কারাবন্দী পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সুচিকিৎসার দাবিতে পিটিআইয়ের সমর্থকদের বিক্ষোভ। শুক্রবার করাচি শহরে কারাবন্দী পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সুচিকিৎসার দাবিতে পিটিআইয়ের সমর্থকদের বিক্ষোভ। শুক্রবার করাচি শহরেছবি: রয়টার্স পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তোশাখানা-২ মামলায় দেওয়া সাজা স্থগিত এবং চিকিৎসা ও মানবিক কারণ দেখিয়ে জামিন চেয়ে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে এ আবেদন করেছেন। ব্যারিস্টার সালমান সাফদার ও সালমান আকরাম রাজার মাধ্যমে দায়ের করা আবেদনে কারাবন্দী পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা আদালতের কাছে সাজা স্থগিত করে জামিন মঞ্জুরের অনুরোধ করেছেন। গত বছরের ডিসেম্বরে একটি বিশেষ আদালত তোশাখানা-২ মামলায় ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৭ বছর করে কারাদণ্ড দেন। মামলাটি রাষ্ট্রের বিলাসবহুল উপহার কম দামে ক্রয় এবং পরে তা বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে। ইতালির বিশালবহুল ব্র্যান্ড বুলগারির একটি ‘জুয়েলারি সেট’ কেনার সঙ্গে মামলাটি সম্পর্কিত। ২০২১ সালের মে মাসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইমরান খান সরকারি সফরে সৌদি আরবে গেলে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইমরানকে বুলগারির ওই জুয়েলারি সেটটি উপহার দিয়েছিলেন। এই মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, ইমরান মাত্র ২৯ লাখ রুপির বিনিময়ে ওই জুয়েলারি সেটটি নিয়ে নেন। অথচ এটির বাজারমূল্য প্রায় ৮ কোটি রুপি। ২০২২ সালের এপ্রিলে পার্লামেন্টে বিরোধী দলগুলোর আনা অনাস্থা ভোটে হেরে প্রধানমন্ত্রিত্ব হারান ইমরান খান। এদিকে আলোচিত আল-কাদির ট্রাস্ট মামলা বা ১৯০ মিলিয়ন পাউন্ড দুর্নীতি মামলায় সাজা স্থগিতের আবেদনের দ্রুত শুনানির আবেদনও পৃথকভাবে করা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়, ‘আবেদনকারী (ইমরান) তাঁর ডান চোখের গুরুতর রোগে ভুগছেন।’ এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘মামলার মেরিট এবং চিকিৎসার কারণে সাজা স্থগিতের জন্য আবেদনকারীর অত্যন্ত শক্তিশালী ভিত্তি রয়েছে, যা সম্প্রতি পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় সামনে এসেছে।’ আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রক্ত জমাট বাঁধার কারণে ইমরান খানের ডান চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি ওই চোখে মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি পাচ্ছেন। আবেদনে আরও বলা হয়, ‘চিকিৎসাজনিত জটিলতা এতটাই গুরুতর যে কারাগারের ভেতরে এর যথাযথ চিকিৎসা সম্ভব নয়।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নিরঙ্কুশ ও ঐতিহাসিক বিজয়ে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-কে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি এই অভিনন্দন জানান। বার্তায় শেরিং তোবগে উল্লেখ করেন, নির্বাচনে তারেক রহমান ও তাঁর দল বিএনপির এই বিজয় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। তিনি বলেন, এই বিপুল জনসমর্থন তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রতি জনগণের গভীর আস্থারই বহিঃপ্রকাশ। নতুন সরকারের অধীনে বাংলাদেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যাশা ভুটানের প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় দুই দেশের দীর্ঘদিনের সুগভীর ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে নতুন সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী তাঁর সরকার। বিশেষ করে বাণিজ্য, উন্নয়ন অংশীদারিত্ব, বিদ্যুৎ খাত ও পর্যটন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন শেরিং তোবগে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বের অধীনে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে এবং উভয় দেশের জনগণ পারস্পরিক উন্নয়নের সুফল ভোগ করবে। আঞ্চলিক কূটনীতিতে ইতিবাচক বার্তা কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারত, চীন ও মালয়েশিয়ার পর ভুটানের পক্ষ থেকে এই অভিনন্দন বার্তা নতুন সরকারের জন্য আঞ্চলিক পর্যায়ে ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ‘হিমালয় কন্যা’ হিসেবে পরিচিত ভুটান-এর সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সহযোগিতা ও পর্যটন সম্ভাবনা নতুন সরকারের আমলে আরও গতিশীল হতে পারে। জলবিদ্যুৎ খাতে ভুটানের অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা—দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বার্তার শেষে শেরিং তোবগে তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য এবং বাংলাদেশের জনগণের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন। তিনি এই রাজনৈতিক পরিবর্তনকে ব্যক্তিগতভাবে এবং ভুটানের জনগণের পক্ষ থেকে একটি ইতিবাচক গণতান্ত্রিক উত্তরণ হিসেবে অভিহিত করেন। আন্তর্জাতিক মহলে অভিনন্দন বার্তার এই পরম্পরা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
ঢাকা: ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচন সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছে ফ্রান্স। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের ইতিবাচক মূল্যায়নকে স্বাগত জানিয়ে নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে দেশটি। আজ শনিবার ঢাকায় অবস্থিত Embassy of France in Dhaka থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় বলা হয়, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সফলভাবে, সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দূতাবাস সকল নির্বাচিত প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছে এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান-কে বিজয়ের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছে। ফ্রান্স তার বার্তায় জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের ইতিবাচক মূল্যায়নকে তারা স্বাগত জানায় এবং সংশ্লিষ্ট সকল স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মকর্তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। দূতাবাসের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নবনির্বাচিত নেতৃত্বের অধীনে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ফ্রান্স জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। বার্তায় বলা হয়, নতুন সরকারের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করে বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে আগ্রহী প্যারিস। উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ ছিল এবং বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা নির্বাচন প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে।
শশী থারুরের আশঙ্কা সত্যি হয়নি। মোদি সরকারের আশঙ্কাও নয়। বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জয়লাভ করেছে। গত বছরের শেষের দিকে বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জিততে শুরু করে, তখন দিল্লির কৌশলগত মহলে নিদ্রাহীন রাতের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল জামায়াতের উত্থান। গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন শিবির জয়লাভ করার পর শশী থারুর প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন—এই ফলাফল আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে কেমন প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি লিখেছিলেন, ‘এটি হয়তো অধিকাংশ ভারতীয়ের মনে তেমন কোনো আলোড়ন সৃষ্টি করেনি, তবে ভবিষ্যতের জন্য এটি একটি উদ্বেগজনক ইঙ্গিত।’ গতকাল (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর জামায়াত-নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটকে অনেক পিছনে ফেলে বিএনপি যখন বিজয়ের দিকে এগিয়ে যায়, তখন ভারতে অনেকে সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি সুযোগ দেখতে পান। আপাতত ইসলামপন্থী হুমকি এড়ানো গেছে: দিল্লির উদ্বিগ্ন হওয়ার একাধিক কারণ ছিল। প্রথমত, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াত পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিল। পাশাপাশি ইসলামপন্থী এই দলটি শরিয়া আইন বাস্তবায়নের পক্ষেও কথা বলেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের হুঁশিয়ারি দেন, ভারত যদি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘হস্তক্ষেপ করার সাহস দেখায়’, তবে পঞ্চাশ লাখ বাংলাদেশি তরুণকে নিয়ে ‘পবিত্র যুদ্ধ’ ঘোষণা করা হবে। দিল্লি-ঢাকা সম্পর্কের অবনতির প্রধান কারণ ছিল ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উগ্রবাদের উত্থান রোধে অক্ষমতা—অথবা এতে তাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ। এর ফলে শুধু বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, বরং এর প্রভাব ভারতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরপরই ঢাকা ট্রিবিউন জানায়, জামায়াত দেশের শীর্ষ কওমি আলেমদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছে। বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ইসলামি বিধানভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ইসলামপন্থী শক্তির ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির শরিয়ত মুফতি আবু জাফর কাসেমি বলেন, ‘আমাদের অতীতের সব মতপার্থক্য ভুলে যেতে হবে এবং কোনো রাজনৈতিক দলকে সুযোগ দেওয়া যাবে না।’ বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি দ্য প্রিন্টকে বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পেছনের ঘটনাপ্রবাহে জামায়াতে ইসলামী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ইউনূস সরকারের ওপর জামায়াত উল্লেখযোগ্য প্রভাব বজায় রেখেছিল, যা সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রতিফলিত হয়েছে। দিল্লির উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছিল মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে জামায়াতের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা। ২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারির এক প্রতিবেদনে ইকোনমিক টাইমস লিখেছিল, নির্বাচনের আগে উগ্র ইসলামপন্থী দলটিকে কাছে টানার মার্কিন প্রচেষ্টা কূটনৈতিক মহল ও বাংলাদেশ-বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ভ্রূকুটি সৃষ্টি করেছে। এর আগে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ঢাকা অবস্থানরত এক মার্কিন কূটনীতিকের অডিও রেকর্ডিং সংগ্রহ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে তিনি বর্ণনা করেছিলেন কীভাবে ওয়াশিংটন জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চায়। টানাপোড়েনপূর্ণ অতীত ভুলতে চাওয়া: শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব তীব্রভাবে বেড়ে যায়। ভারত হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে—এই বিষয়টি বাংলাদেশের নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ভালোভাবে গ্রহণযোগ্য হয়নি। হাসিনার শাসনামলে দুই দেশ ঘনিষ্ঠ কৌশলগত মিত্র ছিল। তবে তার অপসারণের পর দিল্লি-ঢাকা সম্পর্ক দ্রুত অবনতি ঘটে। পরিস্থিতি রাতারাতি বদলাবে না। ২০০১-০৬ সময়কালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের জোটসঙ্গী ছিল জামায়াত। তখন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক সবচেয়ে খারাপ সময়গুলোর একটি অতিক্রম করে। ২০০৩ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বীণা সিক্রি দ্য প্রিন্টকে বলেন, পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশি ভূখণ্ড ব্যবহার করত। বাংলাদেশ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছিল। ফ্রন্টলাইন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তারেক রহমান তৎকালীন বিএনপি সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। তার কোনো আনুষ্ঠানিক পদ না থাকলেও বিপুল ক্ষমতা প্রয়োগ করতেন, কিন্তু কোনো জবাবদিহিতা ছিল না। ২০০৪ সালের চট্টগ্রাম অস্ত্র জব্দ মামলায় তার যুক্ত থাকার অভিযোগ ভারতের নিরাপত্তা মহল সহজে ভুলবে না। এটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অস্থিরতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসাম (উলফা)-এর সঙ্গে ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল বলে গণ্য করা হয়। ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিয়েছিলেন। সে সময় তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ইউনূস প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই জয়শঙ্করের ঢাকা সফরটি হয়েছিল। এখন বিএনপি ক্ষমতায় আসায় এবং জামায়াতের পরাজয়ের পর ভারত ও বাংলাদেশ নতুনভাবে শুরু করার আশা করতে পারে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জেন-জি নেতৃত্বাধীন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হাসিনার পতনের পর বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের নিয়ে গঠিত দল ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)। রাজপথে অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া এই দলের প্রার্থীরা ৩০০ আসনের মধ্যে মাত্র ছয়টিতে জয়ী হতে পেরেছেন। অন্যদিকে, ২১২টি আসনে জয়লাভ করে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এনসিপির অনেক সমর্থক মনে করেন, ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করার সিদ্ধান্তই দলটিকে মূল প্রতিযোগিতা থেকে কার্যত ছুড়ে ফেলেছে এবং তাঁরা বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন। শুরুর দিকে এনসিপি প্রায় সব আসনেই প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জোটের অংশ হয়ে তারা মাত্র ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। তবে জোটের ব্যাপারে এনসিপি নেতাদের ভাষ্য একটু ভিন্ন। তাঁরা বলেন, জুলাই আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ নেতা (ওসমান হাদি) নিহত হওয়ার পর বড় দলের সমর্থন ও প্রভাব তাঁদের জন্য জরুরি ছিল এবং এ জন্যই তাঁরা জোটে যান। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে দল হিসেবে একটা রাজনৈতিক ভিত্তি ও মানুষের পর্যাপ্ত সমর্থন আদায় করতে পারেনি এনসিপি। ২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান বলেন, ‘২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর মানুষ যে স্বপ্ন দেখেছিল, এনসিপি তা পূরণ করতে পারেনি। জামায়াতের সঙ্গে জোট আমাদের কাছে বিশ্বাসভঙ্গের মতো লেগেছে। তাই অনেক তরুণ ভোটার তাদের সমর্থন করেনি।’ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপির ছয় বিজয়ীর একজন ৩২ বছর বয়সী আইনজীবী আবদুল্লাহ আল আমিন। তিনি বলেন, দলটি আরও বেশি আসন পাওয়ার আশা করেছিল এবং কয়েকটি আসনে অল্প ব্যবধানে হেরেছে। আল আমিন বলেন, ‘আমরা মাত্র যাত্রা শুরু করেছি। জুলাই আন্দোলনের সময় যখন আমরা রাস্তায় নেমেছিলাম, তখন যে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিলাম, তা বাস্তবায়নে আমরা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে চাই।’ আল আমিন দাবি করেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট করেই এনসিপি ছয়টি আসন পেয়েছে। জোট না হলে এটা সম্ভব ছিল না। কিন্তু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শাকিল আহমেদ মনে করেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট তরুণ ভোটারদের একাংশকে এনসিপি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তিনি বলেন, অনেকে এটিকে পুরোনো রাজনীতিতে ফিরে যাওয়া হিসেবে দেখেছেন, নতুন ধারার সূচনা হিসেবে নয়। এনসিপির এই সিদ্ধান্ত তরুণ ভোটারদের বিভক্ত করেছে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপির ভাবমূর্তি জোরদার করেছে। তবে এনসিপির লক্ষ্য আগামী বছরের স্থানীয় নির্বাচন। দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ জানান, দলটি এখন বিরোধী অবস্থানে থেকে নিজেদের পুনর্গঠন করবে এবং আগামী বছরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেবে। গত বছরের ডিসেম্বরে দলের প্রধান নাহিদ ইসলাম বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছিলেন, দল গঠনের জন্য পর্যাপ্ত সময় তাঁরা পাননি। এ ছাড়া অর্থের সংকট এবং নারী ও সংখ্যালঘু অধিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে স্পষ্ট অবস্থানের অভাবও তাঁদের দুর্বল করেছে। কিন্তু অধ্যাপক শাকিল আহমেদ সতর্ক করে বলেন, এনসিপি যদি নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় পুনর্গঠন করতে না পারে এবং এমন জোট থেকে দূরে না সরে, তাহলে তারা গতি হারাবে এবং বড় রাজনৈতিক শক্তির বদলে প্রতীকী প্রতিপক্ষ হিসেবেই রয়ে যাবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীদের মধ্যে একজন এনসিপির সাবেক নেতা ৩১ বছর বয়সী চিকিৎসক তাসনিম জারা। গত ডিসেম্বরে জোটের প্রতিবাদে এনসিপি ছাড়েন তিনি এবং ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। ৪৪ হাজারের বেশি ভোট পেলেও বড় ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থীর কাছে হেরে যান তিনি। তাসনিম জারা বলেন, ‘আমরা প্রমাণ করেছি যে, পরিচ্ছন্ন ও সৎ প্রচারণার মাধ্যমে মানুষের হৃদয় জয় করা সম্ভব। তবে আমাদের সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়েছে। এমন রাজনৈতিক পরিবেশ টিকিয়ে রাখতে হলে শক্তিশালী হতে হবে। সুস্থ ধারার রাজনৈতিক পরিবেশ রক্ষা করতে হলে ভয়ভীতি মোকাবিলায় সক্ষম সংগঠন গড়ে তুলতে হবে।’ নির্বাচনে নিজের পাওয়া ভোটের কথা উল্লেখ করে জারা বলেন, আশার জায়গা এখনো আছে এবং তিনি আর যুক্তরাজ্যে ফিরে যাচ্ছেন না। তাসনিম জারা বলেন, ‘আমাদের সেরা দিনগুলো এখনো সামনে।’
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে দেশে ফেরার আগে টানা ১৭ বছর যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার মাত্র সাত সপ্তাহের মাথায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পেয়ে তিনি এখন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বেসরকারি ফল অনুযায়ী, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে। ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আমূল বদলে যায়। গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান তার অগ্রাধিকার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। ১. জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার আন্দোলনে ১ হাজার ৪০০–এর বেশি মানুষ নিহত হন। এছাড়া গত ১৫ বছরে হাজারো গুমের অভিযোগ রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে সামাজিক বিভাজন ও অবিশ্বাস দূর করা নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের দেশে ফিরে আসার পর থেকেই ঐক্যের বার্তা দিয়ে আসছেন তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “প্রতিশোধ কিছুই ফিরিয়ে আনতে পারবে না। আমরা যদি এটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারি, তবে সেখান থেকে ভালো কিছু অর্জন করা সম্ভব।” ২. আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার টাইমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার প্রথম অগ্রাধিকার ছিল “আইনের শাসন নিশ্চিত করা।” হাসিনা আমলে রাজনীতিকীকরণের অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠন করাও তার সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে। ৩. অর্থনৈতিক সংস্কার ও কর্মসংস্থান ২০০৬ সালে বাংলাদেশের জিডিপি ছিল ৭ হাজার ১০০ কোটি ডলার, যা ২০২২ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৪৬ হাজার কোটি ডলারে। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আয়বৈষম্য ও বেকারত্ব নিয়ে অসন্তোষ বাড়ে। বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ কর্মবাজারে প্রবেশ করে। যুব বেকারত্বের হার ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়া, আমদানিতে বিধিনিষেধ এবং শিল্প খাতে চাপ—সব মিলিয়ে অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের ও বেকারদের মাসিক নগদ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি— ডিজিটাল অর্থনীতিতে তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করা ব্যাংকিং খাত উদারীকরণ প্রায় ১০ লাখ প্রবাসী কর্মীর দক্ষতা উন্নয়ন এসব পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেছেন তারেক রহমান। ৪. ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বাংলাদেশের রপ্তানি-নির্ভর অর্থনীতির কারণে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। হাসিনা সরকারের পতনের পর নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নির্বাচনে বিএনপির জয় নিশ্চিত হওয়ার পর তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। টাইমকে তারেক বলেন, ভারতের সঙ্গে করা কিছু চুক্তিতে ‘অসামঞ্জস্য’ রয়েছে, যা সংশোধন করা দরকার। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, “সবার আগে থাকবে বাংলাদেশের স্বার্থ।” অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের ওপর ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যা পরে আলোচনার মাধ্যমে কমিয়ে আনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্য ও বাজার সম্প্রসারণও নতুন সরকারের অগ্রাধিকার হবে। ৫. ইসলামপন্থী রাজনীতির বাস্তবতা নির্বাচনে বিএনপির পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। অতীতে এই দলের সঙ্গে জোট করলেও এবার বিএনপি এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। তারেক রহমান বলেছেন, “এটি শুধু বিএনপির দায়িত্ব নয়; বরং দেশের সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব, যারা গণতন্ত্রে ও জনগণের ভোটাধিকারে বিশ্বাস করে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে; যেন ৫ আগস্টের আগের সময়ে আমাদের ফিরতে না হয়।” শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ শেখ হাসিনাকে উৎখাতের আন্দোলন শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থী নেতারা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গঠন করে নির্বাচনে অংশ নেন। আন্দোলনে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমাদের খুবই বড় দায়িত্ব রয়েছে।” ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অধ্যায়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এখন নজর থাকবে—তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলো কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়।
সদ্যসমাপ্ত বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন বিদেশি সংবাদমাধ্যম এবারের নির্বাচনি পরিবেশকে অতীতের তুলনায় ভিন্ন আঙ্গিকে তুলে ধরেছে। বিবিসির দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সংবাদদাতা যোগিতা লিমায়ে এবারের নির্বাচনি পরিবেশকে ২০১৮ সালের নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “বাংলাদেশের নির্বাচনি হাওয়াটা এবার আলাদাই মনে হচ্ছে।” তিনি জানান, ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় শেখ হাসিনার শাসনামলে নির্বাচনি পরিবেশ ছিল একপাক্ষিক। ভোটকেন্দ্র ও রাস্তাঘাটে প্রধানত একটিমাত্র দলের পোস্টার ও প্রচারসামগ্রী দেখা যেত। সাধারণ মানুষ খোলাখুলি মত প্রকাশে ভীত ছিলেন। তবে এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পোস্টার, প্রচার-প্রচারণা এবং ভোটারদের মধ্যে স্পষ্ট উত্তেজনা ও প্রত্যাশা লক্ষ্য করা গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। যদিও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় নির্বাচনটি কতটা অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে—সে প্রশ্নও উত্থাপিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। গোপালগঞ্জ, যা দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, সেখানে ভোটার উপস্থিতি শুরুতে কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা বৃদ্ধি পায় বলে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়। ভারতীয় গণমাধ্যমের নজরে নির্বাচন ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম নির্বাচনের দিন লাইভ আপডেট প্রদান করে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেশের দুই প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর বিএনপি নেতা তারেক রহমান গত ডিসেম্বরে দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশ নেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দ্য হিন্দু তাদের প্রতিবেদনে জানায়, অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জানানো হয়, এসব কেন্দ্রের প্রায় ৯০ শতাংশে সিসিটিভি নজরদারি ছিল। ঢাকায় মোতায়েনকৃত অনেক পুলিশ সদস্য বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করেছেন। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে জামায়াতের অবস্থান এদিকে ক্ষমতায় এলে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ভারত আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী। আমরা ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাই।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদা সমান, এখানে সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই।” ইসলামপন্থি শক্তির উত্থান জার্মানিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে ‘বাংলাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যে ইসলামপন্থিদের প্রভাব বাড়ছে’ শিরোনামে এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়, স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো ইসলামপন্থি শক্তিগুলো উল্লেখযোগ্য নির্বাচনি উপস্থিতি দেখাতে প্রস্তুত। আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ার ফলে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে জোট করে একটি ইসলামপন্থি দল শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও নীতিনির্ধারণে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দৃশ্যমান পরিবর্তন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও প্রতিফলিত হয়েছে। নির্বাচনি পরিবেশ, বড় দুই নেতার অনুপস্থিতি, আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন এবং ইসলামপন্থি শক্তির উত্থান—সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ভিন্ন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।
পবিত্র রমজান মাস শুরুর তারিখ ঘোষণা করেছে ওমান। দেশটিতে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি হবে রমজানের প্রথমদিন। এক প্রতিবেদনে গালফ নিউজ বলছে, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি ওমানে শাবান মাসের ২৯তম দিন হবে। কিন্তু সেদিন আকাশে দেখা যাবে না রমজানের অর্ধচন্দ্র। ওমানের চাঁদ দেখার প্রধান কমিটি বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বলেছে, ১৮ ফেব্রুয়ারি শাবান মাস ৩০দিন পূর্ণ করবে। জ্যোতির্বিদ্যার হিসাব-নিকাশে দেখা গেছে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ওমানের সব অঞ্চলেই চাঁদ সূর্যাস্তের আগেই অস্ত যাবে। ফলে ওইদিন চাঁদ দেখা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। চাঁদ দেখা কমিটি জানিয়েছে, ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক মাণদণ্ড ব্যবহার করে নতুন চন্দ্র মাস শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তিকে ‘একতরফা’ বলে অভিহিত করে তিনি অভিযোগ করেন, এই চুক্তির মাধ্যমে সরকার ‘ভারত মাতাকে বিক্রি’ করে দিয়েছে। রাহুল গান্ধী এই চুক্তিকে ভারতের স্বার্থে একটি ‘পাইকারি আত্মসমর্পণ’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং দাবি করেন যে এর ফলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং কৃষকদের স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। বক্তব্য চলাকালীন রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তোলেন, ভারত মাতাকে বিক্রি করতে সরকারের লজ্জা করছে না কেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই চুক্তির ফলে ভারত কার কাছ থেকে তেল কিনবে তা এখন আমেরিকা নির্ধারণ করবে। কৃষকদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সতর্ক করে দেন যে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি পণ্যে ভারতীয় বাজার ছেয়ে যাবে, যা দেশীয় কৃষকদের জন্য এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। এর পাশাপাশি ভারতীয় বস্ত্রশিল্প এই চুক্তির ফলে ধ্বংস হয়ে গেছে বলেও তিনি দাবি করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের ‘যুদ্ধের যুগ শেষ’ সংক্রান্ত পুরনো মন্তব্যের রেশ ধরে রাহুল গান্ধী বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং বিশ্ব এখন যুদ্ধের যুগের দিকেই ধাবিত হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইন্ডিয়া জোটের সরকার ক্ষমতায় থাকলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সাথে সমমর্যাদার ভিত্তিতে কথা বলত এবং ভারতকে একটি সমান অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করার দাবি জানাত। এই সংকটময় সময়ে দেশের মানুষ, তথ্য সুরক্ষা, খাদ্য সরবরাহ এবং জ্বালানি ব্যবস্থাকে রক্ষা করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রায় দেড় বছর পর আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে রাষ্ট্র সংস্কারের কিছু মৌলিক প্রশ্নে গণভোটও হচ্ছে। বাংলাদেশের এই নির্বাচনের খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ‘লাইভ নিউজ’ প্রকাশ করছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, বাংলাদেশে প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ ভোটার ভোট দিতে যাচ্ছেন। ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে ২০২৪ সালের আগস্টে দীর্ঘদিনের নেতা শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে গণতন্ত্রে ফেরার এটি একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে এই নির্বাচনে সরাসরি লড়াই হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মধ্যে। এই জোটে রয়েছে ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি (এনসিপি), যা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা তরুণ কর্মীদের দ্বারা গঠিত। দুর্নীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন—এসব বিষয়ই নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলছে। বিশ্বের অষ্টম জনবহুল এই দেশে এসব ইস্যু এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি ‘ন্যাশনাল চার্টার ২০২৫’ নামে একটি প্রস্তাবিত সনদ নিয়েও গণভোট হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে তৈরি এই সনদ ভবিষ্যতের রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি নির্ধারণ করবে। আল জাজিরার পাশাপাশি বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ‘লাইভ নিউজ’ প্রকাশ করছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। এতে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ভোটগ্রহণ শুরুর খবর প্রকাশ করা হয়েছে। বিবিসির লাইভে আরও বলা হয়েছে, এটি শুধু ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর প্রথম নির্বাচনই নয়, বরং কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথমবার বাংলাদেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব—শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া—কেউ-ই নির্বাচনী মাঠে নেই। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় দেশের প্রধান ইসলামপন্থি দল প্রথমবারের মতো সাধারণ নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ভোটাররা কেবল নতুন সরকারই নির্বাচন করবেন না; তারা একটি সাংবিধানিক গণভোটেও অংশ নেবেন, যেখানে ‘জুলাই সনদ’ নামে ব্যাপক সংস্কারপ্যাকেজ বাস্তবায়িত হবে কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে গ্রহণ করা হচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে ‘বাংলাদেশের জেন-জি ভোটারদের প্রত্যাশা- চাকরি, সুশাসন ও স্বাধীনতা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চাকরি, সুশাসন এবং ভয়ভীতি ছাড়া কথা বলার স্বাধীনতা—এ তিনটি বিষয়ই বাংলাদেশের জেন-জি প্রজন্মের ভোটারদের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই ভোটকে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির ২০০৯ সালের পর প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অবশ্য শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের দেশটিতে কয়েক মাসের অস্থিরতায় তৈরি পোশাকসহ বড় শিল্প খাতগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে যা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এ পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি স্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী ফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘গণ–অভ্যুত্থানের পর নির্বাচনে বাংলাদেশে বেশি