Brand logo light

ইত্তেহাদ এক্সক্লুসিভ

অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলার হুমকি ইরানের
ইরান যুদ্ধ: ইরানে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য থেকে পিছু হটছে ইসরায়েল, উপসাগরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা,উপসাগরীয় দেশগুলোয় ইরানি হামলার নিন্দা, নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব পাস

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বাধীন সরকারকে সামরিক শক্তির মাধ্যমে উৎখাত করার লক্ষ্য থেকে ধীরে ধীরে সরে আসছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ব্যাপক বোমা হামলা সত্ত্বেও ইরানের অভ্যন্তরে প্রত্যাশিত গণ-অভ্যুত্থানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পরও ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ অপরিবর্তিত রয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের আশা পূরণ হয়নি সংঘাতের শুরুতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, সামরিক চাপ ইরানের জনগণকে তাদের ভাগ্য নিজের হাতে নেওয়ার সুযোগ করে দেবে। তবে সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে তার অবস্থান অনেকটাই নরম হয়েছে। তিনি এখন বলছেন, ইসরায়েলের ভূমিকা কেবল ইরানি জনগণকে “সহায়তা করা”, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য পরিবর্তন আসলে বাস্তবতার প্রতিফলন—যেখানে সামরিক হামলার পরও ইরানে কোনো গণবিদ্রোহ দেখা যায়নি। নতুন নেতৃত্বেও টিকে আছে শাসনব্যবস্থা যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার নিহত হওয়ার পরও দেশটির রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়েনি। বরং নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনি -এর নেতৃত্বে ক্ষমতার কেন্দ্র দ্রুত পুনর্গঠিত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। যুদ্ধ দ্রুত শেষের ইঙ্গিত ট্রাম্পের মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trumpও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সংঘাত দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, ওয়াশিংটন এখনো যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। উপসাগরীয় ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হামলার “৩৮তম ধাপ” শুরু করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে— কুয়েতের আদিরি হেলিকপ্টার ঘাঁটিতে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে আহত শতাধিক মানুষকে আল জাবের ও আল মুবারাক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে কুয়েতের দুটি নৌঘাঁটি ও মার্কিন সেনাদের আবাসন লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছে বাহরাইনের মিনা সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে আইআরজিসি বলেছে, শত্রুর “পূর্ণ পরাজয়” না হওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযান চলবে। জাতিসংঘে ইরানবিরোধী প্রস্তাব এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। ১৫ সদস্যের মধ্যে ১৩টি দেশ প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেয়। তবে Russia ও China ভোটদান থেকে বিরত থাকে। প্রস্তাবে ইরানকে অবিলম্বে বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং জর্ডানের ওপর হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক জলপথ নিয়ে উদ্বেগ প্রস্তাবে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সমুদ্রপথ— Strait of Hormuz Bab el-Mandeb Strait এগুলোতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে তা বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রাশিয়া ও ইরানের আপত্তি জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত  বলেন, প্রস্তাবটি “অসম ভারসাম্যহীন”, কারণ এতে ইরানের ওপর হামলার বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়েছে। অন্যদিকে জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি প্রস্তাবটিকে “পক্ষপাতদুষ্ট” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, এতে আগ্রাসনকারীদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে এবং ভুক্তভোগীকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তেহরানের একটি ব্যাংকে বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাংক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এদিকে বিভিন্ন দেশে হামলার খবর পাওয়া গেছে— দুবাই বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন ভূপাতিত সৌদি আরবের শায়বাহ তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে ড্রোন কাতারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা প্রতিহত ইরাকে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন স্থাপনায় ড্রোন হামলা লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে দেশটিতে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫৭০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী, শিশু ও স্বাস্থ্যকর্মীও রয়েছেন। যুদ্ধের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত বিশ্লেষকদের মতে, সামরিকভাবে উল্লেখযোগ্য আঘাত হানলেও রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। অন্যদিকে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে— হুমকি পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ থামানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ইসরায়েলের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় ইরানের হামলা
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা: ইসরায়েলের জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের হামলা, হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর অভিযোগ

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের জেরে। ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রের দাবি— ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি তাদের সামরিক অভিযানের অংশ, যার নাম ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’। হাইফার তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলার দাবি ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সশস্ত্র বাহিনীর সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নতুন হামলায় ইসরায়েলের জ্বালানি অবকাঠামোকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী হামলার লক্ষ্য ছিল— ইসরায়েলের হাইফা শহরের তেল ও গ্যাস শোধনাগার জ্বালানি মজুদ ট্যাংক তেলআবিবের কাছাকাছি একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র ইরানি সামরিক বাহিনী বলছে, এই হামলা ছিল তাদের সামরিক অভিযানের ৩৩তম ধাপ। তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এসব স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তবে তা ইসরায়েলের শিল্প ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। পাল্টা হামলার যুক্তি ইরানের সামরিক বাহিনী বলছে, তাদের তেল ডিপোতে ইসরায়েলের হামলার জবাব হিসেবে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে— “ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার জবাব দিতেই এই প্রতিরোধমূলক সামরিক অভিযান।” ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলোও দাবি করছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল কৌশলগত অবকাঠামো, বেসামরিক এলাকা নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক মিসাইল মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে আরেকটি ঘটনা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ব্যালিস্টিক মিসাইলের বিরুদ্ধে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়েছে। বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে এই ঘটনা ঘটে বলে জানানো হয়েছে। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে— দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে নাগরিক ও অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে যেকোনো হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত দেশটি এখনো পর্যন্ত কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর অভিযোগ এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে আরেকটি খবর। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ইরান হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানো শুরু করেছে। সংবাদমাধ্যম CNN-কে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী— গত কয়েক দিনে কয়েক ডজন নৌমাইন স্থাপন করা হয়েছে ইরানের মাইন স্থাপনকারী জাহাজের মাত্র ২০ শতাংশ ব্যবহার করা হয়েছে চাইলে হাজার হাজার মাইন বসানোর সক্ষমতা রয়েছে এই তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সংকীর্ণ সামুদ্রিক পথ দিয়ে— বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয় প্রতিদিন কয়েক কোটি ব্যারেল তেল ও গ্যাস ট্যাংকার চলাচল করে যদি এখানে মাইন পাতা হয় বা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, তবে— বৈশ্বিক তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বড় সংকট দেখা দিতে পারে গালফ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে পারে বিপ্লবী গার্ডের হুঁশিয়ারি গত সপ্তাহে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC) এক সতর্কবার্তায় বলেছিল— “হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো শত্রু জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে সেটিকে ধ্বংস করা হবে।” বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য শুধু সামরিক হুমকি নয়, বরং আন্তর্জাতিক চাপ তৈরির কৌশলও হতে পারে। ইরানের নৌ সক্ষমতা নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নৌবাহিনী এবং বিপ্লবী গার্ড যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। তাদের কাছে রয়েছে— নৌমাইন দ্রুতগতির আক্রমণ নৌকা উপকূলভিত্তিক অ্যান্টি-শিপ মিসাইল বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন বোট এই অস্ত্রগুলো ব্যবহার করে তারা খুব দ্রুত ওই অঞ্চলে বড় ধরনের নৌ অবরোধ তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের উদ্বেগ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে— গালফে মার্কিন নৌবহর কাতার ও বাহরাইনে সামরিক ঘাঁটি সৌদি আরব ও আমিরাতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এই কারণে হরমুজ প্রণালীতে কোনো সংঘাত শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সরাসরি জড়িয়ে পড়তে পারে। তেলের বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি হরমুজ প্রণালীতে সংঘাত বাড়ে, তবে বৈশ্বিক তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে। সম্ভাব্য প্রভাবগুলো হলো— আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি,জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত,শিপিং বীমা খরচ বেড়ে যাওয়া,গালফ অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কমে যাওয়া মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা? বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, উত্তেজনা দ্রুত বাড়লেও এখনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হয়নি। তবে তিনটি বিষয় পরিস্থিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে— সরাসরি ইরান-ইসরায়েল সংঘাত গালফ রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগ আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি যদি এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আলোচনার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে— ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্র গালফ সহযোগিতা পরিষদ তারা উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়িয়েছে।   বর্তমান পরিস্থিতিতে কয়েকটি সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে— ১. সীমিত সামরিক পাল্টাপাল্টি হামলা চলতে পারে ২. কূটনৈতিক চাপ বাড়তে পারে ৩. গালফ অঞ্চলে নৌ নিরাপত্তা জোরদার হতে পারে তবে যদি হরমুজ প্রণালীতে বড় ধরনের সংঘর্ষ শুরু হয়, তাহলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্বের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১১, ২০২৬ 0
যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা ওয়াশিংটন নয়, তেহরানই নির্ধারণ করবে
যুক্তরাষ্ট্র -দখলদার ইসরাইল–ইরান যুদ্ধ: তেলের দাম, মূল্যস্ফীতি ও মার্কিন অর্থনীতিতে নতুন সংকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় ছিল। মূল্যস্ফীতি কমছিল, মর্টগেজ সুদের হার ধীরে ধীরে নেমে আসছিল এবং জ্বালানির দামও ছিল অনেকটা নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত সেই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে হঠাৎ করেই অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়—মার্কিন অর্থনীতি, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপরও এর গভীর প্রভাব পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘ হবে না। তার ভাষায় এটি একটি “স্বল্পমেয়াদি অভিযান”। কিন্তু যুদ্ধের বাস্তবতা, তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং ইরানের কঠোর অবস্থান ভিন্ন এক চিত্র তুলে ধরছে। যুদ্ধের শুরু ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা। ট্রাম্পের মতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে প্রায় ৫ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি ও মার্কিন সূত্র। এই ঘটনাকে ঘিরেই মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তবে ট্রাম্পের দাবি—ইরানের সামরিক সক্ষমতা এখন অনেকটাই দুর্বল হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “আজ আমরা জানি তারা কোথায় কোথায় ড্রোন তৈরি করে। সেই সব স্থাপনায় একের পর এক হামলা চলছে।” তার মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখন “প্রায় ১০ শতাংশে নেমে এসেছে।” ইরানের পাল্টা বার্তা ট্রাম্পের বক্তব্যকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নাঈনি বলেন, “এই যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা ওয়াশিংটন নয়, তেহরানই নির্ধারণ করবে।” তিনি আরও দাবি করেন, যুদ্ধের শুরু থেকে ইরান আরও বেশি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। নাঈনির ভাষায়, “আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেড এখন এক টনেরও বেশি।” তিনি আরও বলেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে “সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজছে।” তেলের বাজারে বড় ধাক্কা এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক তেলবাজারে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এটি ২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে একটি। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামান্য অস্থিরতাও বিশ্ববাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ইরান হুমকি দিয়েছে, প্রয়োজন হলে তারা তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে। এমনকি আইআরজিসি বলেছে, “অঞ্চল থেকে এক লিটার তেলও রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না।” মার্কিন অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব মার্কিন অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো জ্বালানির দাম বৃদ্ধি। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। গত এক সপ্তাহেই প্রতি গ্যালনে গ্যাসের দাম ৩৪ সেন্ট বেড়ে গেছে। এই বৃদ্ধি ট্রাম্পের দুই মেয়াদের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে ট্রাম্প নিজে বলেছেন তিনি এ নিয়ে উদ্বিগ্ন নন। তিনি বলেন, “যদি গ্যাসের দাম বাড়ে, তাহলে বাড়ুক।” কিন্তু অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গ্যাসের দাম বাড়া মানে শুধু জ্বালানি খরচ নয়—এটি পুরো অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। মূল্যস্ফীতির নতুন আশঙ্কা এই যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল। জানুয়ারিতে ভোক্তা মূল্যসূচক বছরে মাত্র ২.৪ শতাংশ বেড়েছিল, যা আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। অর্থনীতিবিদরা আশা করেছিলেন ২০২৬ সালের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশে নেমে আসবে। কিন্তু জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়তে থাকলে সেই হিসাব বদলে যেতে পারে। গোল্ডম্যান স্যাকসের অর্থনীতিবিদদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে এ বছর মূল্যস্ফীতি আবার ৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এর কারণ— জেট ফুয়েলের দাম বাড়লে বিমান ভাড়া বাড়বে পরিবহন খরচ বাড়লে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়বে পেট্রোলিয়ামভিত্তিক শিল্পপণ্যের দাম বাড়বে ফলে পুরো অর্থনীতিতেই মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হবে। ভোক্তা ব্যয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা মার্কিন অর্থনীতির দুই-তৃতীয়াংশই নির্ভর করে ভোক্তা ব্যয়ের ওপর। কিন্তু দাম বাড়লে সাধারণ মানুষ খরচ কমিয়ে দেয়। এর প্রভাব সরাসরি পড়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে। ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক গতি কিছুটা কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। চতুর্থ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি কমেছে এবং জানুয়ারিতে খুচরা বিক্রি ২০২৫ সালের মে মাসের পর সবচেয়ে বেশি হারে কমেছে। মুডিজ অ্যানালিটিক্সের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্ক জ্যান্ডি বলেন, “গ্যাসের দাম যদি গ্যালনপ্রতি ৩ ডলার থেকে ৪ ডলারে উঠে যায়, তাহলে মানুষের আস্থা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।” তার মতে, মূল্যস্ফীতি বাড়লে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আবাসন বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা যুদ্ধের আগে মার্কিন আবাসন বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরছিল। মর্টগেজ সুদের হার ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো ৬ শতাংশের নিচে নেমে এসেছিল। কিন্তু যুদ্ধের পর পরিস্থিতি আবার বদলে গেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বেশি সুদ দাবি করছেন। ফলে ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের ফলন বেড়েছে এবং এর সঙ্গে মর্টগেজ সুদের হারও আবার ৬ শতাংশের ওপরে উঠে গেছে। এটি বাড়ি কেনার আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে। গড় পরিবারের অতিরিক্ত ব্যয় অর্থনীতিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, তেলের দাম টানা বাড়তে থাকলে সাধারণ পরিবারের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। মার্ক জ্যান্ডির মতে, “প্রতি ব্যারেল তেলের দাম টানা ১০ ডলার বাড়লে গড় মার্কিন পরিবারের বছরে প্রায় ৪৫০ ডলার অতিরিক্ত খরচ হবে।” এটি সরাসরি মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে চাপ সৃষ্টি করবে। হরমুজ প্রণালী: বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার কেন্দ্র হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর। প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যদি এই পথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে— বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়বে জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে পরিবহন ও শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে এই কারণেই যুক্তরাষ্ট্র এখন উপসাগরীয় অঞ্চলে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, খুব দ্রুত হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করার পরিকল্পনা রয়েছে। তারা ট্যাংকারগুলোর জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি বিমা দিচ্ছে এবং সামরিক সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, “আমি কোনো সন্ত্রাসী শাসনকে বিশ্বকে জিম্মি করে তেল সরবরাহ বন্ধ করতে দেব না।” যুদ্ধ কতদিন চলবে? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই যুদ্ধ কতদিন চলবে। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন এটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে। কিন্তু অন্যরা বলছেন সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা দিতে পারে। ইওয়াই-পার্থেননের প্রধান অর্থনীতিবিদ গ্রেগরি ডাকো বলেন, “হয়তো কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তেলের দাম আবার কমে যাবে। আবার এমনও হতে পারে কয়েক মাস পরও আমরা একই অবস্থায় থাকব।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি তেলের দাম দীর্ঘ সময় ১০০ ডলারের ওপরে থাকে, তখন আমরা চাকরি কমানো এবং সম্ভাব্য মন্দা নিয়ে কথা বলব।” মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনীতি এই সংঘাতের একটি বড় রাজনৈতিক দিকও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এ বছর মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। অর্থনীতি যদি খারাপ হতে শুরু করে— মূল্যস্ফীতি বাড়ে গ্যাসের দাম বাড়ে চাকরি কমে তাহলে তা ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক অসন্তোষ বাড়লে তা রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন শুধু সামরিক লড়াই নয়—এটি অর্থনীতি, রাজনীতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।   যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলে তেলের বাজার স্থিতিশীল হতে পারে এবং অর্থনৈতিক চাপও কমতে পারে। কিন্তু সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তার প্রভাব পড়বে— বিশ্ববাজারে তেলের দামে মার্কিন মূল্যস্ফীতিতে আবাসন বাজারে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা হলো—এই যুদ্ধ কতদিন চলবে। কারণ সেই উত্তরই নির্ধারণ করবে বিশ্ব অর্থনীতির আগামী পথ।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১০, ২০২৬ 0
ইরানের হামলায় দুই হাজার ইসরাইলি হাসপাতালে ভর্তি
ইরান-ইসরাইল যুদ্ধে নিহত ও আহতের সংখ্যা বাড়ছে, ইরানে নিহত ১২০০ ছাড়াল — ইসরাইলে ১৯২৯ আহত

