ইরানের নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইসরাইলে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে তেহরান। দফায় দফায় ছুড়ছে ক্ষেপণাস্ত্র। এমনকি ক্লাস্টার ওয়ারহেড বা গুচ্ছ বোমাযুক্ত মিসাইল নিক্ষেপ করছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এতে ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বেশ কয়েকটি এলাকার অনেক ভবন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, উত্তর ইসরাইলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে এবং অন্য একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে আঘাত হেনেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর খবরটি সামনে আসে। এদিকে তেল আবিব জেলার গুরুত্বপূর্ণ শহর রামাত গানেও তাণ্ডব চালিয়েছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। এতে ধসে পড়েছে বেশ কয়েকটি ভবন ও স্থাপনা। এর আগে সোমবার (১৬ মার্চ) ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানিকে হত্যা করে ইসরাইল।একই সঙ্গে ইরানের বাসিজ বাহিনীর প্রধানকেও খুন করে অবৈধ ইহুদি ভূখণ্ডটি। পরে ইসরাইলি গণহত্যাকারীরা নিরাপত্তা কাউন্সিলের দ্বিতীয় প্রধানকেও হত্যা করেছে বলে জানায়। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু কি আদৌ জীবিত? মৃত নাকি আহত হয়েছেন? নেতানিয়াহু সুরক্ষিত কোনো জায়গায় রয়েছেন? গত কয়েক দিন ধরে নেতানিয়াহুকে নিয়ে এ-হেন বহু জল্পনা ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। কিন্তু এমন জল্পনার কারণ কী? কারণ, গত কয়েক দিন ধরে প্রকাশ্যে আসা একাধিক ভিডিও। নেতানিয়াহুর ওই ভিডিওগুলো পর পর পোস্ট হওয়ার কারণেই সন্দেহ দানা বেঁধেছে মানুষের মনে। দাবি উঠেছে, ওই ভিডিওগুলোতে নেতানিয়াহুকে ‘জোর করে জীবিত দেখানোর’ চেষ্টা চলছে। যদিও কোনো ভিডিওরই সত্যতা যাচাই করা যায়নি। কিন্তু ওই ভিডিওগুলো প্রকাশ্যে আসার পরেই প্রশ্ন উঠেছে, কোথায় ‘বিবি’ (নেতানিয়াহুর ডাকনাম। রাজনৈতিক মহল এবং গণমাধ্যমেও নামটি বহুল স্বীকৃত)? পাশাপাশি জল্পনা ছড়িয়েছে, তিনি আর বেঁচে নেই। কিন্তু সেই খবর যাতে প্রকাশ্যে না আসে, তাই ওই সব ভিডিওর মাধ্যমে তাকে জীবন্ত প্রমাণ করার মরিয়া চেষ্টা করছে ইসরায়েল। আমেরিকা-ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষের প্রথম থেকেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে ইরান। এর পর পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার পর গত কয়েক দিন ধরে দাবি উঠেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন নেতানিয়াহু। তার মধ্যেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে পর পর পোস্ট হওয়া ওই ভিডিওগুলো তার মৃত্যু-জল্পনার পালে হাওয়া দিয়েছে। দাবি উঠেছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ‘জীবিত থাকার প্রমাণ’ হিসাবে একাধিক ভিডিও প্রকাশ্যে এনে তার মৃত্যু সংক্রান্ত দাবিগুলো খণ্ডন করার আপ্রাণ চেষ্টা করছে ইসরায়েল। তবে সেই ভিডিও ক্লিপগুলো জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটানোর পরিবর্তে নতুন করে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। প্রথমে ১৩ মার্চ, পরে ১৫ মার্চ নেতানিয়াহুর একটি করে ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। ১৫ মার্চের ভিডিয়োতে তাকে একটি কফি কাপ হাতে বক্তৃতা করতে দেখা যায়। সেই ভিডিওতে তার মৃত্যুর খবর গুজব বলেও দাবি করতে দেখা যায় খোদ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে। ১৫ মার্চের সেই ভিডিওতে নেতানিয়াহুকে কফির কাপ হাতে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘কফির জন্য আমি মরতে রাজি। আমি আমার দেশের মানুষকে ভালবাসি।’ এর পর তিনি দুই হাতের আঙুল তুলে ক্যামেরায় দেখাতে শুরু করেন। কারণ ১৩ মার্চ ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর বিভিন্ন সূত্রে দাবি উঠেছিল যে নেতানিয়াহুর ডান হাতে ছ’টি আঙুল রয়েছে। কিন্তু সেই ভিডিওতে ডান হাতের ছ’টি আঙুল দেখা যায়নি। ভিডিওটি সমাজমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত হতেই সেটি ভুয়ো বলে জল্পনা শুরু হয়। এক এক্স ব্যবহারকারী এক্সের চ্যাটবট গ্রোকের কাছে ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেন। সেই প্রশ্নের উত্তরে গ্রোক জানিয়েছে, এটি আসলে কৃত্রিম মেধা দিয়ে তৈরি একটি ভিডিও। ভিডিওটি ১০০ শতাংশ ডিপফেক। নেতানিয়াহু একটি ক্যাফেতে কফি খাচ্ছেন, বাস্তবে তেমন কিছু ঘটেনি। যেহেতু ভিডিওটি নেতানিয়াহুর নিজস্ব সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত হয়েছিল, গ্রোকের প্রতিক্রিয়া বিতর্ক আরো উস্কে দেয়। এর মধ্যেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হয় যে ৭৬ বছর বয়সি ইহুদি নেতা এখনো তেল আবিবেই আছেন। কিন্তু ভিডিওগুলো প্রকাশ্যে আসার পর নেতানিয়াহুর অবস্থান বা নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে শুরু করে। তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জল্পনা তৈরি হয়। জল্পনা আরো তীব্র হয় ১৬ মার্চ। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত একটি নতুন ভিডিওতে দেখা যায়, জেরুজালেমের রাস্তায় স্বাভাবিকভাবে হাঁটছেন এবং পথচারীদের সঙ্গে কথা বলছেন নেতানিয়াহু। কিন্তু সেই ভিডিওতেও বিস্তর গোলযোগ খুঁজে পান নেটাগরিকেরা। ভিডিওতে যখনই নেতানিয়াহুর দু’হাত দেখা যাচ্ছিল, তখনই তার হাতে থাকা একটি আংটি বারবার অদৃশ্য এবং দৃশ্যমান হতে দেখা যায়। ফলে সেই ভিডিওটির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। নেতানিয়াহুর বেঁচে থাকাকে কেন্দ্র করে সংশয় আর জল্পনা মিলেমিশে যখন একাকার, ঠিক সেই সময় আবার নেতানিয়াহুর এক্স হ্যান্ডল থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সেই ভিডিওতে ইরানবাসীদের উদ্দেশে ‘নওরোজ়’ উৎসবের শুভেচ্ছাবার্তা দিতে দেখা গিয়েছে। নেতানিয়াহু বলছেন, ‘ইরানের নির্ভীক জনগণকে আমার শুভেচ্ছা। প্রতি বছরই এই আলোর উৎসবে যেমন শুভেচ্ছাবার্তা পাঠাই, এ বার তেমন আপনাদের জন্য রইল অনেক শুভেচ্ছা।’ এর কয়েক ঘণ্টা পর এক্স হ্যান্ডল থেকে আরো একটি ভিডিও পোস্ট করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। শুধু তা-ই নয়, মৃত্যু-জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে, আবারও তাকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘আমি বেঁচে আছি।’ কিছুটা রসিকতার সুরেই এ কথাগুলো বলতে শোনা গিয়েছে তাকে। যে ভিডিওটি নেতানিয়াহু প্রকাশ করেছেন, সেখানে তার সঙ্গে দেখা যাচ্ছে আরো এক ব্যক্তিকে। তিনি আর কেউ নন, ইসরায়েলে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। যে ভিডিওটি প্রকাশ্যে এসেছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহু এবং হাকাবি পাশাপাশি হাঁটছেন। খুব হালকা চালে কথা বলছেন তারা দু’জনে। হাকাবিকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘মিস্টার প্রাইম মিনিস্টার, আপনি সুরক্ষিত আছেন কি না তা খোঁজ নিতে প্রেসিডেন্ট (ডোনাল্ড ট্রাম্প) আমাকে এখানে পাঠিয়েছেন।’ তার উত্তরে নেতানিয়াহু হাসতে হাসতে বলছেন, ‘অবশ্যই, মাইক। আমি বেঁচে আছি এবং সুস্থ আছি।’ এ কথা শুনে হাকাবি বললেন, ‘আপনি সুরক্ষিত আছেন, এটা দেখে আমি খুবই খুশি। কিন্তু প্রেসিডেন্ট বার বার জানতে চাইছিলেন আপনার বিষয়ে।’ তবে এই ভিডিও ডিপফেক ব্যবহার করে তৈরি কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। দাবি উঠেছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলেই তাকে জীবন্ত প্রমাণ করার মরিয়া চেষ্টা চলছে। প্রতি দিন নিত্যনতুন ভিডিও পোস্ট করা হচ্ছে। আর তা করতে গিয়ে ভুয়ো ভিডিও অবধি পোস্ট করে ফেলছে ইসরায়েলি প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা-সমালোচনার ঢেউ উঠেছে সমাজমাধ্যমে। নেতানিয়াহুর বেঁচে থাকা নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। নানা মত প্রকাশ করেছেন নেটাগরিকেরা। জল্পনা অবশেষে এই দাবিতে পরিণত হয়েছে যে, নেতানিয়াহু বিমান হামলায় গুরুতর আহত বা নিহত হয়েছেন। তবে শুধু ভিডিও নয়, নেতানিয়াহু যে বেঁচে নেই, তেমনটা জল্পনা ছড়ানোর কারণ রয়েছে আরো। গত সপ্তাহ থেকে টিভিতে সরাসরি কোনো বার্তা দিতে দেখা যায়নি নেতানিয়াহুকে। আবার নেতানিয়াহুর পুত্র ইয়াইর নেতানিয়াহু সর্বক্ষণ সমাজমাধ্যমে সক্রিয় থাকেন। দিনে বহু পোস্ট করেন তিনি। রহস্যজনকভাবে ইয়াইরও একেবারে চুপ। সমাজমাধ্যমে গত ৯ মার্চ থেকে তিনি নিষ্ক্রিয়। আর সেই বিষয়টিও নেতানিয়াহুর মৃত্যু-জল্পনাকে আরো উস্কে দিয়েছে।
ইরানের সঙে আপাতত যু্দ্ধ বাদ দিয়ে মেরামতের জন্য বন্দরে ফিরছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, জাহাজটির লন্ড্রি অংশে আগুন লাগার ঘটনায় অন্তত দুজন নাবিক আহত হন।এর পর রণতরীটিকে লোহিত সাগর থেকে গ্রিসের সৌদা বে বন্দরে মেরামতের জন্য নেওয়া হচ্ছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে লোহিত সাগরে যাওয়ার আগে এই বন্দরে যাত্রাবিরতি করেছিল জাহাজটি। বর্তমানে একই বন্দরে ফিরে গিয়ে প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ করা হবে। প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর মুখপাত্র জাহাজটির বর্তমান অবস্থা বা এর সঙ্গে থাকা গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারগুলোর গতিবিধি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি। তবে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফোর্ডের স্ট্রাইক গ্রুপ লোহিত সাগরে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।পারমাণবিক শক্তিচালিত এই রণতরীর ওজন প্রায় এক লাখ টন এবং এতে চার হাজারের বেশি নাবিক কর্মরত।জাহাজে আগুন লাগার পর তা নিয়ন্ত্রণে আনতে নাবিকদের ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে।
মার্চ ১৯, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে ইসরাইলের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার বেনগুরিয়ন বিমানবন্দরে তিনটি বেসামরিক উড়োজাহাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি উড়োজাহাজে আগুন ধরে যায় বলে জানিয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। বুধবার ইসরাইলের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত করলেও সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে এই ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, গত কয়েক দিনের মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজগুলোর মালিকানা বা কোন এয়ারলাইনের তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলের প্রধান বিমানবন্দর বেনগুরিয়নে থাকা তিনটি বেসামরিক উড়োজাহাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি উড়োজাহাজে আগুন ধরে যায়। ইসরাইলের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বুধবার জানায়, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলি প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করার পর সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে এই ক্ষয়ক্ষতি হয়। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ জানায়, গত কয়েক দিনের মধ্যে এই ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজগুলোর মালিকানার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে আকাশপথে দেশটির প্রধান এই প্রবেশদ্বারে সাধারণ বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ইসরাইলি উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো বিদেশে আটকে পড়া নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে কিছু ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বর্তমানে এই বিমানবন্দরটি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীও ব্যবহার করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরাইলের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর প্রায় অর্ধেকই ছিল ‘ক্লাস্টার মিউনিশন’ বা গুচ্ছ বোমা। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে ছোট ছোট অনেক বোমা বিশাল এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, একটি বিমানে ধ্বংসাবশেষের আঘাতে আগুন ধরে গেছে এবং অন্যগুলোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরাইলের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করে বলেন, “ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে তিনটি বেসামরিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
মার্চ ১৯, ২০২৬
মামুনুর রশীদ নোমানী: একটি ভালো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন (Investigative Report) সাধারণত ইনভার্টেড পিরামিড (Inverted Pyramid) কাঠামো অনুসরণ করে, যেখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শুরুতে এবং কম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেষে থাকে। এটি তথ্যনির্ভর, নির্ভুল, এবং প্রমাণসমৃদ্ধ হওয়া প্রয়োজন । নিচে একটি আদর্শ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কাঠামো দেওয়া হলো: অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মূল কাঠামো: ১. শিরোনাম (Headline): আকর্ষণীয়, তথ্যবহুল ও ঘটনার মূল ভাব প্রকাশ করে এমন শিরোনাম। ২. লিড বা সূচনা (Lead/Introduction): সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, কে, কী, কখন, কোথায়, কেন এবং কীভাবে—এই ৫টি ডব্লিউ (5Ws - Who, What, When, Where, Why) ও ১টি এইচ (How) দিয়ে শুরু । ৩. প্রেক্ষাপট (Background/Context): ঘটনার পেছনের ইতিহাস বা কেন এই অনুসন্ধান করা হলো। ৪. মূল অনুসন্ধানী অংশ (The Investigation): * তথ্যের উৎস ও নথিপত্র বিশ্লেষণ । * সাক্ষাৎকার (ভিকটিম, বিশেষজ্ঞ, অভিযুক্ত) । * সাক্ষ্যপ্রমাণ ও তথ্যের যাচাইকরণ। ৫. বিরোধ বা সংঘাত (Conflict/Climax): কে বা কারা ক্ষতিগ্রস্ত এবং মূল বিরোধের জায়গা। ৬. অভিযুক্তের বক্তব্য (Response): অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ । ৭. উপসংহার ও প্রভাব (Conclusion/Impact): অনুসন্ধানের চূড়ান্ত ফল এবং এটি সমাজে কী প্রভাব ফেলবে। ৮. সুপারিশ বা ভবিষ্যৎ করণীয় (Recommendations): সমস্যা সমাধানে কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে । ৯. প্রতিবেদকের নাম ও তারিখ: প্রতিবেদনের শেষে নিজের নাম ও তারিখ উল্লেখ। লেখার কৌশল ও নিয়ম: স্পষ্ট ও সংক্ষিপ্ত ভাষা: বাহুল্যবর্জিত এবং সরাসরি বক্তব্য । তথ্যের সত্যতা: তথ্যনির্ভর এবং প্রামাণ্য দলিল থাকা আবশ্যিক । শিরোনামের যথার্থতা: সংবাদ বা প্রতিবেদনের ভেতরের তথ্যের সাথে শিরোনামের মিল থাকা । একটি কার্যকর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির জন্য এই কাঠামো অনুসরণ করলে তা পাঠকের কাছে স্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য হয়। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লেখার ৭টি কাঠামো অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা শুধু তথ্য প্রকাশ নয়, বরং একটি শক্তিশালী গল্প বলার শিল্প। সমাজের লুকানো সত্য তুলে ধরতে গেলে কেবল তথ্যই যথেষ্ট নয়—গল্পটি কীভাবে বলা হচ্ছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গল্প বলার বিভিন্ন কাঠামো নিয়ে লেখক Christopher Booker তাঁর বিখ্যাত বই The Seven Basic Plots-এ যে ধারণাগুলো তুলে ধরেছেন, সেগুলো অনুসন্ধানী প্রতিবেদনেও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায়। নিচে তুলে ধরা হলো অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ৭টি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো— ১. অভিযাত্রা (The Quest) এই কাঠামোয় গল্প এগোয় একটি লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে—সত্য উদঘাটনের যাত্রা। রিপোর্টার নিজে অথবা কোনো চরিত্র এই অভিযাত্রার কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে। ➡️ উদাহরণ: দুর্নীতির তথ্য বের করতে দীর্ঘ অনুসন্ধান ২. রহস্যের সন্ধানে (Mystery অনুসন্ধান) সব সময় সত্য পুরোপুরি উন্মোচিত হয় না। কিন্তু অনুসন্ধানের পথ, বাধা ও আংশিক সত্যও একটি শক্তিশালী গল্প হতে পারে। ➡️ যখন তথ্য অসম্পূর্ণ, কিন্তু অনুসন্ধান গুরুত্বপূর্ণ—তখন এই কাঠামো কার্যকর ৩. দানবের সাথে লড়াই (Overcoming the Monster) এখানে “দানব” হতে পারে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ব্যবস্থা। গল্পটি মূলত অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের। ➡️ উদাহরণ: কর্পোরেট দুর্নীতি, মানবপাচার চক্র, বা পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ৪. শূন্য থেকে শিখরে (Rags to Riches) কোনো ব্যক্তির উত্থানের গল্প—যেখানে তিনি নিচু অবস্থা থেকে উঠে সফলতার শিখরে পৌঁছান। ➡️ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এটি ব্যবহার হয় কোনো চরিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড তুলে ধরতে ৫. ট্র্যাজেডি (Tragedy) এই কাঠামোয় দেখানো হয় পতনের গল্প—ভুল সিদ্ধান্ত বা লোভের কারণে ধ্বংস। ➡️ উদাহরণ: বড় দুর্ঘটনা, কর্পোরেট পতন, বা অব্যবস্থাপনার ফলাফল ৬. যাওয়া, ফিরে আসা (Voyage and Return) এখানে একটি যাত্রা থাকে, যার শেষে চরিত্র আবার শুরুতে ফিরে আসে—তবে পরিবর্তিত অভিজ্ঞতা নিয়ে। ➡️ উদাহরণ: বিদেশে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে ফিরে আসা ৭. পুনর্জন্ম (Rebirth) এই কাঠামোয় কোনো চরিত্র বা পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে—অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরে আসা। ➡️ উদাহরণ: অপরাধী থেকে সমাজসেবী হয়ে ওঠার গল্প 📌 কাঠামো ব্যবহারে সতর্কতা একটি প্রতিবেদনে একাধিক কাঠামো একসাথে থাকতে পারে। তবে কোনটি মূল আর কোনটি গৌণ—তা পরিষ্কার রাখা জরুরি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— কাঠামো যেন সত্যকে বিকৃত না করে তথ্য যেন গল্পের সাথে মানানসইভাবে উপস্থাপিত হয় পাঠক যেন সহজে বিষয়টি বুঝতে পারে রিপোর্ট লেখার আগে নিজেকে যেসব প্রশ্ন করবেন গল্পের “দানব” আসলে কে? কারা ক্ষতিগ্রস্ত এবং কারা লাভবান? গল্পটি কি সত্যিই উত্থান নাকি এর পেছনে লুকানো দিক আছে? সব তথ্য কি পাওয়া গেছে, নাকি কিছু গোপন আছে? অনুসন্ধানী প্রতিবেদনকে শক্তিশালী করতে সঠিক গল্প কাঠামো নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু লেখাকে সুসংগঠিত করে না, বরং পাঠকের কাছে বিষয়টিকে আরও বোধগম্য ও আকর্ষণীয় করে তোলে। সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য সত্য তুলে ধরা—আর সেই সত্যকে প্রভাবশালীভাবে উপস্থাপন করতে গল্পের কাঠামো হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার। লেখক : মামুনুর রশীদ নোমানী: সিনিয়র সাংবাদিক এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল 'বরিশাল খবর'-এর সম্পাদক। দৈনিক শাহনামার প্রধান বার্তা সম্পাদক । ইত্তেহাদ নিউজের সিনিয়র প্রতিবেদক। রিশাল মেট্রোপলিটন প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ন সম্পাদক । সভাপতি : বরিশাল অনলাইন সাংবাদিক ইউনিয়ন ও বরিশাল অনলাইন প্রেসক্লাব।নির্বাহী পরিচালক ও প্রতিষ্ঠাতা : এফ এফ এল বিডি ফাউন্ডেশন।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বা ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্ট লেখার জন্য সুনির্দিষ্ট বিষয় নির্বাচন, গভীর গবেষণা, তথ্যের সত্যতা যাচাই, এবং নিরপেক্ষ উপস্থাপন অপরিহার্য। এটি সাধারণত একটি আকর্ষণীয় শিরোনাম, ঘটনার প্রেক্ষাপট, বিস্তারিত প্রমাণ, সোর্স বা সাক্ষ্যের উদ্ধৃতি এবং শেষে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ বা উপসংহার নিয়ে সাজানো হয়। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লেখার মূল নিয়মাবলী: বিষয় নির্বাচন ও পরিকল্পনা: জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ও গোপন কোনো ঘটনা (যেমন- দুর্নীতি, অপরাধ, অনিয়ম) বেছে নিন । কাজের শুরুতে একটি খসড়া পরিকল্পনা ও করণীয় তালিকা তৈরি করুন । তথ্য সংগ্রহ (Investigation): সরেজমিনে তদন্ত করুন। সরকারি নথিপত্র, গোপন তথ্য ও নির্ভরযোগ্য সোর্সের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করুন । তথ্যের সত্যতা যাচাই: সংগৃহীত প্রতিটি তথ্য, দলিল বা অভিযোগের সত্যতা দুই বা ততোধিক সোর্স থেকে নিশ্চিত হোন। কাঠামো তৈরি: আকর্ষণীয় শিরোনাম (Headline): বিষয়বস্তু ফুটে ওঠে এমন শিরোনাম দিন । সূচনা (Lead): প্রথম প্যারাগ্রাফে মূল ঘটনার সারসংক্ষেপ সংক্ষেপে তুলে ধরুন । মূল অংশ (Body): ধারাবাহিকভাবে ঘটনার বিবরণ, প্রমাণ, এবং সাক্ষ্য উপস্থাপন করুন । সাক্ষাৎকার ও উদ্ধৃতি: ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তের বক্তব্য নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরুন । উপসংহার ও সুপারিশ: প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে মতামত বা করণীয় উল্লেখ করুন । ভাষা ও শৈলী: ভাষা স্পষ্ট, সংক্ষিপ্ত, নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক হতে হবে। সাহিত্যিক অলংকরণের চেয়ে তথ্যের সত্যতার ওপর জোর দিন । নিরাপত্তা: সংবেদনশীল তথ্যের ক্ষেত্রে নিজের ও সোর্সের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। সবসময় মনে রাখবেন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে নেতিবাচক ঘটনার পাশাপাশি ইতিবাচক বা উন্নয়নমূলক উদ্যোগও উঠে আসতে পারে । অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়—এটি একটি সুসংগঠিত, ধৈর্যপূর্ণ এবং কৌশলনির্ভর প্রক্রিয়া। অনেক সময় রিপোর্টাররা বুঝতেই পারেন না কোথা থেকে শুরু করবেন। বিশেষ করে বড় প্রকল্পে লেখার প্রথম কয়েকটি অনুচ্ছেদই হয়ে ওঠে সবচেয়ে কঠিন কাজ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাধা কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, ধারাবাহিকতা এবং লেখার অভ্যাস। এখানে তুলে ধরা হলো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লেখার ৯টি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল— ১. নিজের কাজের ধরণকে গুরুত্ব দিন সব সাংবাদিক একভাবে কাজ করেন না। কেউ কাঠামোবদ্ধভাবে এগোন, আবার কেউ কাজ করেন স্বজ্ঞা ও সৃজনশীলতার ভিত্তিতে। নিজের কাজের ধরণ বুঝে সেটিকে কাজে লাগানোই সবচেয়ে কার্যকর। ২. এলিভেটর পিচ তৈরি করুন স্টোরির মূল ধারণা ২–৪ বাক্যে বলতে না পারলে, বুঝতে হবে বিষয়টি এখনো পরিষ্কার হয়নি। সংক্ষিপ্ত সারাংশ তৈরি করলে লেখার দিক নির্ধারণ সহজ হয়। ৩. লেখা শুরু করতে দেরি করবেন না অনেকেই রিপোর্টিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত লেখেন না। কিন্তু এতে কাজ জমে যায়। প্রথম খসড়া নিখুঁত না হলেও লিখতে শুরু করাই গুরুত্বপূর্ণ। ৪. মাঠের কণ্ঠকে গুরুত্ব দিন মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রাণ। সরেজমিনে গিয়ে সংগ্রহ করা সাক্ষাৎকার গল্পকে জীবন্ত করে তোলে। ৫. মানুষের গল্পকে কেন্দ্রে রাখুন ডেটা ও তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও পাঠককে ধরে রাখে মানুষের গল্প। কে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কেন হচ্ছে—এসব তুলে ধরাই মূল কাজ। ৬. ভাষা সহজ রাখুন জটিল শব্দ ও প্রযুক্তিগত ভাষা পাঠককে দূরে সরিয়ে দেয়। সহজ, পরিষ্কার ও বোধগম্য ভাষায় লেখা বেশি কার্যকর। ৭. তথ্যের ফাঁক পূরণ করুন অনুসন্ধানে প্রায়ই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় না। সেই ফাঁকগুলো খুঁজে বের করা এবং পূরণ করাই একটি শক্তিশালী প্রতিবেদনের ভিত্তি। ৮. সম্পাদকের সঙ্গে কাজ করুন একটি ভালো সম্পাদক পুরো স্টোরিকে সুসংগঠিত করতে সাহায্য করেন। জটিল অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৯. প্রশ্ন করতে থাকুন প্রতিটি তথ্য যাচাই করুন। কোনো বক্তব্য সরাসরি সত্য ধরে নেবেন না। একটি ঘটনার একাধিক দিক থাকতে পারে—সব দিকই খতিয়ে দেখা জরুরি। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লেখা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যেখানে ধৈর্য, বিশ্লেষণ এবং ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক কৌশল অনুসরণ করলে জটিল তথ্যও পাঠকের জন্য সহজ ও প্রভাবশালীভাবে তুলে ধরা সম্ভব। সাংবাদিকতার এই ধারায় সফল হতে হলে শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়, বরং গল্প বলার দক্ষতাও সমান জরুরি।
সংযুক্ত আরব আমিরাত মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব কোনায় অবস্থিত সাতটি স্বাধীন প্রদেশের একটি সংগঠন। একসময় এই প্রদেশগুলো চুক্তিবদ্ধ রাষ্ট্র বা ট্রুসিয়াল স্টেটস নামে পরিচিত ছিল।পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে প্রদেশগুলোর নিজস্ব স্বাধীনতা ও স্বকীয়তা লাভ করে। তবে এখনও প্রদেশগুলো একটি কেন্দ্রীয় শাসনের আওতাভুক্ত রয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় শাসনকর্তার পদবী আমির। আরব আমিরাতের মোট আয়তন ৮৩,৬০০ বর্গ কিলোমিটার বা ৩২,৩০০ বর্গ মাইল। ২০১৭ সালের হিসেব অনুযায়ী আরব আমিরাত এর আনুমানিক জনসংখ্যা ৯,৪০০,০০০। সংযুক্ত আরব আমিরাত এর রাজধানীর নাম আবুধাবি এবং দেশটির বৃহত্তম শহর দুবাই। সংযুক্ত আরব আমিরাত এর সাতটি প্রদেশ এর নাম হলো: আবু ধাবি, আজমান, দুবাই, আল ফুজাইরাহ, রাআস আল খাইমাহ, আশ শারজাহ্ এবং উম্ম আল ক্বাইওয়াইন। আরব আমিরাত এ প্রচলিত মুদ্রার নাম আমিরাতি দিরহাম।এশিয়া মহাদেশে অবস্থিত ব্যতিক্রমধর্মী এই দেশটি পুরোপুরি মুসলমান অধ্যুষিত এলাকা। এই দেশের শিল্প, সংস্কৃতি, নাগরিকের জীবনব্যবস্থা সব কিছুর সাথেই ইসলামিক কালচার পুরোপুরি জড়িত। এই দেশটি বিশ্বের অন্যতম বিলাসবহুল দেশ বলে বিবেচিত। আরব আমিরাতে আছে বিশ্বের উচ্চতম স্থাপনাগুলো, যা পুরো বিশ্বের সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। আরব আমিরাত এর ভৌগোলিক অবস্থান: সংযুক্ত আরব আমিরাত এশিয়া মহাদেশের মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থিত একটি দেশ। এটি পুরোপুরি একটি মরুভূমি রাষ্ট্র। মধ্য প্রাচ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় ওমান উপসাগর ও পারস্য উপসাগরের সীমানায় সংযুক্ত আরব আমিরাত অবস্থিত। ওমান ও সৌদি আরবের মধ্যবর্তী স্থানে দেশটি অবস্থান করছে। দেশটির মোট আয়তনের পুরোটাই স্থলভাগ, তবে খুবই সামান্য পরিমানে জলাভূমি রয়েছে। আরব আমিরাত এর পশ্চিমে কাতারের সাথে সীমানা রয়েছে। পশ্চিম, দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্বে সৌদি আরবের সাথে আন্তর্জাতিক সীমানা বিদ্যমান। অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তরপূর্বে ওমানের সাথে আরব আমিরাত এর আন্তর্জাতিক সীমানা রয়েছে। তবে সৌদি আরবের সাথে আরব আমিরাত এর সীমানা নিয়ে এখনও বিভিন্ন মতবিরোধ রয়েছে। ফলে দেশটির সঠিক আয়তন নির্ণয় করাটা সহজসাধ্য নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত এর ইতিহাস : ১,২৭,০০০ বছর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রথম আফ্রিকার মানুষের বসতি স্থাপন করার নিদর্শন পাওয়া যায়। তবে বিরূপ আবহাওয়ার কারনে এবং পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক সম্পদের অভাবে এই অঞ্চলগুলোতে কোনো জনপদই বেশিদিন স্থায়ী হতে পারেনি। এই অঞ্চলের বেশিরভাগ লোকজনই তাবু খাটিয়ে বসতি নির্মাণ করে থাকতো। ঘরবাড়ি তৈরি হলেও তা হতো খুবই সাধারণ মানের। এখানকার জনগণ সব ধরনের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে একদমই মানবেতর জীবনযাপন করতো। ১৯৫৮ সালে এই অঞ্চলে আমেরিকান শাসন আমল শুরু তবে তখন প্রতিটি প্রদেশই একটি আরেকটির থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল এবং আমেরিকান আইনের আওতাধীন ছিল। পরবর্তীতে আমেরিকান শাসক গোষ্ঠীর এই অঞ্চল ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়টি উত্থাপিত হলে প্রদেশগুলোর একত্রিত হয়ে নতুন একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়। অবশেষে ১৯৭১ সালের ২রা ডিসেম্বর ব্রিটিশ শাশনামলের অবসান ঘটে এবং আলাদা আলাদা সাতটি প্রদেশ একত্রিত হয়ে গঠিত হয় সংযুক্ত আরব আমিরাত। এটি বর্তমানে বিশ্ব দরবারেএকটি স্বাধীন ও সার্বভোম ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। সংযুক্ত আরব আমিরাত এর জাতীয় পতাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত এর পতাকায় চারটি রঙ রয়েছে।যথা: লাল, সাদা, সবুজ এবং কালো। পতাকা দন্ডের দিকে একটি উলম্ব লাল অংশ এবং পুরো পতাকা সবুজ, সাদা এবং কালো অনুভূমিক ডোরা দিয়ে নকশা করা হয়েছে। আরব আমিরাত এর জাতীয় পতাকার বৈচিত্র্যময় এই রঙ দিয়ে আলাদা আলাদা প্রদেশের মধ্যে ঐক্য ও মেলবন্ধনকে তুলে ধরা হয়েছে। পতাকাটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ২:১। আরব আমিরাত এর জাতীয় পতাকা নকশা করেন মোহাম্মদ আল মাইনাহ এবং তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর।১৯৭১ সালের ২ ডিসেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাত এর পতাকার নকশা গ্রহণ করা হয়। আরব আমিরাত এর প্রচলিত ভাষা: সংযুক্ত আরব আমিরাত এর সরকারি ভাবে ব্যবহৃত ভাষা আরবি। পাঠ্যপুস্তক, খবরের কাগজ, ম্যাগাজিন থেকে শুরু করে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ সব ধরনের নথিপত্র এবং অনলাইন মাধ্যমে সব যোগাযোগ আরবি ভাষায় পরিচালিত হয়।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মার্জিত ভাষাও আরবি। তবে প্রধান শহরগুলো বাদে আসেপাশের ছোটখাটো অঞ্চলগুলোতে অন্যান্য ভাষাভাষী লোকজনও বসবাস করে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে আরবি ভাষার পাশাপাশি ইংরেজি, হিন্দি, মলয়ালম, উর্দু ও ফিলিপিনো ভাষা প্রচলিত আছে৷ আরব আমিরাতে বসবাসকারী নাগরিকদের ধর্ম: সংযুক্ত আরব আমিরাত একটি মুসলিম প্রধান দেশ। সরকারি ভাবে ইসলামকে জাতীয় ধর্ম হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দেশের অধিকাংশ লোকজন ইসলাম ধর্মের অনুসারী এবং তাদের জীবনধারার সাথে ইসলামিক সংস্কৃতি সম্পূর্ণ মিশে আছে। ইসলাম ধর্ম ছাড়াও দেশটিতে অল্প কিছু সংখ্যক হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীর লোকজন রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত এর মোট জনসংখ্যার শতকরা ৭৬ শতাংশ মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন । শতকরা ৯ শতাংশ জনগণ খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীর, শতকরা ৮ শতাংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বীর এবং বাকি শতকরা ৭ শতাংশ লোকজন বৌদ্ধ ও অন্যান্য ধর্মের অনুসারী। সংযুক্ত আরব আমিরাত এর অর্থনীতি: বিশ্বের ধনী দেশগুলোর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত একটি। আরব আমিরাত এর অর্থনীতির মূল চাকা সচল রেখেছে খনিজ তেল। ৭০ বছর আগে আরব আমিরাতে তেলের সন্ধান মিললে দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটে অল্প সময়ের মধ্যেই। বর্তমানে আরব আমিরাত এর নাগরিকদের মাথাপিছু আয় প্রায় ৪৫,৭১৬ মার্কিন ডলার। সেই হিসেবে দেশটি নিঃসন্দেহে একটি ধনী রাষ্ট্র হিসেবে নিজের পরিচয় দিতে পারে। তেল ছাড়াও সেবা খাত, শিল্প খাত ও পর্যটন খাতেও আরব আমিরাত এর অর্থনীতি নির্ভরশীল। আরব আমিরাত এর অর্থনীতিতে কৃষিখাতেরও সামান্য অবদান রয়েছে। বিশ্বের আশ্চর্যমন্ডিত স্থাপনাগুলোর বেশ কিছু এই দেশে অবস্থিত,ফলে প্রতিবছর অসংখ্য পর্যটক এই দেশে ভ্রমনের উদ্যেশ্যে আসে। এই পর্যটন কেন্দ্র গুলো আরব আমিরাত এর অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমদানি রপ্তানির ক্ষেত্রে আরব আমিরাতে একদমই রমরমা পরিবেশ বিদ্যমান । মূলত চীন, আমেরিকা ও ভারত থেকে দেশটির প্রধান আমদানি পন্যগুলো আসে৷ অন্যদিকে আরব আমিরাত এর সাথে রপ্তানি খাতে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত দেশ হলো ভারত, ইরান ও জাপান। তবে খনিজ তেলের কারনে বিশ্বমঞ্চে আরব আমিরাত নিজের পরিচিতি তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে এবং অর্থনৈতিক ভাবে সফলতার শীর্ষে পৌছাতে পেরেছে। আরব আমিরাত এর আবহাওয়া ও জলবায়ু: সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি শুষ্ক মরুভূমির জলবায়ু রয়েছে। এই দেশে প্রধানত দুইটি ঋতুর আনাগোনা লক্ষ করা যায়। একটি শীত ঋতু এবং অন্যটি গ্রীষ্ম ঋতু। তবে তুলনামূলকভাবে বছরের বেশিরভাগ সময় জুড়েই গ্রীষ্ম ঋতুর উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত আরব আমিরাতে শীত ঋতু বিদ্যমান থাকে। শীতের এই সময়টাতে দেশটির গড় তাপমাত্রা থাকে ১৫ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বছরের বাকি সময়টা থাকে পুরোপুরি গ্রীষ্মকাল। গ্রীষ্মকালে আরব আমিরাত এর গড় তাপমাত্রা থাকে ৩৫ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কখনও কখনও আরও বেশি তাপমাত্রা লক্ষ করা যায়। শুষ্ক মৌসুমে প্রায়ই এখানে বালুর ঝড় হয়। মৌসুমি বাতাস মরুভূমির বালু উড়িয়ে নিয়ে এসে লোকালয়ে প্রবেশ করে। দেশটিতে খুব সামান্য পরিমাণে বৃষ্টিপাত হতে দেখা যায়। দেশটির বার্ষিক বৃষ্টিপাত এর মাত্রা ১০০ মিমি এরও কম। সাধারণত শুষ্ক আবহাওয়াই দেশটির জলবায়ুর মূল বৈশিষ্ট্য। আরব আমিরাত এর সংস্কৃতি: আরব আমিরাত এর সংস্কৃতিতে পুরোপুরি আরবি সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটেছে। তবে আরবি সংস্কৃতির পাশাপাশি পারস্য সংস্কৃতির, পূর্ব আফ্রিকা এবং ভারতীয় উপমহাদেশের সংস্কৃতির প্রভাবও আমিরাতি সংস্কৃতিতে লক্ষ করা যায়। ইসলামিক রীতিনীতি ও কালচার খুব কঠোরভাবে মেনে চলা হয় এই দেশটিতে। তাইতো সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসলামিক সংস্কৃতির রাজধানী নামেও পরিচিত। দেশটির স্থানীয় স্থাপত্য, সঙ্গীত, পোশাক, রন্ধনপ্রণালী এবং জীবনধারায় পুরোপুরি ইসলামিক কালচার এর প্রভাব রয়েছে। আরব আমিরাত এর নাগরিকদের মধ্যে বেশ মিশুকে স্বভাব লক্ষ করা যায়। যে কোনো মজলিসে প্রবেশের সময় আগত মেহমানগন ডানদিক থেকে সকল অতিথিদের সালাম দিয়ে প্রবেশ করে। মজলিসের শুরুতেই বিশেষ এক ধরনের আমিরাতি কফি পরিবেশন করা হয়। এবং পরিবেশনের ক্ষেত্রেও ডানদিক থেকে শুরু করে ঘরের বা দিকে চলে যেতে দেখা যায়। তবে মুরুব্বি এবং সম্মানিত ব্যক্তিদেরকে আগে প্রাধান্য দেয়া হয়। আরব আমিরাত এর সাধারণ মানুষ এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী কান্দুরা এবং আবায়া পড়তে ভালোবাসেন। তবে সবধরনের পোশাকই এমন ভাবে তৈরি করা হয় যাতে পুরো শরীরে আবৃত থাকে। এতে ইসলামিক পোশাকের নিয়মও কক্ষা করা হয় এবং উত্তপ্ত আবহাওয়া থেকেও ত্বকও আরাম পায়। বিয়ের পরে আমিরাতের মহিলারা তার পরিবারের পরিচয়ই বহন করে এবং ছেলে মেয়েরা তাদের বাবার পরিচয়ে পরিচিত হয়। আরব আমিরাত এর নাগরিকদের খাদ্যাভ্যাস: আরব আমিরাত এর নাগরিকদের প্রধান খাদ্য উপাদান হলো ভাত,মাছ, মাংস, রুটি এবং সবজি। তবে ইসলামে হারাম বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এমন পশুর মাংস খাওয়ার প্রচলন একদমই নেই বললেই চলে। আরব আমিরাতে সাধারণত মাটন এবং ভেড়ার মাংস খাওয়ার প্রচলন সবথেকে বেশি। এছাড়াও সামুদ্রিক মাছ ও সবজি এদেশের খাদ্য তালিকায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে। প্রধান খাবার হিসেবে বেশিরভাগ সময়েই সুগন্ধি চালের সাথে মাংসের সংমিশ্রণে রান্না করা খাবার খেতে দেখা যায়। আর প্রতিদিনের খাবার তালিকায় খেজুর তো থাকবেই। আমিরাতের জনপ্রিয় পানীয় হলো কফি এবং চা, যা এলাচ, জাফরান বা পুদিনা পাতা দিয়ে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়। আরব আমিরাত এর জনপ্রিয় খাবার: ১. আল জাবাব রুটি ২. বালালেত ৩.বাথিথ ৪.হারিস ৫.জামি ৬.জাশেদ ৭.কাবসা ৮.খবিস ৯. খানফ্রুশ ১০.খামির রুটি ১১.মাচবুস ১২. মাদ্রুব ১৩. মার্কাউকা ১৪.মাকলুবা ১৫. মুহলা রুটি ১৬ কুজি ১৭.সালোনা ১৮.থারিদ ১৮ ওয়াগাফি রুটি ১৯.উটের দুধ ২০. লাবান ২১.আরবি কফি ২২.আরবি চা (ইত্যাদি) সংযুক্ত আরব আমিরাত এর আমিরাত সমূহ এবং এদের দর্শনীয় স্থান: মোট সাতটি প্রদেশ নিয়ে গঠিত সংযুক্ত আরব আমিরাত এর প্রতিটি প্রদেশেই আছে জনপ্রিয় বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান। পৃথিবীর সবথেকে উঁচু স্থাপনা বুর্জ খলিফাও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত। এছাড়াও সামুদ্র সৈকত, মরুভূমির উদ্যান, পাহাড় সহ আরও অনেক আকর্ষণীয় বিষয় আছে এই দেশে পরিদর্শন করার জন্য। আবুধাবির দর্শনীয় স্থান – ১. লুভর মিউজিয়াম আবুধাবির সবথেকে জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান লুভর মিউজিয়াম। এই জাদুঘরে নিওলিথিক যুগ থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত সকল সভ্যতার প্রাচীন নিদর্শন এর এক বিশাল সংগ্রহ রয়েছে। জাদুঘরটিতে মোট ১২ টি গ্যালারির একটি স্থায়ী প্রদর্শনী তো রয়েছেই তার পাশাপাশি প্রতি বছর বিভিন্ন অকেশনে আরও জমকালো ভাবে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। ২. শেখ জায়েদ মসজিদ সংযুক্ত আরব আমিরাত এর সবথেকে বড় মসজিদ শেখ জায়েদ মসজিদ। এই মসজিদে একসাথে চল্লিশ হাজার মুসুল্লি জামাতে নামাজ আদায় করতে পারবে। অসাধারণ নির্মাণশৈলী মসজিদটিকে এতো বেশি জনপ্রিয় করে তুলেছে। ৩. ফেরারি ওয়ার্ল্ড থিম পার্ক আবুধাবির ইয়াস দ্বীপে অবস্থিত একটি জনপ্রিয় থিম পার্ক ফেরারি ওয়ার্ল্ড থিম পার্ক। ড্রাইভিং পছন্দ করে এমন টুরিস্টদের জন্য একদম উপযুক্ত একটি পর্যটন কেন্দ্র এটি। ৪. আল হোসন ফোর্ট আল হোসন ফোর্ট আবুধাবির হামদান বিন মোহাম্মদ স্ট্রিটে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাসিক নিদর্শন। আরব আমিরাত এর প্রাচীন জনপদের বিভিন্ন নিদর্শন এই ভবনে সংরক্ষিত আছে। ৫. ফ্যালকন হাসপাতাল আবুধাবির অফ সোয়েহান রোডে অবস্থিত ফ্যালকন হাসপাতাল একটি পশুচিকিৎসা হাসপাতাল। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখি সহ হাসপাতাল সংলগ্ন জাদুঘর পরিদর্শন করতে পারবেন। আজমান এর দর্শনীয় স্থান ১. ইতিসালাত টাওয়ার ইতিসালাত টাওয়ার হলো ১৭ তলা বিশিষ্ট একটি বিলাসবহুল ভবন। এখানে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সহ থাকার অভিজ্ঞতা ও বিলাসবহুল শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ পাবেন। ২. আজমান ধো ইয়ার্ড এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি ব্যোটিং এর চমৎকার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন। ৩. আজমান জাতীয় জাদুঘর ১৮ শতকে নির্মিত ভাবনটিতে শহরের প্রাচীন নিদর্শন গুলো দেখতে পাবেন৷ একজন ইতিহাস প্রেমীর জন্য আজমান জাতীয় জাদুঘর খুবই উপযুক্ত একটি দর্শনীয় স্থান। ৪. আল জোরাহ ন্যাচারাল রিজার্ভ এই স্পটে অবস্থানকালে আপনি কিছুসময়ের জন্য ভুলে যেতে বাধ্য হবেন যে আপনি মরুভূমিতে আছেন। অসাধারণ প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে প্রায় ৬০ প্রজাতির পাখির দেখা মিলবে এখানে। ৫. আল মুরাব্বা ওয়াচটাওয়ার এটি আজমান শহরের একটি জনপ্রিয় ঐতিহাসিক নিদর্শন। ১৯৩০ এর দশকে শহরের নিরাপত্তার জন্য এই স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়েছিল। দুবাই এর দর্শনীয় স্থান – ১. বুর্জ খলিফা দুবাই শহরের সবথেকে জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান বুর্জ খলিফা।এটি পৃথিবীর সবথেকে উঁচু ভবন। শহরের যে কোনো প্রান্ত থেকে বুর্জ খলিফার দেখা মিলবে। ২. বুর্জ আল আরাব পৃথিবীর সবথেকে বিলাসবহুল হোটেল ও রেস্তোরাঁর সন্ধান চাইলে চলে যেতে হবে বুর্জ আল আরাবে এটি নৌকার পালের মতো দেখতে একটি ভবন যা একটি দ্বীপের ওপর নির্মিত। ৩. মিরাকল গার্ডেন পৃথিবীর সবথেকে সুন্দর প্রাকৃতিক ফুলের বাগান মিরাকল গার্ডেন, যা একেক ঋতুতে একেক রঙের ফুলে নিজেকে রাঙিয়ে নেয়। ৪. অ্যাকোয়াভেঞ্চার ওয়াটারপার্ক দুবাইয়ের পাম জুমেইরাহ এর ক্রিসেন্ট রোডে অবস্থিত একটি চমৎকার ওয়াটার পার্ক অ্যাকোয়াভেঞ্চার ওয়াটারপার্ক। ৫.দুবাই ডেজার্ট কনজারভেশন রিজার্ভ মরুভূমির টিলা এবং খাদে ট্রেকিং এর এক চমৎকার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাইলে চলে যেতে হবে দুবাই ডেজার্ট কনজারভেশন রিজার্ভে। আল ফুজাইরাহ এর দর্শনীয় স্থান ১. ফুজাইরাহ ফোর্ট ফুজাইরাহ ফোর্ট সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রাচীনতম দুর্গ হিসাবে বিবেচিত। এটি একটি মাটির ইটের তৈরি প্রাচীন ভবন। ২. স্নুপি দ্বীপ স্নুপি দ্বীপে চমৎকার সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি ডাইভিং এবং সুইমিং এর অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন। চাইলে দ্বীপের বিভিন্ন রিসোর্ট ও ভিলা গুলোতে রাত্রিযাপন করতে পারবেন। ৩. আল বিদিয়া মসজিদ শহরের প্রাচীন মসজিদ গুলোর মধ্যে অন্যতম আল বিদিয়া মসজিদ যা অটোমান মসজিদ নামেও পরিচিত। মসজিদটির আশেপাশে আরও অনেকগুলো প্রাচীন ভবন ও চারটি ওয়াচ-টাওয়ার রয়েছে। ৪. বিথনাহ দুর্গ ফুজাইরাহ শহর থেকে ১৩ কিমি দূরে প্রধান মহাসড়কের পাশে অবস্থিত বিথনাহ দুর্গ ফুজাইরাহ এর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন। ৫. কালবা কর্নিচ পার্ক পরিবার পরিজন নিয়ে পিকনিক অথবা বারবিকিউ পার্টি করার জন্য একটি আদর্শ স্পষ্ট কালবা কর্নিচ পার্ক। শিশুদের খেলার জন্য সুন্দর মাঠ ও বসার জন্য উপযুক্ত জায়গা রয়েছে পার্কটিতে। রাআস আল খাইমাহ এর দর্শনীয় স্থান – ১. জেবেল জাইস সংযুক্ত আরব আমিরাতের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জেবেল জাইস। এই পাহাড়চূড়া থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের দারুণ দৃশ্য উপভোগ করা যায়। ২. জাজিরাত আল হামরা আরব আমিরাতে তেল আবিষ্কারের আগে গ্রামগুলির অবস্থা কেমন ছিল তার নিদর্শন মিলবে জাজিরাত আল হামরা নামক গ্রামে। গ্রামটিতে এখনও প্রাচীন যুগের সকল নিদর্শন বিদ্যমান আছে। ৩. রাআস আল খাইমাহ জাতীয় জাদুঘর জাদুঘরের ভবনটি ১৯৬০ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলের শাসকদের বাসভবন ছিল। বর্তমানে ভবনটি শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিত যেখানে প্রাচীন যুগের অসংখ্য নিদর্শন সংগৃহীত আছে। ৪. আল হামরা মল সুবিশাল এলাকা নিয়ে গঠিত আল হামরা মল বিনোদন, কেনাকাটা ও খাওয়াদাওয়ার একটি পারফেক্ট পয়েন্ট। শপিং মলটিতে ১২০ টিরও বেশি দোকান, অসংখ্য ফুড কোর্ট, বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ ও কিডস জোন রয়েছে। ৫. হাজর পর্বত রাআস আল খাইমাহ এর অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত পর্যটন এলাকা হাজর পর্বত। পর্বতমালার নজরকাড়া সৌন্দর্য যে কোনো পর্যটককে তীব্রভাবে আকর্ষণ করে। শারজাহ এর দর্শনীয় স্থান ১. শারজাহ ডেজার্ট পার্ক প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য শারজাহ ডেজার্ট পার্ক একটি উপযুক্ত দর্শনীয় স্থান। তিনটি শ্রেনিতে এই পার্কটির ডেকোরেশন করা হয়েছে।যথা: প্রাকৃতিক ইতিহাস যাদুঘর, আরবীয় বন্যপ্রাণী কেন্দ্র এবং শিশু খামার। ২. আল কাসবা শারজাহ এর একটি জনপ্রিয় শপিং কমপ্লেক্স আল কাসবা। এখানে একই সাথে রেস্তোরাঁ, থিয়েটার এবং কিডস ফান জোন সহ আরও অনেক সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়। ইনডোর এবং আউটডোর বিনোদন কেন্দ্র চলমান থাকে সব সময়। ৩. শারজাহ মিউজিয়াম অফ ইসলামিক সিভিলাইজেশন বিশাল জলরাশির তীর ঘেসে ইসলামিক ইতিহাসের বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নিয়ে স্বগর্বে বিদ্যমান শারজাহ মিউজিয়াম অফ ইসলামিক সিভিলাইজেশন। ইসলামিক নিদর্শন ছাড়াও আরব আমিরাত এর বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন এই জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। ৪. শারজাহ অ্যাকুরিয়াম এটি একটি আর্টিফিশিয়াল সামুদ্রিক পরিবেশ। বিশাল আকৃতির অনেকগুলো ট্রান্সপারেন্ট ট্যাংক এর ভেতর কৃত্রিম সামুদ্রিক পরিবেশ তৈরি করে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ৫. শারজাহ ন্যাশনাল পার্ক ছয় লক্ষ ত্রিশ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে শারজাহ ন্যাশনাল পার্ক নির্মিত হয়েছে। প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে নিবিড় ভাবে কিছুটা সময় কাটানো যায় শারজাহ ন্যাশনাল পার্কে উম্ম আল কোয়াইন এর দর্শনীয় স্থান : ১. ড্রিমল্যান্ড অ্যাকোয়া পার্ক দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার মিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ড্রিমল্যান্ড অ্যাকোয়া পার্ক এই অঞ্চলের সবথেকে বড় এবং জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান। অন্যান্য আমিরাত থেকে এখানে আসার পথও একদম সহজ বলে এখানে পর্যটকদের ভীড় তুলনামূলক বেশি থাকে। ২. UAQ জাতীয় জাদুঘর জাদুঘরের ভবনটি ২৫০ বছরের পুরোনো। এখানে আগে এই অঞ্চলের শাসনকর্তাগন বসবাস করতেন।বর্তমানে আরব আমিরাত এর প্রতিটি প্রদেশ থেকেই অসংখ্য দর্শনার্থী এখানে ভীড় জমায় । ৩. আল সিন্নিয়াহ দ্বীপ চমৎকার সমুদ্র সৈকত এবং দ্বীপের মধ্যকার ম্যানগ্রোভ বনের জন্য প্রচুর দর্শনর্থীদের দ্বীপটি আকর্ষণ করে। ৪. ফালাজ আল মুআল্লা ফালাজ আল মুআল্লা এই আমিরাত এর একটি প্রাচীন শহর। চারটি সুপরিচিত বৃহৎ স্থাপনা ও তিনটি ওয়াচ টাওয়ার এর জন্য এই শহরটি পুরো আমিরাত জুড়ে বিখ্যাত। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিটি প্রদেশই নিজস্ব স্বকীয়তা ও সমৃদ্ধিতে ভরপুর। অর্থনৈতিক অবস্থান, দক্ষ জনশক্তি, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি সব মিলিয়ে দেশটিকে একটি উন্নত দেশে পরিনত করেছে। একটি মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে দেশটি নিজেদের গর্বিত মনে করে এবং বিশ্ব মঞ্চে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরে। মরুভূমির ছোট ছোট জনপদ থেকে আধুনিক নগররাষ্ট্রে রূপান্তরের এক অনন্য উদাহরণ সংযুক্ত আরব আমিরাত। উন্নত অবকাঠামো, শক্তিশালী অর্থনীতি, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এবং বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্রের কারণে দেশটি আজ বিশ্বমঞ্চে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার দেওয়ানহাট এলাকার মহানপাড়া গ্রামে চায়ের সাথী ফসল হিসেবে আম চাষ করে বাড়তি আয়ের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বসিরুল আলম প্রধান। চা বাগানের ফাঁকা জমি কাজে লাগিয়ে সেখানে বিভিন্ন জাতের আম গাছ লাগিয়ে গড়ে তুলেছেন সমন্বিত কৃষির একটি লাভজনক মডেল। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘আলম চেয়ারম্যান’ নামেই পরিচিত। বয়স সত্তর ছুঁইছুঁই হলেও কৃষিকাজে এখনো সমানভাবে সক্রিয় তিনি। বাড়ির পাশের এক সময়ের পড়ে থাকা উঁচু ২২ একর জমিতে গড়ে তুলেছেন চা বাগান। চা চাষে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ক্ষুদ্র চা চাষী হিসেবে ২০২৪ সালে জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। চা বাগানের ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে সেখানে সাথি ফসল হিসেবে বিভিন্ন জাতের আম গাছ রোপণ করেন বসিরুল আলম প্রধান। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার ‘ব্যানানা ম্যাংগো’ গাছ। এছাড়া ৫০টি আম্রপালিসহ আরও শতাধিক বিদেশি জাতের আমের গাছ রয়েছে। চলতি মৌসুমে তার বাগানের আম গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। মুকুল আসার পর থেকেই শুরু হয়েছে পরিচর্যার কাজ। শ্রমিকরা দিনভর বাগানে কাজ করে গাছগুলোর যত্ন নিচ্ছেন। পরিকল্পিতভাবে সাজানো এই বাগান এখন স্থানীয় কৃষকদের কাছেও অনুপ্রেরণার জায়গা হয়ে উঠেছে। বাসস’র সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছেন,আম উৎপাদনেও ভালো সাফল্য পেয়েছেন। ২০২৪ সালে তার বাগান থেকে আম বিক্রি করে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আয় হয়। পরের বছর ২০২৫ সালে আম বিক্রি করে প্রায় ২৫ লাখ টাকা আয় করেন। চলতি বছর আরও বেশি ফলনের আশা করছেন তিনি। চা উৎপাদনেও রয়েছে ধারাবাহিক উন্নতি। ২০২৪ সালে তার বাগানে চা উৎপাদন হয়েছিল এক লাখ ৬৭ হাজার ৬৭১ কেজি। ২০২৫ সালে সেই উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় দুই লাখ পাঁচ হাজার ৪৮৯ কেজিতে। চলতি মৌসুমে সবুজ চা পাতা তোলা শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি চা পাতা ৩৬ টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি, যা তার আয়ের অন্যতম উৎস। বসিরুল আলম প্রধান বলেন, কৃষিকে আমি শুধু পেশা হিসেবে নয়, ভালোবাসা থেকে করি। শুরুতে চা বাগানে শেড ট্রি হিসেবে আম গাছ লাগাই। ভালো ফলন পাওয়ায় ধীরে ধীরে বাগানের ফাঁকা জায়গাগুলোতে বিভিন্ন জাতের আম গাছ রোপণ করি। এখন চায়ের পাশাপাশি আম থেকেও ভালো আয় হচ্ছে। অনেকেই আমার বাগান দেখতে আসেন এবং উৎসাহ পান। আমি চাই তরুণ কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষিতে এগিয়ে আসুক। ব্র্যাক নার্সারির ম্যানেজার আশিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, চা বাগানের সঙ্গে আম চাষের এই সমন্বিত পদ্ধতি কৃষকদের জন্য লাভজনক হতে পারে। আলম সাহেব উদ্ভাবনী চিন্তার একজন কৃষক। আমরা নিয়মিত তাকে কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে আসছি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পঞ্চগড়ের উপপরিচালক আব্দুল মতিন বলেছেন, চা বাগানের মাঝখানে সাধারণত ফাঁকা জায়গা রাখা হয়। অনেক চাষী সেখানে শেড ট্রি হিসেবে বিভিন্ন গাছ লাগান। সেখানে যদি আম বা অন্য ফলজ গাছ লাগানো যায়, তাহলে সেখান থেকে বাড়তি আয় পাওয়া সম্ভব। সবুজ চা পাতার দাম কমে গেলেও ফলের আয় দিয়ে সেই ঘাটতি কিছুটা পূরণ করা যায়। তিনি আরও বলেন, বসিরুল আলম প্রধানের সমন্বিত চা ও আম বাগানটি আমরা পরিদর্শন করেছি। তিনি খুব যত্ন সহকারে বাগানটি পরিচালনা করছেন। সঠিক পরিচর্যা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এখান থেকে আরও ভালো ফলন পাওয়া যাবে।