ভোটারের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি। বুধবারের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন বুধবার জানিয়েছে, ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানে ১৫ বছরের স্বৈরশাসনের অবসানের পর অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনে তারা ব্যাপক ভোটারের অংশগ্রহণ আশা করছে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা আবুল ফজল মুহাম্মদ সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমানে ২০ ও ৩০-এর কোঠায় থাকা অনেক তরুণ শেখ হাসিনার কঠোর শাসনের সময় কার্যত নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। ‘বৃহস্পতিবারের নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশের তরুণ ভোটারদের নানা দাবি’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনের শুরুতে বলা হয়, তরুণ ভোটারদের অনেকেই ২০২৪ সালে সরকার পতনের আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের আশা, আসন্ন নির্বাচন দেশের জন্য নতুন দিকনির্দেশনা বয়ে আনবে। ‘বাংলাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যে ইসলামপন্থিদের প্রভাব বাড়ছে’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জার্মানিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে। এতে বলা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্য যে কোনো নির্বাচনের মতো নয়। আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেয়ায় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে জোট করে একটি ইসলামপন্থি দল শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে। ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো ইসলামপন্থি শক্তিগুলো তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী নির্বাচনী উপস্থিতি দেখাতে প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে। এটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রত্যাশার নতুন রূপ তৈরি করছে। নির্বাচন নিয়ে ‘বাংলাদেশের নির্বাচন: ৫০ শতাংশের বেশি ভোটকেন্দ্র ‘ঝুঁকিপূর্ণ’, অধিকাংশ কেন্দ্রেই সিসিটিভি স্থাপন’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের জন্য অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, এসব কেন্দ্রের ৯০ শতাংশে সিসিটিভি নজরদারি থাকবে। ঢাকায় মোতায়েন থাকা অনেক পুলিশ সদস্য বডি ক্যামেরা ব্যবহার করবেন। ‘বাংলাদেশের নির্বাচন: ভুয়া তথ্যে সয়লাব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ডন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক এখন ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারের বড় একটি ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদন মতে, নির্বাচনকে ঘিরে বানানো উক্তি, বিকৃত ছবি এবং বিভ্রান্তিকর ফটোকার্ড ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার নামে মিথ্যা বক্তব্য ছড়িয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। আবার সম্পর্কহীন ছবি ব্যবহার করে বিদেশি সমর্থন বা আন্তর্জাতিক উত্তেজনার ভুয়া ধারণা তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভিজ্যুয়াল ব্যবহার করে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাজানো দৃশ্যে দেখানো হচ্ছে। যেমন, বানানো বৈঠক বা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব অপপ্রচার ভোটের আগে দলীয় বিদ্বেষ বাড়াতে পারে এবং অনেক ভোটারের মতামত প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে যারা সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া তথ্য যাচাই না করেই বিশ্বাস করেন। ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের প্রধান ড. দীন এম সুমন রহমান বলেন, ‘ভুল তথ্য প্রচারের মূল উদ্দেশ্য হলো ভোটারের পছন্দকে প্রভাবিত করা। যেসব ভোটার আগে থেকেই কোনো দল ঠিক করে রেখেছেন, তাদের সেই সিদ্ধান্তকে আরও শক্ত করতে এসব অপপ্রচার কাজ করে।’ তিনি আরও বলেন, এই ধরনের ভুয়া তথ্যের প্রধান লক্ষ্য হলো দোদুল্যমান বা অনিশ্চিত ভোটাররা, যারা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরালো করার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছান। এদিন কর্মসূচির শুরুতে তিনি পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়ামের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের দপ্তরে যান। বৈঠক শেষে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে চমৎকার বৈঠক হয়েছে। আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।’ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক কমানোর সুযোগ খুঁজছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে আগামীকাল (সোমবার) বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একটি বাণিজ্যচুক্তি সই করতে পারে। গত মাসে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ অর্জন করেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাতের প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং নতুন সুযোগ সৃষ্টির পথ খুলেছে। প্রেস উইং আরও জানিয়েছিল, ওয়াশিংটন সফরকালে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত ২০ শতাংশ শুল্কহার কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে সম্মত হয়েছেন। সেইসঙ্গে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে সহায়তা করতে উভয়পক্ষ একটি উদ্ভাবনী সমাধানের বিষয়ে একমত হয়েছে বলেও জানানো হয়।
বাংলাদেশে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত একজন রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তবে আন্তর্জাতিকভাবে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এখনও কম বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে ডব্লিউএইচও জানায়, রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ জেলার ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সি এক নারী গত জানুয়ারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর মারা যান। পরদিন পরীক্ষাগারে তার নিপা ভাইরাসে সংক্রমণ নিশ্চিত হয়। ডব্লিউএইচও আরও জানিয়েছে, ৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ‘ইন্টারন্যাশনাল হেলথ রেগুলেশনস ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট’ (আইএইচআর এনএফপি) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার বিষয়ে অবহিত করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, রোগীর ২১ জানুয়ারি জ্বর ও স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দেয়। তার কোনো ভ্রমণের ইতিহাস না থাকলেও তিনি কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন, যা নিপা সংক্রমণের একটি পরিচিত উৎস। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত তার সংস্পর্শে আসা ৩৫ জনকে পরীক্ষা করেছে, তবে নতুন কোনো সংক্রমণ পাওয়া যায়নি। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক দুটি নিপা সংক্রমণ শনাক্তের পর এ ঘটনা সামনে এলো। এ ভাইরাসের ফলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভ্রমণ বা বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। সংস্থাটি বলেছে, নিপা ভাইরাসজনিত জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে কম বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও কম বলে উল্লেখ করা হয়। ডব্লিউএইচও'র প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস নিপাকে একটি ‘বিরল কিন্তু গুরুতর রোগ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর বিস্তার রোধে কর্তৃপক্ষ নজরদারি, পরীক্ষা ও জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করেছে।