ইরান-ইসরাইল যুদ্ধে নিহত ১২০০ ছাড়াল, ইসরাইলে আহত প্রায় ২০০০ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে: মিসাইল হামলায় সৌদিতে বাংলাদেশিসহ নিহত ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ: তেহরানে তেল ডিপোতে আগুন, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ   মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরাইল সংঘাতে প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলার পর শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলছে। ইসরাইলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে মোট ১ হাজার ৯২৯ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৩ জন ইসরাইলি নিহত হয়েছেন। রোববার (৮ মার্চ) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের হামলায় নতুন করে আরও ১৫৭ জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে ১১২ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আতঙ্কে নাগরিকরা ইসরাইলি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার সময় সাইরেন বাজলে অনেক নাগরিক দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় হুড়োহুড়ি বা পড়ে গিয়ে অনেকে আহত হয়েছেন। নাগরিকদের সতর্কতার সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইরানে নিহত ১২০০ এর বেশি অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ অন্তত ১ হাজার ২০০ জন নিহত এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেছেন, তারা এই যুদ্ধে কোনো যুদ্ধবিরতি চান না। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ইরানের ওপর আগ্রাসন চালানো হলে হামলাকারীদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, অন্য কোনো দেশ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হলে তেহরান উপযুক্ত জবাব দেবে। সৌদি আরবে মিসাইল হামলায় বাংলাদেশিসহ নিহত যুদ্ধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের আল-কারজ শহরে ইরানের ছোড়া একটি মিসাইল আবাসিক এলাকায় আঘাত হানে। এই হামলায় একজন বাংলাদেশি ও একজন ভারতীয় নিহত হয়েছেন। এছাড়া ১২ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। জানা গেছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি মেইনটেনেন্স ও ক্লিনিং কোম্পানির ভবনে আঘাত হানে। আমিরাতের দিকে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির দিকে ২৩৮টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১ হাজার ৪২২টি ড্রোন এবং ৮টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী— ২২১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে ১ হাজার ৩৪২টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে ৮টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে তেহরানে তেল ডিপোতে হামলা শনিবার রাতে ইরানের রাজধানী তেহরানে বেশ কয়েকটি তেল ডিপোতে হামলা চালায় ইসরাইল। হামলার পর ডিপোগুলোতে বড় ধরনের আগুন লাগে। এসব ডিপোর তেল সাধারণত রাজধানীর বাসিন্দারা ব্যবহার করে থাকেন। ফলে দেশটিতে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছানোর হুঁশিয়ারি ইরানের সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারি সতর্ক করে বলেছেন, ইসরাইল যদি তেল ডিপোতে হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে ইরানও এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালাতে পারে। তিনি বলেন, “আপনারা যদি এক ব্যারেল তেলের দাম ২০০ ডলার সহ্য করতে পারেন, তাহলে এই খেলা চলতে দিন।” ‘অপারেশন ওয়াদে সাদেক ৪’ ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ইসরাইলের বেয়ারশেবা ও তেল আবিব শহর এবং জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই হামলাকে “অপারেশন ওয়াদে সাদেক ৪”-এর ২৮তম ধাপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আইআরজিসি দাবি করেছে, এই হামলায় ‘খেইবার’ ধরনের ভারী ওয়ারহেডযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা ইরানের সরকারি সামরিক অবকাঠামোর ওপর নতুন করে হামলা শুরু করেছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ৯, ২০২৬ 0
মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য হারাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য হারাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

* হরমুজ প্রণালি ঝুঁকিতে: ইরান সংঘাতে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি করা সাজানো ভূ-রাজনীতি আজ এক গভীর খাদের কিনারায়। ইরানের নজিরবিহীন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও এমন এক যুদ্ধের ভেতরে টেনে এনেছে, যা তারা যেকোনও মূল্যে এড়াতে চেয়েছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং সৌদি আরবের মতো দেশগুলো এখন সরাসরি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়িয়ে যুদ্ধে জড়ানোর মুখে। ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান ছাড়াই ইরানবিরোধী একটি আরব-ইসরায়েল অক্ষ তৈরি করা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সেই কাঙ্ক্ষিত জোট যখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে, তখনই পুরো অঞ্চল এক ধ্বংসাত্মক পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। মার্কিন সাময়িকী ফরেন পলিসির এক বিশ্লেষণে এমন পরিস্থিতির কথা উঠে এসেছে। গত তিন বছরে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যে আপস ও স্থিতিশীলতার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সংঘাত তা ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। অথচ একসময় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান নিজেই ইরানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৯ সালে সৌদি তেল শোধনাগারে ইরানের নিখুঁত হামলা এবং পরবর্তীতে আবুধাবিতে ড্রোন হামলার পর উপসাগরীয় দেশগুলো রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। তারা বুঝতে পারে, বিপদের সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের অস্তিত্ব রক্ষায় যথেষ্ট নয়। ফলে ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি-ইরান কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত হয়, যা ছায়া যুদ্ধের উত্তাপ কমিয়েছিল।   কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানে ক্ষমতা পরিবর্তনের লক্ষ্যে সর্বাত্মক হামলার ছক কষেছে, তখন ইরানও পিছু হটার পথ বন্ধ করে দিয়েছে। ওমানি মধ্যস্থতাকারীরা যখন দেখলেন ট্রাম্প প্রশাসন আলোচনার কোনও সদিচ্ছাই দেখাচ্ছে না, তখন যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে পড়ে। উপসাগরীয় দেশগুলো আশা করেছিল যুদ্ধ সংক্ষিপ্ত হবে এবং ইরানের নেতৃত্বে সামরিক বাহিনীর কোনও বাস্তববাদী স্বৈরশাসক আসবে। কিন্তু তেহরান সেই চিত্রনাট্য প্রত্যাখ্যান করে সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি প্রতিবেশীকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।   মিডিয়াতে ইরানের হামলাকে ‘বিচ্ছিন্ন সহিংসতা’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি একটি গভীর সুচিন্তিত কৌশল। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনকে মূল লক্ষ্য বানালেও কাতার, ওমান এমনকি সৌদি আরবও ইরানের হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না। উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রাণকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ইরান তাদের জনগণকে এই বার্তা দিচ্ছে যে তারা কতটা অরক্ষিত। স্থানীয় শপিং মল বা জনসমাগমস্থলে রাষ্ট্রপ্রধানদের সশরীরে উপস্থিতি প্রমাণ করে যে সাধারণ মানুষের মনে কতটা আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ইরানের এই রণকৌশলের মূল লক্ষ্য বিশ্ব অর্থনীতিতে দ্রুত আঘাত হেনে যুদ্ধবিরতির চাপ তৈরি করা। কোনও বিশেষ প্রচেষ্টা ছাড়াই কেবল হুমকির মুখে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় থমকে গেছে। প্রত্যক্ষ হামলা ছাড়াই সৌদি তেল শোধনাগার এবং কাতারের এলএনজি উৎপাদন বিঘ্নিত হচ্ছে। আকাশছোঁয়া জ্বালানি তেলের দামের মুখে যুক্তরাষ্ট্রও আজ দিশেহারা। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো, শাহেদ ড্রোন ও সস্তা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইরান পশ্চিমের ব্যয়বহুল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। প্রাথমিক সফলতায় ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র উল্লাস করলেও ইন্টারসেপ্টর ফুরিয়ে গেলে আসল বিপর্যয় শুরু হবে।   উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা হলো ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর তাদের অগাধ বিশ্বাসের প্রতিফলন না ঘটা। এই দেশগুলো ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক আগ্রহ এবং স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্বের প্রতি মুগ্ধ ছিল। কিন্তু এখন তারা বুঝতে পারছে, তাদের টিকে থাকার জন্য জরুরি এমন এক যুদ্ধ শুরু করার আগে ওয়াশিংটন তাদের সঙ্গে কোনও কার্যকর পরামর্শই করেনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে দেওয়ার যে মার্কিন-ইসরায়েলি পরিকল্পনা, তার ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া থেকে এই আরব দেশগুলো মুক্ত থাকতে পারবে না। মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন তাদের জন্য নিরাপত্তার বদলে উল্টো বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দুবাই বা রিয়াদের মতো আধুনিক শহরগুলোর বাসিন্দারা ভাবতেন, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা কেবল সিরিয়া, সুদান বা ইয়েমেনিদের জন্য, তাদের জন্য নয়। কিন্তু ইরান সেই বিভ্রম ভেঙে দিয়েছে। ইরান যদি এই যুদ্ধে টিকে যায়, তবে তারা এই জবরদস্তিমূলক শক্তির কথা মনে রাখবে। আর যদি ইরানের পতন ঘটে, তবে শরণার্থী স্রোত, উগ্রবাদ আর অস্থিতিশীলতায় পুরো উপসাগর অস্থির থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরানের এই আক্রমণ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার সাম্প্রতিক দ্বন্দ্বকে সাময়িকভাবে থামিয়ে দিয়েছে। আস্তিত্বের সংকটে উপসাগরীয় দেশগুলো এখন এক কাতারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা আর যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণ আরব দেশগুলোকে আতঙ্কিত করছে। তারা ভাবছে, আজ ইরান হলে কাল হয়তো তাদেরই পালা। আর এই গভীর নিরাপত্তাহীনতাই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের সাজানো সাম্রাজ্য তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ার পূর্বাভাস দিচ্ছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ৭, ২০২৬ 0
ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরান থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাত: মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরে যুদ্ধ জোরদার,মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান

ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে প্রতিহত করছে, মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরে তীব্র যুদ্ধ, তেহরান ছেড়ে যাচ্ছে লক্ষাধিক মানুষ ,ইরান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার জবাবে কঠোর পাল্টা হুমকি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলার পর ইরান যুদ্ধ ত্যাগের অঙ্গীকার জোরদার করেছে। খাতাম আল আম্বিয়া কেন্দ্রীয় দপ্তরের ডেপুটি কমান্ডার জেনারেল কিওমারস হেইদারি বলেন, তার দেশ লক্ষ্য পূরণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তীব্র আঘাত না হানা পর্যন্ত যুদ্ধ ত্যাগ করবে না। ২৮শে ফেব্রুয়ারি হামলার পর তেহরান প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু করে। ইরান এখন পর্যন্ত ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিব ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। লেবাননের হিজবুল্লাহ ইরানের পাশে সরাসরি যুদ্ধে নেমেছে। উভয়ে মিলে তেল আবিবে হামলা চালাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারত মহাসাগরে যুদ্ধের ছড়িয়ে পড়া ভূমধ্যসাগরের উত্তেজনা ভারত মহাসাগরে পৌঁছেছে। সাইপ্রাসে ফ্রান্স রণতরী মোতায়েন করেছে, যুক্তরাজ্য অ্যান্টি-মিসাইল সরঞ্জাম পাঠিয়েছে, এবং জার্মানি মৌন সমর্থন দিয়েছে। বুধবার ভারত মহাসাগরে অবস্থানরত ইরানের জাহাজে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা হিসেবে ইরান একটি মার্কিন তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের সমর্থিত কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হতে পারবে না। এদিকে যুদ্ধের তীব্রতায় স্কুল ও হাসপাতালেও ক্ষতি হচ্ছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, শনিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত অন্তত ১০৫টি বেসামরিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে তেহরান ছাড়ছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম দুইদিনে লক্ষাধিক মানুষ দেশ ছাড়েছে। ইরানের তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ২০ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) জানিয়েছে, কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। হামলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ট্রাম্পের পরিকল্পনায় পরিবর্তন ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যৌথ অভিযান শুরু করার মূল লক্ষ্য ছিল তেহরানের শাসনব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তন। তবে, মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, ইরানের ভেতরে অস্থিরতা তৈরি হয়নি। উল্টো, ইরান ও হিজবুল্লাহ পাল্টা আঘাত চালাচ্ছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু হলে ইরান আলোচনায় যেতে রাজি নয়। আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তার মতে, তথ্য বিকৃতি পরমাণু আলোচনাকে ব্যর্থ করেছে। হতাহতের সংখ্যা যুদ্ধ শুরুর পর এ পর্যন্ত ইরানে ১২৩০ জন নিহত হয়েছেন। মিনাবে স্কুলে হামলায় ১৭৫ জন নিহত হয়েছেন। ইসরাইলে ১১ জন, যুক্তরাষ্ট্রে ৬ জন, কুয়েতে দুই সেনা নিহত হয়েছেন। লেবাননে ৭৭ জন নিহত হয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনজন ও ওমান উপকূলের কাছে এক জন নিহত হয়েছেন। ট্রাম্পের যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টা ব্যর্থ মার্কিন কংগ্রেসের সিনেটে ট্রাম্পের সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রস্তাব ৪৭-৫২ ভোটে খারিজ হয়েছে। রিপাবলিকানরা প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। এর ফলে ট্রাম্পের সামরিক আকাঙ্ক্ষা কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণে আনা ব্যর্থ হলো এবং যুদ্ধ পরিচালনায় প্রেসিডেন্টের সমর্থন স্পষ্ট হলো।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ৬, ২০২৬ 0
তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশে: জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি ও রেমিট্যান্সে বড় ঝুঁকি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে প্রায় চার হাজার কিলোমিটার দূরে হলেও এর অর্থনৈতিক অভিঘাত ইতোমধ্যেই অনুভূত হতে শুরু করেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় আমদানি নির্ভর বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পঞ্চম দিনে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে। এই অঞ্চল বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম কেন্দ্র হওয়ায় যুদ্ধের প্রভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে তা একটি চেইন রিঅ্যাকশন তৈরি করে, যার প্রভাব পড়ে পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষি ও নিত্যপণ্যের বাজারে। জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৮৩ ডলার ছাড়িয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুতই ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করেছে। এই রুট দিয়েই বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি পরিবহন হয়ে থাকে। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি ট্যাঙ্কার, কাতারের এলএনজি স্থাপনা এবং সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে হামলার খবর পাওয়া গেছে, যা জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশ গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আসে। এই গ্যাসের বড় অংশ এলএনজি হিসেবে আমদানি করা হয় কাতার ও ওমান থেকে। কিন্তু হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে এই সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম রায়হান মনে করেন, আমদানি নির্ভরতার কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের জ্বালানি মজুদ সীমিত। তার ভাষায়, “আমাদের কাছে যে তথ্য আছে তাতে ডিজেলের মজুদ প্রায় দুই সপ্তাহের মতো। বেশিরভাগ জ্বালানির মজুদই দুই থেকে ছয় সপ্তাহের বেশি নয়।” তিনি বিকল্প জ্বালানি উৎস খোঁজা এবং আমদানি উৎস বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেন। বিদ্যুৎ ও শিল্পখাতে সম্ভাব্য প্রভাব জ্বালানির সরবরাহ ব্যাহত হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। এতে শিল্পকারখানা, উৎপাদন ও ব্যবসা কার্যক্রমে প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশের তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশ ভারতের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ভারতের জ্বালানি সরবরাহও মূলত মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে, যা হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে জ্বালানি সংকট দেখা দিলে তা শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে সংকট বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বাজারের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। যুদ্ধের কারণে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলে শিপিং কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত ‘ওয়ার রিস্ক সারচার্জ’ আরোপ করে। এর ফলে পণ্য পরিবহন ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লে তার প্রভাব পড়ে পুরো উৎপাদন ব্যবস্থায়। তিনি জানান, সমুদ্রপথে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় অনেক পণ্য সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে। কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর প্রভাব জ্বালানির দাম বাড়লে সারের উৎপাদন ও আমদানির খরচও বাড়ে। বাংলাদেশ তার প্রয়োজনীয় সারের একটি বড় অংশ আমদানি করে কাতার ও সৌদি আরব থেকে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ চেইন বিঘ্নিত হলে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া জ্বালানি সংকটের কারণে দেশীয় সার কারখানাগুলোর উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এর ফলে খাদ্য উৎপাদন কমে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। রেমিট্যান্সের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হলো রেমিট্যান্স। বর্তমানে প্রায় এক কোটির বেশি বাংলাদেশি বিদেশে কর্মরত, যার বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৬০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মী মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করছেন। যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে শ্রমবাজারে নতুন কর্মী নিয়োগ কমে যেতে পারে। অতীতে কুয়েত যুদ্ধের সময় হাজার হাজার বাংলাদেশিকে দেশে ফিরে আসতে হয়েছিল। তবে স্বল্পমেয়াদে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় প্রভাব না পড়লেও দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। সরকারের প্রস্তুতি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে জ্বালানি সাশ্রয় নীতি গ্রহণের কথা জানিয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনা চালু রাখলে বর্তমান মজুত দিয়ে অন্তত মার্চ মাস পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের জন্য এখনই কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে বিকল্প জ্বালানি উৎস খোঁজা আমদানি উৎস বহুমুখীকরণ কৌশলগত জ্বালানি মজুত বৃদ্ধি অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব শুধু জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি, শিল্প এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ৫, ২০২৬ 0
বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী
ইরানের বিধ্বংসী আঘাতে ৬৫০ মার্কিন সেনা হতাহত, পিছু হটল বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী

রানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’ নামক একটি ব্যাপক সামরিক অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে মাত্র প্রথম দুই দিনে ৬৫০-এরও বেশি মার্কিন কর্মকর্তা ও সদস্য নিহত বা আহত হয়েছে। আইআরজিসি এই বলেছে যে এসব হামলা ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের জবাব হিসেবে শুরু করা হয়েছে। আইআরজিসি মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েইনি বলেন, বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে সুনির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে। বিশেষ একটি হামলায় বাহরাইনের ঘাঁটিতে একযোগে প্রায় ১৬০ জন মার্কিন সদস্য হতাহত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। আইআরজিসি জানিয়েছে, ইরানি নৌবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যাধুনিক এমএসটি কমব্যাট সাপোর্ট জাহাজও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আরেকটি কেন্দ্রীয় দাবি ছিল মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন-কে লক্ষ্য করে ছয় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। আইআরজিসি বলেছে, এই হামলার পর রণতরীটি চাবাহার উপকূল থেকে ২৫০-৩০০ কিলোমিটার সরে ভারত মহাসাগরের দিকে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। যদিও ইরানের এই দাবিগুলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বতন্ত্রভাবে যাচাইযোগ্য নয়, এবং মার্কিন সামরিক সূত্রগুলোর মতে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রণতরীকে আঘাত করতে পারেনি বা খুব কাছাকাছি যায়নি—তবে দুই পক্ষের বিবাদ ও তথ্যের অমিল উত্তেজনাকে আরও বৃদ্ধি করেছে। আইআরজিসির বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই অপারেশনটি মার্কিন ও ইসরায়েলের সাম্প্রিক আক্রমণের ‘দাঁতভাঙা জবাব’ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। পরিস্থিতি নস্যাৎ না হওয়া পর্যন্ত উত্তেজনা এবং কার্শিয়াল সতর্কতা অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পেয়েছে সংবাদ সংস্থা।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ৪, ২০২৬ 0
মাইক্রোসফটের কার্যালয়ে হামলা-দোহায় ফের বিস্ফোরণ
ইসরাইলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, মাইক্রোসফট অফিসে আঘাতের দাবি; স্পেন-যুক্তরাজ্যের ভিন্ন অবস্থান, ইরানের পাশে চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রতিশোধমূলক অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার (২ মার্চ) ইসরাইলে একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও শিল্প স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এ হামলা পরিচালিত হয়েছে। বীরশেবায় সামরিক কমপ্লেক্সে হামলার দাবি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ১১ তম ঢেউ ইসরাইলের বীরশেবা শহরকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, বীরশেবায় অবস্থিত ইসরাইলি সেনাবাহিনীর একটি যোগাযোগ ও শিল্প কমপ্লেক্সে আঘাত হানা হয়েছে। পরে প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখানো ভবনটিকে লক্ষ্যবস্তু বলে দাবি করা হয়। ওই কমপ্লেক্সে কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট -এর অফিসও আছে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এ বিষয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে হামলার দাবি ফার্স নিউজ এজেন্সিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, তেল আবিবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এবং বিমানবাহিনীর কমান্ডারের সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে ‘খাইবার’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। হামলার সময় নেতানিয়াহু কোথায় ছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইসরাইলি প্রশাসনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নেতানিয়াহু বেইত শেমেশ সফর বাতিল করেন। স্পেনের ঘাঁটি ব্যবহারে ‘না’ ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানে নিজেদের ভূখণ্ডে থাকা যৌথ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি Spain। দেশটির রোটা ও মোরন ঘাঁটি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান হামলায় ব্যবহার করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ  যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ‘একতরফা সামরিক পদক্ষেপ’-এর সমালোচনা করে একে ‘অন্যায় ও বিপজ্জনক’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের অভিযান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস জানান, স্পেনের ঘাঁটিগুলো কেবল দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও জাতিসংঘ সনদের কাঠামোর মধ্যেই ব্যবহৃত হবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিটা রবেলসও  একই অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। ইরানের পাশে থাকার ঘোষণা চীনের মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় জোরালো সমর্থন জানিয়েছে চীন । দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই  ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে ফোন করে বেইজিংয়ের অবস্থান পরিষ্কার করেন। চীন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যুদ্ধ বন্ধে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার কথা বলেছে। যুক্তরাজ্য সরাসরি হামলায় অংশ নেবে না ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় সরাসরি অংশ নেবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার । তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্রকে নির্দিষ্ট সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। স্টারমার জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাজ্য সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নিচ্ছে না। একই ধরনের অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে ফ্রান্স ও জার্মানিও প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরান-ইসরাইল পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশসমূহ এবং চীনের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এদিকে আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সামরিক উত্তেজনা যেন পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ না নেয়—সেই আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিয়েছে।   কাতারের দোহায় ফের বিস্ফোরণ   কাতারের রাজধানী দোহায় নতুন বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার ফলে এ বিস্ফোরণ হতে পারে। সোমবার (২ মার্চ) রাতে নতুন করে এ বিস্ফোরণ হয়। এর আগে এদিন কাতারের শিল্পনগরী রাস লাফানের একাধিক জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হানে ইরানের ড্রোন। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে, কাতারের বিমানবাহিনী দেশটির দিকে আসা দুটি ইরানি জেট গুলি করে নামিয়েছে এবং কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনও প্রতিহত করেছে বলে দাবি করেছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ৩, ২০২৬ 0
ইসরাইলে দফায় দফায় মিসাইল হামলা
ইসরাইলে দফায় দফায় মিসাইল হামলা,ইরানের সরকারি রেডিও-টেলিভিশন ভবনে হামলা:মাথা নত করবে না ইরান