জুলহাস আলম: আমাদের শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক, সাখাওয়াত আলী খান ৯ মার্চ ২০২৬ প্রয়াত হয়েছেন। স্যারের মৃত্যুতে গণমাধ্যমে ও অন্যান্য খাতে ছড়িয়ে থাকা অগণিত শিক্ষার্থীর হৃদয় ভারাক্রান্ত। আমরা যারা স্যারের সরাসরি ছাত্র, স্যারের বিদায়ে আমরা আবেগাপ্লুত হয়েছি। খবরটা যখনই পেলাম, আমার সামনে একজন শিক্ষকের, একজন অভিভাবকের প্রতিকৃতি ভেসে উঠল। ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি, ব্যাকব্রাশ করা চুল, মোটা ফ্রেমের চশমা, স্মিত হাসি, পরিষ্কার কণ্ঠ, সৌম্য, সুদর্শন একজন মানুষ। বুদ্ধিদীপ্ত চোখ, নরম করে কথা বলার স্টাইল—যুক্তি আবার কখনো হিউমার মিশ্রিত বাক্য চয়ন। শ্রেণীকক্ষে তিনি গল্প বলে ক্লাস নিতেন। যা বলতেন তা ছবির মতো পরিষ্কার। সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা, ফিচার লেখা—এসব বিষয় পড়ানোর সময় ক্লাস প্রাণবন্ত হয়ে উঠত। ২০০৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত অধ্যাপনা থেকে অবসর নেন। তারপরও যুক্ত ছিলেন বিভাগে। অনারারি অধ্যাপক হিসেবে। যুক্ত ছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও। স্যারকে প্রথম জানা শুরু করি বিভাগে ভর্তি হওয়ার পরপরই। বোধ হয় তখনো স্যারের কোনো ক্লাস পাইনি। এর মধ্যে আমি ম্যাস লাইন মিডিয়া সেন্টার (এমএমসি) নামের একটি গণমাধ্যম সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানে টুকটাক লেখালেখির কাজ শুরু করি। সেখানে একটা পাবলিকেশন বের হবে, তাই কিছু সাক্ষাৎকার লাগবে।এমএমসির প্রধান নির্বাহী কামরুল হাসান মঞ্জু ভাই আমাকে বললেন সবগুলো সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য। তিনি আমাকে সাখাওয়াত স্যারের কাছে যেতে বললেন। এদিকে আমি ভয়ে অস্থির। একেবারেই নবীন আমি। কেবল আমি সাংবাদিকতার ফাইভ ডবলিউজ ও ওয়ান এইচ (5W, 1H) এর সাথে পরিচিত হচ্ছি। ...ভয় কেটে গেল। তারপর সাক্ষাৎকার নিয়ে ফিরলাম। পরবর্তী জীবনে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এই ফর্মুলা আমার কাজে লেগেছে। কোনো সাক্ষাৎকার নিতে গেলে কী করে সাক্ষাৎকার প্রদানকারীদের সহজ করে নিতে হয়, আস্থার জায়গায় নিতে হয়, সেই শিক্ষা আমি সেদিন পেয়েছিলাম ক্লাসরুমের বাইরে। একজন প্রথিতযশা অধ্যাপককে ইন্টারভিউ করার সাহস আমার হওয়ার কথা নয়। তাও আবার গণমাধ্যমের পলিসি লেভেল নিয়ে। মুক্ত সাংবাদিকতা ও গণতন্ত্র নিয়ে। দৌড়ে গেলাম পাবলিক লাইব্রেরিতে। প্রশ্ন তৈরি করতে হবে। শেষে একগুচ্ছ প্রশ্ন তৈরি করে গেলাম স্যারের বাসায়। ভয়ে ভয়ে গেলাম।স্যার একটা সাদা পায়জামা ও ফতুয়া পরে আমার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কী আশ্চর্য! যেখানে আমি ভয়ে অস্থির—কী থেকে কী বলে ফেলি! তিনি মুহূর্তেই আমাকে সহজ করে দিলেন। বললেন, তোমার হাতে সময় আছে? তাহলে চা খেতে খেতে গল্প করা যাক। আমি বললাম, সময় আছে। স্যার খুশি হলেন, বললেন, শেষে সাক্ষাৎকার দেওয়া যাবে। আমার বাবা, মার খবর নিলেন। কোথায় থাকি, বাড়ি কোথায়, কেন সাংবাদিকতা পড়তে আসলাম ইত্যাদি। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কীভাবে সাংবাদিকতা বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হলো, সেসব নিয়ে গল্প করলেন। নিজের অজান্তেই কখন যেন সহজ হয়ে গেলাম। মনে হলো, একজন অতি আপনজনের সাথে বহুদিন পর দেখা হয়েছে। ভয় কেটে গেল। তারপর সাক্ষাৎকার নিয়ে ফিরলাম। পরবর্তী জীবনে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এই ফর্মুলা আমার কাজে লেগেছে। কোনো সাক্ষাৎকার নিতে গেলে কী করে সাক্ষাৎকার প্রদানকারীদের সহজ করে নিতে হয়, আস্থার জায়গায় নিতে হয়, সেই শিক্ষা আমি সেদিন পেয়েছিলাম ক্লাসরুমের বাইরে। সেই থেকে বুঝতে পেরেছি একজন সোর্স কেবল একজন তাৎক্ষণিক সোর্স নয়, বরং এটা একটা সম্পর্ক, আস্থা ও বিশ্বাসের। বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় আমার শিক্ষক অধ্যাপক আহাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলী স্যারের অনুপ্রেরণায় নিয়মিত একটা দেয়াল পত্রিকা বের করার সিদ্ধান্ত নেই। আমরা কয়েকজন মিলে শুরু করি। হাতে লেখা দেয়াল পত্রিকা বের করলাম। দেয়ালে টানালাম সেটা। একদিন সকালে দেখি সাখাওয়াত স্যার করিডোরে একা দাঁড়িয়ে খুব মনোযোগ দিয়ে সেটা পড়ছেন। আমি পাশে গিয়ে দাঁড়াতেই তিনি খুব প্রশংসা করলেন। বললেন, এটা ছাপা ফরম্যাটে বের করার চেষ্টা করো। খুব ভালো হবে। আমার মাথায় যথারীতি ভাবনাটা গেঁথে গেল। তৎকালীন বিভাগীয় চেয়ারপার্সন অধ্যাপক সিতারা পারভীন ম্যাডামকে বললাম যে একটা পত্রিকা বের করতে চাই। সাখাওয়াত স্যারের কথা বললাম। ম্যাডাম বললেন, কী করতে চাও সেটার একটা লিখিত প্রস্তাবনা দাও। তারপর গেলাম আহাদুজ্জামান স্যারের কাছে। তিনি তখন আমার টিউটোরিয়াল শিক্ষক। স্যার উৎসাহ দিলেন। লেখা সংগ্রহের কাজ শুরু হলো। আমি তখন সেগুনবাগিচায় অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নিয়ে একটা লেখা তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিলাম। পরবর্তীতে এডিটরিয়াল বোর্ড আমার লেখাটাকে কভার স্টোরি বা প্রধান লেখা হিসেবে ছাপানোর সিদ্ধান্ত নিলো। পত্রিকা বের হলো। প্রথম সংখ্যার প্রথম প্রধান লেখাটা আমার। আমি খুশি অনেক। সাখাওয়াত স্যার আমাকে ডাকলেন। অনেক খুশি হয়েছেন স্যার। অনেক উৎসাহ দিলেন। শিক্ষক তিনিই, যিনি সাধারণত ক্লাসে পড়ান। অনেকেই শিক্ষক হতে পারেন, কিন্তু সবাই গুরু নন। সাখাওয়াত স্যার আমাদের অনেকের কাছেই শিক্ষাগুরু। বিভাগের বাইরে, কোনো টিভি স্টেশনে বা সেমিনারে, যতবারই দেখা হয়েছে, তিনি আদর করে কাছে ডাকতেন, পরম মমতায় খোঁজ খবর নিতেন। একজন ইতিহাস সচেতন, সংস্কৃতিমনা এবং যোগাযোগ ভাবনায় ডুবে থাকা মানুষ ছিলেন স্যার। সাংবাদিকতাকে তিনি অনেক দায়িত্বশীল পেশা হিসেবে তুলে ধরতেন। কবিতা ভালবাসতেন। বিভাগে একবার জীবনানন্দ দাশের কবিতা পড়তে সাহস করলাম। তিনি ছিলেন বিচারক। ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি পড়লাম। তিনি পরে ডেকে আমাকে বললেন, জীবনানন্দ দাশের কবিতায় যে মেলানকলি (Melancholy) আছে সেটা ধরতে কত গভীরে প্রবেশ করতে হয়, সে বিষয়ে কথা বললেন। আমি মুগ্ধ হয়ে স্যারের কথা শুনলাম। কত সহজ করে আমাকে বুঝিয়ে দিলেন! তারপর থেকে জীবনানন্দ দাশ আমার কাছে অন্যরকম অর্থ তৈরি করলো। তিনি বললেন, তার কবিতায় প্রচুর রূপকল্প আছে। চোখ বন্ধ করলে তা অনুভব করা যায়। হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে হয় তা। সাখাওয়াত স্যারের সেই কথাগুলো এখনো আমার কানে বাজছে। সাখাওয়াত স্যার নিজে দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করেছেন, শিক্ষকতা করেছেন, দেশ-বিদেশের জার্নালে প্রবন্ধ লিখেছেন, পত্রিকায় কলাম লিখেছেন। অভিজ্ঞতায় ভরপুর একজন মানুষ। বিনয়ী, আবার বাবার মতো অভিভাবকসুলভ ছিলেন। সাখাওয়াত স্যার নিজে দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করেছেন, শিক্ষকতা করেছেন, দেশ-বিদেশের জার্নালে প্রবন্ধ লিখেছেন, পত্রিকায় কলাম লিখেছেন। অভিজ্ঞতায় ভরপুর একজন মানুষ। বিনয়ী, আবার বাবার মতো অভিভাবকসুলভ ছিলেন। মজাও করতেন। একবার বেসরকারি একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত একটা তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্যারের সাথে আমিও অতিথি হিসেবে মঞ্চে ছিলাম। পাশাপাশি বসলাম। স্যারকে বললাম, খুব ভালো লাগছে স্যার আপনাকে পেয়ে। আপনার বয়স বাড়েনি স্যার। হাসলেন তিনি। বললেন, তুমি ঠিকই বলেছ, আগে ছিলাম খোকা, আর এখন হয়েছি বুড়ো খোকা! বলেই হাসলেন। স্বভাবসুলভ খোঁজ খবর নিলেন আমার, আমার পরিবারের। জানতে চাইলেন আমার প্রতিষ্ঠান এপি কেমন চলছে ইত্যাদি। খুব খুশি হলেন তিনি। অন্য অতিথিদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন এই বলে যে, ও আমার ছাত্র। বিদায়ের সময় মাথায় হাত দিয়ে দোয়া করলেন, নিজের জন্য দোয়া চাইলেন। প্রিয় সাখাওয়াত স্যার আজ আর নেই। সাংবাদিকতা শিক্ষার একজন পথিকৃৎকে হারালাম আমরা। একজন অভিভাবককে হারালাম আমরা। স্যারের সাথে টুকরো টুকরো স্মৃতি বয়ে চলব সারা জীবন। স্যারের জন্য প্রার্থনা। জুলহাস আলম : ব্যুরো প্রধান, এসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)
ড. মো. অলিউর রহমান: তিনি নি নেই-এই সত্যটি আজও মেনে নিতে পারছিনা। তাই দুদিন ধরে মনটা খুব ভারী হয়ে আছে। মনে হচ্ছে, আমার খুব চেনা এক পৃথিবী হঠাৎ নিঃশব্দে হারিয়ে গেছে। তার চলে যাওয়া মানেই আমার একান্ত চেনাজগৎ থেকে আলো নিভে যাওয়া। যেন পরিচিত অক্ষরগুলো হঠাৎ ঝাপসা হয়ে যাওয়া। বলছি, আমার-আমাদের শিক্ষাগুরু অধ্যাপক সাখাওয়াত স্যারের কথা, যিনি আজ আর আমাদের মধ্যে নেই। সম্প্রতি স্ট্রোক করার পর কয়েক দিনের চিকিৎসা শেষে রবিবার রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে আমার শিক্ষক, পথপ্রদর্শক ও পিতৃসম অভিভাবক 'শিক্ষাগুরু সাখাওয়াত আলী খান স্যার'। আমার একাডেমিক জীবনের প্রতিটি বাঁকেই তার স্নেহময় নির্দেশনা পেয়েছি। প্রায় ৯ বছর ধরে নানা চড়াই-উতরাই অভিজ্ঞতায় তার তত্ত্বাবধানে পিএইচডি গবেষণার সময় আমি শুধু গবেষণার কর্মপদ্ধতিই শিখিনি, অধিকন্তু শিখেছি সততা, নৈতিকতা আর মানবিকতার এক নির্মল পাঠ। এমফিল অধ্যয়নকালেও তার স্নেহময় দিকনির্দেশনা আমাকে অধ্যয়ন-গবেষণার মর্মসন্ধানে অনুপ্রাণিত করেছিল। স্যারের বাসায় গিয়ে দীর্ঘ আলাপ, তার স্নেহময় পরামর্শ-সবই আজ স্মৃতির ভান্ডারে সমুজ্জ্বল। করোনাকালে খালাম্মা মালেকা খান ও স্যারের ছেলে নওশের আলী খানের কড়া অনুশাসন জারি থাকায় স্যারের সঙ্গে দেখা হতো না ঠিকই; কিন্তু স্যারের সঙ্গে মানবিক জীবনের ফোনালাপ ছিল নিয়মিত। বাংলাদেশের সাংবাদিকতা শিক্ষার ইতিহাসের সঙ্গে মিশে আছে সাখাওয়াত স্যারের নাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় স্নাতক (সম্মান) কোর্সের প্রবর্তন তারই হাত ধরে। তিনি বিভাগের চেয়ারম্যান থাকাকালে সাংবাদিকতা শিক্ষার একাডেমিক জগতের যে সম্প্রসারণ ঘটে, তা সময়ান্তরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় সাড়ে পাঁচ দশক ধরে এ দেশে সাংবাদিকতা শিক্ষায় তিনি নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ সম্পাদনা ও ফিচার লিখন কোর্সে আমি আজও তার বিকল্প খুঁজে পাইনি-সম্পাদনার শিল্প, কৌশল ও দর্শনের গভীরতা তিনি যেভাবে বোধগম্য করে তুলতেন, তা ছিল সত্যিই অতুলনীয়। সাংবাদিকতায় ফিচার লেখাকে তিনি সামাজিক দায়বদ্ধতার নিরিখে মানবিক জীবনের গল্প বলার সংবাদ-শিল্পকলায় উন্নীত করতে আমাদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। 'সাখাওয়াত স্যার' এক উষ্ণ মানবিক সম্পর্কের নাম। তিনি ছিলেন আমার কাছে পরশ-মানবব্যক্তিত্ব। দেশ, কাল, সমাজ ও রাজনীতিসচেতন মানুষ ছিলেন তিনি, কিন্তু জাতীয় রাজনীতি তথা সুবিধাবাদী পালাবদলের পঙ্কিল রাজনীতির সামান্য কলুষতাও কোনো দিন তার পরিচ্ছন্ন ও সমুজ্জ্বল ব্যক্তিত্বকে এতটুকু কলুষিত করতে পারেনি। পরিস্থিতির শিকার হয়ে কর্মস্থলের নানা টানাপড়েন ও চড়াই-উতরাইয়ে যখন হতাশ হয়ে পড়তাম, তখন তিনি সান্ত্বনা দিতেন। পিতৃতুল্য অনুশাসনের স্বরে বলতেন- 'আর একটু ধৈর্য ধরো, সামনেই তোমার ভালো দিন অপেক্ষা করছে। তুমি আমাকে না জানিয়ে চাকরি বা দায়িত্ব ছাড়ার আর কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না কিন্তু।' তার এই স্নেহময় বাক্যগুলো আজও আমাকে নিয়ত পথ দেখায়। তার হাস্যোজ্জ্বল, যুক্তিবাদী ও সহিষ্ণু ব্যক্তিত্ব, ভিন্নমতকে শ্রদ্ধাভরে গ্রহণের গুণাবলি-এসব কাছ থেকে না দেখলে বা তার সান্নিধ্যে না এলে বোঝানো যাবে না। তিনি ছিলেন একাধারে অভিজাত পরিবারের সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের সক্রিয় সংগঠক এবং প্রগতিশীল চেতনার ধারক ও বাহক। স্যারের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। শিক্ষার্থী থেকে শিক্ষকতার জীবন অবধি বিভিন্ন পরিমণ্ডলে তার যে অপরিমেয় সান্নিধ্য আমি পেয়েছি, তা জ্ঞানচর্চার সততা ও নৈতিকতার কঠিন পাঠ, যা আজীবন আমাকে প্রেরণা জুগিয়ে যাবে। গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে সাংবাদিকতা বিভাগ চালুর সময় তিনি শুরু থেকেই পাশে ছিলেন। ২০১৮ সালের ২২ নভেম্বর বিভাগের উদ্বোধন করেছিলেন তিনি নিজ হাতে। পাঠক্রম পরিকল্পনা থেকে ক্লাস পরিচালনা অবধি-সব ক্ষেত্রেই তার মূল্যবান পরামর্শ ছিল আমার অনন্য পাথেয়। জাতীয় জীবনে গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রশ্নে তিনি আমাকে প্রায়ই খোঁজ নিতে বলতেন। কে জানত, তার সেই অনুসন্ধিৎসু যোগাযোগ স্মৃতি একদিন হয়ে উঠবে এমন অফুরান প্রেরণার বাতিঘর। তিনি চলে গেছেন-এ কথা মনে হয় ভুল। কারণ, স্যার আসলে চলে যাননি। তিনি ফিরে এসেছেন আমাদের মূল্যবোধ জাগ্রত করতে-আমাদের চেতনার বর্ধিত পরিসরে। তার পরশ, তার উপস্থিতি আমরা চিরকাল টের পাব। সাংবাদিকতা শিক্ষার এই মহিরুহ, বহু শিক্ষকের শিক্ষক, আমার প্রিয় শিক্ষাগুরু অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। স্যার, আপনার কাছে আমরা চিরঋণী। লেখক: ড. মো. অলিউর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারপার্সন, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম যোগাযোগ বিভাগ গ্রিন ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ। Ph.D. on RTI [1st Ph.D. Degree on the Right to Information Act in Bangladesh]; Title of Thesis: “Journalists’ Access to Information: Pre and Post-Situation Analysis of the Right to Information Act” Fellow of IIJ (Berlin) Germany,M. Phil. in Mass Communication, B.A (Hons.) & M. A in Mass Communication and Journalism। এই নিবন্ধটি অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের স্মরণে তাঁর ছাত্র ড. মো. অলিউর রহমানের একটি আবেগঘন শ্রদ্ধাঞ্জলি। নিবন্ধটির মূল বিষয়বস্তু নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো: এক জীবনের অফুরান প্রেরণার বাতিঘর বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা: লেখক তাঁর প্রিয় শিক্ষক অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁকে একজন শিক্ষক, পথপ্রদর্শক এবং 'পিতৃসম অভিভাবক' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতায় অবদান: অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার প্রসারে অসামান্য অবদান রেখেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগ চালু করার ক্ষেত্রে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে তিনি এই পেশায় অসংখ্য শিক্ষার্থী তৈরি করেছেন। ব্যক্তিত্ব ও আদর্শ: তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধৈর্যশীল, যুক্তিবাদী এবং সহনশীল একজন মানুষ। লেখক উল্লেখ করেছেন যে, কঠিন সময়ে স্যার তাঁকে সাহস জোগাতেন এবং সততা ও নৈতিকতার সাথে পথ চলার শিক্ষা দিতেন। তাঁর সান্নিধ্য লেখকদের গবেষণায় এবং পেশাগত জীবনে গভীর অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। শেষ জীবন: সম্প্রতি স্ট্রোক করার পর রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও শিক্ষা অঙ্গনে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে। ১. শোকের সূচনা নিবন্ধের শুরুতেই লেখক তাঁর প্রিয় শিক্ষক অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, স্যারের চলে যাওয়া মানে তাঁর পরিচিত জগতের আলো নিভে যাওয়া। সম্প্রতি স্ট্রোক করার পর রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ২. শিক্ষক ও অভিভাবক হিসেবে স্যার লেখক দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে স্যারের সান্নিধ্যে ছিলেন। তিনি তাঁকে শুধু শিক্ষক নয়, বরং একজন 'পিতৃসম অভিভাবক' ও পথপ্রদর্শক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ড. অলিউর রহমান তাঁর অধীনে পিএইচডি গবেষণা করেছিলেন এবং দীর্ঘ ৯ বছর স্যারের তত্ত্বাবধানে কাজ করার সময় তাঁর সততা, নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলী কাছ থেকে দেখেছেন। ৩. সাংবাদিকতা শিক্ষায় অবদান বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার বিকাশে সাখাওয়াত আলী খানের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগ (বর্তমানে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ) চালুর ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। প্রায় পাঁচ দশক ধরে তিনি সাংবাদিকতা শিক্ষার প্রসারে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। রিপোর্টিং, ফিচার লিখন এবং সংবাদ সম্পাদনার মতো জটিল বিষয়গুলোকে তিনি অত্যন্ত সহজ ও দর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতেন। ৪. ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য লেখক স্যারের কিছু অনন্য গুণের কথা উল্লেখ করেছেন: তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও যুক্তিবাদী। কর্মক্ষেত্রের নানা চড়াই-উতরাইয়ে লেখক যখন হতাশ হতেন, তখন স্যার তাঁকে সাহস জুগিয়ে বলতেন, "আর একটু ধৈর্য ধরো, সামনে তোমার ভালো দিন অপেক্ষা করছে।" তিনি ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা জানাতেন এবং সংকীর্ণ রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে একজন আলোকিত মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। পরিবার ও সমাজের প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধ ছিল অনুকরণীয়। ৫. শেষ বিদায় ও কৃতজ্ঞতা নিবন্ধের শেষে লেখক অত্যন্ত আবেগপূর্ণভাবে বলেছেন যে, যদিও স্যার শারীরিকভাবে নেই, কিন্তু তাঁর আদর্শ ও শিক্ষা চিরকাল বেঁচে থাকবে। তিনি গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর সাংবাদিকতা বিভাগে স্যারের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। সবশেষে তিনি স্যারের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন। নিবন্ধটি শেষ হয়েছে স্যারের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং তাঁর প্রতি চিরস্থায়ী কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে।
ড. মো. অলিউর রহমান: বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার অন্যতম পথিকৃৎ শিক্ষক অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত আলী খান ৮৫ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন ৮ মার্চ। মৃত্যুর আগপর্যন্ত তিনি বাংলাদেশে সাংবাদিকতার একাডেমিক শিক্ষাঙ্গনে আলোকবর্তিকারূপে অবদান রেখে গেছেন। তিন যুগের বেশি সময় ধরে তিনি ছিলেন আমার শিক্ষাগুরু। অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান শুধু আমারই শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন বহু সফল শিক্ষকের শিক্ষক। তাঁর সান্নিধ্যেই আমার একাডেমিক ও গবেষণাজীবনের ভিত্তি নির্মিত হয়েছে। প্রায় ৯ বছর তাঁর তত্ত্বাবধানে পিএইচডি গবেষণা করেছি; এমফিল অধ্যয়নকালেও তাঁর নির্দেশনায় অধ্যয়ন-গবেষণার গভীরে নিবিষ্ট হতে পেরেছি। একজন শিক্ষক কীভাবে ছাত্রকে চিন্তার স্বাধীনতা দেন, গবেষণায় ধৈর্য শেখান এবং নৈতিকতার ভিত গড়ে দেন—স্যারের কাছেই তার অফুরান বাস্তব শিক্ষা পেয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় স্নাতক (অনার্স) কোর্স প্রবর্তনের মাধ্যমে স্যার সাখাওয়াত আলী খান বাংলাদেশের সাংবাদিকতা শিক্ষায় নতুন এক যুগের সূচনা করেছিলেন। এ দেশের সাংবাদিকতা শিক্ষা, গবেষণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় তিনি প্রায় সাড়ে পাঁচ দশক সময় ধরে অবদান রেখে গেছেন, যা আজ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা অধ্যয়নে একটি ঐতিহ্যের ধারক হয়ে উঠেছে। তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম সাংবাদিকতা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের শিক্ষায় দীক্ষিত করেছেন। বিশেষ করে সম্পাদনা কোর্সে তাঁর দক্ষতা ছিল অনন্য—সম্পাদনার আর্ট, ক্রাফট ও দর্শনের যে গভীরতা তিনি তুলে ধরতেন, তার বিকল্প দেখিনি এ দেশে। স্যারের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল শিক্ষক-শিক্ষার্থীর গণ্ডি ছাড়িয়ে এক গভীর মানবিক গুরু-শিষ্যের বন্ধনে আবদ্ধ। নিয়মিত তাঁর বাসায় যেতাম। গবেষণা, সাংবাদিকতা শিক্ষা, গণমাধ্যমের নৈতিকতা কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের নানা প্রশ্ন—সবকিছু নিয়েই তাঁর সঙ্গে কথা হতো। করোনা মহামারির সময় সরাসরি দেখা কম হলেও ফোনালাপ ছিল নিয়মিত। তাঁর সহধর্মিণী মালেকা খান ও তাঁর সুযোগ্য সন্তান নওশের আলী খান স্যারকে যে নিবিড় যত্নে দেখাশোনা করতেন, তা সব সময় আমাকে গভীরভাবে আমার অন্তরতল স্পর্শ করত। গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে ‘জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া কমিউনিকেশন’ বিভাগ চালুর সূচনা থেকেই তিনি আমাকে অকুণ্ঠ সহযোগিতা দিয়েছেন। ২০১৮ সালের ২২ নভেম্বর বিভাগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও করেছিলেন তিনি। পাঠক্রম নির্মাণ, বিভাগীয় পরিকল্পনা, শিক্ষাদান—সব ক্ষেত্রেই তাঁর অমূল্য পরামর্শ ছিল। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ, ইউল্যাব, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও গ্রিন ইউনিভার্সিটিসহ তিনি সাংবাদিকতা শিক্ষার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন উদারমনস্ক, প্রগতিশীল ও গভীর মানবিকতার মানুষ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এই শিক্ষাগুরু ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা করতেন, অন্যের কথা মন দিয়ে শুনতেন এবং যুক্তির আলোয় আলোচনাকে প্রাণবন্ত করতেন। কর্মজীবনের নানা সংকটে তিনি আমাকে ধৈর্য ধরতে শিখিয়েছেন। বলতেন, ‘কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভেবে নেবে, তাড়াহুড়া কোরো না।’ তাঁর সেই মমতা ও প্রজ্ঞা আজও আমার পথচলার অপার প্রেরণা। সাখাওয়াত আলী খান স্যার আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন—এই সত্য মেনে নেওয়া কঠিন। তবু মনে হয়, তিনি হারিয়ে যাননি, তিনি ফিরে ফিরে আসবেন আমাদের মাঝে। তাঁর শিক্ষা, চিন্তা, নৈতিকতা ও মানবিকতার আলো আমাদের প্রজন্মের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকবে অনাগতকাল। আমার শিক্ষাগুরু, সাংবাদিকতা শিক্ষার এই মহিরুহ ও দিশারি শিক্ষককে জানাই গভীরতম শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। ড. মো. অলিউর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারপার্সন, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম যোগাযোগ বিভাগ গ্রিন ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত ৪৯ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা, বিশ্লেষণ এবং সমালোচনা। কারণ, এই মন্ত্রিসভায় দেখা গেছে এক বড় ধরনের প্রজন্মগত পরিবর্তন। দীর্ঘদিন ধরে দলের কঠিন সময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা এবং খালেদা জিয়ার শাসনামলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা অনেক প্রবীণ নেতা মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছেন। অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের রাজনীতিবিদ এবং জোটের তরুণ নেতাদের ওপর আস্থা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু মন্ত্রিসভা গঠন নয়—এটি বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। নতুন মন্ত্রিসভায় বড় পরিবর্তন তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রিসভায় মোট সদস্য সংখ্যা ৪৯। এর মধ্যে প্রায় ৪০ জনই নতুন মুখ। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নিজেও এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই মন্ত্রিসভার বৈশিষ্ট্য হলো— তরুণ নেতৃত্বের প্রাধান্য জোটের কিছু নতুন মুখের অন্তর্ভুক্তি টেকনোক্র্যাট নিয়োগ প্রবীণদের আংশিক সাইডলাইন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মন্ত্রিসভা বিএনপির ঐতিহ্যগত নেতৃত্ব কাঠামোর তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন। বাদ পড়া হেভিওয়েট নেতারা সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্যের নাম মন্ত্রিসভায় না থাকা। তাদের মধ্যে রয়েছেন: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ড. আব্দুল মঈন খান এই তিনজনই অতীতে খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্যদের মধ্যে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার এবং সেলিমা রহমানও মন্ত্রিপরিষদে স্থান পাননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির দুঃসময়ে দলকে সংগঠিত রাখার ক্ষেত্রে এই নেতাদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তারেক রহমান বিদেশে নির্বাসনে এবং খালেদা জিয়া কারাবন্দি থাকার সময় দলকে সক্রিয় রাখতে তাদের ভূমিকা দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে স্বীকৃত। উপদেষ্টা পদে ‘সমঝোতা’? তবে পুরোপুরি বাদ পড়েননি দলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নেতা। মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান এবং রুহুল কবির রিজভী আহমেদকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি এক ধরনের ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা। একজন সাবেক কূটনীতিক বলেন, “দলের প্রবীণদের সম্পূর্ণ উপেক্ষা করলে রাজনৈতিক অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। উপদেষ্টা পদ দিয়ে সেই অসন্তোষ কিছুটা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।” মঈন খানের প্রতিক্রিয়া মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়ার বিষয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মন্ত্রিপরিষদে স্থান পাওয়ার বিষয়টি দেখছেন দলের চেয়ারম্যান। এটা নিয়ে আমার মন্তব্য না করা ভালো।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংযত প্রতিক্রিয়া দলীয় শৃঙ্খলার ইঙ্গিত দেয়। জোট রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রিসভায় বিএনপির বাইরের কিছু রাজনৈতিক দল থেকেও নেতা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন: গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ এই অন্তর্ভুক্তিকে অনেকেই জোট রাজনীতির নতুন বার্তা হিসেবে দেখছেন। যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীদের ক্ষোভ তবে সব জোটসঙ্গী সন্তুষ্ট নন। যুগপৎ আন্দোলনের দীর্ঘদিনের অংশীদার কয়েকটি দলের নেতারা মন্ত্রিসভায় জায়গা না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক এবং ভাসানী জনশক্তি পার্টির শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর নাম আলোচনায় থাকলেও তারা শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এ নিয়ে প্রকাশ্যেই সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “প্রথমত এটি পুরোটাই বিএনপির সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের দুই-তিনজন থাকছেন। বিএনপি বাস্তবে যুগপৎ সঙ্গীদের বাদ দিয়েই হাঁটছে।” তিনি আরও বলেন, “কঠিন সময়ের সঙ্গীদের বাদ দিয়ে সরকার গঠন করা হয়েছে। এর রাজনৈতিক অভিঘাত পরে বোঝা যাবে।” সবচেয়ে বড় চমক: খলিলুর রহমান এই মন্ত্রিসভার সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে খলিলুর রহমানকে। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বিএনপির ভেতরে অনেক নেতাকর্মী তার ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। বিশেষ করে দুটি বিষয় নিয়ে বিতর্ক ছিল— বিদেশি কোম্পানিকে বন্দর ইজারা রোহিঙ্গা করিডোর প্রস্তাব তবুও এমপি না হয়েও টেকনোক্র্যাট কোটায় তাকে গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলের ভেতরে অনেকেই এই সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। যাদের কপাল খুলল না সাবেক মন্ত্রীদের মধ্যে আরও কয়েকজনের নাম মন্ত্রিসভায় আসতে পারে বলে আলোচনায় ছিল। তাদের মধ্যে ছিলেন— মীর নাছির আলতাফ হোসেন চৌধুরী বরকত উল্লাহ বুলু লুৎফুজ্জামান বাবর আমান উল্লাহ আমান কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা কেউই মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। এছাড়া দলের দুঃসময়ের কান্ডারি হিসেবে পরিচিত যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেলের নামও আলোচনায় ছিল। তাকেও টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে বলে গুঞ্জন ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনাও বাস্তবায়িত হয়নি। নেতৃত্বের নতুন কৌশল? বিএনপির এক স্থায়ী কমিটির সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “তারেক রহমান তার নিজের রাজনৈতিক কৌশল অনুযায়ী মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তার এখতিয়ার।” তিনি আরও বলেন, “মর্নিং শোজ দ্য ডে—এখন দেখার বিষয় এই মন্ত্রিসভা কতটা কার্যকর হয়।” যারা অবস্থান ধরে রেখেছেন তবে সব প্রবীণ নেতা বাদ পড়েননি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন— মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সালাহউদ্দিন আহমদ ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন হাফিজ উদ্দিন খান এদের অন্তর্ভুক্তি দলীয় অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই মন্ত্রিসভা তিনটি বার্তা দেয়। প্রথমত, বিএনপি নেতৃত্বে প্রজন্মগত পরিবর্তন শুরু হয়েছে। দ্বিতীয়ত, দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি টেকনোক্র্যাট ও জোট রাজনীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তৃতীয়ত, ভবিষ্যৎ নির্বাচনের আগে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করার একটি প্রচেষ্টা থাকতে পারে। তবে এর ঝুঁকিও রয়েছে। প্রবীণ নেতাদের একটি বড় অংশ যদি নিজেকে উপেক্ষিত মনে করেন, তাহলে দলের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সামনে কী হতে পারে? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী কয়েক মাসেই বোঝা যাবে এই মন্ত্রিসভার কার্যকারিতা। যদি সরকার সফলভাবে প্রশাসন পরিচালনা করতে পারে, তাহলে তারেক রহমানের এই ‘নতুন নেতৃত্বের পরীক্ষা’ সফল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কিন্তু যদি দলীয় অসন্তোষ বাড়ে, তাহলে তা সরকারের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। একজন বিশ্লেষকের ভাষায়, “এই মন্ত্রিসভা শুধু সরকার গঠনের ঘটনা নয়, এটি বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখারও ইঙ্গিত।”
মামুনুর রশীদ নোমানী: বাংলাদেশে রাজনৈতিক দুর্নীতির আরেকটি আলোচিত ঘটনায় পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দীন মহারাজ, তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম এবং ছেলে শাম্মাম জুনাইদ ইফতির বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং অর্থপাচারের অভিযোগে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) পিরোজপুরে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এসব মামলা করা হয়। দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, অনুসন্ধানে দেখা গেছে—দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময়ে মহিউদ্দীন মহারাজ ও তার পরিবারের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে, যার বড় অংশেরই বৈধ আয়ের উৎস খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় প্রায় ৫১ কোটি টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আরও পড়ুন: * ৩০০ কোটির অবৈধ সম্পদ: সাবেক এমপি মহারাজ ও পরিবারের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দুদকের * কাগজে ১২৮ সেতু, বাস্তবে নেই একটিও! মহিউদ্দীন মহারাজ পরিবারের ২৩৬ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ * পিরোজপুর এলজিইডিতে ১,৬৪৭ কোটি টাকার দুর্নীতিও ‘লুটতরাজ’, নেপথ্যে হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল সিন্ডিকেট * এলজিইডির শতকোটি টাকার হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম এখনও বহাল তবিয়তে ১২ বছরে সম্পদের পাহাড় মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মহিউদ্দীন মহারাজ নিজের নামে ১২২টি দলিলে জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, মার্কেট ও দোকান ক্রয় করেছেন। দুদকের হিসাব অনুযায়ী এসব স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ২৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া তার নামে রয়েছে— বিভিন্ন ব্যাংকে বড় অঙ্কের সঞ্চয় ব্যবসায় বিনিয়োগ বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার দুটি বিলাসবহুল গাড়ি এসব অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ১৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তার মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। অন্যদিকে একই সময়ে তার পরিবারের ব্যয় হিসাব করা হয়েছে প্রায় ১২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ফলে মোট সম্পদ ও ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। আয়ের উৎস মাত্র ৩ কোটি টাকা দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই বিশাল সম্পদের বিপরীতে মহিউদ্দীন মহারাজের গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা। ফলে প্রায় ৫১ কোটি ২৭ লাখ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই অর্থের বড় অংশ অবৈধভাবে অর্জিত এবং পরে বিভিন্ন ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে এর উৎস আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। ব্যাংক লেনদেনেই সন্দেহ দুদকের তথ্য অনুযায়ী, মহিউদ্দীন মহারাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবগুলোতে বিপুল অঙ্কের লেনদেন পাওয়া গেছে। তদন্তে উঠে এসেছে— প্রায় ৫৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা জমা বিভিন্ন ব্যাংক শাখার মাধ্যমে প্রায় ৫৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা স্থানান্তর এই অর্থের বড় অংশ বিভিন্ন বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক লেনদেনের মাধ্যমে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে সন্দেহ করছে দুদক। দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধরনের লেনদেন মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় অপরাধ। স্ত্রী উম্মে কুলসুমের বিরুদ্ধে অভিযোগ মহিউদ্দীন মহারাজের স্ত্রী উম্মে কুলসুমের বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা করেছে দুদক। মামলার এজাহার অনুযায়ী, তার নামে রয়েছে— জমি, ফ্ল্যাট ও দোকানসহ প্রায় ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ ব্যাংক সঞ্চয় ও ব্যবসায় বিনিয়োগসহ প্রায় ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ সব মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। পারিবারিক ব্যয়সহ মোট হিসাব দাঁড়ায় প্রায় ৯ কোটি ৫ লাখ টাকা। কিন্তু তার বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ২ কোটি ৬ লাখ টাকা। ফলে প্রায় ৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে অভিযোগ করা হয়েছে। দুদক বলছে, গৃহিণী হওয়া সত্ত্বেও তার নামে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে। শিক্ষার্থী ছেলের নামেও সম্পদ মহিউদ্দীন মহারাজের ছেলে শাম্মাম জুনাইদ ইফতির বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ইফতির নামে রয়েছে— জমি ও দোকানসহ প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ ব্যাংক সঞ্চয় ও বিনিয়োগসহ প্রায় ১ কোটি ৪৩ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ পারিবারিক ব্যয়সহ তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। কিন্তু তার বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা। ফলে প্রায় ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে অভিযোগ করা হয়েছে। দুদকের দাবি, ইফতি একজন শিক্ষার্থী হওয়ায় তার নিজস্ব আয়ের উৎস থাকার কথা নয়। তদন্তকারীরা মনে করছেন, মহিউদ্দীন মহারাজের অবৈধ উপার্জনের অর্থ তার ছেলের নামে দেখিয়ে বৈধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। সম্পত্তি ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ দুদক জানিয়েছে, পিরোজপুরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের নির্দেশে মহিউদ্দীন মহারাজ ও তার পরিবারের নামে থাকা সম্পদ ইতোমধ্যে ক্রোক (জব্দ) করা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যাতে তদন্ত চলাকালে সম্পদ বিক্রি বা স্থানান্তর করা না যায়। এলজিইডি প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার অভিযোগ দুদক সূত্র জানিয়েছে, মহিউদ্দীন মহারাজের বিরুদ্ধে এর আগেও বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED)-এর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডারে অংশ নিয়ে কাজ না করেই প্রায় এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আরও আটটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার তদন্ত বর্তমানে চলমান রয়েছে। মহিউদ্দীন মহারাজ পিরোজপুর অঞ্চলের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয় পর্যায়ে তিনি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগেও আলোচনায় ছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর বিষয়ে এখনো তার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ ও মানিলন্ডারিংয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর তদন্ত হলে রাজনৈতিক দুর্নীতি কমানোর ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তারা একই সঙ্গে মনে করিয়ে দেন, এসব মামলার স্বচ্ছ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামনে কী হতে পারে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মামলাগুলোর তদন্ত শেষ হলে দুদক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করবে। এরপর আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে মানিলন্ডারিং ও দুর্নীতি আইনের অধীনে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড এবং সম্পদ বাজেয়াপ্ত হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা এবং ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার কারণে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম হঠাৎ করেই দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পর একদিনেই তেলের দাম প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার অতিক্রম করেছে। গত এক সপ্তাহে দাম বেড়েছে প্রায় ৩৮ শতাংশ। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন জ্বালানি সংকট তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। বিশ্ববাজারে তেলের দামের হঠাৎ উল্লম্ফন বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং ইকোনমিকস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই (WTI) অপরিশোধিত তেল সোমবার একদিনেই ১৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০২.৯৮ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৫.১৬ ডলার, যা ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে আতঙ্কজনিত কেনাবেচা শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় হামলার খবরের পর এই আতঙ্ক আরও বাড়ে। হরমুজ প্রণালি: বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী— প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয় সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বড় তেল উৎপাদক দেশগুলোর রপ্তানি এই পথেই যায় এশিয়ার বড় আমদানিকারক দেশ যেমন চীন, জাপান, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া এই রুটের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল যুদ্ধের কারণে যদি এই পথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তাহলে বিশ্ববাজারে সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশের জন্য কেন উদ্বেগজনক বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৬ থেকে ৭ মিলিয়ন টন জ্বালানি তেল আমদানি করে, যার বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০ ডলার বাড়লেই বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় কয়েকশ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। যদি দাম ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তাহলে দেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় কয়েক বিলিয়ন ডলার বাড়তে পারে। এর ফলে— বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ বাড়বে জ্বালানি ভর্তুকির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বাড়বে পরিবহন ও শিল্প উৎপাদন ব্যয় বাড়বে বিপিসির লোকসানের ঝুঁকি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র বলছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেল আমদানিতে খরচ পড়ছে প্রায় ১৪২ টাকা, কিন্তু দেশে তা বিক্রি করা হচ্ছে ১০০ টাকায়। বাংলাদেশে প্রতি মাসে গড়ে ১৫টি জাহাজে জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। যদি আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে না আসে, তাহলে মাসে অতিরিক্ত খরচ পড়তে পারে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। এক্ষেত্রে তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে— সরকার ভর্তুকি বাড়াবে তেলের দাম বাড়ানো হবে বিপিসি বড় ধরনের লোকসানে পড়বে বিদ্যুৎ খাতে নতুন চাপ বাংলাদেশের অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখনও ফার্নেস অয়েল নির্ভর। তেলের দাম বাড়লে সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়ে। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (বিপিডিবি) কাছে দেশি-বিদেশি বিদ্যুৎ কোম্পানির পাওনা প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে বিপিডিবি সরকারের কাছে ৭৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে, কিন্তু বাজেটে বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ৩৬ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয়-ব্যয়ের বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আইএমএফের চাপ ও নীতিগত সংকট বাংলাদেশ বর্তমানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এই কর্মসূচির অন্যতম শর্ত হলো— জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানো বাজারভিত্তিক জ্বালানি মূল্য নির্ধারণ বিদ্যুৎ খাতে আর্থিক শৃঙ্খলা আনা কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার এক ধরনের নীতিগত দ্বিধায় পড়েছে। যদি ভর্তুকি কমানো হয়, তাহলে জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়বে। আর যদি দাম না বাড়ানো হয়, তাহলে সরকারের আর্থিক চাপ বাড়বে। এলএনজি আমদানির বাড়তি ব্যয় দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ ক্রমশ বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)-এর ওপর। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী— ২০১৮ সাল থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত সাত বছরে: এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে ৩৬ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বাড়লে এই ভর্তুকি আরও দ্রুত বাড়বে। বিশ্বজুড়ে বাড়ছে জ্বালানি দাম মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশে দেখা যাচ্ছে। ভিয়েতনাম: ডিজেল ও পেট্রলের দাম ২১% বৃদ্ধি পাকিস্তান: পেট্রলের দাম লিটারপ্রতি ২০% বাড়িয়ে ৩২০ রুপি যুক্তরাষ্ট্র: এক সপ্তাহে পেট্রলের দাম প্রায় ১০% বৃদ্ধি ইউরোপ: মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা অস্ট্রেলিয়া: পেট্রলের দাম লিটারপ্রতি দুই ডলার ছাড়িয়েছে চীন, জাপান, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। অতীতের জ্বালানি ধাক্কার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ অতীতেও কয়েকবার তেলের দামের বড় ধাক্কা অনুভব করেছে। ২০০৮ সালে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৪৭ ডলার পর্যন্ত ওঠে। ২০১১-২০১৪ সময়ে দীর্ঘদিন তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে ছিল। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর জ্বালানি মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়। এই অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, বিশ্ববাজারে বড় ধাক্কা এলে দেশে দীর্ঘ সময় ধরে দাম স্থির রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। সরকারের অবস্থান সরকার বলছে, বর্তমানে দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। জ্বালানি তেল আমদানির চুক্তিগুলো সাধারণত ছয় মাস মেয়াদি, এবং আগামী জুন পর্যন্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। চীন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া থেকে তেল আসবে বলে জানিয়েছে বিপিসি। সরকার যুদ্ধ পরিস্থিতি বিবেচনায় তেল ব্যবহারে রেশনিং ব্যবস্থা চালু রেখেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, আপাতত দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে অর্থনীতির ঝুঁকি অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, যদি সংঘাত দীর্ঘায়িত হয় তাহলে— তেলের দাম ১৫০ ডলার ছাড়াতে পারে বিদ্যুৎ ভর্তুকি ৭৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের ওপরে যেতে পারে পরিবহন ব্যয় বাড়বে কৃষি ও শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হবে এমন পরিস্থিতিতে আইএমএফের ঋণ কর্মসূচিও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতামত জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, “সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে। এলএনজি সরবরাহ কমে গেলে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে।” অন্যদিকে অর্থনীতিবিদ ড. ইজাজ হোসেন মনে করেন, “দুই সপ্তাহের মধ্যে সংঘাত না থামলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।” দীর্ঘমেয়াদি সমাধান কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের সামনে কয়েকটি সম্ভাব্য কৌশল রয়েছে— ১. জ্বালানি মজুদ বাড়ানো ২. বিকল্প সরবরাহ উৎস খোঁজা ৩. নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ৪. জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানো ৫. বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস ও নবায়নযোগ্য উৎসের ব্যবহার বাড়ানো তবে তারা বলছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি স্বল্পমেয়াদে সংকট সমাধান করতে পারবে না। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট নয়, এটি দ্রুত বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে রূপ নিচ্ছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে জ্বালানি মূল্য, বিদ্যুৎ ভর্তুকি, মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ—সব ক্ষেত্রেই বড় চাপ তৈরি হতে পারে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এখনই দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নীতি পুনর্বিবেচনা না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় অর্থনৈতিক ধাক্কার মুখে পড়তে পারে বাংলাদেশ।
বরিশাল নগরীর প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত গির্জামহল্লা এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে ‘হানিট্র্যাপ’ ফাঁদ পেতে এক যুবকের কাছ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ এক তরুণীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং হোটেলের মালিক ও ম্যানেজারসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, ঘটনাটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; বরং এটি একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের কার্যক্রমের ইঙ্গিত দিতে পারে। তদন্ত কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, একই কৌশলে আরও অনেক ব্যক্তি প্রতারণার শিকার হয়ে থাকতে পারেন। কীভাবে ফাঁদে পড়েন ভুক্তভোগী মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল সদর উপজেলার কড়াপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম খান (ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়নি) গত ৭ মার্চ বিকেলে আব্দুর রহমান নামে এক পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে একটি ফোন পান। ফোনে আব্দুর রহমান তাকে জরুরি কাজের কথা বলে নগরীর গির্জামহল্লা এলাকায় আসতে বলেন। সিরাজুল ইসলামের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি রাত প্রায় ৯টার দিকে সেখানে পৌঁছালে তাকে কৌশলে একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে হোটেল ইম্পেরিয়ালের চতুর্থ তলার ৪২৮ নম্বর কক্ষে ঢুকতে বলা হয়। কক্ষটিতে ঢোকার পরই পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। আপত্তিকর পরিস্থিতি তৈরি ও ভিডিও ধারণ ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি কক্ষে ঢোকার পর সেখানে আগে থেকেই কয়েকজন ব্যক্তি ওত পেতে ছিলেন। একপর্যায়ে চক্রের নারী সদস্য মিলিতা দত্ত ম্যালাইসা তার সঙ্গে কুশল বিনিময়ের ভান করে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর কয়েকজন ব্যক্তি কক্ষে প্রবেশ করে পরিস্থিতিকে ‘অপত্তিকর’ আকার দেওয়ার চেষ্টা করে। সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমি বুঝে ওঠার আগেই কয়েকজন লোক এসে আমাকে জোর করে বিছানায় বসায়। এরপর তারা বলে আমি নাকি ওই মেয়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িত।” তার অভিযোগ, তখনই তারা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করে এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। অর্থ দাবি ও ছিনতাই মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ভিডিও ধারণের পর চক্রের সদস্যরা সিরাজুল ইসলামের কাছে টাকা দাবি করতে থাকে। প্রথমে তারা তার পকেটে থাকা ১২০০ টাকা নিয়ে নেয়। পরে আরও ১৩ হাজার টাকা দিতে চাপ দেয়। প্রাণভয়ে সিরাজুল কৌশলে তার এক পরিচিত ব্যক্তি হিজবুল্লাহ সম্রাটকে বিষয়টি জানাতে সক্ষম হন। পুলিশের অভিযান সিরাজুলের কাছ থেকে খবর পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী মডেল থানা দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশ হোটেল ইম্পেরিয়ালে পৌঁছালে অভিযুক্ত চক্রের বেশ কয়েকজন সদস্য পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মিলিতা দত্ত ম্যালাইসা (চক্রের নারী সদস্য) সান্টু হাওলাদার (সহযোগী) পুলিশ জানায়, তাদের বিরুদ্ধে মামলার ভিত্তিতে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম খান বাদী হয়ে মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন— হোটেল মালিক মানিক হাওলাদার ম্যানেজার আব্দুল হাই বশির মোল্লা আবিদ হাসান জাকির হোসেন গাজী আব্দুর রহমানসহ আরও কয়েকজন পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পুলিশের বক্তব্য বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সনজিৎ চন্দ্র নাথ বলেন, “ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, এই ধরনের ‘হানিট্র্যাপ’ অপরাধ বর্তমানে বিভিন্ন শহরে সংঘবদ্ধভাবে ঘটছে কিনা সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ‘হানিট্র্যাপ’ কী এবং কীভাবে কাজ করে অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, ‘হানিট্র্যাপ’ একটি প্রতারণামূলক কৌশল, যেখানে সাধারণত একজন নারী বা পুরুষকে ব্যবহার করে টার্গেট ব্যক্তিকে আপত্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। এই ধরনের চক্র সাধারণত কয়েকটি ধাপে কাজ করে— ১. টার্গেট নির্বাচন ২. পরিচিত বা বিশ্বাসযোগ্য কারও মাধ্যমে যোগাযোগ ৩. নির্জন স্থান বা হোটেলে ডেকে নেওয়া ৪. আপত্তিকর পরিস্থিতি তৈরি ৫. ভিডিও বা ছবি ধারণ ৬. ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। আবাসিক হোটেলগুলো কেন ঝুঁকিপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক সময় অপরাধীরা আবাসিক হোটেলকে ব্যবহার করে কারণ— সেখানে সহজে কক্ষ ভাড়া পাওয়া যায় পরিচয় যাচাই অনেক সময় দুর্বল সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ সীমিত হোটেল কর্তৃপক্ষের কেউ কেউ জড়িত থাকতে পারে এই ঘটনার ক্ষেত্রেও হোটেল মালিক ও ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি আরও গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। আইন বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের অপরাধে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ প্রযোজ্য হতে পারে। যেমন— ছিনতাই প্রতারণা চাঁদাবাজি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র মানহানির হুমকি যদি প্রমাণিত হয় যে হোটেল কর্তৃপক্ষ এই চক্রের সঙ্গে জড়িত, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ভুক্তভোগীদের অনেকেই অভিযোগ করেন না ক্রাইম বিশ্লেষকদের মতে, ‘হানিট্র্যাপ’ অপরাধের অনেক ঘটনাই প্রকাশ্যে আসে না। কারণ— সামাজিক লজ্জার ভয় পারিবারিক সমস্যার আশঙ্কা ব্ল্যাকমেইলের ভয় আইনগত জটিলতা ফলে অপরাধচক্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকতে পারে। তদন্ত কোন দিকে এগোচ্ছে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে কয়েকটি বিষয় যাচাই করা হচ্ছে— হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ মোবাইল ফোনের ভিডিও ও কল রেকর্ড চক্রের সদস্যদের আর্থিক লেনদেন পূর্বের সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের তথ্য তদন্ত কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, এটি একটি সংগঠিত চক্র হতে পারে যারা দীর্ঘদিন ধরে একই পদ্ধতিতে প্রতারণা করে আসছিল। সতর্কতার পরামর্শ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নাগরিকদের কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে— অপরিচিত বা কম পরিচিত কারও ডাকে নির্জন স্থানে না যাওয়া আবাসিক হোটেলে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে দ্রুত পুলিশকে জানানো ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে আইনগত সহায়তা নেওয়া বরিশালের এই ঘটনাটি শুধু একটি ছিনতাইয়ের অভিযোগ নয়, বরং এটি নগর জীবনে নতুন ধরনের প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলের ঝুঁকির বিষয়টিও সামনে নিয়ে এসেছে। তদন্ত শেষ হলে জানা যাবে—এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাকি বড় কোনো অপরাধচক্রের অংশ। ততদিন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকা: প্রায় ৩০০ কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজ ও তাঁর পরিবারের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইতোমধ্যে দুদকের কমিশন সভায় মামলাটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। দুদকের উপপরিচালক আক্তারুল ইসলাম বুধবার গণমাধ্যমকে জানান, পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে শিগগিরই মামলাটি দায়ের করা হবে। দীর্ঘদিন অনুসন্ধান চালিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করার পর কমিশন মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সাবেক এমপি মহিউদ্দিন মহারাজের নিজের নামে প্রায় ৫১ কোটি ২৭ লাখ ৩২ হাজার ৬৩১ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া তাঁর পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের নামেও বিপুল পরিমাণ সম্পদের অসংগতি চিহ্নিত হয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী— স্ত্রী উম্মে কুলসুমের নামে প্রায় ৬ কোটি ৯৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ছেলে শাম্মাম জুনাইদ ইফতির নামে প্রায় ৬৪ কোটি ৯১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা ভাই মো. শামসুদ্দিনের নামে প্রায় ২১ কোটি ৮৬ লাখ ২৩ হাজার টাকা মো. সালাউদ্দীনের নামে প্রায় ২৭ কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা মিরাজুল ইসলাম মিরাজের নামে প্রায় ৯৯ কোটি ১২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা মিরাজের স্ত্রী মিসেস শামীমার নামে প্রায় ৭ কোটি ৯০ লাখ ৯৯ হাজার টাকা এই সম্পদের বৈধ উৎস দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা বলে জানিয়েছে দুদক। দুদক সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন খাত থেকে অর্থ সংগ্রহ, জমি এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রয় ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অস্বাভাবিক লেনদেন করে এসব সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হতে পারে। এর আগে মহিউদ্দিন মহারাজের বিরুদ্ধে প্রায় ১ হাজার ৭৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আটটি মামলা দায়ের করেছে দুদক। এসব মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পদ জব্দ ও ক্রোকের উদ্যোগ নেয় দুদক। সেই ধারাবাহিকতায় মহিউদ্দিন মহারাজ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা এবং সম্পদ জব্দের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী ভবিষ্যতে আরও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