পাকিস্তানের আদিয়ালা জেলে আটক পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এর প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ব্যক্তিগত চিকিৎসকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে রাওয়ালপিন্ডির একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত (এটিসি)। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) উভয় পক্ষের যুক্তি শোনার পর আদালত এই সিদ্ধান্ত জানায়। ইমরান খানের আইনজীবী ফয়সাল মালিক আদালতে যুক্তি দেন, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইমরান খানের সেই সব চিকিৎসা সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে যা অতীতে নওয়াজ শরিফের মতো সাবেক প্রধানমন্ত্রীদের দেওয়া হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ইমরান খান বর্তমানে একজন বিচারাধীন বন্দি এবং নিজের পছন্দমতো চিকিৎসক দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর আইনি অধিকার তার রয়েছে। এছাড়া আদিয়ালা জেলে চোখের বিশেষায়িত চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই বলেও তিনি অভিযোগ করেন। আইনজীবী আরও প্রশ্ন তোলেন যে গত তিন বছর জেলের বাইরে না নেওয়া হলেও কেন হঠাৎ গভীর রাতে তাকে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (পিমস)-এ নেওয়া হলো এবং কেন জেল কোড অনুযায়ী পরিবারকে আগে অবহিত করা হয়নি। অন্যদিকে, বিশেষ প্রসিকিউটর জহির শাহ এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি জানান, ৯ মে’র জিএইচকিউ হামলা মামলায় ইমরান খান জামিনে থাকলেও অন্যান্য মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি, তাই তাকে কেবল বিচারাধীন বন্দি হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। প্রসিকিউটর আরও দাবি করেন, জেল প্রশাসন বা চিকিৎসা ব্যবস্থার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়ার এখতিয়ার এই বিশেষ আদালতের নেই। জেল কোড অনুযায়ী সরকারি চিকিৎসকদের মাধ্যমেই বন্দিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে এবং সেখানে বেসরকারি চিকিৎসকের কোনো বিধান নেই। এদিকে, পিমস হাসপাতালের একটি মেডিকেল রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয়েছে ইমরান খান ডান চোখের একটি রক্তনালী সংক্রান্ত সমস্যায় (সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন) ভুগছিলেন এবং হাসপাতালে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে। জেল কর্তৃপক্ষ আদালতকে জানিয়েছে যে ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবি জেল বিধি মোতাবেক যথাযথ চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন। তবে ইমরান খানের বোন আলিমা খানম অভিযোগ করেছেন, সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রতিশ্রুত মেডিকেল রিপোর্টগুলো এখনো পরিবারকে সরবরাহ করা হয়নি।
পাকিস্তান থেকে মালবাহী ওয়াগন ও বগি কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে বাংলাদেশ। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদ এবং লাহোরের মুঘলপুরাতে অবস্থিত পাকিস্তান রেলওয়ের ক্যারিজ ফ্যাক্টরি ওয়ার্কশপ পরিদর্শন করেছেন। সেখানে তারা ট্রেনের বগি, ওয়াগনসহ অন্যান্য জিনিসপত্র তৈরির বিষয়টি স্বচক্ষে দেখেছেন। পাকিস্তান রেলওয়ের লাহোরভিত্তিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সংগঠন ও কনস্যুলার অ্যাফেয়ার্স সচিব এবং পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল হুসেইন খান গত শুক্রবার মুঘলপুরা ওয়ার্কশপ পরিদর্শন করেন। সেখানকার প্রধান মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ নাসির খালিলি পুরো ওয়ার্কশপের কার্যক্রম, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং রেলওয়ের চলমান প্রজেক্ট নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলকে অবহিত করেন। এছাড়া ওয়ার্কশপের কাজকর্ম নিয়ে তৈরি একটি ছোট প্রামাণ্যচিত্র তাদের দেখানো হয়। পরবর্তীতে তাদের মুঘলপুরার লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিন ওয়ার্কশপে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের ইঞ্জিন রক্ষণাবেক্ষণ ও উৎপাদন সম্পর্কে অবহিত করা হয়। বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা বলেন, তাদের এ সফর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের শক্তিশালী সম্পর্ককে প্রকাশ করেছে। পাকিস্তান রেলওয়ে এখন চারটি দেশে— শ্রীলঙ্কা, নেপাল, চিলি ও আর্জেন্টিনায় ব্রডগেজ লাইনের জন্য ওয়াগন ও বগি সরবরাহ করছে। পাক রেলওয়ের কর্মকর্তা খালিলি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের রেলওয়ের বিশেষজ্ঞ দল পাকিস্তান সফর করবে। সেখানে তারা প্রযুক্তিগত বিস্তারিত তথ্য জানবেন। ডনকে তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ওয়াগন ও বগি কেনা নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করছে। কিন্তু এরমধ্যে ঢাকা আমাদের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে।’ পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী হানিফ আব্বাসি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে রেলওয়ে টু রেলওয়ে সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘এতে উভয়ই লাভবান হবে’।
আগাম সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন জাপানের ভোটাররা। ভোট শেষে চলছে গণনা। এর মধ্যেই বুথফেরত জরিপে দেশটির ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির রক্ষণশীল জোট নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে আভাস পাওয়া গেছে ।ভোটগ্রহণ শেষের প্রায় ৯০ মিনিটের মধ্যেই দেখা গেছে, এলডিপি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ২৩৩ আসন পেয়ে গেছে। দলটি ৩২৮ টি আসন জিততে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে, যা হবে দলটির জন্য এ যাবৎকালের সবচেয়ে ভাল ফল। এলডিপির নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর গত বছরের অক্টোবরে জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ৬৪ বছর বয়সী তাকাইচি। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনে এলডিপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে তিনি পদত্যাগ করবেন। জাপানের প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধি, অভিবাসন আইন কঠোর করা সহ বেশ কিছু উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য নতুন করে জনরায় পেতে রোববারের এ ভোটের ডাক দিয়েছিলেন তাকাইচি। দুর্নীতি কেলেঙ্কারি ও বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে এলডিপি তাদের কয়েক দশকের পুরোনো জোট শরীকদের সমর্থন ও পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। তাকাইচির নেতৃত্বে এ আগাম নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দলটি আবার ঘুরে দাঁড়াবে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ‘শুক্রবার ওমানে অনুষ্ঠিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো দর–কষাকষি হয়নি।’ সেই সঙ্গে তিনি তেহরানের ‘সীমারেখা’ আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন আরাগচি। সাক্ষাৎকারের একটি ছোট ভিডিও ফুটেজ নিজের টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেছেন তিনি। ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুক্রবার ওমানে অনুষ্ঠিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো দর–কষাকষি হয়নি। তার ভাষ্য, এ কর্মসূচি ‘কখনোই দর–কষাকষির’ বিষয় ছিল না। এর আগেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ভূখণ্ডে আক্রমণ চালায়, তবে তেহরানও এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু করবে। এর মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার প্রধান দুই মার্কিন আলোচক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার আরব সাগরে অবস্থান করা বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন পরিদর্শন করেছেন। এটাকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের হুমকির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, এ দুই শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা পারমাণবিক শক্তিচালিত রণতরিটি পরিদর্শন করেছেন। ওমানের মাসকাটে ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের ‘পরোক্ষ’ আলোচনাকে ‘একটি ভালো সুযোগ’ বলে গতকাল মন্তব্য করেন আব্বাস আরাগচি। এ আলোচনাকে ‘ভালো সূচনা’ উল্লেখ করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পারস্পরিক আস্থা প্রতিষ্ঠায় আরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। আল জাজিরাকে আরাগচি বলেন, পারমাণবিক জ্বালানি সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম ইরানের ‘অখণ্ড অধিকার’ এবং এটি অবশ্যই অব্যাহত থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘এ কার্যক্রম নিয়ে একটি আশ্বস্তকারী চুক্তিতে পৌঁছাতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, দেশটির পারমাণবিক ইস্যুর সমাধান শুধু আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব।এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার জানান, ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটন ‘খুব ভালো আলোচনা’ করেছে। ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও আলোচনা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। এরপরও ট্রাম্প গতকাল এক নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। ওই আদেশে তিনি তেহরানের জ্বালানি তেল পরিবহন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
