Brand logo light

বিশেষ সংবাদ

বিএনপি জামায়াত
নির্বাচনে বিএনপি ৪৯.৯৭ শতাংশ, জামায়াত ৩১.৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে : ইসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ধানের শীষ প্রতীকে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অপরদিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।  ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক এ তথ্য জানান।  ইসির তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল ও ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।  অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকে ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে।  ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতীকে ২৫৭টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২ দশমিক ৭০ শতাংশ ভোট পেয়েছে।  বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রিকশা প্রতীকে ৩৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২ দশমিক ০৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে।  জাতীয় পার্টি লাঙ্গল প্রতীকে ১৯৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এছাড়া নির্বাচনে ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী পেয়েছেন ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট।   ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়লাভ করে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়ী হয়েছে। ইসি সচিব জানান, ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রামের দুটি আসনের (চট্টগ্রাম ২ ও ৪) ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। বাকি ২৯৭টি আসনের প্রাপ্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।   তিনি জানান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি, গণঅধিকার পরিষদ ১টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ১টি, গণসংহতি আন্দোলন ১টি এবং খেলাফত মজলিস ১টি আসনে জয়লাভ করে। এছাড়া ৭টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। আখতার আহমেদ জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। আর গণভোটে কাস্টিং ভোটের হার ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। 

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
পাকিস্তান আমলে দু্ই বার এবং স্বাধীন বাংলাদেশে দুই বার নিষিদ্ধ হয়েছিল জামায়াতে ইসলামী
স্বাধীনতার বিরোধিতা থেকে বাংলাদেশের সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে জামায়াত

