মাদারীপুর সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার জেরে অন্তত ৪০টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয়রা। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে সাবেক কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান আখতার হাওলাদারের সমর্থক আলমগীর হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষের লোকজন। এই হত্যাকাণ্ডের জের ধরে রাতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে নিহত আলমগীর হাওলাদারের পক্ষের সমর্থকরা প্রতিপক্ষ হাসান মুন্সী পক্ষের লোকজনের বাড়িঘরে হামলা চালায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হামলাকারীরা অন্তত ২০টি বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পাশাপাশি জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লাবলু হাওলাদার ও হাসান মুন্সীর বাড়িসহ অন্তত ২০টি বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়িঘর ছেড়ে চলে যান। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, হামলার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি বলেন, হামলাকারীরা ঘটনাস্থলের বিভিন্ন সড়কে ইট ও গাছ ফেলে রাস্তা অবরোধ করে দেয়। এতে সেখানে পৌঁছাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেগ পেতে হয়েছে। তবে বর্তমানে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন বলে জানান তিনি। দীর্ঘদিনের বিরোধ স্থানীয়দের দাবি, নতুন মাদারীপুর এলাকায় সাবেক কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান আখতার হাওলাদার পক্ষ এবং হাসান মুন্সী পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। গত কয়েক বছরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে এলাকায় দুই পক্ষের উত্তেজনা আবারও বাড়তে শুরু করে। সাম্প্রতিক এই হত্যাকাণ্ডের পর সেই বিরোধ নতুন করে সহিংস রূপ নিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক (লিগ্যাল) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আইন ও বিচার বিভাগের সংযুক্ত কর্মকর্তা (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ আলী হোসাইন। সোমবার (৯ মার্চ) তাকে মহাপরিচালক (ডিজি) নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে তার চাকরি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
রাজধানীর আলোচিত ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। রোববার (৮ মার্চ) ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই এক্স (সাবেক টুইটার)–এ প্রকাশিত এক পোস্টে এ তথ্য জানায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতেই তাদের আটক করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দুই আসামিকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীতে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের পর ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেন সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যান এবং সেখানে আত্মগোপনে ছিলেন। পরে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। সূত্র আরও জানায়, সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) নবনিযুক্ত মহাপরিচালক ভারত সফর করেন। ওই সফরের সময় হাদি হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই দুই আসামিকে আটক করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা নিয়েও পদক্ষেপ বাংলাদেশের আহ্বানের প্রেক্ষিতে ভারতে বসে বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এ বিষয়ে দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান–প্রদান ও সমন্বয় বাড়ানো হচ্ছে। যেভাবে হত্যাকাণ্ড গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা চালানোর সময় মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তি গুলি চালায়। এতে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি। প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। পরে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তদন্তের অগ্রগতি হত্যাকাণ্ডের পর করা মামলায় ইতিমধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া কয়েকজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে ভারতে আটক ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক উত্তেজনার জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্নের আশঙ্কা ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। এর প্রভাব ধীরে ধীরে বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারেও দেখা যাচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল ও গাড়িচালকদের মধ্যে আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে ট্যাংক ভর্তি করে রাখার প্রবণতা বেড়েছে। ফলে হঠাৎ করে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের চাহিদা বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যার পর রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, কিছু ফিলিং স্টেশন আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে অনেক গাড়িচালক তেল নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। ঢাকার নীলক্ষেত ও নিউমার্কেট এলাকার সবকটি তেলের পাম্প বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। নীলক্ষেত মোড়ের “বন্ধু ফিলিং স্টেশন”-এর এক কর্মী মিলন জানান, বিকেল থেকেই তেলের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। তিনি বলেন, “বিকেল থেকেই অনেক গাড়ি আসছিল। আমাদের কাছে যত তেল ছিল প্রায় সব শেষ হয়ে গেছে। নতুন গাড়ি (সরবরাহ) না আসলে আর তেল দিতে পারবো না।