ইরানে নতুন করে ভয়াবহ হামলা হয়েছে। সীমান্তবর্তী একটি রেজিমেন্টের সদর দপ্তরে এ হামলা হয়। এতে ৪৩ সেনা নিহত হয়েছেন। এরপরই ভয়াবহ হামলা শুরু করেছে ইরানও। জানা গেছে, ইসরাইলকে লক্ষ্য করে নতুন করে মিসাইল হামলা শুরু করেছে ইরান। গত এক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত তিনবার মিসাইল ছুড়েছে দেশটি। যার প্রভাবে ইসরাইলের বেশিরভাগ জায়গায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজছে। দ্য টাইমস অব ইসরায়েল বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত পৌনে ২টার দিকে জানায়, ইরান নতুন করে মিসাইল ছুড়েছে। এতে করে দক্ষিণাঞ্চলে সাইরেন বাজছে। জনগণ আতঙ্কিত হয়ে বাংকারে লুকাচ্ছেন। অসমর্থিত সূত্র জানিয়েছে, একটি মিসাইল সরাসরি তেলআবিবে আঘাত হেনেছে। তবে বাকি মিসাইলগুলো আকাশে ভূপাতিত করে দেওয়া হয়েছে কি না সেটি নিশ্চিত নয়। আইডিএফ মিসাইল প্রতিহতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রেখেছে। ইরানের সরকারি রেডিও-টেলিভিশন ভবনে হামলা ইরানের সরকারি রেডিও ও টেলিভিশন সদরদপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। তবে পুরো সদরদপ্তরের বদলে এটির আংশিক জায়গায় হামলা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রায়াত্ত্ব টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে সম্প্রচার এখনো সক্রিয় আছে বলে জানিয়েছে তারা। কর্তৃপক্ষ বলেছে, “প্রযুক্তি দল ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করছে।” গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ও টেলিভিশন ভবন লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। তবে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তারা আবার সম্প্রচারে ফিরেছিল।   ইরানে দূতাবাস বন্ধ করে দিল আরব আমিরাত ইরানে নিজেদের দূতাবাস বন্ধ করে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটিতে মার্কিন ঘাঁটি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরান একাধিকবার হামলার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার দিবাগত রাতে এক বিবৃতিতে বলেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত তেহরানে তার দূতাবাস বন্ধ করার এবং রাষ্ট্রদূতসহ দূতাবাসের সকল কূটনৈতিক সদস্যকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিচ্ছে। আমরা আমাদের ভূখণ্ডে ইরানের ন্যাক্কারজনক মিসাইল হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমিরাতের ওপর ইরানের 'সরাসরি ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ' মিসাইল হামলার প্রতিক্রিয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইরানের হামলা আমাদের সার্বভৌমত্বের ওপর এক নগ্ন আগ্রাসন, যা আবাসিক এলাকা, বিমানবন্দর, বন্দর এবং জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে এবং নিরপরাধ সাধারণ মানুষের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। এদিকে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মেহরানে নতুন করে ভয়াবহ হামলা হয়েছে। সীমান্তবর্তী একটি রেজিমেন্টের সদর দপ্তরে এ হামলা হয়। এতে ৪৩ সেনা নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে আলজাজিরা জানিয়েছে, রোববার (১ মার্চ) ইরাকের সীমান্তবর্তী ওই শহরটিতে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। নিহতদের বেশিরভাগই সীমান্তরক্ষী। এছাড়াও হামলায় আশপাশের কিছু ভবনও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের বরাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের এজেন্টরা এই বোমা হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা মেহের নিউজ। চলমান মার্কিন-ইসরায়েল হামলায় ইরানের ৪৮ জন নেতা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাদের তালিকা প্রকাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্র। ধারণা করা হচ্ছে, এ তালিকায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নামও রয়েছে।   দুই শক্তিশালী বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল তেহরান   ইরানের রাজধানী তেহরানে আরও দুটি প্রবল বিস্ফোরণ ঘটেছে। এ তথ্য জানিয়েছেন বার্তা সংস্থা এএফপির দুজন সাংবাদিক। বিস্ফোরণের ধাক্কায় ওই দুই সাংবাদিকের আবাসিক ভবনের জানালা কেঁপে ওঠেছে, যারা একে অপরের থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিলেন। রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৯টায় এই বিস্ফোরণ দুটি ঘটে। একই সময়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছিল যে তাদের সম্প্রচার কেন্দ্রকে হামলার লক্ষ্য করা হয়েছে। তবে এখনো স্পষ্ট নয়, এই বিস্ফোরণের প্রকৃত লক্ষ্য কী ছিল। তেহরানে অবস্থানরত ওই দুই সাংবাদিক বলেন, হামলাস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থানে থেকে তারা হামলার তীব্রতা অনুভব করেন। হামলার সময় তাঁদের অ্যাপার্টমেন্টের জানালার কাঁচ কেঁপে ওঠে। স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে এই বিস্ফোরণগুলো ঘটে। ঠিক একই সময়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছিল যে, তাদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে হামলার লক্ষ্যবস্তু কী ছিল তা পরিষ্কার হওয়া যায়নি। তবে রাষ্ট্রীয় টেলিভশনের সম্প্রচার সচল ছিল। এর আগে ইসরায়েল জানিয়েছিল, তারা নতুন দফায় তেহরানে হামলা শুরু করেছে।   মাথা নত করবে না ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক উপ-সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল মুলরয় আল জাজিরাকে বলেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করার পর সেটাকে ভেনেজুয়েলার পর যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় ‘রেজিম পরিবর্তন’ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে ইরানের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় শাসনব্যবস্থা মূলত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল। তার অধীনে তুলনামূলকভাবে তার দুর্বল সহযোগীরা ছিলেন। কিন্তু ইরানে সুপ্রিম লিডার থাকলেও, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে, সামরিক বাহিনীতে, ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পসে (আইআরজিসি) এবং গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে একাধিক ক্ষমতার কেন্দ্র রয়েছে। ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে মুলরয় বলেন, সুপ্রিম লিডারকে সরিয়ে দেয়া হলেও ইরান যুক্তরাষ্ট্রের দাবিতে ‘রাজি’ হওয়ার সম্ভাবনা কম। তিনি বলেন, তারা (ইরান) বরং বর্তমান বক্তব্য ও সাম্প্রতিক বিবৃতির ভিত্তিতে পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করতে পারে এবং পুরো অঞ্চলকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে পরিণত করতে পারে। এর মাধ্যমে শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকেও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে। মুলরয় আরও বলেন, তাদের (ইরানের) হাতে ড্রোন রয়েছে। সেগুলো আমরা দুবাই ও বাহরাইনের বিভিন্ন ভবনে আঘাত হানতে দেখছি। তারা এগুলো ব্যাপক হারে উৎপাদন করতে পারে এবং বহু বছর ধরে রাশিয়াকেও তারা তা সরবরাহ করে আসছে। এটি একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। তিনি আরও বলেন, অবশ্যই এসব ড্রোন সাধারণত সহজেই ভূপাতিত করা যায়। কিন্তু আমরা দেখেছি অনেকগুলো লক্ষ্যভেদ করতে সক্ষম হয়েছে। হয়তো তারা একসঙ্গে এত বেশি সংখ্যায় পাঠিয়েছিল যে, সবগুলো প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পরিস্থিতি দেখে তাই মনে হচ্ছে এবং এটিই সম্ভবত তাদের সবচেয়ে বড় হুমকি।   ফের সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সৌদি আরব রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে ইরানি এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার দাবি জানিয়েছে সৌদি। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও মার্কিন বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোড়া ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি জানিয়েছে সৌদি আরব। রিয়াদের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সৈন্যরা অবস্থান করছেন। ইরানি ওই হামলার বিষয়ে অবগত উপসাগরীয় একটি সূত্র এএফপিকে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।   হামলার জবাব দেওয়ার ঘোষণা হিজবুল্লাহর ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এক বিবৃতিতে হেজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাসেম বলেছেন, এই গোষ্ঠী সম্মান ও প্রতিরোধের ক্ষেত্র ত্যাগ করবে না। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে অপরাধের সর্বোচ্চ স্তর হিসেবে অভিহিত করেছেন কাসেম। তিনি বলেন, সৃষ্টিকর্তার নির্দেশনা ও সমর্থনের ওপর আস্থা রেখে আমরা এই আগ্রাসন মোকাবিলায় আমাদের কর্তব্য পালন করবো। হিজবুল্লাহ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একটি শিয়া মুসলিম সংগঠন; যেটি লেবাননের সবচেয়ে শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করে।   মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের   পারস্য উপসাগরে মোতায়েনরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার প্রতিশোধে মার্কিন ওই রণতরীতে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।রোববার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে ওই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। এক বিবৃতিতে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বলেছে, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কনে চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। ইরানের এই বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ‘‘জল এবং স্থল—উভয়ই হবে সন্ত্রাসী আগ্রাসনকারীদের কবরস্থান।’’ তবে পারস্য উপসাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার যে দাবি ইরান করেছে, তা নাকচ করে দিয়েছে পেন্টাগন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, আব্রাহাম লিঙ্কন আক্রান্ত হয়নি। যেসব ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল, সেগুলো আব্রাহাম লিঙ্কনের কাছাকাছিও পৌঁছাতে পারেনি।’’ ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সদরদপ্তর ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের   ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সদরদপ্তর ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। রোববার (১ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, আমেরিকার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী রয়েছে। আইআরজিসির এখন আর কোনো সদরদপ্তর নেই। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড আরও বলেছে, গত ৪৭ বছরে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক হাজারেরও বেশি আমেরিকানকে হত্যা করেছে। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের একটি বৃহৎ আকারের হামলা ‘সাপের মাথা কেটে ফেলেছে’।এর আগে, ইরানের আকাশসীমায় প্রায় ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ বা ‘এয়ার সুপ্রিমেসি’ প্রতিষ্ঠার দাবি করে ইসরায়েলিবিমান বাহিনী (আইডিএফ) এবং মার্কিন বিমান বাহিনী (ইউএসএএফ)।  

