Brand logo light
ইত্তেহাদ এক্সক্লুসিভ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ কি এখন ইরানের হাতে?

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ইরান
ইরান

যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন

মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রথম দিনগুলোতে বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করছিলেন, সংঘাতের গতিপথ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরাইল। সামরিক শক্তি, গোয়েন্দা সক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব—সব দিক থেকেই তারা এগিয়ে ছিল।

কিন্তু যুদ্ধের মাত্র তিন সপ্তাহ পরই পরিস্থিতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।

ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ডসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ী সম্প্রতি বলেছেন,
“যুদ্ধের শুরু তারা করতে পারে, কিন্তু এর শেষ আমাদের হাতেই।”

এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন এক বার্তা দিচ্ছে—যে যুদ্ধের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ এখন আর একতরফা নয়।


যুদ্ধের সূচনা: আকস্মিক হামলা ও দ্রুত সামরিক অভিযান

এই সংঘাতের সূচনা হয় ইসরাইলের আকস্মিক সামরিক হামলার মাধ্যমে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন বলে দাবি করা হয়, যা পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।

এরপর দ্রুতই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধবিমান ইরানের আকাশসীমায় একাধিক অভিযান চালায়।

গভীর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়—যার মধ্যে ছিল:

  • সামরিক ঘাঁটি

  • ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র

  • ড্রোন উৎপাদন কারখানা

  • রাডার ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

এই পর্যায়ে পশ্চিমা জোটের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি খুব কম ছিল। বরং কিছু ক্ষেত্রে নিজেদের ভুল হামলাই বড় ক্ষতির কারণ হয়েছে।


ইরানের পাল্টা কৌশল: ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন যুদ্ধ

ইসরাইলের হামলার জবাবে ইরান দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে।

ইরানের কৌশল ছিল মূলত তিনটি ধাপে:

১. ইসরাইলের শহরগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
২. ড্রোনের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখা
৩. আঞ্চলিক মিত্রদের মাধ্যমে চাপ বাড়ানো

তবে ইসরাইলের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ হামলাই প্রতিহত করেছে।

এ পর্যন্ত ইরানের হামলায় ইসরাইলে প্রায় ১২ জন নিহত হয়েছেন। তুলনামূলকভাবে এই সংখ্যা কম হলেও, এটি যুদ্ধের তীব্রতা বোঝানোর জন্য যথেষ্ট।


উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা: সীমিত সাফল্য

ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতেও হামলা চালিয়েছে।

তবে এসব হামলা তুলনামূলকভাবে সীমিত সাফল্য পেয়েছে।

তবুও এর বড় প্রভাব পড়েছে:

  • অবকাঠামো নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

  • বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আতঙ্ক

  • আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া

বিশ্লেষকরা বলছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনো কার্যকর থাকলেও তাদের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে।


হরমুজ প্রণালি: যুদ্ধের কৌশলগত মোড়

এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে।

এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়।

ফলে এর প্রভাব পড়েছে পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতিতে।

প্রধান প্রভাবগুলো হলো:

  • আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়া

  • জ্বালানি খরচ হঠাৎ বৃদ্ধি

  • বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইরান যুদ্ধের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণে বড় একটি পদক্ষেপ নিয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাড়ছে চাপ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।

তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানকে বড় ধরনের ছাড় দিতে বাধ্য না করা পর্যন্ত যুদ্ধ থামানো হবে না।

কিন্তু বাস্তবতা হলো—যুক্তরাষ্ট্র এখন দুই দিক থেকে চাপের মুখে:

১. দেশীয় অর্থনৈতিক চাপ
২. আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকট

বিশেষ করে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়ছে।


বিশ্লেষকদের মতভেদ

যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

জেরুজালেমের হিব্রু ইউনিভার্সিটির সামরিক ইতিহাসবিদ ড্যানি অরবাখ মনে করেন, যুদ্ধের এজেন্ডা এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলই নির্ধারণ করছে।

তার মতে,

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযন্ত্র দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। তাই তেহরান সংঘাত বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করার চেষ্টা করছে।

কিন্তু অন্য বিশ্লেষকরা ভিন্ন মত দিচ্ছেন।

কিংস কলেজ লন্ডনের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ পিটার নিউম্যান বলছেন, ইরান খারাপ অবস্থান থেকেও পরিস্থিতিকে নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করতে পেরেছে।