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে যত আসন পেয়েছে, তা আগে আর কখনোই পায়নি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সরাসরি বিরোধিতা করা এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় দলটির নেতাদের পাকিস্তান বাহিনীর সহযোগী হিসেবে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে। সেই ইতিহাসকে সাথে নিয়েই এবার বাংলাদেশের সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে জামায়াত। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দলটি স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রাজধানী ঢাকায় কোনো আসন পেতে সক্ষম হলো। এবার তারা রাজধানী ঢাকার ১৫টি আসনের মধ্যে পাঁচটি আসনে জয় পেয়েছে, যার একটিতে জিতেছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান। ঢাকা জেলার ২০টি আসনে তার জয় সাতটিতে।অবশ্য খুলনায় নিজের আসনে হেরে গেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। কিন্তু সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা এককভাবে ৬৮টি সংসদীয় আসনে জয় পেয়েছে এবং এগুলোসহ জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট মোট ৭৭টি আসন নিয়ে এবার প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের নির্বাচনের ফলই বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে জামায়াতের এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় অর্জন। তাদের মতে, নির্বাচনকে ঘিরে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও প্রতিকূল পরিবেশে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার দক্ষতার পাশাপাশি অনেক আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকার কারণে দলটি আগের তুলনায় এবার অনেক বেশি আসন পেয়েছে। একই সঙ্গে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের না থাকাটাও কোনো কোনো জায়গায় জামায়াতকে সুবিধা দিয়েছে বলে মনে করেন অনেকে। তবে জামায়াত নেতাদের দিক থেকে এ বিষয়ে কোনো মূল্যায়ন বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একজন নেতা বলেছেন, দলীয় বৈঠকে এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হবে। এবার নির্বাচনের প্রচার শুরুর আগে থেকেই জামায়াত নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ক্ষমতায় যাওয়ার আলোচনা সামনে নিয়ে আসেন এবং সেটিই পুরো নির্বাচনী প্রচারে দল ও জোটের মুখ থেকে উঠে এসেছে। মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে সবসময়ই সমালোচনার শিকার হওয়া জামায়াতে ইসলামী এর আগে বিএনপির সঙ্গে মিলে ক্ষমতার অংশীদার হলেও এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা দলটির নেতাদের মুখে এভাবে আগে কখনোই শোনা যায়নি। কিন্তু ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দৃশ্যপট পাল্টে যায় এবং পুরনো মিত্র বিএনপির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান তৈরির চেষ্টা করে দলটি। শেষ পর্যন্ত অনলাইন ও অফলাইনে দলটির নেতা, কর্মী ও সমর্থকরা এমন প্রচার শুরু করে যে, দলটি ক্ষমতায়ও আসতে পারে। এক পর্যায়ে চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকা তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপিসহ ১০টি দল নিয়ে জোট গঠন করে দলটি। পরে নির্বাচনী প্রচারের সময় জনসভায় কয়েকজনকে মন্ত্রী করা হবে বলেও পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। নির্বাচনের দিন ভোট দেওয়ার পর তিনি সরকার গঠন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন। দল ক্ষমতায় গেলে কী কী করবেন- গত ২০শে জুন তাও তুলে ধরেছিলেন শফিকুর রহমান। বিশেষ করে ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে 'জামায়াত ক্ষমতায় যাচ্ছে' এমন একটি প্রচার গড়ে তোলা হয় নির্বাচনের আগে থেকেই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্ষমতায় যাওয়ার বিষয়টি বাস্তবে পরিণত হয়নি। তবে এবারের ভোটে দলটি ৬৮টি আসনে জয় পেয়ে নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে ভালো ফল করেছে। এর আগে ১৯৯১ সালের নির্বাচনেই এককভাবে অংশ নিয়ে ১৮টি আসন পেয়েছিল জামায়াত। জামায়াতের রাজনীতির একজন পর্যবেক্ষক ও দৈনিক নয়াদিগন্তের সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলছেন, জামায়াতের নেতৃত্ব, সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাই এতো আসনে জয়ের ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন তিনি। "এর কৃতিত্ব হলো জামায়াত আমিরের। তিনি জামায়াতকে নবজন্ম দিয়েছেন এবং সব ধর্ম ও পেশার মানুষদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দলে পরিণত করেছেন। দীর্ঘদিন বৈরি পরিবেশে থেকেও দলটি নির্বাচনে ভালো করার মূল ভিত্তি হলো তাদের সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক," বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তিনি। মি. বাবর বলেন, এবারই ঢাকায় প্রথম আসন জেতা এবং ঢাকার এলিট এলাকা বলে পরিচিত জায়গাগুলোতে জামায়াতের শক্ত অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে এই নির্বাচনে। প্রসঙ্গত, গুলশান-বনানীকে অনেকে এলিট বা অভিজাত এলাকা বলে থাকেন। এই এলাকায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসনে পাঁচ হাজারেরও কম ভোটের ব্যবধানে জামায়াতের প্রার্থীকে পরাজিত করতে পেরেছেন। জামায়াত ৩০টি আসনের ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছে। দলটির দাবি, ভোট পুনর্গণনা হলে ঢাকা-১৭সহ অনেক আসনের ফল পাল্টে যাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন, জামায়াতের সাংগঠনিক কাজ ও এর মাধ্যমে আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকেও তরুণদের মধ্যে ভালো অবস্থান তৈরি করতে পারার বিষয় নির্বাচনে আসন বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। "আওয়ামী লীগ নেই। ফলে তাদের সমর্থকরা হয়তো কোথাও কোথাও বিকল্প হিসেবে জামায়াতকে ভোট দিয়েছে। তবে জামায়াত সারাদেশেই সংগঠনকে সক্রিয় করতে পেরেছে। তরুণদের মধ্যে তাদের অবস্থানও নির্বাচনে ভালো ফল করতে সহায়তা করেছে,"  বলেছেন তিনি। নিষিদ্ধ থেকে সংসদে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার নিষিদ্ধ করা হলে জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক অস্তিত্ব দৃশ্যত স্বাধীন বাংলাদেশে বিলীন হয়ে যায়। ১৯৭২ সালের সংবিধানে তখন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। এ অবস্থায় দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের অনেকে তখনকার ক্রিয়াশীল কিছু রাজনৈতিক দলে ভিড়ে যান। দলটির বর্তমান সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, চাঁপাইনবাবগঞ্জের লতিফুর রহমানসহ অনেকেই তখন জাসদ ছাত্রলীগ কিংবা জাসদের রাজনীতিতে মিশে যান। দলটির ওয়েবসাইটে বলা আছে যে, এখনকার আমির শফিকুর রহমান নিজেও জাসদ ছাত্রলীগে সক্রিয় ছিলেন। তবে ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর জামায়াতের জন্য পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ১৯৭৬ সালের তেসরা মে তখনকার রাষ্ট্রপতি এ. এস. এম সায়েম একটি অধ্যাদেশ জারি করেন, যার মাধ্যমে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু তারপরেও মুক্তিযুদ্ধকালীন যুদ্ধাপরাধ ও স্বাধীনতার বিরোধিতার ইস্যুতে জনমনে তীব্র ক্ষোভের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দলটির গোপনে সক্রিয় থাকা নেতারা তখনো জামায়াত নামে দলের কার্যক্রম না শুরু করে ভিন্ন নামে দল গঠন করে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কৌশল নেন। এর ধারাবাহিকতা ১৯৭৬ সালেই আরও কয়েকটি ধর্মভিত্তিক দল মিলে ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ (আই.ডি.এল) নামের একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে জামায়াতে ইসলামী তৎপরতা শুরু করে। দৃশ্যত এই নির্বাচনের মাধ্যমেই জামায়াতে ইসলামীর নেতারা ভিন্ন পরিচয়ে হলেও স্বাধীন বাংলাদেশের সংসদে প্রথমবারের মতো আসতে সক্ষম হন। জামায়াতে ইসলামীর ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনে আইডিএল- এর ব্যানারে জামায়াতে ইসলামীর ছয় জন এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।   গোপন থেকে স্বনামে প্রকাশ্যে আইডিএল এর ব্যানারে জামায়াত নেতাদের সংসদে যাওয়ার পর ১৯৭৯ সালের মে মাসে জামায়াতে ইসলামীর নামেই একটি কনভেনশন আহ্বান করা হয় দলটির তখনকার একজন নেতা আব্বাস আলী খানের নেতৃত্বে। সেই কনভেনশনেই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রধান ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত গোলাম আযমের একটি ভাষণ পড়ে শোনানো হয়। এই কনভেনশনে একটি নতুন গঠনতন্ত্র অনুমোদন করা হয় এবং তার ভিত্তিতে ১৯৭৯ সালের ২৭শে মে চার দফা কর্মসূচী নিয়ে জামায়াতে ইসলামী স্বাধীন বাংলাদেশে তাদের প্রকাশ্য কর্মতৎপরতা শুরু করে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর আমির ছিলেন গোলাম আযম। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ দিকে ২২শে নভেম্বর ঢাকা ছেড়ে পাকিস্তান চলে যান তিনি। পরে ১৯৭৮ সালে পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে অসুস্থ মাকে দেখার কথা বলে ঢাকায় এসে তিনি আর ফিরে যাননি। তবে গোলাম আযম স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৮১ সালে প্রথম জনসমক্ষে আসেন। যদিও এর আগে ১৯৭৯ সালে জামায়াত সক্রিয় হওয়ার পর থেকে তার নির্দেশনাতেই দলটি পরিচালিত হয়েছে বলে দলটির নেতারা পরবর্তীতে প্রকাশ করেছিলেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত এক নেতা একেএম নাজির আহমেদের বই 'রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী' তে বলা হয়েছে, "১৯৭৮ সনে দেশে ফেরার পর থেকে অধ্যাপক গোলাম আযম বারবার আমিরে জামায়াত নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন। তার নাগরিকত্ব ছিল না বিধায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ভূমিকা পালন করতেন ভারপ্রাপ্ত আমির জনাব আব্বাস আলী খান"। এর মধ্যে ১৯৮১ সালের মে মাসে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষমতায় আসেন আরেক সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। একপর্যায়ে রাজনৈতিক দলগুলো এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করলে তাতে সামিল হয় জামায়াতে ইসলামীও। আন্দোলন সামাল দেওয়ার জন্য এরশাদ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে যখন আলোচনায় বসেন, তখন জামায়াতে ইসলামীকেও ডাকা হয়েছিল। এরশাদ সরকারের অধীনে প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৬ সালে। জামায়াতের ওয়েবসাইটে থাকা তথ্য অনুযায়ী, দলটি সেই নির্বাচনে দলটির ১০ জন এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে জামায়াত অংশ নেয়নি। সরকার গঠনে ভূমিকা জেনারেল এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে যে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেখানে জামায়াতে ইসলামী ১৮টি আসনে জয়লাভ করে। ওই নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও সরকার গঠনের জন্য অন্য দলের সমর্থন প্রয়োজন ছিল। তখন জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি এবং মূলত এর মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে দলটি। তখন বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে যে অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা হয় তাতে গোলাম আযমের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি ছিল বলে পরে জানা যায়। কিন্তু এর মধ্যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে তীব্র গণআন্দোলন তৈরি হলে ৯২ সালের মার্চ মাসে গোলাম আযমকে গ্রেফতার করে 'বিদেশি নাগরিক হয়ে দেশের একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল'। তখন নাগরিকত্বের প্রশ্নে হাইকোর্টে জামায়াত রিট মামলা করে এর পক্ষে রায় পেয়েছিল। কিন্তু তখন সরকার হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে গিয়েছিল। এরপর সুপ্রিমকোর্টে আপিল বিভাগ থেকে নাগরিকত্ব ফিরে পেয়ে ১৬ মাস জেল খাটার পর মুক্তি পেয়েছিলেন গোলাম আযম। কিন্তু এর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আওয়ামী লীগসহ বিরোধী দল আন্দোলন গড়ে তুললে তাতেও আলাদা থেকেই সামিল হয় জামায়াত। তখন বিএনপি সরকারের সময়ে ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচন বর্জন করেছিল আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীসহ আন্দোলনরত দলগুলো। এক পর্যায়ে সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাশ করে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন তখনকার খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ১৯৯৬ সালের জুনে হওয়া নির্বাচনে জামায়াত মাত্র তিনটি আসনে জয় পেতে সক্ষম হয়। পরে আবার বিএনপির সাথে মিলে আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী আন্দোলনেও সামিল ছিল জামায়াতে ইসলামী এবং এক পর্যায়ে বিএনপির জোটে জামায়াত সরাসরি যোগ দেয়। তাদের চারদলীয় জোট ২০০১ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল জয় পেলে প্রথমবারের মতো ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার সুযোগ পায় জামায়াত। দলটির তখনকার দুই শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ খালেদা জিয়ার নেতৃ্ত্বাধীন সরকারে মন্ত্রীত্ব পান। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল তাদের মধ্যেই ওই দুজনও ছিলেন। সংকট ও বিপাকে পড়ে নাম বদল বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের শেষ দিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন- সেই ইস্যুতে রাজনৈতিক সংকট সহিংসতায় রূপ নিলে ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ওই সরকারের অধীনে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে হওয়া নির্বাচনে জামায়াত মাত্র দুটি আসনে জয় পায়। ওই বছর নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন পাওয়ার জন্য 'জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ' নাম পরিবর্তন করে 'বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী' করা হয়। ওই নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে কোণঠাসা হয়ে পড়ে জামায়াতে ইসলামী। অনেকেই মনে করেন, বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য কিংবা নানা প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে এলেও ১৯৭৯ সালে সক্রিয় হওয়ার ৪০ বছর পর এসে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে চরম কোণঠাসা হয়ে পড়ে দলটি এবং শেষ পর্যন্ত ২০১৩ সালে নিবন্ধন হারিয়ে সক্রিয় রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়ে। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে একাত্তরের মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় দলের নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হয়। এর আগে থেকেই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের সময় দলটির গুরুত্বপূর্ণ অনেক নেতা আটক হলে বেশ চাপের মুখে পড়ে দলটি। ওই বছরেই সংবিধানের সঙ্গে গঠনতন্ত্র সাংঘর্ষিক হওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্ট। পরে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে দলটি। এরপর তিনটি নির্বাচনে জামায়াত আর অংশ নেয়নি। ২০১৮ সালের বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে অংশ নিলেও জামায়াত নেতারা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাজা খাটা অবস্থায় ২০১৪ সালের অক্টোবরে মারা যান গোলাম আজম। একই ধরনের মামলায় ২০১৫ সালে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের এবং ২০১৬ সালে আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকর হলে চরম বিপাকে পড়ে দলটি। ২০২৩ সালের নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ জামায়াতে ইসলামীকে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নিবন্ধন অবৈধ বলে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে দলটির আপিল আবেদন খারিজ করে দেয়। এর ফলে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ই বহাল থাকে। পরে ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর আদালতের নির্দেশে আবার দলটি নিবন্ধন ফিরে পায়। চারবার নিষিদ্ধ হওয়ার ইতিহাস আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে ২০২৪ সালের ৩১শে জুলাই জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এ নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে দলটি দ্বিতীয়বারের মতো নিষিদ্ধ হয়। এর আগে ১৯৭১ সালে যুদ্ধের পর ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করেছিল সরকার। এর আগে দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর যাত্রা শুরু হয়েছিলো মূলত ব্রিটিশ আমলে। সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদুদী ১৯৪১ সালের ২৬শে অগাস্ট লাহোরের ইসলামিয়া পার্কে জামায়াতে ইসলামী হিন্দ নামে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। তবে পরের বছরেই এর সদর দপ্তর লাহোর থেকে নেওয়া হয় ভারতের পাঠানকোটে। ধর্মের কথা বলা হলেও অনেকেই মনে করেন মূলত ভারতের কমিউনিজম বিরোধী শক্তি হিসেবেই এ সংগঠনটির জন্ম হয়েছিল এবং তখনকার ব্রিটিশ শাসকদের আনুকূল্যও তারা পেয়েছিলো। ১৯৪৫ সালে এর প্রথম কনভেনশন হয় অবিভক্ত ভারতে এবং এর দু'বছর পর দেশভাগের আগ পর্যন্ত এই সংগঠনটি পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলো। ইসলামি সংবিধানের দাবিতে ১৯৪৮ সালে প্রচারণা শুরু করলে পাকিস্তান সরকার জননিরাপত্তা আইনে সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদুদীকে গ্রেফতার করে। তবে ওই বছর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানেও জামায়াতের কার্যক্রম শুরু হয়। দু'বছর পর মি. মওদুদী জেল থেকে ছাড়া পান। রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে ১৯৫৮ সালে অন্য সব দলের সাথে জামায়াতের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করেন তখনকার সেনা শাসক আইয়ুব খান। ১৯৬৪ সালের জানুয়ারিতে জামায়াতকে আবার নিষিদ্ধ করা হয়। মওদুদী ও গোলাম আজমসহ অনেককে আটক করা হয়। সে বছরের শেষ দিকে দলটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ১৫১টি আসনে প্রার্থী দিয়ে চারটি আসন পায় দলটি। এরপর ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে অখণ্ড পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেয় দলটি। তখন পাকিস্তানি শাসকদের সহযোগিতায় শান্তি কমিটি গঠন করা হয়। এই দলটির নেতৃত্বেই রাজাকার, আলবদর ও আল শামস বাহিনী হয়েছিলো যারা ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডসহ যুদ্ধকালীন গণহত্যায় সহযোগিতার জন্য তীব্রভাবে সমালোচিত।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
১০ নতুন মুখ সংসদে
বরিশালে ২১ আসনের মধ্যে ১৮টিতে বিএনপি জোটের জয়, ১০ নতুন মুখ সংসদে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল বিভাগে নিরঙ্কুশ সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ও তাদের জোট সমর্থিত প্রার্থীরা। বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৮টিতে বিএনপি ও তাদের শরিকরা বিজয়ী হয়েছেন। বাকি দুটিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং একটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী। বরিশালের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম ফলাফলের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে বিভাগের প্রতিটি আসনে গণভোটে ‘হ্যা’ ভোট বিজয়ী হয়েছে বলে জানা গেছে। ১০ নতুন মুখ সংসদে বিভাগের সব আসন মিলিয়ে প্রথমবারের মতো ১০ জন প্রার্থী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন, যা এবারের নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক। ভোলা জেলা: চার আসনেই বিএনপি জোটের প্রাধান্য ভোলা জেলার চারটি আসনের মধ্যে: ভোলা-১: গরুর গাড়ি প্রতীকের আন্দালিব রহমান পার্থ (বিজেপি) দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত। ভোলা-2: ধানের শীষের হাফিজ ইব্রাহিম দ্বিতীয়বারের মতো জয়ী। ভোলা-৩: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সপ্তমবারের মতো নির্বাচিত। ভোলা-৪: ধানের শীষের মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত। বরিশাল জেলা: পাঁচ আসনের চিত্র বরিশাল জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফলাফল: বরিশাল-১: এম জহির উদ্দিন স্বপন তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত। বরিশাল-২: সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু প্রথমবারের মতো জয়ী। বরিশাল-৩: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন প্রথমবারের মতো নির্বাচিত। বরিশাল-৪: মো. রাজিব আহসান প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য। বরিশাল-৫: অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার পঞ্চমবারের মতো জয়ী। বরিশাল-৬: আবুল হোসেন খান দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত। পটুয়াখালী: চার আসনে ভিন্নধর্মী ফলাফল পটুয়াখালী জেলার চারটি আসনের ফলাফল: পটুয়াখালী-১: আলতাফ হোসেন চৌধুরী তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত। পটুয়াখালী-২: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ প্রথমবারের মতো জয়ী। পটুয়াখালী-৩: ট্রাক প্রতীকের নুরুল হক নূর (গণ অধিকার পরিষদ) প্রথমবারের মতো নির্বাচিত। পটুয়াখালী-৪: এ বি এম মোশাররফ হোসেন দ্বিতীয়বারের মতো জয়ী। বরগুনা: দুই আসনে দুই দল বরগুনা-১: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের মো. অলি উল্লাহ প্রথমবারের মতো নির্বাচিত। বরগুনা-২: ধানের শীষের মো. নূরুল ইসলাম মনি চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত। ঝালকাঠি: দুই আসনেই বিএনপি ঝালকাঠি-১: রফিকুল ইসলাম জামাল প্রথমবারের মতো নির্বাচিত। ঝালকাঠি-২: ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো দ্বিতীয়বারের মতো জয়ী। পিরোজপুর: বিএনপি ও জামায়াতের ভাগাভাগি পিরোজপুর জেলার তিনটি আসনের মধ্যে: পিরোজপুর-১: জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মাসুদ সাঈদী প্রথমবারের মতো নির্বাচিত। পিরোজপুর-২: আহম্মদ সোহেল মনজুর প্রথমবারের মতো জয়ী। পিরোজপুর-৩: মো. রুহুল আমীন দুলাল প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত। সারসংক্ষেপ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল বিভাগে বিএনপি ও তাদের জোটের নিরঙ্কুশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২১টির মধ্যে ১৮টি আসনে জয়, ১০ জন নতুন মুখের অভিষেক এবং সব আসনে গণভোটে ‘হ্যা’ ভোটের বিজয়—এই তিনটি বিষয় এবারের নির্বাচনে বরিশালকে বিশেষভাবে আলোচনায় এনেছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল
নাটোর-১ আসনে ইতিহাস গড়লেন ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে প্রথম নারী ও সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল (৪১)। এবারের নির্বাচনে রাজশাহী বিভাগে একমাত্র বিজয়ী নারী প্রার্থীও তিনি। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে নাটোরের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আসমা শাহীন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়ে তিনি বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবুল কালাম আজাদ (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৪৩১ ভোট। ১৮ বছর পর বিএনপির আসন পুনরুদ্ধার দীর্ঘ ১৮ বছর পর বিএনপির হারানো এই আসনটি পুনরুদ্ধার করলেন পুতুল। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হয়। এরপর ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই আসনে বিএনপির কোনো জনপ্রতিনিধি ছিলেন না। ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বিএনপি সরকারের সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মরহুম ফজলুর রহমান পটলের কন্যা। ফজলুর রহমান পটল ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এই আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং এলাকায় শক্ত রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলেছিলেন। বিজয়ী পুতুলের প্রতিক্রিয়া বাবার মৃত্যুর পর হারানো আসন পুনরুদ্ধারের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় পুতুল বলেন, “মহান আল্লাহ তাআলার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। এই বিজয় লালপুর-বাগাতিপাড়ার সব মানুষের।” তিনি নির্বাচনি মাঠে অক্লান্ত পরিশ্রম করা দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। রাজশাহী বিভাগে একমাত্র নারী বিজয়ী প্রার্থী হিসেবে পুতুলের জয় শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ সময় পর এই আসনে বিএনপির প্রত্যাবর্তন স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ✍️ প্রতিবেদন: নিজস্ব প্রতিনিধি 📍 স্থান: নাটোর 📅 প্রকাশের তারিখ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
নির্বাসন থেকে ক্ষমতার শীর্ষে তারেক রহমান

