মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর ৭০তম ধাপে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নিয়ন্ত্রিত ৫৫টিরও বেশি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। শনিবার প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইআরজিসি এই হামলাকে “ক্রমিক ক্ষয়সাধন কৌশলের অংশ” হিসেবে উল্লেখ করে। এতে বলা হয়, হামলার ফলে লক্ষ্যবস্তু এলাকায় ব্যাপক বিস্ফোরণ, আগুন এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। এই দাবি যদি সত্য হয়, তবে এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনার ইঙ্গিত বহন করে। লক্ষ্যবস্তু: কোথায় আঘাত হানা হয়েছে? আইআরজিসির বিবৃতি অনুযায়ী, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত পাঁচটি সামরিক ঘাঁটি: সৌদি আরবের আল-খারজ সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা কুয়েতের আলী আল-সালেম ইরাকের ইরবিল (কুর্দিস্তান অঞ্চল) বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এছাড়া ইসরাইলের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানও হামলার আওতায় এসেছে বলে দাবি করা হয়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: হাইফা বন্দর তেল আবিবের কৌশলগত অঞ্চল হাদেরা কিরিয়াত ওনো সাভিয়ন বেন আমি বিশ্লেষকদের মতে, এই স্থানগুলো নির্বাচন করা হয়েছে সামরিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায়। ব্যবহৃত অস্ত্র: উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তি আইআরজিসি জানিয়েছে, হামলায় বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য: ‘কিয়াম’ ক্ষেপণাস্ত্র ‘এমাদ’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘খোররামশাহ-৪’ ‘কদর’ মাল্টি-ওয়ারহেড সিস্টেম এই অস্ত্রগুলো দীর্ঘ পাল্লার এবং উচ্চ ধ্বংসক্ষমতাসম্পন্ন হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে মাল্টিপল ওয়ারহেড প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করা তুলনামূলক সহজ হয় বলে সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। ড্রোন ব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আধুনিক যুদ্ধের নতুন মাত্রা তৈরি করেছে—কম খরচে নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতা। কৌশলগত বার্তা: “ক্রমিক ক্ষয়সাধন” আইআরজিসি তাদের এই অভিযানকে “ধাপে ধাপে ক্ষয় করার কৌশল” হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য হতে পারে: শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ক্লান্ত করে ফেলা অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ বাড়ানো দীর্ঘমেয়াদে কৌশলগত ভারসাম্য বদলে দেওয়া বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের পরিবর্তে “নিয়ন্ত্রিত সংঘাত” বজায় রাখার একটি পদ্ধতি। সময় নির্বাচন: রমজান ও ঈদের প্রেক্ষাপট আইআরজিসির বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এই হামলার সময় নির্বাচন করা হয়েছে রমজান মাসের শেষ সময়ে, ঈদুল ফিতরের প্রাক্কালে। তারা এটিকে “নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থার ভিন্ন এক ভোর” হিসেবে বর্ণনা করেছে। এটি একটি প্রতীকী বার্তা হতে পারে: মুসলিম বিশ্বে সমর্থন অর্জনের চেষ্টা ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক কৌশলে ব্যবহার সংঘাতকে আদর্শিক রূপ দেওয়া আঞ্চলিক প্রভাব: উত্তেজনার বিস্তার এই হামলার দাবির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য প্রভাবগুলো হলো: ১. যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত তাদের সামরিক ঘাঁটিতে হামলার ক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায়। ফলে পাল্টা হামলার ঝুঁকি রয়েছে। ২. ইসরাইলের অবস্থান ইসরাইল বরাবরই ইরানের সামরিক কার্যক্রমকে হুমকি হিসেবে দেখে। ফলে এই ঘটনার পর তাদের সামরিক প্রস্তুতি বাড়তে পারে। ৩. উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ সৌদি আরব, ইউএই এবং কুয়েতের মতো দেশগুলো সরাসরি হামলার আওতায় আসায় তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: নীরবতা নাকি প্রস্তুতি? এই ধরনের বড় হামলার দাবির পর সাধারণত আন্তর্জাতিক মহল থেকে প্রতিক্রিয়া আসে। সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া হতে পারে: জাতিসংঘে জরুরি বৈঠক কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি নতুন নিষেধাজ্ঞা তবে অনেক সময় সরাসরি নিশ্চিত তথ্য না থাকলে দেশগুলো অপেক্ষাকৃত সতর্ক অবস্থান নেয়। তথ্য যাচাই: দাবি বনাম বাস্তবতা এই প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—আইআরজিসির দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন। বর্তমানে: যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি স্বাধীন সংবাদমাধ্যমগুলোর কাছেও পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই স্যাটেলাইট বা ওপেন সোর্স বিশ্লেষণ প্রয়োজন ফলে এই ধরনের পরিস্থিতিতে “তথ্য যুদ্ধ” একটি বড় উপাদান হয়ে দাঁড়ায়। সম্ভাব্য ঝুঁকি: পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ কি সামনে? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের হামলা যদি সত্যি হয়ে থাকে, তবে তা বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নিতে পারে। ঝুঁকিগুলো হলো: সরাসরি ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততা জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব বিশ্লেষণ: কৌশল না সংকেত? আইআরজিসির এই ঘোষণা কয়েকটি সম্ভাব্য উদ্দেশ্য নির্দেশ করতে পারে: মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বার্তা আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য বদলানো ভবিষ্যৎ আলোচনায় প্রভাব বিস্তার ইরানের আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর ৭০তম ধাপ মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করছে। তবে এই ঘটনার বাস্তবতা, প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ভর করছে পরবর্তী আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া, তথ্য যাচাই এবং কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর। বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে—মধ্যপ্রাচ্য আবারও একটি অনিশ্চিত ও সংবেদনশীল পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে একটি ছোট ঘটনা বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
ইরানের নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইসরাইলে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে তেহরান। দফায় দফায় ছুড়ছে ক্ষেপণাস্ত্র। এমনকি ক্লাস্টার ওয়ারহেড বা গুচ্ছ বোমাযুক্ত মিসাইল নিক্ষেপ করছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এতে ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বেশ কয়েকটি এলাকার অনেক ভবন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, উত্তর ইসরাইলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে এবং অন্য একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে আঘাত হেনেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর খবরটি সামনে আসে। এদিকে তেল আবিব জেলার গুরুত্বপূর্ণ শহর রামাত গানেও তাণ্ডব চালিয়েছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। এতে ধসে পড়েছে বেশ কয়েকটি ভবন ও স্থাপনা। এর আগে সোমবার (১৬ মার্চ) ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানিকে হত্যা করে ইসরাইল।একই সঙ্গে ইরানের বাসিজ বাহিনীর প্রধানকেও খুন করে অবৈধ ইহুদি ভূখণ্ডটি। পরে ইসরাইলি গণহত্যাকারীরা নিরাপত্তা কাউন্সিলের দ্বিতীয় প্রধানকেও হত্যা করেছে বলে জানায়। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু কি আদৌ জীবিত? মৃত নাকি আহত হয়েছেন? নেতানিয়াহু সুরক্ষিত কোনো জায়গায় রয়েছেন? গত কয়েক দিন ধরে নেতানিয়াহুকে নিয়ে এ-হেন বহু জল্পনা ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। কিন্তু এমন জল্পনার কারণ কী? কারণ, গত কয়েক দিন ধরে প্রকাশ্যে আসা একাধিক ভিডিও। নেতানিয়াহুর ওই ভিডিওগুলো পর পর পোস্ট হওয়ার কারণেই সন্দেহ দানা বেঁধেছে মানুষের মনে। দাবি উঠেছে, ওই ভিডিওগুলোতে নেতানিয়াহুকে ‘জোর করে জীবিত দেখানোর’ চেষ্টা চলছে। যদিও কোনো ভিডিওরই সত্যতা যাচাই করা যায়নি। কিন্তু ওই ভিডিওগুলো প্রকাশ্যে আসার পরেই প্রশ্ন উঠেছে, কোথায় ‘বিবি’ (নেতানিয়াহুর ডাকনাম। রাজনৈতিক মহল এবং গণমাধ্যমেও নামটি বহুল স্বীকৃত)? পাশাপাশি জল্পনা ছড়িয়েছে, তিনি আর বেঁচে নেই। কিন্তু সেই খবর যাতে প্রকাশ্যে না আসে, তাই ওই সব ভিডিওর মাধ্যমে তাকে জীবন্ত প্রমাণ করার মরিয়া চেষ্টা করছে ইসরায়েল। আমেরিকা-ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষের প্রথম থেকেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে ইরান। এর পর পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার পর গত কয়েক দিন ধরে দাবি উঠেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন নেতানিয়াহু। তার মধ্যেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে পর পর পোস্ট হওয়া ওই ভিডিওগুলো তার মৃত্যু-জল্পনার পালে হাওয়া দিয়েছে। দাবি উঠেছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ‘জীবিত থাকার প্রমাণ’ হিসাবে একাধিক ভিডিও প্রকাশ্যে এনে তার মৃত্যু সংক্রান্ত দাবিগুলো খণ্ডন করার আপ্রাণ চেষ্টা করছে ইসরায়েল। তবে সেই ভিডিও ক্লিপগুলো জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটানোর পরিবর্তে নতুন করে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। প্রথমে ১৩ মার্চ, পরে ১৫ মার্চ নেতানিয়াহুর একটি করে ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। ১৫ মার্চের ভিডিয়োতে তাকে একটি কফি কাপ হাতে বক্তৃতা করতে দেখা যায়। সেই ভিডিওতে তার মৃত্যুর খবর গুজব বলেও দাবি করতে দেখা যায় খোদ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে। ১৫ মার্চের সেই ভিডিওতে নেতানিয়াহুকে কফির কাপ হাতে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘কফির জন্য আমি মরতে রাজি। আমি আমার দেশের মানুষকে ভালবাসি।’ এর পর তিনি দুই হাতের আঙুল তুলে ক্যামেরায় দেখাতে শুরু করেন। কারণ ১৩ মার্চ ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর বিভিন্ন সূত্রে দাবি উঠেছিল যে নেতানিয়াহুর ডান হাতে ছ’টি আঙুল রয়েছে। কিন্তু সেই ভিডিওতে ডান হাতের ছ’টি আঙুল দেখা যায়নি। ভিডিওটি সমাজমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত হতেই সেটি ভুয়ো বলে জল্পনা শুরু হয়। এক এক্স ব্যবহারকারী এক্সের চ্যাটবট গ্রোকের কাছে ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেন। সেই প্রশ্নের উত্তরে গ্রোক জানিয়েছে, এটি আসলে কৃত্রিম মেধা দিয়ে তৈরি একটি ভিডিও। ভিডিওটি ১০০ শতাংশ ডিপফেক। নেতানিয়াহু একটি ক্যাফেতে কফি খাচ্ছেন, বাস্তবে তেমন কিছু ঘটেনি। যেহেতু ভিডিওটি নেতানিয়াহুর নিজস্ব সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত হয়েছিল, গ্রোকের প্রতিক্রিয়া বিতর্ক আরো উস্কে দেয়। এর মধ্যেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হয় যে ৭৬ বছর বয়সি ইহুদি নেতা এখনো তেল আবিবেই আছেন। কিন্তু ভিডিওগুলো প্রকাশ্যে আসার পর নেতানিয়াহুর অবস্থান বা নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে শুরু করে। তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জল্পনা তৈরি হয়। জল্পনা আরো তীব্র হয় ১৬ মার্চ। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত একটি নতুন ভিডিওতে দেখা যায়, জেরুজালেমের রাস্তায় স্বাভাবিকভাবে হাঁটছেন এবং পথচারীদের সঙ্গে কথা বলছেন নেতানিয়াহু। কিন্তু সেই ভিডিওতেও বিস্তর গোলযোগ খুঁজে পান নেটাগরিকেরা। ভিডিওতে যখনই নেতানিয়াহুর দু’হাত দেখা যাচ্ছিল, তখনই তার হাতে থাকা একটি আংটি বারবার অদৃশ্য এবং দৃশ্যমান হতে দেখা যায়। ফলে সেই ভিডিওটির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। নেতানিয়াহুর বেঁচে থাকাকে কেন্দ্র করে সংশয় আর জল্পনা মিলেমিশে যখন একাকার, ঠিক সেই সময় আবার নেতানিয়াহুর এক্স হ্যান্ডল থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সেই ভিডিওতে ইরানবাসীদের উদ্দেশে ‘নওরোজ়’ উৎসবের শুভেচ্ছাবার্তা দিতে দেখা গিয়েছে। নেতানিয়াহু বলছেন, ‘ইরানের নির্ভীক জনগণকে আমার শুভেচ্ছা। প্রতি বছরই এই আলোর উৎসবে যেমন শুভেচ্ছাবার্তা পাঠাই, এ বার তেমন আপনাদের জন্য রইল অনেক শুভেচ্ছা।’ এর কয়েক ঘণ্টা পর এক্স হ্যান্ডল থেকে আরো একটি ভিডিও পোস্ট করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। শুধু তা-ই নয়, মৃত্যু-জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে, আবারও তাকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘আমি বেঁচে আছি।’ কিছুটা রসিকতার সুরেই এ কথাগুলো বলতে শোনা গিয়েছে তাকে। যে ভিডিওটি নেতানিয়াহু প্রকাশ করেছেন, সেখানে তার সঙ্গে দেখা যাচ্ছে আরো এক ব্যক্তিকে। তিনি আর কেউ নন, ইসরায়েলে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। যে ভিডিওটি প্রকাশ্যে এসেছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহু এবং হাকাবি পাশাপাশি হাঁটছেন। খুব হালকা চালে কথা বলছেন তারা দু’জনে। হাকাবিকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘মিস্টার প্রাইম মিনিস্টার, আপনি সুরক্ষিত আছেন কি না তা খোঁজ নিতে প্রেসিডেন্ট (ডোনাল্ড ট্রাম্প) আমাকে এখানে পাঠিয়েছেন।’ তার উত্তরে নেতানিয়াহু হাসতে হাসতে বলছেন, ‘অবশ্যই, মাইক। আমি বেঁচে আছি এবং সুস্থ আছি।’ এ কথা শুনে হাকাবি বললেন, ‘আপনি সুরক্ষিত আছেন, এটা দেখে আমি খুবই খুশি। কিন্তু প্রেসিডেন্ট বার বার জানতে চাইছিলেন আপনার বিষয়ে।’ তবে এই ভিডিও ডিপফেক ব্যবহার করে তৈরি কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। দাবি উঠেছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলেই তাকে জীবন্ত প্রমাণ করার মরিয়া চেষ্টা চলছে। প্রতি দিন নিত্যনতুন ভিডিও পোস্ট করা হচ্ছে। আর তা করতে গিয়ে ভুয়ো ভিডিও অবধি পোস্ট করে ফেলছে ইসরায়েলি প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা-সমালোচনার ঢেউ উঠেছে সমাজমাধ্যমে। নেতানিয়াহুর বেঁচে থাকা নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। নানা মত প্রকাশ করেছেন নেটাগরিকেরা। জল্পনা অবশেষে এই দাবিতে পরিণত হয়েছে যে, নেতানিয়াহু বিমান হামলায় গুরুতর আহত বা নিহত হয়েছেন। তবে শুধু ভিডিও নয়, নেতানিয়াহু যে বেঁচে নেই, তেমনটা জল্পনা ছড়ানোর কারণ রয়েছে আরো। গত সপ্তাহ থেকে টিভিতে সরাসরি কোনো বার্তা দিতে দেখা যায়নি নেতানিয়াহুকে। আবার নেতানিয়াহুর পুত্র ইয়াইর নেতানিয়াহু সর্বক্ষণ সমাজমাধ্যমে সক্রিয় থাকেন। দিনে বহু পোস্ট করেন তিনি। রহস্যজনকভাবে ইয়াইরও একেবারে চুপ। সমাজমাধ্যমে গত ৯ মার্চ থেকে তিনি নিষ্ক্রিয়। আর সেই বিষয়টিও নেতানিয়াহুর মৃত্যু-জল্পনাকে আরো উস্কে দিয়েছে।
রানের স্বেচ্ছাসেবী মিলিশিয়া বাহিনী বাসিজের প্রধান গোলামরেজা সোলেমানি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের অর্ধসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি-এর বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এই তথ্য জানিয়েছে। আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, “আমেরিকান-জায়োনিস্ট শত্রুর হামলায়” সোলেমানি নিহত হয়েছেন। তবে হামলার সময়, স্থান বা বিস্তারিত পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত ছয় বছর ধরে বাসিজ বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন সোলেমানি এবং তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা তদারকিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার নেতৃত্বে বাসিজ বাহিনীর কাঠামো আধুনিকীকরণ, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সহায়তায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়। আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে এই হত্যাকাণ্ডকে “ন্যাক্কারজনক” উল্লেখ করে বলেছে, এটি প্রমাণ করে যে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতে বাসিজ বাহিনীর ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে “আমেরিকান সন্ত্রাসী বাহিনী” ও “জায়োনিস্ট শাসন”-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই বাহিনী সক্রিয় রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেছে। বাসিজ বাহিনী ইরানের একটি স্বেচ্ছাসেবী মিলিশিয়া সংগঠন, যা সরাসরি আইআরজিসির অধীনে পরিচালিত হয়। তাদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, দারিদ্র্য হ্রাসে কাজ করা এবং বিপ্লবী আদর্শে জনগণকে প্রশিক্ষণ ও সচেতন করা। এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে ধরিয়ে দিতে সর্বোচ্চ এক কোটি মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিষয়ে