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের উল্টা পাশের একটি ফিলিং স্টেশনের বিক্রেতাও একই ধরনের তথ্য দেন। তিনি বলেন, পাম্পে আপাতত তেল নেই। তার ভাষায়, “রাত ৯টার দিকে তেলবাহী গাড়ি আসার কথা। তখন তেল আসলে আবার বিক্রি শুরু করবো। এখন তেল না থাকায় পাম্প বন্ধ রেখেছি।” এদিকে তেল নিতে এসে পাম্প বন্ধ পেয়ে অনেক চালককে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে। মোস্তফা আহমেদ নামে এক গাড়িচালক বলেন, “তেল নিতে আসছিলাম, এসে দেখি পাম্প বন্ধ। পাম্পের লোক বলছে তেল নেই। সরকার বলছে তেল আসছে, আবার পাম্প বলছে নেই। ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে কি না সেটাও সন্দেহ হচ্ছে।” আরেকজন মোটরসাইকেলচালক রাসেল মিয়া বলেন, “যুদ্ধের কারণে যদি সংকট হয়, তাহলে এখনই তো তেল শেষ হয়ে যাওয়ার কথা না। বুঝতে পারছি না দাম বাড়ানোর জন্য পাম্প বন্ধ রাখছে কি না।” তবে সরকারি তথ্য অনুযায়ী দেশে এখনই বড় ধরনের জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা নেই। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) মার্চ মাসের তথ্য অনুযায়ী জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে— ডিজেল প্রায় ১৪ দিনের পেট্রোল প্রায় ১৫–১৭ দিনের অকটেন প্রায় ২৮ দিনের ফার্নেস অয়েল প্রায় ৯৩ দিনের জেট ফুয়েল প্রায় ৫৫ দিনের মজুত রয়েছে। সরকারি হিসেবে পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তে পারে এবং তার প্রভাব বাংলাদেশসহ আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর পড়তে পারে।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা কোম্পানি যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের একটি অংশের দাবি, আলোচিত এই পদে আসতে সক্রিয় রয়েছেন বীমা খাতের কর্মকর্তা অজিত চন্দ্র আইচ, যার অতীত কর্মজীবন নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ও অভিযোগ রয়েছে। সোনালী লাইফে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অজিত চন্দ্র আইচ পূর্বে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে, প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে কয়েকশ কোটি টাকার অনিয়মিত লেনদেন ও আত্মসাতের ঘটনা ঘটে, যার সময়কালে অজিত চন্দ্র আইচ দায়িত্বে ছিলেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে সন্দেহ করা হয় এবং এতে তৎকালীন ব্যবস্থাপনার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অজিত চন্দ্র আইচের সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন বিএফআইইউ তাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন জমা দেয় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)-এর কাছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বীমা আইনের ৫০(১) ধারায় গ্রাহক স্বার্থ ক্ষুণ্নের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান থাকলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং অজিত চন্দ্র আইচকে সম্ভাব্য সিইও পুলে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনার খবর প্রকাশ্যে আসায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন খাতসংশ্লিষ্ট অনেকেই। তবে আইডিআরএ’র পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে অভিযোগের ইতিহাস অজিত চন্দ্র আইচ এর আগে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এবং প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড-এ দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন সময় এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক অনিয়ম, আর্থিক জালিয়াতি ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার অভিযোগ ওঠে বলে সংশ্লিষ্ট অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো দাবি করেছে। ন্যাশনাল লাইফে দায়িত্ব পালনকালে একটি আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মতিঝিল থানা পুলিশ হেফাজতে নেয় বলে জানা যায়। যদিও এ বিষয়ে মামলার বর্তমান অবস্থা বা আদালতের চূড়ান্ত রায় সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রগ্রেসিভ লাইফে তার নেতৃত্বকালে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক সংকটে পড়ে—এমন অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বপক্ষে স্বাধীন নিরপেক্ষ তদন্তের ফলাফল প্রকাশ্যে আসেনি। যোগাযোগের চেষ্টা এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে অজিত চন্দ্র আইচের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কাছ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফোনকল ও বার্তার জবাব মেলেনি। বীমা খাতে সুশাসন ও গ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও তদন্তকারী প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক ও স্বচ্ছ অবস্থান প্রকাশ জরুরি বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি, অভিযোগ অসত্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সুনাম রক্ষাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ঢাকা-দুবাই-ঢাকা রুটে দুটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করবে ইউএস-বাংলা। বুধবার (৪ মার্চ) প্রথম ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করবে। একই ফ্লাইট দুবাই থেকে স্থানীয় সময় রাত ১২টা ২০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) অন্য বিশেষ ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করবে। একই ফ্লাইট দুবাই থেকে স্থানীয় সময় রাত ১০টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে। ৪৩৬ আসনবিশিষ্ট এয়ারবাস এ৩৩০-৩০০ উড়োজাহাজের মাধ্যমে বিশেষ ফ্লাইট দুটি পরিচালিত হবে। ঢাকা-দুবাই ফ্লাইট নম্বর: বিএস-৩৪১ এবং দুবাই-ঢাকা ফ্লাইট নম্বর বিএস-৩৪২।
ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তিন সদস্যের কমিশন পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে চেয়ারম্যান আবদুল মোমেনসহ কমিশনাররা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দেন।বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলী আকবার আজিজী। তিনি বলেন, “কোনো চাপ নয়, নিয়মতান্ত্রিকভাবে পদত্যাগ করেছেন দুদকের চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার।” সূত্র জানিয়েছে, ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন এই কমিশনকে সরকারের পক্ষ থেকে ‘না’ করে দেয়া হয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের সদস্যরা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পাঁচ বছর এই দায়িত্বে থাকার কথা। একই প্রজ্ঞাপনে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ। এর আগে ড. এম এ মোমেন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসের কালচারাল সেন্টারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আল উযমা সাইয়্যেদ আলী খামেনির স্মরণে শোকবই খোলা হয়েছে। এ বিষয়টি সোমবার (২ মার্চ) ইরান দূতাবাসের কালচারাল সেন্টার একটি বার্তায় জানিয়েছে। শোকবইয়ে শোকবার্তা লিখে স্বাক্ষর করার জন্য সাধারণ জনগণ ও বিভিন্ন সংগঠন থেকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শোকবইতে অংশ নিতে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।শুক্রবার ও শনিবার এটি বন্ধ থাকবে। শোকবই খোলার ঠিকানা: বাড়ি নম্বর ৭, রোড নম্বর ১১ (পুরাতন ৩২), ধানমন্ডি, ঢাকা-১২0৯। 🕊️ কেন শোকবই খুলা হলো? ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু হয়েছে, এমন খবর আসে । এটা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সূত্রেও নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরান স্থায়ীভাবে প্রায় ৩৬ বছর রাজনীতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং দেশটির রাজনীতি, সামরিক ও নীতিনির্ধারণে সর্বোচ্চ ক্ষমতা ছিল তার হাতে। হামলাটি ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখে তেহরানে পরিচালিত হয় এবং এতে খামেনির সাথে-সাথে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তা নিহত হন। 🌍 আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও বর্তমান পরিস্থিতি ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া ৪০ দিনের শোক পালন ঘোষণা করেছে এবং দেশের বিভিন্ন জায়গায় সমবেদনা সভা ও শোক র্যালি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এদিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগে এলোমেলো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিছু দেশে খামেনির মৃত্যুতে সমর্থন ও উদযাপন চলছে, আবার কিছু জায়গায় এই হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে নিন্দা জানানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার পরিস্থিতি এখন খুবই উত্তেজনাপূর্ণ, এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ সমন্বয়ের আহ্বানও করা হচ্ছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মের লঙ্ঘন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার দুঃখ প্রকাশ করেছে। সোমবার (২ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহতের ঘটনায় ইরানের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি বাংলাদেশ আন্তরিক সমবেদনা জানায়।