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ২, ২০২৬ 0
ইরানের রাস্তায় খামেনির হাজার হাজার সমর্থক
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত: ইরানসহ বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা Ayatollah Ali Khamenei নিহত হওয়ার খবরে দেশজুড়ে তীব্র শোক ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে। রাজধানী Tehranসহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার সমর্থক রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম Fars News Agency জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর সূর্য ওঠার আগেই বিপুল সংখ্যক মানুষ তেহরানের রেভোলিউশন স্কয়ারের দিকে জড়ো হতে শুরু করেন। অনেকে বুক চাপড়ে শোক প্রকাশ করেন এবং আকাশের দিকে তাকিয়ে খামেনিকে স্মরণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন।   আরও পড়ুন: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera জানায়, সিরাজ ও ইয়াসুজসহ বিভিন্ন শহরে খামেনির ছবি ও জাতীয় পতাকা হাতে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে ইরাকের রাজধানী Baghdad ও পবিত্র শহর Karbalaতেও। পাশাপাশি কাশ্মীর অঞ্চলেও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। করাচিতে মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ ইরানে হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী Karachiতে মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ চলাকালে সহিংসতায় অন্তত ছয়জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হামলার বিবরণ গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও প্রশাসনিক স্থাপনায় ইসরায়েলি-মার্কিন যৌথ বাহিনী হামলা চালায় বলে জানানো হয়েছে। এতে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছাড়াও দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ইরানের পাল্টা জবাব ইসরায়েলি-মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে ইরান তাৎক্ষণিক প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দেশটি ইসরায়েলের রাজধানী Tel Avivসহ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১, ২০২৬ 0
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত — ৪০ দিনের শোক ঘোষণা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলায় নিহত হয়েছেন বলে আজ রোববার (১ মার্চ) দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা এবং রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে। ইরানি রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার বরাতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী খামেনির মৃত্যুর খবর ঘোষণা করার পর দেশ জুড়ে ৪০ দিনব্যাপী শোক পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে গতকাল শনিবার রাতে বিশেষ ঘোষণা বার্তায় জানানো হয় যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মৃত্যুবরণ করেছেন এবং দেশজুড়ে শোক ও স্মরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে শনিবার সকালে ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে দেশটিতে ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালায়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও সরকারি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে, এবং ঘটনাস্থলে খামেনির মৃত্যুর খবর বিভিন্ন প্রাথমিক রিপোর্টে প্রকাশ পায়। খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি প্রথমে ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করতে অস্বীকার করলেও, অবশেষে আজ সকালে সরকারি বার্তাগুলোর মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার মৃত্যুর ফলে ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যত ও পরবর্তী নেতৃত্ব নির্ধারণ প্রক্রিয়া নিয়ে আগ্রহ এবং অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ১৯৮৯ সাল থেকে ক্ষমতায় আসা খামেনি দেশটির সামরিক, রাজনৈতিক এবং বিচার বিভাগসহ সব ক্ষেত্রেই গভীর প্রভাবশালী ছিলেন। তার মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতৃত্ব নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়েও এখন আলোচনা শুরু হয়েছে।   ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি আজ সকালে জানায়, “ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাত বরণ করেছেন।”এর আগে খামেনির নিহত হওয়ার খবর জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেন, “খামেনি মারা গেছেন।”রয়টার্সের প্রতিবেদনের তথ্য, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গতকাল শনিবার সকালে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে হামলায় নিহত হয়েছেন।   ইসরাইলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলায় খামেনি ও তার শীর্ষ সহযোগীরা নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সচিব আলী শামখানি ও ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পসের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপোর। ইরানি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, হামলার ঠিক আগে শামখানি ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সচিব আলী লারিজানির সঙ্গে খামেনি একটি সুরক্ষিত স্থানে বৈঠক করছিলেন। শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বাসভবনের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছিল আল জাজিরা। স্যাটেলাইটে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, খামেনির প্রাসাদটি ধসে পড়েছে। এটির চারপাশ কালো হয়ে গেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে সেখানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যেভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হয়ে উঠলেন বিশ্বের অন্য অনেক দেশের তুলনায় ইরানের শাসন পদ্ধতি বেশ আলাদা। সেখানে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট বা সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হলেও দেশের মূল ক্ষমতা রয়েছে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার হাতে। তিন দশকেরও বেশী সময় ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হিসেবে রয়েছেন। সম্প্রতি ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সময় আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে যে, তাকে হত্যার চেষ্টা করা হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ইরানের কথিত সর্বোচ্চ নেতা কোথায় লুকিয়েছেন সেটি তার জানা, কিন্তু এখনি তাকে মারা হবে না। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নয়, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কেন আমেরিকা বা ইসরায়েলের টার্গেটে সেই প্রশ্নও সামনে আসছে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার শাসনের এই ব্যবস্থা চালু হয় ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে। একটি বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে রেজা শাহ পাহলভীর রাজতন্ত্রকে উৎখাত করা হয়। তাকে উৎখাতের পর ইরানে ধর্মীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর দেশটি দুজন সুপ্রিম লিডার বা সর্বোচ্চ নেতা পেয়েছে। তাদের পদবী হিসেবে আয়াতুল্লাহ ব্যবহার করা হয়, শিয়া ধর্মাবলম্বীদের কাছে যার অর্থ সিনিয়র ধর্মীয় নেতা। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এখন দেশটির সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চীফ। এছাড়া দেশের সব বড় বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তার সম্মতি দরকার হয়। এমনকি ইরান পারমাণবিক ক্ষমতার অধিকারী হবে কিনা অথবা জাতিসংঘের আণবিক শক্তি সংস্থাকে সহযোগিতা করবে কিনা, এসবের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনি দেন। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কে? ১৯৩৯ সালে উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে এক ধর্মীয় পণ্ডিতের ঘরে জন্ম নেওয়া আলী খামেনি নিজ শহরের ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রে পড়াশোনা করেন, পরে যান শিয়া মুসলিমদের পবিত্র নগরী কোমে। ১৯৬২ সালে তিনি শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির বিরুদ্ধাচরণকারী আয়াতুল্লাহ খোমেনির ধর্মীয় আন্দোলনে যোগ দেন। তরুণ আলী খামেনি খোমেনির একজন একনিষ্ঠ অনুসারী হয়ে ওঠেন। তার নিজের ভাষায়, তিনি যা করেছেন এবং এখন যা বিশ্বাস করেন, সবই খোমেনির ইসলামী ভাবধারা থেকে প্রাপ্ত। আলী খামেনি শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির বিরুদ্ধে সরাসরি বিক্ষোভে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং বেশ কয়েকবার গ্রেফতারও হয়েছিলেন। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর, আলী খামেনি বিপ্লবী পরিষদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী হন এবং ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোরকে সংগঠিত করতে সহায়তাও করেন। এই বিপ্লবী গার্ড ইরানের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। ১৯৮১ সালের জুন মাসে, তেহরানের একটি মসজিদে বোমা হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। তার ওপর ওই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল দেশটির বামপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ওপর। এই ঘটনায় তার ডান হাত পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে। দুই মাস পর, একই বিদ্রোহী গোষ্ঠী ইরানের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ-আলী রাজাইকে হত্যা করে। রাজাইয়ের মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি হিসেবে আলী খামেনি ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। আট বছর ধরে আনুষ্ঠানিক এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন তিনি। এই সময় তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মির হোসেইন মুসাভির সঙ্গে নানা মতবিরোধে জড়ান। কারণ তিনি মনে করতেন, মুসাভি ইরানের ব্যবস্থায় অতিরিক্ত সংস্কার আনতে চাইছেন। আলী খামেনি ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ইরানের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পরে ১৯৮৯ সালের জুনে খোমেনির মৃত্যুর পর বিশেষজ্ঞ পরিষদ (ধর্মীয় আলেমদের একটি পরিষদ) আলী খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। যদিও তিনি সংবিধানে নির্ধারিত শিয়া ধর্মগুরুদের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদমর্যাদা বা 'গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ' অর্জন করতে পারেননি। পরে ইরানের সংবিধানে সংশোধন আনা হয়। সংশোধনে বলা হয়েছিল যে, সর্বোচ্চ নেতাকে "ইসলামী পাণ্ডিত্য অর্জন করতে হবে এবং আলী খামেনি নির্বাচিত হতে পারবেন। পরে রাতারাতি তাকে হোজ্জাতুল ইসলাম থেকে আয়াতুল্লাহ পদে উন্নীত করা হয়েছিল। ইরানের সংবিধানে তখন আরও একটি পরিবর্তন আনা হয়। প্রধানমন্ত্রী পদ বাতিল করা হয় এবং রাষ্ট্রপতির হাতে অধিক ক্ষমতা অর্পণ করা হয়। ইরানের সংবিধানও পরিবর্তন করে প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত করে রাষ্ট্রপতির হাতে বৃহত্তর কর্তৃত্ব ন্যস্ত করা হয়েছিল। আয়াতুল্লাহ খামেনি শাসনামলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ ছয়জন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালন করেন। যাদের অনেকেই খামেনির কর্তৃত্বকে কিছুটা চ্যালেঞ্জ করলেও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করেননি। ১৯৯৭ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন সংস্কারপন্থী নেতা মোহাম্মদ খাতামি। মি. খাতামি পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চেয়েছিলেন। মি. খাতামি প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় ইরানের সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও তখন সর্বোচ্চ নেতা খামেনি এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। মি. খাতামির পরে তার উত্তরসূরি হিসেবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন রক্ষণশীল নেতা মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে। মি. আহমাদিনেজাদকে কেউ কেউ আয়াতুল্লাহ খামেনির অনুসারী মনে করতেন। কিন্তু অর্থনীতি এবং বৈদেশিক নীতি নিয়ে আহমাদিনেজাদ সরকারের অবস্থান তখন ইরানে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। একই সাথে মি. আহমাদিনেজাদ নিজের ক্ষমতা বৃদ্ধির চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ নেতা খামেনির সাথে তার বিরোধিতা হয়। ২০০৯ সালে আহমাদিনেজাদের বিতর্কিত পুনঃ-নির্বাচন ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় আন্দোলনের জন্ম দেয়। সর্বোচ্চ নেতা খামেনি ওই নির্বাচনের ফলাফল বৈধ বলে ঘোষণা দেন এবং তীব্র আন্দোলন দমনে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন। এই দমন অভিযানে অনেক বিরোধী কর্মী নিহত হন, গ্রেফতার হন হাজার হাজার মানুষ। ২০১৩ সালে ইরানের উদারপন্থী নেতা হাসান রুহানি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং বিশ্বশক্তিগুলোর সাথে ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি করেন। এই চুক্তি খামেনির সম্মতিতেই সম্পন্ন হয়। তবে রুহানির নাগরিক অধিকার প্রসার ও অর্থনৈতিক সংস্কার উদ্যোগে বাধা দেন সর্বোচ্চ নেতা খামেনি। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে এসে ইরানের ওপর আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সাধারণ ইরানিদের অর্থনৈতিক দুর্দশা আরও বাড়তে শুরু করে। রুহানি সেই চাপ সামলাতে ব্যর্থ হন এবং ২০১৯ সালের নভেম্বরে ব্যাপক গণবিক্ষোভ শুরু হয়। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইরাকের মাটিতে একটি ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রভাবশালী জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যা করে। সোলেইমানি আয়াতুল্লাহ খামেনির ঘনিষ্ঠ মিত্র ও ব্যক্তিগত বন্ধু ছিলেন। এই হামলার পর খামেনি সোলেইমানি হত্যার প্রতিশোধের ঘোষণা দেন। ইরাকের দুটি মার্কিন ঘাটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। পরে তিনি বলেছিলেন, ইরাকে অবস্থিত দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের প্রতিশোধমূলক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ছিল 'আমেরিকার গালে চপেটাঘাত'। খামেনি তখন জোর দিয়ে বলেছিলেন, "এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়।" শীর্ষ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ খামেনি বহুবারই ইসরায়েল রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০১৮ সালে তিনি ইসরায়েলকে "একটি ক্যানসার আক্রান্ত টিউমার" আখ্যা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইসরায়েলকে মুছে ফেলার ফেলার হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি প্রকাশ্যে হলোকাস্ট বা 'ইহুদি গণহত্যা' আদৌ ঘটেছিল কি-না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। ২০১৪ সালে তার টুইটার অ্যাকাউন্টে উদ্ধৃত একটি বার্তায় বলা হয়েছিল: "হলোকাস্ট এমন এক ঘটনা যার বাস্তবতা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে, আর যদি ঘটেও থাকে, সেটা কীভাবে ঘটেছিল, তাও স্পষ্ট নয়। " ২০২০ সালে, আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং ইরানের সরকার দুটি বড় সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল। প্রথম সংকটটি শুরু হয় ওই বছর আটই জানুয়ারি। তখন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি ভুল করে ইউক্রেন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমান তেহরানের কাছে ভূপাতিত করে। এতে বিমানে থাকা ১৭৬ জন যাত্রীর সবাই নিহত হন। যাদের অনেকেই ছিলেন ইরানি নাগরিক। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার ফলে ইরানের ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কট্টরপন্থী সংবাদপত্রগুলি পদত্যাগের দাবি জানায় এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভের নতুন ঢেউ ওঠে। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলির ব্যবহারও করে বলে অভিযোগ ছিল। সে সময় শুক্রবারের জুমার নামাজের বিরল এক খুতবায় আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, "বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় তিনি মর্মাহত"। তবে তিনি তখন সামরিক বাহিনীর পক্ষই নিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইরানের শত্রুরা এই ট্র্যাজেডিকে কাজে লাগিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে, ইরানে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ছড়িয়ে পড়ে। আয়াতুল্লাহ খামেনি প্রথমে করোনাভাইরাসের হুমকিকে খাটো করে দেখেছিলেন, বলেছিলেন যে ইরানের শত্রুরা এটিকে ভয় দেখানোর কৌশল হিসেবে অতিরঞ্জিত করছে। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা বাছাই হয় কিভাবে? ২০২১ সালে ইরানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ঘনিষ্ঠ কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতা এব্রাহিম রাইসি। চলতি বছরের জুনে ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ১৯শে মে ইব্রাহিম রাইসি এক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা গেলে প্রেসিডেন্ট পদটি শূন্য হয়ে যায়। রাইসির মৃত্যুর পর জুলাইয়েই ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন সংস্কারপন্থী নেতা মাসুদ পেজেশকিয়ান। প্রায় ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ খামেনি স্বাস্থ্যগত নানা সমস্যায় ভুগছেন গত কয়েক বছর ধরে। তিনি মারা গেলে বা পদত্যাগ করলে কে হবেন ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা, এই প্রশ্ন ঘিরে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। আয়াতুল্লাহ খামেনির বয়স এবং সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তিনি যে স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে, সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে কে তার উত্তরসূরি হতে পারেন তা নিয়ে অবিরাম জল্পনা-কল্পনা চলছে। আয়াতোল্লোহ খামেনির পরবর্তীতে ইব্রাহিম রাইসিকেই পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নির্বাচিত হবেন বলেই মনে করা হচ্ছিল। সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষের সময় তাকে হত্যার চেষ্টা করা হতে পারে, এমন আশঙ্কায় সম্ভাব্য তিনজন উত্তরসূরির নাম জানিয়েছিলেন বলে নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, এই পদে কে থাকবেন তা নির্ধারণ করেন বিশেষজ্ঞমণ্ডলী বা অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস নামে ৮৮ জন ধর্মীয় নেতার একটি পরিষদ। ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর আয়াতোল্লা আলি খামেনেই দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদে আসীন দ্বিতীয় ব্যক্তি। এই মণ্ডলীর সদস্যদের নির্বাচন করা হয় প্রতি আট বছর অন্তর। কিন্তু কারা গোষ্ঠীর সদস্য পদের জন্য প্রার্থী হতে পারবেন তা নির্ভর করে দেশটির গার্ডিয়ান কাউন্সিল নামে একটি কমিটির অনুমোদনের ওপর। আর এই গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্যদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্বাচন করেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। অর্থাৎ এই দুটি পরিষদ বা মণ্ডলীর ওপর সর্বোচ্চ নেতার প্রভাব থাকে। গত তিন দশক ধরে আলী খামেনি নিশ্চিত করেছেন যে বিশেষজ্ঞ মণ্ডলীর নির্বাচিত সদস্যরা যেন রক্ষণশীল হয় - যারা তার উত্তরসূরি নির্বাচনের সময় তারই নির্দেশ মেনে চলবে। নির্বাচিত হবার পর, সর্বোচ্চ নেতা তার পদে আজীবন বহাল থাকতে পারেন। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা হতে হবে একজন আয়াতুল্লাহকে, অর্থাৎ যিনি একজন শীর্ষস্থানীয় শিয়া ধর্মীয় নেতা। কিন্তু আলী খামেনিকে যখন নির্বাচন করা হয়েছিল, তিনি আয়াতুল্লাহ ছিলেন না। তখন তিনি যাতে এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন, তার জন্য আইন পরিবর্তন করা হয়েছিল।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১, ২০২৬ 0
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত: ইসরায়েলি কর্মকর্তার দাবি, ইরান বলছে বেঁচে আছেন

