ইরান-ইসরাইল যুদ্ধে নিহত ১২০০ ছাড়াল, ইসরাইলে আহত প্রায় ২০০০ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে: মিসাইল হামলায় সৌদিতে বাংলাদেশিসহ নিহত ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ: তেহরানে তেল ডিপোতে আগুন, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরাইল সংঘাতে প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলার পর শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলছে। ইসরাইলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে মোট ১ হাজার ৯২৯ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৩ জন ইসরাইলি নিহত হয়েছেন। রোববার (৮ মার্চ) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের হামলায় নতুন করে আরও ১৫৭ জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে ১১২ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আতঙ্কে নাগরিকরা ইসরাইলি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার সময় সাইরেন বাজলে অনেক নাগরিক দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় হুড়োহুড়ি বা পড়ে গিয়ে অনেকে আহত হয়েছেন। নাগরিকদের সতর্কতার সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইরানে নিহত ১২০০ এর বেশি অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ অন্তত ১ হাজার ২০০ জন নিহত এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেছেন, তারা এই যুদ্ধে কোনো যুদ্ধবিরতি চান না। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ইরানের ওপর আগ্রাসন চালানো হলে হামলাকারীদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, অন্য কোনো দেশ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হলে তেহরান উপযুক্ত জবাব দেবে। সৌদি আরবে মিসাইল হামলায় বাংলাদেশিসহ নিহত যুদ্ধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের আল-কারজ শহরে ইরানের ছোড়া একটি মিসাইল আবাসিক এলাকায় আঘাত হানে। এই হামলায় একজন বাংলাদেশি ও একজন ভারতীয় নিহত হয়েছেন। এছাড়া ১২ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। জানা গেছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি মেইনটেনেন্স ও ক্লিনিং কোম্পানির ভবনে আঘাত হানে। আমিরাতের দিকে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির দিকে ২৩৮টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১ হাজার ৪২২টি ড্রোন এবং ৮টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী— ২২১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে ১ হাজার ৩৪২টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে ৮টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে তেহরানে তেল ডিপোতে হামলা শনিবার রাতে ইরানের রাজধানী তেহরানে বেশ কয়েকটি তেল ডিপোতে হামলা চালায় ইসরাইল। হামলার পর ডিপোগুলোতে বড় ধরনের আগুন লাগে। এসব ডিপোর তেল সাধারণত রাজধানীর বাসিন্দারা ব্যবহার করে থাকেন। ফলে দেশটিতে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছানোর হুঁশিয়ারি ইরানের সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারি সতর্ক করে বলেছেন, ইসরাইল যদি তেল ডিপোতে হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে ইরানও এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালাতে পারে। তিনি বলেন, “আপনারা যদি এক ব্যারেল তেলের দাম ২০০ ডলার সহ্য করতে পারেন, তাহলে এই খেলা চলতে দিন।” ‘অপারেশন ওয়াদে সাদেক ৪’ ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ইসরাইলের বেয়ারশেবা ও তেল আবিব শহর এবং জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই হামলাকে “অপারেশন ওয়াদে সাদেক ৪”-এর ২৮তম ধাপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আইআরজিসি দাবি করেছে, এই হামলায় ‘খেইবার’ ধরনের ভারী ওয়ারহেডযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা ইরানের সরকারি সামরিক অবকাঠামোর ওপর নতুন করে হামলা শুরু করেছে।
বাবার হত্যার পর খামেনির ছেলেকে ইরান নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছে মোজতবা খামেনির বিরুদ্ধে এখন ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে ৪৭ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটের মধ্য দিয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ আনা হবে। ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পুত্র মোজতবা খামেনি তেহরানে জেরুজালেম দিবস উপলক্ষে এক বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। [ফাইল: মোর্তেজা নিকোবাজল/নূরফটো গেটি ইমেজেসের মাধ্যমে] মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার মাত্র এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পরে ইরান মোজতবা খামেনিকে তার নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছে, যা পুরো অঞ্চলকে এক বিস্তৃত যুদ্ধে ডুবিয়ে দিয়েছে। ৫৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তিকে এখন ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে ৪৭ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটের মধ্য দিয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ আনা হবে, রবিবার ধর্মগুরুরা তার বাবার উত্তরসূরি হিসেবে নাম ঘোষণা করেছেন। ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং সশস্ত্র বাহিনী, সকলেই নতুন নেতার প্রতি তাদের সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি, যিনি আমেরিকা ও ইসরায়েলের সর্বাত্মক আক্রমণ শুরু করার পর থেকে ইরানের নিরাপত্তা কৌশল পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন, তিনি নতুন সর্বোচ্চ নেতার চারপাশে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই পছন্দকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে অনুসরণ করা একটি "ধর্মীয় ও জাতীয় কর্তব্য"। মোজতবা খামেনি কখনও পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি বা জনসাধারণের ভোটের শিকার হননি, তবে কয়েক দশক ধরে সর্বোচ্চ নেতার অভ্যন্তরীণ বৃত্তে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, আইআরজিসির সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, খামেনিকে তার বাবার সম্ভাব্য শীর্ষস্থানীয় বিকল্প হিসেবে ক্রমবর্ধমানভাবে প্রচার করা হচ্ছে। তার নির্বাচন ইরানের প্রতিষ্ঠানের আরও কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলির ক্ষমতা ধরে রাখার লক্ষণ হতে পারে এবং এটি ইঙ্গিত দিতে পারে যে যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করায় সরকারের স্বল্পমেয়াদে কোনও চুক্তি বা আলোচনায় সম্মত হওয়ার খুব কম ইচ্ছা রয়েছে। আল জাজিরার আলী হাশেম খামেনিকে তার "পিতার দারোয়ান" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। "তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের ক্ষেত্রে তার পিতার অবস্থান গ্রহণ করেন। তাই আমরা একজন সংঘাতমূলক নেতার প্রত্যাশা করছি। আমরা কোনও মধ্যপন্থা আশা করছি না," তিনি বলেন। "তবে, যদি এই যুদ্ধ শেষ হয় এবং তিনি এখনও বেঁচে থাকেন এবং তিনি দেশ পরিচালনা চালিয়ে যেতে সক্ষম হন, তাহলে ইরানের জন্য নতুন পথ খুঁজে বের করার বিশাল সম্ভাবনা থাকবে," হাশেম বলেন। আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অফ বৈরুতের একজন বিশিষ্ট পাবলিক পলিসি ফেলো রামি খুরি বলেন, খামেনির নিয়োগ "ধারাবাহিকতার" ইঙ্গিত দেয় এবং নতুন সর্বোচ্চ নেতা যুদ্ধের অবসানের জন্য আলোচনার জন্য চাপ দেবেন কিনা তা দেখার বিষয়। আপনার আগ্রহের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক সতর্কতা এবং আপডেট পান। বড় খবর ঘটলে প্রথমেই জানুন। তিনি বলেন, তার নিয়োগ ছিল "অবাধ্যতার একটি কাজ"। তিনি আরও বলেন, ইরান "আমেরিকান এবং ইসরায়েলিদের বলছিল 'আপনি আমাদের ব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেতে চান? আচ্ছা ... এটি তার বাবার চেয়েও বেশি উগ্র ব্যক্তি যিনি নিহত হয়েছেন'।" দেশের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য হায়দারি আলেকাসির বলেন, প্রার্থীকে প্রয়াত খামেনির পরামর্শের ভিত্তিতে নির্বাচিত করা হয়েছে যে ইরানের শীর্ষ নেতাকে "শত্রুদের দ্বারা ঘৃণা করা উচিত" বরং তাদের দ্বারা প্রশংসা করা উচিত। “এমনকি মহান শয়তান (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)ও তার নাম উল্লেখ করেছে,” এই জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতা বলেন। ট্রাম্পের পূর্বের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, মোজতবা খামেনি তার জন্য "অগ্রহণযোগ্য" পছন্দ হবেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পূর্বে যেকোনো উত্তরসূরীকে সতর্ক করে দিয়েছিল যে "আমরা আপনাকে লক্ষ্যবস্তু করতে দ্বিধা করব না"। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে কাকে নির্বাচিত করা হবে তার উপর প্রভাব বিস্তারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বলেছিলেন যে, ওয়াশিংটনের অনুমোদন ছাড়া, যাকে এই ভূমিকার জন্য নির্বাচিত করা হবে তিনি "দীর্ঘদিন টিকবেন না"। খামেনির ছেলের নির্বাচন নিশ্চিতভাবেই ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করবে। সর্বোচ্চ নেতা ‘এপস্টাইনের দল’ দ্বারা নির্ধারিত হয়নি ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ রবিবার বলেছে যে "অপরাধী আমেরিকা এবং দুষ্ট ইহুদিবাদী শাসনের নৃশংস আগ্রাসন" সত্ত্বেও, তারা নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করতে "এক মিনিটের জন্যও দ্বিধা করেনি"। এর আগে, ধর্মীয় সংস্থাটি ইঙ্গিত দিয়েছিল যে তারা তাদের পছন্দের বিষয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ ঐক্যমতে পৌঁছেছে, নাম উল্লেখ না করেই, একজন সদস্য বলেছিলেন, "ইমাম খোমেনির পথ এবং শহীদ ইমাম খামেনির পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। খামেনির নাম অব্যাহত থাকবে।" খামেনি শিয়া ধর্মতাত্ত্বিক শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র কোমের মাদ্রাসাগুলিতে রক্ষণশীল ধর্মীয় নেতাদের অধীনে পড়াশোনা করেছেন এবং হোজ্জাতোলেসলামের ধর্মীয় পদমর্যাদা ধারণ করেছেন। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের নেতৃত্বদানকারী আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির স্থলাভিষিক্ত হয়ে ৩৭ বছর ধরে ইরান শাসনকারী আলী খামেনি ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন। যুদ্ধের শুরুতেই মধ্যপ্রাচ্যে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যেই খামেনির যেকোনো বিকল্পকে হত্যার হুমকি দিয়েছে, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি মনোনয়নের বিষয়ে মতামত দাবি করেছিলেন, বলেছেন যে ইরানের সামরিক বাহিনী এবং শাসকদের নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হলেই যুদ্ধ শেষ হতে পারে। ট্রাম্প রবিবার বলেছেন যে ইরানের পরবর্তী নেতা তার অনুমোদন ছাড়া "দীর্ঘদিন" টিকবেন না। "তাকে আমাদের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে," ট্রাম্প এবিসি নিউজকে বলেন। "যদি তিনি আমাদের কাছ থেকে অনুমোদন না পান তবে তিনি বেশিদিন টিকবেন না।" ইরানি কর্মকর্তারা দেশের পরবর্তী নেতা নির্বাচনের সাথে জড়িত থাকার জন্য ট্রাম্পের চাপ প্রত্যাখ্যান করেছেন, জোর দিয়ে বলেছেন যে কেবল ইরানিরাই তাদের দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবিকে উপহাস করেছেন যে তিনি খামেনির উত্তরসূরি নিয়োগে তাদের বক্তব্য রাখতে চান। “প্রিয় ইরানের ভাগ্য, যা জীবনের চেয়েও মূল্যবান, তা কেবল গর্বিত ইরানি জাতির দ্বারা নির্ধারিত হবে, [জেফ্রি] এপস্টাইনের দল দ্বারা নয়,” গালিবাফ X-এ লিখেছেন, প্রয়াত যৌন অপরাধীর কথা উল্লেখ করে যার সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধনী ও ক্ষমতাশালী ব্যক্তিত্বদের সম্পর্ক ছিল। অন্ধকার আকাশ ধর্মগুরুরা নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করার সাথে সাথে, তেহরানের উপর একটি অন্ধকার কুয়াশা ছড়িয়ে পড়ে যখন ইসরায়েল রাতারাতি রাজধানী শহর এবং তার আশেপাশের পাঁচটি তেল স্থাপনায় হামলা চালায়, সেগুলিতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং আকাশ তীব্র ধোঁয়ায় ভরে যায়। যুদ্ধ যখন নবম দিনে পৌঁছে, তখন আইআরজিসি বলে যে তাদের কাছে মধ্যপ্রাচ্যে ছয় মাস পর্যন্ত তাদের ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। গার্ডের মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি বলেছেন যে ইরান এখনও পর্যন্ত কেবল প্রথম এবং দ্বিতীয় প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, তবে আগামী দিনে "উন্নত এবং কম ব্যবহৃত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র" ব্যবহার করবে। ট্রাম্প আবারও ইরানে আমেরিকান স্থল সেনা পাঠানোর বিষয়টি উড়িয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, তবে জোর দিয়ে বলেছেন যে চলমান ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা সত্ত্বেও যুদ্ধ প্রায় জয়ী হয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিচ্ছেন যে মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন যে এক মাস বা তার বেশি সময় ধরে চলতে পারে এমন একটি সংঘাতের অবসানের কোনও স্পষ্ট পথ এখনও নেই। মোজতবা খামেনি প্রভাবশালী মোজতবা খামেনি কখনও জনসম্মুখে কোনো নির্বাচনে অংশ নেননি। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি তার বাবার ঘনিষ্ঠ বৃত্তে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। বিশ্লেষকদের মতে, আইআরজিসির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল গোষ্ঠীর সমর্থনের কারণেই তাকে উত্তরসূরি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাকে আলী খামেনির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কঠোর বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পরবর্তী নেতা যদি ওয়াশিংটনের অনুমোদন না পান, তাহলে তিনি “দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না”। এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও সতর্ক করে দিয়েছে যে ইরানের নতুন যেকোনো নেতাকে লক্ষ্যবস্তু করতে তারা দ্বিধা করবে না। তবে ইরানের নেতারা এই মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে কেবল ইরানের জনগণ। চলমান যুদ্ধ আরও তীব্র হতে পারে যুদ্ধ ইতোমধ্যে নবম দিনে পৌঁছেছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের কাছে অন্তত ছয় মাস পর্যন্ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো অস্ত্র রয়েছে। গার্ডের মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি বলেছেন, এখন পর্যন্ত তারা মূলত প্রথম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হতে পারে। বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন নেতৃত্ব ক্ষমতায় আসার ফলে ইরানের নীতিতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। তবে যদি চলমান যুদ্ধ শেষ হয় এবং নতুন নেতা স্থিতিশীলভাবে ক্ষমতায় থাকতে পারেন, তাহলে ইরানের জন্য নতুন রাজনৈতিক পথ খুঁজে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মার্চ ৯, ২০২৬
ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দখলদার ইসরায়েল যদি তাদের তেল ডিপোতে আরও হামলা চালায় তাহলে এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তেল ডিপো ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালাবে তারা। গতকাল রাতে ইরানের রাজধানী তেহরানের বেশ কয়েকটি তেল ডিপোতে হামলা চালায়। এরপর সেগুলো আগুনে দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে। সাধারণত তেহরানের সাধারণ মানুষ এসব ডিপোর তেল ব্যবহার করে থাকেন। ইসরায়েলিদের হামলার কারণে তারা জ্বালানি সংকটের শঙ্কায় পড়ে গেছেন। ইরানের সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারি বলেছেন, “ইসলামিক দেশগুলোর কাছে প্রত্যাশা করছি ক্রিমিনাল আমেরিকা এবং বর্বর ইহুদিবাদী ইসরায়েলের সরকারকে এমন অমানবিক কাজের ব্যাপারে দ্রুত সম্ভব সতর্ক করবে।” “নয়ত, একই ধরনের ব্যবস্থা এ অঞ্চলেও নেওয়া হবে। আর আপনারা যদি এক ব্যারেল তেলের দাম ২০০ ডলার সহ্য করতে পারেন, তাহলে এই খেলা চলতে দিন।”
মার্চ ৯, ২০২৬
রফিকুল ইসলাম : সত্তর বছরের সুখী বেগম জীবনে মাত্র কয়েকবারই সুখের মুখ দেখেছেন। গত ৫০ বছরে প্রমত্তা ব্রক্ষ্মপুত্রের বন্যা আর নদী ভাঙ্গনে সাত বার নিজের ভিটে-মাটি হারিয়েছেন সুখী বেগম। পাঁচ সন্তানের জননী সুখী বেগম এখনও নদীর বুকে জন্ম নেয়া এক ধরনের দ্বীপে বসবাস করেন যার স্থানীয় নাম চর। এই চরে নিজের ঘর থাকলেও মনে সব সময়ই ভয় কখন আবার বন্যার পানিতে সব হারিয়ে যায়। আর সেজন্যই তার মতো হাজারো চরবাসী নতনু নতুন কৌশল অবলম্বন করছে নদীকেন্দ্রীক বিপদ থেকে বাঁচার জন্য। হয়ত এই প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই তারা স্বপ্ন দেখেন আগামীর। বাংলাদেশের জামালপুরের পাকুয়ার চরে নিজ বাড়ির পিছনে মেয়ে বানী বেগমের (৫০) সাথে সুখী বেগম। ২৪ এপ্রিল, ২০২২ (ছবি: মোহাম্মদ আবদুস সালাম/ দ্য থার্ড পোল) “প্রায় ৫০ বছর আগে আমরা সারিয়াকান্দির পাকুয়ার চরে গিয়ে বসত গড়েছিলাম (সারিয়াকান্দি বাংলাদেশের উত্তরের জেলা বগুড়ার অন্তর্গত)। সেই দিনটির কথা আমার এখনও স্পষ্টভাবে মনে পড়ে যেদিন প্রথমবারের মতো নদী ভাঙনের কারনে আমাদের ঘরবাড়ি ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যত্র চলে যেতে হয়েছিল। সেখানে নতুন জীবনের আশায় আমরা ঘর বেঁধেছিলাম, কিন্তু প্রমত্তা এই নদী বার বার আমাদের ঘর-বাড়ি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।” সুখী বেগম এখনও অন্য কোথাও গিয়ে আবারো নতুন করে বসত গড়তে চান না। বন্যা সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে য়ায় সেটা যেমন জানেন সুখী বেগম, তেমনি এটাও বোঝেন যে এই বন্যার পানি সুদূর হিমালয় থেকে পলি বয়ে এনে এই চরগুলোকে একটি উর্বর ভূমিতে রুপান্তর করে। “আমি এই চরের মাটিতেই জন্ম গ্রহন করেছি, আর এই চরের বুকেই শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করতে চাই।” যেভাবে ব্রহ্মপুত্রের বুকে সৃষ্টি হয় চর ব্রহ্মপুত্র নদ বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ পলি বহনকারী একটি নদী এবং এর পলি পরিবহনের গতিশীলতা উত্তর-পূর্ব ভারত এবং ভাটিতে অবস্থিত বাংলাদেশের বাস্তুতন্ত্র এবং কৃষিকে মারাত্বকভাবে প্রভাবিত করে। ঢাকা-ভিত্তিক সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেমের (সিইজিআইএস) নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা এ খান বলেন, “প্রতি বছর প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন টন পলি উজান থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের মাধ্যমে আমাদের দেশে আসে। উজান থেকে আসা পলির সবটুকুই বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পতিত হয় না। এর একটি অংশ নদীল বুকে জমে সৃষ্ট করে ছোট বড় অনেক চর। ফিদা এ খান বলেন, ব্রহ্মপুত্র ও এর উপনদীর বাংলাদেশের অংশে প্রায় ৫০টি ছোট-বড় চর রয়েছে। এছাড়াও এখানে আরো প্রায় ২০ থেকে ২৫টি ডুবো চর রয়েছে। ব্রক্ষ্মপুত্র নদীটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে এক পর্যায়ে যমুনা নাম ধারণ করেছে। এই নদীটি ঠিক যেভাবে বছর বছর বন্যায় অনেক চর ধ্বংস করে আবার হাজার ক্রোশ দুর থেক পলি বয়ে এনে চরের বুকে জমিয়ে নতুন নতুন চরের জন্ম দেয়। ঠিক যেমনটি ঘটেছে পাকুয়ার চরের একপাশে। সেখানে পাটের আবাদ করেছেন ৩৪ বছরের যুবক জিয়াউর রহমান। পেশায় কৃষক জিয়াউর রহমান ভালো করেই জানেন যে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের এই বর্ষা মৌসুমে যে কোনো সময় বন্যার কারনে তার এই ফসল তলিয়ে যেতে পারে। তিনি তার বাড়িটি কিছুটা দুরে গিয়ে অনেকটাই স্থায়ী একটি চরে সরিয়ে নিয়ছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বন্যার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এভাবেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বসত বাড়ি সরিয়ে নেয়াটা এক ধরনের অভিযোজনের অংশ এখানকার মানুষের। অভিযোজন প্রতি বর্ষায় ব্রক্ষ্মপুত্রের চরে বাস করা মানুষগুলো ভালো করেই জানে যে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই বালু আর পলিতে গড়া অপেক্ষাকৃত নিচু এই সব দ্বীপের বিরাট অংশ বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় – এর জন্য বড় ধরনের কোনো বন্যার প্রয়োজন হয় না, সামান্য বন্যাতেই এখানকার নিচু অংশগুলো ডুবে যায়। তাই এখানকার বাসিন্দাদের অনেকেই নিজেদের মাটির ঘরগুলোকে নিজেদের সাধ্যমতো ভূমি থেকে কিছুটা উঁচু করে তৈরি করে থাকে। পাশাপাশি তারা তাদের বাড়ির ভিতরের বিছানাগুলো হ্যামকের মতো দড়ি দিয়ে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখে। তক্তাগুলোকে একসাথে হাতুড়ী দিয়ে পিটিয়ে মাঁচার মতো করে সমান উচ্চতায় রাখা হয়। আর বন্যার পানি নিজেদের ঘরের মেঝেতে পৌছে গেলে তারা এভাবেই বসবাস করে থাকে। জামালপুরের শুভগাছা চরে বন্যার সময় পানির থেকে বাঁচতে হ্যামোকের মতো করে এভাবে দড়ি দিয়ে বিছানা ঝুলিয়ে রাখার কৌশলটি সেখানকার মাসুষের কাছে এখন বেশ জনপ্রিয় (ছবি: মোহাম্মদ আব্দুস সালাম/ দ্য থার্ড পোল) কিন্তু অস্বাভাবিক বন্যা হলে পানি আরো উচ্চতায় পৌছে যায়। তাই প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কলা গাছের কাণ্ড কেটে তারা এক ধরনের ভেলা বানিয়ে রাখে যাতে প্রবল বন্যার সময় তারা সেই ভেলাতে আশ্রয় নিতে পারে। মাঝে মাঝে ভেলায় ভেসে তাদের দিনের পর দিন বসবাস করতে হয়। অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছল পরিবারগুলো বন্যার সময় পানিতে বাড়ি ডুবে গেলে নিজেদের নৌকায় বসবাস করে। এসময় বাড়ি-ঘর, রাস্তাঘাট, বাজার – সবই থাকে পানির নিচে। চরে বাড়ি তৈরীর সময় সেখানকার বাসিন্দারা মাটি দিয়ে উঁচু ভিত তৈরী করে নিজেদের সাধ্যমতো যাতে বন্যার সময় বাড়ির সামনে পানি এলেও নিজেদের ঘর কিছুটা উঁচুতে থাকে। (শুভগাছা চর, জামালপুর থেকে ছবিটি তুলেছেন মোহাম্মদ আব্দুস সালাম/দ্য থার্ড পোল) “যখন বন্যার পানিতে আমাদের ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়, আমরা তখন ঘরের ভিতরে মাঁচা বানিয়ে কিংবা নৌকা বা ভেলায় বসবাস করি। যখন পরিস্থিতি খুব খারাপ হয়ে যায়, তখন প্রাণ বাঁচাতে চরের বাসিন্দারা (সরকার পরিচালিত) আশ্রয় কেন্দ্রে ছুটে যায়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের মতো সহায় সম্বলহীন মানুষগুলো নিজেদের যা কিছুই আছে তা রেখে আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে চায় না, বলছিলেন জিয়াউর। চরের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই একটি বিষয় খুব চোখে পড়ে, বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারগুলোতে – আর সেটি হচ্ছে একটি পানি নিরোধক বাক্স। বন্যার সময় চরের বাসিন্দারা তাদের জমির দলিলপত্রসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে এই বাক্সের ভিতরে রেখে দেয় যাতে পানিতে তা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। চরে প্রায় প্রত্যেকটি পরিবারেই একটি করে পানি নিরোধক বাক্স থাকে যাতে বন্যার সময় তারা নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ দলিল দস্তাবেজসহ অন্যান্য নথিপত্র নিরাপদে রাখতে পারে। (দমোদরপুর চর থেকে দ্য থার্ড পোলের জন্য ছবিটি তুলেছেন মোহাম্মদ আব্দুস সালাম) চরে সবচেয়ে বড় অভিযোজনের বিষয়টি দেখা যায় কৃষির ক্ষেত্রে। পাশেই আরেক চর শুভগাছার মোজাম মণ্ডল বলেন, আমাদের এখানকার চাষীরা এখন বন্যার পানি সহায়ক ভূট্টার চাষ শুরু করছে। “এই বছর আমি প্রায় এক একর জমিতে (০.৪ হেক্টর) ভূট্টার চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছি।” “আমরা আসলে চরে ভূট্টা চাষে বেশ আগ্রহ বোধ করছি কারণ এই ফসল বিক্রি করে আমরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছি। অন্যান্য ফসল বিক্রি করে আমরা যে মুনাফা পাই তার চেয়ে ভূট্টা চাষে মুনাফা অনেক বেশি। আমি এবছর প্রতি মন ভূট্টা (৩৭.৩২ কেজি) ১,৩০০ টাকায় (১৫ মার্কিন ডলার) বিক্রি করেছি”, সরিষাবাড়ি উপজেলার অন্তর্গত চর দৌলতপুরের কৃষক মোজাম্মেল হক দ্য থার্ড পোলের কাছে এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশের ব্রক্ষ্মপুত্র নদীর চরগুলোতে ব্যাপকভাবে ভূট্টার চাষ করা হয়। (ছবিটি জামালপুরের শুভগাছা চর থেকে তোলা। দ্য থার্ড পোলের জন্য ছবিটি তুলেছেন মোহাম্মদ আব্দুস সালাম) বন্যার সময় গৃহপালিত পশুদের কী অবস্থা হয়? জানতে চাইলে মোজাম বলেন, আসলে নিজেদের পাশাপাশি বন্যার সময় তৈরি করা ভেলাগুলোতে গৃহপালিত পশুগুলোকেও একসাথে রাখা হয়। চরবাসীরা শুকনো চালের বিভিন্ন ধরনের খাদ্য সাথে রেখে থাকেন। বন্যার সময় কোনো ঘাসময় জমি পাওয়া পর্যন্ত এসব গৃহপালিত পশু অনেকটাই না খেয়ে থাকে। উঁচু ভীতে ঘর বেঁধে স্বপ্নের বুনন এমিলি বেগম (৫০) জানতেন তার পরিবার ভিত উঁচু করে ঘর বাঁধতে সক্ষম নয়। কিন্তু ২০২১ সালে সরকারী উন্নয়ন সংস্থা পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউণ্ডেশনের পক্ষ থেকে তাদের ঘর উঁচু করে বাঁধার জন্য সহায়তা দেয়া হয়। এখন তার মনে হচ্ছে তার পরিবার এখন আগের চেয়ে অনেকটাই নিরাপদ। “আগে বন্যার সময় আমাদের গৃহপালিত পশুগুলোকে নিরাপদে রাখার মতো জায়গা না থাকায় অত্যন্ত স্বল্প মূল্যে এসব পশু বন্যার আগে আগে বাজারে বিক্রি করতে হতো”, এমিলি বলেন। কিন্তু এখন ঘরের ভীত আরো উঁচু হওয়ায় সেখানে নিজেদের ছাগলসহ অন্যান্য গৃহপালিত পশুগুলোকে সহজেই নিরাপদে রাখা সম্ভব। “এখন আর আমাদের বন্যার সময় স্বল্প মূল্যে ছাগলগুলোকে বিক্রি করার প্রয়োজন পড়ে না।” চরের বাসিন্দাদের জন্য নেয়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে জামালপুরের চর শুভগাছায় বন্যার সময় ছাগলসহ অন্যান্য গৃহপালিত পশুদের নিরাপদ রাখতে এই ধরনের উঁচু ভীত তৈরি করা হয়। (ছবি: মোহাম্মদ আব্দুস সালাম/ দ্য থার্ড পোল) এসব উঁচু ভীতগুলো অনেক সময় বেশ প্রশস্ত হয় যেখানে চরের বাসিন্দারা ফলমূল ও শাকসব্জি চাষ করতে পারে। “আমি এবার আমাদের বাড়ির উঁচু ভীতে লাউ চাষ করে ১,৪০০ টাকা (১৬ মার্কিন ডলার) আয় করেছি”, এই চরের আরেক বাসিন্দা সীমা বেগম বেশ উচ্ছ্বসিত হয়ে এ কথা বলেন। “আমি এবার পেঁপে বিক্রি করে আরো টাকা আয় করবো। আমার গাছের ফলগুলো এখন পাকতে শুরু করেছে।” পিকেএসএফের এক্সটেন্ডেড কমিউনিটি ক্লাইমেট প্রজেক্টের সমন্বয়ক ফরিদুর রহমান বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৮৭টি পরিবারকে জলবায় সহায়ক উঁচু ভীতের বাড়ি তৈরীর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তবে এটি পর্যাপ্ত নয় কারন এসব চরে অসংখ্য দরিদ্র পরিবারের বসবাস। ডুবে যাওয়া টিউবওয়েল আর টয়লেটের সুরক্ষা বন্যার সময় চরের টিউবঅয়েলগুলো একেবারেই যুবে যায়। এসব টিউবঅয়েল চরবাসীর খাবার পানির উৎস। আর প্রতি বর্ষায় এসব চরে পানির প্রচন্ড স্বল্পতা থাকে। কিন্তু বর্তমান সময়ে এখানকার পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থার বেশ উন্নয়ন হয়েছে – সরকারী সহায়তায় গড়ে তোলা এসব টয়লেট এখন উঁচু ভীতের উপরে স্থাপন করা হচ্ছে। এখন আর আগের মতো এসব টয়লেট বন্যার সময় পানিতে তলিয়ে যায় না। মাদারগঞ্জের নদঘরি চরের আফরোজা বেগম বলেন, “আগে বন্যার সময় আমাদের টয়লেট আর টিউবঅয়েলগুলো পানিতে ডুবে যেত। এখন আমরা এই টয়লেট আর টিউবঅয়েল উঁচু ভীতের উপরে স্থাপন করছি। আমাদের বিশ্বাস ভবিষ্যতে বন্যার সময় আমাদের আর পানি এবং পয়:নিষ্কাশন নিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে না।” শুভগাছা চরে বন্যার সময় পানিতে তলিয়ে যাবার হাত থেকে সুরক্ষায় উঁচু ভীতের উপরে স্থাপিত একটি পাবলিক টয়লেট। (ছবি: মোহাম্মদ আব্দুস সালাম/দ্য থার্ড পোল) বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও শিশু একটি বন্যা কিন্তু নারীদের প্রথাগত যে ভূমিকা রয়েছে তা কোনো অংশেই হ্রাস করে না – যেমন পরিবারের জন্য রান্না করা এবং পানীয় জল বয়ে আনা ইত্যাদি। বন্যা হলে এসব পারিবারিক কার্যক্রম তাদের জন্য আরো কঠিন হয়ে যায়। অনেককেই একটি কার্যকর টিউবঅয়েলের খোঁজে কমপক্ষে এক কিলোমিটার পথ হাটতে হয়। কেউ কেউ নৌকা বা ভেলায় করে সেসব স্থানে পৌঁছায়। আবার অনেককেই গলা সমান বন্যার পানিতে হেঁটে অন্যদের মধ্য দিয়ে পানির খোঁজে বের হতে হয়। জামালপুর জেলার চর দামুদুরপুরের বাসিন্দা মাহমুদা বেগম বলেন, “খাবার পানি সংগ্রহ করা সত্যিই একটি কঠিন কাজ। “আমাদের নৌকা বা ভেলায় করে অনেক দূর যেতে হয়।” বাংলাদেশের স্থানীয় এনজিও নেটওয়ার্ক অন ক্লাইমেট চেঞ্জ-এর গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি ম্যানেজার মুহাম্মদ ফররুখ রহমান বলেন, “আর যখন নারীদের আশ্রয়কেন্দ্রে বা বাঁধের উপরে থাকতে বাধ্য হতে হয়, তখন তারা অনেক সময় যৌন হয়রানিরও শিকার হয়ে থাকেন, বিশেষ করে যখন তারা রাতে পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করেন।” চরাঞ্চলে শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষার সুযোগ নেই। যে কয়েকটি স্কুল আছে তা প্রতি বছর বন্যার সময় বন্ধ থাকে। শিশুদের মাসের পর মাস ক্লাস বন্ধ করে বাড়িতে বসে থাকতে হয়। চরে বসবাসকারী অল্প সংখ্যক শিশুই স্কুলে যায়,এসব স্কুল প্রতি বছর কয়েক মাস বন্যার পানিতে ডুবে থাকে এবং বন্ধ থাকে – চর শুভগাছা, জামালপুর (ছবি: মোহাম্মদ আব্দুস সালাম/দ্য থার্ড পোল) কেন মানুষ চরে বাস করে ? ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গা এবং অন্যান্য নদী হিমালয় থেকে পলি বয়ে নিয়ে এসে এই চরগুলোককে এতই উর্বর করে তোলে যে সেগুলি নিয়ে বহু শতাব্দী ধরে লড়াই হয়ে আসছে – স্থানীয় জমিদাররা চর দখল করার জন্য ব্যক্তিগত বাহিনী গড়ে থুলতেন (যাদের পাইক এবং লাঠিয়াল বলা হয়)। তারা ভূমিহীন কৃষকদের চরের জমি চাষ করতে এবং অসুবিধা সত্ত্বেও সেখানে বসবাস করতে উৎসাহিত করে। চরে বসবাসকারী কৃষক পরিবারের অনেকেই আজ তাদের বংশধর। চরে তারা ধান, ভুট্টা, পাট, শাকসবজির ফলন করে – সবই অন্য মাটির চেয়ে ভালো জন্মায়। বছরের যেকোনো সময় চরে ফসলের অভাব হয় না। মাহমুদা বেগম বলেন, “চরে ফসলের কোনো অভাব নেই. এখানে বারো মাসে তেরো ফসল হয়।” স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সেবার ঘাটতি চর শুভগাছার বাসিন্দা আলাল মন্ডল বলেন, কেউ অসুস্থ হলে আমাদের এখানে ডাক্তার পাওয়া যায় না। “সুতরাং, রোগীকে নৌকা বা ভেলায় করে তিন কিলোমিটার দূরে গাবের গ্রামে নিয়ে যেতে হয়। এরপর তাদের জামালপুরের হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হতে পারে।” তার প্রতিবেশী আবদুর রহমান জানান, চরে কোনো কমিউনিটি ক্লিনিক নেই। চরের বাসিন্দাদের সরকার পরিচালিত নানা প্রকল্প যেমন ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং), ভিজিডি (ভালনারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট) কর্মসূচি, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা বা প্রতিবন্ধী ভাতার সুযোগ খুব কম। অভিযোগ রয়েছে যে কাউকে একটি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করতে রাজি হওয়ার আগে কর্মকর্তারা ঘুষ চেয়ে থাকেন।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
শরীয়তপুরে মসলা জাতীয় ফসল ধনিয়া চাষের সুনাম বহু বছর ধরে রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাজারে ধনিয়ার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলাজুড়ে ধনিয়ার আবাদ বেড়ে চলেছে। উৎপাদন খরচ কম এবং বাজার মূল্য ভালো হওয়ায় কৃষকরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে ধনিয়া চাষ করছেন। ভালো লাভের আশায় চাষিরা সার ও কীটনাশকের দাম কমানোর দাবি জানাচ্ছেন। জেলার কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৬টি উপজেলায় কমবেশি ধনিয়ার আবাদ হয়। রবিশস্য হিসেবে ধনিয়া ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এবং বাজারে চড়া দামের কারণে কৃষকরা ঝুঁকি নিয়েও ধনিয়া চাষ করছেন। দিন দিন জেলায় ধনিয়া চাষের জমির পরিমাণ বেড়ে চলেছে। গত মৌসুমে ধনিয়া চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৫৬ হেক্টর। বাস্তবে আবাদ হয়েছে ৬ হাজার ২৮০ হেক্টর। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ২৮০ হেক্টর, তবে আবাদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩২০ হেক্টরে। সরেজমিনে দেখা যায়, শস্যের মাঠগুলো ধনিয়া ফুলের সাদা চাদরে আবৃত। ফুলের মিষ্টি গন্ধে মৌমাছি ঘুরে বেড়াচ্ছে। কৃষকরা জমিতে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে ফলন ভালো হয়েছে। বাজার মূল্যও ভালো থাকায় চাষিরা চড়া দামে বিক্রির আশায় রয়েছেন। তবে সরকারিভাবে সার ও কীটনাশকের দাম কমানোর দাবি তারা পুনরায় জানাচ্ছেন। সদর উপজেলার রুদ্রকর এলাকার কৃষক হরে রাম কুলু জানিয়েছেন, ‘প্রত্যেক শতাংশে ধনিয়ায় খরচ হয় দেড়শ টাকা, আর বিক্রি করলে পাই তিন থেকে চারশ টাকা। বাজারে চাহিদা ভালো থাকায় আমরা ধনিয়া চাষে লাভবান হচ্ছি।’ অপর কৃষক ধীরেন মজুমদার বলেন, ‘একসময় ধনিয়ার বাজারে চাহিদা কম থাকায় বাড়িতে ফেরত আনতাম। কিন্তু এখন চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অধিকাংশ কৃষক অন্যান্য রবিশস্যের তুলনায় ধনিয়া বেশি আবাদ করছেন।’ তবে বাজারে ভালো দাম থাকা সত্ত্বেও সার ও কীটনাশকের মূল্য বৃদ্ধিতে কৃষকরা হতাশ। নেছার শিকদার নামের এক কৃষক বলেন, ‘সরকার যদি সার ও কীটনাশকের দাম কমায়, তাহলে লাভ আরও বৃদ্ধি পেত। আমরা এ বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা চাই।’ জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শরীয়তপুরের মাটি ধনিয়া চাষের জন্য উপযুক্ত। খরচ কম এবং বাজারে চাহিদা ভালো থাকায় দিন দিন কৃষকরা ধনিয়া চাষে ঝুঁকছেন। আমরা তাদের পরামর্শ এবং সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে থাকি।’ শরীয়তপুরে ধনিয়া চাষ ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে। কৃষি বিভাগের সহায়তা ও বাজারের চাহিদার কারণে চাষিরা আশা করছেন, আগামী মৌসুমগুলোতেও ধনিয়া তাদের প্রধান আয়ের উৎস থাকবে।
মুকুলে ভরা আম্রকাননে নেমেছে ঋতুরাজের নীরব উৎসব। সোনালি-সবুজ আভায় মোড়া ডালপালা আর মিষ্টি ঘ্রাণে মুখর চারপাশ যেন জানান দিচ্ছে মধুমাসের আগমনী বার্তা। প্রকৃতির এই রঙিন আয়োজনে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা যশোর-এর শার্শা উপজেলা এখন জেগে উঠেছে নতুন প্রত্যাশায়। আম গাছের ডালে ডালে ফুটেছে মুকুল, আর সেই সুবাসে ভরে উঠেছে গ্রামবাংলার পথঘাট। বসন্তের আগমনী সুরে কৃষকের চোখে ভাসছে সম্ভাব্য সমৃদ্ধির স্বপ্ন। ৯০ শতাংশ গাছে মুকুল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, বাণিজ্যিক বাগান থেকে শুরু করে বাড়ির আঙিনার গাছেও ব্যাপকভাবে মুকুল এসেছে। বড় গাছের তুলনায় ছোট ও মাঝারি আকারের গাছে তুলনামূলক বেশি মুকুল দেখা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার প্রায় ৯০ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে। মৌমাছির আনাগোনা ও কোকিলের কুহুতানে মুখর হয়ে উঠেছে বাগান এলাকা। দেশি জাতের পাশাপাশি এখানে হিমসাগর, আম্রপালি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, মল্লিকা, বুম্বাই, কাটিমন ও বারি জাতের আমের চাষ হচ্ছে। ১,০৬০ হেক্টরে বাণিজ্যিক আবাদ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, শার্শা উপজেলায় মোট ১ হাজার ৬০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আমের আবাদ হচ্ছে এবং নিবন্ধিত আমচাষির সংখ্যা ৪ হাজার ৬৬৮ জন। চাষকৃত জাতভিত্তিক জমির পরিমাণ নিম্নরূপ— হিমসাগর — ৩৩৭ হেক্টর আম্রপালি — ২১৫ হেক্টর ল্যাংড়া — ১৫৫ হেক্টর গোপালভোগ — ১৫৫ হেক্টর গোবিন্দভোগ — ৬০ হেক্টর মল্লিকা — ৩৫ হেক্টর বুম্বাই — ৫৯ হেক্টর কাটিমন — ৯ হেক্টর বারি-৪ — ২০ হেক্টর বারি-১১ — ১ হেক্টর দেশি জাত — ৩৪ হেক্টর জেলার মধ্যে শার্শা ছাড়াও ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আমের চাষ হয়ে থাকে। চাষিদের প্রত্যাশা উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের আমচাষি আব্দুল মান্নান বলেন, “মৌসুমের শুরু থেকেই আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। কুয়াশা বা অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত না থাকায় গাছে স্বাভাবিকভাবে মুকুল এসেছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের পোকার আক্রমণও দেখা যায়নি। সামনে ঝড় বা শিলাবৃষ্টি না হলে ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।” আরেক চাষি ইসমাইল হোসেন জানান, “গাছের অবস্থা বেশ ভালো। আমরা নিয়মিত বাগান পর্যবেক্ষণ করছি এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী পরিচর্যা করছি। মুকুলের পরিমাণ দেখে ফলন সন্তোষজনক হবে বলে আশা করছি।” কৃষি বিভাগের সতর্কবার্তা শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার শাহা বলেন, “এ অঞ্চলের দোআঁশ মাটি ও জলবায়ু আম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে রয়েছে। ফলে গাছে মুকুলের পরিমাণ সন্তোষজনক। তবে ছত্রাকজনিত রোগ বা হঠাৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। চাষিদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতে বলা হচ্ছে।” বাম্পার ফলনের আশা সবকিছু অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে শার্শায় আমের বাম্পার ফলন হবে—এমনটাই প্রত্যাশা চাষি ও কৃষি বিভাগের। মুকুলের এই সুবাস তাই শুধু প্রকৃতির রূপ নয়, হাজারো কৃষকের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