ওমানের রাজধানী মাস্কাটে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও অচলাবস্থার মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের হাতে থাকা ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ কমপক্ষে ৪৪০ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়াম। আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, তুরস্ক, মিসর ও কাতারের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত একটি কাঠামোর আওতায় ইরানকে এই উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তরের শর্ত দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে আগামী তিন বছর ইরানকে সম্পূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। পরবর্তী ধাপে সীমিত পরিসরে সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হতে পারে। হাম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত কাঠামোয় আরও উল্লেখ রয়েছে— ইরানকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মতো আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দেওয়া বন্ধ করতে হবে। তবে এসব শর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আদৌ কতটা ঐকমত্য তৈরি হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, মাস্কাটের এই আলোচনা পারমাণবিক ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে চলা অচলাবস্থা কাটানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হয়ে উঠতে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বারবার জানানো হচ্ছে, সম্ভাব্য কোনো চুক্তি কেবল ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। ওয়াশিংটন চায়— ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানসমর্থিত প্রক্সি বাহিনীগুলোকে দেওয়া সহায়তার বিষয়টিও চুক্তির আওতায় আনতে। অন্যদিকে তেহরান দৃঢ় অবস্থান নিয়ে বলছে, আলোচনার পরিধি শুধু পারমাণবিক ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। এই মতপার্থক্যের মধ্যেই মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো প্রাথমিকভাবে আস্থা তৈরির লক্ষ্যে পারমাণবিক বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে নতুন করে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “খামেনির অত্যন্ত শঙ্কিত হওয়া উচিত। অবশ্যই তাকে খামোশ হতে হবে।”— এমন মন্তব্যের খবর প্রকাশ করেছে সিএনএন। এর আগে গত জানুয়ারিতে ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর দমনপীড়নের অভিযোগ ওঠে। সে সময় পরিস্থিতির জেরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলার হুমকি দেয়। এর অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিমানবাহী রণতরীসহ একাধিক ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করে মার্কিন বাহিনী। উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেয় তুরস্ক। তারই ধারাবাহিকতায় আগামীকাল শুক্রবার দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও বুধবার বৈঠকটি আদৌ হবে কি না— তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। ঠিক তখনই ট্রাম্পের এই হুমকিমূলক বক্তব্য সামনে আসে। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, “ইরানকে অবশ্যই পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরে আসতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।” তিনি দাবি করেন, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো কখনোই ইরানের হাতে পরমাণু শক্তি দেখতে চায় না এবং এ কারণেই তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। নানা নাটকীয়তার পর শেষ পর্যন্ত আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ওমানের রাজধানী মাস্কাটে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার মাস্কাটের স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় বৈঠক শুরু হবে। এদিকে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র শুধু ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নয়, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানসমর্থিত প্রক্সি বাহিনীগুলোকে সহায়তার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। তবে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা পারমাণবিক কর্মসূচির বাইরে অন্য কোনো বিষয়ে আলোচনা করবে না। ইরানের এই কঠোর অবস্থানের কারণেই একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় বসতে অনীহা প্রকাশ করে। একটি সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে জানায়— ওয়াশিংটনের শর্তে আলোচনা করতে হবে, নতুবা কোনো আলোচনা হবে না। এর জবাবে তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, সে ক্ষেত্রে তারা আলোচনায় অংশ নেবে না।
পারস্য উপসাগরে তেল চুরির অভিযোগে দুটি বিদেশি তেল ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। জাহাজ দুটিতে থাকা ১৫ জন বিদেশি ক্রুকেও আটক করে দেশটির বিচার বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তসনিম নিউজ এজেন্সি বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে জানায়, ট্যাঙ্কার দুটিকে পারস্য উপসাগরের ইরানের ফারসি দ্বীপের কাছ থেকে আটক করা হয়। নৌযান দুটিতে এক মিলিয়ন (১০ লাখ) লিটারেরও বেশি পাচারকৃত জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। আইআরজিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ট্যাঙ্কার দুটি কয়েক মাস ধরে জ্বালানি তেল পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল। নৌবাহিনীর ধারাবাহিক নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সেগুলো শনাক্ত ও জব্দ করা হয়। তবে ট্যাঙ্কারগুলো কোন দেশের পতাকা বহন করছিল কিংবা আটক ক্রুদের জাতীয়তা কী— সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এই ঘটনা এমন এক সময় ঘটল, যখন গত জানুয়ারিতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে নৌ-বহর মোতায়েন করে। এর ফলে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বিশ্বের মধ্যে অন্যতম কম হওয়ায় প্রতিবেশী দেশগুলোতে তেল পাচার অত্যন্ত লাভজনক হয়ে উঠেছে। এ কারণেই পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী— যা বিশ্বে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ— সেখানে অবৈধ বাণিজ্যের অভিযোগে ইরানি বাহিনী নিয়মিতভাবে ট্যাঙ্কার জব্দ করছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একই ধরনের একাধিক ঘটনার পর এটিই সর্বশেষ ট্যাঙ্কার আটক করার ঘটনা বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