বাংলাদেশ বিশ্বাস করে সংঘাত কোনো সমাধান আনে না এবং কেবল সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি আনুগত্যই বিরোধের সমাধান করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কুয়েতে ড্রোন হামলায় চারজন বাংলাদেশি প্রবাসী আহত হয়েছেন। তারা বর্তমানে কুয়েতের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রোববার (১ মার্চ) কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় সংঘটিত এক ড্রোন হামলায় চারজন বাংলাদেশি কর্মী আহত হন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ফারওয়ানিয়া হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে দূতাবাস সূত্র নিশ্চিত করেছে। কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন রোববার হাসপাতালে গিয়ে আহত প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার খোঁজখবর নেন। তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন। উল্লেখ্য, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালায় ইসরায়েলি-মার্কিন যৌথ বাহিনী। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এর জবাবে ইরান পাল্টা হামলা শুরু করেছে। তারা তেলআবিবসহ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। ফলে গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনগুলো। দূতাবাস জানিয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে প্রবাসীরা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। এদিকে, চলমান সংঘাত পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশ্বনেতারা দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলা পৌরসভা কার্যালয়ে মেয়রের স্বাক্ষর জাল করে প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার (০১ মার্চ) দুদক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জানা যায়, লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলা পৌরসভা কার্যালয়ে মেয়রের স্বাক্ষর জাল করে প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদকের জেলা কার্যালয়, চাঁদপুর থেকে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট অভিযোগভুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি রায়পুর পৌরসভা কার্যালয় থেকে প্রকল্প-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশন বরাবর একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করবে বলে জানা গেছে। রাজশাহী মেডিকেলে ৫ কোটি টাকার এসটিপি আমদানিতে অনিয়মের অভিযোগ এদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ লিফট ও সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) আমদানি ও স্থাপন কাজে নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, রাজশাহী থেকে পৃথক একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) আমদানিসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে এনফোর্সমেন্ট টিম। পরবর্তীতে হাসপাতালের সমন্বিত ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগ ইউনিট নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (ই/এম) ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই-বাছাই এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করা হয়। সংগৃহীত রেকর্ডপত্র ও নমুনা পরীক্ষার মূল্যায়ন প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে কমিশনের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেবে এনফোর্সমেন্ট টিম। দুদক সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানী ঢাকার রমনা থানা এলাকার ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। খবরটি নিশ্চিত করেছেন রমনা থানার ডিউটি অফিসার এসআই মনির। তিনি জানান, সাবেক সংসদ সদস্য শাহ আলমকে পাবলিক কর্তৃক আটক করা হয়। যদিও তার গ্রেপ্তারের সঠিক সময়ের বিষয়ে এসআই মনির নিশ্চিত হতে পারেননি, তবে তিনি জানান যে, রাত ৮টার দিকে ডিউটিতে এসে তিনি দেখেন যে তাকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনার পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। তবে এখন পর্যন্ত আটক হওয়া সাবেক এমপি শাহ আলমের বিরুদ্ধে কোন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। ঘটনার বিস্তারিত জানতে পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত চলছে এবং যেকোনো মুহূর্তে আরও তথ্য প্রদান করা হতে পারে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন যে, শাহ আলমের আটক হওয়ার সময় সেখানে বেশ কয়েকজন স্থানীয় নাগরিক উপস্থিত ছিলেন এবং তারা সক্রিয়ভাবে এই ঘটনায় জড়িত ছিলেন। এদিকে, রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘটনার প্রভাব ইতোমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে এবং তার দল আওয়ামী লীগও বিষয়টি নিয়ে নিজস্ব অবস্থান স্পষ্ট করতে আগ্রহী।