বরিশাল নগরীর প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত গির্জামহল্লা এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে ‘হানিট্র্যাপ’ ফাঁদ পেতে এক যুবকের কাছ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ এক তরুণীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং হোটেলের মালিক ও ম্যানেজারসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, ঘটনাটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; বরং এটি একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের কার্যক্রমের ইঙ্গিত দিতে পারে। তদন্ত কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, একই কৌশলে আরও অনেক ব্যক্তি প্রতারণার শিকার হয়ে থাকতে পারেন। কীভাবে ফাঁদে পড়েন ভুক্তভোগী মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল সদর উপজেলার কড়াপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম খান (ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়নি) গত ৭ মার্চ বিকেলে আব্দুর রহমান নামে এক পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে একটি ফোন পান। ফোনে আব্দুর রহমান তাকে জরুরি কাজের কথা বলে নগরীর গির্জামহল্লা এলাকায় আসতে বলেন। সিরাজুল ইসলামের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি রাত প্রায় ৯টার দিকে সেখানে পৌঁছালে তাকে কৌশলে একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে হোটেল ইম্পেরিয়ালের চতুর্থ তলার ৪২৮ নম্বর কক্ষে ঢুকতে বলা হয়। কক্ষটিতে ঢোকার পরই পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। আপত্তিকর পরিস্থিতি তৈরি ও ভিডিও ধারণ ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি কক্ষে ঢোকার পর সেখানে আগে থেকেই কয়েকজন ব্যক্তি ওত পেতে ছিলেন। একপর্যায়ে চক্রের নারী সদস্য মিলিতা দত্ত ম্যালাইসা তার সঙ্গে কুশল বিনিময়ের ভান করে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর কয়েকজন ব্যক্তি কক্ষে প্রবেশ করে পরিস্থিতিকে ‘অপত্তিকর’ আকার দেওয়ার চেষ্টা করে। সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমি বুঝে ওঠার আগেই কয়েকজন লোক এসে আমাকে জোর করে বিছানায় বসায়। এরপর তারা বলে আমি নাকি ওই মেয়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িত।” তার অভিযোগ, তখনই তারা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করে এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। অর্থ দাবি ও ছিনতাই মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ভিডিও ধারণের পর চক্রের সদস্যরা সিরাজুল ইসলামের কাছে টাকা দাবি করতে থাকে। প্রথমে তারা তার পকেটে থাকা ১২০০ টাকা নিয়ে নেয়। পরে আরও ১৩ হাজার টাকা দিতে চাপ দেয়। প্রাণভয়ে সিরাজুল কৌশলে তার এক পরিচিত ব্যক্তি হিজবুল্লাহ সম্রাটকে বিষয়টি জানাতে সক্ষম হন। পুলিশের অভিযান সিরাজুলের কাছ থেকে খবর পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী মডেল থানা দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশ হোটেল ইম্পেরিয়ালে পৌঁছালে অভিযুক্ত চক্রের বেশ কয়েকজন সদস্য পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মিলিতা দত্ত ম্যালাইসা (চক্রের নারী সদস্য) সান্টু হাওলাদার (সহযোগী) পুলিশ জানায়, তাদের বিরুদ্ধে মামলার ভিত্তিতে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম খান বাদী হয়ে মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন— হোটেল মালিক মানিক হাওলাদার ম্যানেজার আব্দুল হাই বশির মোল্লা আবিদ হাসান জাকির হোসেন গাজী আব্দুর রহমানসহ আরও কয়েকজন পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পুলিশের বক্তব্য বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সনজিৎ চন্দ্র নাথ বলেন, “ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, এই ধরনের ‘হানিট্র্যাপ’ অপরাধ বর্তমানে বিভিন্ন শহরে সংঘবদ্ধভাবে ঘটছে কিনা সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ‘হানিট্র্যাপ’ কী এবং কীভাবে কাজ করে অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, ‘হানিট্র্যাপ’ একটি প্রতারণামূলক কৌশল, যেখানে সাধারণত একজন নারী বা পুরুষকে ব্যবহার করে টার্গেট ব্যক্তিকে আপত্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। এই ধরনের চক্র সাধারণত কয়েকটি ধাপে কাজ করে— ১. টার্গেট নির্বাচন ২. পরিচিত বা বিশ্বাসযোগ্য কারও মাধ্যমে যোগাযোগ ৩. নির্জন স্থান বা হোটেলে ডেকে নেওয়া ৪. আপত্তিকর পরিস্থিতি তৈরি ৫. ভিডিও বা ছবি ধারণ ৬. ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। আবাসিক হোটেলগুলো কেন ঝুঁকিপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক সময় অপরাধীরা আবাসিক হোটেলকে ব্যবহার করে কারণ— সেখানে সহজে কক্ষ ভাড়া পাওয়া যায় পরিচয় যাচাই অনেক সময় দুর্বল সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ সীমিত হোটেল কর্তৃপক্ষের কেউ কেউ জড়িত থাকতে পারে এই ঘটনার ক্ষেত্রেও হোটেল মালিক ও ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি আরও গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। আইন বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের অপরাধে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ প্রযোজ্য হতে পারে। যেমন— ছিনতাই প্রতারণা চাঁদাবাজি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র মানহানির হুমকি যদি প্রমাণিত হয় যে হোটেল কর্তৃপক্ষ এই চক্রের সঙ্গে জড়িত, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ভুক্তভোগীদের অনেকেই অভিযোগ করেন না ক্রাইম বিশ্লেষকদের মতে, ‘হানিট্র্যাপ’ অপরাধের অনেক ঘটনাই প্রকাশ্যে আসে না। কারণ— সামাজিক লজ্জার ভয় পারিবারিক সমস্যার আশঙ্কা ব্ল্যাকমেইলের ভয় আইনগত জটিলতা ফলে অপরাধচক্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকতে পারে। তদন্ত কোন দিকে এগোচ্ছে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে কয়েকটি বিষয় যাচাই করা হচ্ছে— হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ মোবাইল ফোনের ভিডিও ও কল রেকর্ড চক্রের সদস্যদের আর্থিক লেনদেন পূর্বের সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের তথ্য তদন্ত কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, এটি একটি সংগঠিত চক্র হতে পারে যারা দীর্ঘদিন ধরে একই পদ্ধতিতে প্রতারণা করে আসছিল। সতর্কতার পরামর্শ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নাগরিকদের কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে— অপরিচিত বা কম পরিচিত কারও ডাকে নির্জন স্থানে না যাওয়া আবাসিক হোটেলে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে দ্রুত পুলিশকে জানানো ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে আইনগত সহায়তা নেওয়া বরিশালের এই ঘটনাটি শুধু একটি ছিনতাইয়ের অভিযোগ নয়, বরং এটি নগর জীবনে নতুন ধরনের প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলের ঝুঁকির বিষয়টিও সামনে নিয়ে এসেছে। তদন্ত শেষ হলে জানা যাবে—এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাকি বড় কোনো অপরাধচক্রের অংশ। ততদিন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সমালোচনায় বরিশাল সিটি করপোরেশন মামুনুর রশীদ নোমানী: ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র মাস মাহে রমজান। এই মাসে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষ জাগতিক ভোগ-বিলাস থেকে নিজেকে সংযত রাখার শিক্ষা গ্রহণ করে এবং আত্মশুদ্ধির পথে এগিয়ে যায়। রমজানকে সহনশীলতা, সংযম ও মানবিকতার মাস হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। এই মাসে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে ইফতার ও ইবাদতের মাধ্যমে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সামাজিক বন্ধনকে দৃঢ় করে। অর্থবান মানুষরা নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট উপলব্ধি করে তাদের পাশে দাঁড়ানোর প্রেরণা পান। কিন্তু এমন একটি সময়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিল নিয়ে উঠেছে বৈষম্যের অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, ইফতারের মেন্যুতেই ধনী ও গরিব তথা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের একাধিক সূত্র এবং ইফতার মাহফিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা জানান, গত ৪ মার্চ বুধবার শহীদ মিনার সংলগ্ন সিটি করপোরেশনের অডিটোরিয়ামে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ভিভিআইপি ও ভিআইপিদের জন্য পরিবেশন করা হয় ডাবের পানি, শরবত, মাম পানি, মাছ ফ্রাই, মুরগির টিক্কা, জুস, কাচ্চি বিরিয়ানি, খেজুর, বুট, পিয়াজু, বেগুনি ও মুড়িসহ নানা ধরনের খাবার। অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য ইফতারের মেন্যুতে দেওয়া হয় শুধু একটি এসএমসি জুসের প্যাকেট, একটি বোতল মাম পানি, কিছু খেজুর এবং একটি তেহারির প্যাকেট। আরও অভিযোগ উঠেছে, সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ইফতার মাহফিলে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি। এ ঘটনায় সিটি করপোরেশনের ভেতরে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, “ইফতারের মতো একটি পবিত্র আয়োজনেও এ ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি করা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অস্বস্তি ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।” আরেক কর্মকর্তা বলেন, “তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য যে মেন্যু দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। এ বিষয়ে আসলে বলার মতো ভাষা নেই।” রমজান মাসে সামাজিক সমতা ও সহমর্মিতার যে শিক্ষা দেওয়া হয়, তার পরিপন্থী এমন আয়োজন নিয়ে সমালোচনা করছেন অনেকেই। “ইফতারে ভাঙি রোজা, ভাঙি বৈষম্য”—এই স্লোগানের কথাও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন কেউ কেউ। সমালোচকদের মতে, সুবিধাপ্রাপ্ত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ না কমিয়ে বরং আলাদা মেন্যুর মাধ্যমে শ্রেণি বিভেদকে আরও প্রকট করে তুলেছে বরিশাল সিটি করপোরেশন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : মিজ সানজিদা শারমিন।ডাক নাম লাভলী।তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী।কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি করেন বরিশাল কর অঞ্চলের কর কমিশনারের কার্যালয়ে।যে বেতন পান, তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চলার কথা।কিন্তু হয়েছে উল্টো।নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতে অফিসে যান।লেটেস্ট মডেলের প্রিমিও গাড়ি।বেতনের অর্ধেক টাকা দেন ব্যক্তিগত গাড়ির চালককে।স্বর্ন কেনা তার সখ।পার্লারে খরচ করেন দু হাতে।তার পরেও এই চাকরি করেই গড়েছেন সম্পদের পাহাড়।গাড়ি-বাড়ি,জমি-জমা,ফ্ল্যাটসহ রয়েছে অনেক সম্পদ। অনুসন্ধানে জানা গেছে,অর্ধ কোটি টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট নিয়েছেন অক্সফোর্ড মিশন রোডে। ২০ বছরের চাকরিজীবনে তার রয়েছে জমি,ফ্ল্যাট,স্বর্নালংকার,গাড়ি, জমিসহ নামে বেনামে প্রচুর সম্পদ।চড়েন প্রায় অর্ধকোটি টাকার দামের প্রিমিও গাড়িতে। দু’হাতে কামাই করছেন।জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদে ছুয়েঁছেন পাহাড়।ঘুস ,দুর্নীতি-অনিয়ম,অনৈতিক ও ফাইল ঢিল করার মাধ্যমে এসব অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে সুত্র জানিয়েছে। এ ব্যাপারে সানজিদা শারমিন বলেন,আমি গাড়ি ক্রয় করেছি এটা সত্য।আমার একটি ফ্ল্যাট রয়েছে এটাও সত্য।তবে সম্পদের পাহাড় গড়ার কথা অস্বিকার করেন। অপর একটি সুত্র জানিয়েছে,ঘুসের বিনিময়ে কর ফাকিঁ দেয়া ব্যবসায়ী,ডাক্তারসহ বিভিন্ন লোকের ফাইল ঢিল করতো সানজিদা শারমিন। কর অঞ্চল অফিসে ঘুসের রানী হিসেবেও তিনি এক পরিচিত নাম। কর অফিসের নাম প্রকাশে এক কর্মকর্তা জানান,সানজিদা শারমিন দুর্নীতিবাজ একজন তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী।এছাড়া কর অফিসের গোপন নথি ফাসঁ করার অভিযোগ রেয়েছে তার বিরুদ্ধে।এত ছোট চাকরি করে এত বিশাল পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও কর বিভাগের ভাবমূ্র্তি নষ্ট করায় তার বিরুদ্ধে কর বিভাগ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(ঘ) অনুযায়ী দুর্নীতি পরায়নতার অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ।ব্যবস্থা না নেয়া হলে সুনাম ক্ষুন্ন হবে কর বিভাগের। ৪০ হাজার টাকা বেতনের সরকারি কর্মচারীর বরিশালের অক্সফোর্ড মিশন রোডে অর্ধ কোটি কোটি টাকার ফ্ল্যাট ও প্রিমিও গাড়ি কেনা,নামে বেনামে জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ,এফডিআর,সঞ্চয় পত্র ,স্বর্নালংকার এবং অনেক জমি জমার খবর নিয়ে বরিশাল কর বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যেও চলছে নানা আলোচনা। এসব বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, একজন সরকারি চাকরিজীবী অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন করে থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি দুর্নীতি দমন আইনে বিচার করতে হবে। যদি বিচার না করা যায়, তাহলে সমাজে এ ধরনের অপরাধীর সংখ্যা বাড়তে থাকবে।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : বরিশাল কর কমিশনারের কার্যালয়ে ৩ ভাইয়ের রাজ্যের অঘোষিত রাজা।বরিশালের সাবেক বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজ কর কর্মকর্তা নেফাউল ইসলাম সরকারের দোসর মোঃ রতন মোল্লা।স্টেনো টাইপিস্ট পদে কর্মরত।তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী হলেও নিজ স্বার্থ আদায়ে কর কমানো -বাড়ানোসহ তদবির ও সুপারিশের মাধ্যমে করের যাবতীয় কার্য্যক্রম সম্পন্ন করেন।এক সময়ের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মচারী কর বিভাগে স্টেনো টাইপিস্ট পদে চাকুরী লাভের পরেই ভাগ্য খুলে যায়। এখন তিনি অসংখ্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক,বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার এফডিআর, কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র,জায়গা-জমি,বহুতল ভবনের মালিক।আলাদিনের চেরাগও যেন হার মানিয়েছে রতন মোল্লার কাছে।এখন তিনি একজন ধনকুব।সহায়-সম্পদে ছুয়েঁছেন পাহাড়। রতন মোল্লার বিরুদ্ধে কর কমিশনার ও এনবিআরের চেয়ারম্যানের নিকট একাধিকবার অভিযোগ দেয়া হলেও রহস্যজনক কারনে নেয়া হয়নি তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা। ক্লিনিক,ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ডাক্তারদের করের ফাইল আটকিয়ে জিম্মী করে অনৈতিকভাবে ঘুস আদায় করাই যেন রতন মোল্লার পেশা।তিনি কাউকে থোরাই কেয়ার করেন না।ঘুস আদায়ে বেপরোয়া । কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে চলার কারনে একজন প্রিয় কর্মচারীতে পরিনত হয়েছেন বরিশাল কর বিভাগে।একই কর্মস্থলে সার্কেল -২ ও সার্কেল -৮ এ রয়েছেন ১০ বছর।সকলের বদলী হলেও রতন যেন কর ভবনের স্থায়ী কর্মচারী।তার বদলী না হওয়ায় কর বিভাগের সকলেই বিস্মিত। কে এই রতন মোল্লা : অনুসন্ধানে জানা গেছে, বরিশাল কর কমিশনারের কার্যালয় সার্কেল-৮ এ স্টোনো পদে মোঃ রতন মোল্লা চাকুরী নেয়ার পূর্বে বরিশাল নগরীর সদর রোড সংলগ্ন বাটার গল্লির একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাকুরী করতেন। এ সময় তিনি জমির দালালিসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিলেন। কর বিভাগে চাকুরী হবার পরও পূর্বের অপকর্মে লিপ্ত রয়েছেন। বরিশাল পূর্ব বগুড়া রোড ‘সাউথ ইউনিভার্সেল মেডিকেল সার্ভিসেস’ নামক প্রতিষ্ঠানে শেয়ার রয়েছে। যেভাবে জড়িয়েছে দুর্নীতিতে : রতন মোল্লা।স্টোনো টাইপিস্ট পদে থাকায় অফিসের নির্দেশে তার দায়িত্ব বিভিন্ন ক্লিনিক,ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ ডাক্তারদের কর এর তালিকা করার। তালিকা অনুযায়ী রতন মোল্লা সকল ডায়াগনস্টিক ,ক্লিনিক থেকে সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকেন। বরিশালের ছোট-বড় ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ডাক্তারদের আয়ের অনুকূলে কর দেয়ার সঠিক তালিকা করেন না। অফিসের বড় বড় ফাইলের ট্রাক্স কমানো, অডিটের কথা বলে ব্যবসায়ীদের হয়রানী, কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে বদলি বাণিজ্য করাই যেন তার পেশা । বরিশালে কর অফিসে রতনকে অর্থ দিলে নিয়মের কাজ অনিয়মে হয়, আবার অনিয়মের কাজ নিয়মে হয়। দীর্ঘদিন ধরে একতরফাভাবে এ সব কার্যক্রম করে আসছেন রতন মোল্লা। একাধিক স্থানে ক্রয় করেছেন জমি, হয়েছেন ভবন মালিক। রতন মোল্লার যত সহায় সম্পদ : কর অফিসে তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী হয়েও রতন মোল্লার সম্পত্তি আকাঁশছোঁয়া।তিনি বরিশাল নগরীর সাউথ ইউনিভার্সেল মেডিকেল সার্ভিসেস’ নামক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার মালিক,গ্রামের বাড়ি চরফ্যাশনে ৫ একর জায়গা ক্রয় করেছেন। বরিশাল নগরীর নবগ্রাম রোডে ২ কোটি টাকা দিয়ে জায়গা ক্রয় করেছেন। সেখানে ৫ তলা ভবন নির্মাণাধীন। এছাড়া চরফ্যাশন শহরে একটি দ্বিতল ভবনের কাজ নির্মাণাধীন। রতন মোল্লা সার্কেল -২ ও সার্কেল-৮ এই দুই সার্কেলে কর্মরত থাকাকালিন কমপক্ষে ২৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন । যার বড় অংশ অফিসারদের দিয়ে বাকি অংশ নিজে নিয়েছেন। তিনি তার শ্বশুর বাড়ি ভোলায় শ্বশুর এবং শ্বাশুড়ির নামে ১ কোটি টাকায় ৩০ শতাংশ জায়গা ক্রয় করেছেন। অজপাড়াগায়ের কৃষক বাবার সন্তান স্টেনো টাইপিস্ট রতন মোল্লার চালচলন যেন মস্তবড় অফিসার। বরিশাল সোনালী ব্যাংক এর কর্পোরেট শাখা, সিএন্ডবি রোড শাখা, জনতা ব্যাংক-বাংলা বাজার শাখায় তার ২ কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে। নিজ ও স্ত্রীর নামে ১ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে।কর আইনজীবীদের থেকে করদাতাদের ফাইল নিয়ে তিনি ঢিল করেন।কর বিভাগে তিনি একজন অঘোষিত কর আইনজীবীও। রতন মোল্লার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ : মোঃ রতন মোল্লা। একজন স্টেনো টাইপিস্ট, যিনি বর্তমানে সার্কেল-৮ কর অঞ্চল বরিশালে কর্মরত। ২০১৩ সালে নিয়োগের পর থেকে তিনি একমাত্র স্টেনো-টাইপিস্ট যিনি বরিশালের সার্কেল-২ এবং সার্কেল-৮ ব্যতীত অন্য কোনো সার্কেলে চাকুরি করেননি। এ দুই সার্কেলে কর্মরত থাকার কারণে সে সবসময় হেডকোয়ার্টার এডমিন ও টেকনিক্যাল এর সাথে থাকেন। যে কারণে তার দুই সার্কেল ব্যতিত অন্য কোথাও পদায়ন হয় না। এই দুই সার্কেলে বেশিরভাগ ফাইলই তার দখলে। এই দুই সার্কেলে বড় বড় করদাতাদের সাথে যোগসাজসে অনেক ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এছাড়া ফাইল গায়েব করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে । বড় বড় দাবি নিস্পত্তি করেন বড় অংকের ঘুস নিয়ে। বিভিন্ন ডাক্তারদের ফাইল অডিটের ভয় দেখিয়ে তিনি নিয়মিত হারে চাঁদাবাজি করছেন। ডাক্তাররা সংশ্লিষ্ট সার্কেলের অফিসারের নাম না জানলেও স্টেনো টাইপিস্ট রতন মোল্লার নাম মুখস্থ।এ বিষয়ে বরিশালের কর আইনজীবীরা একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে কর কমিশনারকে অবগত করানোর পরেও কোন এক অদৃশ্য কারণে তিনি বহাল তবিয়তে থেকে যান বলে একাধিক আইনজীবী জানিয়েছে। আরও পড়ুন: বরিশাল কর অঞ্চল অফিসে ৫ ভাইয়ের রাজত্ব সম্প্রতি হেমায়েত উদ্দিন নামে একজন এনবিআরের চেয়ারম্যানের নিকট রতন মোল্লার দুর্নীতি ও অনিয়মের ব্যাপারে লিখিত আবেদন করেছেন।আবেদনে তার ভয়ংকর দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা হয়।আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বরিশালের বেশিরভাগ ডাক্তারদের ফাইল করেন মাহমুদুর রহমান তপু নামক একজন এ্যাডভোকেট। তার বোনের বিবাহে সহযোগিতা করে রতন মোল্লা তার খুব কাছের লোক হয়ে গেছেন। তপু এবং রতন মোল্লা যোগসাজসে বেশিরভাগ ডাক্তারদেরকেই বিপদগ্রস্থ করেন। কোনো কোনো ডাক্তারদের অফিসে ডেকে বড় অঙ্কের ঘুসের বিনিময়ে দফারফা করেন। এক্ষেত্রে রাজস্বের পরিবর্তে সবটাই তাদের নিজস্ব। লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়,তদন্ত করলেই যার সত্যতা পাওয়া যাবে। রতন মোল্লার ক্ষমতার প্রভাবে তার ভাই নাইটগার্ড ইব্রাহিম দীর্ঘদিন যাবৎ সার্কেল-১৬ লালমোহনে কর্মরত। তার আরেক ভাই লিটন মোল্লা নোটিশ সার্ভার, কর সার্কেল-১৯, গলাচিপায়। রতন মোল্লা ও তার ভাই ইব্রাহিম মোল্লা, লিটন মোল্লাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি -অনিয়মের ব্যাপারে ২০২৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন বরিশাল নগরীর বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দা মোঃ আতাহার উদ্দিন।এছাড়া রতন মোল্লার বিরুদ্ধে কর আইনজীবীগন রেজুলেশন করে অভিযোগ দিয়েছিলেন কর কমিশনারের নিকট।সর্বশেষ চলতি বছরের ১০ আগষ্ট এনবিআরের চেয়ারম্যানের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মোহাম্মদ হেমায়েত উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি।
দেশকে বৈষম্যমুক্ত ও নিরাপদ আর্থ-সামাজিক কাঠামোয় গড়ে তোলার প্রত্যয়ে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন পুরান ঢাকার বাসিন্দা রিয়াজ উদ্দিন রাজিব। স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর নতুন সূর্যোদয়ের প্রত্যাশা করলেও তার ব্যক্তিগত জীবনে নেমে আসে চরম দুর্দশা। বর্তমানে তিনি একটি আলোচিত হত্যা মামলায় জড়িয়ে হয়ে পড়েছেন চরম হয়রানি ও অনিশ্চয়তার শিকার। আন্দোলন থেকে আসামির খাতায় জানা গেছে, পুরান ঢাকায় আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন রাজিব। আন্দোলনের সময় পুলিশের নির্যাতনের শিকার হন তিনি। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পরও তার দুর্ভোগ থামেনি। উত্তরায় একটি হত্যা মামলায় তাকে ৪৯ নম্বর আসামি করা হয়, যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ প্রায় ২০০ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রাজিবের দাবি, তিনি কখনো উত্তরা এলাকায় যাননি। তার বাসা বংশাল এলাকায় হলেও তাকে উত্তরা পশ্চিম থানার মামলায় আসামি করা হয়। ৬ মাস কারাভোগ ও আর্থিক ক্ষতি মামলায় গ্রেফতার হয়ে প্রায় ৬ মাস কারাভোগ করেন রাজিব। জামিন পেতে ব্যয় হয় প্রায় ২৫ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে তার ১৮টি দোকান (প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্যের) দখল হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ব্যবসা-বাণিজ্য, সামাজিক মর্যাদা ও সন্তানের শিক্ষাজীবন—সব ক্ষেত্রেই ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন তিনি। থানায় ডেকে হুমকি ও লকআপে আটকের অভিযোগ ২০২৫ সালের জুনে চকবাজার থানার এক এসআই তাকে থানায় ডেকে দোকানের চাবি দাবি করেন। চাবি না দিলে ডাকাতির মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন রাজিব। তিনি সেই হুমকি রেকর্ড করলে তাকে লকআপে আটক রেখে রেকর্ড মুছে ফেলা হয় বলে দাবি করেন। পরে যুবলীগ পরিচয়ে হুমকি পেয়ে থানায় অভিযোগ জানালেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তার। ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও ‘জুলাই যোদ্ধা’ উল্লেখ ২০২৫ সালের ২২ জুলাই আইনজীবী পরিচয়ে ডেকে তাকে আদালতপাড়ার একটি রেস্টুরেন্ট থেকে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন রাজিব। পরে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রযুক্তিগত তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে একাধিক কর্মকর্তা মত দেন। এমনকি এক প্রতিবেদনে তাকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবুও তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশের প্রতিবেদনেই নির্দোষ ৩ জানুয়ারি ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে বংশাল থানা ও উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা উল্লেখ করেন— রিয়াজ উদ্দিন রাজিব কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন তার স্বভাব-চরিত্র ভালো নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি ৫ জানুয়ারি আদালতের এক আদেশে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় আওয়ামী লীগ কমিশনার তার দোকান-সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করেছিলেন। এর জের ধরেই তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। থানার ওসির বক্তব্য বিষয়টি জানতে চাইলে একে মাহফুজুল হক, অফিসার ইনচার্জ, বংশাল থানা বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর রিয়াজ উদ্দিন রাজিবকে থানায় ডাকা হয়নি। আগের কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকলে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর কাছে হয়রানির বিষয়টি উল্লেখ করে ২৫ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রাজিব। বর্তমানে তিনি গ্রেফতার আতঙ্কে বাসায় অবস্থান করতে পারছেন না। অনিশ্চয়তায় এক ‘জুলাই যোদ্ধা’ পুলিশের প্রতিবেদন তাকে নির্দোষ বললেও মামলা থেকে অব্যাহতি মিলছে না। ফলে একদিকে আইনি লড়াই, অন্যদিকে সামাজিক ও আর্থিক ক্ষতির ভার—দুইয়ের মাঝেই অসহায় সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন রিয়াজ উদ্দিন রাজিব। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের একজন অংশগ্রহণকারী হয়েও আজ তিনি নিজ দেশে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। প্রশ্ন উঠছে—একজন ‘জুলাই যোদ্ধা’ কবে মুক্তি পাবেন কল্পিত মামলার দায় থেকে?
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ফরিদপুর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. জামানুর রহমান সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর রহস্যজনকভাবে স্বপদে ফিরে আসায় বর্তমানে প্রশাসনিক ও জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ, যেমন আর্থিক অনিয়ম, নারী সহকর্মীদের প্রতি অসদাচরণ এবং প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার—এসব বিষয় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। আরথিক অনিয়মের অভিযোগ: অধিদপ্তরের একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, পাবনা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জামানুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। বিশেষ করে, সুজানগরের ‘আর্সেনিকমুক্ত সুপেয় পানি সরবরাহ ও পাইপড ওয়াটার এন্ড এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন’ প্রকল্পের কাজ বাস্তবে সম্পন্ন না করেই ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে প্রকল্পের অর্থ উত্তোলন এবং আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এ সংক্রান্ত তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। নারী সহকর্মীদের প্রতি অসদাচরণ ও অনৈতিক আচরণের অভিযোগ: ২০২৩ সালে রাজশাহীতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে জামানুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয় (নম্বর: ১৪২/২০২৩)। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে অনৈতিক আচরণ, নারী সহকর্মীদের হয়রানি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠে এসেছে। পুনরায় স্বপদে ফিরে আসা এবং কর্মকর্তাদের ক্ষোভ: অর্থ ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগের পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে, তদন্ত শেষে তাঁকে পুনরায় স্বপদে ফিরিয়ে নেওয়া হয়, যার ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি, ফরিদপুর সার্কেলে তাঁর প্রভাব আগের চেয়ে বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠছে। খুলনায় যৌন হয়রানির অভিযোগ: সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জামানুর রহমানের বিরুদ্ধে খুলনায় তাঁর পূর্ববর্তী দায়িত্বকালীন সময়ে একাধিক নারী কর্মচারী যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছিলেন। তিনি ফরিদপুরে পদায়িত থাকলেও খুলনায় অবস্থান করে কর্মচারীদের ওপর নানা ধরনের চাপ প্রয়োগ করতেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রকৌশলী মো. জামানুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি, এবং এসএমএস পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি। একইভাবে, প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুল আউয়াল-এর মন্তব্যও পাওয়া যায়নি। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি: প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর, ফরিদপুর ও অন্যান্য অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধি দ্রুত এবং আইনানুগ তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছেন। তাঁরা আশাবাদী যে, এই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে সঠিক সিদ্ধান্তের দিকে এগোতে পারবে প্রশাসন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চলমান আসরে সবার আগে সুপার এইটে জায়গা নিশ্চিত করল দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দল। ডি গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দলকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ৩ ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে পরের পর্বে উঠেছে প্রোটিয়ারা। শনিবার ভারতের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড ৭ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৭৫ রান। নিউজিল্যান্ডের লড়াকু সংগ্রহ কিউইদের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেন Mark Chapman। এছাড়া ৩২ রান যোগ করেন Daryl Mitchell। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় বড় সংগ্রহ গড়া সম্ভব হয়নি তাদের। মার্করামের ব্যাটে জয়ের বন্দনা ১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা কিছুটা সতর্ক ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। কিন্তু অধিনায়ক Aiden Markram ক্রিজে সেট হওয়ার পরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় প্রোটিয়াদের হাতে। ৪৪ বলে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৮৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন মার্করাম। তার ব্যাটিং নৈপুণ্যে ১৭ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের বড় জয় নিশ্চিত করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচে রানের রেকর্ড এই ম্যাচে দুই দল মিলে মোট ৩৫৩ রান করে, যা চলতি আসরের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মিলিত রান। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে গড়ে ওঠে আরও একটি ব্যক্তিগত রেকর্ড। ডি ককের নতুন মাইলফলক দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান Quinton de Kock টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ড গড়েন। তিনি ছাড়িয়ে যান ভারতের কিংবদন্তি অধিনায়ক MS Dhoniকে। ডি ককের ডিসমিসালের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৩-এ। ডি গ্রুপ থেকে টানা তিন জয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা এখন সুপার এইট পর্বের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেবে। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের জন্য সামনে অপেক্ষা করছে বাঁচা-মরার লড়াই।
ব্যাটার শেরফানে রাদারফোর্ড ও স্পিনার গুদাকেশ মোতির কল্যাণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গতরাতে ‘সি’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩০ রানে হারিয়েছে ইংল্যান্ডকে। ব্যাট হাতে রাদারফোর্ড ৪২ বলে অনবদ্য ৭৬ এবং স্পিনার মোতি ৩ উইকেট নেন। মুম্বাইয়ে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৮ রানে দুই ওপেনারকে হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তৃতীয় উইকেটে ২৮ বলে ৪৭ রান যোগ করে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন শিমরোন হেটমায়ার ও রোস্টন চেজ। দলীয় ৭৭ রানের মধ্যে বিদায় নেন তারা। হেটমায়ার ২৩ ও চেজ ৩৪ রান করেন। এরপর রোভম্যান পাওয়েলকে নিয়ে ২৯ বলে ৫১ এবং জেসন হোল্ডারের সাথে ৩২ বলে ৬১ রানের জুটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৯৬ রানের সংগ্রহ এনে দেন রাদারফোর্ড। পাওয়েল ১৪ ও হোল্ডার ১৭ বলে ৩৩ রান করেন। ২টি চার ও ৭টি ছক্কায় ৪২ বলে ৭৬ রানে অপরাজিত থাকেন রাদারফোর্ড। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিংয়ের সামনে বড় ইনিংস খেলতে পারেনি ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা। ১৯ ওভারে ১৬৬ রানে গুটিয়ে যায় তারা। দলের হয়ে স্যাম কারান ৪৩, জ্যাকব বেথেল ৩৩ ও ফিল সল্ট ৩০ রান করেন। মোতি ৩৩ রানে ৩টি ও চেজ ২৯ রানে ২ উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হন রাদারফোর্ড।
আগামী মাসের নারী এশিয়ান কাপের শিরোপা জিতে “নতুন ইতিহাস” গড়তে চায় জাপান, এমনটাই জানিয়েছেন দলের কোচ নিলস নিয়েলসেন। বৃহস্পতিবার ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন নিয়েলসেন। যেখানে তিনি ইংল্যান্ডভিত্তিক ১৬ জন খেলোয়াড়কে দলে রেখেছেন। জাপান এশিয়ার একমাত্র দেশ যারা নারী বিশ্বকাপ জিতেছে, তবে এ পর্যন্ত খেলা ২০ আসরের এশিয়ান কাপে তারা মাত্র দু’বার শিরোপা জিতেছে। সর্বশেষ শিরোপা আসে ২০১৮ সালে। জাপান নারী দলের প্রথম বিদেশী কোচ গ্রিনল্যান্ডে জন্ম নেওয়া নিয়েলসেন মনে করেন, আগামী ১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হওয়া টুর্নামেন্টে এবারই জাপানের সামনে সেরা সুযোগ। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দায়িত্ব নেয়া ৫৪ বছর বয়সী এই কোচ বলেন, “ঐতিহাসিকভাবে এই টুর্নামেন্ট জাপানের জন্য সহজ ছিল না। আমরা নতুন ইতিহাস গড়তে চাই। আমাদের এমন একটি দল আছে যারা শিরোপা জিততে সক্ষম। তাই ট্রফি না জেতা পর্যন্ত আমরা সন্তুষ্ট হতে পারছি না।” ২৬ সদস্যের দলে জায়গা পেয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হিনাতা মিয়াজাওয়া, যিনি ২০২৩ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন। এছাড়া ম্যানচেস্টার সিটির ইউই হাসেগাওয়া ও আওবা ফুজিনোও রয়েছেন। ২০১১ বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য এবং ১৬৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ডিফেন্ডার সাকি কুমাগাই এখনও দলে আছেন। জাপানের ঘরোয়া ডব্লিউই লিগ থেকে মাত্র চারজন খেলোয়াড় দলে সুযোগ পেয়েছেন। নিয়েলসেন জানান, চোট-আঘাতের সমস্যা না থাকায় চূড়ান্ত দল নির্বাচন খুব কঠিন ছিল না। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি দল পেয়েছি যেখানে সব ধরনের বৈচিত্র্য আছে। প্রায় সব পরিস্থিতির জন্য আমরা প্রস্তুত। একই ধরনের অনেক খেলোয়াড় আমরা নেইনি। কারণ মাঠে কাউকে বদলি করলে আমরা ভিন্ন কিছু যোগ করতে চাই।” প্রথম রাউন্ডে তাইওয়ান, ভিয়েতনাম ও ভারতের সঙ্গে একই গ্রুপে থাকা জাপান ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নামবে। নিয়েলসেন বলেন, “প্রতিপক্ষ যে কৌশল নিয়ে আসুক না কেন, আমাদের স্কোয়াডে তার জবাব দেওয়ার মতো সমাধান আছে বলেই আমি বিশ্বাস করি।”
উৎসবমুখর পরিবেশে জীবনের প্রথমবারের মত ভোট দিতে পেরে উচ্ছসিত বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও দেশ সেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। আজ বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকার চট্টগ্রাম আঞ্চলিক লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের একটি বুথে ভোট প্রদান করেন তামিম। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের তামিম ইকবাল বলেন, ‘জীবনের প্রথম ভোট দিলাম। খুবই এক্সাইটেড। পরিবেশ খুবই ভাল লাগছে। নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছি।’ পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজেদের ভেরিফাইড পেজে ভোট দেওয়ার ছবি দিয়ে তামিম লিখেন, ‘ভোট আমার নাগরিক অধিকার। নিজে ভোট দিলাম এবং দেখলাম স্বতস্ফূর্ত উৎসাহে অনেকেই ভোট দিচ্ছেন। সুশৃঙ্খল ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় সবাইকে সহায়তার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনীকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’ যে কেন্দ্রে তামিম ভোট দিয়েছেন, সেটি চট্টগ্রাম-৯ আসন। কোতোয়ালি থানার এ আসনে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, ১১ দলীয় জোটের এ কে এম ফজলুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুস শুক্কুর, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ, গণসংহতি আন্দোলনের সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ, বাসদের মো. শফি উদ্দিন কবির, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোহাম্মদ নঈম উদ্দীন, নাগরিক ঐক্যের মো. নুরুল আবছার মজুমদার, জনতার দলের মো. হায়দার আলী চৌধুরী ও জেএসডির আবদুল মোমেন চৌধুরী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজেদের ভেরিফাইড পেজে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ক্রিকেটাররা। ঢাকা-৯ আসনে দক্ষিণ বনশ্রী মডেল হাই স্কুলে ভোট দিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক ও জাতীয় দলের বর্তমান ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। ভোট দেওয়ার ছবি আপলোড করে ফেসুবকে আশরাফুল লিখেছেন, ‘সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে আজ ভোট দিলাম। দায়িত্ববোধ শেখানো শুরু ঘর থেকেই।’ রংপুরে নিজ এলাকায় প্রথমবার ভোট দিয়েছেন ২০২০ সালে আইসিসি যুব বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবর আলি। নিজ এলাকার মানুষদের সাথে ভোট দেওয়ার ছবি আপলোড করেছেন তিনি। ছবির ক্যাপশনে আকবর লিখেছেন, ‘প্রথম ভোট।’ আকবরের মত প্রথমবার ভোট দিয়েছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার উইকেটরক্ষক-ব্যাটার নুরুল হাসান সোহান। নিজ এলাকা দৌলতপুরে ভোট দিয়েছেন তিনি। ভোট কেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে তোলা ছবি ফেসবুকে দিয়েছেন সোহান। ছবির ক্যাপশনে সোহান লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, প্রথমবার ভোট দিলাম।’ জীবনের প্রথম ভোট দিয়ে আনন্দিত জাতীয় দলের ব্যাটার মাহমুদুল হাসান জয়। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘দিয়ে আসলাম, জীবনের প্রথম ভোট।’ ফেনিতে ভোট দিয়েছেন জাতীয় দলের পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। ভোট দেওয়ার ছবি ফেসবুকে আপলোড করে সাইফুদ্দিন লিখেছেন, ‘অবশেষে ভোট দিলাম। যেখানে আমার শৈশব কেটেছে, মাটির গন্ধে বড় হওয়া সেই চেনা জায়গাতেই। এটা শুধু একটা ভোট নয়, এটা নিজের শিকড়কে ছুঁয়ে দেখার অনুভূতি, নিজের দায়িত্বকে অনুভব করার এক নীরব গর্ব। ছোটবেলার স্মৃতি, আজকের সিদ্ধান্ত- এই দুটো একসাথে মিলেই আজকের দিনটা আমার কাছে আলাদা।’ ভোট দিয়েছেন জাতীয় দলের হার্ডহিটার ব্যাটার সাব্বির রহমানও। ফেসবুকে এই ডান-হাতি ব্যাটার লিখেছেন, ‘আমার ভোটটা কিন্তু দিয়ে দিলাম।’ সবমিলিয়ে এবার সারাদেশে ভোটার রয়েছেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন এবং নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) আবারও অস্বস্তি, আবারও দুর্নীতির গন্ধ। দুর্নীতি ও ফিক্সিং- সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিতর্কিত বিসিবি পরিচালক মোখলেছুর রহমান শামীম দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোয় নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। মাঠের ক্রিকেটে শুদ্ধতার কথা বলা বোর্ডের অন্দরেই যখন অনিয়মের অভিযোগ ঘুরপাক খায়, তখন সেটি শুধু একজন পরিচালকের বিষয় থাকে না- পুরো ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাই টালমাটাল হয়ে ওঠে। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, শামীমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ একদিনের নয়। স্বার্থের সংঘাত, আর্থিক অনিয়ম এবং ফিক্সিং- সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই বোর্ডের ভেতরে আলোচনায় ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এসব অভিযোগ নতুন তথ্য ও নথির সঙ্গে জড়িত হয়ে সামনে আসায় আর চুপ থাকার সুযোগ ছিল না বিসিবির সামনে। পরিস্থিতির চাপে গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি, আর দায়িত্ব ছাড়তে হয়েছে অভিযুক্ত পরিচালককে। এ ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হয়েছে- বাংলাদেশ ক্রিকেটে দুর্নীতি শুধু মাঠের খেলোয়াড়দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরেও তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, তদন্ত সত্য উন্মোচন করবে, নাকি এটি পরিণত হবে আরেকটি চাপা পড়ে যাওয়া অধ্যায়ে। অভিযোগের সূত্রপাত যেভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) মোখলেছুর রহমান শামীমকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের সূত্রপাত হঠাৎ করে নয়। বিসিবি ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই বোর্ডের অভ্যন্তরে আলোচনায় ছিল। তবে এতদিন এসব অভিযোগ নির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে গড়ায়নি। পরিস্থিতির মোড় ঘুরতে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে, যখন কিছু অভ্যন্তরীণ নথি, সন্দেহজনক যোগাযোগের তথ্য এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত প্রশ্ন সামনে আসে। সূত্রগুলো বলছে, এসব তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়- একাধিক ঘটনায় স্বার্থের সংঘাত এবং নিয়ম বহির্ভূত যোগাযোগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিষয়টি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অভিযোগে সীমাবদ্ধ না থেকে ধারাবাহিকভাবে সামনে আসায় বিসিবির ভেতরেই উদ্বেগ বাড়তে থাকে। বোর্ডের এক দায়িত্বশীল সূত্রের ভাষায়, “অভিযোগগুলো যদি বিচ্ছিন্ন হতো, তাহলে হয়তো অভ্যন্তরীণভাবেই বিষয়টি নিষ্পত্তি করা যেত। কিন্তু যখন একই ধরনের প্রশ্ন বারবার উঠতে থাকে এবং নতুন নতুন তথ্য সামনে আসে, তখন বোর্ডের ভাবমূর্তি রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।” এই প্রেক্ষাপটেই বিষয়টি আর উপেক্ষা করার সুযোগ ছিল না বিসিবির সামনে। শেষ পর্যন্ত অভিযোগগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেয় বোর্ড, যার ধারাবাহিকতায় তদন্ত কমিটি গঠন এবং অভিযুক্ত পরিচালকের দায়িত্ব ছাড়ার ঘটনা ঘটে। কী ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ মোখলেছুর রহমান শামীমের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগগুলো কয়েকটি স্তরে বিভক্ত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। প্রথম এবং সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ হলো স্বার্থের সংঘাত। অভিযোগ রয়েছে, বিসিবির পরিচালক পদে থাকার সময় তিনি এমন কিছু সিদ্ধান্তে যুক্ত ছিলেন, যেগুলোতে ব্যক্তিগত স্বার্থ কিংবা ঘনিষ্ঠ মহলের সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। বোর্ডের নীতিমালায় স্বার্থের সংঘাত এড়ানোর সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও, কিছু সিদ্ধান্ত সেই নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল বলে অভিযোগকারীদের দাবি। দ্বিতীয় স্তরের অভিযোগগুলো আর্থিক অনিয়ম ঘিরে। ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রকল্প, চুক্তি ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিসিবির ভেতরেই প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় স্বচ্ছতা ও নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে দরপত্র প্রক্রিয়া এবং ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা। তৃতীয় এবং সবচেয়ে স্পর্শকাতর অভিযোগটি ফিক্সিং-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে। যদিও এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি, তবে অভিযোগের গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতার কারণে বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ ছিল না। এ কারণেই বিসিবি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়, যাতে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা যায়। দায়িত্ব ছাড়লেন কেন বিসিবির আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলমান তদন্ত প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত রাখতে মোখলেছুর রহমান শামীম সাময়িকভাবে তার পরিচালকের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বোর্ডের ভাষায়, এটি একটি নৈতিক সিদ্ধান্ত, যাতে তদন্ত কমিটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে এবং কোনো ধরনের প্রভাব বা স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ না ওঠে। তবে বাস্তব চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন বলে মনে করছেন বিসিবির ভেতরের একাধিক সূত্র। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত একান্তই স্বেচ্ছায় নেওয়া হয়নি। অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে আসার পর খুব দ্রুতই বিষয়টি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ক্রিকেট বিশ্লেষক, সাবেক খেলোয়াড় ও সমর্থকদের একাংশ বিসিবির ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলতে থাকেন। বিশেষ করে ফিক্সিং-সংশ্লিষ্ট অভিযোগ সামনে আসার পর বোর্ডের ভাবমূর্তি নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও সমালোচনার মাত্রা বাড়তে থাকে, যা বিসিবির ওপর সরাসরি চাপ তৈরি করে। বোর্ডের এক দায়িত্বশীল সূত্রের ভাষায়, “এই চাপ উপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না। পরিস্থিতি সামাল দিতেই তাকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়।” ফলে তদন্তের স্বার্থের পাশাপাশি বোর্ডের ভাবমূর্তি রক্ষাই দায়িত্ব ছাড়ার পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্ত কমিটি- কতটা স্বাধীন? মোখলেছুর রহমান শামীমকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের পরিণতি এখন অনেকটাই নির্ভর করছে বিসিবি গঠিত তদন্ত কমিটির কার্যক্রমের ওপর। বোর্ড সূত্র জানায়, কমিটির মূল দায়িত্ব হলো অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ এবং প্রয়োজনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সুপারিশ করা। কাগজে-কলমে এই দায়িত্বগুলো যথেষ্ট শক্তিশালী মনে হলেও, বাস্তবে তদন্তের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ, তদন্ত কমিটির সদস্যদের বড় একটি অংশই বিসিবির বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে ‘নিজেদের লোক দিয়ে নিজেদের তদন্ত’- এই সমালোচনা জোরালো হচ্ছে। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, এতে স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এক ক্রীড়া বিশ্লেষক বলেন, “বোর্ডের অভ্যন্তরীণ কমিটি যতই সদিচ্ছা দেখাক না কেন, বাইরের নিরপেক্ষ নজরদারি ছাড়া আস্থা তৈরি করা কঠিন।” সমালোচকদের আশঙ্কা, যদি তদন্ত প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে প্রতিবেদন যাই হোক না কেন- তা গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। ফলে এই তদন্ত শুধু শামীম ইস্যু নয়, বিসিবির সামগ্রিক সুশাসন পরীক্ষার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। বিসিবিতে দুর্নীতির অভিযোগ- নতুন নয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ইতিহাসে বিতর্ক ও অভিযোগ নতুন কোনো ঘটনা নয়। অতীতেও একাধিকবার দুর্নীতির অভিযোগে বিসিবিকে বিব্রত পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত ছিল ফিক্সিং কেলেঙ্কারি, যেখানে বাংলাদেশের ক্রিকেট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কঠিন সময় পার করেছে এবং একাধিক খেলোয়াড়কে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। এর পাশাপাশি আর্থিক অনিয়ম, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার অভাব এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। কখনো টিকিট বিক্রি, কখনো অবকাঠামো উন্নয়ন, আবার কখনো লিগ পরিচালনা- প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রশ্ন উঠেছে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা নিয়ে। যদিও বিসিবি প্রায়শই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বা অভ্যন্তরীণ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পূর্ণাঙ্গ ও বিশ্বাসযোগ্য সমাধান পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মোখলেছুর রহমান শামীম ইস্যুকে অনেকেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন না। বরং এটিকে বিসিবির দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতার আরেকটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করছেন। সমালোচকদের মতে, বারবার একই ধরনের অভিযোগ ওঠা প্রমাণ করে- সমস্যা ব্যক্তি নয়, বরং ব্যবস্থার ভেতরেই রয়ে গেছে। খেলোয়াড় বনাম পরিচালক: দ্বিমুখী মানদণ্ড? শামীম ইস্যু ঘিরে সবচেয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠেছে- খেলোয়াড় ও পরিচালকদের ক্ষেত্রে বিসিবির আচরণ কি সমান? সমালোচকদের দাবি, এখানে স্পষ্ট একটি দ্বিমুখী মানদণ্ড কাজ করছে। অতীতে ফিক্সিং বা অনৈতিক আচরণের অভিযোগে খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ আজীবন নিষিদ্ধ হয়েছেন, কারও ক্রিকেট ক্যারিয়ার কার্যত শেষ হয়ে গেছে। অথচ পরিচালনা পর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলেও, সেসব ক্ষেত্রে তদন্ত দীর্ঘায়িত হয় এবং সিদ্ধান্ত নিতে গড়িমসি দেখা যায়- এমন অভিযোগ বহুদিনের। শামীমের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরও তিনি পদে বহাল ছিলেন, পরে চাপের মুখে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়ান। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈষম্য ক্রিকেট প্রশাসনের প্রতি আস্থাকে দুর্বল করে দেয়। একজন সাবেক খেলোয়াড়ের মন্তব্য, “খেলোয়াড়রা যদি নিয়ম ভাঙে, শাস্তি নিশ্চিত। কিন্তু পরিচালকের ক্ষেত্রে নিয়ম যেন নমনীয় হয়ে যায়।” এই প্রশ্নের সঠিক জবাব না মিললে, বিসিবির নৈতিক অবস্থান আরও প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভিন্ন সুর শামীমের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোখলেছুর রহমান শামীম। তার দাবি, তাকে জড়িয়ে যে অভিযোগগুলো তোলা হয়েছে, সেগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থে পরিচালিত অপপ্রচার। গণমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “আমি কোনো ধরনের দুর্নীতি বা ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত নই। তদন্তেই সত্য বেরিয়ে আসবে।” তবে এখন পর্যন্ত অভিযোগগুলোর নির্দিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা তথ্যভিত্তিক জবাব প্রকাশ্যে আনেননি তিনি। সমালোচকদের মতে, শুধু অস্বীকার করাই যথেষ্ট নয়; বরং প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত ও যোগাযোগের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। বিসিবির ভেতরের একটি সূত্র জানায়, তদন্ত চলাকালীন শামীম প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা না বলার কৌশল নিয়েছেন। তার ঘনিষ্ঠদের দাবি, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই তিনি বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন। তবে ততদিনে জনমত কোন দিকে যায়, সেটাই তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রতিক্রিয়া শামীমকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। ফেসবুক, এক্স (টুইটার) ও ইউটিউবে বিসিবির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অসংখ্য ক্রিকেটপ্রেমী। অনেকেই মনে করছেন, বোর্ড নিজেই যখন স্বচ্ছ নয়, তখন ক্রিকেটের উন্নয়ন শুধু স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকে। “বোর্ড আগে নিজেকে শুদ্ধ করুক”- এমন মন্তব্য বারবার উঠে আসছে। কেউ কেউ আবার লিখেছেন, “দুর্নীতি যদি প্রশাসনেই থাকে, ক্রিকেট এগোবে কীভাবে?” এই প্রতিক্রিয়াগুলো স্পষ্ট করে দিচ্ছে, বিসিবির প্রতি আস্থার জায়গাটি কতটা নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে তরুণ ক্রিকেটভক্তদের মধ্যে ক্ষোভ বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাদের মতে, খেলোয়াড়দের কাছ থেকে নৈতিকতা আশা করা হলেও, প্রশাসনের ক্ষেত্রে সেই মানদণ্ড প্রয়োগ না হওয়া হতাশাজনক। এই জনমত বিসিবির জন্য একটি সতর্ক বার্তা বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভাবমূর্তির প্রশ্ন বিসিবির কোনো পরিচালকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বরাবরই সদস্য বোর্ডগুলোর সুশাসন ও স্বচ্ছতার ওপর নজর রাখে। অতীতে বিভিন্ন বোর্ডে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে আইসিসি হস্তক্ষেপের নজিরও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শামীম ইস্যু যদি সঠিকভাবে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে নিষ্পত্তি না হয়, তাহলে বিসিবির ওপর বাড়তি নজরদারি আসতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হতে পারে এবং বিভিন্ন সহযোগিতা ও উন্নয়ন প্রকল্পে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এক আন্তর্জাতিক ক্রীড়া বিশ্লেষকের ভাষায়, “ক্রিকেট এখন শুধু মাঠের খেলা নয়, প্রশাসনিক বিশ্বাসযোগ্যতাও বড় বিষয়।” এই কারণেই তদন্ত প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সামনে কী অপেক্ষা করছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী শামীম ইস্যুতে কয়েকটি পথ খোলা রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার পরিচালক পদ বাতিলসহ বিসিবির অভ্যন্তরীণ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। গুরুতর অপরাধের প্রমাণ মিললে আইনগত ব্যবস্থার পথও খোলা থাকবে। তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, বিসিবিতে তদন্ত প্রক্রিয়া অনেক সময় দীর্ঘায়িত হয়। ফলে দ্রুত ও দৃশ্যমান সিদ্ধান্ত আসবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। ক্রিকেটপ্রেমীদের বড় প্রত্যাশা- এবার যেন তদন্ত শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে। এই ইস্যুর পরিণতি শুধু একজন পরিচালকের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না; বরং বিসিবি আদৌ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির পথে হাঁটতে চায় কি না, সেই পরীক্ষাও দেবে।
মৎস্য অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এক ব্যক্তি। গত ২ মার্চ দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মৎস্য অধিদপ্তরের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা প্রকল্প পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের প্রত্যক্ষ যোগসাজশে প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতি সংঘটিত হচ্ছে। টেন্ডার ছাড়াই কাজ দেওয়ার অভিযোগ অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনী খামার স্থাপন এবং মৎস্যচাষিদের জন্য জলবায়ু সহিষ্ণু উপকরণ ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) লঙ্ঘন করা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সরাসরি ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে বাজারমূল্যের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দামে উপকরণ দেখিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সুবিধাভোগীর তালিকায় অনিয়ম অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, প্রকৃত মৎস্যচাষিদের পরিবর্তে প্রকল্প এলাকার প্রভাবশালী ও ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের নাম সুবিধাভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে উপকূলীয় এলাকার অনেক ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষেরও সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ ও সেমিনারের নামেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এছাড়া বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সেমিনার আয়োজনের নামেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, অনেক ক্ষেত্রে কাগজে-কলমে প্রশিক্ষণ দেখিয়ে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করা হয়েছে এবং সেই মাধ্যমে প্রকল্পের বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। সরকারি সম্পদের ব্যক্তিগত ব্যবহার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সরকারি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত গাড়ি ও অন্যান্য সম্পদ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব অনিয়ম এবং কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তের দাবি অভিযোগকারী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রকল্প পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
A senior leader of Bangladesh’s opposition Bangladesh Nationalist Party (BNP) has come under scrutiny following allegations involving marriage disputes, property conflicts, and financial dealings. The allegations centre on Zeba Amina Ahmed, vice-president of BNP’s women’s wing. Critics claim that she remarried in Bangladesh in 2005 while her first marriage in the United Kingdom had not yet been legally dissolved. Ahmed, however, denies wrongdoing and says the claims are misleading and politically motivated. Questions Over Divorce Timeline According to available records, Ahmed married Niaz Bin Karim in the UK in July 1983. Her critics claim that the marriage legally remained valid until January 2007. However, they say she remarried in Bangladesh in September 2005. Under Bangladeshi law, marrying again while a previous marriage is still legally valid could constitute a criminal offence. Ahmed disputes this account, saying that the first marriage had already ended through a verbal divorce under Islamic law. “Under Islamic rules, once the waiting period after divorce ends, a woman can remarry. Later, in 2007, the divorce was formalised through a court in London,” she said. Second Marriage and Legal Dispute Ahmed’s second husband was property developer Mokarram Hossain Khan, a former president of the Real Estate and Housing Association of Bangladesh (REHAB). Khan alleges that Ahmed had claimed to be divorced when they married but did not provide documentary proof at the time. He later filed a case in a Dhaka court alleging misrepresentation. Property and Financial Disputes Khan also claims that Ahmed obtained shares in some of his companies and took large sums of money that were never repaid. There is also an ongoing legal dispute over an apartment in Dhaka’s Baridhara diplomatic zone. According to Khan, Ahmed has remained in the apartment despite lacking ownership, citing a court order maintaining the status quo. Allegations of Trespassing and Violence Khan has also accused Ahmed of orchestrating an incident in June 2025 in which a group of individuals allegedly entered his residence and vandalised property. He says police complaints and court cases have been filed regarding the incident. Family Property Dispute Separate allegations involve a family property in Dhaka’s Gulshan area, where relatives claim they have not received their share. Ahmed denies these claims as well. UK Business Questions Ahmed was previously involved in a UK-based company called “Children’s Paradise (UK)”. While critics say the company collapsed financially, Ahmed states that it was closed through liquidation rather than bankruptcy. Political Response The BNP has not yet issued an official statement regarding the allegations. Ahmed maintains that most of the accusations against her are false and says the courts will ultimately determine the facts. বিএনপি নেত্রী জেবা আমিনাকে ঘিরে দ্বৈত বিবাহ ও সম্পত্তি বিতর্ক লন্ডন থেকে ঢাকা: জেবা আমিনা আহমেদের জীবন ঘিরে আইনি জটিলত বিয়ে, মামলা, সম্পত্তি—জেবা আমিনা বিতর্কে নতুন প্রশ্ন দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগে বিতর্কে বিএনপি নেত্রী সম্পত্তি ও আইনি বিরোধ: আলোচনায় জেবা আমিনা আহমেদ ” দ্বৈত বিবাহ, সম্পত্তি বিরোধ ও আইনি মামলা: বিএনপি নেত্রী জেবা আমিনা আহমেদকে ঘিরে বিতর্ক “লন্ডনের ব্যবসা থেকে ঢাকার রাজনৈতিক বিতর্ক—এক নেত্রীকে ঘিরে প্রশ্নের পর প্রশ্ন।” বাংলাদেশের বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপির এক নেত্রীকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে দ্বৈত বিবাহ, সম্পত্তি বিরোধ, আর্থিক লেনদেন এবং সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বিএনপির মহিলা দলের সহ-সভাপতি জেবা আমিনা আহমেদ। অভিযোগকারীদের দাবি, যুক্তরাজ্যে প্রথম স্বামীর সঙ্গে আইনগত বিচ্ছেদ সম্পন্ন হওয়ার আগেই তিনি বাংলাদেশে এসে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছিলেন। তবে এসব অভিযোগের অনেকগুলোই তিনি অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন যে বিষয়গুলো আদালতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। প্রথম বিবাহ ও আইনি বিচ্ছেদ নিয়ে প্রশ্ন নথি অনুযায়ী, জেবা আমিনা আহমেদ ১৯৮৩ সালের ১৫ জুলাই যুক্তরাজ্যে নিয়াজ বিন করিমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। অভিযোগকারীদের দাবি, তাদের বিবাহ আইনি নথিতে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বহাল ছিল। কিন্তু এর মধ্যেই ২০০৫ সালে তিনি বাংলাদেশে এসে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন। বাংলাদেশের দণ্ডবিধি অনুযায়ী, প্রথম বিবাহ বহাল থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিবাহ করলে সেটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে জেবা আমিনা আহমেদ এই অভিযোগের জবাবে বলেন, “প্রথম স্বামীর সঙ্গে মৌখিকভাবে তালাক হয়েছিল। ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী ইদ্দত পার হলে একজন নারী পুনরায় বিবাহ করতে পারেন। পরে ২০০৭ সালে লন্ডনে আদালতের মাধ্যমে ডিভোর্স সম্পন্ন হয়।” দ্বিতীয় সংসার ও আইনি বিরোধ জেবা আমিনা আহমেদের দ্বিতীয় স্বামী ছিলেন আবাসন খাতের ব্যবসায়ী এবং রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সাবেক সভাপতি মোকাররম হোসেন খান। তার অভিযোগ, বিয়ের সময় জেবা আমিনা প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের দাবি করলেও কোনো লিখিত প্রমাণ দেখাতে পারেননি। পরে জানা যায়, তাদের বিবাহের সময় প্রথম স্বামীর সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়নি। এই অভিযোগের ভিত্তিতে মোকাররম হোসেন খান ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে অভিযোগ মোকাররম হোসেন খানের অভিযোগ অনুযায়ী, জেবা আমিনা তার মালিকানাধীন কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ার নিজের নামে লিখিয়ে নেন এবং কোম্পানি থেকে বিপুল অর্থ গ্রহণ করেন। এছাড়া বারিধারা ডিপ্লোমেটিক এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট নিয়ে তাদের মধ্যে আইনি বিরোধ চলছে। মোকাররম হোসেনের দাবি, ওই ফ্ল্যাটের মালিকানা না থাকলেও আদালতের একটি স্থিতাবস্থা আদেশের সুযোগ নিয়ে সেখানে অবস্থান করছেন জেবা আমিনা। সহিংসতা ও দখলচেষ্টার অভিযোগ ২০২৫ সালের জুন মাসে বারিধারার একটি বাসভবনে হামলার অভিযোগও করেছেন মোকাররম হোসেন খান। তার দাবি, তিনি দেশের বাইরে থাকাকালে কয়েকজন ব্যক্তি ভবনে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এই ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি এবং আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে তিনি জানান। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ জেবা আমিনা আহমেদের বিরুদ্ধে তার পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে পরিবারে বিরোধের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গুলশান এলাকার একটি সম্পত্তিতে তার বোন ও ভাতিজাদের অংশ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে তা এককভাবে ব্যবহার করছেন। তবে এই অভিযোগগুলোও তিনি অস্বীকার করেছেন। যুক্তরাজ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন জেবা আমিনা আহমেদ যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে ‘চিলড্রেন প্যারাডাইস (ইউকে)’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন বলে জানা যায়। অভিযোগ রয়েছে যে প্রতিষ্ঠানটি পরে বন্ধ হয়ে যায়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “কোম্পানিটি দেউলিয়া হয়নি; বরং লিকুইডেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বন্ধ হয়েছে।” রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া জেবা আমিনা আহমেদকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হলেও বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। অন্যদিকে জেবা আমিনা আহমেদ বলেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অধিকাংশ অভিযোগই ভিত্তিহীন এবং আদালতেই এর সত্যতা প্রমাণিত হবে।
বরিশাল নগরীতে দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক সেবা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সিটি করপোরেশনের অধিকাংশ ওয়ার্ড কাউন্সিলর আত্মগোপনে থাকায় জন্মনিবন্ধন সনদ, মৃত্যুসনদ, নাগরিকত্ব সনদ, ওয়ারিশ সনদসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ সেবা পেতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নগরবাসী। সরকার পতনের পরবর্তী পরিস্থিতিতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বেশিরভাগ কাউন্সিলর আত্মগোপনে চলে যান। এরপর বিভাগীয় কমিশনার মো. শওকত আলী গত ১৯ আগস্ট সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে অধিকাংশ ওয়ার্ডে নির্বাচিত কাউন্সিলর না থাকায় নাগরিক সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কাউন্সিলর কার্যালয় বন্ধ, সেবা বন্ধ বরিশাল সিটি করপোরেশনের সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী, ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের কার্যালয় থেকেই জন্মনিবন্ধন সনদ, মৃত্যুসনদ, নাগরিকত্ব সনদ, চারিত্রিক সনদ, উত্তরাধিকার (ওয়ারিশ) সনদ, ভূমিহীন সনদ, টিসিবি কার্ড এবং বিভিন্ন ভাতার সত্যায়িত সনদ প্রদান করা হয়। এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকা যাচাই, বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র ও অনাপত্তিপত্রেও কাউন্সিলরের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে মামলার কারণে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১৪টিরও বেশি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আত্মগোপনে থাকায় এসব কার্যালয় কার্যত বন্ধ রয়েছে। ফলে নাগরিকদের বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রশাসক নিয়োগেও সমাধান হয়নি বরিশাল সিটি করপোরেশনে একজন মেয়র, ৩০ জন সাধারণ কাউন্সিলর এবং ১০ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের পরিবর্তে প্রথম শ্রেণির ২০ জন সরকারি কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নাগরিকদের অভিযোগ, দাফতরিক কাজের চাপে প্রশাসকরা যথাসময়ে নাগরিক সেবা দিতে পারছেন না। একজন জনপ্রতিনিধি যে সেবা দ্রুত দিতে পারতেন, তা পেতে এখন সপ্তাহ থেকে মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতারা প্রশাসকের কক্ষে প্রবেশও করতে পারছেন না। সনদের জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মিরাজুল ইসলাম জানান, তার সন্তানের স্কুলে ভর্তির জন্য জন্মনিবন্ধন সনদের প্রয়োজন হয়েছিল। তিনি বলেন, “প্রশাসকের কক্ষে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। এক সপ্তাহ ঘোরার পর দেখা পাই। কিন্তু সনদ পেতে এক মাস লেগে যায়। আগে কাউন্সিলরের মাধ্যমে এক সপ্তাহেই পাওয়া যেত।” একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পুষ্প চক্রবর্তী। তিনি জানান, নাগরিক সনদের জন্য এক মাস চেষ্টা করেও প্রশাসকের কক্ষে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে সাবেক কাউন্সিলরের সহযোগিতায় সনদ সংগ্রহ করতে হয়েছে। সাবেক কাউন্সিলরদের কাছে ছুটছেন নাগরিকরা বর্তমানে অনেক নাগরিক সাবেক কাউন্সিলরদের কার্যালয়ে গিয়ে সাহায্য চাইছেন। সাবেক কাউন্সিলররা জানান, প্রশাসকদের প্রটোকল ও ব্যস্ততার কারণে সাধারণ মানুষ সহজে তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না। ফলে তারা সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন দফতরে ফোন করে নাগরিকদের জরুরি কাজ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মর্তুজা আবেদীন বলেন, “একটি নাগরিক সনদ পেতে দেড় মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করার নজির রয়েছে। প্রতিদিন মানুষ আমার অফিসে সনদের জন্য আসছেন।” সমাধান কী? সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “সরকারি কর্মকর্তারা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তারা এলাকার মানুষকেও চেনেন না। তাই সেবা দিতে দেরি হচ্ছে। দ্রুত নির্বাচন বা সাবেক কাউন্সিলরদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিলে সমস্যা কমবে।” শতভাগ সেবা দেওয়া সম্ভব নয়: সিইও এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, বর্তমানে যারা কাউন্সিলরদের স্থলে প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের পক্ষে নাগরিকদের শতভাগ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী নগরীতে নাগরিক সেবার সংকটের পাশাপাশি বেড়েছে মশার উপদ্রবও। শুষ্ক মৌসুমে মশার অস্বাভাবিক বিস্তারে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে নগর জীবন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সিটি করপোরেশন নগরজুড়ে বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ শুরু করেছে। ১২টি জরুরি দলের মাধ্যমে সকাল-বিকাল নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. মনজুরুল হক জানান, মশার বিস্তার রোধে নতুন ধরনের ওষুধ ব্যবহার শুরু হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, প্রতিদিন প্রায় ২০০ লিটার অ্যাডাল্টিসাইড এবং বিভিন্ন এলাকায় লার্ভিসাইড ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে চারপাশে মশার বংশবিস্তার অনুকূল পরিবেশ থাকায় সমস্যার স্থায়ী সমাধান কঠিন হয়ে পড়েছে।
ঢাকা: প্রায় ৩০০ কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজ ও তাঁর পরিবারের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইতোমধ্যে দুদকের কমিশন সভায় মামলাটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। দুদকের উপপরিচালক আক্তারুল ইসলাম বুধবার গণমাধ্যমকে জানান, পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে শিগগিরই মামলাটি দায়ের করা হবে। দীর্ঘদিন অনুসন্ধান চালিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করার পর কমিশন মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সাবেক এমপি মহিউদ্দিন মহারাজের নিজের নামে প্রায় ৫১ কোটি ২৭ লাখ ৩২ হাজার ৬৩১ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া তাঁর পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের নামেও বিপুল পরিমাণ সম্পদের অসংগতি চিহ্নিত হয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী— স্ত্রী উম্মে কুলসুমের নামে প্রায় ৬ কোটি ৯৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ছেলে শাম্মাম জুনাইদ ইফতির নামে প্রায় ৬৪ কোটি ৯১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা ভাই মো. শামসুদ্দিনের নামে প্রায় ২১ কোটি ৮৬ লাখ ২৩ হাজার টাকা মো. সালাউদ্দীনের নামে প্রায় ২৭ কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা মিরাজুল ইসলাম মিরাজের নামে প্রায় ৯৯ কোটি ১২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা মিরাজের স্ত্রী মিসেস শামীমার নামে প্রায় ৭ কোটি ৯০ লাখ ৯৯ হাজার টাকা এই সম্পদের বৈধ উৎস দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা বলে জানিয়েছে দুদক। দুদক সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন খাত থেকে অর্থ সংগ্রহ, জমি এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রয় ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অস্বাভাবিক লেনদেন করে এসব সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হতে পারে। এর আগে মহিউদ্দিন মহারাজের বিরুদ্ধে প্রায় ১ হাজার ৭৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আটটি মামলা দায়ের করেছে দুদক। এসব মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পদ জব্দ ও ক্রোকের উদ্যোগ নেয় দুদক। সেই ধারাবাহিকতায় মহিউদ্দিন মহারাজ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা এবং সম্পদ জব্দের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী ভবিষ্যতে আরও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
* ১২৮ সেতু নির্মাণের প্রায় ২৩৬ কোটি টাকা মহিউদ্দীন মহারাজ ও তার পরিবারের লুটপাট * মহারাজ পরিবারের পেটে ১২৮ সেতু পিরোজপুরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দীন মহারাজ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা ১২৮টি সেতু নির্মাণ না করেই প্রায় ২৩৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এই ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে মহিউদ্দীন মহারাজসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন। পরিবারের ছয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ দুদক সূত্রে জানা গেছে, মহিউদ্দীন মহারাজ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ছয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এলজিইডির অধীনে সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— মেসার্স হরিণপালা ট্রেডার্স (মহিউদ্দীন মহারাজ) ইফতি ইটিসিএল (প্রা.) লিমিটেড (মিরাজুল ইসলাম) সাউথ বাংলা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল (মিরাজুল ইসলাম) মেসার্স শিমু এন্টারপ্রাইজ (শামীমা আক্তার) তেলিখালী কনস্ট্রাকশন (সামসুদ্দিন) মেসার্স ঈশান এন্টারপ্রাইজ (সালাউদ্দিন) অভিযোগ রয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলো আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে সেতু নির্মাণ না করেই বিল তুলে নিয়েছে। কাগজে সেতু, বাস্তবে নেই তদন্তে দেখা গেছে, এলজিইডির পিরোজপুর সদর, ভাণ্ডারিয়া ও নেছারাবাদ উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পে ভুয়া বিল তৈরি করে হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। একটি উদাহরণ হিসেবে জানা গেছে, পিরোজপুর সদরের কদমতলা ইউনিয়নের পোরগোলা মাধ্যমিক স্কুল থেকে বাঘমারা আবাসন সড়কের খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। সেতুর দৈর্ঘ্য: ৯৬ মিটার প্রাক্কলিত ব্যয়: ১০ কোটি ৩২ লাখ টাকা চুক্তি মূল্য: ৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা কিন্তু বাস্তবে সেখানে কোনো সেতুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ভাণ্ডারিয়ায় ১২৫টি কাগুজে সেতু দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় ১২৫টি সেতু কেবল কাগজে নির্মিত হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মধ্যে এসব প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২৬৯ কোটি টাকার বিল উত্তোলন করা হয়েছে। তদন্তে আরও দেখা গেছে— এলজিইডি অফিসে প্রকল্পের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই কাজের পরিমাপ বইয়ে কোনো তথ্য নেই প্রকল্পের প্যাকেজ নম্বর পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়নি আইবিআরপি প্রকল্প সরকার দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পুরোনো লোহার সেতুগুলো পুনর্নির্মাণের জন্য Iron Bridge Rehabilitation Project (IBRP) নামে একটি প্রকল্প নেয়। প্রকল্প শুরু: ২০১৮ সাল মোট সেতু: ২,০৪৯টি প্রাথমিক ব্যয়: ১,৮৩৫ কোটি টাকা পরে ব্যয় বৃদ্ধি: ২,৩৩৪ কোটি টাকা প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা এবং পুরোনো লোহার সেতুর পরিবর্তে আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা। রাজনীতিতে মহিউদ্দীন মহারাজ মহিউদ্দীন মহারাজের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ছাত্রদলের মাধ্যমে। পরে তিনি জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে পিরোজপুরের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। তার রাজনৈতিক যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো— ১৯৯৬: আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর ব্যক্তিগত সহকারী ২০১৬: স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ২০২৪: পিরোজপুর-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত মামলা ও গ্রেপ্তার দুদকের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এলজিইডির প্রকল্পে জাল কাগজপত্র তৈরি করে প্রায় ২৩৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই ঘটনায় মহিউদ্দীন মহারাজসহ পাঁচজন ঠিকাদার এবং এলজিইডি ও হিসাবরক্ষণ অফিসের ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে— ৫ জন গ্রেপ্তার ১৮ জন পলাতক আত্মগোপনে মহারাজ পরিবার আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই মহিউদ্দীন মহারাজ পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে এলজিইডির পিরোজপুর কার্যালয় থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বরিশাল অফিস : “রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলো পথ”- এই বাক্যটি বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকে। কারাগারের কর্তৃপক্ষও দাবি করেছেন, বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রতিটি বন্দিকে রাখা হয় নিবির পর্যবেক্ষণে। কঠোর অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে দেখানো হয় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার পথ। তবে অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে এর পুরো উল্টো চিত্র। পুরো কারাগার জুড়েই চলছে টাকার খেলা। যার যত বেশি টাকা, সে তত বেশি প্রভাবশালী বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে। টাকাওয়ালারা ঘরের ন্যায় জেলখানাতেও বসবাস করেন আরাম আয়েশে। আর যাদের টাকা নেই তাদের হতে হয় কারাকর্তৃপক্ষের নির্যাতনের শিকার। তবে কারাগারের বাইরে এসব ঘটনা সহসা প্রকাশ করেন না কেউ। কারণ বেশির ভাগ হাজতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী বা অপরাধী হওয়ায় তাদের বারবার যেতে হয় কারাগারে। কারাগারে নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে আসামি ও কয়েদিরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কারা ক্যান্টিনের খাবারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।কারাগারে বন্দি ও জামিনে বেরিয়ে আসা আসামিরা জানান, জেলা কারাগারের ক্যান্টিনে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ টাকায় বন্দিদের কাছে খাবার বিক্রি করে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। এ ছাড়া সরকারি খাবারের নীতিমালার তোয়াক্কা না করে নিম্নমানের খাবার দেওয়া হচ্ছে, যা খাওয়ার উপযোগী নয়। অনুসন্ধানে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, কারাগার কর্তৃপক্ষ সব সময়ই সংবাদকর্মীদের এড়িয়ে চলেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করেন। একজন হাজতি কারা গেট থেকে প্রবেশের পর থেকেই শুরু হয় কারাকর্তৃপক্ষের অর্থ আদায়ের সূচনা। এরপর জামিনে বের হওয়া পর্যন্ত হাজতিদের নিয়ে চলে তাদের অর্থ বাণিজ্য। নামের ভুল: হাজতিদের কারাগারে প্রবেশের আগে তাদের নাম, বাবার নাম ও ঠিকানা একটি খাতায় লিপিবদ্ধ করেন কারাকর্তৃপক্ষ। ওই খাতার নাম হলো পিসি বই। হাজতি মুখে তার পরিচয় সঠিক বললেও লেখার সময় ইচ্ছে করেই পিসি বইতে ভুল লেখা হয়। যেমন, এক জন হাজতির নাম যদি হয় ‘আব্দুর রহমান’ কারাকর্তৃপক্ষ তার নাম লিখবে ‘আব্দুর বহমান’। আদালত থেকে তার জামিন মঞ্জুর হলেও ‘র’ ও ‘ব’ এর বেড়াজালে আটকে দেওয়া হয় ওই হাজতিকে। গেটের দায়িত্বে থাকা কারারক্ষীকে ৫শ’ টাকা দিলে ‘ব’ আবার ‘র’ হয়ে যায়। কিন্তু কেউ টাকা দিতে না পারলে জামিন আদেশের পরেও তাকে এক দিন অতিরিক্ত জেল হাজতে থাকতে হয়। টাকা দেওয়ার ব্যাপারেরও রয়েছে কঠিন শর্ত। কেউ বাইরে থেকে আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে টাকা নিতে পারবেন না। তাকে কারাগারের ভিতর থেকেই টাকা সংগ্রহ করে দিতে হবে। পরিচয় গোপন রাখার সর্তে বাংলানিউজকে এসব কথা জানিয়েছেন হয়রানির শিকার এক হাজতি। দ্বিতীয় ধাপ আমদানি: একজন হাজতি কারাগারে প্রবেশের পর তাকে প্রথম এক দিন আমদানিতে রাখা হয়। পরে তাদের অপরাধ অনুযায়ী বিভিন্ন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। কিন্তু এখানেও রয়েছে টাকার খেলা। যে কেউ চাইলেই আমদানিতে বেড পাবেন না। বেড পেতে হলে তাকে গুনতে হবে ৫শ টাকা। না হয় মেজেতে থাকতে হবে। আর কেউ যদি এক হাজার থেকে ১২শ টাকা দেয় তবে সে যত দিন ইচ্ছে আমদানিতে থাকতে পারবেন। কারাবিধি অনুযায়ী ১০ বছরের নিচের হাজতিদের যশোর সংশোধনী কেন্দ্রে পাঠানোর নিয়ম রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, টাকার জোরে অনেকই দিনের পর দিন আমদানি বসবাস করছে। জানা গেছে, প্রতিমাসে শুধু আমদানি থেকে কারাকর্তৃপক্ষের আয় হচ্ছে প্রায় এক লাখ টাকা। ওয়ার্ড: আমদানিতে এক দিন রাখার পরে হাজতিদের অপরাধ অনুযায়ী বিভিন্ন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। সেখানেও টাকা। অনেক অপরাধী এক জায়গায় বসবাস করায় প্রায়ই হাজতিতের মধ্যে মারামারি বাধে। মারামারি করার অপরাধে তাদেরকে কেস টেবিলে (কারাগারের বিশেষ বিচার ব্যবস্থা) হাজির করা হয়। তবে কারাগারের সুবেদার, জমাদ্দার ও সিআইডিদের টাকা দিলে পার পেয়ে যায় প্রকৃত অপরাধী। এর প্রেক্ষিতে উল্টো শাস্তি পেতে হয় নিরাপরাধীকে। যার ফলে কারাগারে ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে অপরাধ। খাবার: জেলখানায় খাবারের মান খুবই নিম্নমানের বলে জানিয়েছেন একাধিক হাজতি। তবে কারাকর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, বন্দিদের উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়। জেলার জানান, বন্দিদের সকালে রুটি ও গুড়, দুপুরে সবজি-ডাল-ভাত এবং রাতে সবজি-ডাল-ভাত-মাছ বা মাংস খেতে দেওয়া হয়। বন্দিরাও জেলারের কথা অস্বীকার করেন নি। তবে তাদের অভিযোগ খাবারের মান নিয়ে। একাধিক বন্দি জানান, খাবারের তালিকায় মাছের যে সাইজ উল্লেখ থাকে তা দেওয়া হয়না। তালিকায় ইলিশ, রুই, কাতলসহ বিভিন্ন মাছ খাওয়ানোর কথা থাকলেও প্রায় প্রতিদিনই দেওয়া হয় পুকুরে চাষ করা পাঙ্গাস মাছ। আর যে মাংস খাওয়ানো হয় তাও পরিমাণে খুব কম। তবে টাকার বিনিময়ে ক্যান্টিন থেকে চড়া মূল্যে মাছ ও মাংস কিনে খেতে পারেন বন্দিরা। তাই যাদের সামর্থ আছে তারাই কারাগারে বসে ভালমন্দ কিনে খেতে পারেন। সদ্য জেল থেকে বের হওয়া এক হাজতি জানান, রমজান মাসে খাবারের মান ছিল খুবই নিম্নমানের। বন্দিদের সংখ্যা বেশি দেখিয়ে অতিরিক্ত খাবার বরাদ্ধ নেয় কারাকর্তৃপক্ষ। পরে তা বাইরে বিক্রি করে দেয়। কারাগার সূত্রে জানা গেছে, কারাগারের প্রধান গেট থেকেই ভিতরে প্রবেশ করে এই সব নিম্নমানের খাবার। খাবার ভিতরে প্রবেশ করানোর সময় নিম্নমানের অভিযোগ তুলে তা গেটে আটকে দেয় গেট ইনচার্জ। এ নিয়ে চলে খাবার সরবরাহকারী ও গেট ইনচার্জের দেনদরবার। ঘণ্টাখানেক পর ওই খাবারই ভালোমানের হিসেবে কারাগারের ভিতরে প্রবেশ করে। এই নিম্নমানের খাবার খেয়ে পেটের পিড়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতি মাসে ২০ থেকে ২৫ জন বন্দি শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি হয় বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গোসল: একটু ভালোভাবে গোসল করার জন্যও টাকা গুনতে হয় বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিদের। গোসলসহ সব কাজ করার জন্য মাত্র একটি পুকুর রয়েছে কারা অভ্যন্তরে। তাই সব কাজ একটি পুকুরে করায় পুকুরের পানি নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে ওই পুকুরের পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পরেছে। তাই পাম্প বা বিভিন্ন সেলের সামনে গোসল করতে হয় বন্দিদের। কিন্তু সবাই এসব স্থানে গোসল করতে পারেন না। প্রতিবার গোসল করার জন্য যারা ৫০ থেকে ৬০ টাকা দিতে পারছে শুধুমাত্র তারাই সেখানে গোসল করার সুযোগ পাচ্ছে। ক্যান্টিন: একাধিক বন্দি জানিয়েছেন, কারাগারের ক্যান্টিনে তেমন একটা দুর্নীতি হয়না। তবে যা হয় তাও কম নয়। এখানে রান্নার তেল খুবই খারাপ। একই পোড়া তেল দিয়ে তৈরি করা হয় নানা খাবার। এ ব্যাপারে কয়েক জন হাজতির সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, ‘কেনই বা পোড়া তেল দিয়ে রান্না হবে না। ক্যান্টিন বরাদ্ধ নিতে এক কালীন ৫ লাখ টাকা দিতে হয় কারাকর্তৃপক্ষকে। হাজতিদের টাকা: কারাগারের অভ্যন্তরে নগদ টাকা বহন করা বড় ধরনের অপরাধ। তাই বাইরে থেকে কেউ টাকা দিতে চাইলে ব্যাংক হিসেবের ন্যায় পিসি বইতে টাকা জমা হয়। কারো টাকার প্রয়োজন হলে পিসি বইয়ের মাধ্যমে ক্যান্টিন থেকে লেনদেন করেন। আর এখানেই হলো আসল দুর্নীতি। কেউ একশ’ টাকা চাইলে তাকে দেওয়া হয় ৯০ টাকা। বাকি ১০টা কমিশন বাবদ কেটে রাখা হয়। দেখার ঘর: বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে আসা স্বজনরা সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হন দেখার ঘরে। তবে টাকা থাকলে সেখানেও রয়েছে স্বস্তি।কারারক্ষীদের পকেটে একশ’ টাকার দুটি নোট ঢুকিয়ে দিতেই দেখা করার ব্যবস্থা করে দেয় কারারক্ষী। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কারাগারের দেখার ঘরের দায়িত্বে রয়েছেন মেয়াসাবরা । তারাই টাকা সংগ্রহ করেন। মেডিকেল: কারাগারের সবচেয়ে বেশি হৃদয়বিধারক ঘটনা ঘটে মেডিকেলে। হাজত খেটে বের হওয়া অনেকেই অভিযোগ করেছেন, পুরো মেডিকেল রয়েছে চিফ রাইটারের নিয়ন্ত্রণে। তিনি যেভাবে চালান সেভাবেই চলে মেডিকেল। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মেডিকেলের চিফ রাইটারের দায়িত্বে আছেন এক কয়েদি । অথচ কারাবিধান অনুযায়ী এক মাসের বেশি কোনো কয়েদি বা কারারক্ষী একস্থানে থাকতে পারবেন না। জানা গেছে, কারাবিধি অনুযায়ী যে রোগী আগে যাবে সে মেডিকেলে সিট পাবে। কিন্তু সেখানে চলে এর উল্টো। টাকার বিনিময়ে সুস্থদের সিট পাাইয়ে দেয় । আর প্রকৃত অসুস্থরা থাকেন মেঝেতে। তবে কারা পরিদর্শক দল পরিদর্শনে গেলে অসুস্থদের বেডে রাখা হয়। কিন্তু তারা চলে গেলে পূর্বের নিয়ম চালু হয়। একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, মেডিকেলে ১৫ দিন থাকার জন্য ১৫শ টাকা এবং এক মাস থাকার জন্য ২৫শ টাকা দিতে হয়। নাম প্রকাশ না করার সর্তে একাধিক হাজতি জানিয়েছেন, যে কেউ দিব্যি সুস্থ হয়েও অসুস্থতার সার্টিফিকেট নিয়ে শেবাচিম হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হয়। সেখানে বসে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা এবং মোবাইলে পর্যন্ত কথা বলতে পারেন। কারা চিকিৎসকের সঙ্গে আতাত করে সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা করে দেয় । এই সার্টিফিটের জন্য প্রতিজন বন্দিকে দিতে হয় ৮শ থেকে এক হাজার টাকা। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিমাসে শুধুমাত্র মেডিকেল থেকে আয় হয় দেড় থেকে ২ লাখ টাকা। চিকিৎসক নিজেও এর একটি অংশ পান। মাদক: কারাগারের অভ্যন্তরে বিক্রি হওয়া মাদকের মধ্যে রয়েছে গাজা এবং ঘুমের ট্যাবলেট ইপম ও ক্লোনাজম। কারাঅভ্যন্তরে কারারক্ষীরা নিজেরাই এসব মাদকদ্রব্য সরবরাহ করছে বলে বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে। বিশেষ করে সিআইডি জমাদ্দার ও মেডিকেল চিফ রাইটার এই মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। কারণ সিআইডি সদস্যদের গেটে তল্লাশি করা হয়না। তাই কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই কারাঅভ্যন্তরে মাদক প্রবেশ করায় তারা। সিআইডি: দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে যেমন সিআইডি টিম রয়েছে। কারাগারেও এর বিকল্প নয়। কয়েদি ও কারারক্ষীদের মধ্যে থেকে বিশ্বস্ত লোক বাছাই করে সিআইডি হিসেবে নিয়োগ দেন জেলার নিজেই। তবে যে কাজের জন্য তাদের নিয়োজিত করা হয় তারা তা বাদ দিয়ে সব সময় অর্থ আয়ে নিজেদের ব্যস্ত রাখেন। জানা গেছে, কারাগারের সব দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে খোঁজ খবর রাখার জন্য ডিআইজি প্রিজনের পক্ষ থেকে একজন সিআইডি সদস্য রয়েছে বরিশাল কারাগারে। তবে এই সিআইডি সদস্য ডিআইজির কাছে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের সব দুর্নীতি ও অনিয়মের কথা গোপন করছেন। কারণ কারাকর্তৃপক্ষের সঙ্গে আতাত করে এখান থেকে প্রতিমাসে মোটা অংকের টাকা নিয়ে পকেট ভারি করছেন তিনি। কয়েদিদের দুর্ভোগ: যে সব কয়েদী কারাকর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে থাকেন তারাই রাজত্ব করেন পুরো কারাগার জুড়ে। আর যারা কারাকর্তৃপক্ষের মন মতো চলতে পারেন না, তাদের সইতে হয় নির্যাতন। মন মতো বলতে টাকা উপার্জন করিয়ে দেওয়াকে বোঝানো হয়েছে। আর তাদের কাজ করতে হয় ফুলের বাগান, সুইপার চালি, তাত চালি বা রান্না ঘরে। এমনই তথ্য দিয়েছেন হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুই কয়েদি। বিভিন্ন দিবসে বন্দিদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন: বিভিন্ন সরকারি দিবস বা ঈদ-কোরবানীতে বন্দিদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়ে থাকে। কারাঅভ্যন্তরে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। এজন্য সরকার থেকে আলাদা বরাদ্ধ থাকলেও বন্দিদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করে কর্তৃপক্ষ। টাকার ভাগবাটোয়ারা: খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নামের ভুলসংশোধনী, আমদানি, ওয়ার্ড, গোসল, খাবার, ক্যান্টিন, হাজতিদের টাকার কমিশন, দেখার ঘর, মেডিকেল অর্থাৎ সব মিলিয়ে প্রতিমাসে কমপক্ষে ১০ খেকে ১২ লাখ টাকা উপার্জন হয় অবৈধভাবে। সিনিয়র সুপার, জেলার, ডেপুটি জেলার থেকে শুরু করে হাসপাতালের চিকিৎসক, সুবেদার, কারারক্ষীরা পর্যন্ত এই টাকার ভাগ পায়। কারাগারের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস: বরিশাল ছিল এক সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকা। তাই এখানে নির্জন কারাবাসে পাঠানো হতো ভয়ঙ্কর অপরাধীদের। ১৮২৯ সালে ২০ দশমিক ৩ একর জমির ওপর বরিশালে কারাগার নির্মাণ করা হয়। পরে ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই এটি বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার হিসেবে ঘোষণা করে তৎকালীন সরকার। তবে জেলা কারাগার থেকে কেন্দ্রীয় কারাগার করা হলেও সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি একাংশও। দেশে বর্তমানে কেন্দ্রীয় কারাগারের সংখ্যা ১৩টি। হাসপাতাল আছে চিকিৎসক নেই: ৫৮ শয্যার হাসপাতালটিতে প্রায় সব সময়ই শতাধিক বন্দি ভর্তি থাকেন। সেখানে নেই কোনো স্থায়ী চিকিৎসক। চিকিৎসা দেওয়ার জন্য বরিশাল সিভিল সার্জন অফিস থেকে একজন চিকিৎসককে প্রেষণে দেওয়া হয়েছে। কারাবিধি অনুযাীয় ৫০ শয্যার হাসপাতালে একজন বিশেষজ্ঞসহ ছয়জন চিকিৎসক থাকার কথা রয়েছে।বিভাগের অন্যান্য কারাগার থেকে অসুস্থ বন্দিদের বরিশালে পাঠানো হয়। অথচ এখানে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়ার জন্য কোনো চিকিৎসক নেই। কারাগার থেকে জামিনে বের হওয়া হাজতিরা অভিযোগ করে বলেন, ‘বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে “রাখিব নিরাপদ, দেখাবো আলোর পথ” এই নীতিবাক্য লেখা থাকলেও বাস্তবে ঘটছে উল্টোটা। কেননা কারাগারের অভ্যন্তরে টাকা দিলে নানা রকম সুবিধা মেলে। আর যার টাকা নেই তার কষ্ট ও দুর্ভোগের শেষ নেই। থাকার জন্য জায়গা পেতে টাকা দিতে হচ্ছে কারারক্ষীদের। খাবার পেতে টাকা দিতে হচ্ছে। কারাগারের ক্যান্টিনে যে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয় তা বাইরের অনিময়কেও হার মানায়। তাছাড়া স্বজনরা কারাগারে খাবার ও টাকা দিয়ে আসলে তাও সঠিক পরিমাণে হাজতিদের বুঝিয়ে দেয় না কারারক্ষীরা। কারাগারের মধ্যে সব থেকে বেশি চাহিদা হাসপাতালের। কিন্তু সেখানে যেতে কোন কোন ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হয়। তবে টাকা হলে সেটার প্রয়োজন হয় না।
রফিকুল ইসলাম : সত্তর বছরের সুখী বেগম জীবনে মাত্র কয়েকবারই সুখের মুখ দেখেছেন। গত ৫০ বছরে প্রমত্তা ব্রক্ষ্মপুত্রের বন্যা আর নদী ভাঙ্গনে সাত বার নিজের ভিটে-মাটি হারিয়েছেন সুখী বেগম। পাঁচ সন্তানের জননী সুখী বেগম এখনও নদীর বুকে জন্ম নেয়া এক ধরনের দ্বীপে বসবাস করেন যার স্থানীয় নাম চর। এই চরে নিজের ঘর থাকলেও মনে সব সময়ই ভয় কখন আবার বন্যার পানিতে সব হারিয়ে যায়। আর সেজন্যই তার মতো হাজারো চরবাসী নতনু নতুন কৌশল অবলম্বন করছে নদীকেন্দ্রীক বিপদ থেকে বাঁচার জন্য। হয়ত এই প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই তারা স্বপ্ন দেখেন আগামীর। বাংলাদেশের জামালপুরের পাকুয়ার চরে নিজ বাড়ির পিছনে মেয়ে বানী বেগমের (৫০) সাথে সুখী বেগম। ২৪ এপ্রিল, ২০২২ (ছবি: মোহাম্মদ আবদুস সালাম/ দ্য থার্ড পোল) “প্রায় ৫০ বছর আগে আমরা সারিয়াকান্দির পাকুয়ার চরে গিয়ে বসত গড়েছিলাম (সারিয়াকান্দি বাংলাদেশের উত্তরের জেলা বগুড়ার অন্তর্গত)। সেই দিনটির কথা আমার এখনও স্পষ্টভাবে মনে পড়ে যেদিন প্রথমবারের মতো নদী ভাঙনের কারনে আমাদের ঘরবাড়ি ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যত্র চলে যেতে হয়েছিল। সেখানে নতুন জীবনের আশায় আমরা ঘর বেঁধেছিলাম, কিন্তু প্রমত্তা এই নদী বার বার আমাদের ঘর-বাড়ি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।” সুখী বেগম এখনও অন্য কোথাও গিয়ে আবারো নতুন করে বসত গড়তে চান না। বন্যা সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে য়ায় সেটা যেমন জানেন সুখী বেগম, তেমনি এটাও বোঝেন যে এই বন্যার পানি সুদূর হিমালয় থেকে পলি বয়ে এনে এই চরগুলোকে একটি উর্বর ভূমিতে রুপান্তর করে। “আমি এই চরের মাটিতেই জন্ম গ্রহন করেছি, আর এই চরের বুকেই শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করতে চাই।” যেভাবে ব্রহ্মপুত্রের বুকে সৃষ্টি হয় চর ব্রহ্মপুত্র নদ বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ পলি বহনকারী একটি নদী এবং এর পলি পরিবহনের গতিশীলতা উত্তর-পূর্ব ভারত এবং ভাটিতে অবস্থিত বাংলাদেশের বাস্তুতন্ত্র এবং কৃষিকে মারাত্বকভাবে প্রভাবিত করে। ঢাকা-ভিত্তিক সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেমের (সিইজিআইএস) নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা এ খান বলেন, “প্রতি বছর প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন টন পলি উজান থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের মাধ্যমে আমাদের দেশে আসে। উজান থেকে আসা পলির সবটুকুই বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পতিত হয় না। এর একটি অংশ নদীল বুকে জমে সৃষ্ট করে ছোট বড় অনেক চর। ফিদা এ খান বলেন, ব্রহ্মপুত্র ও এর উপনদীর বাংলাদেশের অংশে প্রায় ৫০টি ছোট-বড় চর রয়েছে। এছাড়াও এখানে আরো প্রায় ২০ থেকে ২৫টি ডুবো চর রয়েছে। ব্রক্ষ্মপুত্র নদীটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে এক পর্যায়ে যমুনা নাম ধারণ করেছে। এই নদীটি ঠিক যেভাবে বছর বছর বন্যায় অনেক চর ধ্বংস করে আবার হাজার ক্রোশ দুর থেক পলি বয়ে এনে চরের বুকে জমিয়ে নতুন নতুন চরের জন্ম দেয়। ঠিক যেমনটি ঘটেছে পাকুয়ার চরের একপাশে। সেখানে পাটের আবাদ করেছেন ৩৪ বছরের যুবক জিয়াউর রহমান। পেশায় কৃষক জিয়াউর রহমান ভালো করেই জানেন যে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের এই বর্ষা মৌসুমে যে কোনো সময় বন্যার কারনে তার এই ফসল তলিয়ে যেতে পারে। তিনি তার বাড়িটি কিছুটা দুরে গিয়ে অনেকটাই স্থায়ী একটি চরে সরিয়ে নিয়ছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বন্যার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এভাবেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বসত বাড়ি সরিয়ে নেয়াটা এক ধরনের অভিযোজনের অংশ এখানকার মানুষের। অভিযোজন প্রতি বর্ষায় ব্রক্ষ্মপুত্রের চরে বাস করা মানুষগুলো ভালো করেই জানে যে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই বালু আর পলিতে গড়া অপেক্ষাকৃত নিচু এই সব দ্বীপের বিরাট অংশ বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় – এর জন্য বড় ধরনের কোনো বন্যার প্রয়োজন হয় না, সামান্য বন্যাতেই এখানকার নিচু অংশগুলো ডুবে যায়। তাই এখানকার বাসিন্দাদের অনেকেই নিজেদের মাটির ঘরগুলোকে নিজেদের সাধ্যমতো ভূমি থেকে কিছুটা উঁচু করে তৈরি করে থাকে। পাশাপাশি তারা তাদের বাড়ির ভিতরের বিছানাগুলো হ্যামকের মতো দড়ি দিয়ে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখে। তক্তাগুলোকে একসাথে হাতুড়ী দিয়ে পিটিয়ে মাঁচার মতো করে সমান উচ্চতায় রাখা হয়। আর বন্যার পানি নিজেদের ঘরের মেঝেতে পৌছে গেলে তারা এভাবেই বসবাস করে থাকে। জামালপুরের শুভগাছা চরে বন্যার সময় পানির থেকে বাঁচতে হ্যামোকের মতো করে এভাবে দড়ি দিয়ে বিছানা ঝুলিয়ে রাখার কৌশলটি সেখানকার মাসুষের কাছে এখন বেশ জনপ্রিয় (ছবি: মোহাম্মদ আব্দুস সালাম/ দ্য থার্ড পোল) কিন্তু অস্বাভাবিক বন্যা হলে পানি আরো উচ্চতায় পৌছে যায়। তাই প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কলা গাছের কাণ্ড কেটে তারা এক ধরনের ভেলা বানিয়ে রাখে যাতে প্রবল বন্যার সময় তারা সেই ভেলাতে আশ্রয় নিতে পারে। মাঝে মাঝে ভেলায় ভেসে তাদের দিনের পর দিন বসবাস করতে হয়। অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছল পরিবারগুলো বন্যার সময় পানিতে বাড়ি ডুবে গেলে নিজেদের নৌকায় বসবাস করে। এসময় বাড়ি-ঘর, রাস্তাঘাট, বাজার – সবই থাকে পানির নিচে। চরে বাড়ি তৈরীর সময় সেখানকার বাসিন্দারা মাটি দিয়ে উঁচু ভিত তৈরী করে নিজেদের সাধ্যমতো যাতে বন্যার সময় বাড়ির সামনে পানি এলেও নিজেদের ঘর কিছুটা উঁচুতে থাকে। (শুভগাছা চর, জামালপুর থেকে ছবিটি তুলেছেন মোহাম্মদ আব্দুস সালাম/দ্য থার্ড পোল) “যখন বন্যার পানিতে আমাদের ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়, আমরা তখন ঘরের ভিতরে মাঁচা বানিয়ে কিংবা নৌকা বা ভেলায় বসবাস করি। যখন পরিস্থিতি খুব খারাপ হয়ে যায়, তখন প্রাণ বাঁচাতে চরের বাসিন্দারা (সরকার পরিচালিত) আশ্রয় কেন্দ্রে ছুটে যায়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের মতো সহায় সম্বলহীন মানুষগুলো নিজেদের যা কিছুই আছে তা রেখে আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে চায় না, বলছিলেন জিয়াউর। চরের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই একটি বিষয় খুব চোখে পড়ে, বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারগুলোতে – আর সেটি হচ্ছে একটি পানি নিরোধক বাক্স। বন্যার সময় চরের বাসিন্দারা তাদের জমির দলিলপত্রসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে এই বাক্সের ভিতরে রেখে দেয় যাতে পানিতে তা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। চরে প্রায় প্রত্যেকটি পরিবারেই একটি করে পানি নিরোধক বাক্স থাকে যাতে বন্যার সময় তারা নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ দলিল দস্তাবেজসহ অন্যান্য নথিপত্র নিরাপদে রাখতে পারে। (দমোদরপুর চর থেকে দ্য থার্ড পোলের জন্য ছবিটি তুলেছেন মোহাম্মদ আব্দুস সালাম) চরে সবচেয়ে বড় অভিযোজনের বিষয়টি দেখা যায় কৃষির ক্ষেত্রে। পাশেই আরেক চর শুভগাছার মোজাম মণ্ডল বলেন, আমাদের এখানকার চাষীরা এখন বন্যার পানি সহায়ক ভূট্টার চাষ শুরু করছে। “এই বছর আমি প্রায় এক একর জমিতে (০.৪ হেক্টর) ভূট্টার চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছি।” “আমরা আসলে চরে ভূট্টা চাষে বেশ আগ্রহ বোধ করছি কারণ এই ফসল বিক্রি করে আমরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছি। অন্যান্য ফসল বিক্রি করে আমরা যে মুনাফা পাই তার চেয়ে ভূট্টা চাষে মুনাফা অনেক বেশি। আমি এবছর প্রতি মন ভূট্টা (৩৭.৩২ কেজি) ১,৩০০ টাকায় (১৫ মার্কিন ডলার) বিক্রি করেছি”, সরিষাবাড়ি উপজেলার অন্তর্গত চর দৌলতপুরের কৃষক মোজাম্মেল হক দ্য থার্ড পোলের কাছে এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশের ব্রক্ষ্মপুত্র নদীর চরগুলোতে ব্যাপকভাবে ভূট্টার চাষ করা হয়। (ছবিটি জামালপুরের শুভগাছা চর থেকে তোলা। দ্য থার্ড পোলের জন্য ছবিটি তুলেছেন মোহাম্মদ আব্দুস সালাম) বন্যার সময় গৃহপালিত পশুদের কী অবস্থা হয়? জানতে চাইলে মোজাম বলেন, আসলে নিজেদের পাশাপাশি বন্যার সময় তৈরি করা ভেলাগুলোতে গৃহপালিত পশুগুলোকেও একসাথে রাখা হয়। চরবাসীরা শুকনো চালের বিভিন্ন ধরনের খাদ্য সাথে রেখে থাকেন। বন্যার সময় কোনো ঘাসময় জমি পাওয়া পর্যন্ত এসব গৃহপালিত পশু অনেকটাই না খেয়ে থাকে। উঁচু ভীতে ঘর বেঁধে স্বপ্নের বুনন এমিলি বেগম (৫০) জানতেন তার পরিবার ভিত উঁচু করে ঘর বাঁধতে সক্ষম নয়। কিন্তু ২০২১ সালে সরকারী উন্নয়ন সংস্থা পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউণ্ডেশনের পক্ষ থেকে তাদের ঘর উঁচু করে বাঁধার জন্য সহায়তা দেয়া হয়। এখন তার মনে হচ্ছে তার পরিবার এখন আগের চেয়ে অনেকটাই নিরাপদ। “আগে বন্যার সময় আমাদের গৃহপালিত পশুগুলোকে নিরাপদে রাখার মতো জায়গা না থাকায় অত্যন্ত স্বল্প মূল্যে এসব পশু বন্যার আগে আগে বাজারে বিক্রি করতে হতো”, এমিলি বলেন। কিন্তু এখন ঘরের ভীত আরো উঁচু হওয়ায় সেখানে নিজেদের ছাগলসহ অন্যান্য গৃহপালিত পশুগুলোকে সহজেই নিরাপদে রাখা সম্ভব। “এখন আর আমাদের বন্যার সময় স্বল্প মূল্যে ছাগলগুলোকে বিক্রি করার প্রয়োজন পড়ে না।” চরের বাসিন্দাদের জন্য নেয়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে জামালপুরের চর শুভগাছায় বন্যার সময় ছাগলসহ অন্যান্য গৃহপালিত পশুদের নিরাপদ রাখতে এই ধরনের উঁচু ভীত তৈরি করা হয়। (ছবি: মোহাম্মদ আব্দুস সালাম/ দ্য থার্ড পোল) এসব উঁচু ভীতগুলো অনেক সময় বেশ প্রশস্ত হয় যেখানে চরের বাসিন্দারা ফলমূল ও শাকসব্জি চাষ করতে পারে। “আমি এবার আমাদের বাড়ির উঁচু ভীতে লাউ চাষ করে ১,৪০০ টাকা (১৬ মার্কিন ডলার) আয় করেছি”, এই চরের আরেক বাসিন্দা সীমা বেগম বেশ উচ্ছ্বসিত হয়ে এ কথা বলেন। “আমি এবার পেঁপে বিক্রি করে আরো টাকা আয় করবো। আমার গাছের ফলগুলো এখন পাকতে শুরু করেছে।” পিকেএসএফের এক্সটেন্ডেড কমিউনিটি ক্লাইমেট প্রজেক্টের সমন্বয়ক ফরিদুর রহমান বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৮৭টি পরিবারকে জলবায় সহায়ক উঁচু ভীতের বাড়ি তৈরীর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তবে এটি পর্যাপ্ত নয় কারন এসব চরে অসংখ্য দরিদ্র পরিবারের বসবাস। ডুবে যাওয়া টিউবওয়েল আর টয়লেটের সুরক্ষা বন্যার সময় চরের টিউবঅয়েলগুলো একেবারেই যুবে যায়। এসব টিউবঅয়েল চরবাসীর খাবার পানির উৎস। আর প্রতি বর্ষায় এসব চরে পানির প্রচন্ড স্বল্পতা থাকে। কিন্তু বর্তমান সময়ে এখানকার পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থার বেশ উন্নয়ন হয়েছে – সরকারী সহায়তায় গড়ে তোলা এসব টয়লেট এখন উঁচু ভীতের উপরে স্থাপন করা হচ্ছে। এখন আর আগের মতো এসব টয়লেট বন্যার সময় পানিতে তলিয়ে যায় না। মাদারগঞ্জের নদঘরি চরের আফরোজা বেগম বলেন, “আগে বন্যার সময় আমাদের টয়লেট আর টিউবঅয়েলগুলো পানিতে ডুবে যেত। এখন আমরা এই টয়লেট আর টিউবঅয়েল উঁচু ভীতের উপরে স্থাপন করছি। আমাদের বিশ্বাস ভবিষ্যতে বন্যার সময় আমাদের আর পানি এবং পয়:নিষ্কাশন নিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে না।” শুভগাছা চরে বন্যার সময় পানিতে তলিয়ে যাবার হাত থেকে সুরক্ষায় উঁচু ভীতের উপরে স্থাপিত একটি পাবলিক টয়লেট। (ছবি: মোহাম্মদ আব্দুস সালাম/দ্য থার্ড পোল) বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও শিশু একটি বন্যা কিন্তু নারীদের প্রথাগত যে ভূমিকা রয়েছে তা কোনো অংশেই হ্রাস করে না – যেমন পরিবারের জন্য রান্না করা এবং পানীয় জল বয়ে আনা ইত্যাদি। বন্যা হলে এসব পারিবারিক কার্যক্রম তাদের জন্য আরো কঠিন হয়ে যায়। অনেককেই একটি কার্যকর টিউবঅয়েলের খোঁজে কমপক্ষে এক কিলোমিটার পথ হাটতে হয়। কেউ কেউ নৌকা বা ভেলায় করে সেসব স্থানে পৌঁছায়। আবার অনেককেই গলা সমান বন্যার পানিতে হেঁটে অন্যদের মধ্য দিয়ে পানির খোঁজে বের হতে হয়। জামালপুর জেলার চর দামুদুরপুরের বাসিন্দা মাহমুদা বেগম বলেন, “খাবার পানি সংগ্রহ করা সত্যিই একটি কঠিন কাজ। “আমাদের নৌকা বা ভেলায় করে অনেক দূর যেতে হয়।” বাংলাদেশের স্থানীয় এনজিও নেটওয়ার্ক অন ক্লাইমেট চেঞ্জ-এর গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি ম্যানেজার মুহাম্মদ ফররুখ রহমান বলেন, “আর যখন নারীদের আশ্রয়কেন্দ্রে বা বাঁধের উপরে থাকতে বাধ্য হতে হয়, তখন তারা অনেক সময় যৌন হয়রানিরও শিকার হয়ে থাকেন, বিশেষ করে যখন তারা রাতে পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করেন।” চরাঞ্চলে শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষার সুযোগ নেই। যে কয়েকটি স্কুল আছে তা প্রতি বছর বন্যার সময় বন্ধ থাকে। শিশুদের মাসের পর মাস ক্লাস বন্ধ করে বাড়িতে বসে থাকতে হয়। চরে বসবাসকারী অল্প সংখ্যক শিশুই স্কুলে যায়,এসব স্কুল প্রতি বছর কয়েক মাস বন্যার পানিতে ডুবে থাকে এবং বন্ধ থাকে – চর শুভগাছা, জামালপুর (ছবি: মোহাম্মদ আব্দুস সালাম/দ্য থার্ড পোল) কেন মানুষ চরে বাস করে ? ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গা এবং অন্যান্য নদী হিমালয় থেকে পলি বয়ে নিয়ে এসে এই চরগুলোককে এতই উর্বর করে তোলে যে সেগুলি নিয়ে বহু শতাব্দী ধরে লড়াই হয়ে আসছে – স্থানীয় জমিদাররা চর দখল করার জন্য ব্যক্তিগত বাহিনী গড়ে থুলতেন (যাদের পাইক এবং লাঠিয়াল বলা হয়)। তারা ভূমিহীন কৃষকদের চরের জমি চাষ করতে এবং অসুবিধা সত্ত্বেও সেখানে বসবাস করতে উৎসাহিত করে। চরে বসবাসকারী কৃষক পরিবারের অনেকেই আজ তাদের বংশধর। চরে তারা ধান, ভুট্টা, পাট, শাকসবজির ফলন করে – সবই অন্য মাটির চেয়ে ভালো জন্মায়। বছরের যেকোনো সময় চরে ফসলের অভাব হয় না। মাহমুদা বেগম বলেন, “চরে ফসলের কোনো অভাব নেই. এখানে বারো মাসে তেরো ফসল হয়।” স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সেবার ঘাটতি চর শুভগাছার বাসিন্দা আলাল মন্ডল বলেন, কেউ অসুস্থ হলে আমাদের এখানে ডাক্তার পাওয়া যায় না। “সুতরাং, রোগীকে নৌকা বা ভেলায় করে তিন কিলোমিটার দূরে গাবের গ্রামে নিয়ে যেতে হয়। এরপর তাদের জামালপুরের হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হতে পারে।” তার প্রতিবেশী আবদুর রহমান জানান, চরে কোনো কমিউনিটি ক্লিনিক নেই। চরের বাসিন্দাদের সরকার পরিচালিত নানা প্রকল্প যেমন ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং), ভিজিডি (ভালনারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট) কর্মসূচি, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা বা প্রতিবন্ধী ভাতার সুযোগ খুব কম। অভিযোগ রয়েছে যে কাউকে একটি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করতে রাজি হওয়ার আগে কর্মকর্তারা ঘুষ চেয়ে থাকেন।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
শরীয়তপুরে মসলা জাতীয় ফসল ধনিয়া চাষের সুনাম বহু বছর ধরে রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাজারে ধনিয়ার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলাজুড়ে ধনিয়ার আবাদ বেড়ে চলেছে। উৎপাদন খরচ কম এবং বাজার মূল্য ভালো হওয়ায় কৃষকরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে ধনিয়া চাষ করছেন। ভালো লাভের আশায় চাষিরা সার ও কীটনাশকের দাম কমানোর দাবি জানাচ্ছেন। জেলার কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৬টি উপজেলায় কমবেশি ধনিয়ার আবাদ হয়। রবিশস্য হিসেবে ধনিয়া ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এবং বাজারে চড়া দামের কারণে কৃষকরা ঝুঁকি নিয়েও ধনিয়া চাষ করছেন। দিন দিন জেলায় ধনিয়া চাষের জমির পরিমাণ বেড়ে চলেছে। গত মৌসুমে ধনিয়া চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৫৬ হেক্টর। বাস্তবে আবাদ হয়েছে ৬ হাজার ২৮০ হেক্টর। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ২৮০ হেক্টর, তবে আবাদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩২০ হেক্টরে। সরেজমিনে দেখা যায়, শস্যের মাঠগুলো ধনিয়া ফুলের সাদা চাদরে আবৃত। ফুলের মিষ্টি গন্ধে মৌমাছি ঘুরে বেড়াচ্ছে। কৃষকরা জমিতে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে ফলন ভালো হয়েছে। বাজার মূল্যও ভালো থাকায় চাষিরা চড়া দামে বিক্রির আশায় রয়েছেন। তবে সরকারিভাবে সার ও কীটনাশকের দাম কমানোর দাবি তারা পুনরায় জানাচ্ছেন। সদর উপজেলার রুদ্রকর এলাকার কৃষক হরে রাম কুলু জানিয়েছেন, ‘প্রত্যেক শতাংশে ধনিয়ায় খরচ হয় দেড়শ টাকা, আর বিক্রি করলে পাই তিন থেকে চারশ টাকা। বাজারে চাহিদা ভালো থাকায় আমরা ধনিয়া চাষে লাভবান হচ্ছি।’ অপর কৃষক ধীরেন মজুমদার বলেন, ‘একসময় ধনিয়ার বাজারে চাহিদা কম থাকায় বাড়িতে ফেরত আনতাম। কিন্তু এখন চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অধিকাংশ কৃষক অন্যান্য রবিশস্যের তুলনায় ধনিয়া বেশি আবাদ করছেন।’ তবে বাজারে ভালো দাম থাকা সত্ত্বেও সার ও কীটনাশকের মূল্য বৃদ্ধিতে কৃষকরা হতাশ। নেছার শিকদার নামের এক কৃষক বলেন, ‘সরকার যদি সার ও কীটনাশকের দাম কমায়, তাহলে লাভ আরও বৃদ্ধি পেত। আমরা এ বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা চাই।’ জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শরীয়তপুরের মাটি ধনিয়া চাষের জন্য উপযুক্ত। খরচ কম এবং বাজারে চাহিদা ভালো থাকায় দিন দিন কৃষকরা ধনিয়া চাষে ঝুঁকছেন। আমরা তাদের পরামর্শ এবং সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে থাকি।’ শরীয়তপুরে ধনিয়া চাষ ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে। কৃষি বিভাগের সহায়তা ও বাজারের চাহিদার কারণে চাষিরা আশা করছেন, আগামী মৌসুমগুলোতেও ধনিয়া তাদের প্রধান আয়ের উৎস থাকবে।
মুকুলে ভরা আম্রকাননে নেমেছে ঋতুরাজের নীরব উৎসব। সোনালি-সবুজ আভায় মোড়া ডালপালা আর মিষ্টি ঘ্রাণে মুখর চারপাশ যেন জানান দিচ্ছে মধুমাসের আগমনী বার্তা। প্রকৃতির এই রঙিন আয়োজনে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা যশোর-এর শার্শা উপজেলা এখন জেগে উঠেছে নতুন প্রত্যাশায়। আম গাছের ডালে ডালে ফুটেছে মুকুল, আর সেই সুবাসে ভরে উঠেছে গ্রামবাংলার পথঘাট। বসন্তের আগমনী সুরে কৃষকের চোখে ভাসছে সম্ভাব্য সমৃদ্ধির স্বপ্ন। ৯০ শতাংশ গাছে মুকুল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, বাণিজ্যিক বাগান থেকে শুরু করে বাড়ির আঙিনার গাছেও ব্যাপকভাবে মুকুল এসেছে। বড় গাছের তুলনায় ছোট ও মাঝারি আকারের গাছে তুলনামূলক বেশি মুকুল দেখা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার প্রায় ৯০ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে। মৌমাছির আনাগোনা ও কোকিলের কুহুতানে মুখর হয়ে উঠেছে বাগান এলাকা। দেশি জাতের পাশাপাশি এখানে হিমসাগর, আম্রপালি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, মল্লিকা, বুম্বাই, কাটিমন ও বারি জাতের আমের চাষ হচ্ছে। ১,০৬০ হেক্টরে বাণিজ্যিক আবাদ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, শার্শা উপজেলায় মোট ১ হাজার ৬০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আমের আবাদ হচ্ছে এবং নিবন্ধিত আমচাষির সংখ্যা ৪ হাজার ৬৬৮ জন। চাষকৃত জাতভিত্তিক জমির পরিমাণ নিম্নরূপ— হিমসাগর — ৩৩৭ হেক্টর আম্রপালি — ২১৫ হেক্টর ল্যাংড়া — ১৫৫ হেক্টর গোপালভোগ — ১৫৫ হেক্টর গোবিন্দভোগ — ৬০ হেক্টর মল্লিকা — ৩৫ হেক্টর বুম্বাই — ৫৯ হেক্টর কাটিমন — ৯ হেক্টর বারি-৪ — ২০ হেক্টর বারি-১১ — ১ হেক্টর দেশি জাত — ৩৪ হেক্টর জেলার মধ্যে শার্শা ছাড়াও ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আমের চাষ হয়ে থাকে। চাষিদের প্রত্যাশা উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের আমচাষি আব্দুল মান্নান বলেন, “মৌসুমের শুরু থেকেই আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। কুয়াশা বা অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত না থাকায় গাছে স্বাভাবিকভাবে মুকুল এসেছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের পোকার আক্রমণও দেখা যায়নি। সামনে ঝড় বা শিলাবৃষ্টি না হলে ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।” আরেক চাষি ইসমাইল হোসেন জানান, “গাছের অবস্থা বেশ ভালো। আমরা নিয়মিত বাগান পর্যবেক্ষণ করছি এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী পরিচর্যা করছি। মুকুলের পরিমাণ দেখে ফলন সন্তোষজনক হবে বলে আশা করছি।” কৃষি বিভাগের সতর্কবার্তা শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার শাহা বলেন, “এ অঞ্চলের দোআঁশ মাটি ও জলবায়ু আম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে রয়েছে। ফলে গাছে মুকুলের পরিমাণ সন্তোষজনক। তবে ছত্রাকজনিত রোগ বা হঠাৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। চাষিদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতে বলা হচ্ছে।” বাম্পার ফলনের আশা সবকিছু অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে শার্শায় আমের বাম্পার ফলন হবে—এমনটাই প্রত্যাশা চাষি ও কৃষি বিভাগের। মুকুলের এই সুবাস তাই শুধু প্রকৃতির রূপ নয়, হাজারো কৃষকের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে জিরো টিলেজ বা বিনা চাষে আবাদ পদ্ধতি। জমি চাষ না করে কিংবা স্বল্প চাষে ফসল উৎপাদনের এই কৌশল কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করছে। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জিরো টিলেজ পদ্ধতিতে জমি চাষ না করে আগের ফসলের অবশিষ্টাংশ রেখেই সরাসরি বীজ বপন করা হয়। এতে উৎপাদন খরচ কমে, সময় ও শ্রম সাশ্রয় হয়। নবীনগরে সরিষা, মসুর, খেসারি ও রসুনে এই পদ্ধতিতে ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া হালকা বালুমাটিতে বাদামও জিরো টিলেজ পদ্ধতিতে আবাদ করা হয়েছে। রাজস্ব অর্থায়নে কুমিল্লা অঞ্চলের টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ সাস্টেইনেবল রিকভারি ইমার্জেন্সি প্রিপারেডনেস অ্যান্ড রেসপন্স প্রকল্প (বি-স্ট্রং) এর আওতায় চলতি বোরো মৌসুমে নবীনগর উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের শতাধিক স্থানে বাদাম, সরিষা ও ডালজাতীয় ফসলের আবাদ করা হয়েছে। শ্রীরামপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের কৃষক নিজাম উদ্দিন বলেন, ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল হোসেনের পরামর্শে তিনি বিনা চাষে সরিষা আবাদ করেন। উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে বি-স্ট্রং প্রকল্পের আওতায় একটি প্রদর্শনীর উপকরণ পান। তিনি জানান, আগে জমি চাষ, মই দেওয়া ও প্রস্তুত করতে বেশি সময় ও খরচ হতো, কিন্তু জিরো টিলেজ ব্যবহারে খরচ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। পাশাপাশি মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকায় সেচের প্রয়োজনও কম হয়েছে। বিদ্যাকুট ইউনিয়নের কৃষক কুলসুম আক্তার জানান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গৌতম ভৌমিকের উৎসাহে তিনি প্রথমবারের মতো বিনা চাষে সরিষা আবাদ করেছেন। তার জমির ফসল অন্যদের তুলনায় দ্রুত পরিপক্ব হওয়ায় এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও এ পদ্ধতিতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২৫০ বিঘা জমিতে রোপা আমন ধান কাটার আগে রিলে পদ্ধতিতে ও বিনা চাষে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। পাশাপাশি মসুর ২৫ বিঘা, রসুন ১০ বিঘা এবং বাদাম ২৫ বিঘা জমিতে বিনা চাষে ও স্বল্প চাষে আবাদ হয়েছে। নবীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, জিরো টিলেজ পদ্ধতি মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এতে মাটির জৈব পদার্থ বৃদ্ধি পায়, উপকারী অণুজীব সক্রিয় থাকে এবং মাটির ক্ষয় কম হয়। পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কম হওয়ায় এটি পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে কৃষকদের সময় ও অর্থ—দুটোই সাশ্রয় হয়। তিনি আরও জানান, কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে। এসব প্লটে সরিষা, মসুর ও খেসারি সহজভাবে এবং নির্দিষ্ট শর্তে বাদাম জিরো টিলেজ পদ্ধতিতে আবাদ করে আশাব্যঞ্জক ফলন পাওয়া যাচ্ছে। সঠিক প্রশিক্ষণ, মানসম্মত যন্ত্রপাতি ও কৃষক সচেতনতা বাড়ানো গেলে নবীনগরে জিরো টিলেজ আবাদ আরও বিস্তৃত হবে। এতে উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি কৃষকের লাভ বাড়বে এবং অঞ্চলটি টেকসই কৃষির পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
লিফলেট থেকে জন্মাবে গাছ, এমনটা শুনে নিশ্চয়ই অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন কি অবান্তর কথা বলছি! একদমই না। নিশ্চয়ই সিড পেপার দিয়ে কলম, ক্যালেন্ডার তৈরির কথা জানেন। যে কাগজ দিয়ে কলম তৈরি করে ব্যবহারের পর মাটিতে ফেলে দিলে গাছ জন্মায়। সেই কাগজের কথাই বলছিলাম। যা পরিচিত ‘বন-কাগজ’ বা ‘সিড পেপার’ নামে। এবার বাংলাদেশের নির্বাচনি প্রচারণায় যুক্ত হলো এক অভিনব ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা ও প্রার্থী প্রচারণায় ব্যবহার করছেন এই বিশেষ ধরনের বীজযুক্ত কাগজের লিফলেট, যা মাটিতে পড়লেই পরিণত হতে পারে সবজির চারা গাছে। বিএনপি নেতারা বলছেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধু নির্বাচনী বার্তা পৌঁছে দেওয়া নয়, বরং পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা। প্রচারণার কাগজ মাটিতে পড়ে নষ্ট না হয়ে যদি গাছ হয়ে ওঠে, তাহলে সেটি হবে ‘জিরো ওয়েস্ট’ ভাবনার বাস্তব উদাহরণ। এটি কিন্তু একেবারেই নতুন কোনো উদ্ভাবন নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বীজযুক্ত কাগজ বা পোস্টার ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, কানাডা ও দক্ষিণ আফ্রিকায় নির্বাচনসহ নানা সামাজিক ও সচেতনতামূলক প্রচারণায় সিড পেপার ব্যবহৃত হচ্ছে। কীভাবে তৈরি হয় বন-কাগজ? বন-কাগজ তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটিও পরিবেশবান্ধব। এটি মূলত পরিত্যক্ত বা ব্যবহৃত কাগজ থেকে তৈরি করা হয়। প্রথমে কাগজগুলো ছোট টুকরো করে প্রায় ৪২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়, যাতে কাগজ পুরোপুরি গলে যায়। এরপর সেই গলিত কাগজ থেকে মণ্ড তৈরি করে নির্দিষ্ট ফ্রেমের মধ্যে বসানো হয়। পরবর্তী ধাপে বিশেষ পদ্ধতিতে কাগজের মণ্ডের সঙ্গে বীজ যুক্ত করা হয়, যাতে কাগজ শুকানোর পরও বীজের কার্যকারিতা নষ্ট না হয়। সবশেষে কাগজ শুকিয়ে লিফলেট বা পোস্টারের আকার দেওয়া হয়। জানেন কি, কীভাবে বন-কাগজ থেকে গাছ জন্মায়? বন-কাগজ মূলত এমন এক ধরনের কাগজ, যার ভেতরে বিভিন্ন সবজি বা ভেষজ উদ্ভিদের বীজ সংযুক্ত থাকে। এই লিফলেট পুরোটা বা ছিঁড়ে ছোট টুকরো করে মাটিতে পুঁতে বা ফেলে দিলে, মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকলে ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই বীজ অঙ্কুরোদ্গম শুরু হয়। মাটি যদি শুষ্ক হয়, তবে কাগজটি মাটির ওপর রেখে হালকা পানি ছিটিয়ে ভিজিয়ে দিতে হয়। উপযুক্ত পরিবেশে একটি বন-কাগজ থেকে চারা গজিয়ে স্বাভাবিক নিয়মেই গাছে পরিণত হয়। এই কাগজ এক বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকে অর্থাৎ এক বছরের মধ্যে মাটিতে ফেললে সেখান থেকে গাছ জন্মানোর সম্ভাবনা থাকে। কোন ধরনের গাছের বীজ ব্যবহা করা হয় এই সিড পেপারে? সাধারণত ভেষজ উদ্ভিদ ও ফলের বীজ দিয়ে এই কাগজ তৈরি করা হলেও এবারের নির্বাচনে পাঁচ ধরনের দেশি সবজির বীজ ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বেগুন, টমেটো, মরিচ, লালশাক ও ডাঁটাশাক। এগুলো সহজে জন্মায় এবং ঘরোয়া পরিবেশে পরিচর্যাও তুলনামূলক কম লাগে। তাই লিফলেট পেলে বারান্দায় টবে লাগিয়ে দিন। কিছুদিনের মধ্যে সবজির চারা পাবেন। মাসখানিক পর পাবেন সবজি। এই পরিবেশবান্ধব লিফলেট তৈরির খরচ সাধারণ কাগজের তুলনায় কিছুটা বেশি। প্রতিটি বন-কাগজের লিফলেট তৈরিতে খরচ পড়ছে প্রায় ৮ টাকা। তবে উদ্যোক্তাদের মতে, পরিবেশের জন্য এর সুফল বিবেচনায় এই ব্যয় যুক্তিসংগত। পরিবেশ দূষণ কমানো এবং ‘জিরো ওয়েস্ট’ লক্ষ্য অর্জনের পথে এই ধরনের উদ্যোগকে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবেই দেখছেন পরিবেশবিদরা।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : ভারতে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দুর্নীতি ও দুঃশাসনের ও রাতের ভোটের সহযোগী।চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ অন্তরে বঙ্গবন্ধু ও মার্চের চেতনা জন্ম-ভাষন স্বাধীনতা বইয়ের লেখক।নারী কেলেংকারীর হোতা। আওয়ামী প্রভাব দেখিয়ে নিয়োগ বানিজ্য।সরকারি অর্থ আত্মসাৎকারী ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ নেতা এখন জামাত নেতা।বলছি বরিশালের ঐতিহ্যবাহী বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ নুরুল ইসলামের কথা। নুরুল ইসলাম যেখানেই গেছেন সেখানেই তিনি সমালোচিত হয়েছেন।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নের চেয়েও তিনি সব সময় সরকারি অর্থ আত্মসাৎ,দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধ ভাবে সম্পদ অর্জন করেছেন। বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজ এই ফ্যাসিস্ট নুরুল ইসলাম বরিশাল জিলা স্কুলে ১০ সেপ্টেম্বর যোগদান করে একের পর এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তিনটি ক্লাশ বন্ধ রেখে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রোদে দাড় করিয়ে নিয়েছেন সংবর্ধনা।অডিটরিয়াম থাকলেও সেখানে সংবর্ধনার আয়োহন না করে প্রচন্ত গরম ও রোদে দাড় করিয়ে রাখায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরাও। বরিশাল জিলা স্কুলেই নয়। ঝালকাঠির হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ে থাকাকালীন সময়েও ছাত্রীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে রাস্তায় দাড় করিয়ে সংবর্ধনা নিয়ে ছিলেন এই নুরুল ইসলাম।অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসছে একের পর এক নুরুল ইসলামের অপকর্ম। ঝালকাঠিতে থাকাকালিন সময়ে আমির হোসেন আমুকে আর মাদারীপুরে শাজাহান খানকে ম্যানেজ করে চলতেন।পদ-পদবী ঠিক রাখতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেনিয়ে বই লিখেছেন।বই ছাপানো,মুজিববর্ষ পালনে তার ব্যক্তিগত কোন টাকা খরচ হয়নি।স্কুলের টাকা দিয়ে নিজের নামে এসব করেছেন। ভুয়া ভাউচার দিয়ে খরচ করেছেন দু হাতে সরকারি অর্থ।তিনি একজন মুজিববাদের সৈনিক ও প্রচারক।হঠাৎ এখন আবার জামাতি হয়ে গেছেন। ঝালকাঠি হরচন্দ্র সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের হিসাব নিয়ে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নয় ছয়ের অভিযোগ করেছিল শিক্ষার্থীরা।এনিয়ে অনেকেই ফেসবুকে হিসাব নিকাশ জানতে চেয়ে পোস্টও করেছিল।তবে তিনি হিসাব দেননি।সচেতনতার সাথে এড়িয়ে গেছেন। বরিশাল জিলা স্কুলে প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেই তিনটি ক্লাশ বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের রোদে দাড় করিয়ে সংবর্ধনা নেয়ার সংবাদ প্রকাশ হলে বরিশাল জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ফ্যাসিবাদের দোসর নুরুল ইসলাম বিগত সরকার আমলে ছিলেন প্রভাবশালী। তার ভয়তে তার অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে কেউ কথা বলার সাহস পায়নি। ২০২৪ সালের পহেলা আগষ্ট। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে। যখন পুরো দেশ মৃত্যু পুরি ঠিক সেই সময় ঝালকাঠি সরকারি হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম শিক্ষার্থীরা যেন আন্দোলনে অংশ গ্রহন না করতে পারে সেজন্য তিনি বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত ক্লাসের নামে আটকিয়ে রেখে জোর পুর্বক পাঠদান করাতেন।অতিরিক্ত ক্লাশকে বাধ্যতামুলকও করেন তিনি। কে এই নারী কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে একাধিক বই লেখা বরিশাল জিলা স্কুলের বিতর্কিত প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম এখন জামায়াত নেতা। অর্থ আত্মসাৎ, নারী কেলেঙ্কারি, স্বৈরাচারী সরকারের দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি বরিশাল নগরীর একটি ঐতিহ্যবাহী স্কুলে কিভাবে যোগদান করলেন। এমন খবরে সকলে বিস্মিত।হতবাক। ক্ষমতার পালা বদলের পর সুযোগ ও কুট কৌশলে বরিশাল জিলা স্কুলে ফিরে এসেছেন নুরুল ইসলাম। দুর্নীতির অভিযোগে বরিশাল জিলা স্কুল থেকে বদলি হয়ে আবারো প্রধান শিক্ষক পদে নুরুল ইসলামের যোগদানে সবাই হতবাক হয়েছেন। ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলে আওয়ামী লীগ পরিচয়দানকারী শিক্ষক নুরুল ইসলাম এখন নতুন মোড়কে জামায়াত পরিচয়ে আসায় বাকরুদ্ধ সবাই। ২০২৩ সালের অক্টোবরে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে বরিশাল জিলা স্কুল থেকে ঝালকাঠি হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে তাকে বদলি করা হয়েছিল। এর আগে ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। সেখানেও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির পাশাপাশি নারী কেলেঙ্কারির মতো জঘন্য অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। ঝালকাঠীর এক অভিজাত হোটেলে নারীসহ ধরা পড়লে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পালিয়ে এসে বরিশাল জেলা শিক্ষা অফিসে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছিলেন। পরে তাকে বরগুনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। বরগুনাতে নানা অঘটনের জন্ম দিয়ে কয়েক মাস পরই বদলি হন মাদারীপুর ইউনাইটেড সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। মাদারীপুরে অবস্থানকালে নুরুল ইসলামের দুর্নীতি আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে। পরে বদলি হলে ২০২১ সালে বরিশাল জিলা স্কুলে যোগদান করেন। যোগদানের পর নুরুল ইসলাম সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ ও সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর জাহিদ ফারুকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন। এরপরই লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। স্কুলের ছাত্রদের কাছ থেকে প্রতি মাসে আইসিটি বাবদ ২০ টাকা করে আদায় করার পরেও এককালীন ছাত্রপ্রতি ২৪০ টাকা আদায় করতেন। এছাড়াও ভুয়া বিল করে স্কুলের উন্নয়নের নামে বিভিন্ন ফান্ডের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। গত বছরের মে মাসে বরিশাল-২ আসনের (উজিরপুর-বানারীপাড়া) সাবেক সংসদ-সদস্য মো. শাহে আলম তালুকদারের নির্দেশে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত রাখায় ২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন তিনি। যা বিভিন্ন পত্রিকায় খবরের শিরোনাম হয়েছিল। এছাড়াও স্কুলে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী না রেখে তাদের সম্মানি নিজেই আত্মসাৎ করতেন। শুধু তাই নয়, ২০২৩ সালে ‘চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ অন্তরে বঙ্গবন্ধু’ ও ‘মার্চের চেতনা জন্ম-ভাষণ স্বাধীনতা’ নামে দুটি বই লিখে বরিশাল জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন পত্রিকায় ৭ মার্চের ভাষণ, ১৫ আগস্ট, শেখ মুজিবের জন্মদিনে নিয়মিত কলামও লিখতেন এই শিক্ষক। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের জড়িত শিক্ষার্থীরা বলেন, বিগত অবৈধ সরকারের সুবিধাভোগী ও দুর্নীতিবাজ বরিশাল জিলা স্কুলের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দুঃখজনক।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ৩৮ হাজার শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন কার্ডে লিঙ্গ ভুল: কী ঘটেছে? বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি রেজিস্ট্রেশন কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়ম ধরা পড়েছে। প্রায় ৩৮ হাজার শিক্ষার্থীকে ভুলভাবে ‘ফিমেল’ বা নারী লিঙ্গ উল্লেখ করে কার্ড মুদ্রণ করা হয়েছে। এই ভুল পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে প্রকাশ পায়, ফলে শিক্ষার্থীদের কলেজ ও শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে দৌড়ঝাঁপ করতে হয়েছে। শহরজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক উদ্বেগ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষাব্যবস্থার তৎপরতা এবং কম্পিউটারাইজড ডেটা প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কীভাবে ধরা পড়ল ভুল? প্রাথমিকভাবে ঝালকাঠি জেলার শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড বিতরণের সময় ভুল লিঙ্গের তথ্য শনাক্ত করা হয়। পরে অন্য জেলার শিক্ষার্থীদের কার্ডগুলোও পরীক্ষা করা হলে দেখা যায়, মোট ৩৮ হাজার ছেলে শিক্ষার্থীকে ‘ফিমেল’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের একজন কর্মকর্তা জানান, “এই ধরনের ত্রুটি কম্পিউটার প্রোগ্রামের সেটিংস এবং অপারেটরের অসাবধানতার কারণে হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন কার্ড সংশোধন করতে পারবে। কোনো প্রকার হয়রানি বা অতিরিক্ত খরচ নেই।” বোর্ডের প্রতিক্রিয়া বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ইউনুস আলী সিদ্দিকী বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “ভুলের জন্য সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড আবার মুদ্রণ করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো শিক্ষার্থীকে অর্থ ব্যয় করতে হবে না।” তবে এই ঘটনার প্রভাব শুধু কার্ড সংশোধনের খরচেই সীমাবদ্ধ নয়। অধ্যক্ষ মহসিন উল ইসলাম, বরিশাল বিভাগীয় শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য ফ্রন্টের আহ্বায়ক, বলেন, “শিক্ষার্থীদের হাতে ভুল কার্ড পৌঁছানো মানসিকভাবে তাদের উপর প্রভাব ফেলেছে। এটি একটি স্পর্শকাতর বিষয়, যা আরও গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত। নতুন করে কার্ড ছাপাতে যা অর্থ ব্যয় হবে, তা কলেজের ওপর চাপানো যাবে না; বোর্ডকেই তা বহন করতে হবে।” শিক্ষার্থীদের প্রভাব ভুল কার্ড পেয়ে শিক্ষার্থীরা হতাশ ও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছে। কিছু শিক্ষার্থী জানান, তারা যখন কার্ড হাতে পেল, তখন নিজেদের লিঙ্গ ভুলভাবে উল্লেখ করা ছিল, যা তাদের আত্মসম্মান এবং মানসিক শান্তিতে প্রভাব ফেলেছে। এক শিক্ষার্থী বলেন, “পরীক্ষা শুরু হতে চলেছে, অথচ আমার লিঙ্গ ‘ফিমেল’ লেখা আছে। কার্ড সংশোধনের জন্য এখন আমাকে কলেজ এবং বোর্ডের মধ্যে ছুটতে হচ্ছে। এটি খুবই মানসিক চাপের বিষয়।” শিক্ষার্থীদের এই উদ্বেগ বোঝার পাশাপাশি শিক্ষা বোর্ডকে ডিজিটাল ডেটা এন্ট্রি প্রক্রিয়ায় ত্রুটি প্রতিরোধের পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং দায় এই ঘটনার মূল কারণ হিসেবে বোর্ডের কর্মকর্তারা কম্পিউটার প্রোগ্রামের সেটিংস এবং অপারেটরের ভুল উল্লেখ করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান যুগে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ, তাই ডেটা যাচাই এবং ডাবল চেকিং সিস্টেম আরও শক্তিশালী হওয়া দরকার। এক শিক্ষাবিদ মন্তব্য করেন, “৩৮ হাজার শিক্ষার্থীর তথ্য ভুল হওয়া খুবই গুরুতর। এটি শুধুমাত্র লজিস্টিক সমস্যা নয়, শিক্ষার্থীদের মানসিক ও সামাজিক সম্মানেও প্রভাব ফেলে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ভুল রোধে সফটওয়্যার ও মানব সম্পৃক্ত প্রক্রিয়া উন্নত করা আবশ্যক।” সমাধান ও পরবর্তী পদক্ষেপ বরিশাল শিক্ষা বোর্ড ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে, শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন কার্ড সংশোধন করতে পারবে। সংশোধিত কার্ড পুনঃমুদ্রণ করা হবে এবং শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়ায় বোর্ডকে ফিনান্সিয়াল ও অপারেশনাল দায়ভার গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া, বোর্ডকে ভবিষ্যতের জন্য তথ্য যাচাই ব্যবস্থার শক্তি বাড়াতে হবে, যাতে একই ধরনের ভুল আর না ঘটে। শিক্ষকরা এবং অভিভাবকরা আশা করছেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে এবং নির্ভুল তথ্য নিশ্চিত করতে বোর্ড দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি রেজিস্ট্রেশন কার্ড বিতরণের সময় ধরা পড়া লিঙ্গ ভুল শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার একটি বড় উদাহরণ। প্রায় ৩৮ হাজার শিক্ষার্থীর ভুল তথ্য শুধরানো হচ্ছে, কিন্তু এই ঘটনা শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রভাব এবং প্রক্রিয়াগত ত্রুটির গুরুত্ব স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে। শিক্ষাব্যবস্থা এখন দায়িত্বশীলভাবে নিশ্চিত করতে হবে যে, ডিজিটাল ডেটা সঠিকভাবে যাচাই এবং পুনঃমূল্যায়ন করা হচ্ছে, এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা আর কখনও এই ধরনের ভুলের শিকার হবে না।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপ-উপাচার্য এবং কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহানের বিরুদ্ধে সাইটেশন জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, উপ-উপাচার্য হওয়ার প্রাক্কালে তিনি গুগল স্কলারে নিজের প্রোফাইলে অন্য গবেষকদের প্রবন্ধ যুক্ত করেছিলেন। ফলে তার সাইটেশন সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে প্রায় দুই হাজারে পৌঁছায়। পরে উপ-উপাচার্য পদে নিয়োগের পর তার পূর্বের প্রোফাইলটি গুগল স্কলার থেকে মুছে যায় এবং বর্তমানে বিদ্যমান প্রোফাইলে মাত্র ৩২৬টি সাইটেশন দেখা যাচ্ছে। গবেষণা জগতে একজন গবেষকের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাব মাপার অন্যতম সূচক হলো সাইটেশন সংখ্যা। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ, পদোন্নতি কিংবা গবেষণা অনুদান নির্ধারণে এই সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে সাইটেশন বৃদ্ধি করতে কৃত্রিম পন্থা গ্রহণের অভিযোগও নতুন নয়। মূলত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) উপ-উপাচার্য এবং উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক বেলাল হোসাইনের বিরুদ্ধে সাইটেশন জালিয়াতির বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রচারের পরই অধ্যাপক হেমায়েত জাহান নিজের প্রোফাইল থেকে অন্য গবেষকদের প্রবন্ধ সরিয়ে নেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষকতার পাশাপাশি ভালো গবেষককে অগ্রাধিকার দিয়েছিল। সে সময় উপাচার্য হওয়ার প্রয়াসে অধ্যাপক হেমায়েত জাহান কৃত্রিম পন্থায় নিজের প্রোফাইলে অন্য গবেষকের প্রবন্ধ যুক্ত করে সাইটেশন সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করেন। ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর গুগল স্কলারে তার সাইটেশন সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯৬০। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যমান প্রোফাইলে মাত্র ৩২৬টি সাইটেশন দেখা যাচ্ছে। জানা যায়, গুগল স্কলারের প্রোফাইল গবেষকরাই পরিচালনা করেন এবং প্রবন্ধগুলো নিজ উদ্যোগে যুক্ত করতে হয়। অভিযোগ উঠেছে, নামের মিল থাকা বিভিন্ন দেশের গবেষকের প্রবন্ধ ড. হেমায়েত জাহানের প্রোফাইলে যুক্ত করা হয়েছিল। সে ক্ষেত্রে অধ্যাপক এস এম হেমায়েত জাহান তার সাইটেশন জালিয়াতির জন্য অস্ট্রেলিয়ান গবেষক Sayka Jahan (S Jahan)-এর বেশিরভাগ গবেষণা প্রবন্ধ নিজের প্রোফাইলে আপলোড করেছিলেন। এসব সাইটেশনের ভিত্তিতেই তিনি ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান এ বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় ঘটনাটিকে “অটোমেটিক পদ্ধতির ফল” হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের কারণেই হয়তো অতিরিক্ত সাইটেশন যুক্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে অন্যান্য গবেষকদের নাম নজরে এলে বিষয়টি সংশোধনের উদ্যোগ নেই।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, “দীর্ঘ সময় ধরে আমি প্রোফাইলে সাইটেশন বৃদ্ধির বিষয়টি খেয়াল করিনি তাই এভাবে অন্যের আর্টিকেল যুক্ত হয়ে গিয়েছিল” বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অধ্যাপক ড. মো. গুলজার হোসেন বলেন, “গুগল স্কলার অটোমেটিক এনাবল করে রেখে অনেকেই অন্যের আর্টিকেল নিজের প্রোফাইলে যুক্ত করে ফেলেন। কিন্তু এখানে কোনো গবেষক যখনই অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করেন, তখন দেখতে পারেন কারও সাইটেশন যুক্ত হয়েছে কি না। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে আর্টিকেল যুক্ত হওয়ার পর সাজেশনও আসে—সেই আর্টিকেল তার কি না। তাই পদ-পদবি পাওয়ার উদ্দেশ্যে অন্যের সাইটেশন নিজের প্রোফাইলে যুক্ত করে রাখা বড় অন্যায়। এসব জালিয়াতির ব্যাপারে গুগল স্কলার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে আইডি বন্ধ করে দেয়।” বিশিষ্ট গবেষক ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ড. এম শহিদুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, “এত কম সময়ে এত বিশাল সংখ্যক সাইটেশন বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। এ ধরনের গবেষকদের আমরা সাধারণত ‘সিউডো সায়েন্টিস্ট’ বলে থাকি। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের ক্যারিয়ার ইভালুয়েশন করা উচিত। যদি কোনো ম্যানিপুলেশনের মাধ্যমে এভাবে সাইটেশন বৃদ্ধি করে কোনো পদ-পদবি পেয়ে থাকেন, তবে সরকারি বিধি মোতাবেক পদাবনতির বিধান রয়েছে।” প্রসঙ্গত, এটি প্রথম নয়—অধ্যাপক হেমায়েত জাহানকে নিয়ে আগেও রয়েছে নানা বিতর্ক। একটি কলেজের প্রাণীবিদ্যার ছাত্র হলেও ২০০৬ সালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তবে প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী তিনি কীটতত্ত্ব বিভাগে আবেদনই করেননি; আবেদন করেছিলেন এগ্রোফরেস্ট্রি বিভাগে। শুধু তাই নয়, রাজনৈতিক প্রভাব ও সুসম্পর্কের জেরে নিয়োগের পরপরই জামায়াতপন্থী উপাচার্য ড. আবদুল লতিফ মাসুমের ব্যক্তিগত সচিব হিসেবেও তিনি নিয়োগ পান। বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তিনি ২০২৫ সালে শিবিরের একটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী কিছু শিক্ষক-কর্মকর্তার সঙ্গে মনোমালিন্য ও বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন।
দীর্ঘ পাঁচ বছর পর দেশের অন্যতম প্রাচীন আইন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বরিশাল ল' কলেজ আবারও পূর্বের নামেই ফিরেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ২৭২তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কলেজটির নাম পুনরায় পরিবর্তন করে ‘বরিশাল ল' কলেজ, বরিশাল’ রাখা হয়েছে। সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৯২তম একাডেমিক কাউন্সিল সভায় কলেজের নাম পরিবর্তন করা হয়েছিল ‘শহীদ অ্যাডভোকেট আবদুর রব সেরনিয়াবাত আইন মহাবিদ্যালয়’ নামে। ওই বছরের ১৮ মার্চ কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে নাম পরিবর্তনের জন্য পাঁচ লাখ টাকা ফি সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর জমা দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বরিশাল ল' কলেজ দীর্ঘদিন ধরে বরিশালে আইন শিক্ষা বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। এই কলেজ থেকে আইনের উচ্চমানের শিক্ষা লাভ করে শত শত আইনজীবী, বিচারক ও সমাজকর্মী দেশব্যাপী আইন-আদালত ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে এই নতুন নাম প্রয়োগে আনন্দ ও উৎসাহ বিরাজ করছে। নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেকই আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন করে পুনরুদ্ধার হওয়া নাম বরিশাল ল' কলেজ প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য বজায় রাখবে ও ভবিষ্যতে আরও মসৃণ অ্যাকাডেমিক পরিবেশ গড়ে তুলবে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়–এর কল্যাণ তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম–এর দিকে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নীতিমালার যথাযথ অনুসরণ না করে নিজের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের কল্যাণ তহবিল থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন উপাচার্য। এ নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কল্যাণ তহবিলের উদ্দেশ্য কী? সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফান্ড মূলত কর্মরত, অবসরপ্রাপ্ত ও মৃত সরকারি কর্মচারী (এবং তাদের পরিবার)-এর আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গঠিত। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এই তহবিলের মাধ্যমে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের— গুরুতর অসুস্থতায় চিকিৎসা সহায়তা দুর্ঘটনা বা মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ বিশেষ অনুদান প্রদান করা হয়ে থাকে। নীতিমালা অনুযায়ী— গুরুতর অসুস্থতায় চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা চরম আর্থিক সংকটে মূল বেসিকের দ্বিগুণ পর্যন্ত সহায়তা চাকুরিরত অবস্থায় মৃত্যু হলে মাসিক ২ হাজার টাকা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ৩ হাজার টাকা লাশ পরিবহনে ২ হাজার টাকা প্রদানের বিধান রয়েছে। কারা কত টাকা নিয়েছেন? সম্প্রতি প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কয়েকজন ডেপুটি রেজিস্ট্রার কল্যাণ তহবিল থেকে এক লাখ টাকারও বেশি অর্থ উত্তোলন করেছেন— ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫: আমিনুল ইসলাম টিটু – ১,৪২,০০০ টাকা (মায়ের অসুস্থতা) ১১ জানুয়ারি ২০২৬: শরীফ মেহেদী – ১,১৭,০০০ টাকা (নিজের অসুস্থতা) ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫: আবু বক্কর – ১,৩৩,০০০ টাকা (ছেলের অসুস্থতা) ২৮ মে ২০২৫: মো. শাহজালাল – ১,২৭,০০০ টাকা (সন্তানের অসুস্থতা) বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র দাবি করছে, এরা প্রত্যেকেই বর্তমান উপাচার্যের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। প্রশ্নের মুখে নীতিমালা নীতিমালায় গুরুতর অসুস্থতায় সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা প্রদানের বিধান থাকলেও, একাধিক কর্মকর্তার ক্ষেত্রে লক্ষাধিক টাকা বরাদ্দের বিষয়টি নিয়ম লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন— “স্বচ্ছল ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যদি এভাবে কল্যাণ তহবিলের অর্থ উত্তোলন করেন, তবে তা নৈতিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ভবিষ্যতে যে যার ইচ্ছামতো তহবিল থেকে অর্থ নিতে চাইবে।” অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরকারি বেতন স্কেল ও বিভিন্ন ভাতা মিলিয়ে মাসে প্রায় এক লক্ষ বা তার বেশি টাকা আয় করেন। ফলে তাদের ‘চরম আর্থিক সংকট’ দাবির যথার্থতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কী বলছেন অভিযুক্তরা? অর্থ উত্তোলনকারী কর্মকর্তা শরীফ মেহেদী বলেন— “আমি অনেক আর্থিক সংকটে ছিলাম। যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করেই কল্যাণ তহবিল থেকে অর্থ নিয়েছি। প্রয়োজনে অর্থ ও হিসাব শাখায় যোগাযোগ করতে পারেন।” উপাচার্যের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন— “আমি যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী কল্যাণ তহবিলের অর্থ বরাদ্দ দিয়েছি। এখানে কোনো অনিয়ম হয়েছে বলে মনে করি না। তারা লিখিত আবেদনে চরম আর্থিক সংকটের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তাদের অভ্যন্তরীণ অবস্থা জানা সবসময় সম্ভব নয়।” ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও নীতিমালা পর্যালোচনা না হলে ভবিষ্যতে কল্যাণ তহবিলের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে আরও প্রশ্ন উঠতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা আসেনি।
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান ও সহকারী প্রধানের মোট ১৩ হাজার ৫৫৯টি শূন্যপদে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন করেছেন ৭৮ হাজার ৭১১ জন শিক্ষক। এ নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে অনলাইনে আবেদন শুরু হয়, যা চলবে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত। ফি জমা দেওয়া যাবে ২৭ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত। এবারই প্রথমবারের মতো বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে। আবেদন ও বিজ্ঞপ্তির তথ্য গত ২৯ জানুয়ারি এনটিআরসিএ এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রার্থীদের কাছ থেকে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি জারি করে। ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আবেদন করার সময় এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। পদভিত্তিক আবেদন পরিসংখ্যান এনটিআরসিএর তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে। 🔹 সহকারী প্রধান শিক্ষক (মাধ্যমিক) শূন্যপদ: ৩,৮৭২টি আবেদন: ২৬,৮২৬ জন 🔹 প্রধান শিক্ষক (মাধ্যমিক) শূন্যপদ: ৩,৯২৩টি আবেদন: ১৯,৮৩৮ জন 🔹 উপাধ্যক্ষ (ডিগ্রি কলেজ) শূন্যপদ: ৬২৭টি আবেদন: ৬,০৮২ জন অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদ পদ শূন্যপদ আবেদন ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ২০২ ১,২৩৩ কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ৩৪ ৫৩৩ আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ২১৯ ১,৫১৮ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ৫৮৪ ৫৫০ উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের অধ্যক্ষ ৫১১ ৫,৬৩০ উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের অধ্যক্ষ ২৫৭ ৩,১৮০ বিএম কলেজের অধ্যক্ষ ১১০ ৭১২ দাখিল মাদ্রাসার সুপার ৮৯৯ ২,৬৪৫ দাখিল মাদ্রাসার সহকারী সুপার ১,০০৪ ২,৯৮৭ নিম্নমাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক ৫০৪ ৪,৩৭৫ পরীক্ষার পদ্ধতি এনটিআরসিএ জানিয়েছে, মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষার ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। নম্বর বণ্টন: লিখিত (MCQ) পরীক্ষা – ৮০ নম্বর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ – ১২ নম্বর মৌখিক পরীক্ষা – ৮ নম্বর লিখিত পরীক্ষার কাঠামো: সময়: ১ ঘণ্টা প্রশ্ন: ৮০টি প্রতিটি সঠিক উত্তরে ১ নম্বর ভুল উত্তরে কাটা যাবে ০.২৫ নম্বর প্রতিটি অংশে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। প্রশ্নের বিষয়সমূহ: বাংলা ইংরেজি আইসিটি মানসিক দক্ষতা ও গাণিতিক যুক্তি সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক) প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা আর্থিক ব্যবস্থাপনা শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ও বিষয়ভিত্তিক মৌলিক জ্ঞান আবেদন প্রক্রিয়া আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে http://ngi.teletalk.com.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে পারছেন। এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড। শতভাগ অটোমেশন প্রক্রিয়ায় নিয়োগ লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর এবং প্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রমের ভিত্তিতে শতভাগ স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে মেধা অনুযায়ী চূড়ান্ত নিয়োগের সুপারিশ করা হবে। এনটিআরসিএ জানিয়েছে, কোনো ধরনের তদবির প্রমাণিত হলে তা অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট গত ২৭ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ পরিপত্র জারি করে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহপ্রধান নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএকে প্রদান করে। এর আগে ২০১৫ সাল থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ এনটিআরসিএর মাধ্যমে হলেও প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহপ্রধান নিয়োগ দিত সংশ্লিষ্ট গভর্নিং বডি বা পরিচালনা পর্ষদ। নানা অ
সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিত না হওয়ায় বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক (ইনসিটু) ডা. সালাহ-আল-দীন-বিন নাসির এবং জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোসার্জারী) ডা. মো. মাহমুদুল্লাহকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। আজ রোববার বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই কৈফিয়ত তলব করা হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আদেশে দুই চিকিৎসককে কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে না-পরবর্তী ২ কর্ম দিবসের মধ্যে জানানোর নির্দেশ ও কৈফিয়ত তলব করা হয়।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : জুলাই আগস্ট আন্দোলনের পেক্ষাপটে বদলে গেছে অনেক কিছু। বিদায় নিয়েছে ফ্যাসিস্ট সরকার। দেশ ছেড়েই পালিয়ে গেছেন ওই সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা। পালিয়ে গেছেন তার অনেক সহযোগী। যারা পালাতে পারেননি তারা রয়েছেন আত্মগোপনে। বর্তমান সরকারের সময় রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সর্বত্র নতুন করে ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে । কিন্তু সরকারের সাড়ে দশ মাসেও পরিবর্তন বা সংস্কারের ছোয়া লাগেনি বরিশালের স্বাস্থ্য বিভাগে। ফ্যাসিবাদি সরকারের প্রায় পুরোটা সময় আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ,সাদিক আব্দুল্লাহ,আমির হোসেন আমু ও পঙ্কজ দেবনাথের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিল বরিশালে চিকিৎসা বানিজ্য সিন্ডিকেট। স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এর নেতারাই মূলত এ সিন্ডিকেটের হয়ে কাজ করতো। কথিত ওইসব নেতারা নিজেরা প্রাইস পোস্টিং নিয়ে যাকে খুশি বদলি, নিয়োগ, পদোন্নতিসহ খেয়াল-খুশিমতো ক্লিনিক,ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রাইভেট ভাবে রোগী ও অপারেশনসহ চিকিৎসা বানিজ্য করতো। স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদের নেতারা কাউকে তোয়াক্কা করতেন না। কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পেত না। কেউ মুখ খুললেই তাকে জামায়াত-শিবির,সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীসহ নানা ট্যাগ দিয়ে বদলি করানোসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হতো। সরকার বদল হলেও এখনো পুরোনা সিন্ডিকেটের শক্ত অবস্থানে নিয়ন্ত্রণ করছেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই স্বাস্থ্য সেবা খাত।সরকার পরিবর্তন হলেও সিন্ডিকেট পরিবর্তন হয়নি।বরিশালে সিভিল সার্জন ও শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ছাড়া সকলেই বহাল তবিয়তে। এখনো ফ্যাসিস্টদের দোসরদের শাস্তি ,বিচার ও বদলী প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারন চিকিৎসক,কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তারা বলেছেন এখনো দোসররা বহাল থাকায় এটা বর্তমান সরকারের অযোগ্যতা ,অদূরদর্শিতা, অক্ষমতাও বলা যায়। জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরুদ্ধে যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন তারা এখনও কিভাবে বহাল তবিয়তে থাকে এ প্রশ্ন সচেতন মহলের। বিগত ১৬ বছরে যারা পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের এখন পদোন্নতি দেয়া হয়নি।কারো কারো দেয়া হলেও অদ্যাবধি পদায়ন হয়নি অধিকাংশের। এদিকে বরিশালের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে নীরব অস্থিরতা বিরাজ করছে। এতে স্বাস্থ্য সেবায় স্বাভাবিক কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন ১৬ বছরের সুবিধাভোগী, পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার অন্ধ সমর্থক ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠরা। তারাই প্রশাসনের যাবতীয় কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে কৌশলে বাধা সৃষ্টি করছেন। বিগত সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক আছেন এখনো বহাল তবিয়তে। ফ্যাসিস্ট সরকারের সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্তদের মধ্যে অন্যতম বরিশালের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল। বরিশালে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক পদে যোগদান করেন ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর।যোগদানের পরেই ফ্যাসিস্ট ও ফ্যাসিস্টদের দোসরদের বাদে সকলকে বদলীসহ হয়রানী শুরু করেন। ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল নিজেকে স্বাচিপের উপদেস্টা হিসেবে পদোন্নতি পেতে কোন সমস্যা হয়নি।বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক হওয়ার পুর্বে তিনি বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারি পরিচালক (প্রশাসন) পদে দ্বায়িত্বে ছিলেন।ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল প্রতিটি জেলায় সিভিল সার্জন অফিসসহ স্বাস্থ্য বিভাগে ঘুষের বাজার খুলে বসেন।নিয়োগ দেন এক একজন দালাল।দালালদের মাধ্যমে ঘুষ আদায় করেন।৫ আগষ্টের পরে ব্যাপক তদবীর করে এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন বরিশালে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক পদে। বর্তমানে বরগুনা,গলাচিপাসহ বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রকোপ চলছে। অথচ স্বাস্থ্য বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়ায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার বেড়েই চলছে। বরিশাল বিভাগের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর অবস্থা এখন চরম সংকটে। চিকিৎসকসহ জনবল সংকট, যন্ত্রপাতি বিকল, অনুন্নত অবকাঠামো এবং অব্যবস্থাপনায় খুড়িয়ে খুড়িয়ে কোনো রকমে চলছে এগুলো। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ খরচে বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে স্থানীয়দের। এতে ক্ষোভ বাড়ছে তাদের। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় মোট ৪১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। তবে, এসব কমপ্লেক্সে চিকিৎসক পদায়ন রয়েছে চাহিদার অর্ধেকেরও কম। মোট ১২৫৪টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে ৫৭১ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন, যা মাত্র ৪৫%। বরিশাল বিভাগে ১১০০টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে।অধিকাংশ কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ। কার্য্যক্রম চলে বাসা বাড়িতে বসে।দেখাভাল না করায় অকার্যকর এখন কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো। স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান,বরিশালের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশা যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তবে সবার কাছে স্বাস্থ্যসেবার প্রতি আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বরিশাল বিভাগের অসংখ্য উপজেলা হাসপাতালে অপারেশন কার্য্যক্রম বন্ধ,বিভাগ জুড়ে অনিবন্ধিত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধে নেই কোন পদক্ষেপ ।দ্রুত সময়ে অযোগ্য ও ফ্যাসিস্টের দোসর দলবাজ ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডলকে বদলী না করা হলে ডেঙ্গু ও করোনা রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রমে উন্নতি হবেনা বলে মন্তব্য করেছেন একাধিক চিকিৎসকরা। ফ্যাসিস্ট সরকারের সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্তদের অন্যতম বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজের অর্থপেডিক্স বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ও হাসপাতালের অর্থপেডিক্স বিভাগের গুরুত্বপুর্ন দ্বায়িত্বে রয়েছেন ডাঃ মোঃ ফেরদৌস রায়হান (কোড নং ১০০৫১৩৪)।তিনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী ডাক্তারদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এর ঝালকাঠি শাখার পুর্নাঙ্গ কমিটির কোষাধ্যক্ষ । আমির হোসেন আমুর দাপট দেখিয়ে তিনি একই কর্মস্থলে যুগ পার করছেন।তিনি ২০১৫ সালের ১৮ মার্চ আমুর সুপারিশে রেজিষ্টার থেকে জুনিয়র কনসালট্যান্ট পদে পদোন্নোতি পেয়েছেন।এর পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তার।তাকে অন্য কোথাও বদলী হতে হয়নি।আমুর ছোয়ায় একের এক পদোন্নতি লাভ করেন।তার কর্মস্থল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল রেখে প্রাইভেট প্র্যাক্টিসে ব্যস্ত থাকেন সব সময়।চেম্বার করেন বরিশালের পপুলার ডায়াগনস্টিক হাসপাতালে আর রোগীদের অপারেশন করেন ডায়াবেটিকস হাসপাতালে।শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাইন বোর্ড ব্যবহার করে প্রাইভেট চিকিৎসা বানিজ্য করে দু হাতে কামাই করছেন টাকা।লাখ লাখ টাকা মাসে আয় করলেও আয় অনুযায়ী ভ্যাট ও ট্যাক্সের খাতা প্রায় শূন্য। ইতিমধ্যে বরিশাল নগরীর কালুশাহ সড়কের মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় সাড়ে ৬ তলা ভবনের নির্মান কাজ শেষ করেছেন।এখন ভবনে চলছে রংয়ের কাজ।জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ গড়েছেন বরিশাল থেকে ঢাকা।ঢাকায় ফ্লাটও ক্রয় করেছেন নামে বেনামে।সরকারি পদ পদবীকে বানিয়েছেন আলাদিনের চেরাগ।অবৈধ সম্পদ,টাকা আর বাড়ি গাড়িতে ফুলে ফেপে উঠেছেন তিনি।কাউকে তিনি থোরাই কেয়ার করেন না। রোগী ধরা দালাল পোষেন তিনি।দালাল ও প্রাইভেট প্র্যাক্টিস করে আজ শত শত কোটি টাকার মালিক। এক যুগ ধরে একই কর্ম স্থলে থাকার সুবাদে দালাল নির্ভর ডায়াগনস্টিক সেন্টার ,ক্লিনিক ও দালালদের মাধ্যমে রোগী সংগ্রহ করে অপারেশন করেন। দীর্ঘ সময় একই কর্মস্হলে চাকরীর নেপথ্যে রয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহারও বিধিবহির্ভূত কর্মকান্ড। কয়েকবার বদলীর আদেশ আসলেও প্রতিবারই বিচক্ষণতায় তা ঠেকানোর দুঃসাহস দেখিয়েছেন তিনি।এভাবেই অবৈধ টাকা অর্জনে অনেক দুর এগিয়ে গেছেন ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের অন্যতম ডোনার ও দূর্নীতির এই স্বপ্নবাজ। ডাঃ ফেরদৌস রায়হানের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমান অর্থ,ব্যাংকে এফডিআর এবং নামে বেনামে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এ যেন আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়েছেন। একের পর এক বেরিয়ে আসছে ডাঃ ফেরদৌস রায়হানের অবৈধ সম্পদের খবর। একজন সরকারি ডাক্তার হয়ে তিনি কীভাবে এত সম্পদের মালিক হয়েছেন, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ডাঃ ফেরদৌস রায়হানের অবৈধ সম্পদ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান করলেই শত শত কোটির চেয়েও বেশী সহায় সম্পদের তথ্য প্রকাশ পাবে যা জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ। ফ্যাসিস্ট সরকারের সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্তদের আরেক ডন ডাঃ সুদীপ হালদার। বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আউটডোর ডক্টরস এ্যাসোসোসিয়েশনের সভাপতি,আওয়ামী পন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাচিপ এর বরিশালের সাধারন সম্পাদক, আওয়ায়ামীলীগ নেতা ,সাবেক মেয়র সাদিকের ডানহাত ও ‘র ‘ এর এজেন্ট পরিচয়ে ডাঃ সুদীপ হালদারের আঙ্গুলের ইশারায় চলতো শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ ও শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।সুদীপের কথাই ছিলো শেষ কথা। ৫ আগষ্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও ৩ আগষ্ট সুদীপের অর্থায়নে ও নেতৃত্বে শান্তিকামী চিকিৎসক ও নার্স সমাজ বরিশালের ব্যানারে নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন জামায়াত -শিবির ও বিএনপির সন্ত্রাসী কর্মকান্ড…..শিরোনামে শান্তি সমাবেশ করে। এতে অংশ নেয় স্বাচিপের নেতা ও তাদের সমর্থক নার্স সমাজ।সুদীপ হালদার শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সৃষ্টি করেছিল এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি।৫ আগষ্টের পরে আত্মগোপনে থাকলেও পরে ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় আবার স্বরুপে ফিরেছেন এই ডন। ক্ষমতা প্রয়োগ করে রোগীদের থেকে হাতিয়ে নিতেন বিপুল অর্থ আর তার এই কর্মকান্ড নির্বিঘ্নে করার জন্য তার অধীনস্ত ডাক্তার এবং চথুর্ত শ্রেনীর কর্মচারীদের নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন একটি সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট অর্থোপেডিক্স অপারেশনে ব্যবহৃত প্লেট স্ক্রু যা রোগীরা নগদ অর্থে ক্রয় করে তার অতিরিক্ত দাম ধার্য করতে সরবারহকারীদের বাধ্য করে সেই থেকে অর্থ আত্মসাত করেন। এছাড়া অপারেশনের সিরিয়াল নিয়েও চলে বানিজ্য। এমনকি হাসপাতাল থেকে রোগী বের করে প্রাইভেটে অপারেশন করার বিষয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অতি পুরানো। এ অভিযোগ এতটাই ব্যপক ছিল যার কারনে বিগত ফ্যাস্টিস্ট সরকারের স্বাস্থ্য সচিব পর্যন্ত প্রকাশ্য মিটিংয়ে এই অভিযোগ তুলেছিলেন। তার দূর্নীতির চক্রের বিরুদ্ধে গেলেই শারিরীক এবং মানসিক হামলার শিকার হতে হয়। বাদ যায়নি চিকিথসকগনও।সাগরদীতে পাচঁ তলা ভবন,ঢাকায় ফ্লাটসহ নামে বেনামে গড়েছেন সম্পদ। জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদের পরিমান ছাড়িয়েছে শত কোটির ওপরেও। তিনি ভ্যাট ও ট্যাক্স ফাঁকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করলেই বেড়িয়ে আসবে অবৈধ ভাবে গড়ে তোলা সহায় সম্পদের পাহাড়।এছাড়া ডাঃ সুদীপের বিরুদ্ধে নারী ও মদ্যপ পানের অভিযোগ রয়েছে। প্রঙ্গত উল্লেখ্য, মেডিসিন এর ডা. মাসুদ খান ল্যাব বানিজ্য ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় শেবাচিম প্যাথলজির ডা.আশিষ যিনি সুদীপ হালদারের সদস্য তাই ক্ষেপে যান। যার ফলে ডা সুদীপের নির্দেশে তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতারা ডা মাসুদ এর ইসলামী লেবাস কে ইস্যু করে জামাত শিবির ট্যাগ দিয়ে শহীদ আবরার এর মত রুমে আটকে হামলা চালায় যাতে ডা.মাসুদ এর কান এর পর্দা ফেটে যায়। এহেন ভয়ংকর চরিত্রের ডাঃ সুদীপ হালদার ৫ আগষ্ট সরকার পতন ঘটলে গা ঢাকা দিলেও আবার ফিরে আসে।যারপর নাই দুর্নীতি অনিয়ম তা সবই করেছেন এই গডফাদার ডাঃ সুদীপ হালদার।সকল প্রকার প্রমানাদী থাকার পরেও কেন কিভাবে বহাল তবিয়তে রয়েছেন সুদীপ হালদার এসব বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহনকারী ছাত্র জনতা। এছাড়া শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাচিপ নেতা ডাঃ সৌরভ সুতার,ডাঃ মাশরেফুল ইসলাম সৈকত,এফ আর খানসহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৩ আগষ্ট শান্তিকামী চিকিৎসক ও নার্স সমাজ বরিশালের ব্যানারে নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন জামায়াত -শিবির ও বিএনপির সন্ত্রাসী কর্মকান্ড…..শিরোনামে শান্তি সমাবেশ করে। তাদের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানো সহ সরকার বিরোধী কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে। দ্রুততম সময়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের ঘনিষ্ঠজন ও স্বাচিপ নেতাদের বিষয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন নিয়ে বদলী ও অপসারনের দাবী জানিয়েছেন সাধারন ডাক্তার,কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) ঘিরে আবারও বিতর্কের ঝড় উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সুবিধাভোগী ও দমন-পীড়নে জড়িত একাধিক কর্মচারী এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন। কেউ কেউ রাজনৈতিক ভোল পাল্টে বিএনপি বা জামায়াতপন্থী পরিচয় ধারণ করলেও বাস্তবে আগের প্রভাব-প্রতিপত্তি অটুট রয়েছে বলে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। হাসপাতাল সূত্র জানায়, সম্প্রতি চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়নের একটি কমিটি অনুমোদনের লক্ষ্যে একটি মহল বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার-এর দ্বারস্থ হয়। তাদের অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আপত্তি থাকায় তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে তারা বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লা-এর মাধ্যমে কমিটি অনুমোদন করান। অভিযোগ রয়েছে, কমিটির শীর্ষে দু-একজন বিএনপিপন্থী থাকলেও অধিকাংশ সদস্যই ঘোর আওয়ামীপন্থী। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ওয়ার্ড মাস্টার মশিউল আলম মল্লিক ওরফে ফেরদৌস। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ১ মার্চ ঔষধ চুরির সময় যৌথবাহিনীর হাতে আটক হন তিনি। এ ঘটনায় তৎকালীন উপ-পরিচালক ডা. সুভাষ দাশ কোতোয়ালি থানায় এজাহার (নং-৩২৫৯/০৭) দায়ের করেন। সেখানে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকার ঔষধ চুরির অভিযোগ উল্লেখ ছিল। তবে পরবর্তীতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ-এর হস্তক্ষেপে অভিযোগ থেকে রেহাই পান বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া ২০২১ সালে করোনা ওয়ার্ড থেকে ১০০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার চুরির অভিযোগও ওঠে ফেরদৌসের বিরুদ্ধে। তৎকালীন সহকারী পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান শাহীনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তদন্তে সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললেও বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ-এর হস্তক্ষেপে তা আলোর মুখ দেখেনি। হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, মন্ত্রণালয় থেকে একাধিকবার বদলির আদেশ এলেও তা কার্যকর হয়নি। বরং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার অব্যাহত ছিল। জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনাতেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ৩ আগস্ট চৌমাথা এলাকায় বিএনপি নেতা জিয়া শিকদারের ওপর হামলার সময়ও তাকে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওয়ার্ড মাস্টার মশিউল আলম ফেরদৌস। তিনি বলেন, “আমাকে যৌথবাহিনী আটক করেছিল, এটা সত্য। তবে মামলায় আমি খালাস পেয়েছি। আমার বিরুদ্ধে আনা অন্যান্য অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” তিনি অভিযোগগুলো তদন্তের দাবি জানান। এ বিষয়ে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) বরিশাল জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও শেবাচিম হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আব্দুল মোনেম সা’দ বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর বলেন, “বিতর্কিত কয়েকজনের ডিউটি পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে জনবল সংকট থাকায় তাদের দিয়েই সেবা চালাতে হচ্ছে। ডিজি হেলথ থেকে জনবল পরিবর্তন করা হলে সেবার মান আরও উন্নত হবে।” হাসপাতাল ঘিরে এ ধরনের অভিযোগ জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে বিতর্কিত ব্যক্তিরা কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল থাকেন—সে বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