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার হয়ে লন্ডনে প্রায় দুই দশক নির্বাসনে ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখান থেকে দেশে ফিরে মাত্র দেড় মাসের মাথায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করে প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন তিনি।এক সময় যার ওপর কঠোর দমন-পীড়ন নেমে এসেছিল, সেই নেতা এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। ২০০৮ সালে সেনাবাহিনী-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেফতার ও কারাবন্দি অবস্থায় অমানবিক নির্যাতনের পর চিকিৎসার প্রয়োজন দেখিয়ে দেশ ছাড়েন তারেক রহমান। প্রায় ১৬ বছর পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফেরেন। ফেরার দিন ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজারো নেতাকর্মীর ভিড়, ঢাকায় বিজয়ী প্রত্যাবর্তনের আবেগ- সব মিলিয়ে এক নাটকীয় দৃশ্যের অবতারণা হয়। দেশের পরিবর্তিত বাস্তবতায় সময়ের স্রোত এত দ্রুত বয়ে গেছে যে, নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতেও যেন সময় পাননি তিনি। গত শনিবার রয়টার্সকে তিনি বলেন, যেদিন থেকে দেশে নেমেছি, সময় কীভাবে কাটছে বুঝতেই পারছি না।   তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক বংশ পরম্পরার একটি প্রতীকী নাম। তার মা বেগম খালেদা জিয়া, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও দীর্ঘদিনের বিএনপিপ্রধান, যিনি গত ৩০ ডিসেম্বর দীর্ঘ অসুস্থতার পর মৃত্যুবরণ করেন। দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় মাকে হারান তারেক রহমান।   তারেক রহমানের বাবা জিয়াউর রহমান ছিলেন ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও ১৯৭৭-১৯৮১ মেয়াদের রাষ্ট্রপতি। ১৯৮১ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে তার মৃত্যু দেশকে আবারও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়। তিন বছর পর খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন করেন।   ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়ের দিকে বিএনপি   বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি পেয়েছে ২০০টির বেশি আসন, যা দলটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিজয়গুলোর একটি। ২০০১ সালে তারা পেয়েছিল ১৯৩টি আসন। এদিকে গণঅভ্যুত্থানের তরুণ নেতৃত্ব নিয়ে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ১১ দলীয় জোট থেকে নির্ধারিত ৩০টি আসনের মধ্যে তারা পেয়েছে মাত্র ছয়টি। রাস্তায় বিপুল উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও ভোটে তা রূপ দিতে পারেনি দলটি। নির্বাচনের আগেই জরিপে এমন ইঙ্গিত ছিল। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আপস করে এনসিপির জোট গঠনের বিষয়টি অনেক তরুণ সমর্থকের কাছে দলের আদর্শবিরোধী হিসেবে ধরা পড়েছে।   গণভোটেও জয়ের ইঙ্গিত   জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি সাংবিধানিক গণভোট। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, বিভিন্ন জরিপ ও স্থানীয় টিভির তথ্য অনুযায়ী- হ্যাঁ ভোট ২০ লাখের বেশি আর না ভোট ৮ লাখ ৫০ হাজারের বেশি। গণভোটের যেসব প্রস্তাব উল্লেখযোগ্য- নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদ, নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আরও দৃঢ় করা, প্রধানমন্ত্রীদের জন্য দুই মেয়াদে ১০ বছর সীমা।   বিএনপির নীরব উদযাপন: বিশেষ দোয়ার আয়োজন   নির্বাচনে বিপুল জয়ের পরও বিএনপি কোনো বিজয় মিছিল বা শোভাযাত্রা না করার নির্দেশ দিয়েছে। দলের বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে বিজয় সত্ত্বেও কোনো বিজয় মিছিল বা শোভাযাত্রা আয়োজন করা হবে না, বরং দেশের কল্যাণে জুমার নামাজ শেষে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।   সামনে কোন পথে তারেক রহমান? তারেক রহমান এখনো নিজেকে ‘রাজনৈতিক বংশধর’ হিসেবে নয়, বরং ‘গণতন্ত্র পুনর্গঠনের নেতৃত্ব’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নতির পথ কেবল গণতন্ত্র চর্চার মধ্য দিয়েই সম্ভব। পররাষ্ট্রনীতির পুনর্বিন্যাস, বিনিয়োগ বাড়ানো, দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা বৃদ্ধি ও নতুন শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা- সব মিলিয়ে তিনি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছেন। এদিকে তারেক রহমানের আকস্মিক উত্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন প্রশ্নও তুলেছে। তরুণদের নেতৃত্বে যে পরিবর্তনের ঢেউ এসেছিল, তা ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হয়নি। আবার, দুই দলের আধিপত্যের পরিচিত কাঠামোয় বিএনপির এই বিজয় অনেকের কাছে প্রত্যাবর্তন বলেই ধরা পড়ছে। আবার গণভোটের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার প্রতি জনসমর্থনও স্পষ্ট। সব মিলিয়ে ২০২৪-২০২৫ সালের এই অধ্যায় ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রকে নতুন করে আঁকতে পারে।    