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর খামেনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ এবং টাইমস অব ইসরায়েলসহ একাধিক গণমাধ্যমও সরকারি সূত্রের বরাতে জানায়, খামেনির মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। তবে, এই দাবি প্রকাশ পাওয়ার পর পরই ইরান সরকার কঠোর ভাষায় তার নেতার জীবিত থাকার দাবি করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-আলম জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ খামেনি এখনো বেঁচে আছেন এবং তিনি পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আরও বলা হয়, তিনি দেশের সেনাবাহিনী এবং সরকারের নেতা হিসেবে দৃঢ়তার সঙ্গে যুদ্ধের ময়দানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।   খামেনি বেঁচে আছেন, দৃঢ়তার সঙ্গে নেতৃত্ব দিচ্ছেন:ইরানের গণমাধ্যমের দাবি এদিকে, এনবিসিতে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “ইরানের প্রায় সব কর্মকর্তা জীবিত, সুস্থ ও নিরাপদ স্থানে আছেন।” তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান আবারও তাদের নেতার বেঁচে থাকার বিষয়ে নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ইরানে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন বা শূন্যতা তৈরি হতে পারে, তবে এখনো কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। এর পাশাপাশি, ইরান সরকার তাদের সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান নিয়ে প্রাথমিকভাবে কোনো বিশেষ প্রতিক্রিয়া দেয়নি। এ ঘটনার পর বিশ্বের নজর তেহরানে, এবং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১, ২০২৬ 0
তেহরানের হাসান আবাদ স্কয়ার
ইসরায়েল–ইরান সংঘাত তীব্রতর: তেহরানে বিস্ফোরণ, ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বাহরাইনে মার্কিন নৌঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে সামরিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তেহরানে বিস্ফোরণ, ‘পূর্ব-নির্ধারিত আক্রমণ’ দাবি ইসরায়েলের ইসরায়েল জানিয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে একটি “পূর্ব-নির্ধারিত আক্রমণ” চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ইরানি গণমাধ্যম দাবি করেছে, রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের রিপাবলিক এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এ পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দেশজুড়ে “বিশেষ ও স্থায়ী জরুরি অবস্থা” ঘোষণা করেছেন। সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় ইসরায়েলজুড়ে সাইরেন বাজানো হচ্ছে। উভয় দেশের আকাশসীমা বন্ধ ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ শনিবার পর্যন্ত বেসামরিক বিমানের জন্য দেশটির আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে। একইভাবে Iran-ও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের সম্পূর্ণ আকাশসীমা বন্ধ রেখেছে। অতীতের হামলা ও পারমাণবিক স্থাপনা গত বছর জুনে ইসরায়েল ইরানের একাধিক পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। তাদের দাবি ছিল, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করাই ছিল লক্ষ্য। ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়। সেগুলো হলো—ফোর্দো, নাতাঞ্জ এবং ইসফাহান। এর মধ্যে ফোর্দো একটি পাহাড়ি অঞ্চলের ভেতরে অবস্থিত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র, যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরান খুব শিগগিরই পারমাণবিক বোমা তৈরিতে সক্ষম হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও সামরিক মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি সতর্ক করে বলেন, পারমাণবিক চুক্তিতে অগ্রগতি না হলে ইরানে হামলা চালানো হবে। এর মধ্যেই জেনেভায় মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। ট্রাম্প একে “আর্মাডা” হিসেবে বর্ণনা করেন। এতে দুটি বিমানবাহী রণতরীসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও জ্বালানি বহনকারী বিমান রয়েছে। বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সার্ভিস সেন্টার লক্ষ্যবস্তু রাষ্ট্রায়ত্ত বাহরাইন নিউজ এজেন্সির বরাতে জানানো হয়েছে, বাহরাইন-এ অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সার্ভিস সেন্টার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। তবে কারা হামলা চালিয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। বাহরাইনের রাজধানী মানামা -তে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জরুরি সাইরেন বাজিয়ে নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। বাহরাইনেই যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর অবস্থিত, যা পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর, আরব সাগর ও ভারত মহাসাগরের অংশজুড়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে। ইসরায়েলে ‘ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা’ দাবি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েলের উপর “ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা” শুরু হয়েছে। তাদের দাবি, ইরানে সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবেই এই পাল্টা আক্রমণ চালানো হচ্ছে। কাতার ও বাহরাইনে মার্কিন দূতাবাসের সতর্কতা কাতার ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে ওই দেশগুলোতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাসগুলো জানিয়েছে, তারা “সকল কর্মীদের জন্য আশ্রয় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন” করছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি ইসরায়েল, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে এই সামরিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে। আকাশসীমা বন্ধ, সামরিক মোতায়েন বৃদ্ধি এবং কূটনৈতিক আলোচনা স্থগিত হওয়ার ফলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা মারাত্মক চাপে পড়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
আফগানিস্তানের খোস্ত প্রদেশে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের সন্ধানে বিমান বিধ্বংসী বন্দুকের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একজন তালেবান সৈন্য
আফগানিস্তান-পাকিস্তান সংঘর্ষ: যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনা চায় তালেবান, পাকিস্তান ঘোষণা করেছে খোলা যুদ্ধ,২৭৪ জন যোদ্ধা নিহত