তার মতে,

হরমুজ প্রণালি বন্ধের মতো পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকে অনুমান করতে পারেনি।


সম্ভাব্য নতুন সামরিক পদক্ষেপ

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখন কয়েকটি সামরিক বিকল্প বিবেচনা করছে।

এর মধ্যে রয়েছে:

  • ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখল

  • তেল অবকাঠামো ধ্বংস

  • সামরিক অবরোধ জোরদার করা

তবে এসব পদক্ষেপ নিলে যুদ্ধ আরও বড় আকার নিতে পারে।


আঞ্চলিক মিত্রদের ভূমিকা

এই সংঘাতে এখনো পুরোপুরি জড়ায়নি ইরানের কয়েকটি আঞ্চলিক মিত্র।

যেমন:

  • ইরাকের শিয়া মিলিশিয়া

  • ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী

তবে লেবাননের হিজবুল্লাহ ইতোমধ্যে সরাসরি হামলা শুরু করেছে।

হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে নতুন ফ্রন্ট তৈরি হয়েছে।


লেবাননে মানবিক সংকট

ইসরাইলের পাল্টা বিমান হামলায় লেবাননে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।

এ পর্যন্ত:

  • ৮০০ জনের বেশি নিহত

  • প্রায় ৮ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত

এই পরিস্থিতি যুদ্ধকে আরও জটিল করে তুলেছে।


শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম

যুদ্ধের শুরুতে অনেকেই ধারণা করেছিলেন যে, ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

কিন্তু এখন বিশ্লেষকরা বলছেন, সেই সম্ভাবনা খুব কম।

কারণ:

  • নিরাপত্তা বাহিনীর শক্ত নিয়ন্ত্রণ

  • কঠোর দমননীতি

  • রাজনৈতিক বিরোধীদের দুর্বলতা


সামনে কী হতে পারে?

বর্তমান পরিস্থিতি থেকে কয়েকটি সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে:

১. দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক যুদ্ধ
২. সীমিত যুদ্ধবিরতি
৩. আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় সমঝোতা

তবে আপাতত কোনো পক্ষই সংঘাত থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসার লক্ষণ দেখাচ্ছে না।


 

মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন যুদ্ধ কেবল দুই দেশের সংঘাত নয়—এটি এখন একটি জটিল ভূরাজনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে।

সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এগিয়ে থাকলেও কৌশলগতভাবে ইরান কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে যুদ্ধের প্রভাব পুরো বিশ্বের অর্থনীতি ও রাজনীতিতে ছড়িয়ে পড়েছে।

ফলে প্রশ্নটি এখন আরও জোরালো হয়ে উঠছে—

যুদ্ধের সূচনা যারাই করুক, এর শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে?

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বরিশাল সিটিতে বিএনপির মেয়র মনোনয়ন ঘিরে হিসাব–নিকাশ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও  বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও  বি এম কলেজ এর  সাবেক জি এস  এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা।  নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।  

নিজেস্ব প্রতিবেদক

ইত্তেহাদ এক্সক্লুসিভ

View more
ইরান
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ কি এখন ইরানের হাতে?

যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রথম দিনগুলোতে বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করছিলেন, সংঘাতের গতিপথ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরাইল। সামরিক শক্তি, গোয়েন্দা সক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব—সব দিক থেকেই তারা এগিয়ে ছিল। কিন্তু যুদ্ধের মাত্র তিন সপ্তাহ পরই পরিস্থিতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে। ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ডসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ী সম্প্রতি বলেছেন, “যুদ্ধের শুরু তারা করতে পারে, কিন্তু এর শেষ আমাদের হাতেই।” এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন এক বার্তা দিচ্ছে—যে যুদ্ধের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ এখন আর একতরফা নয়। যুদ্ধের সূচনা: আকস্মিক হামলা ও দ্রুত সামরিক অভিযান এই সংঘাতের সূচনা হয় ইসরাইলের আকস্মিক সামরিক হামলার মাধ্যমে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন বলে দাবি করা হয়, যা পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। এরপর দ্রুতই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধবিমান ইরানের আকাশসীমায় একাধিক অভিযান চালায়। গভীর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়—যার মধ্যে ছিল: সামরিক ঘাঁটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ড্রোন উৎপাদন কারখানা রাডার ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই পর্যায়ে পশ্চিমা জোটের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি খুব কম ছিল। বরং কিছু ক্ষেত্রে নিজেদের ভুল হামলাই বড় ক্ষতির কারণ হয়েছে। ইরানের পাল্টা কৌশল: ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন যুদ্ধ ইসরাইলের হামলার জবাবে ইরান দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে। ইরানের কৌশল ছিল মূলত তিনটি ধাপে: ১. ইসরাইলের শহরগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ২. ড্রোনের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখা ৩. আঞ্চলিক মিত্রদের মাধ্যমে চাপ বাড়ানো তবে ইসরাইলের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ হামলাই প্রতিহত করেছে। এ পর্যন্ত ইরানের হামলায় ইসরাইলে প্রায় ১২ জন নিহত হয়েছেন। তুলনামূলকভাবে এই সংখ্যা কম হলেও, এটি যুদ্ধের তীব্রতা বোঝানোর জন্য যথেষ্ট। উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা: সীমিত সাফল্য ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতেও হামলা চালিয়েছে। তবে এসব হামলা তুলনামূলকভাবে সীমিত সাফল্য পেয়েছে। তবুও এর বড় প্রভাব পড়েছে: অবকাঠামো নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আতঙ্ক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বিশ্লেষকরা বলছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনো কার্যকর থাকলেও তাদের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালি: যুদ্ধের কৌশলগত মোড় এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে। এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এর প্রভাব পড়েছে পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। প্রধান প্রভাবগুলো হলো: আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়া জ্বালানি খরচ হঠাৎ বৃদ্ধি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইরান যুদ্ধের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণে বড় একটি পদক্ষেপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাড়ছে চাপ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানকে বড় ধরনের ছাড় দিতে বাধ্য না করা পর্যন্ত যুদ্ধ থামানো হবে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো—যুক্তরাষ্ট্র এখন দুই দিক থেকে চাপের মুখে: ১. দেশীয় অর্থনৈতিক চাপ ২. আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকট বিশেষ করে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়ছে। বিশ্লেষকদের মতভেদ যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। জেরুজালেমের হিব্রু ইউনিভার্সিটির সামরিক ইতিহাসবিদ ড্যানি অরবাখ মনে করেন, যুদ্ধের এজেন্ডা এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলই নির্ধারণ করছে। তার মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযন্ত্র দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। তাই তেহরান সংঘাত বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করার চেষ্টা করছে। কিন্তু অন্য বিশ্লেষকরা ভিন্ন মত দিচ্ছেন। কিংস কলেজ লন্ডনের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ পিটার নিউম্যান বলছেন, ইরান খারাপ অবস্থান থেকেও পরিস্থিতিকে নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করতে পেরেছে। তার মতে, হরমুজ প্রণালি বন্ধের মতো পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকে অনুমান করতে পারেনি। সম্ভাব্য নতুন সামরিক পদক্ষেপ বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখন কয়েকটি সামরিক বিকল্প বিবেচনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে: ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখল তেল অবকাঠামো ধ্বংস সামরিক অবরোধ জোরদার করা তবে এসব পদক্ষেপ নিলে যুদ্ধ আরও বড় আকার নিতে পারে। আঞ্চলিক মিত্রদের ভূমিকা এই সংঘাতে এখনো পুরোপুরি জড়ায়নি ইরানের কয়েকটি আঞ্চলিক মিত্র। যেমন: ইরাকের শিয়া মিলিশিয়া ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী তবে লেবাননের হিজবুল্লাহ ইতোমধ্যে সরাসরি হামলা শুরু করেছে। হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে নতুন ফ্রন্ট তৈরি হয়েছে। লেবাননে মানবিক সংকট ইসরাইলের পাল্টা বিমান হামলায় লেবাননে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। এ পর্যন্ত: ৮০০ জনের বেশি নিহত প্রায় ৮ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত এই পরিস্থিতি যুদ্ধকে আরও জটিল করে তুলেছে। শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম যুদ্ধের শুরুতে অনেকেই ধারণা করেছিলেন যে, ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। কিন্তু এখন বিশ্লেষকরা বলছেন, সেই সম্ভাবনা খুব কম। কারণ: নিরাপত্তা বাহিনীর শক্ত নিয়ন্ত্রণ কঠোর দমননীতি রাজনৈতিক বিরোধীদের দুর্বলতা সামনে কী হতে পারে? বর্তমান পরিস্থিতি থেকে কয়েকটি সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে: ১. দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক যুদ্ধ ২. সীমিত যুদ্ধবিরতি ৩. আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় সমঝোতা তবে আপাতত কোনো পক্ষই সংঘাত থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসার লক্ষণ দেখাচ্ছে না।   মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন যুদ্ধ কেবল দুই দেশের সংঘাত নয়—এটি এখন একটি জটিল ভূরাজনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে। সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এগিয়ে থাকলেও কৌশলগতভাবে ইরান কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে যুদ্ধের প্রভাব পুরো বিশ্বের অর্থনীতি ও রাজনীতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে প্রশ্নটি এখন আরও জোরালো হয়ে উঠছে— যুদ্ধের সূচনা যারাই করুক, এর শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে?