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
জাতীয় সংসদ
নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিএনপির, নতুন সরকার গঠন ও ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে?

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ২০৯টির বেশি আসনে জয়লাভের মাধ্যমে দলটি এককভাবে সরকার গঠনের অবস্থানে রয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে প্রশ্ন উঠছে—নতুন সরকার গঠন কীভাবে হবে এবং বর্তমান প্রশাসন থেকে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে? গেজেট প্রকাশ না হলে ফল চূড়ান্ত নয় নির্বাচন কমিশনের বেসরকারি ফলাফল আনুষ্ঠানিক নয়। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হওয়ার পরই তা চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। গেজেট প্রকাশের পর থেকেই শপথ গ্রহণের সময়সীমা গণনা শুরু হয়। সংসদ সদস্যদের শপথ: কে পড়াবেন? সংবিধানের ১৪৫ ও ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ করতে হয়। সাধারণত জাতীয় সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ পাঠ করান। তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতির কারণে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সংবিধান অনুযায়ী: রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠের জন্য কাউকে মনোনীত করতে পারেন যদি তিন দিনের মধ্যে তা সম্ভব না হয়, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে শপথ পড়াবেন আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের স্বার্থে রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমেই শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সরকার গঠনের আমন্ত্রণ দেবেন রাষ্ট্রপতি শপথ গ্রহণ শেষে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সেই দল বা জোটের নেতাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন, যিনি সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থাভাজন। সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী: যে সংসদ সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হইবেন, রাষ্ট্রপতি তাঁহাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করিবেন। অর্থাৎ, সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা প্রথমে সংসদ নেতা হিসেবে মনোনীত হবেন এবং রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন। শপথের সঙ্গে সঙ্গেই কার্যভার গ্রহণ সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কার্যভার গ্রহণ করেছেন বলে গণ্য হবেন। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আগের সরকারের দায়িত্ব শেষ হবে এবং নতুন সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হবে। কত দ্রুত সম্পন্ন হতে পারে পুরো প্রক্রিয়া? বিশ্লেষকদের মতে: গেজেট প্রকাশে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে গেজেটের পর তিন দিনের মধ্যে শপথ প্রয়োজনে আরও তিন দিন সময় সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে নির্বাচনের প্রায় ৫ থেকে ৬ দিনের মধ্যেই নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। রাজনৈতিক গুরুত্ব সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর নতুন সরকারের সামনে থাকবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক সমঝোতা এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক ক্ষমতা হস্তান্তর একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
গিয়াস উদ্দিন তাহেরী
গিয়াস উদ্দিন তাহেরী পেলেন ৮৪ হাজার ৩২৩ ভোট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনে আলোচিত ইসলামিক বক্তা মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী পরাজিত হয়েছেন। ইসলামি ঐক্য ফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে তিনি নির্বাচনে অংশ নিলেও শেষ পর্যন্ত  লাখো ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। এ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, শিল্পপতি এসএম ফয়সল। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আলোচিত প্রার্থী মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী মোমবাতি প্রতীকে পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৩২৩ ভোট।  ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী ও খেলাফত মজলিসের মহাসচিব হেভিওয়েট প্রার্থী ড. আহমদ আব্দুল কাদের দেয়াল ঘড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ৪৪৬ ভোট।  নির্বাচনে ওনার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছেন। অন্যদিকে তাহেরীকে নিয়ে প্রচার ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। হবিগঞ্জ-৪ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ৫২ হাজার ৭১১ জন।  ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ১০ হাজার ৯৭টি, যা মোট ভোটারের ৫৬ দশমিক ১০ শতাংশ।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
জাতীয় পার্টি
জাতীয় পার্টির ভরাডুবি:জয় মেলেনি এক আসনেও

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে একটি আসনেও জয় পায়নি জাতীয় পার্টি। তাদের দুর্গখ্যাত রংপুরে এবার একটি আসনও পায়নি দলটি। দলের ভরাডুবির পাশাপাশি শীর্ষ দুই নেতা জিএম কাদের ও শামীম হায়দার পাটোয়ারী ভোটের লড়াইয়ে থাকতেই পারেননি। দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের রংপুর-৩ (সিটি কর্পোরেশনে ও সদর) আসনে তৃতীয় হয়েছেন। তার মত মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী গাইবান্ধা- ১ আসনে তৃতীয় হয়েছেন। জাতীয় পার্টির ভরাডুবির বিপরীতে রংপুরে জয়জয়াকার হয়েছে জামায়াতের। ভোটে দলটির জোট সঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আকতার হোসেন জয়ী হয়েছেন জেলার অপর আসনে। বিএনপির প্রার্থীরা অল্প ভোটের ব্যবধানে ছয় আসনেই দ্বিতীয় হয়েছেন। রংপুর-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর রায়হান সিরাজী এক লাখ ৭৪ হাজার ২৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোকারম হোসেন সুজন ধানের শীষে ৬৯ হজার ১৩১ ভোট পেয়েছেন। রংপুর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর এটিএম আজাহারুল ইসলাম ধানের শীষে এক লাখ ৩৫ হাজার ৫৫৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার ধানের শীষে ৮০ হাজার ৫৩৮ ভোট পেয়েছেন। রংপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাহবুবার রহমান বেলাল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এক লাখ ৭৫ হাজার ৮২৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি শামসুজ্জামান সামু ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে জিএম কাদের তৃতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে হেরে গেছেন। তিনি পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৩৮৫। ২০২৪ সালে তিনি এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদে বিরোধী দলের নেতা হন। রংপুর-৪ আসনে এনসিপির আকতার হোসেন শাপলা কলি প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন এক লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট। রংপুর-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর গোলাম রব্বানী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪১১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির গোলাম রব্বানী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ১১৬ ভোট। রংপুর-৬ আসনে জামায়াতের নুরুল আমীন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট। অপরদিকে গাইবান্ধা-১ আসনে জামায়াতের মো. মাজেদুর রহমান ১ লাখ ৪০ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৯৯৭। এখানে জাতীয় পার্টির মহাসচিব পাটোয়ারী পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৭৬ ভোট।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
Mothers, daughters, and grandmothers voted
ভোট দিলেন মা-মেয়ে-দাদি

ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনের মহাকালি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে এক একে ভোট দিলেন একই পরিবারের তিন নারী।  বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় ইসরাত জাহান সিঁথি তার মা মাহফুজা আক্তার ও আশির্ধ্বো দাদি হোসনে আরা বেগমকে নিয়ে প্রথমবার ভোট দেন। দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পেরে দারুণ খুশি তারা।  ময়মনসিংহ নগরীর দূর্গাবাড়ি বাইলেনের বাসিন্দা ইসরাত জাহান সিঁথি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি বিভাগের মার্স্টাসের শিক্ষার্থী। গত ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি রাজশাহী থেকে শুধুমাত্র ভোট দিতে ছুটে আসেন নিজ বাড়িতে। প্রথমবার ভোট দিতে পারায় আনন্দে উদ্বেলিত ইসরাত সাংবাদিকদের বলেন, ‘এবারই প্রথম ভোট দিলাম। বেশ আমেজ এবং উৎসব উৎসব ভাব। ভালো লাগছে। কে জিতবে কে হারবে, জানিনা। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে এটুকুই জানি। তবে ভোট দিতে পেরে অনেক ভালো লেগেছে।’ তিনি বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের আরও ভোটার চাচাতো ভাই-বোনকে নিয়ে এসেছি। মা ও দাদিও এসেছেন একসঙ্গেই।’তিনি বলেন, ‘আগের নির্বাচনে ভোটার হয়েছি কিন্তু গোলযোগের আশঙ্কা আর তৎকালীন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভোট দেওয়া হয়নি।’ এদিকে আশির্ধ্বো হোসনে আরা বেগম নাতী ও মেয়ের কাঁধে ভর দিয়ে ভোট কক্ষে প্রবেশ করে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে হাসি মুখে ফিরছিলেন। সাংবাকিদের ভাঙ্গা স্বরে জানান, অনেক দিন ভোট দেইনা, তাই এবার ভোট দিতে পেরে আমি অনেক খুশি। ইসরাতের মা মাহফুজা আক্তার শ্বাশুড়ি ও মেয়েকে নিয়ে ভোট দিতে পেরে দারুণ খুশি। তিনি বলেন, ‘এমন সৌভাগ্য ক'জনের হয়। এবার একসঙ্গে ভোট দিতে পেরে অনুভূতিটাই অন্য রকম।’ ভোটের পরিবেশ খুব ভালো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
ভোট উৎসব
শেষ হলো ভোট উৎসব

শেষ হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ঐতিহাসিক মহোৎসব। আজ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে চলে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রসহ সারা দেশের নির্বাচনি এলাকাগুলোতে তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে যারা ভোটকেন্দ্রের লাইনে দাঁড়াবেন, তারা নির্ধারিত সময়ের পরও ভোট দিতে পারবেন; তবে এরপর আর নতুন কাউকে লাইনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ চলাকালে রাজধানীর এক কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী বিকাল ৪টায় ভোটগ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ওই সময়ের মধ্যে যারা ভোট দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকবেন, তাদের সবার ভোট নেওয়া হবে। তবে বিকাল ৪টার পর নতুন করে কেউ আর লাইনে দাঁড়াতে পারবেন না। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, লাইনে থাকা অবস্থায় ৪টা বেজে গেলেও ভোটারদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই, কর্তৃপক্ষ সবার ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করবে। এদিকে রাজধানীর গুলশান-বনানী ও ধানমণ্ডি এলাকার বেশ কয়েকটি কেন্দ্র সরেজমিন পর্যবেক্ষণে নারী ভোটারদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়, যেখানে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও ভোটারদের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, বেলা ১১টার মধ্যেই অনেক কেন্দ্রে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ভোট কাস্টিং সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে বনানীর ৫১ নম্বর কেন্দ্রে দুপুর সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৫১০টি ভোটের বিপরীতে ৭৯৫টি ভোট পড়েছে, যা মোট ভোটের ২২ শতাংশ। নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার দেশের ২৯৯ সংসদীয় আসনে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত থাকলেও বাকি আসনে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। মোট ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন ২৭৫ জন। দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি সর্বোচ্চ ২৯১ জন, ইসলামী আন্দোলন ২৫৮ জন, জামায়াতে ইসলামী ২২৯ জন এবং জাতীয় পার্টি ১৯৮ জন প্রার্থী দিয়েছে।  এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির ৩২ প্রার্থী ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন ভোটারের এ বিশাল কর্মযজ্ঞে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন। নির্বাচনী নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার মিলিয়ে প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ৫৬ হাজার পর্যবেক্ষক নিয়োজিত রয়েছেন।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
বিবিসির সাংবাদিক
নির্বাচন একেবারেই ভিন্ন : বিবিসির সাংবাদিক

বিবিসি নিউজের দক্ষিণ এশিয়া ও আফগানিস্তান প্রতিনিধি যোগিতা লিমায়ে বলেছেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় যখন শেখ হাসিনা ক্ষমতায় ছিলেন, তখন আমি বাংলাদেশে ছিলাম। তখনকার পরিবেশ এখনকার চেয়ে একেবারেই ভিন্ন ছিল।’ ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই সাংবাদিক বলেন, ২০১৮ সালে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য এলাকায় ঘুরে বেড়ানোর সময় আমি দেখেছিলাম—পোলিং এজেন্ট, প্রচারসামগ্রী আর পোস্টার প্রায় সবই এক দলের, আর সেসব ছিল শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের। তিনি বলেন, ‘সেসময় এক ধরনের নিয়ন্ত্রিত ও ভীতিকর পরিবেশ ছিল। মানুষের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা খোলামেলা কথা বলতে ভয় পেতেন। তবে এবার যেন বাতাসটাই অন্যরকম। আমরা যেসব ভোটারের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের অনেকের মধ্যেই স্পষ্ট উত্তেজনা ও আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পোস্টার চোখে পড়ছে। এই সাংবাদিক বলেন, এই নির্বাচনে অবশ্য আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করায় ভোটটি অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার প্রশ্নে একটি ছায়া ফেলেছে। তবে ঢাকার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে আমরা প্রথম ঘণ্টার মধ্যেই বহু মানুষকে ভোট দিতে দেখেছি। যেসব ভোটারের সঙ্গে কথা হয়েছে, তাদের কেউ কেউ আশা প্রকাশ করেছেন—আজকের নির্বাচনের পর দেশে সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।  

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য গুজব হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা তথ্য ও খবর সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করে দেখলে পরে গুজব হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, আনোয়ারার একটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা চুরির ঘটনাকে বড় কোনো ইস্যু হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ঘটনার পরপরই সেখানে নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কর্ণফুলী উপজেলার কর্ণফুলীর আবদুল জলিল চৌধুরী কলেজ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। পুরো চট্টগ্রামকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর সুযোগ নেই এবং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। কোথাও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে জনগণই তা প্রতিহত করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ডিসি জাহিদুল ইসলাম আরও বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়াই সবার লক্ষ্য। কোনো প্রার্থীর অভিযোগ আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কয়েকজন প্রার্থী দীর্ঘ লাইনের বিষয়ে মুঠোফোনে অভিযোগ করেছেন; দ্রুত ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নারী ভোটারদের উৎসবমুখর অংশগ্রহণের কথাও উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, বিশ্বকে আমরা দেখাতে চেয়েছি বাংলাদেশেও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
হিজড়া ভোটার
ভোট দিয়ে হিজড়া ভোটাররা বললেন, ‘আমরা পিছিয়ে পড়া নই’