* ১২৮ সেতু নির্মাণের প্রায় ২৩৬ কোটি টাকা মহিউদ্দীন মহারাজ ও তার পরিবারের লুটপাট * মহারাজ পরিবারের পেটে ১২৮ সেতু পিরোজপুরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দীন মহারাজ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা ১২৮টি সেতু নির্মাণ না করেই প্রায় ২৩৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এই ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে মহিউদ্দীন মহারাজসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন। পরিবারের ছয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ দুদক সূত্রে জানা গেছে, মহিউদ্দীন মহারাজ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ছয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এলজিইডির অধীনে সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— মেসার্স হরিণপালা ট্রেডার্স (মহিউদ্দীন মহারাজ) ইফতি ইটিসিএল (প্রা.) লিমিটেড (মিরাজুল ইসলাম) সাউথ বাংলা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল (মিরাজুল ইসলাম) মেসার্স শিমু এন্টারপ্রাইজ (শামীমা আক্তার) তেলিখালী কনস্ট্রাকশন (সামসুদ্দিন) মেসার্স ঈশান এন্টারপ্রাইজ (সালাউদ্দিন) অভিযোগ রয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলো আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে সেতু নির্মাণ না করেই বিল তুলে নিয়েছে। কাগজে সেতু, বাস্তবে নেই তদন্তে দেখা গেছে, এলজিইডির পিরোজপুর সদর, ভাণ্ডারিয়া ও নেছারাবাদ উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পে ভুয়া বিল তৈরি করে হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। একটি উদাহরণ হিসেবে জানা গেছে, পিরোজপুর সদরের কদমতলা ইউনিয়নের পোরগোলা মাধ্যমিক স্কুল থেকে বাঘমারা আবাসন সড়কের খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। সেতুর দৈর্ঘ্য: ৯৬ মিটার প্রাক্কলিত ব্যয়: ১০ কোটি ৩২ লাখ টাকা চুক্তি মূল্য: ৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা কিন্তু বাস্তবে সেখানে কোনো সেতুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ভাণ্ডারিয়ায় ১২৫টি কাগুজে সেতু দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় ১২৫টি সেতু কেবল কাগজে নির্মিত হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মধ্যে এসব প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২৬৯ কোটি টাকার বিল উত্তোলন করা হয়েছে। তদন্তে আরও দেখা গেছে— এলজিইডি অফিসে প্রকল্পের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই কাজের পরিমাপ বইয়ে কোনো তথ্য নেই প্রকল্পের প্যাকেজ নম্বর পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়নি আইবিআরপি প্রকল্প সরকার দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পুরোনো লোহার সেতুগুলো পুনর্নির্মাণের জন্য Iron Bridge Rehabilitation Project (IBRP) নামে একটি প্রকল্প নেয়। প্রকল্প শুরু: ২০১৮ সাল মোট সেতু: ২,০৪৯টি প্রাথমিক ব্যয়: ১,৮৩৫ কোটি টাকা পরে ব্যয় বৃদ্ধি: ২,৩৩৪ কোটি টাকা প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা এবং পুরোনো লোহার সেতুর পরিবর্তে আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা। রাজনীতিতে মহিউদ্দীন মহারাজ মহিউদ্দীন মহারাজের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ছাত্রদলের মাধ্যমে। পরে তিনি জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে পিরোজপুরের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। তার রাজনৈতিক যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো— ১৯৯৬: আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর ব্যক্তিগত সহকারী ২০১৬: স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ২০২৪: পিরোজপুর-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত মামলা ও গ্রেপ্তার দুদকের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এলজিইডির প্রকল্পে জাল কাগজপত্র তৈরি করে প্রায় ২৩৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই ঘটনায় মহিউদ্দীন মহারাজসহ পাঁচজন ঠিকাদার এবং এলজিইডি ও হিসাবরক্ষণ অফিসের ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে— ৫ জন গ্রেপ্তার ১৮ জন পলাতক আত্মগোপনে মহারাজ পরিবার আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই মহিউদ্দীন মহারাজ পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে এলজিইডির পিরোজপুর কার্যালয় থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বরিশাল অফিস : “রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলো পথ”- এই বাক্যটি বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকে। কারাগারের কর্তৃপক্ষও দাবি করেছেন, বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রতিটি বন্দিকে রাখা হয় নিবির পর্যবেক্ষণে। কঠোর অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে দেখানো হয় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার পথ। তবে অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে এর পুরো উল্টো চিত্র। পুরো কারাগার জুড়েই চলছে টাকার খেলা। যার যত বেশি টাকা, সে তত বেশি প্রভাবশালী বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে। টাকাওয়ালারা ঘরের ন্যায় জেলখানাতেও বসবাস করেন আরাম আয়েশে। আর যাদের টাকা নেই তাদের হতে হয় কারাকর্তৃপক্ষের নির্যাতনের শিকার। তবে কারাগারের বাইরে এসব ঘটনা সহসা প্রকাশ করেন না কেউ। কারণ বেশির ভাগ হাজতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী বা অপরাধী হওয়ায় তাদের বারবার যেতে হয় কারাগারে। কারাগারে নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে আসামি ও কয়েদিরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কারা ক্যান্টিনের খাবারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।কারাগারে বন্দি ও জামিনে বেরিয়ে আসা আসামিরা জানান, জেলা কারাগারের ক্যান্টিনে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ টাকায় বন্দিদের কাছে খাবার বিক্রি করে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। এ ছাড়া সরকারি খাবারের নীতিমালার তোয়াক্কা না করে নিম্নমানের খাবার দেওয়া হচ্ছে, যা খাওয়ার উপযোগী নয়। অনুসন্ধানে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, কারাগার কর্তৃপক্ষ সব সময়ই সংবাদকর্মীদের এড়িয়ে চলেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করেন। একজন হাজতি কারা গেট থেকে প্রবেশের পর থেকেই শুরু হয় কারাকর্তৃপক্ষের অর্থ আদায়ের সূচনা। এরপর জামিনে বের হওয়া পর্যন্ত হাজতিদের নিয়ে চলে তাদের অর্থ বাণিজ্য। নামের ভুল: হাজতিদের কারাগারে প্রবেশের আগে তাদের নাম, বাবার নাম ও ঠিকানা একটি খাতায় লিপিবদ্ধ করেন কারাকর্তৃপক্ষ। ওই খাতার নাম হলো পিসি বই। হাজতি মুখে তার পরিচয় সঠিক বললেও লেখার সময় ইচ্ছে করেই পিসি বইতে ভুল লেখা হয়। যেমন, এক জন হাজতির নাম যদি হয় ‘আব্দুর রহমান’ কারাকর্তৃপক্ষ তার নাম লিখবে ‘আব্দুর বহমান’। আদালত থেকে তার জামিন মঞ্জুর হলেও ‘র’ ও ‘ব’ এর বেড়াজালে আটকে দেওয়া হয় ওই হাজতিকে। গেটের দায়িত্বে থাকা কারারক্ষীকে ৫শ’ টাকা দিলে ‘ব’ আবার ‘র’ হয়ে যায়। কিন্তু কেউ টাকা দিতে না পারলে জামিন আদেশের পরেও তাকে এক দিন অতিরিক্ত জেল হাজতে থাকতে হয়। টাকা দেওয়ার ব্যাপারেরও রয়েছে কঠিন শর্ত। কেউ বাইরে থেকে আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে টাকা নিতে পারবেন না। তাকে কারাগারের ভিতর থেকেই টাকা সংগ্রহ করে দিতে হবে। পরিচয় গোপন রাখার সর্তে বাংলানিউজকে এসব কথা জানিয়েছেন হয়রানির শিকার এক হাজতি। দ্বিতীয় ধাপ আমদানি: একজন হাজতি কারাগারে প্রবেশের পর তাকে প্রথম এক দিন আমদানিতে রাখা হয়। পরে তাদের অপরাধ অনুযায়ী বিভিন্ন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। কিন্তু এখানেও রয়েছে টাকার খেলা। যে কেউ চাইলেই আমদানিতে বেড পাবেন না। বেড পেতে হলে তাকে গুনতে হবে ৫শ টাকা। না হয় মেজেতে থাকতে হবে। আর কেউ যদি এক হাজার থেকে ১২শ টাকা দেয় তবে সে যত দিন ইচ্ছে আমদানিতে থাকতে পারবেন। কারাবিধি অনুযায়ী ১০ বছরের নিচের হাজতিদের যশোর সংশোধনী কেন্দ্রে পাঠানোর নিয়ম রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, টাকার জোরে অনেকই দিনের পর দিন আমদানি বসবাস করছে। জানা গেছে, প্রতিমাসে শুধু আমদানি থেকে কারাকর্তৃপক্ষের আয় হচ্ছে প্রায় এক লাখ টাকা। ওয়ার্ড: আমদানিতে এক দিন রাখার পরে হাজতিদের অপরাধ অনুযায়ী বিভিন্ন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। সেখানেও টাকা। অনেক অপরাধী এক জায়গায় বসবাস করায় প্রায়ই হাজতিতের মধ্যে মারামারি বাধে। মারামারি করার অপরাধে তাদেরকে কেস টেবিলে (কারাগারের বিশেষ বিচার ব্যবস্থা) হাজির করা হয়। তবে কারাগারের সুবেদার, জমাদ্দার ও সিআইডিদের টাকা দিলে পার পেয়ে যায় প্রকৃত অপরাধী। এর প্রেক্ষিতে উল্টো শাস্তি পেতে হয় নিরাপরাধীকে। যার ফলে কারাগারে ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে অপরাধ। খাবার: জেলখানায় খাবারের মান খুবই নিম্নমানের বলে জানিয়েছেন একাধিক হাজতি। তবে কারাকর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, বন্দিদের উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়। জেলার জানান, বন্দিদের সকালে রুটি ও গুড়, দুপুরে সবজি-ডাল-ভাত এবং রাতে সবজি-ডাল-ভাত-মাছ বা মাংস খেতে দেওয়া হয়। বন্দিরাও জেলারের কথা অস্বীকার করেন নি। তবে তাদের অভিযোগ খাবারের মান নিয়ে। একাধিক বন্দি জানান, খাবারের তালিকায় মাছের যে সাইজ উল্লেখ থাকে তা দেওয়া হয়না। তালিকায় ইলিশ, রুই, কাতলসহ বিভিন্ন মাছ খাওয়ানোর কথা থাকলেও প্রায় প্রতিদিনই দেওয়া হয় পুকুরে চাষ করা পাঙ্গাস মাছ। আর যে মাংস খাওয়ানো হয় তাও পরিমাণে খুব কম। তবে টাকার বিনিময়ে ক্যান্টিন থেকে চড়া মূল্যে মাছ ও মাংস কিনে খেতে পারেন বন্দিরা। তাই যাদের সামর্থ আছে তারাই কারাগারে বসে ভালমন্দ কিনে খেতে পারেন। সদ্য জেল থেকে বের হওয়া এক হাজতি জানান, রমজান মাসে খাবারের মান ছিল খুবই নিম্নমানের। বন্দিদের সংখ্যা বেশি দেখিয়ে অতিরিক্ত খাবার বরাদ্ধ নেয় কারাকর্তৃপক্ষ। পরে তা বাইরে বিক্রি করে দেয়। কারাগার সূত্রে জানা গেছে, কারাগারের প্রধান গেট থেকেই ভিতরে প্রবেশ করে এই সব নিম্নমানের খাবার। খাবার ভিতরে প্রবেশ করানোর সময় নিম্নমানের অভিযোগ তুলে তা গেটে আটকে দেয় গেট ইনচার্জ। এ নিয়ে চলে খাবার সরবরাহকারী ও গেট ইনচার্জের দেনদরবার। ঘণ্টাখানেক পর ওই খাবারই ভালোমানের হিসেবে কারাগারের ভিতরে প্রবেশ করে। এই নিম্নমানের খাবার খেয়ে পেটের পিড়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতি মাসে ২০ থেকে ২৫ জন বন্দি শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি হয় বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গোসল: একটু ভালোভাবে গোসল করার জন্যও টাকা গুনতে হয় বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিদের। গোসলসহ সব কাজ করার জন্য মাত্র একটি পুকুর রয়েছে কারা অভ্যন্তরে। তাই সব কাজ একটি পুকুরে করায় পুকুরের পানি নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে ওই পুকুরের পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পরেছে। তাই পাম্প বা বিভিন্ন সেলের সামনে গোসল করতে হয় বন্দিদের। কিন্তু সবাই এসব স্থানে গোসল করতে পারেন না। প্রতিবার গোসল করার জন্য যারা ৫০ থেকে ৬০ টাকা দিতে পারছে শুধুমাত্র তারাই সেখানে গোসল করার সুযোগ পাচ্ছে। ক্যান্টিন: একাধিক বন্দি জানিয়েছেন, কারাগারের ক্যান্টিনে তেমন একটা দুর্নীতি হয়না। তবে যা হয় তাও কম নয়। এখানে রান্নার তেল খুবই খারাপ। একই পোড়া তেল দিয়ে তৈরি করা হয় নানা খাবার। এ ব্যাপারে কয়েক জন হাজতির সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, ‘কেনই বা পোড়া তেল দিয়ে রান্না হবে না। ক্যান্টিন বরাদ্ধ নিতে এক কালীন ৫ লাখ টাকা দিতে হয় কারাকর্তৃপক্ষকে। হাজতিদের টাকা: কারাগারের অভ্যন্তরে নগদ টাকা বহন করা বড় ধরনের অপরাধ। তাই বাইরে থেকে কেউ টাকা দিতে চাইলে ব্যাংক হিসেবের ন্যায় পিসি বইতে টাকা জমা হয়। কারো টাকার প্রয়োজন হলে পিসি বইয়ের মাধ্যমে ক্যান্টিন থেকে লেনদেন করেন। আর এখানেই হলো আসল দুর্নীতি। কেউ একশ’ টাকা চাইলে তাকে দেওয়া হয় ৯০ টাকা। বাকি ১০টা কমিশন বাবদ কেটে রাখা হয়। দেখার ঘর: বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে আসা স্বজনরা সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হন দেখার ঘরে। তবে টাকা থাকলে সেখানেও রয়েছে স্বস্তি।কারারক্ষীদের পকেটে একশ’ টাকার দুটি নোট ঢুকিয়ে দিতেই দেখা করার ব্যবস্থা করে দেয় কারারক্ষী। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কারাগারের দেখার ঘরের দায়িত্বে রয়েছেন মেয়াসাবরা । তারাই টাকা সংগ্রহ করেন। মেডিকেল: কারাগারের সবচেয়ে বেশি হৃদয়বিধারক ঘটনা ঘটে মেডিকেলে। হাজত খেটে বের হওয়া অনেকেই অভিযোগ করেছেন, পুরো মেডিকেল রয়েছে চিফ রাইটারের নিয়ন্ত্রণে। তিনি যেভাবে চালান সেভাবেই চলে মেডিকেল। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মেডিকেলের চিফ রাইটারের দায়িত্বে আছেন এক কয়েদি । অথচ কারাবিধান অনুযায়ী এক মাসের বেশি কোনো কয়েদি বা কারারক্ষী একস্থানে থাকতে পারবেন না। জানা গেছে, কারাবিধি অনুযায়ী যে রোগী আগে যাবে সে মেডিকেলে সিট পাবে। কিন্তু সেখানে চলে এর উল্টো। টাকার বিনিময়ে সুস্থদের সিট পাাইয়ে দেয় । আর প্রকৃত অসুস্থরা থাকেন মেঝেতে। তবে কারা পরিদর্শক দল পরিদর্শনে গেলে অসুস্থদের বেডে রাখা হয়। কিন্তু তারা চলে গেলে পূর্বের নিয়ম চালু হয়। একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, মেডিকেলে ১৫ দিন থাকার জন্য ১৫শ টাকা এবং এক মাস থাকার জন্য ২৫শ টাকা দিতে হয়। নাম প্রকাশ না করার সর্তে একাধিক হাজতি জানিয়েছেন, যে কেউ দিব্যি সুস্থ হয়েও অসুস্থতার সার্টিফিকেট নিয়ে শেবাচিম হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হয়। সেখানে বসে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা এবং মোবাইলে পর্যন্ত কথা বলতে পারেন। কারা চিকিৎসকের সঙ্গে আতাত করে সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা করে দেয় । এই সার্টিফিটের জন্য প্রতিজন বন্দিকে দিতে হয় ৮শ থেকে এক হাজার টাকা। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিমাসে শুধুমাত্র মেডিকেল থেকে আয় হয় দেড় থেকে ২ লাখ টাকা। চিকিৎসক নিজেও এর একটি অংশ পান। মাদক: কারাগারের অভ্যন্তরে বিক্রি হওয়া মাদকের মধ্যে রয়েছে গাজা এবং ঘুমের ট্যাবলেট ইপম ও ক্লোনাজম। কারাঅভ্যন্তরে কারারক্ষীরা নিজেরাই এসব মাদকদ্রব্য সরবরাহ করছে বলে বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে। বিশেষ করে সিআইডি জমাদ্দার ও মেডিকেল চিফ রাইটার এই মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। কারণ সিআইডি সদস্যদের গেটে তল্লাশি করা হয়না। তাই কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই কারাঅভ্যন্তরে মাদক প্রবেশ করায় তারা। সিআইডি: দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে যেমন সিআইডি টিম রয়েছে। কারাগারেও এর বিকল্প নয়। কয়েদি ও কারারক্ষীদের মধ্যে থেকে বিশ্বস্ত লোক বাছাই করে সিআইডি হিসেবে নিয়োগ দেন জেলার নিজেই। তবে যে কাজের জন্য তাদের নিয়োজিত করা হয় তারা তা বাদ দিয়ে সব সময় অর্থ আয়ে নিজেদের ব্যস্ত রাখেন। জানা গেছে, কারাগারের সব দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে খোঁজ খবর রাখার জন্য ডিআইজি প্রিজনের পক্ষ থেকে একজন সিআইডি সদস্য রয়েছে বরিশাল কারাগারে। তবে এই সিআইডি সদস্য ডিআইজির কাছে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের সব দুর্নীতি ও অনিয়মের কথা গোপন করছেন। কারণ কারাকর্তৃপক্ষের সঙ্গে আতাত করে এখান থেকে প্রতিমাসে মোটা অংকের টাকা নিয়ে পকেট ভারি করছেন তিনি। কয়েদিদের দুর্ভোগ: যে সব কয়েদী কারাকর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে থাকেন তারাই রাজত্ব করেন পুরো কারাগার জুড়ে। আর যারা কারাকর্তৃপক্ষের মন মতো চলতে পারেন না, তাদের সইতে হয় নির্যাতন। মন মতো বলতে টাকা উপার্জন করিয়ে দেওয়াকে বোঝানো হয়েছে। আর তাদের কাজ করতে হয় ফুলের বাগান, সুইপার চালি, তাত চালি বা রান্না ঘরে। এমনই তথ্য দিয়েছেন হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুই কয়েদি। বিভিন্ন দিবসে বন্দিদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন: বিভিন্ন সরকারি দিবস বা ঈদ-কোরবানীতে বন্দিদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়ে থাকে। কারাঅভ্যন্তরে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। এজন্য সরকার থেকে আলাদা বরাদ্ধ থাকলেও বন্দিদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করে কর্তৃপক্ষ। টাকার ভাগবাটোয়ারা: খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নামের ভুলসংশোধনী, আমদানি, ওয়ার্ড, গোসল, খাবার, ক্যান্টিন, হাজতিদের টাকার কমিশন, দেখার ঘর, মেডিকেল অর্থাৎ সব মিলিয়ে প্রতিমাসে কমপক্ষে ১০ খেকে ১২ লাখ টাকা উপার্জন হয় অবৈধভাবে। সিনিয়র সুপার, জেলার, ডেপুটি জেলার থেকে শুরু করে হাসপাতালের চিকিৎসক, সুবেদার, কারারক্ষীরা পর্যন্ত এই টাকার ভাগ পায়। কারাগারের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস: বরিশাল ছিল এক সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকা। তাই এখানে নির্জন কারাবাসে পাঠানো হতো ভয়ঙ্কর অপরাধীদের। ১৮২৯ সালে ২০ দশমিক ৩ একর জমির ওপর বরিশালে কারাগার নির্মাণ করা হয়। পরে ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই এটি বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার হিসেবে ঘোষণা করে তৎকালীন সরকার। তবে জেলা কারাগার থেকে কেন্দ্রীয় কারাগার করা হলেও সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি একাংশও। দেশে বর্তমানে কেন্দ্রীয় কারাগারের সংখ্যা ১৩টি। হাসপাতাল আছে চিকিৎসক নেই: ৫৮ শয্যার হাসপাতালটিতে প্রায় সব সময়ই শতাধিক বন্দি ভর্তি থাকেন। সেখানে নেই কোনো স্থায়ী চিকিৎসক। চিকিৎসা দেওয়ার জন্য বরিশাল সিভিল সার্জন অফিস থেকে একজন চিকিৎসককে প্রেষণে দেওয়া হয়েছে। কারাবিধি অনুযাীয় ৫০ শয্যার হাসপাতালে একজন বিশেষজ্ঞসহ ছয়জন চিকিৎসক থাকার কথা রয়েছে।বিভাগের অন্যান্য কারাগার থেকে অসুস্থ বন্দিদের বরিশালে পাঠানো হয়। অথচ এখানে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়ার জন্য কোনো চিকিৎসক নেই। কারাগার থেকে জামিনে বের হওয়া হাজতিরা অভিযোগ করে বলেন, ‘বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে “রাখিব নিরাপদ, দেখাবো আলোর পথ” এই নীতিবাক্য লেখা থাকলেও বাস্তবে ঘটছে উল্টোটা। কেননা কারাগারের অভ্যন্তরে টাকা দিলে নানা রকম সুবিধা মেলে। আর যার টাকা নেই তার কষ্ট ও দুর্ভোগের শেষ নেই। থাকার জন্য জায়গা পেতে টাকা দিতে হচ্ছে কারারক্ষীদের। খাবার পেতে টাকা দিতে হচ্ছে। কারাগারের ক্যান্টিনে যে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয় তা বাইরের অনিময়কেও হার মানায়। তাছাড়া স্বজনরা কারাগারে খাবার ও টাকা দিয়ে আসলে তাও সঠিক পরিমাণে হাজতিদের বুঝিয়ে দেয় না কারারক্ষীরা। কারাগারের মধ্যে সব থেকে বেশি চাহিদা হাসপাতালের। কিন্তু সেখানে যেতে কোন কোন ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হয়। তবে টাকা হলে সেটার প্রয়োজন হয় না।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চলমান আসরে সবার আগে সুপার এইটে জায়গা নিশ্চিত করল দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দল। ডি গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দলকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ৩ ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে পরের পর্বে উঠেছে প্রোটিয়ারা। শনিবার ভারতের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড ৭ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৭৫ রান। নিউজিল্যান্ডের লড়াকু সংগ্রহ কিউইদের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেন Mark Chapman। এছাড়া ৩২ রান যোগ করেন Daryl Mitchell। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় বড় সংগ্রহ গড়া সম্ভব হয়নি তাদের। মার্করামের ব্যাটে জয়ের বন্দনা ১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা কিছুটা সতর্ক ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। কিন্তু অধিনায়ক Aiden Markram ক্রিজে সেট হওয়ার পরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় প্রোটিয়াদের হাতে। ৪৪ বলে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৮৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন মার্করাম। তার ব্যাটিং নৈপুণ্যে ১৭ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের বড় জয় নিশ্চিত করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচে রানের রেকর্ড এই ম্যাচে দুই দল মিলে মোট ৩৫৩ রান করে, যা চলতি আসরের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মিলিত রান। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে গড়ে ওঠে আরও একটি ব্যক্তিগত রেকর্ড। ডি ককের নতুন মাইলফলক দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান Quinton de Kock টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ড গড়েন। তিনি ছাড়িয়ে যান ভারতের কিংবদন্তি অধিনায়ক MS Dhoniকে। ডি ককের ডিসমিসালের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৩-এ। ডি গ্রুপ থেকে টানা তিন জয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা এখন সুপার এইট পর্বের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেবে। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের জন্য সামনে অপেক্ষা করছে বাঁচা-মরার লড়াই।
ব্যাটার শেরফানে রাদারফোর্ড ও স্পিনার গুদাকেশ মোতির কল্যাণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গতরাতে ‘সি’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩০ রানে হারিয়েছে ইংল্যান্ডকে। ব্যাট হাতে রাদারফোর্ড ৪২ বলে অনবদ্য ৭৬ এবং স্পিনার মোতি ৩ উইকেট নেন। মুম্বাইয়ে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৮ রানে দুই ওপেনারকে হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তৃতীয় উইকেটে ২৮ বলে ৪৭ রান যোগ করে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন শিমরোন হেটমায়ার ও রোস্টন চেজ। দলীয় ৭৭ রানের মধ্যে বিদায় নেন তারা। হেটমায়ার ২৩ ও চেজ ৩৪ রান করেন। এরপর রোভম্যান পাওয়েলকে নিয়ে ২৯ বলে ৫১ এবং জেসন হোল্ডারের সাথে ৩২ বলে ৬১ রানের জুটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৯৬ রানের সংগ্রহ এনে দেন রাদারফোর্ড। পাওয়েল ১৪ ও হোল্ডার ১৭ বলে ৩৩ রান করেন। ২টি চার ও ৭টি ছক্কায় ৪২ বলে ৭৬ রানে অপরাজিত থাকেন রাদারফোর্ড। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিংয়ের সামনে বড় ইনিংস খেলতে পারেনি ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা। ১৯ ওভারে ১৬৬ রানে গুটিয়ে যায় তারা। দলের হয়ে স্যাম কারান ৪৩, জ্যাকব বেথেল ৩৩ ও ফিল সল্ট ৩০ রান করেন। মোতি ৩৩ রানে ৩টি ও চেজ ২৯ রানে ২ উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হন রাদারফোর্ড।
আগামী মাসের নারী এশিয়ান কাপের শিরোপা জিতে “নতুন ইতিহাস” গড়তে চায় জাপান, এমনটাই জানিয়েছেন দলের কোচ নিলস নিয়েলসেন। বৃহস্পতিবার ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন নিয়েলসেন। যেখানে তিনি ইংল্যান্ডভিত্তিক ১৬ জন খেলোয়াড়কে দলে রেখেছেন। জাপান এশিয়ার একমাত্র দেশ যারা নারী বিশ্বকাপ জিতেছে, তবে এ পর্যন্ত খেলা ২০ আসরের এশিয়ান কাপে তারা মাত্র দু’বার শিরোপা জিতেছে। সর্বশেষ শিরোপা আসে ২০১৮ সালে। জাপান নারী দলের প্রথম বিদেশী কোচ গ্রিনল্যান্ডে জন্ম নেওয়া নিয়েলসেন মনে করেন, আগামী ১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হওয়া টুর্নামেন্টে এবারই জাপানের সামনে সেরা সুযোগ। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দায়িত্ব নেয়া ৫৪ বছর বয়সী এই কোচ বলেন, “ঐতিহাসিকভাবে এই টুর্নামেন্ট জাপানের জন্য সহজ ছিল না। আমরা নতুন ইতিহাস গড়তে চাই। আমাদের এমন একটি দল আছে যারা শিরোপা জিততে সক্ষম। তাই ট্রফি না জেতা পর্যন্ত আমরা সন্তুষ্ট হতে পারছি না।” ২৬ সদস্যের দলে জায়গা পেয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হিনাতা মিয়াজাওয়া, যিনি ২০২৩ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন। এছাড়া ম্যানচেস্টার সিটির ইউই হাসেগাওয়া ও আওবা ফুজিনোও রয়েছেন। ২০১১ বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য এবং ১৬৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ডিফেন্ডার সাকি কুমাগাই এখনও দলে আছেন। জাপানের ঘরোয়া ডব্লিউই লিগ থেকে মাত্র চারজন খেলোয়াড় দলে সুযোগ পেয়েছেন। নিয়েলসেন জানান, চোট-আঘাতের সমস্যা না থাকায় চূড়ান্ত দল নির্বাচন খুব কঠিন ছিল না। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি দল পেয়েছি যেখানে সব ধরনের বৈচিত্র্য আছে। প্রায় সব পরিস্থিতির জন্য আমরা প্রস্তুত। একই ধরনের অনেক খেলোয়াড় আমরা নেইনি। কারণ মাঠে কাউকে বদলি করলে আমরা ভিন্ন কিছু যোগ করতে চাই।” প্রথম রাউন্ডে তাইওয়ান, ভিয়েতনাম ও ভারতের সঙ্গে একই গ্রুপে থাকা জাপান ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নামবে। নিয়েলসেন বলেন, “প্রতিপক্ষ যে কৌশল নিয়ে আসুক না কেন, আমাদের স্কোয়াডে তার জবাব দেওয়ার মতো সমাধান আছে বলেই আমি বিশ্বাস করি।”
উৎসবমুখর পরিবেশে জীবনের প্রথমবারের মত ভোট দিতে পেরে উচ্ছসিত বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও দেশ সেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। আজ বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকার চট্টগ্রাম আঞ্চলিক লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের একটি বুথে ভোট প্রদান করেন তামিম। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের তামিম ইকবাল বলেন, ‘জীবনের প্রথম ভোট দিলাম। খুবই এক্সাইটেড। পরিবেশ খুবই ভাল লাগছে। নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছি।’ পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজেদের ভেরিফাইড পেজে ভোট দেওয়ার ছবি দিয়ে তামিম লিখেন, ‘ভোট আমার নাগরিক অধিকার। নিজে ভোট দিলাম এবং দেখলাম স্বতস্ফূর্ত উৎসাহে অনেকেই ভোট দিচ্ছেন। সুশৃঙ্খল ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় সবাইকে সহায়তার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনীকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’ যে কেন্দ্রে তামিম ভোট দিয়েছেন, সেটি চট্টগ্রাম-৯ আসন। কোতোয়ালি থানার এ আসনে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, ১১ দলীয় জোটের এ কে এম ফজলুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুস শুক্কুর, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ, গণসংহতি আন্দোলনের সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ, বাসদের মো. শফি উদ্দিন কবির, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোহাম্মদ নঈম উদ্দীন, নাগরিক ঐক্যের মো. নুরুল আবছার মজুমদার, জনতার দলের মো. হায়দার আলী চৌধুরী ও জেএসডির আবদুল মোমেন চৌধুরী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজেদের ভেরিফাইড পেজে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ক্রিকেটাররা। ঢাকা-৯ আসনে দক্ষিণ বনশ্রী মডেল হাই স্কুলে ভোট দিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক ও জাতীয় দলের বর্তমান ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। ভোট দেওয়ার ছবি আপলোড করে ফেসুবকে আশরাফুল লিখেছেন, ‘সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে আজ ভোট দিলাম। দায়িত্ববোধ শেখানো শুরু ঘর থেকেই।’ রংপুরে নিজ এলাকায় প্রথমবার ভোট দিয়েছেন ২০২০ সালে আইসিসি যুব বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবর আলি। নিজ এলাকার মানুষদের সাথে ভোট দেওয়ার ছবি আপলোড করেছেন তিনি। ছবির ক্যাপশনে আকবর লিখেছেন, ‘প্রথম ভোট।’ আকবরের মত প্রথমবার ভোট দিয়েছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার উইকেটরক্ষক-ব্যাটার নুরুল হাসান সোহান। নিজ এলাকা দৌলতপুরে ভোট দিয়েছেন তিনি। ভোট কেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে তোলা ছবি ফেসবুকে দিয়েছেন সোহান। ছবির ক্যাপশনে সোহান লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, প্রথমবার ভোট দিলাম।’ জীবনের প্রথম ভোট দিয়ে আনন্দিত জাতীয় দলের ব্যাটার মাহমুদুল হাসান জয়। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘দিয়ে আসলাম, জীবনের প্রথম ভোট।’ ফেনিতে ভোট দিয়েছেন জাতীয় দলের পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। ভোট দেওয়ার ছবি ফেসবুকে আপলোড করে সাইফুদ্দিন লিখেছেন, ‘অবশেষে ভোট দিলাম। যেখানে আমার শৈশব কেটেছে, মাটির গন্ধে বড় হওয়া সেই চেনা জায়গাতেই। এটা শুধু একটা ভোট নয়, এটা নিজের শিকড়কে ছুঁয়ে দেখার অনুভূতি, নিজের দায়িত্বকে অনুভব করার এক নীরব গর্ব। ছোটবেলার স্মৃতি, আজকের সিদ্ধান্ত- এই দুটো একসাথে মিলেই আজকের দিনটা আমার কাছে আলাদা।’ ভোট দিয়েছেন জাতীয় দলের হার্ডহিটার ব্যাটার সাব্বির রহমানও। ফেসবুকে এই ডান-হাতি ব্যাটার লিখেছেন, ‘আমার ভোটটা কিন্তু দিয়ে দিলাম।’ সবমিলিয়ে এবার সারাদেশে ভোটার রয়েছেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন এবং নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) আবারও অস্বস্তি, আবারও দুর্নীতির গন্ধ। দুর্নীতি ও ফিক্সিং- সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিতর্কিত বিসিবি পরিচালক মোখলেছুর রহমান শামীম দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোয় নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। মাঠের ক্রিকেটে শুদ্ধতার কথা বলা বোর্ডের অন্দরেই যখন অনিয়মের অভিযোগ ঘুরপাক খায়, তখন সেটি শুধু একজন পরিচালকের বিষয় থাকে না- পুরো ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাই টালমাটাল হয়ে ওঠে। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, শামীমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ একদিনের নয়। স্বার্থের সংঘাত, আর্থিক অনিয়ম এবং ফিক্সিং- সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই বোর্ডের ভেতরে আলোচনায় ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এসব অভিযোগ নতুন তথ্য ও নথির সঙ্গে জড়িত হয়ে সামনে আসায় আর চুপ থাকার সুযোগ ছিল না বিসিবির সামনে। পরিস্থিতির চাপে গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি, আর দায়িত্ব ছাড়তে হয়েছে অভিযুক্ত পরিচালককে। এ ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হয়েছে- বাংলাদেশ ক্রিকেটে দুর্নীতি শুধু মাঠের খেলোয়াড়দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরেও তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, তদন্ত সত্য উন্মোচন করবে, নাকি এটি পরিণত হবে আরেকটি চাপা পড়ে যাওয়া অধ্যায়ে। অভিযোগের সূত্রপাত যেভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) মোখলেছুর রহমান শামীমকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের সূত্রপাত হঠাৎ করে নয়। বিসিবি ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই বোর্ডের অভ্যন্তরে আলোচনায় ছিল। তবে এতদিন এসব অভিযোগ নির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে গড়ায়নি। পরিস্থিতির মোড় ঘুরতে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে, যখন কিছু অভ্যন্তরীণ নথি, সন্দেহজনক যোগাযোগের তথ্য এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত প্রশ্ন সামনে আসে। সূত্রগুলো বলছে, এসব তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়- একাধিক ঘটনায় স্বার্থের সংঘাত এবং নিয়ম বহির্ভূত যোগাযোগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিষয়টি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অভিযোগে সীমাবদ্ধ না থেকে ধারাবাহিকভাবে সামনে আসায় বিসিবির ভেতরেই উদ্বেগ বাড়তে থাকে। বোর্ডের এক দায়িত্বশীল সূত্রের ভাষায়, “অভিযোগগুলো যদি বিচ্ছিন্ন হতো, তাহলে হয়তো অভ্যন্তরীণভাবেই বিষয়টি নিষ্পত্তি করা যেত। কিন্তু যখন একই ধরনের প্রশ্ন বারবার উঠতে থাকে এবং নতুন নতুন তথ্য সামনে আসে, তখন বোর্ডের ভাবমূর্তি রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।” এই প্রেক্ষাপটেই বিষয়টি আর উপেক্ষা করার সুযোগ ছিল না বিসিবির সামনে। শেষ পর্যন্ত অভিযোগগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেয় বোর্ড, যার ধারাবাহিকতায় তদন্ত কমিটি গঠন এবং অভিযুক্ত পরিচালকের দায়িত্ব ছাড়ার ঘটনা ঘটে। কী ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ মোখলেছুর রহমান শামীমের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগগুলো কয়েকটি স্তরে বিভক্ত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। প্রথম এবং সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ হলো স্বার্থের সংঘাত। অভিযোগ রয়েছে, বিসিবির পরিচালক পদে থাকার সময় তিনি এমন কিছু সিদ্ধান্তে যুক্ত ছিলেন, যেগুলোতে ব্যক্তিগত স্বার্থ কিংবা ঘনিষ্ঠ মহলের সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। বোর্ডের নীতিমালায় স্বার্থের সংঘাত এড়ানোর সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও, কিছু সিদ্ধান্ত সেই নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল বলে অভিযোগকারীদের দাবি। দ্বিতীয় স্তরের অভিযোগগুলো আর্থিক অনিয়ম ঘিরে। ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রকল্প, চুক্তি ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিসিবির ভেতরেই প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় স্বচ্ছতা ও নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে দরপত্র প্রক্রিয়া এবং ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা। তৃতীয় এবং সবচেয়ে স্পর্শকাতর অভিযোগটি ফিক্সিং-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে। যদিও এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি, তবে অভিযোগের গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতার কারণে বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ ছিল না। এ কারণেই বিসিবি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়, যাতে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা যায়। দায়িত্ব ছাড়লেন কেন বিসিবির আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলমান তদন্ত প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত রাখতে মোখলেছুর রহমান শামীম সাময়িকভাবে তার পরিচালকের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বোর্ডের ভাষায়, এটি একটি নৈতিক সিদ্ধান্ত, যাতে তদন্ত কমিটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে এবং কোনো ধরনের প্রভাব বা স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ না ওঠে। তবে বাস্তব চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন বলে মনে করছেন বিসিবির ভেতরের একাধিক সূত্র। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত একান্তই স্বেচ্ছায় নেওয়া হয়নি। অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে আসার পর খুব দ্রুতই বিষয়টি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ক্রিকেট বিশ্লেষক, সাবেক খেলোয়াড় ও সমর্থকদের একাংশ বিসিবির ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলতে থাকেন। বিশেষ করে ফিক্সিং-সংশ্লিষ্ট অভিযোগ সামনে আসার পর বোর্ডের ভাবমূর্তি নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও সমালোচনার মাত্রা বাড়তে থাকে, যা বিসিবির ওপর সরাসরি চাপ তৈরি করে। বোর্ডের এক দায়িত্বশীল সূত্রের ভাষায়, “এই চাপ উপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না। পরিস্থিতি সামাল দিতেই তাকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়।” ফলে তদন্তের স্বার্থের পাশাপাশি বোর্ডের ভাবমূর্তি রক্ষাই দায়িত্ব ছাড়ার পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্ত কমিটি- কতটা স্বাধীন? মোখলেছুর রহমান শামীমকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের পরিণতি এখন অনেকটাই নির্ভর করছে বিসিবি গঠিত তদন্ত কমিটির কার্যক্রমের ওপর। বোর্ড সূত্র জানায়, কমিটির মূল দায়িত্ব হলো অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ এবং প্রয়োজনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সুপারিশ করা। কাগজে-কলমে এই দায়িত্বগুলো যথেষ্ট শক্তিশালী মনে হলেও, বাস্তবে তদন্তের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ, তদন্ত কমিটির সদস্যদের বড় একটি অংশই বিসিবির বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে ‘নিজেদের লোক দিয়ে নিজেদের তদন্ত’- এই সমালোচনা জোরালো হচ্ছে। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, এতে স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এক ক্রীড়া বিশ্লেষক বলেন, “বোর্ডের অভ্যন্তরীণ কমিটি যতই সদিচ্ছা দেখাক না কেন, বাইরের নিরপেক্ষ নজরদারি ছাড়া আস্থা তৈরি করা কঠিন।” সমালোচকদের আশঙ্কা, যদি তদন্ত প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে প্রতিবেদন যাই হোক না কেন- তা গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। ফলে এই তদন্ত শুধু শামীম ইস্যু নয়, বিসিবির সামগ্রিক সুশাসন পরীক্ষার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। বিসিবিতে দুর্নীতির অভিযোগ- নতুন নয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ইতিহাসে বিতর্ক ও অভিযোগ নতুন কোনো ঘটনা নয়। অতীতেও একাধিকবার দুর্নীতির অভিযোগে বিসিবিকে বিব্রত পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত ছিল ফিক্সিং কেলেঙ্কারি, যেখানে বাংলাদেশের ক্রিকেট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কঠিন সময় পার করেছে এবং একাধিক খেলোয়াড়কে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। এর পাশাপাশি আর্থিক অনিয়ম, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার অভাব এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। কখনো টিকিট বিক্রি, কখনো অবকাঠামো উন্নয়ন, আবার কখনো লিগ পরিচালনা- প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রশ্ন উঠেছে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা নিয়ে। যদিও বিসিবি প্রায়শই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বা অভ্যন্তরীণ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পূর্ণাঙ্গ ও বিশ্বাসযোগ্য সমাধান পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মোখলেছুর রহমান শামীম ইস্যুকে অনেকেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন না। বরং এটিকে বিসিবির দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতার আরেকটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করছেন। সমালোচকদের মতে, বারবার একই ধরনের অভিযোগ ওঠা প্রমাণ করে- সমস্যা ব্যক্তি নয়, বরং ব্যবস্থার ভেতরেই রয়ে গেছে। খেলোয়াড় বনাম পরিচালক: দ্বিমুখী মানদণ্ড? শামীম ইস্যু ঘিরে সবচেয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠেছে- খেলোয়াড় ও পরিচালকদের ক্ষেত্রে বিসিবির আচরণ কি সমান? সমালোচকদের দাবি, এখানে স্পষ্ট একটি দ্বিমুখী মানদণ্ড কাজ করছে। অতীতে ফিক্সিং বা অনৈতিক আচরণের অভিযোগে খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ আজীবন নিষিদ্ধ হয়েছেন, কারও ক্রিকেট ক্যারিয়ার কার্যত শেষ হয়ে গেছে। অথচ পরিচালনা পর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলেও, সেসব ক্ষেত্রে তদন্ত দীর্ঘায়িত হয় এবং সিদ্ধান্ত নিতে গড়িমসি দেখা যায়- এমন অভিযোগ বহুদিনের। শামীমের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরও তিনি পদে বহাল ছিলেন, পরে চাপের মুখে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়ান। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈষম্য ক্রিকেট প্রশাসনের প্রতি আস্থাকে দুর্বল করে দেয়। একজন সাবেক খেলোয়াড়ের মন্তব্য, “খেলোয়াড়রা যদি নিয়ম ভাঙে, শাস্তি নিশ্চিত। কিন্তু পরিচালকের ক্ষেত্রে নিয়ম যেন নমনীয় হয়ে যায়।” এই প্রশ্নের সঠিক জবাব না মিললে, বিসিবির নৈতিক অবস্থান আরও প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভিন্ন সুর শামীমের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোখলেছুর রহমান শামীম। তার দাবি, তাকে জড়িয়ে যে অভিযোগগুলো তোলা হয়েছে, সেগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থে পরিচালিত অপপ্রচার। গণমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “আমি কোনো ধরনের দুর্নীতি বা ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত নই। তদন্তেই সত্য বেরিয়ে আসবে।” তবে এখন পর্যন্ত অভিযোগগুলোর নির্দিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা তথ্যভিত্তিক জবাব প্রকাশ্যে আনেননি তিনি। সমালোচকদের মতে, শুধু অস্বীকার করাই যথেষ্ট নয়; বরং প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত ও যোগাযোগের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। বিসিবির ভেতরের একটি সূত্র জানায়, তদন্ত চলাকালীন শামীম প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা না বলার কৌশল নিয়েছেন। তার ঘনিষ্ঠদের দাবি, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই তিনি বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন। তবে ততদিনে জনমত কোন দিকে যায়, সেটাই তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রতিক্রিয়া শামীমকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। ফেসবুক, এক্স (টুইটার) ও ইউটিউবে বিসিবির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অসংখ্য ক্রিকেটপ্রেমী। অনেকেই মনে করছেন, বোর্ড নিজেই যখন স্বচ্ছ নয়, তখন ক্রিকেটের উন্নয়ন শুধু স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকে। “বোর্ড আগে নিজেকে শুদ্ধ করুক”- এমন মন্তব্য বারবার উঠে আসছে। কেউ কেউ আবার লিখেছেন, “দুর্নীতি যদি প্রশাসনেই থাকে, ক্রিকেট এগোবে কীভাবে?” এই প্রতিক্রিয়াগুলো স্পষ্ট করে দিচ্ছে, বিসিবির প্রতি আস্থার জায়গাটি কতটা নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে তরুণ ক্রিকেটভক্তদের মধ্যে ক্ষোভ বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাদের মতে, খেলোয়াড়দের কাছ থেকে নৈতিকতা আশা করা হলেও, প্রশাসনের ক্ষেত্রে সেই মানদণ্ড প্রয়োগ না হওয়া হতাশাজনক। এই জনমত বিসিবির জন্য একটি সতর্ক বার্তা বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভাবমূর্তির প্রশ্ন বিসিবির কোনো পরিচালকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বরাবরই সদস্য বোর্ডগুলোর সুশাসন ও স্বচ্ছতার ওপর নজর রাখে। অতীতে বিভিন্ন বোর্ডে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে আইসিসি হস্তক্ষেপের নজিরও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শামীম ইস্যু যদি সঠিকভাবে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে নিষ্পত্তি না হয়, তাহলে বিসিবির ওপর বাড়তি নজরদারি আসতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হতে পারে এবং বিভিন্ন সহযোগিতা ও উন্নয়ন প্রকল্পে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এক আন্তর্জাতিক ক্রীড়া বিশ্লেষকের ভাষায়, “ক্রিকেট এখন শুধু মাঠের খেলা নয়, প্রশাসনিক বিশ্বাসযোগ্যতাও বড় বিষয়।” এই কারণেই তদন্ত প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সামনে কী অপেক্ষা করছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী শামীম ইস্যুতে কয়েকটি পথ খোলা রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার পরিচালক পদ বাতিলসহ বিসিবির অভ্যন্তরীণ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। গুরুতর অপরাধের প্রমাণ মিললে আইনগত ব্যবস্থার পথও খোলা থাকবে। তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, বিসিবিতে তদন্ত প্রক্রিয়া অনেক সময় দীর্ঘায়িত হয়। ফলে দ্রুত ও দৃশ্যমান সিদ্ধান্ত আসবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। ক্রিকেটপ্রেমীদের বড় প্রত্যাশা- এবার যেন তদন্ত শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে। এই ইস্যুর পরিণতি শুধু একজন পরিচালকের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না; বরং বিসিবি আদৌ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির পথে হাঁটতে চায় কি না, সেই পরীক্ষাও দেবে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বৈশ্বিক বিমান চলাচলে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে। ইরান যুদ্ধের জেরে দেখা দিচ্ছে ‘ফ্লাইটস টু নো-হোয়ার’ বা গন্তব্যে না পৌঁছে মাঝ আকাশ থেকে ফিরে আসা ফ্লাইটের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এমিরেটস-এর লন্ডন থেকে দুবাইগামী ফ্লাইট ইকে১০ সৌদি আকাশসীমায় থাকা অবস্থায় গন্তব্যে ড্রোন হামলার খবর পেয়ে হঠাৎ ফিরে যায়। শেষ পর্যন্ত এটি ৯ হাজার ১০০ কিলোমিটারের বেশি ‘গন্তব্যহীন’ যাত্রা সম্পন্ন করে আবার গ্যাটউইকে অবতরণ করে। খবর দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের। একইভাবে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানি ড্রোন হামলার কারণে অন্তত ৩০টি ফ্লাইট মাঝপথে ঘুরে যেতে বা বিকল্প পথে যেতে বাধ্য হয়। যাত্রীরা ভেবেছিলেন ভোরে দুবাই পৌঁছাবেন, কিন্তু বাস্তবে তারা ফিরে যান যাত্রার শুরুর বিমানবন্দরে বা অন্য শহরে। বিশ্লেষকদের মতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই এই ধরনের ‘গন্তব্যহীন ফ্লাইট’-এর সংখ্যা বেড়েছে। উপসাগরীয় আকাশসীমার বড় অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আঞ্চলিক বিমান চলাচল প্রায় শূন্যে নেমে আসে। কাতার এয়ারওয়েজ, ইতিহাদ এয়ারওয়েজসসহ বড় এয়ারলাইনগুলো আংশিকভাবে ফ্লাইট চালু করলেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতায় হঠাৎ রুট পরিবর্তন এখনও ঘটছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যগামী ও সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রায় ৩০ হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে এমিরেটস একাই দুই হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অস্থিরতা শুধু যাত্রীদের ভোগান্তিই বাড়াচ্ছে না, বরং বৈশ্বিক বিমান শিল্প ও অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে।