আল জাজিরা: কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনা এবং পরস্পরের বিরুদ্ধে সংঘর্ষের পর ইসলামাবাদের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রতিবেশীদের "খোলা যুদ্ধ" ঘোষণা করার পর আফগানিস্তানের তালেবান নেতারা বলেছেন যে তারা আলোচনায় আগ্রহী। শুক্রবার পাকিস্তান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল এবং কান্দাহার শহর, যেখানে তালেবান নেতারা অবস্থান করছেন, সেখানে হামলা চালিয়েছে, পাশাপাশি অন্যান্য শহরগুলিতেও, সীমান্তে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। উভয় পক্ষই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ তালেবান সরকারের সাথে "সর্বাত্মক সংঘাত" ঘোষণা করেছেন, X-তে পোস্ট করেছেন: "এখন আমাদের এবং আপনার মধ্যে খোলা যুদ্ধ।" আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন যে তালেবান নেতারা সহিংসতার অবসান ঘটাতে পাকিস্তানের সাথে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। "ইসলামিক আমিরাত অফ আফগানিস্তান সর্বদা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছে, এবং এখন আমরাও আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান করতে চাই," মুজাহিদ বলেছেন। গত সপ্তাহান্তে আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর বৃহস্পতিবার সীমান্তে আফগান প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু হয়, যা পাকিস্তানের দাবির উপর দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা বৃদ্ধি করে যে আফগানিস্তান পাকিস্তানি তালেবান যোদ্ধাদের আশ্রয় দেয়। আফগানিস্তান তা অস্বীকার করে। মুজাহিদ বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে কাবুল, কান্দাহার এবং পাকতিয়ার কিছু অংশে এবং শুক্রবার পাকতিয়া, পাকতিকা, খোস্ত এবং লঘমানে পাকিস্তানি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাদের ভাগাভাগি সীমান্ত বরাবর উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানে পাকিস্তানি সামরিক অবস্থান এবং স্থাপনাগুলিতে আফগান ড্রোন হামলা শুরু হয়। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেছেন, পাকিস্তানি বিমান ও স্থল অভিযানে আফগান বাহিনীর কমপক্ষে ২৭৪ জন সদস্য এবং সহযোগী যোদ্ধা নিহত এবং ৪০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে, যেখানে ১২ জন পাকিস্তানি সৈন্য নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছে। অভিযানে একজন পাকিস্তানি সৈন্য নিখোঁজ রয়েছে। মুজাহিদ বিপুল সংখ্যক আফগান সৈন্যের হতাহতের দাবিকে "মিথ্যা" বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন যে ৫৫ জন পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৩ জনের মৃতদেহ আফগানিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন যে "অনেক" পাকিস্তানি সৈন্যকে বন্দী করা হয়েছে। তিনি বলেন, তেরোজন আফগান সৈন্য নিহত হয়েছে এবং আরও ২২ জন আহত হয়েছে, এবং ১৩ জন বেসামরিক নাগরিকও আহত হয়েছে।                                                                                                                 পরবর্তীতে শুক্রবার, আফগান সরকার জানিয়েছে যে দক্ষিণ-পূর্ব আফগানিস্তানের খোস্ত এবং পাকটিকা প্রদেশে পাকিস্তানের হামলায় ১৯ জন বেসামরিক লোক নিহত এবং ২৬ জন আহত হয়েছে।   সম্পর্কের অবনতি ২০২১ সালে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে এটি ছিল আফগানিস্তানের রাজধানীর উপর পাকিস্তানের সবচেয়ে ব্যাপক বোমাবর্ষণ এবং তালেবান কর্তৃপক্ষের দক্ষিণাঞ্চলীয় শক্তি ঘাঁটিতে প্রথম বিমান হামলা। আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের সংঘাতের বিশ্লেষক, সুইডেন-ভিত্তিক আব্দুল সাঈদ বলেছেন যে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ কারণগুলি আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু করার ক্ষমতার উপর একটি উল্লেখযোগ্য বাধা। এই সীমাবদ্ধতা উভয় দেশের জনসংখ্যার, বিশেষ করে ডুরান্ড লাইনের উভয় পাশে বসবাসকারী উপজাতিদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক থেকে উদ্ভূত, ২,৫৭৫ কিলোমিটার (১,৬০০ মাইল) সীমান্ত যা আন্তর্জাতিকভাবে পাকিস্তানের সীমান্ত হিসাবে স্বীকৃত কিন্তু আফগানিস্তান যাকে বৈধ বলে স্বীকৃতি দেয় না। “ফলস্বরূপ, তার বিশাল সামরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও, পাকিস্তান আফগানিস্তানের সাথে সশস্ত্র সংঘাতের ফলে যে বৃহৎ পরিসরে রক্তপাত হতে পারে তা সহ্য করতে পারে না,” তিনি বলেন। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে প্রতিবেশীদের মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছে, অক্টোবরে উভয় পক্ষের ৭০ জনেরও বেশি লোক নিহত হওয়ার পর থেকে স্থল সীমান্ত ক্রসিং মূলত বন্ধ হয়ে গেছে। কাতার এবং তুরস্কের মধ্যস্থতায় প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির পর ইসলামাবাদ এবং কাবুলের মধ্যে বেশ কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে, কিন্তু প্রচেষ্টা স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘনের পর, সৌদি আরব এই মাসে হস্তক্ষেপ করে, অক্টোবরে আফগানিস্তান কর্তৃক বন্দী তিন পাকিস্তানি সৈন্যের মুক্তির মধ্যস্থতা করে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন যে তিনি আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের মধ্যে "সহিংসতা বৃদ্ধি এবং বেসামরিক জনগণের উপর এর প্রভাব নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন", তার মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছেন। রাশিয়া, ইরান এবং ইরাক এমন দেশগুলির মধ্যে রয়েছে যারা অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
বিল ক্লিনটন ও তার স্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এবং জেফরি এপস্টেইন।
জেফরি এপস্টেইন কাণ্ড : তদন্তের মুখে ক্লিনটন দম্পতি

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন–এর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন একাধিক প্রভাবশালী রাজনীতিক ও ধনকুবের। সম্প্রতি তার মামলার প্রায় ৩০ লক্ষাধিক নথি আদালত প্রকাশ করার পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। সেই ধারাবাহিকতায় তদন্তের মুখে পড়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন।   হাউস ওভারসাইট কমিটির সামনে জবানবন্দি এপস্টেইনের প্রভাববলয় ও সম্ভাব্য সহযোগী নেটওয়ার্ক নিয়ে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে মার্কিন কংগ্রেসের হাউস ওভারসাইট কমিটি–এর সামনে হাজির হবেন ক্লিনটন দম্পতি। তাদের শপথপূর্বক জবানবন্দি নেওয়া হবে। সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের চ্যাপাকুয়ায়, যেখানে ক্লিনটন দম্পতি বসবাস করেন। অধিবেশনটি রুদ্ধদ্বার হলেও তা ভিডিও আকারে ধারণ এবং লিখিত প্রতিলিপি সংরক্ষণ করা হবে। মিথ্যা সাক্ষ্য দিলে আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে।   ‘কংগ্রেসনাল ডিপজিশন’ কী? কংগ্রেসনাল ডিপজিশন হলো আদালতের বাইরে শপথ নিয়ে দেওয়া আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্য। এখানে সাক্ষীকে কমিটির আইনজীবী ও তদন্তকারীরা প্রশ্ন করেন। পুরো প্রক্রিয়া রেকর্ড করা হয় এবং ভবিষ্যতে তা প্রকাশ বা আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হতে পারে।   রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সমন জারি শুরুতে ক্লিনটন দম্পতি সাক্ষ্য দিতে আপত্তি জানান। তাদের দাবি ছিল, তদন্তটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা অভিযোগ করেন, এটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর রাজনৈতিক প্রতিশোধের অংশ। তবে হাউস কমিটি তাদের বিরুদ্ধে ‘কন্টেম্পট অব কংগ্রেস’ প্রস্তাব আনার ইঙ্গিত দিলে পরিস্থিতি বদলায়। দ্বিপাক্ষিক ভোটের মাধ্যমে অবমাননার অভিযোগ আনা হলে তা ফৌজদারি মামলার দিকে গড়াতে পারত। শেষ পর্যন্ত তারা সাক্ষ্য দিতে সম্মত হন। কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমা বলেন, “কেউ ক্লিনটন দম্পতিকে কোনো অন্যায়ের জন্য অভিযুক্ত করছে না। আমাদের কাছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আছে—আমরা শুধু সেগুলোর উত্তর চাই।”   সাক্ষ্যগ্রহণের সময়সূচি হিলারি ক্লিনটন স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সাক্ষ্য দেবেন এবং পরদিন শুক্রবার বিল ক্লিনটন সাক্ষ্য দেবেন। সাধারণত সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে এ ধরনের অধিবেশন শুরু হয়, যদিও নির্দিষ্ট সময় আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। এর আগে একাধিকবার সমন জারি করা হলেও তারা হাজির হননি। বিল ক্লিনটনের সাক্ষ্য প্রথমে ২০২৫ সালের অক্টোবরে নির্ধারিত হয়েছিল, পরে ডিসেম্বরে পিছিয়ে দেওয়া হয়। হিলারি ক্লিনটনের ক্ষেত্রেও একাধিকবার তারিখ পরিবর্তন করা হয়।   অতীতের স্মৃতি: ১৯৯৮ সালের সাক্ষ্য এই ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে ১৯৯৮ সালের সেই বহুল আলোচিত সাক্ষ্যগ্রহণের কথা, যখন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিল ক্লিনটন পউলা জোনসের মামলায় প্রায় ছয় ঘণ্টার ভিডিও সাক্ষ্য দেন। সে সময় তাকে মনিকা লিউইনস্কি–এর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। পরবর্তীতে মিথ্যা সাক্ষ্যের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।   হাউস কমিটি কী তদন্ত করছে? বর্তমানে কমিটি এপস্টেইন এবং তার সহযোগীদের সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখছে। এপস্টেইন ছিলেন এক বিত্তশালী অর্থদাতা, যিনি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবহার করে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি যৌন পাচার চক্র পরিচালনার অভিযোগে দণ্ডিত হন। তার মৃত্যুর পরও তার যোগাযোগের পরিধি ও সম্ভাব্য সহযোগীদের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। প্রকাশিত নথি নতুন করে বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—যার উত্তর খুঁজতেই কংগ্রেসনাল তদন্ত এগিয়ে চলছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা
ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে শতাধিক দুর্নীতির অভিযোগ

ঢাকা: সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ প্রায় সব উপদেষ্টার বিরুদ্ধে শতাধিক দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ। দায়িত্ব ছাড়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই এসব লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে। দুদকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, যে হারে অভিযোগ জমা পড়ছে, তাতে এটি রেকর্ডসংখ্যক অভিযোগে পরিণত হতে পারে। অধিকাংশ অভিযোগে অভিযোগকারীরা নাম প্রকাশ না করলেও, কয়েকটি অভিযোগে নাম-পরিচয়সহ লিখিত চিঠি দেওয়া হয়েছে। দুদক জানিয়েছে, অন্যান্য অভিযোগের মতো এসব অভিযোগও নিয়ম অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে অনুসন্ধান শুরু হবে।   ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে অভিযোগ সূত্র মতে, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—গ্রামীণ টেলিকম ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিয়ম, আয়কর ফাঁকি এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, ব্যক্তিগত ট্রাস্ট গঠন করে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের আয়কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দায়িত্ব পালনকালে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।   আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা ও জামিন বাণিজ্যের অভিযোগ সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, মামলা ও জামিন বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এক অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, একটি শিল্প গ্রুপের সিইও-সংক্রান্ত মামলায় বিপুল অর্থের বিনিময়ে জামিনে প্রভাব বিস্তার করা হয়। এছাড়া বিচারক পদায়ন ও বদলিতে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও আনা হয়েছে।   রিজওয়ানা হাসান, ফাওজুল কবির খান ও অন্যান্য উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান-এর বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রকল্পে অনিয়ম ও সম্পত্তি দখলের অভিযোগ জমা পড়েছে। সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের বিরুদ্ধে বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানির সঙ্গে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে টেন্ডার জালিয়াতি ও হাসপাতাল ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে। দুদক সূত্রে দাবি করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ জমা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ঘুষ গ্রহণ, বিদেশে অর্থ পাচার এবং বেআইনি বিটকয়েন লেনদেন। এছাড়া তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বিরুদ্ধে টেলিভিশন চ্যানেলের লাইসেন্স প্রদানে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও জমা পড়েছে।   টিআইবির বক্তব্য এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই তদন্ত হওয়া উচিত এবং সত্য প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, অতীতে সরকারে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুদকের কার্যক্রম দৃশ্যমান ছিল না। এখন যেহেতু তারা দায়িত্বে নেই, দুদকের উচিত নিরপেক্ষভাবে অভিযোগ যাচাই করা। একই সঙ্গে যেন কেউ হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।   দুদকের অবস্থান দুদক সূত্র জানিয়েছে, সব অভিযোগই নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় যাচাই করা হবে। যেসব অভিযোগ আমলযোগ্য হবে সেগুলো অনুসন্ধানে নেওয়া হবে এবং আমলযোগ্য না হলে তার যুক্তিও তুলে ধরা হবে।   অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের পরপরই একযোগে এত বিপুল সংখ্যক দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়া রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন নজর থাকবে—দুদক কতটা নিরপেক্ষ ও কার্যকরভাবে এসব অভিযোগ তদন্ত করতে পারে এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
শেখ হাসিনা
পিলখানা হত্যা মামলায় আসামি হচ্ছেন শেখ হাসিনা-তাপস-মির্জা আজম-নানক

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় সংঘটিত বিডিআর হত্যাকাণ্ড দেশের ইতিহাসে এক ভয়াবহ ও কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। রক্তাক্ত সেই ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান। দীর্ঘ ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও বিস্ফোরক এই মামলাটি এখনও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি পায়নি। বর্তমানে মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। রক্তাক্ত ২৫ ফেব্রুয়ারি: যা ঘটেছিল সেদিন কেউ কল্পনাও করেনি যে, রাজধানীর অত্যন্ত সুরক্ষিত এলাকা পিলখানায় এমন ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ ঘটতে পারে। তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) সদর দপ্তরে বিদ্রোহের নামে শুরু হয় সহিংসতা, যা দ্রুত রূপ নেয় নির্মম হত্যাকাণ্ডে। দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এটি ছিল এক নজিরবিহীন আঘাত। বিচারিক রায় ও আপিল প্রক্রিয়া ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারিক আদালত ঐতিহাসিক রায়ে: ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেন পরবর্তীতে হাইকোর্টের রায়ে: ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয় ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ২৮৩ জনকে খালাস প্রদান দীর্ঘ আপিল প্রক্রিয়া এবং আইনি জটিলতার কারণে মামলাটি এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি পায়নি। আসামি ও নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিচারিক প্রক্রিয়ার শেষ দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন। সাক্ষ্যে উঠে আসা রাজনৈতিক নাম প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, মামলার বিভিন্ন সাক্ষীর জবানবন্দিতে তৎকালীন কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম উঠে এসেছে। সাক্ষ্যে উল্লেখ করা হয়েছে শেখ হাসিনা, শেখ ফজলে নূর তাপস, মির্জা আজম এবং জাহাঙ্গীর কবির নানক-এর নাম। তবে এসব অভিযোগ বিচারিকভাবে প্রমাণিত হয়নি এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর বিষয়টি নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ৫ আগস্টের পর এই মামলার কয়েকশ’ আসামি জামিন পেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এতে একদিকে যেমন আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান কবে? পিলখানা হত্যাকাণ্ড মামলাটি বাংলাদেশের বিচার ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ ও জটিল মামলা হিসেবে বিবেচিত। এত বিপুল সংখ্যক আসামি, সাক্ষী ও আইনি ধাপ পেরিয়ে মামলাটি এখনও সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে থাকায় বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবার ন্যায়বিচারের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চান। অন্যদিকে আসামিপক্ষও চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তির প্রত্যাশায় রয়েছে। দেশবাসী এখন তাকিয়ে আছে—রক্তাক্ত পিলখানার সেই অধ্যায়ের বিচারিক পরিসমাপ্তি কবে ঘটবে?