রাজশাহী নগরের শিরোইল কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ছিল ভোটারদের ভিড়। ভিড়ের মধ্যে আলাদা করে চোখে পড়ছিল হিজড়া জনগোষ্ঠীর কয়েকজন ভোটারকে। কারও পরনে শাড়ি, কেউ–বা সালোয়ার-কামিজ। মুখে হালকা সাজ। চোখেমুখে উত্তেজনা। কিন্তু আনন্দের এই দিনে বাধাও ছিল। কেউ খুব সহজে ভোট দিলেন, কাউকে পোহাতে হলো নানা বাধা। তবু তাঁরা ভোট দিলেন। রাজশাহীর ‘দিনের আলো হিজড়া সংঘের’ কোষাধ্যক্ষ মিস জুলি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভোট দেন। ভোটকেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি হিজড়াদের কষ্ট ও বঞ্চিত হওয়ার কথা জানালেন। তিনি বলেন, ‘আমরা হিজড়া জনগোষ্ঠীর মানুষ। আজকে ভোট দিতে এসে ভালো লাগছে। জয়-পরাজয় থাকবেই। কিন্তু যেই জিতুক, সে যেন মানুষের জন্য কাজ করে—এটাই চাই।’ কথা বলতে বলতে তাঁর কণ্ঠে জমে ওঠে দীর্ঘদিনের আক্ষেপ। জুলি বলেন, ‘আমাদের পিছিয়ে পড়া বলা হয়। কিন্তু আমরা পিছিয়ে পড়া নই, আমাদের পিছিয়ে রাখা হয়েছে। সমাজের উচ্চবিত্তরা আমাদের সুযোগ দেয়নি। আমরা দেশ ও জাতির সম্পদ হিসেবে কাজ করতে চাই। আমাদেরও কাজে লাগাতে হবে। কাউকে পিছিয়ে রেখে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়।’ তবে ভোট দিতে এসে জুলিকে দাঁড়াতে হয়েছে পুরুষদের লাইনে। কারণ, জাতীয় পরিচয়পত্রে তিনি ‘পুরুষ’ হিসেবে নিবন্ধিত। তিনি বলেন, ‘আমি নারীসুলভ পোশাকে ও আচরণে। এখন ছেলেদের লাইনে দাঁড়ানো আমার জন্য খুবই অস্বস্তিকর। তাই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করি—কখন লাইন ফাঁকা হবে, তখন গিয়ে ভোট দিই।’ তাঁর দাবি, হিজড়া হিসেবে স্বীকৃত ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। কেন্দ্রে এসে একই অভিজ্ঞতার কথা জানান হিজড়া জনগোষ্ঠীর আরেক সদস্য মিঠু। তিনিও ভোট দিয়েছেন পুরুষদের কেন্দ্রে। মিঠু বলেন, ‘আমাদের কোনো আলাদা সিরিয়াল নেই। দুই ঘণ্টা ঘুরে শেষে ভোট দিতে পেরেছি। ভোট না দিতে পারলে খুবই খারাপ লাগত। দেশের নাগরিক হিসেবে ভোট দিতে পেরে ভালো লাগছে।’ তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমি হিজড়া, আমি হিজড়া হিসেবেই ভোট দিতে চাই। আগে ছেলে হিসেবে ভোটার করা হয়েছিল। এখন সরকারিভাবে হিজড়াদের স্বীকৃতি আছে। তাই ভোটার তালিকায়ও সেই পরিচয় চাই।’ ভোট দিতে এসে ভোগান্তির মুখে পড়েন মিস রীতা। তিনি বলেন, ‘একবার বলছে চারতলায় যান, আবার বলছে তিনতলায়। এক বিল্ডিং থেকে আরেক বিল্ডিংয়ে পাঠানো হয়েছে। লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও ঠিকমতো তথ্য না পাওয়ায় বারবার ঘুরতে হয়েছে।’ তাঁর আক্ষেপ, ‘আমরা অস্বাভাবিক মানুষ নই। স্বাভাবিক মানুষের মতোই ভোট দিতে চাই। এই বৈষম্য আর চাই না।’ হিজড়া জনগোষ্ঠীর অভিযোগ, নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা এলাকায় ভোট চাইতে এলেও তাঁদের বাড়িতে খুব কমই ঢোকেন। জুলি বলেন, ‘পাশের বাড়িতে গিয়ে ভোট চায়। কিন্তু আমাদের দরজায় কড়া নাড়ে না। অনেকে এখনো জিজ্ঞেস করে, আপনাদের কী ভোট আছে? আমরা বলি, হ্যাঁ, আমাদেরও ভোট আছে।’ রাজশাহীর ‘দিনের আলো হিজড়া সংঘ’ থেকে পাওয়া তথ্যানুসারে, রাজশাহী মহানগর ও জেলার ৯টি উপজেলায় প্রায় এক হাজার ২০০ জন তৃতীয় লিঙ্গের সদস্য। তাঁদের মধ্যে ভোটার অন্তত এক হাজার। তবে নানা প্রতিবন্ধকতায় ভোট দেন খুব কমসংখ্যকই।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
তারেক রহমান
দেশের মানুষ ভোট দিলে যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া সম্ভব: তারেক রহমান

এয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে দৃঢ়ভাবে আশাবাদী বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) গুলশান মডেল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর তিনি আরও বলেন, গতরাতে কিছু অনাকাঙিক্ষত ঘটনা ঘটেছে। দেশের মানুষ আজকে সারাদিনে বেরিয়ে এসে যদি তাদের অধিকার প্রয়োগ করেন, ভোট দেন। ইনশাআল্লাহ যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া সম্ভব।   আরেক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, মাত্র তো ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। শেষটা না দেখে কেমন করে বলবো৷ আমি অবশ্যই ইনশাআল্লাহ আশাবাদী। আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।   তিনি বলেন, প্রয়োগ করে এসেছি ভোটের অধিকার। বিগত একযুগেরও বেশি সময় ধরে দেশের মানুষ এই দিনটির জন্য প্রত্যাশা করছিলেন। আমরা দৃঢ়ভাবে আত্মবিশ্বাসী যে, দেশের মানুষ আজকে তাদের অধিকার প্রয়োগ করবেন এবং একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সূচনা করবেন।   আরেক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, সারা বাংলাদেশের খবর আমি এখনও পায়নি। তবে গতরাতে বিভিন্ন জায়গা থেকে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত খবর আমরা পেয়েছি। যেটা কাম্য নয়। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তারা বিভিন্ন জায়গায় অত্যন্ত কঠোরভাবে সেসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দমন করেছে। যা গতকাল ভোর পর্যন্ত আমরা টেলিভিশনে দেখেছি।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বরিশালে সাংবাদিকদের ওপর ডিসির ক্ষোভ: নির্বাচনী কার্ড ইস্যুতে হয়রানির অভিযোগ