মুক্তিযোদ্ধা ভাতার নামে ৯১ লাখ টাকা আত্মসাৎ: ভুয়া হিসাব ও জালিয়াতির বিস্তৃত চক্র চার বছরে নিঃশব্দে অর্থ উত্তোলন, সামনে এলো বড় ধরনের অনিয়ম বরগুনা: বরগুনার আমতলী উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা বিতরণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত চার বছরে অনুমোদনবিহীন একাধিক ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে প্রায় ৯১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ধারী তোফাজ্জেল হোসেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ—একটি চক্রের সহায়তায় ভুয়া হিসাব খুলে এবং জাল প্রোফাইল ব্যবহার করে এই অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে। কীভাবে ঘটেছে জালিয়াতি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা নির্দিষ্ট পে-রোল তালিকা অনুযায়ী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা বিতরণ কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়ার কথা। কিন্তু তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। বরং— অনুমোদন ছাড়া একাধিক ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা হয়েছে নিয়মিতভাবে সেই অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে একাধিক শাখা ব্যবহার করা হয়েছে লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত শাখাগুলোর মধ্যে রয়েছে আমতলী, বরগুনা কোর্টবিল্ডিং, বরিশাল চকবাজার এবং কলেজ রোড শাখা। একাধিক ভুয়া ও অননুমোদিত হিসাব অনুসন্ধানে জানা যায়, তোফাজ্জেল হোসেনের নামে আমতলী শাখায় একাধিক হিসাব খোলা হয়। এর মধ্যে— একটি বৈধ সঞ্চয়ী হিসাব একটি এমডিএস (ডিগিএস) হিসাব দুটি অননুমোদিত সঞ্চয়ী হিসাব শুধু তাই নয়, তার পরিবারের সদস্যদের নামেও হিসাব ব্যবহার করা হয়েছে: স্ত্রী শাহানারা কাজলের নামে একটি হিসাব বোন লুৎফা বেগমের নামে একটি হিসাব এসব হিসাবে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার অর্থ জমা হয়ে পরে তুলে নেওয়া হয়েছে। ভুয়া প্রোফাইলের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ব্যাংকের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। মোট ৪০টি মুক্তিযোদ্ধা প্রোফাইল শনাক্ত করা হয়, যার মধ্যে— ১৪টি সম্পূর্ণ ভুয়া ২০টি হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন এই ভুয়া পরিচয়ের মাধ্যমে প্রায় ৯১ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ঋণ জালিয়াতিও যুক্ত শুধু ভাতা নয়, জালিয়াতির পরিধি আরও বিস্তৃত। তদন্তে দেখা গেছে— তিনটি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা প্রোফাইলের বিপরীতে ঋণ নেওয়া হয়েছে ফরিদা বেগম, চম্পা ও রুনু নামের ভুয়া ব্যক্তিদের নামে মোট ২৪ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে এতে বোঝা যায়, জালিয়াতির চক্রটি শুধু ভাতা আত্মসাৎ নয়, ব্যাংকিং ব্যবস্থার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে বহুমুখী অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়েছে। অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি ব্যাংকের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য সামনে আসে। লিখিত বক্তব্যে তোফাজ্জেল হোসেন নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি দাবি করেছেন, মন্ত্রণালয়ের একজন ব্যক্তির সহযোগিতায় এই লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। তবে সেই ব্যক্তির পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয়দের প্রশ্ন: তিনি কি সত্যিই মুক্তিযোদ্ধা? তোফাজ্জেল হোসেন ২০০৯ সাল থেকে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাচ্ছেন। কিন্তু স্থানীয় অনেক মুক্তিযোদ্ধার দাবি— মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স খুবই কম ছিল তিনি কোনো যুদ্ধে অংশ নেননি এতে তার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, তাদের অজান্তেই অন্যদের হিসাবে টাকা চলে গেছে। মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল ইসলাম তালুকদার বলেন: “খালেদা বেগম ও তহমিনা ইউনুস নামে কাউকে আমি চিনি না। অথচ আমার ভাতার টাকা তাদের হিসাবে গেল—এটা কীভাবে সম্ভব, বুঝতে পারছি না।” পরিবারের অস্বীকার অভিযুক্তের স্ত্রী শাহানারা কাজল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি— তিনি কোনো ভাতা গ্রহণ করেন না কোনো আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত নন পুরো বিষয়টি ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তাদের কাজ তার ভাষায়: “আমার স্বামীকে ব্যবহার করে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে।” ব্যাংক কর্মকর্তাদের অবস্থান ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি নজরে আসার পরই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্যের মূল পয়েন্ট: অস্বাভাবিক লেনদেন ২০২৪ সালের শেষ দিকে ধরা পড়ে তাৎক্ষণিকভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় প্রধান কার্যালয়ের বিশেষ তদন্ত দল নামে একজন সাবেক ব্যবস্থাপক জানান, অনুমোদনহীন লেনদেনের কারণে কিছু হিসাব বন্ধ করে দেওয়া হয়। অন্যদিকে আরেক কর্মকর্তা বলেন, ভাতা সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে পাঠানো হলে ব্যাংকের পক্ষে সব ক্ষেত্রে তা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। আংশিক টাকা ফেরত তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত ব্যক্তি ২২ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এখনো বড় অংশের অর্থ উদ্ধার হয়নি। প্রশ্নগুলো বড় এই ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে: ১. কীভাবে ভুয়া প্রোফাইল তৈরি হলো? সরকারি তালিকায় কীভাবে ১৪টি ভুয়া নাম যুক্ত হলো, তা এখনো পরিষ্কার নয়। ২. ব্যাংকের ভেতরে সহযোগিতা ছিল কি? একাধিক শাখায় লেনদেন হওয়ায় অভ্যন্তরীণ যোগসাজশের সন্দেহ জোরালো হচ্ছে। ৩. কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তদারকি কোথায় ছিল? বিএফটিএন ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থ পাঠানো হলেও যাচাই প্রক্রিয়ায় ঘাটতি ছিল। প্রশাসনিক দুর্বলতা ও পদ্ধতিগত ত্রুটি বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা কেবল ব্যক্তিগত জালিয়াতি নয়, বরং একটি পদ্ধতিগত ব্যর্থতার উদাহরণ। সম্ভাব্য দুর্বলতা: ডিজিটাল যাচাইয়ের অভাব প্রোফাইল যাচাইয়ে শৈথিল্য ব্যাংকিং নজরদারির ঘাটতি স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী চক্রের দাপট তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ ব্যাংকের আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে— দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শনাক্ত করা হবে অর্থ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালানো হবে বৃহত্তর প্রভাব মুক্তিযোদ্ধা ভাতা শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এটি জাতীয় সম্মানের প্রতীক। এই ধরনের জালিয়াতি— প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমায় দুর্নীতির নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করে আমতলীর এই ঘটনা বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গভীর সংকটকে সামনে এনেছে। কয়েকজন ব্যক্তির মাধ্যমে সংগঠিত এই জালিয়াতি দেখিয়ে দিয়েছে, যথাযথ তদারকি না থাকলে রাষ্ট্রীয় সহায়তা কর্মসূচি কত সহজেই অপব্যবহৃত হতে পারে। এখন নজর সবার—তদন্ত কতদূর এগোয়, দায়ীদের কী শাস্তি হয়, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা তাদের প্রাপ্য সম্মান ও ভাতা ফিরে পান কিনা।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তিন মামলা এবং সরকারি কর্মচারী বিধিমালায় বিভাগীয় মামলা দায়েরের পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) উপ-কর কমিশনার তানজিনা সাথীকে চাকরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত সোমবার (১৬ মার্চ) এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান সই করা প্রজ্ঞাপন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এতে বলা হয়েছে, উপকর কমিশনার তানজিনা সাথী বর্তমানে কর অঞ্চল-ময়মনসিংহে কর্মরত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১০ মার্চ দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। দুদকের মামলার পাশাপাশি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার ৩(খ) বিধি অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় মামলা রুজুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার ১২(১) বিধি অনুযায়ী তাঁকে চাকরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা প্রয়োজন ও সমীচীন মনে করে কর্তৃপক্ষ এই আদেশ জারি করে। আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালীন তানজিনা সাথী বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।নিজ ও তার বাবা-মা’র নামে প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত ১০ মার্চ দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে তিনটি মামলা দায়ের করে দুদক। যেখানে তিন মামলার আসামি হয়েছেন কর কর্মকর্তা তানজিনা সাথী। মামলার অপর আসামিরা হলেন তার বাবা মোঃ মোশারফ হোসেন মল্লিক ও মা রাণী বিলকিস। কর কর্মকর্তার সাড়ে ১৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ পাহাড়; ফাঁসালেন বাবা-মাকেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর বিভাগের সহকারী কর কমিশনার মোসা. তানজিনা সাথী। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে যার দায়িত্ব রাষ্ট্রের কর আদায় নিশ্চিত করা। কিন্তু কর আদায়ের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেই গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। সচেতনভাবে দুর্নীতির কালো টাকা আড়াল করতে ব্যবহার করেছেন নিজের জন্মদাতা বাবা ও গর্ভধারিণী মাকে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জালে আটকা পড়েছেন তিনিসহ তার পরিবার। নিজ ও তার বাবা-মার নামে প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে মামলার আসামি হয়েছেন তারা। সম্পদ কম দেখিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতেই তিনি বৃদ্ধ বাবা-মাকে ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করে ফাঁসালেন তাদের। গত ১০ মার্চ দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে তাদের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যেখানে তিন মামলার আসামি হয়েছেন কর কর্মকর্তা তানজিনা সাথী। দুদকের অনুসন্ধানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তানজিনা সাথীর বাবা মোশারফ হোসেন মল্লিকের নামে ৭ কোটি ৮৮ লাখ ২৮ হাজার ৬৫৫ টাকার সম্পদের দালিলিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। যার কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেন নাই তিনি। একইভাবে তার মা রাণী বিলকিসের নামে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৫৮ হাজার ৫৬৩ টাকার অবৈধ সম্পদের খোঁজ মিলেছে। দুদকের প্রতিবেদন বলছে, এই বৃদ্ধ দম্পতির নিজস্ব কোনো আয়ের উৎস ছিল না, মূলত মেয়ের দুর্নীতির টাকা বৈধ করতেই তারা আয়কর নথিতে মিথ্যা ঘোষণা দিয়েছিলেন। অর্থাৎ আয়কর নথি মেয়ে তানজিনা সাথী তৈরি করেছেন দুর্নীতির টাকা আড়াল করতে। বাবা-মায়ের পাশাপাশি নিজের নামেও কম সম্পদ করেননি এই কর কর্মকর্তা। রাজধানীসহ মালিবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হদিস পেয়েছে দুদক। আর্থিক হিসাবে যার পরিমাণ ৫ কোটি ৬৬ হাজার ৯৪ টাকা। বিপরীতে বৈধ আয়ের কোনো প্রমাণ মেলেনি। সব মিলিয়ে এই পরিবারের মোট ১৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকার বেশি অবৈধ সম্পদের কারণে তানজিনা সাথী ও তার বাবা-মা দুদকের মামলার আসামি। তিন মামলার এজাহার যা বলছে সহকারী কর কমিশনার হিসাবে মোসা. তানজিনা সাথী কর অঞ্চল-৭ এর কর সার্কেল-১৩৭ ও ১৪২ এবং কর অঞ্চল-৯ এর কর সার্কেল-১৮১ কর্তব্যরত ছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিপুল পরিমাণ উৎকোচ গ্রহণ করে নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন এমন অভিযোগ নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান শুরু হয়। অনুসন্ধানকালে তানজিনা সাথীর নামে ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ২ কোটি ৩৩ লাখ ৪৪ হাজার ৩৯৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের খোঁজ পায় দুদক। সব মিলিয়ে ৫ কোটি ৪৮ লাখ ৪৪ হাজার ৩৯৬ টাকার সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে। যেখানে ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় আমলে নিলে অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ কোটি ৭৯ লাখ ৭৭ হাজার ৩৯২ টাকা। যার বিপরীতে তিনি ৭৯ লাখ ১৮ হাজার ২৯৮ টাকার সম্পদের পক্ষে দালিলিক প্রমাণ দেখাতে সমর্থ হয়েছেন। অর্থাৎ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ পাওয়া গেছে ৫ কোটি ৬৫ হাজার ৯৪ টাকার। যে কারণে প্রথম মামলার আসামি হয়েছেন। অন্যদিকে, তার বাবা মো. মোশারফ হোসেন মল্লিকের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ৭ কোটি ৮৮ লাখ ২৮ হাজার ৬৫৫ টাকার সম্পদের প্রমাণ পায় দুদক। মূলত মেয়ে তানজিনা সাথী অবৈধ টাকাকে বৈধ করার লক্ষ্যে তার বাবার নাম ব্যবহার করেছেন। অনুসন্ধানে দেখা যায় বাবা মো. মোশারফ হোসেন মল্লিকের নামে ৩ লাখ ২৯ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৪ কোটি ৭৫ লাখ ৪ হাজার ৪২ টাকার এবং অস্থাবর সম্পদ অর্থাৎ নগদ অর্থের প্রমাণ পায় দুদক। ২০০২-০৩ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত পারিবারিক ও অন্যান্য খাতে আয়কর নথিতে ব্যয় দেখিয়েছেন ৪ কোটি ১৭ লাখ ১৫ হাজার ৫৪ টাকা। সব মিলিয়ে ৮ কোটি ৯৫ লাখ ৪৮ হাজার ৯৬ টাকার সম্পদের মধ্যে বৈধ উৎস দেখাতে পেরেছেন মাত্র ১ কোটি ৭ লাখ ১৯ হাজার ৪৪১ টাকা। বাকিটুকু জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ বলে দুদক প্রমাণ পেয়েছে। আর ওই সম্পদ তার কন্যা তানজিনা সাথীর ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত টাকা বৈধ করার চেষ্টা করেছেন। এই মামলায় বাবার পাশাপাশি মেয়েকেও আসামি করা হয়েছে। অনুরূপভাবে গৃহিণী মা মোসা. রাণী বিলকিসের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১ কোটি ৫৬ লাখ ৫৮ হাজার ৫৬৩ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। নিজের অবৈধ আয়কে বৈধ করার লক্ষ্যে তার মায়ের নামে ওই সম্পদ গড়ার অপরাধে মায়ের পাশাপাশি মেয়েকেও আসামি করা হয়েছে তৃতীয় মামলায়। আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধি ১০৯ ধারায় মামলাগুলো দায়ের করে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ। তথ্য গোপন করে চাকরি : ৩৬ বিসিএসের রাজস্ব কর্মকর্তা তানজিনা সাথী। এনআইডিতে তার স্থায়ী ঠিকানা বরিশালের বাকেরগঞ্জ। কিন্তু বিসিএস কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি নেওয়ার সময় তিনি স্থায়ী ঠিকানা দেখিয়েছেন বরগুনা জেলায়। এটি স্পষ্টতই তথ্য গোপন করার শামিল, যা তার চাকরিচ্যুতির পাশাপাশি দণ্ডনীয় অপরাধও বটে। শুধু তাই নয়, কর কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিপ্রাপ্তির তিন বছর পর তিনি তার মা-বাবার নামে টিন সনদ করিয়েছেন, যেখানে তাদের কোটি কোটি টাকার সম্পদ দেখানো হয়েছে। অথচ তার মা গৃহিণী ও বৃদ্ধ বাবার দৃশ্যমান কোনো রোজগার নেই এবং এত এত অর্থকড়ির মালিক যারা (মা-বাবা), তিন বছর আগেও তারা করের তালিকাভুক্তই ছিলেন না। উপরন্তু, বিসিএস একই ব্যাচের (পুলিশ) আরেক কর্মকর্তার সঙ্গে তানজিনার ছিল খুবই অন্তরঙ্গ সম্পর্ক। কিন্তু পরবর্তীকালে সেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তানজিনা এই মর্মে মামলা ঠুকে দিয়েছেন যে, তিনি সেই কর্মকর্তার কাছে তিন কোটি টাকারও বেশি পাওনা আছেন। এখানেই শেষ নয়। তানজিনা থাকেন মালিবাগে। তার অফিস টাঙ্গাইলে। বরাবরই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে অফিস ফাঁকি দেওয়ার। দিনের পর দিন ভোগান্তির পর সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে এ বিষয়ে তানজিনাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তরফে। এ নোটিশের জবাবও তিনি যথাসময়ে দেননি। এমন পরিস্থিতিতেও তানজিনা সাথীকে সম্প্রতি বরং পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যমতে, তানজিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ জমা পড়েছে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা কামানোর, যা নিয়ে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে অনুসন্ধান পর্ব। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মোসা. তানজিনা সাথীর বাবার নাম মো. মোশাররফ হোসেন মল্লিক, মাতা- মোসা. রানী বিলকিস। স্থায়ী ঠিকানা- গ্রাম- মধ্য নেয়ামতি, পোস্ট- নেয়ামতি, বাকেরগঞ্জ, বরিশাল। বাবা, মায়ের এনআইডিতেও একই ঠিকানা। তবে বাংলাদেশ কর্মকমিশন থেকে প্রকাশিত গেজেটে তার নামের পাশে নিজ জেলার ঘরে লেখা বরগুনা। এদিকে বিসিএসে যোগদানের আগে তিনি সোনালী ব্যাংকে চাকরি করতেন। সেখানেও স্থায়ী ঠিকানা লিখেছেন বরিশাল। ৩৮তম বিসিএসের নন-ক্যাডারের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া তার ভাই মাহফুজুর রহমানের স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে বাকেরগঞ্জ দেখানো হয়েছে। আপন ভাইবোনের স্থায়ী ঠিকানায় ভিন্নতা বিস্ময়করই বটে! এদিকে চাকরির আবেদনে তিনি নিজেকে সিঙ্গল দাবি করেছেন। অথচ বিসিএস পরীক্ষার আবেদন ফরম পূরণের আগে তিনি মো. শফিকুল ইসলাম নামের একজনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। কাবিননামার তথ্য অনুসারে বিবাহের তারিখ ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৩। মোহরানা দশ লাখ টাকা। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ৩৬তম বিসিএস পরীক্ষা-২০১৫ আবেদনের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল- মিথ্যা তথ্য প্রদান ও অসদুপায় অবলম্বনের শাস্তি : (১) কোনো প্রার্থী আবেদনপত্রে জ্ঞাতসারে কোনো ভুল বা মিথ্যা তথ্য প্রদান করলে বা প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন করলে... তাকে উক্ত পরীক্ষাসহ কমিশন কর্তৃক অনুষ্ঠেয় পরবর্তী যে কোনো পরীক্ষার জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে। (২) ক্ষেত্রবিশেষে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে ফৌজদারি আইনে সোপর্দ করা যাবে এবং উক্ত প্রার্থীকে সার্ভিসে নিয়োগের পর এইরূপ কোনো তথ্য প্রকাশ ও তা প্রমাণিত হলে তাকে চাকরি হতে বরখাস্তকরণ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে আইনানুগ যে কোনো উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। তথ্য গোপনের পাশাপাশি তানজিনার বিরুদ্ধে রয়েছে অবৈধ অর্থ উপার্জনের অভিযোগ। জানা গেছে, কর কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের আগে তানজিনা ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকে চাকরি করেন। তার বেতন ছিল ২২-২৫ হাজার টাকা। সেই হিসাবে বছরে তার বেতন দাঁড়ায় সর্বোচ্চ আড়াই লাখ টাকা। ৭ বছরে কোনো টাকা খরচ না করলেও তার মোট আয় হয় ১৭ লাখ টাকা। তানজিনা সাথী তার আয়কর (২০২১-২২) ফাইলে স্থায়ী ঠিকানা লিখেছেন বরিশাল। ২০২১-২২ অর্থবছরে তার নিট সম্পত্তি দেখিয়েছেন ২ কোটি ১৬ লাখ ১ হাজার ৫৯২ টাকা। এর মধ্যে তিনি শেয়ারবাজারে ৪৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। সঞ্চয়পত্র ৩৪ লাখ টাকার। এ ছাড়া ৮৩ ভরি স্বর্ণালংকার দেখিয়েছেন। এর আগের বছরের কর ফাইলে তিনি ২ কোটি ৫ লাখ টাকার সম্পদ দেখান। ২০১৮ সালে তিনি কর কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিতে প্রবেশকালে বিবরণীতে প্রায় দেড় কোটি টাকার সম্পদ দেখান। এ সম্পদ পৈতৃকভাবে প্রাপ্ত ধরা হলে, তানজিনার দুই ভাই ও তিন বোনও সমান সম্পত্তি পাওয়ার কথা। সেই হিসেবে তার বাবা-মায়ের অন্তত ১০ কোটি টাকার সম্পদ থাকার কথা। অথচ তারা ট্যাক্স ফাইল ওপেন করেন মেয়ে তানজিনা কর অফিসে যোগদানের ৩ বছর পর। সে সময় দেখানো হয়, তার গৃহিণী মা ও বৃদ্ধ কর্মহীন বাবার মিলিয়ে রয়েছে প্রায় ৭ কোটি টাকার সম্পদ। এত সম্পদের মালিক হয়েও তারা ২০২২ সালের আগে ট্যাক্স দেননি। আয়কর দপ্তরে তানজিনা চাকরি নেওয়ার তিন বছর পর (২০২১-২২) তার বাবা-মায়ের নামে ট্যাক্স ফাইল খোলা হয়। তারা বরিশালের বাসিন্দা হলেও ঢাকা কর অঞ্চল-৭-এর সার্কেল-১৫০ থেকে রানী বিলকিস (মা) নামের কর ফাইলে মোট ৩ কোটি ১১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৬৪ টাকা মূল্যের সম্পদ বিবরণী দেখানো হয়েছে। স্বর্ণের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৩৮০ ভরি। এর মধ্য থেকে ৯৭ ভরি বিক্রি করেছেন, যার মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ৪৮ লাখ ১২ হাজার ৩১ টাকা। সেই হিসাবে প্রতি ভরি স্বর্ণের বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় ৪৯ হাজার ৬০৮ টাকা, যা গত তিন বছরের বাজারমূল্য থেকে খুবই কম ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এ ছাড়া রানী বিলকিস তার স্বামীর কাছ থেকে ৮৪ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কর বিবরণীতে। এর মধ্যে বিক্রির জন্য তানজিনার এক বন্ধুকে তিনি ১৫৩ ভরি স্বর্ণ দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন। কর ফাইলে রানী বিলকিস তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা দেখিয়েছেন ঢাকার মালিবাগ। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী রানী বিলকিসের বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা বরিশাল হলেও তানজিনা নিজ কর্মস্থল ঢাকায় মায়ের কর ফাইল খোলেন। একইভাবে তানজিনা তার কর্মস্থল থেকে বাবা মো. মোশাররফ হোসেন মল্লিকের নামেও একটি কর ফাইলও খুলেছেন। অভিযোগ রয়েছে, কর কর্মকর্তা তানজিনা তার অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ বৈধ করার জন্যই নিজ কর্মস্থল থেকে বাবা-মায়ের নামে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেন। তানজিনা সাথীর বর্তমান ঠিকানা, ফ্ল্যাট ৯সি, প্রমোট ব্লুবেল, ১৬১, ১৬১/১, ১৬৪, মালিবাগ, ঢাকা। তার মা রানী বিলকিসের আয়কর ফাইলেও স্থায়ী ঠিকানা মালিবাগ। সূত্রমতে, তানজিনার টাকায় উপরোল্লিখিত ঠিকানায় প্রায় ১৩শ বর্গফুটের এ ফ্লাট ক্রয় করা হয়েছে। সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, জনৈক দেলোয়ারের মাধ্যমে তানজিনা অবৈধভাবে অর্জিত টাকা বাবা-মায়ের নামে বৈধ করেন। তানজিনার টাকার উৎস নিয়ে ইতোমধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ আমাদের সময়কে জানান, অনুসন্ধান প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর বাইরে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। জানা গেছে, ব্যাংকে চাকরি করার সময় তানজিনা প্রথম বিয়ে করেন। কর কর্মকর্তা হওয়ার পর তানজিনা আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। সেই ব্যক্তি ৩৬তম বিসিএসের পুলিশ কর্মকর্তা (এএসপি)। তাদের চার বছরের সম্পর্ক ছিল। বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। এর জেরে তানজিনা মামলা করেন ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। সেই মামলার নথি ও পিবিআইয়ের তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, তাদের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। সম্পর্ক ভেঙে গেলে সেই কর্মকর্তাকে ঘর সাজানো, আইফোন, জমি ক্রয়ের টাকা, নগদ অর্থ প্রদান বাবদ মোট ৩ কোটি ২৩ লাখ দিয়েছেন বলে দাবি করেন তানজিনা এবং তার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেন। এ মামলার তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলায় পিবিআইয়ের কাছে তানজিনার পক্ষে সাক্ষ্য দেন ইসরাফিল হাসান। ইসরাফিলের সাক্ষ্য অনুযায়ী, এনএসআইয়ের এক ডেপুটি ডিরেক্টরকে তানজিনা ভাই হিসেবে পরিচয় দিতেন। তার নাম সাইদুর রহমান লিটন। তাদের মাঝে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি সাক্ষ্যতে উঠে এসেছে। জানা গেছে, সাইদুর রহমান লিটন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক মাহবুবুর রহমানের ভাগ্নে। মাহবুবুর রহমানের স্ত্রী বাংলাদেশ কর্মকমিশনের (পিএসপি) সাবেক সদস্য আনোয়ারা বেগম। ৩৬তম বিসিএসে তানজিনা সাথীর নিয়োগকালে সাইদুর রহমান লিটনের মামি আনোয়ারা বেগম পিএসসির সদস্য ছিলেন। তানিজনা সাথী গত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে টাঙ্গাইলের সেই কর কার্যালয় ভাংচুর করে, আগুন দেয়। অথচ এর পরও ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের সাথে সাথে তার উল্টো পদোন্নতি হয়েছে।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু। সম্ভাব্য সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে অনেক নেত্রীই সংসদে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ দৌড়ে দক্ষিণাঞ্চল থেকে আলোচনায় উঠে এসেছেন বিএনপির সক্রিয় নেত্রী মমতাজ বেগম নয়ন। দলীয় সূত্র ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে তিনি মনোনয়ন পেতে পারেন—এমন গুঞ্জন এখন দক্ষিণাঞ্চলসহ ঝালকাঠি জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে। মমতাজ বেগম নয়ন ঝালকাঠি -১ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।তিনি ছাত্রদলের সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা,জনতা ব্যাংক জাতীয়তাবাদী অফিসার্স কল্যান সমিতির সাবেক সহ সভাপতি,জাতীয়তাবাদী পেশাজীবি পরিষদের সাবেক নির্বাহী সদস্য,জাসাস জনতা ব্যাংকের সাবেক মহিলা সম্পাদিকা ছিলেন।সাবেক ছাত্রদল নেত্রী ও সমাজ সেবায় দেশ ও বিদেশে বিশেষ অবদান রেখেছেন তিনি।স্বর্নপদক প্রাপ্ত মমতাজ বেগম নয়ন সংরক্ষিত আসনে সংসদে যেতে পারলে দেশের উন্নয়নে ব্যাপক ভুমিকা রাখবেন বলে জানান বিএনপির নেতা -কর্মীরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সক্রিয় এ নেত্রী ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার বাসিন্দা।মমতাজ বেগম নয়ন দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির পাশাপাশি ব্যাংকিং পেশায় জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া তিনি বিগত ফ্যাসিসরট সরকারের সময়ে আন্দোলন -সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভুমিকা পালন করেন। তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে দক্ষিনাঞ্চলবাসীর কাছে বেশ পরিচিত নাম মমতাজ বেগম নয়ন। স্থানীয়রা জানান, তিনি দীর্ঘ বছর যাবৎ পদ্মায় মাওয়া সেতু বাস্তবায়ন আন্দোলন,মানবাধিকার,বরিশাল বিভাগ বাস্তবায়ন,বরিশাল বিমানবন্দর বাস্তবায়ন,বরিশাল শিক্ষা বোর্ড,বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন আন্দোলন করেছেন। তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত হন ছাত্রবস্থায়।দল যখন যে দ্বায়িত্ব দিযেছেন তা সফলতার সাথে পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছেন। রাজনৈতিক অবস্থান : ১. সাবেক ছাত্রদল নেত্রী। (মহিলা সম্পাদিকা)। ২. সাবেক সহ সভাপতি। জনতা ব্যাংক জাতীয়তাবাদী অফিসার্স কল্যাণ সমিতি, ঢাকা। ৩. সাবেক নিবাহী সদস্য। জাতীয়তাবাদী পেশাজীবি পরিষদ ঢাকা। ৪. সাবেক সমাজ কল্যাণ সম্পাদিকা। জিয়া পরিষদ জনতা ব্যাংক শাখা, ঢাকা। ৫. সাবেক মহিলা সম্পাদিকা। জাসাস জনতা ব্যাংক প্রতিষ্ঠানিক ইউনিট। * বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা। সামাজিক অবস্থান : ১. পদ্মা মাওয়া সেতু বাস্তবায়ন আন্দোলনের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য। ২. ঢাকাস্থ বরিশাল বিভাগ সমিতির সহ সভাপতি। ৩. শেরেবাংলা গবেষনা পরিষদের উপদেষ্টা। বরিশাল বিভাগীয় প্রদান। ৪. সাবেক ২নং শুক্তাগড় ইউনিয়ন পরিষদের উপদেষ্টা। রাজাপুর, ঝালকাঠি। ৫. ঝালকাঠি জেলা যুব পরিষদের মহিলা সম্পাদিকা ৬. ঢাকাস্থ বরিশাল বিভাগীয় যুব সমিতির নির্বাহী পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ৭. সিনিয়র সহ সভাপতি। মানবাধিকান নির্যাতন সোসাইটি (এম এন সিএ) ৮. মহিলা সম্পাদক। বরিশাল বিভাগ অফিসার্স এসোসিয়েশন (বিবিওএ) ৯. বরিশাল বিভাগ বাস্তবায়ন কমিটির সক্রিয় কার্যকরি সদস্য। ১০. বরিশাল বিমান বন্দর বাস্তবায়ন কমিটির সক্রিয় সদস্য। ১১. বরিশাল শিক্ষা বোর্ড স্থাপনে সক্রিয় ভূমিকা। ১২. বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সক্রিয় ভূমিকা। ১৩. দূর্যোগকালীন সময়ে ত্রান বিতরন এ সক্রিয় অংশ গ্রহন। প্রাপ্ত পুরস্কার : ১. আন্তজাতিক মাতৃভাষা স্বর্ণপদক। ঢাকা প্রেস ক্লাব। ২. মাদার তেরেসা গোল্ড মেডেল-২০০৯ মাদার তেরেসা রিসার্চ কাউন্সিল, ঢাকা। ৩. মহানগরী গোল্ডমেডেল-২০১২ ৪. অতীশ দীপঙ্কর স্বর্ণপদক-২০১২ অতীশ দীপঙ্কর গবেষণা পরিষদ, ঢাকা। ৫. মহাত্মা গান্ধী পিস অ্যাওয়ার্ড-২০১৩ মহাত্মা গান্ধী পরিষদ, ঢাকা। ৬. বিশ্ব পরিবেশ সম্মাননা-২০১৩ ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্ল্ড, কলকাতা, ভারত। ৭. মাদার তেরেসা এ্যাওয়ার্ড-২০১৪ শেরে বাংলা একে ফজলুল হক গবেষনা পরিষদ। ৮. হিউম্যান রাইটস শাইনিং পার্সোনালিটি এ্যাওয়ার্ড-২০১৯ বাংলাদেশ মানবাধিকার পর্যবেক্ষন সংস্থা। ৯. মহাত্মা গান্ধী কলকাতা ইন্টারন্যাশনাল এ্যাওয়ার্ড-২০১৯ ও বেঙ্গল এ্যাডুকেশন ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন। কলকাতা, ভারত। ১০. মাদার তেরেশা শাইনিং পার্সোনালিটি এ্যাওয়ার্ড-২০২২ বাংলাদেশ মানবাধিকার পর্যবেক্ষন সংস্থা। ১১. আন্তর্জাতিক জলঙ্গী বাংলা কবিতা উৎসব-২০২২ জলঙ্গী সাংস্কৃতিক মঞ্চ কলকাতা, ভারত। ১২. জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব শান্তি দিবস উপলক্ষে ইন্টারন্যাশনাল এ্যাওয়ার্ড-২০২৩ বাংলাদেশ মানবাধিকার পর্যবেক্ষন সংস্থা। ১৩. নবাব স্যার সলিমুল্লাহ স্মৃতি পদক-২০২৩ বিশ্ব বিনা কবিতা ও সাংস্কৃতিক মঞ্চ। ১৪. নেপাল ইন্টারন্যাশনাল এক্সসেলেন্স এ্যাওয়ার্ড-২০২৪ ১৫. নেপাল-বাংলাদেশ ফেন্ডশীপ এসোসিয়েশন (এনবিএফএ)। এছাড়া সমাজ সেবায় দেশীয় ও আর্ন্তজাতিক অসংখ্য স্বর্ণ পদকে ভূষিত হোন তিনি। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল (বিএনপি) হতে নারী আসনে ২০০৫ সালে সংসদ সদস্য মনোনয়ন প্রার্থী এবং ঝালকাঠি-১ আসনে ২০০৮ ও ২০১৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল হতে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন তিনি। বিগত দিনে আন্দোলন- সংগ্রামের সক্রিয় ভূমিকা এবং জুলাই/ ২৪ আন্দোলনে অংশ গ্রহন করেন। মমতাজ বেগম নযন সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে তিনি অবসর গ্রহণের পর এখন পুরোপুরি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি জনগণের মাঝে পৌঁছে দিতে দিনরাত কাজ করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মামলা-হামলা, হয়রানি ও প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন বহুবার। আর্থিকভাবে হয়েছেন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত। এর ফলে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। তার রাজনৈতিক, সামাজিক দায়িত্ব পালন, গ্রহণযোগ্যতা ও সামাজিক অবদানের কারণে দলমত নির্বিশেষে তিনি সকলের কাছে সমাদৃত। তার এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে তাকে সংরক্ষিত আসনে নারী সংসদ সদস্য পদে দেখতে চান বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণ। নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার কারণে সংরক্ষিত নারী আসনে তাকে দেখতে চান দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ।তাদের আশা, তিনি সংসদে যেতে পারলে অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন এবং নারী সমাজের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। মনোনয়ন প্রত্যাশী মমতাজ বেগম নয়ন জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী আসন ১৯০, ঢাকা -১৭ এর গুলশান থানার প্রচার উপ-কমিটি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এসময় তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পাড়া-মহল্লায় সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দলীয় ৩১ দফার বার্তা পৌঁছে দেন। জনগণের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শোনেন। এসময় স্থানীয়দের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বেড়েছে। তার দাবি, তাকে মনোনীত করা হলে ঝালকাঠির উন্নয়ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে সংসদে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারবেন তিনি। মমতাজ বেগম নয়ন একজন মানবিক সমাজ সেবক।তিনি সংসদে যেতে পারলে অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবেন বলে আশাবাদ সর্বশ্রেনীর মানুষের। একটি সমৃদ্ধশালী, আত্মনির্ভরশীল জাতি গঠন এবং নারী সমাজের উন্নয়নে নিজেকে সারা জীবন সম্পৃক্ত রাখাই তার জীবনের মহান ব্রত বলে জানান মমতাজ বেগম।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালীতে নৌমাইন বসানো শুরু করেছে। এই দুটি ঘটনা একত্রে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই হামলাগুলো তাদের সামরিক অভিযানের অংশ, যার নাম “অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪”। হাইফার তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলার দাবি ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সশস্ত্র বাহিনীর সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নতুন সামরিক হামলায় ইসরায়েলের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল— হাইফা শহরের তেল ও গ্যাস শোধনাগার জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক তেলআবিবের কাছাকাছি একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র ইরানি সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী এটি তাদের সামরিক অভিযানের ৩৩তম ধাপ। তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কেন গুরুত্বপূর্ণ হাইফার জ্বালানি অবকাঠামো হাইফা ইসরায়েলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও জ্বালানি কেন্দ্র। এই অঞ্চলে রয়েছে— দেশের প্রধান তেল শোধনাগার পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প গুরুত্বপূর্ণ বন্দর অবকাঠামো বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এসব স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তাহলে তা ইসরায়েলের জ্বালানি সরবরাহ ও শিল্প উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। তেলআবিবের কাছে স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র ধ্বংসের দাবি ইরান দাবি করেছে, তেলআবিবের কাছে একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রও তাদের হামলায় ধ্বংস হয়েছে। এই ধরনের কেন্দ্র সাধারণত ব্যবহৃত হয়— সামরিক যোগাযোগ স্যাটেলাইট ডেটা ট্রান্সমিশন গোয়েন্দা নজরদারি যদি সত্যিই এই স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তবে তা ইসরায়েলের সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে। পাল্টা হামলার যুক্তি ইরানের সামরিক বাহিনী বলছে, তাদের তেল ডিপোতে ইসরায়েলের হামলার জবাব হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে— “ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই প্রতিরোধমূলক অভিযান পরিচালিত হয়েছে।” সংযুক্ত আরব আমিরাত লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক মিসাইল মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে আরেকটি ঘটনা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ব্যালিস্টিক মিসাইলের বিরুদ্ধে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়েছে। বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত প্রায় ৩টা ১৫ মিনিটে এই ঘটনা ঘটে। এক বিবৃতিতে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে— দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করছে নাগরিক ও বিদেশি বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে সম্ভাব্য সব হুমকির বিরুদ্ধে প্রস্তুত রয়েছে দেশটি হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর অভিযোগ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে আরেকটি খবর। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ইরান ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালীতে নৌমাইন বসানো শুরু করেছে। সংবাদমাধ্যমের কাছে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী— গত কয়েক দিনে কয়েক ডজন মাইন বসানো হয়েছে ইরানের মাইন স্থাপনকারী জাহাজের মাত্র ২০ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে চাইলে হাজার হাজার মাইন বসানোর সক্ষমতা রয়েছে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ। এই সংকীর্ণ জলপথ— পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে বিশ্বের তেল পরিবহনের প্রধান রুট বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে যায়। প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেলবাহী ট্যাংকার এই প্রণালী অতিক্রম করে। যদি হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যায়? বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই পথ বন্ধ হয়ে যায় তাহলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। সম্ভাব্য প্রভাব— ১. তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে ২. বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে সংকট দেখা দিতে পারে ৩. শিপিং খরচ ও বীমা বেড়ে যেতে পারে ৪. আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় বাধা তৈরি হতে পারে ইরানের নৌ কৌশল ইরানের নৌবাহিনী ও ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড যৌথভাবে হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের কৌশলের মধ্যে রয়েছে— নৌমাইন ব্যবহার দ্রুতগতির আক্রমণ নৌকা উপকূলভিত্তিক অ্যান্টি-শিপ মিসাইল বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন বোট এই কৌশলকে সামরিক বিশ্লেষকেরা বলেন “অ্যাসিমেট্রিক নেভাল ওয়ারফেয়ার”। যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের উদ্বেগ গালফ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। বিশেষ করে— বাহরাইনে মার্কিন নৌবহরের ঘাঁটি কাতারে বড় বিমানঘাঁটি সৌদি আরব ও আমিরাতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এই কারণে হরমুজ প্রণালীতে কোনো সংঘাত শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িয়ে পড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বৈরিতা রয়েছে। মূল কারণগুলো হলো— আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র রাষ্ট্রগুলোর দ্বন্দ্ব এই দ্বন্দ্ব সরাসরি যুদ্ধের রূপ না নিলেও প্রায়ই প্রক্সি সংঘাত হিসেবে দেখা যায়। সংঘাতের সাম্প্রতিক টাইমলাইন ধাপ ১ ইরানের তেল ডিপোতে হামলার অভিযোগ ধাপ ২ ইরানের সামরিক প্রতিশোধের ঘোষণা ধাপ ৩ ইসরায়েলের জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার দাবি ধাপ ৪ আমিরাত লক্ষ্য করে মিসাইল ছোড়ার অভিযোগ ধাপ ৫ হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর খবর তেলের বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ইতিমধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন— সংঘাত বাড়লে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে গালফ অঞ্চলের শিপিং রুট ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বিভিন্ন দেশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু করেছে। বিশেষ করে— ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্র গালফ সহযোগিতা পরিষদ তারা উত্তেজনা কমাতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সামনে কী হতে পারে বিশ্লেষকদের মতে তিনটি সম্ভাবনা রয়েছে— ১. সীমিত সামরিক সংঘাত চলতে পারে ২. আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে পারে ৩. বড় আকারের আঞ্চলিক সংঘাত শুরু হতে পারে ইরান ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। হাইফার জ্বালানি স্থাপনায় হামলার দাবি, আমিরাত লক্ষ্য করে মিসাইল ছোড়া এবং হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর অভিযোগ— এই তিনটি ঘটনা একত্রে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে এটি শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্যও বড় সংকট তৈরি করতে পারে।
মৎস্য অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এক ব্যক্তি। গত ২ মার্চ দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মৎস্য অধিদপ্তরের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা প্রকল্প পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের প্রত্যক্ষ যোগসাজশে প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতি সংঘটিত হচ্ছে। টেন্ডার ছাড়াই কাজ দেওয়ার অভিযোগ অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনী খামার স্থাপন এবং মৎস্যচাষিদের জন্য জলবায়ু সহিষ্ণু উপকরণ ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) লঙ্ঘন করা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সরাসরি ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে বাজারমূল্যের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দামে উপকরণ দেখিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সুবিধাভোগীর তালিকায় অনিয়ম অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, প্রকৃত মৎস্যচাষিদের পরিবর্তে প্রকল্প এলাকার প্রভাবশালী ও ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের নাম সুবিধাভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে উপকূলীয় এলাকার অনেক ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষেরও সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ ও সেমিনারের নামেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এছাড়া বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সেমিনার আয়োজনের নামেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, অনেক ক্ষেত্রে কাগজে-কলমে প্রশিক্ষণ দেখিয়ে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করা হয়েছে এবং সেই মাধ্যমে প্রকল্পের বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। সরকারি সম্পদের ব্যক্তিগত ব্যবহার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সরকারি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত গাড়ি ও অন্যান্য সম্পদ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব অনিয়ম এবং কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তের দাবি অভিযোগকারী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রকল্প পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মামুনুর রশীদ নোমানী: একটি ভালো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন (Investigative Report) সাধারণত ইনভার্টেড পিরামিড (Inverted Pyramid) কাঠামো অনুসরণ করে, যেখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শুরুতে এবং কম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেষে থাকে। এটি তথ্যনির্ভর, নির্ভুল, এবং প্রমাণসমৃদ্ধ হওয়া প্রয়োজন । নিচে একটি আদর্শ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কাঠামো দেওয়া হলো: অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মূল কাঠামো: ১. শিরোনাম (Headline): আকর্ষণীয়, তথ্যবহুল ও ঘটনার মূল ভাব প্রকাশ করে এমন শিরোনাম। ২. লিড বা সূচনা (Lead/Introduction): সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, কে, কী, কখন, কোথায়, কেন এবং কীভাবে—এই ৫টি ডব্লিউ (5Ws - Who, What, When, Where, Why) ও ১টি এইচ (How) দিয়ে শুরু । ৩. প্রেক্ষাপট (Background/Context): ঘটনার পেছনের ইতিহাস বা কেন এই অনুসন্ধান করা হলো। ৪. মূল অনুসন্ধানী অংশ (The Investigation): * তথ্যের উৎস ও নথিপত্র বিশ্লেষণ । * সাক্ষাৎকার (ভিকটিম, বিশেষজ্ঞ, অভিযুক্ত) । * সাক্ষ্যপ্রমাণ ও তথ্যের যাচাইকরণ। ৫. বিরোধ বা সংঘাত (Conflict/Climax): কে বা কারা ক্ষতিগ্রস্ত এবং মূল বিরোধের জায়গা। ৬. অভিযুক্তের বক্তব্য (Response): অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ । ৭. উপসংহার ও প্রভাব (Conclusion/Impact): অনুসন্ধানের চূড়ান্ত ফল এবং এটি সমাজে কী প্রভাব ফেলবে। ৮. সুপারিশ বা ভবিষ্যৎ করণীয় (Recommendations): সমস্যা সমাধানে কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে । ৯. প্রতিবেদকের নাম ও তারিখ: প্রতিবেদনের শেষে নিজের নাম ও তারিখ উল্লেখ। লেখার কৌশল ও নিয়ম: স্পষ্ট ও সংক্ষিপ্ত ভাষা: বাহুল্যবর্জিত এবং সরাসরি বক্তব্য । তথ্যের সত্যতা: তথ্যনির্ভর এবং প্রামাণ্য দলিল থাকা আবশ্যিক । শিরোনামের যথার্থতা: সংবাদ বা প্রতিবেদনের ভেতরের তথ্যের সাথে শিরোনামের মিল থাকা । একটি কার্যকর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির জন্য এই কাঠামো অনুসরণ করলে তা পাঠকের কাছে স্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য হয়। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লেখার ৭টি কাঠামো অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা শুধু তথ্য প্রকাশ নয়, বরং একটি শক্তিশালী গল্প বলার শিল্প। সমাজের লুকানো সত্য তুলে ধরতে গেলে কেবল তথ্যই যথেষ্ট নয়—গল্পটি কীভাবে বলা হচ্ছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গল্প বলার বিভিন্ন কাঠামো নিয়ে লেখক Christopher Booker তাঁর বিখ্যাত বই The Seven Basic Plots-এ যে ধারণাগুলো তুলে ধরেছেন, সেগুলো অনুসন্ধানী প্রতিবেদনেও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায়। নিচে তুলে ধরা হলো অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ৭টি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো— ১. অভিযাত্রা (The Quest) এই কাঠামোয় গল্প এগোয় একটি লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে—সত্য উদঘাটনের যাত্রা। রিপোর্টার নিজে অথবা কোনো চরিত্র এই অভিযাত্রার কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে। ➡️ উদাহরণ: দুর্নীতির তথ্য বের করতে দীর্ঘ অনুসন্ধান ২. রহস্যের সন্ধানে (Mystery অনুসন্ধান) সব সময় সত্য পুরোপুরি উন্মোচিত হয় না। কিন্তু অনুসন্ধানের পথ, বাধা ও আংশিক সত্যও একটি শক্তিশালী গল্প হতে পারে। ➡️ যখন তথ্য অসম্পূর্ণ, কিন্তু অনুসন্ধান গুরুত্বপূর্ণ—তখন এই কাঠামো কার্যকর ৩. দানবের সাথে লড়াই (Overcoming the Monster) এখানে “দানব” হতে পারে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ব্যবস্থা। গল্পটি মূলত অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের। ➡️ উদাহরণ: কর্পোরেট দুর্নীতি, মানবপাচার চক্র, বা পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ৪. শূন্য থেকে শিখরে (Rags to Riches) কোনো ব্যক্তির উত্থানের গল্প—যেখানে তিনি নিচু অবস্থা থেকে উঠে সফলতার শিখরে পৌঁছান। ➡️ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এটি ব্যবহার হয় কোনো চরিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড তুলে ধরতে ৫. ট্র্যাজেডি (Tragedy) এই কাঠামোয় দেখানো হয় পতনের গল্প—ভুল সিদ্ধান্ত বা লোভের কারণে ধ্বংস। ➡️ উদাহরণ: বড় দুর্ঘটনা, কর্পোরেট পতন, বা অব্যবস্থাপনার ফলাফল ৬. যাওয়া, ফিরে আসা (Voyage and Return) এখানে একটি যাত্রা থাকে, যার শেষে চরিত্র আবার শুরুতে ফিরে আসে—তবে পরিবর্তিত অভিজ্ঞতা নিয়ে। ➡️ উদাহরণ: বিদেশে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে ফিরে আসা ৭. পুনর্জন্ম (Rebirth) এই কাঠামোয় কোনো চরিত্র বা পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে—অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরে আসা। ➡️ উদাহরণ: অপরাধী থেকে সমাজসেবী হয়ে ওঠার গল্প 📌 কাঠামো ব্যবহারে সতর্কতা একটি প্রতিবেদনে একাধিক কাঠামো একসাথে থাকতে পারে। তবে কোনটি মূল আর কোনটি গৌণ—তা পরিষ্কার রাখা জরুরি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— কাঠামো যেন সত্যকে বিকৃত না করে তথ্য যেন গল্পের সাথে মানানসইভাবে উপস্থাপিত হয় পাঠক যেন সহজে বিষয়টি বুঝতে পারে রিপোর্ট লেখার আগে নিজেকে যেসব প্রশ্ন করবেন গল্পের “দানব” আসলে কে? কারা ক্ষতিগ্রস্ত এবং কারা লাভবান? গল্পটি কি সত্যিই উত্থান নাকি এর পেছনে লুকানো দিক আছে? সব তথ্য কি পাওয়া গেছে, নাকি কিছু গোপন আছে? অনুসন্ধানী প্রতিবেদনকে শক্তিশালী করতে সঠিক গল্প কাঠামো নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু লেখাকে সুসংগঠিত করে না, বরং পাঠকের কাছে বিষয়টিকে আরও বোধগম্য ও আকর্ষণীয় করে তোলে। সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য সত্য তুলে ধরা—আর সেই সত্যকে প্রভাবশালীভাবে উপস্থাপন করতে গল্পের কাঠামো হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার। লেখক : মামুনুর রশীদ নোমানী: সিনিয়র সাংবাদিক এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল 'বরিশাল খবর'-এর সম্পাদক। দৈনিক শাহনামার প্রধান বার্তা সম্পাদক । ইত্তেহাদ নিউজের সিনিয়র প্রতিবেদক। রিশাল মেট্রোপলিটন প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ন সম্পাদক । সভাপতি : বরিশাল অনলাইন সাংবাদিক ইউনিয়ন ও বরিশাল অনলাইন প্রেসক্লাব।নির্বাহী পরিচালক ও প্রতিষ্ঠাতা : এফ এফ এল বিডি ফাউন্ডেশন।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বা ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্ট লেখার জন্য সুনির্দিষ্ট বিষয় নির্বাচন, গভীর গবেষণা, তথ্যের সত্যতা যাচাই, এবং নিরপেক্ষ উপস্থাপন অপরিহার্য। এটি সাধারণত একটি আকর্ষণীয় শিরোনাম, ঘটনার প্রেক্ষাপট, বিস্তারিত প্রমাণ, সোর্স বা সাক্ষ্যের উদ্ধৃতি এবং শেষে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ বা উপসংহার নিয়ে সাজানো হয়। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লেখার মূল নিয়মাবলী: বিষয় নির্বাচন ও পরিকল্পনা: জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ও গোপন কোনো ঘটনা (যেমন- দুর্নীতি, অপরাধ, অনিয়ম) বেছে নিন । কাজের শুরুতে একটি খসড়া পরিকল্পনা ও করণীয় তালিকা তৈরি করুন । তথ্য সংগ্রহ (Investigation): সরেজমিনে তদন্ত করুন। সরকারি নথিপত্র, গোপন তথ্য ও নির্ভরযোগ্য সোর্সের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করুন । তথ্যের সত্যতা যাচাই: সংগৃহীত প্রতিটি তথ্য, দলিল বা অভিযোগের সত্যতা দুই বা ততোধিক সোর্স থেকে নিশ্চিত হোন। কাঠামো তৈরি: আকর্ষণীয় শিরোনাম (Headline): বিষয়বস্তু ফুটে ওঠে এমন শিরোনাম দিন । সূচনা (Lead): প্রথম প্যারাগ্রাফে মূল ঘটনার সারসংক্ষেপ সংক্ষেপে তুলে ধরুন । মূল অংশ (Body): ধারাবাহিকভাবে ঘটনার বিবরণ, প্রমাণ, এবং সাক্ষ্য উপস্থাপন করুন । সাক্ষাৎকার ও উদ্ধৃতি: ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তের বক্তব্য নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরুন । উপসংহার ও সুপারিশ: প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে মতামত বা করণীয় উল্লেখ করুন । ভাষা ও শৈলী: ভাষা স্পষ্ট, সংক্ষিপ্ত, নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক হতে হবে। সাহিত্যিক অলংকরণের চেয়ে তথ্যের সত্যতার ওপর জোর দিন । নিরাপত্তা: সংবেদনশীল তথ্যের ক্ষেত্রে নিজের ও সোর্সের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। সবসময় মনে রাখবেন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে নেতিবাচক ঘটনার পাশাপাশি ইতিবাচক বা উন্নয়নমূলক উদ্যোগও উঠে আসতে পারে । অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়—এটি একটি সুসংগঠিত, ধৈর্যপূর্ণ এবং কৌশলনির্ভর প্রক্রিয়া। অনেক সময় রিপোর্টাররা বুঝতেই পারেন না কোথা থেকে শুরু করবেন। বিশেষ করে বড় প্রকল্পে লেখার প্রথম কয়েকটি অনুচ্ছেদই হয়ে ওঠে সবচেয়ে কঠিন কাজ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাধা কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, ধারাবাহিকতা এবং লেখার অভ্যাস। এখানে তুলে ধরা হলো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লেখার ৯টি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল— ১. নিজের কাজের ধরণকে গুরুত্ব দিন সব সাংবাদিক একভাবে কাজ করেন না। কেউ কাঠামোবদ্ধভাবে এগোন, আবার কেউ কাজ করেন স্বজ্ঞা ও সৃজনশীলতার ভিত্তিতে। নিজের কাজের ধরণ বুঝে সেটিকে কাজে লাগানোই সবচেয়ে কার্যকর। ২. এলিভেটর পিচ তৈরি করুন স্টোরির মূল ধারণা ২–৪ বাক্যে বলতে না পারলে, বুঝতে হবে বিষয়টি এখনো পরিষ্কার হয়নি। সংক্ষিপ্ত সারাংশ তৈরি করলে লেখার দিক নির্ধারণ সহজ হয়। ৩. লেখা শুরু করতে দেরি করবেন না অনেকেই রিপোর্টিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত লেখেন না। কিন্তু এতে কাজ জমে যায়। প্রথম খসড়া নিখুঁত না হলেও লিখতে শুরু করাই গুরুত্বপূর্ণ। ৪. মাঠের কণ্ঠকে গুরুত্ব দিন মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রাণ। সরেজমিনে গিয়ে সংগ্রহ করা সাক্ষাৎকার গল্পকে জীবন্ত করে তোলে। ৫. মানুষের গল্পকে কেন্দ্রে রাখুন ডেটা ও তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও পাঠককে ধরে রাখে মানুষের গল্প। কে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কেন হচ্ছে—এসব তুলে ধরাই মূল কাজ। ৬. ভাষা সহজ রাখুন জটিল শব্দ ও প্রযুক্তিগত ভাষা পাঠককে দূরে সরিয়ে দেয়। সহজ, পরিষ্কার ও বোধগম্য ভাষায় লেখা বেশি কার্যকর। ৭. তথ্যের ফাঁক পূরণ করুন অনুসন্ধানে প্রায়ই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় না। সেই ফাঁকগুলো খুঁজে বের করা এবং পূরণ করাই একটি শক্তিশালী প্রতিবেদনের ভিত্তি। ৮. সম্পাদকের সঙ্গে কাজ করুন একটি ভালো সম্পাদক পুরো স্টোরিকে সুসংগঠিত করতে সাহায্য করেন। জটিল অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৯. প্রশ্ন করতে থাকুন প্রতিটি তথ্য যাচাই করুন। কোনো বক্তব্য সরাসরি সত্য ধরে নেবেন না। একটি ঘটনার একাধিক দিক থাকতে পারে—সব দিকই খতিয়ে দেখা জরুরি। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লেখা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যেখানে ধৈর্য, বিশ্লেষণ এবং ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক কৌশল অনুসরণ করলে জটিল তথ্যও পাঠকের জন্য সহজ ও প্রভাবশালীভাবে তুলে ধরা সম্ভব। সাংবাদিকতার এই ধারায় সফল হতে হলে শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়, বরং গল্প বলার দক্ষতাও সমান জরুরি।