উপসাগরীয় এলাকায় সম্প্রতি যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রেক্ষিতে কুয়েতে অবস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বিশেষ সতর্কতার আহ্বান জানিয়েছে কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস। ২৮ ফেব্রুয়ারি, শনিবার কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে নিম্নলিখিত নির্দেশনা অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে: সামরিক স্থাপনার কাছাকাছি না যাওয়া: কুয়েতের সামরিক স্থাপনার আশপাশে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। নিজ বাসায় অথবা নিরাপদ স্থানে অবস্থান: বিপদ কাটার আগ পর্যন্ত সবাইকে তাদের নিজ নিজ বাসায় বা নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিপদ কাটার আগে বাইরে না যাওয়া: অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে রাখা: নগদ টাকা, কুয়েতের সিভিল আইডি, স্বাস্থ্য বীমা কার্ড, প্রয়োজনীয় ঔষধ, মোবাইল ফোন, মোবাইল চার্জার, শুকনো খাবার এবং পানি সবসময় সঙ্গে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্কতা: কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস সকল প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিককে কুয়েতি আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতির কোনো ছবি বা ভিডিও শেয়ার না করতে অনুরোধ করা হয়েছে। জরুরি যোগাযোগের জন্য: দূতাবাসের হটলাইন নম্বর: +965 69920013 +965 66516404 কুয়েতের আইন এবং সরকারের নির্দেশনা মেনে চলতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আবারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে সকল প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিককে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে আবুধাবি বাংলাদেশ দূতাবাস। সম্প্রতি ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, নিরাপত্তার জন্য সকল প্রবাসী নাগরিককে সামরিক স্থাপনাগুলোর আশপাশ থেকে দূরে থাকার এবং বিপদ কেটে না যাওয়া পর্যন্ত বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বিশেষত, খোলা আকাশের নিচে না যাওয়া এবং অযথা জমায়েত না করার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে। দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সকল প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিককে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করে নিম্নলিখিত জরুরি সামগ্রীসহ প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে: নগদ টাকা এমিরেটস আইডি, পাসপোর্ট প্রয়োজনীয় ওষুধ, মোবাইল চার্জার, পাওয়ার ব্যাংক পানি ও শুকনো খাবার এছাড়া, স্থানীয় সরকারের নির্দেশনা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে কোনো ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্যও অনুরোধ জানানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি বা ভিডিও আপলোড করার ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, কারণ এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রচলিত আইনের পরিপন্থি হতে পারে। দূতাবাসের জরুরি হটলাইন ও যোগাযোগের তথ্য যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং কনস্যুলেটের নিম্নলিখিত হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে: বাংলাদেশ দূতাবাস, আবুধাবি: হোয়াটসএ্যাপ ও ফোন: +৯৭১ ৫৬৬১১ ৭২১৫, +৯৭১ ০২৪৪৬ ৫১০০, +৯৭১ ৫৪ ৭৪৩ ৯৩৯২, +৯৭১ ৫০ ২৬৪ ৩৩৯৬ ইমেইল: [email protected] বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, দুবাই: হোয়াটসএ্যাপ ও ফোন: +৯৭১ ৫০ ৮১৬৮২৫৩, +৯৭১ ৫০৮১৬৮৩৬৩ ইমেইল:[email protected] এ ধরনের পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দূতাবাসের এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবার প্রতি অনুরোধ, স্থানীয় আইন মেনে চলুন এবং নিরাপদ থাকুন।
ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতি এবং উদ্ভূত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ঐ অঞ্চলে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক জরুরি বৈঠকে এই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। আজ সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র সচিব মধ্যপ্রাচ্যের উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠককালে তারা তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের প্রধানের সঙ্গেও টেলিফোনে আলোচনা করেন। বৈঠকের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আকাশপথ ও আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে গমনরত বাংলাদেশি কর্মীদের যাতায়াত ব্যাহত হওয়ার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দেশসগুলোর কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলে মধ্যপ্রাচ্যে গমনেচ্ছু এবং বর্তমানে আটকে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রবেশের অনুমতি প্রদান করা হয়। এ বিষয়ে কয়েকটি দেশ ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছে। বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে অবস্থানরত কর্মীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে, যাতে উদ্ভূত উদ্বেগসমূহ নিরসন করা যায়। বাংলাদেশ সরকার তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের স্থাপনা, কূটনীতিক ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ইরানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছে। বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যে আলোচনা-প্রক্রিয়ার ব্যর্থতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক বিরোধ তীব্রতর হওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানাচ্ছে। বাংলাদেশ পুনর্ব্যক্ত করছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন অপরিহার্য। বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, সংঘাত কখনও স্থায়ী সমাধান বয়ে আনে না; বরং সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি প্রতিশ্রুতির মাধ্যমেই বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি সম্ভব। বাংলাদেশ সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, উত্তেজনা পরিহার এবং অবিলম্বে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান জানাচ্ছে। বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার পক্ষে তার সুসংহত ও নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও সংলাপের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান জানাচ্ছে।
ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথ হামলা চালানোর পর প্রতিরোধ গড়ে তোলে তেহরান। এরই অংশ হিসেবে ইসরাইলে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। একইসঙ্গে বাহরাইন, আরব আমিরাত, কুয়েত ও কাতারে মার্কিন সেনা ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় তেহরান। একইসঙ্গে সৌদি আরবের রিয়াদে হামলার খবরও পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারে বাংলাদেশ থেকে বিমান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে, কাতারে থাকা নাগরিকদের নিরাপদে থাকার আহ্বান জানিয়েছে দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা: বিদায়ী সরকারি বাসভবন ছাড়ার আগে সাবেক উপদেষ্টা ও প্রভাবশালী অতিথিদের নিয়ে একটি ইফতার আয়োজন করেছেন ড. ফাওজুল কবির খান। অনুষ্ঠানটি শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি এবং শেয়ার থেকে জানা গেছে। সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ছবিগুলো পোস্ট করে লেখেন, “ড. ফাওজুল কবির খানের আয়োজনে একটি মনোরম ইফতার ও নৈশভোজ। ড. খান এবং তার পরিবার তাদের মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন ছেড়ে একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে চলে যাচ্ছেন।” প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যাকে কেক কাটার মুহূর্তে ছবিতে দেখা গেছে। অনুষ্ঠানে সাবেক উপদেষ্টারা দেশের অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে কর বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বলে জানা গেছে। ফাওজুল কবির খান ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।ইফতার আয়োজনটি ছিল তার সরকারি বাসভবন ছাড়ার আগে একটি বিদায়ী সৌজন্য সভা।
নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার দাবি করায় বাবার কাছে থেকে অপহরণ করে এক কিশোরীকে হত্যার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার রাত ৯টার দিকে গাজীপুরের মাওনা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয় বলে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন। গত বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সদর উপজেলার মাধবদী থানার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মধ্যবর্তী শর্ষেখেত থেকে ওই ১৫ বছর বয়সী কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, ধর্ষণের বিচার চাওয়ার পর কিশোরীকে অপহরণ করে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা হয়েছে। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে মাধবদী থানায় মামলা দায়ের করেন নিহত কিশোরীর মা, যেটিতে ৯ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে ও আরও ২–৩ জন অজ্ঞাত আসামি রাখা হয়েছে। মামলার এজাহারে নামোল্লেখ করা আসামিরা হচ্ছেন: নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮) এবাদুল্লাহ (৪০) হযরত আলী (৪০) মো. গাফফার (৩৭) আহাম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫) ইমরান দেওয়ান (৩২) ইছহাক ওরফে ইছা (৪০) আবু তাহের (৫০) মো. আইয়ুব (৩০) পুলিশ ইতোমধ্যেই নূরা সহ পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি চারজন হলেন ইমরান দেওয়ান, এবাদুল্লাহ, আইয়ুব ও গাফফার। 