তথ্য দিলেও পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি সার্ভিস’ পরিচালিত ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস প্রোগ্রাম’ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। কর্মসূচির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই ব্যক্তিরা ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিভিন্ন শাখার নেতৃত্ব দেন ও পরিচালনা করেন এবং তারা বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা, সংগঠন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত এক ব্যানারে ‘ইরানি সন্ত্রাসী নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে কয়েকজনের বিষয়ে তথ্য চেয়েছে। সেখানে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পাশাপাশি আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন- ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমায়েল খতিব, উপপ্রধান কর্মকর্তা সৈয়দ আলী আসগর হিজাজি, মেজর জেনারেল ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস্কান্দার মোমেনি এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব ব্যক্তি আইআরজিসির বিভিন্ন শাখার নেতৃত্ব কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং ওয়াশিংটনের অভিযোগ অনুযায়ী তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন অভিযান পরিকল্পনা ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত। এসব ব্যক্তির অবস্থান বা তাদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলে তথ্যদাতারা পুনর্বাসনের সুযোগ পেতে পারেন এবং আর্থিক পুরস্কারও দেওয়া হতে পারে। তথ্যদাতারা এনক্রিপটেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম বা টর নেটওয়ার্কের নিরাপদ চ্যানেলের মাধ্যমে কর্মসূচির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত নিয়ে ভিডিও প্রচার, আমিরাতে বাংলাদেশিসহ গ্রেপ্তার ১০ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, যোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ এক কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হতে পারে, যা এই কর্মসূচির আওতায় ঘোষিত বড় পুরস্কারগুলোর একটি। ওয়াশিংটন অভিযোগ করছে, আইআরজিসির সঙ্গে যুক্ত ইরানের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে নিহত হন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি। এরপর তার ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সূত্র: রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বাধীন সরকারকে সামরিক শক্তির মাধ্যমে উৎখাত করার লক্ষ্য থেকে ধীরে ধীরে সরে আসছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ব্যাপক বোমা হামলা সত্ত্বেও ইরানের অভ্যন্তরে প্রত্যাশিত গণ-অভ্যুত্থানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পরও ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ অপরিবর্তিত রয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের আশা পূরণ হয়নি সংঘাতের শুরুতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, সামরিক চাপ ইরানের জনগণকে তাদের ভাগ্য নিজের হাতে নেওয়ার সুযোগ করে দেবে। তবে সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে তার অবস্থান অনেকটাই নরম হয়েছে। তিনি এখন বলছেন, ইসরায়েলের ভূমিকা কেবল ইরানি জনগণকে “সহায়তা করা”, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য পরিবর্তন আসলে বাস্তবতার প্রতিফলন—যেখানে সামরিক হামলার পরও ইরানে কোনো গণবিদ্রোহ দেখা যায়নি। নতুন নেতৃত্বেও টিকে আছে শাসনব্যবস্থা যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার নিহত হওয়ার পরও দেশটির রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়েনি। বরং নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনি -এর নেতৃত্বে ক্ষমতার কেন্দ্র দ্রুত পুনর্গঠিত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। যুদ্ধ দ্রুত শেষের ইঙ্গিত ট্রাম্পের মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trumpও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সংঘাত দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, ওয়াশিংটন এখনো যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। উপসাগরীয় ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হামলার “৩৮তম ধাপ” শুরু করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে— কুয়েতের আদিরি হেলিকপ্টার ঘাঁটিতে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে আহত শতাধিক মানুষকে আল জাবের ও আল মুবারাক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে কুয়েতের দুটি নৌঘাঁটি ও মার্কিন সেনাদের আবাসন লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছে বাহরাইনের মিনা সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে আইআরজিসি বলেছে, শত্রুর “পূর্ণ পরাজয়” না হওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযান চলবে। জাতিসংঘে ইরানবিরোধী প্রস্তাব এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। ১৫ সদস্যের মধ্যে ১৩টি দেশ প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেয়। তবে Russia ও China ভোটদান থেকে বিরত থাকে। প্রস্তাবে ইরানকে অবিলম্বে বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং জর্ডানের ওপর হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক জলপথ নিয়ে উদ্বেগ প্রস্তাবে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সমুদ্রপথ— Strait of Hormuz Bab el-Mandeb Strait এগুলোতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে তা বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রাশিয়া ও ইরানের আপত্তি জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রস্তাবটি “অসম ভারসাম্যহীন”, কারণ এতে ইরানের ওপর হামলার বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়েছে। অন্যদিকে জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি প্রস্তাবটিকে “পক্ষপাতদুষ্ট” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, এতে আগ্রাসনকারীদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে এবং ভুক্তভোগীকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তেহরানের একটি ব্যাংকে বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাংক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এদিকে বিভিন্ন দেশে হামলার খবর পাওয়া গেছে— দুবাই বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন ভূপাতিত সৌদি আরবের শায়বাহ তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে ড্রোন কাতারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা প্রতিহত ইরাকে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন স্থাপনায় ড্রোন হামলা লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে দেশটিতে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫৭০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী, শিশু ও স্বাস্থ্যকর্মীও রয়েছেন। যুদ্ধের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত বিশ্লেষকদের মতে, সামরিকভাবে উল্লেখযোগ্য আঘাত হানলেও রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। অন্যদিকে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে— হুমকি পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ থামানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র করে নতুন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে Iran। দেশটির দাবি, হাইপারসনিকসহ তিন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। আইআরজিসির দাবি Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)–এর বিবৃতির বরাতে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা Mehr News Agency জানিয়েছে, ইসরায়েল ও মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ৩৪তম দফায় এই হামলা চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, হামলায় তিন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা শব্দের গতির পাঁচ গুণেরও বেশি গতিতে ছুটতে সক্ষম। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল— Al Dhafra Air Base, আবুধাবির কাছে অবস্থিত মার্কিন বিমান ঘাঁটি Naval Support Activity Bahrain–এর কাছাকাছি জুফায়ার বিমান ঘাঁটি Ramat David Airbase, ইসরায়েলের সামরিক বিমান ঘাঁটি Haifa Airport, ইসরায়েলের বেসামরিক বিমানবন্দর ইরানের দাবি, শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র তেল আবিবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ইসরায়েলের গোপন ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারেও আঘাত হেনেছে। ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া এদিকে Israel Defense Forces (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। তবে এখন পর্যন্ত হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা বাড়ায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। বিশেষ করে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাবার হত্যার পর খামেনির ছেলেকে ইরান নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছে মোজতবা খামেনির বিরুদ্ধে এখন ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে ৪৭ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটের মধ্য দিয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ আনা হবে। ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পুত্র মোজতবা খামেনি তেহরানে জেরুজালেম দিবস উপলক্ষে এক বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। [ফাইল: মোর্তেজা নিকোবাজল/নূরফটো গেটি ইমেজেসের মাধ্যমে] মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার মাত্র এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পরে ইরান মোজতবা খামেনিকে তার নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছে, যা পুরো অঞ্চলকে এক বিস্তৃত যুদ্ধে ডুবিয়ে দিয়েছে। ৫৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তিকে এখন ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে ৪৭ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটের মধ্য দিয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ আনা হবে, রবিবার ধর্মগুরুরা তার বাবার উত্তরসূরি হিসেবে নাম ঘোষণা করেছেন। ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং সশস্ত্র বাহিনী, সকলেই নতুন নেতার প্রতি তাদের সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি, যিনি আমেরিকা ও ইসরায়েলের সর্বাত্মক আক্রমণ শুরু করার পর থেকে ইরানের নিরাপত্তা কৌশল পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন, তিনি নতুন সর্বোচ্চ নেতার চারপাশে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই পছন্দকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে অনুসরণ করা একটি "ধর্মীয় ও জাতীয় কর্তব্য"। মোজতবা খামেনি কখনও পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি বা জনসাধারণের ভোটের শিকার হননি, তবে কয়েক দশক ধরে সর্বোচ্চ নেতার অভ্যন্তরীণ বৃত্তে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, আইআরজিসির সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, খামেনিকে তার বাবার সম্ভাব্য শীর্ষস্থানীয় বিকল্প হিসেবে ক্রমবর্ধমানভাবে প্রচার করা হচ্ছে। তার নির্বাচন ইরানের প্রতিষ্ঠানের আরও কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলির ক্ষমতা ধরে রাখার লক্ষণ হতে পারে এবং এটি ইঙ্গিত দিতে পারে যে যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করায় সরকারের স্বল্পমেয়াদে কোনও চুক্তি বা আলোচনায় সম্মত হওয়ার খুব কম ইচ্ছা রয়েছে। আল জাজিরার আলী হাশেম খামেনিকে তার "পিতার দারোয়ান" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। "তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের ক্ষেত্রে তার পিতার অবস্থান গ্রহণ করেন। তাই আমরা একজন সংঘাতমূলক নেতার প্রত্যাশা করছি। আমরা কোনও মধ্যপন্থা আশা করছি না," তিনি বলেন। "তবে, যদি এই যুদ্ধ শেষ হয় এবং তিনি এখনও বেঁচে থাকেন এবং তিনি দেশ পরিচালনা চালিয়ে যেতে সক্ষম হন, তাহলে ইরানের জন্য নতুন পথ খুঁজে বের করার বিশাল সম্ভাবনা থাকবে," হাশেম বলেন। আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অফ বৈরুতের একজন বিশিষ্ট পাবলিক পলিসি ফেলো রামি খুরি বলেন, খামেনির নিয়োগ "ধারাবাহিকতার" ইঙ্গিত দেয় এবং নতুন সর্বোচ্চ নেতা যুদ্ধের অবসানের জন্য আলোচনার জন্য চাপ দেবেন কিনা তা দেখার বিষয়। আপনার আগ্রহের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক সতর্কতা এবং আপডেট পান। বড় খবর ঘটলে প্রথমেই জানুন। তিনি বলেন, তার নিয়োগ ছিল "অবাধ্যতার একটি কাজ"। তিনি আরও বলেন, ইরান "আমেরিকান এবং ইসরায়েলিদের বলছিল 'আপনি আমাদের ব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেতে চান? আচ্ছা ... এটি তার বাবার চেয়েও বেশি উগ্র ব্যক্তি যিনি নিহত হয়েছেন'।" দেশের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য হায়দারি আলেকাসির বলেন, প্রার্থীকে প্রয়াত খামেনির পরামর্শের ভিত্তিতে নির্বাচিত করা হয়েছে যে ইরানের শীর্ষ নেতাকে "শত্রুদের দ্বারা ঘৃণা করা উচিত" বরং তাদের দ্বারা প্রশংসা করা উচিত। “এমনকি মহান শয়তান (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)ও তার নাম উল্লেখ করেছে,” এই জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতা বলেন। ট্রাম্পের পূর্বের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, মোজতবা খামেনি তার জন্য "অগ্রহণযোগ্য" পছন্দ হবেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পূর্বে যেকোনো উত্তরসূরীকে সতর্ক করে দিয়েছিল যে "আমরা আপনাকে লক্ষ্যবস্তু করতে দ্বিধা করব না"। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে কাকে নির্বাচিত করা হবে তার উপর প্রভাব বিস্তারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বলেছিলেন যে, ওয়াশিংটনের অনুমোদন ছাড়া, যাকে এই ভূমিকার জন্য নির্বাচিত করা হবে তিনি "দীর্ঘদিন টিকবেন না"। খামেনির ছেলের নির্বাচন নিশ্চিতভাবেই ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করবে। সর্বোচ্চ নেতা ‘এপস্টাইনের দল’ দ্বারা নির্ধারিত হয়নি ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ রবিবার বলেছে যে "অপরাধী আমেরিকা এবং দুষ্ট ইহুদিবাদী শাসনের নৃশংস আগ্রাসন" সত্ত্বেও, তারা নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করতে "এক মিনিটের জন্যও দ্বিধা করেনি"। এর আগে, ধর্মীয় সংস্থাটি ইঙ্গিত দিয়েছিল যে তারা তাদের পছন্দের বিষয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ ঐক্যমতে পৌঁছেছে, নাম উল্লেখ না করেই, একজন সদস্য বলেছিলেন, "ইমাম খোমেনির পথ এবং শহীদ ইমাম খামেনির পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। খামেনির নাম অব্যাহত থাকবে।" খামেনি শিয়া ধর্মতাত্ত্বিক শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র কোমের মাদ্রাসাগুলিতে রক্ষণশীল ধর্মীয় নেতাদের অধীনে পড়াশোনা করেছেন এবং হোজ্জাতোলেসলামের ধর্মীয় পদমর্যাদা ধারণ করেছেন। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের নেতৃত্বদানকারী আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির স্থলাভিষিক্ত হয়ে ৩৭ বছর ধরে ইরান শাসনকারী আলী খামেনি ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন। যুদ্ধের শুরুতেই মধ্যপ্রাচ্যে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যেই খামেনির যেকোনো বিকল্পকে হত্যার হুমকি দিয়েছে, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি মনোনয়নের বিষয়ে মতামত দাবি করেছিলেন, বলেছেন যে ইরানের সামরিক বাহিনী এবং শাসকদের নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হলেই যুদ্ধ শেষ হতে পারে। ট্রাম্প রবিবার বলেছেন যে ইরানের পরবর্তী নেতা তার অনুমোদন ছাড়া "দীর্ঘদিন" টিকবেন না। "তাকে আমাদের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে," ট্রাম্প এবিসি নিউজকে বলেন। "যদি তিনি আমাদের কাছ থেকে অনুমোদন না পান তবে তিনি বেশিদিন টিকবেন না।" ইরানি কর্মকর্তারা দেশের পরবর্তী নেতা নির্বাচনের সাথে জড়িত থাকার জন্য ট্রাম্পের চাপ প্রত্যাখ্যান করেছেন, জোর দিয়ে বলেছেন যে কেবল ইরানিরাই তাদের দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবিকে উপহাস করেছেন যে তিনি খামেনির উত্তরসূরি নিয়োগে তাদের বক্তব্য রাখতে চান। “প্রিয় ইরানের ভাগ্য, যা জীবনের চেয়েও মূল্যবান, তা কেবল গর্বিত ইরানি জাতির দ্বারা নির্ধারিত হবে, [জেফ্রি] এপস্টাইনের