চিকিৎসার জন্য শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর দক্ষিনাঞ্চলের কোটি মানুষের নির্ভরতা। বরিশালসহ খুলনা বিভাগের একাংশ ও ঢাকা বিভাগের ফরিদপুর মাদারীপুর,গোপালগঞ্জের মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান এটি। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করছে সবচেয়ে পুরনো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি। অথচ এই হাসপাতালের রোগীসেবায় কেউ সন্তুষ্টি নন ।কোনো কাজে আসছে না গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত কোনো রোগী।এখানে ভর্তি করা হলে ঢাকা মেডিকেল বা বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে প্রেরন করা হয়। অভিযোগ পাওয়া গেছে, অস্ত্রোপচারের জন্য রোগীদের মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়। অধিকাংশ যন্ত্রপাতি বিকল থাকায় কম মূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা সুবিধা পাচ্ছে না রোগীরা। আছে অনিয়ম-দুর্নীতি এবং দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যও। হাসপাতালের সর্বত্রই ময়লা-আবর্জনা। তবে সেবা পেতে রোগীর ভোগান্তি সব কিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। একাধিক রোগী ও রোগীদের স্বজনরা ইত্তেহাদ নিউজকে জানিয়েছেন, এখানে হাসপাতালে সেবা পেতে পদে পদে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনিয়ম যেখানে নিয়মে পরিনত, অসভ্যতাই যেখানে সভ্যতা, নোংড়াই যেখানে পরিচ্ছন্নতা! রোগী, স্বজন যেখানে জিম্মি, বর্তমান আলোর পৃথিবীতে এক ভয়ানক অন্ধকার জগতের নাম দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম বরিশালের শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। রোগী ভর্তি থেকে শুরু হয় নানান রকম হয়রানী আর বিরম্বনা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও জরুরি বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে ক্যাজুয়ালটি বিভাগটি পুরোপুরি চালু করা যাচ্ছে না। জরুরি বিভাগ থেকে আহত রোগীদের ক্যাজুয়ালটি বিভাগে না পাঠিয়ে অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, একশ্রেণীর দালাল চক্রের সঙ্গে জরুরি বিভাগের কর্মচারীদের সিন্ডিকেট রয়েছে। কমিশনের বিনিময়ে জরুরি বিভাগ থেকে রোগী ভাগিয়ে তারা প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিকে নিয়ে যায়।কর্মকর্তা কর্মচারীদের স্বেচ্ছাচারীতা, কর্তব্যে অবহেলার কারনে জটিল ধাধায় পরে যায় আগত সাধারন রোগী ও স্বজনরা। আয়া বুয়াদের দাপট আর আচরণ এতটাই জঘন্য। এমনকি ঝাড়ু নিয়েও আক্রমন করতে দেখা গেছে স্বজনদের উপর। কেউ প্রতিবাদ করলেই যেনো তাকে বিপদে পরতে হয়, ভিমরুলের দলের মত সব দলবদ্ধ হয়ে ঝাপিয়ে পরে। এতো গেলো আয়া বুয়া ক্লিনারদের কথা।সিস্টার নার্স আর ডাক্তার, তারাতো বাংলার নবাব। কোন বিষয় কথা বলতে গেলেই ধমকের সুরে কথা বেড়িয়ে আসে তাদের মুখ থেকে। রোগী যখন সংকটময় অবস্থা তখন দশবার ডেকেও তাদের পাওয়া যায়না। তাদের অবহেলার কারনে শিশু মারা গেছে নবজাতক শিশু ওয়ার্ডে। স্বজনদের অভিয়োগ ডাক্তার যদি একটু কেয়ার করত তবে হয়ত শিশু তিনটি বেচে যেতো। এর কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে হুমকি-ধামকি দিয়ে নাজেহাল করে দেয় তারা। সাংবাদিক পরিচয় দিলে, হুমকী দিয়ে বলা হয়, এটা সরকারী হাসপাতাল, ডাক্তারদের ক্ষমতা অনেক, আপনি যা পারেন করেন গিয়ে। শিক্ষিত ডাক্তারদের এমন অশালীন দৃষ্টতাপূর্ণ আচরনে হতবাগ হয়ে পরে উপস্হিত জনতা। পরিচ্ছন্নতার কথা আর কি বলব, এক কথায় সমগ্র হাসপাতালটি একটি নোংড়া দূর্গন্ধময় ভুবন। বেশিরভাগ বাথরুমের নেই কোন দরজা, পানি ব্যাবহারের ব্যবস্থাও নেই বেশিরভাগ বাথরুমে, নানা অব্যাবস্থাপণা, অনিয়নম আর সেচ্ছাচারীতায় এমন বৃহত্তর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি এখন কতিপয় অমানুষ আর হায়েনার রাজ্যে পরিনত হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবী, লাখো মানুষের সেবায় নিয়োজিত এই মহা স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি নিয়ম ও সভ্য আচরণে ফিরে আসবে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের। ডিউটি রেখে ব্যক্তিগত ক্লিনিকে সময় দেন চিকিৎসকরা : সরকারি ডিউটি রেখে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা ব্যক্তিগত ক্লিনিকে সময় দেন। এর ফলে সরকারি চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা পড়েন চরম ভোগান্তি ও বিড়ম্বনায়। হাসপাতাল ময়লার ভাগাড়: বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল হাসপাতালের মানসিক বিভাগের পাশের এ খোলা জায়গাতে চিকিৎসা বর্জ্য ফেলছে কর্তৃপক্ষ। রাতে সিটি করপোরেশন এসব ময়লা অপসারণ করলেও দিনভর পাখি, কুকুর, বিড়াল এসব বর্জ্য চারদিকে ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণ করছে। হাসপাতালের মূল ভবনের পাশেই ময়লার ভাগাড় গড়ে তোলায় চিকিৎসা নিতে এসে বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের।রোগীর স্বজনরা জানান, মানসিক বিভাগের পাশে ময়লার ভাগাড় করায় কোনোভাবেই চিকিৎসা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। উল্টো রোগীর সঙ্গে এসে নিজেরাই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানান তারা।এদিকে চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দুদফা চিঠি ও বৈঠক করেও কোন সুরাহা করতে পারেনি পরিবেশ অধিদফতর।বরিশাল জেলা পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক বলেন,‘দ্রুত এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নিলে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে। আমরা বারবার তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বিষয়টি দুঃখজনক।’তবে দ্রুত ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানের কথা জানিয়ে হাসপাতাল পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা গণপূর্ত বিভাগের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালে ২ টি জায়গা নির্ধারণ করেছি। দ্রুত এই দুই জায়গায় ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।’১৯৬৮ সালে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর ৫৫ বছরেও তৈরি করা হয়নি ডাম্পিং স্টেশন। পরিচ্ছন্নতাসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অসন্তোষ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর : হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অডিটোরিয়ামে এক আলোচনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতাল নোংরা থাকবে এবং মানুষ চিকিৎসা সেবা পাবে না-এটা আর গ্রহণ করতে রাজি নই। যারা দায়িত্বে রয়েছেন তাদের কাছ থেকে কাজ বুঝে নিতে চাই– যদি না পারেন তবে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হবে।’ হাসপাতালটির সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অন্য হাসপাতালের তুলনায় এই হাসপাতাল পিছিয়ে আছে। হাসপাতালের বাইরে খারাপ অবস্থা। এখানে চারিদিকে ফুলের গাছ দিয়ে ভরিয়ে দিতে হবে, যাতে মানুষের প্রথম দেখায় ভালো লাগে। এখানে চারিদিকে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার অভাব রয়েছে, হাসপাতালে শীতের মধ্যে মানুষকে শুয়ে থাকতে দেখেছি। এরপরে যখন আসবো এসবের উন্নতি দেখতে চাই।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই হাসপাতালের (শেবাচিম) আগে ক্যান্সারসহ বিশেষায়িত হাসপাতালের কাজ দেখতে গিয়েছিলাম, সেগুলোও অন্যান্য বিভাগের তুলনায় কাজ পিছিয়ে আছে। যারা ঠিকাদার রয়েছেন তাদের বলতে চাই, যে টুকু পিছিয়ে পড়েছে সেটি যেন দ্রুত পূরণ করা হয়, তা নাহলে পেনাল্টিতে পড়তে হবে।’ জানা গেছে, ১৯৭০ সালের ২০ নভেম্বর দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কার্যক্রম শুরু হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে সব ধরনের রোগের চিকিৎসার ইনডোর-আউটডোর সেবা থাকতে হবে। কিন্তু শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চিকিৎসক ও স্থান স্বল্পতার কারণে একাধিক রোগের ইনডোর-আউটডোর সেবা কার্যক্রম চালু ছিল না। বিশেষ করে কার্ডিওলজি (হৃদরোগ) চিকিৎসার বহির্বিভাগ চালু না থাকায় গরিব ও সাধারণ রোগীরা প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। এ অবস্থায় ২০১৫ জানুয়ারিতে এক সভায় স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন কমিটির সভাপতি আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ জরুরি ভিত্তিতে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হৃদরোগ বহির্বিভাগ চালুর নির্দেশ দেন। প্রতিষ্ঠার ৫১ বছর পর ২ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে ভাস্কুলার সার্জারি, কার্ডিওলজি, ইউরোলজি ও গ্যাস্ট্রোএন্ট্রোলজি বহিঃ বিভাগের কার্যক্রম। ববি শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত : শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের বহির্বিভাগে মাকে চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) রসায়ন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত।১৯ জুন বেলা ১১টার দিকে শেবাচিমের নিচতলায় ববি শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। হামলার শিকার সাংবাদিকরা : বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রী র্যাগিংয়ের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় কলেজ অধ্যক্ষের বিচার চাইলেও বিচার পাননি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। বরং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বক্তব্য নেয়ায় সাংবাদিকদের পিটিয়েছেন কলেজের শিক্ষকরা। ২৪ আগস্ট ওই ছাত্রী র্যাগিংয়ের শিকার হন। এ ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহের জন্য শনিবার ২৬আগস্ট সাংবাদিকরা কলেজে গেলে হামলার শিকার হন। কলেজ অধ্যক্ষের কাছে র্যাগিংয়ের বিচার চাইতে যান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। এদিন সময় টেলিভিশনের রিপোর্টার শাকিল মাহমুদ, চিত্র সাংবাদিক সুমন হাসানসহ চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের স্টাফ রিপোর্টার কাওছার হোসেন রানা, বাংলা নিউজ ২৪ এর রিপোর্টার মুসফিক সৌরভ, এশিয়ান টেলিভিশনের রিপোর্টার ফিরোজ মোস্তাফা যান তথ্য সংগ্রহে। এ সময় ভুক্তভোগীর বক্তব্য নেয়ায় সাংবাদিকদের পিটিয়েছেন কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের শিক্ষক ডা. সৈয়দ বাকী বিল্লাহ ও প্যাথলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. প্রবীর কুমার সাহা। র্যাগিং ও হামলা: অভিযুক্তকে দিয়েই গঠন করা হলো তদন্ত কমিটি বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবামেক) হাসপাতালের ছাত্রী হলে র্যাগিং ও সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় ৪ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা করা প্যাথলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক প্রবীর কুমার সাহাকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।রবিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে এই কমিটি গঠন করা হয় বলে জানান উপাধ্যক্ষ জিএম নাজিমুল হক।কলেজের অধ্যক্ষ ডা. ফয়জুল বাশার ঘটনা তদন্তে ৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেন। যার প্রধান করা হয়েছে অধ্যাপক উত্তম কুমার সাহাকে। কমিটির অন্য ৩ সদস্য হলেন- অভিযুক্ত প্রবীর কুমার সাহা, প্রভাষক আনিকা ইসলাম ও জহিরুল ইসলাম। হাসপাতালের কক্ষ ব্যাংকের কাছে ভাড়া : বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শয্যাসংকট সত্ত্বেও নিচতলায় একটি বেসরকারি ব্যাংককে কক্ষ ভাড়া দেয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের পরিচালক সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। আপন ছোট ভাইকে ব্যাংকটির চাকরিতে স্থায়ী করতে এ কাজ করেছেন তিনি।হাসপাতালে শয্যাসংকটে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। বারান্দা, শৌচাগারসহ কোথাও নেই একটুও হাঁটার জায়গা। এমন দুর্ভোগের মধ্যেই হাসপাতালের নিচতলায় একটি বেসরকারি ব্যাংককে ভাড়া দেয়া হয়েছে কক্ষবরিশাল নদী-খাল বাঁচাও আন্দোলনের সদস্যসচিব এনায়েত হোসেন শিপলু বলেন, ‘হাসপাতালের পরিচালক তার ছোট ভাইকে চাকরি দেয়ার সুবাদে হাসপাতালের ভেতর ব্যাংক ভাড়া দিয়েছে। এমন অভিযোগ এখন ওপেন সিক্রেট। হাসপাতালের বাইরে অনেক খালি ভবন রয়েছে। সেখানে ব্যাংক স্থাপন হলেও চলত। হাসপাতালের মেডিসিন ভবনের ভেতর ব্যাংকটি অবিলম্বে সরিয়ে দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি নিয়ম মেনে হাসপাতালের নিচতলায় এক হাজার স্কয়ার ফুট জায়গা ভাড়া দেয়া হয়েছে। প্রতিমাসে ২০ হাজার টাকা ভাড়া আসে সেখান থেকে। আমি কোনো দুর্নীতি করিনি।এ বিষয়ে ভাড়া নেয়া বেসরকারি ব্যাংকটির কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিমাসের ভাড়া নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দিয়ে দেয়া হয়। হাসপাতালের ভেতরে ব্যাংকটি খোলা হয়েছে রোগীদের সেবা দেয়ার জন্যই। আমরা চাই রোগীরা নিরাপদে টাকা-পয়সা লেনদেন করুক।ডা. সাইফুল ইসলামের ছোট ভাই মনির হোসেন বলেন, ‘আমি নিজের যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছি। আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। আমার চাকরির বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আরও ভালো জানে। নার্সদের ঘুমে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত রোগীরা : মধ্যরাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোগী ও স্বজনদের দাবি, সেবা না দিয়ে হাসপাতালের কক্ষে ঘুমিয়ে থাকেন দায়িত্বরতরা। ডাকাডাকি করেও প্রয়োজনে পাশে পান না নার্সদের। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়ার দায়সারা জবাব হাসপাতাল প্রশাসনের। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে রাতে বিছানার চাদর টাঙিয়ে ঘুমাচ্ছেন নার্সরা। দরজার সামনে অপেক্ষায় রোগী ও তাদের স্বজনরা। শুধু মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডেই নয়, এমন অবস্থা হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডে। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, ডাকাডাকি করেও প্রয়োজনের সময় পাওয়া যায় না নার্সদের। রাতে সেবা চাইতে গেলে উল্টো খারাপ ব্যবহার করেন তারা।রোগীরা জানান, ঠিকমতো নার্সরা আসেন না। সেবা তো দূরে থাক, প্রয়োজনের সময় অনুরোধ করেও আনা যায় না তাদের। ডাক্তার আর প্রশাসনের কাছে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি বলে দাবি তাদের। তবে এসব বিষয় অস্বীকার করেন নার্সরা। তারা জানান, রোগীরা যখন আসে তখনই সেবা দেয়া হয় তাদের। পাশাপাশি রাতে রোটেশন অনুযায়ী সেবা দেয়া হয় রোগীদের। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দৈনিক গড়ে রোগী ভর্তি থাকেন ২ হাজার। আর তাদের সেবা দিতে বর্তমানে নার্স আছেন ৯৪৬ জন। বছরজুড়ে কার্ডিয়াক বিভাগের এসি বিকল, গরমে রোগীদের ভোগান্তি এক বছর ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিভাগের সব শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মেশিন। একে তো চলছে তীব্র দাবদাহ, তার ওপর মাত্র ৪৩টি শয্যার বিপরীতে রোগী থাকেন প্রায় দ্বিগুণ। কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ রোগী ও তাদের স্বজনরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, দফায় দফায় চিঠি চালাচালি করেও সমাধান মিলছে না। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, কার্ডিওলজি বিভাগে তারা বেড না পেয়ে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ওয়ার্ডে শয্যার চেয়ে রোগী বেশি। বাইরে প্রচণ্ড গরম। ভেতরে মানুষ ঠাসাঠাসি। এসি না থাকায় তাদের খুব সমস্যা হচ্ছে। চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সিসিইউ ও পিসিসিউতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা। কার্ডিওলজি বিভাগে শয্যা সংখ্যা ৪৩টি। কিন্তু রোগী প্রায় দ্বিগুণ। মেঝেতে শুয়েও নিতে হয় চিকিৎসা।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সিসিইউতে থাকা ১০টি, পিসিসিউর ৮টি, ইকো ও ইটিটি কক্ষে ১টি করে মোট ২০টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মেশিনের সবই বিকল। দফায় দফায় চিঠি চালাচালি করেও সমাধান মিলেনি বলে জানান পরিচালক।বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে থাকা ২০টি এয়ার কন্ডিশনই ব্যবহার অনুপযোগী। বিভিন্ন দফতরে লিখিত জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি।’ তবে দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত বিভাগের দাবি, রোগীদের কষ্ট লাঘবে দ্রুত উদ্যোগ নেয়া হবে। বরিশাল গণপূর্ত মেডিকেল কলেজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল) মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব এ সমস্যার সমাধান করা হবে। যাতে করে রোগী ও স্বজনদের কষ্ট লাঘব হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ ৫০০ শয্যার হাসপাতালটিতে দৈনিক গড়ে ২ হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। আর প্রতিদিন বহির্বিভাগে সেবা নেন তিন হাজার রোগী। শয্যা সংকট, মেঝেতেই চলছে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠার ৫৪ বছরেও স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়নি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। অত্যাধুনিকসব যন্ত্রপাতি থাকলেও অধিকাংশই বিকল। ভোগান্তির অপর নাম শয্যা সংকট। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও সমস্যার সমাধান না পাওয়ার আক্ষেপ খোদ হাসপাতালের পরিচালকের। শয্যা সংকটে মেঝেতেই চলছে চিকিৎসাসেবা। ৫৪ বছর আগে নির্মাণ করা হাসপাতালটির ভবনের অবস্থাও জরাজীর্ণ। খসে পড়ছে পলেস্তারা। পানি সংকট ভোগান্তি আরও বাড়িয়েছে। রোগীদের সঙ্গে খারাপ আচরণেরও অভিযোগ রয়েছে নার্সসহ হাসপাতালের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।দীর্ঘদিন ধরে বিকল এমআরআই, সিটিস্ক্যানসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র। তাই স্বাস্থ্যের যেকোনো পরীক্ষায় বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোই ভরসা রোগীদের।বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অনেক সময় ইমার্জেন্সি মোকাবিলা করতে পারি না। তবে প্যাথলজি বিভাগে আমরা দুই শিফট চালু করেছি।’ সংকটের বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন মহলে জানিয়েও কোনো সমাধান মিলছে না বলে আক্ষেপ করেন হাসপাতাল পরিচালক। রমরমা ট্রলি বাণিজ্য, বিপাকে রোগীরা : বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবামেক) হাসপাতালে জমে ওঠেছে ট্রলির ব্যবসা। কোনো রোগী টাকা ছাড়া ট্রলিতে উঠতে পারে না। এছাড়া প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির কথা জানে বলেও সরল স্বীকারোক্তি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। তবে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। হাসপাতালে ঢুকতেই ইমারজেন্সি চত্বরে দেখা যায় বেশ কয়েকটা ট্রলি। আর এখানেই ঝগড়া-বিবাদ। হাসপাতালে ট্রলি পেতে এমন বাগ্বিতণ্ডা নিত্যদিনের। ট্রলিতে রোগী উঠলেই গুনতে হয় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, নিচে পরীক্ষা করতে গেলে যার ট্রলি তাকে ১০০ টাকা দেয়া লাগে। এ ছাড়া রোগী সুস্থ হোক বা না হোক, নাশতা খাওয়ার টাকা দিতে হবে।রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, ট্রলিতে আসা-যাওয়াসহ বিছানার চাদর পাওয়া,পরিষ্কার করানো থেকে শুরু করে যে কোনো বিনামূল্যের সরকারি সুবিধা ভোগ করতে টাকা দিতে হয় একদল স্বেচ্ছাসেবক নামধারীদের। আর সরকারি স্টাফরা দুর্ব্যবহার করেন রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে। রোগী ও স্বজনরা বলেন, ২০০ টাকা দিতেই হবে। না হলে তারা এমনভাবে রোগীকে টান দেয় যে রোগীর মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যায়। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করা এসব কর্মী ছড়িয়ে আছেন হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডে। তাদের দাবি, কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই কাজের বিনিময়ে খুশি হয়ে যা দেয় সেটাই তারা নেয়। স্বেচ্ছাসেবকরা বলেন, ‘আমরা জোর করে টাকা নেই না। রোগীকে পৌঁছে দিলে স্বেচ্ছায় কিছু টাকা তারা দেন। সেগুলো নিয়ে থাকি।হাসপাতালের বিভিন্ন শাখায় এসব নামধারী স্বেচ্ছাসেবক আছেন অন্তত ২৫০ জন। চতুর্থ ও তৃতীয় শ্রেণির কর্মী সংকট থাকায় স্বেচ্ছাসেবক নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পানির জন্য হাহাকার : বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চাহিদার অর্ধেকেরও কম পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী, স্বজনসহ কর্মচারীরা। সংকট নিরসনে স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেই বলেও অভিযোগ রয়েছে। লিফটে পানি নিয়ে ওঠা যাবে না। তাই ৫তলা পর্যন্ত সিঁড়ি বেয়ে বালতিতে পানি নিয়ে উঠছেন ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধা। প্রতিনিয়ত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমন চিত্র। শুধু তিনিই নন, পানির নিদারুণ কষ্টে আছেন তিন তলার সার্জারি নারী ওয়ার্ডের চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের পাশে থাকা স্বজনরা। হাসপাতালের প্রতিটি ফ্লোরে পানিসংকটের ভোগান্তি সইতে হচ্ছে তাদের। মাসখানেক ধরে হাসপাতালের আনসার কোয়ার্টারে পানির সংকট পৌঁছেছে চরমে। দিনে দুবার যে পানি দেয়া হচ্ছে, তা-ও আবার ব্যবহার অনুপযোগী। বারবার বলা সত্ত্বেও মিলছে না কোনো স্থায়ী সমাধান। শেবাচিমের আনসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২ ঘণ্টা পানি থাকে; সেটাও দুগন্ধযুক্ত ও ময়লা। এখানে খাওয়ার মতো পানি নেই।প্রতিদিন হাসপাতালে রোগী, স্বজন, চিকিৎসক, নার্স, শিক্ষার্থী, স্টাফ, আনসার ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ৫ থেকে ৬ লাখ গ্যালন পানি ব্যবহারের চাহিদা রয়েছে। অথচ মাত্র দুটি সেন্ট্রাল পাম্পের মাধ্যমে ট্যাঙ্কে পানি উঠানো হয় মোট চাহিদার অর্ধেকেরও কম।বরিশাল গণপূর্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী বলেন, এখানে যে পানি সরবরাহের সিস্টেম; এটা ১৯৬৮ সালে যেভাবে চলত এখনো ঠিক সেভাবে চলছে। কোনো আপডেট করা হয়নি।রোগীদের চাপ বাড়লেও সে অনুযায়ী পানি সরবরাহের সক্ষমতা বাড়েনি। বার্ন ইউনিট বন্ধ, বিপাকে দগ্ধ রোগীরা : যাত্রীবোঝাই লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধদের উদ্ধার করে পাঠানো হয় বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তবে হাসপাতালের বার্ন ইউনিট বন্ধ থাকায় চিকিৎসা চলে সার্জারি বিভাগে। একসঙ্গে এত রোগীকে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। প্রায় ৫ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ। এর ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ নামে লঞ্চে অগ্নিদগ্ধ ৭২ জন রোগী।রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, সার্জারি বিভাগে অগ্নিদগ্ধদের চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেই। ইন্টার্ন চিকিৎসক ও নার্সরাই রোগীদের একমাত্র ভরসা। হাসপাতালটির বার্ন ইউনিট বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন দগ্ধ রোগীরা। সার্জারি ওয়ার্ডের আগে থেকে অনেক রোগী ভর্তি থাকায় দগ্ধদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ২০১৫ সালের ১২ মার্চ হাসপাতালের নিচতলায় আটটি শয্যা নিয়ে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ চালু করা হয়েছিল। বিভাগে আটজন চিকিৎসক ও ১৬ জন নার্সের পদ রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউনিটটি ৩০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। চালু থাকা পাঁচ বছরে প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি রোগী বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিয়েছেন।শেবাচিমের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. এমএ আজাদের রহস্যজনক মৃত্যুর পর ইউনিটটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ধুঁকে ধুঁকে চলছে চিকিৎসাসেবা : বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে রোগ নির্ণয়ের মেশিনগুলোর অর্ধেকেরও বেশি অচল। ব্যক্তি মালিকানার ল্যাবের সঙ্গে হাসপাতালের শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট জড়িত থাকায় বছরের পর বছর পার হলেও সরকারের ডায়াগনস্টিক মেশিন সচল হচ্ছে না। এতে ধারণ ক্ষমতার তিনগুণ বেশি রোগী নিয়ে ধুঁকে ধুঁকে চলছে চিকিৎসাসেবা। বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটির একমাত্র এমআরআই মেশিনটি ২০০৭ সালে চালু হয়। ৯ বছর কোনোমতে চললেও, গত ৬ বছর ধরে বিকল। এছাড়াও হাসপাতলের একমাত্র সিটি স্কান মেশিনটি চালু হয় ২০১৪ সালে। গত ৪ বছর ধরে বন্ধ। আরও জানা গেছে, হাসপাতালের ২২টি ইউনিটি মোট ৪৫০টি মেশিনের মধ্যে পুরোপুরি অচল ৮৫টি আর মেরামতযোগ্য আছে ৭৪টা মেশিন। সচল রয়েছে ২৯১টি। অভিযোগ পাওয়া গেছে, সরকারি মেশিনগুলো যখন অচল, তখন হাসপাতালের আশপাশে একের পর এক গড়ে উঠছে ব্যক্তি মালিকানার ল্যাব। রোগীদের অভিযোগ, সরকারি মেশিন নষ্টের অজুহাত দেখিয়ে বেশি টাকায় বাধ্য করা হয় বাইরের ল্যাবে পরীক্ষা করাতে। এসব ল্যাবের সঙ্গে হাসপাতালের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। অথচ ধারণ ক্ষমতার প্রতিদিন তিনগুণ বেশি রোগী সেবা নেয় এই হাসপাতাল থেকে। অক্সিজেন সিলিন্ডার উধাও : বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) করোনা ওয়ার্ড থেকে ১শ’ অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং ৩০টি সিলিন্ডার মিটার উধাও হয়ে গেছে। এ ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু সন্ধান চালিয়ে উধাও হওয়া কোন সিলিন্ডার উদ্ধার করতে পারেনি তারা। মেডিকেলের স্টোর সূত্র জানায়, করোনা ওয়ার্ডের ওয়ার্ড মাস্টারদের মাধ্যমে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও সিলিন্ডার মিটার সরবরাহ করা হয়। কোন ওয়ার্ডে কতটি অক্সিজেন সিলিন্ডার ও সিলিন্ডার মিটার নেয়া হয়েছে তার তালিকা করা হয়েছে। ওই তালিকা অনুযায়ী বিভিন্ন ওয়ার্ড তল্লাশি করে অন্তত ১শ’ সিলিন্ডার ও ৩০টি সিলিন্ডার মিটারের হদিস পাওয়া যায়নি। নন কোভিড ওয়ার্ডেও সেগুলোর খোঁজ মেলেনি। বিষয়টি পরিচালককে অবহিত করা হলে তিনি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ৮টার অফিসে ১০টায়ও যান না চিকিৎসকরা : দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি দল সকাল সোয়া ৯টায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে গিয়ে বেশিরভাগ শিক্ষককে (চিকিৎসক) অনুপস্থিত পেয়েছেন। পরে ডা. মনিরুজ্জামান শাহিনের কাছে চিকিৎসকদের গত এক সপ্তাহের বায়োমেট্রিক হাজিরা রিপোর্ট দেখতে চাইলে অধ্যক্ষ দিতে অস্বীকার করেন। এ নিয়ে দুদক কর্মকর্তাদের সঙ্গে অধ্যক্ষের বাদানুবাদ হয়েছে।সকাল ৮টায় কর্মস্থলে হাজিরার কথা থাকলেও বরিশাল মেডিকেল কলেজের বেশিরভাগ শিক্ষক ১০টার পরে কর্মস্থলে যান। তাঁরা রাত ২-৩টা পর্যন্ত প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখেন। বিশেষ করে নিউরোলজি মেডিসিনের ডা. অমিতাভ সরকার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় দুদক কর্মকর্তারা মেডিকেল কলেজে অভিযান চালান। এ দিনও এই দুই চিকিৎসককে সকাল সাড়ে ৯টায় কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি।বরিশাল দুদকের সহকারী পরিচালক রাজ কুমার সাহার নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি দল সকাল ৯টার দিকে প্রথমে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যায়। দলের সদস্যরা বহির্বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে পরিচালকের কক্ষে গিয়ে বসেন। সেখান থেকে সকাল সোয়া ৯টায় যান অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামানের কার্যালয়ে। তখন তিনি কক্ষে ছিলেন না। দুদক দল আসার খবর পেয়ে তিনি তড়িঘড়ি করে কার্যালয়ে পৌঁছান। তাঁর কাছে গত এক সপ্তাহের বায়োমেট্রিক হাজিরা রিপোর্ট চাইলে দিতে অস্বীকার করে তিনি দুদক টিমের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়ান। একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, দুদক টিমের ছবি তুলে রাখার হুমকি দিচ্ছেন অধ্যক্ষ। তখন দুদকের এক কর্মকর্তা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয় দিলে অধ্যক্ষ পাল্টা বলেন, ‘আমি উড়ে এসেছি নাকি?’ এর কিছুক্ষণ পর চিকিৎসকরা একে একে অধ্যক্ষের কক্ষে আসা শুরু করেন। তাঁরা সকাল ১০টার দিকে হাজিরা দেন অধ্যক্ষের কক্ষে। সাড়ে ১০টার দিকে দুদক টিম মেডিকেল কলেজ ত্যাগ করে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন : মানববন্ধনে বক্তারা হাসপাতালের ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি, অকেজো যন্ত্রপাতি চালু, লিফট, এসি সচলসহ দালালের দৌরাত্ম্য রোধের দাবি জানান। তারা চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীদের সেবা না পাওয়ারও প্রতিবাদ করেন। আর এ জন্য হাসপাতালে হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশন গঠনের তাগিদ দেন। রেহানা বেগমের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান বক্তা বেসরকারি সংস্থা স্কোপ এর নির্বাহী পরিচালক কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, ‘শেবাচিম হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার কারণে সেবা থেকে রোগীদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। ডেঙ্গু রোগীদের এখানে চিকিৎসা হচ্ছে না। তাদের ঢাকায় রেফার করা দুঃখজনক। এমনটাই যদি করতে হয়, তাহলে বড় বড় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা কি করেন।’ তিনি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশন গঠনের তাগিদ দেন।
ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঈশ্বরগঞ্জ বিশ্বেশ্বরী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়-এর ছয়জন সাবেক শিক্ষার্থী ৪৮তম (বিশেষ) বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি স্ব-স্ব কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। তাদের এই সাফল্যে বিদ্যালয় পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। যারা যোগদান করেছেন ২০০৯ ব্যাচের আনোয়ার রহমান ইমন, ২০১২ ব্যাচের নির্জনা রাউত তন্বী, ২০১৩ ব্যাচের অনন্যা সরকার, ২০১৪ ব্যাচের আনিসুর রহমান রিয়াদ, নিশাত ফারহানা ও জয়িতা দাস—এই ছয় কৃতী শিক্ষার্থী এখন বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের গর্বিত সদস্য। আনিসুর রহমান রিয়াদ নেত্রকোনার মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে যোগ দিয়েছেন আনিসুর রহমান। তিনি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার পুম্বাইল গ্রামের ফজলুর রহমান ও রওশন আরা বেগম দম্পতির ছোট ছেলে। তিনি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। আনিসুর রহমান জানান, স্কুলজীবন শেষ করার আগেই তার বাবা আকস্মিকভাবে ইন্তেকাল করেন। বাবার স্বপ্ন পূরণে তিনি নিরলস পরিশ্রম করেছেন। আজ তিনি সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারলেও তার বাবা এই দিনটি দেখে যেতে পারেননি—এ কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। নিশাত ফারহানা কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে যোগদান করেছেন নিশাত ফারহানা। তিনি পৌর শহরের ধামদী গ্রামের বাসিন্দা, বড়ভাগ হাইস্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. গিয়াস উদ্দিন মাস্টার ও রায়হানা আক্তার দম্পতির কন্যা। তিনি গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। জয়িতা দাস ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেন্টাল সার্জন হিসেবে যোগদান করেছেন জয়িতা দাস। তিনি ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের দত্তপাড়া এলাকার সঞ্জিত কুমার দাস ও বীণা রানী দাসের মেয়ে। তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ-এর ডেন্টাল ইউনিট থেকে বিডিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। অনন্যা সরকার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অনন্যা সরকার। তিনি উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান অমরেশ সরকার ও মাকরঝাপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বন্দনা রানী পাল দম্পতির কন্যা। তিনিও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। নির্জনা রাউত তন্বী হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেন্টাল সার্জন হিসেবে যোগ দিয়েছেন নির্জনা রাউত তন্বী। তিনি ঈশ্বরগঞ্জ পৌর সদরের চরহোসেনপুর গ্রামের হোমিও চিকিৎসক তাপস চন্দ্র রাউত ও প্রতিমা রাণী রাউতের কন্যা। তিনি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ-এর ডেন্টাল বিভাগ থেকে বিডিএস সম্পন্ন করেন। মেয়ের এই সাফল্যে তার বাবা-মা অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত। আনোয়ার রহমান ইমন কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে যোগদান করেছেন আনোয়ার রহমান ইমন। তিনি ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার দত্তপাড়া থানা রোডের মজিবুর রহমান ও মমতাজ রহমানের সন্তান। তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। এর আগে তিনি মেডিকেল অফিসার (মা ও শিশু স্বাস্থ্য) হিসেবে পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডারে কর্মরত ছিলেন। বিদ্যালয়ের প্রতিক্রিয়া বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ কে এম মোস্তফা কামাল বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ের ছয়জন সাবেক শিক্ষার্থী একই বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দেওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এটি আমাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন।” এই সাফল্য শুধু বিদ্যালয়ের নয়, পুরো ঈশ্বরগঞ্জবাসীর জন্য গৌরবের বিষয়। ভবিষ্যতে আরও শিক্ষার্থী যেন এভাবে দেশসেবায় আত্মনিয়োগ করতে পারে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
শহরে অ্যালার্জি রোগের হার গত কয়েক দশকে বেড়েছে। শিশু ও বড়দের মধ্যে নাক বাফ, হাঁপানি, চুলকানি, চোখের লাল ভাব এবং খাদ্য অ্যালার্জি বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক শহরের জীবনধারা, পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন- এ তিনটিই এর মূল কারণ। দূষণ ও শহরের জীবনধারা শহরে গাড়ি, ট্রাফিক ও কারখানার ধোঁয়া, ধুলো ও পলিনের কারণে শ্বাসনালী জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা হয়। ঘরের ভেতরও ধুলো, পোকামাকড়, নরম খেলনা, ভারি পর্দা ও তেলের ল্যাম্প বা ঘ্রাণদ্রব্য শ্বাসনালীকে সংবেদনশীল করে তোলে। অনেক মানুষ এখন দীর্ঘ সময় ঘরে থাকেন, এয়ার কন্ডিশনার বা ফ্যানের নিচে বসে থাকেন। এতে ধুলো ও অ্যালার্জেন জমে যায় এবং সমস্যা বাড়ে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব উচ্চ তাপমাত্রা ও বায়ুর কার্বন ডাই অক্সাইডের বৃদ্ধি উদ্ভিদকে বেশি পলিন উৎপাদনে প্ররোচিত করছে। পলিনের মরশুম দীর্ঘ হচ্ছে, ফলে মানুষের নাক, চোখ ও ফুসফুসে অ্যালার্জি হওয়ার দিন বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে শহরে। কারণ শহরে বৃক্ষের সংখ্যা কম, সেখানে সমস্যা আরও তীব্র। খাবার, স্বাস্থ্য ও জীবনধারা আধুনিক খাবারে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, চিনির বেশি ব্যবহার এবং কম ফাইবার থাকার কারণে খাদ্য অ্যালার্জি বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিশুদের ক্ষেত্রে, কিছু খাবার দেরিতে খাওয়ানোর পদ্ধতিও অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। প্রতিরোধ ও সচেতনতা ডাক্তাররা বলছেন, অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। সেগুলো হলো- • পরিচিত অ্যালার্জেন যেমন ধুলো, পলিন, পশুর লোম বা নির্দিষ্ট খাবার এড়িয়ে চলা। • ধুলোমুক্ত রাখা, বিছানাপত্র নিয়মিত গরম পানি দিয়ে ধোয়া। • বেশি দূষিত বা পলিনের দিন মাস্ক ব্যবহার। • ঘরের ভেন্টিলেশন ঠিক রাখা এবং শীত-গরমের সময় উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া। • গুরুতর অ্যালার্জির ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। এ ব্যাপারে সরকারি উদ্যোগও জরুরি। শহরের বায়ু মান উন্নয়ন, বৃক্ষরোপণ, খোলা জায়গা বৃদ্ধি ও শিল্প দূষণ নিয়ন্ত্রণ করলে ভবিষ্যতে অ্যালার্জির ঘটনা কমানো সম্ভব। শহরের বাসিন্দাদের উচিত নিজের এবং পরিবারের স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় সাবধানতা নেওয়া। তথ্যসূত্র : ওয়ান ইন্ডিয়া।
ছোট পর্দার অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। অভিনয় দক্ষতা আর পর্দার উপস্থিতি দিয়ে অল্প সময়েই দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। নাটকের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ সক্রিয় এই অভিনেত্রী। নিয়মিতই নিজের নতুন ছবি ও মুহূর্ত ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একগুচ্ছ ছবি শেয়ার করেছেন কেয়া পায়েল। ছবিগুলোতে তাকে খোলামেলা এবং আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতিতে দেখা গেছে। অফ-হোয়াইট রঙের এক কাঁধ খোলা পোশাকে ক্যামেরার সামনে বিভিন্ন ভঙ্গিতে ধরা দিয়েছেন তিনি। শেয়ার করা ছবিগুলোতে কেয়া পায়েলকে বেশ খোশ মেজাজে দেখা যায়। কখনও ক্যামেরার দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে, আবার কখনও স্বাভাবিক হাসিতে নিজেকে তুলে ধরেছেন। হালকা মেকআপ, খোলা চুল আর সাদামাটা গয়নায় তার লুক আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। ছবিগুলো প্রকাশের পরই সামাজিক মাধ্যমে ভক্তদের নজর কাড়ে। অনেকেই অভিনেত্রীর সৌন্দর্য ও স্টাইলের প্রশংসা করেছেন। কেউ কেউ মন্তব্যে তার নতুন লুককে ‘গ্ল্যামারাস’ বলেও অভিহিত করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি ফ্যাশন ও স্টাইল সচেতনতার জন্যও পরিচিত কেয়া পায়েল। মাঝে মধ্যেই নতুন লুকে হাজির হয়ে ভক্তদের চমকে দেন তিনি। এবারের ছবিগুলোও তার ব্যতিক্রম নয়। খোলামেলা ভঙ্গি ও আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতিতে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন এই অভিনেত্রী।
চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি এখন ‘ডাস্টবিন’ ছাড়া কিছুই না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। সম্প্রতি একটি পোশাকের দোকানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন এই তারকা। সামাজিক মাধ্যমে দ্রুতই ভাইরাল হয়ে গেছে তার এমন বক্তব্যের ভিডিও। এতে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে পছন্দের পোশাকের রং থেকে শুরু করে নিজের ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত জীবন ও ব্যবসা নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন তিনি। এ সময় ঢালিউডের বর্তমান অবস্থা নিয়েও সরাসরি মন্তব্য করেন অপু বিশ্বাস। তিনি বলেন, ২০০৭-২০০৮ সালে যখন ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছিলাম, তখন একটি ফুল-ফ্লেজড চলচ্চিত্র দেখেই ভক্ত তৈরি হতো। কিন্তু ২০১৬ সাল থেকে ইন্ডাস্ট্রিতে নোংরামি শুরু হয়েছে। আর ইন্ডাস্ট্রি এখন ডাস্টবিন হয়ে গেছে। পৃথিবীতে হলিউড আছে, বলিউড আছে, পাশের দেশ টলিউড আছে। সব জায়গায় পক্ষ-বিপক্ষ আছে। কিন্তু আামাদের ইন্ডাস্ট্রিতে নোংরামি ছাড়া কিছু নেই। মোট কথা, ইন্ডাস্ট্রি এখন ডাস্টবিন ছাড়া কিছুই না। এদিন অনুষ্ঠানে লেহেঙ্গা পরে হাজির হন অপু বিশ্বাস। নিজের বিয়ের পোশাক নিয়ে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে অপু জানান, লেহেঙ্গা পরেছিলাম। রং ছিল হালকা, তবে ব্লাউজটি ছিল রঙিন। এদিকে, অপু বিশ্বাস নতুন দু’টি ছবির কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। সবশেষ ‘লাল শাড়ি’ ছবিতে দেখা গেছে তাকে।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল বর্তমানে সিনেমার পাশাপাশি নাটক ও ওটিটি কনটেন্টে নিয়মিত অভিনয় করে যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে অভিনেতা আরশ খান–এর সঙ্গে তার জুটি বেশ আলোচনায় রয়েছে। এ জুটির একাধিক নাটক ইতোমধ্যে দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছে। এই জনপ্রিয় জুটিকে এবার দেখা গেল নতুন একটি নাটকে। সম্প্রতি জি-সিরিজ–এর ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পেয়েছে ‘পরমা সুন্দরী’ নামের নাটকটি। নাটকটি নির্মাণ করেছেন মোহন আহমেদ এবং এর গল্প লিখেছেন ইশতিয়াক আহমেদ। নাটকটিতে প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুনেরাহ ও আরশ। পাশাপাশি বিভিন্ন চরিত্রে দেখা গেছে মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, ইমেল হক, আয়েশা সিদ্দিকা, এসএইচ মামুন, মুন্না খান, রেজাউল ইসলাম বিয়াজ ও জাবেদ গাজীসহ আরও কয়েকজন শিল্পীকে। চলচ্চিত্র থেকে অভিনয়ের শুরু অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল অভিনয়ে অভিষেক করেন সিনেমার মাধ্যমে। তার প্রথম চলচ্চিত্র ন ডরাই মুক্তির পরই ব্যাপক আলোচনায় আসে। এই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এরপর থেকে চলচ্চিত্রের পাশাপাশি নাটক ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও নিয়মিত কাজ করছেন তিনি। ‘পরমা সুন্দরী’ নিয়ে সুনেরাহর প্রত্যাশা নতুন নাটকটি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সুনেরাহ। তিনি বলেন, “এর আগেও আমি মোহন আহমেদের পরিচালনায় একটি নাটকে কাজ করেছি এবং সেটি থেকে ভালো সাড়া পেয়েছি। তাই বিশ্বাস ছিল নতুন নাটকটিও দর্শকের আগ্রহে থাকবে। গল্প ও উপস্থাপনায় একটি আলাদা ধরণ রয়েছে, যা সহজেই দর্শকের মনে দাগ কাটতে পারে।” বাস্তব জীবনের ছোঁয়া অভিনেতা আরশ খান জানান, নাটকটির গল্প সমকালীন জীবনধারাকে কেন্দ্র করে নির্মাণ করা হয়েছে। তার ভাষায়, “দর্শকের ভালো লাগা ও মন্দ লাগার বিষয় মাথায় রেখেই ‘পরমা সুন্দরী’ নির্মাণ করা হয়েছে। গল্পের চরিত্রগুলোর মধ্যে চেনা মানুষের ছায়া খুঁজে পাওয়া যাবে। তাই ঘটনাগুলোও দর্শকের কাছে অচেনা বা অবাস্তব মনে হবে না।” জুটিকে ঘিরে আলোচনা সাম্প্রতিক সময়ে আরশ খান ও সুনেরাহর জুটিকে ঘিরে প্রেমের গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে। তবে দুজনই বিষয়টিকে কৌশলে সামলে নিয়ে বারবার জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব ছাড়া অন্য কোনো সম্পর্ক নেই। আলোচিত নাটক এর আগে এই জুটির বেশ কয়েকটি নাটক দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ‘একজন অন্তর্বর্তীকালীন প্রেমিকা’, ‘কাপল’, ‘৭ দিনের প্রেম’, ‘প্রজাপতি মন’, ‘পাগল প্রেম’, ‘আঁতকা’, ‘সিম্প্যাথি’, ‘হৃদয়ে ফাগুন’, ‘আমি তুমি, তুমি আমি’, ‘শ্যাওলা ফুল’ ও ‘ফিরে আসা ভালোবাসা’। নতুন নাটক ‘পরমা সুন্দরী’ও সেই ধারাবাহিকতায় দর্শকের আগ্রহ কাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল -জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী এই অভিনেত্রী বড় পর্দার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিয়মিত সক্রিয়। সম্প্রতি এক আবেগঘন পোস্টে নিজের মানসিক অবস্থা, ব্যক্তিগত সংগ্রাম এবং আত্মবিশ্বাসের কথা ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে সুনেরাহ লিখেছেন, একদিন আয়নায় নিজের দিকে তাকিয়ে তিনি নিজের চোখে এমন কিছু দেখেছেন, যা তার ভালো লাগেনি। সেই অনুভূতিকে তিনি বিষণ্নতা, অসহায়ত্ব কিংবা শোক—যেকোনো কিছু বলেই ব্যাখ্যা করা যেতে পারে বলে উল্লেখ করেন। অভিনেত্রীর ভাষায়, “আজ যখন আমি আয়নায় নিজের দিকে তাকালাম, নিজের চোখে এমন কিছু একটা দেখলাম; যা আমার ভালো লাগেনি। এমন কিছু যা আমি নিজের মধ্যে দেখতে চাই না—তাকে বিষণ্নতা, অসহায়ত্ব কিংবা শোক যা-ই বলুন না কেন।” তিনি আরও বলেন, অনুভূতিটি ছিল অদ্ভুত এবং এর পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণও ছিল না। তবুও তার কাছে সবকিছু যেন ঠিকঠাক মনে হচ্ছিল না। নিজের জীবনের দীর্ঘ সংগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে সুনেরাহ জানান, প্রতিদিন তিনি নিজের ওপর কাজ করেছেন আরও ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য এবং প্রাণশক্তিতে ভরপুর একটি আনন্দময় জীবন গড়ে তুলতে। অভিনেত্রী বলেন, তিনি নিজেকে মানসিকভাবে অনেক শক্ত করে গড়ে তুলেছেন। জীবনের এমন কিছু কঠিন সময় ও সংগ্রামের পথ তিনি অতিক্রম করেছেন, যেগুলো নিয়ে তিনি সাধারণত প্রকাশ্যে কথা বলেন না। তার কথায়, “সেই পথটা ছিল একান্তই আমার। আমি একাই সবটুকু পথ পাড়ি দিয়েছি। আর আমি এই পরিশ্রম বৃথা যেতে দেবো না।” পোস্টের শেষাংশে নিজের প্রতি অঙ্গীকারের কথাও উল্লেখ করেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, জীবনে ইতিবাচকতা ধরে রাখাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য। “আমি ঠিক করেছি, আমি হাসবো এবং খুশি থাকবো। এই হাসিটাই আমার সঙ্গে মানায়। আমি সুখ এবং এক উন্নত জীবন পছন্দ করি। আমি কোনো কিছু বা অন্য কাউকে আমার থেকে এসব কেড়ে নিতে দেবো না। এটা আমার নিজের কাছে নিজের প্রতিশ্রুতি।” অভিনেত্রীর এই খোলামেলা অনুভূতির পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই তার সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং ইতিবাচক মানসিকতার প্রশংসা করেছেন।