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
জাতিসংঘ
বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার চরম আক্রমণের মুখে: জাতিসংঘের কড়া হুঁশিয়ারি

বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার পরিস্থিতি বর্তমানে এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সুদান, গাজা ও ইউক্রেনসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে আন্তর্জাতিক আইনের ব্যাপক লঙ্ঘন এবং সাধারণ মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অ্যান্তোনিও গুতেরেস। সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “আইনের শাসনের জায়গা এখন শক্তির শাসন দখল করে নিচ্ছে। মানবাধিকারকে পরিকল্পিতভাবে এবং কখনও কখনও প্রকাশ্য গর্বের সঙ্গে উপেক্ষা করা হচ্ছে।” সুদান, গাজা ও ইউক্রেনে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সুদান এ চলমান সংঘাতে হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। গাজায় টানা যুদ্ধ ও অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, “একদিকে মানবিক প্রয়োজন বিস্ফোরণোন্মুখ, অন্যদিকে তহবিলের জোগান পুরোপুরি ধসে পড়ছে।” তহবিল সংকটে জাতিসংঘের তদন্ত স্থগিত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান  ভলকার তুর্ক জানান, ব্যাপক অর্থসংকট, বিশেষজ্ঞদের ওপর চাপ এবং কিছু প্রভাবশালী দেশের নিস্পৃহতার কারণে তার দফতর টিকে থাকার লড়াই করছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির সবচেয়ে বড় দাতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। তবে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি বকেয়া থাকলেও দেশটি মাত্র ১৬০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে। তহবিল সংকটের কারণে ২০২৫ সালে শুরু হওয়া দুটি গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত স্থগিত রয়েছে— গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ তদন্ত আফগানিস্তানে মানবাধিকার লঙ্ঘন অনুসন্ধান একজন কূটনীতিক জানান, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মৌখিক সমর্থন থাকলেও অর্থের অভাবে এসব তদন্ত আলোর মুখ দেখছে না। ফিলিস্তিন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের কঠোর সমালোচনা করে গুতেরেস বলেন, “দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানকে দিবালোকেই ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এটি হতে দিতে পারে না।” সম্প্রতি ইসরায়েল সরকার অধিকৃত পশ্চিম তীর নিয়ন্ত্রণ জোরদারে নতুন পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে। এর ফলে বসতি স্থাপনকারীদের জন্য ফিলিস্তিনি ভূমি কেনা আরও সহজ হবে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু  দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিরোধিতা করে আসছেন। তবে ১৯৬৭ সাল থেকে দখলকৃত পশ্চিম তীরসহ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই সংকট সমাধানের পক্ষে বিশ্ব সম্প্রদায়ের বড় অংশ অবস্থান নিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সবচেয়ে তীব্র ক্ষমতার লড়াই ভলকার তুর্ক সতর্ক করে বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বর্তমান বিশ্ব সবচেয়ে তীব্র ক্ষমতা ও সম্পদের লড়াই প্রত্যক্ষ করছে, যার বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক বিভাজন, আঞ্চলিক সংঘাত এবং তহবিল সংকট একত্রে মানবাধিকার রক্ষার আন্তর্জাতিক কাঠামোকে দুর্বল করে দিচ্ছে। সুদান, গাজা, ইউক্রেন ও অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে চলমান মানবিক বিপর্যয় বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার পরিস্থিতিকে গভীর সংকটে ফেলেছে। জাতিসংঘের শীর্ষ নেতৃত্বের সতর্কবার্তা স্পষ্ট— আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মানবাধিকারের বৈশ্বিক কাঠামো আরও ভেঙে পড়তে পারে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
ইরানে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার শঙ্কা
ইরানে মার্কিন হামলার শঙ্কা: তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী,ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন বিশ্ব অর্থনীতি ও খোদ মার্কিন জনগণের পকেটে তার নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম প্রমাণিত তেলের খনি ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুটের নিয়ন্ত্রণ থাকা ইরানের ওপর আক্রমণ করলে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে, যা ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ খবর জানিয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ট্রাম্পের ‘১০ দিনের সময়সীমা’র হুঁশিয়ারিতে ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দাম চড়চড় করে বাড়ছে। বুধবার বিশ্ববাজারের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা গত জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম গত এক মাসে ব্যারেল প্রতি ১০ ডলার বেড়েছে। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আবাসন খাতের মন্দার কারণে রিপাবলিকানরা এমনিতেই চাপের মুখে রয়েছে। এর মধ্যে তেলের দাম বাড়লে তা সাধারণ ভোটারদের ক্ষুব্ধ করে তুলতে পারে। ট্রাম্প গত কয়েক মাস ধরে তেলের দাম কমার যে কৃতিত্ব দাবি করে আসছিলেন, ইরান সংঘাত তা নস্যাৎ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। ইরানের হাতে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। মাত্র ২১ মাইল প্রশস্ত এই সরু জলপথ দিয়ে প্রতিদিন ২ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ হয়, যা বিশ্বের মোট উৎপাদনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে বিশ্বের বাকি অংশে তেল পাঠানোর একমাত্র পথ এটি। সম্প্রতি ইরান সামরিক মহড়ার জন্য এই পথ আংশিক বন্ধ করায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৫ ডলার বেড়ে গিয়েছিল। টর্টয়েজ ক্যাপিটালের পোর্টফোলিও ম্যানেজার রব থামেল সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদী অচলাবস্থা তৈরি হলে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমনটি হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, তেল রফতানি থেকে আয়ের ওপর ইরান সরকার নিজেই নির্ভরশীল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ২ দশমিক ৯২ ডলার। তেলের দাম ব্যারেলে ৮০ ডলার হলে পেট্রোলের দাম ৩ ডলার ছাড়িয়ে যাবে। যদিও ট্রাম্প তেলের দাম কমার কারণে সাধারণ মানুষের বছরে ১০০ থেকে ২০০ ডলার সাশ্রয় হয়েছে বলে দাবি করেন, কিন্তু তার আরোপিত শুল্কের কারণে প্রতিটি মার্কিন পরিবারকে গড়ে ১ হাজার ডলার বাড়তি কর গুনতে হচ্ছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ টুটল বলেন, কম দামে পেট্রোল পাওয়াটা আরামদায়ক ছিল, কিন্তু দাম এখন ধীরে ধীরে আমাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। নির্বাচনের ঠিক আগে তেলের দাম বাড়লে মার্কিনীদের অর্থনৈতিক অসন্তোষ আরও চরম আকার ধারণ করবে। ওপেক-এর তথ্যমতে, ইরান প্রতিদিন গড়ে ৩২ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে, যা বিশ্ব উৎপাদনের ৪ শতাংশ। বিপুল নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান বড় ছাড় দিয়ে তেল রফতানি অব্যাহত রেখেছে। এখন ট্রাম্পের একটি সামরিক পদক্ষেপ যদি এই সরবরাহকে বাধাগ্রস্ত করে, তবে তার ফলাফল ইরানের চেয়েও ট্রাম্পের নিজের দেশের ভোটারদের কাছে বেশি তিক্ত হতে পারে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
একুশের প্রহরে ব্যতিক্রমী প্রোটোকল: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিদায়ের বার্তা?

ঢাকা: মহান একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পৃথক সময়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, প্রথা ভেঙে এই আলাদা আয়োজন রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য বিদায়ের একটি ‘প্রতীকী বার্তা’ বহন করছে। রেওয়াজ অনুযায়ী, একুশের প্রথম প্রহরে প্রধানমন্ত্রী আগে উপস্থিত হয়ে রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান এবং দু’জন একসঙ্গে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। কিন্তু চলতি বছর চিত্রটি ছিল ভিন্ন। রাত ১১টা ৫৮ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রাত ১২টা ১ মিনিটে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। রাষ্ট্রপতির প্রস্থানের পর রাত ১২টা ৫ মিনিটে শহীদ মিনারে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাত ১২টা ৮ মিনিটে তিনি শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর এই পৃথক সময়ে শ্রদ্ধা নিবেদন রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: পদত্যাগ নাকি অভিশংসন? ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করলেও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদে বহাল থাকেন। একই সময়ে তার পদত্যাগের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন গড়ে ওঠে। তবে সে সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাষ্ট্রপতিকে স্বপদে বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে। এরপর আবার সামনে আসে প্রশ্ন—রাষ্ট্রপতি কি দায়িত্বে থাকবেন, নাকি নতুন কেউ আসবেন? ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা Reuters-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, নির্বাচনের পর তিনি সরে যেতে চান এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিজেকে ‘অপমানিত’ মনে করছেন। সংবিধানে যা আছে বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রপতির পদ তিন কারণে শূন্য হতে পারে: মেয়াদ শেষ,স্বেচ্ছা পদত্যাগ,অভিশংসন। অনুচ্ছেদ ৫০ সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। সর্বোচ্চ দুইবার দায়িত্ব পালন করা যায়। বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। অনুচ্ছেদ ১২৩ রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে। পদত্যাগ বা অভিশংসনের ক্ষেত্রে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করতে হয়। বর্তমান বিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ৩৫ বছর বয়স পূর্ণ এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকলে যে কেউ রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে পারেন। সম্ভাব্য প্রক্রিয়া কী? রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে— রাষ্ট্রপতি স্বেচ্ছায় স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। অন্যথায় সংসদে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, অভিশংসনের পথে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সম্মানজনক প্রস্থানের সুযোগ দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ, অভিশংসন রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি করতে পারে। তার ভাষায়, “নবনির্বাচিত সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর সম্মানজনকভাবে পদত্যাগ করলে নতুন সংসদ রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে পারবে।” প্রতীকী বার্তা নাকি কাকতালীয়? বিশ্লেষকদের মতে, একুশের রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পৃথক উপস্থিতি নিছক প্রোটোকলগত পরিবর্তন নয়; বরং এটি একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক সংকেত হতে পারে। নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে, রাষ্ট্রপতি আগেই সরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন—এ অবস্থায় অচিরেই রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন তারা। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ বা অভিশংসন—যে পথই বেছে নেওয়া হোক, সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। মহান একুশের ব্যতিক্রমী আয়োজন সেই পরিবর্তনের পূর্বাভাস কিনা, এখন সেটিই রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

বরিশাল সিটিতে বিএনপির মেয়র মনোনয়ন ঘিরে হিসাব–নিকাশ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও  বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও  বি এম কলেজ এর  সাবেক জি এস  এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা।  নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।  

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

অর্থনীতি

Etihad Airways

Etihad Airways Joins Forces With McLaren Racing to Revolutionise Global Travel and Motorsport – Here’s How It Will Impact F1 and Beyond!

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0




অপরাধ

নরসিংদীতে দুপক্ষের সংঘর্ষ

দুপক্ষের সংঘর্ষ নরসিংদীতে , গুলিতে স্কুল শিক্ষার্থী নিহত

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ও অম্লতা বেড়ে চলেছে।

১৫টি ‘জলবায়ু ঝুঁকি’তে আছে বাংলাদেশ

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0