নাইজেরিয়ার কওয়ারা রাজ্যের একটি গ্রামে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ৬৭ জন নিহত হয়েছেন। রেড ক্রসের এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রদেশটিতে নিযুক্ত রেড ক্রসের সেক্রেটারি বাবামো আইয়োদেজি এএফপিকে বলেছেন, বুধবার তারা ৬৭ জনের মরদেহ শনাক্ত করেছেন। এ সংখ্যা বাড়তে পারে। কিছু বাসিন্দা এখনও নিখোঁজ। নাইজেরিয়ার কিছু এলাকা দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র গোষ্ঠীদের (স্থানীয়ভাবে বান্ডিট নামে পরিচিত) সমস্যায় জর্জরিত। এই গোষ্ঠীর সদস্যরা গ্রামগুলোতে লুটপাটের পাশাপাশি মুক্তিপণ আদায়ের জন্য বাসিন্দাদের অপহরণ করে। দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে জাতিগত সহিংসতা এবং উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা আছে। সবশেষ হামলার বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ নিশ্চিত করলেও তারা হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি। স্থানীয় প্রশাসন এই হামলার জন্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে। কাইয়ামা অঞ্চলের আইনপ্রণেতা বাবা আহমেদ এএফপিকে জানান, হামলার সময় বাসিন্দাদের অনেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঝোপঝাড়ের দিকে পালিয়ে যায়। সেখানে আরও মৃতদেহ পাওয়া যেতে পারে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে যে গ্রামটিতে হামলা হয় সেটির নাম ওরো। বাবা আহমেদ জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে বন্দুকধারীরা গ্রামে ঢুকে দোকানপাট ও রাজার বাসভবনে আগুন দেয়। গ্রামটির বাসিন্দারা স্থানীয়ভাবে রাজার অধীনে চলেন। হামলার পর সেই রাজার খোঁজ পাওয়া যায়নি। কওয়ারা রাজ্যের গভর্নর আব্দুল রহমান আব্দুল রাজাক হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন অংশে চলমান সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের মুখে হতাশ হয়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো কাপুরুষোচিত আক্রমণ চালিয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বরিশালে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর যেন পাহাড়সম ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বর্তমান জেলা প্রশাসক (ডিসি)। পারিবারিক কলহ ও স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে অতীতে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর এই চটে থাকা বলে জানা গেছে। বর্তমানে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের জন্য প্রয়োজনীয় 'নির্বাচনী কার্ড' ইস্যু করাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি। কার্ড ইস্যু নিয়ে চলছে টালবাহানা ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীদের দাবি, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরেও কার্ড দিতে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে। মূলত ডিসির ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণেই মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বরিশালের সাংবাদিক সমাজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং একে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। ব্যক্তিগত আক্রোশের প্রভাব পেশাগত কাজে উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে এই জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়। সেই থেকে সাংবাদিকদের প্রতি তার বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে। ফলস্বরূপ, এখন সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার হরণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিশেষে বলা যায়, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়। নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর সময়ে সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য সংগ্রহের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। একজন সাংবাদিক লিখেছেন, বৌ পেটানো নিউজ করার মাসুল দিচ্ছে বরিশালের সাংবাদিকরা। আরেক সাংবাদিক প্রশাসনের এই প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করে লিখেছেন, ডিসি তার ক্ষমতা দেখাইছে, এখন আমাদের বরিশালের সাংবাদিকদের উচিত সবাই এক হয়ে ক্ষমতা দেখানো। কার পাশা যাবে কার টেবিলে, খেলা যে চলছে কোন লেভেলের! নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের জন্য কার্ড একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথি। কিন্তু কার্ড পেতে বিলম্ব হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন তৈরির কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, সঠিক কারণ ছাড়াই আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বরিশালের সংবাদকর্মী মহলে ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এমন ‘ব্যক্তিগত রোষ’ এবং ‘ক্ষমতার দাপট’ রুখতে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো কঠোর কর্মসূচির কথা ভাবছে। নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অবিলম্বে সাংবাদিকদের কার্ড প্রদানের দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও। কে এই ডিসি খাইরুল আলম সুমন যৌতুক সংক্রান্ত মামলায় কারাবাসের অভিযোগ থাকা একজন কর্মকর্তাকে বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশাসনের ভেতর ও বাইরে বিস্ময় ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বরিশালের ডিসি খায়রুল আলম সুমন ২৯তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা। জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব জেলার আইনশৃঙ্খলা, ম্যাজিস্ট্রেসি ও ভূমিসংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করা—যেখানে ব্যক্তিগত সুনাম ও নৈতিকতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, যাদের ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, এমন কর্মকর্তাকে ডিসি পদে বসানো ইমেজ ও আস্থার প্রশ্ন তৈরি করে। আদালত ও মামলার তথ্য সূত্র অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে ওই মামলায় খায়রুল আলম সুমন ও তার মা খোদেজা বেগমকে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারী থানার এসআই শাহ আলম আদালতে তাদের হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিন—উভয় আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি দীর্ঘ সময় কারাবাসে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের ৫ জুন বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ রাতে ঢাকার ওয়ারী এলাকায় খায়রুলের বাসায় তার মায়ের মাধ্যমে গরম খুন্তি দিয়ে ছেঁকা দেওয়া হয় এবং এ সময় খায়রুল আলম সুমন ভুক্তভোগীর হাত চেপে ধরেন। পরদিন ওয়ারী থানায় মামলা করা হয়। বিভাগীয় মামলা ও পদোন্নতি স্ত্রীর করা মামলার পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েও অভিযোগ দেওয়া হলে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এর ফলে নিয়মিত পদোন্নতি ব্যাহত হয় বলে জানা গেছে। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর উপসচিব পদে তার পদোন্নতির আদেশ জারি হলেও সেখানে ২০২৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ভূতাপেক্ষ (ব্যাকডেটেড) পদোন্নতি দেখানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নিজেকে পদোন্নতিতে বঞ্চিত দাবি করে তিনি ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত তথ্য ও ডিসির বক্তব্য খায়রুল আলম সুমনের ‘ব্যক্তিগত ডাটা শিটে’ (পিডিএস) বর্তমানে তাকে ‘অবিবাহিত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খায়রুল আলম সুমন বলেন, “এসব আমার ব্যক্তিগত তথ্য। আমার নামে বিভাগীয় মামলা ছিল—সবই কর্তৃপক্ষ জানে এবং জেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি এসব নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।” প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মত জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলা প্রশাসক পদটি কেবল প্রশাসনিক নয়—এটি নৈতিক নেতৃত্বেরও প্রতীক। একজন ডিসির ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ থাকলে জেলার আইনশৃঙ্খলা ও ম্যাজিস্ট্রেসি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশ্ন ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাদের ভাষ্য, “ডিসির সুনামটাই সবচেয়ে জরুরি।” সূত্র জানায়, খায়রুল আলম সুমন প্রবেশনার হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাকরি শুরু করেন। সে সময়ের ডিসি মো. আবদুল মান্নানের মেয়েকে তিনি বিয়ে করেছিলেন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম ডিসি কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া নাঙ্গলকোট, নিকলি ও বাজিতপুরে এসিল্যান্ড এবং ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী ও দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বরিশালের ডিসি হিসেবে তার নিয়োগ প্রশাসনে নৈতিকতা ও যোগ্যতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও অবস্থান প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।