বাংলাদেশের ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ও ভ্লগার ইকরা সম্প্রতি আত্মহত্যা করেছেন। ইকরা শুধু একজন তারকা হিসেবে পরিচিত ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন ভ্লগার ও উপস্থাপিকা হিসেবেও বেশ জনপ্রিয়। তার মৃত্যু শোবিজ অঙ্গনে একটি বড় আঘাত হয়ে এসেছে, বিশেষ করে তার একমাত্র ছেলেকে একাই রেখে চলে যাওয়া কারও কাছে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এদিকে, এই ঘটনার পর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী তমা মির্জা সামাজিক মাধ্যমে ইকরাকে উদ্দেশ্য করে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে তিনি বলেছেন, যখন একজন নারী তার ভালোবাসার মানুষকে পূর্ণ সমর্থন দেয়, তার পাশে থাকে এবং জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সাহায্য করে, তখন সেই মানুষটি যখন সফলতা পায়, তখন বেশিরভাগ সময় তাকে ঠকানো হয়, অবহেলা করা হয়, এবং মানসিক যন্ত্রণা দেওয়া হয়। তমা মির্জা তার চিঠিতে আরও বলেন, একজন নারী অনেক কিছু সহ্য করতে পারে, কিন্তু যখন তার ভালোবাসার মানুষের এই বদলে যাওয়া চেহারা সে দেখেন, তখন তার কাছে জীবন অর্থহীন হয়ে ওঠে। জীবন থেকে মুক্তি পেতে অনেক সময় এইসব পরিস্থিতি থেকে পালিয়ে যাওয়াই একমাত্র উপায় হয়ে দাঁড়ায়। ইকরার এই অসম্মানজনক পরিণতি, বিশেষত তার একমাত্র সন্তানের দিকে তাকালে, যেন একটি বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে পড়ছে। তমা মির্জা মনে করেন, ইকরার চলে যাওয়ার পর তার মানসিক যন্ত্রণা কিছুটা হলেও কমে গেছে, যদিও তার এই সিদ্ধান্তের ফলে কোনো উপলব্ধি বা পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা জানেন না তিনি। শোবিজ অঙ্গনে ইকরার মৃত্যু নিয়ে শোক এবং আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে, এবং অনেকেই এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করছেন। তমার মতামত শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে নয়, বরং একটি বড় সামাজিক ইস্যুরও প্রতিফলন। নারী-পুরুষের সম্পর্কের নানা দিক এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপের ওপর তমার খোলা চিঠি গভীরভাবে আলোচিত হচ্ছে। এছাড়া, আত্মহত্যার মতো জটিল বিষয়টি নিয়ে সকলের আরও সচেতন হওয়া জরুরি, বিশেষত মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সহায়তা এবং নারীদের জন্য একে অপরকে সহায়তা করার গুরুত্ব আরও বেশি বেড়ে যায় এই ধরনের পরিস্থিতিতে।
ঢাকা : ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার দাফন আজ (রোববার) সম্পন্ন হয়েছে। ইকরাকে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়নের রান্দিয়া গ্রামে তার নানা বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে বিকেল ৪টার দিকে তার মরদেহ ঢাকার মিরপুর থেকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। মরদেহ আসার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে এলাকার আকাশ-বাতাস। একের পর এক অমানবিক ঘটনা যেন চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। স্বজনদের দাবি, ইকরার মৃত্যু ছিল এক গভীর মানসিক যন্ত্রণার ফল। তার বাবা, যিনি এখন পাগলপ্রায়, তার মেয়ের মৃত্যুকে ‘পরিকল্পিত হত্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, অভিনেতা যাহের আলভী এবং তার মায়ের একাধিক মানসিক নির্যাতন ও ক্রমাগত প্ররোচনাই ইকরাকে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিয়েছে। তার ভাষায়, “এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।” আলভীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তার অবহেলা এবং অনৈতিক জীবনযাপন ইকরাকে অবর্ণনীয় মানসিক যন্ত্রণায় ফেলেছিল। ইকরার স্বজনরা অভিযোগ করেছেন যে, দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে তিনি সব সময় অবহেলিত ছিলেন এবং মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইকরার একটি ব্যক্তিগত চ্যাট স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে তার চরম মানসিক বিপর্যস্ত হওয়ার বিষয়টি ফুটে ওঠে এবং আলভীর বিরুদ্ধে এক সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগও তোলা হয়। গুরুতর অভিযোগের পর, বেশ কিছুদিন ধরে ইকরার পরিবার এবং এলাকাবাসী দাবি করছিল যে, এই ঘটনার তদন্ত সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত হওয়া উচিত এবং যারা এই মৃত্যুর জন্য দায়ী, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত। ইকরার মৃত্যু বাংলাদেশের সারা দেশে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ময়মনসিংহের ভালুকার গ্রামে এবং তার ভক্তদের মধ্যে এক গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকার বাসিন্দারা দাবি করছেন, যদি এই মৃত্যুর পেছনে কারো প্ররোচনা থাকে, তাহলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা উচিত। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে ইকরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় অভিনেতা যাহের আলভী ঈদুল ফিতরের নাটকের শুটিংয়ের জন্য নেপালে ছিলেন। এই হৃদয়বিদারক ঘটনা দেশের মিডিয়া অঙ্গনে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়াতে এই ঘটনায় আলভীর শাস্তি দাবি করছেন।
ইফতারে রুহ আফজার শরবত যেমন শরীর ঠান্ডা রাখে, তেমনি দূর করে দেয় রোজা ও গরমের ক্লান্তিও। ঘরেই কেমিক্যালবিহীন সিরাপ বানিয়ে নিতে পারেন শরবত তৈরির জন্য। জেনে নিন কীভাবে বানাবেন।তাজা গোলাপ ফুলের পাপড়ি আলাদা করে ধুয়ে নিন। ১ কাপ পানি ও গোলাপের পাপড়ি চুলায় বসান। ১ ফোঁটা লাল ফুড কালার দেবেন। মাঝারি আঁচে রেখে দিন প্যান। ফুটে উঠলে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন। কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নামিয়ে ছেঁকে নিন।এক বাটি ফলের টুকরা ব্লেন্ড করে ছেঁকে রস আলাদা করুন। আপেল, আঙুর, তরমুজ, আনারস, কলা বা যেকোনো ধরনের ফল ব্যবহার করতে পারেন এখানে। চুলায় প্যান বসিয়ে ফলের রস দিয়ে দিন। গোলাপ থেকে বের হওয়া পানি ও স্বাদ মতো চিনি দিয়ে নাড়তে থাকুন। মিশ্রণটি ঘন হয়ে গেলে নামিয়ে নিন। নামানোর আগে ২ চা চামচ গোলাপজল দিয়ে নেবেন। ঠান্ডা হলে মুখবন্ধ বয়ামে রেখে দিন নরমাল ফ্রিজে। এক মাস পর্যন্ত রেখে খেতে পারবেন এই রুহ আফজা।
রূহ আফজা: রমজানের জনপ্রিয় পানীয়ের এক শতাব্দীর ইতিহাস রমজান মাস এলেই মুসলিম সমাজে বদলে যায় প্রতিদিনের জীবনযাত্রা। সেহরি ও ইফতারকে ঘিরে শুরু হয় নানা প্রস্তুতি, বাজারে বাড়ে বিশেষ খাবার ও পানীয়ের চাহিদা। পেঁয়াজু, বেগুনি, ছোলা-মুড়ি কিংবা খেজুরের পাশাপাশি ইফতার টেবিলে আরেকটি পরিচিত নাম হলো লাল রঙের শরবত—রূহ আফজা। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে রমজানের সময় এই পানীয়ের জনপ্রিয়তা এতটাই বেশি যে অনেক পরিবারের মাসিক বাজারের তালিকায় এটি প্রায় অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে টিকে থাকা এই পানীয় শুধু একটি শরবত নয়; এটি উপমহাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্মৃতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিল্লির একটি ছোট ইউনানি ক্লিনিক থেকে শুরু হওয়া এই পানীয় আজ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। দিল্লির গলি থেকে শুরু ১৯০৬ সালের গরমের এক দিনে ব্রিটিশ শাসিত ভারতের রাজধানী দিল্লির পুরনো এলাকা লাল কুয়ান বাজারে একটি ক্লিনিকের সামনে অস্বাভাবিক ভিড় জমে। স্থানীয় মানুষজন বাতাসে ভেসে আসা গোলাপের সুবাসে আকৃষ্ট হয়ে জানতে পারেন, একজন ইউনানি চিকিৎসক একটি বিশেষ পানীয় তৈরি করেছেন। লাল রঙের সেই পানীয়ের স্বাদ নিতে ভিড় বাড়তেই থাকে। দিনের শেষে তৈরি প্রথম ব্যাচ শেষ হয়ে যায়। এই ঘটনাকেই অনেকে রূহ আফজার জন্মমুহূর্ত বলে মনে করেন। এই পানীয়ের উদ্ভাবক ছিলেন ইউনানি চিকিৎসক হাকিম হাফিজ আবদুল মজিদ। পুরনো দিল্লিতে তার ক্লিনিকের নাম ছিল হামদর্দ দাওয়াখানা। ‘হামদর্দ’ শব্দটির অর্থ—দুঃখ কষ্টের সময়ের সঙ্গী। ১৯০৭ সালের দিকে এই ক্লিনিক থেকেই বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয় এই অ্যালকোহলমুক্ত ভেষজ পানীয়ের। কেন তৈরি হয়েছিল রূহ আফজা শুরুর দিকে এটি তৈরি করা হয়েছিল মূলত চিকিৎসা উদ্দেশ্যে। দিল্লির প্রচণ্ড গরমে অনেক মানুষ ক্লান্তি, পানিশূন্যতা ও হিটস্ট্রোকের মতো সমস্যায় ভুগতেন। রোগীদের সতেজতা ফিরিয়ে দিতে গোলাপ, ভেষজ উপাদান ও ফলের নির্যাস দিয়ে এই পানীয় তৈরি করেন হাকিম মজিদ। গোলাপের সুবাস এবং সতেজ স্বাদের কারণে দ্রুতই এটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এরপর তিনি এই পানীয়ের নাম দেন রূহ আফজা। উর্দু ভাষায় “রূহ” অর্থ আত্মা বা প্রাণ এবং “আফজা” অর্থ সতেজ করে এমন কিছু। অর্থাৎ নামের অর্থ দাঁড়ায়—“যা আত্মাকে সতেজ করে।” নামের পেছনের গল্প ইতিহাস বিষয়ক ম্যাগাজিন হেরিটেজ টাইমস-এর তথ্য অনুযায়ী, এই নামের অনুপ্রেরণা আসে একটি উর্দু কাব্যগ্রন্থ থেকে। উর্দু কবি পণ্ডিত দয়া শঙ্কর নাসিমের বিখ্যাত কাব্য “মসনবি গুলজার-ই-নাসিম”-এ রূহ আফজা নামে এক রাজকন্যার চরিত্র ছিল। সেখান থেকেই এই নাম গ্রহণ করেন হাকিম মজিদ। হাতে তৈরি বোতল থেকে শিল্প উৎপাদন প্রথমদিকে রূহ আফজা হাতে তৈরি করা হতো। ১৯২০ সালের মধ্যে কাঁচের বোতলে হাতে করে শরবত ভরা হতো এবং লেবেলও লাগানো হতো হাতে। দিল্লির শিল্পী মির্জা নূর আহমদ তৈরি করেছিলেন ঐতিহ্যবাহী লেবেল ডিজাইন, যা এখনো প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। চাহিদা বাড়তে থাকলে দিল্লির বাইরে গাজিয়াবাদে একটি কারখানায় এর বড় আকারে উৎপাদন শুরু হয়। প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যু ও নতুন অধ্যায় ১৯২২ সালে হাকিম হাফিজ আবদুল মজিদের মৃত্যু হয়। তখন তার বড় ছেলে আবদুল হামিদ মাত্র ১৪ বছর বয়সে পারিবারিক ব্যবসার দায়িত্ব নেন। তার নেতৃত্বে হামদর্দ ধীরে ধীরে বড় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় এবং রূহ আফজার উৎপাদন ও বাজার বিস্তৃত হতে থাকে। ভারত ভাগ ও তিন দেশের ব্র্যান্ড ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হওয়ার পর হামদর্দও বিভক্ত হয়ে যায়। বড় ছেলে আবদুল হামিদ ভারতে থেকে যান ছোট ছেলে হাকিম মোহাম্মদ সৈয়দ পাকিস্তানে চলে যান এর ফলে প্রতিষ্ঠিত হয় দুইটি প্রতিষ্ঠান: হামদর্দ ইন্ডিয়া হামদর্দ পাকিস্তান দুই দেশেই রূহ আফজার উৎপাদন অব্যাহত থাকে। বাংলাদেশে রূহ আফজার যাত্রা ১৯৫০-এর দশকে হামদর্দ পাকিস্তান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) তাদের কার্যক্রম শুরু করে। চট্টগ্রাম ও ঢাকায় বিক্রয় কেন্দ্র খোলা হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রতিষ্ঠানটি হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ (ওয়াকফ) বাংলাদেশ নামে কার্যক্রম চালিয়ে যায়। পরে ইউসূফ হারুন ভুঁইয়া নামের এক উদ্যোক্তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে রূহ আফজার উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণ শুরু হয়। রমজানের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রূহ আফজা শুধু পানীয় নয়, রমজানের সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠে। অনেক পরিবারে ইফতার মানেই রূহ আফজার শরবত। বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একসময় একটি জনপ্রিয় মন্তব্য ছিল— “ছোটবেলায় মনে করতাম রূহ আফজা শরবত খেলে সওয়াব হয়।” এটি অনেকটাই মজার মন্তব্য হলেও এটি দেখায় যে পানীয়টির সঙ্গে মানুষের আবেগ কতটা গভীর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাকিস্তানি লেখক আজির হাসান রিজভী সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, রমজানে এশীয় মুসলমানদের কাছে রূহ আফজার গুরুত্ব ঠিক যেমনটা কার্টুন চরিত্র পোপাই-এর কাছে পালং শাকের। অন্যদিকে মারিয়া সারতাজ নামের এক ব্যবহারকারী বলেন, রমজান ও রূহ আফজা একে অপরের পরিপূরক। দুধ না পানি—চলমান বিতর্ক রূহ আফজা কীভাবে খাওয়া উচিত তা নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। অনেকে বলেন এটি দুধের সঙ্গে খেলে স্বাদ সবচেয়ে ভালো। অন্যরা বলেন ঠান্ডা পানির সঙ্গে মিশিয়েই আসল স্বাদ পাওয়া যায়। কেউ কেউ আবার ফল, বেসিল সিড বা আইসক্রিম মিশিয়ে নিজস্ব রেসিপি তৈরি করেন। স্বাস্থ্য নিয়ে সমালোচনা তবে সবাই যে এই পানীয়ের ভক্ত তা নয়। সমালোচকদের মতে এতে চিনির মাত্রা বেশি। এছাড়া রঙ ও প্রিজারভেটিভ ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অনেকে মনে করেন, ঘরে তৈরি শরবত বা ফলের জুস বেশি স্বাস্থ্যকর। যুদ্ধ ও সংকটের সাক্ষী একটি পানীয় যে এত ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হতে পারে, সেটি অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। ভারত ভাগ, পাকিস্তান সৃষ্টি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা—সবকিছুর মধ্য দিয়েই টিকে আছে এই ব্র্যান্ড। সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধের সময় আফগান শরণার্থীদের ত্রাণ হিসেবে রূহ আফজা পাঠানো হয়েছিল। পরে দেখা যায়, অনেক শরণার্থী এটি পানি বা দুধ ছাড়াই সরাসরি পান করতেন। ২০১৯ সালের সংকট ২০১৯ সালে ভারতে হঠাৎ করেই বাজারে রূহ আফজা সংকট দেখা দেয়। কোম্পানি জানায়, কিছু ভেষজ উপাদান সহজলভ্য না হওয়ায় উৎপাদন কমে গিয়েছিল। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। অনেক ভারতীয় ব্যবহারকারী হতাশা প্রকাশ করেন। পাকিস্তানি ব্যবহারকারীরা মজা করে ভারতকে রূহ আফজা পাঠানোর প্রস্তাবও দেন। আদালত পর্যন্ত গড়ানো বিতর্ক ২০২২ সালে দিল্লি হাই কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয়। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজনকে পাকিস্তানে তৈরি রূহ আফজা ভারতের বাজারে বিক্রি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ভারতীয় প্রস্তুতকারকেরা অভিযোগ করেছিলেন, পাকিস্তানি সংস্করণ অবৈধভাবে বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশে জরিমানা বিতর্ক বাংলাদেশেও একবার আইনি জটিলতায় পড়েছিল এই ব্র্যান্ড। ২০১৮ সালে ঢাকার একটি বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত অননুমোদিত উপাদান ব্যবহারের অভিযোগে হামদর্দকে চার লাখ টাকা জরিমানা করে। পরে আপিলের মাধ্যমে সেই রায় বাতিল হয়ে যায়। শতাব্দীর পানীয় আজ রূহ আফজা শুধু উপমহাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার এশীয় দোকানেও এটি পাওয়া যায়। অনেক প্রবাসী মুসলিমের জন্য এটি রমজানের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি পানীয়। স্বাদ, স্বাস্থ্য বা বিতর্ক—সবকিছুর বাইরে রূহ আফজা এখন এক শতাব্দীর ইতিহাসের অংশ। একটি লাল শরবত, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রমজানের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
অ্যাসিডিটি (গ্যাস্ট্রিক/অম্লতা) সাধারণত পেটে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি হলে বা খাবার ঠিকমতো হজম না হলে হয়। নিচে সহজ ও কার্যকর উপায়গুলো দিলাম: 🥛 ঘরোয়া উপায় ১) ঠান্ডা দুধ এক গ্লাস ঠান্ডা দুধ অ্যাসিডকে নিরপেক্ষ করতে সাহায্য করে ও বুকজ্বালা কমায়। ➡️ চিনি না মিশিয়ে খাওয়াই ভালো। ২) কলা পাকা কলা প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিডের মতো কাজ করে। ➡️ খালি পেটে বা হালকা নাস্তা হিসেবে খেতে পারেন। ৩) জিরা পানি এক চা চামচ জিরা ভেজে পানিতে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে পান করুন। ➡️ হজমে সাহায্য করে, গ্যাস কমায়। ৪) আদা আদা চা বা কাঁচা আদা অল্প পরিমাণে চিবিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়। 🍽️ যেসব খাবার এড়াবেন অতিরিক্ত ঝাল ও ভাজাপোড়া টক খাবার (লেবু, আচার বেশি পরিমাণে) কোমল পানীয় অতিরিক্ত চা/কফি খুব দেরি করে রাতের খাবার ✅ জীবনযাত্রায় পরিবর্তন অল্প অল্প করে বারবার খাবার খান খাওয়ার পর সাথে সাথে শোবেন না (কমপক্ষে ২ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন) ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন টাইট পোশাক এড়িয়ে চলুন 💊 কখন ডাক্তার দেখাবেন? প্রায়ই বুকজ্বালা/বমি ভাব হয় খাবার গিলতে কষ্ট হয় রক্তবমি বা কালো পায়খানা ওজন অকারণে কমে যায় এগুলো থাকলে গ্যাস্ট্রো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
ইফতারে ঠান্ডা কোনো পানীয় না থাকলে যেন জমেই না। অনেকেই বাইরে থেকে কেনা ইনস্ট্যান্ট শরবত বানিয়ে পান করেন। এতে তাৎক্ষণিক স্বস্তি ও স্বাদ মিললেও নিয়মিত খেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তার বদলে ঘরে থাকা উপকরণ দিয়েই সহজে পুষ্টিকর স্মুদি তৈরি করা যায়। এতে যেমন তৃপ্তি মিলবে, তেমনি শরীরও থাকবে সুস্থ। চলুন জেনে নেওয়া যাক ইফতারের জন্য খেজুরের স্মুদি বানানোর সহজ রেসিপি- যা যা লাগবে খেজুর ১০-১২টি দুধ ২ কাপ পাকা কলা ২টি দই ২ টেবিল চামচ দারুচিনি গুঁড়া ২ চা চামচ মধু ২ চা চামচ বরফ প্রয়োজনমতো প্রস্তুত প্রণালি প্রথমে খেজুর ভালো করে ধুয়ে গরম পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে নরম করে নিন। এরপর পানি ঝরিয়ে খেজুরের সঙ্গে টুকরো করা কলা মেশান। সব উপকরণ ব্লেন্ডারে দিয়ে মসৃণ হওয়া পর্যন্ত ব্লেন্ড করুন, যাতে কোনো দানা না থাকে। তৈরি হয়ে গেলে গ্লাসে ঢেলে ওপর থেকে বরফ দিন। ইফতারের ঠিক আগে বানিয়ে পরিবেশন করলে স্বাদ বেশি ভালো থাকবে। দীর্ঘক্ষণ রেখে দিলে স্বাদের পরিবর্তন হতে পারে।
রমজানে ইফতার শুধু রোজা ভাঙার সময় নয়, বরং সারাদিনের দীর্ঘ উপবাসের পর শরীরকে পুনরায় শক্তি ও পুষ্টি জোগানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। সঠিকভাবে ইফতার মেনু নির্বাচন করলে ক্লান্তি কমে, হজম সহজ হয় এবং সারাদিনের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই ইফতারে প্রয়োজন সচেতন খাদ্যাভ্যাস। 🥤 তরল খাবার দিয়ে ইফতার শুরু ইফতার শুরু করা উচিত হালকা তরল খাবার দিয়ে। প্রথমে পানি মুখে নিয়ে ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড বিরতিতে ধীরে ধীরে পান করা ভালো। খুব তাড়াহুড়া করে বা গড়গড় করে পানি পান করা ঠিক নয়। তরল হিসেবে যা রাখা যেতে পারে— লাচ্ছি তাজা ফলের রস ডাবের পানি তোকমার শরবত আখের গুড়ের শরবত লেবু পানি শরবত তৈরিতে তাল মিছরি, গুড়, মধু বা ব্রাউন সুগার ব্যবহার করলে তা তুলনামূলক স্বাস্থ্যসম্মত হয়। 🌴 খেজুর: সুন্নতি ও পুষ্টিকর খাদ্য ইফতারে ২-৩টি খেজুর খাওয়া সারাদিনের ক্লান্তি দ্রুত দূর করতে সাহায্য করে। খেজুরে রয়েছে প্রাকৃতিক চিনি, ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট ও অল্প পরিমাণ প্রোটিন—যা শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগায়। পুষ্টিগুণ বাড়াতে খেজুরের সঙ্গে চিনাবাদাম ও সামান্য মাখন মিশিয়ে পরিবেশন করা যেতে পারে। 🍎 মৌসুমি ফল: প্রাকৃতিক ভিটামিনের উৎস যেকোনো মৌসুমি ফল ইফতার মেনুতে রাখা জরুরি। ফল শরীরে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে। মিক্সড ফ্রুটস, ফলের সালাদ বা ফল দিয়ে তৈরি হালকা ডেজার্ট খাওয়া যেতে পারে। 🥗 সবজি: হালকা ও সহজপাচ্য বিকল্প সবজি দিয়ে স্বাস্থ্যকর রেসিপি তৈরি করলে তা শরীরের জন্য উপকারী হয়। যেমন— সবজি স্যুপ (বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য উপযোগী) সবজি স্যান্ডউইচ সবজি নুডলস সবজি রোল সবজি পাকোরা (কম তেলে) খেয়াল রাখতে হবে, রান্নায় যেন অতিরিক্ত তেল ব্যবহার না হয়। 🧆 ছোলা: প্রোটিনের সহজ উৎস ছোলা প্রোটিনের ভালো উৎস। তবে অতিরিক্ত তেল ও মসলায় ভুনা ছোলা উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে। স্বাস্থ্যকরভাবে ছোলা খাওয়ার উপায়— সারারাত ভিজিয়ে রেখে সিদ্ধ করা সিদ্ধ ছোলার সঙ্গে পেঁয়াজ, মরিচ, শশা ও টমেটো মিশিয়ে সালাদ তৈরি সামান্য তেলে হালকা ভাজা কাঁচা ভেজানো ছোলাও খাদ্য আঁশ ও প্রোটিনের ভালো উৎস। 🍮 মিষ্টান্ন: পরিমিত থাকাই উত্তম ইফতারে স্বাস্থ্যকর মিষ্টান্ন পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে। জিলাপি বা বুন্দিয়া তেলে ভেজে সিরায় ডুবানো হয়, যা বেশি খেলে ক্ষতিকর। বিকল্প হিসেবে রাখা যেতে পারে— ফালুদা কাস্টার্ড পুডিং ফিরনি দুধজাত খাবার শরীরে ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন সরবরাহ করে। 🍽️ অন্যান্য উপকারী খাবার ইফতারের জন্য চিড়া-দই খুবই ভালো একটি খাবার। এতে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। এ ছাড়া রাখা যেতে পারে— দই বড়া নুডলস স্যান্ডউইচ রুটি-কাবাব মম শশা রমজানে ইফতার শুধু খাবার গ্রহণের সময় নয়, বরং সুস্থ থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও মিষ্টিজাত খাবার পরিহার করে পরিমিত ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ করলে শারীরিকভাবে ভালো থাকা সম্ভব। সচেতন খাদ্যাভ্যাসই হতে পারে সুস্থ ও কর্মক্ষম রমজানের মূল চাবিকাঠি।
ডেস্ক রিপোর্ট: শুরু হয়েছে সংযমের মাস পবিত্র রমজান। আত্মিক পরিশুদ্ধির পাশাপাশি এই মাস হতে পারে শরীরকে সুস্থ ও ফিট রাখারও সেরা সময়। তবে ইফতারের টেবিলে বাহারি ভাজাপোড়া, মিষ্টিজাতীয় খাবার ও উচ্চ ক্যালরিযুক্ত পদ অনেক সময় ওজন বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সারাদিন উপোস থাকার পর হঠাৎ অতিরিক্ত খাবার খেলে ওজন বেড়ে যাওয়া, অস্বস্তি ও হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিন্তু সঠিক খাবার নির্বাচন, পরিমিত আহার ও নিয়মিত হালকা ব্যায়াম—এই তিনটি বিষয় মেনে চললে রোজার মাসেও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক, রমজানে কোন খাবারগুলো আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হবে— শাকসবজি: কম ক্যালরি, বেশি পুষ্টি শাকসবজি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে অন্যতম প্রধান সহায়ক। এতে ক্যালরি কম, কিন্তু আঁশ বেশি। আঁশ দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়। যেভাবে খাবেন: ইফতারে শসা, টমেটো, গাজর, লেটুস দিয়ে সালাদ সেহরিতে কম তেলে রান্না করা সবজি ডাল বা স্যুপে মিশ্র সবজি কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সহায়ক ফলমূল: প্রাকৃতিক মিষ্টির স্বাস্থ্যকর বিকল্প ইফতারে মিষ্টিজাতীয় খাবারের বদলে ফল হতে পারে আদর্শ পছন্দ। ফলে থাকে প্রাকৃতিক চিনি, ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। ইফতারে রাখতে পারেন: তরমুজ আপেল পেয়ারা কমলা পেঁপে খেজুর খেজুরে প্রাকৃতিক গ্লুকোজ দ্রুত শক্তি জোগায়। তবে অতিরিক্ত না খাওয়াই ভালো। প্রোটিন: দীর্ঘক্ষণ তৃপ্তির উৎস রোজার সময় শক্তি ধরে রাখতে প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি পেশি গঠনে সহায়ক এবং দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে। খাদ্যতালিকায় রাখুন: গ্রিল বা সেদ্ধ মুরগি মাছ ডিম ডাল ছোলা ভাজা খাবারের বদলে গ্রিল বা সেদ্ধ প্রোটিন গ্রহণ করলে অপ্রয়োজনীয় চর্বি জমা কমে। পূর্ণ শস্য: স্থিতিশীল শক্তির জোগান সাদা ভাত বা পরিশোধিত ময়দার রুটি দ্রুত হজম হয়ে যায়। এর বদলে পূর্ণ শস্য গ্রহণ করলে শক্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়। উপকারী শস্য: ব্রাউন রাইস আটার রুটি ওটস লাল চাল এসব খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। বাদাম ও বীজ: অল্পতেই তৃপ্তি এক মুঠো বাদাম শক্তি জোগায় এবং অতিরিক্ত স্ন্যাকিং কমায়। তবে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ জরুরি। খেতে পারেন: কাঠবাদাম আখরোট কাজুবাদাম চিয়া বীজ তিসি বীজ পর্যাপ্ত পানি: মেটাবলিজম সচল রাখুন রোজায় ডিহাইড্রেশন হলে শরীর অনেক সময় ক্ষুধা ও পানিশূন্যতার সংকেত গুলিয়ে ফেলে। পরামর্শ: ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত ৮–১০ গ্লাস পানি একবারে বেশি না খেয়ে বিরতি দিয়ে পান অতিরিক্ত চিনিযুক্ত শরবত এড়িয়ে চলুন পানি বিপাকক্রিয়া সচল রাখে এবং হজমে সহায়তা করে। যেসব অভ্যাস মানলে ওজন বাড়বে না ✔️ ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলুন ✔️ ধীরে ধীরে খাবার খান ✔️ সেহরি কখনো বাদ দেবেন না ✔️ ইফতারের পর ২০–৩০ মিনিট হালকা হাঁটা ✔️ পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন রমজান শুধু আত্মশুদ্ধির মাস নয়, এটি হতে পারে সুস্থ জীবনযাপনের নতুন সূচনা। খাবারের পরিমাণ নয়, গুণগত মানের দিকে নজর দিন। সুষম খাদ্যাভ্যাস, পরিমিত আহার ও নিয়মিত হালকা ব্যায়াম—এই তিন অভ্যাস মেনে চললে মাস শেষে নিজেকে আরও হালকা, ফিট ও প্রাণবন্ত অনুভব করবেন।
বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষা ও গণমাধ্যম গবেষণার অন্যতম পথিকৃৎ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানকে তার নিজ গ্রাম নরসিংদীর শিবপুরে দাফন করা হয়েছে। সোমবার (১০ মার্চ) বেলা আড়াইটার দিকে শিবপুর উপজেলার মাছিমপুর ইউনিয়নের ধানুয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে, তার মা খালিকা আক্তারের কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। এর আগে সেখানে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রবিবার রাতে রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৫ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে তিনি স্ট্রোক করেছিলেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর বাসায় ফিরেছিলেন। কিন্তু রবিবার রাতে হঠাৎ আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুতে দেশের সাংবাদিকতা অঙ্গন, শিক্ষা মহল এবং নাগরিক সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নরসিংদীতে শেষ বিদায় সোমবার দুপুরে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ধানুয়া গ্রামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জানাজায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ এবং এলাকাবাসী অংশ নেন। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি ও নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নরসিংদী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মনজুর এলাহী, জেলা বিএনপির সহসভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান খান, শিবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হারিস রিকাবদার এবং সাধারণ সম্পাদক আবু ছালেক রিকাবদার। এছাড়াও নরসিংদী আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল হান্নান ভূঁইয়া, সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম শাহজাহানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানাজায় অংশ নেন। জানাজা শেষে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। “তিনি ছিলেন নেতার নেতা” জানাজায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন বলেন, “সাখাওয়াত আলী খান অত্যন্ত ভদ্র, বিনয়ী এবং গুণী একজন বুদ্ধিজীবী ছিলেন। তিনি ছিলেন নেতার নেতা—এ কথা অনেকেই হয়তো জানেন না। তার মেধা, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “শুধু ধানুয়া বা শিবপুর নয়, তিনি পুরো বাংলাদেশের কৃতী সন্তান। সাংবাদিকতা করেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন এবং কলামিস্ট হিসেবেও তার লেখনী ছিল অত্যন্ত ক্ষুরধার। অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি করেছেন তিনি।” অন্যদিকে সংসদ সদস্য মনজুর এলাহী বলেন, “আমরা দোয়া করি, আল্লাহপাক দুনিয়াতে সাখাওয়াত আলী খান স্যারকে যে সম্মান দিয়েছেন, আখিরাতেও তাকে সেই সম্মান দান করুন। তার জীবনের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিয়ে তার ভালো কাজগুলো কবুল করুন।” মুক্তিযুদ্ধের সময় আশ্রয়স্থল বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান খান বলেন, “আমরা একজন অভিভাবক হারালাম। সক্রিয় রাজনীতি না করলেও তিনি ছিলেন বিচক্ষণ বামপন্থী রাজনৈতিক বিশ্লেষক। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার এই বাড়ি আমাদের আশ্রয়স্থল ছিল।” তার এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তিনি পরোক্ষভাবে স্বাধীনতার সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছিলেন। পরিবারের শোক জানাজায় বক্তব্য দিতে গিয়ে মরহুমের ছেলে নওশাদ আলী খান বলেন, “বাবা আমাদের ছায়া ছিলেন। যদি কারও মনে তিনি কষ্ট দিয়ে থাকেন, ক্ষমা করে দেবেন। তার জন্য দোয়া করবেন। আর যদি কারও কোনো পাওনা থেকে থাকে, আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।” তার পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী সমাজকর্মী মালেকা খান, মেয়ে সুমনা শারমীন এবং ছেলে নওশাদ আলী খান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম জানাজা এর আগে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং সহকর্মীরা অংশ নেন। জানাজা শেষে তার মরদেহ নিজ জেলা নরসিংদীতে নিয়ে যাওয়া হয়। সাংবাদিকতা থেকে শিক্ষকতা সাখাওয়াত আলী খান ১৯৪১ সালে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ধানুয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পেশাগত জীবন শুরু করেন সাংবাদিকতা দিয়ে। প্রায় এক দশক দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন। সেই অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে তাকে সাংবাদিকতা শিক্ষায় বিশেষ অবদান রাখার সুযোগ করে দেয়। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং দীর্ঘ সময় সেখানে শিক্ষকতা করেন। ২০০৮ সালে তিনি অবসরে গেলেও পরবর্তী পাঁচ বছর “সুপারনিউমারারি” অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ওই বিভাগের অনারারি প্রফেসর হিসেবে যুক্ত ছিলেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও নাগরিক সংগঠনে ভূমিকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও তিনি দেশের কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের খণ্ডকালীন উপদেষ্টা ছিলেন। এছাড়া ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই নয়, নাগরিক সমাজেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। তিনি কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট নামের একটি সামাজিক সংগঠনের চেয়ারম্যান হিসেবেও কাজ করেছেন। সাংবাদিকতা শিক্ষায় অবদান বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার বিকাশে সাখাওয়াত আলী খানের অবদান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তার সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করার সময় তিনি সংবাদ বিশ্লেষণ, গণমাধ্যম নীতি এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ বিষয়ে গবেষণা ও পাঠদান করেছেন। তার শিক্ষার্থীদের অনেকেই বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে পরিচিতি যদিও তিনি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে তার পরিচিতি ছিল। বাংলাদেশের রাজনীতি, গণতন্ত্র, গণমাধ্যম স্বাধীনতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ে তার বিশ্লেষণ ও মতামত বিভিন্ন সময় আলোচিত হয়েছে। তার সহকর্মীরা বলেন, তিনি বামঘেঁষা প্রগতিশীল চিন্তাধারার একজন বুদ্ধিজীবী ছিলেন, যিনি গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধের পক্ষে কথা বলতেন। একজন শিক্ষক, সাংবাদিক ও চিন্তাবিদ সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের মতে, সাখাওয়াত আলী খান ছিলেন একজন শিক্ষক, সাংবাদিক এবং চিন্তাবিদ—এই তিন পরিচয়ের সমন্বয়। তার শিক্ষকতা, লেখালেখি এবং সামাজিক কর্মকাণ্ড তাকে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা শিক্ষার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার মৃত্যুতে শুধু একজন শিক্ষাবিদ নয়, বরং সাংবাদিকতা শিক্ষা ও গণমাধ্যম চিন্তার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল বলে মনে করছেন অনেকেই।
ঢাকা, বাংলাদেশ: রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়েরকৃত মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহের'র সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন। আনিস আলমগীরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আসলাম মিয়া ও তামান্না ফেরদৌস, এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রেজাউল করিম মৃধা। জামিন প্রসঙ্গে আনিস আলমগীরের আইনজীবী মো. আসলাম মিয়া সাংবাদিকদের জানান, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার থাকায় আনিস আলমগীর এখনই কারামুক্ত হবেন না। তিনি বলেন, মামলায় আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংককে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও টকশোতে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ঢাকার ধানমণ্ডির একটি জিম থেকে আনিস আলমগীরকে তুলে নিয়ে মিন্টো রোডে ডিএমপি’র গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কার্যালয়ে নেয়া হয়। পরদিন জুলাই রেভ্যুলুশনারি অ্যালায়েন্সের কেন্দ্রীয় সংগঠক আরিয়ান আহমেদ উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। মামলায় আনিস আলমগীরের পাশাপাশি অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, মডেল মারিয়া এবং ইমতু রাতিশকেও আসামি করা হয়। আইনজীবী আসলাম মিয়ার মতে, হাইকোর্ট জামিন হওয়া সত্ত্বেও আনিস আলমগীরের গ্রেপ্তার স্থগিত হয়নি, কারণ তার বিরুদ্ধে অন্যান্য মামলা চলমান রয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ২০২৫ সালে কাজের সময় রেকর্ড ১২৯ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের প্রাণ গেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হাতে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন Committee to Protect Journalists (সিপিজে)-এর বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে সংবাদকর্মীদের প্রাণহানির রেকর্ড হয়েছে। ২০২৪ সালের মতো গত বছরও নিহত সাংবাদিকদের বড় একটি অংশের মৃত্যুর জন্য ইসরায়েল দায়ী। গাজা ও ইয়েমেনে ব্যাপক প্রাণহানি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে ৮৬ জন সাংবাদিক নিহত হন। তাদের অধিকাংশই ছিলেন Gaza Strip-এর ফিলিস্তিনি সাংবাদিক। এছাড়া ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী Houthis পরিচালিত একটি গণমাধ্যম কার্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় ৩১ জন গণমাধ্যমকর্মী নিহত হন। সিপিজে জানায়, সাংবাদিকদের হতাহতের সংখ্যা নথিভুক্ত করার ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা। সিপিজে যে ৪৭টি হত্যাকাণ্ডকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা বা ‘হত্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তার ৮১ শতাংশের জন্যও ইসরায়েল দায়ী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। গাজায় প্রবেশাধিকারে কঠোর বিধিনিষেধ থাকায় সাংবাদিকদের হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়নি। অতীতে তারা দাবি করেছে, গাজায় তাদের সেনারা কেবল যোদ্ধাদের লক্ষ্য করেছে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে কাজ করার ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই ঝুঁকি থাকে। গত সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের ওই গণমাধ্যম কার্যালয়ে হামলার দায় স্বীকার করে ইসরায়েল। সে সময় সেটিকে হুথিদের প্রচারণা শাখা হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। কিছু ঘটনায় ইসরায়েল দাবি করেছে, গাজায় নিহত কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে Hamas-এর যোগাযোগ ছিল। তবে এ দাবির পক্ষে যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সিপিজে ইসরায়েলের এমন অভিযোগকে ‘ভয়াবহ অপবাদ’ বলে উল্লেখ করেছে। উল্লেখ্য, গাজায় বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেয় না ইসরায়েল। ফলে সেখানে নিহত সব গণমাধ্যমকর্মীই ছিলেন ফিলিস্তিনি। অন্যান্য দেশে পরিস্থিতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত ১২৯ সাংবাদিকের মধ্যে অন্তত ১০৪ জন সংঘাত-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। গাজা ও ইয়েমেনের বাইরে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী দেশগুলোর একটি ছিল Sudan, যেখানে ৯ জন নিহত হন। এছাড়া Mexico-তে ৬ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। Ukraine-এ রুশ বাহিনীর হাতে চারজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে Philippines-এ তিন সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন। রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে সাংবাদিকদের নিশানা করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং উল্টো ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশ সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ তুলেছে। যদিও কিয়েভ এ অভিযোগ নাকচ করেছে। প্রতিবেদনের বিষয়ে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত রাশিয়ার দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তিন দশকের তথ্যসংগ্রহ সিপিজে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বজুড়ে সাংবাদিক হতাহতের তথ্য সংগ্রহ ও নথিভুক্ত করছে। সংস্থাটির মতে, বর্তমানে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী যেকোনও দেশের সামরিক বাহিনীর তুলনায় সর্বোচ্চসংখ্যক নিশানাভিত্তিক সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। বিশ্বব্যাপী সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে সাংবাদিকদের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে—এমন উদ্বেগও তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে।