সংযুক্ত আরব আমিরাত মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব কোনায় অবস্থিত সাতটি স্বাধীন প্রদেশের একটি সংগঠন। একসময় এই প্রদেশগুলো চুক্তিবদ্ধ রাষ্ট্র বা ট্রুসিয়াল স্টেটস নামে পরিচিত ছিল।পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে প্রদেশগুলোর নিজস্ব স্বাধীনতা ও স্বকীয়তা লাভ করে। তবে এখনও প্রদেশগুলো একটি কেন্দ্রীয় শাসনের আওতাভুক্ত রয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় শাসনকর্তার পদবী আমির। আরব আমিরাতের মোট আয়তন ৮৩,৬০০ বর্গ কিলোমিটার বা ৩২,৩০০ বর্গ মাইল। ২০১৭ সালের হিসেব অনুযায়ী আরব আমিরাত এর আনুমানিক জনসংখ্যা ৯,৪০০,০০০। সংযুক্ত আরব আমিরাত এর রাজধানীর নাম আবুধাবি এবং দেশটির বৃহত্তম শহর দুবাই। সংযুক্ত আরব আমিরাত এর সাতটি প্রদেশ এর নাম হলো: আবু ধাবি, আজমান, দুবাই, আল ফুজাইরাহ, রাআস আল খাইমাহ, আশ শারজাহ্ এবং উম্ম আল ক্বাইওয়াইন। আরব আমিরাত এ প্রচলিত মুদ্রার নাম আমিরাতি দিরহাম।এশিয়া মহাদেশে অবস্থিত ব্যতিক্রমধর্মী এই দেশটি পুরোপুরি মুসলমান অধ্যুষিত এলাকা। এই দেশের শিল্প, সংস্কৃতি, নাগরিকের জীবনব্যবস্থা সব কিছুর সাথেই ইসলামিক কালচার পুরোপুরি জড়িত। এই দেশটি বিশ্বের অন্যতম বিলাসবহুল দেশ বলে বিবেচিত। আরব আমিরাতে আছে বিশ্বের উচ্চতম স্থাপনাগুলো, যা পুরো বিশ্বের সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। আরব আমিরাত এর ভৌগোলিক অবস্থান: সংযুক্ত আরব আমিরাত এশিয়া মহাদেশের মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থিত একটি দেশ। এটি পুরোপুরি একটি মরুভূমি রাষ্ট্র। মধ্য প্রাচ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় ওমান উপসাগর ও পারস্য উপসাগরের সীমানায় সংযুক্ত আরব আমিরাত অবস্থিত। ওমান ও সৌদি আরবের মধ্যবর্তী স্থানে দেশটি অবস্থান করছে। দেশটির মোট আয়তনের পুরোটাই স্থলভাগ, তবে খুবই সামান্য পরিমানে জলাভূমি রয়েছে। আরব আমিরাত এর পশ্চিমে কাতারের সাথে সীমানা রয়েছে। পশ্চিম, দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্বে সৌদি আরবের সাথে আন্তর্জাতিক সীমানা বিদ্যমান। অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তরপূর্বে ওমানের সাথে আরব আমিরাত এর আন্তর্জাতিক সীমানা রয়েছে। তবে সৌদি আরবের সাথে আরব আমিরাত এর সীমানা নিয়ে এখনও বিভিন্ন মতবিরোধ রয়েছে। ফলে দেশটির সঠিক আয়তন নির্ণয় করাটা সহজসাধ্য নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত এর ইতিহাস : ১,২৭,০০০ বছর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রথম আফ্রিকার মানুষের বসতি স্থাপন করার নিদর্শন পাওয়া যায়। তবে বিরূপ আবহাওয়ার কারনে এবং পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক সম্পদের অভাবে এই অঞ্চলগুলোতে কোনো জনপদই বেশিদিন স্থায়ী হতে পারেনি। এই অঞ্চলের বেশিরভাগ লোকজনই তাবু খাটিয়ে বসতি নির্মাণ করে থাকতো। ঘরবাড়ি তৈরি হলেও তা হতো খুবই সাধারণ মানের। এখানকার জনগণ সব ধরনের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে একদমই মানবেতর জীবনযাপন করতো। ১৯৫৮ সালে এই অঞ্চলে আমেরিকান শাসন আমল শুরু তবে তখন প্রতিটি প্রদেশই একটি আরেকটির থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল এবং আমেরিকান আইনের আওতাধীন ছিল। পরবর্তীতে আমেরিকান শাসক গোষ্ঠীর এই অঞ্চল ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়টি উত্থাপিত হলে প্রদেশগুলোর একত্রিত হয়ে নতুন একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়। অবশেষে ১৯৭১ সালের ২রা ডিসেম্বর ব্রিটিশ শাশনামলের অবসান ঘটে এবং আলাদা আলাদা সাতটি প্রদেশ একত্রিত হয়ে গঠিত হয় সংযুক্ত আরব আমিরাত। এটি বর্তমানে বিশ্ব দরবারেএকটি স্বাধীন ও সার্বভোম ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। সংযুক্ত আরব আমিরাত এর জাতীয় পতাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত এর পতাকায় চারটি রঙ রয়েছে।যথা: লাল, সাদা, সবুজ এবং কালো। পতাকা দন্ডের দিকে একটি উলম্ব লাল অংশ এবং পুরো পতাকা সবুজ, সাদা এবং কালো অনুভূমিক ডোরা দিয়ে নকশা করা হয়েছে। আরব আমিরাত এর জাতীয় পতাকার বৈচিত্র্যময় এই রঙ দিয়ে আলাদা আলাদা প্রদেশের মধ্যে ঐক্য ও মেলবন্ধনকে তুলে ধরা হয়েছে। পতাকাটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ২:১। আরব আমিরাত এর জাতীয় পতাকা নকশা করেন মোহাম্মদ আল মাইনাহ এবং তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর।১৯৭১ সালের ২ ডিসেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাত এর পতাকার নকশা গ্রহণ করা হয়। আরব আমিরাত এর প্রচলিত ভাষা: সংযুক্ত আরব আমিরাত এর সরকারি ভাবে ব্যবহৃত ভাষা আরবি। পাঠ্যপুস্তক, খবরের কাগজ, ম্যাগাজিন থেকে শুরু করে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ সব ধরনের নথিপত্র এবং অনলাইন মাধ্যমে সব যোগাযোগ আরবি ভাষায় পরিচালিত হয়।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মার্জিত ভাষাও আরবি। তবে প্রধান শহরগুলো বাদে আসেপাশের ছোটখাটো অঞ্চলগুলোতে অন্যান্য ভাষাভাষী লোকজনও বসবাস করে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে আরবি ভাষার পাশাপাশি ইংরেজি, হিন্দি, মলয়ালম, উর্দু ও ফিলিপিনো ভাষা প্রচলিত আছে৷ আরব আমিরাতে বসবাসকারী নাগরিকদের ধর্ম: সংযুক্ত আরব আমিরাত একটি মুসলিম প্রধান দেশ। সরকারি ভাবে ইসলামকে জাতীয় ধর্ম হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দেশের অধিকাংশ লোকজন ইসলাম ধর্মের অনুসারী এবং তাদের জীবনধারার সাথে ইসলামিক সংস্কৃতি সম্পূর্ণ মিশে আছে। ইসলাম ধর্ম ছাড়াও দেশটিতে অল্প কিছু সংখ্যক হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীর লোকজন রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত এর মোট জনসংখ্যার শতকরা ৭৬ শতাংশ মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন । শতকরা ৯ শতাংশ জনগণ খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীর, শতকরা ৮ শতাংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বীর এবং বাকি শতকরা ৭ শতাংশ লোকজন বৌদ্ধ ও অন্যান্য ধর্মের অনুসারী। সংযুক্ত আরব আমিরাত এর অর্থনীতি: বিশ্বের ধনী দেশগুলোর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত একটি। আরব আমিরাত এর অর্থনীতির মূল চাকা সচল রেখেছে খনিজ তেল। ৭০ বছর আগে আরব আমিরাতে তেলের সন্ধান মিললে দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটে অল্প সময়ের মধ্যেই। বর্তমানে আরব আমিরাত এর নাগরিকদের মাথাপিছু আয় প্রায় ৪৫,৭১৬ মার্কিন ডলার। সেই হিসেবে দেশটি নিঃসন্দেহে একটি ধনী রাষ্ট্র হিসেবে নিজের পরিচয় দিতে পারে। তেল ছাড়াও সেবা খাত, শিল্প খাত ও পর্যটন খাতেও আরব আমিরাত এর অর্থনীতি নির্ভরশীল। আরব আমিরাত এর অর্থনীতিতে কৃষিখাতেরও সামান্য অবদান রয়েছে। বিশ্বের আশ্চর্যমন্ডিত স্থাপনাগুলোর বেশ কিছু এই দেশে অবস্থিত,ফলে প্রতিবছর অসংখ্য পর্যটক এই দেশে ভ্রমনের উদ্যেশ্যে আসে। এই পর্যটন কেন্দ্র গুলো আরব আমিরাত এর অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমদানি রপ্তানির ক্ষেত্রে আরব আমিরাতে একদমই রমরমা পরিবেশ বিদ্যমান । মূলত চীন, আমেরিকা ও ভারত থেকে দেশটির প্রধান আমদানি পন্যগুলো আসে৷ অন্যদিকে আরব আমিরাত এর সাথে রপ্তানি খাতে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত দেশ হলো ভারত, ইরান ও জাপান। তবে খনিজ তেলের কারনে বিশ্বমঞ্চে আরব আমিরাত নিজের পরিচিতি তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে এবং অর্থনৈতিক ভাবে সফলতার শীর্ষে পৌছাতে পেরেছে। আরব আমিরাত এর আবহাওয়া ও জলবায়ু: সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি শুষ্ক মরুভূমির জলবায়ু রয়েছে। এই দেশে প্রধানত দুইটি ঋতুর আনাগোনা লক্ষ করা যায়। একটি শীত ঋতু এবং অন্যটি গ্রীষ্ম ঋতু। তবে তুলনামূলকভাবে বছরের বেশিরভাগ সময় জুড়েই গ্রীষ্ম ঋতুর উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত আরব আমিরাতে শীত ঋতু বিদ্যমান থাকে। শীতের এই সময়টাতে দেশটির গড় তাপমাত্রা থাকে ১৫ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বছরের বাকি সময়টা থাকে পুরোপুরি গ্রীষ্মকাল। গ্রীষ্মকালে আরব আমিরাত এর গড় তাপমাত্রা থাকে ৩৫ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কখনও কখনও আরও বেশি তাপমাত্রা লক্ষ করা যায়। শুষ্ক মৌসুমে প্রায়ই এখানে বালুর ঝড় হয়। মৌসুমি বাতাস মরুভূমির বালু উড়িয়ে নিয়ে এসে লোকালয়ে প্রবেশ করে। দেশটিতে খুব সামান্য পরিমাণে বৃষ্টিপাত হতে দেখা যায়। দেশটির বার্ষিক বৃষ্টিপাত এর মাত্রা ১০০ মিমি এরও কম। সাধারণত শুষ্ক আবহাওয়াই দেশটির জলবায়ুর মূল বৈশিষ্ট্য। আরব আমিরাত এর সংস্কৃতি: আরব আমিরাত এর সংস্কৃতিতে পুরোপুরি আরবি সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটেছে। তবে আরবি সংস্কৃতির পাশাপাশি পারস্য সংস্কৃতির, পূর্ব আফ্রিকা এবং ভারতীয় উপমহাদেশের সংস্কৃতির প্রভাবও আমিরাতি সংস্কৃতিতে লক্ষ করা যায়। ইসলামিক রীতিনীতি ও কালচার খুব কঠোরভাবে মেনে চলা হয় এই দেশটিতে। তাইতো সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসলামিক সংস্কৃতির রাজধানী নামেও পরিচিত। দেশটির স্থানীয় স্থাপত্য, সঙ্গীত, পোশাক, রন্ধনপ্রণালী এবং জীবনধারায় পুরোপুরি ইসলামিক কালচার এর প্রভাব রয়েছে। আরব আমিরাত এর নাগরিকদের মধ্যে বেশ মিশুকে স্বভাব লক্ষ করা যায়। যে কোনো মজলিসে প্রবেশের সময় আগত মেহমানগন ডানদিক থেকে সকল অতিথিদের সালাম দিয়ে প্রবেশ করে। মজলিসের শুরুতেই বিশেষ এক ধরনের আমিরাতি কফি পরিবেশন করা হয়। এবং পরিবেশনের ক্ষেত্রেও ডানদিক থেকে শুরু করে ঘরের বা দিকে চলে যেতে দেখা যায়। তবে মুরুব্বি এবং সম্মানিত ব্যক্তিদেরকে আগে প্রাধান্য দেয়া হয়। আরব আমিরাত এর সাধারণ মানুষ এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী কান্দুরা এবং আবায়া পড়তে ভালোবাসেন। তবে সবধরনের পোশাকই এমন ভাবে তৈরি করা হয় যাতে পুরো শরীরে আবৃত থাকে। এতে ইসলামিক পোশাকের নিয়মও কক্ষা করা হয় এবং উত্তপ্ত আবহাওয়া থেকেও ত্বকও আরাম পায়। বিয়ের পরে আমিরাতের মহিলারা তার পরিবারের পরিচয়ই বহন করে এবং ছেলে মেয়েরা তাদের বাবার পরিচয়ে পরিচিত হয়। আরব আমিরাত এর নাগরিকদের খাদ্যাভ্যাস: আরব আমিরাত এর নাগরিকদের প্রধান খাদ্য উপাদান হলো ভাত,মাছ, মাংস, রুটি এবং সবজি। তবে ইসলামে হারাম বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এমন পশুর মাংস খাওয়ার প্রচলন একদমই নেই বললেই চলে। আরব আমিরাতে সাধারণত মাটন এবং ভেড়ার মাংস খাওয়ার প্রচলন সবথেকে বেশি। এছাড়াও সামুদ্রিক মাছ ও সবজি এদেশের খাদ্য তালিকায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে। প্রধান খাবার হিসেবে বেশিরভাগ সময়েই সুগন্ধি চালের সাথে মাংসের সংমিশ্রণে রান্না করা খাবার খেতে দেখা যায়। আর প্রতিদিনের খাবার তালিকায় খেজুর তো থাকবেই। আমিরাতের জনপ্রিয় পানীয় হলো কফি এবং চা, যা এলাচ, জাফরান বা পুদিনা পাতা দিয়ে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়। আরব আমিরাত এর জনপ্রিয় খাবার: ১. আল জাবাব রুটি ২. বালালেত ৩.বাথিথ ৪.হারিস ৫.জামি ৬.জাশেদ ৭.কাবসা ৮.খবিস ৯. খানফ্রুশ ১০.খামির রুটি ১১.মাচবুস ১২. মাদ্রুব ১৩. মার্কাউকা ১৪.মাকলুবা ১৫. মুহলা রুটি ১৬ কুজি ১৭.সালোনা ১৮.থারিদ ১৮ ওয়াগাফি রুটি ১৯.উটের দুধ ২০. লাবান ২১.আরবি কফি ২২.আরবি চা (ইত্যাদি) সংযুক্ত আরব আমিরাত এর আমিরাত সমূহ এবং এদের দর্শনীয় স্থান: মোট সাতটি প্রদেশ নিয়ে গঠিত সংযুক্ত আরব আমিরাত এর প্রতিটি প্রদেশেই আছে জনপ্রিয় বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান। পৃথিবীর সবথেকে উঁচু স্থাপনা বুর্জ খলিফাও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত। এছাড়াও সামুদ্র সৈকত, মরুভূমির উদ্যান, পাহাড় সহ আরও অনেক আকর্ষণীয় বিষয় আছে এই দেশে পরিদর্শন করার জন্য। আবুধাবির দর্শনীয় স্থান – ১. লুভর মিউজিয়াম আবুধাবির সবথেকে জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান লুভর মিউজিয়াম। এই জাদুঘরে নিওলিথিক যুগ থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত সকল সভ্যতার প্রাচীন নিদর্শন এর এক বিশাল সংগ্রহ রয়েছে। জাদুঘরটিতে মোট ১২ টি গ্যালারির একটি স্থায়ী প্রদর্শনী তো রয়েছেই তার পাশাপাশি প্রতি বছর বিভিন্ন অকেশনে আরও জমকালো ভাবে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। ২. শেখ জায়েদ মসজিদ সংযুক্ত আরব আমিরাত এর সবথেকে বড় মসজিদ শেখ জায়েদ মসজিদ। এই মসজিদে একসাথে চল্লিশ হাজার মুসুল্লি জামাতে নামাজ আদায় করতে পারবে। অসাধারণ নির্মাণশৈলী মসজিদটিকে এতো বেশি জনপ্রিয় করে তুলেছে। ৩. ফেরারি ওয়ার্ল্ড থিম পার্ক আবুধাবির ইয়াস দ্বীপে অবস্থিত একটি জনপ্রিয় থিম পার্ক ফেরারি ওয়ার্ল্ড থিম পার্ক। ড্রাইভিং পছন্দ করে এমন টুরিস্টদের জন্য একদম উপযুক্ত একটি পর্যটন কেন্দ্র এটি। ৪. আল হোসন ফোর্ট আল হোসন ফোর্ট আবুধাবির হামদান বিন মোহাম্মদ স্ট্রিটে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাসিক নিদর্শন। আরব আমিরাত এর প্রাচীন জনপদের বিভিন্ন নিদর্শন এই ভবনে সংরক্ষিত আছে। ৫. ফ্যালকন হাসপাতাল আবুধাবির অফ সোয়েহান রোডে অবস্থিত ফ্যালকন হাসপাতাল একটি পশুচিকিৎসা হাসপাতাল। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখি সহ হাসপাতাল সংলগ্ন জাদুঘর পরিদর্শন করতে পারবেন। আজমান এর দর্শনীয় স্থান ১. ইতিসালাত টাওয়ার ইতিসালাত টাওয়ার হলো ১৭ তলা বিশিষ্ট একটি বিলাসবহুল ভবন। এখানে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সহ থাকার অভিজ্ঞতা ও বিলাসবহুল শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ পাবেন। ২. আজমান ধো ইয়ার্ড এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি ব্যোটিং এর চমৎকার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন। ৩. আজমান জাতীয় জাদুঘর ১৮ শতকে নির্মিত ভাবনটিতে শহরের প্রাচীন নিদর্শন গুলো দেখতে পাবেন৷ একজন ইতিহাস প্রেমীর জন্য আজমান জাতীয় জাদুঘর খুবই উপযুক্ত একটি দর্শনীয় স্থান। ৪. আল জোরাহ ন্যাচারাল রিজার্ভ এই স্পটে অবস্থানকালে আপনি কিছুসময়ের জন্য ভুলে যেতে বাধ্য হবেন যে আপনি মরুভূমিতে আছেন। অসাধারণ প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে প্রায় ৬০ প্রজাতির পাখির দেখা মিলবে এখানে। ৫. আল মুরাব্বা ওয়াচটাওয়ার এটি আজমান শহরের একটি জনপ্রিয় ঐতিহাসিক নিদর্শন। ১৯৩০ এর দশকে শহরের নিরাপত্তার জন্য এই স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়েছিল। দুবাই এর দর্শনীয় স্থান – ১. বুর্জ খলিফা দুবাই শহরের সবথেকে জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান বুর্জ খলিফা।এটি পৃথিবীর সবথেকে উঁচু ভবন। শহরের যে কোনো প্রান্ত থেকে বুর্জ খলিফার দেখা মিলবে। ২. বুর্জ আল আরাব পৃথিবীর সবথেকে বিলাসবহুল হোটেল ও রেস্তোরাঁর সন্ধান চাইলে চলে যেতে হবে বুর্জ আল আরাবে এটি নৌকার পালের মতো দেখতে একটি ভবন যা একটি দ্বীপের ওপর নির্মিত। ৩. মিরাকল গার্ডেন পৃথিবীর সবথেকে সুন্দর প্রাকৃতিক ফুলের বাগান মিরাকল গার্ডেন, যা একেক ঋতুতে একেক রঙের ফুলে নিজেকে রাঙিয়ে নেয়। ৪. অ্যাকোয়াভেঞ্চার ওয়াটারপার্ক দুবাইয়ের পাম জুমেইরাহ এর ক্রিসেন্ট রোডে অবস্থিত একটি চমৎকার ওয়াটার পার্ক অ্যাকোয়াভেঞ্চার ওয়াটারপার্ক। ৫.দুবাই ডেজার্ট কনজারভেশন রিজার্ভ মরুভূমির টিলা এবং খাদে ট্রেকিং এর এক চমৎকার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাইলে চলে যেতে হবে দুবাই ডেজার্ট কনজারভেশন রিজার্ভে। আল ফুজাইরাহ এর দর্শনীয় স্থান ১. ফুজাইরাহ ফোর্ট ফুজাইরাহ ফোর্ট সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রাচীনতম দুর্গ হিসাবে বিবেচিত। এটি একটি মাটির ইটের তৈরি প্রাচীন ভবন। ২. স্নুপি দ্বীপ স্নুপি দ্বীপে চমৎকার সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি ডাইভিং এবং সুইমিং এর অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন। চাইলে দ্বীপের বিভিন্ন রিসোর্ট ও ভিলা গুলোতে রাত্রিযাপন করতে পারবেন। ৩. আল বিদিয়া মসজিদ শহরের প্রাচীন মসজিদ গুলোর মধ্যে অন্যতম আল বিদিয়া মসজিদ যা অটোমান মসজিদ নামেও পরিচিত। মসজিদটির আশেপাশে আরও অনেকগুলো প্রাচীন ভবন ও চারটি ওয়াচ-টাওয়ার রয়েছে। ৪. বিথনাহ দুর্গ ফুজাইরাহ শহর থেকে ১৩ কিমি দূরে প্রধান মহাসড়কের পাশে অবস্থিত বিথনাহ দুর্গ ফুজাইরাহ এর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন। ৫. কালবা কর্নিচ পার্ক পরিবার পরিজন নিয়ে পিকনিক অথবা বারবিকিউ পার্টি করার জন্য একটি আদর্শ স্পষ্ট কালবা কর্নিচ পার্ক। শিশুদের খেলার জন্য সুন্দর মাঠ ও বসার জন্য উপযুক্ত জায়গা রয়েছে পার্কটিতে। রাআস আল খাইমাহ এর দর্শনীয় স্থান – ১. জেবেল জাইস সংযুক্ত আরব আমিরাতের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জেবেল জাইস। এই পাহাড়চূড়া থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের দারুণ দৃশ্য উপভোগ করা যায়। ২. জাজিরাত আল হামরা আরব আমিরাতে তেল আবিষ্কারের আগে গ্রামগুলির অবস্থা কেমন ছিল তার নিদর্শন মিলবে জাজিরাত আল হামরা নামক গ্রামে। গ্রামটিতে এখনও প্রাচীন যুগের সকল নিদর্শন বিদ্যমান আছে। ৩. রাআস আল খাইমাহ জাতীয় জাদুঘর জাদুঘরের ভবনটি ১৯৬০ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলের শাসকদের বাসভবন ছিল। বর্তমানে ভবনটি শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিত যেখানে প্রাচীন যুগের অসংখ্য নিদর্শন সংগৃহীত আছে। ৪. আল হামরা মল সুবিশাল এলাকা নিয়ে গঠিত আল হামরা মল বিনোদন, কেনাকাটা ও খাওয়াদাওয়ার একটি পারফেক্ট পয়েন্ট। শপিং মলটিতে ১২০ টিরও বেশি দোকান, অসংখ্য ফুড কোর্ট, বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ ও কিডস জোন রয়েছে। ৫. হাজর পর্বত রাআস আল খাইমাহ এর অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত পর্যটন এলাকা হাজর পর্বত। পর্বতমালার নজরকাড়া সৌন্দর্য যে কোনো পর্যটককে তীব্রভাবে আকর্ষণ করে। শারজাহ এর দর্শনীয় স্থান ১. শারজাহ ডেজার্ট পার্ক প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য শারজাহ ডেজার্ট পার্ক একটি উপযুক্ত দর্শনীয় স্থান। তিনটি শ্রেনিতে এই পার্কটির ডেকোরেশন করা হয়েছে।যথা: প্রাকৃতিক ইতিহাস যাদুঘর, আরবীয় বন্যপ্রাণী কেন্দ্র এবং শিশু খামার। ২. আল কাসবা শারজাহ এর একটি জনপ্রিয় শপিং কমপ্লেক্স আল কাসবা। এখানে একই সাথে রেস্তোরাঁ, থিয়েটার এবং কিডস ফান জোন সহ আরও অনেক সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়। ইনডোর এবং আউটডোর বিনোদন কেন্দ্র চলমান থাকে সব সময়। ৩. শারজাহ মিউজিয়াম অফ ইসলামিক সিভিলাইজেশন বিশাল জলরাশির তীর ঘেসে ইসলামিক ইতিহাসের বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নিয়ে স্বগর্বে বিদ্যমান শারজাহ মিউজিয়াম অফ ইসলামিক সিভিলাইজেশন। ইসলামিক নিদর্শন ছাড়াও আরব আমিরাত এর বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন এই জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। ৪. শারজাহ অ্যাকুরিয়াম এটি একটি আর্টিফিশিয়াল সামুদ্রিক পরিবেশ। বিশাল আকৃতির অনেকগুলো ট্রান্সপারেন্ট ট্যাংক এর ভেতর কৃত্রিম সামুদ্রিক পরিবেশ তৈরি করে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ৫. শারজাহ ন্যাশনাল পার্ক ছয় লক্ষ ত্রিশ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে শারজাহ ন্যাশনাল পার্ক নির্মিত হয়েছে। প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে নিবিড় ভাবে কিছুটা সময় কাটানো যায় শারজাহ ন্যাশনাল পার্কে উম্ম আল কোয়াইন এর দর্শনীয় স্থান : ১. ড্রিমল্যান্ড অ্যাকোয়া পার্ক দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার মিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ড্রিমল্যান্ড অ্যাকোয়া পার্ক এই অঞ্চলের সবথেকে বড় এবং জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান। অন্যান্য আমিরাত থেকে এখানে আসার পথও একদম সহজ বলে এখানে পর্যটকদের ভীড় তুলনামূলক বেশি থাকে। ২. UAQ জাতীয় জাদুঘর জাদুঘরের ভবনটি ২৫০ বছরের পুরোনো। এখানে আগে এই অঞ্চলের শাসনকর্তাগন বসবাস করতেন।বর্তমানে আরব আমিরাত এর প্রতিটি প্রদেশ থেকেই অসংখ্য দর্শনার্থী এখানে ভীড় জমায় । ৩. আল সিন্নিয়াহ দ্বীপ চমৎকার সমুদ্র সৈকত এবং দ্বীপের মধ্যকার ম্যানগ্রোভ বনের জন্য প্রচুর দর্শনর্থীদের দ্বীপটি আকর্ষণ করে। ৪. ফালাজ আল মুআল্লা ফালাজ আল মুআল্লা এই আমিরাত এর একটি প্রাচীন শহর। চারটি সুপরিচিত বৃহৎ স্থাপনা ও তিনটি ওয়াচ টাওয়ার এর জন্য এই শহরটি পুরো আমিরাত জুড়ে বিখ্যাত। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিটি প্রদেশই নিজস্ব স্বকীয়তা ও সমৃদ্ধিতে ভরপুর। অর্থনৈতিক অবস্থান, দক্ষ জনশক্তি, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি সব মিলিয়ে দেশটিকে একটি উন্নত দেশে পরিনত করেছে। একটি মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে দেশটি নিজেদের গর্বিত মনে করে এবং বিশ্ব মঞ্চে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরে। মরুভূমির ছোট ছোট জনপদ থেকে আধুনিক নগররাষ্ট্রে রূপান্তরের এক অনন্য উদাহরণ সংযুক্ত আরব আমিরাত। উন্নত অবকাঠামো, শক্তিশালী অর্থনীতি, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এবং বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্রের কারণে দেশটি আজ বিশ্বমঞ্চে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার দেওয়ানহাট এলাকার মহানপাড়া গ্রামে চায়ের সাথী ফসল হিসেবে আম চাষ করে বাড়তি আয়ের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বসিরুল আলম প্রধান। চা বাগানের ফাঁকা জমি কাজে লাগিয়ে সেখানে বিভিন্ন জাতের আম গাছ লাগিয়ে গড়ে তুলেছেন সমন্বিত কৃষির একটি লাভজনক মডেল। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘আলম চেয়ারম্যান’ নামেই পরিচিত। বয়স সত্তর ছুঁইছুঁই হলেও কৃষিকাজে এখনো সমানভাবে সক্রিয় তিনি। বাড়ির পাশের এক সময়ের পড়ে থাকা উঁচু ২২ একর জমিতে গড়ে তুলেছেন চা বাগান। চা চাষে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ক্ষুদ্র চা চাষী হিসেবে ২০২৪ সালে জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। চা বাগানের ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে সেখানে সাথি ফসল হিসেবে বিভিন্ন জাতের আম গাছ রোপণ করেন বসিরুল আলম প্রধান। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার ‘ব্যানানা ম্যাংগো’ গাছ। এছাড়া ৫০টি আম্রপালিসহ আরও শতাধিক বিদেশি জাতের আমের গাছ রয়েছে। চলতি মৌসুমে তার বাগানের আম গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। মুকুল আসার পর থেকেই শুরু হয়েছে পরিচর্যার কাজ। শ্রমিকরা দিনভর বাগানে কাজ করে গাছগুলোর যত্ন নিচ্ছেন। পরিকল্পিতভাবে সাজানো এই বাগান এখন স্থানীয় কৃষকদের কাছেও অনুপ্রেরণার জায়গা হয়ে উঠেছে। বাসস’র সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছেন,আম উৎপাদনেও ভালো সাফল্য পেয়েছেন। ২০২৪ সালে তার বাগান থেকে আম বিক্রি করে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আয় হয়। পরের বছর ২০২৫ সালে আম বিক্রি করে প্রায় ২৫ লাখ টাকা আয় করেন। চলতি বছর আরও বেশি ফলনের আশা করছেন তিনি। চা উৎপাদনেও রয়েছে ধারাবাহিক উন্নতি। ২০২৪ সালে তার বাগানে চা উৎপাদন হয়েছিল এক লাখ ৬৭ হাজার ৬৭১ কেজি। ২০২৫ সালে সেই উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় দুই লাখ পাঁচ হাজার ৪৮৯ কেজিতে। চলতি মৌসুমে সবুজ চা পাতা তোলা শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি চা পাতা ৩৬ টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি, যা তার আয়ের অন্যতম উৎস। বসিরুল আলম প্রধান বলেন, কৃষিকে আমি শুধু পেশা হিসেবে নয়, ভালোবাসা থেকে করি। শুরুতে চা বাগানে শেড ট্রি হিসেবে আম গাছ লাগাই। ভালো ফলন পাওয়ায় ধীরে ধীরে বাগানের ফাঁকা জায়গাগুলোতে বিভিন্ন জাতের আম গাছ রোপণ করি। এখন চায়ের পাশাপাশি আম থেকেও ভালো আয় হচ্ছে। অনেকেই আমার বাগান দেখতে আসেন এবং উৎসাহ পান। আমি চাই তরুণ কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষিতে এগিয়ে আসুক। ব্র্যাক নার্সারির ম্যানেজার আশিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, চা বাগানের সঙ্গে আম চাষের এই সমন্বিত পদ্ধতি কৃষকদের জন্য লাভজনক হতে পারে। আলম সাহেব উদ্ভাবনী চিন্তার একজন কৃষক। আমরা নিয়মিত তাকে কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে আসছি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পঞ্চগড়ের উপপরিচালক আব্দুল মতিন বলেছেন, চা বাগানের মাঝখানে সাধারণত ফাঁকা জায়গা রাখা হয়। অনেক চাষী সেখানে শেড ট্রি হিসেবে বিভিন্ন গাছ লাগান। সেখানে যদি আম বা অন্য ফলজ গাছ লাগানো যায়, তাহলে সেখান থেকে বাড়তি আয় পাওয়া সম্ভব। সবুজ চা পাতার দাম কমে গেলেও ফলের আয় দিয়ে সেই ঘাটতি কিছুটা পূরণ করা যায়। তিনি আরও বলেন, বসিরুল আলম প্রধানের সমন্বিত চা ও আম বাগানটি আমরা পরিদর্শন করেছি। তিনি খুব যত্ন সহকারে বাগানটি পরিচালনা করছেন। সঠিক পরিচর্যা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এখান থেকে আরও ভালো ফলন পাওয়া যাবে।
তেলের অফুরান সম্পদ, আভিজাত্যপূর্ণ নগরজীবন এবং আধুনিক স্থাপত্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত সংযুক্ত আরব আমিরাত। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি আজ উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও পর্যটনের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। মরুভূমির বুকে গড়ে ওঠা এই দেশটি গত কয়েক দশকে অভূতপূর্ব উন্নয়নের নজির স্থাপন করেছে। গগনচুম্বী অট্টালিকা, বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শহর পরিকল্পনা সংযুক্ত আরব আমিরাতকে বিশ্বে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। সাত আমিরাতের ফেডারেশন সংযুক্ত আরব আমিরাত মূলত সাতটি স্বাধীন আমিরাত নিয়ে গঠিত একটি ফেডারেশন। এগুলো হলো আবুধাবি, দুবাই, শারজাহ, আজমান, উম্ম আল ক্বাইওয়াইন, রাস আল খাইমাহ এবং ফুজাইরাহ। ১৯৭১ সালের ২ ডিসেম্বর ছয়টি আমিরাত একত্র হয়ে ফেডারেশন গঠন করে। পরে ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাস আল খাইমাহ এতে যোগ দেয়। দেশটির রাজধানী আবুধাবি এবং সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় শহর দুবাই। রাজধানী আবুধাবির প্রাধান্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের বৃহত্তম আমিরাত হলো আবুধাবি। দেশের মোট আয়তনের প্রায় ৮৭ শতাংশই এই আমিরাতের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে সবচেয়ে ছোট আমিরাত হলো আজমান, যার আয়তন প্রায় ২৫৯ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যায় এগিয়ে দুবাই যদিও আয়তনের দিক থেকে আবুধাবি সবচেয়ে বড়, তবে জনসংখ্যা ও পর্যটনের দিক থেকে দুবাই অনেক এগিয়ে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটক ও কর্মজীবীরা এখানে বসবাস করেন। ফলে দুবাইকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম আন্তর্জাতিক শহর বলা হয়। ভিনদেশিদের আধিক্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের জনসংখ্যার বড় অংশই বিদেশি নাগরিক। পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৭ শতাংশ ভারতীয়, প্রায় ১২ শতাংশ পাকিস্তানি এবং প্রায় ৭ শতাংশ বাংলাদেশি নাগরিক। স্থানীয় আমিরাতিদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার তুলনায় অনেক কম। বিলাসবহুল পুলিশের গাড়ি দুবাই পুলিশের বহরে রয়েছে বিশ্বের কিছু বিলাসবহুল ও দ্রুতগতির গাড়ি। এর মধ্যে ল্যাম্বরগিনি, বেন্টলি এবং ফেরারির মতো সুপারকার রয়েছে, যা পুলিশের টহল কার্যক্রমেও ব্যবহৃত হয়। গোল্ড এটিএম দুবাইয়ের অন্যতম বিস্ময়কর প্রযুক্তি হলো গোল্ড এটিএম। এই মেশিনে টাকা প্রবেশ করালে সোনা, স্বর্ণালংকার বা সোনার ঘড়ির মতো মূল্যবান পণ্য পাওয়া যায়। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন দুবাইয়ে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন বুর্জ খলিফা। এই ভবনের উচ্চ তলায় বসবাসকারীদের রমজান মাসে ইফতার করতে নিচের তলার বাসিন্দাদের তুলনায় দুই থেকে তিন মিনিট বেশি অপেক্ষা করতে হয়, কারণ তারা সূর্যাস্ত কিছুটা পরে দেখতে পান। পরিবেশবান্ধব মাসদার শহর আবুধাবিতে গড়ে উঠেছে মাসদার সিটি নামে একটি পরিবেশবান্ধব শহর। এটি মূলত সৌরশক্তি ও বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। এখানে ব্যক্তিগত জ্বালানিচালিত গাড়ি নিষিদ্ধ এবং পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হয় বৈদ্যুতিক যানবাহন। বুর্জ খলিফার নামকরণ বুর্জ খলিফা নির্মাণের সময় এর নাম ছিল বুর্জ দুবাই। পরে আবুধাবির আর্থিক সহায়তার স্বীকৃতিস্বরূপ সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাবেক প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের নামে ভবনটির নাম পরিবর্তন করা হয়। বিশ্বের বৃহত্তম ইনডোর পার্ক আবুধাবিতে অবস্থিত ফেরারি ওয়ার্ল্ড বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইনডোর থিম পার্ক হিসেবে পরিচিত। এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। নির্মাণে ব্যস্ত দুবাই দুবাইকে প্রায়ই “নির্মীয়মাণ শহর” বলা হয়। বিশ্বের কর্মরত ক্রেনের প্রায় ২৫ শতাংশই একসময় দুবাইয়ে ব্যবহৃত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এটি দেশটির দ্রুত উন্নয়ন ও অবকাঠামো সম্প্রসারণের প্রতীক।
রফিকুল ইসলাম : সত্তর বছরের সুখী বেগম জীবনে মাত্র কয়েকবারই সুখের মুখ দেখেছেন। গত ৫০ বছরে প্রমত্তা ব্রক্ষ্মপুত্রের বন্যা আর নদী ভাঙ্গনে সাত বার নিজের ভিটে-মাটি হারিয়েছেন সুখী বেগম। পাঁচ সন্তানের জননী সুখী বেগম এখনও নদীর বুকে জন্ম নেয়া এক ধরনের দ্বীপে বসবাস করেন যার স্থানীয় নাম চর। এই চরে নিজের ঘর থাকলেও মনে সব সময়ই ভয় কখন আবার বন্যার পানিতে সব হারিয়ে যায়। আর সেজন্যই তার মতো হাজারো চরবাসী নতনু নতুন কৌশল অবলম্বন করছে নদীকেন্দ্রীক বিপদ থেকে বাঁচার জন্য। হয়ত এই প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই তারা স্বপ্ন দেখেন আগামীর। বাংলাদেশের জামালপুরের পাকুয়ার চরে নিজ বাড়ির পিছনে মেয়ে বানী বেগমের (৫০) সাথে সুখী বেগম। ২৪ এপ্রিল, ২০২২ (ছবি: মোহাম্মদ আবদুস সালাম/ দ্য থার্ড পোল) “প্রায় ৫০ বছর আগে আমরা সারিয়াকান্দির পাকুয়ার চরে গিয়ে বসত গড়েছিলাম (সারিয়াকান্দি বাংলাদেশের উত্তরের জেলা বগুড়ার অন্তর্গত)। সেই দিনটির কথা আমার এখনও স্পষ্টভাবে মনে পড়ে যেদিন প্রথমবারের মতো নদী ভাঙনের কারনে আমাদের ঘরবাড়ি ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যত্র চলে যেতে হয়েছিল। সেখানে নতুন জীবনের আশায় আমরা ঘর বেঁধেছিলাম, কিন্তু প্রমত্তা এই নদী বার বার আমাদের ঘর-বাড়ি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।” সুখী বেগম এখনও অন্য কোথাও গিয়ে আবারো নতুন করে বসত গড়তে চান না। বন্যা সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে য়ায় সেটা যেমন জানেন সুখী বেগম, তেমনি এটাও বোঝেন যে এই বন্যার পানি সুদূর হিমালয় থেকে পলি বয়ে এনে এই চরগুলোকে একটি উর্বর ভূমিতে রুপান্তর করে। “আমি এই চরের মাটিতেই জন্ম গ্রহন করেছি, আর এই চরের বুকেই শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করতে চাই।” যেভাবে ব্রহ্মপুত্রের বুকে সৃষ্টি হয় চর ব্রহ্মপুত্র নদ বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ পলি বহনকারী একটি নদী এবং এর পলি পরিবহনের গতিশীলতা উত্তর-পূর্ব ভারত এবং ভাটিতে অবস্থিত বাংলাদেশের বাস্তুতন্ত্র এবং কৃষিকে মারাত্বকভাবে প্রভাবিত করে। ঢাকা-ভিত্তিক সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেমের (সিইজিআইএস) নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা এ খান বলেন, “প্রতি বছর প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন টন পলি উজান থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের মাধ্যমে আমাদের দেশে আসে। উজান থেকে আসা পলির সবটুকুই বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পতিত হয় না। এর একটি অংশ নদীল বুকে জমে সৃষ্ট করে ছোট বড় অনেক চর। ফিদা এ খান বলেন, ব্রহ্মপুত্র ও এর উপনদীর বাংলাদেশের অংশে প্রায় ৫০টি ছোট-বড় চর রয়েছে। এছাড়াও এখানে আরো প্রায় ২০ থেকে ২৫টি ডুবো চর রয়েছে। ব্রক্ষ্মপুত্র নদীটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে এক পর্যায়ে যমুনা নাম ধারণ করেছে। এই নদীটি ঠিক যেভাবে বছর বছর বন্যায় অনেক চর ধ্বংস করে আবার হাজার ক্রোশ দুর থেক পলি বয়ে এনে চরের বুকে জমিয়ে নতুন নতুন চরের জন্ম দেয়। ঠিক যেমনটি ঘটেছে পাকুয়ার চরের একপাশে। সেখানে পাটের আবাদ করেছেন ৩৪ বছরের যুবক জিয়াউর রহমান। পেশায় কৃষক জিয়াউর রহমান ভালো করেই জানেন যে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের এই বর্ষা মৌসুমে যে কোনো সময় বন্যার কারনে তার এই ফসল তলিয়ে যেতে পারে। তিনি তার বাড়িটি কিছুটা দুরে গিয়ে অনেকটাই স্থায়ী একটি চরে সরিয়ে নিয়ছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বন্যার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এভাবেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বসত বাড়ি সরিয়ে নেয়াটা এক ধরনের অভিযোজনের অংশ এখানকার মানুষের। অভিযোজন প্রতি বর্ষায় ব্রক্ষ্মপুত্রের চরে বাস করা মানুষগুলো ভালো করেই জানে যে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই বালু আর পলিতে গড়া অপেক্ষাকৃত নিচু এই সব দ্বীপের বিরাট অংশ বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় – এর জন্য বড় ধরনের কোনো বন্যার প্রয়োজন হয় না, সামান্য বন্যাতেই এখানকার নিচু অংশগুলো ডুবে যায়। তাই এখানকার বাসিন্দাদের অনেকেই নিজেদের মাটির ঘরগুলোকে নিজেদের সাধ্যমতো ভূমি থেকে কিছুটা উঁচু করে তৈরি করে থাকে। পাশাপাশি তারা তাদের বাড়ির ভিতরের বিছানাগুলো হ্যামকের মতো দড়ি দিয়ে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখে। তক্তাগুলোকে একসাথে হাতুড়ী দিয়ে পিটিয়ে মাঁচার মতো করে সমান উচ্চতায় রাখা হয়। আর বন্যার পানি নিজেদের ঘরের মেঝেতে পৌছে গেলে তারা এভাবেই বসবাস করে থাকে। জামালপুরের শুভগাছা চরে বন্যার সময় পানির থেকে বাঁচতে হ্যামোকের মতো করে এভাবে দড়ি দিয়ে বিছানা ঝুলিয়ে রাখার কৌশলটি সেখানকার মাসুষের কাছে এখন বেশ জনপ্রিয় (ছবি: মোহাম্মদ আব্দুস সালাম/ দ্য থার্ড পোল) কিন্তু অস্বাভাবিক বন্যা হলে পানি আরো উচ্চতায় পৌছে যায়। তাই প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কলা গাছের কাণ্ড কেটে তারা এক ধরনের ভেলা বানিয়ে রাখে যাতে প্রবল বন্যার সময় তারা সেই ভেলাতে আশ্রয় নিতে পারে। মাঝে মাঝে ভেলায় ভেসে তাদের দিনের পর দিন বসবাস করতে হয়। অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছল পরিবারগুলো বন্যার সময় পানিতে বাড়ি ডুবে গেলে নিজেদের নৌকায় বসবাস করে। এসময় বাড়ি-ঘর, রাস্তাঘাট, বাজার – সবই থাকে পানির নিচে। চরে বাড়ি তৈরীর সময় সেখানকার বাসিন্দারা মাটি দিয়ে উঁচু ভিত তৈরী করে নিজেদের সাধ্যমতো যাতে বন্যার সময় বাড়ির সামনে পানি এলেও নিজেদের ঘর কিছুটা উঁচুতে থাকে। (শুভগাছা চর, জামালপুর থেকে ছবিটি তুলেছেন মোহাম্মদ আব্দুস সালাম/দ্য থার্ড পোল) “যখন বন্যার পানিতে আমাদের ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়, আমরা তখন ঘরের ভিতরে মাঁচা বানিয়ে কিংবা নৌকা বা ভেলায় বসবাস করি। যখন পরিস্থিতি খুব খারাপ হয়ে যায়, তখন প্রাণ বাঁচাতে চরের বাসিন্দারা (সরকার পরিচালিত) আশ্রয় কেন্দ্রে ছুটে যায়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের মতো সহায় সম্বলহীন মানুষগুলো নিজেদের যা কিছুই আছে তা রেখে আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে চায় না, বলছিলেন জিয়াউর। চরের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই একটি বিষয় খুব চোখে পড়ে, বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারগুলোতে – আর সেটি হচ্ছে একটি পানি নিরোধক বাক্স। বন্যার সময় চরের বাসিন্দারা তাদের জমির দলিলপত্রসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে এই বাক্সের ভিতরে রেখে দেয় যাতে পানিতে তা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। চরে প্রায় প্রত্যেকটি পরিবারেই একটি করে পানি নিরোধক বাক্স থাকে যাতে বন্যার সময় তারা নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ দলিল দস্তাবেজসহ অন্যান্য নথিপত্র নিরাপদে রাখতে পারে। (দমোদরপুর চর থেকে দ্য থার্ড পোলের জন্য ছবিটি তুলেছেন মোহাম্মদ আব্দুস সালাম) চরে সবচেয়ে বড় অভিযোজনের বিষয়টি দেখা যায় কৃষির ক্ষেত্রে। পাশেই আরেক চর শুভগাছার মোজাম মণ্ডল বলেন, আমাদের এখানকার চাষীরা এখন বন্যার পানি সহায়ক ভূট্টার চাষ শুরু করছে। “এই বছর আমি প্রায় এক একর জমিতে (০.৪ হেক্টর) ভূট্টার চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছি।” “আমরা আসলে চরে ভূট্টা চাষে বেশ আগ্রহ বোধ করছি কারণ এই ফসল বিক্রি করে আমরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছি। অন্যান্য ফসল বিক্রি করে আমরা যে মুনাফা পাই তার চেয়ে ভূট্টা চাষে মুনাফা অনেক বেশি। আমি এবছর প্রতি মন ভূট্টা (৩৭.৩২ কেজি) ১,৩০০ টাকায় (১৫ মার্কিন ডলার) বিক্রি করেছি”, সরিষাবাড়ি উপজেলার অন্তর্গত চর দৌলতপুরের কৃষক মোজাম্মেল হক দ্য থার্ড পোলের কাছে এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশের ব্রক্ষ্মপুত্র নদীর চরগুলোতে ব্যাপকভাবে ভূট্টার চাষ করা হয়। (ছবিটি জামালপুরের শুভগাছা চর থেকে তোলা। দ্য থার্ড পোলের জন্য ছবিটি তুলেছেন মোহাম্মদ আব্দুস সালাম) বন্যার সময় গৃহপালিত পশুদের কী অবস্থা হয়? জানতে চাইলে মোজাম বলেন, আসলে নিজেদের পাশাপাশি বন্যার সময় তৈরি করা ভেলাগুলোতে গৃহপালিত পশুগুলোকেও একসাথে রাখা হয়। চরবাসীরা শুকনো চালের বিভিন্ন ধরনের খাদ্য সাথে রেখে থাকেন। বন্যার সময় কোনো ঘাসময় জমি পাওয়া পর্যন্ত এসব গৃহপালিত পশু অনেকটাই না খেয়ে থাকে। উঁচু ভীতে ঘর বেঁধে স্বপ্নের বুনন এমিলি বেগম (৫০) জানতেন তার পরিবার ভিত উঁচু করে ঘর বাঁধতে সক্ষম নয়। কিন্তু ২০২১ সালে সরকারী উন্নয়ন সংস্থা পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউণ্ডেশনের পক্ষ থেকে তাদের ঘর উঁচু করে বাঁধার জন্য সহায়তা দেয়া হয়। এখন তার মনে হচ্ছে তার পরিবার এখন আগের চেয়ে অনেকটাই নিরাপদ। “আগে বন্যার সময় আমাদের গৃহপালিত পশুগুলোকে নিরাপদে রাখার মতো জায়গা না থাকায় অত্যন্ত স্বল্প মূল্যে এসব পশু বন্যার আগে আগে বাজারে বিক্রি করতে হতো”, এমিলি বলেন। কিন্তু এখন ঘরের ভীত আরো উঁচু হওয়ায় সেখানে নিজেদের ছাগলসহ অন্যান্য গৃহপালিত পশুগুলোকে সহজেই নিরাপদে রাখা সম্ভব। “এখন আর আমাদের বন্যার সময় স্বল্প মূল্যে ছাগলগুলোকে বিক্রি করার প্রয়োজন পড়ে না।” চরের বাসিন্দাদের জন্য নেয়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে জামালপুরের চর শুভগাছায় বন্যার সময় ছাগলসহ অন্যান্য গৃহপালিত পশুদের নিরাপদ রাখতে এই ধরনের উঁচু ভীত তৈরি করা হয়। (ছবি: মোহাম্মদ আব্দুস সালাম/ দ্য থার্ড পোল) এসব উঁচু ভীতগুলো অনেক সময় বেশ প্রশস্ত হয় যেখানে চরের বাসিন্দারা ফলমূল ও শাকসব্জি চাষ করতে পারে। “আমি এবার আমাদের বাড়ির উঁচু ভীতে লাউ চাষ করে ১,৪০০ টাকা (১৬ মার্কিন ডলার) আয় করেছি”, এই চরের আরেক বাসিন্দা সীমা বেগম বেশ উচ্ছ্বসিত হয়ে এ কথা বলেন। “আমি এবার পেঁপে বিক্রি করে আরো টাকা আয় করবো। আমার গাছের ফলগুলো এখন পাকতে শুরু করেছে।” পিকেএসএফের এক্সটেন্ডেড কমিউনিটি ক্লাইমেট প্রজেক্টের সমন্বয়ক ফরিদুর রহমান বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৮৭টি পরিবারকে জলবায় সহায়ক উঁচু ভীতের বাড়ি তৈরীর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তবে এটি পর্যাপ্ত নয় কারন এসব চরে অসংখ্য দরিদ্র পরিবারের বসবাস। ডুবে যাওয়া টিউবওয়েল আর টয়লেটের সুরক্ষা বন্যার সময় চরের টিউবঅয়েলগুলো একেবারেই যুবে যায়। এসব টিউবঅয়েল চরবাসীর খাবার পানির উৎস। আর প্রতি বর্ষায় এসব চরে পানির প্রচন্ড স্বল্পতা থাকে। কিন্তু বর্তমান সময়ে এখানকার পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থার বেশ উন্নয়ন হয়েছে – সরকারী সহায়তায় গড়ে তোলা এসব টয়লেট এখন উঁচু ভীতের উপরে স্থাপন করা হচ্ছে। এখন আর আগের মতো এসব টয়লেট বন্যার সময় পানিতে তলিয়ে যায় না। মাদারগঞ্জের নদঘরি চরের আফরোজা বেগম বলেন, “আগে বন্যার সময় আমাদের টয়লেট আর টিউবঅয়েলগুলো পানিতে ডুবে যেত। এখন আমরা এই টয়লেট আর টিউবঅয়েল উঁচু ভীতের উপরে স্থাপন করছি। আমাদের বিশ্বাস ভবিষ্যতে বন্যার সময় আমাদের আর পানি এবং পয়:নিষ্কাশন নিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে না।” শুভগাছা চরে বন্যার সময় পানিতে তলিয়ে যাবার হাত থেকে সুরক্ষায় উঁচু ভীতের উপরে স্থাপিত একটি পাবলিক টয়লেট। (ছবি: মোহাম্মদ আব্দুস সালাম/দ্য থার্ড পোল) বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও শিশু একটি বন্যা কিন্তু নারীদের প্রথাগত যে ভূমিকা রয়েছে তা কোনো অংশেই হ্রাস করে না – যেমন পরিবারের জন্য রান্না করা এবং পানীয় জল বয়ে আনা ইত্যাদি। বন্যা হলে এসব পারিবারিক কার্যক্রম তাদের জন্য আরো কঠিন হয়ে যায়। অনেককেই একটি কার্যকর টিউবঅয়েলের খোঁজে কমপক্ষে এক কিলোমিটার পথ হাটতে হয়। কেউ কেউ নৌকা বা ভেলায় করে সেসব স্থানে পৌঁছায়। আবার অনেককেই গলা সমান বন্যার পানিতে হেঁটে অন্যদের মধ্য দিয়ে পানির খোঁজে বের হতে হয়। জামালপুর জেলার চর দামুদুরপুরের বাসিন্দা মাহমুদা বেগম বলেন, “খাবার পানি সংগ্রহ করা সত্যিই একটি কঠিন কাজ। “আমাদের নৌকা বা ভেলায় করে অনেক দূর যেতে হয়।” বাংলাদেশের স্থানীয় এনজিও নেটওয়ার্ক অন ক্লাইমেট চেঞ্জ-এর গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি ম্যানেজার মুহাম্মদ ফররুখ রহমান বলেন, “আর যখন নারীদের আশ্রয়কেন্দ্রে বা বাঁধের উপরে থাকতে বাধ্য হতে হয়, তখন তারা অনেক সময় যৌন হয়রানিরও শিকার হয়ে থাকেন, বিশেষ করে যখন তারা রাতে পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করেন।” চরাঞ্চলে শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষার সুযোগ নেই। যে কয়েকটি স্কুল আছে তা প্রতি বছর বন্যার সময় বন্ধ থাকে। শিশুদের মাসের পর মাস ক্লাস বন্ধ করে বাড়িতে বসে থাকতে হয়। চরে বসবাসকারী অল্প সংখ্যক শিশুই স্কুলে যায়,এসব স্কুল প্রতি বছর কয়েক মাস বন্যার পানিতে ডুবে থাকে এবং বন্ধ থাকে – চর শুভগাছা, জামালপুর (ছবি: মোহাম্মদ আব্দুস সালাম/দ্য থার্ড পোল) কেন মানুষ চরে বাস করে ? ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গা এবং অন্যান্য নদী হিমালয় থেকে পলি বয়ে নিয়ে এসে এই চরগুলোককে এতই উর্বর করে তোলে যে সেগুলি নিয়ে বহু শতাব্দী ধরে লড়াই হয়ে আসছে – স্থানীয় জমিদাররা চর দখল করার জন্য ব্যক্তিগত বাহিনী গড়ে থুলতেন (যাদের পাইক এবং লাঠিয়াল বলা হয়)। তারা ভূমিহীন কৃষকদের চরের জমি চাষ করতে এবং অসুবিধা সত্ত্বেও সেখানে বসবাস করতে উৎসাহিত করে। চরে বসবাসকারী কৃষক পরিবারের অনেকেই আজ তাদের বংশধর। চরে তারা ধান, ভুট্টা, পাট, শাকসবজির ফলন করে – সবই অন্য মাটির চেয়ে ভালো জন্মায়। বছরের যেকোনো সময় চরে ফসলের অভাব হয় না। মাহমুদা বেগম বলেন, “চরে ফসলের কোনো অভাব নেই. এখানে বারো মাসে তেরো ফসল হয়।” স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সেবার ঘাটতি চর শুভগাছার বাসিন্দা আলাল মন্ডল বলেন, কেউ অসুস্থ হলে আমাদের এখানে ডাক্তার পাওয়া যায় না। “সুতরাং, রোগীকে নৌকা বা ভেলায় করে তিন কিলোমিটার দূরে গাবের গ্রামে নিয়ে যেতে হয়। এরপর তাদের জামালপুরের হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হতে পারে।” তার প্রতিবেশী আবদুর রহমান জানান, চরে কোনো কমিউনিটি ক্লিনিক নেই। চরের বাসিন্দাদের সরকার পরিচালিত নানা প্রকল্প যেমন ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং), ভিজিডি (ভালনারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট) কর্মসূচি, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা বা প্রতিবন্ধী ভাতার সুযোগ খুব কম। অভিযোগ রয়েছে যে কাউকে একটি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করতে রাজি হওয়ার আগে কর্মকর্তারা ঘুষ চেয়ে থাকেন।
অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী জুবাইরা আক্তার তয়া ও হুমাইরা আকতার তুবা। তারা যমজ বোন। এবার জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সাফল্য অর্জন করেছে। মুখ উজ্জ্বল করেছে বাবা-মা, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর। গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর বহুমুখী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে একসঙ্গে সাধারণ ক্যাটাগরিতে বৃত্তি অর্জন করে তারা। উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের তরফবাজিত গ্রামের কম্পিউটার ব্যবসায়ী মোরশেদ হাসান ও তহমিনা আকতার দম্পতির যমজ মেয়ে তারা। মেধাবী শিক্ষার্থী তয়া-তুবা বলে- একইসঙ্গে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় সাধারণ ক্যাটাগরিতে বৃত্তি পাওয়ায় আমরা সবাই খুশি। আগামীতে যেন নিজেদের ও বাবা-মার স্বপ্ন পূরণ করতে পারি এজন্য সবার কাছে দোয়া প্রত্যাশী। বাবা-মা ও পরিবারের প্রত্যাশা- তয়া-তুবা শিক্ষার ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রেখে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়বে এবং সমাজে যাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। সাদুল্লাপুর বহুমুখী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এরশাদ আলী বলেন, দুই বোনের লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ ও নম্র আচরণ প্রশংসনীয়। তারা শুধু মেধাবী নয়, চরিত্র গঠনেও সচেতন। আগামীতেও তাদের কাছ থেকে ভালো ফলাফল আশা করছি। উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে সাদুল্লাপুরের জামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০২২ সালে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে তয়া ও তুবা।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : ভারতে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দুর্নীতি ও দুঃশাসনের ও রাতের ভোটের সহযোগী।চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ অন্তরে বঙ্গবন্ধু ও মার্চের চেতনা জন্ম-ভাষন স্বাধীনতা বইয়ের লেখক।নারী কেলেংকারীর হোতা। আওয়ামী প্রভাব দেখিয়ে নিয়োগ বানিজ্য।সরকারি অর্থ আত্মসাৎকারী ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ নেতা এখন জামাত নেতা।বলছি বরিশালের ঐতিহ্যবাহী বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ নুরুল ইসলামের কথা। নুরুল ইসলাম যেখানেই গেছেন সেখানেই তিনি সমালোচিত হয়েছেন।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নের চেয়েও তিনি সব সময় সরকারি অর্থ আত্মসাৎ,দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধ ভাবে সম্পদ অর্জন করেছেন। বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজ এই ফ্যাসিস্ট নুরুল ইসলাম বরিশাল জিলা স্কুলে ১০ সেপ্টেম্বর যোগদান করে একের পর এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তিনটি ক্লাশ বন্ধ রেখে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রোদে দাড় করিয়ে নিয়েছেন সংবর্ধনা।অডিটরিয়াম থাকলেও সেখানে সংবর্ধনার আয়োহন না করে প্রচন্ত গরম ও রোদে দাড় করিয়ে রাখায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরাও। বরিশাল জিলা স্কুলেই নয়। ঝালকাঠির হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ে থাকাকালীন সময়েও ছাত্রীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে রাস্তায় দাড় করিয়ে সংবর্ধনা নিয়ে ছিলেন এই নুরুল ইসলাম।অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসছে একের পর এক নুরুল ইসলামের অপকর্ম। ঝালকাঠিতে থাকাকালিন সময়ে আমির হোসেন আমুকে আর মাদারীপুরে শাজাহান খানকে ম্যানেজ করে চলতেন।পদ-পদবী ঠিক রাখতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেনিয়ে বই লিখেছেন।বই ছাপানো,মুজিববর্ষ পালনে তার ব্যক্তিগত কোন টাকা খরচ হয়নি।স্কুলের টাকা দিয়ে নিজের নামে এসব করেছেন। ভুয়া ভাউচার দিয়ে খরচ করেছেন দু হাতে সরকারি অর্থ।তিনি একজন মুজিববাদের সৈনিক ও প্রচারক।হঠাৎ এখন আবার জামাতি হয়ে গেছেন। ঝালকাঠি হরচন্দ্র সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের হিসাব নিয়ে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নয় ছয়ের অভিযোগ করেছিল শিক্ষার্থীরা।এনিয়ে অনেকেই ফেসবুকে হিসাব নিকাশ জানতে চেয়ে পোস্টও করেছিল।তবে তিনি হিসাব দেননি।সচেতনতার সাথে এড়িয়ে গেছেন। বরিশাল জিলা স্কুলে প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেই তিনটি ক্লাশ বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের রোদে দাড় করিয়ে সংবর্ধনা নেয়ার সংবাদ প্রকাশ হলে বরিশাল জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ফ্যাসিবাদের দোসর নুরুল ইসলাম বিগত সরকার আমলে ছিলেন প্রভাবশালী। তার ভয়তে তার অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে কেউ কথা বলার সাহস পায়নি। ২০২৪ সালের পহেলা আগষ্ট। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে। যখন পুরো দেশ মৃত্যু পুরি ঠিক সেই সময় ঝালকাঠি সরকারি হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম শিক্ষার্থীরা যেন আন্দোলনে অংশ গ্রহন না করতে পারে সেজন্য তিনি বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত ক্লাসের নামে আটকিয়ে রেখে জোর পুর্বক পাঠদান করাতেন।অতিরিক্ত ক্লাশকে বাধ্যতামুলকও করেন তিনি। কে এই নারী কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে একাধিক বই লেখা বরিশাল জিলা স্কুলের বিতর্কিত প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম এখন জামায়াত নেতা। অর্থ আত্মসাৎ, নারী কেলেঙ্কারি, স্বৈরাচারী সরকারের দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি বরিশাল নগরীর একটি ঐতিহ্যবাহী স্কুলে কিভাবে যোগদান করলেন। এমন খবরে সকলে বিস্মিত।হতবাক। ক্ষমতার পালা বদলের পর সুযোগ ও কুট কৌশলে বরিশাল জিলা স্কুলে ফিরে এসেছেন নুরুল ইসলাম। দুর্নীতির অভিযোগে বরিশাল জিলা স্কুল থেকে বদলি হয়ে আবারো প্রধান শিক্ষক পদে নুরুল ইসলামের যোগদানে সবাই হতবাক হয়েছেন। ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলে আওয়ামী লীগ পরিচয়দানকারী শিক্ষক নুরুল ইসলাম এখন নতুন মোড়কে জামায়াত পরিচয়ে আসায় বাকরুদ্ধ সবাই। ২০২৩ সালের অক্টোবরে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে বরিশাল জিলা স্কুল থেকে ঝালকাঠি হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে তাকে বদলি করা হয়েছিল। এর আগে ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। সেখানেও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির পাশাপাশি নারী কেলেঙ্কারির মতো জঘন্য অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। ঝালকাঠীর এক অভিজাত হোটেলে নারীসহ ধরা পড়লে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পালিয়ে এসে বরিশাল জেলা শিক্ষা অফিসে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছিলেন। পরে তাকে বরগুনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। বরগুনাতে নানা অঘটনের জন্ম দিয়ে কয়েক মাস পরই বদলি হন মাদারীপুর ইউনাইটেড সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। মাদারীপুরে অবস্থানকালে নুরুল ইসলামের দুর্নীতি আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে। পরে বদলি হলে ২০২১ সালে বরিশাল জিলা স্কুলে যোগদান করেন। যোগদানের পর নুরুল ইসলাম সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ ও সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর জাহিদ ফারুকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন। এরপরই লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। স্কুলের ছাত্রদের কাছ থেকে প্রতি মাসে আইসিটি বাবদ ২০ টাকা করে আদায় করার পরেও এককালীন ছাত্রপ্রতি ২৪০ টাকা আদায় করতেন। এছাড়াও ভুয়া বিল করে স্কুলের উন্নয়নের নামে বিভিন্ন ফান্ডের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। গত বছরের মে মাসে বরিশাল-২ আসনের (উজিরপুর-বানারীপাড়া) সাবেক সংসদ-সদস্য মো. শাহে আলম তালুকদারের নির্দেশে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত রাখায় ২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন তিনি। যা বিভিন্ন পত্রিকায় খবরের শিরোনাম হয়েছিল। এছাড়াও স্কুলে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী না রেখে তাদের সম্মানি নিজেই আত্মসাৎ করতেন। শুধু তাই নয়, ২০২৩ সালে ‘চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ অন্তরে বঙ্গবন্ধু’ ও ‘মার্চের চেতনা জন্ম-ভাষণ স্বাধীনতা’ নামে দুটি বই লিখে বরিশাল জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন পত্রিকায় ৭ মার্চের ভাষণ, ১৫ আগস্ট, শেখ মুজিবের জন্মদিনে নিয়মিত কলামও লিখতেন এই শিক্ষক। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের জড়িত শিক্ষার্থীরা বলেন, বিগত অবৈধ সরকারের সুবিধাভোগী ও দুর্নীতিবাজ বরিশাল জিলা স্কুলের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দুঃখজনক।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ৩৮ হাজার শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন কার্ডে লিঙ্গ ভুল: কী ঘটেছে? বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি রেজিস্ট্রেশন কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়ম ধরা পড়েছে। প্রায় ৩৮ হাজার শিক্ষার্থীকে ভুলভাবে ‘ফিমেল’ বা নারী লিঙ্গ উল্লেখ করে কার্ড মুদ্রণ করা হয়েছে। এই ভুল পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে প্রকাশ পায়, ফলে শিক্ষার্থীদের কলেজ ও শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে দৌড়ঝাঁপ করতে হয়েছে। শহরজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক উদ্বেগ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষাব্যবস্থার তৎপরতা এবং কম্পিউটারাইজড ডেটা প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কীভাবে ধরা পড়ল ভুল? প্রাথমিকভাবে ঝালকাঠি জেলার শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড বিতরণের সময় ভুল লিঙ্গের তথ্য শনাক্ত করা হয়। পরে অন্য জেলার শিক্ষার্থীদের কার্ডগুলোও পরীক্ষা করা হলে দেখা যায়, মোট ৩৮ হাজার ছেলে শিক্ষার্থীকে ‘ফিমেল’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের একজন কর্মকর্তা জানান, “এই ধরনের ত্রুটি কম্পিউটার প্রোগ্রামের সেটিংস এবং অপারেটরের অসাবধানতার কারণে হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন কার্ড সংশোধন করতে পারবে। কোনো প্রকার হয়রানি বা অতিরিক্ত খরচ নেই।” বোর্ডের প্রতিক্রিয়া বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ইউনুস আলী সিদ্দিকী বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “ভুলের জন্য সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড আবার মুদ্রণ করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো শিক্ষার্থীকে অর্থ ব্যয় করতে হবে না।” তবে এই ঘটনার প্রভাব শুধু কার্ড সংশোধনের খরচেই সীমাবদ্ধ নয়। অধ্যক্ষ মহসিন উল ইসলাম, বরিশাল বিভাগীয় শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য ফ্রন্টের আহ্বায়ক, বলেন, “শিক্ষার্থীদের হাতে ভুল কার্ড পৌঁছানো মানসিকভাবে তাদের উপর প্রভাব ফেলেছে। এটি একটি স্পর্শকাতর বিষয়, যা আরও গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত। নতুন করে কার্ড ছাপাতে যা অর্থ ব্যয় হবে, তা কলেজের ওপর চাপানো যাবে না; বোর্ডকেই তা বহন করতে হবে।” শিক্ষার্থীদের প্রভাব ভুল কার্ড পেয়ে শিক্ষার্থীরা হতাশ ও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছে। কিছু শিক্ষার্থী জানান, তারা যখন কার্ড হাতে পেল, তখন নিজেদের লিঙ্গ ভুলভাবে উল্লেখ করা ছিল, যা তাদের আত্মসম্মান এবং মানসিক শান্তিতে প্রভাব ফেলেছে। এক শিক্ষার্থী বলেন, “পরীক্ষা শুরু হতে চলেছে, অথচ আমার লিঙ্গ ‘ফিমেল’ লেখা আছে। কার্ড সংশোধনের জন্য এখন আমাকে কলেজ এবং বোর্ডের মধ্যে ছুটতে হচ্ছে। এটি খুবই মানসিক চাপের বিষয়।” শিক্ষার্থীদের এই উদ্বেগ বোঝার পাশাপাশি শিক্ষা বোর্ডকে ডিজিটাল ডেটা এন্ট্রি প্রক্রিয়ায় ত্রুটি প্রতিরোধের পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং দায় এই ঘটনার মূল কারণ হিসেবে বোর্ডের কর্মকর্তারা কম্পিউটার প্রোগ্রামের সেটিংস এবং অপারেটরের ভুল উল্লেখ করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান যুগে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ, তাই ডেটা যাচাই এবং ডাবল চেকিং সিস্টেম আরও শক্তিশালী হওয়া দরকার। এক শিক্ষাবিদ মন্তব্য করেন, “৩৮ হাজার শিক্ষার্থীর তথ্য ভুল হওয়া খুবই গুরুতর। এটি শুধুমাত্র লজিস্টিক সমস্যা নয়, শিক্ষার্থীদের মানসিক ও সামাজিক সম্মানেও প্রভাব ফেলে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ভুল রোধে সফটওয়্যার ও মানব সম্পৃক্ত প্রক্রিয়া উন্নত করা আবশ্যক।” সমাধান ও পরবর্তী পদক্ষেপ বরিশাল শিক্ষা বোর্ড ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে, শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন কার্ড সংশোধন করতে পারবে। সংশোধিত কার্ড পুনঃমুদ্রণ করা হবে এবং শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়ায় বোর্ডকে ফিনান্সিয়াল ও অপারেশনাল দায়ভার গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া, বোর্ডকে ভবিষ্যতের জন্য তথ্য যাচাই ব্যবস্থার শক্তি বাড়াতে হবে, যাতে একই ধরনের ভুল আর না ঘটে। শিক্ষকরা এবং অভিভাবকরা আশা করছেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে এবং নির্ভুল তথ্য নিশ্চিত করতে বোর্ড দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি রেজিস্ট্রেশন কার্ড বিতরণের সময় ধরা পড়া লিঙ্গ ভুল শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার একটি বড় উদাহরণ। প্রায় ৩৮ হাজার শিক্ষার্থীর ভুল তথ্য শুধরানো হচ্ছে, কিন্তু এই ঘটনা শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রভাব এবং প্রক্রিয়াগত ত্রুটির গুরুত্ব স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে। শিক্ষাব্যবস্থা এখন দায়িত্বশীলভাবে নিশ্চিত করতে হবে যে, ডিজিটাল ডেটা সঠিকভাবে যাচাই এবং পুনঃমূল্যায়ন করা হচ্ছে, এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা আর কখনও এই ধরনের ভুলের শিকার হবে না।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপ-উপাচার্য এবং কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহানের বিরুদ্ধে সাইটেশন জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, উপ-উপাচার্য হওয়ার প্রাক্কালে তিনি গুগল স্কলারে নিজের প্রোফাইলে অন্য গবেষকদের প্রবন্ধ যুক্ত করেছিলেন। ফলে তার সাইটেশন সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে প্রায় দুই হাজারে পৌঁছায়। পরে উপ-উপাচার্য পদে নিয়োগের পর তার পূর্বের প্রোফাইলটি গুগল স্কলার থেকে মুছে যায় এবং বর্তমানে বিদ্যমান প্রোফাইলে মাত্র ৩২৬টি সাইটেশন দেখা যাচ্ছে। গবেষণা জগতে একজন গবেষকের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাব মাপার অন্যতম সূচক হলো সাইটেশন সংখ্যা। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ, পদোন্নতি কিংবা গবেষণা অনুদান নির্ধারণে এই সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে সাইটেশন বৃদ্ধি করতে কৃত্রিম পন্থা গ্রহণের অভিযোগও নতুন নয়। মূলত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) উপ-উপাচার্য এবং উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক বেলাল হোসাইনের বিরুদ্ধে সাইটেশন জালিয়াতির বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রচারের পরই অধ্যাপক হেমায়েত জাহান নিজের প্রোফাইল থেকে অন্য গবেষকদের প্রবন্ধ সরিয়ে নেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষকতার পাশাপাশি ভালো গবেষককে অগ্রাধিকার দিয়েছিল। সে সময় উপাচার্য হওয়ার প্রয়াসে অধ্যাপক হেমায়েত জাহান কৃত্রিম পন্থায় নিজের প্রোফাইলে অন্য গবেষকের প্রবন্ধ যুক্ত করে সাইটেশন সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করেন। ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর গুগল স্কলারে তার সাইটেশন সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯৬০। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যমান প্রোফাইলে মাত্র ৩২৬টি সাইটেশন দেখা যাচ্ছে। জানা যায়, গুগল স্কলারের প্রোফাইল গবেষকরাই পরিচালনা করেন এবং প্রবন্ধগুলো নিজ উদ্যোগে যুক্ত করতে হয়। অভিযোগ উঠেছে, নামের মিল থাকা বিভিন্ন দেশের গবেষকের প্রবন্ধ ড. হেমায়েত জাহানের প্রোফাইলে যুক্ত করা হয়েছিল। সে ক্ষেত্রে অধ্যাপক এস এম হেমায়েত জাহান তার সাইটেশন জালিয়াতির জন্য অস্ট্রেলিয়ান গবেষক Sayka Jahan (S Jahan)-এর বেশিরভাগ গবেষণা প্রবন্ধ নিজের প্রোফাইলে আপলোড করেছিলেন। এসব সাইটেশনের ভিত্তিতেই তিনি ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান এ বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় ঘটনাটিকে “অটোমেটিক পদ্ধতির ফল” হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের কারণেই হয়তো অতিরিক্ত সাইটেশন যুক্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে অন্যান্য গবেষকদের নাম নজরে এলে বিষয়টি সংশোধনের উদ্যোগ নেই।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, “দীর্ঘ সময় ধরে আমি প্রোফাইলে সাইটেশন বৃদ্ধির বিষয়টি খেয়াল করিনি তাই এভাবে অন্যের আর্টিকেল যুক্ত হয়ে গিয়েছিল” বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অধ্যাপক ড. মো. গুলজার হোসেন বলেন, “গুগল স্কলার অটোমেটিক এনাবল করে রেখে অনেকেই অন্যের আর্টিকেল নিজের প্রোফাইলে যুক্ত করে ফেলেন। কিন্তু এখানে কোনো গবেষক যখনই অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করেন, তখন দেখতে পারেন কারও সাইটেশন যুক্ত হয়েছে কি না। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে আর্টিকেল যুক্ত হওয়ার পর সাজেশনও আসে—সেই আর্টিকেল তার কি না। তাই পদ-পদবি পাওয়ার উদ্দেশ্যে অন্যের সাইটেশন নিজের প্রোফাইলে যুক্ত করে রাখা বড় অন্যায়। এসব জালিয়াতির ব্যাপারে গুগল স্কলার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে আইডি বন্ধ করে দেয়।” বিশিষ্ট গবেষক ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ড. এম শহিদুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, “এত কম সময়ে এত বিশাল সংখ্যক সাইটেশন বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। এ ধরনের গবেষকদের আমরা সাধারণত ‘সিউডো সায়েন্টিস্ট’ বলে থাকি। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের ক্যারিয়ার ইভালুয়েশন করা উচিত। যদি কোনো ম্যানিপুলেশনের মাধ্যমে এভাবে সাইটেশন বৃদ্ধি করে কোনো পদ-পদবি পেয়ে থাকেন, তবে সরকারি বিধি মোতাবেক পদাবনতির বিধান রয়েছে।” প্রসঙ্গত, এটি প্রথম নয়—অধ্যাপক হেমায়েত জাহানকে নিয়ে আগেও রয়েছে নানা বিতর্ক। একটি কলেজের প্রাণীবিদ্যার ছাত্র হলেও ২০০৬ সালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তবে প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী তিনি কীটতত্ত্ব বিভাগে আবেদনই করেননি; আবেদন করেছিলেন এগ্রোফরেস্ট্রি বিভাগে। শুধু তাই নয়, রাজনৈতিক প্রভাব ও সুসম্পর্কের জেরে নিয়োগের পরপরই জামায়াতপন্থী উপাচার্য ড. আবদুল লতিফ মাসুমের ব্যক্তিগত সচিব হিসেবেও তিনি নিয়োগ পান। বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তিনি ২০২৫ সালে শিবিরের একটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী কিছু শিক্ষক-কর্মকর্তার সঙ্গে মনোমালিন্য ও বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন।