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

ইসরায়েলে ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা,প্রথমবার ব্যবহার ‘সিজ্জিল’

ইরাকে মার্কিন দূতাবাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সৌদিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান,ইরাকে মার্কিন দূতাবাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন শনাক্তে বেহাল ইসরায়েল

ইরান–হিজবুল্লাহ হামলার আতঙ্কে সাইরেনের মধ্যে দিন কাটছে ইসরায়েলিদের, খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার দাবি

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব মার্কিন ঘাঁটি সরানোর হুঁশিয়ারি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির | হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি সরিয়ে নিতে হবে—অন্যথায় এসব ঘাঁটিতে হামলা অব্যাহত থাকবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত দায়িত্ব গ্রহণের পর দেওয়া তার প্রথম বিবৃতিতে এই অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, ইরানের শত্রুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। এই বক্তব্য এমন এক সময় এল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অস্থির করে তুলছে। নতুন নেতৃত্ব, নতুন বার্তা ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের দায়িত্বে আসেন তার ছেলে মোজতবা খামেনি। ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম আনুষ্ঠানিক বার্তায় তিনি বলেন— “ইরান তার প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এই অঞ্চলের অস্থিরতার প্রধান কারণ।” তিনি দাবি করেন, ইরানের লক্ষ্য কোনো প্রতিবেশী দেশ নয়, বরং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। তার ভাষায়, “এই ঘাঁটিগুলোতে হামলা অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য থেকে তাদের উপস্থিতি সরিয়ে নেয়।” বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য ইরানের নতুন নেতৃত্বের কৌশলগত অবস্থানকে স্পষ্ট করে। যুদ্ধের ১১ দিনে নতুন কৌশল মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত ১১ দিনে ইরানের সামরিক বাহিনী তাদের কৌশলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন— ইরান সরাসরি বড় সামরিক ঘাঁটিতে হামলা না করে গুরুত্বপূর্ণ রাডার ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করছে এবং ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আঘাত করছে। পেন্টাগনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “ইরান এমন লক্ষ্যবস্তু বেছে নিচ্ছে, যেগুলোকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতা বলে মনে করছে।” এরবিলে ড্রোন হামলা সাম্প্রতিক সময়ে ইরাকের এরবিল শহরের একটি বিলাসবহুল হোটেলে ড্রোন হামলার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন— ওই হোটেলে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছিলেন ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়ারা একাধিক ড্রোন দিয়ে হামলা চালায়। এক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা বলেন, “এই হামলা প্রমাণ করে যে ইরান জানত মার্কিন সেনারা ওই হোটেলে অবস্থান করছিল।” বিশ্লেষকদের মতে, এটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট সামরিক উপস্থিতির দুর্বলতা তুলে ধরেছে। পেন্টাগনের হতাহতের হিসাব পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত— ৭ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন ১৪০ জন আহত হয়েছেন এর মধ্যে ১০৮ জন আহত সেনা আবার দায়িত্বে ফিরেছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে ইরানের দাবি— যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় প্রায় ১৩০০ জন ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থাপনায় ইরানের হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। সামরিক শক্তিতে পিছিয়ে, কৌশলে এগোতে চাইছে ইরান মার্কিন সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বুঝতে পেরেছে যে সরাসরি সামরিক শক্তির দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া তাদের পক্ষে কঠিন। তবে তারা এখন “স্ট্র্যাটেজিক সারভাইভাল” কৌশল অনুসরণ করছে। এই কৌশলের মূল ধারণা হলো— যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা ছোট ছোট হামলার মাধ্যমে চাপ বাড়ানো এবং রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকা। একজন মার্কিন সামরিক বিশ্লেষক বলেন, “যদি ইরান টানা বোমাবর্ষণের মধ্যেও সরকার টিকিয়ে রাখতে পারে, তাহলে তেহরান এটিকেই বিজয় হিসেবে তুলে ধরবে।” হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা মোজতবা খামেনির ঘোষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ। বিশ্বের প্রায়— ২০ শতাংশ তেল গ্যাস পরিবহন এই সংকীর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তাহলে— বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে জ্বালানি সরবরাহে বড় সংকট তৈরি হতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়তে পারে। ইরানের লক্ষ্য কি শুধু মার্কিন ঘাঁটি? খামেনি তার বক্তব্যে দাবি করেছেন— “ইরান তার প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে বিশ্বাস করে।” তবে তিনি একইসঙ্গে বলেন— “মার্কিন ঘাঁটিগুলোই আমাদের লক্ষ্য।” মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সামরিক উপস্থিতি রয়েছে— কাতার বাহরাইন কুয়েত ইরাক সংযুক্ত আরব আমিরাত এসব ঘাঁটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং মার্কিন সামরিক অপারেশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। খামেনি পরিবারের মৃত্যু নিয়ে বিভ্রান্তি এদিকে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পরিবারের সদস্যদের মৃত্যু নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়ে। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়— যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তার স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাগেরজাদেহ নিহত হয়েছেন। তবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এই খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়— খামেনির স্ত্রী জীবিত আছেন এবং মৃত্যুর খবর সঠিক নয়। পরিবারের অন্যান্য সদস্য নিহত? তবে স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যম দাবি করেছে— ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনের হামলায় খামেনি পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন— এক পুত্রবধূ জামাতা এক মেয়ে কয়েকজন নাতি-নাতনি তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। প্রতিশোধের অঙ্গীকার নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রথম বক্তব্যে মোজতবা খামেনি নিহত ইরানিদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বিবৃতিতে তিনি বলেন— “যারা ইরানের জনগণের রক্ত ঝরিয়েছে, তাদের জবাব দেওয়া হবে।” এই বক্তব্যকে অনেক বিশ্লেষক ইরানের ভবিষ্যৎ সামরিক অবস্থানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। মধ্যপ্রাচ্যে বড় সংঘাতের আশঙ্কা বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংঘাত যদি আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যের সীমা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হতে পারে। সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো হলো— হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়া আঞ্চলিক প্রক্সি যুদ্ধ বাড়া জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে এটি দশকের সবচেয়ে বড় মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে রূপ নিতে পারে।   মোজতবা খামেনির প্রথম বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে নতুন নেতৃত্বের অধীনে ইরান তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে আসছে না। বরং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিতে প্রস্তুত। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি, ইরানের প্রতিশোধের হুমকি এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা—এই তিনটি বিষয় এখন বৈশ্বিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। আগামী দিনগুলোতে এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেবে—তা এখন নজরে রাখছে পুরো বিশ্ব।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলার হুমকি ইরানের

ইরান যুদ্ধ: ইরানে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য থেকে পিছু হটছে ইসরায়েল, উপসাগরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা,উপসাগরীয় দেশগুলোয় ইরানি হামলার নিন্দা, নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব পাস

ইসরায়েলের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় ইরানের হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা: ইসরায়েলের জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের হামলা, হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর অভিযোগ

যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা ওয়াশিংটন নয়, তেহরানই নির্ধারণ করবে

যুক্তরাষ্ট্র -দখলদার ইসরাইল–ইরান যুদ্ধ: তেলের দাম, মূল্যস্ফীতি ও মার্কিন অর্থনীতিতে নতুন সংকট

ইরানের হামলায় দুই হাজার ইসরাইলি হাসপাতালে ভর্তি
ইরান-ইসরাইল যুদ্ধে নিহত ও আহতের সংখ্যা বাড়ছে, ইরানে নিহত ১২০০ ছাড়াল — ইসরাইলে ১৯২৯ আহত