ঢাকা, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি): রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান-এ মাদকবিরোধী অভিযানের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তত তিনজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন বাংলানিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার তোফায়েল আহমেদ, আকাশ (এনপিবি নিউজ) এবং কাওসার আহমেদ রিপন (আজকের পত্রিকা)। গুরুতর আহত তোফায়েল আহমেদ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। লাইভ সম্প্রচারের সময় হামলার অভিযোগ জানা যায়, সোমবার রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদক নির্মূলে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। অভিযানের দৃশ্য জনসমক্ষে তুলে ধরতে সাংবাদিকরা ফেসবুক লাইভে সরাসরি সম্প্রচার করছিলেন। এ সময় একদল পুলিশ সদস্য তাদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ‘আজকের পত্রিকা’র মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার কাওসার আহমেদ রিপন জানান, নিজেদের পরিচয় বারবার দেওয়ার পরও পুলিশ কোনো তোয়াক্কা না করে বেধড়ক লাঠিচার্জ শুরু করে। তোফায়েল আহমেদকে মারধর করা হলে তাকে উদ্ধার করতে গেলে অন্য সাংবাদিকদেরও পেটানো হয়। গুরুতর আহত তোফায়েল, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের আশঙ্কা সহকর্মীরা জানান, মাথা ও পিঠে আঘাতের ফলে তোফায়েলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে। রক্তক্ষরণ ও তীব্র ব্যথা শুরু হলে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে তার শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি রয়েছে। বাংলানিউজের নিন্দা ও বিচার দাবি বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম-এর ক্রাইম বিট প্রধান সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট আবাদুজ্জামান শিমুল বলেন, এর আগেও রমনা পার্ক এলাকায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান দায়িত্বশীলভাবে লাইভ সম্প্রচার করা হয়েছে। পুলিশের অপরাধ দমন কার্যক্রম ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে প্রতিষ্ঠানটি বরাবরই সচেষ্ট। তিনি অভিযোগ করেন, একই ধারাবাহিকতায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তোফায়েলের ওপর বেপরোয়া হামলা চালানো হয়, যার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান তিনি। ডিএমপির আশ্বাস এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)-এর রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, “ভিডিও ফুটেজ যেহেতু রয়েছে, তা পর্যালোচনা করে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” জনগুরুত্বপূর্ণ অভিযানের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার এই ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা—এখন সেটিই দেখার বিষয়।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান Press Institute of Bangladesh (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ-এর কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, পিআইবি থেকে অবসর গ্রহণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিষ্ঠানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের পাওনা সংক্রান্ত বিষয় ঝুলিয়ে রেখে মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। একাধিক সূত্র দাবি করেছে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং তারা অভিযোগ করছেন যে তাদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা নিষ্পত্তি না করে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা চলছে। এছাড়া অভিযোগ উঠেছে যে, প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩৪ জনকে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নীতিমালার বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে পিআইবির কর্মচারী ফরিদ আহমেদ-এর সঙ্গে অমানবিক আচরণের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, তার সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এই অনিয়ম দুর্নীতি অবৈধ নিয়ম বিষয়ে কথা বলায়,মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে পিআইবির সিনিয়র পরীক্ষক পারভীন সুলতানা রাব্বিকে যড়যন্ত্র ও কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করে বদলি করা হয়েছে এবং আলী হোসেনের সুনিশ্চিত কারণ ছাড়া অবসর দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করা হয়েছে বলেও জানা যায়। এভাবে অবসরপ্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তির সঙ্গেই তিনি অনুরূপ আচরণ করে থাকেন। এছাড়াও, তিনি প্রায় ৩৪ জন লোককে পিআইবিতে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন। ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী: বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের অনিয়মের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে মহাপরিচালক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে অনিয়ম ও লুটপাটের মহোৎসবে পরিণত করেছেন—এমন অভিযোগ বিভিন্ন মহলে উত্থাপিত হয়েছে। তাই দ্রুত তাকে অপসারনের দাবী জানিয়েছে সাংবাদিক সমাজ। তিনি ডিজি পদে টিকে থাকার লক্ষ্যে তিনি নানামুখী তৎপরতা ও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বলেও জানা যাচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি রাখে।তথ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে, বিষয়টির প্রতি যাতে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।
দৈনিক দিনকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশকের পদ ছেড়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে যোগ দিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন। সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বলা হয়েছে, সাংবাদিক, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’–এর আহ্বায়ক ও বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন দৈনিক দিনকালের সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে যোগদান করেছেন।
পটুয়াখালীতে ১১০ দিনেই পুরো পবিত্র কুরআন মুখস্থ করে সবার দৃষ্টি কেড়েছে ১২ বছর বয়সী শিশু দ্বীন ইসলাম। সে সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়নের মধ্য ধরান্দী এলাকার জামিয়া রহিমীয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী। অল্প সময়ে কুরআন হিফজের এই বিরল কৃতিত্বে আনন্দিত তার পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী এবং এলাকাবাসী। দ্বীন ইসলাম অত্যন্ত মেধাবী, মনোযোগী ও পরিশ্রমী একজন ছাত্র। মাত্র ১১০ দিনের মধ্যেই সে পুরো কুরআন হিফজ করতে সক্ষম হয়েছে। অন্য শিশুরা যখন খেলাধুলা করত, তখন সে কুরআন শরীফ নিয়ে পড়াশোনায় মন দিত। অনেক সময় সে একদিনে ১০ পৃষ্ঠা এমনকি এক পারা পর্যন্ত সবক দিয়েছে। দ্বীন ইসলাম পটুয়াখালী সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়নের মধ্য ধরান্দী এলাকার একটি সাধারণ পরিবারের সন্তান। তার বাবার নাম ইয়াকুব শিকদার। স্থানীয়রা জানান, সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও সন্তানকে সুশিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় সংকল্প ছিল ইয়াকুব শিকদারের। সেই স্বপ্নেরই উজ্জ্বল প্রতিফলন দেখা গেছে দ্বীন ইসলামের এই অর্জনে। অল্প বয়সেই তার এই সাফল্য এখন এলাকার অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
জেরুজালেম: ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে শুক্রবারের জুমা নামাজ বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে। ইরানি হামলার আশঙ্কা দেখিয়ে এই নিরাপত্তামূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দেশটি জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ‘আল মুনাসিক’ প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক বিবৃতিতে বেসামরিক প্রশাসনের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিশাম ইব্রাহিম জানান, ইরানের সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জেরুজালেমের ওল্ড সিটির সব পবিত্র স্থান শুক্রবার বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে আল-আকসা মসজিদ, ওয়েস্টার্ন ওয়াল (আল-বোরাক দেয়াল), টেম্পল মাউন্ট এবং চার্চ অব দ্য হোলি সেপালকার অন্তর্ভুক্ত। কোনো ধর্মাবলম্বী বা দর্শনার্থীকে এসব স্থানে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ইসরায়েলি শাসক সংস্থার প্রধান সাফ জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞা স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকানদার ছাড়া সকলের জন্য প্রযোজ্য। গত শনিবার ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইতিমধ্যেই ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ওল্ড সিটিতে প্রবেশ সীমিত করেছে। আল-আকসার সিনিয়র ইমাম শায়খ ইকরিমা সাবরি এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, "দখলদার কর্তৃপক্ষ যেকোনো অজুহাতে আল-আকসা বন্ধ করার চেষ্টা করছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।" যদিও ইসরায়েল বর্তমান যুদ্ধকে এই নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে দেখাচ্ছে, রমজান মাসের শুরু থেকেই তারা আল-আকসায় নামাজ আদায়ের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে আসছিল। এই সংঘাতের ফলে ইতিমধ্যেই দুই দেশে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে ১০ জন নিহত হয়েছেন, অন্যদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে অন্তত ১,২৩0 জন প্রাণ হারিয়েছেন।
বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ হল মসজিদ আল-হারাম। জীবনে একবার হলেও এ মসজিদ পরিদর্শন করা কোটি মুসলিমের লালিত স্বপ্ন। মহান আল্লাহর এ ঘর নিয়ে মুসলিমদের মনে রয়েছে নানান কৌতুহল। অন্যতম হল, এ ঘরে কতটি গেট রয়েছে ? মসজিদুল হারামের মোট গেট সংখ্যা হল ২৬২। অসংখ্য দরজাসমূহ থেকে মসজিদে হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজা। ফেরেশতাদের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা মসজিদ হারাম নির্মাণ করিয়েছেন। এরপর আদম, ইবরাহিম ও ইসমাইল (আ.) ঘরটি পুনঃনির্মাণ করেছেন। দীর্ঘ সময় মসজিদটির কোনো দরজা ছিল না। মক্কা বিজয়ের পর এ মসজিদে প্রথম দরজা তৈরি করা হয়। এ দরজার নাম হল ‘বাব বনি শায়বাহ’। এরপর ধীরে ধীরে নির্মিত হয়েছে বাকি দরজাগুলো, যা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। হারাম শরীফে প্রবেশের ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ দরজা বাংলাদেশ থেকে অসংখ্য হাজি উমরাহ হজ করতে হারাম শরীফে যান। মসজিদুল হারামে তাদের চলাচল সহজ করার জন্য নিচে মসজিদে হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজা সম্পর্কে বিস্তারিত লেখা হল। ১. বাব মালিক/কিং আব্দুল আজিজ গেট- (গেট নং ০১) বাব মালিক, যা কিং আব্দুল আজিজ গেট নামেও পরিচিত। মসজিদুল হারামের আধুনিক এবং প্রধান চারটি দরজার মধ্যে এটি একটি। সৌদি আরবের সাবেক বাদশাহ আব্দুল আজিজের নামে এ গেটের নামকরণ করা হয়। হারাম কমপ্লেক্সের ইয়েমেণি কর্ণার এবং আজিয়াদ স্ট্রিটের ঠিক বিপরীতে দরজাটি অবস্থিত। বাব মালিক গেট থেকে সরাসরি কাবা দেখা যায়। দরজাটি দিয়ে প্রতিবন্ধী ও হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীরা সরাসরি মাতাফে (কাবা তওয়াফ করার স্থান) প্রবেশ করতে পারেন। সৌদি আরবের সাবেক বাদশাহ আব্দুল্লাহ হারাম শরীফ সম্প্রসারণের সময় এ দরজা সংস্কার করেছিলেন। ২. বাব আজিয়াদ/আজিয়াদ গেট-(গেট নং ০৫) মসজিদ আল- হারামের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আজিয়াদের দুটি উপত্যকার নামে এ গেটের নামকরণ করা হয়েছে। এটি হারাম কমপ্লেক্সের ছোট দরজা হলেও মসজিদে হারামের ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ দরজার একটি। এ দরজা দিয়ে বৈদ্যুতিক সিঁড়ির সাহায্যে হারামের উপরের তলায় উঠা যায়। গেট ৭ ও ৮ আজিয়াদ গেটের পাশেই অবস্থিত। তাই আজিয়াদ গেট ব্যবহার করে মসজিদ হারামের উপরে উঠলেও সহজেই গেট ৭ ও ৮ দিয়ে নিচে চলে আসা যায়। ৩. বাব বিলাল/বিলাল গেট-(গেট নং ০৬) মসজিদে হারামের ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ দরজার একটি হল বাব বিলাল বা বিলাল গেট। এটি হারাম শরীফের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত। এটি সাহাবী ও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মুয়াযযিন বিলাল ইবন রাবাহ (রা.) এর নামে নামকরণ করা হয়েছে। হাবশা তথা বর্তমান আবিসিনিয়ার বাসিন্দা হওয়ায় বিলাল হাবশী নামেও পরিচিত এ সাহাবি। ৪. বাব হুনাইন/হুনাইন গেট-(গেট নং ০৯) বাব হুনাইন বা হুনাইন গেট মসজিদুল হারামের দক্ষিণে বাব বিলার ও ইসমাইলের মধ্যে অবস্থিত। তায়েফের নিকটবর্তী হুনাইন শহরের নামানুসারে গেটটির নামকরণ করা হয়েছে। বাব আজইয়াদের চলন্ত সিঁড়িগুলো গেটটির সামনে অবস্থিত হওয়ায়, বর্তমানে গেটটির কিছু অংশ দেখা যায়। গেটটি পুরোপুরি দেখা না গেলেও মসজিদে হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজার একটি এটি। ৫. বাব ইসমাইল/ইসমাইল গেট-(গেট নং ১০) মসজিদ হারামের দক্ষিণ দিকে বাব হুনাইন ও হামযাহ এর মধ্যে বাব ইসমাইল বা ইসমাইল গেট অবস্থিত। ইবরাহিম (আ.) এর পুত্র নবি ইসমাইল (আ.)-র সম্মানে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। আপেক্ষিকভাবে এ দরজাটি বায়তুল্লাহর অন্য দরজার চেয়ে ছোট হলেও মসজিদে হারামের ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ দরজার অন্যতম এটি। এ গেট দেখলে ইবরাহিম, ইসমাইল ও হাজেরা (আ.) মক্কায় আল্লাহর জন্য যে ত্যাগ করেছেন তা স্মরণ হয়ে যায়। ৬. বাব সাফা/আল সাফা গেট-(গেট নং ১১) বাব সাফা যা আল সাফা গেট নামেও পরিচিত। মসজিদুল হারামের ৫টি প্রধান ফটকের মধ্যে এটি একটি। ফটকটি হারাম শরীফের উত্তর দিকে অবস্থিত। এ গেট দিয়ে সায়ী করার স্থানে প্রবেশ করা যায় এবং উপরে যেতে চাইলে গেটটিতে থাকা সিঁড়ি ব্যবহার করে হারামের উপরে যাওয়া যায়। বয়স্ক ও অসুস্থ হাজিগণ সায়ী করার জন্য গাড়ির সহযোগিতা নিতে পারেন এখান থেকে। ৭. বাব হামযাহ-(গেট নং ১২) মসজিদুল হারাম কমপ্লেক্সের ঠিক মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত বাব হামযাহ। বাইতুল্লায় প্রবেশের অন্যতম পয়েন্ট হল এ দরজা। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর চাচা হামযাহ (রা.) এর নামে এর নামকরণ করা হয়েছে। গেটটি দেখলে উহুদ যুদ্ধে হামযাহ (রা.) এর ত্যাগ ও শাহাদাতের কথা স্মরণ হয়ে যায়। ৮. বাব কুবাইস-(গেট নং ১৩) মসজিদ আল-হারাম কমপ্লেক্সের ১৩ নং গেটটি বাব কুবাইস নামে পরিচিত। কুবাইস পাহাড়ের নামে দরজাটির নামকরণ করা হয়েছে। সাফা ও কুবাইস পাহাড়ে প্রবেশ করতে চাইলে এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। বলা হয় যে, কুবাইস পাহাড় আল্লাহ তায়ালার সৃষ্ট প্রথম পাহাড়। ৯. বাব নাবি/আল নাবি গেট-(গেট নং ১৪) এ দরজাটি মসজিদের পূর্ব দিকে সাফা পাহাড়ের নিকটবর্তী বাব কুবাইস ও আলীর মাঝে অবস্থিত। নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নামে এ গেটের নামকরণ করা হয়েছে। এ দরজা ব্যবহার করে হারাম কমপ্লেক্সের উপরে ওঠা যায়। ১০. বাব নাবী ব্রিজ/আল নাবী ব্রিজ গেট-(গেট নং ১৫) মসজিদে হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজার একটি হল বাব নাবী ব্রিজ/আল নাবী ব্রিজ গেট। এ ব্রিজটি উপরের তলাগুলোর সাথে সংযুক্ত। এটি দিয়ে মসজিদের উপরে উঠে মসজিদ পরিদর্শন করা বা ইবাদত করা যায়। ব্রিজটি দিয়ে সহজেই সাফা পাহাড়ে পৌঁছানো এবং সাফা এরিয়ায় চলাচল করা যায়। রসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নামে এর নামকরণ করা হয়েছে। ১১. বাব দারুল আরকাম-(গেট নং ১৬) এ গেটটি মাসআ’র (সায়ী করার স্থান) পূর্বদিকে এবং বাব আলির (রা.) ডানদিকে অবস্থিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাহাবা আরকাম বিন আবি আরকাম (রা.) এর বাসস্থান ছিল এটা। এজন্য তার নামানুসারেই এ গেটের নামকরণ করা হয়।এই গেট দিয়ে সরাসরি সায়ী করার স্থানে পৌঁছা যায়। এছাড়াও হারাম কমপ্লেক্সের উপরে যেতে চাইলে এই দরজা দিয়ে যাওয়া যায়। ১২. বাব আলী/ আলী গেট-(গেট নং-১৭) মসজিদে হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজার একটি হল বাব আলী বা আলী গেট। যে দশজন সাহাবা দুনিয়ায় জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছেন তাদের একজন হলেন আলী (রা.)। তাঁর নামেই এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। দরজাটি বাব নবি ও আব্বাসের মাঝে এবং সায়ী করার স্থানের পূর্বদিকে অবস্থতি। সায়ী করার সময় যে স্থানে ‘রমল’ করতে হয়, দরজাটি এ স্থানের সঙ্গে সংযুক্ত। ১৩. বাব আব্বাস-(গেট-২০) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর চাচা ও সাহাবা আব্বাস ইবন আব্দুল মুত্তালিবের নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। দরজাটি হারাম কমপ্লেক্সের পূর্বদিকে বাব আলী ও বনি শায়বার মাঝে অবস্থিত। এ দরজা দিয়ে হাজি সাহেবগণ সায়ী করার স্থানে প্রবেশ করে থাকেন। ১৪. বাব বনি হাশেম-(গেট নং ২১) বাব বনি হাশেম মসজিদ হারাম কমপ্লেক্সের নতুন ও অত্যাধুনিক গেটগুলোর একটি। এটি পবিত্র কা’বার নিকটেই অবস্থিত। এ দরজা দিয়ে সায়ী করার স্থানে খুব সহজেই প্রবেশ করা যায়। মক্কার সম্ভ্রান্ত গোত্র বনু হাশেমের নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। ১৫. বাব বনি শাইবা/শাইবা গেট-(গেট নং-২২) বাব বনি শাইবা, যেটি বনু শায়বাহ নামেও উচ্চারণ করা হয়। এর অর্থ হল শায়বার পুত্রদের দরজা। সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে এবং মারওয়া পাহাড়ের কাছে গেটটি অবস্থিত। মক্কার চাবি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ইসলাম আবির্ভাবের পূর্ব থেকেই বনু শায়বাহ গোত্রের কাছে ছিল এবং এখনও তাদের কাছেই আছে। গোত্রটিকে সম্মানিত করতেই তাদের নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। ১৬. বাব আল মারওয়া/মারওয়া গেট-(গেট নং ২৩) মক্কার প্রসিদ্ধ মারওয়া পাহাড়ের নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। মসজিদ আল-হারাম কমপ্লেক্সের বড় দরজাগুলোর একটি হল বাব আল মারওয়া বা মারওয়া গেট। এ গেটে বৈদ্যুতিক সিঁড়ি রয়েছে, যা দিয়ে সহজেই হারাম শরীফের উপরে ওঠা যায়। যেসব হাজিগণ দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় সায়ী করেন, খুব সহজেই তারা এ গেট ব্যবহার করে নিচে চলে আসতে পারেন। মসজিদুল হারামে প্রবেশের প্রধান দরজাগুলোর মধ্যে বাব আল মারওয়া দরজা অন্যতম। ১৭. বাব আল-মুদা’আ/আল মু’দা’আ গেট-(গেট নং ২৫) উসমানীয় যুগে মসজিদ আল-হারামের উত্তরদিকে বাব সালামের পাশে গড়ে উঠেছিল মুদা’আ বাজার। এ বাজারের নামেই বাব আল-মুদা’আ/আল মুদা’আ গেটের নামকরণ করা হয়েছে। নিচতলায় সায়ী সম্পন্ন করে দরজাটি দিয়ে বাহিরে বেরিয়ে আসা যায়। ১৮. বাব কুরাইশ-(গেট নং ২৬-২৭) সায়ী করার স্থানের উত্তরপ্রান্তে বাব কুরাইশ বা কুরাইশ গেট অবস্থিত। এ গেট দিয়ে মারওয়া পাহাড়ে প্রবেশ করা যায়। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কার কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বংশের নাম উম্মতে মোহাম্মাদির মাঝে উজ্জ্বল রাখতেই কুরাইশ গোত্রের নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। ১৯. বাব আরাফা/আরাফা গেট-(গেট নং-৩৫) বাব আরাফা বা আরাফা গেট মারওয়া পাহাড়ে অবস্থিত। মক্কার বিখ্যাত আরাফা ময়দান বরাবর মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে দরজাটি। এজন্য এ ময়দানের নামে দরজাটির নামকরণ করা হয়েছে। হজের আবশ্যকীয় কাজগুলোর একটি হল আরাফার ময়দানে অবস্থান করা। ২০. বাব মুযদালিফা/মুযদালিফা গেট-(গেট নং ৩৬) বাব মুযদালিফা বা মুযদালিফা গেটও মারওয়া পাহাড়ে অবস্থিত। হজের সময় হাজিগণ মুযদালিফা নামক স্থানে অবস্থান করেন। দরজাটি এ স্থান বরাবর দাঁড়িয়ে রয়েছে। এজন্য মুযদালিফার নামে দরজাটির নামকরণ করা হয়েছে। ২১. বাব ফাতাহ-(গেট নং ৪৫) আরবি ফাতাহ শব্দের অর্থ হল বিজয়। কোনো কোনো বর্ণনায় পাওয়া যায়, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কা বিজয়ের দিন এ দিক দিয়ে কা’বায় প্রবেশ করেছিলেন। এজন্য এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে ফাতাহ বা বিজয়। হারাম কমপ্লেক্সের দক্ষিণ দিকে দরজাটি অবস্থিত। ২২. বাব ওমর ফারুক-(গেট নং ৪৯) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর গুরুত্বপূর্ণ সাহাবি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা ওমর ফারুক (রা.) এর নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। যে দশজন সাহাব দুনিয়ায় থাকতেই জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছেন ওমর (রা.) তাঁদের অন্যতম। ২৩. বাব আল কুদস-(গেট নং ৫৫) মসজিদে হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজার একটি হল বাব আল কুদস। দরজাটি ইসলামের প্রথম ক্বিবলা ‘মসজিদুল আকসা’ অভিমুখী। এজন্য ‘আল কুদস’ নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। ইসলামের প্রথম কিবলার গুরুত্ব ও তাৎপর্য মুসলিম উম্মাহর মনে করিয়ে দেয় দরজাটি। ২৪. বাব মদিনা-(গেট নং ৫৬) রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় গিয়েছিলেন। মসজিদুল হারাম কমপ্লেক্সের এ দরজাটি মদিনামুখী করে তৈরি করা হয়েছে। এজন্য দরজাটির নাম রাখা হয়েছে বাব মদিনা। ২৫. বাব উমরা-(গেট নং-৬৩) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবনের শেষ উমরা করার জন্য এদিক দিয়ে কা’বায় প্রবেশ করেছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উমরার স্মৃতি ধরে রাখার জন্য বাব উমরা নামে দরজাটির নামকরণ করা হয়েছে। এ দরজা দিয়ে সরাসরি মাতাফে (কা’বা তওয়াফ করার স্থান) প্রবেশ করা যায়। ২৬. বাব আম্মার বিন ইয়াসির-(গেট নং ৬৭) আম্মার বিন ইয়াসির (রা.) প্রথম ইসলাম গ্রহণকারীদের একজন। তিনি এবং তাঁর বাবা-মা ইসলাম গ্রহণ করার জন্য মক্কার মুশরিকদের কাছে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। মর্যাদাবান এ সাহাবার নামে হারাম কমপ্লেক্সের এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। ২৭. বাব মুয়ায বিন জাবাল-(গেট নং ৬৮) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর যে সাহাবারা প্রচুর জ্ঞান রাখতেন, তাঁদের একজন হলেন মুয়ায বিন জাবাল (রা.)। মসজিদ আল-হারামের ৬৮ নং দরজাটি তাঁর নামে নামকরণ করা হয়েছে। ২৮. বাব আমর বিন আল আস-(গেট নং ৬৯) মসজিদে হারামের ৬৯ নং দরজাটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আরেকজন সাহাবা আমর বিন আল আস (রা.) এর নামে নামকরণ করা হয়েছে। আমর বিন আল আস (রা.) হলেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর বুদ্ধিমান সাহাবাদের একজন। বদর ও উহুদসহ অনেক যুদ্ধে তিনি ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেও, শেষ পর্যন্ত তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং ইসলামের পক্ষে নিজের বীরত্ব প্রকাশ করেছেন। ২৯. বাব আয়িশা বিনত্ আবি বকর-(গেট নং ৭০) রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর শেষ ও কনিষ্ঠ স্ত্রী আয়িশা বিনত্ আবি বকর (রা.) এর নামে হারাম কমপ্লেক্সের এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। দরজাটি দেখলে ও এটি দিয়ে প্রবেশ করলে আম্মাজান আয়েশা (রা.) এর ইসলামের জন্য ত্যাগ ও কুরবানির কথা স্মরণ হয়। ৩০. বাব আসমা বিনত আবি বকর-(গেট নং ৭১) আবু বকর (রা.) এর মেয়ে আসমা বিনত আবি বকর (রা.) এর নামে মসজিদ হারামের ৭১ নং গেটের নামকরণ করা হয়েছে। আসমা (রা.) এর বাবা আবু বকর, স্বামী যুবায়ের বিন আওয়াম, সন্তান আব্দুল্লা ইবন যুবায়েরসহ পরিবারে সবাই ছিলেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাহাবা। ৩১. বাব আল ইয়ারমুক-(গেট নং ৭৩) আবু বকর (রা.) এর শাসনামলে মুসলিম ও রোমানদের মাঝে রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ইন্তেকালের পর সবচেয়ে বড় যে যুদ্ধ হয়েছে, এ যুদ্ধের নাম হল ইয়ারমুকের যুদ্ধ। খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.)-র বীরত্বে এ যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয় হয়েছিল। মসজিদুল হারাম কমপ্লেক্সের ৭৩ নং গেটটি ইয়ারমুক যুদ্ধের নামে নামকরণ করা হয়েছে। ৩২. বাব আবু বকর-(গেট নং ৭৪) রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সাহাবা হলেন আবু বকর (রা.)। এক বর্ণনায় মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আমার উপর আমার সাহাবাদের যত অনুগ্রহ রয়েছে তার কিছুটা হলেও আমি প্রতিদান দিতে পেরেছি। কিন্তু আবু বকরের অনুগ্রহ এমন যে তা পরিশোধ করতে আমি অক্ষম। আল্লাহেএর প্রতিদান দিবেন। আবু বকর (রা.) দুনিয়াতে জান্নাতের সুসংবাদ পাওয়া ১০ জন সাহাবার একজন। তিনি ছিলেন ইসলামের প্রথম খলিফা। তাঁর নামেই মসজিদ আল-হারামের ৭৪ নং গেটের নামকরণ করা হয়েছে। ৩৩. বাব আল-ফাহাদ-(গেট নং ৭৯) সৌদি আরবের সাবেক বাদশাহ ফাহাদের নামে এ গেটের নামকরণ করা হয়েছে। দরজাটি হারাম কমপ্লেক্সের পূর্বদিকে অবস্থিত। মসজিদের পূর্বপ্রান্ত দিয়ে ইবাদতের জন্য প্রবেশ করতে চাইলে এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে হয়। হারাম কমপ্লেক্সের থ্রি পোর্টাল দরজাগুলোর এটি একটি। সৌদি শাসকদের আমলে দ্বিতীয় সম্প্রসারণের সময় দরজাটিকে থ্রি পোর্টালে রূপ দেওয়া হয়। ৩৪. বাব জাবির বিন আব্দুল্লাহ-(গেট নং ৮৪) মসজিদে হারামের ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ দরজার একটি হল এটি। দরজাটি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাহাবি জাবির বিন আব্দুল্লাহর নামে নামকরণ করা হয়েছে। মাত্র ৭ বছর বয়সে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। ৯৪ বছর বয়সে মদিনায় মারা যান জাবির বিন আব্দুল্লাহ এবং মদিনায় মৃত্যুবরণকারী সর্বশেষ সাহাবি ছিলেন তিনি। ৩৫. বাব সাঈদ বিন যায়েদ-(গেট নং ৮৫) হারাম কমপ্লেক্সের ৮৫ নং গেটটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আরেকজন সাহাবা সাঈদ বিন যায়েদ (রা.) এর নামে নামকরণ করা হয়েছে। সাঈদ বিন যায়েদ (রা.) ছিলেন উমর বিন খাত্তাব (রা.) এর চাচাতো ভাই এবং ভগ্নিপতি। উমর (রা.) এর ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে এ সাহাবির উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। ৩৬. বাব যায়েদ বিন সাবিত-(গেট নং ৮৬) যায়েদ বিন সাবিত (রা.) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর গুরুত্বপূর্ণ একজন সাহাবি। আবু বকর (রা.) এর খিলাফতের সময় যায়েদ (রা.) কুরআন সংকলনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। সম্মানিত এ সাহাবার নামেই মসজিদ হারামের এ গেটটির নামকরণ করা হয়েছে। ৩৭. বাব উম্মে হানি-(গেট নং ৮৭) রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর চাচা আবু তালিবের মেয়ে হলেন উম্মে হানি (রা.)। তিনি আলী ও জাফর বিন আবি তালিব (রা.) বড় বোন। মিরাজ গমণের রাতে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মে হানি (রা.) এর বাড়িতে কিছুক্ষণ ঘুমিয়েছিলেন। এ সাহাবির নামেই মসজিদুল হারামের ৮৭ নং গেটটির নামকরণ করা হয়েছে। ৩৮. বাব মাইমুনা-(গেট নং ৮৮) মক্কার মসজিদুল হারামের ৮৮ নং গেটটি মাইমুনা (রা.) এর নামে নামকরণ করা হয়েছে। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর একজন স্ত্রী এবং উম্মুল মু’মিনীন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর স্ত্রীদের মধ্যে মাইমুনা (রা.) ছিলেন সবচেয়ে বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমান। ৩৯. বাব হিজলাহ-(গেট নং ৮৯) মসজিদুল হারাম কমপ্লেক্সের দক্ষিণ প্রান্তে বেশ কয়েকটি গেট রয়েছে। এ দরজাগুলোর বাম দিকে বাব হিজলাহ এবং ডান দিকে বাব হাফসা আংশিকভাবে দৃশ্যমান। মক্কায় হিজলাহ নামের একটি পাহাড় রয়েছে। ধারণা করা হয়, এ পাহাড়ের নামেই দরজাটির নামকরণ করা হয়েছে। ৪০. বাব হাফসা-(গেট নং ৯০) হারাম কমপ্লেক্সের ৯০ নং গেটটি রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আরেকজন স্ত্রী হাফসা (রা.) এর নামে নামকরণ করা হয়েছে। হাফসা (রা.) মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবি ও ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর বিন খাত্তাব (রা.) এর মেয়ে। ৪১. বাব নাদওয়া-(গেট নং ৯২) দারুন নাদওয়া হল ঐতিহাসিক একটি ঘরের নাম যেখানে কুরাইশের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা বিভিন্ন সময় মিটিং করতেন। মক্কা ও কুরাইশদের ইতিহাস মুসলিমদের স্মরণ করিয়ে দিতে এ ঘরের নামে হারাম কমপ্লেক্সের ৯২ নং গেটটির নামকরণ করা হয়েছে। ৪২. বাব খাদিজা-(গেট নং ৯৩) খাদিজা (রা.) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রথম স্ত্রী। নবুওতের আগে এবং পরে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন উম্মুল মু’মিনীন খাদিজা (রা.)। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নবুওতের বিষয়টি সর্বপ্রথম সত্য বলে গ্রহণ করেছিলেন খাদিজা (রা.)। তাঁর নামেই মক্কার মসজিদুল হারামের ৯৩ নং গেটটির নামকরণ করা হয়েছে। ৪৩. বাব ইবরাহিম-(গেট নং ৯৪) নবি ইবরাহিম খলিলুল্লাহ (আ.) এর নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। কাবা ঘর মহান আল্লাহর নির্দেশে সর্বপ্রথম ফেরেশতারা নির্মাণ করেছিলেন। নুহ (আ.) এর সময়কালীন মহা প্লাবনে কাবা ঘর বালুর নিচে চাপা পড়ে গিয়েছিল। এরপর মহান আল্লাহর নির্দেশে ইবরাহিম ও ইসমাঈল (আ.) ঘরটি ৪ হাজার বছর আগে পুনঃনির্মাণ করেছিলেন। ৪৪. কিং আব্দুল্লাহ গেট-(গেট নং ১০০) মসজিদ আল হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজার একটি কিং আব্দুল্লাহ গেট। হারাম কমপ্লেক্সের সবচেয়ে বড় দরজাগুলোরও একটি এটি। দরজাটি মসজিদের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। এ গেটে দুটি চমৎকার মিনার রয়েছে। গেটটির সাথে রয়েছে একটি করিডোর , যে করিডোর দিয়ে সরাসরি মাতাফ বা তাওয়াফের স্থানে যাওয়া যায়। ৪৫. বাব সালাম গেট মসজিদ হারাম কমপ্লেক্সের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গেট হল বাব সালাম। সালাম অর্থ শান্তি অর্থাৎ এ দরজার নাম হল শান্তির দরজা। সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে দরজাটি অবস্থিত। কা’বার কাছেই অবস্থান করতেন শাইবা বিন উসমান। অনেকে তাঁর গোত্রের দিকে ইঙ্গিত করে এ দরজাকে বাব বনি শাইবা বলে থাকেন। যদিও বনি শাইবা নামে হারাম কমপ্লেক্সে স্বতন্ত্র দরজাই রয়েছে।
শ্চিমবঙ্গের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বারাসাত শহরে এক বিরল সম্প্রীতির নজির গড়ে উঠেছে। হিন্দু পরিবারের বসতভিটায় অবস্থিত ‘আমানতি মসজিদ’ শুধু নামেই নয়, বাস্তবেও হয়ে উঠেছে আন্তঃধর্মীয় সহাবস্থানের এক অনন্য প্রতীক। আর এই সম্প্রীতির কেন্দ্রে রয়েছেন পার্থসারথি বোস—যিনি টানা ১৬ বছর ধরে পবিত্র রমজান মাসে রোজা রেখে আসছেন। হিন্দু পরিবারের তত্ত্বাবধানে মসজিদ মসজিদটি পার্থসারথি বোসদের বাড়ির ভেতরেই অবস্থিত। স্থানীয়দের মতে, এ অঞ্চলে প্রায় দুই কিলোমিটারের মধ্যে আর কোনো মসজিদ নেই। ফলে আশপাশের দোকান, বাজার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মুসলমানরা এখানে এসে নামাজ আদায় করেন। রমজান মাসে প্রতিদিন দেড় শতাধিক মুসল্লি ইফতার করেন এই মসজিদে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য—মসজিদের দেখভাল, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সার্বিক দায়িত্ব পালন করে আসছে একটি হিন্দু পরিবার। ইতিহাসের সূত্রপাত ১৯৬০ সালে ১৯৬০ সালে সম্পত্তি বিনিময় প্রথার মাধ্যমে খুলনার আলকা গ্রাম থেকে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসেন পার্থসারথির দাদু নিরোধকৃষ্ণ বোস। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতে বসতভিটায় উঠে তিনি দেখতে পান একটি জরাজীর্ণ মসজিদ। ধর্মীয় সম্মান বজায় রেখে সেটি আগলে রাখেন তিনি। পরবর্তীতে তার ছোট ছেলে দীপক বোস দায়িত্ব নেন মসজিদের। তখনই এর নামকরণ করা হয় ‘আমানতি মসজিদ’। বর্তমানে দায়িত্বে রয়েছেন পার্থসারথি বোস। দুর্ঘটনা থেকে আত্মশুদ্ধির পথ পার্থসারথি জানান, ২০০৯ সালের আগে মসজিদের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা তেমন ছিল না। রমজান মাসে একদিন বন্ধুদের সঙ্গে মদ্যপ অবস্থায় বাইক থেকে পড়ে গিয়ে ডান কাঁধের হাড় ভেঙে যায়। চিকিৎসকেরা জানান, হাড় জোড়া লাগা কঠিন। অনুশোচনায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরদিন সকালে মসজিদে এসে ক্ষমা চান। নিজের ভুল স্বীকার করে মানত করেন—জীবিত থাকা পর্যন্ত রমজান মাসে রোজা রাখবেন। মসজিদের মাটি কাঁধে লাগিয়ে প্রার্থনা করেন সুস্থতার জন্য। তার দাবি, এরপর ধীরে ধীরে তার হাড় জোড়া লাগে। সেই থেকে টানা ১৬ বছর পুরো রমজান মাস রোজা রেখে আসছেন তিনি। এর আগেও রোজা রাখতেন, তবে পুরো মাস নয়। “মসজিদ আমাকে ভালো মানুষ বানিয়েছে” পার্থসারথি বলেন, “এই মসজিদ আমাকে এমন শিক্ষা দিয়েছে যে, খারাপ থাকার উপায় নেই। রোজা রাখলে মন পরিষ্কার থাকে। বাজে চিন্তা আসে না। মনে এক ধরনের ভয় কাজ করে—আবার যেন কোনো ভুল না করি।” তার পরিবারে অন্য কেউ রোজা না রাখলেও সবাই সহযোগিতা করেন। স্ত্রী সেহরির আয়োজন করেন, আর ইফতারে থাকে খেজুর, ফল ও হালকা খাবার। দান গ্রহণ নয় মসজিদের জন্য সরকারি বা স্থানীয় দান নেওয়া হয় কি না—এ প্রশ্নে পার্থসারথি স্পষ্ট জবাব দেন, “না, কোনো দান নেই। হারাম না হালাল বুঝি না। তাই দানবাক্সও রাখা হয়নি।” সম্প্রীতির বার্তা স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বারাসাতের ৮ নম্বর ওয়ার্ড পুরোপুরি হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা। এখানে মুসলিম ভোটার নেই বললেই চলে। তবুও ধর্মীয় ভেদাভেদ নেই। এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “এই মসজিদ আমাদের কাছে মন্দিরের মতোই পবিত্র।” অন্য এক বৃদ্ধা জানান, ভোরের আজান তার ঘুম ভাঙায় এবং মানসিক শক্তি জোগায়। ৯০ দশক থেকে দায়িত্বে থাকা মসজিদের ইমাম আক্তার বলেন, “বিশ্বে এমন নজির বিরল। মুসলমানরা এখানে নামাজ পড়ে চলে যান, কিন্তু দেখভাল করেন এক হিন্দু পরিবার। ইসলামে এমন কোনো নিষেধ নেই যে, অন্য ধর্মের মানুষ মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণে যুক্ত থাকতে পারবেন না।” ধর্ম নয়, মানবিকতা পার্থসারথি বোস বলেন, “মসজিদের দেখভাল করি, কিন্তু ইসলামের নিয়মে হস্তক্ষেপ করি না।” তার মতে, এটি ধর্মীয় নয়—মানবিক দায়িত্ব। রমজানের আত্মসংযম, আত্মত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির বার্তা যেন নতুনভাবে ব্যাখ্যা করছে বারাসাতের ‘আমানতি মসজিদ’। যেখানে ধর্মের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষ হয়ে ওঠাই সবচেয়ে বড় পরিচয়।
ঢাকা: ১৪৪৭ হিজরি সনের রমজান মাস উপলক্ষে সাদাকাতুল ফিতরার হার নির্ধারণ করেছে জাতীয় সাদাকাতুল ফিতরা নির্ধারণ কমিটি। এ বছর জনপ্রতি ফিতরার সর্বনিম্ন হার ১১০ টাকা এবং সর্বোচ্চ হার ২ হাজার ৮০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় সাদাকাতুল ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা আবদুল মালেক। এতে দেশের বিশিষ্ট মুফতি ও আলেমরা অংশগ্রহণ করেন। সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে ফিতরার হার ঘোষণা করেন কমিটির সদস্য সচিব ড. মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ। তিনি জানান, ফিতরার হার নির্ধারণের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় কার্যালয়সমূহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উন্নতমানের গম, আটা, যব, খেজুর, কিসমিস ও পনিরের খুচরা ও পাইকারি বাজার দর যাচাই করে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই এবারের হার নির্ধারণ করা হয়েছে। 📌 কোন পণ্যে কত ফিতরা? গম বা আটা: অর্ধ ‘সা’ বা ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম। প্রতি কেজি ৬৫ টাকা হিসাবে মোট ১১০ টাকা। যব: এক ‘সা’ বা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম। প্রতি কেজি ১৮০ টাকা হিসাবে মোট ৫৯৫ টাকা। খেজুর: এক ‘সা’ বা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম। প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা হিসাবে মোট ২,৪৭৫ টাকা। কিসমিস: এক ‘সা’ বা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম। প্রতি কেজি ৮০০ টাকা হিসাবে মোট ২,৬৪০ টাকা। পনির: এক ‘সা’ বা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম। প্রতি কেজি ৮৫০ টাকা হিসাবে মোট ২,৮০৫ টাকা। কমিটি জানায়, কেউ চাইলে উল্লেখিত খাদ্যদ্রব্য দিয়ে অথবা তার বাজারমূল্য অনুযায়ী নগদ অর্থে ফিতরা আদায় করতে পারবেন। তবে সামর্থ্য অনুযায়ী উচ্চ হার প্রদান করাই উত্তম। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন বোর্ড অব গভর্নরসের গভর্নর মাওলানা মাহফুজুল হক, মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, মুহাদ্দিস ড. ওয়ালিয়ুর রহমান খান, মুফাসসির ড. মাওলানা মো. আবু সালেহ পাটোয়ারী, কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা আবুল কাশেম মো. ফজলুল হক, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, পেশ ইমাম মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী এবং রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মহিউদ্দিন। রমজান মাসে রোজাদারদের পক্ষ থেকে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে ঈদের আনন্দ পৌঁছে দিতে সাদাকাতুল ফিতরা প্রদান করা ওয়াজিব। প্রতি বছর বাজারদরের ভিত্তিতে জাতীয় সাদাকাতুল ফিতরা নির্ধারণ কমিটি ফিতরার হার ঘোষণা করে থাকে।
শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে অবস্থিত ‘জ্বীন মসজিদ’খ্যাত তালুকদার বাড়ি জামে মসজিদ প্রায় ৪০০ বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধারণ করে আজও জরাজীর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। জেলা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই প্রাচীন মসজিদটি স্থানীয়দের কাছে যেমন ধর্মীয় স্থাপনা, তেমনি রহস্যঘেরা ঐতিহাসিক নিদর্শন। নির্মাণ ইতিহাস ঘিরে রহস্য মসজিদটি ঠিক কবে এবং কে নির্মাণ করেছিলেন তার কোনো সুনির্দিষ্ট লিখিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মসজিদ সংলগ্ন তালুকদার পরিবারের বংশ পরম্পরায় জানা যায়, এর বয়স প্রায় ৪০০ বছর। অন্য মত অনুযায়ী মসজিদটির বয়স প্রায় ৪৫০ বছর হতে পারে। ‘জ্বীন মসজিদ’ নামকরণের পেছনের লোককথা মসজিদটিকে ঘিরে রয়েছে নানা লোককথা ও মিথ। প্রচলিত আছে, স্থানীয় এক ব্যক্তি মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু করলেও কাজ শেষ হওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করেন। এরপর এক রাতের মধ্যেই জ্বীনেরা বাকি কাজ সম্পন্ন করে দেয়। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এখানে জ্বীনেরা নামাজ, জিকির-আসকার ও ইবাদত-বন্দেগী করতেন। এই বিশ্বাস থেকেই মসজিদটি ‘জ্বীন মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। তবে স্থানীয়দের কাছে এটি মূলত ‘তালুকদার বাড়ি জামে মসজিদ’ হিসেবেই পরিচিত। স্থাপত্যশৈলী ও বর্তমান অবস্থা মাত্র ৪ শতাংশ জমির উপর নির্মিত চতুর্ভুজাকৃতির এ মসজিদটি কালের বিবর্তনে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। মসজিদটির রয়েছে একটি প্রধান গম্বুজ এবং চারপাশে চারটি চিকন খুঁটির ওপর ছোট খিলানাকৃতির গম্বুজ। ভেতরের দেয়ালে মোগল স্থাপত্যশৈলীর কারুকাজের নিদর্শন লক্ষ্য করা যায়। মসজিদের চারদিকে পাকা মেঝে রয়েছে এবং মূল ভবনে চারটি প্রবেশপথ আছে। একসাথে প্রায় ৩০ জন মুসল্লি এখানে নামাজ আদায় করতে পারেন। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এখানে জুমা, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও ঈদের জামাত আদায় করে আসছেন। মসজিদের পশ্চিম পাশে রয়েছে একটি বিশাল পুকুর। পুকুরের পাকা ঘাট এখনো অক্ষত রয়েছে, যা স্থানীয়দের মতে জ্বীনেরাই নির্মাণ করেছিল। সংস্কারের অভাবে ক্ষয় মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক সালাম তালুকদার জানান, “আমাদের পূর্বপুরুষদের মুখে শুনেছি, এটি এক রাতে জ্বীনেরা তৈরি করেছে। এই বিশ্বাস থেকেই সবাই একে জ্বীন মসজিদ বলে। তবে আমাদের কাছে এটি তালুকদার বাড়ি জামে মসজিদ।” তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “৪০০ বছর পেরিয়ে গেলেও মসজিদটি সংস্কারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অনেকে এসে প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেও পরে আর খোঁজ নেয় না। টেলিভিশন ও পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলেও বাস্তব কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।” মসজিদের ইমাম নূর ইসলাম বেপারী জানান, “আমি ১৭ বছর ধরে এখানে ইমামতি করছি। এটি ৪০০ বছরের পুরোনো মসজিদ। সরকারের কাছে আমাদের আহ্বান, প্রাচীন এই স্থাপনাটি দ্রুত সংস্কার করে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা হোক।” সংরক্ষণের দাবি স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় মসজিদটিকে সরকারি তালিকাভুক্ত করে যথাযথ সংরক্ষণ ও সংস্কার করা জরুরি। অন্যথায় অযত্ন-অবহেলায় হারিয়ে যেতে পারে শতাব্দী প্রাচীন এই ঐতিহ্য। ঐতিহ্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
এআই-এর অতিরিক্ত ব্যবহারে কমছে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ! বলছে গবেষণা
রান্নার গ্যাসের নিয়মে বড় বদল, এবার সিলিন্ডার বুক করতে ২৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে
যুদ্ধের প্রভাব, মারাত্মক পরিস্থিতি বাজারে, ৫২ সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তরে ৮৭৫টি শেয়ার, সর্বোচ্চ স্তরে ৭২টি
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার ফল, দুবাই-আবুধাবি ছেড়ে ভারতে পাড়ি দিচ্ছে অ্যামাজন-মাইক্রোসফট
ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের প্রভাব পড়বে ভারতে ! ফিচের রিপোর্টে চরম উদ্বেগের সংকেত
ফের রক্তাক্ত শেয়ার বাজার, একদিনেই উধাও ৯ লাখ কোটি টাকা ! সেনসেক্স পড়ল ১৩৫০ পয়েন্ট
ইরান যুদ্ধের থেকে বড় সংকটের আশঙ্কা করছে ভারত ! সংসদে দাঁড়িয়ে কী বললেন বিদেশমন্ত্রী ?
'৩ 'ঘোষ'-এর গান কখনও মুক্তি পাবে না', ভোটের আগেই নতুন চমক 'হুলিগানইজম'-এর? জানাচ্ছেন দেবরাজ