দল দ্বারা নয়,” গালিবাফ X-এ লিখেছেন, প্রয়াত যৌন অপরাধীর কথা উল্লেখ করে যার সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধনী ও ক্ষমতাশালী ব্যক্তিত্বদের সম্পর্ক ছিল। অন্ধকার আকাশ ধর্মগুরুরা নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করার সাথে সাথে, তেহরানের উপর একটি অন্ধকার কুয়াশা ছড়িয়ে পড়ে যখন ইসরায়েল রাতারাতি রাজধানী শহর এবং তার আশেপাশের পাঁচটি তেল স্থাপনায় হামলা চালায়, সেগুলিতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং আকাশ তীব্র ধোঁয়ায় ভরে যায়। যুদ্ধ যখন নবম দিনে পৌঁছে, তখন আইআরজিসি বলে যে তাদের কাছে মধ্যপ্রাচ্যে ছয় মাস পর্যন্ত তাদের ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। গার্ডের মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি বলেছেন যে ইরান এখনও পর্যন্ত কেবল প্রথম এবং দ্বিতীয় প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, তবে আগামী দিনে "উন্নত এবং কম ব্যবহৃত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র" ব্যবহার করবে। ট্রাম্প আবারও ইরানে আমেরিকান স্থল সেনা পাঠানোর বিষয়টি উড়িয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, তবে জোর দিয়ে বলেছেন যে চলমান ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা সত্ত্বেও যুদ্ধ প্রায় জয়ী হয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিচ্ছেন যে মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন যে এক মাস বা তার বেশি সময় ধরে চলতে পারে এমন একটি সংঘাতের অবসানের কোনও স্পষ্ট পথ এখনও নেই। মোজতবা খামেনি প্রভাবশালী মোজতবা খামেনি কখনও জনসম্মুখে কোনো নির্বাচনে অংশ নেননি। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি তার বাবার ঘনিষ্ঠ বৃত্তে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। বিশ্লেষকদের মতে, আইআরজিসির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল গোষ্ঠীর সমর্থনের কারণেই তাকে উত্তরসূরি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাকে আলী খামেনির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কঠোর বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পরবর্তী নেতা যদি ওয়াশিংটনের অনুমোদন না পান, তাহলে তিনি “দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না”। এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও সতর্ক করে দিয়েছে যে ইরানের নতুন যেকোনো নেতাকে লক্ষ্যবস্তু করতে তারা দ্বিধা করবে না। তবে ইরানের নেতারা এই মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে কেবল ইরানের জনগণ। চলমান যুদ্ধ আরও তীব্র হতে পারে যুদ্ধ ইতোমধ্যে নবম দিনে পৌঁছেছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের কাছে অন্তত ছয় মাস পর্যন্ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো অস্ত্র রয়েছে। গার্ডের মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি বলেছেন, এখন পর্যন্ত তারা মূলত প্রথম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হতে পারে। বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন নেতৃত্ব ক্ষমতায় আসার ফলে ইরানের নীতিতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। তবে যদি চলমান যুদ্ধ শেষ হয় এবং নতুন নেতা স্থিতিশীলভাবে ক্ষমতায় থাকতে পারেন, তাহলে ইরানের জন্য নতুন রাজনৈতিক পথ খুঁজে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, পারস্য উপসাগরের উত্তরাংশে তারা একটি মার্কিন ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং তাদের সমর্থনকারী ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। বৃহস্পতিবার সকালে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের নৌবাহিনী পারস্য উপসাগরের উত্তরের একটি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। যদিও এ হামলায় কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা ট্যাঙ্কারটির অবস্থা কী— সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি তারা। এ খবর প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান তাদের অনলাইন প্রতিবেদনে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং তাদের ইউরোপীয় মিত্রদের কোনো সামরিক বা বাণিজ্যিক জাহাজ যদি হরমুজ প্রণালির আশপাশে দেখা যায়, তাহলে সেগুলোর ওপর হামলা চালানো হতে পারে। বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা আগেও স্পষ্ট করে বলেছি— আন্তর্জাতিক আইন ও বিভিন্ন প্রস্তাবের আলোকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার রাখে।” তারা দাবি করে, ইরানের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজন হলে ওই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ ব্যবহার সীমিত বা বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক পথ। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এই সংকীর্ণ জলপথ। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল এবং বিপুল পরিমাণ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথে আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রণালিতে কোনো ধরনের সামরিক সংঘাত বা অবরোধ সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতিতেও। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া আইআরজিসির এই দাবির পর এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে অতীতে ওয়াশিংটন বারবার বলেছে, আন্তর্জাতিক জলপথে জাহাজ চলাচল অবাধ রাখার জন্য তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে টহল দিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে সেখানে বিভিন্ন সময় বহুজাতিক নৌজোটও গঠন করা হয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার দীর্ঘ ইতিহাস ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বহুদিনের। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বারবার সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে পারস্য উপসাগর এলাকায় একাধিকবার ট্যাঙ্কার জব্দ, ড্রোন ভূপাতিত করা এবং নৌবাহিনীর মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ মুখোমুখি অবস্থার ঘটনা ঘটেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনার পেছনে রয়েছে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার লড়াই। আন্তর্জাতিক উদ্বেগ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অনেক দেশ আশঙ্কা করছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকজন কূটনীতিক ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, সামুদ্রিক বাণিজ্যপথকে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হলে তার প্রভাব গোটা বিশ্বের ওপর পড়বে। সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে এবং অনেক দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। পরিস্থিতি নজরে বিশ্ব বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহল গভীরভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথ বিশ্ব রাজনীতির নতুন সংঘাতের কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে প্রতিহত করছে, মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরে তীব্র যুদ্ধ, তেহরান ছেড়ে যাচ্ছে লক্ষাধিক মানুষ ,ইরান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার জবাবে কঠোর পাল্টা হুমকি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলার পর ইরান যুদ্ধ ত্যাগের অঙ্গীকার জোরদার করেছে। খাতাম আল আম্বিয়া কেন্দ্রীয় দপ্তরের ডেপুটি কমান্ডার জেনারেল কিওমারস হেইদারি বলেন, তার দেশ লক্ষ্য পূরণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তীব্র আঘাত না হানা পর্যন্ত যুদ্ধ ত্যাগ করবে না। ২৮শে ফেব্রুয়ারি হামলার পর তেহরান প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু করে। ইরান এখন পর্যন্ত ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিব ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। লেবাননের হিজবুল্লাহ ইরানের পাশে সরাসরি যুদ্ধে নেমেছে। উভয়ে মিলে তেল আবিবে হামলা চালাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারত মহাসাগরে যুদ্ধের ছড়িয়ে পড়া ভূমধ্যসাগরের উত্তেজনা ভারত মহাসাগরে পৌঁছেছে। সাইপ্রাসে ফ্রান্স রণতরী মোতায়েন করেছে, যুক্তরাজ্য অ্যান্টি-মিসাইল সরঞ্জাম পাঠিয়েছে, এবং জার্মানি মৌন