধরনের অনিয়ম রোধ করতে চসিককে আরও স্বচ্ছ ও নিয়মিত মূল্যায়ন ও তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে। চট্টগ্রামে কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন বারবার দাবি করেছে যে, স্থানীয় সরকার ও কর প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মূল্যায়ন এবং স্বতন্ত্র তদন্ত প্রক্রিয়া চালু করা হবে। হোটেল সেন্টমার্টিন লিমিটেডের মতো বড় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোর কর নির্ধারণ ও পরিশোধ প্রক্রিয়ার তদারকি চসিকের অগ্রাধিকারের মধ্যে থাকবে। চট্টগ্রামে হোটেল সেন্টমার্টিন লিমিটেডে পৌরকর কমানোর এই ঘটনা স্থানীয় কর প্রশাসনের জন্য এক সতর্কবার্তা। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, রাজস্ব কর্মকর্তাদের বেআইনি ক্রিয়াকলাপ চসিকের জন্য বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়েছে। চট্টগ্রামবাসী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই প্রতিবেদন অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে এমন ধরনের অনিয়ম আর ঘটবে না।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও বি এম কলেজ এর সাবেক জি এস এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা। নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।