বরিশালে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর যেন পাহাড়সম ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বর্তমান জেলা প্রশাসক (ডিসি)। পারিবারিক কলহ ও স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে অতীতে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর এই চটে থাকা বলে জানা গেছে। বর্তমানে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের জন্য প্রয়োজনীয় 'নির্বাচনী কার্ড' ইস্যু করাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি। কার্ড ইস্যু নিয়ে চলছে টালবাহানা ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীদের দাবি, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরেও কার্ড দিতে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে। মূলত ডিসির ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণেই মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বরিশালের সাংবাদিক সমাজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং একে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। ব্যক্তিগত আক্রোশের প্রভাব পেশাগত কাজে উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে এই জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়। সেই থেকে সাংবাদিকদের প্রতি তার বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে। ফলস্বরূপ, এখন সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার হরণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিশেষে বলা যায়, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়। নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর সময়ে সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য সংগ্রহের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। একজন সাংবাদিক লিখেছেন, বৌ পেটানো নিউজ করার মাসুল দিচ্ছে বরিশালের সাংবাদিকরা। আরেক সাংবাদিক প্রশাসনের এই প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করে লিখেছেন, ডিসি তার ক্ষমতা দেখাইছে, এখন আমাদের বরিশালের সাংবাদিকদের উচিত সবাই এক হয়ে ক্ষমতা দেখানো। কার পাশা যাবে কার টেবিলে, খেলা যে চলছে কোন লেভেলের! ​নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের জন্য কার্ড একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথি। কিন্তু কার্ড পেতে বিলম্ব হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন তৈরির কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, ​সঠিক কারণ ছাড়াই আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। ​জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। ​স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বরিশালের সংবাদকর্মী মহলে ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এমন ‘ব্যক্তিগত রোষ’ এবং ‘ক্ষমতার দাপট’ রুখতে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো কঠোর কর্মসূচির কথা ভাবছে। নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অবিলম্বে সাংবাদিকদের কার্ড প্রদানের দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও। কে এই ডিসি খাইরুল আলম সুমন যৌতুক সংক্রান্ত মামলায় কারাবাসের অভিযোগ থাকা একজন কর্মকর্তাকে বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশাসনের ভেতর ও বাইরে বিস্ময় ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বরিশালের ডিসি  খায়রুল আলম সুমন ২৯তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা। জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব জেলার আইনশৃঙ্খলা, ম্যাজিস্ট্রেসি ও ভূমিসংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করা—যেখানে ব্যক্তিগত সুনাম ও নৈতিকতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, যাদের ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, এমন কর্মকর্তাকে ডিসি পদে বসানো ইমেজ ও আস্থার প্রশ্ন তৈরি করে। আদালত ও মামলার তথ্য সূত্র অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে ওই মামলায় খায়রুল আলম সুমন ও তার মা খোদেজা বেগমকে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারী থানার এসআই শাহ আলম আদালতে তাদের হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিন—উভয় আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি দীর্ঘ সময় কারাবাসে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের ৫ জুন বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ রাতে ঢাকার ওয়ারী এলাকায় খায়রুলের বাসায় তার মায়ের মাধ্যমে গরম খুন্তি দিয়ে ছেঁকা দেওয়া হয় এবং এ সময় খায়রুল আলম সুমন ভুক্তভোগীর হাত চেপে ধরেন। পরদিন ওয়ারী থানায় মামলা করা হয়। বিভাগীয় মামলা ও পদোন্নতি স্ত্রীর করা মামলার পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েও অভিযোগ দেওয়া হলে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এর ফলে নিয়মিত পদোন্নতি ব্যাহত হয় বলে জানা গেছে। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর উপসচিব পদে তার পদোন্নতির আদেশ জারি হলেও সেখানে ২০২৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ভূতাপেক্ষ (ব্যাকডেটেড) পদোন্নতি দেখানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নিজেকে পদোন্নতিতে বঞ্চিত দাবি করে তিনি ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত তথ্য ও ডিসির বক্তব্য খায়রুল আলম সুমনের ‘ব্যক্তিগত ডাটা শিটে’ (পিডিএস) বর্তমানে তাকে ‘অবিবাহিত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খায়রুল আলম সুমন বলেন, “এসব আমার ব্যক্তিগত তথ্য। আমার নামে বিভাগীয় মামলা  ছিল—সবই কর্তৃপক্ষ জানে এবং জেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি এসব নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।” প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মত জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলা প্রশাসক পদটি কেবল প্রশাসনিক নয়—এটি নৈতিক নেতৃত্বেরও প্রতীক। একজন ডিসির ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ থাকলে জেলার আইনশৃঙ্খলা ও ম্যাজিস্ট্রেসি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশ্ন ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাদের ভাষ্য, “ডিসির সুনামটাই সবচেয়ে জরুরি।” সূত্র জানায়, খায়রুল আলম সুমন প্রবেশনার হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাকরি শুরু করেন। সে সময়ের ডিসি মো. আবদুল মান্নানের মেয়েকে তিনি বিয়ে করেছিলেন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম ডিসি কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া নাঙ্গলকোট, নিকলি ও বাজিতপুরে এসিল্যান্ড এবং ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী ও দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বরিশালের ডিসি হিসেবে তার  নিয়োগ প্রশাসনে নৈতিকতা ও যোগ্যতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও অবস্থান প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পিআইবিতে অবসরপ্রাপ্তদের হয়রানির অভিযোগ: ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী

 রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান Press Institute of Bangladesh (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ-এর কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, পিআইবি থেকে অবসর গ্রহণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিষ্ঠানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের পাওনা সংক্রান্ত বিষয় ঝুলিয়ে রেখে মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। একাধিক সূত্র দাবি করেছে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং তারা অভিযোগ করছেন যে তাদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা নিষ্পত্তি না করে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা চলছে। এছাড়া অভিযোগ উঠেছে যে, প্রতিষ্ঠানে প্রায়  ৩৪ জনকে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নীতিমালার বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে পিআইবির কর্মচারী ফরিদ আহমেদ-এর সঙ্গে অমানবিক আচরণের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, তার সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এই অনিয়ম দুর্নীতি অবৈধ নিয়ম বিষয়ে কথা বলায়,মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে পিআইবির সিনিয়র পরীক্ষক পারভীন সুলতানা রাব্বিকে যড়যন্ত্র ও কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করে বদলি করা হয়েছে এবং আলী হোসেনের সুনিশ্চিত  কারণ ছাড়া অবসর দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করা হয়েছে বলেও জানা যায়। এভাবে অবসরপ্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তির সঙ্গেই তিনি অনুরূপ আচরণ করে থাকেন। এছাড়াও, তিনি প্রায় ৩৪ জন লোককে পিআইবিতে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন।  ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী: বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের অনিয়মের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে মহাপরিচালক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে অনিয়ম ও লুটপাটের মহোৎসবে পরিণত করেছেন—এমন অভিযোগ বিভিন্ন মহলে উত্থাপিত হয়েছে। তাই দ্রুত তাকে অপসারনের দাবী জানিয়েছে সাংবাদিক সমাজ। তিনি ডিজি পদে টিকে থাকার লক্ষ্যে তিনি নানামুখী তৎপরতা ও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বলেও জানা যাচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি রাখে।তথ্যমন্ত্রীর  দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে, বিষয়টির প্রতি যাতে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।

Top week

বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)
মিডিয়া

পিআইবিতে অবসরপ্রাপ্তদের হয়রানির অভিযোগ: ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0