সমর্থন দিয়েছে। বুধবার ভারত মহাসাগরে অবস্থানরত ইরানের জাহাজে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা হিসেবে ইরান একটি মার্কিন তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের সমর্থিত কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হতে পারবে না। এদিকে যুদ্ধের তীব্রতায় স্কুল ও হাসপাতালেও ক্ষতি হচ্ছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, শনিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত অন্তত ১০৫টি বেসামরিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে তেহরান ছাড়ছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম দুইদিনে লক্ষাধিক মানুষ দেশ ছাড়েছে। ইরানের তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ২০ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) জানিয়েছে, কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। হামলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ট্রাম্পের পরিকল্পনায় পরিবর্তন ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যৌথ অভিযান শুরু করার মূল লক্ষ্য ছিল তেহরানের শাসনব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তন। তবে, মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, ইরানের ভেতরে অস্থিরতা তৈরি হয়নি। উল্টো, ইরান ও হিজবুল্লাহ পাল্টা আঘাত চালাচ্ছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু হলে ইরান আলোচনায় যেতে রাজি নয়। আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তার মতে, তথ্য বিকৃতি পরমাণু আলোচনাকে ব্যর্থ করেছে। হতাহতের সংখ্যা যুদ্ধ শুরুর পর এ পর্যন্ত ইরানে ১২৩০ জন নিহত হয়েছেন। মিনাবে স্কুলে হামলায় ১৭৫ জন নিহত হয়েছেন। ইসরাইলে ১১ জন, যুক্তরাষ্ট্রে ৬ জন, কুয়েতে দুই সেনা নিহত হয়েছেন। লেবাননে ৭৭ জন নিহত হয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনজন ও ওমান উপকূলের কাছে এক জন নিহত হয়েছেন। ট্রাম্পের যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টা ব্যর্থ মার্কিন কংগ্রেসের সিনেটে ট্রাম্পের সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রস্তাব ৪৭-৫২ ভোটে খারিজ হয়েছে। রিপাবলিকানরা প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। এর ফলে ট্রাম্পের সামরিক আকাঙ্ক্ষা কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণে আনা ব্যর্থ হলো এবং যুদ্ধ পরিচালনায় প্রেসিডেন্টের সমর্থন স্পষ্ট হলো।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল ও ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান দাবি করেছে, কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক আগাম সতর্কীকরণ রাডার ব্যবস্থা নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ধ্বংস করা হয়েছে। তেহরানভিত্তিক একাধিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে বলা হয়, ইরানের সামরিক বাহিনীর এলিট ইউনিট Iইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা স্থাপনায় সফল হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে স্থাপিত যুক্তরাষ্ট্রের এএন/এফপিএস-১৩২ (AN/FPS-132) দীর্ঘ-পাল্লার রাডার সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত নজরদারি সক্ষম এই শক্তিশালী রাডার ব্যবস্থা ২০১৩ সালে প্রায় ১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে স্থাপন করা হয়েছিল। এটি মূলত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আকাশ প্রতিরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত ছিল। আইআরজিসি দাবি করেছে, হামলাটি ছিল “অত্যন্ত নির্ভুল ও কৌশলগতভাবে পরিকল্পিত” এবং এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের দুর্বলতা সৃষ্টি হয়েছে। ইরানি সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, কাতারের কিছু কর্মকর্তা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি অনানুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ওয়াশিংটন নীরব থাকায় দাবিটির সত্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি এ দাবি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর এর তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এ ঘটনা সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের কৌশলগত উদ্বেগের কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক এই দাবিকে কেন্দ্র করে নতুন করে সামরিক ও কূটনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতবা।পর্দার আড়ালে থেকে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে সক্রিয় থাকা মোজতবা খামেনি এখন দেশটির সর্বোচ্চ প্রধান। ব্রেকিং নিউজ জানতে চোখ রাখুন ইত্তেহাদ নিউজে............................ মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী রাষ্ট্র ইরান-এ বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে। প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-এর ছেলে মোজতবা খামেনি দেশটির নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দেশটির সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী এসেম্বলি অব এক্সপার্টস তাকে এ পদে নির্বাচিত করেছে। রাজনৈতিক মহলে আলোচিত রয়েছে যে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর প্রভাব ও সমর্থন তার নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জন্ম ও শিক্ষাজীবন ১৯৬৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ইরানের মাশহাদ শহরে এক ধর্মীয় পরিবারে জন্ম নেন মোজতবা খামেনি। তিনি ছিলেন ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির সন্তান। ১৯৮৭ সালে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার পর তিনি আইআরজিসিতে যোগ দেন এবং ইরান-ইরাক যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে কোম শহরের সেমিনারিতে উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে সেখানে শিক্ষকতাও করেন। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উত্থান মোজতবা খামেনি দীর্ঘদিন ‘অফিস অব দ্য সুপ্রিম লিডার’-এর একজন প্রভাবশালী নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বাবার দপ্তরে কাজ করার সুবাদে সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি শক্তিশালী যোগাযোগ গড়ে তোলেন। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি ছিলেন ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘পাওয়ার ব্রোকার’। ২০০৫ ও ২০০৯ সালের নির্বাচনে সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ-এর বিজয়ে নেপথ্যে ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিশেষ করে ২০০৯ সালের নির্বাচন-পরবর্তী সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে আসে। বিতর্ক ও সমালোচনা ২০২২ সালে জিনা মাহসা আমিনি-এর মৃত্যুর পর দেশজুড়ে যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, তা দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ নিয়েও তার ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। ২০২২ সালের আগস্টে কোম সেমিনারির সংশ্লিষ্ট একটি মাধ্যমে তাকে ‘আয়াতুল্লাহ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। সমালোচকদের মতে, প্রয়োজনীয় উচ্চতর ধর্মীয় পাণ্ডিত্য ও স্বীকৃতি ছাড়া এই উপাধি ব্যবহার ছিল তার ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের পথ সুগম করার কৌশল। নতুন নেতৃত্ব, কঠিন সময় বর্তমানে ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি এমন এক সময়ে দেশের দায়িত্ব নিলেন, যখন ইরান গভীর ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে উত্তেজনা, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অসন্তোষ এবং অর্থনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে তার সামনে রয়েছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘদিন পর্দার আড়ালে থেকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় থাকলেও, এবার তাকে প্রকাশ্য নেতৃত্বে দেশ পরিচালনার কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈদেশিক নীতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা নির্ভর করবে আইআরজিসি ও ধর্মীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তার সমন্বয়ের ওপর।
রানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’ নামক একটি ব্যাপক সামরিক অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে মাত্র প্রথম দুই দিনে ৬৫০-এরও বেশি মার্কিন কর্মকর্তা ও সদস্য নিহত বা আহত হয়েছে। আইআরজিসি এই বলেছে যে এসব হামলা ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের জবাব হিসেবে শুরু করা হয়েছে। আইআরজিসি মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েইনি বলেন, বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে সুনির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে। বিশেষ একটি হামলায় বাহরাইনের ঘাঁটিতে একযোগে প্রায় ১৬০ জন মার্কিন সদস্য হতাহত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। আইআরজিসি জানিয়েছে, ইরানি নৌবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যাধুনিক এমএসটি কমব্যাট সাপোর্ট জাহাজও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আরেকটি কেন্দ্রীয় দাবি ছিল মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন-কে লক্ষ্য করে ছয় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। আইআরজিসি বলেছে, এই হামলার পর রণতরীটি চাবাহার উপকূল থেকে ২৫০-৩০০ কিলোমিটার সরে ভারত মহাসাগরের দিকে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। যদিও ইরানের এই দাবিগুলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বতন্ত্রভাবে যাচাইযোগ্য নয়, এবং মার্কিন সামরিক সূত্রগুলোর মতে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রণতরীকে আঘাত করতে পারেনি বা খুব কাছাকাছি যায়নি—তবে দুই পক্ষের বিবাদ ও তথ্যের অমিল উত্তেজনাকে আরও বৃদ্ধি করেছে। আইআরজিসির বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই অপারেশনটি মার্কিন ও ইসরায়েলের সাম্প্রিক আক্রমণের ‘দাঁতভাঙা জবাব’ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। পরিস্থিতি নস্যাৎ না হওয়া পর্যন্ত উত্তেজনা এবং কার্শিয়াল সতর্কতা অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পেয়েছে সংবাদ সংস্থা।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রতিশোধমূলক অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার (২ মার্চ) ইসরাইলে একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও শিল্প স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এ হামলা পরিচালিত হয়েছে। বীরশেবায় সামরিক কমপ্লেক্সে হামলার দাবি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ১১ তম ঢেউ ইসরাইলের বীরশেবা শহরকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, বীরশেবায় অবস্থিত ইসরাইলি সেনাবাহিনীর একটি যোগাযোগ ও শিল্প কমপ্লেক্সে আঘাত হানা হয়েছে। পরে প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখানো ভবনটিকে লক্ষ্যবস্তু বলে দাবি করা হয়। ওই কমপ্লেক্সে কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট -এর অফিসও আছে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এ বিষয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে হামলার দাবি ফার্স নিউজ এজেন্সিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, তেল আবিবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এবং বিমানবাহিনীর কমান্ডারের সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে ‘খাইবার’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। হামলার সময় নেতানিয়াহু কোথায় ছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইসরাইলি প্রশাসনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নেতানিয়াহু বেইত শেমেশ সফর বাতিল করেন। স্পেনের ঘাঁটি ব্যবহারে ‘না’ ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানে নিজেদের ভূখণ্ডে থাকা যৌথ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি Spain। দেশটির রোটা ও মোরন ঘাঁটি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান হামলায় ব্যবহার করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ‘একতরফা সামরিক পদক্ষেপ’-এর সমালোচনা করে একে ‘অন্যায় ও বিপজ্জনক’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের অভিযান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস জানান, স্পেনের ঘাঁটিগুলো কেবল দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও জাতিসংঘ সনদের কাঠামোর মধ্যেই ব্যবহৃত হবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিটা রবেলসও একই অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। ইরানের পাশে থাকার ঘোষণা চীনের মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় জোরালো সমর্থন জানিয়েছে চীন । দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে ফোন করে বেইজিংয়ের অবস্থান পরিষ্কার করেন। চীন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যুদ্ধ বন্ধে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার কথা বলেছে। যুক্তরাজ্য সরাসরি হামলায় অংশ নেবে না ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় সরাসরি অংশ নেবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার । তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্রকে নির্দিষ্ট সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। স্টারমার জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাজ্য সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নিচ্ছে না। একই ধরনের অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে ফ্রান্স ও জার্মানিও প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরান-ইসরাইল পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশসমূহ এবং চীনের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এদিকে আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সামরিক উত্তেজনা যেন পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ না নেয়—সেই আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিয়েছে। কাতারের দোহায় ফের বিস্ফোরণ কাতারের রাজধানী দোহায় নতুন বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার ফলে এ বিস্ফোরণ হতে পারে। সোমবার (২ মার্চ) রাতে নতুন করে এ বিস্ফোরণ হয়। এর আগে এদিন কাতারের শিল্পনগরী রাস লাফানের একাধিক জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হানে ইরানের ড্রোন। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে, কাতারের বিমানবাহিনী দেশটির দিকে আসা দুটি ইরানি জেট গুলি করে নামিয়েছে এবং কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনও প্রতিহত করেছে বলে দাবি করেছে।
ইরানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) শুরু হওয়া ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। সোমবার (২ মার্চ) এ তথ্য প্রকাশ করে ইরানের ত্রাণ ও উদ্ধার সংস্থা রেড ক্রিসেন্ট। এর আগে রোববার (১ মার্চ) সংস্থাটি জানায়, মাত্র ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ৫৭ জন নিহত হয়েছেন। খামেনির মৃত্যুর দাবি শনিবার সকালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর তেহরানের বাসভবন লক্ষ্য করে বড় ধরনের বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। রোববার ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, খামেনির কমপাউন্ডে চালানো যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, ‘আমেরিকা ও জায়নবাদী শাসনের যৌথ হামলায় ইসলামী বিপ্লবের নেতা মহান আয়াতুল্লাহ ইমাম সাইয়্যিদ আলী খামেনি শাহাদাত বরণ করেছেন।’ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরও জানায়, ওই হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতিও নিহত হয়েছেন। মিনাবে স্কুলে ভয়াবহ হামলা এদিকে, দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে মেয়েদের একটি স্কুলে শনিবারের হামলায় নিহতের সংখ্যা দেড়শ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ইসরায়েলি-মার্কিন যৌথ হামলার জবাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা অব্যাহত রেখেছে। তারা খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। অন্যদিকে, লেবাননভিত্তিক সংগঠন হিজবুল্লাহ খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলে রকেট হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এর জবাবে ইসরায়েল লেবাননের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা বিমান হামলা চালিয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই সংঘাত আরও চার সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উদ্বেগ বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, চলমান এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বৃহৎ আকারের যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঠেকাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের তাগিদ দিচ্ছেন কূটনীতিকরা। তবে ময়দানে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকায় সংকট নিরসনের পথ এখনও অনিশ্চিত।