ইরান-ইসরাইল যুদ্ধে নিহত ১২০০ ছাড়াল, ইসরাইলে আহত প্রায় ২০০০ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে: মিসাইল হামলায় সৌদিতে বাংলাদেশিসহ নিহত ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ: তেহরানে তেল ডিপোতে আগুন, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ   মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরাইল সংঘাতে প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলার পর শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলছে। ইসরাইলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে মোট ১ হাজার ৯২৯ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৩ জন ইসরাইলি নিহত হয়েছেন। রোববার (৮ মার্চ) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের হামলায় নতুন করে আরও ১৫৭ জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে ১১২ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আতঙ্কে নাগরিকরা ইসরাইলি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার সময় সাইরেন বাজলে অনেক নাগরিক দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় হুড়োহুড়ি বা পড়ে গিয়ে অনেকে আহত হয়েছেন। নাগরিকদের সতর্কতার সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইরানে নিহত ১২০০ এর বেশি অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ অন্তত ১ হাজার ২০০ জন নিহত এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেছেন, তারা এই যুদ্ধে কোনো যুদ্ধবিরতি চান না। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ইরানের ওপর আগ্রাসন চালানো হলে হামলাকারীদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, অন্য কোনো দেশ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হলে তেহরান উপযুক্ত জবাব দেবে। সৌদি আরবে মিসাইল হামলায় বাংলাদেশিসহ নিহত যুদ্ধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের আল-কারজ শহরে ইরানের ছোড়া একটি মিসাইল আবাসিক এলাকায় আঘাত হানে। এই হামলায় একজন বাংলাদেশি ও একজন ভারতীয় নিহত হয়েছেন। এছাড়া ১২ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। জানা গেছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি মেইনটেনেন্স ও ক্লিনিং কোম্পানির ভবনে আঘাত হানে। আমিরাতের দিকে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির দিকে ২৩৮টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১ হাজার ৪২২টি ড্রোন এবং ৮টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী— ২২১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে ১ হাজার ৩৪২টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে ৮টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে তেহরানে তেল ডিপোতে হামলা শনিবার রাতে ইরানের রাজধানী তেহরানে বেশ কয়েকটি তেল ডিপোতে হামলা চালায় ইসরাইল। হামলার পর ডিপোগুলোতে বড় ধরনের আগুন লাগে। এসব ডিপোর তেল সাধারণত রাজধানীর বাসিন্দারা ব্যবহার করে থাকেন। ফলে দেশটিতে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছানোর হুঁশিয়ারি ইরানের সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারি সতর্ক করে বলেছেন, ইসরাইল যদি তেল ডিপোতে হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে ইরানও এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালাতে পারে। তিনি বলেন, “আপনারা যদি এক ব্যারেল তেলের দাম ২০০ ডলার সহ্য করতে পারেন, তাহলে এই খেলা চলতে দিন।” ‘অপারেশন ওয়াদে সাদেক ৪’ ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ইসরাইলের বেয়ারশেবা ও তেল আবিব শহর এবং জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই হামলাকে “অপারেশন ওয়াদে সাদেক ৪”-এর ২৮তম ধাপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আইআরজিসি দাবি করেছে, এই হামলায় ‘খেইবার’ ধরনের ভারী ওয়ারহেডযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা ইরানের সরকারি সামরিক অবকাঠামোর ওপর নতুন করে হামলা শুরু করেছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ৯, ২০২৬ 0
মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য হারাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য হারাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরান থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাত: মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরে যুদ্ধ জোরদার,মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান

তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশে: জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি ও রেমিট্যান্সে বড় ঝুঁকি

অর্থনীতি

ফ্যামিলি কার্ড

আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ফ্যামিলি কার্ড এর গুরুত্ব

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১৩, ২০২৬ 0




অপরাধ

ঝালকাঠি পুলিশ লাইন্স

ঝালকাঠি পুলিশ লাইন্সে ২৫২ ‘ভূতুড়ে’ রেশন কার্ড, আত্মসাৎ প্রায় ৪ কোটি টাকা

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১৫, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ও অম্লতা বেড়ে চলেছে।

১৫টি ‘জলবায়ু ঝুঁকি’তে আছে বাংলাদেশ

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0