📌 দলের সিদ্ধান্ত: আহাম্মদ আলী দেওয়ান বহিষ্কার এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক দল বিএনপি সদর উপজেলা শাখা কর্তৃক সাবেক সদস্য আহাম্মদ আলী দেওয়ানকে দলীয় প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পদ থেকে অব্যাহতি/বহিষ্কার করা হয়েছে। সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি আবু সালেহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত নোটিশে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। 📌 পুলিশ ও মামলার বিবরণ মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয়ভাবে বখাটে হিসেবে পরিচিত নূরা নামের এক তরুণের সাথে নিহত কিশোরীর কথাবার্তা ছিল। প্রায় ১৫ দিন পূর্বে নূরার নেতৃত্বে পাঁচ–ছয়জন তরুণ কিশোরীকে তুলে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে কিশোরীর পরিবার ন্যায্য বিচার চাইতে মাধবদী এলাকার প্রভাবশালীদের কাছে গিয়েছিল। কিন্তু বিচার না পাওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, আহাম্মদ আলী দেওয়ান অপরাধীদের সঙ্গে রফাদফা করে টাকা নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন এবং একই সাথে পরিবারটিকে গ্রাম ছাড়তে অনুরোধ/চাপ দেন। 📌 অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের সময় গত বুধবার রাতে মেয়েকে খালার বাড়িতে পৌঁছে দিতে যাওয়ার পথে কিশোরীকে তার বাবার সামনে থেকে নূরাসহ ছয় যুবক অপহরণ করে নিয়ে যায়। রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না মেলায় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয় লোকজন শর্ষেখেতে কিশোরীর লাশ দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে মাধবদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। 📌 পরিবারের অভিযোগ নিহত কিশোরীর পরিবার অভিযোগ করেছে, ধর্ষণের বিচার দাবি করার পর ওই ঘটনার আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। বিচার না হওয়া এবং প্রশাসনিক সহায়তা না পাওয়ায় তাদের উপর ধাক্কা দেয়া হয় এবং পরে অনাকাঙ্খিত এই অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড ঘটে।
খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটী মিয়া পাড়া এলাকায় শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুর্বৃত্তরা যুবদল কর্মী মুরাদ খান (৪৫) কে কুপিয়ে ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করে। নিহত মুরাদ খান উপজেলার হাজীগ্রামের খান মুনসুর আলীর ছেলে। তিনি দিঘলিয়া উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মুরাদ খান খুলনা শহর থেকে তার নিজ বাড়ি হাজীগ্রামে ফিরছিলেন। পথে সেনহাটী মিয়া পাড়া মসজিদের কাছে পৌঁছালে কয়েকজন যুবক তার গতিরোধ করে। মুরাদ খান তখন দৌড়ে একটি দোকানে আশ্রয় নিলেও অস্ত্রধারীরা তাকে ধরে এনে সেখানেই এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। মুরাদ খান গুরুতর আহত হলে দুর্বৃত্তরা চলে যায়। এরপর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "মুরাদ খানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছি এবং তদন্ত শুরু করেছি। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি তৎপরতা চালানো হচ্ছে।" এই হত্যাকাণ্ডে ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। পরিবার এবং স্বজনরা মুরাদ খানের হত্যাকারীদের শাস্তি দাবি করছেন। শেষ কথা: খুলনায় যুবদল কর্মী মুরাদ খানের হত্যাকাণ্ডটি একটি ভয়াবহ ঘটনা, যা এলাকাবাসীকে স্তম্ভিত করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং শীঘ্রই আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
মুখ খুললেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশে পুলিশ পুনর্গঠন, নির্বাচনের পরিস্থিতি, ৭.৬২ বুলেটের প্রসঙ্গ, এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি জানান, ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদের একটি কিচেন কেবিনেট ছিল, যেখানে তিনি ছিলেন না। সেখানে কী আলোচনা হতো তা জানানো হতো না, এবং তিনি ওই কেবিনেটে অংশ নিতে পারেননি। সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “দেশটা তখন এক অগ্নিগর্ভের মধ্যে ছিল এবং কেউ আমাকে ডাকে নি, আমি তাদের সাথে একমত হতে পারতাম না।” পুলিশ পুনর্গঠন নিয়ে তিনি বলেন, “আমার প্রধান লক্ষ্য ছিল পুলিশকে পুনর্গঠন করা এবং আমি মনে করি, আমি এতে সফল হয়েছি।” তিনি জানান, নির্বাচনের সময় পুলিশ কিছু সমস্যার মুখোমুখি ছিল। অনেক থানায় আগুন দেয়া হয়েছিল, এবং পুলিশকে মাঠে আনার জন্য তাকে বেশ কিছু কথা বলতে হয়েছিল। “প্রায় ৪ হাজার রাইফেল লুট হয়ে গেছে,” বলেন সাখাওয়াত হোসেন, “এখনো হাজার খানেক রাইফেল পিস্তল লুট করা অবস্থায় রয়েছে।” এছাড়া, ৭.