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, তাদের হামলায় অন্তত ২০০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। তবে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এ দাবিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন ও মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। খবর : রাশিয়ান সংবাদ সংস্থা তাস নিউজের। সংবাদমাধ্যমটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে তাদের নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২০০ জন মার্কিন সৈন্য হতাহত হয়েছে। এর পাশাপাশি তারা সেন্টকমের একটি রণতরী বা জাহাজ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবিও তুলেছেন। তেহরান এ সাফল্যকে তাদের ‘অপারেশন ট্রুথফুল প্রমিজ ৪’-এর বড় বিজয় হিসেবে প্রচার করছে। তবে আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মার্কিন সেন্টকমের একজন মুখপাত্র ইরানি এ দাবিগুলোকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, ‘আইআরজিসি’র পক্ষ থেকে ২০০ মার্কিন সেনাকে হত্যা বা আহত করার যে দাবি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এমনকি আমাদের কোনো জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবিও সত্য নয়।’ সেন্টকম জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ইরানি হামলা প্রতিহত করেছে এবং মার্কিন বাহিনীর কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর এখন পর্যন্ত নেই।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ‘১০ থেকে ১৫ দিনের’ আলটিমেটামকে ঘিরে কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতা জোরদার করেছে ইরান। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল নিয়মতান্ত্রিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নয়; বরং সম্ভাব্য যুদ্ধ এড়াতে তেহরানের শেষ মুহূর্তের কৌশলগত প্রয়াস। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটর জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের কড়া অবস্থানের প্রেক্ষিতে তেহরান এখন একযোগে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় কূটনৈতিক মহল এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করেছে। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও সময়সীমা চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, একটি ‘অর্থবহ চুক্তিতে’ পৌঁছাতে ইরানের হাতে সর্বোচ্চ ‘১০ থেকে ১৫ দিন’ সময় রয়েছে। অন্যথায় ‘ভয়াবহ কিছু ঘটতে পারে’ বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। এই বক্তব্যের পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও যুদ্ধ প্রস্তুতি দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তেহরানের জন্য বিষয়টি নতুন নয়। ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের আগে ট্রাম্প ৬০ দিনের সময়সীমা দিয়েছিলেন; ৬১তম দিনে শুরু হয়েছিল সামরিক সংঘাত। যদিও ইরানি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে এ তুলনা টানছেন না, দেশটির সংবাদমাধ্যমে সেই নজির নিয়ে আলোচনা চলছে। জাতিসংঘে ইরানের অভিযোগ জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি নিরাপত্তা পরিষদে চিঠি দিয়ে ‘সামরিক আগ্রাসনের বাস্তব ঝুঁকি’ নিয়ে সতর্ক করেছেন। ট্রাম্পের বক্তব্যকে জাতিসংঘ সনদের ‘নগ্ন লঙ্ঘন’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, হামলা হলে ইরান ‘যথাযথ ও চূড়ান্ত’ জবাব দেবে। তার ভাষায়, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাই তখন বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে। জেনেভা আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জেনেভায় মার্কিন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভকের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়ার অবস্থান তেহরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে সৌদি আরব ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে ইরান। বিশেষ করে সৌদি আরব নতুন করে আঞ্চলিক যুদ্ধ ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা চায় না। হরমুজ প্রণালিতে সামরিক বার্তা একদিকে যখন কূটনৈতিক টেবিলে ‘উইন-উইন’ চুক্তির খসড়া তৈরির চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিতে নৌ-মহড়া জোরদার করেছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট। যুদ্ধ শুরু হলে এই পথ ব্যাহত করার সক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের ওপর কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে তেহরান। ‘ঝুলন্ত তলোয়ারের’ নিচে তেহরান ইরানি কৌশলবিদদের মতে, এখন লক্ষ্য কেবল সংঘাত এড়ানো নয়; বরং সংঘাত শুরু হলেও তার ব্যাপ্তি সীমিত রাখা এবং শাসনব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। তেহরানের বর্তমান পরিস্থিতিকে অনেকেই ‘ঝুলন্ত তলোয়ারের নিচে বসবাস’-এর সঙ্গে তুলনা করছেন। ইরান একদিকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও সীমিত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বজায় রেখে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী, অন্যদিকে কোনো আলটিমেটামের মুখে সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিতেও রাজি নয়। সম্ভাব্য পরিণতি বিশ্লেষকদের মতে, সামনের কয়েক দিন মধ্যপ্রাচ্যের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কূটনৈতিক নমনীয়তা ও সামরিক প্রস্তুতির সমন্বিত কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে তেহরান। এখন দেখার বিষয়—ওয়াশিংটন ও তেহরান কি আলোচনার টেবিলে সমাধানে পৌঁছাতে পারবে, নাকি অঞ্চলটি আবারও নতুন সংঘাতের দিকে ধাবিত হবে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আপাতত অনিশ্চয়তার ঘন মেঘ।
পারস্য উপসাগরে তেল চুরির অভিযোগে দুটি বিদেশি তেল ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। জাহাজ দুটিতে থাকা ১৫ জন বিদেশি ক্রুকেও আটক করে দেশটির বিচার বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তসনিম নিউজ এজেন্সি বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে জানায়, ট্যাঙ্কার দুটিকে পারস্য উপসাগরের ইরানের ফারসি দ্বীপের কাছ থেকে আটক করা হয়। নৌযান দুটিতে এক মিলিয়ন (১০ লাখ) লিটারেরও বেশি পাচারকৃত জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। আইআরজিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ট্যাঙ্কার দুটি কয়েক মাস ধরে জ্বালানি তেল পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল। নৌবাহিনীর ধারাবাহিক নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সেগুলো শনাক্ত ও জব্দ করা হয়। তবে ট্যাঙ্কারগুলো কোন দেশের পতাকা বহন করছিল কিংবা আটক ক্রুদের জাতীয়তা কী— সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এই ঘটনা এমন এক সময় ঘটল, যখন গত জানুয়ারিতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে নৌ-বহর মোতায়েন করে। এর ফলে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বিশ্বের মধ্যে অন্যতম কম হওয়ায় প্রতিবেশী দেশগুলোতে তেল পাচার অত্যন্ত লাভজনক হয়ে উঠেছে। এ কারণেই পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী— যা বিশ্বে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ— সেখানে অবৈধ বাণিজ্যের অভিযোগে ইরানি বাহিনী নিয়মিতভাবে ট্যাঙ্কার জব্দ করছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একই ধরনের একাধিক ঘটনার পর এটিই সর্বশেষ ট্যাঙ্কার আটক করার ঘটনা বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও বি এম কলেজ এর সাবেক জি এস এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা। নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।