দীর্ঘ পাঁচ বছর পর দেশের অন্যতম প্রাচীন আইন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বরিশাল ল' কলেজ আবারও পূর্বের নামেই ফিরেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ২৭২তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কলেজটির নাম পুনরায় পরিবর্তন করে ‘বরিশাল ল' কলেজ, বরিশাল’ রাখা হয়েছে। সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৯২তম একাডেমিক কাউন্সিল সভায় কলেজের নাম পরিবর্তন করা হয়েছিল ‘শহীদ অ্যাডভোকেট আবদুর রব সেরনিয়াবাত আইন মহাবিদ্যালয়’ নামে। ওই বছরের ১৮ মার্চ কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে নাম পরিবর্তনের জন্য পাঁচ লাখ টাকা ফি সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর জমা দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বরিশাল ল' কলেজ দীর্ঘদিন ধরে বরিশালে আইন শিক্ষা বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। এই কলেজ থেকে আইনের উচ্চমানের শিক্ষা লাভ করে শত শত আইনজীবী, বিচারক ও সমাজকর্মী দেশব্যাপী আইন-আদালত ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে এই নতুন নাম প্রয়োগে আনন্দ ও উৎসাহ বিরাজ করছে। নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেকই আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন করে পুনরুদ্ধার হওয়া নাম বরিশাল ল' কলেজ প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য বজায় রাখবে ও ভবিষ্যতে আরও মসৃণ অ্যাকাডেমিক পরিবেশ গড়ে তুলবে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়–এর কল্যাণ তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম–এর দিকে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নীতিমালার যথাযথ অনুসরণ না করে নিজের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের কল্যাণ তহবিল থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন উপাচার্য। এ নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কল্যাণ তহবিলের উদ্দেশ্য কী? সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফান্ড মূলত কর্মরত, অবসরপ্রাপ্ত ও মৃত সরকারি কর্মচারী (এবং তাদের পরিবার)-এর আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গঠিত। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এই তহবিলের মাধ্যমে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের— গুরুতর অসুস্থতায় চিকিৎসা সহায়তা দুর্ঘটনা বা মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ বিশেষ অনুদান প্রদান করা হয়ে থাকে। নীতিমালা অনুযায়ী— গুরুতর অসুস্থতায় চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা চরম আর্থিক সংকটে মূল বেসিকের দ্বিগুণ পর্যন্ত সহায়তা চাকুরিরত অবস্থায় মৃত্যু হলে মাসিক ২ হাজার টাকা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ৩ হাজার টাকা লাশ পরিবহনে ২ হাজার টাকা প্রদানের বিধান রয়েছে। কারা কত টাকা নিয়েছেন? সম্প্রতি প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কয়েকজন ডেপুটি রেজিস্ট্রার কল্যাণ তহবিল থেকে এক লাখ টাকারও বেশি অর্থ উত্তোলন করেছেন— ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫: আমিনুল ইসলাম টিটু – ১,৪২,০০০ টাকা (মায়ের অসুস্থতা) ১১ জানুয়ারি ২০২৬: শরীফ মেহেদী – ১,১৭,০০০ টাকা (নিজের অসুস্থতা) ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫: আবু বক্কর – ১,৩৩,০০০ টাকা (ছেলের অসুস্থতা) ২৮ মে ২০২৫: মো. শাহজালাল – ১,২৭,০০০ টাকা (সন্তানের অসুস্থতা) বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র দাবি করছে, এরা প্রত্যেকেই বর্তমান উপাচার্যের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। প্রশ্নের মুখে নীতিমালা নীতিমালায় গুরুতর অসুস্থতায় সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা প্রদানের বিধান থাকলেও, একাধিক কর্মকর্তার ক্ষেত্রে লক্ষাধিক টাকা বরাদ্দের বিষয়টি নিয়ম লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন— “স্বচ্ছল ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যদি এভাবে কল্যাণ তহবিলের অর্থ উত্তোলন করেন, তবে তা নৈতিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ভবিষ্যতে যে যার ইচ্ছামতো তহবিল থেকে অর্থ নিতে চাইবে।” অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরকারি বেতন স্কেল ও বিভিন্ন ভাতা মিলিয়ে মাসে প্রায় এক লক্ষ বা তার বেশি টাকা আয় করেন। ফলে তাদের ‘চরম আর্থিক সংকট’ দাবির যথার্থতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কী বলছেন অভিযুক্তরা? অর্থ উত্তোলনকারী কর্মকর্তা শরীফ মেহেদী বলেন— “আমি অনেক আর্থিক সংকটে ছিলাম। যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করেই কল্যাণ তহবিল থেকে অর্থ নিয়েছি। প্রয়োজনে অর্থ ও হিসাব শাখায় যোগাযোগ করতে পারেন।” উপাচার্যের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন— “আমি যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী কল্যাণ তহবিলের অর্থ বরাদ্দ দিয়েছি। এখানে কোনো অনিয়ম হয়েছে বলে মনে করি না। তারা লিখিত আবেদনে চরম আর্থিক সংকটের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তাদের অভ্যন্তরীণ অবস্থা জানা সবসময় সম্ভব নয়।” ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও নীতিমালা পর্যালোচনা না হলে ভবিষ্যতে কল্যাণ তহবিলের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে আরও প্রশ্ন উঠতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা আসেনি।
সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিত না হওয়ায় বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক (ইনসিটু) ডা. সালাহ-আল-দীন-বিন নাসির এবং জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোসার্জারী) ডা. মো. মাহমুদুল্লাহকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। আজ রোববার বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই কৈফিয়ত তলব করা হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আদেশে দুই চিকিৎসককে কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে না-পরবর্তী ২ কর্ম দিবসের মধ্যে জানানোর নির্দেশ ও কৈফিয়ত তলব করা হয়।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : জুলাই আগস্ট আন্দোলনের পেক্ষাপটে বদলে গেছে অনেক কিছু। বিদায় নিয়েছে ফ্যাসিস্ট সরকার। দেশ ছেড়েই পালিয়ে গেছেন ওই সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা। পালিয়ে গেছেন তার অনেক সহযোগী। যারা পালাতে পারেননি তারা রয়েছেন আত্মগোপনে। বর্তমান সরকারের সময় রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সর্বত্র নতুন করে ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে । কিন্তু সরকারের সাড়ে দশ মাসেও পরিবর্তন বা সংস্কারের ছোয়া লাগেনি বরিশালের স্বাস্থ্য বিভাগে। ফ্যাসিবাদি সরকারের প্রায় পুরোটা সময় আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ,সাদিক আব্দুল্লাহ,আমির হোসেন আমু ও পঙ্কজ দেবনাথের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিল বরিশালে চিকিৎসা বানিজ্য সিন্ডিকেট। স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এর নেতারাই মূলত এ সিন্ডিকেটের হয়ে কাজ করতো। কথিত ওইসব নেতারা নিজেরা প্রাইস পোস্টিং নিয়ে যাকে খুশি বদলি, নিয়োগ, পদোন্নতিসহ খেয়াল-খুশিমতো ক্লিনিক,ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রাইভেট ভাবে রোগী ও অপারেশনসহ চিকিৎসা বানিজ্য করতো। স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদের নেতারা কাউকে তোয়াক্কা করতেন না। কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পেত না। কেউ মুখ খুললেই তাকে জামায়াত-শিবির,সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীসহ নানা ট্যাগ দিয়ে বদলি করানোসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হতো। সরকার বদল হলেও এখনো পুরোনা সিন্ডিকেটের শক্ত অবস্থানে নিয়ন্ত্রণ করছেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই স্বাস্থ্য সেবা খাত।সরকার পরিবর্তন হলেও সিন্ডিকেট পরিবর্তন হয়নি।বরিশালে সিভিল সার্জন ও শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ছাড়া সকলেই বহাল তবিয়তে। এখনো ফ্যাসিস্টদের দোসরদের শাস্তি ,বিচার ও বদলী প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারন চিকিৎসক,কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তারা বলেছেন এখনো দোসররা বহাল থাকায় এটা বর্তমান সরকারের অযোগ্যতা ,অদূরদর্শিতা, অক্ষমতাও বলা যায়। জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরুদ্ধে যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন তারা এখনও কিভাবে বহাল তবিয়তে থাকে এ প্রশ্ন সচেতন মহলের। বিগত ১৬ বছরে যারা পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের এখন পদোন্নতি দেয়া হয়নি।কারো কারো দেয়া হলেও অদ্যাবধি পদায়ন হয়নি অধিকাংশের। এদিকে বরিশালের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে নীরব অস্থিরতা বিরাজ করছে। এতে স্বাস্থ্য সেবায় স্বাভাবিক কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন ১৬ বছরের সুবিধাভোগী, পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার অন্ধ সমর্থক ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠরা। তারাই প্রশাসনের যাবতীয় কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে কৌশলে বাধা সৃষ্টি করছেন। বিগত সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক আছেন এখনো বহাল তবিয়তে। ফ্যাসিস্ট সরকারের সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্তদের মধ্যে অন্যতম বরিশালের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল। বরিশালে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক পদে যোগদান করেন ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর।যোগদানের পরেই ফ্যাসিস্ট ও ফ্যাসিস্টদের দোসরদের বাদে সকলকে বদলীসহ হয়রানী শুরু করেন। ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল নিজেকে স্বাচিপের উপদেস্টা হিসেবে পদোন্নতি পেতে কোন সমস্যা হয়নি।বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক হওয়ার পুর্বে তিনি বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারি পরিচালক (প্রশাসন) পদে দ্বায়িত্বে ছিলেন।ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল প্রতিটি জেলায় সিভিল সার্জন অফিসসহ স্বাস্থ্য বিভাগে ঘুষের বাজার খুলে বসেন।নিয়োগ দেন এক একজন দালাল।দালালদের মাধ্যমে ঘুষ আদায় করেন।৫ আগষ্টের পরে ব্যাপক তদবীর করে এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন বরিশালে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক পদে। বর্তমানে বরগুনা,গলাচিপাসহ বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রকোপ চলছে। অথচ স্বাস্থ্য বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়ায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার বেড়েই চলছে। বরিশাল বিভাগের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর অবস্থা এখন চরম সংকটে। চিকিৎসকসহ জনবল সংকট, যন্ত্রপাতি বিকল, অনুন্নত অবকাঠামো এবং অব্যবস্থাপনায় খুড়িয়ে খুড়িয়ে কোনো রকমে চলছে এগুলো। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ খরচে বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে স্থানীয়দের। এতে ক্ষোভ বাড়ছে তাদের। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় মোট ৪১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। তবে, এসব কমপ্লেক্সে চিকিৎসক পদায়ন রয়েছে চাহিদার অর্ধেকেরও কম। মোট ১২৫৪টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে ৫৭১ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন, যা মাত্র ৪৫%। বরিশাল বিভাগে ১১০০টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে।অধিকাংশ কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ। কার্য্যক্রম চলে বাসা বাড়িতে বসে।দেখাভাল না করায় অকার্যকর এখন কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো। স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান,বরিশালের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশা যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তবে সবার কাছে স্বাস্থ্যসেবার প্রতি আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বরিশাল বিভাগের অসংখ্য উপজেলা হাসপাতালে অপারেশন কার্য্যক্রম বন্ধ,বিভাগ জুড়ে অনিবন্ধিত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধে নেই কোন পদক্ষেপ ।দ্রুত সময়ে অযোগ্য ও ফ্যাসিস্টের দোসর দলবাজ ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডলকে বদলী না করা হলে ডেঙ্গু ও করোনা রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রমে উন্নতি হবেনা বলে মন্তব্য করেছেন একাধিক চিকিৎসকরা। ফ্যাসিস্ট সরকারের সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্তদের অন্যতম বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজের অর্থপেডিক্স বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ও হাসপাতালের অর্থপেডিক্স বিভাগের গুরুত্বপুর্ন দ্বায়িত্বে রয়েছেন ডাঃ মোঃ ফেরদৌস রায়হান (কোড নং ১০০৫১৩৪)।তিনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী ডাক্তারদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এর ঝালকাঠি শাখার পুর্নাঙ্গ কমিটির কোষাধ্যক্ষ । আমির হোসেন আমুর দাপট দেখিয়ে তিনি একই কর্মস্থলে যুগ পার করছেন।তিনি ২০১৫ সালের ১৮ মার্চ আমুর সুপারিশে রেজিষ্টার থেকে জুনিয়র কনসালট্যান্ট পদে পদোন্নোতি পেয়েছেন।এর পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তার।তাকে অন্য কোথাও বদলী হতে হয়নি।আমুর ছোয়ায় একের এক পদোন্নতি লাভ করেন।তার কর্মস্থল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল রেখে প্রাইভেট প্র্যাক্টিসে ব্যস্ত থাকেন সব সময়।চেম্বার করেন বরিশালের পপুলার ডায়াগনস্টিক হাসপাতালে আর রোগীদের অপারেশন করেন ডায়াবেটিকস হাসপাতালে।শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাইন বোর্ড ব্যবহার করে প্রাইভেট চিকিৎসা বানিজ্য করে দু হাতে কামাই করছেন টাকা।লাখ লাখ টাকা মাসে আয় করলেও আয় অনুযায়ী ভ্যাট ও ট্যাক্সের খাতা প্রায় শূন্য। ইতিমধ্যে বরিশাল নগরীর কালুশাহ সড়কের মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় সাড়ে ৬ তলা ভবনের নির্মান কাজ শেষ করেছেন।এখন ভবনে চলছে রংয়ের কাজ।জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ গড়েছেন বরিশাল থেকে ঢাকা।ঢাকায় ফ্লাটও ক্রয় করেছেন নামে বেনামে।সরকারি পদ পদবীকে বানিয়েছেন আলাদিনের চেরাগ।অবৈধ সম্পদ,টাকা আর বাড়ি গাড়িতে ফুলে ফেপে উঠেছেন তিনি।কাউকে তিনি থোরাই কেয়ার করেন না। রোগী ধরা দালাল পোষেন তিনি।দালাল ও প্রাইভেট প্র্যাক্টিস করে আজ শত শত কোটি টাকার মালিক। এক যুগ ধরে একই কর্ম স্থলে থাকার সুবাদে দালাল নির্ভর ডায়াগনস্টিক সেন্টার ,ক্লিনিক ও দালালদের মাধ্যমে রোগী সংগ্রহ করে অপারেশন করেন। দীর্ঘ সময় একই কর্মস্হলে চাকরীর নেপথ্যে রয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহারও বিধিবহির্ভূত কর্মকান্ড। কয়েকবার বদলীর আদেশ আসলেও প্রতিবারই বিচক্ষণতায় তা ঠেকানোর দুঃসাহস দেখিয়েছেন তিনি।এভাবেই অবৈধ টাকা অর্জনে অনেক দুর এগিয়ে গেছেন ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের অন্যতম ডোনার ও দূর্নীতির এই স্বপ্নবাজ। ডাঃ ফেরদৌস রায়হানের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমান অর্থ,ব্যাংকে এফডিআর এবং নামে বেনামে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এ যেন আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়েছেন। একের পর এক বেরিয়ে আসছে ডাঃ ফেরদৌস রায়হানের অবৈধ সম্পদের খবর। একজন সরকারি ডাক্তার হয়ে তিনি কীভাবে এত সম্পদের মালিক হয়েছেন, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ডাঃ ফেরদৌস রায়হানের অবৈধ সম্পদ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান করলেই শত শত কোটির চেয়েও বেশী সহায় সম্পদের তথ্য প্রকাশ পাবে যা জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ। ফ্যাসিস্ট সরকারের সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্তদের আরেক ডন ডাঃ সুদীপ হালদার। বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আউটডোর ডক্টরস এ্যাসোসোসিয়েশনের সভাপতি,আওয়ামী পন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাচিপ এর বরিশালের সাধারন সম্পাদক, আওয়ায়ামীলীগ নেতা ,সাবেক মেয়র সাদিকের ডানহাত ও ‘র ‘ এর এজেন্ট পরিচয়ে ডাঃ সুদীপ হালদারের আঙ্গুলের ইশারায় চলতো শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ ও শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।সুদীপের কথাই ছিলো শেষ কথা। ৫ আগষ্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও ৩ আগষ্ট সুদীপের অর্থায়নে ও নেতৃত্বে শান্তিকামী চিকিৎসক ও নার্স সমাজ বরিশালের ব্যানারে নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন জামায়াত -শিবির ও বিএনপির সন্ত্রাসী কর্মকান্ড…..শিরোনামে শান্তি সমাবেশ করে। এতে অংশ নেয় স্বাচিপের নেতা ও তাদের সমর্থক নার্স সমাজ।সুদীপ হালদার শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সৃষ্টি করেছিল এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি।৫ আগষ্টের পরে আত্মগোপনে থাকলেও পরে ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় আবার স্বরুপে ফিরেছেন এই ডন। ক্ষমতা প্রয়োগ করে রোগীদের থেকে হাতিয়ে নিতেন বিপুল অর্থ আর তার এই কর্মকান্ড নির্বিঘ্নে করার জন্য তার অধীনস্ত ডাক্তার এবং চথুর্ত শ্রেনীর কর্মচারীদের নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন একটি সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট অর্থোপেডিক্স অপারেশনে ব্যবহৃত প্লেট স্ক্রু যা রোগীরা নগদ অর্থে ক্রয় করে তার অতিরিক্ত দাম ধার্য করতে সরবারহকারীদের বাধ্য করে সেই থেকে অর্থ আত্মসাত করেন। এছাড়া অপারেশনের সিরিয়াল নিয়েও চলে বানিজ্য। এমনকি হাসপাতাল থেকে রোগী বের করে প্রাইভেটে অপারেশন করার বিষয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অতি পুরানো। এ অভিযোগ এতটাই ব্যপক ছিল যার কারনে বিগত ফ্যাস্টিস্ট সরকারের স্বাস্থ্য সচিব পর্যন্ত প্রকাশ্য মিটিংয়ে এই অভিযোগ তুলেছিলেন। তার দূর্নীতির চক্রের বিরুদ্ধে গেলেই শারিরীক এবং মানসিক হামলার শিকার হতে হয়। বাদ যায়নি চিকিথসকগনও।সাগরদীতে পাচঁ তলা ভবন,ঢাকায় ফ্লাটসহ নামে বেনামে গড়েছেন সম্পদ। জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদের পরিমান ছাড়িয়েছে শত কোটির ওপরেও। তিনি ভ্যাট ও ট্যাক্স ফাঁকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করলেই বেড়িয়ে আসবে অবৈধ ভাবে গড়ে তোলা সহায় সম্পদের পাহাড়।এছাড়া ডাঃ সুদীপের বিরুদ্ধে নারী ও মদ্যপ পানের অভিযোগ রয়েছে। প্রঙ্গত উল্লেখ্য, মেডিসিন এর ডা. মাসুদ খান ল্যাব বানিজ্য ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় শেবাচিম প্যাথলজির ডা.আশিষ যিনি সুদীপ হালদারের সদস্য তাই ক্ষেপে যান। যার ফলে ডা সুদীপের নির্দেশে তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতারা ডা মাসুদ এর ইসলামী লেবাস কে ইস্যু করে জামাত শিবির ট্যাগ দিয়ে শহীদ আবরার এর মত রুমে আটকে হামলা চালায় যাতে ডা.মাসুদ এর কান এর পর্দা ফেটে যায়। এহেন ভয়ংকর চরিত্রের ডাঃ সুদীপ হালদার ৫ আগষ্ট সরকার পতন ঘটলে গা ঢাকা দিলেও আবার ফিরে আসে।যারপর নাই দুর্নীতি অনিয়ম তা সবই করেছেন এই গডফাদার ডাঃ সুদীপ হালদার।সকল প্রকার প্রমানাদী থাকার পরেও কেন কিভাবে বহাল তবিয়তে রয়েছেন সুদীপ হালদার এসব বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহনকারী ছাত্র জনতা। এছাড়া শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাচিপ নেতা ডাঃ সৌরভ সুতার,ডাঃ মাশরেফুল ইসলাম সৈকত,এফ আর খানসহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৩ আগষ্ট শান্তিকামী চিকিৎসক ও নার্স সমাজ বরিশালের ব্যানারে নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন জামায়াত -শিবির ও বিএনপির সন্ত্রাসী কর্মকান্ড…..শিরোনামে শান্তি সমাবেশ করে। তাদের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানো সহ সরকার বিরোধী কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে। দ্রুততম সময়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের ঘনিষ্ঠজন ও স্বাচিপ নেতাদের বিষয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন নিয়ে বদলী ও অপসারনের দাবী জানিয়েছেন সাধারন ডাক্তার,কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) ঘিরে আবারও বিতর্কের ঝড় উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সুবিধাভোগী ও দমন-পীড়নে জড়িত একাধিক কর্মচারী এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন। কেউ কেউ রাজনৈতিক ভোল পাল্টে বিএনপি বা জামায়াতপন্থী পরিচয় ধারণ করলেও বাস্তবে আগের প্রভাব-প্রতিপত্তি অটুট রয়েছে বলে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। হাসপাতাল সূত্র জানায়, সম্প্রতি চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়নের একটি কমিটি অনুমোদনের লক্ষ্যে একটি মহল বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার-এর দ্বারস্থ হয়। তাদের অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আপত্তি থাকায় তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে তারা বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লা-এর মাধ্যমে কমিটি অনুমোদন করান। অভিযোগ রয়েছে, কমিটির শীর্ষে দু-একজন বিএনপিপন্থী থাকলেও অধিকাংশ সদস্যই ঘোর আওয়ামীপন্থী। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ওয়ার্ড মাস্টার মশিউল আলম মল্লিক ওরফে ফেরদৌস। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ১ মার্চ ঔষধ চুরির সময় যৌথবাহিনীর হাতে আটক হন তিনি। এ ঘটনায় তৎকালীন উপ-পরিচালক ডা. সুভাষ দাশ কোতোয়ালি থানায় এজাহার (নং-৩২৫৯/০৭) দায়ের করেন। সেখানে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকার ঔষধ চুরির অভিযোগ উল্লেখ ছিল। তবে পরবর্তীতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ-এর হস্তক্ষেপে অভিযোগ থেকে রেহাই পান বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া ২০২১ সালে করোনা ওয়ার্ড থেকে ১০০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার চুরির অভিযোগও ওঠে ফেরদৌসের বিরুদ্ধে। তৎকালীন সহকারী পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান শাহীনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তদন্তে সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললেও বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ-এর হস্তক্ষেপে তা আলোর মুখ দেখেনি। হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, মন্ত্রণালয় থেকে একাধিকবার বদলির আদেশ এলেও তা কার্যকর হয়নি। বরং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার অব্যাহত ছিল। জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনাতেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ৩ আগস্ট চৌমাথা এলাকায় বিএনপি নেতা জিয়া শিকদারের ওপর হামলার সময়ও তাকে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওয়ার্ড মাস্টার মশিউল আলম ফেরদৌস। তিনি বলেন, “আমাকে যৌথবাহিনী আটক করেছিল, এটা সত্য। তবে মামলায় আমি খালাস পেয়েছি। আমার বিরুদ্ধে আনা অন্যান্য অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” তিনি অভিযোগগুলো তদন্তের দাবি জানান। এ বিষয়ে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) বরিশাল জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও শেবাচিম হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আব্দুল মোনেম সা’দ বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর বলেন, “বিতর্কিত কয়েকজনের ডিউটি পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে জনবল সংকট থাকায় তাদের দিয়েই সেবা চালাতে হচ্ছে। ডিজি হেলথ থেকে জনবল পরিবর্তন করা হলে সেবার মান আরও উন্নত হবে।” হাসপাতাল ঘিরে এ ধরনের অভিযোগ জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে বিতর্কিত ব্যক্তিরা কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল থাকেন—সে বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
চিকিৎসার জন্য শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর দক্ষিনাঞ্চলের কোটি মানুষের নির্ভরতা। বরিশালসহ খুলনা বিভাগের একাংশ ও ঢাকা বিভাগের ফরিদপুর মাদারীপুর,গোপালগঞ্জের মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান এটি। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করছে সবচেয়ে পুরনো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি। অথচ এই হাসপাতালের রোগীসেবায় কেউ সন্তুষ্টি নন ।কোনো কাজে আসছে না গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত কোনো রোগী।এখানে ভর্তি করা হলে ঢাকা মেডিকেল বা বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে প্রেরন করা হয়। অভিযোগ পাওয়া গেছে, অস্ত্রোপচারের জন্য রোগীদের মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়। অধিকাংশ যন্ত্রপাতি বিকল থাকায় কম মূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা সুবিধা পাচ্ছে না রোগীরা। আছে অনিয়ম-দুর্নীতি এবং দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যও। হাসপাতালের সর্বত্রই ময়লা-আবর্জনা। তবে সেবা পেতে রোগীর ভোগান্তি সব কিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। একাধিক রোগী ও রোগীদের স্বজনরা ইত্তেহাদ নিউজকে জানিয়েছেন, এখানে হাসপাতালে সেবা পেতে পদে পদে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনিয়ম যেখানে নিয়মে পরিনত, অসভ্যতাই যেখানে সভ্যতা, নোংড়াই যেখানে পরিচ্ছন্নতা! রোগী, স্বজন যেখানে জিম্মি, বর্তমান আলোর পৃথিবীতে এক ভয়ানক অন্ধকার জগতের নাম দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম বরিশালের শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। রোগী ভর্তি থেকে শুরু হয় নানান রকম হয়রানী আর বিরম্বনা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও জরুরি বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে ক্যাজুয়ালটি বিভাগটি পুরোপুরি চালু করা যাচ্ছে না। জরুরি বিভাগ থেকে আহত রোগীদের ক্যাজুয়ালটি বিভাগে না পাঠিয়ে অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, একশ্রেণীর দালাল চক্রের সঙ্গে জরুরি বিভাগের কর্মচারীদের সিন্ডিকেট রয়েছে। কমিশনের বিনিময়ে জরুরি বিভাগ থেকে রোগী ভাগিয়ে তারা প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিকে নিয়ে যায়।কর্মকর্তা কর্মচারীদের স্বেচ্ছাচারীতা, কর্তব্যে অবহেলার কারনে জটিল ধাধায় পরে যায় আগত সাধারন রোগী ও স্বজনরা। আয়া বুয়াদের দাপট আর আচরণ এতটাই জঘন্য। এমনকি ঝাড়ু নিয়েও আক্রমন করতে দেখা গেছে স্বজনদের উপর। কেউ প্রতিবাদ করলেই যেনো তাকে বিপদে পরতে হয়, ভিমরুলের দলের মত সব দলবদ্ধ হয়ে ঝাপিয়ে পরে। এতো গেলো আয়া বুয়া ক্লিনারদের কথা।সিস্টার নার্স আর ডাক্তার, তারাতো বাংলার নবাব। কোন বিষয় কথা বলতে গেলেই ধমকের সুরে কথা বেড়িয়ে আসে তাদের মুখ থেকে। রোগী যখন সংকটময় অবস্থা তখন দশবার ডেকেও তাদের পাওয়া যায়না। তাদের অবহেলার কারনে শিশু মারা গেছে নবজাতক শিশু ওয়ার্ডে। স্বজনদের অভিয়োগ ডাক্তার যদি একটু কেয়ার করত তবে হয়ত শিশু তিনটি বেচে যেতো। এর কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে হুমকি-ধামকি দিয়ে নাজেহাল করে দেয় তারা। সাংবাদিক পরিচয় দিলে, হুমকী দিয়ে বলা হয়, এটা সরকারী হাসপাতাল, ডাক্তারদের ক্ষমতা অনেক, আপনি যা পারেন করেন গিয়ে। শিক্ষিত ডাক্তারদের এমন অশালীন দৃষ্টতাপূর্ণ আচরনে হতবাগ হয়ে পরে উপস্হিত জনতা। পরিচ্ছন্নতার কথা আর কি বলব, এক কথায় সমগ্র হাসপাতালটি একটি নোংড়া দূর্গন্ধময় ভুবন। বেশিরভাগ বাথরুমের নেই কোন দরজা, পানি ব্যাবহারের ব্যবস্থাও নেই বেশিরভাগ বাথরুমে, নানা অব্যাবস্থাপণা, অনিয়নম আর সেচ্ছাচারীতায় এমন বৃহত্তর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি এখন কতিপয় অমানুষ আর হায়েনার রাজ্যে পরিনত হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবী, লাখো মানুষের সেবায় নিয়োজিত এই মহা স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি নিয়ম ও সভ্য আচরণে ফিরে আসবে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের। ডিউটি রেখে ব্যক্তিগত ক্লিনিকে সময় দেন চিকিৎসকরা : সরকারি ডিউটি রেখে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা ব্যক্তিগত ক্লিনিকে সময় দেন। এর ফলে সরকারি চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা পড়েন চরম ভোগান্তি ও বিড়ম্বনায়। হাসপাতাল ময়লার ভাগাড়: বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল হাসপাতালের মানসিক বিভাগের পাশের এ খোলা জায়গাতে চিকিৎসা বর্জ্য ফেলছে কর্তৃপক্ষ। রাতে সিটি করপোরেশন এসব ময়লা অপসারণ করলেও দিনভর পাখি, কুকুর, বিড়াল এসব বর্জ্য চারদিকে ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণ করছে। হাসপাতালের মূল ভবনের পাশেই ময়লার ভাগাড় গড়ে তোলায় চিকিৎসা নিতে এসে বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের।রোগীর স্বজনরা জানান, মানসিক বিভাগের পাশে ময়লার ভাগাড় করায় কোনোভাবেই চিকিৎসা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। উল্টো রোগীর সঙ্গে এসে নিজেরাই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানান তারা।এদিকে চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দুদফা চিঠি ও বৈঠক করেও কোন সুরাহা করতে পারেনি পরিবেশ অধিদফতর।বরিশাল জেলা পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক বলেন,‘দ্রুত এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নিলে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে। আমরা বারবার তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বিষয়টি দুঃখজনক।’তবে দ্রুত ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানের কথা জানিয়ে হাসপাতাল পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা গণপূর্ত বিভাগের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালে ২ টি জায়গা নির্ধারণ করেছি। দ্রুত এই দুই জায়গায় ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।’১৯৬৮ সালে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর ৫৫ বছরেও তৈরি করা হয়নি ডাম্পিং স্টেশন। পরিচ্ছন্নতাসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অসন্তোষ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর : হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অডিটোরিয়ামে এক আলোচনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতাল নোংরা থাকবে এবং মানুষ চিকিৎসা সেবা পাবে না-এটা আর গ্রহণ করতে রাজি নই। যারা দায়িত্বে রয়েছেন তাদের কাছ থেকে কাজ বুঝে নিতে চাই– যদি না পারেন তবে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হবে।’ হাসপাতালটির সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অন্য হাসপাতালের তুলনায় এই হাসপাতাল পিছিয়ে আছে। হাসপাতালের বাইরে খারাপ অবস্থা। এখানে চারিদিকে ফুলের গাছ দিয়ে ভরিয়ে দিতে হবে, যাতে মানুষের প্রথম দেখায় ভালো লাগে। এখানে চারিদিকে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার অভাব রয়েছে, হাসপাতালে শীতের মধ্যে মানুষকে শুয়ে থাকতে দেখেছি। এরপরে যখন আসবো এসবের উন্নতি দেখতে চাই।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই হাসপাতালের (শেবাচিম) আগে ক্যান্সারসহ বিশেষায়িত হাসপাতালের কাজ দেখতে গিয়েছিলাম, সেগুলোও অন্যান্য বিভাগের তুলনায় কাজ পিছিয়ে আছে। যারা ঠিকাদার রয়েছেন তাদের বলতে চাই, যে টুকু পিছিয়ে পড়েছে সেটি যেন দ্রুত পূরণ করা হয়, তা নাহলে পেনাল্টিতে পড়তে হবে।’ জানা গেছে, ১৯৭০ সালের ২০ নভেম্বর দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কার্যক্রম শুরু হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে সব ধরনের রোগের চিকিৎসার ইনডোর-আউটডোর সেবা থাকতে হবে। কিন্তু শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চিকিৎসক ও স্থান স্বল্পতার কারণে একাধিক রোগের ইনডোর-আউটডোর সেবা কার্যক্রম চালু ছিল না। বিশেষ করে কার্ডিওলজি (হৃদরোগ) চিকিৎসার বহির্বিভাগ চালু না থাকায় গরিব ও সাধারণ রোগীরা প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। এ অবস্থায় ২০১৫ জানুয়ারিতে এক সভায় স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন কমিটির সভাপতি আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ জরুরি ভিত্তিতে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হৃদরোগ বহির্বিভাগ চালুর নির্দেশ দেন। প্রতিষ্ঠার ৫১ বছর পর ২ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে ভাস্কুলার সার্জারি, কার্ডিওলজি, ইউরোলজি ও গ্যাস্ট্রোএন্ট্রোলজি বহিঃ বিভাগের কার্যক্রম। ববি শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত : শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের বহির্বিভাগে মাকে চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) রসায়ন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত।১৯ জুন বেলা ১১টার দিকে শেবাচিমের নিচতলায় ববি শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। হামলার শিকার সাংবাদিকরা : বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রী র্যাগিংয়ের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় কলেজ অধ্যক্ষের বিচার চাইলেও বিচার পাননি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। বরং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বক্তব্য নেয়ায় সাংবাদিকদের পিটিয়েছেন কলেজের শিক্ষকরা। ২৪ আগস্ট ওই ছাত্রী র্যাগিংয়ের শিকার হন। এ ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহের জন্য শনিবার ২৬আগস্ট সাংবাদিকরা কলেজে গেলে হামলার শিকার হন। কলেজ অধ্যক্ষের কাছে র্যাগিংয়ের বিচার চাইতে যান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। এদিন সময় টেলিভিশনের রিপোর্টার শাকিল মাহমুদ, চিত্র সাংবাদিক সুমন হাসানসহ চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের স্টাফ রিপোর্টার কাওছার হোসেন রানা, বাংলা নিউজ ২৪ এর রিপোর্টার মুসফিক সৌরভ, এশিয়ান টেলিভিশনের রিপোর্টার ফিরোজ মোস্তাফা যান তথ্য সংগ্রহে। এ সময় ভুক্তভোগীর বক্তব্য নেয়ায় সাংবাদিকদের পিটিয়েছেন কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের শিক্ষক ডা. সৈয়দ বাকী বিল্লাহ ও প্যাথলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. প্রবীর কুমার সাহা। র্যাগিং ও হামলা: অভিযুক্তকে দিয়েই গঠন করা হলো তদন্ত কমিটি বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবামেক) হাসপাতালের ছাত্রী হলে র্যাগিং ও সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় ৪ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা করা প্যাথলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক প্রবীর কুমার সাহাকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।রবিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে এই কমিটি গঠন করা হয় বলে জানান উপাধ্যক্ষ জিএম নাজিমুল হক।কলেজের অধ্যক্ষ ডা. ফয়জুল বাশার ঘটনা তদন্তে ৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেন। যার প্রধান করা হয়েছে অধ্যাপক উত্তম কুমার সাহাকে। কমিটির অন্য ৩ সদস্য হলেন- অভিযুক্ত প্রবীর কুমার সাহা, প্রভাষক আনিকা ইসলাম ও জহিরুল ইসলাম। হাসপাতালের কক্ষ ব্যাংকের কাছে ভাড়া : বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শয্যাসংকট সত্ত্বেও নিচতলায় একটি বেসরকারি ব্যাংককে কক্ষ ভাড়া দেয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের পরিচালক সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। আপন ছোট ভাইকে ব্যাংকটির চাকরিতে স্থায়ী করতে এ কাজ করেছেন তিনি।হাসপাতালে শয্যাসংকটে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। বারান্দা, শৌচাগারসহ কোথাও নেই একটুও হাঁটার জায়গা। এমন দুর্ভোগের মধ্যেই হাসপাতালের নিচতলায় একটি বেসরকারি ব্যাংককে ভাড়া দেয়া হয়েছে কক্ষবরিশাল নদী-খাল বাঁচাও আন্দোলনের সদস্যসচিব এনায়েত হোসেন শিপলু বলেন, ‘হাসপাতালের পরিচালক তার ছোট ভাইকে চাকরি দেয়ার সুবাদে হাসপাতালের ভেতর ব্যাংক ভাড়া দিয়েছে। এমন অভিযোগ এখন ওপেন সিক্রেট। হাসপাতালের বাইরে অনেক খালি ভবন রয়েছে। সেখানে ব্যাংক স্থাপন হলেও চলত। হাসপাতালের মেডিসিন ভবনের ভেতর ব্যাংকটি অবিলম্বে সরিয়ে দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি নিয়ম মেনে হাসপাতালের নিচতলায় এক হাজার স্কয়ার ফুট জায়গা ভাড়া দেয়া হয়েছে। প্রতিমাসে ২০ হাজার টাকা ভাড়া আসে সেখান থেকে। আমি কোনো দুর্নীতি করিনি।এ বিষয়ে ভাড়া নেয়া বেসরকারি ব্যাংকটির কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিমাসের ভাড়া নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দিয়ে দেয়া হয়। হাসপাতালের ভেতরে ব্যাংকটি খোলা হয়েছে রোগীদের সেবা দেয়ার জন্যই। আমরা চাই রোগীরা নিরাপদে টাকা-পয়সা লেনদেন করুক।ডা. সাইফুল ইসলামের ছোট ভাই মনির হোসেন বলেন, ‘আমি নিজের যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছি। আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। আমার চাকরির বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আরও ভালো জানে। নার্সদের ঘুমে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত রোগীরা : মধ্যরাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোগী ও স্বজনদের দাবি, সেবা না দিয়ে হাসপাতালের কক্ষে ঘুমিয়ে থাকেন দায়িত্বরতরা। ডাকাডাকি করেও প্রয়োজনে পাশে পান না নার্সদের। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়ার দায়সারা জবাব হাসপাতাল প্রশাসনের। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে রাতে বিছানার চাদর টাঙিয়ে ঘুমাচ্ছেন নার্সরা। দরজার সামনে অপেক্ষায় রোগী ও তাদের স্বজনরা। শুধু মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডেই নয়, এমন অবস্থা হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডে। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, ডাকাডাকি করেও প্রয়োজনের সময় পাওয়া যায় না নার্সদের। রাতে সেবা চাইতে গেলে উল্টো খারাপ ব্যবহার করেন তারা।রোগীরা জানান, ঠিকমতো নার্সরা আসেন না। সেবা তো দূরে থাক, প্রয়োজনের সময় অনুরোধ করেও আনা যায় না তাদের। ডাক্তার আর প্রশাসনের কাছে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি বলে দাবি তাদের। তবে এসব বিষয় অস্বীকার করেন নার্সরা। তারা জানান, রোগীরা যখন আসে তখনই সেবা দেয়া হয় তাদের। পাশাপাশি রাতে রোটেশন অনুযায়ী সেবা দেয়া হয় রোগীদের। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দৈনিক গড়ে রোগী ভর্তি থাকেন ২ হাজার। আর তাদের সেবা দিতে বর্তমানে নার্স আছেন ৯৪৬ জন। বছরজুড়ে কার্ডিয়াক বিভাগের এসি বিকল, গরমে রোগীদের ভোগান্তি এক বছর ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিভাগের সব শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মেশিন। একে তো চলছে তীব্র দাবদাহ, তার ওপর মাত্র ৪৩টি শয্যার বিপরীতে রোগী থাকেন প্রায় দ্বিগুণ। কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ রোগী ও তাদের স্বজনরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, দফায় দফায় চিঠি চালাচালি করেও সমাধান মিলছে না। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, কার্ডিওলজি বিভাগে তারা বেড না পেয়ে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ওয়ার্ডে শয্যার চেয়ে রোগী বেশি। বাইরে প্রচণ্ড গরম। ভেতরে মানুষ ঠাসাঠাসি। এসি না থাকায় তাদের খুব সমস্যা হচ্ছে। চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সিসিইউ ও পিসিসিউতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা। কার্ডিওলজি বিভাগে শয্যা সংখ্যা ৪৩টি। কিন্তু রোগী প্রায় দ্বিগুণ। মেঝেতে শুয়েও নিতে হয় চিকিৎসা।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সিসিইউতে থাকা ১০টি, পিসিসিউর ৮টি, ইকো ও ইটিটি কক্ষে ১টি করে মোট ২০টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মেশিনের সবই বিকল। দফায় দফায় চিঠি চালাচালি করেও সমাধান মিলেনি বলে জানান পরিচালক।বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে থাকা ২০টি এয়ার কন্ডিশনই ব্যবহার অনুপযোগী। বিভিন্ন দফতরে লিখিত জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি।’ তবে দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত বিভাগের দাবি, রোগীদের কষ্ট লাঘবে দ্রুত উদ্যোগ নেয়া হবে। বরিশাল গণপূর্ত মেডিকেল কলেজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল) মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব এ সমস্যার সমাধান করা হবে। যাতে করে রোগী ও স্বজনদের কষ্ট লাঘব হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ ৫০০ শয্যার হাসপাতালটিতে দৈনিক গড়ে ২ হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। আর প্রতিদিন বহির্বিভাগে সেবা নেন তিন হাজার রোগী। শয্যা সংকট, মেঝেতেই চলছে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠার ৫৪ বছরেও স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়নি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। অত্যাধুনিকসব যন্ত্রপাতি থাকলেও অধিকাংশই বিকল। ভোগান্তির অপর নাম শয্যা সংকট। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও সমস্যার সমাধান না পাওয়ার আক্ষেপ খোদ হাসপাতালের পরিচালকের। শয্যা সংকটে মেঝেতেই চলছে চিকিৎসাসেবা। ৫৪ বছর আগে নির্মাণ করা হাসপাতালটির ভবনের অবস্থাও জরাজীর্ণ। খসে পড়ছে পলেস্তারা। পানি সংকট ভোগান্তি আরও বাড়িয়েছে। রোগীদের সঙ্গে খারাপ আচরণেরও অভিযোগ রয়েছে নার্সসহ হাসপাতালের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।দীর্ঘদিন ধরে বিকল এমআরআই, সিটিস্ক্যানসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র। তাই স্বাস্থ্যের যেকোনো পরীক্ষায় বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোই ভরসা রোগীদের।বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অনেক সময় ইমার্জেন্সি মোকাবিলা করতে পারি না। তবে প্যাথলজি বিভাগে আমরা দুই শিফট চালু করেছি।’ সংকটের বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন মহলে জানিয়েও কোনো সমাধান মিলছে না বলে আক্ষেপ করেন হাসপাতাল পরিচালক। রমরমা ট্রলি বাণিজ্য, বিপাকে রোগীরা : বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবামেক) হাসপাতালে জমে ওঠেছে ট্রলির ব্যবসা। কোনো রোগী টাকা ছাড়া ট্রলিতে উঠতে পারে না। এছাড়া প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির কথা জানে বলেও সরল স্বীকারোক্তি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। তবে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। হাসপাতালে ঢুকতেই ইমারজেন্সি চত্বরে দেখা যায় বেশ কয়েকটা ট্রলি। আর এখানেই ঝগড়া-বিবাদ। হাসপাতালে ট্রলি পেতে এমন বাগ্বিতণ্ডা নিত্যদিনের। ট্রলিতে রোগী উঠলেই গুনতে হয় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, নিচে পরীক্ষা করতে গেলে যার ট্রলি তাকে ১০০ টাকা দেয়া লাগে। এ ছাড়া রোগী সুস্থ হোক বা না হোক, নাশতা খাওয়ার টাকা দিতে হবে।রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, ট্রলিতে আসা-যাওয়াসহ বিছানার চাদর পাওয়া,পরিষ্কার করানো থেকে শুরু করে যে কোনো বিনামূল্যের সরকারি সুবিধা ভোগ করতে টাকা দিতে হয় একদল স্বেচ্ছাসেবক নামধারীদের। আর সরকারি স্টাফরা দুর্ব্যবহার করেন রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে। রোগী ও স্বজনরা বলেন, ২০০ টাকা দিতেই হবে। না হলে তারা এমনভাবে রোগীকে টান দেয় যে রোগীর মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যায়। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করা এসব কর্মী ছড়িয়ে আছেন হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডে। তাদের দাবি, কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই কাজের বিনিময়ে খুশি হয়ে যা দেয় সেটাই তারা নেয়। স্বেচ্ছাসেবকরা বলেন, ‘আমরা জোর করে টাকা নেই না। রোগীকে পৌঁছে দিলে স্বেচ্ছায় কিছু টাকা তারা দেন। সেগুলো নিয়ে থাকি।হাসপাতালের বিভিন্ন শাখায় এসব নামধারী স্বেচ্ছাসেবক আছেন অন্তত ২৫০ জন। চতুর্থ ও তৃতীয় শ্রেণির কর্মী সংকট থাকায় স্বেচ্ছাসেবক নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পানির জন্য হাহাকার : বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চাহিদার অর্ধেকেরও কম পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী, স্বজনসহ কর্মচারীরা। সংকট নিরসনে স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেই বলেও অভিযোগ রয়েছে। লিফটে পানি নিয়ে ওঠা যাবে না। তাই ৫তলা পর্যন্ত সিঁড়ি বেয়ে বালতিতে পানি নিয়ে উঠছেন ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধা। প্রতিনিয়ত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমন চিত্র। শুধু তিনিই নন, পানির নিদারুণ কষ্টে আছেন তিন তলার সার্জারি নারী ওয়ার্ডের চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের পাশে থাকা স্বজনরা। হাসপাতালের প্রতিটি ফ্লোরে পানিসংকটের ভোগান্তি সইতে হচ্ছে তাদের। মাসখানেক ধরে হাসপাতালের আনসার কোয়ার্টারে পানির সংকট পৌঁছেছে চরমে। দিনে দুবার যে পানি দেয়া হচ্ছে, তা-ও আবার ব্যবহার অনুপযোগী। বারবার বলা সত্ত্বেও মিলছে না কোনো স্থায়ী সমাধান। শেবাচিমের আনসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২ ঘণ্টা পানি থাকে; সেটাও দুগন্ধযুক্ত ও ময়লা। এখানে খাওয়ার মতো পানি নেই।প্রতিদিন হাসপাতালে রোগী, স্বজন, চিকিৎসক, নার্স, শিক্ষার্থী, স্টাফ, আনসার ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ৫ থেকে ৬ লাখ গ্যালন পানি ব্যবহারের চাহিদা রয়েছে। অথচ মাত্র দুটি সেন্ট্রাল পাম্পের মাধ্যমে ট্যাঙ্কে পানি উঠানো হয় মোট চাহিদার অর্ধেকেরও কম।বরিশাল গণপূর্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী বলেন, এখানে যে পানি সরবরাহের সিস্টেম; এটা ১৯৬৮ সালে যেভাবে চলত এখনো ঠিক সেভাবে চলছে। কোনো আপডেট করা হয়নি।রোগীদের চাপ বাড়লেও সে অনুযায়ী পানি সরবরাহের সক্ষমতা বাড়েনি। বার্ন ইউনিট বন্ধ, বিপাকে দগ্ধ রোগীরা : যাত্রীবোঝাই লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধদের উদ্ধার করে পাঠানো হয় বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তবে হাসপাতালের বার্ন ইউনিট বন্ধ থাকায় চিকিৎসা চলে সার্জারি বিভাগে। একসঙ্গে এত রোগীকে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। প্রায় ৫ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ। এর ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ নামে লঞ্চে অগ্নিদগ্ধ ৭২ জন রোগী।রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, সার্জারি বিভাগে অগ্নিদগ্ধদের চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেই। ইন্টার্ন চিকিৎসক ও নার্সরাই রোগীদের একমাত্র ভরসা। হাসপাতালটির বার্ন ইউনিট বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন দগ্ধ রোগীরা। সার্জারি ওয়ার্ডের আগে থেকে অনেক রোগী ভর্তি থাকায় দগ্ধদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ২০১৫ সালের ১২ মার্চ হাসপাতালের নিচতলায় আটটি শয্যা নিয়ে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ চালু করা হয়েছিল। বিভাগে আটজন চিকিৎসক ও ১৬ জন নার্সের পদ রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউনিটটি ৩০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। চালু থাকা পাঁচ বছরে প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি রোগী বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিয়েছেন।শেবাচিমের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. এমএ আজাদের রহস্যজনক মৃত্যুর পর ইউনিটটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ধুঁকে ধুঁকে চলছে চিকিৎসাসেবা : বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে রোগ নির্ণয়ের মেশিনগুলোর অর্ধেকেরও বেশি অচল। ব্যক্তি মালিকানার ল্যাবের সঙ্গে হাসপাতালের শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট জড়িত থাকায় বছরের পর বছর পার হলেও সরকারের ডায়াগনস্টিক মেশিন সচল হচ্ছে না। এতে ধারণ ক্ষমতার তিনগুণ বেশি রোগী নিয়ে ধুঁকে ধুঁকে চলছে চিকিৎসাসেবা। বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটির একমাত্র এমআরআই মেশিনটি ২০০৭ সালে চালু হয়। ৯ বছর কোনোমতে চললেও, গত ৬ বছর ধরে বিকল। এছাড়াও হাসপাতলের একমাত্র সিটি স্কান মেশিনটি চালু হয় ২০১৪ সালে। গত ৪ বছর ধরে বন্ধ। আরও জানা গেছে, হাসপাতালের ২২টি ইউনিটি মোট ৪৫০টি মেশিনের মধ্যে পুরোপুরি অচল ৮৫টি আর মেরামতযোগ্য আছে ৭৪টা মেশিন। সচল রয়েছে ২৯১টি। অভিযোগ পাওয়া গেছে, সরকারি মেশিনগুলো যখন অচল, তখন হাসপাতালের আশপাশে একের পর এক গড়ে উঠছে ব্যক্তি মালিকানার ল্যাব। রোগীদের অভিযোগ, সরকারি মেশিন নষ্টের অজুহাত দেখিয়ে বেশি টাকায় বাধ্য করা হয় বাইরের ল্যাবে পরীক্ষা করাতে। এসব ল্যাবের সঙ্গে হাসপাতালের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। অথচ ধারণ ক্ষমতার প্রতিদিন তিনগুণ বেশি রোগী সেবা নেয় এই হাসপাতাল থেকে। অক্সিজেন সিলিন্ডার উধাও : বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) করোনা ওয়ার্ড থেকে ১শ’ অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং ৩০টি সিলিন্ডার মিটার উধাও হয়ে গেছে। এ ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু সন্ধান চালিয়ে উধাও হওয়া কোন সিলিন্ডার উদ্ধার করতে পারেনি তারা। মেডিকেলের স্টোর সূত্র জানায়, করোনা ওয়ার্ডের ওয়ার্ড মাস্টারদের মাধ্যমে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও সিলিন্ডার মিটার সরবরাহ করা হয়। কোন ওয়ার্ডে কতটি অক্সিজেন সিলিন্ডার ও সিলিন্ডার মিটার নেয়া হয়েছে তার তালিকা করা হয়েছে। ওই তালিকা অনুযায়ী বিভিন্ন ওয়ার্ড তল্লাশি করে অন্তত ১শ’ সিলিন্ডার ও ৩০টি সিলিন্ডার মিটারের হদিস পাওয়া যায়নি। নন কোভিড ওয়ার্ডেও সেগুলোর খোঁজ মেলেনি। বিষয়টি পরিচালককে অবহিত করা হলে তিনি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ৮টার অফিসে ১০টায়ও যান না চিকিৎসকরা : দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি দল সকাল সোয়া ৯টায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে গিয়ে বেশিরভাগ শিক্ষককে (চিকিৎসক) অনুপস্থিত পেয়েছেন। পরে ডা. মনিরুজ্জামান শাহিনের কাছে চিকিৎসকদের গত এক সপ্তাহের বায়োমেট্রিক হাজিরা রিপোর্ট দেখতে চাইলে অধ্যক্ষ দিতে অস্বীকার করেন। এ নিয়ে দুদক কর্মকর্তাদের সঙ্গে অধ্যক্ষের বাদানুবাদ হয়েছে।সকাল ৮টায় কর্মস্থলে হাজিরার কথা থাকলেও বরিশাল মেডিকেল কলেজের বেশিরভাগ শিক্ষক ১০টার পরে কর্মস্থলে যান। তাঁরা রাত ২-৩টা পর্যন্ত প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখেন। বিশেষ করে নিউরোলজি মেডিসিনের ডা. অমিতাভ সরকার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় দুদক কর্মকর্তারা মেডিকেল কলেজে অভিযান চালান। এ দিনও এই দুই চিকিৎসককে সকাল সাড়ে ৯টায় কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি।বরিশাল দুদকের সহকারী পরিচালক রাজ কুমার সাহার নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি দল সকাল ৯টার দিকে প্রথমে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যায়। দলের সদস্যরা বহির্বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে পরিচালকের কক্ষে গিয়ে বসেন। সেখান থেকে সকাল সোয়া ৯টায় যান অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামানের কার্যালয়ে। তখন তিনি কক্ষে ছিলেন না। দুদক দল আসার খবর পেয়ে তিনি তড়িঘড়ি করে কার্যালয়ে পৌঁছান। তাঁর কাছে গত এক সপ্তাহের বায়োমেট্রিক হাজিরা রিপোর্ট চাইলে দিতে অস্বীকার করে তিনি দুদক টিমের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়ান। একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, দুদক টিমের ছবি তুলে রাখার হুমকি দিচ্ছেন অধ্যক্ষ। তখন দুদকের এক কর্মকর্তা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয় দিলে অধ্যক্ষ পাল্টা বলেন, ‘আমি উড়ে এসেছি নাকি?’ এর কিছুক্ষণ পর চিকিৎসকরা একে একে অধ্যক্ষের কক্ষে আসা শুরু করেন। তাঁরা সকাল ১০টার দিকে হাজিরা দেন অধ্যক্ষের কক্ষে। সাড়ে ১০টার দিকে দুদক টিম মেডিকেল কলেজ ত্যাগ করে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন : মানববন্ধনে বক্তারা হাসপাতালের ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি, অকেজো যন্ত্রপাতি চালু, লিফট, এসি সচলসহ দালালের দৌরাত্ম্য রোধের দাবি জানান। তারা চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীদের সেবা না পাওয়ারও প্রতিবাদ করেন। আর এ জন্য হাসপাতালে হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশন গঠনের তাগিদ দেন। রেহানা বেগমের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান বক্তা বেসরকারি সংস্থা স্কোপ এর নির্বাহী পরিচালক কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, ‘শেবাচিম হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার কারণে সেবা থেকে রোগীদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। ডেঙ্গু রোগীদের এখানে চিকিৎসা হচ্ছে না। তাদের ঢাকায় রেফার করা দুঃখজনক। এমনটাই যদি করতে হয়, তাহলে বড় বড় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা কি করেন।’ তিনি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশন গঠনের তাগিদ দেন।
ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঈশ্বরগঞ্জ বিশ্বেশ্বরী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়-এর ছয়জন সাবেক শিক্ষার্থী ৪৮তম (বিশেষ) বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি স্ব-স্ব কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। তাদের এই সাফল্যে বিদ্যালয় পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। যারা যোগদান করেছেন ২০০৯ ব্যাচের আনোয়ার রহমান ইমন, ২০১২ ব্যাচের নির্জনা রাউত তন্বী, ২০১৩ ব্যাচের অনন্যা সরকার, ২০১৪ ব্যাচের আনিসুর রহমান রিয়াদ, নিশাত ফারহানা ও জয়িতা দাস—এই ছয় কৃতী শিক্ষার্থী এখন বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের গর্বিত সদস্য। আনিসুর রহমান রিয়াদ নেত্রকোনার মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে যোগ দিয়েছেন আনিসুর রহমান। তিনি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার পুম্বাইল গ্রামের ফজলুর রহমান ও রওশন আরা বেগম দম্পতির ছোট ছেলে। তিনি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। আনিসুর রহমান জানান, স্কুলজীবন শেষ করার আগেই তার বাবা আকস্মিকভাবে ইন্তেকাল করেন। বাবার স্বপ্ন পূরণে তিনি নিরলস পরিশ্রম করেছেন। আজ তিনি সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারলেও তার বাবা এই দিনটি দেখে যেতে পারেননি—এ কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। নিশাত ফারহানা কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে যোগদান করেছেন নিশাত ফারহানা। তিনি পৌর শহরের ধামদী গ্রামের বাসিন্দা, বড়ভাগ হাইস্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. গিয়াস উদ্দিন মাস্টার ও রায়হানা আক্তার দম্পতির কন্যা। তিনি গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। জয়িতা দাস ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেন্টাল সার্জন হিসেবে যোগদান করেছেন জয়িতা দাস। তিনি ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের দত্তপাড়া এলাকার সঞ্জিত কুমার দাস ও বীণা রানী দাসের মেয়ে। তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ-এর ডেন্টাল ইউনিট থেকে বিডিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। অনন্যা সরকার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অনন্যা সরকার। তিনি উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান অমরেশ সরকার ও মাকরঝাপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বন্দনা রানী পাল দম্পতির কন্যা। তিনিও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। নির্জনা রাউত তন্বী হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেন্টাল সার্জন হিসেবে যোগ দিয়েছেন নির্জনা রাউত তন্বী। তিনি ঈশ্বরগঞ্জ পৌর সদরের চরহোসেনপুর গ্রামের হোমিও চিকিৎসক তাপস চন্দ্র রাউত ও প্রতিমা রাণী রাউতের কন্যা। তিনি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ-এর ডেন্টাল বিভাগ থেকে বিডিএস সম্পন্ন করেন। মেয়ের এই সাফল্যে তার বাবা-মা অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত। আনোয়ার রহমান ইমন কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে যোগদান করেছেন আনোয়ার রহমান ইমন। তিনি ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার দত্তপাড়া থানা রোডের মজিবুর রহমান ও মমতাজ রহমানের সন্তান। তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। এর আগে তিনি মেডিকেল অফিসার (মা ও শিশু স্বাস্থ্য) হিসেবে পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডারে কর্মরত ছিলেন। বিদ্যালয়ের প্রতিক্রিয়া বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ কে এম মোস্তফা কামাল বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ের ছয়জন সাবেক শিক্ষার্থী একই বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দেওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এটি আমাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন।” এই সাফল্য শুধু বিদ্যালয়ের নয়, পুরো ঈশ্বরগঞ্জবাসীর জন্য গৌরবের বিষয়। ভবিষ্যতে আরও শিক্ষার্থী যেন এভাবে দেশসেবায় আত্মনিয়োগ করতে পারে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
শহরে অ্যালার্জি রোগের হার গত কয়েক দশকে বেড়েছে। শিশু ও বড়দের মধ্যে নাক বাফ, হাঁপানি, চুলকানি, চোখের লাল ভাব এবং খাদ্য অ্যালার্জি বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক শহরের জীবনধারা, পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন- এ তিনটিই এর মূল কারণ। দূষণ ও শহরের জীবনধারা শহরে গাড়ি, ট্রাফিক ও কারখানার ধোঁয়া, ধুলো ও পলিনের কারণে শ্বাসনালী জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা হয়। ঘরের ভেতরও ধুলো, পোকামাকড়, নরম খেলনা, ভারি পর্দা ও তেলের ল্যাম্প বা ঘ্রাণদ্রব্য শ্বাসনালীকে সংবেদনশীল করে তোলে। অনেক মানুষ এখন দীর্ঘ সময় ঘরে থাকেন, এয়ার কন্ডিশনার বা ফ্যানের নিচে বসে থাকেন। এতে ধুলো ও অ্যালার্জেন জমে যায় এবং সমস্যা বাড়ে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব উচ্চ তাপমাত্রা ও বায়ুর কার্বন ডাই অক্সাইডের বৃদ্ধি উদ্ভিদকে বেশি পলিন উৎপাদনে প্ররোচিত করছে। পলিনের মরশুম দীর্ঘ হচ্ছে, ফলে মানুষের নাক, চোখ ও ফুসফুসে অ্যালার্জি হওয়ার দিন বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে শহরে। কারণ শহরে বৃক্ষের সংখ্যা কম, সেখানে সমস্যা আরও তীব্র। খাবার, স্বাস্থ্য ও জীবনধারা আধুনিক খাবারে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, চিনির বেশি ব্যবহার এবং কম ফাইবার থাকার কারণে খাদ্য অ্যালার্জি বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিশুদের ক্ষেত্রে, কিছু খাবার দেরিতে খাওয়ানোর পদ্ধতিও অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। প্রতিরোধ ও সচেতনতা ডাক্তাররা বলছেন, অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। সেগুলো হলো- • পরিচিত অ্যালার্জেন যেমন ধুলো, পলিন, পশুর লোম বা নির্দিষ্ট খাবার এড়িয়ে চলা। • ধুলোমুক্ত রাখা, বিছানাপত্র নিয়মিত গরম পানি দিয়ে ধোয়া। • বেশি দূষিত বা পলিনের দিন মাস্ক ব্যবহার। • ঘরের ভেন্টিলেশন ঠিক রাখা এবং শীত-গরমের সময় উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া। • গুরুতর অ্যালার্জির ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। এ ব্যাপারে সরকারি উদ্যোগও জরুরি। শহরের বায়ু মান উন্নয়ন, বৃক্ষরোপণ, খোলা জায়গা বৃদ্ধি ও শিল্প দূষণ নিয়ন্ত্রণ করলে ভবিষ্যতে অ্যালার্জির ঘটনা কমানো সম্ভব। শহরের বাসিন্দাদের উচিত নিজের এবং পরিবারের স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় সাবধানতা নেওয়া। তথ্যসূত্র : ওয়ান ইন্ডিয়া।
ছোট পর্দার অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। অভিনয় দক্ষতা আর পর্দার উপস্থিতি দিয়ে অল্প সময়েই দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। নাটকের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ সক্রিয় এই অভিনেত্রী। নিয়মিতই নিজের নতুন ছবি ও মুহূর্ত ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একগুচ্ছ ছবি শেয়ার করেছেন কেয়া পায়েল। ছবিগুলোতে তাকে খোলামেলা এবং আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতিতে দেখা গেছে। অফ-হোয়াইট রঙের এক কাঁধ খোলা পোশাকে ক্যামেরার সামনে বিভিন্ন ভঙ্গিতে ধরা দিয়েছেন তিনি। শেয়ার করা ছবিগুলোতে কেয়া পায়েলকে বেশ খোশ মেজাজে দেখা যায়। কখনও ক্যামেরার দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে, আবার কখনও স্বাভাবিক হাসিতে নিজেকে তুলে ধরেছেন। হালকা মেকআপ, খোলা চুল আর সাদামাটা গয়নায় তার লুক আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। ছবিগুলো প্রকাশের পরই সামাজিক মাধ্যমে ভক্তদের নজর কাড়ে। অনেকেই অভিনেত্রীর সৌন্দর্য ও স্টাইলের প্রশংসা করেছেন। কেউ কেউ মন্তব্যে তার নতুন লুককে ‘গ্ল্যামারাস’ বলেও অভিহিত করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি ফ্যাশন ও স্টাইল সচেতনতার জন্যও পরিচিত কেয়া পায়েল। মাঝে মধ্যেই নতুন লুকে হাজির হয়ে ভক্তদের চমকে দেন তিনি। এবারের ছবিগুলোও তার ব্যতিক্রম নয়। খোলামেলা ভঙ্গি ও আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতিতে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন এই অভিনেত্রী।
চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি এখন ‘ডাস্টবিন’ ছাড়া কিছুই না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। সম্প্রতি একটি পোশাকের দোকানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন এই তারকা। সামাজিক মাধ্যমে দ্রুতই ভাইরাল হয়ে গেছে তার এমন বক্তব্যের ভিডিও। এতে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে পছন্দের পোশাকের রং থেকে শুরু করে নিজের ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত জীবন ও ব্যবসা নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন তিনি। এ সময় ঢালিউডের বর্তমান অবস্থা নিয়েও সরাসরি মন্তব্য করেন অপু বিশ্বাস। তিনি বলেন, ২০০৭-২০০৮ সালে যখন ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছিলাম, তখন একটি ফুল-ফ্লেজড চলচ্চিত্র দেখেই ভক্ত তৈরি হতো। কিন্তু ২০১৬ সাল থেকে ইন্ডাস্ট্রিতে নোংরামি শুরু হয়েছে। আর ইন্ডাস্ট্রি এখন ডাস্টবিন হয়ে গেছে। পৃথিবীতে হলিউড আছে, বলিউড আছে, পাশের দেশ টলিউড আছে। সব জায়গায় পক্ষ-বিপক্ষ আছে। কিন্তু আামাদের ইন্ডাস্ট্রিতে নোংরামি ছাড়া কিছু নেই। মোট কথা, ইন্ডাস্ট্রি এখন ডাস্টবিন ছাড়া কিছুই না। এদিন অনুষ্ঠানে লেহেঙ্গা পরে হাজির হন অপু বিশ্বাস। নিজের বিয়ের পোশাক নিয়ে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে অপু জানান, লেহেঙ্গা পরেছিলাম। রং ছিল হালকা, তবে ব্লাউজটি ছিল রঙিন। এদিকে, অপু বিশ্বাস নতুন দু’টি ছবির কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। সবশেষ ‘লাল শাড়ি’ ছবিতে দেখা গেছে তাকে।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল বর্তমানে সিনেমার পাশাপাশি নাটক ও ওটিটি কনটেন্টে নিয়মিত অভিনয় করে যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে অভিনেতা আরশ খান–এর সঙ্গে তার জুটি বেশ আলোচনায় রয়েছে। এ জুটির একাধিক নাটক ইতোমধ্যে দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছে। এই জনপ্রিয় জুটিকে এবার দেখা গেল নতুন একটি নাটকে। সম্প্রতি জি-সিরিজ–এর ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পেয়েছে ‘পরমা সুন্দরী’ নামের নাটকটি। নাটকটি নির্মাণ করেছেন মোহন আহমেদ এবং এর গল্প লিখেছেন ইশতিয়াক আহমেদ। নাটকটিতে প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুনেরাহ ও আরশ। পাশাপাশি বিভিন্ন চরিত্রে দেখা গেছে মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, ইমেল হক, আয়েশা সিদ্দিকা, এসএইচ মামুন, মুন্না খান, রেজাউল ইসলাম বিয়াজ ও জাবেদ গাজীসহ আরও কয়েকজন শিল্পীকে। চলচ্চিত্র থেকে অভিনয়ের শুরু অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল অভিনয়ে অভিষেক করেন সিনেমার মাধ্যমে। তার প্রথম চলচ্চিত্র ন ডরাই মুক্তির পরই ব্যাপক আলোচনায় আসে। এই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এরপর থেকে চলচ্চিত্রের পাশাপাশি নাটক ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও নিয়মিত কাজ করছেন তিনি। ‘পরমা সুন্দরী’ নিয়ে সুনেরাহর প্রত্যাশা নতুন নাটকটি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সুনেরাহ। তিনি বলেন, “এর আগেও আমি মোহন আহমেদের পরিচালনায় একটি নাটকে কাজ করেছি এবং সেটি থেকে ভালো সাড়া পেয়েছি। তাই বিশ্বাস ছিল নতুন নাটকটিও দর্শকের আগ্রহে থাকবে। গল্প ও উপস্থাপনায় একটি আলাদা ধরণ রয়েছে, যা সহজেই দর্শকের মনে দাগ কাটতে পারে।” বাস্তব জীবনের ছোঁয়া অভিনেতা আরশ খান জানান, নাটকটির গল্প সমকালীন জীবনধারাকে কেন্দ্র করে নির্মাণ করা হয়েছে। তার ভাষায়, “দর্শকের ভালো লাগা ও মন্দ লাগার বিষয় মাথায় রেখেই ‘পরমা সুন্দরী’ নির্মাণ করা হয়েছে। গল্পের চরিত্রগুলোর মধ্যে চেনা মানুষের ছায়া খুঁজে পাওয়া যাবে। তাই ঘটনাগুলোও দর্শকের কাছে অচেনা বা অবাস্তব মনে হবে না।” জুটিকে ঘিরে আলোচনা সাম্প্রতিক সময়ে আরশ খান ও সুনেরাহর জুটিকে ঘিরে প্রেমের গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে। তবে দুজনই বিষয়টিকে কৌশলে সামলে নিয়ে বারবার জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব ছাড়া অন্য কোনো সম্পর্ক নেই। আলোচিত নাটক এর আগে এই জুটির বেশ কয়েকটি নাটক দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ‘একজন অন্তর্বর্তীকালীন প্রেমিকা’, ‘কাপল’, ‘৭ দিনের প্রেম’, ‘প্রজাপতি মন’, ‘পাগল প্রেম’, ‘আঁতকা’, ‘সিম্প্যাথি’, ‘হৃদয়ে ফাগুন’, ‘আমি তুমি, তুমি আমি’, ‘শ্যাওলা ফুল’ ও ‘ফিরে আসা ভালোবাসা’। নতুন নাটক ‘পরমা সুন্দরী’ও সেই ধারাবাহিকতায় দর্শকের আগ্রহ কাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল -জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী এই অভিনেত্রী বড় পর্দার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিয়মিত সক্রিয়। সম্প্রতি এক আবেগঘন পোস্টে নিজের মানসিক অবস্থা, ব্যক্তিগত সংগ্রাম এবং আত্মবিশ্বাসের কথা ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে সুনেরাহ লিখেছেন, একদিন আয়নায় নিজের দিকে তাকিয়ে তিনি নিজের চোখে এমন কিছু দেখেছেন, যা তার ভালো লাগেনি। সেই অনুভূতিকে তিনি বিষণ্নতা, অসহায়ত্ব কিংবা শোক—যেকোনো কিছু বলেই ব্যাখ্যা করা যেতে পারে বলে উল্লেখ করেন। অভিনেত্রীর ভাষায়, “আজ যখন আমি আয়নায় নিজের দিকে তাকালাম, নিজের চোখে এমন কিছু একটা দেখলাম; যা আমার ভালো লাগেনি। এমন কিছু যা আমি নিজের মধ্যে দেখতে চাই না—তাকে বিষণ্নতা, অসহায়ত্ব কিংবা শোক যা-ই বলুন না কেন।” তিনি আরও বলেন, অনুভূতিটি ছিল অদ্ভুত এবং এর পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণও ছিল না। তবুও তার কাছে সবকিছু যেন ঠিকঠাক মনে হচ্ছিল না। নিজের জীবনের দীর্ঘ সংগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে সুনেরাহ জানান, প্রতিদিন তিনি নিজের ওপর কাজ করেছেন আরও ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য এবং প্রাণশক্তিতে ভরপুর একটি আনন্দময় জীবন গড়ে তুলতে। অভিনেত্রী বলেন, তিনি নিজেকে মানসিকভাবে অনেক শক্ত করে গড়ে তুলেছেন। জীবনের এমন কিছু কঠিন সময় ও সংগ্রামের পথ তিনি অতিক্রম করেছেন, যেগুলো নিয়ে তিনি সাধারণত প্রকাশ্যে কথা বলেন না। তার কথায়, “সেই পথটা ছিল একান্তই আমার। আমি একাই সবটুকু পথ পাড়ি দিয়েছি। আর আমি এই পরিশ্রম বৃথা যেতে দেবো না।” পোস্টের শেষাংশে নিজের প্রতি অঙ্গীকারের কথাও উল্লেখ করেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, জীবনে ইতিবাচকতা ধরে রাখাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য। “আমি ঠিক করেছি, আমি হাসবো এবং খুশি থাকবো। এই হাসিটাই আমার সঙ্গে মানায়। আমি সুখ এবং এক উন্নত জীবন পছন্দ করি। আমি কোনো কিছু বা অন্য কাউকে আমার থেকে এসব কেড়ে নিতে দেবো না। এটা আমার নিজের কাছে নিজের প্রতিশ্রুতি।” অভিনেত্রীর এই খোলামেলা অনুভূতির পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই তার সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং ইতিবাচক মানসিকতার প্রশংসা করেছেন।
বাংলাদেশের ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ও ভ্লগার ইকরা সম্প্রতি আত্মহত্যা করেছেন। ইকরা শুধু একজন তারকা হিসেবে পরিচিত ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন ভ্লগার ও উপস্থাপিকা হিসেবেও বেশ জনপ্রিয়। তার মৃত্যু শোবিজ অঙ্গনে একটি বড় আঘাত হয়ে এসেছে, বিশেষ করে তার একমাত্র ছেলেকে একাই রেখে চলে যাওয়া কারও কাছে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এদিকে, এই ঘটনার পর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী তমা মির্জা সামাজিক মাধ্যমে ইকরাকে উদ্দেশ্য করে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে তিনি বলেছেন, যখন একজন নারী তার ভালোবাসার মানুষকে পূর্ণ সমর্থন দেয়, তার পাশে থাকে এবং জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সাহায্য করে, তখন সেই মানুষটি যখন সফলতা পায়, তখন বেশিরভাগ সময় তাকে ঠকানো হয়, অবহেলা করা হয়, এবং মানসিক যন্ত্রণা দেওয়া হয়। তমা মির্জা তার চিঠিতে আরও বলেন, একজন নারী অনেক কিছু সহ্য করতে পারে, কিন্তু যখন তার ভালোবাসার মানুষের এই বদলে যাওয়া চেহারা সে দেখেন, তখন তার কাছে জীবন অর্থহীন হয়ে ওঠে। জীবন থেকে মুক্তি পেতে অনেক সময় এইসব পরিস্থিতি থেকে পালিয়ে যাওয়াই একমাত্র উপায় হয়ে দাঁড়ায়। ইকরার এই অসম্মানজনক পরিণতি, বিশেষত তার একমাত্র সন্তানের দিকে তাকালে, যেন একটি বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে পড়ছে। তমা মির্জা মনে করেন, ইকরার চলে যাওয়ার পর তার মানসিক যন্ত্রণা কিছুটা হলেও কমে গেছে, যদিও তার এই সিদ্ধান্তের ফলে কোনো উপলব্ধি বা পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা জানেন না তিনি। শোবিজ অঙ্গনে ইকরার মৃত্যু নিয়ে শোক এবং আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে, এবং অনেকেই এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করছেন। তমার মতামত শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে নয়, বরং একটি বড় সামাজিক ইস্যুরও প্রতিফলন। নারী-পুরুষের সম্পর্কের নানা দিক এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপের ওপর তমার খোলা চিঠি গভীরভাবে আলোচিত হচ্ছে। এছাড়া, আত্মহত্যার মতো জটিল বিষয়টি নিয়ে সকলের আরও সচেতন হওয়া জরুরি, বিশেষত মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সহায়তা এবং নারীদের জন্য একে অপরকে সহায়তা করার গুরুত্ব আরও বেশি বেড়ে যায় এই ধরনের পরিস্থিতিতে।
ঢাকা : ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার দাফন আজ (রোববার) সম্পন্ন হয়েছে। ইকরাকে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়নের রান্দিয়া গ্রামে তার নানা বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে বিকেল ৪টার দিকে তার মরদেহ ঢাকার মিরপুর থেকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। মরদেহ আসার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে এলাকার আকাশ-বাতাস। একের পর এক অমানবিক ঘটনা যেন চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। স্বজনদের দাবি, ইকরার মৃত্যু ছিল এক গভীর মানসিক যন্ত্রণার ফল। তার বাবা, যিনি এখন পাগলপ্রায়, তার মেয়ের মৃত্যুকে ‘পরিকল্পিত হত্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, অভিনেতা যাহের আলভী এবং তার মায়ের একাধিক মানসিক নির্যাতন ও ক্রমাগত প্ররোচনাই ইকরাকে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিয়েছে। তার ভাষায়, “এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।” আলভীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তার অবহেলা এবং অনৈতিক জীবনযাপন ইকরাকে অবর্ণনীয় মানসিক যন্ত্রণায় ফেলেছিল। ইকরার স্বজনরা অভিযোগ করেছেন যে, দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে তিনি সব সময় অবহেলিত ছিলেন এবং মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইকরার একটি ব্যক্তিগত চ্যাট স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে তার চরম মানসিক বিপর্যস্ত হওয়ার বিষয়টি ফুটে ওঠে এবং আলভীর বিরুদ্ধে এক সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগও তোলা হয়। গুরুতর অভিযোগের পর, বেশ কিছুদিন ধরে ইকরার পরিবার এবং এলাকাবাসী দাবি করছিল যে, এই ঘটনার তদন্ত সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত হওয়া উচিত এবং যারা এই মৃত্যুর জন্য দায়ী, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত। ইকরার মৃত্যু বাংলাদেশের সারা দেশে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ময়মনসিংহের ভালুকার গ্রামে এবং তার ভক্তদের মধ্যে এক গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকার বাসিন্দারা দাবি করছেন, যদি এই মৃত্যুর পেছনে কারো প্ররোচনা থাকে, তাহলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা উচিত। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে ইকরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় অভিনেতা যাহের আলভী ঈদুল ফিতরের নাটকের শুটিংয়ের জন্য নেপালে ছিলেন। এই হৃদয়বিদারক ঘটনা দেশের মিডিয়া অঙ্গনে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়াতে এই ঘটনায় আলভীর শাস্তি দাবি করছেন।
ইফতারে রুহ আফজার শরবত যেমন শরীর ঠান্ডা রাখে, তেমনি দূর করে দেয় রোজা ও গরমের ক্লান্তিও। ঘরেই কেমিক্যালবিহীন সিরাপ বানিয়ে নিতে পারেন শরবত তৈরির জন্য। জেনে নিন কীভাবে বানাবেন।তাজা গোলাপ ফুলের পাপড়ি আলাদা করে ধুয়ে নিন। ১ কাপ পানি ও গোলাপের পাপড়ি চুলায় বসান। ১ ফোঁটা লাল ফুড কালার দেবেন। মাঝারি আঁচে রেখে দিন প্যান। ফুটে উঠলে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন। কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নামিয়ে ছেঁকে নিন।এক বাটি ফলের টুকরা ব্লেন্ড করে ছেঁকে রস আলাদা করুন। আপেল, আঙুর, তরমুজ, আনারস, কলা বা যেকোনো ধরনের ফল ব্যবহার করতে পারেন এখানে। চুলায় প্যান বসিয়ে ফলের রস দিয়ে দিন। গোলাপ থেকে বের হওয়া পানি ও স্বাদ মতো চিনি দিয়ে নাড়তে থাকুন। মিশ্রণটি ঘন হয়ে গেলে নামিয়ে নিন। নামানোর আগে ২ চা চামচ গোলাপজল দিয়ে নেবেন। ঠান্ডা হলে মুখবন্ধ বয়ামে রেখে দিন নরমাল ফ্রিজে। এক মাস পর্যন্ত রেখে খেতে পারবেন এই রুহ আফজা।
রূহ আফজা: রমজানের জনপ্রিয় পানীয়ের এক শতাব্দীর ইতিহাস রমজান মাস এলেই মুসলিম সমাজে বদলে যায় প্রতিদিনের জীবনযাত্রা। সেহরি ও ইফতারকে ঘিরে শুরু হয় নানা প্রস্তুতি, বাজারে বাড়ে বিশেষ খাবার ও পানীয়ের চাহিদা। পেঁয়াজু, বেগুনি, ছোলা-মুড়ি কিংবা খেজুরের পাশাপাশি ইফতার টেবিলে আরেকটি পরিচিত নাম হলো লাল রঙের শরবত—রূহ আফজা। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে রমজানের সময় এই পানীয়ের জনপ্রিয়তা এতটাই বেশি যে অনেক পরিবারের মাসিক বাজারের তালিকায় এটি প্রায় অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে টিকে থাকা এই পানীয় শুধু একটি শরবত নয়; এটি উপমহাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্মৃতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিল্লির একটি ছোট ইউনানি ক্লিনিক থেকে শুরু হওয়া এই পানীয় আজ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। দিল্লির গলি থেকে শুরু ১৯০৬ সালের গরমের এক দিনে ব্রিটিশ শাসিত ভারতের রাজধানী দিল্লির পুরনো এলাকা লাল কুয়ান বাজারে একটি ক্লিনিকের সামনে অস্বাভাবিক ভিড় জমে। স্থানীয় মানুষজন বাতাসে ভেসে আসা গোলাপের সুবাসে আকৃষ্ট হয়ে জানতে পারেন, একজন ইউনানি চিকিৎসক একটি বিশেষ পানীয় তৈরি করেছেন। লাল রঙের সেই পানীয়ের স্বাদ নিতে ভিড় বাড়তেই থাকে। দিনের শেষে তৈরি প্রথম ব্যাচ শেষ হয়ে যায়। এই ঘটনাকেই অনেকে রূহ আফজার জন্মমুহূর্ত বলে মনে করেন। এই পানীয়ের উদ্ভাবক ছিলেন ইউনানি চিকিৎসক হাকিম হাফিজ আবদুল মজিদ। পুরনো দিল্লিতে তার ক্লিনিকের নাম ছিল হামদর্দ দাওয়াখানা। ‘হামদর্দ’ শব্দটির অর্থ—দুঃখ কষ্টের সময়ের সঙ্গী। ১৯০৭ সালের দিকে এই ক্লিনিক থেকেই বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয় এই অ্যালকোহলমুক্ত ভেষজ পানীয়ের। কেন তৈরি হয়েছিল রূহ আফজা শুরুর দিকে এটি তৈরি করা হয়েছিল মূলত চিকিৎসা উদ্দেশ্যে। দিল্লির প্রচণ্ড গরমে অনেক মানুষ ক্লান্তি, পানিশূন্যতা ও হিটস্ট্রোকের মতো সমস্যায় ভুগতেন। রোগীদের সতেজতা ফিরিয়ে দিতে গোলাপ, ভেষজ উপাদান ও ফলের নির্যাস দিয়ে এই পানীয় তৈরি করেন হাকিম মজিদ। গোলাপের সুবাস এবং সতেজ স্বাদের কারণে দ্রুতই এটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এরপর তিনি এই পানীয়ের নাম দেন রূহ আফজা। উর্দু ভাষায় “রূহ” অর্থ আত্মা বা প্রাণ এবং “আফজা” অর্থ সতেজ করে এমন কিছু। অর্থাৎ নামের অর্থ দাঁড়ায়—“যা আত্মাকে সতেজ করে।” নামের পেছনের গল্প ইতিহাস বিষয়ক ম্যাগাজিন হেরিটেজ টাইমস-এর তথ্য অনুযায়ী, এই নামের অনুপ্রেরণা আসে একটি উর্দু কাব্যগ্রন্থ থেকে। উর্দু কবি পণ্ডিত দয়া শঙ্কর নাসিমের বিখ্যাত কাব্য “মসনবি গুলজার-ই-নাসিম”-এ রূহ আফজা নামে এক রাজকন্যার চরিত্র ছিল। সেখান থেকেই এই নাম গ্রহণ করেন হাকিম মজিদ। হাতে তৈরি বোতল থেকে শিল্প উৎপাদন প্রথমদিকে রূহ আফজা হাতে তৈরি করা হতো। ১৯২০ সালের মধ্যে কাঁচের বোতলে হাতে করে শরবত ভরা হতো এবং লেবেলও লাগানো হতো হাতে। দিল্লির শিল্পী মির্জা নূর আহমদ তৈরি করেছিলেন ঐতিহ্যবাহী লেবেল ডিজাইন, যা এখনো প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। চাহিদা বাড়তে থাকলে দিল্লির বাইরে গাজিয়াবাদে একটি কারখানায় এর বড় আকারে উৎপাদন শুরু হয়। প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যু ও নতুন অধ্যায় ১৯২২ সালে হাকিম হাফিজ আবদুল মজিদের মৃত্যু হয়। তখন তার বড় ছেলে আবদুল হামিদ মাত্র ১৪ বছর বয়সে পারিবারিক ব্যবসার দায়িত্ব নেন। তার নেতৃত্বে হামদর্দ ধীরে ধীরে বড় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় এবং রূহ আফজার উৎপাদন ও বাজার বিস্তৃত হতে থাকে। ভারত ভাগ ও তিন দেশের ব্র্যান্ড ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হওয়ার পর হামদর্দও বিভক্ত হয়ে যায়। বড় ছেলে আবদুল হামিদ ভারতে থেকে যান ছোট ছেলে হাকিম মোহাম্মদ সৈয়দ পাকিস্তানে চলে যান এর ফলে প্রতিষ্ঠিত হয় দুইটি প্রতিষ্ঠান: হামদর্দ ইন্ডিয়া হামদর্দ পাকিস্তান দুই দেশেই রূহ আফজার উৎপাদন অব্যাহত থাকে। বাংলাদেশে রূহ আফজার যাত্রা ১৯৫০-এর দশকে হামদর্দ পাকিস্তান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) তাদের কার্যক্রম শুরু করে। চট্টগ্রাম ও ঢাকায় বিক্রয় কেন্দ্র খোলা হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রতিষ্ঠানটি হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ (ওয়াকফ) বাংলাদেশ নামে কার্যক্রম চালিয়ে যায়। পরে ইউসূফ হারুন ভুঁইয়া নামের এক উদ্যোক্তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে রূহ আফজার উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণ শুরু হয়। রমজানের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রূহ আফজা শুধু পানীয় নয়, রমজানের সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠে। অনেক পরিবারে ইফতার মানেই রূহ আফজার শরবত। বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একসময় একটি জনপ্রিয় মন্তব্য ছিল— “ছোটবেলায় মনে করতাম রূহ আফজা শরবত খেলে সওয়াব হয়।” এটি অনেকটাই মজার মন্তব্য হলেও এটি দেখায় যে পানীয়টির সঙ্গে মানুষের আবেগ কতটা গভীর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাকিস্তানি লেখক আজির হাসান রিজভী সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, রমজানে এশীয় মুসলমানদের কাছে রূহ আফজার গুরুত্ব ঠিক যেমনটা কার্টুন চরিত্র পোপাই-এর কাছে পালং শাকের। অন্যদিকে মারিয়া সারতাজ নামের এক ব্যবহারকারী বলেন, রমজান ও রূহ আফজা একে অপরের পরিপূরক। দুধ না পানি—চলমান বিতর্ক রূহ আফজা কীভাবে খাওয়া উচিত তা নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। অনেকে বলেন এটি দুধের সঙ্গে খেলে স্বাদ সবচেয়ে ভালো। অন্যরা বলেন ঠান্ডা পানির সঙ্গে মিশিয়েই আসল স্বাদ পাওয়া যায়। কেউ কেউ আবার ফল, বেসিল সিড বা আইসক্রিম মিশিয়ে নিজস্ব রেসিপি তৈরি করেন। স্বাস্থ্য নিয়ে সমালোচনা তবে সবাই যে এই পানীয়ের ভক্ত তা নয়। সমালোচকদের মতে এতে চিনির মাত্রা বেশি। এছাড়া রঙ ও প্রিজারভেটিভ ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অনেকে মনে করেন, ঘরে তৈরি শরবত বা ফলের জুস বেশি স্বাস্থ্যকর। যুদ্ধ ও সংকটের সাক্ষী একটি পানীয় যে এত ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হতে পারে, সেটি অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। ভারত ভাগ, পাকিস্তান সৃষ্টি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা—সবকিছুর মধ্য দিয়েই টিকে আছে এই ব্র্যান্ড। সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধের সময় আফগান শরণার্থীদের ত্রাণ হিসেবে রূহ আফজা পাঠানো হয়েছিল। পরে দেখা যায়, অনেক শরণার্থী এটি পানি বা দুধ ছাড়াই সরাসরি পান করতেন। ২০১৯ সালের সংকট ২০১৯ সালে ভারতে হঠাৎ করেই বাজারে রূহ আফজা সংকট দেখা দেয়। কোম্পানি জানায়, কিছু ভেষজ উপাদান সহজলভ্য না হওয়ায় উৎপাদন কমে গিয়েছিল। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। অনেক ভারতীয় ব্যবহারকারী হতাশা প্রকাশ করেন। পাকিস্তানি ব্যবহারকারীরা মজা করে ভারতকে রূহ আফজা পাঠানোর প্রস্তাবও দেন। আদালত পর্যন্ত গড়ানো বিতর্ক ২০২২ সালে দিল্লি হাই কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয়। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজনকে পাকিস্তানে তৈরি রূহ আফজা ভারতের বাজারে বিক্রি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ভারতীয় প্রস্তুতকারকেরা অভিযোগ করেছিলেন, পাকিস্তানি সংস্করণ অবৈধভাবে বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশে জরিমানা বিতর্ক বাংলাদেশেও একবার আইনি জটিলতায় পড়েছিল এই ব্র্যান্ড। ২০১৮ সালে ঢাকার একটি বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত অননুমোদিত উপাদান ব্যবহারের অভিযোগে হামদর্দকে চার লাখ টাকা জরিমানা করে। পরে আপিলের মাধ্যমে সেই রায় বাতিল হয়ে যায়। শতাব্দীর পানীয় আজ রূহ আফজা শুধু উপমহাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার এশীয় দোকানেও এটি পাওয়া যায়। অনেক প্রবাসী মুসলিমের জন্য এটি রমজানের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি পানীয়। স্বাদ, স্বাস্থ্য বা বিতর্ক—সবকিছুর বাইরে রূহ আফজা এখন এক শতাব্দীর ইতিহাসের অংশ। একটি লাল শরবত, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রমজানের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
অ্যাসিডিটি (গ্যাস্ট্রিক/অম্লতা) সাধারণত পেটে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি হলে বা খাবার ঠিকমতো হজম না হলে হয়। নিচে সহজ ও কার্যকর উপায়গুলো দিলাম: 🥛 ঘরোয়া উপায় ১) ঠান্ডা দুধ এক গ্লাস ঠান্ডা দুধ অ্যাসিডকে নিরপেক্ষ করতে সাহায্য করে ও বুকজ্বালা কমায়। ➡️ চিনি না মিশিয়ে খাওয়াই ভালো। ২) কলা পাকা কলা প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিডের মতো কাজ করে। ➡️ খালি পেটে বা হালকা নাস্তা হিসেবে খেতে পারেন। ৩) জিরা পানি এক চা চামচ জিরা ভেজে পানিতে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে পান করুন। ➡️ হজমে সাহায্য করে, গ্যাস কমায়। ৪) আদা আদা চা বা কাঁচা আদা অল্প পরিমাণে চিবিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়। 🍽️ যেসব খাবার এড়াবেন অতিরিক্ত ঝাল ও ভাজাপোড়া টক খাবার (লেবু, আচার বেশি পরিমাণে) কোমল পানীয় অতিরিক্ত চা/কফি খুব দেরি করে রাতের খাবার ✅ জীবনযাত্রায় পরিবর্তন অল্প অল্প করে বারবার খাবার খান খাওয়ার পর সাথে সাথে শোবেন না (কমপক্ষে ২ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন) ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন টাইট পোশাক এড়িয়ে চলুন 💊 কখন ডাক্তার দেখাবেন? প্রায়ই বুকজ্বালা/বমি ভাব হয় খাবার গিলতে কষ্ট হয় রক্তবমি বা কালো পায়খানা ওজন অকারণে কমে যায় এগুলো থাকলে গ্যাস্ট্রো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
ইফতারে ঠান্ডা কোনো পানীয় না থাকলে যেন জমেই না। অনেকেই বাইরে থেকে কেনা ইনস্ট্যান্ট শরবত বানিয়ে পান করেন। এতে তাৎক্ষণিক স্বস্তি ও স্বাদ মিললেও নিয়মিত খেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তার বদলে ঘরে থাকা উপকরণ দিয়েই সহজে পুষ্টিকর স্মুদি তৈরি করা যায়। এতে যেমন তৃপ্তি মিলবে, তেমনি শরীরও থাকবে সুস্থ। চলুন জেনে নেওয়া যাক ইফতারের জন্য খেজুরের স্মুদি বানানোর সহজ রেসিপি- যা যা লাগবে খেজুর ১০-১২টি দুধ ২ কাপ পাকা কলা ২টি দই ২ টেবিল চামচ দারুচিনি গুঁড়া ২ চা চামচ মধু ২ চা চামচ বরফ প্রয়োজনমতো প্রস্তুত প্রণালি প্রথমে খেজুর ভালো করে ধুয়ে গরম পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে নরম করে নিন। এরপর পানি ঝরিয়ে খেজুরের সঙ্গে টুকরো করা কলা মেশান। সব উপকরণ ব্লেন্ডারে দিয়ে মসৃণ হওয়া পর্যন্ত ব্লেন্ড করুন, যাতে কোনো দানা না থাকে। তৈরি হয়ে গেলে গ্লাসে ঢেলে ওপর থেকে বরফ দিন। ইফতারের ঠিক আগে বানিয়ে পরিবেশন করলে স্বাদ বেশি ভালো থাকবে। দীর্ঘক্ষণ রেখে দিলে স্বাদের পরিবর্তন হতে পারে।
রমজানে ইফতার শুধু রোজা ভাঙার সময় নয়, বরং সারাদিনের দীর্ঘ উপবাসের পর শরীরকে পুনরায় শক্তি ও পুষ্টি জোগানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। সঠিকভাবে ইফতার মেনু নির্বাচন করলে ক্লান্তি কমে, হজম সহজ হয় এবং সারাদিনের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই ইফতারে প্রয়োজন সচেতন খাদ্যাভ্যাস। 🥤 তরল খাবার দিয়ে ইফতার শুরু ইফতার শুরু করা উচিত হালকা তরল খাবার দিয়ে। প্রথমে পানি মুখে নিয়ে ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড বিরতিতে ধীরে ধীরে পান করা ভালো। খুব তাড়াহুড়া করে বা গড়গড় করে পানি পান করা ঠিক নয়। তরল হিসেবে যা রাখা যেতে পারে— লাচ্ছি তাজা ফলের রস ডাবের পানি তোকমার শরবত আখের গুড়ের শরবত লেবু পানি শরবত তৈরিতে তাল মিছরি, গুড়, মধু বা ব্রাউন সুগার ব্যবহার করলে তা তুলনামূলক স্বাস্থ্যসম্মত হয়। 🌴 খেজুর: সুন্নতি ও পুষ্টিকর খাদ্য ইফতারে ২-৩টি খেজুর খাওয়া সারাদিনের ক্লান্তি দ্রুত দূর করতে সাহায্য করে। খেজুরে রয়েছে প্রাকৃতিক চিনি, ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট ও অল্প পরিমাণ প্রোটিন—যা শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগায়। পুষ্টিগুণ বাড়াতে খেজুরের সঙ্গে চিনাবাদাম ও সামান্য মাখন মিশিয়ে পরিবেশন করা যেতে পারে। 🍎 মৌসুমি ফল: প্রাকৃতিক ভিটামিনের উৎস যেকোনো মৌসুমি ফল ইফতার মেনুতে রাখা জরুরি। ফল শরীরে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে। মিক্সড ফ্রুটস, ফলের সালাদ বা ফল দিয়ে তৈরি হালকা ডেজার্ট খাওয়া যেতে পারে। 🥗 সবজি: হালকা ও সহজপাচ্য বিকল্প সবজি দিয়ে স্বাস্থ্যকর রেসিপি তৈরি করলে তা শরীরের জন্য উপকারী হয়। যেমন— সবজি স্যুপ (বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য উপযোগী) সবজি স্যান্ডউইচ সবজি নুডলস সবজি রোল সবজি পাকোরা (কম তেলে) খেয়াল রাখতে হবে, রান্নায় যেন অতিরিক্ত তেল ব্যবহার না হয়। 🧆 ছোলা: প্রোটিনের সহজ উৎস ছোলা প্রোটিনের ভালো উৎস। তবে অতিরিক্ত তেল ও মসলায় ভুনা ছোলা উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে। স্বাস্থ্যকরভাবে ছোলা খাওয়ার উপায়— সারারাত ভিজিয়ে রেখে সিদ্ধ করা সিদ্ধ ছোলার সঙ্গে পেঁয়াজ, মরিচ, শশা ও টমেটো মিশিয়ে সালাদ তৈরি সামান্য তেলে হালকা ভাজা কাঁচা ভেজানো ছোলাও খাদ্য আঁশ ও প্রোটিনের ভালো উৎস। 🍮 মিষ্টান্ন: পরিমিত থাকাই উত্তম ইফতারে স্বাস্থ্যকর মিষ্টান্ন পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে। জিলাপি বা বুন্দিয়া তেলে ভেজে সিরায় ডুবানো হয়, যা বেশি খেলে ক্ষতিকর। বিকল্প হিসেবে রাখা যেতে পারে— ফালুদা কাস্টার্ড পুডিং ফিরনি দুধজাত খাবার শরীরে ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন সরবরাহ করে। 🍽️ অন্যান্য উপকারী খাবার ইফতারের জন্য চিড়া-দই খুবই ভালো একটি খাবার। এতে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। এ ছাড়া রাখা যেতে পারে— দই বড়া নুডলস স্যান্ডউইচ রুটি-কাবাব মম শশা রমজানে ইফতার শুধু খাবার গ্রহণের সময় নয়, বরং সুস্থ থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও মিষ্টিজাত খাবার পরিহার করে পরিমিত ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ করলে শারীরিকভাবে ভালো থাকা সম্ভব। সচেতন খাদ্যাভ্যাসই হতে পারে সুস্থ ও কর্মক্ষম রমজানের মূল চাবিকাঠি।
ডেস্ক রিপোর্ট: শুরু হয়েছে সংযমের মাস পবিত্র রমজান। আত্মিক পরিশুদ্ধির পাশাপাশি এই মাস হতে পারে শরীরকে সুস্থ ও ফিট রাখারও সেরা সময়। তবে ইফতারের টেবিলে বাহারি ভাজাপোড়া, মিষ্টিজাতীয় খাবার ও উচ্চ ক্যালরিযুক্ত পদ অনেক সময় ওজন বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সারাদিন উপোস থাকার পর হঠাৎ অতিরিক্ত খাবার খেলে ওজন বেড়ে যাওয়া, অস্বস্তি ও হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিন্তু সঠিক খাবার নির্বাচন, পরিমিত আহার ও নিয়মিত হালকা ব্যায়াম—এই তিনটি বিষয় মেনে চললে রোজার মাসেও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক, রমজানে কোন খাবারগুলো আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হবে— শাকসবজি: কম ক্যালরি, বেশি পুষ্টি শাকসবজি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে অন্যতম প্রধান সহায়ক। এতে ক্যালরি কম, কিন্তু আঁশ বেশি। আঁশ দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়। যেভাবে খাবেন: ইফতারে শসা, টমেটো, গাজর, লেটুস দিয়ে সালাদ সেহরিতে কম তেলে রান্না করা সবজি ডাল বা স্যুপে মিশ্র সবজি কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সহায়ক ফলমূল: প্রাকৃতিক মিষ্টির স্বাস্থ্যকর বিকল্প ইফতারে মিষ্টিজাতীয় খাবারের বদলে ফল হতে পারে আদর্শ পছন্দ। ফলে থাকে প্রাকৃতিক চিনি, ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। ইফতারে রাখতে পারেন: তরমুজ আপেল পেয়ারা কমলা পেঁপে খেজুর খেজুরে প্রাকৃতিক গ্লুকোজ দ্রুত শক্তি জোগায়। তবে অতিরিক্ত না খাওয়াই ভালো। প্রোটিন: দীর্ঘক্ষণ তৃপ্তির উৎস রোজার সময় শক্তি ধরে রাখতে প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি পেশি গঠনে সহায়ক এবং দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে। খাদ্যতালিকায় রাখুন: গ্রিল বা সেদ্ধ মুরগি মাছ ডিম ডাল ছোলা ভাজা খাবারের বদলে গ্রিল বা সেদ্ধ প্রোটিন গ্রহণ করলে অপ্রয়োজনীয় চর্বি জমা কমে। পূর্ণ শস্য: স্থিতিশীল শক্তির জোগান সাদা ভাত বা পরিশোধিত ময়দার রুটি দ্রুত হজম হয়ে যায়। এর বদলে পূর্ণ শস্য গ্রহণ করলে শক্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়। উপকারী শস্য: ব্রাউন রাইস আটার রুটি ওটস লাল চাল এসব খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। বাদাম ও বীজ: অল্পতেই তৃপ্তি এক মুঠো বাদাম শক্তি জোগায় এবং অতিরিক্ত স্ন্যাকিং কমায়। তবে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ জরুরি। খেতে পারেন: কাঠবাদাম আখরোট কাজুবাদাম চিয়া বীজ তিসি বীজ পর্যাপ্ত পানি: মেটাবলিজম সচল রাখুন রোজায় ডিহাইড্রেশন হলে শরীর অনেক সময় ক্ষুধা ও পানিশূন্যতার সংকেত গুলিয়ে ফেলে। পরামর্শ: ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত ৮–১০ গ্লাস পানি একবারে বেশি না খেয়ে বিরতি দিয়ে পান অতিরিক্ত চিনিযুক্ত শরবত এড়িয়ে চলুন পানি বিপাকক্রিয়া সচল রাখে এবং হজমে সহায়তা করে। যেসব অভ্যাস মানলে ওজন বাড়বে না ✔️ ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলুন ✔️ ধীরে ধীরে খাবার খান ✔️ সেহরি কখনো বাদ দেবেন না ✔️ ইফতারের পর ২০–৩০ মিনিট হালকা হাঁটা ✔️ পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন রমজান শুধু আত্মশুদ্ধির মাস নয়, এটি হতে পারে সুস্থ জীবনযাপনের নতুন সূচনা। খাবারের পরিমাণ নয়, গুণগত মানের দিকে নজর দিন। সুষম খাদ্যাভ্যাস, পরিমিত আহার ও নিয়মিত হালকা ব্যায়াম—এই তিন অভ্যাস মেনে চললে মাস শেষে নিজেকে আরও হালকা, ফিট ও প্রাণবন্ত অনুভব করবেন।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ পদত্যাগ করেছেন। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র প্রথম আলোকে জানিয়েছে, কয়েক দিন আগে তিনি পদত্যাগ করেছেন। বাসসের ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, এমডি ও প্রধান সম্পাদকের জায়গায় এখন আর মাহবুব মোর্শেদের নাম নেই। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট সাংবাদিক মাহবুব মোর্শেদকে দুই বছর মেয়াদে বাসসের এমডি ও প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছিল সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। এখন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করলেন তিনি। সম্প্রতি মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে ‘দুর্নীতির’ অভিযোগ তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছিল তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি গঠিত এ কমিটিকে ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ওই দিন সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘বাসসে যা ঘটেছে, তা দুঃখজনক। বাসস একটা সরকারি সংবাদ সংস্থা। এখানে নিয়োগ বহাল বা বাতিলের একটা বিধিবদ্ধ নিয়ম আছে। সরকার সেই নিয়মের মধ্যেই সবকিছু বিবেচনা করবে। যে দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, আলোচনা সাপেক্ষে বিধিবিধান অনুযায়ী তার সমাধান বের করা হবে।’ এর আগে রাজধানীর পল্টনে বাসসের কার্যালয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত এ সংবাদ সংস্থার এমডি মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির সাংবাদিক-কর্মচারীদের একটি অংশ কার্যালয়ে তাঁকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন। বিক্ষোভের মুখে মাহবুব মোর্শেদ অফিস ছেড়ে চলে যান। পরে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন মাহবুব মোর্শেদ। সেখানে তিনি ‘মব তৈরি করে’ তাঁকে ‘অপসারণের’ জন্য চাপ তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