৬২ বুলেট সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এই বুলেট খুব মারাত্মক অস্ত্র। এটি সাধারণত সমরাস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।” তিনি মনে করেন, এটি পুলিশের কাছে থাকা উচিত নয়। এই রাইফেলগুলো কখন, কী কারণে এবং কেন দেয়া হয়েছে, সেই বিষয়েও ইনকোয়ারি করার তার ইচ্ছা ছিল। নির্বাচন নিয়ে সাখাওয়াত বলেন, “নির্বাচন ভালো হয়েছে, তবে পৃথিবীতে কোনো নির্বাচনই একশ পার্সেন্ট খাঁটি হয় না।” তিনি জামায়াতে ইসলামী দলকে ৭৭টি সিট পাওয়া একটি বড় ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি আরও বলেন, “আমাদের দেশে তিনটি নির্বাচনে মানুষ ভোটই দিতে পারেনি। সেখানে জামায়াত ৭৭টি সিট পেয়ে কী ধরনের বার্তা দিল তা ভাবুন।” চুক্তি বিষয়েও সাখাওয়াত বলেন, “ননডিসক্লোজার ক্লজ থাকা চুক্তি প্রকাশ করা যায় না। তবে, এসব চুক্তিতে কোনো দেশবিরোধী কিছু নেই।” তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকারের গ্যাস উত্তোলন সম্পর্কিত আলোচনা চলাকালীন সময়ে আমেরিকান কোম্পানির শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিলের ৪ শতাংশ দেয়ার বিষয়ে বেশ তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। তবে, তিনি দাবি করেছেন, এতে শ্রমিকদের কোনো ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। অবশেষে, সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “সরকার যদি চায়, তবে যেকোনো সময় এসব সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে। এটি একটি অর্ডিনেন্স এবং সরকারের হাতে রয়েছে ক্ষমতা।” এই মন্তব্যগুলো বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে এক গভীর আলোকপাত করছে। সাখাওয়াত হোসেনের বক্তব্য, দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আরও বেশি আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
রাজধানীর হাজারীবাগে প্রেমের সম্পর্ক প্রত্যাখ্যান করায় ৯ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে একই স্কুলের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত স্কুলছাত্রীর নাম শাহরিয়ার শারমিন বিন্তি (১৪)। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত সিয়াম ওরফে ইমন (১৯)। তারা দু’জনই রায়ের বাজার হাইস্কুল-এর শিক্ষার্থী ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে কাঁঠাল বাগান এলাকা থেকে সিয়ামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি, ঘটনার সময় পরিহিত রক্তমাখা গেঞ্জি-প্যান্ট এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম এ তথ্য জানান। ঘটনাপ্রবাহ পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে হাজারীবাগ থানাধীন চরকঘাটা এলাকায় পাকা রাস্তায় ধারালো ছুরি দিয়ে বিন্তিকে গুরুতর আঘাত করে সিয়াম। স্থানীয়রা রক্তাক্ত ও অজ্ঞান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় সিকদার মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ১০টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. বিল্লাল হোসেনের অভিযোগের ভিত্তিতে হাজারীবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রেমের সম্পর্কের জেরে হত্যাকাণ্ড ডিসি মাসুদ আলম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, বিন্তি ও সিয়াম একই স্কুলে পড়ার সুবাদে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্প্রতি বিন্তি ওই সম্পর্ক চালিয়ে যেতে অপারগতা প্রকাশ করলে ক্ষুব্ধ হয়ে সিয়াম এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানায় পুলিশ। সিসিটিভিতে ধরা পড়ে হামলার চিত্র ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক তরুণের সঙ্গে হেঁটে যাচ্ছিল বিন্তি। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, রক্তমাখা ছুরি হাত দিয়ে মুছছে সেই তরুণ। একইসঙ্গে শোনা যায় এক কিশোরীর চিৎকার। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় জীবন বাঁচাতে পাশের বাসার এক নারীর গায়ে ঢলে পড়ে বিন্তি। হামলাকারীর নাম উল্লেখ করেই সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। ওই নারী গণমাধ্যমকে জানান, তিনি বিন্তিকে জড়িয়ে ধরলে সে বলে— সিয়াম ছুরি দিয়ে আঘাত করেছে। পরিবারের আহাজারি নিহত বিন্তির বাবা বেলাল হোসেন শরীয়তপুরের সখিপুর থানার কাছিকাটা এলাকার বাসিন্দা। পরিবার নিয়ে তিনি হাজারীবাগ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি জানান, গলির ভেতর পেছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মেয়েকে আঘাত করে পালিয়ে যায় সিয়াম। পরে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়, সেখানেই মৃত্যু হয়। বিন্তির মা নাদিয়া বলেন, রাত ৮টার দিকে বিন্তি ও তার ভাই নাবিল একসঙ্গে বাসার বাইরে যায়। কিছুক্ষণ পর হৈচৈ শুনে নিচে নেমে দেখেন মেয়েকে ঘিরে অনেক মানুষ। স্থানীয়দের কাছেই রক্তাক্ত অবস্থায় বিন্তি হামলাকারীর নাম জানায়। তিনি অভিযোগ করেন, তিন-চার বছর ধরে সিয়াম মোবাইল ফোনে তার মেয়েকে বিরক্ত করছিল। একবার তিনি নিজেই তাকে ফোনে বকাবকি করেন। “আজকে আমার মেয়েকে কুপিয়ে মেরে ফেলেছে। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই,”— কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও বি এম কলেজ এর সাবেক জি এস এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা। নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।