আসুন আমরা এই ভদ্রোচিত মিথ্যাটি বাদ দিই যে ব্রিটিশ সাংবাদিকতা মুসলিমদের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করে। তারা তা করে না। আর বর্তমানের তথ্য-উপাত্ত, যা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত, তা সন্দেহাতীতভাবেই এটি প্রমাণ করে। 'সেন্টার ফর মিডিয়া মনিটরিং' ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে মুসলিমদের উপস্থাপনার ওপর এযাবৎকালের সবচেয়ে কঠোর ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের ফলাফল প্রকাশ করেছে। গবেষণায় ৩০টি প্রধান সংবাদমাধ্যমের ৪০ হাজর ৯১৩টি নিবন্ধ পরীক্ষা করা হয়েছে—পুরো এক বছরের সংবাদ কাভারেজকে ব্যবচ্ছেদ ও কোডিং করা হয়েছে এবং পক্ষপাতের পাঁচটি সুনির্দিষ্ট সূচকের ভিত্তিতে পরিমাপ করা হয়েছে। এর উপসংহারটি অত্যন্ত ভয়াবহ: ২০২৫ সালে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে মুসলিমদের নিয়ে করা মোট কাভারেজের প্রায় অর্ধেকই ছিল পক্ষপাতদুষ্ট। 'অর্ধেক'—এই সংখ্যা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনাকে নির্দেশ করে না, বরং এটি একটি পদ্ধতিগত বা কাঠামোগত সমস্যাকে তুলে ধরে। বিশ্লেষণ করা নিবন্ধগুলোর ৭০ শতাংশই মুসলিম বা ইসলামকে নেতিবাচক বিষয় বা আচরণের সঙ্গে যুক্ত করেছে। আর এখানে পদ্ধতিগত একটি বিষয় রয়েছে, যা এই পরিসংখ্যানকে অস্বীকার করা আরও কঠিন করে তোলে: গবেষণাটি কেবল সেই নিবন্ধগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না যেখানে মুসলিমরা মূল বিষয় ছিল। তথ্যভাণ্ডারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য কোনো নিবন্ধে মুসলিমদের সম্পর্কে একটিমাত্র সাধারণ উল্লেখই যথেষ্ট ছিল। সেই বিচারে, গবেষণার পদ্ধতি ছিল বেশ উদার, এমনকি শিথিলও বলা চলে। তা সত্ত্বেও প্রায় অর্ধেক নিবন্ধই পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এই ৫০ শতাংশের পরিসংখ্যান সম্ভবত পক্ষপাতের সর্বনিম্ন সীমা, সর্বোচ্চ নয়। এবার ঐতিহাসিক রেকর্ডের দিকে তাকানো যাক। পাঁচ বছর আগে, এই কেন্দ্রটি ২০১৮-১৯ সালের ১২ মাসের ব্যবধানে প্রকাশিত ৪৮ হাজারেরও বেশি নিবন্ধের ওপর একই প্যারামিটার ব্যবহার করে একটি মূল্যায়ন প্রকাশ করেছিল। তখন নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের হার ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ; যা এখন ৭০ শতাংশে পৌঁছেছে। এটি কোনো সামান্য বিচ্যুতি নয়, বরং কাঠামোগত অবনতি। মুসলিমদের নিয়ে সংবাদ পরিবেশন কেবল শত্রুতাপূর্ণই হয়ে ওঠেনি, বরং এটি এখন একটি বার বার একই অপরাধ করার রোগে পরিণত হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম এখন মুসলিমদের নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি অবজ্ঞাভরে নিবন্ধ প্রকাশ করছে। ভাষ্যকার পিটার ওবোর্ন যখন বলেছিলেন যে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে—অনেক বেশি খারাপ—তখন তিনি মোটেও বাড়িয়ে বলেননি। উপাত্তগুলোই তা নিশ্চিত করছে। বিকৃত শব্দচয়ন ডানপন্থী সংবাদমাধ্যমগুলো এখন আর মুসলিমদের নিয়ে প্রতিবেদন করছে না; বরং তারা তাদের বিরুদ্ধে রীতিমতো প্রচারণা চালাচ্ছে। একটি সম্প্রদায় নিয়ে সংবাদ প্রচার করা আর তাদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; একটি ধর্মকে পর্যবেক্ষণ করা আর সেটিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের মধ্যেও তফাত আছে। এই সংকটের মূলে থাকা সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের পথ বেছে নিয়েছে: দ্য স্পেকটেটর, জিবি নিউজ, দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ, দ্য জিউস ক্রনিকল, দ্য ডেইলি এক্সপ্রেস, দ্য ডেইলি মেইল ও দ্য টাইমস। এগুলো কোনো প্রান্তিক কণ্ঠস্বর নয়। এগুলো সেই প্রতিষ্ঠান যারা জনমতের গতিপথ নির্ধারণ করে। আর এই প্রতিবেদনের প্রমাণ অনুযায়ী, তারা পদ্ধতিগতভাবে ব্রিটিশ মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ। তাদের ভাষা লক্ষ্য করুন। প্রতিবেদনে বিকৃত পরিভাষা ব্যবহারের যে বিশ্লেষণ দেওয়া হয়েছে, তা পড়লে মনে হবে এটি এমন এক শব্দকোষ যা তৈরি করেছে তারা যারা মুসলিমদের অস্তিত্ব মুছে দিতে চায়: ‘মুসলিম পুরুষদের গ্যাং’, ‘ঘাতক আদর্শ’, ‘ঘৃণা মিছিল’, ‘মৃত্যুর কাল্ট’, ‘ইসলামপন্থী ইহুদি-বিদ্বেষী’, ‘আধুনিকতাকে উৎখাত করা’, ‘তাণ্ডব চালানো’। এগুলো কোনো বর্ণনামূলক শব্দ নয়, এগুলো অস্ত্র। জিবি নিউজ নতুন যাত্রা শুরু করলেও পক্ষপাতের সব সূচকে তারা নিকৃষ্টতমদের কাতারে রয়েছে। ২০২৫ সালের একটি শিরোনাম তাদের সম্পাদকীয় সংস্কৃতিকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলে: ‘আমাকে অভদ্র হতে দিন: মুসলিমরা ইহুদিদের প্রতি বর্ণবাদী’। এখানে লেখকের অবজ্ঞাকে ‘সাহস’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। গোঁড়ামিকে যখন বীরত্ব হিসেবে বাজারজাত করা হয়, তখন সেটি আর সাংবাদিকতা থাকে না, উস্কানিতে পরিণত হয়। দ্য স্পেকটেটর-এ চরম পক্ষপাতের হার সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে; তাদের প্রতি চারটির মধ্যে একটি নিবন্ধকে ‘ভীষণ পক্ষপাতদুষ্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি এমন কোনো প্রকাশনা নয় যা মাঝেমধ্যে কুসংস্কারে হোঁচট খায়; বরং এটি এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে মুসলিম-বিদ্বেষ ধারাবাহিকভাবে ফুটে ওঠে। দ্য স্পেকটেটর একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছিল যেখানে তারা আপাত বিস্ময় প্রকাশ করেছে যে কেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মানুষকে ‘ঈদ মোবারক’ জানাবেন! একজন ব্রিটিশ নেতা এ দেশের অন্যতম পালিত একটি ধর্মীয় উৎসবের স্বীকৃতি দেওয়াকে যখন ব্যাখ্যা করার মতো বিষয় হিসেবে দেখা হয়, তখন এটিই আপনাকে বুঝিয়ে দেয় যে জনজীবনে মুসলিমদের উপস্থিতিকে কতটা প্রতিকূলতার চোখে দেখা হচ্ছে। আর এই প্রচারণা নতুন বছরেও থেমে নেই। ২০২৬ সালেও এটি অব্যাহত রয়েছে, যেখানে মুসলিমদের গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। মুসলিম ভোটাররা তাদের অধিকার প্রয়োগ করাকে ‘সাম্প্রদায়িক ভোট’, ‘পারিবারিক ভোট ব্যাংক’ বা সন্দেহজনক ও সমন্বিত কিছু হিসেবে উপস্থাপন করা ইসলামভীতিমূলক শব্দকোষের সর্বশেষ সংযোজন। যখন একজন মুসলিম ভোট দেন, সেটি হয় ‘ব্লক ভোটিং’। যখন একটি মুসলিম সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ হয়, সেটি হয় ‘গণতন্ত্রের জন্য হুমকি’। এগুলো তাদের ব্যবহৃত ভাষা যারা প্রিন্ট মিডিয়ায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালায়—এবং তাদের ভাষা যারা লোকদেখানো ভণ্ডামি ছেড়ে স্রেফ আমাদের অস্তিত্বই মুছে দিতে চায়। বিপজ্জনক ও বিষাক্ত একটি তথ্য কেবল ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম নয়, বরং সবাইকে অভিযুক্ত করে। সেটি হলো ‘প্রাসঙ্গিক তথ্যের অনুপস্থিতি’ —অর্থাৎ পাঠককে একটি ঘটনা সঠিকভাবে বোঝার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে ব্যর্থ হওয়া। ৪৪ শতাংশ পক্ষপাতদুষ্ট নিবন্ধে এই চিত্র পাওয়া গেছে। পুরো ডেটাসেটে এটিই মিডিয়ার সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। এর জন্য সবসময় বিদ্বেষের প্রয়োজন হয় না। অত্যন্ত নগণ্য সংখ্যক মানুষের সম্পৃক্ততা আছে এমন চরমপন্থার কোনো খবর দেওয়ার সময় প্রেক্ষাপট উল্লেখ না করা; কোনো রাজনীতিবিদের উস্কানিমূলক মন্তব্যের বিরুদ্ধে কোনো পাল্টা যুক্তি না দিয়েই তা উদ্ধৃত করা—এর জন্য ঘৃণার প্রয়োজন নেই, কেবল অবহেলাই যথেষ্ট। কিন্তু হাজার হাজার নিবন্ধ এবং ডজন ডজন সংবাদমাধ্যমে এই অবহেলার পুনরাবৃত্তি যখন ঘটে, তখন এর প্রভাবের দিক থেকে এটি আর বিদ্বেষের চেয়ে আলাদা থাকে না। বিবিসি সব সূচকেই পক্ষপাতের সর্বনিম্ন হার রেকর্ড করেছে। এই হতাশাজনক পরিস্থিতিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি প্রমাণ করে যে বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও অমানবিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করে মুসলিম ও ইসলাম নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করা সম্ভব। জনসেবা বা পাবলিক সার্ভিসের দায়িত্বগুলো কেবল নিয়ন্ত্রণমূলক আমলাতন্ত্র নয়। এগুলো শিল্পের নিকৃষ্টতম প্রবৃত্তিগুলোকে ঠেকানোর একটি কার্যকর উপায়—যা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাদের রক্ষা করার দাবিকে আগের চেয়ে আরও জরুরি করে তুলেছে। ব্রিটিশ সাংবাদিকতার অন্যতম অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব কেভিন ম্যাগুইয়ার কেন্দ্রের এই ফলাফলগুলোকে ‘লজ্জাজনক, বিপজ্জনক এবং বিষাক্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সঠিক। আর তার মতো একজন সাংবাদিক যখন জনসমক্ষে এটি বলতে বাধ্য হন, সেটিই প্রমাণ করে পরিস্থিতির কতটা অবনতি হয়েছে। প্রশ্ন এখন আর এটা নয় যে এমনটা ঘটছে কিনা। উপাত্তগুলো তা পরিষ্কার করে দিয়েছে। প্রশ্ন হলো এখন কী হবে? সম্পাদকরা কি এই প্রতিবেদন পড়বেন এবং কর্মী নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও তাদের নিউজরুমের সংস্কৃতিতে প্রকৃত কোনো পরিবর্তন আনবেন? নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো—যারা এতদিন এড়িয়ে যাওয়ার অবিশ্বাস্য মানসিকতা দেখিয়েছে—তারা কি শেষ পর্যন্ত প্রমাণের ভিত্তিতে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করবে? রাজনীতিবিদরা—যাদের অনেকে নির্বাচনি ফায়দার জন্য এই বিদ্বেষকে পুঁজি করেছেন ও ছড়িয়ে দিয়েছেন—তারা কি সততার সঙ্গে তাদের নিজেদের দায় স্বীকার করবেন? নাকি আমরা এই প্রতিবেদনটিকেও আগেরগুলোর মতো ফাইলবন্দি করে রাখব এবং উপযুক্ত জায়গায় কেবল উদ্বেগ প্রকাশ করে পরের গবেষণার জন্য অপেক্ষা করব, যা আমাদের ইতোমধ্যেই জানা সত্যগুলোকেই আবার নিশ্চিত করবে? ব্রিটিশ মুসলিমরা বিশেষ কোনো সুবিধা চাচ্ছে না। তারা কেবল তথ্যের নির্ভুলতা এবং ন্যায্যতার সেই মৌলিক মানদণ্ডটুকুই চাইছে যা সব সম্প্রদায়ের প্রাপ্য। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে কার্যকর গণমাধ্যমের জন্য এটিই সর্বনিম্ন চাহিদা। কিন্তু সেই সর্বনিম্ন চাহিদাটুকুও পূরণ হচ্ছে না। যারা এটি পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে তারা ভালো করেই জানে তারা কারা। আর এখন, বাকি সবাইও তা জেনে গেছে।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এক সিনিয়র সাংবাদিককে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতি সভার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক কালাম তালুকদারকে রাতে গোপালগঞ্জের ২৫০-শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত কালাম তালুকদার কোটালীপাড়া সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এবং দৈনিক ভোরের আলো পত্রিকার গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি। তিনি রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের শ্রীফলবাড়ি গ্রামের প্রয়াত জবেদ আলী তালুকদারের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সাংবাদিক কালাম তালুকদার জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতি সভার খবর সংগ্রহ করতে তিনি হলরুমে যান। সভা চলাকালে কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় কোটালীপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক লালন শেখ, সদস্য সচিব নিলয় হাওলাদার মোস্তফা এবং ধারাবাশাইল সরকারি আদর্শ কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হামিম বিশ্বাসসহ ১০-১২ জন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং টেনে-হিঁচড়ে নিচতলায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় হামলাকারীরা সাংবাদিক কালামকে উপজেলায় না যাওয়ার হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তোরা আর সাংবাদিকতা করতে পারবি না। তোদের যেন আর কোথাও না দেখি।’ পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত গোপালগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ব্যাপারে কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে বারবার ফোন করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় গোপালগঞ্জের জেলা-উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন তারা। গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আরিফ উজ-জামান বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ইরান যুদ্ধ নিয়ে সংবাদ পরিবেশনে মার্কিন গণমাধ্যমকে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রচার নিয়ন্ত্রন সংস্থার প্রধান ব্র্যান্ডেন কার। যুদ্ধের খবর প্রচার পছন্দ না হলে মিডিয়ার সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প- বলে জানান তিনি। শনিবার (১৪ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ব্রেন্ডন কার বলেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে গুজব ও বিকৃত খবর প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সম্প্রচারমাধ্যমগুলোকে জনস্বার্থে কাজ করতে হবে, না হলে তাদের লাইসেন্স হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। তিনি আরও লেখেন, ইতিমধ্যে যেসব সম্প্রচারমাধ্যম ভুয়া খবর বা বিকৃত তথ্য প্রচার করছে, তাদের এখনই লাইসেন্স নবায়নের আগে নিজেদের সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তবে তার এই বক্তব্যের পরই সমালোচনার ঝড় ওঠে মার্কিন রাজনৈতিক মহলে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এ মন্তব্যকে ‘স্পষ্টতই সংবিধানবিরোধী’ বলে আখ্যা দেন। সমালোচকদের দাবি, সংবাদ পরিবেশনের কারণে সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দেওয়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী। অনেক ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক ও নাগরিক অধিকারকর্মী এই সতর্কবার্তাকে সেন্সরশিপের সঙ্গে তুলনা করেছেন। হাওয়াইয়ের সিনেটর ব্রায়ান শ্যাটজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, এই বার্তা মূলত এমন ইঙ্গিত দেয় যে যুদ্ধে ইতিবাচক কভারেজ না দিলে সম্প্রচার লাইসেন্স নবায়ন নাও হতে পারে। তার ভাষায়, এটি সংবাদমাধ্যমকে বলে দেওয়ার চেষ্টা যে যুদ্ধ কীভাবে কাভার করতে হবে। ব্রেন্ডন কার এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসনের এজেন্ডা বাস্তবায়নে গণমাধ্যমগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য সমালোচিত হয়েছিলেন। গত বছর কমেডিয়ান জিমি কিমেলের শো-তে প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করায় তিনি এবিসি চ্যানেলকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
পিআইবির মহাপরিচালককে অপসারণের দাবি ,জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সচেতন সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের ব্যানারে মানববন্ধন ঢাকা: অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সচেতন সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে ‘পিবিআই বাঁচাও, ফারুক ওয়াসিফ হটাও’, ‘এক দফা এক দাবি, ফারুক ওয়াসিফ কবে যাবি?’, ‘ইয়ে করে দেখায়ে দিয়ে টাকাটাও ইয়ে করে দিও’, ‘মিথ্যায় হাবুডুবু ফারুক ওয়াসিফ’ ইত্যাদি প্লাকার্ড দেখা গেছে। আরও পড়ুন: পিআইবিতে অবসরপ্রাপ্তদের হয়রানির অভিযোগ: ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের লুটপাট , দুই দিনে ২৪ লাখ টাকার অনিয়ম পিআইবিতে ভুয়া সেমিনারের নামে লাখো টাকা আত্মসাৎ, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য ফারুক ওয়াসিফ, পিআইবি ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি: নিরপেক্ষ তদন্তে সত্য উদঘাটন জরুরি মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা বলেন, অত্যন্ত দুঃখের বিষয় আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং আসিফ নজরুল পক্ষপাতিত্ব করে অযোগ্য লোকদেরকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে। যে প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছিলেন সেই প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। বিজ্ঞাপন তারা বলেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পিএস ৪০০ কোটি টাকার মালিক হয়েছে। পিএস যদি ৪০০ কোটি টাকার মালিক হয় তাহলে উনি কত কোটি টাকার মালিক হয়েছে এটা আপনারা চিন্তা করেন। কারণ সে যদি দুর্নীতিগ্রস্ত না হয় তার পিএস দুর্নীতিগ্রস্ত হতে পারে না। সে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে নাই। আপনারা দেখেছেন যে ইতিমধ্যে এই সজীবের সম্পদের হিসাব চাচ্ছে দুদক। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগগুলো তারা কিভাবে দিয়েছে এটা তদন্ত করতে হবে। তারা টাকা খেয়ে দিয়েছে না তারা পক্ষপাতিত্ব আত্মীয়স্বজনকে দিয়েছে এইটাও তদন্ত করে বের করে নিয়ে আসতে হবে। মানববন্ধন থেকে তথ্যমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, তথ্যমন্ত্রীর কাছে আহ্বান যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই ফারুক সাহেবকে সরিয়ে এখানে একটা যোগ্য অভিজ্ঞ একটা মহাপরিচালক দিবেন। কারণ এটা একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো। এখানে সাংবাদিকদের আস্থা। সেখানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন গবেষণা হয়। সেই প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিচ্ছে অযোগ্য অপদার্থ এবং স্বজনীতি প্রাপ্ত কিছু লোকজনের মাধ্যমে।
ঢাকা: পিআইবি মহাপরিচালকের অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠছে সাংবাদিক সমাজ,অপসারনের দাবীতে মানববন্ধনের আয়োজন করেছে। পিআইবি'র মহাপরিচালকের সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে সচেতন সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজ মানববন্ধনের আয়োজন করেছে। ১৫ মার্চ (রবিবার) বিকেল ৩ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হবে। পিআইবির মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে তাঁর অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে সচেতন সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজ। আরও পড়ুন: পিআইবিতে অবসরপ্রাপ্তদের হয়রানির অভিযোগ: ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের লুটপাট , দুই দিনে ২৪ লাখ টাকার অনিয়ম পিআইবিতে ভুয়া সেমিনারের নামে লাখো টাকা আত্মসাৎ, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য ফারুক ওয়াসিফ, পিআইবি ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি: নিরপেক্ষ তদন্তে সত্য উদঘাটন জরুরি বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় মানবসম্পদ উন্নয়নের অধ্যয়ন ও প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং প্রকাশনাসহ গণমাধ্যম সেক্টরের দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ-পিআইবি প্রতিষ্ঠার পর থেকে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করলেও গত ১৭ বছরে এটি তার ভিশন, মিশন ও অভীষ্ট কর্মসূচি থেকে বহুদূরে গিয়ে দায়সারা ও এনজিওতাড়িত কর্মতৎপড়তায় তার কাজ ও দায়বদ্ধতা সীমিত করে ফেলেছে। রাষ্ট্রের অর্থে পরিচালিত হলেও পিআইবি আজ পুরোপুরি সাংবাদিক সমাজের প্রতিনিধিত্ব করতে ব্যর্থ। আর এর প্রত্যক্ষ নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশের সাবাদিকতায় বিদ্যমান। অতীতে বহু কীর্তিমান জৈষ্ঠ সাংবাদিক ও গণমাধ্যম শিক্ষক-ব্যক্তিত্ব পিআইবি'র মহাপরিচালকের দায়িত্ব সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু বিগত অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় ফারুক ওয়াসিফ নামে অপেক্ষাকৃত এক জুনিয়র সাংবাদিককে ডিজি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় যার সাংবাদিকতায় কোনো অ্যাকাডেমিক সনদ এমনকি একটি ডিপ্লোমা ডিগ্রিও নেই। অথচ তিনি প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল হিসেবে মাস্টার্স ও পোস্ট-গ্রাজুয়েট ডিগ্রি দেওয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। সম্পাদকীয় ডেস্কের বাইরে মাঠ পর্যায়েও তাঁর কোনো সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতাও নেই। গত ১৮ মাস দায়িত্ব পালনকালে তিনি পিআইবিকে ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করেছেন। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি দৈনিকে তাঁর অনিয়ম, দুর্নীতি এবং স্বেচ্ছাচারিতার ওপর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশে পিআইবির অযোগ্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফকে অবিলম্বে অপসারণ এবং তার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবীতে ১৫ মার্চ (রবিবার), ২০২৬ তারিখ ববকেল ৩ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সচেতন সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজ একটি মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেছে। এই প্রেক্ষাপটে, আয়োজকরা বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফকে অবিলম্বে অপসারণ এবং তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের দৃষ্টান্তমূলক তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে মানববন্ধন কর্মসূচি সফল করতে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সাংবাদিক সমাজের নেতৃবৃন্দ।
রমজানের শেষ দশ রাত মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত মর্যাদা ও ফজিলতপূর্ণ। এ সময়টিকে ইবাদত, দোয়া ও নেক আমলে ভরিয়ে তুলতে পরিবারকেও সম্পৃক্ত করা জরুরি। কীভাবে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে এই সময়কে আরও অর্থবহ করা যায়, সে বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ তুলে ধরা হলো। রমজানের শেষ দশ রাত সম্পর্কে প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ইবনে কাইয়্যিম বলেন, সব মাসের মধ্যে রমজান সর্বোত্তম এবং রমজানের রাতগুলোর মধ্যে শেষ দশ রাত সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ। এই সময়ে বেশি বেশি নেক আমল করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের শ্রেষ্ঠ সুযোগ। পাশাপাশি পরিবারকে নিয়ে এই সময় কাটালে সন্তানদের মধ্যেও ধর্মীয় মূল্যবোধ গড়ে ওঠে এবং পারিবারিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। নিচে পরিবারের জন্য শেষ দশ রাতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ করণীয় তুলে ধরা হলো— নিয়ত ঠিক করা ইসলামে প্রতিটি কাজের আগে নিয়ত ঠিক করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই রমজানের শেষ দশ রাত শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়ত করা উচিত। নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের জন্যও দোয়া করতে হবে এবং সন্তানদেরও দোয়া করতে উৎসাহিত করতে হবে। পরিবারের সঙ্গে তাহাজ্জুদ তারাবি ও তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। চেষ্টা করা উচিত পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসব নামাজ আদায় করার। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আধ্যাত্মিক বন্ধন তৈরি হয়। যদি সন্তানরা ছোট হয় তবে সপ্তাহান্তে তাদের মসজিদে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। এতে তারা মসজিদের পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হবে এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে শিখবে। একসঙ্গে বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত রমজানজুড়ে প্রতিদিন কোরআন তিলাওয়াত করা উচিত। তবে শেষ দশ রাতে তা আরও বাড়ানো ভালো। পরিবারে একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে সবাই মিলে কোরআন তিলাওয়াত করা যেতে পারে। পরিবারের সদস্যরা পালা করে সুরা পড়তে পারেন। চাইলে এটিকে আনন্দময় করতে ছোট একটি প্রতিযোগিতাও রাখা যেতে পারে, যাতে দেখা যায় কে বেশি তিলাওয়াত করতে পারে। এতে শিশুদের কোরআনের প্রতি আগ্রহ বাড়বে। দোয়ার তালিকা তৈরি করা রমজান রহমত ও বরকতের মাস। এ সময় আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও বিভিন্ন কল্যাণ কামনার জন্য বেশি বেশি দোয়া করা উচিত। শেষ দশ দিনে সন্তানদের সঙ্গে বসে একটি দোয়ার তালিকা তৈরি করা যেতে পারে। এতে তারা বুঝতে শিখবে যে আল্লাহ সব দোয়া শোনেন। সন্তানদের মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শেখানো একটি বিখ্যাত দোয়াও শেখানো যেতে পারে—হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করুন। বেশি বেশি সদকা করা সদকা শুধু অর্থ দানেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিবার মিলে রান্না করে আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুদের ইফতারে দাওয়াত দেওয়া যেতে পারে। সন্তানদের তাদের অপ্রয়োজনীয় খেলনা বা ছোট হয়ে যাওয়া কাপড় গরিবদের দান করতে উৎসাহিত করা যেতে পারে। পরিবারের সবাই মিলে পার্কে গিয়ে পাখিদের খাবার দেওয়া বা আশপাশের বৃদ্ধ প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়াও সদকার একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত। যদি সামর্থ্য থাকে, প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দান করা যেতে পারে। সন্তানদেরও তাদের হাতখরচের কিছু অংশ দান করতে উৎসাহিত করা যেতে পারে। এতে তাদের মধ্যে সহমর্মিতা ও উদারতার মানসিকতা গড়ে উঠবে। পরিবারকে সময় দেওয়া রমজানের শেষ দশ রাতকে পরিবারকেন্দ্রিক সময় হিসেবে নেওয়া যেতে পারে। সন্তানদের বোঝানো দরকার কেন এই রাতগুলো এত গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভব হলে বাবা-মা বা আত্মীয়দের সঙ্গে একসঙ্গে ইফতার ও ইবাদতে সময় কাটানো যেতে পারে। এতে পরিবারে ভালোবাসা বাড়ে এবং সন্তানরা অন্যের প্রতি সহমর্মিতা ও সাহায্যের মানসিকতা শিখে। রমজান খুব দ্রুত শেষ হয়ে যায়। তাই শেষ দশ রাতকে অবহেলায় কাটিয়ে না দিয়ে যতটা সম্ভব ইবাদত ও ভালো কাজে ব্যয় করা উচিত।
পটুয়াখালীতে ১১০ দিনেই পুরো পবিত্র কুরআন মুখস্থ করে সবার দৃষ্টি কেড়েছে ১২ বছর বয়সী শিশু দ্বীন ইসলাম। সে সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়নের মধ্য ধরান্দী এলাকার জামিয়া রহিমীয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী। অল্প সময়ে কুরআন হিফজের এই বিরল কৃতিত্বে আনন্দিত তার পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী এবং এলাকাবাসী। দ্বীন ইসলাম অত্যন্ত মেধাবী, মনোযোগী ও পরিশ্রমী একজন ছাত্র। মাত্র ১১০ দিনের মধ্যেই সে পুরো কুরআন হিফজ করতে সক্ষম হয়েছে। অন্য শিশুরা যখন খেলাধুলা করত, তখন সে কুরআন শরীফ নিয়ে পড়াশোনায় মন দিত। অনেক সময় সে একদিনে ১০ পৃষ্ঠা এমনকি এক পারা পর্যন্ত সবক দিয়েছে। দ্বীন ইসলাম পটুয়াখালী সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়নের মধ্য ধরান্দী এলাকার একটি সাধারণ পরিবারের সন্তান। তার বাবার নাম ইয়াকুব শিকদার। স্থানীয়রা জানান, সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও সন্তানকে সুশিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় সংকল্প ছিল ইয়াকুব শিকদারের। সেই স্বপ্নেরই উজ্জ্বল প্রতিফলন দেখা গেছে দ্বীন ইসলামের এই অর্জনে। অল্প বয়সেই তার এই সাফল্য এখন এলাকার অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
জেরুজালেম: ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে শুক্রবারের জুমা নামাজ বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে। ইরানি হামলার আশঙ্কা দেখিয়ে এই নিরাপত্তামূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দেশটি জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ‘আল মুনাসিক’ প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক বিবৃতিতে বেসামরিক প্রশাসনের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিশাম ইব্রাহিম জানান, ইরানের সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জেরুজালেমের ওল্ড সিটির সব পবিত্র স্থান শুক্রবার বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে আল-আকসা মসজিদ, ওয়েস্টার্ন ওয়াল (আল-বোরাক দেয়াল), টেম্পল মাউন্ট এবং চার্চ অব দ্য হোলি সেপালকার অন্তর্ভুক্ত। কোনো ধর্মাবলম্বী বা দর্শনার্থীকে এসব স্থানে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ইসরায়েলি শাসক সংস্থার প্রধান সাফ জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞা স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকানদার ছাড়া সকলের জন্য প্রযোজ্য। গত শনিবার ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইতিমধ্যেই ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ওল্ড সিটিতে প্রবেশ সীমিত করেছে। আল-আকসার সিনিয়র ইমাম শায়খ ইকরিমা সাবরি এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, "দখলদার কর্তৃপক্ষ যেকোনো অজুহাতে আল-আকসা বন্ধ করার চেষ্টা করছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।" যদিও ইসরায়েল বর্তমান যুদ্ধকে এই নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে দেখাচ্ছে, রমজান মাসের শুরু থেকেই তারা আল-আকসায় নামাজ আদায়ের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে আসছিল। এই সংঘাতের ফলে ইতিমধ্যেই দুই দেশে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে ১০ জন নিহত হয়েছেন, অন্যদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে অন্তত ১,২৩0 জন প্রাণ হারিয়েছেন।
বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ হল মসজিদ আল-হারাম। জীবনে একবার হলেও এ মসজিদ পরিদর্শন করা কোটি মুসলিমের লালিত স্বপ্ন। মহান আল্লাহর এ ঘর নিয়ে মুসলিমদের মনে রয়েছে নানান কৌতুহল। অন্যতম হল, এ ঘরে কতটি গেট রয়েছে ? মসজিদুল হারামের মোট গেট সংখ্যা হল ২৬২। অসংখ্য দরজাসমূহ থেকে মসজিদে হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজা। ফেরেশতাদের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা মসজিদ হারাম নির্মাণ করিয়েছেন। এরপর আদম, ইবরাহিম ও ইসমাইল (আ.) ঘরটি পুনঃনির্মাণ করেছেন। দীর্ঘ সময় মসজিদটির কোনো দরজা ছিল না। মক্কা বিজয়ের পর এ মসজিদে প্রথম দরজা তৈরি করা হয়। এ দরজার নাম হল ‘বাব বনি শায়বাহ’। এরপর ধীরে ধীরে নির্মিত হয়েছে বাকি দরজাগুলো, যা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। হারাম শরীফে প্রবেশের ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ দরজা বাংলাদেশ থেকে অসংখ্য হাজি উমরাহ হজ করতে হারাম শরীফে যান। মসজিদুল হারামে তাদের চলাচল সহজ করার জন্য নিচে মসজিদে হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজা সম্পর্কে বিস্তারিত লেখা হল। ১. বাব মালিক/কিং আব্দুল আজিজ গেট- (গেট নং ০১) বাব মালিক, যা কিং আব্দুল আজিজ গেট নামেও পরিচিত। মসজিদুল হারামের আধুনিক এবং প্রধান চারটি দরজার মধ্যে এটি একটি। সৌদি আরবের সাবেক বাদশাহ আব্দুল আজিজের নামে এ গেটের নামকরণ করা হয়। হারাম কমপ্লেক্সের ইয়েমেণি কর্ণার এবং আজিয়াদ স্ট্রিটের ঠিক বিপরীতে দরজাটি অবস্থিত। বাব মালিক গেট থেকে সরাসরি কাবা দেখা যায়। দরজাটি দিয়ে প্রতিবন্ধী ও হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীরা সরাসরি মাতাফে (কাবা তওয়াফ করার স্থান) প্রবেশ করতে পারেন। সৌদি আরবের সাবেক বাদশাহ আব্দুল্লাহ হারাম শরীফ সম্প্রসারণের সময় এ দরজা সংস্কার করেছিলেন। ২. বাব আজিয়াদ/আজিয়াদ গেট-(গেট নং ০৫) মসজিদ আল- হারামের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আজিয়াদের দুটি উপত্যকার নামে এ গেটের নামকরণ করা হয়েছে। এটি হারাম কমপ্লেক্সের ছোট দরজা হলেও মসজিদে হারামের ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ দরজার একটি। এ দরজা দিয়ে বৈদ্যুতিক সিঁড়ির সাহায্যে হারামের উপরের তলায় উঠা যায়। গেট ৭ ও ৮ আজিয়াদ গেটের পাশেই অবস্থিত। তাই আজিয়াদ গেট ব্যবহার করে মসজিদ হারামের উপরে উঠলেও সহজেই গেট ৭ ও ৮ দিয়ে নিচে চলে আসা যায়। ৩. বাব বিলাল/বিলাল গেট-(গেট নং ০৬) মসজিদে হারামের ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ দরজার একটি হল বাব বিলাল বা বিলাল গেট। এটি হারাম শরীফের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত। এটি সাহাবী ও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মুয়াযযিন বিলাল ইবন রাবাহ (রা.) এর নামে নামকরণ করা হয়েছে। হাবশা তথা বর্তমান আবিসিনিয়ার বাসিন্দা হওয়ায় বিলাল হাবশী নামেও পরিচিত এ সাহাবি। ৪. বাব হুনাইন/হুনাইন গেট-(গেট নং ০৯) বাব হুনাইন বা হুনাইন গেট মসজিদুল হারামের দক্ষিণে বাব বিলার ও ইসমাইলের মধ্যে অবস্থিত। তায়েফের নিকটবর্তী হুনাইন শহরের নামানুসারে গেটটির নামকরণ করা হয়েছে। বাব আজইয়াদের চলন্ত সিঁড়িগুলো গেটটির সামনে অবস্থিত হওয়ায়, বর্তমানে গেটটির কিছু অংশ দেখা যায়। গেটটি পুরোপুরি দেখা না গেলেও মসজিদে হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজার একটি এটি। ৫. বাব ইসমাইল/ইসমাইল গেট-(গেট নং ১০) মসজিদ হারামের দক্ষিণ দিকে বাব হুনাইন ও হামযাহ এর মধ্যে বাব ইসমাইল বা ইসমাইল গেট অবস্থিত। ইবরাহিম (আ.) এর পুত্র নবি ইসমাইল (আ.)-র সম্মানে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। আপেক্ষিকভাবে এ দরজাটি বায়তুল্লাহর অন্য দরজার চেয়ে ছোট হলেও মসজিদে হারামের ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ দরজার অন্যতম এটি। এ গেট দেখলে ইবরাহিম, ইসমাইল ও হাজেরা (আ.) মক্কায় আল্লাহর জন্য যে ত্যাগ করেছেন তা স্মরণ হয়ে যায়। ৬. বাব সাফা/আল সাফা গেট-(গেট নং ১১) বাব সাফা যা আল সাফা গেট নামেও পরিচিত। মসজিদুল হারামের ৫টি প্রধান ফটকের মধ্যে এটি একটি। ফটকটি হারাম শরীফের উত্তর দিকে অবস্থিত। এ গেট দিয়ে সায়ী করার স্থানে প্রবেশ করা যায় এবং উপরে যেতে চাইলে গেটটিতে থাকা সিঁড়ি ব্যবহার করে হারামের উপরে যাওয়া যায়। বয়স্ক ও অসুস্থ হাজিগণ সায়ী করার জন্য গাড়ির সহযোগিতা নিতে পারেন এখান থেকে। ৭. বাব হামযাহ-(গেট নং ১২) মসজিদুল হারাম কমপ্লেক্সের ঠিক মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত বাব হামযাহ। বাইতুল্লায় প্রবেশের অন্যতম পয়েন্ট হল এ দরজা। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর চাচা হামযাহ (রা.) এর নামে এর নামকরণ করা হয়েছে। গেটটি দেখলে উহুদ যুদ্ধে হামযাহ (রা.) এর ত্যাগ ও শাহাদাতের কথা স্মরণ হয়ে যায়। ৮. বাব কুবাইস-(গেট নং ১৩) মসজিদ আল-হারাম কমপ্লেক্সের ১৩ নং গেটটি বাব কুবাইস নামে পরিচিত। কুবাইস পাহাড়ের নামে দরজাটির নামকরণ করা হয়েছে। সাফা ও কুবাইস পাহাড়ে প্রবেশ করতে চাইলে এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। বলা হয় যে, কুবাইস পাহাড় আল্লাহ তায়ালার সৃষ্ট প্রথম পাহাড়। ৯. বাব নাবি/আল নাবি গেট-(গেট নং ১৪) এ দরজাটি মসজিদের পূর্ব দিকে সাফা পাহাড়ের নিকটবর্তী বাব কুবাইস ও আলীর মাঝে অবস্থিত। নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নামে এ গেটের নামকরণ করা হয়েছে। এ দরজা ব্যবহার করে হারাম কমপ্লেক্সের উপরে ওঠা যায়। ১০. বাব নাবী ব্রিজ/আল নাবী ব্রিজ গেট-(গেট নং ১৫) মসজিদে হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজার একটি হল বাব নাবী ব্রিজ/আল নাবী ব্রিজ গেট। এ ব্রিজটি উপরের তলাগুলোর সাথে সংযুক্ত। এটি দিয়ে মসজিদের উপরে উঠে মসজিদ পরিদর্শন করা বা ইবাদত করা যায়। ব্রিজটি দিয়ে সহজেই সাফা পাহাড়ে পৌঁছানো এবং সাফা এরিয়ায় চলাচল করা যায়। রসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নামে এর নামকরণ করা হয়েছে। ১১. বাব দারুল আরকাম-(গেট নং ১৬) এ গেটটি মাসআ’র (সায়ী করার স্থান) পূর্বদিকে এবং বাব আলির (রা.) ডানদিকে অবস্থিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাহাবা আরকাম বিন আবি আরকাম (রা.) এর বাসস্থান ছিল এটা। এজন্য তার নামানুসারেই এ গেটের নামকরণ করা হয়।এই গেট দিয়ে সরাসরি সায়ী করার স্থানে পৌঁছা যায়। এছাড়াও হারাম কমপ্লেক্সের উপরে যেতে চাইলে এই দরজা দিয়ে যাওয়া যায়। ১২. বাব আলী/ আলী গেট-(গেট নং-১৭) মসজিদে হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজার একটি হল বাব আলী বা আলী গেট। যে দশজন সাহাবা দুনিয়ায় জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছেন তাদের একজন হলেন আলী (রা.)। তাঁর নামেই এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। দরজাটি বাব নবি ও আব্বাসের মাঝে এবং সায়ী করার স্থানের পূর্বদিকে অবস্থতি। সায়ী করার সময় যে স্থানে ‘রমল’ করতে হয়, দরজাটি এ স্থানের সঙ্গে সংযুক্ত। ১৩. বাব আব্বাস-(গেট-২০) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর চাচা ও সাহাবা আব্বাস ইবন আব্দুল মুত্তালিবের নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। দরজাটি হারাম কমপ্লেক্সের পূর্বদিকে বাব আলী ও বনি শায়বার মাঝে অবস্থিত। এ দরজা দিয়ে হাজি সাহেবগণ সায়ী করার স্থানে প্রবেশ করে থাকেন। ১৪. বাব বনি হাশেম-(গেট নং ২১) বাব বনি হাশেম মসজিদ হারাম কমপ্লেক্সের নতুন ও অত্যাধুনিক গেটগুলোর একটি। এটি পবিত্র কা’বার নিকটেই অবস্থিত। এ দরজা দিয়ে সায়ী করার স্থানে খুব সহজেই প্রবেশ করা যায়। মক্কার সম্ভ্রান্ত গোত্র বনু হাশেমের নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। ১৫. বাব বনি শাইবা/শাইবা গেট-(গেট নং-২২) বাব বনি শাইবা, যেটি বনু শায়বাহ নামেও উচ্চারণ করা হয়। এর অর্থ হল শায়বার পুত্রদের দরজা। সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে এবং মারওয়া পাহাড়ের কাছে গেটটি অবস্থিত। মক্কার চাবি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ইসলাম আবির্ভাবের পূর্ব থেকেই বনু শায়বাহ গোত্রের কাছে ছিল এবং এখনও তাদের কাছেই আছে। গোত্রটিকে সম্মানিত করতেই তাদের নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। ১৬. বাব আল মারওয়া/মারওয়া গেট-(গেট নং ২৩) মক্কার প্রসিদ্ধ মারওয়া পাহাড়ের নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। মসজিদ আল-হারাম কমপ্লেক্সের বড় দরজাগুলোর একটি হল বাব আল মারওয়া বা মারওয়া গেট। এ গেটে বৈদ্যুতিক সিঁড়ি রয়েছে, যা দিয়ে সহজেই হারাম শরীফের উপরে ওঠা যায়। যেসব হাজিগণ দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় সায়ী করেন, খুব সহজেই তারা এ গেট ব্যবহার করে নিচে চলে আসতে পারেন। মসজিদুল হারামে প্রবেশের প্রধান দরজাগুলোর মধ্যে বাব আল মারওয়া দরজা অন্যতম। ১৭. বাব আল-মুদা’আ/আল মু’দা’আ গেট-(গেট নং ২৫) উসমানীয় যুগে মসজিদ আল-হারামের উত্তরদিকে বাব সালামের পাশে গড়ে উঠেছিল মুদা’আ বাজার। এ বাজারের নামেই বাব আল-মুদা’আ/আল মুদা’আ গেটের নামকরণ করা হয়েছে। নিচতলায় সায়ী সম্পন্ন করে দরজাটি দিয়ে বাহিরে বেরিয়ে আসা যায়। ১৮. বাব কুরাইশ-(গেট নং ২৬-২৭) সায়ী করার স্থানের উত্তরপ্রান্তে বাব কুরাইশ বা কুরাইশ গেট অবস্থিত। এ গেট দিয়ে মারওয়া পাহাড়ে প্রবেশ করা যায়। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কার কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বংশের নাম উম্মতে মোহাম্মাদির মাঝে উজ্জ্বল রাখতেই কুরাইশ গোত্রের নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। ১৯. বাব আরাফা/আরাফা গেট-(গেট নং-৩৫) বাব আরাফা বা আরাফা গেট মারওয়া পাহাড়ে অবস্থিত। মক্কার বিখ্যাত আরাফা ময়দান বরাবর মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে দরজাটি। এজন্য এ ময়দানের নামে দরজাটির নামকরণ করা হয়েছে। হজের আবশ্যকীয় কাজগুলোর একটি হল আরাফার ময়দানে অবস্থান করা। ২০. বাব মুযদালিফা/মুযদালিফা গেট-(গেট নং ৩৬) বাব মুযদালিফা বা মুযদালিফা গেটও মারওয়া পাহাড়ে অবস্থিত। হজের সময় হাজিগণ মুযদালিফা নামক স্থানে অবস্থান করেন। দরজাটি এ স্থান বরাবর দাঁড়িয়ে রয়েছে। এজন্য মুযদালিফার নামে দরজাটির নামকরণ করা হয়েছে। ২১. বাব ফাতাহ-(গেট নং ৪৫) আরবি ফাতাহ শব্দের অর্থ হল বিজয়। কোনো কোনো বর্ণনায় পাওয়া যায়, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কা বিজয়ের দিন এ দিক দিয়ে কা’বায় প্রবেশ করেছিলেন। এজন্য এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে ফাতাহ বা বিজয়। হারাম কমপ্লেক্সের দক্ষিণ দিকে দরজাটি অবস্থিত। ২২. বাব ওমর ফারুক-(গেট নং ৪৯) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর গুরুত্বপূর্ণ সাহাবি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা ওমর ফারুক (রা.) এর নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। যে দশজন সাহাব দুনিয়ায় থাকতেই জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছেন ওমর (রা.) তাঁদের অন্যতম। ২৩. বাব আল কুদস-(গেট নং ৫৫) মসজিদে হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজার একটি হল বাব আল কুদস। দরজাটি ইসলামের প্রথম ক্বিবলা ‘মসজিদুল আকসা’ অভিমুখী। এজন্য ‘আল কুদস’ নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। ইসলামের প্রথম কিবলার গুরুত্ব ও তাৎপর্য মুসলিম উম্মাহর মনে করিয়ে দেয় দরজাটি। ২৪. বাব মদিনা-(গেট নং ৫৬) রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় গিয়েছিলেন। মসজিদুল হারাম কমপ্লেক্সের এ দরজাটি মদিনামুখী করে তৈরি করা হয়েছে। এজন্য দরজাটির নাম রাখা হয়েছে বাব মদিনা। ২৫. বাব উমরা-(গেট নং-৬৩) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবনের শেষ উমরা করার জন্য এদিক দিয়ে কা’বায় প্রবেশ করেছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উমরার স্মৃতি ধরে রাখার জন্য বাব উমরা নামে দরজাটির নামকরণ করা হয়েছে। এ দরজা দিয়ে সরাসরি মাতাফে (কা’বা তওয়াফ করার স্থান) প্রবেশ করা যায়। ২৬. বাব আম্মার বিন ইয়াসির-(গেট নং ৬৭) আম্মার বিন ইয়াসির (রা.) প্রথম ইসলাম গ্রহণকারীদের একজন। তিনি এবং তাঁর বাবা-মা ইসলাম গ্রহণ করার জন্য মক্কার মুশরিকদের কাছে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। মর্যাদাবান এ সাহাবার নামে হারাম কমপ্লেক্সের এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। ২৭. বাব মুয়ায বিন জাবাল-(গেট নং ৬৮) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর যে সাহাবারা প্রচুর জ্ঞান রাখতেন, তাঁদের একজন হলেন মুয়ায বিন জাবাল (রা.)। মসজিদ আল-হারামের ৬৮ নং দরজাটি তাঁর নামে নামকরণ করা হয়েছে। ২৮. বাব আমর বিন আল আস-(গেট নং ৬৯) মসজিদে হারামের ৬৯ নং দরজাটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আরেকজন সাহাবা আমর বিন আল আস (রা.) এর নামে নামকরণ করা হয়েছে। আমর বিন আল আস (রা.) হলেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর বুদ্ধিমান সাহাবাদের একজন। বদর ও উহুদসহ অনেক যুদ্ধে তিনি ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেও, শেষ পর্যন্ত তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং ইসলামের পক্ষে নিজের বীরত্ব প্রকাশ করেছেন। ২৯. বাব আয়িশা বিনত্ আবি বকর-(গেট নং ৭০) রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর শেষ ও কনিষ্ঠ স্ত্রী আয়িশা বিনত্ আবি বকর (রা.) এর নামে হারাম কমপ্লেক্সের এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। দরজাটি দেখলে ও এটি দিয়ে প্রবেশ করলে আম্মাজান আয়েশা (রা.) এর ইসলামের জন্য ত্যাগ ও কুরবানির কথা স্মরণ হয়। ৩০. বাব আসমা বিনত আবি বকর-(গেট নং ৭১) আবু বকর (রা.) এর মেয়ে আসমা বিনত আবি বকর (রা.) এর নামে মসজিদ হারামের ৭১ নং গেটের নামকরণ করা হয়েছে। আসমা (রা.) এর বাবা আবু বকর, স্বামী যুবায়ের বিন আওয়াম, সন্তান আব্দুল্লা ইবন যুবায়েরসহ পরিবারে সবাই ছিলেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাহাবা। ৩১. বাব আল ইয়ারমুক-(গেট নং ৭৩) আবু বকর (রা.) এর শাসনামলে মুসলিম ও রোমানদের মাঝে রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ইন্তেকালের পর সবচেয়ে বড় যে যুদ্ধ হয়েছে, এ যুদ্ধের নাম হল ইয়ারমুকের যুদ্ধ। খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.)-র বীরত্বে এ যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয় হয়েছিল। মসজিদুল হারাম কমপ্লেক্সের ৭৩ নং গেটটি ইয়ারমুক যুদ্ধের নামে নামকরণ করা হয়েছে। ৩২. বাব আবু বকর-(গেট নং ৭৪) রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সাহাবা হলেন আবু বকর (রা.)। এক বর্ণনায় মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আমার উপর আমার সাহাবাদের যত অনুগ্রহ রয়েছে তার কিছুটা হলেও আমি প্রতিদান দিতে পেরেছি। কিন্তু আবু বকরের অনুগ্রহ এমন যে তা পরিশোধ করতে আমি অক্ষম। আল্লাহেএর প্রতিদান দিবেন। আবু বকর (রা.) দুনিয়াতে জান্নাতের সুসংবাদ পাওয়া ১০ জন সাহাবার একজন। তিনি ছিলেন ইসলামের প্রথম খলিফা। তাঁর নামেই মসজিদ আল-হারামের ৭৪ নং গেটের নামকরণ করা হয়েছে। ৩৩. বাব আল-ফাহাদ-(গেট নং ৭৯) সৌদি আরবের সাবেক বাদশাহ ফাহাদের নামে এ গেটের নামকরণ করা হয়েছে। দরজাটি হারাম কমপ্লেক্সের পূর্বদিকে অবস্থিত। মসজিদের পূর্বপ্রান্ত দিয়ে ইবাদতের জন্য প্রবেশ করতে চাইলে এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে হয়। হারাম কমপ্লেক্সের থ্রি পোর্টাল দরজাগুলোর এটি একটি। সৌদি শাসকদের আমলে দ্বিতীয় সম্প্রসারণের সময় দরজাটিকে থ্রি পোর্টালে রূপ দেওয়া হয়। ৩৪. বাব জাবির বিন আব্দুল্লাহ-(গেট নং ৮৪) মসজিদে হারামের ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ দরজার একটি হল এটি। দরজাটি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাহাবি জাবির বিন আব্দুল্লাহর নামে নামকরণ করা হয়েছে। মাত্র ৭ বছর বয়সে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। ৯৪ বছর বয়সে মদিনায় মারা যান জাবির বিন আব্দুল্লাহ এবং মদিনায় মৃত্যুবরণকারী সর্বশেষ সাহাবি ছিলেন তিনি। ৩৫. বাব সাঈদ বিন যায়েদ-(গেট নং ৮৫) হারাম কমপ্লেক্সের ৮৫ নং গেটটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আরেকজন সাহাবা সাঈদ বিন যায়েদ (রা.) এর নামে নামকরণ করা হয়েছে। সাঈদ বিন যায়েদ (রা.) ছিলেন উমর বিন খাত্তাব (রা.) এর চাচাতো ভাই এবং ভগ্নিপতি। উমর (রা.) এর ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে এ সাহাবির উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। ৩৬. বাব যায়েদ বিন সাবিত-(গেট নং ৮৬) যায়েদ বিন সাবিত (রা.) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর গুরুত্বপূর্ণ একজন সাহাবি। আবু বকর (রা.) এর খিলাফতের সময় যায়েদ (রা.) কুরআন সংকলনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। সম্মানিত এ সাহাবার নামেই মসজিদ হারামের এ গেটটির নামকরণ করা হয়েছে। ৩৭. বাব উম্মে হানি-(গেট নং ৮৭) রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর চাচা আবু তালিবের মেয়ে হলেন উম্মে হানি (রা.)। তিনি আলী ও জাফর বিন আবি তালিব (রা.) বড় বোন। মিরাজ গমণের রাতে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মে হানি (রা.) এর বাড়িতে কিছুক্ষণ ঘুমিয়েছিলেন। এ সাহাবির নামেই মসজিদুল হারামের ৮৭ নং গেটটির নামকরণ করা হয়েছে। ৩৮. বাব মাইমুনা-(গেট নং ৮৮) মক্কার মসজিদুল হারামের ৮৮ নং গেটটি মাইমুনা (রা.) এর নামে নামকরণ করা হয়েছে। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর একজন স্ত্রী এবং উম্মুল মু’মিনীন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর স্ত্রীদের মধ্যে মাইমুনা (রা.) ছিলেন সবচেয়ে বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমান। ৩৯. বাব হিজলাহ-(গেট নং ৮৯) মসজিদুল হারাম কমপ্লেক্সের দক্ষিণ প্রান্তে বেশ কয়েকটি গেট রয়েছে। এ দরজাগুলোর বাম দিকে বাব হিজলাহ এবং ডান দিকে বাব হাফসা আংশিকভাবে দৃশ্যমান। মক্কায় হিজলাহ নামের একটি পাহাড় রয়েছে। ধারণা করা হয়, এ পাহাড়ের নামেই দরজাটির নামকরণ করা হয়েছে। ৪০. বাব হাফসা-(গেট নং ৯০) হারাম কমপ্লেক্সের ৯০ নং গেটটি রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আরেকজন স্ত্রী হাফসা (রা.) এর নামে নামকরণ করা হয়েছে। হাফসা (রা.) মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবি ও ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর বিন খাত্তাব (রা.) এর মেয়ে। ৪১. বাব নাদওয়া-(গেট নং ৯২) দারুন নাদওয়া হল ঐতিহাসিক একটি ঘরের নাম যেখানে কুরাইশের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা বিভিন্ন সময় মিটিং করতেন। মক্কা ও কুরাইশদের ইতিহাস মুসলিমদের স্মরণ করিয়ে দিতে এ ঘরের নামে হারাম কমপ্লেক্সের ৯২ নং গেটটির নামকরণ করা হয়েছে। ৪২. বাব খাদিজা-(গেট নং ৯৩) খাদিজা (রা.) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রথম স্ত্রী। নবুওতের আগে এবং পরে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন উম্মুল মু’মিনীন খাদিজা (রা.)। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নবুওতের বিষয়টি সর্বপ্রথম সত্য বলে গ্রহণ করেছিলেন খাদিজা (রা.)। তাঁর নামেই মক্কার মসজিদুল হারামের ৯৩ নং গেটটির নামকরণ করা হয়েছে। ৪৩. বাব ইবরাহিম-(গেট নং ৯৪) নবি ইবরাহিম খলিলুল্লাহ (আ.) এর নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। কাবা ঘর মহান আল্লাহর নির্দেশে সর্বপ্রথম ফেরেশতারা নির্মাণ করেছিলেন। নুহ (আ.) এর সময়কালীন মহা প্লাবনে কাবা ঘর বালুর নিচে চাপা পড়ে গিয়েছিল। এরপর মহান আল্লাহর নির্দেশে ইবরাহিম ও ইসমাঈল (আ.) ঘরটি ৪ হাজার বছর আগে পুনঃনির্মাণ করেছিলেন। ৪৪. কিং আব্দুল্লাহ গেট-(গেট নং ১০০) মসজিদ আল হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজার একটি কিং আব্দুল্লাহ গেট। হারাম কমপ্লেক্সের সবচেয়ে বড় দরজাগুলোরও একটি এটি। দরজাটি মসজিদের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। এ গেটে দুটি চমৎকার মিনার রয়েছে। গেটটির সাথে রয়েছে একটি করিডোর , যে করিডোর দিয়ে সরাসরি মাতাফ বা তাওয়াফের স্থানে যাওয়া যায়। ৪৫. বাব সালাম গেট মসজিদ হারাম কমপ্লেক্সের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গেট হল বাব সালাম। সালাম অর্থ শান্তি অর্থাৎ এ দরজার নাম হল শান্তির দরজা। সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে দরজাটি অবস্থিত। কা’বার কাছেই অবস্থান করতেন শাইবা বিন উসমান। অনেকে তাঁর গোত্রের দিকে ইঙ্গিত করে এ দরজাকে বাব বনি শাইবা বলে থাকেন। যদিও বনি শাইবা নামে হারাম কমপ্লেক্সে স্বতন্ত্র দরজাই রয়েছে।
শ্চিমবঙ্গের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বারাসাত শহরে এক বিরল সম্প্রীতির নজির গড়ে উঠেছে। হিন্দু পরিবারের বসতভিটায় অবস্থিত ‘আমানতি মসজিদ’ শুধু নামেই নয়, বাস্তবেও হয়ে উঠেছে আন্তঃধর্মীয় সহাবস্থানের এক অনন্য প্রতীক। আর এই সম্প্রীতির কেন্দ্রে রয়েছেন পার্থসারথি বোস—যিনি টানা ১৬ বছর ধরে পবিত্র রমজান মাসে রোজা রেখে আসছেন। হিন্দু পরিবারের তত্ত্বাবধানে মসজিদ মসজিদটি পার্থসারথি বোসদের বাড়ির ভেতরেই অবস্থিত। স্থানীয়দের মতে, এ অঞ্চলে প্রায় দুই কিলোমিটারের মধ্যে আর কোনো মসজিদ নেই। ফলে আশপাশের দোকান, বাজার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মুসলমানরা এখানে এসে নামাজ আদায় করেন। রমজান মাসে প্রতিদিন দেড় শতাধিক মুসল্লি ইফতার করেন এই মসজিদে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য—মসজিদের দেখভাল, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সার্বিক দায়িত্ব পালন করে আসছে একটি হিন্দু পরিবার। ইতিহাসের সূত্রপাত ১৯৬০ সালে ১৯৬০ সালে সম্পত্তি বিনিময় প্রথার মাধ্যমে খুলনার আলকা গ্রাম থেকে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসেন পার্থসারথির দাদু নিরোধকৃষ্ণ বোস। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতে বসতভিটায় উঠে তিনি দেখতে পান একটি জরাজীর্ণ মসজিদ। ধর্মীয় সম্মান বজায় রেখে সেটি আগলে রাখেন তিনি। পরবর্তীতে তার ছোট ছেলে দীপক বোস দায়িত্ব নেন মসজিদের। তখনই এর নামকরণ করা হয় ‘আমানতি মসজিদ’। বর্তমানে দায়িত্বে রয়েছেন পার্থসারথি বোস। দুর্ঘটনা থেকে আত্মশুদ্ধির পথ পার্থসারথি জানান, ২০০৯ সালের আগে মসজিদের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা তেমন ছিল না। রমজান মাসে একদিন বন্ধুদের সঙ্গে মদ্যপ অবস্থায় বাইক থেকে পড়ে গিয়ে ডান কাঁধের হাড় ভেঙে যায়। চিকিৎসকেরা জানান, হাড় জোড়া লাগা কঠিন। অনুশোচনায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরদিন সকালে মসজিদে এসে ক্ষমা চান। নিজের ভুল স্বীকার করে মানত করেন—জীবিত থাকা পর্যন্ত রমজান মাসে রোজা রাখবেন। মসজিদের মাটি কাঁধে লাগিয়ে প্রার্থনা করেন সুস্থতার জন্য। তার দাবি, এরপর ধীরে ধীরে তার হাড় জোড়া লাগে। সেই থেকে টানা ১৬ বছর পুরো রমজান মাস রোজা রেখে আসছেন তিনি। এর আগেও রোজা রাখতেন, তবে পুরো মাস নয়। “মসজিদ আমাকে ভালো মানুষ বানিয়েছে” পার্থসারথি বলেন, “এই মসজিদ আমাকে এমন শিক্ষা দিয়েছে যে, খারাপ থাকার উপায় নেই। রোজা রাখলে মন পরিষ্কার থাকে। বাজে চিন্তা আসে না। মনে এক ধরনের ভয় কাজ করে—আবার যেন কোনো ভুল না করি।” তার পরিবারে অন্য কেউ রোজা না রাখলেও সবাই সহযোগিতা করেন। স্ত্রী সেহরির আয়োজন করেন, আর ইফতারে থাকে খেজুর, ফল ও হালকা খাবার। দান গ্রহণ নয় মসজিদের জন্য সরকারি বা স্থানীয় দান নেওয়া হয় কি না—এ প্রশ্নে পার্থসারথি স্পষ্ট জবাব দেন, “না, কোনো দান নেই। হারাম না হালাল বুঝি না। তাই দানবাক্সও রাখা হয়নি।” সম্প্রীতির বার্তা স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বারাসাতের ৮ নম্বর ওয়ার্ড পুরোপুরি হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা। এখানে মুসলিম ভোটার নেই বললেই চলে। তবুও ধর্মীয় ভেদাভেদ নেই। এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “এই মসজিদ আমাদের কাছে মন্দিরের মতোই পবিত্র।” অন্য এক বৃদ্ধা জানান, ভোরের আজান তার ঘুম ভাঙায় এবং মানসিক শক্তি জোগায়। ৯০ দশক থেকে দায়িত্বে থাকা মসজিদের ইমাম আক্তার বলেন, “বিশ্বে এমন নজির বিরল। মুসলমানরা এখানে নামাজ পড়ে চলে যান, কিন্তু দেখভাল করেন এক হিন্দু পরিবার। ইসলামে এমন কোনো নিষেধ নেই যে, অন্য ধর্মের মানুষ মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণে যুক্ত থাকতে পারবেন না।” ধর্ম নয়, মানবিকতা পার্থসারথি বোস বলেন, “মসজিদের দেখভাল করি, কিন্তু ইসলামের নিয়মে হস্তক্ষেপ করি না।” তার মতে, এটি ধর্মীয় নয়—মানবিক দায়িত্ব। রমজানের আত্মসংযম, আত্মত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির বার্তা যেন নতুনভাবে ব্যাখ্যা করছে বারাসাতের ‘আমানতি মসজিদ’। যেখানে ধর্মের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষ হয়ে ওঠাই সবচেয়ে বড় পরিচয়।
ঢাকা: ১৪৪৭ হিজরি সনের রমজান মাস উপলক্ষে সাদাকাতুল ফিতরার হার নির্ধারণ করেছে জাতীয় সাদাকাতুল ফিতরা নির্ধারণ কমিটি। এ বছর জনপ্রতি ফিতরার সর্বনিম্ন হার ১১০ টাকা এবং সর্বোচ্চ হার ২ হাজার ৮০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় সাদাকাতুল ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা আবদুল মালেক। এতে দেশের বিশিষ্ট মুফতি ও আলেমরা অংশগ্রহণ করেন। সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে ফিতরার হার ঘোষণা করেন কমিটির সদস্য সচিব ড. মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ। তিনি জানান, ফিতরার হার নির্ধারণের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় কার্যালয়সমূহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উন্নতমানের গম, আটা, যব, খেজুর, কিসমিস ও পনিরের খুচরা ও পাইকারি বাজার দর যাচাই করে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই এবারের হার নির্ধারণ করা হয়েছে। 📌 কোন পণ্যে কত ফিতরা? গম বা আটা: অর্ধ ‘সা’ বা ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম। প্রতি কেজি ৬৫ টাকা হিসাবে মোট ১১০ টাকা। যব: এক ‘সা’ বা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম। প্রতি কেজি ১৮০ টাকা হিসাবে মোট ৫৯৫ টাকা। খেজুর: এক ‘সা’ বা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম। প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা হিসাবে মোট ২,৪৭৫ টাকা। কিসমিস: এক ‘সা’ বা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম। প্রতি কেজি ৮০০ টাকা হিসাবে মোট ২,৬৪০ টাকা। পনির: এক ‘সা’ বা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম। প্রতি কেজি ৮৫০ টাকা হিসাবে মোট ২,৮০৫ টাকা। কমিটি জানায়, কেউ চাইলে উল্লেখিত খাদ্যদ্রব্য দিয়ে অথবা তার বাজারমূল্য অনুযায়ী নগদ অর্থে ফিতরা আদায় করতে পারবেন। তবে সামর্থ্য অনুযায়ী উচ্চ হার প্রদান করাই উত্তম। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন বোর্ড অব গভর্নরসের গভর্নর মাওলানা মাহফুজুল হক, মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, মুহাদ্দিস ড. ওয়ালিয়ুর রহমান খান, মুফাসসির ড. মাওলানা মো. আবু সালেহ পাটোয়ারী, কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা আবুল কাশেম মো. ফজলুল হক, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, পেশ ইমাম মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী এবং রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মহিউদ্দিন। রমজান মাসে রোজাদারদের পক্ষ থেকে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে ঈদের আনন্দ পৌঁছে দিতে সাদাকাতুল ফিতরা প্রদান করা ওয়াজিব। প্রতি বছর বাজারদরের ভিত্তিতে জাতীয় সাদাকাতুল ফিতরা নির্ধারণ কমিটি ফিতরার হার ঘোষণা করে থাকে।
SBI গ্রাহকরা সাবধান ! এই একটি ভুল করলেই সব শেষ, গায়েব টাকা, কী ঘটছে জানেন ?
BJP-র দ্বিতীয় দফার প্রার্থিতালিকায় রুপোলি পর্দার একাধিক মুখ, হেভিওয়েট কাকে কাকে টিকিট ?
‘তৃণমূলকে ক্ষমতায় রাখায় বিরাট ভূমিকা বামপন্থীদের, নিজেদের স্বার্থে আন্দোলন করেছে’, বলছেন অভয়ার বাবা
এবার বেসরকারি হাতে BSNL ? সংসদে এই জানালেন মন্ত্রী
আপনার গ্যাস সিলিন্ডারের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে কি ? কীভাবে পরীক্ষা করবেন, জেনে নিন
ফ্যাটি লিভারকে গোড়া থেকে নির্মূল করবে এই ৫ অভ্যাস
SBI মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগ করতেই ১৮% লাফ এই শেয়ারে, আপনার কাছে আছে ?
রাজকীয় লুক ও আধুনিক ফিচার, Audi SQ8 লঞ্চ হল ভারতে, কত দাম রেখেছে কোম্পানি ?